2nd পার্ট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাত (দরূদ) পড়ার অর্থ, ফযিলত, পদ্ধতি ও স্থানসমূহ


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাম পাঠ করা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাম প্রেরণের জন্য মাসনূন শব্দ হল নিম্নরূপ।
 عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعٌوْدِ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: الْتَفَتَ إِلَيْنَا رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم  فَقَالَ: إِنَّ اللهَ هُوَ السَّلاَمُ, فَإِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ: التَّحِيَّاتُ للهِ وَالصَّلوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَا تُهُ, السّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عَبَادِ اللهِ الصَّالَحِيْنَ ، فَإِنَّكُمْ إِذَا قُلْتٌمٌوْهَا أَصَابَتْ كَلَ عَبْدٍ صَالِحٍ فِي السَّمَآءِ وَالأرْضِ , أَشْهَدُ أَنْ لاَّ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ .( صحيح ، رواه البخاري ، كتاب الصلاة ، باب التشهد فى الآخرة).
“আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন: আল্লাহই হলেন ‘সালাম’। অতএব তোমরা যখন সালাত আদায় করবে তখন বলবে-‘আতাতহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াচ্ছালাওয়াতু ওয়াত্ত্বাইয়িবাতু আসসালামু আলাইকা আইয়ুহান্নাবিইয়ু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আসসালামু ‘আলাইনা ওয়া ‘আলা ইবাদিল্লাহিচ্ছালিহীন’ -এরূপ বললে আসমান ও জমিনের প্রত্যেক নেককার ব্যক্তি তা প্রাপ্ত হবে। তারপর বলবে ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসুলুহু’।[51] 
মাসআলা: উল্লেখিত হাদিসসমূহে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়া ও তার সালাম প্রেরণ করার প্রদ্ধতি ও শব্দসমূহ বর্ণনা করে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু দরূদ পাঠ করা এটি একটি ইবাদত তাই এ বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেখানো প্রদ্ধতি ও শব্দগুলোর অনুসরণ করাই বাঞ্চনীয়। এর বাইরে কোনো প্রদ্ধতি বা শব্দ গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের দেশে দরূদে তুনাজ্জিনা, দরূদে মুকাদ্দাস, দরূদে তাজ, দুরূদে লাকী এবং দরূদে আকবার ইত্যাদির যে প্রচলন রয়েছে সে সব দুরূদের শব্দগুলো সূন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়। সুতরাং, এগুলো পরিতাজ্য। সুন্নাতের অনুসরণ করাই ইসলামের অনুসারীদের জন্য একান্ত জরুরী।

দরূদ শরীফ পড়ার স্থানসমুহ

এক- সালাতের শেষাংশে দরূদ পাঠ করা:
সালাত শেষ করার পূর্বে দরূদ পাঠ করা সূন্নাত। প্রমাণ:
عَنْ فُضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعَ النَّبِيُّ  صلي الله عليه وسلم رَجُلاً يَدْعُوفِى صَلاَتِهِ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ  صلي الله عليه وسلم . فَقَالَ النَّبِيُّ صلي الله عليه وسلم : عَجَّلَ هَذَا ثُمَّ دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ أَوْ لِغَيْرِهِ إِذَا صَلّى أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأْ بِتَحْمِيْدِ اللهِ والثَّنَآءِ عَلَيْهِ ثُمَّ لَيُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم ثُمَّ لَيَدْعُ بَعْدُ مَا شَاءَ . (صحيح ، رواه الترمذى ، صحيح سنن الترمذى الجزء الثالث).  
“ফুদ্বালাহ ইবনু উবাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে ছালাতে দো‘আ করতে শুনলেন। লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করল না। তখন তিনি বললেন, এই লোকটি তাড়া-হুড়া করল। তারপর তাকে ডেকে বললেন, যখন তোমাদের কেউ সালাত পড়বে তখন প্রথম আল্লাহর প্রশংসা করবে তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর  দরূদ পড়বে। অতঃপর যা ইচ্ছা দো‘আ করবে।[52]

দুই. জানাযার সালাতে দরূদ পড়া
জানাযার ছালাতে (নামায) দ্বিতীয় তাকবীরের পর দরূদ পাঠ করা সুন্নাত। প্রমাণ-
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ رَضِي اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم أَنَّ السُّنَّةَ فِي الصَّلاَةِ عَلَى الْجَنَازَةِ أَنْ يُكَبِّرَ الإِمَامُ ثُمَّ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ بَعْدَ التَّكْبِيْرَةِ الأُوْلَى سِرًّا فِي نَفْسِهِ ثُمَّ يُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم وَيُخَلِّص الدُّعَاءَ لِلْجَنَازَةِ فِي التَّكْبِيْرَاتِ وَلاَ يَقْرَأُ فِي شَئْيٍ مِنْهُنَّ ثُمَّ يُسَلِّمْ سِرَّاً فِي نَفْسِهِ . (رواه الشافعي ، مسند الشافعى الباب الثالث والعشرون فى صلاة الجنائز (
“আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তাঁকে একজন ছাহাবী বলেছেন, জানাযার ছালাতে (নামায) সূন্নাত হল, প্রথমে ইমাম তাকবীর বলবে। প্রথম তাকবীরের পর চুপে চুপে সূরা ফাতিহা পাঠ করবে, তারপর (দ্বিতীয়) তাকবীর (এর পর) দরূদ পাঠ করবে এবং (তৃতীয় তাকবীরের পর) মৃতের জন্য বিশেষভাবে দো‘আ করবে। কুরআন পাঠ করবে না। তারপর (চতুর্থ তাকবীরের পর) চুপে চুপে সালাম দিবে।[53] 

তিন. আযান শুনার পর দো‘আ পড়ার পূর্বে দরূদ পাঠ করা সূন্নাত:
 عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو بْنِ الْعَاصِ رَضِي اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلي الله عليه وسلم يَقُوْلُ :  إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُوْلُوْا مِثْلَ مَا يَقُوْلُ ثُمَّ صَلُّوْا عَلَىَّ فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلّيَّ صَلاَةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْراً , ثُمَّ سَلُوْا اللهَ لِي الْوَسِيْلَةَ فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الْجَنَّةِ لاَ تَنْبَغِي إِلاَّ لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللهِ وَأَرْجُوْ أَنْ أَكُوْنَ أَنَا هُوَ فَمَنْ سَأَلَ اللهَ لِي الْوَسِيْلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ . (صحيح ، رواه مسلم ، كتاب الصلاة باب القول مثل قول المؤذن .(
“আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যখন তোমরা মুআয্যিনের আযান শুনবে তখন তার মত বল। তারপর আমার উপর দরূদ পড়। কেননা যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পড়বে আল্লাহ তা‘আলা তার উপর দশবার দরূদ পাঠ করবেন। তারপর তোমরা আল্লাহর কাছে আমার জন্য উসীলার দো‘আ করবে। কারণ উসীলা হল জান্নাতে একটি উচ্চতর মর্যাদা, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে শুধু একজনই প্রাপ্ত হবে। আমি আশা করি আমিই হব সেই ব্যক্তি। অতএব যে ব্যক্তি আমার জন্য আল্লাহর কাছে উসীলার দো‘আ করবে সে আমার সুপারিশ প্রাপ্ত হবে।[54]

