সালাতে বুকের উপর হাত বাধা ও নাভির নিচে হাত বাধার জয়ীফ হাদীস সমূহ


★ সালাতে বুকে হাত বাঁধা এবং নাভীরনীচে হাত বাঁধার যঈফ দলীলসমূহ>>>> সালাতে বুকে হাত বাঁধা এবং নাভীর নীচে হাতবাঁধারযঈফ দলীলসমূহ প্রমানসহ নিচে উপস্থাপন করাহলো <<<<দুই হাতের আংগুল সমূহ ক্বিবলামুখী খাড়াভাবে কাঁধঅথবা কানপর্যন্ত উঠিয়ে দুনিয়াবী সবকিছুকে হারাম করেদিয়ে স্বীয় প্রভুরমহত্ত্ব ঘোষণা করে বলবে ‘আল্লা-হুআকবার’ (আল্লাহ সবারচেয়ে বড়)। তারপর বাম হাতের উপরে ডান হাত,বুকেরউপরে বেঁধে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সম্মুখেনিবেদিত চিত্তে সিজদারস্থান বরাবর দৃষ্টি রেখে দাড়াতে হবে।মহানআল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা আল্লাহর জন্যনিবিষ্টচিত্তে দাঁড়িয়ে যাও’। বাকারাহ- ২/২৩৮হাত বাঁধার সময় দুই কানের লতি বরাবর দুই হাতেরবৃদ্ধাঙ্গুলী উঠানোর হাদীস যঈফ। আবু দাউদ-৭৩৭# ইবনে হুজাইফা(রাঃ) মুরসাল হাদীসে বলেন,“নবীজি(সঃ) সালাতেরসময় বুকের উপর হাত বাধতেন”।-নাসিরউদ্দিনআলবানী। জাকিরনায়েক বক্তৃতা সামগ্রী – ৫ম খন্ড – পৃষ্ঠা- ৮৫# “তোমরা হাত বাধো নাভীর নীচে” আবু দাউদ- ১মখন্ড-৭৫৫,৭৫৭।তবে আবু দাউদ নিজেই এই দুটোকে যয়ীফহাদীস বলেছেন।“তোমরা নাভীর উপর হাত বাধো”আবু দাউদের- ১মখন্ড-৭৫৬।তারপর আবার মুরসাল হাদীসে(কিছু বাদ দেয়াহয়েছে,এমন হাদীস)বলা হয়েছে, “সালাত আদায় করার সময়, তোমরা হাতবাধবে,তোমাদের বুকের উপর”। আবু দাউদ-৭৫৮ । জাকিরনায়েকবক্তৃতা সামগ্রী-৫ম খন্ড- পৃষ্ঠা- ৮৫# সাহল বিন সা‘দ (রাঃ) বলেন, ‘লোকদেরকেনির্দেশ দেওয়া হ’তযেন তারা সালাতের সময় ডান হাত বাম হাতের উপরেরাখে। আবুহাযেম বলেন যে, সাহাবী সাহল বিন সা‘দ এইআদেশটিকে রাসূলুল্লাহ(সঃ)-এর দিকে সম্পর্কিত করতেন বলেই আমি জানি’।বুখারী (দিল্লী ছাপা) ১/১০২ পৃঃ, হা/৭৪০, ‘আযান’অধ্যায়-১০,অনুচ্ছেদ-৮৭; ঐ, মিশকাত হা/৭৯৮, ‘ছালাতের বিবরণ’অনুচ্ছেদ-১০।উল্লেখ্য যে, ইসলামিকফাউন্ডেশন (১৯৯১),আধুনিকপ্রকাশনী (১৯৮৮) প্রভৃতিবাংলাদেশের একাধিকসরকারী ওবেসরকারী প্রকাশনা সংস্থা কর্তৃক অনুদিত ওপ্রকাশিতবঙ্গানুবাদবুখারীশরীফে উপরোক্ত হাদীছটির অনুবাদে‘ডান হাত বাম হাতেরকব্জিরউপরে’ -লেখা হয়েছে। এখানে অনুবাদেরমধ্যে ‘কব্জি’কথাটি যোগ করার পিছনে কিকারণ রয়েছেবিদগ্ধঅনুবাদক ওপ্রকাশকগণই তা বলতে পারবেন।