তাহাজ্জুদ সালাতের(নামাজের)ফজিলত।


তাহাজ্জুদ নামায পড়ার ফযীলত
মহান আল্লাহ বলেন,
﴿ ﻭَﻣِﻦَ ﭐﻟَّﻴۡﻞِ ﻓَﺘَﻬَﺠَّﺪۡ ﺑِﻪِۦ ﻧَﺎﻓِﻠَﺔٗ ﻟَّﻚَ ﻋَﺴَﻰٰٓ ﺃَﻥ ﻳَﺒۡﻌَﺜَﻚَ
ﺭَﺑُّﻚَ ﻣَﻘَﺎﻣٗﺎ ﻣَّﺤۡﻤُﻮﺩٗﺍ ٧٩ ﴾ ‏( ﺍﻻﺳﺮﺍﺀ : ٧٩ ‏)
অর্থাৎ রাত্রির কিছু
অংশে তাহাজ্জুদ কায়েম কর;
এটা তোমার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য।
আশা করা যায়, তোমার প্রতিপালক
তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন
প্রশংসিত স্থানে। (সূরা বানী ইসরাইল
৭৯ আয়াত)
তিনি আরও বলেছেন,
﴿ ﺗَﺘَﺠَﺎﻓَﻰٰ ﺟُﻨُﻮﺑُﻬُﻢۡ ﻋَﻦِ ﭐﻟۡﻤَﻀَﺎﺟِﻊِ ﻳَﺪۡﻋُﻮﻥَ ﺭَﺑَّﻬُﻢۡ ﺧَﻮۡﻓٗﺎ
ﻭَﻃَﻤَﻌٗﺎ ﻭَﻣِﻤَّﺎ ﺭَﺯَﻗۡﻨَٰﻬُﻢۡ ﻳُﻨﻔِﻘُﻮﻥَ ١٦ ﴾ ‏( ﺍﻟﺴﺠﺪﺓ : ١٦ ‏)
অর্থাৎ তারা শয্যা ত্যাগ
করে আকাঙ্ক্ষা ও আশংকার
সাথে তাদের
প্রতিপালককে ডাকে এবং আমি
তাদেরকে যে রুযী প্রদান করেছি,
তা হতে তারা দান করে।
(সূরা সেজদা ১৬ আয়াত)
তিনি আরও বলেছেন,
﴿ ﻛَﺎﻧُﻮﺍْ ﻗَﻠِﻴﻠٗﺎ ﻣِّﻦَ ﭐﻟَّﻴۡﻞِ ﻣَﺎ ﻳَﻬۡﺠَﻌُﻮﻥَ ١٧ ﴾ ‏( ﺍﻟﺬﺍﺭﻳﺎﺕ :
١٧ ‏)
অর্থাৎ তারা রাত্রির সামান্য
অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত।
(সূরা যারিয়াত ১৭ আয়াত)
হাদীসসমূহ:
1/1167. ﻭَﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻬَﺎ، ﻗَﺎﻟَﺖْ : ﻛَﺎﻥَ
ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻡُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﺘَﻔَﻄَّﺮَ
ﻗَﺪَﻣَﺎﻩُ، ﻓَﻘُﻠْﺖُ ﻟَﻪُ : ﻟِﻢَ ﺗَﺼْﻨَﻊُ ﻫَﺬَﺍ، ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ، ﻭَﻗَﺪْ ﻏُﻔِﺮَ
ﻟَﻚَ ﻣَﺎ ﺗَﻘَﺪَّﻡَ ﻣِﻦْ ﺫَﻧْﺒِﻚَ ﻭَﻣَﺎ ﺗَﺄﺧَّﺮَ ؟ ﻗَﺎﻝَ : ‏«ﺃَﻓَﻼَ ﺃَﻛُﻮﻥُ ﻋَﺒْﺪﺍً
ﺷَﻜُﻮﺭﺍً؟ ‏» ﻣﺘﻔﻖٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ .
১/১১৬৭। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু
আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
রাত্রির একাংশে (নামাযে) এত
দীর্ঘক্ষণ কিয়াম করতেন যে, তাঁর
পা ফুলে ফাটার উপক্রম হয়ে পড়ত।
একদা আমি তাঁকে বললাম,
‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি এত কষ্ট সহ্য
করছেন কেন? অথচ আপনার তো পূর্ব ও
পরের
গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।
’ তিনি বললেন, “আমি কি শুকরগুযার
বান্দা হব না?” (বুখারী ও মুসলিম) [1]
2/1168 ﻭَﻋَﻦ ﺍﻟﻤُﻐِﻴﺮَﺓِ ﺑﻦ ﺷُﻌﺒﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻧَﺤْﻮﻩُ
ﻣﺘﻔﻖٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
২/১১৬৮। মুগীরা ইবনে শু‘বা হতেও
অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। (বুখারী ও
মুসলিম)
3/1169 ﻭَﻋَﻦْ ﻋَﻠﻲٍّ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ : ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻃَﺮَﻗَﻪُ ﻭَﻓَﺎﻃِﻤَﺔَ ﻟَﻴْﻼً، ﻓَﻘَﺎﻝَ : ‏« ﺃَﻻَ ﺗُﺼَﻠِّﻴَﺎﻥِ ؟‏»
ﻣﺘﻔﻖٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
৩/১১৬৯। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, একদা নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও
ফাতেমার নিকট রাত্রি বেলায় আগমন
করলেন এবং বললেন, “তোমরা (স্বামী-
স্ত্রী) কি (তাহাজ্জুদের) নামায পড়
না?” (বুখারী ও মুসলিম) [2]
4/1170 ﻭَﻋَﻦْ ﺳَﺎﻟِﻢِ ﺑﻦِ ﻋَﺒﺪِ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﺑﻦِ ﺍﻟﺨَﻄَّﺎﺏِ
ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ، ﻋَﻦ ﺃَﺑﻴِﻪِ : ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ، ﻗَﺎﻝَ : ‏«ﻧِﻌْﻢَ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠﻪِ، ﻟَﻮْ ﻛَﺎﻥَ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻠَّﻴﻞِ ‏» . ﻗَﺎﻝَ ﺳﺎﻟِﻢ : ﻓَﻜَﺎﻥَ ﻋَﺒﺪُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺑَﻌْﺪَ ﺫَﻟِﻚَ ﻻَ ﻳَﻨﺎﻡُ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻠَّﻴﻞِ ﺇِﻻَّ ﻗَﻠِﻴﻼً . ﻣﺘﻔﻖٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
৪/১১৭০। সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ
ইবনে উমার ইবনে খাত্তাব
রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার)
বললেন, “আব্দুল্লাহ ইবনে উমার কতই
না ভাল মানুষ হত,
যদি সে রাতে (তাহাজ্জুদের) নামায
পড়ত।” সালেম বলেন, ‘তারপর
