রাসুলুল্লাহ সঃ এর মহব্বতকারী নাকি দুশমন!?


রাসূলের মহব্বতকারী নাকি দুশমন?একবিংশ শতাব্দীর গোড়ায় দাঁড়িয়ে যখন নিত্যনতুনবাদ-মতবাদের আঘাত একেরপর এক আছড়েপড়ছে ইসলামের কূলে, তখন ভ্রান্ত বিদআতীগোষ্ঠী নতুন করে মাঠে নেমেছে মানুষেরঈমান হরণে। সময়ের দাবি হয়ে পড়েছে তাদেরমুখোশ উন্মোচন করা এবং জাহান্নামের আগুনথেকে মুসলিম ভাই-বোনদের রক্ষা করা। বিষয়টিমাথায় রেখে ভাবলাম স্বতন্ত্র একটি ছোট্টহলেও নিবন্ধ লেখা যায় কি না। বলাবাহুল্য সে ক্ষুদ্রপ্রয়াসই এই লেখা।যুগে যুগে মানুষের ঈমানহরণে এমন বহু চেষ্টাহয়েছে। কোনোকালেই এ চেষ্টা থেমেছিল না। আজও থেমে নেই। বরং নিত্যনতুন প্রযুক্তিও মিডিয়ার বদৌলতে তাদের প্রচারে যেন গতিসঞ্চারিত হয়েছে। ১২ রবিউল আউয়ালকেসর্বশ্রেষ্ঠ উৎসবের দিন বানাতে হালুয়া-রুটি আরওরসের মান্নতি মহিষের গোস্ত খাওয়া মুসলিমভাইদের কী উৎকট চেষ্টা! আরে ভাই, রাসূলেরঅনিশ্চিত জন্মদিবস আর নিশ্চিত মৃত্যদিবসে কীভাবেউৎসব করেন? সাহাবীদের মতো নবীরপ্রিয়পাত্রগণ এ দিন তো ব্যথায় স্তব্ধ হয়েগিয়েছিলেন। উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর মতো বিদ্বানও মনীষী সাহাবী কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়েপড়েছিলেন। রাসূলের মৃত্যুদিনে তো খুশি প্রকাশকরেছিল অভিশপ্ত ইয়াহূদী আর কুচক্রী মুনাফিকরা।সারা বিশ্বের তাবৎ ইসলামিক স্কলারদের বিস্তরলেখালেখি, অসামান্য দাওয়াত ওনারা গায়ে মাখেন না।অথচ নির্বোধ কিছু পেটওয়ালা সুবেশধারীভণ্ডের ভেলকিতে হন বিভ্রান্ত। সেই তোপ্রকৃত রাসূলের ভালবাসাপোষণকারী যে রাসূলেরঅপমান-অবমাননা মেনে নিতে পারে না। অথচ এইভোগসম্রাট তথাকথিত পেটুক পীররা রাসূলেরঅবমাননার প্রতিবাদ করে না। রাসূলের ‘খতমেনবুওয়ত’কে চ্যালেঞ্জকারী কাদিয়ানী সম্প্রদায়যখন জাতীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র ছেপেপ্রকাশ্যে জাহান্নামের দাওয়াত দেয়, তখনও এইসর্বভুক অর্থগৃধ্নুরা বানোয়াট মিলাদ নিয়ে ব্যস্ত!রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁরসাহাবীদের যুগে যা ছিল না তাকে ইবাদত হিসেবেগ্রহণ করলে হয় বিদ‘আত। মিলাদ, কিয়াম ও হালুয়া-রুটিরমুহাব্বতপ্রদর্শনী সে উত্তম যুগে ছিল না বলে তাশুধু বিদ‘আতই নয়; এসবের সঙ্গে নবীকে হাজির-নাযির মনে করা ছাড়াও বেশ কিছু শিরকিচেতনা জড়িয়েআছে। আলেম না হয়ে আলেমের বেশ ধরা কিছুআশেকে জিলাপীর রাগ তাই আমাদের ওপর। আমরাযাই করি তা বিদ‘আত! গাড়ি-বিমানে ওঠা বিদ‘আত! উপায়ান্তরহয়ে প্রতিবাদের প্রচলিত পদ্ধতি লং…মার্চ করাওবিদ‘আত!এই পেটুক দালালচক্রকে কে প্রশ্ন করবেবিদ‘আতের সংজ্ঞা কী? গাড়ি-বিমানে আরোহণকেকোনো পাগলও কি ইবাদত ভাবে? বিদ‘আতেরসংজ্ঞা বলবে কোত্থেকে এরা দালালি সংবাদসম্মেলনের ব্যানারে নিজেদের নাম ওশিরোনামই তো শুদ্ধভাবে লিখতে পারে না!ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি এরা ‘বাবা’ কিংবা‘হুজুরে কিবলা বলেছেন’ এর বাইরে কোনোপ্রমাণ পেশ করতে পারে না। এদের লেখাবইয়ের রেফারেন্স বলতে হয় মঊদূ বানোয়াট বাজাল হাদীছ নয়তো কুরআন-হাদীছের অপব্যাখ্যা।এই মিথ্যুক প্রজাতিকে প্রকাশ্য বিতর্কেরচ্যালেঞ্জ করলে এরা প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে১৪৪ ধারা জারি করে। ছলে-বলে-কৌশলে বিতর্কভণ্ডুল করে দেয়। এই প্রতারকচক্র হাজার হাজারমানুষের ঈমান নষ্ট করার পর এখন চিরনিন্দিত ওঅভিশপ্ত ‘দরবারি আলেম’ সেজে রাষ্ট্রের কাঁধেভর করেছে।বেদাতিদের সম্পর্কে উলামায়ে কিরাম অনেকবলেছেন এবং লিখেছেন। এবার সাধারণ জনগণেরসামনে পরিষ্কার হয়েছে এরা কতটা পেটপূজারী?এরা নবীর কেমন আশেক[1]! যে নবীরসম্মানে আঘাত নিয়েও নিজেদের পার্থিবস্বার্থসিদ্ধির ধান্দায় ব্যস্ত থাকে! চট্টগ্রামেরলালদীঘির ময়দানে দেশের সর্বশ্রেণীরউলামায়ে কিরাম যখন মুরতাদ-নাস্তিক বিরোধীআন্দোলন করছেন তখন তার বিপরীতে চট্টগ্রামমুসলিম হলে বেদাতিরা তাদের বিরুদ্ধে মিটিং করছে।ঢাকার নির্ভেজাল ভণ্ড পীরের দরবার থেকেনাস্তিকদের শাস্তির দাবিতে আহুত লংমার্চের বিরুদ্ধেহুংকার দেয়া হয়েছে।মজার ব্যাপার হলো, এরা নিজেদের ‘হক্কানীআলেম’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সংবাদ সম্মেলনকরে কোটি কোটি মুসলিম ও দেশের সকলআলেমকে নসীহতও করেছে। দেশেরশীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামাকেও বেদম নসিহতখয়রাত করেছে। বাম-রামদের সুমতি ফিরতে শুরুকরেছে কিন্তু এদের সুমতির কোনো লক্ষণদেখছি না!গুটিকয় নির্ভেজাল পেটপূজারী ভণ্ড আরজনবিচ্ছিন্ন নষ্ট বামরা ছাড়া পুরো বাংলাদেশেরধর্মপ্রাণ মানুষ আজ এক মোহনায় এসেদাঁড়িয়েছে। দলকানারা ছাড়া লীগ, বিএনপি, জামাত,জাতীয় ও কল্যাণ পার্টি এবং বিকল্পধারা থেকে নিয়েকেউ বাদ নেই। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুররাসূলুল্লাহ’ পড়া হেন কোনো মানুষ নেই যিনিপ্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নবীর শানেবেয়াদবিকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনেরসমর্থক নন। অথচ এই আশেকে জিলাপী,গোলামে হালুয়া-রুটিরা নিজেদের সু্ন্নি বলেনবীর দুশমনদের দালালি করেছে। কষ্টে মরেযেতে ইচ্ছে করে, যারা নিজের আরবী নামটিওশুদ্ধ আরবীতে লিখতে বা বলতে পারে নাআজকাল মিডিয়ার বদৌলতে তারাও ‘আল্লামা’ হয়েযাচ্ছে।