তবে হাদীসেরঅনুবাদে এভাবে কমবেশী করাভয়ংকর গর্হিত কাজবলেই সকলে জানেন।# ‘যেরা‘ অর্থ কনুই থেকে মধ্যমা আঙ্গুলেরঅগ্রভাগ পর্যন্ত দীর্ঘহাত’ (আল-মু‘জামুল ওয়াসীত্ব)। একথা স্পষ্ট যে, বামহাতেরউপরে ডান হাত রাখলে তা বুকের উপরেই চলেআসে। নিম্নোক্তরেওয়ায়াত সমূহে পরিষ্কারভাবে যার ব্যাখ্যাএসেছে। যেমন-# সাহাবী হুল্ব আত-ত্বাঈ (রাঃ) বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ(সঃ)-কে বাম হাতের জোড়ের (কব্জির) উপরে ডানহাতের জোড় বুকেরউপরে রাখতে দেখেছি’।আহমাদ হা/২২৬১০, সনদহাসান, আলবানী,আহকামুল জানায়েয, মাসআলা নং-৭৬, ১১৮পৃঃ; তিরমিযী(তুহফা সহ,কায়রো : ১৪০৭/১৯৮৭) হা/২৫২, ‘সালাত’ অধ্যায়-২,অনুচ্ছেদ-১৮৭,২/৮১, ৯০; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১০৯।# ওয়ায়েল বিন হুজর (রাঃ) বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ(সঃ)-এরসাথে সলাত আদায় করলাম। এমতাবস্থায় দেখলাম যে,তিনি বামহাতের উপরে ডান হাত স্বীয় বুকের উপরেরাখলেন’।বুখারী ১০২, মুসলিম-মুসলিম-১৭৩ পৃষ্ঠা, আবু দাউদ-১মখন্ড-১১০-১২১-১২৮, তিরমিযী-৫৯ পৃষ্ঠা,নাসাঈ-১৪১পৃষ্ঠা, ইবনুমাজা- ৫৮-৫৯ পৃষ্ঠা , মেশকাত ৭৫ পৃষ্ঠা, মুয়াত্তা মালিক-১৭৪ পৃষ্ঠা,মুয়াত্তা মুহাম্মাদ-১৬০ পৃষ্ঠা, যাদুল মায়াদ-১২৯পৃষ্ঠা,হিদায়া দিরায়া-১০১ পৃষ্ঠা, কিমিয়ায়ে সাআদাত- ১মখন্ড-১৮৯পৃষ্ঠা,বুখারী আযিযুল হক-১ম খন্ড-৪৩৫ , বুখারীআধুনিকপ্রকাশনী-১ম খন্ড-৬৯৬ , বুখারী ইসলামিকফাউন্ডেশন- ২য়খন্ড-৭০২ , মুসলিম- ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২য়খন্ড-৮৫১, আবুদাউদ ইসলামিক ফাইন্ডেশন- ১ম খন্ড-৭৫৯, তিরমিযীইসলামিকফাউন্ডেশন-১ম খন্ড-২৫২, মেশকাত-নূর মোহাম্মাদআযমী- ২য়খন্ড-৭৪২ ও মাদ্রাসা পাঠ্য দ্বিতীয় খন্ড- ৭৪২, বুলুগুলমারামবাংলা- ৮২ পৃষ্ঠা, সহীহ ইবনু খুযায়মা হা/৪৭৯-পৃষ্ঠা ২০;আবুদাঊদহা/৭৫৫, ইবনু মাস‘ঊদ হ’তে; ঐ, হা/৭৫৯, ত্বাঊস বিনকায়সান হ’তে;‘ছালাত’ অধ্যায়-২, ‘ছালাতে বাম হাতের উপর ডানহাত রাখা’অনুচ্ছেদ-১২০।