সালমান ফার্সির (রাঃ)ইসলামে আসার কাহিনী! সত্যান্বেষু ভাইবোনদের জন্য এক অনুসরনীয় দৃষ্টান্ত।


আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) হতে বর্ণিত আছে যে সালমান ফার্সি (রা:) নিজের মুখে তাকে নিচের গল্পটি বলেন

আমি ছিলাম এক পার্সিয়ান। ইসবাহানের কাছে জেয় নামের এক গ্রামের লোক আমি। আমার বাবা ছিলেন তার গ্রামের সর্দার এবং আমি ছিলাম আল্লাহ ‘র সৃষ্টির মধ্যে তার সবচেয়ে বেশি ভালবাসার পাত্র। তিনি আমাকে এতই  পছন্দ করতেন যে  সবসময় চোখের সামনে রাখতে কখনোই আমাকে ঘরছাড়া হতে দিতেননা; আগুনের কাছেই রাখতেন- ঠিক মেয়েদের মত।আমি অগ্নিপূজকদের ধর্মে কঠোর সাধনা করতাম। পরে আমি  তাদের পবিত্র আগুনের রক্ষাকারী হয়ে যাই।আমি সারাদিন সেই আগুন দেখাশুনা করতাম যেন ওটা কখনো নিভে না যায়।  আমার বাবার ছিল  বিশাল বাগান। একদিন তিনি কিছু নির্মান কাজে খুব ব্যস্ত থাকাতে আমাকে বললেন : “সালমান, আমি এই বাড়ির কাজ নিয়ে আজ খুব ব্যস্ত, তুমি আজকে বাগানে যাও আর কিছু কাজ ছিল; ওগুলো করে আস,”  কি কি কাজ করার ছিল তা তিনি আমাকে বলে দিলেন। আমি বাগানের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।যাওয়ার পথে এক খ্রিস্টান চার্চ চোখে পরে আমার।তাদের প্রার্থনার আওয়াজ আসছিল আমার কানে।বাসায় বন্দী থাকাতে বাইরের পৃথিবীর ব্যাপারে আমার ধারণা ছিলনা বললেই চলে। তাই পাশ দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় তাদের প্রার্থনার শব্দ শুনে আমি ওদের ওখানে ঢুকে পরি।তাদের প্রার্থনা আর ধর্ম দেখে আমি তাদের ব্যাপারে আগ্রহী হলাম।আল্লাহর শপথ! আমার মনে হলো এই ধর্ম আমাদের ধর্মের চেয়ে ভালো।আমি সন্ধা পর্যন্ত ওখানেই থেকে গেলাম।বাবার কথা গুলো বেমালুম ভুলে গেলাম! আর বাগানে যাওয়াই হলনা।এই ধর্মের আদি স্থান কোথায় তা তাদের জিগ্যেস করলাম।তারা সিরিয়ার কথা বললেন। এরপর আমি আমার বাবার কাছে ফিরে যাই। এদিকে উনি চারিদিকে লোক পাঠিয়ে আমাকে খুঁজছেন।তার সারাদিনের কাজ ভেস্তে গেছে।ফেরার পর তিনি আমাকে বললেন, ” সালমান, কই ছিলে এতক্ষণ? আমি তোমাকে কিছু কাজ দিয়েছিলাম; ওগুলো করনি? আমি বললাম, ” গির্জাতে প্রার্থনারত  কিছু লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম আমি।তাদের ধর্মে যা দেখলাম তা আমার মনে দাগ কাটল। আল্লাহর শপথ! সন্ধা পর্যন্ত আমি তাদের সাথেই ছিলাম। তিনি বললেন, ” ও আমার সন্তান! ওই ধর্মে কোনো ভালো কিছু নেই।তোমার আর তোমার বাপ দাদার ধর্ম এর চেয়ে অনেক ভালো।আমি বললাম, ” না, আল্লাহর শপথ! আমি যা দেখেছি তা আমাদের ধর্মের চেয়ে ভালো।উনি আমার কথায় বেশ ঘাবড়ে গেলেন আর আমার পায়ে লোহার শিকল পরিয়ে বাসায় বন্দী করে রাখলেন। আমি গির্জার সেই খ্রিস্টানদের খবর পাঠালাম- সিরিয়া থেকে কোনো ব্যবসায়ী কাফেলা এলে  তারা যেন আমাকে জানায়।তাদের একজন আমাকে জানাল তাদের কাছে সিরিয়া থেকে একটা কাফেলা সত্যিই এসেছে কয় একদিন আগে।তাদেরকে তারা আমার কথাও জানিয়েছে। আমি তাকে বললাম কাজ শেষে যখন ওরা দেশে ফিরবে তখন যেন আমাকে খবর দেয়।