বাংলাদেশে ইসলামের জন্য দরদী এত দলগোষ্ঠী আছে তা জানা ছিল না। জানতাম বৃহত্তরচট্টগ্রাম এলাকায় বিশাল একটি গোষ্ঠী আছে যারাহালুয়া-রুটির মিলাদ আর গরু-মহিষ খাওয়ার ওরস[2]কেইনিজেদের ঈমান-আকীদা, রাসূলের উম্মত,রাসূলের প্রতি ভালোবাসা লালন ও প্রকাশেরএকমাত্র কর্তব্য মানতো। যতোই প্রমাণিতশরীয়তবিরুদ্ধ আর অযৌক্তিক হোক তাদের মৌসুমীভালোবাসা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাদের সবাইকেসরাসরি জাহান্নামে পাঠাতে ‘কাফের’ বলে ফতোয়াদিত।এতদিন এরা দেশের বৃহত্তর আলেমসমাজ কিংবাসংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমের কাতারে না এসে কেবল এসবফতোয়া নিয়েই ব্যস্ত ছিল। ইসলাম গোল্লায়গেলে কিংবা রাষ্ট্র রসাতলে গেলেও তাদেরকখনো টু শব্দটি পর্যন্ত করতে দেখা যায় নি। রাসূলও ইসলাম অবমাননার প্রতিবাদে যখন সারা দেশের সবদলের মুসলিম এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে তখনতারা হঠাৎ অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেপ্রকাশ্যে ইসলাম গেল রব তুলে অবস্থাননিয়েছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ অরাজনৈতিক ধর্মীয়স্রোতের বিপক্ষে। নিত্যনতুন দল আর ব্যানারেতারা জাতিকে বিভ্রান্ত করার এজেন্ডায় মিডিয়ার সামনেএসেছে। তাদেরকে বাইরের আলোয় এনেজাতির সামনে তাদের মুখোশ উন্মোচনেরসুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ায় ইস্যুটিকে ধন্যবাদদিতেই হয়।দেশের মানুষ কিংবা মিডিয়া কি কখনো নামগুলোশুনেছে? – বাংলাদেশ ইমাম-উলামা সমন্বয় ঐক্যপরিষদ, বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামি জোট, ইসলামিফ্রন্ট, ইসলামি যুক্তফ্রন্ট, আহলে সুন্নাত ওয়ালজামাতসহ আরও কত নাম। এদের চেহারা ও পোশাকযেমন অশিষ্ট, তেমনি ভাষাও চরম অশুদ্ধ। নিজেরাআলেম আর আল্লামা দাবি করলেও এরা নিজেদেরনাম, সম্মেলনের ব্যানারটিও শুদ্ধভাবে লিখতেপারেন না।এরা উলামায়ে কিরামের বিরোধিতা করতে গিয়েইসলামের বিভিন্ন বিধান ও দৃষ্টিভঙ্গির যেসব ভ্রান্ত ওবিভ্রান্ত ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন তাঅতীতের সকল দরবারি ও অভিশপ্ত তথাকথিতআলেমদের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। বাদশাআকবরের জগাখিচুড়ি ধর্মের পক্ষ নেওয়া গোলামপথভ্রষ্ট আলেমদেরও হার মানিয়েছে। ইসলামেরশান্তির বাণীর তারা এমন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন যেন রাসূলসাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রায় সিকিশত অভিযানমিথ্যা ছিল। ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে সম্পূর্ণ আলাদাকরার খ্রিস্টধর্মীয় মতবাদকেও তারা ইসলামের অংশবানিয়ে ফেলছে।