থেকে (আমার আব্বা) আব্দুল্লাহ
রাতে অল্পক্ষণই ঘুমাতেন।’ (বুখারী ও
মুসলিম) [3]
5/1171 ﻭَﻋَﻦْ ﻋَﺒﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺑﻦِ ﻋَﻤﺮِﻭ ﺑﻦِ ﺍﻟﻌَﺎﺹِ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ
ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ‏«ﻳَﺎ
ﻋَﺒﺪَ ﺍﻟﻠﻪِ، ﻻَ ﺗَﻜُﻦْ ﻣِﺜْﻞَ ﻓُﻼَﻥٍ ؛ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻘُﻮﻡُ ﺍﻟﻠَّﻴﻞَ ﻓَﺘَﺮَﻙَ ﻗِﻴَﺎﻡَ
ﺍﻟﻠَّﻴﻞِ ‏». ﻣﺘﻔﻖٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
৫/১১৭১। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর
ইবনে আস রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
“হে আব্দুল্লাহ! তুমি অমুক ব্যক্তির মত
হইয়ো না। সে রাতে উঠে নামায পড়ত,
তারপর রাতে উঠা ছেড়ে দিল।”
(বুখারী ও মুসলিম) [4]
6/1172 ﻭَﻋَﻦِ ﺍﺑﻦِ ﻣَﺴﻌُﻮﺩ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ، ﻗَﺎﻝَ : ﺫُﻛِﺮَ
ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻨَّﺒﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺭَﺟُﻞٌ ﻧَﺎﻡَ ﻟَﻴْﻠَﺔً ﺣَﺘَّﻰ
ﺃَﺻْﺒَﺢَ، ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﺫَﺍﻙَ ﺭَﺟُﻞٌ ﺑَﺎﻝَ ﺍﻟﺸَّﻴﻄَﺎﻥُ ﻓﻲ ﺃُﺫُﻧَﻴْﻪِ – ﺃَﻭْ ﻗَﺎﻝَ:
ﻓِﻲ ﺃُﺫُﻧِﻪِ ‏». ﻣﺘﻔﻖٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
৬/১১৭২। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ
রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,
তিনি বলেন, এমন একটি লোকের
কথা নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট
উল্লেখ করা হল, যে সকাল পর্যন্ত
ঘুমিয়ে রাত্রি যাপন করে।
তিনি বললেন, “এ এমন এক মানুষ, যার
দু’কানে শয়তান প্রস্রাব
করে দিয়েছে।” অথবা বললেন, “যার
কানে প্রস্রাব করে দিয়েছে।”
(বুখারী ও মুসলিম) [5]
7/1173 ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳﺮَﺓَ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ : ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ
ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﻳَﻌْﻘِﺪُ ﺍﻟﺸَّﻴﻄَﺎﻥُ ﻋَﻠَﻰ
ﻗَﺎﻓِﻴَﺔِ ﺭَﺃﺱِ ﺃَﺣَﺪِﻛُﻢْ، ﺇِﺫَﺍ ﻫُﻮَ ﻧَﺎﻡَ، ﺛَﻼَﺙَ ﻋُﻘَﺪٍ، ﻳَﻀْﺮِﺏُ ﻋَﻠَﻰ
ﻛُﻞِّ ﻋُﻘْﺪَﺓٍ: ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻟَﻴْﻞٌ ﻃَﻮِﻳﻞٌ ﻓَﺎﺭْﻗُﺪْ، ﻓَﺈِﻥِ ﺍﺳْﺘَﻴﻘَﻆَ، ﻓَﺬَﻛَﺮَ
ﺍﻟﻠﻪَ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﺍﻧﺤَﻠَّﺖْ ﻋُﻘْﺪَﺓٌ، ﻓَﺈِﻥْ ﺗَﻮَﺿَّﺄَ، ﺍﻧْﺤَﻠّﺖْ ﻋُﻘﺪَﺓٌ، ﻓَﺈِﻥْ
ﺻَﻠَّﻰ، ﺍﻧْﺤَﻠَّﺖْ ﻋُﻘَﺪُﻩُ ﻛُﻠُّﻬَﺎ، ﻓَﺄَﺻْﺒَﺢَ ﻧَﺸِﻴﻄﺎً ﻃَﻴِّﺐَ ﺍﻟﻨَّﻔْﺲِ،
ﻭَﺇِﻻَّ ﺃَﺻْﺒﺢَ ﺧَﺒِﻴﺚَ ﺍﻟﻨَّﻔْﺲِ ﻛَﺴْﻼَﻥَ ‏». ﻣﺘﻔﻖٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
৭/১১৭৩। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু
আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ
নিদ্রা যায় তখন) তার
গ্রীবাদেশে শয়তান তিনটি করে গাঁট
বেঁধে দেয়; প্রত্যেক গাঁটে সে এই
বলে মন্ত্র পড়ে যে, ‘তোমার
সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব
তুমি ঘুমাও।’ অতঃপর
যদি সে জেগে উঠে আল্লাহর যিকির
করে, তাহলে একটি গাঁট খুলে যায়।
তারপর যদি ওযু করে, তবে তার আর
একটি গাঁট খুলে যায়। তারপর
যদি নামায পড়ে, তাহলে সমস্ত গাঁট
খুলে যায়। আর তার প্রভাত হয় স্ফূর্তি ও
ভালো মনে। নচেৎ
সে সকালে ওঠে কলুষিত মনে ও
অলসতা নিয়ে।” (বুখারী ও মুসলিম) [6]
8/1174 ﻭَﻋَﻦْ ﻋَﺒﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺑﻦِ ﺳَﻼَﻡٍ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ : ﺃَﻥَّ
ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ: ﺃَﻓْﺸُﻮﺍ
ﺍﻟﺴَّﻼَﻡَ، ﻭَﺃَﻃْﻌِﻤُﻮﺍ ﺍﻟﻄَّﻌَﺎﻡَ، ﻭَﺻَﻠُّﻮﺍ ﺑِﺎﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻭَﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻧِﻴَﺎﻡٌ،
ﺗَﺪْﺧُﻠُﻮﺍ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔَ ﺑِﺴَﻼَﻡٍ ‏». ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻭﻗﺎﻝ : ﺣﺪﻳﺚ ﺣﺴﻦ
ﺻﺤﻴﺢ
৮/১১৭৪। আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম
রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন, “হে লোক সকল!
