হাদিসের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ


★ হাদীসের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ>>> হাদীসের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ <<<পরবর্তী পোষ্ট: সহীহহাদীস এর সংজ্ঞা এবং কেন সহীহ হাদীসের উপর আমাদের আমলকরতে হবে।প্রসংগ কথাবিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।সকল প্রশংসা কেবল মহান আল্লাহ রাবুল আলামিনয়ের, অসংখ্যদরুদ বিশ্ব মানবতার মহান শিক্ষক ও নেতা রাসুল পাক (স:) ও তারবংশ ধরদের প্রতি এবং হাজার ও সালাম সে সব বীর মুজাহিদদেরপ্রতি, যারা যুগে যুগে আল্লাহর জমিনে আল্লাহরদ্বীনকে বিজয়ী করতে নিজেদের জীবনকে বিলিয়ে দিয়েছেন।আমার প্রাণ প্রিয় জ্ঞান পিপাসু মুমিন মুক্তাকী ভাইএবং বোনেরা আমি হাদীস শাস্ত্রের কতিপয় পরিভাষা আল্লাহরমেহের বানীতে এই জন্য লেখার প্রয়োজন মনে করলাম আমাদেরঅনেক বাংলাদেশী ভাই এবং বোনেরা কুয়েতে এবং অন্যান্যা মুসলিমরাষ্ট্রে বসবাস করছে এবং এদের ভিতর যারা আলেমতারা মাশাআল্লাহ এ বিষয়ে জ্ঞান রাখেন। কিন্তু যারা আলেমনা কিন্তু কুরআন হাদীস পড়ে জ্ঞান অর্জন করতে চান বিশেষকরে সেই দ্বীনি ভাইয়েরা এবং বোনেরা আশা করি অনেক উপকৃতহবেন।হাদীস কাকে বলে?হাদীস শব্দের আভিধানিক অর্থ কথা, বাণী, সংবাদ, বিষয়, অভিনবব্যাপার ইত্যাদি ।পারিভাষিক ও প্রচলিত অর্থে নবী করিম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা, কাজ, সমর্থন, আচরণ এমনকি তাঁরদৈহিক ও মানসিক কাঠামো সংক্রান্ত বিবরণকেও হাদীস বলে ।সাহাবায়ে কিরামের কথা, কাজ ও সমর্থনকেও হাদীস বলা হয় ।অবশ্য পরে উসুলে হাদীসে তাঁদের কথা, কাজ ও সমর্থনের নামদেয়া হয়েছে ‘আসার’ এবং হাদীসে মওকুফ’ এবং তাবেয়ীগণের কথা,কাজ ও সমর্থনের নাম দেয়া হয়েছে ‘ফতোয়া’ ।অধিকন্তু বলা যায় যে, রাসুল (স:) এর নবুয়াতী জীবনের সকলকথা,কাজ এবং অনুমোদনকে হাদীস বলে।মূল বক্তব্য হিসাবে হাদীস তিন প্রকার যা নিম্নে উপস্থাপনকরা হলোঃ-১) কাওলী হাদীস : রাসুল (স:) এর পবিত্র মুখের বানীইকাওলী হাদীস।২) ফিলী হাদীস: যে কাজ রাসূল (স:) স্বয়ং করেছেন এবং সাহাবীগণতা বর্ণনা করেছেন তাই ফিলী হাদীস।৩) তাকরীরী হাদীস: সাহাবীদের যে সব কথাও কাজের প্রতি রাসূল(স:) সমর্থন প্রদান করেছেন তাহাই তাকরীরী হাদীস।রাবীদের সংখ্যা হিসেবে হাদীস তিন প্রকার:১। খবরে মুতাওয়াতির: যে হাদীস এত অধিক সংখ্যকরাবী বর্ণনা করেছেন যাদেও মিথ্যার উপর একমত হওয়া অসম্ভব।২। খবরে মাশহুর: প্রত্যেক যুগে অন্তত: তিনজন রাবী রেওয়ায়েতকরেছেন,তাকে খবরে মাশহুর বলে, তাকে মুস্তাফিজ ও বলে।৩। খবরে ওয়াহেদ বা খবরে আহাদ: হাদীস গরীব আজিজএবং খবরে মাশহুর এ তিন প্রকারের হাদীদকে একত্রে খবরে আহাদবলে, প্রত্যেকটিকে পৃথক পৃথকভাবে খবরে ওয়াহিদ বলে।আযীয হাদীস: যে হাদীস প্রত্যেক যুগে অন্তত: দুজনরাবী রেওয়ায়েত করেছেন, তাকে আযীয হাদীস বলে।গরীব হাদীস: যে হাদীস কোন যুগে মাত্র একজনরাবী বর্ণনা করেছেন। তাকে গরীব হাদীস বলে।