ফরয নামাজে জোরে আমিন বলার হাদিস সমুহ


রাসুলুল্লাহ(সাঃ) উচ্চস্বরে আমীন বলতেনরাসুলুল্লাহ(সাঃ) উচ্চস্বরে আমীন বলতেন সাথেসাথে পিছনের লোকেরাও উচ্চস্বরে আমীনবলতেন।জেহরী ছালাতে ইমামের সূরায়ে ফাতিহাপাঠ শেষে ইমাম-মুক্তাদী সকলে সরবে‘আমীন’ বলবে। ইমামের আগে নয় বরং ইমামের‘আমীন’ বলার সাথে সাথে মুক্তাদীর ‘আমীন’বলা ভাল। তাতে ইমামের পিছে পিছে মুক্তাদীরসূরায়ে ফাতিহা পাঠ করা সম্ভব হয় এবং ইমাম, মুক্তাদী ওফেরেশতাদের ‘আমীন’ সম্মিলিতভাবে হয়।যেমন এরশাদ হয়েছে, ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲْ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺇِﺫَﺍ ﺃَﻣَّﻦَ ﺍﻟْﺈِﻣَﺎﻡُ ﻓَﺄَﻣِّﻨُﻮْﺍ …ﻭَﻓِﻲ ﺭِﻭَﺍﻳَﺔٍ : ﺇِﺫَﺍ ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟْﺈِﻣَﺎﻡُ ﻭَﻻَ ﺍﻟﻀَّﺎﻟِّﻴْﻦَ ﻓَﻘُﻮْﻟُﻮْﺍ ﺁﻣِﻴْﻦَ،ﻓَﺈِﻥَّ ﺍﻟْﻤَﻶﺋِﻜَﺔَ ﺗَﻘُﻮْﻝُ ﺁﻣِﻴْﻦَ ﻭَﺇِﻥَّ ﺍﻟْﺈِﻣَﺎﻡَ ﻳَﻘُﻮْﻝُ ﺁﻣِﻴْﻦَ، ﻓَﻤَﻦْﻭَﺍﻓَﻖَ ﺗَﺄْﻣِﻴْﻨُﻪُ ﺗَﺄْﻣِﻴْﻦَ ﺍﻟْﻤَﻶﺋِﻜَﺔِ ﻏُﻔِﺮَ ﻟَﻪُ ﻣَﺎ ﺗَﻘَﺪَّﻡَ ﻣِﻦْ ﺫَﻧْﺒِﻪِﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔُ ﻭﺃﺣﻤﺪُ- ﻭَﻓِﻲْ ﺭِﻭَﺍﻳَﺔٍ ﻋﻨﻪ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ﺇِﺫَﺍ ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﺁﻣِﻴْﻦَ ﻭَﻗَﺎﻟَﺖِﺍﻟْﻤَﻶﺋِﻜَﺔُ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﺁﻣِﻴْﻦَ، ﻓَﻮَﺍﻓَﻘَﺖْ ﺇِﺣْﺪَﺍﻫُﻤَﺎ ﺍﻟْﺄُﺧْﺮَﻯ،ﻏُﻔِﺮَ ﻟَﻪُ ﻣَﺎ ﺗَﻘَﺪَّﻡَ ﻣِﻦْ ﺫَﻧْﺒِﻪِ، ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺸﻴﺨﺎﻥُ ﻭﻣﺎﻟﻚُ- ﻭﻋﻦﻭَﺍﺋِﻞِ ﺑْﻦِ ﺣُﺠْﺮٍ ﻗَﺎﻝَ : ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺮَﺃَ ﻏَﻴْﺮِ ﺍﻟْﻤَﻐْﻀُﻮْﺏِ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻭَﻻَ ﺍﻟﻀَّﺂﻟِّﻴْﻦَ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺁﻣِﻴْﻦَ،ﻭَﻣَﺪَّ ﺑِﻬَﺎ ﺻَﻮْﺗَﻪُ، ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺑﻮﺩﺍﺅﺩَ ﻭﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯُّ ﻭﺍﺑﻦُ ﻣﺎﺟﻪ -কুতুবে সিত্তাহ সহ অন্যান্য হাদীছ গ্রন্থে বর্ণিতউপরোক্ত হাদীছগুলির সারকথা হ’ল এই যে,রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, যখন ইমাম ‘আমীন’বলে কিংবা ‘ওয়ালায্ যা-ল্লীন’ পাঠ শেষ করে, তখনতোমরা সকলে ‘আমীন’ বল। কেননা যার‘আমীন’ আসমানে ফেরেশতাদের ‘আমীন’-এরসাথে মিলে যাবে, তার পূর্বেকার সকল গুনাহ মাফকরা হবে’। [মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৮২৫,‘ছালাতে ক্বিরাআত’ অনুচ্ছেদ-১২; মুওয়াত্ত্বা (মুলতান,পাকিস্তান ১৪০৭/১৯৮৬) হা/৪৬ ‘ছালাত’ অধ্যায়, পৃঃ ৫২।]