চার. সর্বাবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়া ইসলামের নির্দেশ:
প্রত্যেক ঈমানদারের প্রতি সর্বাবস্থায় ও সর্বস্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠের নির্দেশ রয়েছে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَال رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم :لاَ تَتَّخِذُوْا قَبْرِي عِيْداً وَلاَ تَجْعَلُوْا بُيُوْتَكُمْ قُبُوْراً وَحَيْثُمَا كُنْتُمْ فَصَلُّوْا عَلَيَّ فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ تَبْلُغُنِي . (صحيح ، رواه أَحمد ، فضل الصلاة على النبى للألبانى).
“আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আমার কবরকে ঈদে (মিলনমেলায়) পরিণত করো না। আর তোমরা তোমাদের ঘরকে কবরে পরিণত করনা। তোমরা যেখানেই থাকনা কেন আমার উপর দরূদ পড়। কারণ তোমাদের দরূদ আমার কাছে পৌঁছে যায়।[55]
عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيْقِ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: قالَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم : أَكْثِرُوْا الصَّلاَةَ عَلَيَّ فَإِنَّ اللهَ وَكَّلَ بِي مَلَكاً عِنْدَ قَبْرِي فَإِذَا صَلَّي عَلَيَّ رَجُلٌ مِنْ أُمَّتِي قَالَ لِي ذَلِك الْمَلَكُ: يَا مُحَمَّدَ إِنَّ فُلاَنَ ابْنَ فُلاَنٍ صَلَّي عَلَيْكَ السَّاعَةَ . (حسن ، رواه الديلمي ، سلسلة الأحاديث الصحيحة للألبانى ، الجزء الأول(
“আবু বকর ছিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আমার উপর বেশী বেশী দরূদ পড়। কারণ আল্লাহ তা‘আলা আমার কবরের কাছে একজন মালাক (ফেরেশতা) নির্ধারণ করে রেখেছেন। যখন আমার উম্মতের কোনো ব্যক্তি আমার উপর দরূদ পাঠ করে তখন সে মালাক আমাকে বলে, হে মুহাম্মদ! অমুকের ছেলে অমুক এই মুহুর্তে আপনার উপর দরূদ পাঠ করেছে।[56]
عَنْ ابْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِي اللهُ عَنْهُ قالَ: قَالَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم :إِنَّ للهِ مَلاَئِكَةً سَيَّاحِيْنَ فِي الأَرْضِ يُبَلِّغُوْنِي مِنْ أُمَّتِي السَّلاَمَ . (صحيح ، رواه النسائي ، صحيح سنن النسائى الجزء الأول(
“আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহর কতিপয় ফেরেশতা রয়েছেন যারা বিশ্বে ঘুরে বেড়ায়। তারা আমার উম্মতের পক্ষ থেকে আমার কাছে সালাম পৌঁছিয়ে দেন।[57]

পাঁচ. জুমার দিন বেশি বেশি করে দরূদ পড়া:
জুমার দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর বেশী বেশী দরূদ পাঠ করার নির্দেশনা রয়েছে:
عَنْ اَبِيْ مَسْعُوْدٍ الأَنْصَارِيِّ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم : أَكْثِرُوْا الصَّلاَةَ عَلَيَّ فِي يُوْمِ الْجُمْعَةِ فَإِنَّهُ لَيْسَ يُصَلِّ عَلَيِّ أَحَدٌ يَوْمَ الْجُمْعَةِ إِلاَّ عُرِضَتْ عَلَيَّ صَلاّتُهُ. (صحيح ، رواه الحاكم والبيهقي ، صحيح الجامع الصغير الجزء الأول.(
“আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জুমার দিন আমার উপর বেশী বেশী দরূদ পড়, কারণ যে ব্যক্তি জুমার দিন আমার উপর দরূদ পড়বে তার দরূদ আমার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।[58]
عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسِ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم: إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمِ الْجُمْعَةِ فِيْهِ خُلِقَ آدَمُ , وَفِيْهِ قُبِضَ , وَفِيْهِ الْنَفْخَةُ , وَفِيْهِ الْصَّعْقَةُ , فَأَكْثِرُوْا عَلَيَّ مِن الصَّلاَةِ فِيْهِ فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ مَعْرَوْضَةٌ عَلَيَّ. قَالَ قَالُوْا: يَا رَسُوْلَ اللهِ وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلاَتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرَمْتَ ؟ يَقوُلُوْنَ بِلَيْتَ فَقَالَ: إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ حَرَّمَ عَلَي الأَرْضِ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ. (صحيح ، رواه أبوداؤد ، صحيح سنن أبوداؤد ، الجزء الأول(
“আউস ইবনু আউস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বোত্তম দিন হল, জুমার দিন। এই দিনে আদম আলাইহিস সালাম কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনেই তাঁর রূহ কবজ করা হয়েছে, এই দিনেই শিংগায় ফুঁক দেওয়া হবে এবং এই দিনেই লোকেরা বেহুশ হবে। অতএব তোমরা এই দিনে আমার উপর বেশী বেশী দরূদ পাঠ কর। কারণ তোমাদের দরূদ আমার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আপনার কাছে আমাদের দরূদ কিভাবে পৌঁছানো হবে? আপনি তো মাটিতে মিশে যাবেন। তখন তিনি বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা জমিনের উপর নবীদের শরীর খাওয়া করা হারাম করেছেন।[59]

ছয়. দো‘আর সময় দরূদ পড়া:
দো‘আ ও মুনাজাত করার সময় আল্লাহর প্রশংসাবাদের পর দরূদ পড়ার আদেশ রয়েছে।
عَنْ فُضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ: بَيْنَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم قَاعِدٌ إِذْ دَخَلَ رَجَلٌ فَصَلَّى فَقَالَ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِيْ وَارْحَمْنِي. فَقَالَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم : عَجَّلْتَ أَيُّهَا الْمُصَلِّي ، إِذَا صَلَّيْتَ فَقَعَدْتَ فَاحْمَدِ اللهَ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ وَصَلِّ عَلَيَّ ثُمَّ ادْعُهْ ، قَالَ : ثُمَّ صَلَّى رَجَلٌ آخَرٌ بَعْدَ ذلِكَ فَحَمِدَ اللهَ وَصَلَّي عَلَي النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم . فَقَالَ النَّبِيُّ صلي الله عليه وسلم : أَيُّهَا الْمُصَلَّي أدْعُ تُجَبْ . (صحيح ، رواه الترمذى ، صحيح سنن الترمذى الجزء الأول(.
“ফুদ্বালাহ ইবনু উবাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসেছিলেন এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি প্রবেশ করে সালাত আদায় করল তথায় সে বলল, হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করা এবং দয়া কর। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে সালাত আদায়কারী! তুমি তাড়াহুড়া করে ফেলেছো। যখন তুমি সালাত আদায় করতে গিয়ে বসবে তখন আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করবে তারপর আমার উপর দরূদ পড়বে তারপর দো‘আ করবে। ফুদ্বালা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তারপর আর এক লোক সালাত আদায় করল। সে আল্লাহর প্রশংসা করল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়ল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে সালাত আদায়কারী! তুমি দো‘আ কর তোমার দো‘আ কবুল করা হবে।[60]

সাত. গুনাহ ক্ষমা প্রাপ্তির জন্য দরূদ পড়া সূন্নাত:
দরূদ শরীফ গুনাহ ক্ষমা হওয়া এবং সকল দুঃখ-কষ্ট ও বিষন্নতা থেকে মুক্তি অর্জনের উপায়।
عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ رَضِى اللهُ عَنْهُ قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ! إِنِّى أُكْثِرُ الصَّلاَةَ عَلَيْكَ فَكَمْ أَجْعَلُ لَكَ مِنْ صَلاَتِي ؟ قَالَ: مَا شِئتَ . قُلْتُ: الرُّبْعَ . قَالَ: مَاشِئْتَ ، فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ. فَالثُّلُثَيْنِ. قَالَ: مَاشِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌلَكَ. قُلْتُ: أَجْعَلُ لَكَ صَلاَتِي كُلَّهَا. قَالَ: إِذَاً تُكْفَى هَمُّكَ وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ. (حسن ، رواه الترمذي ، صحيح سنن الترمذى للألبانى الجزء الثانى(
“উবাই ইবনু কা‘ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আপনার উপর বেশী বেশী দরূদ পাঠ করি। আমি কত দরূদ পড়ব? তিনি বললেন, যত তোমার মন চায়। আমি বললাম, চতুর্থাংশ? তিনি বললেন: যত মন চায়। তবে আরও বাড়ালে তা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে। আমি বললাম- দুই তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন: যত মন চায়। তবে আরও বাড়ালে তা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে। আমি বললাম- আমি আপনার জন্য পুরা সময়েই দরূদ পড়ব। তিনি বললেন: তাহলে তোমার দুশ্চিন্তা দূর হবে এবং তোমার পাপ ক্ষমা হবে।[61] 

