মহিলারা মহিলাদের সালাতে ইমামতি করার ফজিলত ও তাৎপর্য


মহিলাদের মহিলা ইমাম এর পেছনে নামাজপড়ার গুরুত্ব ওতাৎপর্য.মহিলাদের জামায়াতে একজন মহিলা ইমামহয়ে নামাজ পড়াবেন । এটাই ইসলামেরবিধান। এই বিষয়ে অনেকেই তেমন কিছুজানেন না । আজ এইপোস্টে এসম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলেধরবো । এই পোস্টে মহিলা বলতে সব বয়সেরমেয়ে বা Female-কে বুঝানো হচ্ছে ।মুক্তাদীবলতে ইমামেরপেছনে নামাজ পড়া লোককে বোঝানোহয়েছে ।মহিলাদের মহিলা ইমাম-এর পেছনে নামাজপড়ার বিষয়ে #মাযহাবের_ইমামদের_মত :#হানাফি মাযহাবের মত :যদি কোন মহিলাশুধুমাত্র মহিলাদের জামায়াতে কোননামাজের ইমামতি করে তাহলে সে নামাজসঠিক হবে ।হিদায়া খন্ড : ১ পৃষ্ঠা : ৩০৫ ।বাদাউস সানাইখন্ড ১ পৃষ্ঠা : ১৫৭ ।#শাফেয়ী মাযহাবের মত :একজন মহিলাশুধুমাত্র মহিলাদের জামায়াতের ইমাম হতেপারবেন । তাদের এভাবে নামাজ পড়ামুস্তাহাব ।আল মুগনি খন্ড : ১২ পৃষ্ঠা : ১৯৯ । বাদাই খন্ড :১, পৃষ্ঠা : ১৫৭ ।#হান্বালী মাযহাবের মত : মেয়েদের মহিলাইমামের পেছনে নামাজ পড়া গ্রহণযোগ্য ।আল মুগনি খন্ড : ১২ পৃষ্ঠা : ১৯৯ ।শাফেয়ী ও হান্বলী মাযহাবের গবেষকগণ আবুদাউদ শরিফের মহিলা সাহাবী উম্মুওয়ারাকাহ (রা.) উপর ভিত্তি করে তাদের মতপ্রদর্শন করেছেন ।তবে উম্মু সালমাহ রা. ও আয়িশা রা. নিয়মিতমহিলাদের নামাজে ইমামতি করতেন ।( মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবাহ খন্ড ২, পৃষ্ঠা৮৮-৮৯ )মহিলাদের মহিলা ইমাম-এর পেছনে নামাজপড়ার বিষয়ে #হাদিসসমূহ :এবার আমরা মহিলাদের মহিলা ইমামেরপিছনে নামাজ পড়ার কিছু হাদিস সম্পর্কেজানবো ।১.ﻋَﻦْ ﺃُﻡِّ ﻭَﺭَﻗَﺔَ ﺑِﻨْﺖِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﺤَﺎﺭِﺙِ ﺍﻟْﺄَﻧْﺼَﺎﺭِﻱِّ ﻭَﻛَﺎﻧَﺖْﻗَﺪْ ﺟَﻤَﻌَﺖِ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺪْﺃَﻣَﺮَﻫَﺎ ﺃَﻥْ ﺗَﺆُﻡَّ ﺃَﻫْﻞَ ﺩَﺍﺭِﻫَﺎ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻟَﻬَﺎ ﻣُﺆَﺫِّﻥٌ ﻭَﻛَﺎﻧَﺖْ ﺗَﺆُﻡُّﺃَﻫْﻞَ ﺩَﺍﺭِﻫَﺎ ‏( ﺣﻢ : ﻣﺴﻨﺪ ﺍﻟﻘﺒﺎﺋﻞ : ﺑﺎﺏ ﻣﺎ ﺟﺎﺀ ﻓﻲﺇﻣﺎﻣﺔ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ، ﺩ : ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺼﻼﺓ 500 )উম্মে ওয়ারাক্বাহ বিনতে আব্দুল্লাহ ইবনিলহারিছ আল-আনসারী, যিনি ক্বুরআন শরীফজমা করেছিলেন/কুরআন শরীফ পড়েছিলেন,নবী করীম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরবাসীদেরনামাজের ইমামতি করার জন্য উম্মেওয়ারাক্বাহকে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবংতিনি ঘরবাসীদের নামাজেরইমামতি করতেন৷( দেখুন : ১.