মসজিদ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা মাসায়েল


মসজিদের বিধানসমূহ
এক- মসজিদসমূহ পরিষ্কার করা, মসজিদ
সুগন্ধময় রাখা এবং মসজিদ সংরক্ষণ করা।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে হাদিস
বর্ণিত, তিনি বলেন,
‏« ﺃﻣﺮ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺑﺒﻨﺎﺀ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ
ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻭﺭ ﻭﺃﻥ ﺗﻨﻈﻒ، ﻭﺗﻄﻴﺐ ‏»
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আমাদেরকে বিভিন্ন
বাড়ীতে বাড়ীতে (তথা এলাকায়)
মসজিদ বানানো ‏[1‏]
এবং মসজিদকে পরিষ্কার করা ও সুগন্ধময়
করার নির্দেশ দেন”। ‏[2‏]
সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত
তিনি তার ছেলের নিকট এ বলে
চিঠি লেখেন-
(( ﺃﻣﺎ ﺑﻌﺪ، ﻓﺈﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻛﺎﻥ
ﻳﺄﻣﺮﻧﺎ ﺑﺎﻟﻤﺴﺎﺟﺪ ﺃﻥ ﻧﺼﻨﻌﻬﺎ ﻓﻲ ﺩﻭﺭﻧﺎ، ﻭﻧﺼﻠﺢ ﺻﻨﻌﺘﻬﺎ،
ﻭﻧﻄﻬﺮﻫﺎ)).
“অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আমাদেরকে আমাদের এলাকায় মসজিদ
বানানো এবং মসজিদের সংস্কার করা ও
পবিত্র করার নির্দেশ দিতেন”। ‏[3 ‏]
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত তিনি বলেন,
ﺃﻥ ﺭﺟﻼً ﺃﺳﻮﺩَ ﺃﻭ ﺍﻣﺮﺃﺓ ﺳﻮﺩﺍﺀ ﻛﺎﻥ ﻳﻘﻢُّ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ
ﻓﻤﺎﺕ ﻭﻟﻢ ﻳﻌﻠﻢ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺑﻤﻮﺗﻪ،
ﻓﺬﻛﺮﻩ ﺫﺍﺕ ﻳﻮﻡ، ﻓﻘﺎﻝ : ‏« ﻣﺎ ﻓﻌﻞ ﺫﻟﻚ ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ ‏» ؟ ﻗﺎﻟﻮﺍ :
ﻣﺎﺕ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ، ﻗﺎﻝ : ‏« ﺃﻓﻼ ﺁﺫﻧﺘﻤﻮﻧﻲ ‏» ؟ ﻓﻘﺎﻟﻮﺍ : ﺇﻧﻪ
ﻛﺎﻥ ﻛﺬﺍ ﻭﻛﺬﺍ ﻗﺼﺘﻪ، ﻗﺎﻝ : ﻓﺤﻘﺮﻭﺍ ﺷﺄﻧﻪ، ﻗﺎﻝ : ‏« ﺩﻟّﻮﻧﻲ
ﻋﻠﻰ ﻗﺒﺮﻩ ‏» ﺃﻭ ﻗﺎﻝ : ‏« ﻋﻠﻰ ﻗﺒﺮﻫﺎ ‏» ﻓﺄﺗﻰ ﻗﺒﺮﻫﺎ ﻓﺼﻠﻰ
ﻋﻠﻴﻬﺎ، ‏[ ﺛﻢ ﻗﺎﻝ : ‏« ﺇﻥ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ ﻣﻤﻠﻮﺀﺓ ﻇﻠﻤﺔ ﻋﻠﻰ ﺃﻫﻠﻬﺎ،
ﻭﺇﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻳﻨﻮِّﺭﻫﺎ ﻟﻬﻢ ﺑﺼﻼﺗﻲ ﻋﻠﻴﻬﻢ ‏» .
“একজন কালো ব্যক্তি বা মহিলা মসজিদ
পরিষ্কার করত। ‏[4‏] লোকটি মারা গেল
কিন্তু তার মৃত্যু সম্পর্কে রাসূল
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানানো হয়নি।
একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আলোচনা
করে তার
সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে বললেন, ঐ
লোকটি কি করলেন? তারা বলল,
হে আল্লাহর রাসূল লোকটি মারা গেল।
তিনি বললেন,
তোমরা আমাকে জানাওনি কেন?
