সালাতে বিনয়ী হওয়ার তেত্রিশ উপায় (২য় পর্ব)


সালাতে বিনয়ী হওয়ার তেত্রিশ উপায় (২য় পর্ব)

 ১৮- সালাতের পর হাদিসে বর্ণিত দো‘আ:
এ দো‘আগুলো অন্তরে সালাতের প্রতি মনোযোগ সৃষ্টি ও সালাত দ্বারা বরকত লাভ ও উপকার লাভে সাহায্য করে।
আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, প্রথম ইবাদতকে সংরক্ষণ করা ও তার হেফাযত করার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে সে ইবাদতের সাথে সাথে অন্য দ্বিতীয় কিছু ইবাদত করে নেওয়া। সালাতের পর যিকিরসমূহের মধ্যে চিন্তা করা দ্বারা বিষয়টি আরও ভালোভাবে বুঝে আসবে। কারণ, সে প্রথমে ক্ষমা প্রার্থনা দিয়ে শুরু করবে; সালাত শেষ করার সাথে সাথে সালাতে তার যে সব দুর্বলতা- অমনোযোগীতা, খুশুহীনতা প্রকাশ পেয়েছে এবং সালাতে তার যে সব ভুলত্রুটি দেখা দিয়েছে, তার জন্য তিনবার এস্তেগফার পড়বে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নফল সালাত আদায় করবে, কারণ, নফল সালাত দ্বারা ফরযের ঘাটতি পূরণ করা হয়ে থাকে এবং সালাতে খুশু না থাকার ক্ষতিপূরণ হয়ে থাকে।
সালাতের খুশু‘ বা বিনয়াবনত অবস্থা আনয়নকারী উপায়গুলোর কথা উল্লেখ করার পর, দ্বিতীয় পর্যায়ে সে সব বিষয়ের আলোচনা করব, যে কর্মগুলো মানুষকে খুশু থেকে ফিরিয়ে রাখে, অন্য মনষ্ক করে এবং সুন্দর করে সালাত আদায় করা হতে বিরত রাখে।
দ্বিতীয় প্রকার: সালাতে খুশুর পথে বাধা হয়, প্রতিবন্ধক তৈরী করে, অথবা খুশু বিনষ্ট করে এমন যাবতীয় কাজ থেকে বিরত থাকা। যেমন,  
১৯- যে সব বস্তু একজন মুসল্লির মনোযোগ নষ্ট করে, সালাতের স্থান থেকে সেগুলো দূর করাআনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা’ এর একটি পর্দা [যাতে নকশা ছিল বা রঙিন] ছিল, যার দ্বারা তিনি তাঁর ঘরের একপাশকে ঢেকে রাখতেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, কাপড়টি সরিয়ে নাও। কারণ, এ কাপড়ের ছবিগুলো সব সময় আমার সালাতে ভেসে উঠে।[106]
হাদিস বর্ণনাকারী কাশেম রহ. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা’ থেকে বর্ণনা করেন,
“আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার একটি কাপড় ছিল, যা একটি ছোট ঘর (যা ঘর থেকে একটু নিচুতে ছিল অনেকটা স্টোর রুমের মত, সে) দিক ঝুলানো ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে ফিরে সালাত আদায় করতেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কাপড়টি সরাও; কারণ, কাপড়টির ছবিগুলো সবসময় সালাতে আমার সামনে ভেসে উঠে। তারপর আমি কাপড়টি সরিয়ে ফেলি এবং তা দিয়ে কয়েকটি বালিশ বানিয়ে নেই।[107]
বিষয়টির উপর প্রমাণ হিসেবে আরও একটি হাদিস পেশ করা যায়, তা হল,
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাবা শরীফে সালাত আদায়ের জন্য প্রবেশ করেন, তিনি দুটি ভেড়ার শিং দেখেন। সালাত আদায় করার পর, তিনি ওসমান আল হাজাবীকে বলেন, আমি তোমাকে শিং দুটিকে ঢেকে রাখার কথা বলতে ভুলে গেছি। কারণ, কা‘বা ঘরের মধ্যে এমন কোনো জিনিষ থাকা উচিত নয় যা একজন মানুষকে সালাত থেকে বিরত রাখে”।[108]
