মদিনা মুনাওওয়ারার নাম ফজিলত ও এখানে অবস্থানের ফজিলত!


পবিত্র মদীনা মুনাওওয়ারার নাম, ফযিলত ও এখানেঅবস্থানের আদবসমূহবিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমপবিত্র মদীনা মুনাওওয়ারাকে বলা হয় দ্বিতীয় হারাম।মুসলিম হৃদয়ে এ নগরীটির প্রতি রয়েছেঅপরিসীম শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও মর্যাদা। কেননা এটি ছিলপ্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামেরহিজরতভূমি। তিনি তাঁর জীবনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণশেষ দশ বছর এ নগরীতেই কাটিয়েছেন।অহীর বৃহত্তর অংশ এখানেই তাঁর উপর অবতীর্ণহয়। এ নগরীকে কেন্দ্র করেই তিনি আল্লাহরসাহায্যে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিকভাবেপ্রতিষ্ঠিত করেন। বস্তুত আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নগরীকে বিভিন্ননামে অভিহিত করে অনেক ফযিলত, মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যদিয়ে একে অভিষিক্ত করেছেন।পবিত্র মদীনা মুনাওওয়ারার নামমদীনাকে অনেকগুলো নামে অভিহিত করাহয়েছে, যা তার ফযিলত ও মর্যাদার প্রমাণ বহনকরছে। কেননা একই জিনিসের অনেক নাম সেজিনিসের মর্যাদা ও গুরুত্বের প্রমাণবাহী।ঐতিহাসিকগণ এ নগরীর বহু নাম উল্লেখকরেছেন। ‘আল্লামা সামহুদী’ এর ৯৪টি নামউল্লেখ করেছেন।তন্মধ্যে ‘মদীনা’ নামটি সর্বাধিক প্রসিদ্ধ, যা আল-কুরআনে চার বার এসেছ। [সূরা আত্-তাওবাহ: ১০১,১২০, সূরা আল আহযাব: ৬০, সূরা আল-মুনাফেকুন: ৮]আর হাদীসে এ নামটি অসংখ্যবার এসেছে।মদীনার আরেকটি নাম ‘ত্বাবাহ’। ইমাম মুসলিম জাবেররাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,‏« ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﺳَﻤَّﻰ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔَ ﻃَﺎﺑَﺔ ‏»‘‘আল্লাহ তা’য়ালা এ মদীনাকে ‘ত্বাবাহ’ নামে নামকরণকরেছেন।’’ [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৪২৩]এ শহরের অন্যতম আরেকটি নাম হল ‘ত্বাইবাহ’ বা‘ত্বাইয়েবাহ’। ইমাম মুসলিমের আরেকটি বর্ণনাএসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,‏«ﻫَﺬِﻩِ ﻃَﻴْﺒَﺔُ ﻫَﺬِﻩِ ﻃَﻴْﺒَﺔُ ﻫَﺬِﻩِ ﻃَﻴْﺒَﺔ ‏»‘‘এ নগরী হল ত্বাইবাহ, ত্বাইবাহ, ত্বাইবাহ’’। [সহীহমুসলিম, হাদীস নং ৭৫৭৩]ত্বাবাহ ও ত্বাইবাহ কিংবা ত্বাইয়েবাহ শব্দগুলোর অর্থহল পবিত্র বা উত্তম।