আট. রাসূল  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম শুনা, পড়া কিংবা লেখার সময় দরূদ পড়া সুন্নাত।
عَنْ عَلِيٍّ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم : الْبَخِيْلُ الَّذِي مَنْ ذُكِرْتُ عَنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ . (صحيح ، رواه الترمذي ، صحيح سنن الترمذى للألبانى الجزء الثالث(
“আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সেই ব্যক্তি কৃপণ, যার কাছে আমার নাম নেওয়া হল কিন্তু সে আমার উপর দরূদ পড়ল না।[62]

নয়. মসজিদে প্রবেশের সময় দরূদ পড়া:
মসজিদে প্রবেশ করা ও মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাম প্রেরণ করা সূন্নাত। প্রমাণ:
عَنْ فَاطِمَةَ رَضِي اللهُ عَنْهَا بِنْتِ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم قَالَتْ: كَانَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْمَسْجِدَ يَقُوْلُ : بِسْمِ اللهِ وَالسَّلاَمِ عَلَي رَسُوْلِ اللهِ ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوْبِي ، وَافْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ ، وَإِذاخَرَجَ قَالَ: بِسْمِ اللهِ وَالسَّلاَمُ عَلَي رَسُوْلِ اللهِ ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوْبِي وَافْتَحْ لِي اَبْوَابَ فَضْلِكَ . (صحيح ، رواه ابن ماجه ، صحيح سنن ابن ماجة للألبانى الجزء الأول(
“ফাতেমা বিনতু মুহাম্মদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন: ‘বিসমিল্লাহি ওয়াসসালামু ‘আলা রাসূলিল্লাহি আল্লাহুম্মাগফিরলী যুনুবী ওয়াফতাহলী আবওয়াবা রাহমাতিকা’
অর্থাৎ, আল্লাহর নামে আমি মসজিদে প্রবেশ করছি, আল্লাহর রাসূলের উপর শান্তি হোক, হে আল্লাহ! আমার গুনাহ ক্ষমা কর এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজা খোলে দাও।
আর যখন মসজিদ থেকে বের হতেন তখন বলতেন: ‘বিসমিল্লাহি ওয়াস্সালামু আলা রাসূলিল্লাহি আল্লাহুম্মাগফিরলী যুনুবী ওয়াফতাহলী আবওয়াবা ফাদলিকা’
অর্থাৎ, আল্লাহর নামে আমি মসজিদ থেকে বের হচ্ছি, আল্লাহর রাসূলের উপর শান্তি হোক, হে আল্লাহ! আমার গুনাহ ক্ষমা কর এবং আমার জন্য আপনার করুণার দরজা খোলে দাও।[63]

দশ. সালাতের শেষাংশে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়া:
সালাত শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাম পৌঁছানো সুন্নাত। প্রমাণ:
عَنْ أَبِي سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَ إِذَا سَلَّمَ النَّبِيُّ صلي الله عليه وسلم مِنَ الصَّلاَةِ قَالَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ: سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُوْنَ ، وَسَلاَمٌ عَلَي الْمُرْسَلِيْنَ ، وَالْحَمْدُ للهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ. (حسن ، رواه أبويعلي ، عدة الحصن الحصين( ،
“আবু সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত থেকে সালাম ফিরাতেন তখন তিনবার বলতেন: সুবহানা রাব্বিকা রাব্বিল ইযযাতি আম্মা ইয়াছিফুন, ওয়া সালামুন আলাল মুরসালীন, ওয়াল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। অর্থাৎ, হে আল্লাহ! লোকেরা যা বলে তা থেকে তুমি পবিত্র এবং মর্যাদা পূর্ণ, সকল নবীদের উপর সালাম ও শান্তি হোক, আর সকল প্রশংসা সারা বিশ্বের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য।[64]

এগার. প্রতিটি মজলিশে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরূদ পাঠ করা সূন্নাত:
প্রত্যেক মজলিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করা সুন্নাত। প্রমাণ:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم : مَا جَلَسَ قَوْمٌ مَجْلِسًا لَمْ يَذْكُرُوْا اللهَ فِيْهِ , وَلَمْ يُصَلُّوْا عَلَي نَبِيِّهِمْ إِلاَّ كَانَ عَلَيْهِمْ تِرَةً فَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُمْ وَإِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُمْ . (صحيح ، رواه الترمذي ، صحيح سنن الترمذى للألبانى الجزء الثالث(
“আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কোনো সম্প্রদায় যদি কোনো মজলিসে বসে এবং তাতে আল্লাহর স্মরণ করে না এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়ে না, তাহলে সেই মজলিস তাদের জন্য অনুতাপের কারণ হবে। অতএব তিনি চাইলে তাদের শাস্তি দিবেন কিংবা তাদের ক্ষমা করে দিবেন।[65]

বারো. সকাল-সন্ধা দরূদ পাঠ করা:
প্রত্যেক সকাল-সন্ধ্যায় দরূদ পাঠ করা সূন্নাত। প্রমাণ:
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم : مَنْ صَلَّى عَلَيَّ حَيْنَ يُصْبِحُ عَشْرًا وَحِيْنَ يُمْسِي عَشْرًا أَدْرَكَتْهُ شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ . (حسن ، رواه الطبراني ، صحيح الجامع الصغير للألبانى (
“আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে দশ বার দরূদ পড়বে এবং সন্ধ্যায় দশবার দরূদ পড়বে সে কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ লাভে ধন্য হবে।[66]

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়ার লাভ ও উপকারিতা

আল্লাহর নবীর উপর দরূদ পড়ার লাভ ও ফযিলত সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত, যাতে যারা বেশি বেশি করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরূদ পড়ে তাদের অবস্থান ও মান মর্যদা তুলে ধরা হয়েছে। নিম্নে আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়ার কয়েকটি লাভ ও উপকারিতা আলোচনা করছি।
এক. আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়ন করা:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়া মানে, আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়ন করা। কারণ আল্লাহ নিজেই তার নবীর উপর দরূদ পড়ার নির্দেশ দেন এবং তিনি নিজেও তার উপর দরূদ পড়েন। যদিও আল্লাহর দরূদ পড়া আর আমাদের দরূদ পড়ার অর্থ এক নয়। আমাদের দরূদ পড়ার অর্থ হল, তার জন্য দো‘আ করা। আর আল্লাহর দরূদ পড়ার অর্থ হল তার প্রশংসা করা।
অনুরূপভাবে রাসূলের উপর দরূদ পড়ার মাধ্যমে ফেরেশতাদের সাথেও একাত্মতা পোষণ ও তাদের অনুকরণ করা হয়। কারণ তারাও আল্লাহর নবীর উপর দরূদ পড়েন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ إِنَّ ٱللَّهَ وَمَلَٰٓئِكَتَهُۥ يُصَلُّونَ عَلَى ٱلنَّبِيِّۚ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ صَلُّواْ عَلَيۡهِ وَسَلِّمُواْ تَسۡلِيمًا ٥٦ ﴾ [الاحزاب : ٥٦]
“আল্লাহ তা‘আলা নবীর উপর দরূদ পাঠ করেন। আর তাঁর মালাক তথা ফেরেশতাগণ নবীর জন্য আল্লাহর কাছে রহমতের দো‘আ করেন। অতএব, হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরাও নবীর উপর সালাত ও সালাম প্রেরণ কর”।[67]