তারা বলল, সে ছিল এমন এবং তার
ঘটনা এই। মোট কথা তারা তার
বিষয়টিকে খাট করে দেখলেন। রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন, তোমরা আমাকে তার কবর
দেখাও অথবা বললেন, তার [মহিলার] কবর
দেখাও। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কবরের উপর
এসে তার জন্য দু’আ করল। তারপর
তিনি বললেন, কবরসমূহ কবর বাসীর জন্য
অন্ধকারে পরিপূর্ণ। আর আল্লাহ তা
‘আলা কবরসমূহের উপর আমার দু’আ
করা দ্বারা আলোকিত করবেন। ‏[ 5‏]
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,
তিনি বলেন,
ﺑﻴﻨﻤﺎ ﻧﺤﻦ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻣﻊ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭ ﺳﻠﻢ، ﺇﺫ ﺟﺎﺀ ﺃﻋﺮﺍﺑﻲ ﻓﻘﺎﻡ ﻳﺒﻮﻝ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ، ﻓﻘﺎﻝ
ﺃﺻﺤﺎﺏ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ : ﻣﻪ، ﻣﻪ ؟ ﻗﺎﻝ :
ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ : ‏« ﻻ ﺗﺰﺭﻣﻮﻩ ﺩﻋﻮﻩ
‏» ﻓﺘﺮﻛﻮﻩ ﺣﺘﻰ ﺑﺎﻝ، ﺛﻢ ﺇﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ
ﺳﻠﻢ ﺩﻋﺎﻩ ﻓﻘﺎﻝ ﻟﻪ : ‏« ﺇﻥ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ ﻻ ﺗﺼﻠﺢ ﻟﺸﻲﺀ
ﻣﻦ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺒﻮﻝ ﻭﺍﻟﻘﺬﺭ، ﺇﻧﻤﺎ ﻫﻲ ﻟﺬﻛﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻭﺍﻟﺼﻼﺓ،
ﻭﻗﺮﺍﺀﺓ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ‏» ﺃﻭ ﻛﻤﺎ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ
ﺳﻠﻢ، ﻗﺎﻝ : ﻓﺄﻣﺮ ﺭﺟﻼً ﻣﻦ ﺍﻟﻘﻮﻡ ﻓﺠﺎﺀ ﺑﺪﻟﻮٍ ﻣﻦ ﻣﺎﺀٍ ﻓﺸﻨَّﻪ
ﻋﻠﻴﻪ.((
“একদিন আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
সাথে মসজিদে বসা ছিলাম তখন একজন
গ্রাম্য লোক
এসে মসজিদে দাড়িয়ে পেশাব
করা আরম্ভ করলে, রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ
তাকে বলল, থাম থাম! রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
তোমরা তাকে বাধা দিও না।
তাকে তোমরা আপন অবস্থায় ছেড়ে দাও।
তারপর তাকে তারা বাধা দিলেন না।
সে নিরাপদে পেশাব করার পর রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
তাকে ডেকে বললেন, নিশ্চয় মসজিদসমূহ
আল্লাহ যিকর, কুরআন তিলাওয়াত ও সালাত
আদায়ের জন্য। এখানে পেশাব-
পায়খানা করা চলবে না। অথবা রাসূল
যেভাবে বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন,
তারপর এক লোককে এক
বালতি পানি এনে তার উপর ঢে
লে দেয়ার নির্দেশ দেন এবং পানি ঢে
লে দেন। ‏[6‏]
আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‏« ﺍﻟﺒﺰﺍﻕ ﻓﻲ
ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﺧﻄﻴﺌﺔ، ﻭﻛﻔَّﺎﺭﺗﻬﺎ ﺩﻓﻨﻪ ‏» “মসজিদে থু থু
ফেলা অন্যায় আর তার কাফ্ফারা হল,
তা দাফন করে দেয়া”। মুসলিমের অপর
শব্দে হাদিসটি এভাবে বর্ণিত, রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‏«ﺍﻟﺘﻔﻞ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﺧﻄﻴﺌﺔ ﻭﻛﻔﺎﺭﺗﻬﺎ ﺩﻓﻨﻬﺎ ‏»
“মসজিদে থু থু ফেলা অন্যায়, আর তার
কাফ্ফারা হল, তা দাফন করে দেয়া
(অর্থাৎ পা মাড়িয়ে ঢেকে ফেলা)”। ‏[ 7‏]
আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেন,
‏« ﻋُﺮﺿﺖ ﻋﻠﻲّ ﺃﻋﻤﺎﻝ ﺃﻣﺘﻲ : ﺣﺴﻨﻬﺎ ﻭﺳﻴﺌﻬﺎ، ﻓﻮﺟﺪﺕ ﻓﻲ
ﻣﺤﺎﺳﻦ ﺃﻋﻤﺎﻟﻬﺎ، ﺍﻷﺫﻯ ﻳُﻤﺎﻁ ﻋﻦ ﺍﻟﻄﺮﻳﻖ، ﻭﻭﺟﺪﺕ ﻓﻲ
ﻣﺴﺎﻭﺉ ﺃﻋﻤﺎﻟﻬﺎ ﺍﻟﻨﺨﺎﻋﺔ ﺗﻜﻮﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻭﻻ ﺗﺪﻓﻦ ‏»
“আমার উম্মতের নেক আমল এবং বদ-
আমলসমূহ আমার নিকট পেশ করা হল।
আমি তাদের নেক আমলসমূহের
মধ্যে দেখতে পেলাম
রাস্তা হতে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো। আর
তাদের খারাব