তোমরা ব্যাপকভাবে সালাম প্রচার
কর, (ক্ষুধার্তকে) অন্ন দাও এবং
লোকে যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকবে তখন
নামায পড়।
তাহলে তোমরা নিরাপদে ও
নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
(তিরমিযী হাসান সহীহ) [7]
9/1175 ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳﺮَﺓَ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ
ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ‏« ﺃَﻓْﻀَﻞُ ﺍﻟﺼِّﻴَﺎﻡِ ﺑَﻌْﺪَ
ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ: ﺷَﻬْﺮُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺍﻟﻤُﺤَﺮَّﻡُ، ﻭَﺃَﻓْﻀَﻞُ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ ﺑَﻌْﺪَ ﺍﻟﻔَﺮِﻳﻀَﺔِ:
ﺻَﻼَﺓُ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ‏» . ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ
৯/১১৭৫। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু
আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“রমযান মাসের রোযার পর সর্বোত্তম
রোযা হচ্ছে আল্লাহর মাস মুহাররমের
রোযা। আর ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম
নামায হচ্ছে রাতের ( তাহাজ্জুদের )
নামায।” (মুসলিম) [8]
10/1176 ﻭَﻋَﻦِ ﺍﺑﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ : ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﺻَﻼَﺓُ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻣَﺜْﻨَﻰ ﻣَﺜْﻨَﻰ، ﻓَﺈِﺫَﺍ
ﺧِﻔْﺖَ ﺍﻟﺼُّﺒْﺢَ ﻓَﺄَﻭْﺗِﺮْ ﺑِﻮَﺍﺣِﺪَﺓٍ ‏». ﻣﺘﻔﻖٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
১০/১১৭৬। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার
রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন, “রাতের নামায দু’ দু’ রাকআত
করে। অতঃপর যখন ফজর হওয়ার
আশংকা করবে, তখন এক রাকআত বিতির
পড়ে নেবে।” (বুখারী ও মুসলিম) [9]
11/1177 ﻭَﻋَﻨْﻪ، ﻗَﺎﻝَ : ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻣَﺜْﻨَﻰ ﻣَﺜْﻨَﻰ، ﻭَﻳُﻮﺗِﺮُ ﺑِﺮَﻛْﻌَﺔٍ .ﻣﺘﻔﻖٌ
ﻋَﻠَﻴْﻪِ
১১/১১৭৭। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু
আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের
বেলায় দু’ দু’ রাকআত করে নামায
পড়তেন এবং এক রাকআত বিতির
পড়তেন।’ (বুখারী ও মুসলিম) [10]
12/1178 ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲٍ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ، ﻗَﺎﻝَ : ﻛَﺎﻥَ
ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳُﻔْﻄِﺮُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺸَّﻬْﺮِ ﺣَﺘَّﻰ
ﻧَﻈُﻦَّ ﺃَﻥْ ﻻَ ﻳَﺼُﻮﻡَ ﻣِﻨْﻪُ، ﻭَﻳَﺼُﻮﻡُ ﺣَﺘَّﻰ ﻧَﻈُﻦَّ ﺃَﻥْ ﻻَ ﻳُﻔْﻄِﺮَ ﻣِﻨْﻪُ
ﺷَﻴْﺌﺎً، ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻻَ ﺗَﺸَﺎﺀُ ﺃَﻥْ ﺗَﺮَﺍﻩُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻴﻞِ ﻣُﺼَﻠِّﻴﺎً ﺇِﻻَّ ﺭَﺃﻳْﺘَﻪُ، ﻭَﻻَ
ﻧَﺎﺋِﻤﺎً ﺇِﻻَّ ﺭَﺃﻳْﺘَﻪُ . ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ
১২/১১৭৮। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘কোন কোন
মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এমনভাবে রোযা ত্যাগ করতেন যে,
মনে হত তিনি সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত মাসে আর
রোযাই রাখবেন না। অনুরূপভাবে কোন
মাসে এমনভাবে (একাদিক্রমে)
রোযা রাখতেন যে, মনে হত তিনি ঐ
মাসে আর রোযা ত্যাগই করবেন না।
(তাঁর অবস্থা এরূপ ছিল যে,)
যদি তুমি তাঁকে রাত্রিতে নামায
পড়া অবস্থায় দেখতে না চাইতে, তবু
বাস্তবে তাঁকে নামায পড়া অবস্থায়
দেখতে পেতে। আর
তুমি যদি চাইতে যে, তাঁকে ঘুমন্ত
অবস্থায় দেখবে না, কিন্তু
বাস্তবে তুমি তাকে ঘুমন্ত অবস্থায়
দেখতে পেতে।’ (বুখারী) [11]
13/1179 ﻭَﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻬَﺎ : ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛَﺎﻥَ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﺇِﺣْﺪَﻯ ﻋَﺸْﺮَﺓَ ﺭَﻛْﻌَﺔً ـ
ﺗَﻌْﻨِﻲ ﻓِﻲ ﺍﻟﻠَّﻴﻞِ ـ ﻳَﺴْﺠُﺪُ ﺍﻟﺴَّﺠْﺪَﺓَ ﻣِﻦْ ﺫَﻟِﻚَ ﻗَﺪْﺭَ ﻣَﺎ ﻳَﻘْﺮَﺃُ
ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﺧَﻤْﺴِﻴﻦَ ﺁﻳَﺔً ﻗَﺒْﻞَ ﺃَﻥْ ﻳَﺮْﻓَﻊَ ﺭَﺃﺳَﻪُ، ﻭَﻳَﺮْﻛَﻊُ ﺭَﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ
ﻗَﺒْﻞَ ﺻَﻼَﺓِ ﺍﻟﻔَﺠْﺮِ، ﺛُﻢَّ ﻳَﻀْﻄَﺠِﻊُ ﻋَﻠَﻰ ﺷِﻘِّﻪِ ﺍﻷَﻳْﻤَﻦِ ﺣَﺘَّﻰ
ﻳَﺄﺗِﻴَﻪُ ﺍﻟﻤُﻨَﺎﺩِﻱ ﻟﻠﺼَﻼَﺓِ. ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ
১৩/১১৭৯। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু
আনহা হতে বর্ণিত, ‘রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এগার রাকআত নামায পড়তেন, অর্থাৎ
রাতে। তিনি মাথা তোলার
পূর্বে এত দীর্ঘ সেজদা করতেন যে,
ততক্ষণে তোমাদের কেউ পঞ্চাশ
আয়াত পড়তে পারবে। আর ফরয
নামাযের পূর্বে দু’ রাকআত সুন্নত
নামায পড়ে ডান পাশে শুয়ে আরাম
করতেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর নিকট
নামাযের ঘোষণাকারী এসে হাযির
হত।’ (বুখারী) [12]
14/1180 ﻭَﻋَﻨْﻬﺎ، ﻗَﺎﻟَﺖْ : ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﺰﻳﺪُ – ﻓِﻲ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻭَﻻَ ﻓِﻲ ﻏَﻴْﺮِﻩِ – ﻋَﻠَﻰ
ﺇِﺣْﺪَﻯ ﻋَﺸْﺮَﺓَ ﺭَﻛْﻌَﺔً : ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﺃَﺭْﺑَﻌﺎً ﻓَﻼَ ﺗَﺴْﺄﻝْ ﻋَﻦْ ﺣُﺴْﻨِﻬِﻦَّ
ﻭَﻃُﻮﻟِﻬِﻦَّ، ﺛُﻢَّ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﺃَﺭْﺑَﻌﺎً ﻓَﻼَ ﺗَﺴْﺄﻝْ ﻋَﻦْ ﺣُﺴْﻨِﻬِﻦَّ ﻭَﻃُﻮﻟِﻬِﻦَّ،
ﺛُﻢَّ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﺛَﻼﺛﺎً. ﻓَﻘُﻠﺖُ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ، ﺃَﺗَﻨَﺎﻡُ ﻗَﺒْﻞَ ﺃَﻥْ ﺗُﻮﺗِﺮَ؟
ﻓَﻘَﺎﻝَ : ‏«ﻳَﺎ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔ، ﺇِﻥَّ ﻋَﻴْﻨَﻲَّ ﺗَﻨَﺎﻣَﺎﻥِ ﻭَﻻَ ﻳَﻨَﺎﻡُ ﻗَﻠْﺒِﻲ ‏». ﻣﺘﻔﻖٌ
ﻋَﻠَﻴْﻪِ
১৪/১১৮০। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু
আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান ও
অন্যান্য মাসে (তাহাজ্জুদ
তথা তারাবীহ) ১১ রাকআতের
বেশী পড়তেন না। প্রথমে চার রাকআত
পড়তেন। সুতরাং তার সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য
সম্পর্কে প্রশ্নই করো না। তারপর (আবার)
চার রাকআত পড়তেন। সুতরাং তার
সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য সম্বন্ধে প্রশ্নই
করো না। অতঃপর তিন রাকআত
(বিতির) পড়তেন।
(একদা তিনি বিতির পড়ার আগেই
শুয়ে গেলেন।) আমি বললাম,
“হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি বিতির
পড়ার পূর্বেই ঘুমাবেন?” তিনি বললেন,
“আয়েশা! আমার চক্ষুদ্বয় ঘুমায়; কিন্তু
অন্তর জেগে থাকে।” (বুখারী ও
মুসলিম) [13]
15/1181 ﻭَﻋَﻨْﻬﺎ : ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛَﺎﻥَ
ﻳَﻨَﺎﻡُ ﺃَﻭَّﻝَ ﺍﻟﻠَّﻴﻞِ، ﻭَﻳَﻘُﻮﻡُ ﺁﺧِﺮَﻩُ ﻓَﻴُﺼَﻠِّﻲ . ﻣﺘﻔﻖٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
১৫/১১৮১। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু
আনহা হতে আরও বর্ণিত হয়েছে যে,
নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের প্রথম
দিকে ঘুমাতেন ও শেষের
দিকে উঠে নামায পড়তেন। (বুখারী ও
মুসলিম) [14]
(অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি এরূপ
করতেন নচেৎ এর ব্যতিক্রমও করতেন।)
16/1182 ﻭَﻋَﻦِ ﺍﺑﻦِ ﻣَﺴﻌُﻮﺩ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ، ﻗَﺎﻝَ :
ﺻَﻠَّﻴْﺖُ ﻣَﻊَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻟَﻴْﻠَﺔً، ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﺰَﻝْ
ﻗَﺎﺋِﻤﺎً ﺣَﺘَّﻰ ﻫَﻤَﻤْﺖُ ﺑِﺄَﻣْﺮِ ﺳُﻮﺀٍ ! ﻗِﻴﻞَ : ﻣَﺎ ﻫَﻤَﻤْﺖَ ؟ ﻗَﺎﻝَ :
ﻫَﻤَﻤْﺖُ ﺃَﻥْ ﺃَﺟِﻠْﺲَ ﻭَﺃَﺩَﻋَﻪُ . ﻣﺘﻔﻖٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
১৬/১১৮২। ইবনে মাসঊদ
রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,
তিনি বলেন, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে এক
রাতে নামায পড়েছি। তিনি এত
দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে রইলেন যে, শেষ
পর্যন্ত আমি একটা মন্দ কাজের
ইচ্ছা করে ফেলেছিলাম।’
ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-
কে জিজ্ঞাসা করা হল,
‘সে ইচ্ছাটা কি করেছিলেন?’