মুসনাদুল ক্বাবাইল, বাবু মা জা-আফী ইমামাতিল মারআহ, ২.সুনান আবূ-দাঊদ,কিতাবুস সালাহঃবাবুন ফী জিকরিলজামাআতি ওয়া আহলিহা ওয়া সিফাতিলইমাম৷ ৩.মুসনাদ ইমাম আহমদ)২.এবার দারুক্বুত্বনীতে বর্ণিত একই হাদীস ওতার অনুবাদ দেখিঃﻋﻦ ﺃﻡ ﻭﺭﻗﺔ : ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃﺫﻥﻟﻬﺎ ﺃﻥ ﻳﺆﺫﻥ ﻟﻬﺎ ﻭﻳﻘﺎﻡ ﻭﺗﺆﻡ ﻧﺴﺎﺀﻫﺎ ‏( ﺩﺍﺭ : ﻲﻨﻄﻗ ﻛﺘﺎﺏﺍﻟﺼﻼﺓ : ﺑﺎﺏ ﻓﻲ ﺫﻛﺮ ﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﻭﺃﻫﻠﻬﺎ ‏)ﺍﻹﻣﺎﻡﻭﺻﻔﺔ“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মর্মে উম্মে ওয়ারাক্বাহরাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে অনুমতিদিয়েছিলেন যে, আজান ও ইক্বামতদেয়া হবে এবং তিনি (উম্মে ওয়ারাক্বাহ)মহিলাদের নামাজের ইমামতি করবেন (ওয়াতাউম্মা নিসা-আহা)”৩. আয়িশা (রা.) বর্ণিত, আয়েশা রা. এবংউম্মে সালামাহ মেয়েদের নামাজেরজামায়াতে ইমামতি করেছেন এবং এমনকিমেয়েদের ফরজনামাজে তিনি ইমামতি করেছেন।উৎস: বাইহাকি ৩/১৩১, দারে কুতনী ১/৪০৪,আব্দুর রাজিক ৫০৮৬ ।৪. ইবনে আবু লায়লা হতে আতা (রা.) বর্ণনাকরেন, আয়েশা রা. আযান ও ইকামাত দিতেনএবং মেয়দের নামাজের জামায়াতে ইমামতিকরতেনএবং তিনি তাদের মধ্যে একই সারিতেদাড়াতেন ।উৎস: ইবনে আবু শায়বাহ ২/৮৯৫. লাইস ইবনে আবু সুলাইম হতে আতা (রা.)বর্ণনা করেন, আয়েশা (রা.) আযান ও ইকামাতদিতেন এবং মেয়েদের নামাজেরজামায়াতে ইমামতি করতেনএবং তিনি তাদের মধ্যে একই সারিতেদাড়াতেন ।উৎস: মুসতাদরাকে হাকিম৬. আম্মার আদ্দাহ্নি বর্ণিত, হুজাইরাহ্ নামকতার গোত্রীয় মহিলা বলেন, উম্মে সালামাহ(রা.) মহিলাদের নামাজে ইমামতি করার সময়একইসারিতে দাড়াতেন ।আশ্শাফি : ৩১৫, ইবন আবি শাইবাহ : ৮৮/২,আব্দুর রাজিক : ৫০৮২৭.আব্দুর রাজিক একই হাদিসে বলেন, উম্মেসালামাহ মহিলাদের আসর নামাজ পড়ালেনএকই সারিতে দাড়িয়ে ।৮.মুহাম্মদ ইবন আল-হুসাইন ইব্রাহিম আন্নাখিহতে বর্ণনা করেন : আয়িশা রা. রমজান মাসেমহিলাদের নামাজে একই সারিতে দাড়িয়েইমামতি করতেন ।আদ্দিরাইয়াহ ১/১৬৯৯. ইবনে আব্বাস বলেন, এক জন মহিরামহিলাদের জামায়াতে তাদের মাঝেদাড়িয়ে ইমামতি করতে পারে । আব্দুররাজিক ৫০৮৩এসব হাদিস হতে প্রমাণ হলো :১.মহিলাদের জামায়াতে একজন মহিলা ইমামহয়ে নামাজ পড়াবেন ।২.