আমলসমূহে দেখতে পেলাম মসজিদে থু থু
ফেলা হয়েছে অথচ তা দাফন করা হয়নি”।
‏[8‏] ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহু বলেন, এ
কথা স্পষ্ট এখানে যে খারাবী ও
দুর্নামের কথা বলা হয়েছে, তা শুধু যে
ব্যক্তি থু থু ফেলে তার সাথে খাস নয়;
বরং যে ব্যক্তি দেখা সত্ত্বেও
তা ঢেকে দয়ে দাফন করেনি অথবা
খোঁচা ইত্যাদি দিয়ে পরিষ্কার
করেনি সবই তার অন্তর্ভুক্ত। ‏[9 ‏]
দুই- যখন মসজিদে যাবে তখন দুর্গন্ধ
হতে দূরে থাকবে।
জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু
আনহু হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‏« ﻣﻦ ﺃﻛﻞ ﺛﻮﻣﺎً ﺃﻭ ﺑﺼﻼً ﻓﻠﻴﻌﺘﺰﻟْﻨﺎ، ﺃﻭ ﻟﻴﻌﺘﺰﻝْ ﻣﺴﺠﺪَﻧﺎ،
ﻭﻟﻴﻘﻌﺪْ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻪ ‏»
“যে ব্যক্তি পেয়াজ বা রশুন খায়,
সে যেন আমাদের
থেকে অথবা আমাদের মসজিদ
থেকে দূরে থাকে এবং সে যেন তার
স্বীয় ঘরে বসে থাকে”।
মুসলিম শরীফের অপর এক বর্ণনায় বর্ণিত,
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেন, ‏« ﻓﺈﻥ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﺗﺘﺄﺫَّﻯ ﻣﻤﺎ ﻳﺘﺄﺫَّﻯ ﻣﻨﻪ ﺍﻹﻧﺲ‏»
“নিশ্চয় ফেরেশতারা ঐ সব বস্তু হতে কষ্ট
পায়, যে বস্তু হতে মানুষ কষ্ট পায়”। ‏[10‏] ওমর
বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু তার
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানুষকে এ
বলে ভাষণ দেন,
‏« ﺇﻧﻜﻢ ﺃﻳﻬﺎ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺗﺄﻛﻠﻮﻥ ﺷﺠﺮﺗﻴﻦ ﻻ ﺃﺭﺍﻫﻤﺎ ﺇﻻ
ﺧﺒﻴﺜﺘﻴﻦ، ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺒﺼﻞ ﻭﺍﻟﺜﻮﻡ، ﻟﻘﺪ ﺭﺃﻳﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺇﺫﺍ ﻭﺟﺪ ﺭﻳﺤﻬﻤﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ
ﺃﻣﺮ ﺑﻪ ﻓﺄُﺧﺮﺝ، ﻓﻤﻦ ﺃﻛﻠﻬﻤﺎ ﻓﻠﻴﻤﺘﻬﻤﺎ ﻃﺒﺨﺎً‏»
“হে মানুষ তোমরা দুটি গাছ খাও এ
দুটিকে খবীস বলেই মনে করি। গাছ
দুটি হল, পেয়াজ ও রশুন। আমি রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
দেখেছি, তিনি মসজিদে কোন মানুষ
থেকে এ দুটি গাছের দুর্গন্ধ
পেলে তাকে মসজিদ থেকে বের
করে দিতেন। যদি কেউ খায় সে যেন
গাছ দুটিকে সম্পূর্ণ পাক করে নেয়”। ‏[11 ‏]
তিন- মসজিদে সালাতের জামা‘আত
কায়েম করা ওয়াজিব।
পুরুষের জন্য মসজিদ ছাড়া সালাত আদায়
করা জায়েয নাই। এ বিষয়টির উপর প্রমাণ ঐ
সব দলীল যেগুলো জামা‘আতের
সাথে সালাত আদায় করা ওয়াজিব
হওয়াকে প্রমাণ করে। মনে রাখবে, জামা
‘আতে সালাত আদায় করা ফরযে আইন ‏[12 ‏]
তবে যদি মসজিদ পাওয়া না যায়
অথবা মসজিদ অনেক দূরে; আযান
শোনা যায় না অথবা সফরে অবস্থান
করছে, তখন জামা‘আতে সালাত আদায়
করা ফরয নয়। জামা‘আত শুধু সক্ষম ব্যক্তির
উপর ওয়াজিব, অক্ষমের উপর নয়। যারা অক্ষম
তারা যে কোন পবিত্র স্থানে সালাত
আদায় করে নেবে। কারণ, যাবের
রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‏« ﺃُﻋﻄﻴﺖ ﺧﻤﺴﺎً ﻟﻢ ﻳُﻌﻄﻬﻦّ ﺃﺣﺪ ﻗﺒﻠﻲ : ﻧُﺼﺮﺕ ﺑﺎﻟﺮﻋﺐ
ﻣﺴﻴﺮﺓ ﺷﻬﺮ، ﻭﺟُﻌِﻠﺖ ﻟﻲ ﺍﻷﺭﺽ ﻣﺴﺠﺪﺍً ﻭﻃﻬﻮﺭﺍً، ﻓﺄﻳﻤﺎ
ﺭﺟﻞ ﻣﻦ ﺃﻣﺘﻲ ﺃﺩﺭﻛﺘﻪ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻓﻠﻴﺼﻞِّ، ﻭﺃﺣﻠﺖ ﻟﻲ ﺍﻟﻐﻨﺎﺋﻢ
ﻭﻟﻢ ﺗُﺤﻞّ ﻷﺣﺪ ﻗﺒﻠﻲ، ﻭﺃﻋﻄﻴﺖ ﺍﻟﺸﻔﺎﻋﺔ، ﻭﻛﺎﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ
ﻳُﺒﻌﺚ ﺇﻟﻰ ﻗﻮﻣﻪ ﺧﺎﺻﺔ ﻭﺑُﻌﺜﺖُ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻋﺎﻣﺔ ‏»
“আমাকে পাঁচটি জিনিস
দেয়া হয়েছে যা আমার পূর্বে আর
কাউকে দেয়া হয়নি। আমাকে একমাসের
দূরত্ব পর্যন্ত ভীতি দ্বারা সাহায্য
করা হয়েছ। আমার জন্য যমিনকে মসজিদ ও
পবিত্র করা হয়েছে। সুতরাং, আমার উম্মত
হতে যে কোন লোককে সালাতের
ওয়াক্ত পেয়ে বসে সে যেন সালাত