তিনি বললেন, ‘আমার ইচ্ছা হয়েছিল
যে, তাঁকে ছেড়ে দিয়ে বসে পড়ি।’
(বুখারী ও মুসলিম) [15]
17/1183 ﻭَﻋَﻦْ ﺣُﺬَﻳﻔَﺔَ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ، ﻗَﺎﻝَ : ﺻَﻠَّﻴْﺖُ
ﻣَﻊَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺫَﺍﺕَ ﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﻓَﺎﻓْﺘَﺘَﺢَ ﺍﻟﺒَﻘَﺮَﺓَ،
ﻓَﻘُﻠْﺖُ : ﻳَﺮْﻛَﻊُ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻤﺌَﺔِ، ﺛُﻢَّ ﻣَﻀَﻰ، ﻓَﻘُﻠﺖُ : ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﺑِﻬَﺎ ﻓِﻲ
ﺭَﻛْﻌَﺔٍ ﻓَﻤَﻀَﻰ، ﻓَﻘُﻠﺖُ : ﻳَﺮْﻛَﻊُ ﺑِﻬَﺎ، ﺛُﻢَّ ﺍﻓْﺘَﺘَﺢَ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀَ ﻓَﻘَﺮَﺃَﻫَﺎ،
ﺛُﻢَّ ﺍﻓْﺘَﺘَﺢَ ﺁﻝَ ﻋِﻤْﺮَﺍﻥَ ﻓَﻘَﺮَﺃَﻫَﺎ، ﻳَﻘﺮَﺃُ ﻣُﺘَﺮَﺳِّﻼً : ﺇِﺫَﺍ ﻣَﺮَّ ﺑِﺂﻳَﺔٍ ﻓِﻴﻬَﺎ
ﺗَﺴﺒِﻴﺢٌ ﺳَﺒَّﺢَ، ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻣَﺮَّ ﺑِﺴُﺆَﺍﻝٍ ﺳَﺄَﻝَ، ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻣَﺮَّ ﺑِﺘَﻌَﻮُّﺫٍ ﺗَﻌَﻮَّﺫَ،
ﺛُﻢَّ ﺭَﻛَﻊَ، ﻓَﺠَﻌَﻞَ ﻳَﻘُﻮْﻝُ : ‏«ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺭَﺑِّﻲَ ﺍﻟﻌَﻈِﻴﻢِ ‏» ﻓَﻜَﺎﻥَ
ﺭُﻛُﻮﻋُﻪُ ﻧَﺤْﻮﺍً ﻣِﻦْ ﻗِﻴَﺎﻣِﻪِ، ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﺳَﻤِﻊَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻟِﻤَﻦْ ﺣَﻤِﺪَﻩُ،
ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻟَﻚَ ﺍﻟﺤَﻤْﺪُ ‏» ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻡَ ﻃَﻮِﻳﻼً ﻗَﺮِﻳﺒﺎً ﻣِﻤَّﺎ ﺭَﻛَﻊَ، ﺛُﻢَّ ﺳَﺠَﺪَ،
ﻓَﻘَﺎﻝَ : ‏«ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺭَﺑِّﻲَ ﺍﻷَﻋْﻠَﻰ ‏» ﻓَﻜَﺎﻥَ ﺳﺠُﻮﺩُﻩُ ﻗَﺮﻳﺒﺎً ﻣِﻦْ
ﻗِﻴَﺎﻣِﻪِ. ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ.
১৭/১১৮৩। হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু
আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
আমি নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে এক
রাতে নামায পড়লাম।
তিনি সূরা বাকারাহ আরম্ভ করলেন।
আমি (মনে মনে) বললাম, ‘একশত
আয়াতের মাথায় তিনি রুকু
করবেন।’ (কিন্তু) তিনি তারপরও কিরাত
চালু রাখলেন। আমি (মনে মনে)
বললাম, ‘তিনি এরই দ্বারা (সূরা শেষ
করে) রুকু করবেন।’ কিন্তু
তিনি সূরা নিসা পড়তে আরম্ভ করলেন
এবং সম্পূর্ণ পড়লেন। তারপর
তিনি সূরা আলে ইমরান আরম্ভ করলেন
এবং সম্পূর্ণ করলেন। তিনি স্পষ্ট ও
ধীরে ধীরে তেলাওয়াত করতেন। যখন
এমন আয়াত আসত, যাতে তাসবীহ পাঠ
করার উল্লেখ আছে, তখন (আল্লাহর)
তাসবীহ পাঠ করতেন। যখন কোন
প্রার্থনা সম্বলিত আয়াত অতিক্রম
করতেন, তখন তিনি আল্লাহর
কাছে প্রার্থনা করতেন। যখন কোন
আশ্রয় প্রার্থনার আয়াত অতিক্রম
করতেন, তখন তিনি আশ্রয়
প্রার্থনা করতেন। (অতঃপর) তিনি
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
রুকু করলেন। সুতরাং তিনি রুকুতে
‘সুবহানা রাবিবয়াল আযীম’
পড়তে আরম্ভ করলেন। আর তাঁর রুকু ও
কিয়াম (দাঁড়িয়ে কিরাত
পড়া অবস্থা) এক সমান ছিল। তারপর
তিনি রুকু থেকে মাথা তুলে
‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ,
রাববানা অলাকাল হামদ’ (অর্থাৎ
আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রশংসা শুনলেন,
যে তা তাঁর জন্য করল। হে আমাদের
পালনকর্তা তোমার সমস্ত প্রশংসা)
পড়লেন। অতঃপর বেশ কিছুক্ষণ (কওমায়)
দাঁড়িয়ে থাকলেন রুকুর
কাছাকাছি সময় জুড়ে। তারপর
সেজদা করলেন
এবং তাতে তিনি পড়লেন,
‘সুবহানাল্লা রাবিবয়াল আ‘লা
’ (অর্থাৎ আমার মহান প্রভুর
পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। আর তাঁর
সেজদা দীর্ঘ ছিল তার কিয়াম
(দাঁড়িয়ে কিরাত পড়া অবস্থা)র
কাছাকাছি। (মুসলিম) [16]
18/1184 ﻭَﻋَﻦْ ﺟَﺎﺑِﺮٍ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗَﺎﻝَ : ﺳُﺌِﻞَ
ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃَﻱُّ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ ﺃَﻓْﻀَﻞُ؟ ﻗَﺎﻝَ :
‏«ﻃُﻮْﻝُ ﺍﻟﻘُﻨُﻮْﺕِ ‏». ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ
