মিথ্যা বা জাল হাদীস প্রচারের ভয়াবহ পরিণতি!!


*যা নবী(স) বলেন নাই তা বলা মানে নবীর(স) এর নামে মিথ্যা বলা, ফলে তার স্থান হবে জাহান্নাম*

🔴 *মিথ্যা হাদিস প্রচারের ভয়াবহ পরিণতি*🔴

*যে হাদিস জাল করে বা বানোয়াট করে বা মিথ্যা হাদিস ছড়ায় এবং যে ব্যক্তি ঐ মিথ্যা হাদিস প্রচারে সহযোগীতা করে, আর যারা তা অনুসরণ করবে, তাদের সমস্ত গুনাহ ঐ ব্যক্তিদের ঘাড়ে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত জমা হতে থাকবে।*

সর্ব প্রথমে আমি অযোগ্য ব্যক্তি ক্ষমা চাচ্ছি ও বিনীত অনুরোধ করছি, যদি কখনো মনে হয় যে, আমি নবী (স) এর পথ থেকে সামান্যতম ও বিচ্যুত হচ্ছি,তাহলে অবশ্যই আমাকে সতর্ক করবেন।

📚কুরান বলেঃ
*”ধর্মে জবরদস্তি নেই, ….”* (আল বাকারা – ২৫৬)

📚 *…আর যারা কেতাবের মাঝে মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে নিশ্চয়ই তারা জেদের বশবর্তী হয়ে অনেক দূরে চলে গেছে।* [ আল বাকারা – ১৭৬ ]

📚নবী (স) বলেন……. *”যে ব্যক্তি আমার সম্পর্কে এমন কথা প্রচার করলো যা আমি বলিনি, তবে সে নিজের জায়গা জাহান্নামে ঠিক করে নিলো”*
– (হাদীস টি আছে: মিশকাত, রিয়াদুস সালেহিন, সিহাহ সিত্তার অন্যান্য বই তে)

কথাগুলো সুন্দর কিন্তু নবী(স)র নামে জঘন্য মিথ্যা অপবাদ ও রয়েছে যেমন- খাওয়ার আগে ও পরে লবণ খাওয়া,ঘুমের আগে২১বার বিসমিল্লাহ,খাওয়ার আগে পানি খাওয়া শিফা, ৩৩লাখ নেকী ইত্যাদি মিথ্যা হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
*দেখুন ইসলাম আবেগ দিয়ে নয়, দলিল দিয়ে চলে।*

আর তাই বর্ণিত… আমি (উমর রঃ)অবশ্যই তোমাকে চুন্বন করব এবং *আমি অবশ্যই জানি যে, তুমি একটি পাথর, তুমি কারও ক্ষতিও করতে পার না এবং উপকারও করতে পার না। আমি যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখতাম তবে আমি তোমায় চুম্বন করতাম না।* (মুসলিম ২৯৩৯)

মানে ওমর(রঃ) কাল পাথরকে দলিল মোতাবেক চুমো দিয়েছেন, যেহেতু ইসলাম দলিল দিয়েই চলে।

📚রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন,
“ *তোমরা (দ্বীন) নব উদ্ভাবিত কর্মসমূহ (বিদআত) থেকে বেঁচে থাকবে। কারণ, প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।”*৮১ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী)

📚“ *যে ব্যক্তি আমার এই দ্বীনে (নিজের পক্ষ থেকে) কোন নতুন কিছু উদ্ভাবন করল- যা তাঁর মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য*
৮২ (বুখারী ও মুসলিম)

📚মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, *যে ব্যাক্তি এমন কাজ করল, যে ব্যপারে আমাদের নির্দেশ নেই, তা বর্জনীয়।*

তবে বলা বাহুল্য, নব আবিষ্কৃত পার্থিব কোন বিষয়কে বিদআত বলা যাবে না।

একজন মুসলিম হিসেবে আমার দায়িত্ব কুরান হাদিস মোতাবেক সত্যকে তুলে ধরা, কে কিভাবে গ্রহণ করবে সেটা যার যার বিবেকের কাছে।

*আল্লাহ তাদের অন্তর কলুষিত করে দেন, যারা তার বিবেক-বুদ্ধি ব্যবহার করে না। (কুরান-১০:১০০)*

নিম্নে প্রচলিত কিছু জাল হাদীস বা জ্ঞানীদের কিছু কথাকে নবী(স) এর উক্তি বলে চালানো কি রকম দেখুন ঃ
…………….
১.দেশপ্রেম ইমানের অংগ
………….
২. মুর্খের ইবাদতের চেয়ে জ্ঞানীর ঘুম উত্তম
………..
৩. স্বামীর পা এর নিচে স্ত্রীর বেহেশত
………….
৪. খাদ্য খাবার সময় সালাম দেয়া যাবেনা
…………….
৫. আমি তিন কারণে আরবদের ভালবাসি , জান্নাতের ভাষা আরবী, আরবদের ভাষা আরবী, আমার ভাষাও আরবী
………….
৬. ওলিগণের কারামত সত্য
………….
৭.. যে নিজকে চিনলো সে তার রবকে চিনলো
…………..
৮.. মসজিদে দুনিয়াবী কথা বললে তার চল্লিশ বছরের আমল নষ্ট হয়
………….
৯. মুমিনের হৃদয় আল্লাহর আরশ
…………
১০. প্রয়োজনে চীন দেশে গিয়ে বিদ্যা অর্যন করো
…………..
১১. শহিদের রক্তের চেয়ে জ্ঞানীর কলমের কালি উত্তম . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
১২. খাবারের আগে লবণ খাওয়া