ওদের যখন যাওয়ার সময় হলো তখন তারা আমাকে খবর দিল। আমিও আমার পায়ের শিকল খুলে ছুড়ে ফেললাম আর ওই কাফেলার সাথে চললাম; একেবারে সিরিয়া পর্যন্ত চলে এলাম।সিরিয়া পৌছানোর পর আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম, ” এই ধর্মের সব চেয়ে ভালো ব্যক্তি কে? তারা বলল, ” চার্চের বিশপ। ” আমি তার কাছে গিয়ে বললাম, ” আপনাদের এই ধর্ম আমার ভালো লেগেছে। আমি আপনার সাথে থেকে চার্চের সেবা করতে চাই।সাথে আপনার কাছে এই ধর্মের ব্যাপারে শিক্ষা আর প্রার্থনা করা যাবে।”তিনি এতে সায় দিলেন আর আমিও তার সাথে রয়ে গেলাম। কিন্তু লোকটা ছিল খুব মন্দ প্রকৃতির।তিনি চার্চের অনুসারীদের দানশীলতার আদেশ আর উত্সাহ দিতেন; অথচ সেই দানের টাকার বেশির ভাগ উনি গরিবদের না দিয়ে নিজের জন্য রেখে দিতেন।এইভাবে তার সাত টা সিন্দুক সমান সোনা আর রূপা জমা হলো।তার কাজকর্মে আমি তাকে যারপর নাই ঘৃনা করতাম।তারপর একদিন তিনি মারা গেলেন। ওখানকার খ্রিস্টানরা সব তাকে কবর দেয়ার জন্য আসল। আমি তাদের বললাম এত একজন মন্দ লোক ছিল। সে তোমাদের দানশীলতার আদেশ আর উত্সাহ দিত, অথচ যখন তোমরা তা নিয়ে আসতে, তার পুরোটাই সে নিজের জন্য রেখে দিত, কোনো অংশই সে গরিবদের দিতনা।তারা বলল, “এর প্রমান কি? তার সে সম্পদ কোথায় আছে দেখাও আমাদের!”  আমি তাদের দেখিয়ে দিলাম আর বের হয়ে আসল তার  লুকানো সেই সাতটা সিন্দুক; সোনা রূপায় ভরা। তারা সবাই বলল, ” আল্লাহর শপথ! আমরা এই লোককে কবর দিবনা।” তারা তাকে ক্রুশবিদ্ধ করে পাথর ছুড়ল। এরপর তারা তার জায়গায় নতুন এক লোককে নিয়ে এনে নিয়োগ দিল। তার চেয়ে ভালো করে  পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে  এমন কাওকে আমি কখনো দেখিনি। তিনি দুনিয়াত্যাগী আর পরকাল প্রত্যাশী ছিলেন। তার দ্বীনদারির কোনো তুলনায় ছিলনা।  তাকে আমি সব চেয়ে বেশি ভালবাসতাম; এমনটা আর কারো জন্য আমি অনুভব করিনি।তার সাথে আমি বেশ কিছুদিন ছিলাম। তারপর যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো, আমি বললাম , ” ও শায়খ! আমি আপনার সাথে ছিলাম। আপনাকে সব চেয়ে বেশি ভালোবেসেছি, যেমনটা আগে আর কখনোই হয়নি। এখন আল্লাহর ফরমান আপনার কাছে চলে এসেছে। আপনি আমায় কার কাছে যাওয়ার উপদেশ দেন? কি করার আদেশ দেন?” তিনি বললেন, ” ও আমার সন্তান!  এমন কারো নামতো মনে আসছেনা যে আমার এই পথ অনুসরণ করে।লোকেরা ধংসের দিকে এগোচ্ছে। সবাই বদলে গেছে আর তাদের ধর্ম কে ত্যাগ করেছে। তবে একজন লোক আছে মসুলে। তার নাম অমুক আর সে আমার মতই এখনো সত্যের উপরে অটল আছে। তুমি তার কাছে যাও।উনি মারা গেলে পরে কবরস্থ হবার পর আমি মসুলের সেই লোকের কাছে যাই।আমি তাকে বললাম, ” অমুক ব্যক্তি মৃত্যুর আগে আমাকে আপনার কাছে আসার উপদেশ দিয়ে গেছেন। তিনি বলেছেন আপনি তার মত একই সত্যের অনুসারী।” তিনি বললেন, “তুমি আমার সাথে থেকে যাও।”আমি তার সাথে রয়ে গেলাম।উনিও খুব ভালো লোক ছিলেন; ঠিক তার সঙ্গীর মত।