১৮/১১৮৪। জাবের রাদিয়াল্লাহু
আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সর্বোত্তম
নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল,
তিনি বললেন, “দীর্ঘ কিয়াম-যুক্ত
নামায।” (মুসলিম) [17]
19/1185 ﻭَﻋَﻦْ ﻋَﺒﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺑﻦِ ﻋَﻤﺮِﻭ ﺑﻦِ ﺍﻟﻌَﺎﺹِ ﺭَﺿِﻲَ
ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ : ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﻗَﺎﻝَ :
‏«ﺃَﺣَﺐُّ ﺍﻟﺼَّﻼﺓِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻼﺓُ ﺩَﺍﻭُﺩَ، ﻭَﺃَﺣَﺐُّ ﺍﻟﺼِّﻴَﺎﻡِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠﻪِ
ﺻِﻴَﺎﻡُ ﺩَﺍﻭُﺩَ، ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻨَﺎﻡُ ﻧِﺼْﻒَ ﺍﻟﻠَّﻴﻞِ ﻭَﻳَﻘُﻮﻡُ ﺛُﻠُﺜَﻪُ ﻭَﻳَﻨَﺎﻡُ
ﺳُﺪُﺳَﻪُ ﻭَﻳَﺼُﻮﻡُ ﻳَﻮﻣﺎً ﻭَﻳُﻔْﻄِﺮُ ﻳَﻮْﻣﺎً ‏». ﻣﺘﻔﻖٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
১৯/১১৮৫। ‘আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আমর
ইবনে ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম নামায,
দাউদ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ -এর নামায
এবং আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম রোযা,
দাউদ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ -এর রোযা;
তিনি অর্ধরাত নিদ্রা যেতেন
এবং রাতের তৃতীয় ভাগে ইবাদত
করার জন্য উঠতেন। অতঃপর রাতের
ষষ্ঠাংশে আবার নিদ্রা যেতেন।
(অনুরূপভাবে) তিনি একদিন
রোযা রাখতেন ও একদিন রোযা ত্যাগ
করতেন।” (বুখারী ও মুসলিম) [18]
20/1186 ﻭَﻋَﻦْ ﺟَﺎﺑِﺮٍ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ، ﻗَﺎﻝَ : ﺳَﻤِﻌﺖُ
ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﻳَﻘُﻮْﻝُ : ‏« ﺇِﻥَّ ﻓِﻲ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ
ﻟَﺴَﺎﻋَﺔً، ﻻَ ﻳُﻮَﺍﻓِﻘُﻬَﺎ ﺭَﺟُﻞٌ ﻣُﺴْﻠِﻢٌ ﻳَﺴْﺄﻝُ ﺍﻟﻠﻪَ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﺧَﻴْﺮﺍً ﻣِﻦْ
ﺃَﻣْﺮِ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻭَﺍﻵﺧِﺮَﺓِ، ﺇِﻻَّ ﺃﻋْﻄَﺎﻩُ ﺇﻳَّﺎﻩُ، ﻭَﺫَﻟِﻚَ ﻛُﻞَّ ﻟَﻴْﻠَﺔٍ ‏». ﺭﻭﺍﻩ
ﻣﺴﻠﻢ
২০/১১৮৬। জাবের রাদিয়াল্লাহু
আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বললেন,
আমি নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ
কথা বলতে শুনেছি যে,
“রাত্রিকালে এমন একটি সময় আছে,
কোন মুসলিম ব্যক্তি তা পেয়েই
দুনিয়া ও আখিরাত বিষয়ক যে কোন
উত্তম জিনিস প্রার্থনা করলে আল্লাহ
তা‘আলা অবশ্যই
তাকে তা দিয়ে থাকেন। ঐ
সময়টি প্রত্যেক রাতে থাকে।”
(মুসলিম) [19]
21/1187 ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳﺮَﺓَ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ : ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﻗَﺎﻝَ : ‏«ﺇِﺫَﺍ ﻗَﺎﻡَ
ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻓَﻠْﻴَﻔْﺘَﺘِﺢِ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓَ ﺑِﺮَﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ ﺧَﻔِﻴﻔَﺘَﻴْﻦِ ‏».
ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ
২১/১১৮৭। আবূ হুরাইরা
রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ
রাতে নামায পড়ার জন্য উঠবে,
সে যেন হাল্কা-ভাবে দু’ রাকআত
পড়ার মাধ্যমে নামায শুরু করে।”
(মুসলিম) [20]
22/1188 ﻭَﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻬَﺎ، ﻗَﺎﻟَﺖْ : ﻛَﺎﻥَ
ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇِﺫَﺍ ﻗَﺎﻡَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﺍﻓْﺘَﺘَﺢَ
ﺻَﻼَﺗَﻪُ ﺑِﺮَﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ ﺧَﻔِﻴﻔَﺘَﻴْﻦِ . ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ
২২/১১৮৮। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু
আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
‘আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন
রাতে (তাহাজ্জুদের) জন্য উঠতেন, তখন
দু’ রাকআত সংক্ষিপ্ত নামায পড়ার
