হযরত ফাতিমা রাঃ এর জীবনী


★ হযরত ফাতেমা (রা:)কোন মাযহাব বা মতাদর্শকে টিকিয়ে রাখারক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সামাজিক ওব্যক্তি জীবনের প্রতিটি স্তরে সে মতাদর্শের বিভিন্নকর্মসূচি এবং মৌলিক রীতিনীতি সমূহের বাস্তবায়ন। যে কোনমাযহাব বা মতাদর্শ, সেটি ঐশ্বরিক হোক অথবা মানব রচিতইহোক এবং তা যতই পরিকল্পিত, পরিমার্জিত, পরিশোধিত ওবিজ্ঞানসম্মত হোক না কেন ? সেটি যদি মানবসমাজে বাস্তবায়ন করা না হয় বা চলমান সমাজে তারকোনো কার্যকরী ভূমিকা না থাকে, তবে তা কখনোই স্থায়িত্বলাভ করতে পারেনা। পবিত্র ইসলাম ধর্মের বিভিন্নবৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, মহান আল্লাহতা’আলা প্রতিটি যুগের জন্যই একজন নেতা বা একজন ইমামনির্বাচন করেছেন, যিনি তাঁর শরীয়তের বাস্তবায়নকারী,ব্যাখ্যা প্রদানকারী এবং রক্ষণা বেক্ষণকারী।আর এ ইমামগণ হচ্ছেন নবী করিম (সা.) এর পবিত্রবংশধরদের অন্তর্ভূক্ত। আর এ বেলায়েত ও ইমামতের আধার হচ্ছেনবিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর কলিজার টুকরা, জ্ঞানেরদরজা হযরত আলীর (আ.) স্ত্রী, বেহেশতের যুবকদের সর্দার ইমামহাসান এবং ইমাম হোসাইনের (আ.) মাতা হযরত ফাতিমাতুযযাহরা (সা.আ.)। যিনি সমগ্র বিশ্বের নারী জাতির আদর্শ,বেহেশতের নারীদের নেত্রী, পবিত্র কোরআন এবং অসংখ্য হাদীসকর্তৃক ঘোষিত একমাত্র নিস্পাপ নারী।আমরা যদি তাঁর জীবনীর দিকে লক্ষ করি তাহলে দেখতে পাবযে, তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে আমাদের জন্য চরম ওপরম শিক্ষা এবং সেটি সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক,শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইহলৌকিক, পারলৌকিক, আধ্যাত্মিক, ধৈর্য্যসংযম ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে অর্থাৎ একজন সত্যিকার মানুষেরমধ্যে যতগুলো গুণাবলি থাকা প্রয়োজন, এর সবকিছুই ছিল তাঁরমধ্যে।বর্তমানে আমাদের দেশে বহুল আলোচিত একটি বিষয় হলনারী সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রত্যয়, যেমন নারী উন্নয়ন,নারী নীতি, নারী অধিকার, পিতার সম্পত্তিতে সম-অধিকারইত্যাদি। যারা মুখে এসব বুলি আওড়াচ্ছেন তারা মূলত:বিভিন্নভাবে নারীদের বিভিন্ন ফাঁদে ফেলছেন।তারা নারীকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন। এরাই একদিননারীদের মানবসমাজ বহির্ভূত বিনোদনউপযোগী প্রাণী মনে করতো, তাদেরকে ভূত-প্রেত ভাবতো। তাদেরবিকৃত রুচির পরিতৃপ্তির জন্য নারী নামেরপুতুলকে কিভাবে সাজানো যায় এবং তাদেরকে ভোগের প্রসাদহিসেবে কিভাবে তার উৎকৃষ্ট ব্যবহার করা যায়, এসব নষ্টচিন্তা ও পরিকল্পনাকে তারা নারী অধিকার,নারী মুক্তি ইত্যাদির সুশোভন মোড়কে বাজারজাত করছে।অথচ ইসলাম শুরু থেকেই নারীর যথাযথ প্রাপ্য সন্মান এবং প্রায়সকলক্ষেত্রেই পুরুষের সমান মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিতকরেছে। আল্লাহর দৃষ্টিতে এবং তাঁর প্রদত্ত বিধানঅনুযায়ী নারী ও পুরুষ সকলেই সমান। কাজের ক্ষেত্র, দায়িত্ব ওকর্তব্যের পরিধির মাপে তাদের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেওইসলাম মানুষ হিসেবে নারী ও পুরুষকে সমান মর্যাদা দিয়েছে।ইতিহাসে এমন কিছু সংখ্যক মহীয়সী মহিলাকে দেখা যায়,যারা স্বীয় গুণে অসংখ্য পূণ্যবান পুরুষদের চেয়েও উচ্চমর্যাদাবান। তাঁরা হলেন হযরত ফাতেমা (সা.আ.), হযরতখাদিজা (আ.), হযরত মারিয়াম (আ.) ও হযরত আসিয়া (রা.)।হযরত ফাতেমা ইহকাল ও পরকালের নারীকূলের নেত্রী। হযরতফাতেমা (সা.আ.) এর মাধ্যমেই দুনিয়ার বুকে ইমামতেরধারা চালু রয়েছে। তিনিই রাসূল (সা.) এর বংশধর রক্ষায়প্রজ্বলিত শিখা।একজন পরিপূর্ণ আদর্শ মানুষ হিসেবে হযরত ফাতেমা (সা.আ.)প্রমাণ করতে পেরেছেন যে, পরিপূর্ণতার শিখরে ওঠার জন্যনারী হওয়া বা পুরুষ হওয়া জরুরী ও অত্যাবশ্যকীয় কোন শর্ত নয়।তাঁর জন্মকালীন সময়ে আরবে কন্যাসন্তানকে কোন গুরুত্বদেয়া হতো না, কন্যাসন্তানের জন্মকে লজ্জাজনক মনে করা হতো,এমন কি জীবন্ত মাটির নিচে পুতে ফেলা হতো। কিন্ত মহানআল্লাহ তাঁর সর্বশেষ রাসূল ও সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবেরঘরে একজন কন্যা সন্তান পাঠিয়ে নারী জাতির জন্য অশেষসন্মান ও মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন। নবী করিম (সা.) এর কোনজীবিত পূত্রসন্তান না থাকায় মক্কার কাফেররা তাঁকে “আবতার”বা নির্বংশ বলে বিদ্রূপ করতো। এ বিদ্রূপের জবাবে আল্লাহপাক’সূরা কাওসার’ নাজিল করেছেন এবং বিদ্রূপকারীদেরকেইবরং উল্টা নির্বংশ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সত্যিইযারা নবী (সা.) কে নির্বংশ বলে উপহাস করতো, সময়েরব্যবধানে আজ তারাই নির্বংশ ও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, আরনবী পাক (সা.) এর পবিত্র বংশধারা নিরন্তরটিকে আছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত দুনিয়ার বুকে টিকে থাকবে।