রাবীদের সিলসিলা হিসেবে হাদীস তিন প্রকার:১। মারফু হাদীস: যে হাদীসের সনদ রাসুল (স:) পর্যন্তপৌছাইয়াছে তাকে মারফু হাদীস বলে।২। মাওকুফ হাদীস: যে হাদীসের সনদ সাহাবী পর্যন্তপৌছাইয়াছে তাকে মাওকুফ হাদীস বলে।৩। মাকতু হাদীস: যে হাদীসের সনদ তাবেয়ী পর্যন্তপৌছাইয়াছে তাকে মাকতু হাদীস বলে।রাবী বাদ পড়া হিসাবে হাদীস দুই প্রকার।১। মুত্তাছিল হাদীস: যে হাদীসের সনদেরধারাবাহিকতা সর্বস্তরে ঠিক রয়েছে কোথা ও কোন রাবী বাদপড়ে না তাকে মুক্তাছিল হাদীস বলে।২। মুনকাতে হাদীস: যে হাদীসের সনদের মধ্যে কোন রাবীর নাম বাদপড়েছে তাকে মুনকাতে হাদীস বলে।মুনকাতে হাদীস তিন প্রকার:১। মুরসাল হাদীস: যে হাদীসে রাবীর নাম বাদ পড়া শেষেরদিকে অথাৎ সাহাবীর নামই বাদ পড়েছে তাকে মুরসাল হাদীস বলে।২। মুয়াল্লাক হাদীস: যে হাদীসের সনদের প্রথম দিকে রাবীর নামবাদ পড়েছে অথার্ৎ সাহাবীর পর তাবেয়ী তাবে তাবেয়ীর নাম বাদপড়েছে তাকে মুয়াল্লাক হাদীস বলে।৩। মুদাল হাদীস: যে হাদীসে দুই বা ততোধীক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদথেকে বিলুপ্ত হয় তাকে মুদাল হাদীস বলে।বিশ্বস্ততা হিসেবে হাদীস তিন প্রকার:১। সহীহ হাদীস: যে হাদীসের বর্ণনাকারীদের বর্ণনারধারাবাহিকতা রয়েছে, সনদের প্রতিটি স্তরে বর্ণনাকারীর নাম,বর্ণানাকারীর বিশ্বস্ততা, আস্তাভাজন, স্বরণশক্তি অত্যন্তপ্রখর কোনস্তরে তাদের সংখ্যা একজন হয়নি তাকে সহীহ হাদীসবলে।২। হাসান হাদীস: সহীহ সবগুনই রয়েছে, তবে তাদের স্বরণ শক্তিরযদি কিছুটা দুর্বলতা প্রমাণিত হয় তাকে হাসান হাদীস বলে।৩। যায়ীফ হাদীস: হাসান, সহীহ হাদীসের গুন সমুহযে হাদীসে পাওয়া না যায় তাকে যায়ীফ হাদীস বলে।হাদীসে কুদসী:যে হাদীসের মুল বক্তব্য আল্লাহ সরাসরি রাসূল (স:) কে ইলহামবা স্বপ্ন যোগে জানিয়ে দিয়েছেন,রাসূল (স:) নিজ ভাষায় তা বর্ণনা করেছেন তাকে হাদীসে কুদসী বলে।মুদাল্লাছ হাদীসযে হাদীসের সনদের দোষ ক্রটি গোপন করা হয় তাকে মুদাল্লাছহাদীস বলে।সুনান: হাদীসের ঐ কিতাবকে সুনান বলা হয় যা ফিক্হ এর তারতীবঅনুয়াযী সাজানো হয়েছে।সুনানে আরবায়া: আবুদাউদ শরীফ + নাসায়ী শরীফ +তিরমীযী শরীফ + ইবনে মাজায় শরীফ এই চার হাদীস গ্রন্থকে একসাথে সুনানে আরবায়া বলা হয়।মুসনাদ: হাদীসের ঐ কিতাবকে বলা হয় যা সাহাবায়ে কিরামেরতারতীব অনুয়াযী লিখা হয়েছে।সহীহাইন: বুখারী শরীফ ও মুসলীম শরীফকে এক সাথে সহীহাইনবলা হয়।মুত্তাফাকুন আলাইহি: ইমাম বুখারী (র) ইমাম মুসলিম (র:)উভয়ে একই সাহাবী হতে যে হাদীস স্ব-স্ব প্রান্তে সংকল করেছেনতাকে মুত্তাফাকুন আল্লাইহি বলে।জামে: যে গ্রন্থে হাদীস সমূহকে বিষয় বস্তুঅনুসারে সাজানো হয়েছে এবং যার মধ্যে আকাইদ ছিয়ার তাফসিরআহকাম, আদব, ফিতান, রিকাক ও মানাকিব এ আটটি অধ্যায়রয়েছে তাকে জামে বলা হয় যেমন জামে তিরমিযী।সনদ: হাদীস বর্ণনা কারীদের ধারাবাহিকতাকে সনদ বলেমতন: হাদীসের মূল শব্দ সমূহকে মতন বলে।