মাধ্যমে আরম্ভ করতেন।’ (মুসলিম) [21]
23/1189 ﻭَﻋَﻨْﻬﺎ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻬَﺎ، ﻗَﺎﻟَﺖْ : ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ
ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇِﺫَﺍ ﻓَﺎﺗَﺘْﻪُ ﺍﻟﺼَّﻼﺓُ ﻣِﻦ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻣِﻦْ
ﻭَﺟَﻊٍ ﺃَﻭْ ﻏَﻴْﺮِﻩِ، ﺻَﻠَّﻰ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ ﺛِﻨْﺘَﻲْ ﻋَﺸﺮَﺓَ ﺭﻛْﻌَﺔً . ﺭﻭﺍﻩ
ﻣﺴﻠﻢ
২৩/১১৮৯। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু
আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
‘দৈহিক ব্যথা-বেদনা বা অন্য কোন
অসুবিধার কারণে যদি রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-
এর রাতের নামায ছুটে যেত,
তাহলে তিনি দিনের বেলায় ১২
রাকআত নামায পড়তেন।” (মুসলিম) [22]
24/1190 ﻭَﻋَﻦْ ﻋُﻤَﺮَ ﺑﻦِ ﺍﻟﺨَﻄَّﺎﺏِ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ،
ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ‏« ﻣَﻦْ ﻧَﺎﻡَ ﻋَﻦْ
ﺣِﺰْﺑِﻪِ، ﺃَﻭْ ﻋَﻦْ ﺷَﻲْﺀٍ ﻣِﻨْﻪُ، ﻓَﻘَﺮَﺃَﻩُ ﻓِﻴﻤَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﺻَﻼَﺓِ ﺍﻟﻔَﺠْﺮِ
ﻭَﺻَﻼَﺓِ ﺍﻟﻈُّﻬْﺮِ، ﻛُﺘِﺐَ ﻟَﻪُ ﻛَﺄﻧَّﻤَﺎ ﻗَﺮَﺃَﻩُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ‏». ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ
২৪/১১৯০। উমার ইবনে খাত্তাব
রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“যে ব্যক্তি স্বীয় অযীফা (দৈনিক
যথা নিয়মে তাহাজ্জুদের নামায)
অথবা তার কিছু অংশ
না পড়ে ঘুমিয়ে পড়ে, অতঃপর
যদি সে ফজর ও যোহরের
মধ্যবর্তী সময়ে তা পড়ে নেয়,
তাহলে তার জন্য
তা এমনভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়, যেন
সে তা রাতেই পড়েছে।” (মুসলিম) [23]
25/1191 ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳﺮَﺓَ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ
ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ‏« ﺭَﺣِﻢَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺭَﺟُﻼً ﻗَﺎﻡَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ، ﻓَﺼَﻠَّﻰ ﻭَﺃَﻳْﻘَﻆَ ﺍﻣْﺮَﺃَﺗَﻪُ، ﻓَﺈِﻥْ ﺃَﺑَﺖْ ﻧَﻀَﺢَ ﻓِﻲ ﻭَﺟْﻬِﻬَﺎ
ﺍﻟﻤَﺎﺀَ، ﺭَﺣِﻢَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓً ﻗَﺎﻣَﺖْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ، ﻓَﺼَﻠَّﺖْ ﻭَﺃَﻳْﻘَﻈَﺖْ
ﺯَﻭْﺟَﻬَﺎ، ﻓَﺈِﻥْ ﺃَﺑَﻰ ﻧَﻀَﺤَﺖْ ﻓِﻲ ﻭَﺟْﻬِﻪِ ﺍﻟﻤَﺎﺀَ ‏». ﺭﻭﺍﻩ ﺃَﺑُﻮ ﺩﺍﻭﺩ
ﺑﺈﺳﻨﺎﺩ ﺻﺤﻴﺢ
২৫/১১৯১। আবূ হুরাইরা
রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন,
যে রাতে উঠে নামায
পড়ে এবং নিজ স্ত্রীকেও জাগায়।
অতঃপর যদি সে (জাগতে) অস্বীকার
করে, তাহলে তার মুখে পানির
ছিটা মারে। অনুরূপ আল্লাহ সেই
মহিলার প্রতি দয়া করুন,
যে রাতে উঠে নামায
পড়ে এবং নিজ স্বামীকেও জাগায়।
অতঃপর যদি সে (জাগতে) অস্বীকার
করে, তাহলে সে তার মুখে পানির
ছিটা মারে।” (আবু দাউদ, বিশুদ্ধ সূত্রে)
[24]
26/1192 ﻭَﻋَﻨْﻪ ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﺑﻲ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ،
ﻗَﺎﻻَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ‏«ﺇِﺫَﺍ ﺃَﻳْﻘَﻆَ
ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ ﺃﻫْﻠَﻪُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻓَﺼَﻠَّﻴَﺎ – ﺃَﻭْ ﺻَﻠَّﻰ ﺭَﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ ﺟَﻤِﻴﻌﺎً،
ﻛُﺘِﺒَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟﺬَّﺍﻛِﺮِﻳﻦَ ﻭَﺍﻟﺬَّﺍﻛِﺮَﺍﺕِ ‏» . ﺭﻭﺍﻩ ﺃَﺑُﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﺑﺈﺳﻨﺎﺩ
ﺻﺤﻴﺢ
২৬/১১৯২। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু
আনহু ও আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু
উভয় হতে বর্ণিত, তাঁরা বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন
কোনো ব্যক্তি তার
স্ত্রীকে রাতে জাগিয়ে উভয়ে
নামায পড়ে অথবা তারা উভয়ে দু’
রাকআত করে নামায আদায় করে,
