কবরের শাস্তি ও শান্তি সম্পরকে কতিপয় মাসআলা: বারযাখী জীবন


কবরের শাস্তি ও শান্তি সম্পর্কে কতিপয় মাসআলা:
বারযাখী জীবন
সূচিপত্র
ক্রম বিষয়
1. অনুবাদকের কথা
2. বারযাখী জীবন
3. আকাশ ও জমিনে মুমিন আত্মার বিচরণ
4. আকাশ ও জমিনে খারাপ আত্মার ভ্রমণ
5. কবরের শাস্তি ও শান্তি
6. কবরের শাস্তি ও শান্তি —মতামত
7. কবরবাসীদের অবস্থার কিছূ বিবরণ
8. কবরে শাস্তি হওয়ার কারণসমূহ
9. কবরের ‘আযাব থেকে মুক্তির উপায়
10. বারযাখী জীবন সম্পর্কে কিছু মাসআলা
ভূমিকা
অনুবাদকের কথা
প্রশংসা মাত্রই আল্লাহ তা‘আলার জন্য যিনি
অইবনশ্বর ও চিরঞ্জীব। দুরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক
সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর, তাঁর পরিবার পরিজন
এবং সকল সাহাবীগণের ওপর।
বারযাখী জীবন সম্পর্কে এ বইটি হাতে পেয়েই হৃদয়ে
শিহরণ জাগল যে, এ ধরনের বই সচরাচর হাতে পাওয়া
যায় না বিধায় জনসাধারণ এ অদৃশ্য জীবন সম্পর্কে
তেমন কিছু জানতে পারে না। এমনকি বহু আলেমদের
মনেও অনেক সময় সন্দেহের জাল বুনতে শুরু করে, ফলে
এমনও বলতে শুনা যায় যে, কবরের ‘আযাব বলতে কিছু
নেই। অথচ কুরআনের বহু আয়াত এবং বহু সহীহ হাদীস
রয়েছে যা কবরে ‘আযাব হওয়ার ওপর প্রমাণ করে।
মানুষের জীবনে কয়েকটি ধাপ রয়েছে: পার্থিব
জীবন, বারযাখী জীবন এবং আখিরাতের স্থায়ী
জীবন। বারযাখী জীবনেই মানুষ কর্মের প্রায়শ্চিত্ত
হিসাবে -হয় শাস্তি, না হয় শান্তি ভোগ করবে। আর
এটিই সালাফদের মাযহাব।
আমার অনুবাদ করা এ বইটি থেকে পাঠকবৃন্দ কিছুটা
উপকৃত হলেও আমার পরিশ্রম স্বার্থক হবে বলে আমি
মনে করি। এ বই প্রকাশে যারা আমাকে
সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলের
নিকট আমি চিরকৃতজ্ঞ।
পরিশেষে আমার নিবেদন এই যে, আরবি থেকে অন্য
ভাষায় অনুবাদের কাজ সহজ নয় এবং সংশোধনের
কাজও কখনো চুড়ান্ত করা যায় না। কারণ এতে অন্যের
মনের ভাব নিজের ভাষায় ব্যক্ত করা হয়। কাজেই
বইটি পড়ার সময় কোনো ভুলত্রুটি পাঠকবৃন্দের
দৃষ্টিগোচর হলে অথবা সংশোধনীয় কোনো প্রস্তাব
থাকলে বিবেচনায় থাকবে ইনশা আল্লাহ। হে
আল্লাহ, আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে কবুল করুন।
অনুবাদক
মোহাম্মদ ইদরীস আলী
দা’ঈ
আল সুলাইল ইসলামিক
সেন্টার
সকল প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনের জন্য যিনি
নিখিল বিশ্বের প্রতিপালক, অনুগ্রহশীল পরম করুনাময়
এবং যিনি কিয়ামত দিবসের মালিক। দুরূদ ও সালাম
বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর, যিনি পৃথিবীতে
রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন এবং তাঁর পরিবার
পরিজন, সাথীবর্গ ও তাবে‘ঈনদের ওপর কিয়ামত
পর্যন্ত আল্লাহর অনুগ্রহ বর্ষিত হোক।
অতঃপর বারযাখী জীবন এবং কবরের শাস্তি ও
শান্তি সম্পর্কীয় কতগুলো মাসআলা সম্বন্ধে
আলোচনা করা হয়েছে। ইহা পরকালে মুক্তির দিক
নির্দেশনা (পরিদর্শন ও উপদেশ) হিসাবে তৈরি
করেছি, যা সৌদি আরবের রেডিও কুরআনে কারীম