উল্লেখিত বিষয়ের সাথে সাথে এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অর্থাৎ মানুষের চলাচলের স্থানে সালাত আদায়, মানুষের কোলাহল, চিল্লা-পাল্লা ও গোলযোগের স্থানে সালাত আদায়, কোন আলোচনার মজলিশের পাশে সালাত আদায় এবং যে সব স্থান খেলা-ধুলা ও হৈ-চৈ ইত্যাদি করা হয়, সেখানে সালাত আদায় থেকে বিরত থাকা।
অনুরূপভাবে যদি সম্ভব হয়, যে সব স্থানে অধিক গরম বা অধিক ঠাণ্ডা জায়গার মধ্যে সালাত আদায় করা হতে বিরত থাকবে। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গরমের দিনে গরমের কারণে যোহরের সালাতকে ঠাণ্ডার মধ্যে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।  আল্লামা ইবনুল কাইয়্যেম রহ. বলেন, কঠিন গরমের সময় সালাত আদায় করা, একজন মানুষকে সালাতে খুশু ও মনোযোগী হওয়াতে বাধা দেয় এবং ইবাদতকে অপছন্দ ও ঘৃণিত বানায়। এ কারণেই শরিয়তের বিধান দাতা বান্দাদের সালাতকে দেরীতে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে গরম কমে যায়। যাতে বান্দা মনোযোগ সহকারে সালাত আদায় করতে পারে এবং সালাত আদায়ে তার যে উদ্দেশ্য অর্থাৎ সালাতে মনোযোগী ও বিনয়ী হওয়া এবং আল্লাহর প্রতি দাবিত হওয়া তা হাসিল হয়।[109]
২০- এমন কাপড়ে সালাত আদায় করবেন না, যাতে নকশা অথবা লেখা অথবা বিভিন্ন রঙ অথবা ছবি থাকে, যা একজন মুসল্লিকে সালাতে মনোযোগী হতে বিরত রাখে:
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা’ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নকশী বিশিষ্ট এক জামা পরিধান করে সালাত আদায় করতে দাঁড়ান। সালাতে জামার নকশার দিকে তাঁর দৃষ্টি পড়ে। সালাত শেষ করে তিনি বলেন, তোমরা এ জামাটিকে আবু জাহাম ইবন হুযাইফাকে দাও এবং তার থেকে তার আন্বেজানিয়্যা অর্থাৎ এমন একটি জামা নিয়ে আস যাতে কোন নকশা দাগ ও বুটা নেই। কারণ, এটি এখনই আমাকে আমার সালাতের মনোযোগ নষ্ট করে দিয়েছিল”। অপর বর্ণনায় এসেছে, شغلتني أعلام هذه এ কাপড়ের পাড় আমাকে আমার সালাত থেকে অমনোযোগী করেছে। অপর এক বর্ণনায় এসেছে,كانت له خميصة لها علم ، فكان يتشاغل بها في الصلاة  “রাসূলের একটি চাদর ছিল, যাতে বিভিন্ন ধরনের নকশা ছিল, যা তাঁকে তার সালাতে মনোযোগ দেওয়া থেকে বিরত রেখেছিল।[110]
সুতরাং, যে সব কাপড়ে জীব-জন্তু বা কোনো প্রাণীর ছবি রয়েছে তাতে সালাত আদায় করা, যেমনটি বর্তমানে আমাদের সময়ে প্রচলিত রয়েছে, তা আরও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ হওয়া উচিত।
২১- খাওয়ার সামনে উপস্থিত হলে,  তাকে সামনে রেখে সালাত আদায় করবেন না।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«لا صلاة بحضرة طعام»
“খানা হাজির থাকা অবস্থায় কোনো সালাত আদায় করা যাবে না”।[111]
যখন খানাকে সামনে রাখা হয় এবং খানা সামনে উপস্থিত থাকে অথবা তার সামনে খানাকে পেশ করা হল, তখন প্রথমে খানা খাওয়ার কাজটি সেরে নেবে। কারণ, যখন খানা খাওয়া ছেড়ে দেয় এবং সালাতে দাঁড়ায় অথচ তার নফস খানার সাথে সম্পৃক্ত থাকে, তখন সালাতে তার মনোযোগ নষ্ট হবে। বরং বান্দার উপর ওয়াজিব হল, তার প্রয়োজনসমূহ শেষ করে তার পর সালাতে দাঁড়াবে, তাড়াহুড়া করবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
«إذا قرِّب العَشاء وحضرت الصلاة ، فابدؤا به قبل أن تصلوا صلاة المغرب. ولا تعجلوا عن عشائكم.»