তবে তাদেরকে (অতীব)
যিকিরকারী ও যিকিরকারিনীদের
দলে লিপিবদ্ধ করা হয়।” (আবূ দাউদ
বিশুদ্ধ সূত্রে) [25]
27/1193 ﻭَﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻬَﺎ : ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﻗَﺎﻝَ : ‏«ﺇِﺫَﺍ ﻧَﻌَﺲَ ﺃﺣَﺪُﻛُﻢْ ﻓﻲ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ،
ﻓَﻠْﻴَﺮْﻗُﺪْ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺬْﻫَﺐَ ﻋَﻨْﻪُ ﺍﻟﻨَّﻮْﻡُ، ﻓَﺈِﻥَّ ﺃَﺣَﺪَﻛُﻢْ ﺇِﺫَﺍ ﺻَﻠَّﻰ ﻭَﻫُﻮَ
ﻧَﺎﻋِﺲٌ، ﻟَﻌَﻠَّﻪُ ﻳَﺬْﻫَﺐُ ﻳَﺴْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﻓَﻴَﺴُﺐَّ ﻧَﻔْﺴَﻪُ ‏». ﻣﺘﻔﻖٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
২৭/১১৯৩। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু
আনহা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন
তোমাদের কেউ নামাযের
মধ্যে তন্দ্রাভিভূত হবে, তখন সে যেন
নিদ্রা যায়, যতক্ষণ না তার নিদ্রার
চাপ দূর হয়ে যায়। কারণ, যখন কেউ
তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে নামায পড়বে, তখন
সে খুব সম্ভবত:
ক্ষমা প্রার্থনা করতে গিয়ে
নিজেকে গালি দিতে লাগবে।”
(বুখারী ও মুসলিম) [26]
28/1194 ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳﺮَﺓَ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ
ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ‏«ﺇِﺫَﺍ ﻗَﺎﻡَ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ، ﻓَﺎﺳْﺘَﻌْﺠَﻢَ ﺍﻟﻘُﺮْﺁﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﻟِﺴَﺎﻧِﻪِ، ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﺪْﺭِ ﻣَﺎ ﻳَﻘُﻮْﻝُ،
ﻓَﻠْﻴَﻀْﻄَﺠِﻊ ‏». ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ
২৮/১১৯৪। আবূ হুরাইরা
রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন
তোমাদের কেউ রাতে উঠবে ও (ঘুমের
চাপের কারণে) জিহ্বায় কুরআন
পড়তে এমন অসুবিধা বোধ করবে যে,
সে কি বলছে তা বুঝতে পারবে না,
তখন সে যেন শুয়ে পড়ে।” (মুসলিম) [27]
[1] সহীহুল বুখারী ৪৮৩৭, ১১১৮, ১১১৯, ১১৪৮,
১১৬১, ১১৬২, ১১৬৮, মুসলিম ৭৩১, ২৮২০,
তিরমিযী ৪১৮, নাসায়ী ১৬৪৮-১৬৫০,
আবূ দাউদ ১২৬২, ১২৬৩, ইবনু মাজাহ ১২২৬,
১২২৭
[2] সহীহুল বুখারী ১১২৭, ৪৭২৪, ৭৩৪৭, ৭৪৬৫,
মুসলিম ৭৭৫, নাসায়ী ১৬১১, ১৬১২,
আহমাদ ৫৭২, ৭০৭, ৯০২
[3] সহীহুল বুখারী ৪৪০, ১১২২, ১১৫৮, ৩৭৩৯,
৩৭৪১, ৭০১৬, ৭০২৯, ৭০৩১, মুসলিম ২৪৭৮,
২৪৭৯, তিরমিযী ৩২১, নাসায়ী ৭২২,
ইবনু মাজাহ ৭৫১, ৩৯১৯ আহমাদ ৪৪৮০,
৪৫৯৩, ৪৫৮৫, ৬২৯৪, দারেমী ১৪০০, ২১৫২
[4] সহীহুল বুখারী ১১৩১, ১১৫২, ১১৫৩,
১৯৭৪-১৯৮০, ২৪১৮-২৪২৩, ৫০৫২-৫০৫৪,
৫১৯৯, ৬২৭৭, মুসলিম ১১৫৯,
তিরমিযী ৭৭০, নাসায়ী ১৬৩০, ২৩৪৪,
২৩৮৮-২৩৯৪, ২৩৯৬, ২৩৯৭, ২৩৯৯-২৪০৩, আবূ
দাউদ ১৩৮৮-১৩৯১, ২৪২৭, ২৪৪৮, ইবনু
মাজাহ ১৩৪৬, ১৭১২, আহমাদ ৬৪৪১,
৬৪৫৫, ৬৪৮০, ৬৪৯১, ৬৭২১, ৬৭২৫, ৬৭৫০,
দারেমী ১৭৫২, ৩৪৮৬
[5] সহীহুল বুখারী ১১৪৪, ৩২৭০, মুসলিম
৭৭৪, নাসায়ী ১৬০৮, ১৬০৯, ইবনু মাজাহ
১৩৩০, আহমাদ ৩৫৪৭, ৪০৪৯
[6] সহীহুল বুখারী ১১৪২, ৩২৬৯, মুসলিম
৭৭৬, নাসায়ী ১৬০৭, আবূ দাউদ ১৩০৬,
ইবনু মাজাহ ১৩২৯, আহমাদ ৭২৬৬, ৭৩৯২,
১০০৭৫, মুওয়াত্তা মালিক ৪২৬
[7] তিরমিযী ২৪৮৫, ইবনু মাজাহ ১৩৩৪,
৩২৫১, দারেমী ১৪৬০
[8] মুসলিম ১১৬৩, তিরমিযী ৪৩৮, ৭৪০, আবূ
দাউদ ২৪২৯, ইবনু মাজাহ ১৭৪২, আহমাদ
৭৯৬৬, ৮১৮৫, ৮৩০২, ৮৩২৯, ১০৫৩২,
দারেমী ১৭৫৭, ১৭৫৮
[9] সহীহুল বুখারী ৪৭২, ৪৭৩, ৯৯১, ৯৯৩, ৯৯৫,
৯৯৮, ১১৩৭, মুসলিম ৭৪৯, তিরমিযী ৪৩৭,
৬৪১, ১৬৬৬, ১৬৬৭, ১৬৬৮, ১৬৬৯, ১৬৭০,
১৬৭১, ১৬৭২, ১৬৭৩, ১৬৭৪, ১৬৮২, ১৬৯২,
১৬৯৪, আবূ দাউদ ১৪২১, ১৪৩৮, ইবনু মাজাহ
১১৭৪, ১১৭৫, ১১৭৬, ১৩২২, আহমাদ ৪৪৭৮,
৪৫৪৫, ৪৬৯৬, ৪৭৭৬, ৪৮৩২, ৪৮৪৫, ৪৯৫১,
৫০১২, ৫০৬৬, ৫১০১, ৫১৯৫, ৫৩৭৬, ৪৫৩১,
৪৫৪৭, ৪৫৬৬, ৫৫১২, মুওয়াত্তা মালিক
২৬১, ২৬৯, ২৭৫, ২৭৬, দারেমী ১৪৫৮
[10] ঐ
[11] সহীহুল বুখারী ১১৪১, ১৯৭২, ১৯৭৩,
মুসলিম ১১৫৮, তিরমিযী ৭৬৯, ২০১৫,
নাসায়ী ১৬২৭, আগ ১১৬০১, ১১৭১৯,
১২২১৩, ১২৪২১, ১২৪৭১, ১২৬৫৪, ১২৭৬২,
১২৯৬০, ১২৯৯০, ১৩০৬১, ১৩২৩৮, ১৩৩০৪,
১৩৩৭০, ১৩৮৬, ১৩৪০৬
[12] সহীহুল বুখারী ৬২৬, ৯৯৪, ১১২৩, ১