হযরত খাদিজার গর্ভকালীন সময়ে তাঁকে সাহায্য করার মতকেউ ছিলেন না। এ চরম সঙ্কটময় মূহুর্তে কোন মহিলাইতাঁকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেননি বরং বিভিন্ন ধরনেরকটু কথা বলেছেন। যখন তাঁর প্রসব বেদনা শুরু হলো, তখনঘরে তিনি একাই ছিলেন। হঠাৎ তিনি ঘরে চার জন অপূর্বলাবণ্যময়ী রমণীকে দেখতে পেলেন। তাদের অত্যুজ্জললাবণ্যচ্ছটায় ঘর আলোকিত হয়ে উঠলো। তাঁরা বললেনআমরা আল্লাহর নির্দেশে তোমার পরিচর্যার জন্য আগমণ করেছি।তিনি বিস্ময়াভিভূত হয়ে তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেন।তাঁদের মধ্য থেকে একজন বললেন, ভয় পেওনা আমি সারা,ইনি আসিয়া-ফেরাউনের স্ত্রী, ইনি মরিয়ম এবং উনি কুলছুম।আমরা তোমাকে সাহায্য করার জন্য এসেছি।জন্ম :রাসূল (সা.) এর নবুয়্যত প্রাপ্তির পাঁচ বছর পর২০’শে জমাদিউসসানি রোজ শুক্রবার, মক্কার শুষ্ক ও প্রস্তরময়পর্বতের পাদদেশে কাবার সন্নিকটে, ওহী নাযিলের গৃহ,যে গৃহে সর্বদা ফেরেশতাগণ আসা-যাওয়া করতেন,যেখানে সকাল-সন্ধায় রাসূলের (সা.) সুমধুর কন্ঠে পবিত্রকোরআনের বাণী ধ্বনিত- প্রতিধ্বনিত হতো, ইয়াতিম নি:স্ব ওনিপীড়িতদের আশ্রয়স্থল, হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও খাদিজার গৃহআলোকিত করে নারীকূল শিরোমণি বেহেশতের নারীদেরনেত্রী হযরত ফাতেমা (সা.) দুনিয়ায় আগমন করেন।নাম :জন্মের পর নবী করিম (সা.) তাঁর আদরের কন্যার নাম রাখেনফাতেমা। এ নামের অর্থ হলো,’যাকে আলাদা করে রাখা হয়েছে’। যেহেতু তিনি অন্য সমস্তনারী হতে অধিক মর্যাদার অধিকারী, তাই তাকে এ নামদেয়া হয়েছে। হযরত ইমাম জাফর সাদেক (আ.) বলেছেন,তিনি {হযরত ফাতেমা (সা.আ.)} যাবতীয় নৈতিক ও চারিত্রিকঅপকৃষ্টতা থেকে দূরে ছিলেন, আর এ কারণেইতাঁকে ফাতেমা বলা হয়েছে।উপনাম :উম্মুল হাসান, উম্মুল হোসাইন, উম্মুল মুহসিন, উম্মুলআয়েম্মা এবং উম্মে আবিহা। যার অর্থ হল পিতার মাতা। কারণধর্ম প্রচার করতে গিয়ে কষ্ট বা বেদনার ফলে তাঁর পিতা যেসবঅস্বস্তি বা দূর্ভোগের সন্মুখীন হতেন, তা দূর করতে এবং পিতারপ্রশান্তির জন্য মা ফাতেমা (সা.আ.) এতবেশি প্রচেষ্টা চালাতেন যে, তা সন্তানের জন্য মায়েরআত্মত্যাগ, নিষ্ঠা ও ব্যথিত চিত্তের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।উপাধি :সিদ্দিকাহ্ (সত্যবাদিনী)।মুবারাকাহ্ (বরকতময়ী)।তাহেরাহ্ (পবিত্র)।জাকিয়াহ্ (পরিশুদ্ধতার অধিকারী)।রাজিয়া (সন্তোষ্ট)।মারজীয়াহ্ (সন্তোষপ্রাপ্ত)।মুহাদ্দিসাহ্ (হাদীস বর্ণনাকারী),বাতুল, সাইয়্যেদাতুন নিসা ও যাহরা (প্রজ্বল)তিনি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুখে-দু:খে, আপদে-বিপদে অবিচল ভাবে আল্লাহর মর্জির ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতেনএবং নির্ভরশীল ছিলেন। এজন্যই তাঁর নাম রাখা হয়েছিল’রাজিয়া-মারজিয়া’।’যাকিয়া’ নামকরণ করা হয়েছিল এজন্য যে, তিনি যেমন ছিলেনসতী-সাধ্বী, তেমনি কঠোর ত্যাগ ও সাধনা দ্বারা নিজেরইন্দ্রিয়সমূহকে নিয়ন্ত্রণ ও আয়ত্ব করে ছিলেন। দেহ, মনএবং আত্মাকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করে নিয়েছিলেন।তিনি পার্থিব ভোগ লিপ্সা ইত্যাদি সম্পূর্ণরূপে বর্জনকরতে পেরেছিলেন বলেই তাঁকে ‘বাতুল’ বলা হতো।আর তিনি ‘সাইয়্যেদা’ নামে ভূষিত হয়েছিলেন এই কারণে যে,সাইয়্যেদা অর্থ শ্রেষ্ঠা এবং সর্দার। বস্তুত:পক্ষে দুনিয়ায়তিনি যেমন নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ছিলেন,তেমনি বেহেশতেও রমণীকূলের সর্দার বা রাণী।’যাহরা’ অর্থ কুসুমকলি। বাস্তবিকপক্ষে বিবি ফাতেমা (সা.আ.)একটি অনুপম সুন্দর সুরভিত কুসুমকলির মতই রূপে ও গুণে সুশোভিতছিলেন।ইতিহাসবিদ ও মুফাসসীরগণ হযরত ফাতেমা (সা.আ.) এর আরো বহুউপাধির কথা বললেও তিনি ‘ফাতেমা-তুয-যাহরা’ নামেইসর্বাধিক পরিচিত ছিলেন।পিতা :হয়রত ফাতেমার (সা.আ.) পিতা বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)।তিনি এমন এক পিতা ছিলেন, যাকে বিশ্বস্রষ্টা সর্বোত্তমচরিত্রের অধিকারী বলে আখ্যায়িত করেছেন। আর পবিত্রকোরআনে তাঁর ব্যাপারে বলা হয়েছে :” ﻭَﻣَﺎ ﻳَﻨْﻄِﻖُ ﻋَﻦِ ﺍﻟْﻬَﻮَﻯ ۞ ﺇِﻥْ ﻫُﻮَ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﺣْﻲٌ ﻳُﻮﺣَﻰ “অর্থাৎ “তিনি প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কোন কথা বলেন না।বরং (তাঁর কথা) ওহী বৈ কিছু নয়, যা তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়”।