আমি বলছি রাসুলুল্লাহ সঃ বলেছেন অথচ তোমরা বলছো আবু বকরঃ এবং উমার রাঃ বলেছেন?


আমি বলছি, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন অথচ তোমরা বলছো, “আবু
বকর এবং উমার (রাঃ) বলেছেন”
SUNNAH (24)
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ( ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠّﻪ ﻋﻨﻪ ) বলেনঃ
ﻳُﻮﺷِﻚُ ﺃَﻥْ ﺗَﻨْﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺣِﺠَﺎﺭَﺓٌ ﻣِﻦْ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﺃَﻗُﻮﻝُ ﻟَﻜُﻢْ ﻗَﺎﻝَ
ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻭَﺗَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﺑَﻜْﺮٍ
ﻭَﻋُﻤَﺮُ
“তোমাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষিত হওয়ার
সময় প্রায় ঘনিয়ে এসেছে। কারণ আমি বলছি, “রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন অথচ তোমরা
বলছো, “আবু বকর এবং উমার ( ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠّﻪ ﻋﻨﻪ )
বলেছেন”।
………………………………………………..
ব্যাখ্যাঃ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ( ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠّﻪ ﻋﻨﻪ ) আরও
বলেনঃ আমার ধারণা এরা অচিরেই ধ্বংস হবে। আমি বলছি,
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আর
তোমরা বলছ, “আবু বকর এবং উমার ( ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠّﻪ ﻋﻨﻪ )
বলেছেন”।
সহীহ মুসলিমে ইবনে আবী মুলায়কা হতে বর্ণিত
হয়েছে, একদা উরওয়া ইবনে যুবাইর ( ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠّﻪ
ﻋﻨﻪ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর একজন
সাহাবীকে দেখলেন যে, তিনি যুল হাজ্জ মাসের
প্রথম দশ দিনে মানুষকে উমরাহ করার আদেশ
দিচ্ছেন। অথচ ঐ দশ দিনে উমরা করা বৈধ নয়। উরওয়া
তখন বললেনঃ আবু বকর ও উমার ( ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠّﻪ ﻋﻨﻪ )
তো এই দশ দিনে উমরা করেন নি। তখন সেই
সাহাবী বললেনঃ এ জন্যই তোমরা ধ্বংস হবে।
আমার ধারণা আল্লাহ তোমাদেরকে অচিরেই শাস্তি
দিবেন। আমি তোমাদের কাছে হাদীছ বর্ণনা করছি
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে। আর
তোমরা আমাকে আবু বকর ও উমার ( ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠّﻪ
ﻋﻨﻪ)এর সংবাদ শুনাচ্ছ।
ইমাম শাফেঈ ( ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠّﻪ ﻋﻠﻴﻪ ) বলেনঃ আলেমগণ এ
ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, যার কাছে
রাসূলের সুন্নাত সুস্পষ্ট হবে, কারও কথায় সেই
সুন্নাত বর্জন করা জায়েয নেই।
ইমাম মালেক ( ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠّﻪ ﻋﻠﻴﻪ ) বলেনঃ আমাদের
প্রত্যেকের কথাই প্রত্যাখ্যাণযোগ্য। আমাদের
প্রত্যেকেই আবার অন্যের কথার প্রতিবাদও
করতে পারে। তবে এই কবরের অধিবাসীর
কোন কথাই প্রত্যাখ্যান করা যাবেনা। এই বলে তিনি
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর কবরের দিকে
ইঙ্গিত করে দেখালেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ( ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠّﻪ ﻋﻨﻪ ) হতে
বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামের কথা ব্যতীত অন্যদের কথা গ্রহণও করা
যেতে পারে আবার বর্জনও করা যেতে পারে।
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল ( ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠّﻪ ﻋﻠﻴﻪ ) বলেন, “ঐ
সব লোকদের ব্যাপারটি আমার কাছে খুবই অবাক
লাগে, যারা হাদিছের সনদ ও বিশুদ্ধতা অর্থাৎ সহীহ
হওয়ার বিষয়টি জানার পরও সুফইয়ান সওরীর মতামতকে
গ্রহণ করে।
অথচ আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন,
﴿ ﻓَﻠْﻴَﺤْﺬَﺭِ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳُﺨَﺎﻟِﻔُﻮﻥَ ﻋَﻦْ ﺃَﻣْﺮِﻩِ ﺃَﻥْ ﺗُﺼِﻴﺒَﻬُﻢْ ﻓِﺘْﻨَﺔٌ ﺃَﻭْ
ﻳُﺼِﻴﺒَﻬُﻢْ ﻋَﺬَﺍﺏٌ ﺃَﻟِﻴﻢٌ ﴾
“যারা তাঁর (রাসূলের) নির্দেশের বিরোধিতা করে,
তাদের এ ভয় করা উচিৎ যে, তাদের উপর কোন
কঠিন পরীক্ষা কিংবা কোন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি এসে
পড়তে পারে”। (সূরা নূরঃ ৮৩)
তুমি কি জানো ফিতনা কী? ফিতনা হচ্ছে শির্ক।
কেউ রাসূলের কোন কথা প্রত্যাখান করলে
সম্ভবত তার অন্তরে বক্রতার সৃষ্টি হতে পারে। এর
ফলে সে ধ্বংসও হতে পারে”।
………………………………………………
ব্যাখ্যাঃ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল ( ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠّﻪ ﻋﻠﻴﻪ )
বলেনঃ আমি মুসহাফ (কুরআন) নিয়ে চিন্তা-গবেষণা
করেছি। দেখেছি যে, আল্লাহ তাআলা ৩৩ স্থানে
রাসূলের আনুগত্য করার হুকুম করেছেন।
অতঃপর তিনি আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করলেনঃ
﴿ ﻓَﻠْﻴَﺤْﺬَﺭِ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳُﺨَﺎﻟِﻔُﻮﻥَ ﻋَﻦْ ﺃَﻣْﺮِﻩِ ﺃَﻥْ ﺗُﺼِﻴﺒَﻬُﻢْ ﻓِﺘْﻨَﺔٌ ﺃَﻭْ
ﻳُﺼِﻴﺒَﻬُﻢْ ﻋَﺬَﺍﺏٌ ﺃَﻟِﻴﻢٌ ﴾
“যারা তাঁর (রাসূলের) নির্দেশের বিরোধিতা করে,
তাদের এ ভয় করা উচিৎ যে, তাদের উপর কোন
কঠিন পরীক্ষা কিংবা কোন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি এসে
পড়তে পারে”।

Advertisements