আরো যে সব নামে মদীনাকে অভিহিত করা হয়তম্মধ্যে রয়েছে ‘আদ-দার’, ‘আল-হাবীবা’, ‘দারুলহিজরাহ’, ‘দারুল ফাতহ’ ইত্যাদি।আর জাহেলী যুগে মদীনার নাম ছিল ‘ইয়াসরিব’।কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এনামে এ শহরটিকে অভিহিত করতে অপছন্দকরেছেন। ইমাম বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেন,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,‏« ﺃُﻣِﺮْﺕُ ﺑِﻘَﺮْﻳَﺔٍ ﺗَﺄْﻛُﻞُ ﺍﻟْﻘُﺮَﻯ ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﻳَﺜْﺮِﺏُ ﻭَﻫْﻲَ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔ ‏»‘‘আমাকে এমন এক জনপদে হিজরত করার নির্দেশদেয়া হয়েছে যা অন্য সব জনপদকে গ্রাসকরবে। লোকজন একে ইয়াসরিব বলে। অথচ এটিহল মদীনা’’। [সহীহ বুখারী – ১৮৭১ ও সহীহমুসলিম-৩৪১৯]মদীনার ফযিলত ও মর্যাদা1. 1. রাসূলের প্রিয় নগরী:এ নগরী যাতে অন্য সকলেরও প্রিয় হয়, সেজন্যতিনি আল্লাহর কাছে দো‘আ করেছিলেন,‏« ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺣَﺒِّﺐْ ﺇِﻟَﻴْﻨَﺎ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔَ ﻛَﺤُﺒِّﻨَﺎ ﻣَﻜَّﺔَ ، ﺃَﻭْ ﺃَﺷَﺪ ‏»‘‘হে আল্লাহ! তুমি মদীনাকে আমাদের কাছে প্রিয়করে দাও, যেমনি ভাবে প্রিয় করেছ মক্কাকে, বরংতার চেয়েও বেশী প্রিয় কর।’’ [সহীহ বুখারী:১৮৮৯, সহীহ মুসলিম: ৩৪০৮]1. 2. রাসূলের শেষ জীবনের স্থায়ী নিবাস:এ নগরীতেই তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকুঅতিবাহিত করেছেন। হেদায়াতের আলো নিয়েএর আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছেন মানুষকেসত্যের দিশা দেয়ার জন্য। এর প্রতিটি ধুলিকণা সাক্ষ্যদিবে যে, তিনি মানুষকে এক আল্লাহর দিকেডেকেছেন, একমাত্র সত্যধর্ম ইসলামের দিকেডেকেছেন, ইহ ও পরকালীন মুক্তির দিকেডেকেছেন।1. 3. এ নগরীর সবকিছুতে বরকত দেয়ার জন্যদো‘আ:নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহরকাছে মদীনার সবকিছুতে বরকত দেয়ার জন্যনিম্নবর্ণিত দো‘আটি করেন:‏«ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺑَﺎﺭِﻙْ ﻟَﻨَﺎ ﻓِﻰ ﺛَﻤَﺮِﻧَﺎ ﻭَﺑَﺎﺭِﻙْ ﻟَﻨَﺎ ﻓِﻰ ﻣَﺪِﻳﻨَﺘِﻨَﺎ ﻭَﺑَﺎﺭِﻙْ ﻟَﻨَﺎﻓِﻰ ﺻَﺎﻋِﻨَﺎ ﻭَﺑَﺎﺭِﻙْ ﻟَﻨَﺎ ﻓِﻰ ﻣُﺪِّﻧَﺎ ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻥَّ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ ﻋَﺒْﺪُﻙَﻭَﺧَﻠِﻴﻠُﻚَ ﻭَﻧَﺒِﻴُّﻚَ ﻭَﺇِﻧِّﻰ ﻋَﺒْﺪُﻙَ ﻭَﻧَﺒِﻴُّﻚَ ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﺩَﻋَﺎﻙَ ﻟِﻤَﻜَّﺔَ ﻭَﺇِﻧِّﻰﺃَﺩْﻋُﻮﻙَ ﻟِﻠْﻤَﺪِﻳﻨَﺔِ ﺑِﻤِﺜْﻞِ ﻣَﺎ ﺩَﻋَﺎﻙَ ﻟِﻤَﻜَّﺔَ ﻭَﻣِﺜْﻠِﻪِ ﻣَﻌَﻪ ‏»‘‘হে আল্লাহ! তুমি আমাদের ফল-ফলাদিতে বরকতদাও। আমাদের এ মদীনায় বরকত দাও। আমাদেরআহার্য্য, শস্য ও খাদ্য-দ্রব্যে বরকত দাও। হেআল্লাহ! নিশ্চয়ই ইবরাহীম তোমার বান্দা, তোমারবন্ধু ও তোমার নবী। আর আমিও তোমার বান্দা ওতোমার নবী। তিনি মক্কা নগরীর বরকতের জন্যতোমার কাছে দো‘আ করেছিলেন। মক্কার জন্যযে পরিমাণ দো‘আ তিনি তোমার কাছেকরেছিলেন, মদীনার জন্য সে পরিমাণ এবং তদনুরূপআরেকগুণ বরকতের দো‘আ আমি তোমার কাছেকরছি।’’ [সহীহ মুসলিম: ৩৪০০]অন্য বর্ণনায় এরকম দো‘আ এসেছে,‏« ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﺟْﻌَﻞْ ﺑِﺎﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔِ ﺿِﻌْﻔَﻰْ ﻣَﺎ ﺑِﻤَﻜَّﺔَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺒَﺮَﻛَﺔ ‏»‘‘হে আল্লাহ! মক্কায় যতটুকু বরকত রয়েছে,মদীনায় তার দ্বিগুণ বরকত দাও।’’ [সহীহ মুসলিম -৩৩৯২]1. 4. মদীনাকে ‘হারাম’ বলে ঘোষণা:হারাম শব্দের একটি অর্থ হচ্ছে নিষিদ্ধ এবংআরেকটি পবিত্র। দু’টো অর্থই এ নগরীরক্ষেত্রে প্রযোজ্য। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:‏« ﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔُ ﺣَﺮَﻡٌ ﻣَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﻋَﻴْﺮٍ ﺇِﻟَﻰ ﺛَﻮْﺭ ‏»‘‘মদীনার ‌‘আইর ও সওর পর্বতের মাঝখানেরস্থানটুকু হারাম’’। [সহীহ মুসলিম: ৩৩৯৩]‏« ﺇِﻥَّ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ ﺣَﺮَّﻡَ ﻣَﻜَّﺔَ ﻭَﺇِﻧِّﻰ ﺣَﺮَّﻣْﺖُ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔَ ﻣَﺎ ﺑَﻴْﻦَﻻَﺑَﺘَﻴْﻬَﺎ ﻻَ ﻳُﻘْﻄَﻊُ ﻋِﻀَﺎﻫُﻬَﺎ ﻭَﻻَ ﻳُﺼَﺎﺩُ ﺻَﻴْﺪُﻫَﺎ ‏»‘‘ইবরাহীম আলাইহিস সালাম মক্কাকে ‘হারাম’ বলেঘোষণা করেছিলেন, আর আমি মদীনাকে তথা এরপ্রস্তরময় দু’ভূমির মাঝখানের অংশকে ‘হারাম’ বলেঘোষণা করছি- এর বৃক্ষসমূহ কাটা যাবে না এবং এরপ্রাণী শিকার করা যাবে না।’’ [সহীহ মুসলিম – ৩৩৮৩]1. ফেরেশতাদের প্রহরায় মদীনাকে মহামারী ওদাজ্জাল থেকে সংরক্ষণের ব্যবস্থা:আল্লাহ তা’আলা মদীনার প্রবেশদ্বারসমূহেফেরেশতাদের মধ্য থেকে প্রহরী নিযুক্তকরেছেন, যারা এতে মহামারী ও দাজ্জালেরপ্রবেশকে প্রতিহত করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,‏« ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻧْﻘَﺎﺏِ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔِ ﻣَﻼَﺋِﻜَﺔٌ ﻻَ ﻳَﺪْﺧُﻠُﻬَﺎ ﺍﻟﻄَّﺎﻋُﻮﻥُ ، ﻭَﻻَﺍﻟﺪَّﺟَّﺎﻝُ‏» .