ওয়ায়েল বিন হুজ্র (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে ‘গায়রিল মাগযূবে ‘আলাইহিম ওয়ালায্ যা-ল্লীন’বলার পরে তাঁকে উচ্চৈঃস্বরে আমীন বলতেশুনলাম’। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণনাএসেছে। [দারাকুৎনী হা/১২৫৩-৫৫, ৫৭, ৫৯;আবুদাঊদ, তিরমিযী, দারেমী, মিশকাতহা/৮৪৫।]‘আমীন’ অর্থ : ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﺳْﺘَﺠِﺐْ ‘হে আল্লাহ!তুমি কবুল কর’। ‘আমীন’ ( ﺁﻣِﻴْﻦ)-এর আলিফ -এরউপরে ‘মাদ্দ’ বা ‘খাড়া যবর’ দুটিই পড়া জায়েযআছে।[মুনযেরী, ছহীহ আত-তারগীব হা/৫১১, হাশিয়াআলবানী, ১/২৭৮ পৃঃ ।] নাফে‘ বলেন, ইবনু ওমর (রাঃ)কখনো ‘আমীন’ বলা ছাড়তেন না এবং তিনিএব্যাপারে সবাইকে উৎসাহ দিতেন’। আত্বা বলেন,আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের (রাঃ) সরবে ‘আমীন’বলতেন। তাঁর সাথে মুক্তাদীদের ‘আমীন’-এরআওয়াযে মসজিদ গুঞ্জরিত হয়ে উঠত’ ( ﺣَﺘَّﻰ ﺇِﻥَّﻟِﻠْﻤَﺴْﺠِﺪِ ﻟَﻠَﺠَّﺔً )।[বুখারী তা‘লীক্ব ১/১০৭ পৃঃ, হা/৭৮০;ফাৎহুল বারী হা/৭৮০-৮১ ‘সশব্দে আমীন বলা’অনুচ্ছেদ-১১১।]এক্ষণে যদি কোন ইমাম ‘আমীন’না বলেন, কিংবা নীরবে বলেন, তবুও মুক্তাদীসরবে ‘আমীন’ বলবেন।[ছহীহ ইবনু খুযায়মাহা/৫৭৫, অনুচ্ছেদ-১৩৯।] অনুরূপভাবে যদি কেউজেহরী ছালাতে ‘আমীন’ বলার সময়জামা‘আতেযোগদান করেন, তবে তিনি প্রথমেসরবে ‘আমীন’ বলে নিবেন ও পরে নীরবেসূরায়ে ফাতিহা পড়বেন। ইমাম ঐ সময় পরবর্তীক্বিরাআত শুরু করা থেকে কিছু সময় বিরতি দিবেন।যাতে সূরা ফাতিহা ও পরবর্তী আমীন ওক্বিরাআতের মধ্যে পার্থক্য বুঝা যায়। উল্লেখ্যযে, এ সময় মুক্তাদীর সূরা ফাতিহা পাঠ করা এবং সেইসময় পরিমাণ ইমামের চুপ থাকার কোন দলীল নেই।[তিরমিযী, আবুদাঊদ প্রভৃতি; মিশকাত হা/৮১৮ -এরটীকা-আলবানী, ‘তাকবীরের পর যা পড়তে হয়’অনুচ্ছেদ-১১; দ্রঃ মাসিক আত-তাহরীক, রাজশাহী ৭মবর্ষ ১০ম সংখ্যা, জুলাই ২০০৪, প্রশ্নোত্তর:৪০/৪০০, পৃঃ ৫৫-৫৬ ।] ‘আমীন’ শুনে কারু গোস্বাহওয়া উচিত নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদকরেছেন, ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَﻗَﺎﻝَ : ﻣَﺎ ﺣَﺴَﺪَﺗْﻜُﻢُ ﺍﻟْﻴَﻬُﻮْﺩُ ﻋَﻠَﻰ ﺷَﻲْﺀٍ ﻣَﺎ ﺣَﺴَﺪَﺗْﻜُﻢْ ﻋَﻠَﻰﺍﻟﺴَّﻼَﻡِ ﻭَﺍﻟﺘَّﺄْﻣِﻴْﻦِ، ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺣﻤﺪ ﻭﺇﺑﻦ ﻣﺎﺟﻪ ﻭﺍﻟﻄﺒﺮﺍﻧﻲ-ﻭﻓﻲ ﺭﻭﺍﻳﺔ ﻋﻨﻬﺎ ﺑﻠﻔﻆ : ﻣَﺎ ﺣَﺴَﺪَﺗْﻜُﻢُ ﺍﻟْﻴَﻬُﻮْﺩُ ﻋَﻠَﻰ ﺷَﻲْﺀٍﻣَﺎ ﺣَﺴَﺪَﺗْﻜُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﻗَﻮْﻝِ ﺁﻣِﻴْﻦَ -‘ইহুদীরা তোমাদেরসবচেয়ে বেশী হিংসা করে তোমাদের ‘সালাম’ ও‘আমীন’ -এর কারণে’। [আহমাদ, ইবনু মাজাহ হা/৮৫৬;ছহীহ আত-তারগীব হা/৫১২।] কারণ এই সাথেফেরেশতারাও ‘আমীন’ বলেন। ফলে তা আল্লাহরনিকট কবুল হয়ে যায়।উল্লেখ্য যে, ‘আমীন’ বলারপক্ষে ১৭টি হাদীছ এসেছে।