# “বুকের উপর এমন ভাবে হাত বাধতে যেন, ডানহাত উপরে ও বামহাত নীচে থাকে”। মুসলিম,আহমদ,ইবনে খুজায়মা# ডাঃ জাকির নায়েক বলেন, “তাই আমি যখন সালাতআদায়করি,তখন আমার হাত রাখি, বুকের উপর” ‘বুকের উপরহাত’ রাখারহাদীসগুলোই হচ্ছে মযবুত”। জাকির নায়েক বক্তৃতাসামগ্রী- ৫মখন্ড-পৃষ্টা-৮৫,৮৬# ইমাম শাওকানী বলেন, ‘হাত বাঁধা বিষয়ে সহীহইবনুখুযায়মাতে ওয়ায়েল বিন হুজর (রাঃ) বর্ণিত হাদীছেরচাইতে বিশুদ্ধতম কোন হাদীছ আর নেই’।উল্লেখ্য যে, বাম হাতেরউপরে ডান হাত রাখা সম্পর্কে ১৮ জন ছাহাবী ও ২জন তাবেঈথেকে মোট ২০টি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইবনুআব্দিল বার্র বলেন,রাসূলুল্লাহ (সঃ) থেকে এর বিপরীত কিছুই বর্ণিতহয়নি এবং এটাইজমহূর সাহাবা ও তাবেঈনের অনুসৃত পদ্ধতি। নায়লুলআওত্বার৩/২২; ফিক্বহুস সুন্নাহ (কায়রো : ১৪১২/১৯৯২)১/১০৯।# বুকে হাত বাঁধার তাৎপর্য: ত্বীবী বলেন,‘হৃৎপিন্ডেরউপরে বুকে হাত বাঁধার মধ্যে হুঁশিয়ারী রয়েছে এবিষয়ে যে,বান্দা তার মহা পরাক্রান্ত মালিকের সম্মুখেদাঁড়িয়েছে হাতের উপরহাত রেখে মাথা নিচু করে পূর্ণ আদব ও আনুগত্যসহকারে,যা কোনভাবেই ক্ষুণ্ণ করা যাবে না’।# আধুনিক প্রকাশনীর ৬৯৬ নম্বরে ভুল অর্থ করাহয়েছে।সালাতে ‘নাভীর নীচে হাত বাধা’রকোন সহীহ হাদীস নাই। ‘বুকে হাত বাধার কথা’সহীহ হাদীসদ্বারা প্রমানিত। আধুনিক প্রকাশনী আরবী ইবারতে‘যেরা’ শব্দেরঅর্থ করেছেন, ‘কব্জি’। আর আরবীঅভিধানগুলোতে এর অর্থ হচ্ছে,পূর্ন হাত।# আল্লামা হায়াত সিন্ধীর রিসালা “ফতহুল গফুর কিতাহকীক”ওযয়িল ইয়াদায়নে আলাস সুদুর” পুস্তিকা ০৮ পৃষ্ঠারঃ-ক) ইমাম আহমাদ স্বীয় মসনদে কবীসহা বিনহোলবঃ তিনি নিজেরপিতা হোলব হতে বলেন যে, “আমি রাসুলুল্লাহ(সঃ)-কে (সালাতহতে ফারেগ হতে মুসল্লীদের দিকে) ডান ওবামদিকে ফিরতে দেখেছি।আর দেখেছি তাকেবুকের উপর হাত বাধতে”।উক্ত হাদীসে ইয়াহইয়া নামক রাবী ‘নিজের ডান হাত,বাম হাতেরকব্জির উপর রেখে দেখালেন। হাফিজ আবু উমরইবনু আবদুল বারনিজের “আল ইসতিআব ফী মাআরিফাতিল আসহাব”বইতে এই হাদীস“হোলব” সাহাবী তার পুত্র কবীসা রিওয়ায়াতেসহীহ বলেছেন।