থেকে প্রচার করার জন্য তৈরি করেছিলাম। অতঃপর
কতিপয় আলেম অনুরোধ করেন রেডিওতে প্রচারিত
আলোচনাগুলো একটি পুস্তকাকারে প্রকাশ করার
জন্য। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে অন্যান্য বিষয় বাদ
দিয়ে এ আলোচনাটিই বেছে নিয়েছি এই আশায় যে,
এতে অন্তরের উপদেশ ও আল্লাহ তা‘আলার দিকে
প্রত্যাবর্তনের কথা আত্মাকে স্মরণ করিয়ে দিবে
এবং তা জুমু‘আর খুৎবা ও মজলিসে পাঠের জন্য
উপযুক্ত বিষয় হিসেবে মনে করি।
পরিশেষে আল্লাহ তা‘আলার নিকট তাওফীক কামনা
করছি যে, তিনি যেন আমাদিগকে সঠিক পথ প্রদর্শন
করেন এবং কিয়ামতের কঠিন শাস্তি থেকে আমাকে,
আমার মা-বাবা, ভাই-বোন, ছেলে-মেয়ে এবং সকল
মুসলিম ভাই-বোনকে মুক্তি দান করেন।
লেখক
শাইখ খালেদ ইবন আব্দুর রহমান
আশ্শায়ে
আকাশ ও জমিনে মুমিন আত্মার বিচরণ
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহ থেকে এমন একটি হাদীস
পেশ করব যার মধ্যে মানব জীবনের শেষ মুহূর্তের
একটি সূক্ষ্ণ গুণাগুণের বর্ণনা করা হয়েছে। আত্মার
স্থায়ী ঠিকানা জাহান্নাম বা জান্নাত হওয়ার পূর্ব
পর্যন্ত আকাশ ও জমিনে একটি দীর্ঘ ও শেষ ভ্রমণের
বর্ণনা করা হয়েছে, যতক্ষণ না তার স্থায়ী গন্তব্যস্থল
হবে জাহান্নাম বা জান্নাত (শাস্তি অথবা শান্তি)।
আল্লাহ তা‘আলার নিকট তাঁর অনুগ্রহ চাচ্ছি এবং
কঠিন শাস্তি ও অসন্তুষ্টির কারণ থেকে আশ্রয়
চাচ্ছি। যে গুণাগুণ এখানে বর্ণনা করতে চাচ্ছি তা
মুমিন, কাফির, পরহেজগার, ফাসিকসহ সকল
প্রাপ্তবয়স্ক বান্দার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আর ইহাই
সকল শব্দ ও দীর্ঘ বর্ণনাসহ বিস্তারিত তুলে ধরেছি।
বারা ইবন আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের সাথে এক আনসারীর জানাযার
সালাতের জন্য বের হয়ে কবর পর্যন্ত গেলাম, তখনও
মাটি দেওয়া হয় নি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলামুখী হয়ে বসলে আমরাও
তাঁর পাশে বসলাম। সকলেই এমন নীরবতা অবলম্বন
করছে যেন তাদের মাথায় পাখি বসেছে (কোনো
নড়াচড়া নেই) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের হাতে একটি কাঠি ছিল, যার দ্বারা
তিঁনি মাটিতে দাগ ছিলেন। অতঃপর তিনি একবার
আকাশের দিকে আবার মাটির দিকে তাকাতে
লাগলেন এবং তাঁর দৃষ্টি একবার উপরের দিকে তুলেন
আবার নিচের দিকে নামান, (এভাবে তিনবার
করলেন) অতঃপর বললেন, তোমরা আল্লাহর নিকট
কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর। (এ কথাটি
দু’বার বা তিনবার বললেন) তারপর বললেন, হে
আল্লাহ! কবরের ‘আযাব থেকে তোমার নিকট আশ্রয়
চাচ্ছি, কথাটি তিনবার বললেন। তারপর বললেন, মুমিন
বান্দা যখন ইহকাল ত্যাগ করে পরকালের দিকে
অগ্রসর হয়, তখন তার নিকট সূর্য্যসদৃশ শুভ্র বর্ণের
মুখবিশিষ্ট ফিরিশতা জান্নাতের কাফন ও সুগন্ধি
নিয়ে আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়ে চোখের শেষ দৃষ্টি
দূরত্বে বসে থাকে। অতঃপর মালাকুল মাউত তার
মাথার পাশে বসে বলতে থাকে হে পবিত্র আত্মা!