কিন্তু উনিও বেশিদিন বাঁচলেননা. মারা যাওয়ার আগে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ” ও আমার শায়খ ! অমুক ব্যক্তি আমাকে আপনার কাছে আসার ও আপনার সাহচর্যের উপদেশ দিয়েছিলেন।এখন আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার ডাক চলে এসছে।আপনি আমাকে কার কাছে যাওয়ার উপদেশ দেন ?কি করার আদেশ দেন?” তিনি বললেন,” ও আমার সন্তান ! এমন কারো নামতো মনে আসছেনা যে আমার এই পথ অনুসরণ করে।তবে একজন লোক আছে নাসিবিয়ায়।তার নাম অমুক আর সে আমার মতই এখনো সত্যের উপরে অটল আছে। তুমি তার কাছে যাও।”উনি মারা গেলে পরে কবরস্থ হবার পর আমি নাসিবিয়ার সেই লোকের কাছে যাই।আমি তাকে আমার গল্প বললাম আর জানালাম আমার সঙ্গীর কথা যিনি আমাকে তার কাছে পাঠিয়েছেন।তিনি বললেন, “তুমি আমার সাথে থেকে যাও।” আমি তার সাথে রয়ে গেলাম।তিনি তার অপর দুই সঙ্গীর মতই পরহেজগার এবং দ্বীনদার ছিলেন।আল্লাহর শপথ ! খুব শীঘ্রই তারও মৃত্যু হলো। মৃত্যুর আগে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম,” অমুক ব্যক্তি আমাকে অমুকের কাছে আসার উপদেশ দিয়েছিলেন, ওই ব্যক্তি পরবর্তিতে আমাকে আপনার কাছে আসার উপদেশ দেন।এখন আপনি আমাকে কোথায় যাবার উপদেশ দেন এবং কি করার আদেশ দেন?” তিনি বললেন,” ও আমার সন্তান !  এমন কারো নাম আমরা জানিনা যে আজকের  দিনে আমাদের এই দ্বীনের উপর সুপ্রথিষ্ঠিত আছে; যার কাছে তুমি যেতে পার।তবে আমুরিয়াহ তে একজন লোক আছে।সে আমাদের মতই এই পথের অনুসারী।তোমার ইচ্ছে হলে তার কাছে যেতে পার; সে সত্য পথের অনুসারী।তিনি মারা যাবার পর তাকে কবরস্থ করে আমি আমুরিয়ার সেই লোকের কাছের গেলাম আর আমার গল্প বললাম।তিনি বললেন, “তুমি আমার সাথে থেকে যাও।”আমি তার সাথে রয়ে গেলাম; তিনি তার সঙ্গীদের  মতই একই পথ অনুসরণ করছিলেন।ইতিমধ্যে আমি বেশ ধন সম্পদ অর্জন করলাম, বেশ অনেক গরু আর মেষ ছিল আমার।তারপর এই ব্যক্তির ও শেষ সময় চলে আসল আল্লাহর নির্দেশে।মৃত্যুর আগে আমি তাকে জিজ্ঞেস  করলাম,” অমুক ব্যক্তি আমাকে অমুকের কাছে আসার উপদেশ দিয়েছিলেন, ওই ব্যক্তি পরবর্তিতে আমাকে তার মৃত্যুর সময় অমুকের কাছে পাঠান, ওই ব্যক্তি এরপর আমাকে আমাকে অমুকের কাছে পাঠান তার শেষ সময়ে, এরপর উনি একইভাবে আমাকে আপনার কথা বলে যান যাওয়ার আগে।এখন আপনি আমাকে কোথায় যাবার উপদেশ দেন এবং কি করার আদেশ দেন?”তিনি বললেন,” ও আমার সন্তান ! এমন কারো নাম আমরা জানিনা যে আজকের  দিনে আমাদের এই দ্বীনের উপর সুপ্রথিষ্ঠিত আছে ;যার কাছে তুমি যেতে পার।কিন্তু আল্লাহর একজন নবী আসার সময় হয়ে  এসেছে যিনি ইব্রাহিম(আ:) এর ধর্ম নিয়ে আসবেন।তিনি আসবেন আরব ভূমিতে আর হিযরত করবেন এমন এক জায়গায় যার দুই ধারে আসে কালো পাথরের টিলা আর মাঝখানে খেজুর বাগান।তার কোনো লুকানো বৈশিষ্ট্য থাকবেনা। উপহার হিসাবে দেয়া খাবার তিনি খাবেন; কিন্তু সাদাকার খাওয়া নয়।তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে থাকবে নবুয়্যতের মোহর।যদি পার ওখানে চলে যাও।এরপর উনি মারা যান এবং কবরস্থ হন।আমি  আমুরিয়ায়  আল্লাহর ইচ্ছাতে বেশ অনেক দিন থেকে গেলাম।