খ) ইমাম আবু দাউদ তাউস(তাবেঈ) হতে, বুকের উপরহাত বাধারহাদীস উদ্ধৃত করেছেন।গ) ইমাম ইবনু আবদুল বার “আত তামহীদ লিমা ফীলমুয়াত্তা মিনালমাআনী ওয়াল আসানীদ” বইয়ে উক্ত ‘তাউস’ তাবিঈরহাদীস উল্লেখকরে, হাত বাধার কথা বলেছেন।ঘ) ইমাম বায়হাকী ‘আলী’ “ফাসল্লি লি রব্বিকা ওয়ানহার”এর অর্থকরেছেন,”তুমি সালাতের সময় ডান হাত বাম হাতেরউপর রাখ”।জওহারুন নকীসহ সুনানে কুবরা-২৪-৩২ পৃষ্ঠাঙ) ইমাম বুখারী স্বীয় “তারিখে উকবাহ বিনসহবান,তিনি(উকবাহ)“আলী(রাঃ) হতে উদ্ধৃত করেছেন, বাম হাতেরউপর ডান হাতরেখে(হস্তদ্বয়) বুকের উপরবেধে “ফাসলি লি রব্বিকা ওয়ানহার” (আয়াতের) অর্থবুঝালেন।চ) নাসিরউদ্দিন আলবানী তার “সিফাতু স্বলাতুন্নাবী”গ্রন্থে লিখতে গিয়ে শিরোনাম দেন “বুকেরউপর হাত বাধা”এবং বলেনঃ-“নবী(সঃ) বাম হাতের পিঠ,কব্জি ও বাহুর উপর ডান হাতরাখতেন”।আবু দাউদ,নাসাঈ,১/৪/২ সহীহ সনদে, ইবনু হিব্বান-৪৮৫। “এবিষয়ে স্বীয় সাহাবাদেরও আদেশ প্রদানকরেছেন”।মালিক,বুখারী,আবু আ ওয়ানাহ।তিনি কখনো ডান হাত দিয়ে, বাম হাত আকড়ে ধরতেন।নাসাঈ,দারাকুৎনী-সহীহ সনদসহ। এই হাদীস প্রমানকরছে যে, হাতবাধা সুন্নাত।আর প্রথম সহীহ হাদীস প্রমানকরেছে যে, হাতরাখা সুন্নাত।অতএব, উভয়টাই সুন্নাত।কিন্তু হাত বাধা ও হাতরাখারমধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে, পরবর্তী হানাফিআলেমগনযে পদ্ধতি পছন্দ করেছেন, তা হচ্ছে বিদয়াত।“তিনি হস্তদ্বয়কে বুকের উপর রাখতেন”।আবুদাউদ,ইবনু খুজায়মাহনিজ গ্রন্থ -১/৫৪/২-আহমদ,আবুশ শাইখ”স্বীয়“তারীখুআসবাহান” গ্রন্থে-পৃষ্ঠা-১২৫।ইমাম তিরমিযীর একটিসনদকে হাসানবলেছেন। চিন্তা করলে, এর বক্তব্য মুয়াত্তা মালিকওবুখারীতে পাওয়া যাবে। আলবানী বলেন, এইহাদীসের বিভিন্নবর্ননাসূত্র নিয়ে আমি কিতাবের ১১৮ পৃষ্ঠায়আলোচনা করেছি।বুকেরউপর হাত রাখাটাই সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। অন্যকোথাও হাতরাখার হাদীস হয় দূর্বল নয় ভিত্তিহীন।এই সুন্নাতের উপর আমল করেছেন, ইমাম ইসহাকবিন রাহভিয়া।