‘‘মদীনার পথে-প্রান্তরে রয়েছে (প্রহরী)ফেরেশতাগণ, (তাই) এখানে মহামারী ও দাজ্জালপ্রবেশ করতে পারবে না।’’ [সহীহ বুখারী -১৮৮০, ৫৭৩১ ও সহীহ মুসলিম – ৩৩৩৭]1. 6. মদীনায় বসবাসের আলাদা গুরুত্ব ও মর্যাদারয়েছে:মদীনায় বসবাসের প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম উৎসাহ দিয়েছেন। এমনকি এখানেবসবাসের ফলে দুঃখ-কষ্টে নিপতিত হলেওধৈর্যধারণ করতে বলেছেন এবং মদীনা ছেড়েযেতে অনুৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেন,‏« ﻳَﺄْﺗِﻰ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﺯَﻣَﺎﻥٌ ﻳَﺪْﻋُﻮ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ ﺍﺑْﻦَ ﻋَﻤِّﻪِ ﻭَﻗَﺮِﻳﺒَﻪُﻫَﻠُﻢَّ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺮَّﺧَﺎﺀِ ﻫَﻠُﻢَّ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺮَّﺧَﺎﺀِ ﻭَﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔُ ﺧَﻴْﺮٌ ﻟَﻬُﻢْ ﻟَﻮْﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ ﻭَﺍﻟَّﺬِﻯ ﻧَﻔْﺴِﻰ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻻَ ﻳَﺨْﺮُﺝُ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﺃَﺣَﺪٌﺭَﻏْﺒَﺔً ﻋَﻨْﻬَﺎ ﺇِﻻَّ ﺃَﺧْﻠَﻒَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺧَﻴْﺮًﺍ ﻣِﻨْﻪُ ﺃَﻻَ ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔَﻛَﺎﻟْﻜِﻴﺮِ ﺗُﺨْﺮِﺝُ ﺍﻟْﺨَﺒِﻴﺚَ . ﻻَ ﺗَﻘُﻮﻡُ ﺍﻟﺴَّﺎﻋَﺔُ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﻨْﻔِﻰَﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔُ ﺷِﺮَﺍﺭَﻫَﺎ ﻛَﻤَﺎ ﻳَﻨْﻔِﻰ ﺍﻟْﻜِﻴﺮُ ﺧَﺒَﺚَ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳﺪِ‏» .‘‘মানুষের কাছে এমন এক সময় আসবে, মদীনায়বসবাসরত ব্যক্তি তার চাচাত ভাই ও আত্মীয়কেবলবে চল স্বচ্ছলতার দিকে, চল স্বচ্ছলতার দিকে।অথচ মদীনাই তাদের জন্য উত্তম, যদি তারা জানত।যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ করে বলছি,মদীনার প্রতি বিরাগভাজন হয়ে যে ব্যক্তিই এখানথেকে বের হয়ে যায়, আল্লাহ তদস্থলে তারচেয়ে উত্তম ব্যক্তি স্থলাভিষিক্ত করে দেন।সাবধান, মদীনা (কামারের) হাঁপরের ন্যায় নিকৃষ্টব্যক্তিকে বের করে দেবে। হাঁপর যেভাবেলোহার ময়লা বের করে দেয়, তেমনি, মদীনা ওতার মন্দ ব্যক্তিদের বের না করা পর্যন্ত ক্বিয়ামতহবেনা।’’ [সহীহ মুসলিম – ৩৪১৮]হিজরী ৬৩ সালে মদীনায় লুট-পাটের যে ফিতনাহয়েছিল সে সময়ে আবু সাঈদ নামক জনৈক ব্যক্তিসাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছেএসে মদীনা থেকে চলে যাওয়ার ব্যাপারেপরামর্শ চাইলো। আর অভিযোগ করল যে,মদীনায় পণ্যের দাম বেশী ও তার পরিবার বড়।মদীনার কষ্ট, বিপদ ও সমস্যায় তার পক্ষে ধৈর্যধারণকরা সম্ভব নয় বলে সে জানাল। তখন আবু সাঈদখুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘‘তোমার ধ্বংসহোক! তোমাকে আমি (কি করে) সে আদেশকরব? অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেআমি বলতে শুনেছি,‏« ﻻَ ﻳَﺼْﺒِﺮُ ﺃَﺣَﺪٌ ﻋَﻠَﻰ ﻷْﻭَﺍﺋِﻬَﺎ ﻓَﻴَﻤُﻮﺕَ ﺇِﻻَّ ﻛُﻨْﺖُ ﻟَﻪُ ﺷَﻔِﻴﻌًﺎ ﺃَﻭْﺷَﻬِﻴﺪًﺍ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺇِﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﻣُﺴْﻠِﻤًﺎ‏» .‘যে ব্যক্তি মদীনার কষ্টে ধৈর্যধারণ করে তথায়মৃত্যুবরণ করবে, ক্বিয়ামতের দিন আমি তার জন্যশাফায়াত করব অথবা তার পক্ষে সাক্ষ্য দেব, যদি সেমুসলিম হয়।’’ [সহীহ মুসলিম – ৩৪০৫]1. 7. মদীনার দু:খ-কষ্ট ও বালা-মুসিবতেধৈর্যধারণের মর্যাদা:রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,‏« ﻻَ ﻳَﺼْﺒِﺮُ ﺃَﺣَﺪٌ ﻋَﻠَﻰ ﻷْﻭَﺍﺋِﻬَﺎ ﻓَﻴَﻤُﻮﺕَ ﺇِﻻَّ ﻛُﻨْﺖُ ﻟَﻪُ ﺷَﻔِﻴﻌًﺎ ﺃَﻭْﺷَﻬِﻴﺪًﺍ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺇِﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﻣُﺴْﻠِﻤًﺎ‏» .‘‘যে ব্যক্তি মদীনার কষ্ট ও বালা-মুসিবতে ধৈর্যধারণকরবে, ক্বিয়ামতের দিন আমি তার পক্ষে সাক্ষ্যদেব কিংবা তার জন্য শাফায়াত করব।’’ [সহীহ মুসলিম -৩৪০৫]1. 8. মদীনায় মৃত্যু হওয়ার মর্যাদা:রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,‏« ﻣَﻦْ ﺍﺳْﺘَﻄَﺎﻉَ ﺃَﻥْ ﻳَﻤُﻮﺕَ ﺑِﺎﻟﻤَﺪِﻳﻨَﺔِ ﻓَﻠْﻴَﻤُﺖْ ﺑِﻬَﺎ ، ﻓَﺈِﻧِّﻲﺃَﺷْﻔَﻊُ ﻟِﻤَﻦْ ﻳَﻤُﻮﺕُ ﺑِﻬَﺎ‏» .‘‘যে ব্যক্তি মদীনায় মৃত্যুবরণ করতে সক্ষম, সেযেন তা করে। কেননা যে তথায় মৃত্যুবরণ করবে,আমি তার জন্য শাফায়াত করব।’’ [সহীহ সূত্রে ইমামআহমাদ: ৫৮১৮]1. 