(সূরা আন নাজম, আয়াত: ৩-৪) ফাতেমা তাঁর জ্যোতির্ময় জীবনেরসবটুকুই ওহীর সংস্পর্শে এবং মানবতার মূর্ত প্রতীক এমনই একজনপিতার ছায়াতলে অতিবাহিত করেন।মাতা :আল্লাহর প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রথম স্ত্রী,সর্বপ্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী নারী, মক্কার সম্ভ্রান্তরমণী হযরত খাদিজাতুল কুবরা। নবী (সা.) তাঁরসম্বন্ধে বলেছেন: খাদীজা আমার উম্মতের সর্বোত্তম নারীদেরঅন্যতম। হযরত খাদীজা রাসূল (সা.)-এর নিকট এতই সন্মানিত ওপ্রিয় পাত্রী ছিলেন যে তাঁর জীবদ্দশায় তিনি অন্য কোননারীকে বিয়ে করেন নি। তাঁর মৃত্যূর পর নবী (সা.) সব সময়তাঁর স্মৃতিচারণ করতেন। হযরত আয়েশা বলেন : রাসূল (সা.) এতবেশি খাদীজার কথা স্মরণ করতেন যে, একদিন আমি প্রতিবাদকরে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, খাদীজা তো একজনবৃদ্ধা ব্যতীত আর কিছু ছিলেন না। আল্লাহ তাঁর চেয়ে উত্তমআপনাকে দান করেছেন। তখন রাসূলে আকরাম (সা.) রাগান্বিতহয়ে বললেন: আল্লাহর কসম, আল্লাহ তা’আলা তাঁর চেয়ে উত্তমকোন স্ত্রী আমাকে দান করেননি। খাদীজা এমন সময় আমারপ্রতি ঈমান এনেছিল, যখন সবাই কুফরের মধ্যে নিমজ্জিত ছিল।সে এমন সময় আমার কথা সত্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল, যখনঅন্যরা সবাই আমাকে মিথ্যাবাদী বলে আখ্যায়িত করেছিল।খাদীজা এমন সময় তাঁর সর্বস্ব আমার কাছে অর্পণ করেছিলেন,যখন অন্য সবাই আমাকে বঞ্চিত করেছিল। আল্লাহ তা’আলা আমারবংশধারা তাঁর মাধ্যমেই অব্যাহত রেখেছেন। এটা সত্যি যে,হযরত খাদীজার আত্মত্যাগ এবং আত্মোৎসর্গ নবী (সা.) এররেসালাতের অগ্রগতির পেছনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকরেছে। হযরত খাদিজা (আ.) রাসূলস্নাহর (সা.) নৈসর্গিক,অনৈসর্গিক প্রতিটি ব্যাপারেই দৃঢ়তার সাথে তারপাশে থেকে যেভাবে তাঁকে সাহস দান করেছেন, ইতিহাসে তারতুলনা নেই বললেই চলে। কোন কোন মনীষীর মতে, ইসলামএবং মহানবী (সা.) এর মিশন হযরত আলীর জিহাদ আর হযরতখাদীজার দানের মাধ্যমে প্রসার লাভ করেছে। অর্থাৎ আল্লাহতা’আলা এ দুই মহান ব্যক্তিকে তাঁর রাসূলের প্রধানসহযোগী হিসেবে মনোনীত করেছেন। হযরত আলীরতরবারী এবং হযরত খাদীজার দান ইসলামের বিজয় ও প্রসারেরক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্বের সর্বকালেরসকল মুসলমান ইসলামের ন্যায় মহান নেয়ামতের জন্য আল্লাহ ওতাঁর রাসূল (সা.) এর পর এ দুই ব্যক্তির নিকট বিশেষভাবে ঋণী।হ্যাঁ, হযরত ফাতেমা এমনই এক মাতার স্মৃতিচিহ্ন আর এমনই একপিতার সন্তান। হযরত ফাতেমা নবুয়্যতের দশম বছরে হযরতখাদীজার ওফাতের পর আত্মোৎসর্গকারিনী, স্নেহময়ী ওমমতাময়ী মায়ের কোল চিরতরে হারিয়ে ফেলেন। আর তখনথেকেই শিশু ফাতেমা নবী পরিবারে তাঁর মায়ের শুন্য স্থানপূরণ করেছেন।শাহাদত :একাদশ হিজরীতে পবিত্র মক্কা নগরীতে রাসূল (সা.) এরওফাতের আড়াই মাস পর তিনি শাহাদত বরণ করেন। রাজনৈতিকএবং তাঁর ওসিয়তের কারণে রাতের অন্ধকারে নিভৃত ওগোপনে আমিরুল মু’মিনীন তাঁর দাফন কার্য সম্পন্ন করেন।তাকে কোথায় দাফন করা হয়েছে, তা আজ পর্যন্ত অজ্ঞাত রয়েছে।তাঁর মাত্র ১৮ বছর মতান্তরে ২২ বছরের স্বল্পকালীনজীবদ্দশায় বিচ্ছুরিত সুবিশাল ব্যক্তিত্ব হাজার হাজার বছরধরে মানুষকে হেদায়েতের পথ নির্দেশনা দান করে আসছে।সন্তান: ইমাম হাসান মুজতাবা, সাইয়্যেদুশ শুহাদা ইমামহোসাইন, জয়নাব আল কুবরা, উম্মে কুলসুম, মুহসিন (মাতৃ গর্ভেইতার মৃত্যু হয়)।শৈশব কাল :হযরত ফাতেমাতুয যাহরা (সা.আ.) এমন একপরিবারে প্রতিপালিত হয়েছেন, শিক্ষা-দীক্ষা ও প্রশিক্ষণপেয়েছেন, যে পরিবার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পরিবারএবং যে পরিবার নৈতিক গুণাবলী ও আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতারঅশেষ ফল্গুধারার উৎস। তিনি শৈশবকালেই তাঁরমহিমান্বিতা আত্মোৎসর্গী মাতা হযরত খাদিজা কুবরা (আ.)কে চিরতরে হারিয়ে ফেলেন। এ সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র পাঁচবছর। মক্কা জীবনে মুশরিক কোরাইশরা রাসূল (সা.) ও তাঁরসাহাবীদের ওপর প্রচন্ড অত্যাচার করেছিল। প্রায় দুই বছরবয়সেই তিনি পিতার সাথে কাফেরদের বয়কট ও অবরোধের শিকারহন। তাদেরকে তিন বছর শো’বে আবু তালিব উপত্যকায় ভীষণ দু:খ-কষ্ট ও ক্ষুধা-যন্ত্রণার মধ্যে কাটাতে হয়েছে। তিনি পিতা-মাতা ও অন্যান্য মুসলমানদের সীমাহীন ধৈর্য ও কষ্টসরাসরি উপলদ্ধি করেছেন। হযরত ফাতেমা (সা.আ.) শৈশবেইমক্কার সংগ্রামী জীবনের কষ্টকর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন।নবু্য়্যতের দশম বছরে শো’বে আবি তালিব থেকে মুক্তির কিছুদিনপরই তিনি তাঁর সন্মানিতা মাতাকে হারিয়ে ফেলেন, যিনি দশবছর দু:খ-বেদনা বিশেষ করে অর্থনৈতিক অবরোধের ভীষণ চাপেরমুখে ধৈর্যধারণ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ইতোমধ্যেই রাসূল(সা.) তাঁর সবচেয়ে বড় সহায় চাচা আবু তালিবকেওহারিয়ে ফেলেছেন। এ সময় মাতাময়ী হযরত ফাতেমাতুযযাহরা (সা.আ.) পিতার দু:খ ও বেদনা লাঘবে সবচেয়ে বড় সহায়হিসেবে সব সময় তাঁর পাশে থেকেছেন। হাদীস শরীফএবং ইতিহাসে উল্লেখ আছে যে, একদিন নবী করিম (সা.)মসজিদে হারামে নামাজ পড়ছিলেন, তখন আবু জেহেলতাঁকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতে লাগল এবং সেজদারত অবস্থায় তাঁরওপর পচা দূর্গন্ধময় উঠের নাড়ি ভূড়ি চাপিয়ে দিল। হযরতযাহরা (সা.আ.) তখন অতি অল্প বয়স্কা হওয়া সত্বেও এ সংবাদপাওয়া মাত্র হন্তদন্ত হয়ে মসজিদের দিকে ছুটে চললেনএবং রাসূল (সা.) এর পিঠ থেকে তা নামিয়ে ফেললেন।হিজরত :যে বছর হযরত খাদিজার ইন্তেকাল করেন, সে বছরেই নবী (সা.)তাঁর নিবেদিতপ্রাণ চাচা ও অন্য আরেক জন বড় পৃষ্ঠপোষক আবুতালিবকেও হারিয়ে ফেলেন। জনাব আবু তালিব রাসূল (সা.) এরসবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও অন্তরঙ্গ সাথী ছিলেন। কোরাইশদেরনেতা ও মক্কার অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে মক্কাবাসী ওকোরাইশদের ওপর প্রভাব থাকায় তিনি নবী (সা.) ওমুসলমানদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠপোষক বলে গণ্য হতেন। আরসে জন্য তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন, ততোদিন কোরাইশকাফেররা কখনোই মহানবী (সা.) এর দিকে হাতবাড়াতে পারেনি। হযরত আবু তালিব তাঁর সমগ্রজীবনে কখনো রাসূল (সা.) এর সেবা ও তাকে সমর্থন দানেরক্ষেত্রে ত্রুটি করেননি, এমনকি কোরাইশদের চক্রান্তেরমোকাবেলায় এক শক্ত প্রাচীর হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করারলক্ষ্যে নিজের ঈমান ও ইসলাম গ্রহণকে গোপনকরে রেখেছিলেন। তিনি মুশরিকদের নিকটবাহ্যিকভাবে দেখাতেন যে, আত্মীয়তারকারণে মুহাম্মদকে সহায়তা দান করছেন। হযরত আবু তালিবের এধরনের কর্মকৌশলের কারণে কোরাইশরা তাঁকে নিজেদের লোকবলে মনে করতো এবং তাঁর ভয় ও সন্মানেরকারণে তারা নবী (সা.) কে হত্যা করার কোনপরিকল্পনা হাতে নিতে পারেনি, সাহস করেনি। আরএভাবে আত্মত্যাগ ও ঈমান গোপন করার কারণে মুসলমানদেরবিভিন্ন ফের্কার আনাড়ী আলেমরা আবু তালিবের ঈমানেরব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে থাকেন। অথচ যিনি আপাদমস্তকঈমান ও ত্যাগের মহীমায় বলীয়ান ছিলেন, তাঁকে শিরক ওকুফরের মত জঘন্য ও ন্যাক্কারজনক অপবাদ দিতে কুন্ঠাবোধকরেননি (লক্ষ্যণীয় যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুয়াবিয়া ও অন্যান্যউমাইয়া শাসকদের আমলে এ ধরনের অপবাদের প্রচলন ঘটে।তারা আমিরুল মু’মিনীন আলীর সাথে শত্রুতার কারণে এ ধরনেরমিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছিল)। তবে একথা ঠিক যে,হযরত আবুতালিবের মৃত্যূর সাথে সাথে রাসূল (সা.) এর জন্য দায়িত্বপালন করা আরো বেশী কঠিন হয়ে যায় এবং কোরাইশদেরঅত্যাচার ও নির্যাতনের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পায়, আর তা এমনপর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে যে তারা রাসূলে খোদার প্রাণনাশেরপরিকল্পনা করে এবং সিদ্ধান্ত নেয় যে বিভিন্ন গোত্রথেকে লোকজন নিয়ে হযরত মুহাম্মদের (সা.) গৃহ ঘেরাওকরে অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে হযরতকে হত্যা করা হবে। আরএভাবে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর হত্যার দায়ভার সকল গোত্রেরওপর বর্তাবে এবং নবীর আত্মীয় স্বজন ও বনি হাশেম গোত্রেরলোকেরা রক্তের বদলা নিতে সমর্থ হবে না।পরিশেষে তারা (বনি হাশেম) রক্তের মূল্য গ্রহণে বাধ্য হবে।এ ধরনের ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় নবী (সা.) আল্লাহর পক্ষথেকে হিজরতের আদেশ প্রাপ্ত হন। এর আগে ইয়াসরেবেরগণ্যমান্য ও সুপরিচিত ব্যক্তিবর্গ নবী (সা.) এর সাথে সাক্ষাৎকরেছিলেন। তারা ইসলাম গ্রহণ করে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন যে,যদি হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ইয়াসরেবে (মদীনা) আসেন,তাহলে তারা তাদের জান-মাল ও লোকবল দিয়ে নবী (সা.) ওইসলামের সমর্থন করবেন। আর নবী (সা.) এইচুক্তিকে সামনে রেখেই মক্কার কোরাইশকাফেররা যে রাতে তাঁর প্রাণনাশের চক্রান্ত করে, সে রাতেইমক্কা ত্যাগ করেন এবং হযরত আলী নবী (সা.) এর বিছানায়শুয়ে থাকেন। এভাবে কোরাইশ কাফেররা নবীর গৃহ আক্রমণকরে হযরত আলীর সন্মুখীন হয়। হযরত মুহাম্মদ (সা.) বারো দিনপর মদীনার নিকটবর্তী ‘কোবা’ নামক স্থানে পৌঁছান। হযরতআলী যেন তাঁর সাথে যোগ দিতে পারেন, সেজন্যতিনি সেখানে যাত্রা বিরতি করেন। হযরত আলী মক্কায় কয়েকদিন অবস্থান করে নবী (সা.) কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালনশেষে হযরত ফাতেমা ও নবী পরিবারের আরো কয়েকজননারীকে সাথে নিয়ে মদীনার পথে যাত্রা শুরু করেন।