বুঝতেই পারছেন, কেউ একজন লেখা পড়া শিখতে চাইছেনা, তাকে লেখা পড়া শিখানোর জন্য বলে দিলো ১০ নং কথাটি| লোকটি প্রশ্ন করলো এটা মিথ্যা কথা | তখন ছদ্মবেশি মাস্টর বললো এটা হাদীস | আর ধর্মপ্রাণ মুসলিম তা মেনে নিল ও প্রচার করতে লাগলো | এভাবে ….. একই ভাবে নিজের কথা মানানোর জন্য প্রচার করে |
………..
আর ১নং জাল হাদীস এর উদ্দেশ্য কিন্তু এটা নয় যে দেশপ্রেম করা যাবেনা, দেশপ্রেম ইমানদারের বৈশিষ্ট ঠিক আছে, রাসুল (সঃ) এর কাজে কর্মে দেশপ্রেম ছিল যা মুসলিমের বৈশিষ্ঠ সব ঠিক আছে.. কিন্তু এটি রাসুল (সঃ) এর কথা নয়, তিনি উক্তিটি করেননি |
.
এটি কোন মণিষির কথা | জ্ঞাণীরা তার চিন্তা থেকে এটা বলেছেন এবং কথাটি ঠিক আছে | কিন্তু একে কি হাদীস বলা ঠিক ? আপনি পারবেন আপনার একটা কথাকে হাদীস বলতে ? ভেবে দেখুন …..

আশা করি বুঝতে পেরেছেন……

….. …..Ref #”বইঃ হাদীসের নামে জালিয়াতি”
লেখক: ড. আ. ন. ম. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর | প্রভাষক – আল হাদীস বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া | অনার্স ও মাস্টার্স মদীনা বিশ্ববিদ্যালয় |

📚কুরান বলো — *”তোমরা যদিন আল্লাহ্‌কে ভালোবাস তবে তোমরা আমায়(নবী সঃ কে) অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ্ তোমাদের ভালবাসবেন, আর তোমাদের পরিত্রাণ করবেন তোমাদের অপরাধ থেকে….।’’*

আল্লাহ পবিত্র কুরানে বলেন,… *আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্মব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ করলাম* মানে ইসলামের শরীয়ত পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন।

এর পরেও যদি আমরা আজ ও দ্বীনের ব্যাপারে রদ বদল বা যোগ বিয়োগ করি তাহলে সেটা হবে নবী(স)এর জন্য অবমাননাকর। সেটা যত ভালই মনে করি না কেন তা অগ্রহণযোগ্য ও পরিত্যাজ্য।

কুরান [৪ -ঃ১১৫ ]
*আর যে কেউ রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে পথনির্দেশ তার কাছে সুস্পষ্ট হবার পরে, আর অনুসরণ করে মূমিনদের পথ থেকে ভিন্ন, আমরা তাকে ফেরাবো সেই দিকে যে দিকে সে ফিরেছে, আর তাকে প্রবেশ করাবো জাহান্নামে, আর মন্দ সেই গন্তব্যস্থান!*

🔥কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … সাহল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ *আমি ‘হাওয’ (কাওসার) এর কাছে তোমাদের জন্য অগ্রগামী। যে সেখানে আসবে, সেই পান করবে। আর যে তা থেকে পান করবে, সে কখনো পিপাসার্ত হবে না। আর আমার কাছে এমন কতক দল উপনীত হবে, যাদের আমি চিনতে পারব এবং তারাও আমাকে চিনতে পারবে। তারপর আমার ও তাদের মাঝে বাধা সৃষ্টি করা হবে। রাবী আবূ হাযিম (রহঃ) বলেন, আমি যখন তাঁদের কাছে এ হাদীস বর্ণনা করি, তখন নুমান ইবনু আবূ আয়্যাশ শুনে বললেন, তুমি কি সাহল (রাঃ) কে এরূপই বলতে শুনেছো? তিনি বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। নুমান বললেন, আর আমি আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি অবশ্যই তাকে অধিক রিওয়ায়াত করতে শুনেছি যে, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলবেন, এরা তো আমার উম্মাত! তখন বলা হবে, আপনি তো জানেন না, তারা আপনার পরে কি আমল করেছে। আমি বলবঃ দূর হও, দূর হও, যারা আমার পরে (দ্বীনে) রদ-বদল করেছে।*

(মুসলিম ৫৭৬৮)

🔥 *যে হাদিস জাল করে বা বানোয়াট করে বা মিথ্যা হাদিস ছড়ায় এবং যে ব্যক্তি ঐ মিথ্যা হাদিস প্রচারে সহযোগীতা করে, আর যারা তা অনুসরণ করবে, তাদের সমস্ত গুনাহ ঐ ব্যক্তিদের ঘাড়ে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত জমা হতে থাকবে।*

তাই যে কোন হাদিস প্রচারের আগে তা অবশ্যই যাচাই করা আবশ্যক।তা যদি শুনতে ভাল ও মনে হয়।
তবে আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে ক্ষমা করবেন ইন শা আল্লাহ, যদি সে
ঐ প্রচারকৃত হাদিস সবার থেকে প্রত্যাহার করে নেয় ও সংশোধন করে দেয়।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাফ করুন।
…আমীন…।collected