“আল-মারওয়াযী” গ্রন্থে ২২২ পৃষ্ঠাতে তিনিবলেন,”ইসহাকআমাদের নিয়ে বিতরের সালাত পড়তেন এবং তিনিকুনুতে হাতউঠাতেন আর রুকুর পূর্বে কুনুত পড়তেন।তিনিবক্ষদেশের উপরে হাতরাখতেন। কাযী ইয়াযও “আল-আ’লাম” কিতাবের ১৫পৃষ্ঠায় (রিবাত্বতৃতীয় সংস্করন)-এ সালাতের মুস্তাহাব কাজ বর্ননারক্ষেত্রে অনুরুপকথা বলেছেন, ডান হাতকে বাম হাতের পৃষ্ঠেরউপর রাখা। আবদুল্লাহইবনু আহমদের বক্তব্যও এর কাছাকাছি। তিনি তার “আল-মাসায়েল”বইয়ের ৬২ পৃষ্ঠায় বলেন, আমার পিতা সালাত আদায়েরসময়, তারএক হাতকে আরেক হাতের উপর নাভীর উপরেরাখতেন। “সিফাতুসলাতুন্নবী(সঃ)”- নাসির উদ্দিন আলবানী(রহঃ) এছাড়াওআলোচনা রয়েছে “ইরওয়াউল গালীল” এর ৩৫৩পৃষ্ঠায়।২। নাভীর নীচে হাত বাধা যঈফ দলীল উপস্থাপন:# ইমাম বায়হাকী আলী হতে “নাভীর নীচে হাতবাধা”র একটি হাদীসউল্লেখ করে তাকে যয়ীফ বলেছেন।# ‘নাভির নীচে হাত বাঁধা’ সম্পর্কে আহমাদ,আবুদাঊদ, মুছান্নাফইবনু আবী শায়বাহ প্রভৃতি হাদীস গ্রন্থে, ৪ জনছাহাবী ও ২ জনতাবেঈ থেকে যে চারটি হাদীস ও দু’টি ‘আসার’বর্ণিত হয়েছে,সেগুলি সম্পর্কে মুহাদ্দেছীনের বক্তব্য হ’ল-‘(যঈফ হওয়ার কারণে)এগুলির একটিও দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়’।মির‘আতুল মাফাতীহ(দিল্লী: ৪র্থ সংস্করণ, ১৪১৫/১৯৯৫) ৩/৬৩; তুহফাতুলআহওয়াযী ২/৮৯# সালাতে দাঁড়িয়ে মেয়েদের জন্য বুকে হাত ওপুরুষের জন্য নাভীরনীচে হাত বাঁধার যে রেওয়াজ চালু আছে,হাদীছে বা আসারে এর কোনপ্রমাণ নেই মির‘আত (লাহোর ১ম সংস্করণ,১৩৮০/১৯৬১) ১/৫৫৮;ঐ, ৩/৬৩; তুহফা ২/৮৩ ।বরং এটাই স্বতঃসিদ্ধ যে,সলাতেরমধ্যকার ফরয ও সুন্নাত সমূহ মুসলিম নারী ও পুরুষসকলে একইনিয়মে আদায় করবে।মির‘আত ৩/৫৯ পৃঃ; ফিক্বহুসসুন্নাহ ১/১০৯;নায়লুল আওত্বার ৩/১৯# মালিকীরা নামায পড়ার সময় ‘হাত দুটোকে ঝুলায়ে’রাখে।জাকিরনায়েক বক্তৃতা সামগ্রী-৫ খন্ড-পৃষ্ঠা-৮৫# কেবল কাসেম বিন কাতলুবাগা এটা বলেছেন।তিনি“তামহীদ”কিতাবের কথা উল্লেখ করে বলেছেন যে,(আহলে হাদীসদেরমধ্যে প্রথম) ইবনু আব্দুল বার উক্ত কিতাবেবলেছেন যে, সওরী ওইমাম আবু হানিফা নাভীর নীচের কথা বলেছেন।আর সেটা “আলী ওইবরাহীম নখয়ী” থেকে বর্নিত হলেও, ঐদুইজন প্রমানিত না।