যখন একজন মহিলা নামাজে অন্যমহিলাদের ইমামতি করবেন তখন তিনি সারিরমধ্যেখানে দাঁড়াবেন ।৩.মহিলাদের মহিলা ইমাম-এর পেছনে নামাজপড়ার সুন্নত ।সুতরাং এভাবে নামাজ পড়ার মধ্য বরকতরয়েছে । মেয়েদের নামাযে মেয়েদেরইমামতি কিছুতেই বিদআত হতে পারে না।মহিলাদের#মসজিদে_যেয়ে_জামাআতে_নামাজ পড়ারহাদিস:জামায়াতে নামাজ পড়ালে সোয়াব বেশী হয়। উপরন্তু ইসলাম জামায়াতবদ্ধ জীবন যাপনকেউৎসাহিত করে । এজন্য রাসুল (সা.)-এরযুগে মেয়েরা জামায়াতে নামাজ পড়ার জন্যনিয়মিত সব নামাজে নামাজ পড়াসহ অন্যান্যসামাজিক কাজে অংশ নেওয়ার জন্যমসজিদে যেতো । এজন্যমেয়েদের জামাআতে নামাজ পড়ার বিষয়েঅনেক হাদিস রয়েছে ।এসব হাদিস হতে কয়েকটা হাদিস আমরা একনজর দেখবো :১. আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসুল(সা.) বলেছেন: তোমাদের মহিলাদেরকেমসজিদে আসতে বাধা দিও না। ( সহিহমুসলিম, খন্ড ১, অধ্যায় ১৭৭,হাদিস নং : ৮৮৬ )২. রাসুল (সা.) স্বামীদের উদ্দেশ্য করেবিশেষভাবে বলেছেন : যদি তোমাদেরমধ্যকার কারো স্ত্রী মসজিদের আসারঅনুমতি চায়,তাহলে তাকে মসজিদে আসতে নিষেদ করবেনা ।( সহিহ বুখারী, খন্ড ১, অধ্যায় নামাজ,অনুচ্ছেদ ৮০, হাদিস নং : ৮৩২ )৩.আবু হুরাইরা( রা.) বলেন, নবী(সা.)বলেছেন: তোমরা আল্লাহর দাসীদেরকেআল্লাহর মসজিদসমূহে আসতে নিষেদ করোনা।তবে তারা যেনো সুগন্ধি ব্যবহার না করেবের হয়।(সুনানে আবু দাউদ, খন্ড ১, অনুচ্ছেদ ৫৮, হাদিসনং : ৫৬৫ )রাসুল (সা.)-এর যুগে মসজিদগুলোতেমহিলাদের প্রবেশাধিকার অবাদ ছিল ।তাদের জন্য আলাদা প্রবেশ ও বের হওয়াররাস্তা ছিল । মেয়েরা শেষেরদিকের সারিগুলোতে নামাজ পড়তেন ।মসজিদ ইবাদতের স্হান । এখানে কেহ অসৎউদ্দেশ্যে আসে না । যদি বাংলাদেশেরমহিলারা বাড়ীতে বসে না থেকে মসজিদেএসে নামাজ পড়ে ও ইসলামী আলোচনাশোনে, তাহলে বাংলাদেশের মুসলিমসমাজের অবস্হা ইতিবাচক অবস্হারদিকে যাবে । এভাবে আমাদের দেশটাইসলামী রাষ্ট্রে পরিনত হবে । এজন্যআমাদের মহিলাদের ইসলামী আলোচনাশোনা ও ইসলাম সম্বন্ধে জানার সুযোগসৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সকলমসজিদে মহিলাদের জন্য পৃথক স্থাননির্ধারণ করার জন্য জনমত গঠণ করতে হবে ।তথ্যবিত্তিক ওযুক্তিনির্ভরভাবে কুরআন ও হাদীসেরআলোকে ইসলামের সঠিক সৌন্দর্য তুলে ধরেআলোচনা করার জন্য আমাদের আলেমসমাজকে সচেষ্ট হতে হবে ।জামাআত কায়েম করতে হয় মসজিদে।যেখানে মসজিদ নেই, তখন ঘরে, অফিসে,মাঠ,রাস্তা -ঘাঠে,যানবাহনে অর্থাৎযেকোনো স্থানেই নামাজের জামাআতকায়েম করা যায়।