“যখন তোমাদের সামনে রাতের সালাত ও রাতের খাওয়ার উপস্থিত করা হয়, তখন তোমরা মাগরিবের সালাতের পূর্বে খাওয়ারের কাজ আগে সেরে নাও। তোমরা তোমাদের রাতের সালাত আদায়ে তাড়াহুড়া করো না”। অপর এক বর্ণনায় এসেছে,
«إذا وُضع عشاء أحدكم وأقيمت الصلاة فابدؤا بالعشاء ولا يعجلنّ حتى يفرغ منه»
“যখন তোমাদের রাতের খাওয়ার সামনে রাখা হয়, আর সালাতের একামত দেওয়া হয়, তখন তোমরা রাতের খাওয়া দিয়ে শুরু কর। খাওয়া শেষ করার পূর্বে সালাতের জন্য তাড়াহুড়া করবে না”।[112]
২২- পেশাব ও পায়খানার বেগ নিয়ে সালাত আদায় করবে না:
নিশ্চিতভাবে এ কথা বলা যায়, কোনো ব্যক্তি যখন পায়খানা ও পেশাবকে আটকে রেখে সালাত আদায় করে, তা সালাতে খুশুতে বিঘ্ন ঘটায়। এ কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানা পেশাবের বেগ নিয়ে সালাত আদায় করা থেকে নিষেধ করেছেন। হাদিসে বর্ণিত,
(نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يصلي الرجل وهو حاقن)
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেশাবকে আটকে রেখে সালাত আদায় করা থেকে নিষেধ করেন”।[113]
সুতরাং কারো যদি পায়খানা বা পেশাবের বেগ হয়, তখন তার করণীয় হল, সে তার প্রয়োজন সেরে নেয়ার জন্য বাথরুমে যাবে যদিও জামাতে সালাত আদায় ছুটে যায়। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إذا أراد أحدكم أن يذهب الخلاء وقامت الصلاة فليبدأ بالخلاء».
“যখন তোমাদের কেউ পায়খানায় যেতে চায় এবং সালাতের একামত হয়, তখন সে প্রথমে পায়খানা সেরে নেবে”।[114]
বরং যখন এ ধরনের কোনো সমস্যা সালাতের মাঝখানে দেখা দেয়, তখন সে পায়খানা বা পেশাব করার জন্য সালাত ছেড়ে দেবে। তারপর অজু করবে এবং সালাত আদায় করবে। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«لا صلاة بحضرة طعام ولا وهو يدافعه الأخبثان»
“খাবারের উপস্থিতিতে কোনো সালাত নেই এবং পায়খানা ও পেশাবকে প্রতিহত করা অবস্থায় কোনো সালাত নেই”।[115] এ ধরনের প্রতিহত করা অবশ্যই সালাতের খুশু‘ খুজু বিনষ্ট করে। বায়ূ চেপে রাখাও এ নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত।
২৩-যখন তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়, তখন সালাত আদায় না করা:
আনাস ইবন মালেক থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إذا نعس أحدكم في الصلاة فلينم حتى يعلم ما يقول»
“যখন তোমাদের কারো সালাতের মধ্যে তন্দ্রা আসে, সে যেন ঘুমিয়ে পড়ে; যতক্ষণ না সে কি বলে তা বুঝতে পারে। অর্থাৎ শুয়ে পড়বে, যাতে সালাতে ঘুমাতে না হয়”।[116]
এখানে কারণও উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إذا نعس أحدكم و هو يصلي فليرقد ، حتى يذهب عنه النوم فإن أحدكم إذا صلى وهو ناعس لا يدري لعله يستغفر فيسب نفسه».