দুই. আল্লাহ তা‘আলা দরূদ পাঠকারীর উপর দরূদ পড়েন:
আল্লাহর নবীর উপর কেউ একবার দরূদ পড়লে আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা তার দশবার দরূদ পড়ে। যতক্ষণ পর্যন্ত লোকটি দরূদ পড়তে থাকে ফেরেশতারাও তার উপর দরূদ পড়তে থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا» (رواه مسلم).
“যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তা‘আলা তার উপর দশবার দরূদ পাঠ করে।[68]
وعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَبِيهِ – رضي الله عنه – أَنَّ رَسُولَ اللهِ – صلى الله عليه وآله وسلم – جَاءَ ذَاتَ يَوْمٍ وَالْبُشْرَى فِي وَجْهِهِ فَقُلْنَا: إِنَّا لَنَرَى الْبُشْرَى فِي وَجْهِكَ؟ فَقَالَ: «إِنَّهُ أَتَانِي الْمَلَكُ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ إِنَّ رَبَّكَ يَقُولُ: أَمَا يُرْضِيكَ أَنَّهُ لَا يُصَلِّي عَلَيْكَ أَحَدٌ إِلَّا صَلَّيْتُ عَلَيْهِ عَشْرًا، وَلَا يُسَلِّمُ عَلَيْكَ أَحَدٌ إِلَّا سَلَّمْتُ عَلَيْهِ عَشْرًا». (صحيح رواه النسائي وغيره).
“আব্দুল্লাহ ইবন আবি তালহা রা. তার পিতা থেকে বর্ণনা করে বলেন, একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে উপস্থিত হলেন, আমরা তাঁর চেহারায় খুশির ভাব দেখতে পেলাম, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার চেহারার মধ্যে আনন্দ দেখতে পাচ্ছি। তিনি বললেন, আমার নিকট ফেরেশতা এসে বললেন, হে মুহাম্মদ তোমার রব বলেন, তুমি কি এতে খুশি নও যে, যদি কোনো ব্যক্তি তোমার উপর একবার দরূদ পড়ে আমি তার উপর দশবার দরূদ পড়ি এবং যদি কেউ একবার সালাম দেয়, আমি তাকে দশবার সালাম দেই?”[69]
وعن أنس – رضي الله عنه – قال: قال رسول الله – صلى الله عليه وآله وسلم -: «أَكْثِرُوا الصلاةَ عَليَّ يوَْمَ الجمعَة؛ فإنه أتاني جِبريلُ آنفًا عن ربِّه – عز وجل – فقال: «مَا عَلَى الأرضِ مِن مُسلمٍ يُصَلِّي عليكَ مرَّةً واحدةً إلا صليتُ أنا وملائكَتي عليهِ عشرًا» (حسن رواه الطبراني)
“আনাস রা. হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জুমার দিন তোমরা আমার উপর বেশি বেশি করে সালাত পড়। কারণ, জিবরীল আ. আমার নিকট এখনি তার রবের নিকট থেকে এ বাণী নিয়ে এসেছে যে, “জমিনের উপর কোনো মুসলিম যদি আমার উপর একবার দরূদ পড়ে আমি এবং আমার ফেরেশতারা তার উপর দশবার দরূদ পড়ি”।[70]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
«مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصَلِّي عَلَيَّ إِلَّا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ مَا صَلَّى عَلَيَّ؛ فَلْيُقِلَّ الْعَبْدُ مِنْ ذَلِكَ أَوْ لِيُكْثِرْ». (حسن رواه ابن ماجه)
“কোনো মুসলিম আমার উপর দরূদ পড়া মাত্রই ফেরেস্তারা তার উপর সমপরিমাণ দরূদ পড়ে। সুতরাং, একজন মুসলিম যেন দরূদ পড়ে এবং বেশি করে দরূদ পড়ে।[71]

তিন- গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন:
যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর একবার দরূদ পড়ে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য দশটি নেকি লিপিবদ্ধ করেন, দশটি গুনাহ ক্ষমা করেন এবং দশটি দরজা বুলন্দ করেন।
عَنْ أَبِي طَلْحَةَ الْأَنْصَارِيِّ – رضي الله عنه – قَالَ: أَصْبَحَ رَسُولُ الله – صلى الله عليه وآله وسلم – يَوْمًا طَيِّبَ النَّفْسِ يُرَى فِي وَجْهِهِ الْبِشْرُ، قَالُوا: يَا رَسُولَ الله، أَصْبَحْتَ الْيَوْمَ طَيِّبَ النَّفْسِ يُرَى فِي وَجْهِكَ الْبِشْرُ؟ قَالَ: «أَجَلْ أَتَانِي آتٍ مِنْ رَبِّي – عز وجل – فَقَالَ: مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ مِنْ أُمَّتِكَ صَلَاةً كَتَبَ اللهُ لَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ، وَمَحَا عَنْهُ عَشْرَ سَيِّئَاتٍ، وَرَفَعَ لَهُ عَشْرَ دَرَجَاتٍ، وَرَدَّ عَلَيْهِ مِثْلَهَا». (صحيح رواه أحمد والنسائي)
“আবু তালহা আল আনসারী রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন, একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সকালে আমাদের মধ্যে উপস্থিত হলে, আমরা তার চেহারার মধ্যে খুশি দেখতে পেলাম, আমরা বললাম হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার চেহারার মধ্যে আনন্দ দেখতে পাচ্ছি। তিনি বললেন, আমার নিকট আমার রবের পক্ষ হতে একজন ফেরেশতা এসে বলল, যদি তোমার উম্মতের কোনো ব্যক্তি তোমার উপর একবার দরূদ পড়ে আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য দশটি নেকী লিপিবদ্ধ করেন, দশটি গুনাহ ক্ষমা করেন, দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তার জন্য সমপরিমাণ রহমত প্রেরণ করেন।[72]

চার. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে দরূদ পাঠকারীর আলোচনা:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়াতে রাসূলের সামনে তোমার নাম উল্লেখ করার সৌভাগ্য লাভ হয়। একজন মানুষের জন্য এর চেয়ে বড় পাওনা আর কি হতে পারে যে তার নাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আলোচনা হয়। প্রমাণ:
 فعن ابن مسعود – رضي الله عنه – عن النبي – صلى الله عليه وآله وسلم – قال: «إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً سَيَّاحِينَ فِي الْأَرْضِ يُبَلِّغُونِي مِنْ أُمَّتِي السَّلَامَ» (صحيح رواه النسائي وابن حبان)
“আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহর কতিপয় ফেরেশতা রয়েছেন যারা বিশ্বে ঘুরে বেড়ায়। তারা আমার উম্মতের পক্ষ থেকে আমার কাছে সালাম পৌঁছিয়ে দেন।[73]
وعن الحسن بن علي – رضي الله عنهما – أن رسول الله – صلى الله عليه وآله وسلم – قال: «حَيْثُمَا كُنْتُمْ فَصَلُّوا عَلَيَّ، فَإِنَّ صَلاتَكُمْ تَبْلُغُنِي». (صحيح رواه الطبراني).
“হাসান ইবন আলী রা. বলেন, তোমরা যেখানেই থাক, আমার উপর দরূদ পাঠ কর, কারণ, তোমাদের সালাত আমার নিকট পৌছানো হয়।[74]

