সহিহ নামাজ শিক্ষা


সহিহ নামাজ শিক্ষা
অনুবাদকের ভূমিকা
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য,
যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। দরুদ ও
সালাম তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর
প্রতি, যিনি সমগ্র বিশ্বমানবতার নবী,
নবীকূলের শিরোমনি সৃষ্টিকুলের রহমত ও
কল্যাণের প্রতীক। আমি শায়খ
ডঃ আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ
আলী আযযাইদের সালাত বিষয়ক গ্রন্থ
” তালীমুস সালাহ”
পাঠান্তে উপলব্ধি করি যে, এটির
বঙ্গানুবাদ সর্বসাধারণের জন্য খুবই
উপকারী হবে। কেননা বইটিতে নামায
বিষয়ক বিধি-বিধান সহজ ও সাবলীল
ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। আমার সুহৃদ
সাথি সাঈদুর রহমান মোল্লার সৎ
পরামর্শে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও
সমাজের উপকারের আশায় অনুবাদের কাজ
আরম্ভ করি।
বইটিকে পরিমার্জি করতে সাইফুল্লাহ
ভাই, শফীউল আলম ভাই, মৌলানা আব্দুর
রাউফ শামীম ও মৌলানা আমীর
আলী প্রমুখ সম্পাদনার
কাজে সহযোগিতা করেছেন।
যাঁরা আমাকে এ কাজে উৎসাহ
দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন,
আল্লাহর কাছে তাদের মঙ্গল
কামনা করছি। অনুবাদে লেখকের মূল
বক্তব্য যথার্থভাবে প্রকাশের
চেষ্টা করেছি। আমি আশা করি এই অনুবাদ
বাংলা ভাষা-ভাষীদের নিকট সমাদৃত
হবে ইনশা আল্লাহ। আল্লাহ আমাদের
সকলকে এই পুস্তক থেকে উপকৃত হবার
তাওফীক দিন। আমীন!
অনুবাদক
মুখবন্ধ
ﺍﻟﺤﻤﺪ ﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﻋﻠﻰ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﻭﻋﻠﻰ ﺁﻟﻪ ﻭﺻﺤﺒﻪ ﺃﺟﻤﻌﻴﻦ، ﺃﻣﺎ ﺑﻌﺪ :
নামায সম্পর্কে যে সকল বইপুস্তক
লেখা হয়েছে, আমি তা একত্রিত করার
প্রয়াস পাই। অতঃপর
আমি যে বিষয়টি উপলব্ধি করি তা হল,
যেসব কিতাব নামায সম্পর্কে লিখিত
হয়েছে তার মধ্যে প্রায় সবগুলোই বিশেষ
বিশেষ দিকের উপর গুরুত্বারোপ
করে লিখিত হয়েছে। উদাহরণত এ
বইগুলোর কোনটি নামাযের বিবরণ
লিখিত হয়েছে, যার মধ্যে নামাযের
ফযিলত ও গুরুত্বের বর্ণনা স্থান পায়নি।
আবার কোনটি দ্বান্দিক মাসায়েলের
আলোচনায় ভরে দেয়া হয়েছে,
যা প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য
আদৌ প্রযোজ্য নয়; তাই আমি এমনসব
মাসআলা সংকলন করতে মনস্থ করলাম
যেগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করা মুসলিমের
জন্য অপরিহার্য। কুরান-সুন্নাহর দলীলসমৃদ্ধ
করে, দ্বান্দিক মাসায়েলগুলো অনুল্লেখ
রেখে এবং বিস্তারিত
ব্যাখ্যা বিশ্লেণের
আশ্রয়ে না গিয়ে সহজ-
সরলভাবে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত
নিয়েছি, যাতে সংক্ষিপ্ত অথচ তথ্যসমৃদ্ধ
এ বইটি সর্বজন সমাদৃত হয়
এবং বিদেশী ভাষায় অনুবাদের
উপযোগী হয়। আল্লাহর নিকট
প্রার্থনা তিনি যেন আমার এই
শ্রমকে ফলপ্রসু করেন। নিশ্চয়
তিনি সর্বশ্রোতা, কবুলকারী। আর তিনিই
একমাত্র তাওফীকদাতা।
ডঃ আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আলী আযযাইদ
রিয়াদ
তারিখ ১/১/১৪১৪ হিজরী
কিছু কথা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
হতে বর্ণিত সহীহ হাদীসে এসেছে,
তিনি বলেন:
” ﺑﻨﻲ ﺍﻹﺳﻼﻡ ﻋﻠﻰ ﺧﻤﺲٍ ﺷﻬﺎﺩﺓ ﺃﻥ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺃﻥّ
ﻣﺤﻤﺪﺍً ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺇﻗﺎﻡِ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺇﻳﺘﺎﺀِ ﺍﻟﺰّﻛﺎﺓِ ﻭﺻﻮﻡِ
ﺭﻣﻀﺎﻥَ ﻭﺣﺞِّ ﺍﻟﺒﻴﺖ ﻟﻤﻦ ﺍﺳﺘﻄﺎﻉ ﺇﻟﻴﻪ ﺳﺒﻴﻼً ..”