এরপর একদিন কালব এর কিছু ব্যবসায়ীদের ওখান দিয়ে যেতে দেখে আমি তাদের  বললাম,” আমি তোমাদের এই সব গরু ও মেষ দিব, এর বিনিময়ে আমাকে তোমরা আরবে নিয়ে যেতে পার? তারা তাতে সায় দিল।আমিও তাদের সব গরু আর মেষ দিয়ে দিলাম।তারা আমাকে সেখানে নিয়ে গেল।কিন্তু আল ওয়াদি আল কুরার কাছে আসার পর তারা আমাকে প্রতারিত করল আর এক ইহুদির কাছে আমাকে ক্রীতদাস হিসাবে বেচে দিল।তার সাথে থাকার সময় ওই খেজুর বাগান আমার চোখে পরে।আমার মন বলছিল এটাই আমার আমুরিয়ার সেই শায়খের বর্ণিত জায়গা; তবে নিশ্চিত হতে পারছিলামনা। একদিন আমার মনিবের এক জ্ঞাতি ভাই এলো মদীনার বানু কুরায়জা গোত্র থেকে।আমার মনিব আমাকে এবার তার কাছে বেচে দিল আর সে আমাকে মদীনা তে নিয়ে এলো।আল্লাহর শপথ! আমি দেখা মাত্রই জায়গাটা চিনতে পারলাম, ঠিক যেমনটা আমার সঙ্গী বলেছিলেন। আমি সেখানে থাকতে লাগলাম। এদিকে আল্লাহ তার রাসুল (সা:) কে পাঠালেন মক্কাতে।ক্রীতদাসের কাজের ভারে আমি এই সময়টা তার ব্যাপারে কিছুই শুনিনি। তারপর তিনি মদীনাতে এলেন। আল্লাহর শপথ! একদিন আমি ছিলাম আমার মনিবের এক খেজুর গাছের উপরে। আমি কিছু কাজ করছিলাম আর আমার মনিব কাছেই বসে ছিলেন। এমন সময় তার এক জ্ঞাতি ভাই এসে তাকে বলা শুরু করলো,” বানু কায়লা কে আল্লাহ ধংস  করুন। আল্লাহর শপথ! এই মুহুর্তে তারা কুবাতে সমাবেশ করছে এক লোককে স্বাগত জানাতে; যে আসছে মক্কা থেকে- তারা বলছে সে একজন নবী।” এ কথা শুনে আমার এমন কাপুনি ছুটল যে মনে হলো আমি আমার মনিবের উপরেই পড়ব। গাছ থেকে নেমে এসে আমি ওই লোককে বারবার জিজ্ঞেস করতে লাগলাম, ” বলছ কি তুমি? বলছ কি তুমি?” আমার মনিব এসব দেখে বেশ রেগে গেলেন আর আমাকে একটা ঘুষি মেরে বললেন,” এসব দিয়ে তোমার কি কাজ? কাজে মনোযোগ দাও।” আমি বললাম, ” কিছুনা। আমি কেবল ঠিক ভাবে জানতে চাচ্ছিলাম উনি কি বলছেন।” আমার কিছু সংগ্রহ ছিল। সন্ধা হলে পরে আমি ওগুলো নিয়ে রাসুল (সা:) এর কাছে গেলাম। তখনো  তিনি কুবাতে ছিলেন। আমি তার কাছে গেলাম আর বললাম, ” আমি শুনেছি আপনি একজনন্যায়পরায়ণ মানুষ আর আপনার সঙ্গীরা  খুব নি:স্ব; তাদের সাহায্যের দরকার।এই জিনিসগুলো তাই আমি সাদাকার নিয়তে নিয়ে এসেছি।আমার মনে হচ্ছে অন্য যে কারো চেয়ে আপনারই এসবের বেশি প্রয়োজন।আমি ওগুলো রাসুল (সা:) এর কাছে নিয়ে গেলে তিনি সাহাবীদের (রা:) ওটা থেকে খেতে বললেন; কিন্তু নিজে বিরত থাকলেন। আমি মনে মনে  বললাম,  ”এই তো প্রথম আলামত নবুয়্যতের।” আমি চলে গিয়ে আরো বেশ কিছু জিনিস জোগার করলাম। এর মধ্যে রাসুল (সা:) মদীনাতে চলে এসছেন।আমি তখন তার কাছে গিয়ে বললাম, ” আপনি তো সাদাকার খাবার খান না। তাই আমি আজ কিছু উপহার নিয়ে এসেছি আপনার সম্মানে।” রাসুল (সা:) তা থেকে নিজে কিছু খেলেন আর সাহাবিদেরও (রা:) শরিক হতে বললেন।আমি দ্বিতীয় আলামত পেলাম।এরপর আমাদের দেখা হয় বাকি আল গারকাদে, ওখানে রাসুল (সা:) তার একজন সাহাবীর (রা:) এর জানাজা পড়াচ্ছিলেন। তাঁর গায়ে দুটো শাল ছিল আর উনি তাঁর সাহাবীদের মধ্যে বসে ছিলেন।