মহিলাদের জন্য নামাজে ইমামতির সময়#মহিলা_ইমাম_কোথায়_দাঁড়াবেন? :কোন মহিলা যখন কিছু মহিলাদেরজামায়াতে নামাজ পড়াবেন, তখন তিনিপ্রথম সারির মধ্যখানে দাঁড়াবেন বামহিলাদের সারির মাঝখানে দাঁড়াবেন ।যেমন: প্রথম সারিতে ১১ জন মেয়ে থাকলেতিনি ৬ নং স্হানে দাড়াবেন । এব্যাপারেগবেষকদের অভিমত:১. ইমাম নববী (রহ.) বলেন: নামাজে অন্যমহিলাদের ইমামতিকারিনীর জন্য সুন্নাহ হলসারির মাঝখানে দাঁড়ানো। কারণ বর্ণনায়এসেছে যে,আয়িশা (রাদিআল্লাহু আনহা) ও উম্মুসালামাহ (রাদিআল্লাহু আনহা) মহিলাদেরনামাজে ইমামতি করেছেন এবং তাঁরাসারির মাঝখানে দাঁড়াতেন ।উৎস: আল মাজমু শারহ আল মুহায্যাব, খন্ড ৪,পৃষ্ঠা ১৯২২.ইবন কুদামাহ (রহ.) বলেন: যখন একজন মহিলানামাজে অন্য মহিলাদের ইমামতি করবেনতখন তিনি সারির মধ্যেখানে দাঁড়াবেন –এটা সুন্নাহ।উৎস: আল মুগনী, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৪৭৩.উসাইমীন (রহ.) বলেন: মহিলারা যদিজামাআতে সালাত আদায় করে, তবেইমামতিকারিনী সারির মধ্যখানে দাঁড়াবেন। …..এর প্রমাণ সেই সব বর্ণনায়পাওয়া যায় যেখানে আয়িশা (রা.) ও উম্মুসালামাহ (রা.) এর থেকে এসেছে। এটাই ছিলমহিলা সাহাবিদের দৃষ্টান্ত।উৎস: আল শারহ আল মুমতি, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৮৭বর্ণিত আছে যে, আয়েশা (রাঃ) এবং উম্মেসালমা (রাঃ) যখন মেয়েদের ফরয নামাজএবং তারাবীহ এর নামাজের জামাআতেইমামতি করতেন তখন তাদেরমাঝখানে দাঁড়াতেন।নামাজের সময় মেয়েদের কোন ধরনের#পোষাক পড়তে হবে:১. মুখ মন্ডল, হাতের তালু ও পায়ের পাতাছাড়া সমগ্র শরীর ঢেকে রাখার উপযোগীপোষাক পড়তে হবে । অন্যথায় নামাজ বাতিলবলে গণ্য হবে ।২. মাথার চুল ও বুক ভালভাবে আবৃত হওয়ারমতো করে ওড়না ব্যবহার করতে হবে ।অন্যথায় নামাজ বাতিল বলে গণ্য হবে ।৩.নামাজের সময় পায়ের গোড়ালী ঢেকেরাখতে হবে । অন্যথায় নামাজ বাতিল বলেগণ্য হবে ।৪. যে পোষাক পড়লে শরীরের মাংসপেশীরভাজ বোঝা যায় সে পোষাক পড়ে মেয়েদেরনামাজ পড়া যাবে না । অন্যথায় নামাজবাতিল বলে গণ্য হবে ।#সতর্কতা:যে পোশাক পড়লে মেয়েদের শরীরেরমাংসপেশীর ভাজ বোঝা যায়, সেধরনের যেকোন পোশাক পড়া মেয়েদের জন্য হারামএবং যে মেয়ে এধরনের পোষাকপড়বে তার কবিরা গুনাহ হবে । উল্লেখ্য এইকারণে মেয়েদের প্র্রচলিত স্কুল ও কলেজেরড্রেস পড়া কবিরা গুণাহের কাজ । যে বাযারা এসব পোষাকপ্রবর্তন করেছে, বানিয়েছে, কিনেদিয়েছে, পড়েছে বা পড়তে বাধ্য করেছে –তারা সবাই জাহান্নামে যাওয়ার মতো কাজকরে যাচ্ছে । কারণ রাসুল (সা.)