অর্থ: “ইসলামের
ভিত্তি পাঁচটি জিনিসের উপর স্থাপিত,
সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ব্যতীত
সত্যিকার কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
আল্লাহর রাসূল। নামায প্রতিষ্ঠা করা,
যাকাত প্রদান করা, রমাযান
মাসে রোযা পালন করা। সক্ষম ব্যক্তির
জন্য আল্লাহর ঘরে (কাবা শরীফে) হজ্জ
পালন করা”। (বুখারী, মুসলিম)
উক্ত হাদীসটি ইসলামের পাঁচটি রুকন
বা স্তম্ভকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
প্রথম স্তম্ভ:
” ﺷﻬﺎﺩﺓ ﺃﻥ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺃﻥ ﻣﺤﻤﺪﺍً ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ”
অর্থ, “আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মা’বুদ
নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রাসূল, এ কথার
সাক্ষ্য প্রদান করা।” আর এখানে ﻻ ﺇﻟﻪ
শব্দটি প্রমাণ করছে যে, আল্লাহ
ছাড়া যা কিছুর ইবাদত করা হয় তা সবই
বাতিল এবং ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ শব্দটি প্রমাণ
করছে ইবাদত কেবল এক আল্লাহর জন্যই
নিবেদিত হতে হবে, যার কোন
অংশীদার নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন,
) ﺷَﻬِﺪَ ﺍﻟﻠّﻪُ ﺃَﻧَّﻪُ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﻭَﺍﻟْﻤَﻼَﺋِﻜَﺔُ ﻭَﺃُﻭْﻟُﻮﺍْ ﺍﻟْﻌِﻠْﻢِ ﻗَﺂﺋِﻤَﺎً
ﺑِﺎﻟْﻘِﺴْﻂِ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﻌَﺰِﻳﺰُ ﺍﻟْﺤَﻜِﻴﻢُ ‏( ‏( ﺳﻮﺭﺓ ﺁﻝ
ﻋﻤﺮﺍﻥ :১৮)
অথর্: “আল্লাহ সাক্ষ্য দেন
যে তিনি ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই, আর
ফেরেশতা ও জ্ঞানীগণও। তিনি ন্যায়
দ্বারা প্রতিষ্টিত। তিনি ছাড়া কোন
ইলাহ নেই। তিনি পরাক্রমশালী,
প্রজ্ঞাময়।” (সূরা আল ইমরান-১৮)
আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই, এ
কথার সাক্ষ্য দানের
মাধ্যমে তিনটি জিনিসের
স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।
প্রথমত: তওহীদুল উলুহিয়্যাহ
অর্থাৎ সকল প্রকার ইবাদত একমাত্র
আল্লাহর নিমিত্তে, এ কথার
স্বীকারোক্তি দেয়া এবং ইবাদতের
কোনো অংশই আল্লাহ ছাড়া অন্যের
জন্যে নিবেদন না করার অঙ্গিকার করা।
আর এ উদ্দেশ্যেই আল্লাহ
তাআলা সৃষ্টিজগতকে অস্তিত্বে
এনেছেন। এ বিষয়ে আল্লাহ
তাআলা বলেন:
) ﻭَﻣَﺎ ﺧَﻠَﻘْﺖُ ﺍﻟْﺠِﻦَّ ﻭَﺍﻟْﺈِﻧﺲَ ﺇِﻻَّ ﻟِﻴَﻌْﺒُﺪُﻭﻥِ (
অর্থ: “আমি জ্বিন ও মানব জাতিকে কেবল
এ জন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা একমাত্র
আমারই ইবাদত করবে”। (সূরা আযযারিয়াত-
৫৬)
আর এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্যই আল্লাহ
তাআলা যুগে যুগে রাসূলগণকে কিতাবসহ
পাঠিয়েছেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ
তাআলা বলেন,
) ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺑَﻌَﺜْﻨَﺎ ﻓِﻲ ﻛُﻞِّ ﺃُﻣَّﺔٍ ﺭَّﺳُﻮﻻً ﺃَﻥِ ﺍﻋْﺒُﺪُﻭﺍْ ﺍﻟﻠّﻪَ ﻭَﺍﺟْﺘَﻨِﺒُﻮﺍْ
ﺍﻟﻄَّﺎﻏُﻮﺕَ (
অর্থ: “প্রত্যেক উম্মাতের নিকট
আমি একজন রাসূল প্রেরণ করেছি এই
মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর
এবং তাগুত (আল্লাহ ব্যতীত যে জিনিস
বা বস্তুকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করা হয়)
থেকে দূরে অবস্থান কর”। (সূরা আন নাহল-
৩৬)
আর তাওহীদের সম্পূর্ণ বিপরীত
হলো শিরক। অতএব তাওহীদের অর্থ
যেহেতু সকল প্রকার ইবাদত একমাত্র
আল্লাহ জন্য নির্দিষ্ট করা; তাই শিরক
হলো ইবাদতের কোন অংশ আল্লাহ
ছাড়া অন্য কারো জন্য নির্দিষ্ট করা।
সুতরাং যে ব্যক্তি নিজ খেয়াল-
খুশি মতো আল্লাহ ব্যতীত অন্য
কারো উদ্দেশ্যে নামাজ, রোযা, দু’আ
(প্রার্থনা) নযর-মানত, জীবজন্তু উৎসর্গ
ইত্যাদি করবে, অথবা মৃতব্যক্তির
কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে,