যখন তোমাদের কারো সালাতে তন্দ্রা আসে, সে যেন শুয়ে পড়ে। যতক্ষণ না তার ঘুম দূর হয়ে যায়। কারণ, যখন তোমাদের কেউ তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে সালাত আদায় করে, তখন সে কি বলবে, তা বুঝতে পারে না। হতে পারে সে ক্ষমা চাচ্ছে, কিন্তু সে নিজেকে গালি দিয়ে বসছে।[117]
এ ধরনের সমস্যা রাতের সালাত তথা তাহাজ্জুদের মধ্যেও হতে পারে, আর দেখা গেল দো‘আ কবুল হওয়ার সময়, না জেনে সে তার নিজেরই বিরুদ্ধে দো‘আ করে বসল। আর যখন ঘুমানোর পরে সালাত আদায় করার পর্যাপ্ত সময় থাকে, তখন এ হাদিস ফরয সালাতকেও অন্তর্ভুক্ত করে।[118]
২৪- কথা বলায় মগ্ন বা ঘুমন্ত ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না
কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের পিছনে সালাত আদায় হতে নিষেধ করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করে বলেন,
«لا تصلوا خلف النائم ولا المتحدث»
“তোমরা কথায় মগ্ন ব্যক্তি এবং ঘুমন্ত ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করো না।[119]”
কারণ, কথায় মগ্ন ব্যক্তি তার কথা দ্বারা সালাত আদায়কারীকে অমনোযোগী করে দিবে, আর ঘুমন্ত ব্যক্তি দ্বারা এমন কিছু প্রকাশ পায় যা সালাতে বিঘ্ন ঘটায়।
আল্লামা খাত্তাবী রহ. বলেন, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল রহ. কথায় মগ্ন লোকদের সামনে রেখে সালাত আদায়কে অপছন্দ করেন। কারণ, তাদের কথা একজন মুসল্লিকে তার সালাত থেকে বিরত রাখতে পারে।[120]
ঘুমন্ত ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করা মাকরূহ ও নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে প্রমাণগুলোকে কতক আহলে ইলম দুর্বল আখ্যায়িত করেন। তাদের মধ্যে একজন ইমাম আবু দাউদ; তিনি তার সুনানে আবু দাউদে সালাত অধ্যায়, বিতরের সালাত পরিচ্ছেদ ও দো‘আ পরিচ্ছেদে বিষয়টি উল্লেখ করেন।[121] অনুরূপভাবে ইবন হাজার রহ. তার ফাতহুল বারীর শারহু বাবিস সালাত খালফান নায়েম, কিতাবুস সালাত।
ইমাম বুখারি স্বীয় সহীহ গ্রন্থে ঘুমন্ত ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় পরিচ্ছেদে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার হাদিস বর্ণনা করেন, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন,
كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي وأنا راقدة معترضة على فراشه..
“আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিছানায় শুয়ে থাকতাম, আর তিনি সালাত আদায় করতেন।[122]
মুসল্লিকে সালাতে মনোযোগ দেয়া থেকে বিরত রাখে এমন কোনো বিষয় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কা থাকলে তখনই কেবল মুজাহিদ, তাউস ও ইমাম মালেক ঘুমন্ত ব্যক্তির দিকে সালাত আদায়কে মাকরূহ বলেছেন।[123]
আর যদি এ ধরনের কোনো বিষয় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কা না থাকে তাহলে ঘুমন্ত ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় মাকরূহ হবে না। আল্লাহই ভালো জানেন।
২৫- পাথর সরানো [অনুরূপভাবে জায়নামায ঠিক করার] কাজে ব্যস্ত না হওয়া
ইমাম বুখারি রহ. মু‘আইকিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ থেকে বর্ণনা করেন,
أن النبي صلى الله عليه وسلم قال في الرجل يسوي التراب حيث يسجد قال : «إن كنت فاعلا فواحدة»