[আর-রাওযাতুননাদিইয়াহ ১/২৭১।] যার মধ্যে ‘আমীন’ আস্তে বলারপক্ষে শো‘বা থেকে একটি রেওয়ায়াত আহমাদ ওদারাকুৎনীতে এসেছে ﺃﻭ ﺃَﺧْﻔَﻲ ﺑِﻬَﺎ ﺻَﻮْﺗَﻪُ ﺧَﻔَﺾَবলে। যার অর্থ ‘আমীন’ বলার সময় রাসূল (ছাঃ)-এরআওয়ায নিম্নস্বরে হ’ত’। একই রেওয়ায়াত সুফিয়ানছাওরী থেকে এসেছে ﺭَﻓَﻊَ ﺑِﻬَﺎ ﺻَﻮْﺗَﻪُ বলে।যার অর্থ- ‘তাঁর আওয়ায উচ্চৈঃস্বরে হ’ত’। হাদীছবিশারদ পন্ডিতগণের নিকটে শো‘বা থেকে বর্ণিতনিম্নস্বরে ‘আমীন’ বলার হাদীছটি‘মুযত্বারিব’ ( ﻣﻀﻄﺮﺏ )। অর্থাৎ যার সনদ ও মতনে নামও শব্দগত ভুল থাকার কারণে ‘যঈফ’। পক্ষান্তরেসুফিয়ান ছওরী (রাঃ) বর্ণিত সরবে আমীন বলারহাদীছটি এসব ত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়ার কারণে‘ছহীহ’।[দারাকুৎনী হা/১২৫৬-এর ভাষ্য, আর-রাওযাতুননাদিইয়াহ ১/২৭২; নায়লুল আওত্বার ৩/৭৫।] অতএববুখারী ও মুসলিম সহ বিভিন্ন ছহীহ হাদীছে বর্ণিতজেহরী ছালাতে সশব্দে ‘আমীন’ বলার বিশুদ্ধসুন্নাতের উপরে আমল করাই নিরপেক্ষমুমিনেরকর্তব্য। তাছাড়া ইমামের সশব্দে সূরায়েফাতিহা পাঠ শেষে‘ছিরাতুল মুস্তাক্বীম’-এর হেদায়াতপ্রার্থনার সাথে মুক্তাদীগণের নীরবে সমর্থনদান কিছুটা বিসদৃশ বৈ-কি!০১। আতা (রঃ) বলেন, আমীনহল দু’আ। তিনি আরো বলেন, আবদুল্লাহ ইবনুযুবায়ের (রাঃ) ও তার পিছনের মুসল্লীগণ এমনভাবেআমীন বলতেন যে মসজিদে গুমগুম আওয়াজহতো। আবু হুরায়রা (রাঃ) ইমামকে ডেকে বলতেন,আমাকে আমীন বলার সুযোগ থেকে বঞ্চিতকরবেন না। নাফি(রঃ)বলেন, ইবনু উমার (রাঃ) কখনইআমীন বলা ছাড়তেন না এবং তিনি তাদের (আমীনবলার জন্য)উৎসাহিত করতেন। আমি তাঁর কাছ থেকেএ সম্পর্কে হাদিস শ্তনেছি । সহীহ বুখারী,২য়খন্ড,অনুচ্ছেদ-৫০২, পৃষ্ঠা নং ১২০ও১২১, প্রকাশনী-ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।০২। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রঃ)—-আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেনঃ ইমাম যখন আমীন বলেন, তখনতোমরাও আমীন বলো। কেননা, যার আমীন(বলা) ফিরিশতাদের আমীন (বলা) এক হয়, তারপূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। ইবনু শিহাব (রঃ)বলেন,রাসুলুল্লাহ (সাঃ)ও আমীন বলতেন। সহীহবুখারী,২য় খন্ড, হাদিছ নং ৭৪৪, পৃষ্ঠা নং ১২১প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।০৩। আবদুল্লাহ ইবনুইউসুফ (রঃ)—-আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে,রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ(সালাতে) আমীন বলে, আর আসমানের ফিরিশ্তাগণআমীন বলেন এবং উভয়ের আমীন একই সময়েহলে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।সহীহ বুখারী,২য় খন্ড, হাদিছ নং ৭৪৫,পৃষ্ঠা নং ১২১প্রকাশনী- ইসঃফাউঃ বাংলাদেশ। এ সংক্রান্তআরোদেখুন ৭৪৬ নং হাদিস।০৪। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া(রঃ) —আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,রাসুলুল্লাহ(সাঃ) বলছেন, যখন ইমাম আমীন বলবেন,তখন তোমরাও আমীন বলবে। কেননা, যে,ব্যক্তি ফিরিশতাদের আমীন বলার সাথে একই সময়আমীন বলবে। তার পূর্ববর্তী সমস্ত পাপমোচনহয়ে যাবে। ইবনু শিহাব (রঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)ওআমীন বলতেন। সহীহ মুসলিম,২য় খণ্ড,হাদিস নং৭৯৮, পৃষ্ঠা নং ১৬০ও ১৬১, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃবাংলাদেশ।০৫। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রঃ) —- আবু হুরায়রা(রাঃ) থেকে বর্ণিত।তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলছেন, ইমাম যখন গাইরিল মাগ—-ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন বলবেন, তার পিছনের ব্যক্তিমুক্তাদি আমীন বলবে এবং তার বাক্য আকাশবাসীর(ফিরিশতা) বাক্যের অনুরূপ একই সময়ে উচ্চারিতহবে,তখন তার পূর্ববর্তী সমূদয় পাপ মোচন হয়েযাবে। সহীহ মুসলিম,২য় খণ্ড,হাদিস নং ৮০৩, পৃষ্ঠা নং১৬২, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ। এ সংক্রান্তআরো দেখুন ৭৯৯-৮০২ নং হাদিস।০৬। আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,ইমাম যখনআমীন বলে, তোমরাও তখন আমীন বলো।কেননা, যার আমীন বলা ফিরিশতাদের আমীন বলারসাতে মিলেযাবে,তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করেদেয়া হবে। ইবনু শিহাব (রঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)ওআমীন বলতেন। সহীহ মুসলিম,২য় খণ্ড,হাদিস নং৮১০, পৃষ্ঠা নং ১৭৮, প্রকাশনী- ইসলামিক সেন্টারবাংলাদেশ। এ সংক্রান্ত আরো দেখুন ৮১১-৮১৫ নংহাদিস।০৭। মুহাম্মদ ইবনু কাছীর (রঃ) —ওয়াইল ইবনুহুজর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহসাল্লালাহুআলাইহে ওয়াসাল্লাম ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন পাঠ করারপর জোরে ‘আমীন বলতেন’। আবু দাউদ,২য়খণ্ড,হাদিস নং ৯৩২, পৃষ্ঠা নং ৩৬, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃবাংলাদেশ।০৮। মাখলাদ ইবনু খালিদ (রঃ)ওয়াইল ইবনু হুজর(রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি রাসুলুল্লাহসাল্লালাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের পিছনে সালাত আদায়করা কালে তিনি উচ্চস্বরে আমীন বলেন এবং(সালাত শেষে) ডান ও বাম দিকে সালাম ফিরান এভাবেযে, – আমি তাঁর গন্ডদেষের সাদা অংশপরিষ্কারভাবে দেখি। আবু দাউদ,২য় খণ্ড,হাদিস নং ৯৩৩,পৃষ্ঠা নং ৩৬, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।