রেওয়ায়েত: হাদীস বর্ণনা করাকে রেওয়ায়েত বলে।দেরায়েত: হাদীসের মতন বা মূল বিষয়ে আভ্যান্তরীন সাক্ষ্যপ্রমানের ভিত্তিতে যুক্তির কষ্টিপাথরে যে সমালোচনা করা হয়তাকে দেরায়েত বলে।রিজাল: হাদীস বর্ণনাকারীর সমষ্টিকে রিজাল বলে।শায়খাইন:মুহাদ্দিসদের পরিভাষায় ইমান বুখারী (র:) ও মুসলিম (র:)কে শায়খাইন বলে।হাফিজ: যে ব্যাক্তি সনদও মতনের সকল বৃত্তান্ত সহ এক লক্ষহাদীস মুখস্ত জানেন তাকে হাফিজ বলে।হুজ্জাত: যে ব্যাক্তি সদন ও মতনের সকল বৃন্তান্ত সহ তিন লক্ষ্যহাদীস মুখস্ত জানেন তাকে হুজ্জাত বলে।হাকিম: যে ব্যাক্তি সনদ ও মতনের সকল বৃত্তান্ত সহ সকল হাদীসমুখস্থ করেছেন তাকে হাকিম বলে।সিহাহ্ সিত্তা: সিহাহ্ অর্থ বিশুদ্ব, সিত্তাহ অর্থ ছয়।সিহা সিত্তা এর আভিধানিক অর্থ হল ছয়টি বিশুদ্বইসলামী পরিভাষায় হাদীস শাসের ছয়টি নির্ভূল ও বিশুদ্ব হাদীসগ্রন্থকে এক কথায় সিহাহ্ সিত্তা বলা হয়।সিহাহ্ সিত্তা হাদীস গ্রন্থ গুলো এবং সংকলকদের নাম:১। সহীহ বুখারী – ইমাম বুখারী (র:) – হাদীস সংখ্যা ৭৩৯৭২। সহীহ মুসলিম – ইমাম মুসলিম (র:) হাদীস সংখ্যা- ৪০০০৩। জামি তিরমিযী- ইমাম তিরমিযী (র:) হাদীস সংখ্যা ৩৮১২৪। সুনানে আবুদাউদ (র:) ইমাম আবুদাউদ (র:) হাদীস সংখ্যা ৪৮০০৫। সুনানে নাসায়ী – ইমাম নাসাই (র:) হাদীস সংখ্যা ৪৪৮২৬। সুনানে ইবনে মাজাহ ইমাম ইবনে মাজাহ (র:) হাদীস- ৪৩৩৮হাদীসের শ্রেণী বিভাগ:মুল বক্তব্য হিসেবে তিন প্রকার:১। কাওলী ২। ফেলী ৩। তাকরীররাবীদের সংখ্যা হিসেবে তিন প্রকার:১। খবরে মুতাওয়াতের ২। খবরে মাশহুর ৩। খবরে ওয়াহেদরাবীদের সিলসিলা হিসাবে তিন প্রকার :১। মারফু ২। মাওকুফ ৩। মাকতুরাবীদের পড়া হিসেবে দুই প্রকার:১। মুক্তাসিল ২। মুনকাতেবিশ্বস্ততা হিসেবে তিন প্রকার:১। ছহীহ্ ২। হাসান। ৩। জয়ীফবেশী হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীগণ:১। হযরত আবু হুরায়রা (র:)হাদীস সংখ্যা ৫৩৭৪টি মৃত্যু ৫৭হিজরী বয়স: ৭৮ বছর২। হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (র:) হাদীস সংখ্যা ২২১০টি মৃত্যু ৫৮হিজরী বয়স: ৬৭ বছর৩। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস(র:) হাদীস সংখ্যা ১৬৬০ মৃত্যু৫৮ হিজরী বয়স: ৭১ বছর৪। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর(র:) হাদীস সংখ্যা ১৬৩০ মৃত্যু ৭০হিজরী বয়স: ৮৪ বছর৫। হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (র:) হাদীস সংখ্যা ১৫৪০ মৃত্যু ৭৪হিজরী বয়স: ৯৪ বছর৬। হযরত আনাস ইবনে মালেক (র:) হাদীস সংখ্যা ১২৮৬ মৃত্যু ৯৩হিজরী বয়স: ১০৩ বছর৭। হযরত আবু সাঈদ খুদরী হাদীস সংখ্যা ১১৭০ মৃত্যু ৪৬হিজরী বয়স: ৮৪ বছর৮। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (র:) হাদীস সংখ্যা ৮৪৮ মৃত্যু৩২ হিজরী৯। হযরত আমর ইবনুল আস(র:) হাদীস সংখ্যা ৭০০ মৃত্যু ৬৩হিজরীআল্লাহ সুবহানুতালা’র দরবারে এই দোয়া কামনা করে শেষকরছি হে আমাদের মহান রব তোমার দ্বীনের পথের আমদের সকলপ্রচেষ্টা কবুল করুন আমিন।