নীতি-বিবেক না থাকলেও অনেকের লজ্জাটুকুথাকে, এদের তাও নেই। কয়েকদিন আগে বাইতুলমুকাররমের সামনে থেকে মোবাইলে ধারণ করাএকটি ছবি দেখলাম। সেখানে একটি এমনই দলেরবিশাল সমাবেশের চিত্র দেখে আমার মনে হলোএদের অন্তত লজ্জা থাকলেও মাঠে নামত না। নাদেখলে কারও বিশ্বাস হবে না হয়তো, ট্রাকেবানানো একটি মঞ্চে গলা ফাটিয়ে নাস্তিকবিরোধীআন্দোলনকে ‘ফেতনা’ আখ্যায়িত করে এরকাণ্ডারী আলেমের গ্রেফতার দাবিকারী বক্তারআশেপাশে দ্বিতীয় কোনো কাকপক্ষীওনেই! আর যাদের সামনে তিনি হাত নাড়িয়ে কোমরদুলিয়ে জোরালো বক্তব্য দিচ্ছেন সেই বিশালজনসমাগমেও শ্রোতা কেবলই একজন! তাকেআবার শ্রোতা জ্ঞানে ভুল বুঝবেন না, তিনি মূলতওই মাইকের মালিক বা অপারেটর।সেদিন এক সহকর্মীর কম্পিউটারে মজার এক ভিডিওক্লিপ দেখলাম। দিগন্ত টিভির সেই ক্লিপটি যে কেউদেখতে পাবেন ফেসবুকে। বাংলাদেশ সম্মিলিতইসলামি জোটের নেতা সাংবাদিকদের উদ্দেশেকথা বলতে গিয়ে বলছেন, …‘এর জন্যই মাওলানাশফীর গ্রেফতার দাবি করছে বাংলাদেশ সম্মিলিত ‘…(একটি রাজনৈতিক দলের)’ মাফ করবেন ইসলামিজোট’। আল্লাহ এভাবেই জনসম্মুখে মাঝেমধ্যেমুখ ফসকে দালালদের চেহারা মানুষের সামনেউন্মোচন করে দেন। আর বিজ্ঞ ওই‘আল্লামা’দের বাংলা উচ্চারণের দুয়েকটি নমুনা তুলেনা ধরলেও অন্যায় হয়ে যায়। গ্রেফতার উচ্চারণকরলেন ‘গেরেফতার’ আর প্রতিবাদকে ‘পরতিবাদ’।আপনি আর যাই হোক এদের বক্তব্যেবিনোদনের কিছু খোরাক অবশ্যই পাবেন।আশেকে জিলাপী সুন্নীদের কথা না বললেওঅনুচিত হবে। সারা বছর সব অনুষঙ্গে যেখানেএকজন নবীপ্রেমিকের অনুগামী হবার কথানবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের- যেমনআদেশ করা হয়েছে কুরআন এবং হাদীসেরভাণ্ডারে- সেখানে তাদের নবী প্রেমের নমুনাদেখা যায় কেবলই বিভ্রান্তচিন্তার মিলাদে। নবী নাকিহাজির হন তাদের মিলাদে! অথচ যেমনটি আমরাপূর্বেও বলেছি, সর্বত্র বিরাজমান[3] এইআকীদাটিই ত্রুটিপূর্ণ। মজার ব্যাপার হলো, ইয়াহূদীরাযেমন নিজেদেরকে একমাত্র স্বর্গের হকদারএবং আল্লাহর মনোনীত মনে করে, তারাও তেমনিমাজার পূজা না করায় বিপক্ষ সব গোষ্ঠী, দল, দেশএমনকি সৌদি আরবের সকল আলেম ও সরকারকেওবিভ্রান্ত কিংবা একধাপ এগিয়ে কেউ ‘কাফের’ বলেওআখ্যায়িত করে! আর নিজেদেরকে মনে করেএকমাত্র সহীহ এবং জান্নাতের আদি উত্তরাধিকারী।গত বছর দুয়েক আগে একটি দেওয়াল লিখন সবারইদৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। লাল সবুজ রঙে বিশাল বিশালহরফে বিরাট জায়গাজুড়ে যেখানে সেখানে লেখাদেখা যেত বিশ্ব আশেকে রাসূল সম্মেলনেরবিজ্ঞাপন। গত তত্ত্বাবধায়ক আমলে একজন নিষ্ঠাবানধার্মিক ভাইয়ের তৎপরতায় সেনা সরকার এইবিজ্ঞাপনের কিছুটা লাগাম টেনে ধরে। এখন তারাবিশাল বিশাল তোরন বানিয়ে এই বিজ্ঞাপনের কাজচালিয়ে যাচ্ছেন। এই আশেকে রাসূলরাও মিলাদ আরওরশ নিয়ে ব্যস্ত। না তারা নিজেরা রাসূলেরকোনো সুন্নত অনুযায়ী আমল করেন না তাকায়েম করেন সমাজে। বরং যে বিদ‘আতসম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামবারবার সতর্ক করেছেন তারা সেই বিদ‘আতকায়েমেই সর্বদা সচেষ্ট।