হাদিসে কুদসী ও ক্বুরআনের মধ্যে পার্থক্য এবং সহিহ হাদিসের সংজ্ঞা


>>>> সহীহ হাদীসের সংজ্ঞা, হাদীসে কুদসী এবংকোরআন ও হাদীসে কুদসী’র মধ্যে পার্থক্য <<<<ইসলামী শরীয়তের দুটি মূল উৎস হচ্ছে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ্হাদীছ। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন,আমি তোমাদের মাঝে দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি, যতক্ষণ পর্যন্ততোমরা ঐ দুটিকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্তপথভ্রষ্ট হবে না। সে দুটি হল আল্লাহর কিতাব (আল-কুরআন)এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাত (আল-হাদীছ)। (মুওয়াত্ত্বা ইমাম মালেক, মিশকাত হা/১৮৬; আল-মুস্তাদরাক লিল হাকেম, সনদ হাসান)যেহেতু উপরোক্ত দুটি উৎসই ইসলামী জীবন-যাপনের মূল হাতিয়ারএবং এর উপরেই মুসলমানদের হেদায়াত নির্ভরশীল, সেহেতু যুগপরস্পরায় ইসলামের শত্রুরা এ দুটি মূল উৎসের মাঝেই ভেজালঢুকানোর চেষ্টা করেছে। কুরআন যেহেতু মহানবী সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময়েই লিখিত আকারে সংরক্ষিত ছিল।কণ্ঠস্থ ছিল বহু ছাহাবীর। কাজেই তারা কুরআনে হাত দেওয়ারদুঃসাহস দেখাতে পারেনি। কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীছ ছিল এর কিছুটা ব্যতিক্রম। হাদীছতখন লিখিত আকারে ছিল না। ছিল বিভিন্ন ছাহাবীরস্মৃতিপটে সংরক্ষিত। তাও আবার গচ্ছিত আকারে নয়। লিখিতআকারে খুব কমই সংরক্ষিত ছিল। এই সুযোগে ইসলামের চিরশত্রুরা ও মুসলিম নামধারী বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল এই দ্বিতীয়উৎসের মধ্যে তাদের কালো হাত বসিয়েছে। হারামকে হালাল ওহালালকে হারাম এবং যা শরীয়ত নয় তাকে শরীয়তে রূপ দেওয়ার জন্যবহু হাদীছ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামদিয়ে জাল করেছে। কিন্তু মহান রাব্বুল আলামীন যুগে যুগে এমনপণ্ডিতদেরও আবির্ভাব ঘটিয়েছেন, যারা ঐ সমস্ত যঈফ ও জালহাদীছগুলিকে ছাটাই বাছাই করতে সক্ষম হয়েছেন।ইমাম ইবনুল জাওযী বলেন, যখন কারো পক্ষে কুরআনমজীদে অনুপ্রবেশ ঘটানো সম্ভব হয়নি, তখন কিছু সংখ্যক লোকনবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীছ বর্ণিতকরতে শুরু করে এবং তিনি বলেননি এমন কথাও তাঁর নামদিয়ে চালাতে শুরু করে। আর এর প্রেক্ষিতেই আল্লাহ তায়ালা এমনআলেমদের আবির্ভাব ঘটালেন, যাঁরা মিথ্যা বর্ণনা অপসারণকরতে শুরু করেন এবং ছহীহ হাদীছ কোনটি তা স্পষ্ট করে দেন।আল্লাহ তায়ালা এরূপ পণ্ডিত ব্যক্তিদের থেকে কোন যুগকেই শূন্যরাখেননি। তবে এ ধরনের ব্যক্তিত্বদের অস্তিত্বসাম্প্রতিককালে হ্রাস পেয়েছে। এমনকি বর্তমানে তাদেরপ্রাপ্তি পশ্চিমা ডলফিন প্রাপ্তির চেয়েও দুর্লভ হয়ে পড়েছে।(সিলসিলাতুল আহাদীছ আয-যাঈফাহ ওয়াল মওযূআহ ১/৪১।)ইমাম ইবনুল জাওযীর যুগেই যখন হাদীছের মহা পন্ডিতদের এরূপঅভাব দেখা দিয়েছিল, সেখানে বর্তমান যুগে এ অভাব আরও তীব্রহওয়া স্বাভাবিক নয় কি? বাস্তব পরিস্থিতিও তাই।