০৯। নাসরইবনু আলী (রঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ) এর চাচাত ভাই আবুআবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম “গায়রিল মাগদুবিআলাইহিম ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন” পাঠের পরে এমনজোরে আমীন বলতেন যে প্রথম কাতারে তাঁরনিকটবর্তীলোকেরা তা শুনতে পেত। আবুদাউদ,২য় খণ্ড,হাদিস নং ৯৩৪, পৃষ্ঠা নং ৩৭, প্রকাশনী-ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।১০। আল কানাবী (রঃ) — আবু হুরায়রা(রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ যখন ইমামআমীন বলবে , তখন তোমরাও আমীন বলবে।কেননা যে ব্যক্তির আমীন শব্দ ফিরিশতাদেরআমীন শব্দের সাথে মিলবে ,তার পূর্বজীবনের সমস্ত গুনাহ মার্জিত হবে। ইবনু শিহাব (রঃ)বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)ও আমীন বলতেন। আবুদাউদ,২য় খণ্ড,হাদিস নং ৯৩৬, পৃষ্ঠা নং ৩৮, প্রকাশনী-ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।১১। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকেবর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলছেন,যখন ইমাম আমীনবলেন, তখন তোমরাও আমীন বল। কেননা যারআমীন ফিরিশতাদের আমীন এর সাথেএকত্রেউচ্চারিত হয় তার পূর্বের গুনাহমাফ করা হয়।মুয়াত্তা মালিক ১ম খণ্ড,পরিচ্ছেদ নং ১১, পৃষ্ঠা নং ১৪০,প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।১২। আবু হুরায়রা (রাঃ)হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলছেন, যখন ইমাম‘গায়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন’ বলবেতখন তোমরা আমীন বল। যাহার বাক্য ফিরিশতাদের(আমীন)বাক্যের সাথে মিলে যাবে তার পূর্বেরগুনাহ মাফ করা হবে। মুয়াত্তা মালিক ১ম খণ্ড,পরিচ্ছেদনং১১, রেওয়াত নং৪৫,পৃষ্ঠা নং১৪০, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃবাংলাদেশ।১৩। আমর ইবনু উসমান (রঃ)—আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেনঃ যখন তিলাওয়াতকারী আমীন বলে ,তখন তোমরাও আমীন বলবে। কেননা,ফিরিশতাগনও আমীন বলে থাকেন। অতএব, যারআমীন বলা ফিরিশতার আমীন বলার মতহবে,আল্লাহপাক তার পূর্বের পাপ মার্জনা করবেন।সুনানু ইবনু নাসাই,২য় খণ্ড,হাদিস নং ৯২৮, পৃষ্ঠা নং ৫৬,প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।১৪। মুহাম্মদ ইবনু মানসুর(রঃ)—আবু হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে নাবী (সাঃ) থেকেবর্ণিত। তিনি বলেন,যখন তিলাওয়াতকারী (ইমাম)আমীন বলে, তখন তোমরাও আমীন বলবে।কেননা, ফিরিশতাগনও আমীন বলে থাকেন। অতএব,যার আমীন বলা ফিরিশতার আমীন বলার মতহবে,আল্লাহপাক তার পূর্বের পাপ মার্জনা করবেন।সুনানু ইবনু নাসাই,২য় খণ্ড,হাদিস নং ৯২৯, পৃষ্ঠা নং ৫৬,প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।