এরা নানা কিচ্ছা-কাহিনী বলে ইলমহীন অশিক্ষিতমানুষের আবেগ স্পর্শ করেন। তাদেরকেনবীর আশেক! হবার দাওয়াত দেন ভণ্ড বাবারমুরীদ হয়ে। এরা নবীকে ভালোবাসার অপরিহার্যদাবির বিষয় তুলে ধরেন হাদীস-কুরআন থেকেঅথচ কিভাবে ভালোবাসতে হবে সে ব্যাপারেকুরআনে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও তা ব্যাখ্যাকরেন না।মুসলিম মাত্রেই আমরা জানি আল্লাহর প্রিয় রাসূলকেভালোবাসা আমাদের ঈমানের অপরিহার্য দাবি।রাসূলকে ভালো না বেসে কেউ মুমিনই হতেপারে না। যেমন আনাস রাদিয়াল্লাহ ‘আনহু থেকেবর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেন,‏« ﻻَ ﻳُﺆْﻣِﻦُ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ، ﺣَﺘَّﻰ ﺃَﻛُﻮﻥَ ﺃَﺣَﺐَّ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻣِﻦْ ﻭَﺍﻟِﺪِﻩِﻭَﻭَﻟَﺪِﻩِ ﻭَﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﺃَﺟْﻤَﻌِﻴﻦَ‏»‘তোমাদের কেউ সে পর্যন্ত মুমিন হতে পারবেনা যাবৎ আমি তার প্রিয় হই নিজ পিতামাতা, সন্তান-সন্ততিএবং সকল মানুষের চেয়ে।’ [বুখারী : ১৫; মুসলিম :৪৪]রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতুজীবিত নেই তাই তাঁর ভালোবাসা প্রমাণের সবচেবড় উপায় প্রতিটি মুহূর্তে এবং কর্মকাণ্ডে তাঁর পদাঙ্কঅনুসরণ করা। তাঁর সুন্নাহ মোতাবেক জীবন যাপনকরা। যুক্তির দাবিও তাই। তেমনি তাঁর জন্য অবমাননাকরযে কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সর্বশক্তিদিয়ে রুখে দাঁড়ানো। পার্থিব জীবনে আমরাদেখি, কেউ কাউকে ভালোবাসলে সে তারঅনুগামী হয়। তার পছন্দনীয় বিষয়গুলো বেশিবেশি করে এবং অপছন্দের বিষয়গুলোসর্বতোভাবে বর্জন করে। আল্লাহ তা‘আলাওআমাদের নির্দেশ দিয়েছেন তাঁকে ভালোবাসতেহলে রাসূলের অনুসরণ করতে। ইরশাদ হয়েছে,﴿ ﻗُﻞۡ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢۡ ﺗُﺤِﺒُّﻮﻥَ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻓَﭑﺗَّﺒِﻌُﻮﻧِﻲ ﻳُﺤۡﺒِﺒۡﻜُﻢُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻳَﻐۡﻔِﺮۡﻟَﻜُﻢۡ ﺫُﻧُﻮﺑَﻜُﻢۡۚ ﻭَﭐﻟﻠَّﻪُ ﻏَﻔُﻮﺭٞ ﺭَّﺣِﻴﻢٞ ٣١ ﻗُﻞۡ ﺃَﻃِﻴﻌُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَﻭَﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝَۖ ﻓَﺈِﻥ ﺗَﻮَﻟَّﻮۡﺍْ ﻓَﺈِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻟَﺎ ﻳُﺤِﺐُّ ﭐﻟۡﻜَٰﻔِﺮِﻳﻦَ ٣٢ ﴾ ‏[ ﺍﻝﻋﻤﺮﺍﻥ : ٣١، ٣٢‏]‘বল, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলেআমার অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকেভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমাকরে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল,পরম দয়ালু।’ {সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ৩১-৩২}আরেক জায়গায় আল্লাহ সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেনরাসূল যা করেছেন তা করতে এবং তিনি যা বারণকরেছেন তা না করতে। ইরশাদ হয়েছে,﴿ ﻭَﻣَﺂ ﺀَﺍﺗَﻯٰﻜُﻢُ ﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝُ ﻓَﺨُﺬُﻭﻩُ ﻭَﻣَﺎ ﻧَﻬَﻯٰﻜُﻢۡ ﻋَﻨۡﻪُ ﻓَﭑﻧﺘَﻬُﻮﺍْۚﻭَﭐﺗَّﻘُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَۖ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﺷَﺪِﻳﺪُ ﭐﻟۡﻌِﻘَﺎﺏِ ٧ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺤﺸﺮ : ٧‏]‘রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ কর, আর যাথেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তাথেকে বিরত হও এবং আল্লাহকেই ভয় কর, নিশ্চয়আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর।’ {সূরা আল-হাশর,আয়াত : ৭}হে আল্লাহ, হেদায়েত দিন অন্যথায় আপনিই এদেরব্যাপারে ফয়সালা নিন। আর এদের খপ্পর থেকেরক্ষা করুন এদেশের লাখ-কোটি মুমিন-মুসলিমকে।আমীন।[1] ‘এশক’ শব্দটির অর্থ প্রেম। আল্লাহ ও তাররাসূলের সাথে তা একান্ত বেমানান। কারণ এটিবিপরীত লিঙ্গ বা ক্লীবলিঙ্গের বিপরীতেব্যবহৃত হয়। তাই তো দেখি কেউ মাকে বলে না‘মা আমি তোমাকে ‘এশক’ করি’। বা মেয়ে বাবাকেবলে না, বাবা আমি তোমার সাথে প্রেম করি।তাহলে এসব বেকুবরা কিভাবে আল্লাহ বা তাঁর নবীরজন্য এ খারাপ শব্দটি ব্যবহার করে?। সম্ভবতআমাদের লেখক এখানে তাদের মুখে প্রচলিতহওয়ায় তা বর্ণনার জন্যই শব্দটি নিয়ে এসেছেন।নতুবা লেখক নিজে এ শব্দটি ব্যবহারে পক্ষে নয়।[সম্পাদক][2] ওরস শব্দের অর্থ বিয়ে অনুষ্ঠান। তারা মনেকরে যে এ দিন (মৃত্যু দিবস) তাদের তথাকথিত পীরবাবা!র বিয়ে হয়েছে। সে বিয়ে তারা কার সাথেদিয়েছে? আল্লাহর সাথে! না‘উযুবিল্লাহ। যদি তা না হয়,তাহলে কিসের বিয়ে অনুষ্ঠান? তাদের কাছেব্যাপারটির কোনো সদুত্তর নেই। এ শব্দটি তারঅনুষ্ঠানের মতই গর্হিত ও নিষিদ্ধ। সম্ভবত আমাদেরলেখক তাদের কাছে বিষয়টি প্রচলিত থাকায় তা নিয়েবর্ণনা করেছেন, নতুবা তিনি এতে বিশ্বাসী হওয়ারপ্রশ্নই আসে না। [সম্পাদক][3] সর্বত্র বিরাজমান এ কথাটি আল্লাহর জন্যও ব্যবহারকরা জায়েয নেই। কারণ আল্লাহ তা‘আলা তাঁরআরশের উপর রয়েছেন। আর আরশ রয়েছেসাত আসমানের উপর। তবে সেখান থেকেই তিনিজ্ঞান ও ক্ষমতায় সকল স্থানের বিষয়টি তার সামনে।ইমাম আবু হানিফা রহ. বলেছেন, কেউ যদি বলেআমি জানিনা আল্লাহর আরশ কোথায়, সেটি আসমানেনাকি যমীনে, তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে;কারণ তাঁর আরশ হচ্ছে আসমানের উপর, আরআল্লাহ হচ্ছেন আরশের উপর। [সম্পাদক]আলী হাসান তৈয়ব

Advertisements