পাঁচ- রাসূলের উত্তর পাওয়ার সৌভাগ্য লাভ:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়া দ্বারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ হতে দরূদ এবং সালামের উত্তর পাওয়ার সৌভাগ্য লাভ হয়। প্রমাণ:
فعن أبي هريرة – رضي الله عنه – عن رسول الله – صلى الله عليه وآله وسلم – قال: «مَا مِنْ أَحَدٍ يُسَلِّمُ عَلَيَّ إِلَّا رَدَّ اللهُ عَلَيَّ رُوحِي حَتَّى أَرُدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ» (حسن رواه أحمد وأبو داود)
“আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে কোনো মুসলিম আমার উপর সালাম দেয়, আল্লাহ তা‘আলা আমার রূহকে শরীরে ফিরিয়ে দেয় যাতে আমি তার সালামের উত্তর দিতে পারি।[75]

ছয়- রাসূলের ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়:
        রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়া দ্বারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মহব্বত বৃদ্ধি ও নৈকট্য লাভের কারণ হয়ে থাকে। প্রমাণ:
عن أبي أمامة – رضي الله عنه – قال: قال رسول الله – صلى الله عليه وآله وسلم -: «أكثِرُوا علَيَّ مِن الصلاةِ في كلِّ يومِ جمعة؛ فإن صلاةَ أمَّتي تُعرَضُ عليَّ في كلِّ يومِ جمعة؛ فمَن كانَ أكثرَهم عليَّ صلاةً كانَ أقربَهُم منِّي منزِلةً» (حسن رواه البيهقي)
“আবু উমামা রা. হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার প্রতি জুমায় আমার উপর দরূদ বেশি করে পড়, কারণ, আমার উম্মতের দরূদ পাঠ প্রতি জুমায় আমার নিকট পেশ করা হয়, যে ব্যক্তি বেশি দরূদ পাঠকারী হয়ে থাকে, যে মর্যাদার দিক দিয়ে আমার বেশি নিকটে হয়ে থাকে।[76]
وعن ابن مسعود – رضي الله عنه – قال: قال رسول الله – صلى الله عليه وآله وسلم -: «أَوْلَى النَّاسِ بِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرُهُمْ عَلَيَّ صَلَاةً». (حسن رواه الترمذي).
“ইবনে মাসউদ রা. হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মানুষের মধ্যে সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন উত্তম হবে, যে আমার উপর বেশি বেশি দরূদ পড়ে।[77]
হাদিসে উত্তম বলতে মানুষের সবচেয়ে কাছের লোক এবং যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুপারিশ লাভে ধন্য তাদরে বুঝানো হয়েছে। যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ করেন তারাই রাসূলের অনুকরণ করেন এবং তাদের অন্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
 ﴿قُلۡ إِن كُنتُمۡ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِي يُحۡبِبۡكُمُ ٱللَّهُ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۚ وَٱللَّهُ غَفُورٞ رَّحِيمٞ ٣١ ﴾ [ال عمران: ٣١] 
“বল, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।[78]

সাত. গুনাহ মাপ হয়:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ গুনাহ মাপের কারণ হয় এবং দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় সমস্যা সমাধানের জন্য তা যথেষ্ট হয়। প্রমাণ:
عن أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ – رضي الله عنه – قال: كَانَ رَسُولُ الله – صلى الله عليه وآله وسلم – إِذَا ذَهَبَ ثُلُثَا اللَّيْلِ قَامَ فَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ اذْكُرُوا اللهَ، اذْكُرُوا اللهَ، جَاءَتْ الرَّاجِفَةُ تَتْبَعُهَا الرَّادِفَةُ، جَاءَ الْمَوْتُ بِمَا فِيهِ، جَاءَ الْمَوْتُ بِمَا فِيهِ». قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي أُكْثِرُ الصَّلَاةَ عَلَيْكَ، فَكَمْ أَجْعَلُ لَكَ مِنْ صَلَاتِي؟فَقَالَ: «مَا شِئْتَ». قُلْتُ: الرُّبُعَ؟ قَالَ: «مَا شِئْتَ، فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ». قُلْتُ: النِّصْفَ؟ قَالَ: «مَا شِئْتَ، فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ». قُلْتُ: فَالثُّلُثَيْنِ؟ قَالَ: «مَا شِئْتَ، فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ». قُلْتُ: أَجْعَلُ لَكَ صَلَاتِي كُلَّهَا؟ قَالَ: «إِذًا تُكْفَى هَمَّكَ وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ». (حسن صحيح رواه والترمذي)
“উবাই ইবন কা‘ব রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাতের দুই তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে উঠে যেতেন। অতঃপর তিনি বলতেন, হে মানুষেরা! তোমরা আল্লাহর যিকির কর, তোমরা আল্লাহর যিকির কর, রাজেফা তো প্রায় এসেই গেছে তারপরই রাদেফা আসবে। মৃত্যু তার আনুষাঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে উপস্থিত, মৃত্যু তার আনুষাঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে উপস্থিত। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার উপর বেশি বেশি করে সালাত প্রেরণ করতে চাই। আমি আপনার উপর কতবার সালাত প্রেরণ করব? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যা পার, আমি বললাম, আমার সমূদয় দো‘আর চার ভাগের এক ভাগ? তিনি বললেন, তুমি যা পার, তবে যদি তুমি বাড়াও তাহলে তা তোমার জন্য উত্তম। আমি বললাম, তাহলে কি আমি আমার সমূদয় দো‘আর অর্ধেক আপনার জন্য সালাত প্রেরণে নিয়োজিত করব? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যা পার, তবে যদি তুমি বাড়াও তাহলে তা তোমার জন্য উত্তম। আমি বললাম, তাহলে কি আমি আমার সমূদয় দো‘আর তিনভাগের একভাগ আপনার জন্য সালাত পাঠে ব্যয় করব? তিনি বললেন, তুমি যা পার, তবে যদি তুমি বাড়াও তাহলে তা তোমার জন্য উত্তম। আমি বললাম, আমি আমার সমূদয় দো‘আই কি আপনার জন্য সালাত প্রেরণে কাটিয়ে দেব। তিনি বললেন, তাহলে তা তোমাকে দুশ্চিন্তা করবে এবং তোমার গুনাহসমূহ মুচে দেবে।[79]

আট: শাফাআত লাভের কারণ হয়:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করা তার শাফাআত লাভের কারণ হয়। প্রমাণ: 
 فعن عبد الله بن عمرو – رضي الله عنه – قال: قال رسول الله – صلى الله عليه وآله وسلم -: «مَنْ صَلَّى عليَّ أو سألَ لِيَ الوسيلةَ حقَّتْ عليهِ شفَاعَتي يَومَ القِيَامَة» (رواه الجهضمي في فضل الصلاة على النبي – صلى الله عليه وآله وسلم – وصححه الألباني)
“আব্দুল্লাহ ইবন ‘আমর রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আমার উপর দরূদ পড়ে অথবা আমার জন্য আল্লাহর নিকট ওসিলা চায়, কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার সুপারিশ অবধারিত হবে।[80]