আদায় করে নেয়। আমার জন্য গণিমতের
সম্পদকে হালাল করা হয়েছে যা আমার
পূর্বে আর কারো জন্য হালাল করা হয়নি।
আমাকে সুপারিশ দেয়া হয়েছে। আর
প্রত্যেক নবী তার সম্প্রদায়ের লোকদের
নিকট প্রেরণ করা হয়েছে আর
আমাকে সমগ্র মানুষের
নবী বানিয়ে পাঠানো হয়েছে। ‏[ 13‏]
ইমাম ইবনুল কাইয়ুম রাহিমাহুল্লাহু বলেন,
যে ব্যক্তি হাদিসসমূহে ভালোভাবে
চিন্তা করে, তার নিকট এ কথা স্পষ্ট হবে,
মসজিদে জামা‘আতের সাথে সালাত
আদায় করা ফরযে আইন। তবে কোন কোন
অপরাগতা এমন আছে যেগুলোর
কারণে জামা‘আত ও জুমু‘আর সালাত
ছেড়ে দেয়া বৈধ। কোন প্রকার
অপারগতা ছাড়া মসজিদে উপস্থিত
হওয়া ছেড়ে দেয়া, বিনা ওজরে জামা
‘আত ছেড়ে দেয়ার নামান্তর।
সুতরাং আমরা যে সিদ্ধান্ত
দ্বারা আল্লাহর দ্বীনকে মানব, একমাত্র
ওজর ছাড়া মসজিদে সালাত আদায়
করা হতে বিরত থাকে জায়েয নাই।
আল্লাহই ভালো জানেন কোনটি বিশুদ্ধ
‏[14‏] ।
চার: কবরকে মসজিদ বানানো হারাম
হওয়া।
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত রাসূল বলেন, (( ﻟﻌﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻴﻬﻮﺩ
ﻭﺍﻟﻨﺼﺎﺭﻯ ﺍﺗﺨﺬﻭﺍ ﻗﺒﻮﺭ ﺃﻧﺒﻴﺎﺋﻬﻢ ﻣﺴﺎﺟﺪ ‏) ‏) ؛ আল্লাহ তা
‘আলা ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের অভিশাপ
করেন। তারা তাদের নবীদের
কবরকে মসজিদ বানিয়েছে। ‏[15 ‏]
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ও আব্দুল্লাহ
বিন আব্বাস তারা উভয়ে ইরশাদ করেন,
)) ﻟَﻤّﺎ ﻧﺰﻝ ﺑﺮﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻃﻔﻖ
ﻳﻄﺮﺡ ﺧﻤﻴﺼﺔ ﻟﻪ ﻋﻠﻰ ﻭﺟﻬﻪ، ﻓﺈﺫﺍ ﺍﻏﺘﻢ ﺑﻬﺎ ﻛﺸﻔﻬﺎ ﻋﻦ
ﻭﺟﻬﻪ، ﻓﻘﺎﻝ ﻭﻫﻮ ﻛﺬﻟﻚ : ‏« ﻟﻌﻨﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻴﻬﻮﺩ ﻭﺍﻟﻨﺼﺎﺭﻯ،
ﺍﺗﺨﺬﻭﺍ ﻗﺒﻮﺭ ﺃﻧﺒﻴﺎﺋﻬﻢ ﻣﺴﺎﺟﺪ ﻳﺤﺬﺭ ﻣﺎ ﺻﻨﻌﻮ ‏»
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এর নিকট যখন মালাকুল মাওত উপস্থিত হল,
‏[16‏] তখন তার চেহারার উপর
একটি উড়না রাখা হল। ‏[17‏] যখন
তা দিয়ে তার চেহারা ডেকে দেয়া হত,
তখন তিনি তা খুলে ফেলতেন। ‏[ 18‏] তখন
তিনি এ অবস্থায় বলেন, ইয়াহুদী ও
খৃষ্টানের উপর আল্লাহ তা‘আলার অভিশাপ
তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদ
বানিয়েছেন। এ বলে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারা যা করত,
তা থেকে উম্মতকে সতর্ক করেন। ‏[ 19‏]
জুনদব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
মৃত্যুর পাঁচ দিন
পূর্বে আমি তাকে বলতে শুনেছি।
তিনি বলেন,
‏« ﺇﻧﻲ ﺃﺑﺮﺃ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﻟﻲ ﻣﻨﻜﻢ ﺧﻠﻴﻞ؛ﻓﺈﻥ ﺍﻟﻠﻪ
ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻗﺪ ﺍﺗﺨﺬﻧﻲ ﺧﻠﻴﻼً ﻛﻤﺎ ﺍﺗﺨﺬ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺧﻠﻴﻼً، ﻭﻟﻮ
ﻛﻨﺖ ﻣُﺘﺨﺬﺍً ﻣﻦ ﺃﻣﺘﻲ ﺧﻠﻴﻼً ﻻﺗﺨﺬﺕ ﺃﺑﺎ ﺑﻜﺮ ﺧﻠﻴﻼً، ﺃﻻ
ﻭﺇﻥ ﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻗﺒﻠﻜﻢ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﺘﺨﺬﻭﻥ ﻗﺒﻮﺭ ﺃﻧﺒﻴﺎﺋﻬﻢ
ﻭﺻﺎﻟﺤﻴﻬﻢ ﻣﺴﺎﺟﺪ، ﺃﻻ ﻓﻼ ﺗﺘﺨﺬﻭﺍ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ ﻣﺴﺎﺟﺪ، ﻓﺈﻧﻲ
ﺃﻧﻬﺎﻛﻢ ﻋﻦ ﺫﻟﻚ‏»
“আমি আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্য
হতে কেউ আমার বন্ধু
হওয়া থেকে মুক্তি চাচ্ছি। কারণ, আল্লাহ
তা‘আলা আমাকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করেন
যেমনটি তিনি ইব্রাহিমকে বন্ধু রূপে গ্রহণ
করেন। আমি যদি আমার উম্মত
থেকে কাউকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করতাম
তাহলে আমি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু
কে বন্ধু রূপে গ্রহণ করতাম। মনে রেখ!