সে ইবাদতের ক্ষেত্রে শিরকের আশ্রয়
নিল, আল্লাহর সাথে অন্য
কাউকে অংশীদার হিসেবে সাব্যস্ত
করে নিল। শিরক হলো সবচেয়ে বড় গুনাহ।
এটি সমস্ত আমলকে বিনষ্ট করে দেয়।
এমনকি শিরকে নিপতিত ব্যক্তির জান-
মালের হুরমত পর্যন্ত রহিত হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত: তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ
অর্থাৎ এ কথা স্বীকার করা যে, একমাত্র
আল্লাহই সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, জীবন
দানকারী, মৃত্যু প্রদানকারী, মুদাব্বির
(ব্যবস্থাপক) এবং আসমান ও
যমীনে একমাত্র তাঁরই বাদশাহী। এ প্রকার
তাওহীদকে স্বীকৃতি দেয়া সৃষ্টিজগতের
একটি স্বভাবজাত ফিতরত-প্রকৃতি, এমন
কি যেসব মুশরিকের মাঝে আমাদের
নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত
হয়েছিলেন তারাও
তাওহীদে রুবুবীয়্যাহকে স্বীকার করত
এবং তা অস্বীকার করত না।
আল্লাহ বলেন:
) ﻗُﻞْ ﻣَﻦ ﻳَﺮْﺯُﻗُﻜُﻢ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀ ﻭَﺍﻷَﺭْﺽِ ﺃَﻣَّﻦ ﻳَﻤْﻠِﻚُ ﺍﻟﺴَّﻤْﻊَ
ﻭﺍﻷَﺑْﺼَﺎﺭَ ﻭَﻣَﻦ ﻳُﺨْﺮِﺝُ ﺍﻟْﺤَﻲَّ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤَﻴِّﺖِ ﻭَﻳُﺨْﺮِﺝُ ﺍﻟْﻤَﻴَّﺖَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟْﺤَﻲِّ ﻭَﻣَﻦ ﻳُﺪَﺑِّﺮُ ﺍﻷَﻣْﺮَ ﻓَﺴَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﺍﻟﻠّﻪُ ﻓَﻘُﻞْ ﺃَﻓَﻼَ ﺗَﺘَّﻘُﻮﻥَ (
অর্থ: “বল, আসমান ও যমীন
থেকে কে তোমাদের রিযিক দেন?
অথবা কে (তোমাদের) শ্রবণ ও
দৃষ্টিসমূহের মালিক? আর কে মৃত
থেকে জীবিতকে বের করেন আর
জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন?
কে সব বিষয় পরিচালনা করেন? তখন
তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ’।
সুতরাং তুমি বল, ‘তার পরও
কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন
করবে না?” [সূরা ইউনুস, আয়াত: ৩১]
এ প্রকার তাওহীকে খুব কম সংখ্যক মানুষই
অস্বীকার করে, যারা অস্বীকার
করে তারাও আবার বাহ্যিক অস্বীকার
সত্ত্বেও হৃদয়ের মনিকোঠায়, নিভৃতে,
স্বীকৃতি জ্ঞাপন করে থাকে। তাদের
বাহ্যিক অস্বীকৃতিটা হয় কেবলই জেদ ও
অহংকারের বশবর্তী হয়ে। এ বিষয়টির
প্রতিই আল্লাহ তাআলা ইঙ্গিত
করে বলেন,
) ﻭَﺟَﺤَﺪُﻭﺍ ﺑِﻬَﺎ ﻭَﺍﺳْﺘَﻴْﻘَﻨَﺘْﻬَﺎ ﺃَﻧﻔُﺴُﻬُﻢْ ﻇُﻠْﻤًﺎ ﻭَﻋُﻠُﻮًّﺍ (
অর্থ: “তারা অন্যায় ও উদ্ধতভাবে অহংকার
করে নিদর্শনগুলোকে প্রত্যাখ্যান করল,
যদিও তাদের অন্তর এগুলো সত্য
বলে বিশ্বাস করেছিল”। (সূরা আন্ নামল,
আয়াত: ১৪)
তৃতীয়ত: তাওহীদুল আসমা ওয়াসসিফাত
অর্থাৎ আল্লাহ যেসব
গুণে নিজকে গুণান্বিত করেছেন
অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেসব
গুণে তাঁকে গুণান্বিত করেছেন, তার
প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং কোনরূপ
আকার, সাদৃশ্য, বিকৃতি ও বিলুপ্তি ইত্যাদির
আশ্রয়ে না গিয়ে, তাঁর মহত্বের
সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়,
এমনভাবে সে গুণরাজির প্রতি বিশ্বাস
স্থাপন করা। ইরশাদ হয়েছে:
) ﻭَﻟِﻠّﻪِ ﺍﻷَﺳْﻤَﺎﺀ ﺍﻟْﺤُﺴْﻨَﻰ ﻓَﺎﺩْﻋُﻮﻩُ ﺑِﻬَﺎ (
অর্থ: “আর আল্লাহর রয়েছে সুন্দরতম
নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব
নামেই ডাক।” [সূরা আল আরাফ, আয়াত:
১৮০]
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
) ﻟَﻴْﺲَ ﻛَﻤِﺜْﻠِﻪِ ﺷَﻲْﺀٌ ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟﺴَّﻤِﻴﻊُ ﺍﻟﺒَﺼِﻴﺮُ (
অর্থ: “তাঁর মত কিছু নেই আর
তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।” (সূরা আশ
শুরা, আয়াত:১১)
সুতরাং কালেমায়ে “লা-
ইলাহা ইল্লাল্লাহু” উক্ত তিন প্রকার
তাওহীদের স্বীকারোক্তিকে শামিল
করে।
অতএব যে ব্যক্তি এই