পথিমধ্যে মুশরিকদের মাধ্যমে বাধাগ্রস্থ হলে হযরত আলী (আ.)তলোয়ার হাতে তুলে নেন। তিনি আক্রমণকারীদেরমধ্যে একজনকে হত্যা করেন আর অন্যরা পালিয়ে প্রাণরক্ষা করে। হযরত আলী (আ.) কয়েক দিন পর নবী করিমেরসাথে যোগ দেন। তারপর তিনি রাসূল (সা.) এরসাথে মদীনা নগরীতে প্রবেশ করেন।হযরত ফাতেমার মর্যাদা :আল্লাহর প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তনয়া নারীকূলেরশ্রেষ্ঠ রমণী হযরত ফাতেমা (সা.আ.) এমন একজন ব্যক্তিত্ব যারবিপুল সন্মান, মর্যাদা, ন্যায়-নীতি-আদর্শ, স্বর্গীয় ব্যক্তিত্বযার সামগ্রিক গুণাবলী আমাদের উপলদ্ধি ক্ষমতার অনেকউর্দ্ধে এবং আমাদের সকলের প্রশংসার চেয়ে অনেকবেশি প্রশংসিত। তিনি পবিত্র কোরআন এবং অসংখ্য হাদীস কর্তৃকঘোষিত একমাত্র নিষ্পাপ নারী।নবী পত্নী উম্মে সালমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি” ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻳُﺮِﻳﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟِﻴُﺬْﻫِﺐَ ﻋَﻨْﻜُﻢُ ﺍﻟﺮِّﺟْﺲَ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟْﺒَﻴْﺖِ ﻭَﻳُﻄَﻬِّﺮَﻛُﻢْﺗَﻄْﻬِﻴﺮًﺍ ” (সূরা আল আহযাব,আয়াত-৩৩)অর্থাৎ “হে আহলে বাইত! নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা চানতোমাদেরকে পাপপঙ্কিলতা থেকে দূরে রাখতে এবং সম্পূর্ণরূপে পূত ও পবিত্রকরতে”। আয়াতটির শানে নযুল বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, এআয়াতটি আমার গৃহে অবতীর্ণ হয়েছে। তখন আমার গৃহে সাতজনলোক ছিলেন। তারা হলেন জীব্রাঈল (আ.), মিকাইল (আ.),নবী (সা.), আলী (আ.), ফাতেমা (সা.আ.), হাসান ও হোসাইন(আ.)। আর আমি ছিলাম দরজার মুখে। আমি রাসূল (সা.) কে প্রশ্নকরলাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি আহলে বাইতের মধ্যে গণ্যনই ? উত্তরে তিনি বললেন, না তাদের মধ্যে নও, তবে নিশ্চয়তুমি সঠিক পথের উপর আছো, নিশ্চয়ই তুমি কল্যাণেরমধ্যে রয়েছো, তুমি আমার স্ত্রীদের মধ্যে গণ্য। তিনি এমনইএকজন মহীয়সী রমণী যাকে বিশেষ নিষ্পাপ ব্যক্তিদেরমধ্যে গণ্য করা হয়ে থাকে। যার ক্রোধ ও অসন্তোষকে আল্লাহরক্রোধ ও অসন্তোষ বলে বিবেচনা করা হয়। তাঁর (ফাতেমা) ওতাঁর পরিবারবর্গের প্রতি ভালবাসা পোষণ করা ওয়াজিব।আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কোরআন শরীফে বলেছেন :” ﻗُﻞْ ﻟَﺎ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻜُﻢْ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺃَﺟْﺮًﺍ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟْﻤَﻮَﺩَّﺓَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻘُﺮْﺑَﻰ ” (সূরা আস-শূরা, আয়াত-২৩)অর্থাৎ (হে নবী) বলুন আমি আমার রেসালাতের বিনিময়ে আমারপরিবারবর্গের প্রতি ভালবাসা ছাড়া কিছুই চাইনা। আনাস বিনমালেক থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন “রাসূলুল্লাহ(সা.) ছয় মাস পর্যন্ত ফজর নামাজের সময় ফাতেমার গৃহেরনিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় বলতেন, হে আহলে বাইত,তোমাদের ওপর সালাম ও দরুদ, নিশ্চয়ই আল্লাহ ইচ্ছা পোষণকরেছেন তোমাদের থেকে সকল প্রকার অপবিত্রতা দূরীভূতকরতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।তাঁর বিভিন্ন মর্যাদা এবং আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের বিস্ময়কর ওবিভিন্নমুখী পরিচয় আমাদের ন্যায় সীমিত জ্ঞানের মানুষেরপক্ষে তুলে ধরা কিভাবে সম্ভব ? সুতরাং স্বয়ং মাসুম ইমামদেরথেকে শোনা দরকার। এখানে ইসলামের একজন সন্মানিত নারীরমহিমার কিছু কথা মাসুম ইমামদের পবিত্র মুখ থেকে শ্রবণকরবো :হযরত রাসূলে আকরাম (সা.) বলেছেন যে, আল্লাহরনির্দেশে একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়ে আমাকে বললেন, হাসানও হোসাইন বেহেশতের যুবকদের সর্দার আর ফাতেমা সকলনারীদের নেত্রী।রাসূল (সা.) বলেছেন : চারজন রমণী পৃথিবীর বুকে সর্বোত্তম।ইমরানের কন্যা মারিয়াম, খুওয়াইলিদের কন্যা খাদীজা,মুহাম্মাদের কন্যা ফাতেমা এবং মুযাহিমেরকন্যা আছিয়া (ফেরাউনের স্ত্রী)।নবী করীম (সা.) বলেছেন : জান্নাত চারজন নারীর জন্যপ্রতীক্ষমাণ। ইমরানের কন্যা মারিয়াম, ফেরাউনেরস্ত্রী আছিয়া, খুওয়াইলিদের কন্যা খাদীজা এবং মুহাম্মদেরকন্যা ফাতেমা। তিনি আরো বলেছেন, ফাতেমা কোনব্যাপারে রাগান্বিত হলে আল্লাহও তাতে রাগান্বিত হনএবং ফাতেমার আনন্দে আল্লাহও আনন্দিত হন।