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেজদার জায়গায় পাথর পরিষ্কার করছে, এমন এক ব্যক্তিকে বলেন, যদি এ কাজটি করতেই হয়, তবে একবার কর”।[124]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«لا تمسَح وأنت تصلي فإن كنتَ لا بدَّ فاعِلا فواحدة»
“তুমি সালাতরত অবস্থায় পাথর স্পর্শ করবে না। আর যদি করতেই চাও তবে একবার করবে”।[125]
হাদিসে নিষেধ করার কারণ, সালাতের খুশু ও বিনায়বণত অবস্থার হেফাযত করা, আর যাতে তা দ্বারা ‘আমলে কাসীর’ বা অতিরিক্ত কাজ না হয়। সেজদার স্থান যদি সমান করার প্রয়োজন পড়ে তবে সালাত আরম্ভ করার পূর্বেই সেটি সমান করে নেয়া উত্তম।
অনুরূপভাবে সালাতের মধ্যে কপাল পরিষ্কার করা, নাক পরিষ্কার করা, ইত্যাদি উল্লেখিত হাদিসের আওতায় পড়বে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাটি ও পানির মধ্যে সেজদা করেন এবং কপালে তার দাগ পড়েছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যতবার সেজদা থেকে উঠতেন ততবার তিনি কপাল পরিষ্কার করতেন না। কারণ, সালাতে মগ্ন থাকা ও মনোযোগী হওয়া কপালের ময়লা পরিষ্কার করাকে ভুলিয়ে দেয় এবং এ ধরণের কাজ থেকে বিরত রাখে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إن في الصلاة شغلا»
“নিশ্চয় সালাতে রয়েছে ব্যস্ততা।”[126]
ইবনু আবি শাইবা রহ. আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
ما أحب أن لي حمر النعم وأني مسحت مكان جبيني من الحصى
“আমি আমার সেজদার জায়গা থেকে পাথর পরিষ্কার করাকে আমার জন্য লাল উটের বিনিময়ে হলেও পছন্দ করি না।” আল্লামা কাযী আয়াদ্ব রহ. বলেন, ‘সালাতে কপাল পরিষ্কার করাকে সালাফে সালেহীনগণ মাকরূহ বলেছেন’।[127] অর্থাৎ সালাত শেষ করার পূর্বে।
যেমনিভাবে সালাতে মনোযোগ নষ্ট করে, এমন সব বিষয় যেগুলো আমরা উল্লেখ করেছি তা হতে মুসল্লিকে বিরত থাকতে হবে, তেমনিভাবে অপর মুসল্লির সালাতে বিঘ্ন হয় ও তার মনোযোগ নষ্ট করে, এমন কোনো কাজ না করা একজন মুসল্লির দায়িত্ব ও কর্তব্য। তন্মধ্যে রয়েছে:
২৬- কিরাত বা সূরা পড়তে গিয়ে অন্যদের সালাতে ডিস্টার্ব করবে না:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«ألا إن كلكم مناج ربه ، فلا يؤذين بعضكم بعضا ، ولا يرفع بعضكم على بعض في القراءة»
“সাবধান! তোমাদের সবাই আল্লাহর সাথে কথোপকথন করছ। তোমরা একে অপরকে কষ্ট দেবে না। তোমরা কিরাতে (অথবা বলেন, সালাতে) একে অপরের কিরাতের উপর নিজের আওয়াজকে উঁচু করবে না”।[128]
অন্য বর্ণনায় এসেছে,
«لا يجهر بعضكم على بعض بالقرآن»
“তোমাদের কেউ যেন অপর কারও উপর কুরআনের শব্দকে উচ্চ না করে”[129]।
২৭-সালাতে এদিক সেদিক তাকানো ছেড়ে দেয়া:
আবু যর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«لا يزال الله عز وجل مقبلا على العبد وهو في صلاته ما لم يلتفت ، فإذا التفت انصرف عنه »
“যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা সালাতে এদিক সেদিক তাকাবে না, আল্লাহ তা‘আলা সে বান্দার দিক চেয়ে থাকেন। অতঃপর যখন সে এদিক সেদিক তাকায় তখন আল্লাহ তা‘আলা তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন”।[130]
সালাতে এদিক সেদিক তাকানো দুই ধরনের হয়ে থাকে।
এক. অন্তরকে মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে মনোনিবেশ করা।
দুই. চোখের দ্বারা এদিক সেদিক তাকানো। উভয় প্রকারের তাকানোই নিষিদ্ধ এবং এতে সালাতের সাওয়াব কমে যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাতে এদিক সেদিক তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বলেন,