কালেমা সম্যকরূপে অনুধাবন করে তার
দাবি মুতাবিক আমল করল, অর্থাৎ শিরক
বর্জন এবং একত্ববাদে বিশ্বাস
করে লা ইলাহা ইল্লাহু মুহাম্মাদুর
রাসূলুল্লাহ উচ্চারণ করল
এবং সে অনুযায়ী আমল করল সেই প্রকৃত
মুসলমান বলে পরিগণিত হবে। আর
যে ব্যক্তি অন্তরে বিশ্বাস
না রেখে কেবল
বাহ্যিকভাবে মুখে উচ্চারণ করল,
সাথে বাহ্যিক আমলগুলোও করে গেল,
সে প্রকৃত মুসলমান নয়, সে বরং মুনাফিক।
আর যে ব্যক্তি এই কালেমা মুখে উচ্চারণ
করে তার দাবির বিপরীত আমল করল,
সে কাফির, যদিও সে মৌখিকভাবে এই
কালেমা বার বার উচ্চারণ করে চলে,
তবুও।
“মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ প্রেরিত
রাসূল”- এ কথার সাক্ষ্য প্রদানের তাৎপর্য
হল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর নিকট
হতে যে রিসালাত (বার্তা)
নিয়ে এসেছেন তার উপর ঈমান ও বিশ্বাস
স্থাপন করা। অর্থাৎ তাঁর আনীত বিধি-
বিধানের আনুগত্য করা ও
নিষেধাবলি থেকে বিরত
থাকা এবং সকল কাজ তাঁর প্রদর্শিত
পদ্ধতি মোতাবেক করা।
ইরশাদ হয়েছে:
) ﻟَﻘَﺪْ ﺟَﺎﺀﻛُﻢْ ﺭَﺳُﻮﻝٌ ﻣِّﻦْ ﺃَﻧﻔُﺴِﻜُﻢْ ﻋَﺰِﻳﺰٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻣَﺎ ﻋَﻨِﺘُّﻢْ
ﺣَﺮِﻳﺺٌ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢ ﺑِﺎﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﺭَﺅُﻭﻑٌ ﺭَّﺣِﻴﻢٌ (
অর্থ: “নিশ্চয় তোমাদের নিজদের মধ্য
থেকে তোমাদের নিকট একজন রাসূল
এসেছেন, তা তার জন্য কষ্টদায়ক
যা তোমাদেরকে পীড়া দেয়।
তিনি তোমাদের কল্যাণকামী, মুমিনদের
প্রতি স্নেহশীল, পরম দয়ালু।(সূরা আত
তাওবা, আয়াত: ১২৮)
এ বিষয়ে আল কুরআনের আরো অনেক
বাণী প্রনিধানযোগ্য, যেমন আল্লাহ
তাআলা বলেন:
) ﻣَّﻦْ ﻳُﻄِﻊِ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﻃَﺎﻉَ ﺍﻟﻠّﻪَ (
অথর্: “যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল
সে আল্লাহর আনুগত্য করল”। (সূরা আন
নিসা, আয়াত: ৮০)
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন:
) ﻭَﺃَﻃِﻴﻌُﻮﺍْ ﺍﻟﻠّﻪَ ﻭَﺍﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢْ ﺗُﺮْﺣَﻤُﻮﻥَ (
অর্থ: “আর তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ ও
তার রাসূলের
যাতে তোমাদেরকে দয়া করা হয়।” (সূরা
আল ইমরান, আয়াত:১৩২)
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
) ﻣُّﺤَﻤَّﺪٌ ﺭَّﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻣَﻌَﻪُ ﺃَﺷِﺪَّﺍﺀ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻜُﻔَّﺎﺭِ ﺭُﺣَﻤَﺎﺀ
ﺑَﻴْﻨَﻬُﻢْ (
অর্থ: “মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তার
সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের
প্রতি অত্যন্ত কঠোর; পরস্পরের প্রতি সদয়”।
(সূরা আল ফাতহ, আয়াত: ২৯)
দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্তম্ভ: নামায
প্রতিষ্ঠিত করা ও যাকাত প্রদান করা।
এ সম্পর্কে আল্লাহর ঘোষণা:
) ﻭَﻣَﺎ ﺃُﻣِﺮُﻭﺍ ﺇِﻻَّ ﻟِﻴَﻌْﺒُﺪُﻭﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣُﺨْﻠِﺼِﻴﻦَ ﻟَﻪُ ﺍﻟﺪِّﻳﻦَ ﺣُﻨَﻔَﺎﺀ
ﻭَﻳُﻘِﻴﻤُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﻭَﻳُﺆْﺗُﻮﺍ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓَ ﻭَﺫَﻟِﻚَ ﺩِﻳﻦُ ﺍﻟْﻘَﻴِّﻤَﺔِ (
অর্থ: ‘আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশ
দেয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর,
ইবাদাত করে তাঁরই জন্য দীনকে একনিষ্ঠ
করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত
দেয়; আর এটিই হল সঠিক দীন।’ (সূরা আল
বাইয়িনাহ, আয়াত: ৫)
আল্লাহ আরো বলেন:
) ﻭَﺃَﻗِﻴﻤُﻮﺍْ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓَ ﻭَﺁﺗُﻮﺍْ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓَ ﻭَﺍﺭْﻛَﻌُﻮﺍْ ﻣَﻊَ ﺍﻟﺮَّﺍﻛِﻌِﻴﻦَ (
অর্থ “আর তোমরা নামায সুপ্রতিষ্ঠিত কর,
যাকাত প্রদান কর এবং রুকুকারীদের
সাথে রুকু কর।” (সূরা আল বাকারাহ, আয়াত:
৪৩)
নামায: এটা হলো আমাদের মূল আলোচ্য
বিষয়।
যাকাত: হচ্ছে ঐ সম্পদ যা ধনবানের নিকট
থেকে সংগৃহীত এবং ধনহীন ও
যাকাতের অন্যান্য
হকদারদেরকে দেওয়া হয়। যাকাত
ইসলামের একটি মহান বিধান,
যা দ্বারা সমাজের সদস্যদের
মাঝে সংহতি, সৌহার্দ,
সহযোগিতা সুনিশ্চিত হয়। যাকাতের
বিধানের মাধ্যমে দরিদ্র, অসহায় ও
যাকাতের হকদারের প্রতি কোনরূপ
দয়া প্রদর্শন নয় বরং ধনীদের
সম্পদে বিত্তহীনদের এটি একটি নির্দিষ্ট
অধিকার।
চতুর্থ স্তম্ভ: রমজান মাসে রোযা পালন
করা।
এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
) ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍْ ﻛُﺘِﺐَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢُ ﺍﻟﺼِّﻴَﺎﻡُ ﻛَﻤَﺎ ﻛُﺘِﺐَ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻣِﻦ ﻗَﺒْﻠِﻜُﻢْ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢْ ﺗَﺘَّﻘُﻮﻥَ (
অর্থ: “হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর সিয়াম
ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয
করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের
উপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন
কর।” (সূরা আল বাকারা, আয়াত: ১৮৩)
পঞ্চম স্তম্ভ: সক্ষম ব্যক্তির জন্য হজ পালন
করা।
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহর ঘোষণাঃ
) ﻭَﻟِﻠّﻪِ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﺣِﺞُّ ﺍﻟْﺒَﻴْﺖِ ﻣَﻦِ ﺍﺳْﺘَﻄَﺎﻉَ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺳَﺒِﻴﻼً ﻭَﻣَﻦ
ﻛَﻔَﺮَ ﻓَﺈِﻥَّ ﺍﻟﻠﻪ ﻏَﻨِﻲٌّ ﻋَﻦِ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴْﻦَ (
অর্থ: “সামর্থ্যবান মানুষের উপর আল্লাহর
জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরয। আর
যে কুফরী করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয়
সৃষ্টিকুল
থেকে অমুখাপেক্ষী।” (সূরা আলে ইমরান,
আয়াত: ৯৭)
নামাযের ফযীলত
উপরে উল্লিখিত নাতিদীর্ঘ আলোচনায়
উঠে এসেছে যে ইসলামে নামাযের
গুরুত্ব অপরিসীম। নামায ইসলামের
দ্বিতীয় রুকন, যা সুপ্রতিষ্ঠিত করা ব্যতীত
মুসলমান হওয়া যায় না। নামাযে অবহেলা,
অলসতা মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য।
নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা মুতাবিক
নামায পরিত্যাগ করা কুফরি,
ভ্রষ্টতা এবং ইসলামের গণ্ডীবহির্ভূত
হয়ে যাওয়া। সহীহ হাদীসে এসেছে,
ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻭﺑﻴﻦ ﺍﻟﻜﻔﺮ ﻭﺍﻟﺸﺮﻙ ﺗﺮﻙ ﺍﻟﺼﻼﺓ
অর্থ: “মুমিন ও কুফর-শিরকের মধ্যে ব্যবধান
হল নামায পরিত্যাগ করা”। (মুসলিম)
এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন:
ﺍﻟﻌﻬﺪ ﺍﻟﺬﻱ ﺑﻴﻨﻨﺎ ﻭﺑﻴﻨﻬﻢ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻓﻤﻦ ﺗﺮﻛﻬﺎ ﻓﻘﺪ ﻛﻔﺮ
অর্থ: “আমাদের ও তাদের মধ্যকার
অঙ্গীকার হল নামায। অত:পর
যে ব্যক্তি তা পরিত্যাগ
করবে সে কাফির হয়ে যাবে।
হাদীসটি ইমাম
তিরমিযী বর্ণনা করেছেন
এবং বর্ণনাসূত্রের
নিরিখে হাদীসটিকে হাসান (সুন্দর)
বলেছেন।
নামায ইসলামের স্তম্ভ ও বড় নিদর্শন
এবং বান্দা ও তার প্রতিপালকের
মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনকারী। সহীহ
হাদীসে এর প্রমাণ।রাসূলুল্লাহ সা. বলেন:
ﺇﻥ ﺃﺣﺪﻛُﻢ ﺇﺫﺍ ﺻَﻠَّﻰ ﻳُﻨﺎﺟﻲ ﺭﺑَّﻪ
অর্থ: “নিশ্চয়ই তোমাদের কেউ যখন নামায
আদায় করে তখন সে তার প্রতিপালকের
সাথে (মুনাজাত করে)
নির্জনে কথা বলে।