তোমাদের পূর্বেকার লোকেরা তাদের
নবী ও নেক লোকদের কবরসমূহকে মসজিদ
বানাত। মনে রেখ,
তোমরা কবরসমূহকে মসজিদ বানিও না।
কারণ, আমি তোমাদের এ থেকে নিষেধ
করছি”। ‏[20 ‏]
ﻭﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺃﻥ ﺃﻡ ﺣﺒﻴﺒﺔ ﻭﺃﻡ ﺳﻠﻤﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻦ
ﺫﻛﺮﺗﺎ ﻛﻨﻴﺴﺔ ﺭﺃﻳﻨﻬﺎ ﺑﺎﻟﺤﺒﺸﺔ ﻓﻴﻬﺎ ﺗﺼﺎﻭﻳﺮ، ﻓَﺬَﻛﺮﺗﺎ ﻟﻠﻨﺒﻲ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﻘﺎﻝ : ‏« ﺇﻥَّ ﺃﻭﻟﺌﻚ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻓﻴﻬﻢ
ﺍﻟﺮﺟﻞ ﺍﻟﺼﺎﻟﺢ ﻓﻤﺎﺕ ﺑﻨﻮﺍ ﻋﻠﻰ ﻗﺒﺮﻩ ﻣﺴﺠﺪﺍً، ﻭﺻﻮَّﺭﻭﺍ ﻓﻴﻪ
ﺗﻠﻚ ﺍﻟﺼﻮﺭ، ﺃﻭﻟﺌﻚ ﺷﺮﺍﺭ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ
‏»
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত,
উম্মে হাবীবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা ও
উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা
তারা উভয়ে মুলকে হাবসাতে দেখা
একটি উপাসনালয়ের কথা রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
নিকট আলোচনা করেন, যার
মধ্যে রয়েছে মূর্তি। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাদের
মধ্যে যখন কোন ভালো লোক মারা যেত,
তারা তাদের কবরের উপর মসজিদ বানাত
এবং এ সব মূর্তি গুলো তাদের
আকৃতিতে তৈরি করত। এরা আল্লাহর
কিয়ামতের দিব সর্বাধিক নিকৃষ্ট সৃষ্টি। ‏[21 ‏]
পাঁচ: জরুরতের সময় কাফেরের
মসজিদে প্রবেশ করা কোন প্রকার ক্ষতি
করা ও কষ্ট দেয়া ছাড়া।
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত তিনি বলেন,
ﺑﻌﺚ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺧﻴﻼً ﻗِﺒَﻞَ ﻧﺠﺪٍ ﻓﺠﺎﺀﺕ
ﺑﺮﺟﻞ ﻣﻦ ﺑﻨﻲ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﻳﻘﺎﻝ ﻟﻪ : ﺛﻤﺎﻣﺔ ﺑﻦ ﺃﺛﺎﻝ، ﻓﺮﺑﻄﻮﻩ
ﺑﺴﺎﺭﻳﺔ ﻣﻦ ﺳﻮﺍﺭﻱ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ، ﻓﺨﺮﺝ ﺇﻟﻴﻪ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﻘﺎﻝ : ‏« ﺃﻃﻠﻘﻮﻩ ‏» ﻓﺎﻧﻄﻠﻖ ﺇﻟﻰ ﻧﺨﻞ ﻗﺮﻳﺐ ﻣﻦ
ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ، ﻓﺎﻏﺘﺴﻞ، ﺛﻢ ﺩﺧﻞ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻓﻘﺎﻝ : ﺃﺷﻬﺪ ﺃﻥ ﻻ ﺇﻟﻪ
ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺃﻥ ﻣﺤﻤﺪﺍً ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ.
‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
একটি সৈন্য দলকে নজদের দিকে প্রেরণ
করলে তারা হানিফা গোত্র
থেকে সুমামা ইবনুল আসাল নামক একজন
লোককে ধরে নিয়ে আসেন
এবং তাকে মসজিদের খুঁটিসমূহ
হতে একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
তার নিকট গিয়ে বললেন,
তাকে তোমরা ছেড়ে দাও। তারপর
সে মসজিদের নিকট একটি বাগানের
দিকে গিয়ে গোসল করল তারপর
মসজিদে প্রবেশ করল এবং বলল,
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ
ছাড়া কোন ইলাহ নাই মুহাম্মদ আল্লাহর
রাসূল। ‏[22 ‏] এ হাদিসটি প্রমাণ করে যে,
মুশরিক প্রয়োজনের সময় মসজিদে প্রবেশ
করতে পারবে।
তবে মসজিদে হারামে প্রবেশ
করতে পারবে না। ‏[ 23‏] আমি আমার শাইখ
আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
রাহিমাহুল্লাহু কে বলতে শুনেছি,
তিনি বলেন, এ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত
মসজিদে কাফেরকে বাঁধা যায়। এ হাদিস
দ্বারা আরও প্রমাণিত হয়, কাফেরের জন্য
মদিনায় প্রবেশ করা বৈধ। তবে মক্কায়
প্রবেশ করা জায়েয নাই। আর
হাদিসটি দ্বারা প্রমাণিত হয়, প্রয়োজনের
সময় কাফের মসজিদের প্রবেশ
করতে পারবে। মদিনার মসজিদে কাফের
ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারলে অন্য
মসজিদগুলোতে প্রবেশ
না করতে পারা গ্রহণযোগ্য নয়। ‏[ 24‏]
ছয়- মসজিদে ভালো অর্থবোধক
উপকারী কবিতা পড়া বৈধ।
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে হাদিস বর্ণিত, তিনি বলেন,
ﺃﻥ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻣﺮّ ﺑﺤﺴﺎﻥ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻭﻫﻮ
ﻳﻨﺸﺪ ﺍﻟﺸﻌﺮ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ، ﻓﻠﺤﻆ ﺇﻟﻴﻪ ﻓﻘﺎﻝ : ﻗﺪ ﻛﻨﺖ
ﺃﻧﺸﺪُ ﻭﻓﻴﻪ ﻣﻦ ﻫﻮ ﺧﻴﺮ ﻣﻨﻚ، ﺛﻢ ﺍﻟﺘﻔﺖ ﺇﻟﻰ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ
ﻓﻘﺎﻝ : ﺃﻧﺸﺪﻙ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻘﻮﻝ : ‏«ﺃﺟﺐ ﻋﻨﻲ
ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺃﻳِّﺪﻩ ﺑﺮﻭﺡ ﺍﻟﻘﺪﺱ ‏» ﻗﺎﻝ : ﺍﻟﻠﻬﻢ ﻧﻌﻢ.
“ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হাসসান বিন
সাবেতের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন
হাসসান মসজিদে কবিতা আবৃতি করছ
িলেন। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার
দিকে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকালেন। তখন তিনি
বললেন,
আমি মসজিদে কবিতা আবৃতি করতাম
যে অবস্থায় মসজিদে তোমার
চেয়ে উত্তম ব্যক্তি ছিলেন। তারপর
তিনি আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর
দিকে তাকালেন এবং বললেন,
আমি তোমাকে আল্লাহ শপথ দিয়ে বলছি,
তুমি কি রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ
কথা বলতে শুনোনি? আমার পক্ষ
থেকে উত্তর দাও! (রাসূল বলছেন,)
“হে আল্লাহ তুমি তাকে রুহুল কুদ্স
দ্বারা সাহায্য কর”। উত্তরে আবু হুরাইরা
বললেন, হ্যাঁ”। ‏[25 ‏] এ হাদিস
দ্বারা প্রমাণিত হয়, যে সব
কবিতা মানুষকে কল্যাণের দিকে ধাবিত
করে, তা মসজিদে আবৃত্তি করা জায়েয
আছে। কারণ, কবিতা আবৃত্তি মানুষের
অন্তরে বিশাল প্রভাব
ফেলে এবং মানুষকে হকের প্রতি উৎসাহ
প্রদান করে। আর যে সব
হাদিসে মসজিদের ভিতর কবিতা আবৃত্তি
করতে নিষেধ করা হয়েছে,
তা জাহিলিয়্যতের যুগের
কবিতা এবং বাতিলদের কবিতা। মোট
কথা যেগুলোর অনুমতি দেয়া হয়েছে,
সে গুলো জাহিলিয়্যাত হতে নিরাপদ।
আবার কেউ কেউ বলেন, এমন
কবিতা হতে হবে যা মসজিদে উপস্থিত
লোকদের কোন প্রকার বিঘ্ন না ঘটায় ।
সাত- মসজিদে হারানো বস্তু
সম্পর্কে জিজ্ঞাসা না করা।
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‏« ﻣﻦ ﺳﻤﻊ ﺭﺟﻼً ﻳﻨﺸﺪ ﺿﺎﻟﺔ ‏(‏[ 26‏] ‏) ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ
ﻓﻠﻴﻘﻞ : ﻻ ﺭﺩّﻫﺎ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻚ؛ﻓﺈﻥ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ ﻟﻢ ﺗُﺒﻦَ ﻟﻬﺬﺍ ‏»
“যে ব্যক্তি কোন
মানুষকে মসজিদে হারানো বস্তু তালাশ
করতে শুনবে, সে যেন বলে, আল্লাহ তা
‘আলা যেন, তোমাকে ফেরত না দেয়।
কারণ মসজিদসমূহ এ জন্য বানানো হয়নি”। ‏[27 ‏]
বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত
তিনি বলেন,
ﺃﻥ ﺭﺟﻼً ﻧﺸﺪ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻓﻘﺎﻝ : ﻣﻦ ﺩﻋﺎ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺠﻤﻞ
ﺍﻷﺣﻤﺮ؟ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ : ‏« ﻻ ﻭﺟﺪﺕَ
ﺇﻧﻤﺎ ﺑُﻨﻴﺖ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ ﻟِﻤَﺎ ﺑُﻨﻴﺖ ﻟﻪ ‏»
“এক ব্যক্তি মসজিদের হারানো বস্তু
সম্পর্কে ঘোষণা দিয়ে বলে, আমার লাল
উট পেয়ে আমাকে কে খবর দেবে ‏[28‏] ?
তার কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
তুমি পাবে না, মসজিদ নির্মাণ
করা হয়েছে মসজিদের উদ্দেশ্য সম্পাদন
করার জন্য (হারানো বস্তুর ঘোষণা দেয়ার
জন্য নয়)”। ‏[ 29‏]
উল্লেখিত হাদিসদ্বয় দ্বারা প্রমাণিত
হয়, মসজিদের ভিতরে হারানো বস্তুর
ঘোষণা দেয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ
ছাড়া যে সব কাজ উল্লেখিত বিষয়ের
সমর্থক হবে, তার বিধানও এর সাথে সম্পৃক্ত
করা হবে। যেমন- মসজিদে বেচা-
কেনা করা, বন্ধক দেয়া ইত্যাদি যাবতীয়
লেনদেন নিষিদ্ধ এবং মসজিদে উচ্চ
আওয়াজে কথা বলা মাকরুহ। হাদিস
দ্বারা আরও প্রমাণিত হয়,
যে ব্যক্তি মসজিদে হারানো বস্তু
তালাশ করে, সে আল্লাহর আদেশের
বিরোধিতা ও নাফরমানি করার
শাস্তিস্বরূপ তার উপর বদ দোয়া করা বৈধ।
আর যে শোনে সে যেন এ কথা বলে,
‘তুমি পাবে না’, কারণ, মসজিদ এ জন্য
বানানো হয় নাই।
‘তুমি পাবে না মসজিদকে মসজিদের
উদ্দেশ্যেই বানানো হয়েছে’। আর ﺍﻟﻀﺎﻟﺔ
শব্দের অর্থ হারানো বস্তু আর ﻧﺸﺪﻫﺎ অর্থাৎ
তালাশ করা ও জিজ্ঞাসা করা। ‏[ 30‏]