সারা বিশ্বে আজ যঈফ ও জাল হাদীছের ছড়াছড়ি। কি খতীব,কি ওয়ায়েয, কি প্রবন্ধকার, কি তথাকথিত মুহাদ্দিস সকলেরমুখে শুধু যঈফ ও জাল হাদীছ শুনা যায়। কিন্তুএগুলি থেকে সতর্ককারী রয়েছেন কজন?এই ঘোলাটে পরিস্থিতি অনুধাবন করেই বাংলার মানুষকে যঈফ ওজাল হাদীছ থেকে সতর্ক করার জন্য কলম হাতে নিয়েছি। বাংলারমুমিন সমাজকে জানিয়ে দিতে চাই যে, হাদীছ বর্ণনায়সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। হাদীছেরঅবস্থা না জেনে তা দিয়ে দলীল পেশ করা যাবে না। আমরা আরওচাই বাংলার মানুষকে ঐ সমস্ত হাদীছের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে,যেগুলিকে তারা অজ্ঞতা বশত: কিংবা ঐ রকম বই-কিতাব না থাকায়ছহীহ হাদীছ মনে করে আমল করে আসছে। অথচ তা নিতান্তই যঈফবা জাল। বহুকাল আগে থেকেই হাদীছ শাস্ত্রের পণ্ডিতগণএগুলোকে যঈফ ও জাল হাদীছ বলে ঘোষণা দিয়েছেন এবং বর্তমানযুগের হাদীছ শাস্ত্রবিদগণও ওগুলোর যঈফ ও জাল হওয়ার সাক্ষ্যদিয়েছেন। উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলমানদেরকে মহানবী সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর মিথ্যা রোপ করার কঠিন গোনাহহতে রক্ষা করা।যঈফ ও জাল হাদীছের সঙ্গা: যঈফ হাদীছঃ যে হাদীছে ছহীহ ও হাসানহাদীছের শর্তসমূহ পাওয়া যায় না, তাকেই যঈফ হাদীছ বলে। (ইমামনববী, মুক্বাদ্দামাহ মুসলিম পৃঃ ১৭; হাদীছ সংকলনের ইতিহাস,(ইফাবা ১৯৯২) পৃঃ ৩৯।)সহীহ হাদীসঃ যে মুত্তাসিল সনদের রাবীগণ প্রত্যেকেই উত্তমশ্রেণীর আদিল ও জাবিতরূপে পরিচিত অর্থাৎ ছেকাহ হওয়ারশর্তাবলী তাদের মধ্যে পূর্ণরূপে বিরাজমান, মূল হাদীসটি সূক্ষ্ণদোষ ত্রুটি অথবা শা’জ বা দল ছাড়া হতে মুক্ত এরূপহাদীসকে ‘সহীহ হাদীস’ বলে। অন্যভাবে বলা যায় যে হাদীসেরবর্ণনা সূত্র ধারাবাহিক রয়েছে, সনদের প্রত্যেক স্তরেরবর্ণনাকারীর নাম সঠিকরূপে উল্লেখিত হয়েছে, বর্ণনাকারীগণসর্বোতভাবে বিশ্বস্ত ছেকাহ যাঁদের স্মরণ শক্তি অত্যন্ত প্রখরএবং যাঁদের সংখ্যা কোন স্তরেই মাত্র একজন হয়নি, এরূপহাদীসকে হাদীসে সহীহ বলে। সহীহ হাদীসেরসংজ্ঞা দিতে গিয়ে ইমাম নববী বলেছেন- “যে হাদীসের সনদনির্ভযোগ্য ও সঠিক রূপে সংরক্ষণকারী বর্ণনা কারকদেরসংযোজনে পরস্পরাপূর্ণ ও যাতে বিরল ও ত্রুটিযুক্তবর্ণনাকারী একজনও নেই, তাই ‘হাদীসে সহীহ’।হাসান হাদীসঃ যে হাদীসের বর্ণনাকারীর মধ্যে সকল গুণ বর্তমানতাকা সত্ত্বেও যদি স্মরণ শক্তির কিছুটা দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয়,তবে সেই হাদীসকে ‘হাদীসে হাসান’ বলে।ছিহাহ সিত্তা বলা কতদূর সঠিক?আমরা বুখারী, মুসলিম, আবুদাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহএসব মহামতি ইমামদের হাদীছ গ্রন্থ গুলিকে ছিহাহ সিত্তাহবলে থাকি। যার অর্থ হাদীছের ছয়টি ছহীহ কিতাব। আসলে কি এ ছয়খানি কিতাবই ছহীহ হাদীছের কিতাব? একমাত্র ছহীহ হাদীছের কিতাববলতে বুখারী ও মুসলিমকে বুঝানো হয়।