স্বালাতুল খাওফ (ভয়ের নামায) – বিস্তারিত, ভয় বেশী হলে


স্বালাতুল খাওফ (ভয়ের নামায) – বিস্তারিত

শত্রুর সামনে খুন হয়ে যাওয়ার ভয় থাকা সত্ত্বেও নামায ও জামাআত মাফ নয়। সে অবস্থাতেও জিহাদের ময়দানে যথাসময়ে জামাআত সহকারে নামায পড়তেই হবে মুসলিমকে। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন,

(وَإِذَا كُنْتَ فِيْهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلاَةَ فَلْتَقُمْ طَائِفَةٌ مِّنْهُمْ مَّعَكَ وَلْيَأْخُذُوْا أَسْلِحَتَهُمْ، فَإِذَا سَجَدُوْا فَلْيَكُوْنُوْا مِنْ وَّرَائِكُمْ وَلْتَأْتِ طَائِفَةٌ أُخْرَى لَمْ يُصَلُّوْا فَلْيُصَلُّوْا مَعَكَ، وَلْيَأْخُذُوْا حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ، وَدَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا لَوْ تَغْفُلُوْنَ عَنْ أَسْلِحَتِكُمْ وَأَمْتِعَتِكُمْ فَيَمِيْلُوْنَ عَلَيْكُمْ مَيْلَةً وَّاحِدَةً، وَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِنْ كَانَ بِكُمْ أَذًى مِّنْ مَّطَرٍ أَوْ كُنْتُمْ مَّرْضَى أَنْ تَضَعُوْا أَسْلِحَتَكُمْ وَخُذُوا حِذْرَكُمْ، إِنَّ اللهَ أَعَدَّ لِلْكَافِرِيْنَ عَذَاباً مُّهِيْناً)

অর্থাৎ, তুমি যখন তাদের মাঝে অবস্থান করবে ও তাদের নিয়ে নামায পড়বে তখন একদল যেন তোমার সঙ্গে দাঁড়ায়, আর তারা যেন সশস্ত্র থাকে। অতঃপর সিজদাহ করা হলে তারা যেন তোমাদের পিছনে অবস্থান করে; আর অপর একদল যারা নামাযে শরীক হয়নি তারা তোমার সাথে যেন নামাযে শরীক হয় এবং তারা যেন সতর্ক ও সশস্ত্র থাকে। কাফেররা কামনা করে, যেন তোমরা তোমাদের অস্ত্র-শস্ত্র ও আসবাবপত্র সম্বন্ধে অসতর্ক হও, যাতে তারা তোমাদের উপর হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। আর অস্ত্র রাখাতে তোমাদের কোন দোষ নেই যদি বৃষ্টি-বাদলের জন্য তোমাদের কষ্ট হয় অথবা তোমাদের অসুখ হয়। কিন্তু অবশ্যই তোমরা হুশিয়ার থাকবে। নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদের জন্য লাঞ্ছনাকর শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন। (কুরআন মাজীদ ৪/১০২)

ভয়ের নামায শুদ্ধ বর্ণনা মতে মোটামুটি ৬ ভাবে পড়া যায়। যা সংক্ষেপে নিম্নরুপ :-

১। শত্রু কিবলা ছাড়া অন্য দিকে থাকলে ইমাম একদল সৈন্যের সাথে এক রাকআত নামায পড়ে অপেক্ষা করবেন। মুক্তাদীগণ নিজে নিজে আর এক রাকআত নামায পড়ে সালাম ফিরে উঠে গিয়ে শত্রুর সামনে খাড়া হবে। অতঃপর অন্য দল সৈন্য এসে ইমামের সাথে এক রাকআত নামায পড়বে। এরপর ইমাম বসে যাবেন এবং মুক্তাদীগণ নিজে নিজে বাকী এক রাকআত পুরা করে নেবে। পরিশেষে ইমাম তাদেরকে নিয়ে সালাম ফিরবেন। (বুখারী, মুসলিম, আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, নাসাঈ, সুনান)

২। শত্রু কিবলা ছাড়া অন্য দিকে থাকলে ইমাম একদল সৈন্যের সাথে এক রাকআত নামায পড়ে অপেক্ষা করবেন। মুক্তাদীগণ সালাম ফিরে উঠে গিয়ে শত্রুর সামনে খাড়া হবে। অতঃপর অন্য দল সৈন্য এসে ইমামের সাথে এক রাকআত নামায পড়বে। এরপর ইমাম সালাম ফিরবেন এবং মুক্তাদীরা বাকী এক রাকআত পুরা করে নেবে। অতঃপর এ দল শত্রুর সামনে খাড়া হলে প্রথম দলও তাদের বাকী এক রাকআত কাযা করে নেবে। (আহমাদ, মুসনাদ, বুখারী, মুসলিম, সহীহ)