# “নাভীর নীচে হাত বাধার কোন সহীহ দলীলনাই”-আল্লামা সিন্ধী ও নীচে উনার বক্তব্য দেয়াহোলঃ-ইবনু আবী শায়বার “মুসান্নাফ(হাদীস বই) থেকেশায়খ কাসিম বিনকাতলুবাগা “তাখরীজু আহাদিসিল এখতিয়ার” বইয়ে“ওকী” মুসা বিনওমায়রাহ হতে মুসা আলকামা বিন ওয়াযিল বিন হুজরহতে যে রিওয়ায়াত করেছেন, সেটাতে নাভীরনীচে হাত বাধারকথা উল্লেখ আছে।তবে “নাভীর নীচে হাতবাধার হাদীস ভুল”।“মুসান্নাফ”-এর সহীহ গ্রন্থে উক্ত সনদেরউল্লেখ আছেকিন্তু“নাভীর নীচে” এই কথাটি উল্লেখ নাই।উক্তহাদীসের পরে,(ইবরাহীম) ‘নখয়ী’ এর আসার(সাহাবা ও তাবেঈদেরআচরনকে ‘আসার’বলে) উল্লেখ আছে।উক্ত ‘আসার’ ও হাদীসেরশব্দ প্রায় কাছাকাছি।উক্ত ‘আসার’ এর শেষ ভাগে”ফিসসলাতে তাহতাসসুররাহ”তে নাভীরনীচে হাত বাধার কথা উল্লেখ আছে।মনে হয়লেখক ভুলে ‘মওকুফহাদীসকে’ মরফু লিখে দিয়েছেন(সাহাবা থেকেবর্নিত হলে ‘মওকুফ’ ওরাসুলের(সঃ) থেকে হলে ‘মরফু’ হাদীস বলে)।মুসান্নাফের সবহাদীসে “নাভীর নীচে হাত বাধার” কথা বলা নাই।অনেক মুহাদ্দিস‘মুসান্নাফের’ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। কিন্তু“নাভীর নীচের কথা”কেউ বলেনি।কেবল কাসেম বিন কাতলুবাগা এটা বলেছেন।তিনি“তামহীদ” কিতাবেরকথা উল্লেখ করে বলেছেন যে,(আহলেহাদীসদের মধ্যে প্রথম) ইবনুআব্দুল বার উক্ত কিতাবে বলেছেন যে, সওরীও ইমাম আবুহানিফা নাভীর নীচের কথা বলেছেন। আর সেটা“আলী ও ইবরাহীমনখয়ী” থেকে বর্নিত হলেও, ঐ দুইজন প্রমানিতনা। যদি সেটা হাদীসহোত, তাহলে ইবনু আব্দুল বার সেটা “মুসান্নাফ”থেকে উল্লেখকরতেন।কেননা সেখান থেকে তিনি বহু উদ্ধৃতিদিয়েছেন।২য় ইবনুহাজার আসকালানী(আহলে হাদীস), ৩য় মুজাদদ্দীনফিরোজাবাদী(আহলে হাদীস), ৪র্থ আল্রামাসুয়ুতী(আহলে হাদীস),৫ম আল্লামা যয়লয়ী(আহলে হাদীস), মুহাককিক৬ষ্ঠআল্লামা আয়নী, ৭ম আল্রামা ইবনু আমিরিল হাজ্জ(আহলে হাদীস)প্রভৃতির উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, যদি“নাভীর নীচে”থাকতো তাহলে এরা সেটা উল্লেখ করতেন।কেননা এদের সমস্তকিতাব ইবনু আবী শায়বার হাদীস দ্বারা পরিপূর্ন। মূলতঃ“নাভীরনীচে হাত” বাধার দলীল অকাট্য না বরং ধারনা/