নামায বান্দা ও তার প্রতিপালকের মহব্বত
এবং তাঁর দেওয়া অনুকম্পার
কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রতীক। নামায
আল্লাহর নিকট অতি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার
প্রমাণসমূহের একটি এই যে, নামায হল প্রথম
ইবাদত যা ফরয হিসেবে পালনের জন্য
নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নির্দেশ
দেওয়া হয়েছে এবং মেরাজের রাতে,
আকাশে, মুসলিম জাতির উপর তা ফরয
করা হয়েছে। তা ছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে, ‘কোন আমল
উত্তম’ জিজ্ঞাসা করা হলে তার
প্রত্যুত্তরে তিনি বলেছেন:
” ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻋﻠﻰ ﻭﻗﺘﻬﺎ ”
অর্থ: “সময় মত নামায আদায় করা”।
(বুখারী ও মুসলিম)।
নামাযকে আল্লাহ পাপ ও গুনাহ
থেকে পবিত্রতা অর্জনের
অসিলা বানিয়েছেন।
হাদীসে এসেছে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন
ﺃﺭﺃﻳﺘُﻢ ﻟﻮ ﺃﻥ ﻧﻬﺮﺍً ﺑﺒﺎﺏ ﺃﺣﺪﻛﻢ ﻳﻐﺘﺴﻞ ﻓﻴﻪ ﻛﻞ ﻳﻮﻡ ﺧﻤﺲ
ﻣﺮﺍﺕ، ﻫﻞ ﻳﺒﻘﻰ ﻣﻦ ﺩﺭﻧﻪ ﺷﻲﺀ؟ ﻗﺎﻟﻮﺍ : ﻻ، ﻗﺎﻝ : ﻛﺬﻟﻚ
ﻣﺜﻞ ﺍﻟﺼﻠﻮﺍﺕ ﺍﻟﺨﻤﺲ ﻳَﻤْﺤُﻮﺍ ﺍﻟﻠﻪُ ﺑﻬﻦّ ﺍﻟﺨﻄﺎﻳﺎ
অর্থ: “যদি তোমাদের কারো (বাড়ীর)
দরজার সামনে প্রবাহমান
নদী থাকে এবং তাতে প্রত্যেক দিন পাঁচ
বার গোসল করে, তাহলে কি তার
(শরীরে) ময়লা বাকী থাকবে?
(সাহাবীগণ) বললেন, ‘না’।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বললেন, ‘অনুরূপভাবে আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত
নামাযের দ্বারা (বান্দার)
গুনাহকে মিটিয়ে দেন’। (বুখারী ও
মুসলিম)
এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে আরো হাদীস
বর্ণিত হয়েছে:
ﺃﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﺁﺧﺮ ﻭﺻﻴﺘﻪ ﻷﻣﺘﻪ، ﻭﺁﺧﺮ ﻋﻬﺪﻩ ﺇﻟﻴﻬﻢ ﻋﻨﺪ ﺧﺮﻭﺟﻪ
ﻣﻦ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﺃﻥ ﺍﺗّﻘﻮﺍ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﻓﻴﻤﺎ ﻣﻠﻜﺖ ﺃﻳﻤﺎﻧُﻜﻢ.
‏( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺃﺣﻤﺪ ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ﻭﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﻪ )
অর্থ: “নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুকালে তাঁর
উম্মাতের জন্য সর্বশেষ অসিয়ত (উপদেশ)
এবং অঙ্গীকার গ্রহণ ছিল, ারা যেন
নামায ও তাদের দাস-দাসীদের
ব্যাপারে আল্লাহকে ভয়
করে।” (হাদীসটি ইমাম আহমাদ, নাসায়ী ও
ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন)
আল্লাহ তাআলা পবিত্র
কুরআনে নামাযের ব্যাপারে খুবই
গুরুত্বারোপ করেছেন এবং নামায ও
নামাযীকে সম্মানিত করেছেন।
কুরআনের অনেক জায়গায় বিভিন্ন
ইবাদতের সাথে বিশেষভাবে নামাযের
কথা উল্লেখ করেছেন।
নামাযকে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ
করেছেন।
এ বিষয়ে কয়েকটি আয়াত নিম্নরূপ:
) ﺣَﺎﻓِﻈُﻮﺍْ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺼَّﻠَﻮَﺍﺕِ ﻭﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ ﺍﻟْﻮُﺳْﻄَﻰ ﻭَﻗُﻮﻣُﻮﺍْ ﻟِﻠّﻪِ
ﻗَﺎﻧِﺘِﻴﻦَ (
অর্থ “তোমরা সমস্ত নামাযের
প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে (মাধ্যম)
আসরের নামায। আর আল্লাহর
সমীপে কাকুতি-মিনতির সাথে দাঁড়াও”।
(সূরা আল বাকারাহ, আয়াত: ২৩৮)
) ﻭَﺃَﻗِﻢِ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﺗَﻨْﻬَﻰ ﻋَﻦِ ﺍﻟْﻔَﺤْﺸَﺎﺀ ﻭَﺍﻟْﻤُﻨﻜَﺮِ (
অর্থ: “আর তুমি নামায সুপ্রতিষ্ঠিত কর।
নিশ্চয় নামায অশালীন এবং অন্যায় কাজ
থেকে বারণ করে”। (সূরা আল-আনকাবুত,
আয়াত: ৪৫)
) ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍْ ﺍﺳْﺘَﻌِﻴﻨُﻮﺍْ ﺑِﺎﻟﺼَّﺒْﺮِ ﻭَﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠّﻪَ ﻣَﻊَ