নয়. দো‘আ কবুল হয়:
দো‘আ করার পূর্বে দুরূদ পড়া হলে, তাতে তার দো‘আ কবুল হয়। উমামাহ রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়া না হলে, কোনো দো‘আই কবুল করা হয় না।
হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা মুনাবী রহ. বলেন, (كلُّ دعاءٌ محجوبٌ) কথাটির অর্থ, দো‘আ কবুল করা হয় না। অর্থাৎ, যে দো‘আর সাথে দুরূদ পড়া হয় না, সে দো‘আ আল্লাহর নিকট পৌছানো হয় না। কারণ, দুরূদ পাঠ করা দো‘আ কবুল হওয়ার মাধ্যম।
وعن علي – رضي الله عنه – قال: «كل دعاء محجوب حتى يصلى على محمد – صلى الله عليه وآله وسلم -». (صحيح رواه الطبراني موقوفًا).
“আলী রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সব দো‘আই বিরত রাখা হয়ে থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত না রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়া না হয়।[81]
অন্য বর্ণনায় বর্ণিত,
وعَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ – رضي الله عنه – قَالَ: «إِنَّ الدُّعَاءَ مَوْقُوفٌ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَا يَصْعَدُ مِنْهُ شَيْءٌ حَتَّى تُصَلِّيَ عَلَى نَبِيِّكَ – صلى الله عليه وآله وسلم -» (صحيح رواه الترمذي)
সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যেব রহ. ওমর ইবন খাত্তাব রা. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেন, দো‘আ আসমান ও জমিনের মাঝে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, তোমাদের নবীর উপর দো‘আ পড়া ছাড়া কোনো দো‘আই আসমান পর্যন্ত আরোহন করে না।[82]

দশ. মজলিস বরকত পূর্ণ হয়:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়া মুজলিস সুঘ্রাণ হওয়া ও কিয়ামতের দিন অনুতাপ মুক্ত হওয়ার কারণ হয়। যে মজলিসে আল্লাহর যিকির করা হয় না, তার প্রশংসা করা না হয় এবং তার নবীর উপর দরূদ পড়া করা না হয়, এ ধরনের মজলিস দূর্গন্ধময় হয়ে থাকে। আর যে মজলিসে দুরূদ পড়া হয় সে মজলিস দূর্গন্ধযুক্ত হওয়া থেকে মুক্ত হয়।

এগারো. কৃপণ বলে আখ্যায়িত করা হতে পরিত্রাণ লাভ:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম উচ্চারণ করার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করা, তার নামের সাথে কৃপণ শব্দটি যোগ করা হতে মুক্তি লাভ করে এবং বান্দা অন্তরের কাঠিন্য হতে মুক্তি লাভ করে।

বারো. জান্নাতের পথ সুগম করে:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করা দরূদ পাঠকারীকে জান্নাতের দিকে পথ দেখায় আর যে দরূদ পাঠ করে না তাকে জান্নাতের পথ হতে বিচ্যুত করে।

তেরো. উত্তম প্রশংসা অর্জন:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠকারীর সু-প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলা আসমানবাসী ও জমীন বাসীর মাঝে স্থায়ীভাবে ধরে রাখেন। কারণ, একজন মুসল্লি আল্লাহর নিকট এ বিষয়টিই কামনা করেন যে, আল্লাহ তা‘আলা যেন, আল্লাহর রাসূলের মান, মর্যাদা ও সম্মান সর্বদা অবশিষ্ট রাখেন। সুতরাং তার বিনিময় ও তার অনুরূপই হবে। ফলে দরূদ পাঠ কারীর জন্য আল্লাহ তা‘আলা একই বিনিময় (তার মান-মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুন্ন রাখা) দান করবেন।

চৌদ্দ. বরকত লাভের কারণ:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করা দরূদ পাঠকারীর আমল, হায়াত ও যাবতীয় কর্মে বরকতের কারণ হয়। কারণ, দরূদ পাঠকারী আল্লাহর রাসূল তার পরিবার পরিজন ও সাহাবীদের জন্য দো‘আ করে থাকেন। আর এ দো‘আ অবশ্যই কবুল হবে। আর যখন কোনো বান্দা অপরের জন্য দো‘আ করে আল্লাহ তা‘আলা তাকেও অনুরূপ বিনিময় দান করেন।

পনেরো. আল্লাহর রহমত লাভ:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়া আল্লাহর রহমত লাভের কারণ হয়:
যেমন আল্লামা ইবনুল কাইয়েম রহ. বলেন, সালাতের এক অর্থ হল, রহমত। ফলে যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরূদ পাঠ করবে সে অবশ্যই আল্লাহর রহমত লাভে ধন্য হবে। অথবা সালাত পাঠের আবশ্যকীয় ও অনিবার্য ফল হল, আল্লাহর রহমত লাভ করা। সুতরাং একজন দরূদ পাঠকারী যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর বেশি বেশি করে দরূদ পাঠ করবে তখন সে আল্লাহর পক্ষ হতে রহমতের ভাগি হবে।

ষোলো. রাসূলের মহব্বত স্থায়ী হওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া ও দ্বিগুণ হওয়া:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি স্থায়ী মহব্বত, মহব্বত বৃদ্ধি ও দ্বিগুণ হওয়ার কারণ: 
আর এটি হল ঈমানের দৃঢ় বন্ধন; এটি ছাড়া কখনোই একজন ঈমানদারের ঈমান পূর্ণতা লাভ করে না এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বত ছাড়াও ঈমানের পূর্ণতা সম্ভব নয়। কোনো বান্দা যখন তার মাহবুবের আলোচনা বেশি বেশি করে তখন তার অন্তরে তার উপস্থিতি স্থায়ী হয়। তার সৌন্দর্য ও গুণাগুণগুলো তার সামনে বার বার ভেসে উঠে। তার প্রতি তার ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়, তার প্রতি তার আগ্রহ ও শওক বাড়তে থাকে এবং তার অন্তরে সেই কেবল স্থান করে নেয়। আর যখন কোনো মানুষ তার মাহবুবের আলোচনা থেকে বিরত থাকে, তার সৌন্দর্যগুলোকে অবলোকন না করে তখন মাহবুবের প্রতি তার ভালোবাসা লোপ পায়। যখন কোনো মানুষ কাউকে ভালোবাসে তখন মাহবুবের দর্শন, তার সৌন্দর্যের আলোচনা ও তার গুণাগুণ ছাড়া কোনো কিছুই তার চক্ষুকে শীতল করতে পারে না, কোনো কিছুই তার অন্তরকে শান্ত করতে পারে না। সে তার মাহবুবের আলোচনা শুনতে ও তার দর্শন লাভ করতে সব সময় ব্যাকুল থাকে।

সতেরো. রাসূলের উপর দরূদ পড়া দ্বারা রাসূলের মহব্বহত লাভে বান্দা ধন্য হয়:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করা, তার মহব্বতের কারণ: 
দরূদ পাঠকারীর অন্তরে যেমনিভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মহব্বত বাড়ে অনুরূপভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বত লাভেরও কারণ হয়ে থাকে।

আঠারো. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করা বান্দার হিদায়েতের কারণ হয় এবং তার আত্মার জীবন লাভ হয়:
কারণ, যখন কোনো বান্দা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর বেশি বেশি দরূদ পড়ে এবং তার আলোচনা করে, তখন তার অন্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বত বৃদ্ধি পায়। তখন তার অন্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ নিষেধ পালনে তার অন্তরে কোনো সংকোচ থাকে না এবং তার আনীত শরীয়তের প্রতি তার মধ্যে কোনো প্রকার অনীহা ও অনাগ্রহ তার মধ্যে অবশিষ্ট থাকে না বরং তার অন্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত শরীয়ত তার অন্তরে প্রগাড়ভাবে স্থান করে নেয় এবং অন্তরে তা বসে যায়। সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ হতে হিদায়াত, কামিয়াবী ও বিভিন্ন ধরনের ইলম সংগ্রহ করতে থাকে। যখন অন্তরের মধ্যে শক্তি বৃদ্ধি পায়, আল্লাহর মারেফত হাসিল হয় এবং দূরদর্শিতা অর্জন হতে থাকে, তখন তার উপর সালাত পাঠ আরও বৃদ্ধি পায় এবং তার রূহানী শক্তি প্রবল হয়।

ঊনিশ. রাসূলের হক আদায় করা:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ তার কিছুটা হলেও তার হক আদায় করা।