আমি তাকে সালাম দিলাম। এরপর তাঁর পিছনে এসে তার কাঁধের নবুয়্যতের মোহর দেখবার চেষ্টা করছিলাম; যার বর্ণনা আমি শুনেছিলাম আমুরিয়ার সেই শায়খের কাছে। যখন রাসুল (সা:) আমাকে তাঁর পিছনে যেতে দেখলেন তখন তখন তিনি বুঝলেন আমি এমন কিছু খুঁজছি যার বর্ণনা আমাকে দেয়া হয়েছে।তিনি তার পিছনের কাপড়টা সরিয়ে দিলেন। আমি  নবুয়্যতের মোহর দেখে নিশ্চিত হলাম।এরপর আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম, মোহরের জায়গাটিতে চুমু খেলাম আর ফুপিয়ে কাঁদতে লাগলাম। রাসুল (সা:) আমাকে ঘুরে দাড়াতে বললেন। আমি তাই করলাম আর আমার গল্প বললাম ঠিক যেমন করে এখন তোমায় বলছি ও ইবনে আব্বাস (রা:)।রাসুল (সা:) চাইলেন তার সাহাবীরাও এই কাহিনী শুনুক।এরপর আমি আমার কৃতদাসের জীবনে ব্যস্ত হয়ে  পরি, বদর আর উহুদ চলে গেল- আমি রাসুল (সা:) এর সাথে থাকতে পারলামনা। রাসুল (সা:) একদিন বললেন, ” ও সালমান, তোমার মনিবের সাথে তুমি একটা মুক্তির বন্দোবস্ত  কর।” আমি আমার মনিবের সাথে চুক্তি করলাম যে আমি তার জন্য ৩০০ টা খেজুর চারা  লাগিয়ে দিব আর ৪০ উকিয়া দিব- এর বিনিময়ে সে আমাকে মুক্তি দিবে।আল্লাহর রাসুল (সা:) তার সাহাবীদের (রা 🙂 বললেন, ” তোমাদের ভাইকে সাহায্য কর.” তারা আমাকে খেজুরের চারা দিয়ে সাহায্য করলো। একজন ৩০ টা, একজন ২০ টা, একজন ১৫টা , একজন ১০ টা- এভাবে সবাই তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী দিল যতক্ষণ না ৩০০ টা খেজুর চারা হলো। রাসুল (সা:) বললেন, ” ও সালমান, যাও! গিয়ে গর্ত খোঁড় যেখানে চারা গুলো লাগাবে। কাজ শেষ হলে আমাকে জানাও। আমি নিজ হাতে ওগুলো লাগাবো।” তারপর আমি গর্ত খোঁড়া শুরু করলাম আর আমার সঙ্গীরা আমাকে সাহায্য করল।যখন আমার কাজ শেষ হলো তখন আমি রাসুল (সা:) কে জানালাম। আল্লাহর  রাসুল (সা:) আমার সাথে বেরিয়ে এলেন, আমরা চারা গুলো এগিয়ে দিচ্ছিলাম আর উনি ওগুলো গর্তে রোপন করছিলেন। শপথ সেই পবিত্র সত্ত্বার যার হাতে এই সালমানের প্রাণ, একটা চারাও মরেনি। চুক্তি অনুযায়ী খেজুর চারা রোপন করা হয়ে গেলেও আমার টাকার অংশটা তখনো বাকি।  একবার এক যুদ্ধ জয় থেকে ডিমের আকারের এক টুকরো সোনা আল্লাহর রাসুল (সা:) এর কাছে এলো। উঁনি আমায় খুঁজছিলেন, ” ওই পার্সিয়ান কোথায় যার মনিবের সাথে তার মুক্তিপনের বন্দোবস্ত ছিল?” আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে আসা হলে তিনি বললেন,” ও সালমান! যাও, এটা দিয়ে তোমার ঋণ শোধ কর।” আমি বললাম , ” ও আল্লাহর রাসুল (সা:)! এটুকু দিয়ে কি করে আমার সব ঋণ শোধ হবে?” তিনি বললেন, ” এটা নাও।আল্লাহই তোমাকে তোমার ঋণ শোধের ব্যাপারে সাহায্য করবেন।” আমি ওটা নিয়ে গিয়ে ওজন দিলাম; শপথ সেই পবিত্র সত্ত্বার যার হাতে এই সালমানের প্রাণ, দেখি ওটার ওজন ঠিক ৪০ উকিয়া। আমি তখন চুক্তি অনুযায়ী সব দেনা শোধ করলাম আর আমার মনিব আমায় মুক্ত করে দিল। খন্দকের যুদ্ধে আমি রাসুল (সা:)  এর সাথে ছিলাম এবং এরপর আর কোনো বড় ঘটনাতে আমি তার সঙ্গ ছাড়িনি.

