সালাতের ফজিলত সম্পর্কে জঈফ ও জাল হাদীস!!


সালাতের ফজিলতসম্পর্কে জঈফ ও জালহাদিসসালাত জান্নাতের চাবি কথাটি সমাজে বহুল প্রচলিত ।অনেকে বুখারিতে আছে বলেও চালিয়ে দেয়াইপছন্দ করে। আসলে এর কোন ভিত্তি নাই।হাদিস নং ১।জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (ছা)বলেছেন, জান্নাতের চাবি হল সালাত। আর সালাতেরচাবি হল পবিত্রতা।(মুসনাদে আহমাদ হা/১৪৭০৩ তিরমিজি হা/৪ মিস্কাত হা/২৪৯ফাজায়েলে আমাল ৮৮ পৃ)তাহকিকঃহাদিস এর প্রথম অংশ জঈফ (জঈফুল জামে হা/৫২৬৫,সিলসিলা ই জঈফা হা/৩৬০৯) দ্বিতীয় অংশ পৃথক সনদ এছহিহ সুত্রে বর্ণিত আছে। (আবু দাউদ হা/৬১, তিরমিজিহা/৩)হাদিসটির প্রথম অংশ জঈফ হবার কারন হল- উক্ত সনদ এদুইজন দুর্বল রাবি আছে। (ক) সুলাইমান বিন করম ও(খ) আবু ইয়াহিয়া আল-কাত্তাত।(আলবানি, মিস্কাত হা/২৯৪ এর টিকা দ্রষ্টব্য)জ্ঞাতব্যঃজান্নাতের চাবি সম্পর্কে ইমাম বুখারি (রহ) একটিঅনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু আলোচনা করতে গিয়েওহাব ইবনু মুনাব্ববিহ (রহ) থেকে যে বর্ণনাএসেছে তা হল-“লা ইলাহা ইল্লাল্লহ” কি জান্নাতের চাবি? তখন তিনিবলেন, হ্যাঁ। তবে প্রত্যেক চাবির দাত রয়েছে।তুমি যদি এমন চাবি নিয়ে আসো যার দাঁত রয়েছে,তাহলে তোমার জন্য জান্নাত খোলা হবে। অন্যথাইখোলা হবে না।(বুখারি ১/১৬৫ পৃ হা/১২৩৭ এর পূর্বের আলোচনাদ্রষ্টব্য)এছারাও আরও অন্নান্য ছহিহ হাদিস দারাও এটা প্রমানিত।(বুখারি হা/৫৮২৭, মুসলিম হা/২৮৩, )তাই, “লা ইলাহা ইল্লাল্লহ” হল জান্নাতের চাবি আরশরিয়াতের অন্নান্য আমল-আহাকাম অর্থাৎ সালাত, সিয়াম,হাজ, যাকাত ইত্যদি ওই চাবির দাঁত।হাদিস নং ২।সালাত হল দিনের খুঁটি। সুতারাং যে ব্যাক্তি সালাত কায়েমকরলো সে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করলো। আর যেব্যাক্তি সালাত ছেড়ে দিল সে দ্বীনকে ধ্বংসকরল।(কাশফুল খাফা ২/৩২ পৃ, তাযকিরাতুল মউজুয়াত পৃ ৩৮,ফাজায়েলে আমাল ২৯ পৃ)তাহকিকঃসমাজে হাদিসটির সমাধিক প্রসার থাকলেও হাদিসটি গ্রহনযোগ্য নয়। ইমাম নাবাবি (রহ) বলেন, এটি বাতিল ওমুনকার।(কাশফুল খাফা ২/৩১ পৃ,)হাদিস নং ৩।রসুল (সা) বলেছেন, সালাত মুমিনের মিরাজ।(তাফসিরে রাযি ১/২১৮ পৃ, তাফসিরে হাক্কি ৮/৪৫৩ পৃ,মিরকাতুল মাফাতিহ ১/১৩৪ পৃ, “ইমান” অধ্যায়)তাহকিকঃউক্ত বর্ণনার কোন সনদ নাই। এটি ভিত্তিহিন ওবানোয়াট।হাদিস নং ৪।আনাস (রা) বলেন, রসুল (সা) বলেছেন, “সালাতমুমিনের নুর”(মুসনাদে আবি ইয়ালা হা/৩৬৫৫, ফাজায়েলে আমাল ২৯পৃ)তাহকিকঃবর্ণনাটি জইফ। মুহাদ্দিস হুসাইন সালিম আসাদ (রহ)বলেন, উক্ত হাদিসের সনদ অত্যন্ত দুর্বল।(তাহকিক মুসনাদে আবি ইয়ালা হা/৩৬৫৫,)উক্ত হাদিসের সনদে ইসা ইবনু মাইসারা নামে একজনদুর্বল রাবি আছে।(সিলসিলাই জইফা হা/১৬৬০)উল্লেখ্য, ছলাত নুর, সাদাকা দলিল মর্মে মুসলিমেযে হাদিস বর্ণিত হয়েছে তা ছহিহ।