«اختلاس يختلسه الشيطان من صلاة العبد»
এটি একটি ছিনতাই, শয়তান বান্দার সালাত থেকে তা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।[131] যে ব্যক্তি স্বীয় সালাতে চোখ দিয়ে ও অন্তর দিয়ে এদিক সেদিক তাকায় তার দৃষ্টান্ত সে ব্যক্তির মত, যাকে বাদশাহ তার দরবারে ডাকলে সে বাদশাহর ডাকে সাড়া দেয় এবং বাদশাহর দরবারে উপস্থিত হয়। আর যখন বাদশাহ তার সাথে কথা বলছে এবং তাকে সম্বোধন করছে, তখন সে বাদশাহর কথা না শোনে ডান ও বাম দিক তাকায়। বাদশাহর কথার প্রতি কোন মনোযোগ না দেয়াতে সে বাদশাহ কি বলছে, তা বুঝতে পারছে না। কারণ, তার অন্তর উপস্থিত নেই। এ ধরনের লোকের সাথে বাদশাহর কি আচরণ করবে বলে তোমার ধারণা? এ ব্যক্তির ভাগ্যে এটিই হওয়া উচিত যে, সে আল্লাহর দরবার হতে, আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও ক্ষোভ নিয়ে ফিরে যাবে এবং আল্লাহর দৃষ্টি হতে সে দূরে সরে যাবে। এ ধরনের মুসল্লি কখনও সে মুসল্লির সমান হবে না, যে ব্যক্তি সালাতে আল্লাহর সম্মুখে নিজেকে পেশকারী, যে ব্যক্তি অন্তরে আল্লাহর বড়ত্ব ও মহত্বকে অনুভব করে, যার সামনে দাঁড়াল তার প্রতি সজাগ থাকে, যার ফলে তার অন্তর আল্লাহর ভয়ে ভরে যায় এবং আল্লাহর জন্য তার মাথা ঝুঁকে পড়ে; আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর প্রতি মনোযোগ দেয়া বা কোনো দিকে তাকানো থেকে লজ্জা করে। তাদের উভয়ের সালাত এক রকম হতে পারে না। তাদের উভয়ের সালাতের মধ্যে তেমন পার্থক্য যেমনটি বলেছেন হাস্‌সান ইবন আতিইয়া, “দুই ব্যক্তি একই সালাত আদায় করছে, অথচ তাদের উভয়ের সালাতের মধ্যে ব্যবধান, আসমান ও জমিনের মধ্যের ব্যবধানের সমান। কারণ, তাদের একজন অন্তর দিয়ে আল্লাহর সমীপে নিজেকে পেশ করেছে, আর অপর ব্যক্তি অমনোযোগী ও গাফেল।[132]”
তবে প্রয়োজনের সময়, ‘তাকানো’তে কোনো অসুবিধা নেই। ইমাম আবু দাউদ সাহাল ইবনুল হানযালিয়্যাহ্‌ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
(ثُوَّبَ بالصلاة – صلاة الصبح – فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي وهو يلتفت إلى الشعب).
“সালাতের ঘোষণা দেওয়া হলো, অর্থাৎ ফজরের সালাতের ঘোষণা দেয়া হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করছিলেন এবং তিনি পাহাড়ের চুড়ার দিকে তাকাচ্ছিলেন”। ইমাম আবু দাউদ বলেন, (وكان أرسل فارسا من الليل إلى الشعب يحرس) “রাতে তিনি অশ্বারোহীকে পাহাড়ের চুড়ায় পাহারা দেয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন”। (অর্থাৎ তিনি সেটার অবস্থা জানার জন্যই তাকাচ্ছিলেন)। আর অনুরূপ হচ্ছে, উমামা বিনতে আবিল আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাকে সালাতে বহন করা, ‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার জন্য সালাত-রত অবস্থায় দরজা খোলা, মিম্বার থেকে নেমে নেমে সাহাবীদের সালাত শিক্ষা দেয়া, সালাতুল কুসুফে আগে পিছে যাওয়া, শয়তানকে বেধে রাখা ও তার গলা চেপে ধরা যখন সে সালাত ভেঙ্গে দিতে চেষ্টা করে, সালাতে সাপ ও বিচ্ছুকে হত্যা করা, সালাতের সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীকে প্রতিহত করা ও তার সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেয়া এবং নারীদেরকে সালাতের মধ্যে হাতের তালি দেয়ার নির্দেশ প্রদান এবং সালাতের মধ্যে কোনো প্রয়োজনীয় ইঙ্গিত প্রদান করা, ইত্যাদি কাজগুলো, যা প্রয়োজনের সময় করার অনুমতি রয়েছে। আর যদি বিনা প্রয়োজনে সালাতে এ ধরনের কোন কাজ করা হয়ে থাকে, তাহলে তা হবে সালাতে অনর্থক ও নিষিদ্ধ কর্ম করা যেগুলো সালাতের মনোযোগকে নষ্ট করে এবং খুশর পরিপন্থী হয়।[133]