এই ঘটনাটি ইমাম আহমাদ (রহ:) তার মুসনাদ (৫/৪৪১) এ বর্ণনা করেছেন।মুহাদ্দিস রা এই হাদিস টিকে হাসান সাব্যস্ত করেছেন।

 

 পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক বলেন:
‘‘যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সাথে আছেন’। (সুরা আন কাবুত:৬৯) “

আমি আপনি দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে মত্ত থেকে ধর্মটাকে আরেকজনকে লিজ না দিয়ে, যদি পরিস্কার অন্তর নিয়ে বাপদাদার থেকে পাওয়া ধর্মটাকে কুরআন সুন্নাহর সাথে একটু মিলিয়ে দেখি……চেষ্টা করি সিরাতুল মুস্তাকিমের পথ অন্বেষণের…..তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরাও হিদায়েতের পথ পাব।

Advertisements

2 responses to “সালমান ফার্সির (রাঃ)ইসলামে আসার কাহিনী! সত্যান্বেষু ভাইবোনদের জন্য এক অনুসরনীয় দৃষ্টান্ত।

  1. Abir Hossain Khan

    assalamualikum…jonab apnader ei site bebohar kore onek opkriti hoyesi ebong hochsi….boi porar ovvash ekdomi silona kinto apnader akhane eshe jokhon koran er bangla onobader ei roomta pai….poro koran porar ekta agroho toiri hoy mone…..aste aste pora shori kori….protidin olpo olpo kore….Nobider kahini pore shotti onek anondo peyesi….koraner bangla porte porte akhon arbi shikhar proti agroho toiri kore dilen Allahpak….itimoddhe shoroo kore diyesi, alhamdulillah….ekdom shoro hote ebong Alhamdulillah jonab blv korben kina janina ami amar ontore ekdhoroner onno rokom anondo opolovdi korsi…..shoytaner komontrona hote nijeke bachiye jiboner porota shomoy Alor disharider shthei jeno thakte pari a prarthonai kori mohan Rober nikot…..

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s