(মুসলিম হা/৫৫৬, মিস্কাত হা/২৮১)হাদিস নং ৫।যে বাক্তি জামাতের সাথে ফজরের সালাত আদায়করে সে যেন আদম (আ) এর সাথে পঞ্চাশ বারহজ করে এবং যে বাক্তি জামাতের সাথেযোহরের সালাত আদায় করে সে যেন নুহ (আ)এর সাথে চল্লিশ কিংবা ত্রিশ বার হজ করে। এভাবেইঅনন্যা ওয়াক্ত সে আদায় করে।(হাসান ইবনু মুহাম্মাদ আস-ছাগানি, আল-মউজুয়াত হা/৪৮ পৃঃ৪২)তাহকিকঃবর্ণনাটি জাল ও মিথ্যা।(আল-মউজুয়াত হা/৪৮ পৃঃ ৪২)হাদিস নং ৬।সালমান ফারসি (রা) বলেন, আমি রাসুল (সা) কে বলতেশুনেছি, যে বাক্তি ভোরে ফজরের ছালাতেরদিকে আগিয়ে গেলো সে ইমানের পতাকা নিয়েগেলো। আর যে বাক্তি ভোরে (ফজরের সালাতআদায় না কওরে) বাজারের দিকে আগিয়েগেলো সে শয়তানের পতাকা নিয়ে গেলো।(ইবনু মাজাহ হা/২২৩৪, বঙ্গানুবাদ মিস্কাত হা/৫৮৯)তাহকিকঃউক্ত হাদিসের সনদ অত্যন্ত দুর্বল। এর সনদেউবাইস ইবনু মাইমুন নামক রাবি রয়েছে। ইমাম বুখারি (রহ)সহ অন্যান্য মুহাদ্দিছ গন তাকে মুনকার বলেঅভিযোগ করেছে। ইবনু হিব্বান (রহ) বলেন, সেনির্ভরশীল বাক্তির নাম দিয়ে ধারনা পূর্বক বহু জালহাদিস বর্ণনা করেছে।(আলবানি, জইফ ইবনু মাজাহ হা/২২৩৪, মিস্কাত হা/৬৪০ টিকাদ্রষ্টব্য)হাদিস নং ৭।ইমরান ইবনু হুসাইন (রা) বলেন, রাসুল (সা) কে একদাজিজ্ঞাস করা হল, আল্লাহর এই বানিসম্পর্কে-“নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজথেকে বিরত রাখে” তখন তিনি বললেন, যাকে তারসালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে না“তার সালাত হয় না”।(তাফসির ইবনে কাসির; সিলসিলা ই জইফা হা/৯৮৫,ফাজায়েল এ আমাল পৃঃ ১৭২)তাহকিকঃহাদিসটি জইফ। উক্ত বর্ণনার সনদে ইবনু জুনাইদ নামেএকজন মিথ্যুক রাবি রয়েছে। মুহাদ্দিসগণ বর্ণনাটিকেমুনকার বলেছেন।(সিলসিলা ই জইফা হা/৯৮৫৫)হাদিস নং ৮।ইবনু আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা) বলেন, যারসালাত তকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরতরাখে না তাকে উহা ইসলাম থেকে দূরে সরেদেয়া ছারা আর কিছুই বৃদ্ধি করে না।(ফাজায়েল এ আমাল পৃঃ ১৭৩, তাবারানি, আল-মুজামুল কাবিরহা/১০৮৬২)তাহকিকঃবর্ণনাটি বাতিল বা মিথ্যা। এর সনদে লইস ইবনু আবি সালিমনামক ত্রুতিপূর্ণ রাবি রয়েছে।(সিলসিলা ই জইফা হা/২)জ্ঞাতব্যঃউক্ত বর্ণনা প্রমান করে ত্রুটিপূর্ণ কোন বাক্তিসালাত আদায় করলে সালাত কবুল হয়না। সুতারাং সালাতআদায় করে কোন লাভ নাই। কিন্তু উক্ত ধারনা সঠিকনয়। বরং সালাত আদায়ের মাধ্যমে এক সময় সেআল্লাহর অনুগ্রহে পাপ কাজ ছেড়ে দিবে। ছহিহহাদিসে বর্ণিত হইছে,আবু হুরাইরা (রা) বলেন, জনৈক বাক্তি রাসুল (সা) এরনিকটে এসে বললেন, অমুক বাক্তি রাতে সালাতআদায় করে আর সকাল হলে চুরি করে। তিনিউত্তরে বললেন, সালাত তাকে অচিরেই তাথেকে বিরত রাখবে।(আহামাদ হা/৯৭৭৭, মিস্কাত হা/১২৩৭, সনদ ছহিহ)চলবে……

Advertisements