১৫। ইসমাইল ইবনু মাসুদ(রঃ) — আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলছেন, যখন ইমাম ‘গায়রিল মাগদুবিআলাইহিম ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন’ বলবে তখন তোমরাআমীন বল। কেননা, ফিরিশতাগণ আমীন বলেথাকেন। ইমামও আমীন বলে থাকেন, যার আমীনবলা ফিরিশতার আমীন বলার মত হবে, আল্লাহপাক তারপূর্বের পাপ ক্ষমা করে দেবেন। সুনানু ইবনুনাসাই,২য় খণ্ড,হাদিস নং ৯৩০, পৃষ্ঠা নং ৫৬, প্রকাশনী-ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।১৬। আবু বকর ইবনু আবু শায়বা ওহিসাম ইবনু আম্মার (রঃ) — আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত,রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলছেন, যখন ক্বারী (ইমাম) আমীনবলে, তখন তোমরা আমীন বলবে। কেননা,ফিরিশতাগণ আমীন বলে থাকেন। আর যার আমীনবলা, ফিরিশতাদের আমীন বলার সাথে মিলে যায় তারপূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেয়াহয়। সুনানু ইবনুমাজাহ,১ম খণ্ড,হাদিস নং ৮৫১, পৃষ্ঠা নং ৩২৬, প্রকাশনী-ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।১৭। বকর ইবনু খালফ ও জামীলইবনু হাসান ও আহমদ ইবনু আমর ইবনু সারাহ মিসরী ওহাশিম ইবনু কাশিম হাররানী —আবু হুরায়রা (রাঃ) হতেবর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলছেনঃ যখন ইমাম আমীনবলে, তখন তোমরা আমীন বলবে। কেননা, যারআমীন ফিরিশতাদের আমীন বলার সাথেমিলে যায়,তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। সুনানু ইবনুমাজাহ,১ম খণ্ড,হাদিস নং ৮৫২, পৃষ্ঠা নং ৩২৬, প্রকাশনী-ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।১৮। মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রঃ)আবুহুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।তিনি বলেন, লোকেরাআমীন বলা ছেড়ে দিয়েছে। অথচ, রাসুলুল্লাহ(সাঃ) যখন গাইরিল—ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন বলতেন;তখন তিনি বলতেন আমীন। এমনকি প্রথম সারিরলোকেরা তা শুনতে পেত এবং এতে মসজিদগুঞ্জরিত হত। সুনানু ইবনু মাজাহ,১ম খণ্ড,হাদিস নং ৮৫৩,পৃষ্ঠা নং ৩২৬, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।১৯।ইসহাক ইবনু মানসুর (রঃ) —আয়েশা (রাঃ) এর সূত্রেনাবী (সাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন। ইয়াহুদীরাতোমাদের কোন ব্যাপারে এত ঈর্ষান্বিত হয়না,যতটা না তারা তোমাদের সালাত ওআমীনের উপরঈর্ষান্বিত হয়। সুনানু ইবনু মাজাহ,১ম খণ্ড,হাদিস নং ৮৫৬,পৃষ্ঠা নং ৩২৭, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ। এসংক্রান্ত আরো দেখুন ৮৫৪,৮৫৫ ও ৮৫৭ নং হাদিস।