আট- মসজিদে বেচা-কেনা করা হারাম।
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত তিনি বলেন,
‏« ﺇﺫﺍ ﺭﺃﻳﺘﻢ ﻣﻦ ﻳﺒﻴﻊ ﺃﻭ ﻳﺒﺘﺎﻉ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻓﻘﻮﻟﻮﺍ : ﻻ
ﺃﺭﺑﺢ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﺠﺎﺭﺗﻚ، ﻭﺇﺫﺍ ﺭﺃﻳﺘﻢ ﻣﻦ ﻳﻨﺸﺪ ﻓﻴﻪ ﺿﺎﻟﺔ ﻓﻘﻮﻟﻮﺍ :
ﻻ ﺭﺩّ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻚ ‏»
“যখন
কাউকে মসজিদে বিক্রি করতে বা খরিদ
করতে দেখবে, তখন তাকে বল, আল্লাহ
তোমার ব্যবসায় কোন লাভ না দিক। আর
যখন দেখবে, কোন
ব্যক্তি মসজিদে হারানো বস্তু তালাশ
করছে, তখন তুমি বলবে, আল্লাহ যেন
তোমার নিকট ফেরত না দেয়”। ‏[31‏] হাদিস
দ্বারা প্রমাণিত হয়, মসজিদের বেচা-
কেনা করা হারাম।
কাউকে মসজিদে বেচা-
কেনা করতে দেখতে তাকে বলা উচিত
আল্লাহ তা‘আলা যেন তোমার
ব্যবসা বাণিজ্যে কোন বরকত না দেয়। ‏[32 ‏]
এ কথা দ্বারা তাদেরকে বদ-দু’আ
করে সতর্ক করা হল। আর কারণ উপরেই
বলা হয়েছে। ‏« ﻓﺈﻥ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ ﻟﻢ ﺗﺒﻦ ﻟﺬﻟﻚ ‏»
“মসজিদসমূহ এ জন্য বানানো হয়নি”।
নয়- মসজিদের ভিতরে হদ কায়েম
করা যাবে না এবং কাউকে বন্দী রাখা
যাবে না।
হাকিম বিন হিযাম রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
‏« ﻧﻬﻰ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺃﻥ ﻳﺴﺘﻘﺎﺩ
ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ،ﻭﺃﻥ ﺗﻨﺸﺪ ﻓﻴﻪ ﺍﻷﺷﻌﺎﺭ،ﻭﺃﻥ ﺗﻘﺎﻡ ﻓﻴﻪ ﺍﻟﺤﺪﻭﺩ
‏»
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
মসজিদে কাউকে আটকে রাখা, গান
গাওয়া ও হদ কায়েম করা হতে নিষেধ
করেছেন”। ‏[ 33‏] হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়,
মসজিদে হদ কায়েম করা ও আটক
করা হারাম। ‏[ 34‏] আর যে সব
কবিতা মসজিদে বলা জায়েয নাই
সেগুলো হল, জাহিলিয়্যাত ও
ফাসেকদের কবিতা। কিন্তু যে সব
কবিতা মানুষকে কল্যাণের দিকে আহবান
করে তাতে কোন অসুবিধা নাই।
আমি আমার শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন
আব্দুল্লাহ বিন বায রাহিমাহুল্লাহুকে
বলতে শুনেছি, তিনি বলেন,
হাদিসটি যদিও দুর্বল, কিন্তু সহীহ হাদিস
থেকে তার অর্থের সমর্থন পাওয়া যায়।
কারণ, মসজিদে হদ কায়েম করা দ্বারা যখন
আসামিকে পেটানো বা হত্যা করা হয়,
তখন মসজিদ রক্তাক্ত বা পেশাব,
পায়খানা ইত্যাদি দ্বারা নাপাক হওয়ার
সম্ভাবনা থাকে। ‏[35 ‏]
দশ- মসজিদে ঘুমানো, খাওয়া, ঘর
বানানো অসুস্থ লোককে জায়গা।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত,
তিনি বলেন,
‏« ﺃﺻﻴﺐ ﺳﻌﺪ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺨﻨﺪﻕ ﻓﻀﺮﺏ ﻋﻠﻴﻪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺧﻴﻤﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻟﻴﻌﻮﺩﻩ ﻣﻦ
ﻗﺮﻳﺐ‏»
“খন্দকের যুদ্ধের দিন সায়াদ
রাদিয়াল্লাহু আনহু আঘাত প্রাপ্ত হয়ে,
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
তার জন্য মসজিদের ভিতরে একটি তাঁবু
নির্মাণ করেন ‏[ 36‏] যাতে তাকে কাছের
থেকে দেখা-শুনা করতের পারেন। ‏[ 37‏] এ
হাদিস দ্বার প্রমাণিত হয়,
মসজিদে ঘুমানো, অসুস্থ ব্যক্তি থাকা ও
মসজিদে তাঁবু বানানো বৈধ। আমি আমার
শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ
বিন বায রাহিমাহুল্লাহু
বলতে শুনেছি তিনি বলেন, মসজিদে তাঁবু
বানানো, ই‘তেকাফের জন্য অথবা কোন
সম্মানী ব্যক্তির জন্য যাতে মানুষ তার
সাথে দেখা করতে পারে অথবা যার
থাকার যায়গা নাই তার জন্য থাকার
যায়গা বানানোতে কোন অসুবিধা নাই।
‏[38‏]
আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু
সম্পর্কে বর্ণিত, তিনি যখন অবিবাহিত যুবক