বিশ. আল্লাহর যিকিরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ আল্লাহর যিকির ও শুকরিয়া আদায়কে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তার বান্দার উপর তার অনুগ্রহসমূহ জানার সুযোগ করে দেয়। একজন দরূদ পাঠকারী যখন তার উপর দরূদ পড়ে তার দরূদের মধ্যে আল্লাহর যিকির থাকে, আল্লাহর রাসূলের আলোচনা থাকে, তার জন্য উত্তম বিনিময় চাওয়া হয়ে থাকে।

লেখার সময় পূরো দরূদ লেখার পরিবর্তে সা./স. ইত্যাদি সংক্ষিপ্ত শব্দ দ্বারা দরূদ লেখার বিধান

আমাদের উচিত হল, আমরা যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরূদ পড়ব তখন পুরো দরূদ পড়ব এবং যখন তার নামের শেষে দরূদ লিখব তখনও দরূদ শরিফ পুরোপুরি খিলব। কোনো প্রকার সংকেত বা কোনো অসমাপ্ত শব্দ ব্যবহার করব না।
শাইখ আব্দুল আযীয ইবন বায রহ. বলেন, …আমরা জানি যেমনিভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ সালাতের তাশাহুদের পর, খুতবার সময়, দো‘আ ইস্তেগফারের সময়, আজানের পর, মসজিদে প্রবেশে ও বাহির হওয়ার সময় অনুরূপভাবে কোনো কিতাব, প্রবন্ধ, রিসালা ও লেখনি লেখার সময় ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম লিখার সময় পুরো দরূদ লেখা সূন্নাত। আর দরূদটি পরিপূর্ণ লিখতে হবে, যাতে আল্লাহর আদেশের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন হয় এবং একজন পাঠক যখন তা পাঠ করে সে বুঝতে পারে যে এখানে দরূদ পড়া হয়েছে। সংক্ষিপ্তাকারে যেমন- (সা.)(ص) أو (صلعم)  ইত্যাদি লেখা কোনোক্রমেই উচিত নয়। অনেককে এভাবে লেখতে দেখা যায়, এটি আল্লাহ তা‘আলার বাণী-{صَلُّوا عَلَيْهِ وسَلِّمُوا تَسْلِيماً} (الأحزاب:56). এর পরিপন্থী। এছাড়াও এ দ্বারা দরূদ পড়ার উদ্দেশ্য পূরণ হয় না এবং দরূদ পড়ার যে সব লাভের কথা কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত তা হতে বঞ্চিত হয়। আবার অনেক সময় দেখা যায় একজন পাঠক সংকেত দ্বারা কি উদ্দেশ্য তা বুঝতে পারে না এবং সজাগ থাকে না। এ কারণেই আহলে ইলম সংকেত দিয়ে দরূদ শরীফ লেখাকে অপছন্দ করেন। দেখুন মাজমুয়ায়ে ফতওয়ায়ে ইবন বায, পৃ: ৩৯৭-৩৯৯/২