ইমাম মুসা ইবনে জাফর (আ.) বলেন : রাসূল (সা.) বলেছেন,আল্লাহ পৃথিবীর বুকে চারজন নারীকে মনোনীত করেছেন।তারা হলেন মারিয়াম, আছিয়া, খাদীজা ও ফাতেমা (তাদেরসকলের উপর সালাম)।ইমাম আলী ইবনে মুসা আর রেযা (আ.) রাসূলে খোদার নিকটথেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন হাসান ও হোসাইন,আমি এবং তাদের পিতার পরে পৃথিবীর বুকে সর্বোত্তমব্যক্তি তাদের মা ফাতেমা, আর নারীদের মধ্যে সর্বোত্তমরমণী।নবী করিম (সা.) বলেছেন : ফাতেমা বিশ্বের নারীদেরনেত্রী। তিনি আরো বলেছেন ফাতেমা বেহেশতের নারীদেরনেত্রী।ইমাম জাফর সাদেকের নিকট জনৈক ব্যক্তি আরজ করলো: রাসূল(সা.) বলেছেন, ফাতেমা বেহেশত্বাসী নারীদের নেত্রী। এরঅর্থ কি এটা, যে তিনি তার সমসাময়িক নারীদের নেত্রী ?ইমাম প্রত্যুত্তরে বলেন; উপরোক্ত কথাটি হযরত মারিয়মেরব্যাপারে বলা হয়েছে আর ফাতেমা পৃথিবীর শুরু থেকে শেষপর্যন্ত সকল নারীদের নেত্রী।হযরত রাসূলে আকরাম (সা.) কে জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো,হে রাসূলুল্লাহ, ফাতেমা কি শুধুমাত্র তার যুগের নারীদেরনেত্রী ? রাসূল (সা.) প্রত্যুত্তরে বললেন : এ কথাটি ইমরানেরকন্য মারিয়ামের ব্যাপারে বলা হয়েছে আর মুহাম্মদেরকন্যা ফাতেমা পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল নারীদেরনেত্রী।হযরত আবু আইয়্যূব আনসারী (রা.) হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর কাছথেকে বর্ণনা করেছেন : কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশথেকে ধ্বনি আসবে, হে মানব সকল! তোমরা তোমাদের মাথা নিচুকর, চক্ষু বন্ধ কর, ফাতেমা এখান থেকে অতিক্রম করছে। আরসত্তর হাজার বেহেশতী হুর তাঁর সঙ্গে আছে।রাসূলে আকরাম (সা.) হযরত ফাতেমাকে বলেছেন: হে ফাতেমা !আল্লাহ তা’আলা জমিনের বুকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন এবং সেখানথেকে তোমার স্বামীকে মনোনীত করলেন। তিনি আমাকে ওহীরমাধ্যমে জানালেন যে, আমি যেন তোমাকে আলীরসাথে বিয়ে দিই। তুমি কি জান যে, আল্লাহ তোমার মর্যাদা ওসন্মানের দিকে তাকিয়ে তোমাকে এমন ব্যক্তিরসাথে বিয়ে দিলেন যিনি সবার আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণেরঘোষণা দিয়েছেন এবং যার ধৈর্য্য ওসহিষ্ণুতা সবচেয়ে বেশী আর জ্ঞান সকলের চেয়ে অধিক।বিবাহ :হিজরী দ্বিতীয় বছরে রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরতফাতেমাকে আমিরুল মু’মিনীন হযরত আলীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করেন। হযরত ফাতেমাকে বিয়ে করার জন্য আরবেরঅনেক শীর্ষস্থানীয় ও ধনবান ব্যক্তিবর্গ প্রস্তাব নিয়ে আসেনকিন্ত মহানবী (সা.) সকল প্রস্তাব নাকচ করে দেন।তিনি বলেন ফাতেমার বিয়ে আল্লাহর নির্দেশক্রমে সংঘটিতহবে।হযরত আলী (আ.) যখন বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আগমন করেন তখনরাসূল (সা.) বলেছিলেন, তোমার আগমনের পূর্বে অনেকেইফাতেমার জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল।প্রতিটি প্রস্তাবের বিষয়ে ফাতেমার সাথে আলোচনা করেছি।তখন ফাতেমার চেহারায় স্পষ্ট অনীহা ও বিরক্তিভাব লক্ষ্যকরেছি। এখন তুমি আমার ফিরে আসা পর্যন্ত এখানেইঅপেক্ষা কর। তখন রাসূল (সা.) হযরত ফাতেমার নিকট গমনকরেন। তিনি হযরত আলীর প্রস্তাবের কথা হযরতফাতেমাকে বলেন। প্রস্তাব শুনে হযরত ফাতেমা নিশ্চুপ রইলেনকিন্ত মুখ ফিরিয়ে নিলেন না। অত:পর রাসূল (সা.)উঠে দাড়ালেন এবং বললেন : আলস্নাহু আকবার, তাঁরনীরবতা সম্মতির লক্ষণ।হযরত আলী (আ.) ও হযরত ফাতেমা (সা.আ.) এর বিয়েরমোহরানা ছিল শুধুমাত্র একটি বর্ম, যা বিক্রি করা হয়েছিল।আর তার কিছু অর্থ দিয়ে উপহার হিসেবে নিম্নলিখিত কিছুজিনিস হযরত ফাতেমার জন্য ক্রয় করেছিলেন :• একটি পোশাক।• একটি বড় স্কার্ট।• একটি খায়বরী কালো তোয়ালে।• একটি বিছানা• দু’টি তোষক, একটি পশম আর অপরটি খেজুর গাছেরপাতা দিয়ে তৈরী।• চারটি বালিশ।• একটি পশমের তৈরী পর্দা।• একটি পাটি এবং একটি চাটাই।• একটি যাঁতাকল।• একটি তামার গামলা।• একটি চামড়ার পাত্র।• একটি মশক।• দুধের জন্য একটি বদনা।• সবুজ রংয়ের একটি পাত্র।• কয়েকটি মাটির জগ।ইমাম জাফর সাদেক (আ.) বলেন: যদি আল্লাহ আমিরুল মু’মিনীনআলী (আ.) কে ফাতেমার জন্য সৃষ্টি না করতেন তাহলে তাঁর জন্যভূপৃষ্ঠে তাঁর যোগ্য কোন স্বামীই পাওয়া যেত না।হযরত সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ বলেন : ইমাম সাদেক (আ.) ” ﻣَﺮَﺝَﺍﻟْﺒَﺤْﺮَﻳْﻦِ ﻳَﻠْﺘَﻘِﻴَﺎﻥِ ” অর্থাৎ দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেন যেনতারা পরস্পর মিলিত হয়।