তাদের দাউয়ুস বলে অভিহিত করেছেন এবংতিনি বলেছেন. দাইয়ুস জান্নাতে যাবে না ।আর এসব পোষাক পরিধানকারী মেয়েদেররাসুল (সা.)মুতাবার্রিবা বলে আক্ষায়িত করেছেন ।তারাও জান্নাতে যেতে পারবে না । তবেযদি তারা এসব পোষাক পড়া ত্যাগকরে ইসলামী নীতিমালা অনুযায়ী পোষাকপড়তে অভ্যস্হ হয় এবং এসব পোষাক সমাজহতে উৎখাত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টাকরে তাহলে তারা হযরতসুমাইয়া (রা.),ফাতিমা (রা.) ও আয়িশা (রা.)সাথে জান্নাতে অবস্হান করবেন । সুতরাংআমাদের প্র্রচলিত স্কুল ও কলেজের ড্রেসকোড পরিবর্তনের জন্যদুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলতে হবে । কারণজান্নাতই আমাদের শেষ ঠিকানা এবংআল্লাহ ও তার রাসুল (সা.)-ই সব আর বাকি সবমিথ্যা ।সুতরাং মেয়েদের স্কুল ও কলেজের ড্রেসেরপোষাক হতে হবে এমন যাতে মেয়েদের মুখমন্ডল ও হাতের তালু ছাড়া সমগ্র শরীর ঢেকেথাকে এবং মেয়েদেরশরীরের মাংসপেশীর ভাজ বোঝাঅপ্রকাশিত থাকে ।মহিলা ইমামের নামাজের সময় #করণীয়:১.নিচু স্বরে ইক্বামত দিবে।২.মহিলা ইমাম ঘরে নামাজ পড়ালে স্বরবেকিরাআত পড়বে যাতে মহিলারা শুনতেপারে।৩.মহিলা ইমাম ঘরের বাহিরে পার্কে বারাস্তায় নামাজ পড়ালে মৃদু শব্দে কিরাআতপড়বে ।নামাজের জামায়াতে #সারিবদ্ধতার_নিয়ম :১.দুই জন লোক হলে জামাআতে নামাজ পড়াযাবে । তখন ইমাম বামে ও মুক্তাদী ডাইনেদাঁড়াবে।২.তিনজন পুরুষ হলে ইমাম সম্মুখে এবং দুজনপুরুষ পিছনে দাড়াবে । বিশেষ কারণেইমামের দু’পাশে দু’জন সমান্তরালভাবেদাঁড়াতে পারেন। তার বেশী লোকহলে অবশ্যই পিছনে সারি করতে দাড়াতেহবে ।৩.যদি কিছু সংখ্যক পুরুষ ও কিছু সংখ্যকমহিলা জামায়াতে নামাজ পড়তে আসে,তাহলে সামনের সারিগুলো পুরুষগণ ও পিছনেরসারিগুলোতে মহিলাগণদাঁড়াবেন।৪. যদি কিছু সংখ্যক পুরুষ ও কিছু সংখ্যকমহিলা জামায়াতে নামাজ পড়তে আসে,তাহলেপুরুষ সকলের ইমাম হবেন। কিন্তু নারী কখনোপুরুষের ইমাম হবেন না। নারী ও পুরুষ কখনোইপাশাপাশি দাঁড়াবেন না।৫. দুইজন বয়স্ক পুরুষ, একটি বালক ও একজনমহিলা মুছল্লী হলে বয়স্ক একজন পুরুষ ইমামহবেন। তাঁর পিছনে উক্ত পুরুষ ও বালকটি এবংসকলেরপিছনে মহিলা একাকী দাঁড়াবেন।৬. যদি দুজন পুরুষ ও একজন মহিলা হন, তাহলেইমামের ডাইনে পুরুষ মুক্তাদী দাঁড়াবেন এবংপিছনে মহিলা একাকী দাঁড়াবেন।৭.