যে দুটিকে একত্রে ছহীহায়েন বলা হয়। এই দুই কিতাবের সাথে অনেকবিদ্বান মুওয়াত্ত্বা মালিককেও শামিল করেছেন। এর বাইরে কোনকিতাবই নিরঙ্কুশ ছহীহ হাদীছের কিতাব নয়। বরং সব হাদীছেরবিতাবেই ছহীহ-যঈফ মিশ্রিত রয়েছে। আবুদাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী,ইবনে মাজাহ এ চারটি কিতাবে যঈফ হাদীছ মিশ্রিত রয়েছে।সুতরাং এগুলিকে বুখারী ও মুসলিমের সাথে মিলিয়ে ছিহাহ সিত্তাহবলা ঠিক নয়। এমন কি সহীহ বুখারী মুসলিম ছাড়া অন্যান্য হাদীসেরকিতাবের সংকলকগণ তাদের কিতাবগুলোকে সহীহ হিসেবেও নাম করণকরেন নি। যদিও অনেক আলেম এগুলোর মধ্যে অধিকাংশ হাদীসসহীহ হওয়ার উপর ভিত্তি করে সিহাহ সিত্তাহ বলেছেন।বিদ্বানদের গণনা মতে ঐ চারটি কিতাবে যঈফ হাদীছের সংখ্যা তিনহাযারের ঊর্ধ্বে রয়েছে।চারটি যঈফ গ্রন্থ অবলম্বনে বলা যায়-• নাসাঈতে যঈফ হাদীছের সংখ্যা প্রায় ৪৪০ টি• আবুদাউদে যঈফ হাদীছের সংখ্যা প্রায় ১১২৭ টি• তিরমিযীতে যঈফ হাদীছের সংখ্যা প্রায় ৮২৯ টি• ইবনু মাজাহ্তে যঈফ হাদীছের সংখ্যা প্রায় ৯৪৮ টিসর্বমোট = ৩৩৪৪ টিএই চার খানা কিতাবকে পুরোপুরিভাবে ছহীহ হাদীছের সংকলন জ্ঞানকরার কারণেই আমরা এগুলোর মধ্যে সন্নিবেশিতহাদীছগুলিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি না বা করার প্রয়োজনমনে করি না। অথচ এটি একটি মারাত্মক ভুল।আল্লামা মোহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ইয়ামানী বলেন:সুনানে ইবনে মাজাহ আবূদাউদ ও নাসাঈর পরবর্তী পর্যায়ের গ্রন্থ।উহার হাদীছসমূহে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো আবশ্যক।উহাতে ফযীলত সংক্রান্ত অধ্যায়ে একটি মওযূ হাদীছ রয়েছে। (হাদীছসংকলনের ইতিহাস, (ইফাবা, ১৯৯২), পৃঃ ৫৬১। গৃহীত: ত্বানক্বীহুলআনওয়ার।)উপরোক্ত চারখানা বিতাবের বাইরেও এমন অনেক কিতাব রয়েছে যারবেশীর ভাগ হাদীছ ছহীহ। যেমন ছহীহ ইবনু খুযায়মা, ছহীহ ইবনুহিব্বান প্রভৃতি।মোটকথা, হাদীছের প্রসিদ্ধ চয় খানা বিতাবকে ছিহাহ সিত্তাহনা বলে কুতুবু সিত্তাহ বা ছহীহাইন ও সুনানে আরবাআহ বলা উচিত।প্রকাশ থাকে যে, অনেকে মনে করেন, যঈফ হাদীছ ফযীলতেরক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। তাদের এ ধারণা সঠিক নয়। বরং ফযীলত ওআহকাম সর্বক্ষেত্রেই যঈফ হাদীছ বর্জনীয়। ইহাই মুহাক্কেক্বীনবিদ্বানদের চূড়ান্ত ফায়সালা। আল্লামা জামালুদ্দীনক্বাসেমী বলেন, ইমাম বুখারী, মুসলিম, ইয়াহ্ইয়া ইবনে মঈন, ইবনুলআরাবী, ইবনে হাযম এবং ইবনু তাইময়াহ প্রমুখ মনীষীগণ বলেন,ফযীলত কিংবা আহকাম কোন ব্যাপারেই যঈফ হাদীছ আমল যোগ্যনয়। (ফাওয়ায়েদুত্ তাহদীস পৃঃ ৯৫)হাদীসে কুদসীঃহাদীসের ভেতর সবচেয়ে গুরুত্বের দাবীদার এই হাদীসে কুদসী। এহাদীসের মূল বক্তব্য সরাসরি আল্লাহর তরফ থেকে প্রাপ্ত।কুদসী পদটি আরবী ‘কুদুস’ থেকে আগত, যার অর্থ পবিত্রতা,মহানত্ম।