(আর রহমান, আয়াত-১৯) আয়াতটিরতাফসীরে বলেন: ‘উক্ত আয়াতের উদ্দেশ্য হযরত আলী এবং হযরতফাতেমা’। আর ” ﻳَﺨْﺮُﺝُ ﻣِﻨْﻬُﻤَﺎ ﺍﻟﻠُّﺆْﻟُﺆُ ﻭَﺍﻟْﻤَﺮْﺟَﺎﻥُ ” অর্থাৎ তাদেরদু’জন থেকে মুক্তা ও প্রবাল নির্গত হবে।((আর রহমান,আয়াত-২২) আয়াতটির তাফসীরে তিনি বলেন: উক্ত আয়াতটিরউদ্দেশ্য ইমাম হাসান এবং ইমাম হোসাইন (আ.)।ইবাদত বন্দেগী :ইমাম সাদেক (আ.) এর কাছে জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করলো, কেনহযরত ফাতেমা কে যাহরা বা আলোকোজ্বল বলা হয়েছে ?উত্তরে তিনি বলেন : তার কারণ হচ্ছে, হযরত ফাতেমা যখনইবাদতের উদ্দেশ্যে মেহ্রাবে দন্ডায়মান হতেন, তখন তাঁর নূরআসমানের অধিবাসীদের জন্য প্রজ্বলিত হয়ে উঠতো,যেমনিভাবে জমিনের অধিবাসীদের জন্য আকাশেরতারকা আলোকোজ্বল দৃষ্ট হয়।হাদীসে বর্ণিত আছে : যখন হযরত ফাতেমা (সা.আ.)নামাজে বা ইবাদত বন্দেগীতে মগ্ন হতেন এবং তাঁর শিশুসন্তানরা ক্রন্দন করতো, তখন তিনি দেখতে পেতেন যে, কোনএকজন ফেরেশতা সেই শিশুটির দোলনা দোলাচ্ছেন।ইমাম বাকের (আ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন:রাসূল (সা.) কোন কাজের জন্য হযরত সালমানকে হযরত ফাতেমারগৃহে প্রেরণ করেন। হযরত সালমান বর্ণনা করেছেন: হযরতফাতেমার গৃহের দ্বারে দাড়িয়ে সালাম জানালাম। সেখানথেকেই গৃহাভ্যন্তরে ফাতেমার কোরআন তেলাওয়াতেরধ্বনি শোনা যাচ্ছিল আর হস্তচালিত যাঁতাকলটি যা আটা তৈরীরজন্য ঘরে ব্যবহার করা হত তা তার থেকে কিছুদূরে নিজে নিজেই ঘুরছিল।অপরের জন্য দোয়া :ইমাম হাসান (আ.) বলেন: এক বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত্রে আমারমাকে ইবাদতে দন্ডায়মান দেখতে পেলাম। তিনি সুবহে সাদিকপর্যন্ত নামাজ ও প্রার্থনারত ছিলেন। আমি শুনতে পেলাম যে,তিনি মুমিন ভাই বোনদের জন্য তাদের নাম ধরে দোয়া করলেনকিন্ত নিজের জন্য কোন দোয়াই করলেন না। আমি তাকে জিজ্ঞেসকরলাম, মা! আপনি যেভাবে অন্যের জন্য দোয়া করলেনসেভাবে কেন নিজের জন্য দোয়া করলেন না ?উত্তরে তিনি বললেন : হে বৎস! প্রথমে প্রতিবেশীদের জন্য,তারপর নিজেদের জন্য।” ﺍﻟﺠﺎﺭ ﺛﻢ ﺍﻟﺪﺍﺭ “হযরত ফাতেমার প্রতি নবী (সা.) এর ভালবাসা :যে সমস্ত মহিমান্বিত বিষয় হযরত ফাতেমার (সা.আ.)আলোকোজ্বল জীবনীকে আরো অধিক মর্যাদাকর করে তুলেছে,তা হচ্ছে তাঁর প্রতি মহানবীর (সা.) অত্যাধিক স্নেহ ওভালবাসা। মহানবী (সা.) তাঁকে অসম্ভব ভালবাসতেন। হযরতমুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীর সর্বোত্তম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মানবএবং আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দা। তিনি আমাদের জীবনেরপ্রতিটি স্তরে সত্য ও ন্যায়ের মানদন্ড কোরআনেরপাশাপাশি তাঁর মুখনি:সৃত বাণী, তাঁর কাজ, মৌন সম্মতি, সবইশরীয়তের দলীল প্রমাণ। আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কোরআনে এরশাদকরেছেন :” ﻭَﻣَﺎ ﻳَﻨْﻄِﻖُ ﻋَﻦِ ﺍﻟْﻬَﻮَﻯ ۞ ﺇِﻥْ ﻫُﻮَ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﺣْﻲٌ ﻳُﻮﺣَﻰ “অর্থাৎ তিনি প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কোন কথা বলেন না।বরং (তাঁর কথা) ওহী বৈ কিছু নয়, যা তাঁর উপর অবতীর্ণ হয়।(সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৩-৪)নিম্নে হযরত ফাতেমার প্রতি মহানবী হযরত মুহাম্মদ(সা.) এর সীমাহীন ভালবাসার কিছুনমুনা তুলে ধরা হলো :রাসূলে আকরাম (সা.) যখনই কোন সফরের জন্য বের হতেন, তখনসবশেষে ফাতেমার কাছ থেকে বিদায় নিতেন। আবার যখন সফরথেকে ফিরে আসতেন তখন সর্বপ্রথমেই হযরত ফাতেমার (সা.আ.)সাথে সাক্ষাৎ করতেন।হাকেম নিশাপুরী সহীহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, নবী করিম (সা.)ফাতেমাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন : আমার পিতা ও মাতা তোমারজন্য উৎসর্গকৃত হোক।হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, যখন হযরতফাতেমা নবী (সা.) এর নিকট আসতেন তখনতিনি দাড়িয়ে তাঁকে স্বাগতম জানাতেন, তাঁর হাত ধরে চুমুখেতেন এবং তাঁকে নিজের জায়গায় বসাতেন।ইমাম সাদেক (আ.) এর নিকট থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, হযরতফাতেমা (সা.আ.) বলেছেন : যখন” ﻟَﺎ ﺗَﺠْﻌَﻠُﻮﺍ ﺩُﻋَﺎﺀَ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮﻝِ ﺑَﻴْﻨَﻜُﻢْ ﻛَﺪُﻋَﺎﺀِ ﺑَﻌْﻀِﻜُﻢْ ﺑَﻌْﻀًﺎ “অর্থাৎ রাসূলকে (আহবান করার সময়) তোমরা তোমাদেরমধ্যে পরস্পরকে যেভাবে আহবান কর, সেভাবে আহবানকরো না (তাকে ইয়া রাসূলুল্লাহ আহবান করবে)।