একজন পুরুষ ও একজন মহিলা হলে সামনেপুরুষ ও পিছনে মাহিলা দাঁড়াবেন। এইক্ষেত্রে ইমাম মেয়ের বাবা অথবা ভাইঅথবা স্বামী অথবা ছেলে হতে হবে ।অন্যথায়এধরনের নামাজ বাতিল বলে গণ্য হবে ।৮.ইমামকে মধ্যবর্তী ধরে কাতার ডাইনে ওবামে সমান করতে হবে। তবে ডাইনে সামান্যবৃদ্ধি হতে পারে ।৯.প্রয়োজনে ইমাম উঁচুতে ও মুক্তাদীগণ নীচেদাঁড়াতে পারেন।১০.ইমামের আওয়ায পৌঁছলে ইমাম নীচেথাকুন বা উপরে থাকুন ছালাত আদায় করাজায়েয।১১.এক ব্যক্তি দ্বিতীয়বার জামা‘আতে ইমামবা মুক্তাদী হিসাবে যোগদান করতে পারেন।তখন দ্বিতীয়টি তার জন্য নফল হবে।১২.ইমাম অতি দীর্ঘ করলে কিংবা অন্য কোনবাধ্যগত কারণে মুক্তাদী সালাম ফিরিয়েজামা‘আত ত্যাগ করে একাকী শুরু থেকেছালাত আদায় করতে পারবেন।#কাতার_সোজা_করা১.সম্মুখের কাতারগুলি আগে পূর্ণ করতে হবে।২.কাতার সোজা করতে হবে এবং কাঁধে কাঁধও পায়ে পা মিলাতে হবে।#উপসংহার :আজকরের এই নিবন্ধ হতে প্রমাণিত হলো :মহিলাদের জামাতে নামায পড়া জায়েয ।যদি১.ইমামটা মহিলা হয়অথবা২.কিছু পুরুষ যদি কোন পুরুষ ইমামের পেছনেনামাজ পড়ে, তবে সেই জামায়াতে মেয়েরাসেই পুরুষ ইমামের পেছনে পুরুষদের পেছনেসারি বেধে নামাজপড়বে । জামাতে নামাজ পরলে মেয়েরাপুরুষের পিছনে দাঁড়াবে একজন মহিলা হলেও।অথবা৩.যদি কোন মেয়ের বা মেয়েদের পরিবারেরআপন ভাই অথবা স্বামী অথবা ছেলে অথবাবাবা থাকে তাকে ইমাম বানিয়ে মেয়ে বামেয়েরা নামাজপড়তে পারে ।ইসলাম জামায়াতবদ্ধ জীবন যাপন করাকেগুরুত্ব দেয় । কারণ জামায়াতে নামাজ পড়লেসোয়াব বেশী এবং জামায়াতবদ্ধ লোকদেরমধ্যে ইসলামী চেতনা জোড়ালো হয় ও পরস্পরসৌহার্দ-সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায় ।নারী-পুরুষ-ছোট-বড় নির্বিশেষে সবমুসলিমকে মসজিদে যেয়ে নামাজ পড়াসহ সবধরণের সামাজিক-রাজনৈতিক কাজেঅংশগ্রহণ করাই ইসলামের বিধানবলে সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে ।সুতরাং বাংলাদেশের প্রতিটি মসজিদেমহিলাদের জন্য নামাজের ব্যবস্হা করারজন্য আমাদের সর্বাত্মচেষ্টা করতে হবে । উপরন্তু যেসব মহিলা বাছাত্রী স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের হল বামহিলা নিবাসে অবস্হান করছেন তাদেরপ্রতিটা ফরজ ও ওয়াজিবনামাজ মহিলা ইমামের পেছনে নিয়মিতপড়ার জন্য সচেতন হতে হবে । অন্যথায়ইসলামের এই গুরুত্বপূর্ণ বিধান অবজ্ঞা করারজন্য হাসরেরময়দানে আল্লাহর কাছে কঠিন জবাবদিহিরসম্মুখীন হতে হবে।।

Advertisements