ﺍﻟﺼَّﺎﺑِﺮِﻳﻦَ (
অর্থ: “হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও
নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর।
নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের
সাথে আছেন।” (সূরা আল বাকারা, আয়াত:
১৫৩)
) ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓَ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻛِﺘَﺎﺑًﺎ ﻣَّﻮْﻗُﻮﺗًﺎ (
অর্থ: “নিশ্চয় নামায মুমিনদের উপর
নির্দিষ্ট সময়ে ফরয।” (সূরা আন নিসা,
আয়াত: ১০৩)
নামায পরিত্যাগকারীর জন্য আল্লাহর
আযাব অপরিহার্য।
ইরশাদ হয়েছে:
) ﻓَﺨَﻠَﻒَ ﻣِﻦ ﺑَﻌْﺪِﻫِﻢْ ﺧَﻠْﻒٌ ﺃَﺿَﺎﻋُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﻭَﺍﺗَّﺒَﻌُﻮﺍ ﺍﻟﺸَّﻬَﻮَﺍﺕِ
ﻓَﺴَﻮْﻑَ ﻳَﻠْﻘَﻮْﻥَ ﻏَﻴًّﺎ (
অর্থ: “অতঃপর তাদের পরে আসল এমন এক
অসৎ বংশধর যারা সালাত বিনষ্ট করল
এবং কুপ্রত্তির অনুসরণ করল।
সুতরাং তারা শীগ্রই জাহান্নামের
শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে”। (সূরা মারয়াম,
আয়াত: ৫৯)
আল্লাহর বিধান অনুযায়ী, আল্লাহ ও তাঁর
রাসূলের আনুগত্যের মাধ্যমে, তাঁর ক্রোধ
ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে বাঁচার
উদ্দেশ্যে নামায সুপ্রতিষ্ঠিত করা ও
সময়মত তা আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের
অবশ্য কর্তব্য।
তাহারাত (পবিত্রতা)
তাহারাত বলতে শরীর, কাপড়
এবং নামাযের স্থান সবগুলোর
পবিত্রতাকেই বুঝায়। শরীরের
পবিত্রতা দুইভাবে হয়:
প্রথমত: হাদসে আকবর বা বড়
নাপাকী থেকে গোসলের
মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন, বড়
নাপাকী স্বামী-স্ত্রীর মিলন অথাব অন্য
কোন কারণে বীর্যস্খলন কিংবা হায়েয-
নেফাসের কারণে হয়ে থাকে,
তা থেকে পবিত্রতা অর্জনের
নিয়তে চুলসহ শরীরের
সর্বাঙ্গে পানি বয়ে দেয়ার মাধ্যমে এ
গোসল সম্পন্ন হয়।
দ্বিতীয়তঃ ওযুঃ এ বিষয়ে আল্লাহ
বলেনঃ
) ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍْ ﺇِﺫَﺍ ﻗُﻤْﺘُﻢْ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺼَّﻼﺓِ ﻓﺎﻏْﺴِﻠُﻮﺍْ
ﻭُﺟُﻮﻫَﻜُﻢْ ﻭَﺃَﻳْﺪِﻳَﻜُﻢْ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻤَﺮَﺍﻓِﻖِ ﻭَﺍﻣْﺴَﺤُﻮﺍْ ﺑِﺮُﺅُﻭﺳِﻜُﻢْ
ﻭَﺃَﺭْﺟُﻠَﻜُﻢْ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻜَﻌْﺒَﻴﻦِ (
অর্থ: “হে মুমিনগণ! তোমরা যখন
নামাযে দণ্ডায়মান হতে চাও, তখন
তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর,
মাথা মাসেহ কর এবং টাখনু পর্যন্ত
পা (ধৌত কর)”। (সূরা আল মায়েদা, আয়াত:
৬)
উক্ত আয়াতে এমন কয়েকটি কার্য
অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যেগুলো ওযু
করাকালীন সম্পাদন করা অত্যাবশ্যক। আর
তা হল:
১। মুখমণ্ডল ধৌত করা। এর
মধ্যে কুলি করা এবং নাকে পানি দিয়ে
নাক পরিস্কার করাও অন্তর্ভুক্ত।
২। কনুইসহ দুই হাত ধৌত করা।
৩। সম্পূর্ণ মাথা মাসেহ করা। আর সম্পূর্ণ
মাথা বলতে দুই কানও অন্তর্ভুক্ত।
৪। দুই পায়ের গিরাসহ ধৌত করা।
কাপড় ও নামাযের স্থানের তাহারাতের
অর্থ হলো পেশাব, পায়খানা এবং এ
জাতীয় অন্যান্য অপবিত্র বস্তু
থেকে পবিত্র হওয়া।
ফরয নামায
ইসলাম মুসলমানদের উপর দিন ও রাতে পাঁচ
ওয়াক্ত নামায ফরয করেছে। আর
এগুলো হল, ফজরের নামায, যোহরের
নামায, আসরের নামায, মাগরিবের নামায
এবং এশার নামায।
১। ফজরের নামায: ফজরের নামায দুই
রাকাত। এর সময় ফজরেসানী অর্থাৎ
রাতের শেষাংশে, পূর্বাকাশে, শ্বেত
আভা প্রসারিত
হওয়া থেকে নিয়ে সূর্যোদয়ের পূর্ব
পর্যন্ত।
২। যোহরের নামায: যোহরের নামায চার
রাকাত। এর সময় মধ্যকাশ থেকে সূর্য
ঢলে যাওয়ার পর মূল ছায়া ব্যতীত
প্রত্যেক জিনিসের ছায়া তার সমান
হওয়া পর্যন্ত।
৩। আসরের নামায: আসরের নামায চার