ছিলেন, তখন মসজিদে ঘুমাতেন। ‏[39 ‏]
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত
তিনি বলেন,
ﺃﻥ ﻭﻟﻴﺪﺓ ﺳﻮﺩﺍﺀ ﻛﺎﻥ ﻟﻬﺎ ﺧﺒﺎﺀ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ، ﻓﻜﺎﻧﺖ
ﺗﺄﺗﻴﻨﻲ ﻓﺘﺤﺪﺙ ﻋﻨﺪﻱ، ﻗﺎﻟﺖ : ﻓﻼ ﺗﺠﻠﺲ ﻋﻨﺪﻱ ﻣﺠﻠﺴﺎً ﺇﻻ
ﻗﺎﻟﺖ :
ﻭﻳﻮﻡ ﺍﻟﻮﺷﺎﺡ ﻣﻦ ﺗﻌﺎﺟﻴﺐ ﺭﺑﻨﺎ
‏( ‏[40 ‏] ‏) ﺃﻻ ﺇﻧﻪ ﻣﻦ ﺑﻠﺪﺓ ﺍﻟﻜﻔﺮ ﺃﻧﺠﺎﻧﻲ
‏( ‏[41 ‏] )
একজন কালো বাঁদির জন্য
মসজিদে একটি তাঁবু ছিল। সে আমার নিকট
এসে আমার সাথে কথা বলত।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা আরও বলেন,
সে আমার সাথে যখনই বসত তখন এ
কথা গুলো বলত, “সে ঘটনার দিন, আমার
প্রভূর একটি আশ্চর্য বিষয়সমূহের
একটি আশ্চর্যের দিবস।
তবে তিনি আমাকে কাফের শহর
থেকে মুক্তি দিয়েছেন”।
এ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, যখন কোন
ফিতনার আশঙ্কা না থাকে তখন মুসলিম পুরুষ
বা নারী উভয়ের জন্য
রাতে বা দিনে মসজিদে ঘুমানো বৈধ,
‏[42‏] যদি তার কোন ঘর-বাড়ি না থাকে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এর সাহাবী সুফফার
অধিবাসীরা মসজিদে ঘুমাত। আবু
হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,
তিনি বলেন,
‏« ﺭﺃﻳﺖ ﺳﺒﻌﻴﻦ ﻣﻦ ﺃﺻﺤﺎﺏ ﺍﻟﺼﻔﺔ ﻣﺎ ﻣﻨﻬﻢ ﺭﺟﻞ ﻋﻠﻴﻪ
ﺭﺩﺍﺀٌ، ﺇﻣﺎ ﺇﺯﺍﺭ ﻭﺇﻣﺎ ﻛﺴﺎﺀ ﻗﺪ ﺭﺑﻄﻮﺍ ﻓﻲ ﺃﻋﻨﺎﻗﻬﻢ، ﻓﻤﻨﻬﺎ ﻣﺎ
ﻳﺒﻠﻎ ﻧﺼﻒ ﺍﻟﺴﺎﻗﻴﻦ، ﻭﻣﻨﻬﺎ ﻣﺎ ﻳﺒﻠﻎ ﺍﻟﻜﻌﺒﻴﻦ، ﻓﻴﺠﻤﻌﻪ ﺑﻴﺪﻩ
ﻛﺮﺍﻫﻴﺔ ﺃﻥ ﺗُﺮﻯ ﻋﻮﺭﺗﻪ ‏»
“আমি সত্তর জন সুফফার
অধিবাসীদেরকে দেখেছি, তাদের
কারো শরীরে কোন চাদর ছিল না।
তারা হয়ত, লুঙ্গি অথবা একটি কাপড়
পরিধান করত যা তারা তাদের গলার
সাথে বেঁধে রাখত। তাদের কাপড়
কারো পায়ে অর্ধ পেন্ডলী পর্যন্ত আবার
কারো টাখনু পর্যন্ত হত। তারা তাদের হাত
কাপড়ের উভয় আঁচলকে একত্র করে ধরে
রাখত, যাতে মানুষ তাদের সতর
দেখতে না পারে। ‏[43 ‏] আব্দুল্লাহ বিন
হারেস বিন জুয আয-যাবি
দী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত
তিনি বলেন,
‏« ﻛﻨﺎ ﻧﺄﻛﻞ ﻋﻠﻰ ﻋﻬﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ
ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﺍﻟﺨﺒﺰ ﻭﺍﻟﻠﺤﻢ ‏»
“আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
যুগে মসজিদে গোস্ত ও রুটি খেতাম”। ‏[ 44‏]
এগার- মসজিদে বৈধ খেলা যেগুলির
অনুমতি রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত,
তিনি বলেন,
‏« ﻟﻘﺪ ﺭﺃﻳﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻳﻮﻣﺎً
ﻋﻠﻰ ﺑﺎﺏ ﺣﺠﺮﺗﻲ ﻭﺍﻟﺤﺒﺸﺔ ﻳﻠﻌﺒﻮﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ، ﻭﺭﺳﻮﻝ
ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻳﺴﺘﺮﻧﻲ ﺑﺮﺩﺍﺋﻪ، ﺃﻧﻈﺮ ﺇﻟﻰ
ﻟﻌﺒﻬﻢ.(( ﻭﻓﻲ ﻟﻔﻆ : )) ﻛﺎﻥ ﺍﻟﺤﺒﺸﺔ ﻳﻠﻌﺒﻮﻥ ﺑﺤﺮﺍﺑﻬﻢ
ﻓﻴﺴﺘﺮﻧﻲ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻭﺃﻧﺎ ﺃﻧﻈﺮ، ﻓﻤﺎ
ﺯﻟﺖ ﺃﻧﻈﺮ ﺣﺘﻰ ﻛﻨﺖ ﺃﻧﺎ ﺃﻧﺼﺮﻑ، ﻓﺎﻗﺪﺭﻭﺍ ﻗﺪﺭ ﺍﻟﺠﺎﺭﻳﺔ
ﺍﻟﺤﺪﻳﺜﺔ ﺍﻟﺴﻦ ﺗﺴﻤﻊ ﺍﻟﻠﻬﻮ‏»
“একদিন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কামরার
দরজায় দেখলাম। তখন
হাবশীরা মসজিদে খেলছিল। আর রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আমাকে তার চাদর দ্বারা ঢেকে রাখেন
যাতে আমি তাদের খেলা দেখতে পাই।
অপর এক শব্দে হাদিসটি বর্ণিত
হাবশীরা তাদের ডাল-
সুরকী নিয়ে খেলা-ধুলা করছে,
আমি তাদের খেলা দেখতেছিলাম আর
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আমাকে আড়াল করে রাখেন।
এভাবে আমি সারাক্ষণ দেখতেছিলাম
যতক্ষণ আমি না ফিরতাম। তোমরা অপ্রাপ্ত
বয়স্ক রমণী যে খেলা-ধুলায়
মনোযোগী তার সম্মান কত
তা তোমরা অনুমান কর”। ‏[45 ‏]
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত তিনি বলেন,
ﺑﻴﻨﻤﺎ ﺍﻟﺤﺒﺸﺔ ﻳﻠﻌﺒﻮﻥ ﻋ