(সূরা নুর,আয়াত-৬৩) এ আয়াতটি নাযিল হয় তখন আমি ভীত-সন্ত্রস্ত হলামযে, কখনো যেন আমি ইয়া রাসূলুল্লাহ এরস্থানে হে পিতা বলে সম্বোধন না করে ফেলি। তখনথেকে আমি আমার পিতাকে ইয়া রাসূলুল্লাহ! বলে সম্বোধনকরা শুরু করলাম। প্রথম দুই অথবা তিনবার এরূপ আহ্বান শ্রবণকরার পর নবী (সা.) আমাকে কিছু না বললেও এরপর আমারদিকে ফিরে বললেন: হে ফাতেমা! উক্ত আয়াতটি তোমারউদ্দেশ্যে অবতীর্ণ হয়নি। আর তোমার পরিবার ও বংশের জন্যওঅবতীর্ণ হয়নি। তুমি আমা থেকে আর আমিও তোমা থেকে। এআয়াতটি কোরাইশ গোত্রের মন্দ ও অনধিকার চর্চাকারী লোকদেরজন্য অবতীর্ণ হয়েছে। যারা বিদ্রোহী ও অহংকারী।তুমি পূর্বের ন্যায় আমাকে ‘হে পিতা’ বলে সম্বোধন করবে।তোমার এরূপ আহ্বান আমার হৃদয়কে সতেজ এবং মহানআল্লাহকে অধিক সন্তষ্ট করে।রাসুলে আকরাম (সা.) বলেছেন : আমার কন্যা ফাতেমা পৃথিবীরপ্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সকল নারীদের নেত্রী।সে আমার দেহের অংশ এবং আমার নয়নের মণি। ফাতেমা আমারহৃদয়ের ফসল এবং দেহের মধ্যে আমার অন্তরের সমতুল্য।ফাতেমা মানুষরূপী একটি হুর। যখন সে ইবাদতে দন্ডায়মান হয়তখন পৃথিবীর বুকে নক্ষত্র সমূহের মত তাঁর জ্যোতি আসমানেরফেরেশতাদের জন্য প্রজ্জ্বলিত হয়ে ওঠে। আর তখন মহানস্রষ্টা তাঁর ফেরেশতাদের বলেন: “হে আমার ফেরেশতাকূল, আমারদাসী ফাতেমা, আমার অন্যান্য দাসীদের নেত্রী। তাঁরপ্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ কর, দেখ সে আমার ইবাদতে দন্ডায়মানএবং আমার ভয়ে তাঁর দেহ কম্পিত। সে আমার ইবাদতে মশগুল।তোমরা সাক্ষী থাক, আমি তাঁর অনুসারীদেরকে জাহান্নামেরঅগ্নি থেকে রক্ষা করবো।মহানবী (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে : ” ﻓَﺈِﻧَّﻤَﺎ ﺍﺑْﻨَﺘِﻰ ﺑَﻀْﻌَﺔٌﻣِﻨِّﻰ ﻳَﺮِﻳﺒُﻨِﻰ ﻣَﺎ ﺭَﺍﺑَﻬَﺎ ﻭَﻳُﺆْﺫِﻳﻨِﻰ ﻣَﺎ ﺁﺫَﺍﻫَﺎ ” ফাতেমা আমার(দেহের) অংশ, যে তাঁকে অসন্তষ্ট ও ক্রোধান্বিত করলো,সে আমাকেই ক্রোধান্বিত করলো। আর যে তাঁকে সন্তষ্ট করলসে আমাকেই সন্তষ্ট করল। এই হাদিসটি সামান্য শব্দেরতারতম্য ভেদে সীহাহ সীত্তাহ গ্রন্থসমূহে বিভিন্নসূত্রে বর্ণিত হয়েছে।তিনি আরো বলেছেন : ” ﺇﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻐﻀﺐ ﻟﻐﻀﺒﻚ ﻭﻳﺮﺿﻰ ﻟﺮﺿﺎﻙ” অর্থাৎ নিশ্চয় আল্লাহ তোমার ক্রোধে ক্রোধান্বিত এবং তোমারসন্তষ্টিতে সন্তষ্ট হন।ফাতেমার ক্রোধে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের ক্রোধান্বিত হওয়ারবিষয়টি অসংখ্য গ্রন্থে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এসবহাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, হযরত ফাতেমাকে অসন্তোষবা ক্রোধান্বিত করা নিষিদ্ধ ও হারাম এবং তাকে সন্তষ্টকরা অপরিহার্য। তাকে অসন্তষ্ট করা মহান আল্লাহকে অসন্তষ্টকরার শামিল। যেমনিভাবে তাকে সন্তষ্ট করা মহানপ্রতিপালকের রহমতের অন্তর্ভূক্ত হওয়ার কারণ। যখন মহানআল্লাহ তা’আলা কারো ওপর রাগান্বিত হন, তখননি:সন্দেহে সে জাহান্নামে পতিত হবে। স্বয়ং আল্লাহ এসম্পর্কে বলেছেন :” ﻛُﻠُﻮﺍ ﻣِﻦْ ﻃَﻴِّﺒَﺎﺕِ ﻣَﺎ ﺭَﺯَﻗْﻨَﺎﻛُﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻄْﻐَﻮْﺍ ﻓِﻴﻪِ ﻓَﻴَﺤِﻞَّ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْﻏَﻀَﺒِﻲ ﻭَﻣَﻦْ ﻳَﺤْﻠِﻞْ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻏَﻀَﺒِﻲ ﻓَﻘَﺪْ ﻫَﻮَﻯ “অর্থাৎ তোমাদের আমি যা ভালো খাবার দান করেছি তা খাওএবং তাতে বাড়াবাড়ি করোনা, নতুবা তোমাদের উপর আমার গযবঅবধারিত হয়ে যাবে, আর যার উপর আমার গযব নাযিলহবে সে তো ধ্বংসই হয়ে যাবে।(সূরা আত-তোহা, আয়াত- ৬৩)গ্রন্থসূচী :↓১. কাশফুল গুম্মাহ, আলী বিন ঈসা আরদাবিলী।২. বিহারুল আনওয়ার, আল্লামা মাজলিসী।৩. বাইতুল আহযান, মুহাদ্দীস কোমী।৪. আমালী, শেখ সাদুক।৫. ইলালুশ শারীয়াহ, মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল হেসাঈন আল-কুমী।৬. তাযকিরাতুল খাওয়াস, সিবতে ইবনে জাওযী, নাজাফথেকে প্রকাশিত।৭. কামিল, বাহায়ী।৮. মানাকিব, মুহাম্মদ বিন শাহরে আশুব মাজেন্দারনী।৯. উসূলে কফি, মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব বিন ইসহাক আল কুলাইনি।১০. মুনতাহাল আমাল, শেখ মুফিদ।১১. তারিখে ইয়াকুবী, আহমাদ বিন আবি ইয়াকুব, বৈরুত প্রিন্ট।১২. আমালী, শেখ তুসী।১৩. সহীহ বুখারী, মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী।১৪. ফুসুলুল মুখতারাহ, শেখ মুফিদ।১৫. রাওহা আল কাফি,ইসলামিয়া প্রকাশনা, তেহরান,১৬. ফুসুলুল মুহিম্মা, ইববে আস্ সিবাগ আল্ মালেকী।১৭. সহীহ আত্ তিরমিযি, ঈসা মুহাম্মদ বিন ইসা তিরমিযি।১৮. মুসনাদে আহমাদ, ইমাম আহমাদ।১৯. আদ্ দূররুল মানসুর, জালাল উদ্দিন আব্দুর রহমান আস-সূয়ূতি।২০. তাফসীরে ইবনে কাসীর, ইসমাঈল বিন কাসির।২১. খিসাল, শেখ সাদুক।২২. সহীহ মুসলিম, মুসলিম বিন হাজ্জাজ নিশাপুরী।২৩. সুনানে আবি দাউদ, আবু দাউদ সোলায়মান।২৪. সুনানে নাসাঈ, আবি আব্দুর রহমান আহমাদ বিন শোয়ায়েব।২৫. আল মুসতাদরাক আলা সহীহাঈন, হাকেম নিশাপুরী।

Advertisements