রাকাত। এর সময় যোহরের সময় শেষ হবার
পর আরম্ভ হয় যাওয়ালের
ছায়া ছাড়া প্রত্যেকটি জিনিসের
ছায়া দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত।
(এটি সবচে উত্তম ওয়াক্ত) আর
জরুরী ওয়াক্ত সূর্য নিস্তেজ হয়ে রোদের
হলুদ রং হওয়া পর্যন্ত।
৪। মাগরিবের নামায: মাগরিবের নামায
তিন রাকাত। এর সময় সূর্যাস্তের পর
থেকে শফক্বে আহমার অর্থাৎ পশ্চিম
আকাশে লোহিত রং অদৃশ্য হওয়ার আগ
পর্যন্ত।
৫। এশার নামায: এশার নামায চার রাকাত।
এর সময় মাগরিবের সময় শেষ হওয়ার পর
থেকে রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত।
অথবা রাতের প্রথম অর্ধাংশ পর্যন্ত।
নামায যেভাবে আদায় করবেন
উল্লিখিত বিবরণ অনুযায়ী নামাযের
স্থান ও শরীরের পবিত্রতা অর্জনের পর
নামাযের সময় হলে নফল অথবা ফরয,
যে কোন নামায পড়ার ইচ্ছা করুন না কেন,
অন্তরে দৃঢ়সংকল্প নিয়ে কিব্লা অর্থাৎ
পবিত্র মক্কায় অবস্থিত কাবা শরীফের
দিকে মুখ করে একাগ্রতার
সাথে দাঁড়িয়ে যাবেন এবং নিম্নবর্ণিত
কর্মগুলো করবেন:
১। সেজদার জায়গায়
দৃষ্টি রেখে তাক্বীরে তাহ্রীমা (
আল্লাহু আকবার) বলবেন।
২। তাকবীরের সময় কান বরাবর অথবা কাঁধ
বরাবর উভয় হাত উঠাবেন।
৩। তাকবীরের পর নামায শুরুর একটি দু’আ
পড়বেন, পড়া সুন্নাত। দু’আটি নিম্নরূপ:
ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻚَ ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﻭَﺑِﺤَﻤْﺪِﻙَ ﻭَﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﺍﺳْﻤُﻚَ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﺟَﺪُّﻙَ ﻭَﻻ ﺇﻟَﻪَ
ﻏَﻴْﺮُﻙَ
উচ্চারণ:
সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া
তাবারাকাসমুকা ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা
ওয়া লা-ইলাহা গাইরুকা।
অর্থ: “প্রশংসা এবং পবিত্রতা বর্ণনা করছি
আপনার হে আল্লাহ! বরকতময় আপনার নাম।
অসীম ক্ষমতাধর ও সুমহান আপনি।
আপনি ভিন্ন আর কোন উপাস্য নেই”।
ইচ্ছা করলে উক্ত দু’আর পরিবর্তে এই দোআ
পড়া যাবে:
” ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺑَﺎﻋِﺪْ ﺑَﻴْﻨِﻲ ﻭَﺑَﻴْﻦَ ﺧَﻄَﺎﻳَﺎﻱَ ﻛَﻤَﺎ ﺑَﺎﻋَﺪْﺕَ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟْﻤَﺸْﺮِﻕِ
ﻭَﺍﻟْﻤَﻐْﺮِﺏِ، ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﻧَﻘِّﻨِﻲ ﻣِﻦْ ﺧَﻄَﺎﻳَﺎﻱَ ﻛَﻤَﺎ ﻳُﻨَﻘَّﻰ ﺍﻟﺜَّﻮْﺏُ
ﺍﻷَﺑْﻴَﺾُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺪَّﻧَﺲِ، ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﻏْﺴِﻠْﻨِﻲ ﻣِﻦْ ﺧَﻄَﺎﻳَﺎﻱَ ﺑِﺎﻟْﻤَﺎْﺀِ
ﻭَﺍﻟﺜَّﻠْﺞِ ﻭَﺍﻟْﺒَﺮَﺩِ ”
উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা বাইদ্
বাইনী ওয়া বাইনা খাতাইয়াইয়া কামা বা
‘আত্তা বাইনাল মাশরিকি ওয়াল মাগরিবি,
আল্লাহুম্মা নাক্কিনী মিন
খাতাইয়াইয়া কামা য়ুনাক্কাছ ছাওবুল
আবইয়াযু মিনাদ্দানাসি,
আল্লাহুম্মাগ্সিল্নী মিন্
খাতাইয়াইয়া বিল মায়ি ওয়াছ্
ছালজি ওয়াল বারাদি”।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাকে ও আমার
গুনাহের মাঝে এতটা দূরত্ব সৃষ্টি করুন
যতটা দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের
মাঝে। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ঠিক
ঐভাবে পাপমুক্ত করুন
যেভাবে সাদা কাপড় ময়লামুক্ত হয়।
হে আল্লাহ! আপনি আমার
গুনাহসমূহকে পানি দিয়ে ও বরফ
দিয়ে এবং শিশির দ্বারা ধুয়ে দিন”।
(বুখারী ও মুসলিম)
৪। তারপর বলবেন:
ﺃَﻋُﻮْﺫُ ﺑﺎﻟﻠﻪِِ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥِ ﺍﻟﺮَّﺟِﻴْﻢِ
ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ
উচ্চারণ: “আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির
রাজীম, বিসম