২৮- আকাশের দিক তাকানো হতে বিরত থাকা:
হাদিসে আকাশের দিক তাকানো হতে নিষেধ করেছেন এবং যারা সালাতে আকাশের দিক তাকায় তাদের হুমকি দেয়া হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إذا كان أحدكم في الصلاة فلا يرفع بصره إلى السماء ، أن يلتمع بصره »
“যখন তোমাদের কেউ সালাতের মধ্যে থাকে, সে যেন আকাশের দিক না তাকায়; যাতে তার চোখের আরো ছিনিয়ে নেওয়া না হয়।”[134] অপর এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«ما بال أقوام يرفعون أبصارهم إلى السماء في صلاتهم»
“তাদের কি হয়েছে, যারা সালাতে তাদের চোখকে আকাশের দিক উঠায়?” অপর এক বর্ণনায়, “সালাতে দো‘আ করার সময় তাদের চক্ষুকে আসমানের দিক উঠানো হতে নিষেধ করা হয়”।[135] এ বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত কঠিন হুমকি দেন, এমনকি তিনি বলেন,
«لينتهنّ عن ذلك أو لتخطفن أبصارهم »
“তারা হয়, আকাশের দিক তাকানো থেকে বিরত থাকবে, না হয় তাদের চোখ ছিনিয়ে নেওয়া হবে”।[136]
২৯- সালাতের মধ্যে মুসল্লি তার সামনে থু থু ফেলবে না:
        কারণ, তা সালাতে খুশুর পরিপন্থী এবং আল্লাহর সাথে বেআদবি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
 «إذا كان أحدكم يصلي فلا يبصق قِبَل وجهه فإن الله قِبَل وجهه إذا صلى».
“যখন তোমাদের কেউ সালাত আদায় করে, সে যেন তার সামনের দিকে থুতু না ফেলে। কারণ, যখন কোনো ব্যক্তি সালাত আদায় করে, তখন আল্লাহ তার চেহারার দিকেই থাকেন”।[137]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
“যখন তোমাদের কেউ সালাতে দাঁড়াবে, সে যেন সামনে থুতু না ফেলে। কারণ, সে যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে আল্লাহর সাথে কথা বলতে থাকে। আর ডান দিকেও থুতু ফেলবে না কারণ, তার ডান দিকে একজন ফেরেশতা থাকে। যদি থুতু ফেলতে হয়, তবে বাম দিকে ফেলবে অথবা পায়ের নিচে ফেলবে, অতঃপর তা পুতে রাখবে”।[138]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
«إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا قَامَ فِي صَلاَتِهِ فَإِنَّهُ يُنَاجِي رَبَّهُ، أَوْ إِنَّ رَبَّهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ القِبْلَةِ، فَلاَ يَبْزُقَنَّ أَحَدُكُمْ قِبَلَ قِبْلَتِهِ، وَلَكِنْ عَنْ يَسَارِهِ أَوْ تَحْتَ قَدَمَيْهِ»
“যখন তোমাদের কেউ সালাতে দাঁড়াবে, সে যেন সামনে থুতু না ফেলে। আর নিশ্চয় তার রব থাকেন তার মাঝে ও তার কিবলার মাঝে। আর তোমাদের কেউ যেন, স্বীয় কিবলার দিক থুতু না ফেলে। তবে যদি ফেলতে হয়, সে যেন বাম দিক বা তার দু’ পায়ের নিচে ফেলে।”[139]
আর যদি বর্তমান যুগের মত মসজিদে জায়নামায ইত্যাদি বিছানো থাকে, তখন যদি থুতু ফেলার প্রয়োজন পড়ে, পকেট থেকে একটি রুমাল বের করে, তাতে থুতু ফেলে তা আবার পকেটে রেখে দেবে।
৩০- সালাতের মধ্যে হাইকে ধমিয়ে রাখতে চেষ্টা করা:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إذا تثاءَب أحدُكم في الصلاة فليكظِم ما استطاع فإن الشيطان يدخل».