৩। ইমাম প্রথম দলকে নিয়ে ২ রাকআত নামায পড়ে সালাম ফিরবেন। অতঃপর তারা শত্রুর সামনে গেলে দ্বিতীয় দলকে নিয়ে আবার ২ রাকআত নামায পড়বেন। আর এ ২ রাকআত নামায ইমামের জন্য নফল হবে। (আহমাদ, মুসনাদ, আহমাদ, মুসনাদ, নাসাঈ, সুনান)

৪। শত্রু কিবলার দিকে হলে সকলে মিলে নামাযে দাঁড়িয়ে যাবে। সকলেই এক সঙ্গে রুকূ করবে, অতঃপর মাথা তুলে প্রথম দল (কাতার) ইমামের সাথে সিজদাহ করবে এবং দ্বিতীয় দল (কাতার) শত্রুর মোকাবেলায় খাড়া থাকবে। অতঃপর প্রথম কাতার সিজদাহ শেষ করলে দ্বিতীয় কাতার সিজদায় যাবে। অনুরুপ দ্বিতীয় রাকআত পড়বে এবং সর্বশেষে সকলে এক সাথে সালাম ফিরবে। (আহমাদ, মুসনাদ, মুসলিম, নাসাঈ, সুনান, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান, বায়হাকী)

৫। উভয় দলই ইমামের সাথে নামাযে দাঁড়াবে। অতঃপর একদল শত্রুর সামনে খাড়া থাকবে এবং এক দলকে নিয়ে ইমাম এক রাকআত নামায পড়বেন। এরপর এ দল উঠে শত্রুর মোকাবেলায় থাকবে এবং অপর দল এসে নিজে নিজে এক রাকআত নামায পড়ে নেবে, আর এ সময় ইমাম খাড়া থাকবেন। তারপর এই দলকে নিয়ে ইমাম দ্বিতীয় রাকআত পড়বেন এবং সকলে বসে যাবে। অতঃপর অপর দল এসে নিজে নিজে তাদের বাকী এক রাকআত পড়ে নেবে। সর্বশেষে ইমাম ও মুক্তাদী মিলে এক সাথে সালাম ফিরবে। (আহমাদ, মুসনাদ, আবূদাঊদ, সুনান নাসাঈ, সুনান)

৬। ইমামের সাথে প্রত্যেক দল এক রাকআত করে নামায পড়বে। ইমামের হবে ২ রাকআত এবং মুক্তাদীদের এক রাকআত। প্রথম দল এক রাকআত পড়ে (সালাম ফিরে) শত্রুর মোকাবেলায় চলে যাবে। অতঃপর দ্বিতীয় দল এসে ইমামের পিছনে শরীক হয়ে মাত্র এক রাকআত পড়বে। পরিশেষে এই দলকে নিয়ে ইমাম সালাম ফিরবেন। (আহমাদ, মুসনাদ, মুসলিম, আবূদাঊদ, সুনান, নাসাঈ, সুনান, ইবনে হিব্বান, সহীহ)

মাগরেবের নামায হলে ইমাম প্রথম দলকে নিয়ে ২ রাকআত এবং দ্বিতীয় দলকে নিয়ে এক রাকআত নামায পড়বেন। অথবা প্রথম দলকে নিয়ে এক রাকআত এবং দ্বিতীয় দলকে নিয়ে ২ রাকআত নামায পড়বেন। (ফিকহুস সুন্নাহ্‌ আরবী ১/২৪৭)

ভয় বেশী হলে

ভয় বেড়ে গেলে এবং যুদ্ধ সংঘটিত হলে প্রত্যেকে নিজ নিজ সামথ্য অনুযায়ী চলা অবস্থায়, সওয়ার অবস্থায়, কেবলার দিকে মুখ করে অথবা না করে, যেভাবেই হোক, ইঙ্গিতে-ইশারায় রুকূ-সিজদাহ করে নামায সম্পন্ন করবে। ঝুঁকে রুকূ-সিজদাহ করলে রুকূর চেয়ে সিজদার অবস্থায় বেশী ঝুঁকবে। (বুখারী, মুসলিম, সহীহ) ঝুঁকার সুযোগ না থাকলে কেবল তকবীর বলে মাথার ইশারায় নামায আদায় করতে হবে। (বায়হাকী, সিফাতু স্বালাতিন নাবী (সাঃ), আলবানী ৭৬পৃ:)

Advertisements