দরূদ সম্পর্কীয় দুর্বল হাদিসসমূহ

  عَنْ أَنَسٍ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم: مَنْ صَلَّي عَلَيَّ يَوْمَ الْجُمْعَةِ ثَمَانِيْنَ مَرَّةً غَفَرَ اللهُ لَهُ ذَنُوْب َثَمَانِيْنَ عَامًا, فَقِيْلَ لَهُ: كَيْفَ الصَّلاَةُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ: تَقُوْلُ : اللَّهُمَّ صلِّ عَلَي مُحَمَّدٍ وَنَبِيِّكَ وَرَسُوْلِكَ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ وَتَعْقِدُ وَاحِدًا. رواه الخطيب
দুই- আনস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিন আমার উপর আশিবার দরূদ পাঠ করবে আল্লাহ তা‘আলা তার আশি বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন”। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উপর দরূদ কিভাবে পাঠ করা হবে? বললেন: বল -“আল্লাহুম্মা ছাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া নাবীয়্যিকা ওয়া রাসূলিকান নবীয়্যিল উম্মিয়্যি”।
 ফায়েদা: এই হাদিসটি জাল। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন -সিলসিলা যয়ীফাহঃ ১/ হা/নং ২১৫।
عَنْ يُوْنُسَ مَوْلَي بَنِي هَاشِمٍ قَالَ: قُلْتُ لِعَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَوْ ابْنِ عُمَرَ كَيْفَ الصَّلاَهُ عَلَي النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم ؟ قَالَ: اللَّهُمَّ اجْعَلْ صَلَوَاتِكَ وَبَرَكَاتِكَ وَرَحْمَتِكَ عَلَي سَيِّدِ الْمُرْسَلِيْنَ وَإِمَامِ الْمُتَّقِيْنَ وَخَاتِمِ النَّبِيِّيْنَ مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُوْلِكَ وَإِمَامِ الْخَيْرِ وَقَائِدِ الخير اللَّهُمَّ ابْعَثَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَقَامًا مَحْمُوُْدًا يَغْبِطْهُ الأَوَّلُوْنَ وَالآخِرُوْنَ وَصَلِّ عَلَي مُحَمَّدٍ وَعَلَي آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَي إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَي آلِ إِبْرَاهِيْمَ. رواه إسماعيل القاضي في فضل الصلاة النبي صلي الله عليه وسلم
দুই- হাসেম গোত্রের আযাদকৃত দাস ইউনুস বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়ার নিয়ম কি? তিনি বললেন: “আল্লাহুম্মাজ‘আল ছালাওয়াতিকা ওয়া বারাকাতিকা ওয়া রাহমাতিকা আলা সাইয়িদিল মুসলিমীনা ওয়া ইমামিল মুত্তাকীনা ওয়া খাতামিন্নাবিয়্যীনা মুহাম্মাদিন আব্দিকা ওয়া রাসুলিকা ওয়া ইমামিল খাইরি ওয়া কায়িদিল খাইরি, আল্লাহুম্মাবআ’ছহু ইয়াউমাল কিয়ামাতি মাকামান মাহমূদান ইয়াগবিতুহুল আউওয়ালূনা ওয়াল আখিরুনা, ওয়া ছাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা ছাল্লাইতা আলা ইবরাহীমা ওয়া আলা আলি ইবরাহীম”।
ফায়েদা: এই হাদিসটি দুর্বল। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, ‘ফদ্বলুচ্ছালাত আলান্নাবী’ হা/নং ৬১।
مَنْ صَلَّي عَلَيَّ مَرَّةً لَمْ يَبْقِ مِنْ ذُنُوْبِهِ ذَرَّةٌ .
তিন- “যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে তার কোনো গুনাহ থাকবে না”।
ফায়েদা: এই হাদিসটি জাল। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, কাশফুল খাফা, হা/নং ২৫১৬।
 مَنْ حَجَّ حَجَّةَ الإِسْلاَمِ وَزَارَ قَبْرِي وَغَزَا غَزْوَةً وَصَلَّ عَلَيَّ فِي الْمُقَدِسِ لَمْ يَسْأَلْهُ اللهُ فِيْمَا افْتِرَضَ عَلَيْهِ.
চার- যে ব্যক্তি ইসলামের হজ্জ আদায় করে আর আমার কবর যিয়ারাত করে আর যুদ্ধ করে এবং বাইতুলমুকাদ্দাসে আমার উপর দরূদ পড়েছে তাকে আল্লাহ তা‘আলা ফরয বিধানাবলি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন না।
ফায়েদা: এই হাদিসটি যয়ীফ। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন- ফদ্বলুচ্ছালাতি আলান্নাবিয়্যি: শায়খ আলবানী, হা/নং ৬১।
الصَّلاَةُ عَلَي النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم أَفْضَلُ مِنْ عِتْقِ الرِّقَابِ. رواه التيمي
পাঁচ “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়া দাস মুক্ত করার চেয়ে উত্তম।
ফায়েদা: এই হাদিসটি জাল। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, আল মাকাছিদুল হাছানাহঃ হা/নং ৩৬০।
عَنْ سَهْلٍ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم قَالَ: لاَوُضُوْءَ لِمَنْ لم يُصَلِّ عَلَي النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم .رواه الطبراني
ছয়- সাহাল ইবনু সাআ’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়েনি তার ওযু হবেনা। -তাবরানী।
ফায়েদা: এই হাদিসটি যয়ীফ তথা দুর্বল। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: যয়ীফুল জামিউসসাগীর, আলবানী, ২/ হা/নং ৬৩৩১।
  كُلُّ الأَعْمَالِ فِيْهَا الْمَقْبُوْلُ وَالْمَرْدُوْدُ إِلاَّ الصَّلاَةُ عَلَيَّ فَإِنَّهَا مَقْبُوْلَةٌ غَيْرَمَرْدُوْدَةٍ
সাত- সকল আমলের কিছু গ্রহণযোগ্য হয় আর কিছু অগ্রহণযোগ্য। কিন্তু আমার জন্য পঠিত দরূদ কখনো অগ্রাহ্য হয়না। বরং সর্বদা গৃহিত হয়।
ফায়েদা: এই হাদিসটি যয়ীফ। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: আলফাওয়ায়িদুল মাজমূ‘আঃ হা/নং ১০৩১।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বত লাভ করা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূন্নাতের অনুসরণ তার আদেশ নিষেধসমূহের বাস্তবায়ন দ্বারাই হয়ে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ قُلۡ إِن كُنتُمۡ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِي يُحۡبِبۡكُمُ ٱللَّهُ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۚ وَٱللَّهُ غَفُورٞ رَّحِيمٞ ٣١ قُلۡ أَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَۖ فَإِن تَوَلَّوۡاْ فَإِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ ٱلۡكَٰفِرِينَ ٣٢ ﴾ [ال عمران: ٣١،  ٣٢] 
বল, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু, বল, তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য কর। তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদেরকে ভালোবাসেন না।[83]
এ আয়াত দ্বারা বুঝা যায়, যে ব্যক্তি আল্লাহকে মহবব্বত করে বলে দাবী করে অথচ সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের অনুসরণ করে না, সে অবশ্যই স্বীয় দাবীতে মিথ্যুক। তাকে অবশ্যই যাবতীয় কর্মে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূন্নাতের অনুসরণ করতে হবে। যেমন, বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ» (رواه البخاري ومسلم)
‘যে ব্যক্তি দ্বীনের মধ্যে এমন কোনো কাজ করেছে যার ভিত্তি শরীয়তে নেই, সেই কাজ পরিত্যাজ্য’।[84] (বুখারী, মুসলিম)
এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
قُلۡ إِن كُنتُمۡ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِي يُحۡبِبۡكُمُ ٱللَّهُ
অর্থাৎ, তোমাদের জন্য তাকে মহব্বত করার চেয়েও বড় জিনিষটি লাভ হবে। আর তা হল, তিনি তোমাদের মহব্বত করবেন। আর এটি অবশ্যই প্রথমটি হতে উত্তম। হাসান বাসরী রহ. ও অন্যান্য সালফে সালেহীনগণ বলেন, অনেক মানুষ দাবী করে আমরা আল্লাহ তা‘আলাকে ভালোবাসী। আল্লাহ তা‘আলা তাদের এ আয়াতের মাধ্যমে যাচাই করেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
 قُلۡ إِن كُنتُمۡ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِي يُحۡبِبۡكُمُ ٱللَّهُ
তারপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
 وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۚ وَٱللَّهُ غَفُورٞ رَّحِيمٞ
অর্থাৎ, তোমরা যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করবে, তখন তোমাদের জন্য আল্লাহর আয়াতে ঘোষিত পুরস্কার লাভ হবে। তারপর আল্লাহ তা‘আলা সবাইকে সম্বোধন করে বলেন,
قُلۡ أَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَۖ فَإِن تَوَلَّوۡاْ أي: خالفوا عن أمره فَإِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ ٱلۡكَٰفِرِينَ
আয়াত দ্বারা বুঝা যায়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের বিরোধিতা করা কুফর। আর যারা কুফরি করে তাদের আল্লাহ তা‘আলা মহব্বত করেন না। যদিও সে এ দাবী করে যে, সে আল্লাহকে মহব্বত করে এবং তার নৈকট্য লাভ করে। কিন্তু রাসূল সা. এর ইত্তেবা ছাড়া সে মুমিন হতে পারবে না। রাসূল জ্বীন ও মানুষ উভয় সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত রাসূল তার সবার উপর তার ইত্তেবা করা ফরয। এমন কি যদি কোনো নবী বা রাসূল ও বড় কোনো মনীষীও তার যুগে আগমন করত তাহলে তার উপর রাসূলে উপর ঈমান আনা, তার ইত্তেবা করা ও তার আনীত দ্বীনের অনুসরণ করা ওয়াজিব হত।রেফারেন্স. সমুহ, [51] বুখারী, হাদিস: ৮৩১
[52] তিরমিযী, হাদিস: ২৭৬৭। (সহীহ)
[53] শাফেয়ী, হাদিস: ৫৮১ । (সহীহ)
[54] মুসলিম, হাদিস: ৩৮৪।
[55] আহমদ, হাদিস: ২০ (সহীহ)
[56] দায়লামী, হাদিস: ১২১৫। (হাসান)
[57] নাসায়ী, ১২৮২। (সহীহ)
[58] হাকেম, বায়হাকী, হাদিস: ১২১৯। (সহীহ)
[59] আবুদাউদ, হাদিস: ৯২৫। (সহীহ)
[60] তিরমিযী, হাদিস: ২৭৬৫ (সহীহ)
[61] তিরমিযী, হাদিস: ১৯৯৯
[62] তিরমিযী, হাদিস: ২৮১১ (সহীহ)
[63] ইবনু মাজাহ, ৬২৫। (সহীহ)
[64] আবু ইয়া‘লা, হাদিস: ২১৩ (হাসান)
[65] তিরমিযী, হাদিস: ২৬৯১। (সহীহ)
[66] ত্বাবরানী, হাদিস: ৬২৩৩ (হাসান)
[67] সূরা আহযাব, আয়াত: ৫৬
[68] মুসলিম, হাদিস: ৩৮৪।
[69] নাসাঈ, হাদীস : ১২৮৩।
[70] তাবরানী, হাদিস: ৫৬৭৪
[71] ইবনু মাযা, হাদিস: ৯০৭
[72] আহমদ, হাদিস: ১৬৩৫২
[73] নাসায়ী, হাদিস: ইবনে হিব্বান (সহীহ)
[74] তাবরানী, হাদিস: সহীহ
[75] আহমদ ও আবু দাউদ: ২০৪১ হাদিসটি হাসান
[76] বাইহাকী, হাদিস: ৫৯৯৫
[77] তিরমিযি, হাদিস:
[78] সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১
[79] বর্ণনায় তিরমিযি, হাদিস: ২৪৫৭, তিনি বলেন হাদিসটি হাসান ও সহীহ।
[80] আল্লামা জাহদামী হাদিসটি বর্ণনা করেন এবং আল্লামা আলবানী হাদিসটিকে সহীহ বলে আখ্যায়িত করেন।
[81] তাবরানী মওকুফ সনদে হাদিসটি বর্ণনা করেন। হাদিসটি বিশুদ্ধ।
[82] (বর্ণনায় তিরমিযি, হাদিস নং ৪৮৬, হাদিসটি সহীহ)
[83] সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১, ৩২
[84] বুখারী: ২৫৫০, মুসলিম: ১৭১৮
_________________________________________________________________________________

সংকলক: জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের
সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
সূত্র: ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ, সৌদিআরব

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s