সংজ্ঞাঃ যে হাধীসের মুল কথা সরাসরি আল্লাহ পাকের পক্ষথেকে এসেছে সেই হাদীসকেই ‘হাদীসে কুদসী’ বলে। আল্লাহতা’য়ালা তাঁর নবীকে ‘ইলহাম’ কিংবা স্বপ্ন যোগে এই মূলকথাগুলি জানিয়ে দিয়েছেন। প্রখ্যাত হাদীসব্যাখ্যাদাতা মুল্লা আলী আল-কারী ‘হাদীসে কুদসী’র সংজ্ঞা দানপ্রসংগে বলেছেন- ‘হাদীসে কুদসী’ সে সব হাদীস যা শ্রেষ্ঠবর্ণনাকারী পূর্ণচন্দ্রের ন্যায় উজ্জ্বল পরম নির্ভরযোগ্য হযরতমুহাম্মদ (স.) আল্লাহর নিকট থেকে বর্ণনা করেন কখনো জিবরাঈল(আ.)-এর মাধ্যমে জেনে কখনো সরাসরি অহী কিংবা ইলহামবা স্বপ্ন যোগে লাভ করেন, যে কোন প্রকারের ভাষারসাহায্যে এটা প্রকাশ করার দায়িত্ব রাসূলের উপর অর্পিতহয়ে থাকে।” (হাদীস সংকলনের ইতিহাস পৃঃ ৩৩)। এসম্বন্ধে আল্লামা বাকী তাঁর ‘কুল্লিয়াত’ গ্রন্থে লিখেছেন-“কোরআনের শব্দ, ভাষা, অর্থ, ভাব ও কথা সবই আল্লাহর নিকটথেকে সুস্পষ্ট ওহীর মাধ্যমে অবতীর্ণ; আর ‘হাদীসে কুদসীর’র শব্দও ভাষা রাসূলের; কিন্তু উহার অর্থ, ভাব ও কথা, আল্লাহর নিকটহতে ইলহাম কিংবা স্বপ্ন যোগ প্রাপ্ত।” এবার নিশ্চয়বুঝতে পারা গেলো যে, হাদীসে কুদসী ও কোরাআনেরমধ্যে পার্থক্য কি? তবুও কিছু অস্পষ্টতা থেকে যাচ্ছে, ছকের সাহায্যনিলে মনে হয় আমাদের জন্যে বুঝতে সুবিধা হবে।কোরআন ও হাদীসে কুদসীর পার্থক্য১. কোরআান মজীদ জীবরাঈল (আঃ) -এর মাধ্যমে ছাড়া নাযিলহয়নি এবং এর শব্দ ভাষা নিশ্চিত ভাবে ‘লওহে মাহফুজ’থেকে অবতীর্ণ।হাদীসে কুদসীর মূল বক্তব্য আল্লাহর নিকট থেকে ইলহামকিংবা স্বপ্ন যোগে প্রাপ্ত। কিন্তু ভাষা রাসূল (স.)-এর নিজস্ব।২. নামাজে কোরআন মজীদ’ই শুধু পাঠ করা হয়। কোরআনছাড়া নামাজ সহী হয় না। নামাজে হাদীসে কুদসী পাঠ করা যায়না অর্থাৎ হাদীসে কুদসী পাঠে নামাজ হয় না।৩. অপবিত্র অবস্থায় কোরআন স্পর্শ করা হারাম।হাদীসে কুদসী অপবিত্র ব্যক্তি, এমন কি হায়েয নিফাসসম্পন্না নারীও স্পর্শ করতে পারে।৪. কোআন মজীদ মু’জিজা কিন্তু হাদীসে কুদসী মু’জিজা নয়।৫. কোরআন অমান্য করলে কাফের হতে হয়। হাদীসে কুদসী অমান্যকরলে কাফের হতে হয় না।৬. কোরআন নাযিল হওয়ার জন্যে আল্লাহ ও রাসূলেরমাঝখানে জীবরাঈলের মধ্যস্থা অপরিহার্য। হাদীসে কুদসীর জন্যজীবরাঈলের মধ্যস্থা জরুরী নয়।উপরোক্ত আলোচনায় আমরা বুঝতে পারলাম যে হাদীসপ্রধানতঃ দু’ভাগে বিভক্ত – ১. হাদীসে নব্বী – রাসূলে করীম (স.)-এর হাদীস। ২. হাদীসে ইলাহী – আল্লাহর হাদীস, আর এইহাদীসকেই হাদীসে কুদসী বলে।শায়খ মুহাম্মদ আল-ফারুকী হাদীসকে দু’ভাগে ভাগ করেছেন।তিনি লিখেছেন-‘হাদীসে কুদসী তাই, যা নবী করীম (স.) তাঁর আল্লাহ তায়ালার তরফহতে বর্ণনা করেন। আর যা সেরূপ করেন না,তা হীদসে নব্বী।’ (হাদীস সংকলনের ইতিহাস পৃঃ৩৬)।পরিশেষে, আল্লাহ আমাদের সকলকে যঈফ ও জাল হাদীছ চিনার ওতা থেকে সতর্ক থাকার সাথে সাথে কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিকআমল করার তাওফীক দিন-আমীন!

Advertisements