9. মদীনা ঈমানের স্থান:মদীনা দারুল ঈমান বা ঈমানের গৃহ। তাইতো এখানথেকেই ঈমানের আলো সারা বিশ্বে বিচ্ছুরিতহয়েছিল। পরিশেষে মানুষ যখন ঈমান হতে বিচ্যুতহতে থাকবে, তখন ঈমান তার গৃহে তথা মদীনারদিকে ফিরে আসবে, যেভাবে সাপ তার গর্তেরদিকে ফিরে আসে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,‏« ﺇِﻥَّ ﺍﻹِﻳﻤَﺎﻥَ ﻟَﻴَﺄْﺭِﺯُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔِ ﻛَﻤَﺎ ﺗَﺄْﺭِﺯُ ﺍﻟْﺤَﻴَّﺔُ ﺇِﻟَﻰﺟُﺤْﺮِﻫَﺎ‏» . “ঈমান মদীনার দিকে ফিরে আসবে, যেভাবে সাপতার গর্তের দিকে ফিরে আসে’’। [সহীহ বুখারী- ১৮৭৬ ও মুসলিম – ৩৭২]1. 10. মদীনায় ইলম শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেয়ারমর্যাদা:মদীনা ছিল প্রথম বিদ্যালয় যা মহানবী সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতের এমন একপ্রজন্মের তারবিয়াতের জন্য প্রতিষ্ঠিতকরেছিলেন, ইতিহাসে যাদের আর কোন জুড়িমেলে না। তাইতো এখান থেকে বের হয়েছেঅসংখ্য সৎ ও বিজ্ঞ আলেম, যারা স্বীয় ইলম ওতারবিয়াতের মাধ্যমে জগতকে আলোকিতকরেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেন,‏«ﻳَﻀْﺮِﺑُﻮﻥَ ﺃَﻛْﺒَﺎﺩَ ﺍﻹِﺑِﻞِ ﻳَﻄْﻠُﺒُﻮﻥَ ﺍﻟْﻌِﻠْﻢَ ﻓَﻼَ ﻳَﺠِﺪُﻭﻥَ ﻋَﺎﻟِﻤًﺎﺃَﻋْﻠَﻢَ ﻣِﻦْ ﻋَﺎﻟِﻢِ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔ ‏»‘‘মানুষ হন্যে হয়ে ইলম অনুসন্ধান করবে, তবেমদীনার আলেমের চেয়ে অধিক বিজ্ঞ কোনআলেম তারা খুঁজে পাবে না।’’ [নাসায়ী: ৪২৭৭ ওহাকেম: ৩০৭ সহীহ সূত্রে]তিনি আরো বলেন,‏« ﻣَﻦْ ﺟَﺎﺀَ ﻣَﺴْﺠِﺪَﻧَﺎ ﻫَﺬَﺍ ﻳَﺘَﻌَﻠَّﻢُ ﺧَﻴْﺮًﺍ ﺃَﻭْ ﻳُﻌَﻠِّﻤُﻪُ ﻓَﻬُﻮَﻛَﺎﻟْﻤُﺠَﺎﻫِﺪِ ﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠﻪِ ‏»‘‘যে ব্যক্তি আমার মসজিদে শুধু এই জন্যেই আসেযে, সে কোন কল্যাণের দীক্ষা নেবে কিংবাঅন্যদের শিক্ষা দেবে, সে আল্লাহর পথেজিহাদকারীর সমতূল্য।’’[হাকিম: ৩০৯, বুখারী ওমুসলিমের শর্তানুযায়ী]1. 11. মদীনায় রয়েছে পবিত্র মাসজিদে নববী:স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতেতৈরী এ মাসজিদের অসংখ্য ফযিলত রয়েছে। রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,‏« ﺻَﻼَﺓٌ ﻓِﻲ ﻣَﺴْﺠِﺪِﻱ ﻫَﺬَﺍ ﺧَﻴْﺮٌ ﻣِﻦْ ﺃَﻟْﻒِ ﺻَﻼَﺓٍ ﻓِﻴﻤَﺎ ﺳِﻮَﺍﻩُﺇِﻻَّ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪَ ﺍﻟْﺤَﺮَﺍﻡَ‏» .‘‘আমার এ মাসজিদে নামায আদায় (মক্কার) মাসজিদুল হারামছাড়া অন্য যে কোন মাসজিদে নামায আদায়অপেক্ষা এক হাজার গুণ উত্তম।’’ [সহীহ বুখারী:১১৯০ ও সহীহ মুসলিম: ৩৪৪০]মাসজিদে নববী হচ্ছে সেই তিন মাসজিদের একটি,যার উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত হতে সওয়াবেরউদ্দেশ্যে সফর করা বৈধ। নবী করীম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,‏« ﻻَ ﺗُﺸَﺪُّ ﺍﻟﺮِّﺣَﺎﻝُ ﺇِﻻَّ ﺇِﻟَﻰ ﺛَﻼَﺛَﺔِ ﻣَﺴَﺎﺟِﺪَ ﻣَﺴْﺠِﺪِﻯ ﻫَﺬَﺍﻭَﻣَﺴْﺠِﺪِ ﺍﻟْﺤَﺮَﺍﻡِ ﻭَﻣَﺴْﺠِﺪِ ﺍﻷَﻗْﺼَﻰ‏» .