আমীন উচ্চঃস্বরে বলার আরও দলিল দেখুন (মুসলিম১ম খন্ড ১৭৬ পৃঃ; নাসাঈ ১ম খন্ড ১৪৭ পৃঃ; মুয়াত্তা মালিক৩০ পৃঃ; দারা কুতনী ১২৭ পৃঃ; বায়হাকী ২য় খন্ড ৫৯ পৃঃ;ফাতহুল বারী ২য় খন্ড ২১৭ পৃঃ; নাইলুল আওতার ২য়খন্ড ২৪৪ পৃঃ; আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব ১ম খন্ড২৩৬ পৃঃ; সুবুলুস সালাম ১ম খন্ড ২৪৩ পৃঃ; তুহফাতুলআহওয়াযী ১ম খন্ড ১০৮ পৃঃ; তালখিসুল হাবীব ১মখন্ড ৯০ পৃঃ; আকামুল আহ্কামুল ১ম খন্ড ২০৭পৃঃ);আমীন উচ্চ স্বরে বলার আরও দলিল দেখুন(মিশকাত-মাওলানা নুর মোহাম্মাদ আযমী ২য় খন্ড হাঃ৭৬৮, ৭৮৭; মিশকাত মাদ্রাসার পাঠ্য ২য় খন্ড হাঃ ৭৬৮,৭৮৭; বাংলা অনুবাদ বুখারি মাওলানা আজীজুল হক ১মখন্ড হাঃ ৪৫২; সহিহ আল বুখারি আঃ প্রঃ ১ম খন্ড হাঃ ৭৩৬,৭৩৮; সহিহুল বুখারী তাঃ পাঃ ১ম খন্ড হাঃ ৭৮০, ৭৮২;বুখারী শরীফ ইঃ ফাঃ ১ম খন্ড হাঃ ৭৪১, ৭৪৩;মুসলিমশরীফ ইঃ ফাঃ ২য় খন্ড হাঃ৭৯৭, ৭৯৮, ৭৯৯, ৮০০; আবুদাউদ ইঃ ফাঃ ২য় খন্ড হাঃ ৯৩২; তিরমিযী শরীফ ইঃ ফাঃ ১মখন্ড হাঃ ২৪৮; ইবনে মাযাহ ইঃ ফাঃ ১ম খন্ড হাঃ ৮৩৭, ৮৩৮;জামে তিরমিযী মাওলানা আব্দুন নুর সালাফী ১ম খন্ডহাঃ ২৪১)আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত (এবং ইবনু আব্বাসহতেও) তিনি বলেন যে, রাসুল (সঃ) বলেছেন,ইহুদীরা তোমাদের প্রতি এতটা হিংসা অন্য কোনবিষয়ে করে না যতটা হিংসা সালাম দেয়াতে এবংজোরে আমীন বলাতে করে; অতএব তোমরাবেশী করে জোরে আমীন বল (ইবনু মাযাহ৬২ পৃঃ);জোরে আমীন শুনে চটা ইহুদিদেরসম্পর্কে আরও দলিল দেখুন (রাফউল উজাজাহ ১মখন্ড ৩০০ পৃঃ; ইবনু কাসীর ১ম খন্ড ৫৮ পৃঃ;আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব ১ম খন্ড ১৫০ পৃঃ; জামিউলফাওয়ায়েদ ১ম খন্ড ৭৬ পৃঃ; নাইলুল আওতার ২য় খন্ড২৪৬ পৃঃ; কানযুল উম্মাল ৩য় খন্ড ১৮৬ পৃঃ);পরিশেষে;মুসলমান ভাই-বোনদের জন্য ছোট একটি উপমাপেশ করতে চাই- যেমন ধরুন আপনি কোনবোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিলেন, কর্তৃপক্ষেরদেয়া কাগজ আপনি লিখে শেষ করেফেলেছেন, কিন্তু আপনি আপনার লেখা শেষকরতে পারেননি কারন, আপনার লেখার ভাব-বিশ্লেষণ ব্যাপক, সুন্দর হস্তাক্ষর ইত্যাদি, এই জন্যআপনাকে আরো অতিরিক্ত কাগজ নিতে হবেসুন্দরভাবে প্রশ্নোওর সম্পাদন করতে, এবং আপনিযদি তা সঠিকভাবে লেখেন বা সম্পাদনকরেনঅবশ্যই আপনি অন্যান্য ছাত্রদের তুলনায়বেশী নম্বর পাবেন এতে কোন সন্দেহনেই। সুন্নাত তদ্রুপআপনি যত বেশী বেশীসুন্নাত পালন করবেন ততবেশী রাসুল (সাঃ) এরআদর্শ অবলম্বনকারী হবেন এবং বেশীবেশী নেকী অর্জন করতে পারবেন।উল্লেখিত হাদিসগুলোর আলোকে সকলেইএকমত হবেন যে,নাবী কারীম (সাঃ) উচ্চস্বরে(ইমাম) আমীন বলতেন সাথে সাথে পিছনেরলোকেরাও উচ্চস্বরে আমীন বলতেন। আল্লাহসুবাহানাহু তায়ালা আমাদেরকে সঠিক এবং সহীহাদীসের আলোকে আমল করার তাওফিক দানকরুন। আমীন। ।আমাদের করণীয়ঃ সকলমুসলমানের উচিত সহীহ হাদীস মোতাবেকজীবনেরপ্রত্যকটি আমল করা।।