“যখন সালাতে তোমাদের কারো হাই আসে তখন তা যথা সম্ভব প্রতিহত করবে। কারণ, তাতে শয়তান প্রবেশ করে।[140]” যখন শয়তান মানুষের মধ্যে প্রবেশ করে, তখন মুসল্লির সালাতে বিঘ্ন ঘটাতে শয়তান আরও বেশি সক্ষম হয়। এ ছাড়াও যখন মুসল্লি হাই দেয় তখন শয়তান হাসে।
৩১-সালাত আদায়ের সময় কোমরে হাত রাখা থেকে বিরত থাকা:
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
(نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الاختصار في الصلاة)
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের মধ্যে কোমরে হাত রাখা থেকে নিষেধ করেন”।[141] আর হাদিস উল্লেখিত ‘আল-ইখতিছার’ শব্দের অর্থ, দু হাত কোমরে রাখা।
যিয়াদ ইবন সাবিহ আল-হানাফী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
صليت إلى جنب ابن عمر فوضعت يدي على خاصرتي فضرب يدي فلما صلى قال هذا الصّلب في الصلاة وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم ينهى عنه
“আমি ইবনে ওমরের পাশে সালাত আদায় করি, আমি আমার হাতদ্বয় কোমরে রাখলে তিনি আমার হাতের উপর প্রহার করেন। যখন সালাত আদায় শেষ হল, তখন বললেন, এটি সালাতের মধ্যে এক প্রকার শূল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ থেকে আমাদের নিষেধ করতেন”।[142]
অপর একটি মারফু হাদিসে বর্ণিত, তাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«أن التخصّر راحة أهل النار»
“কোমরে হাত রাখা জাহান্নামীদের প্রশান্তি”। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে ইমাম বাইহাকী তা বর্ণনা করেন। আল্লামা ইরাকী রহ. বলেন, হাদিসটির সনদের প্রকাশ্য কথা হচ্ছে বিশুদ্ধ হওয়া।
৩২- সালাতের মধ্যে কাপড় ঝুলিয়ে দেয়াকে পরিহার করা
কারণ, হাদিসে বর্ণিত,
ৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের মধ্যে সদল তথা মাথার উপর থেকে কাপড় ঝুলিয়ে দেয়া ও মুখ ঢেকে রাখা হতে নিষেধ করেন।[143] আউনুল মাবুদ গ্রন্থকার বলেন, আল্লামা খাত্তাবী রহ. বলেছেন, “সদল বলতে বুঝায়, কাপড়কে এমনভাবে ছেড়ে দেয়া যাতে মাটির সাথে গড়ায়[144]।” মিরকাতুল মাফাতীহ কিতাবে উদ্ধৃত[145] যে, ‘সদল’ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ, এটি অহংকারের অন্তর্ভুক্ত। আর সালাতের মধ্যে সদল করা আরও বেশি মারাত্মক ও নিন্দনীয়। আর নিহায়ার প্রণেতা বলেন, দুই কাপড় দিয়ে মুড়ি দিয়ে হাত দ্বয়কে ভিতরে প্রবেশ করিয়ে রুকু করা ও সেজদা করাকে ‘সদল’ বলে। কেউ কেউ বলেন, এ ধরনের কাজ ইয়াহূদীরা করত। আর কেউ কেউ বলেন, ‘সদল’ হল, কাপড়কে মাথা অথবা কাঁধের উপর রাখা এবং সামনের দিকে বা বুকের উপর ছেড়ে দেওয়া; ফলে মুসল্লি সালাতের মধ্যে কাপড় যাতে না পড়ে সে জন্য কাপড় নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় যা সালাতে খুশু‘ অবলম্বনে বিঘ্ন ঘটায় এবং খুশুর পরিপন্থী হয়। তবে যদি কাপড় বাঁধা থাকে বা বোতাম লাগানো থাকে, যাতে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না, তখন সেটা মুসল্লিকে ব্যস্ত রাখে না, ফলে তা খুশুরও বিপরীত হয় না। বর্তমানে কিছু আফ্রিকান ও অন্যান্য বন্ধু বান্ধবের পোশাক ও তাদের পরিধেয় আমরা দেখতে পাই, তারা সালাতের মধ