‘‘তিনটি মাসজিদ ছাড়া আর কোথাও (সাওয়াবের নিয়তে)সফর করা জায়েয নেই। এগুলো হল: (মক্কার)মাসজিদুল হারাম, আমার এই মাসজিদ এবং মাসজিদুলআকসা।’’ [সহীহ বুখারী: ১১৮৯ ও সহীহ মুসলিম:৩৪৫০]আর এ মাসজিদ নববীতে ‘রাওদাতুম মিন রিয়াদুল জান্নাহ’রয়েছে যার সম্পর্কে স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,‏« ﻣَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﻣِﻨْﺒَﺮِﻯ ﻭَﺑَﻴْﺘِﻰ ﺭَﻭْﺿَﺔٌ ﻣِﻦْ ﺭِﻳَﺎﺽِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ‏» .‘‘আমার মিম্বর ও ঘরের মাঝখানের অংশটুকু জান্নাতেরবাগিচা সমূহের একটি বাগিচা।’’ [সহীহ বুখারী: ১১৯৫ ওসহীহ মুসলিম: ৩৩৫৬]1. 12. মদীনায় রয়েছে মাসজিদে কুবা:এ মাসজিদে নামায পড়ার ফযিলত সম্পর্কে রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,‏«ﻣَﻦْ ﺗَﻄَﻬَّﺮَ ﻓِﻲ ﺑَﻴْﺘِﻪِ ﺛُﻢَّ ﺃَﺗَﻰ ﻣَﺴْﺠِﺪَ ﻗُﺒَﺎﺀٍ ، ﻓَﺼَﻠَّﻰ ﻓِﻴﻪِﺻَﻼَﺓً، ﻛَﺎﻥَ ﻟَﻪُ ﻛَﺄَﺟْﺮِ ﻋُﻤْﺮَﺓٍ‏» .‘‘যে ব্যক্তি নিজ ঘরে ত্বাহারাত তথা পবিত্রতা অর্জনকরে মাসজিদে কুবায় গিয়ে কোনো নামায পড়ে,তার জন্য উমরার সমান সাওয়াব অর্জিত হবে।’’ [সহীহসূত্রে আহমাদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ]মদীনায় অবস্থানের আদবসমূহ1. 1. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেকুদওয়া ও আদর্শ হিসাবে সর্বান্তকরণে মেনেনেয়া:কেননা তিনিই মদীনাবাসী সবার মাঝে হেদায়াতেরআলো বিতরণ করেছেন এবং তারা তাঁর হেদায়েতলাভে ধন্য হয়েছে। সুতরাং বর্তমানেও যারা মদীনায়অবস্থান করছে, স্থায়ীভাবে হোক কিংবা সাময়িকভাবে, তাদের জন্যেও ওয়াজিব হচ্ছে তাঁকেজীবনের সর্বক্ষেত্রে অনুসরণ করা, যাতে তারাতাঁর প্রচারিত হেদায়াতের দিশা লাভে ধন্য হতেপারে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴿ ﻟَّﻘَﺪۡ ﻛَﺎﻥَ ﻟَﻜُﻢۡ ﻓِﻲ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﺃُﺳۡﻮَﺓٌ ﺣَﺴَﻨَﺔٞ ﻟِّﻤَﻦ ﻛَﺎﻥَﻳَﺮۡﺟُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻭَﭐﻟۡﻴَﻮۡﻡَ ﭐﻟۡﺄٓﺧِﺮَ ﻭَﺫَﻛَﺮَ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻛَﺜِﻴﺮٗﺍ ٢١ ﴾ ‏[ ﺍﻻﺣﺰﺍﺏ: ٢١‏]‘‘রাসূলুল্লাহর মধ্যে তোমাদের (সে লোকদের)জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ, যারা আল্লাহ ও শেষদিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে খুব বেশীস্মরণ করে।’’ [সূরা আল-আহযাব: ২১]1. 2. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামেরসুন্নাত অনুসরণের ব্যাপারে সজাগ থাকা এবংসর্বপ্রকার বেদআ‘ত ও পাপাচার থেকে বিরতথাকা:নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,‏« ﻣَﻦْ ﺃَﺣْﺪَﺙَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺣَﺪَﺛًﺎ ﻓَﻌَﻠَﻴْﻪِ ﻟَﻌْﻨَﺔُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟْﻤَﻼَﺋِﻜَﺔِ ﻭَﺍﻟﻨَّﺎﺱِﺃَﺟْﻤَﻌِﻴﻦَ ﻻَ ﻳَﻘْﺒَﻞُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣِﻨْﻪُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺻَﺮْﻓًﺎ ﻭَﻻَ ﻋَﺪْﻻً‏» .‘‘যে ব্যক্তি মদীনায় কোন পাপ করে, অথবাপাপাচারী আশ্রয় দান করে, তার উপর আল্লাহ,ফেরেশতাগণ ও সকল মানুষের লা’নত পড়বে।ক্বিয়ামতের দিন তার কাছ থেকে আল্লাহ কোনইবাদাত ও দান গ্রহণ করবেন না।’’ [সহীহ বুখারী:১৮৭০ ও সহীহ মুসলিম: ৩৩৮৯]1. 3. মদীনায় অবস্থানরত অপরাপর কোনব্যক্তির উপর চড়াও না হওয়া, কারো জান-মাল ওইজ্জতের উপর হামলা করা থেকে সম্পূর্ণ বিরতথাকা এবং কারো প্রতি মন্দ ইচ্ছা পোষণ না করা:এগুলো সবস্থানেই হারাম। তবে মদীনায়শক্তভাবে নিষিদ্ধ। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম বলেন,‏« ﻣَﻦْ ﺃَﺭَﺍﺩَ ﺃَﻫْﻞَ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟْﺒَﻠْﺪَﺓِ ﺑِﺴُﻮﺀٍ – ﻳَﻌْﻨِﻰ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔَ – ﺃَﺫَﺍﺑَﻪُﺍﻟﻠَّﻪُ ﻛَﻤَﺎ ﻳَﺬُﻭﺏُ ﺍﻟْﻤِﻠْﺢُ ﻓِﻰ ﺍﻟْﻤَﺎﺀِ‏» .‘‘যে ব্যক্তি এ নগরীর অধিবাসীদের কোনক্ষতি সাধন করতে চায়, আল্লাহ তাকে মিশিয়েদেবেন (নিশ্চিহ্ন করে দিবেন) যেভাবে লবনপানির মধ্যে মিশে যায়’’। [সহীহ মুসলিম – ৩৪২৪]1. 4. পবিত্র মদীনায় অবস্থানকালে কোনপ্রকার বালা-মুসীবত ও দু:খ-কষ্টের মুখোমুখিহলে ধৈর্যধারণ করা:এ সম্পর্কে ইতোপূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী উল্লেখ করাহয়েছে।1. ইবাদত, দো‘আ, ইস্তেগফার ইত্যাদিতে বেশীবেশী সম্পৃক্ত থাকা:বিশেষ করে মাসজিদে নববীতে নামায জামায়াতসহকারে আদায় করা, মাঝে মাঝে মাসজিদে কুবায়নামায পড়া এবং বাকী‘ কবরস্থান ও উহুদের শহীদসাহাবাদের কবরস্থান যিয়ারত করা উত্তম।আল্লাহ আমাদেরকে পবিত্র মদীনার ফযিলতহৃদয়ঙ্গম করে সে অনুযায়ী বেশী বেশীউত্তম কাজ করার তওফীক দান করুন।

Advertisements