অন্য বর্ণনায় হে শান্তিপ্রিয় আত্মা! আল্লাহর ক্ষমা
এবং সমত্তষ্টির দিকে বের হয়ে আস। তিনি বলেন,
তখন সে আত্মা কলসির মুখ থেকে পানি বের হওয়ার
ন্যায় শরীর থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসলে মৃত্যুর
ফিরিশতা তা হাতে তুলে নেন।
অন্য বর্ণনায় আছে, যখন তার রূহ বের হয় তখন আকাশ ও
জমিনসহ সকল ফিরিশতা তার জন্য দো’আ করতে
থাকে, সেই সাথে তার জন্য আকাশের সকল দরজা
খুলে দেওয়া হলে প্রত্যেক দরজার অধিবাসীগণ
আল্লাহর নিকট দো’আ করে যেন তার রূহটি তাদের
নিকট দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
মালাকুল মাউত রূহটি হাতে নিয়ে এক মুহুর্তের জন্যও
তার হাতে রাখতে পারেন না; বরং সাথে সাথে সেই
অপেক্ষাকারী ফিরিশতারা নিয়ে জান্নাতের
সুগন্ধি সম্বলিত কাফনে তুলে নেয়। তাইতো আল্লাহ
তা‘আলা বলেন,
﴿ﺗَﻮَﻓَّﺘۡﻪُ ﺭُﺳُﻠُﻨَﺎ ﻭَﻫُﻢۡ ﻟَﺎ ﻳُﻔَﺮِّﻃُﻮﻥَ﴾ ‏[ﺍﻻﻧﻌﺎﻡ : ٦١ ‏]
“আমার ফিরিশতাগণ হস্তগত করে নেয়, বিন্দুমাত্র
ত্রুটি করে না।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ৬১]
এবং তা থেকে পৃথিবীতে পাওয়া যায় এমন
সর্বোৎকৃষ্ট মিশকের সুগন্ধি বের হতে থাকে। তিনি
বলেন, তারপর তা উপরে উঠতে থাকে, যখনই কোনো
ফিরিশতার নিকট দিয়ে অতিক্রম করে তখনই সে বলে:
এ পবিত্র আত্মাটি কার? তখন পৃথিবীতে সবচেয়ে
সুন্দর যে নামে তাকে ডাকা হতো সে নাম ধরে বলবে:
এটি অমুকের ছেলে অমুক, যতক্ষণ না পৃথিবীর আকাশ
পর্যন্ত যাবে। সেখানে পৌঁছে দরজা খুলে দেওয়ার
জন্য বললে তা খুলে দেওয়া হবে। অতঃপর প্রত্যেক
আকাশের নৈকট্য লাভকারী ফিরিশতাগণ তার অনুসরণ
করবে যতক্ষণ না সপ্তম আকাশ পর্যন্ত পৌঁছাবে।
সেখানে পৌঁছার পর আল্লাহ বলবেন, আমার এ বান্দার
ঠিকানা ইল্লিয়্যিনে লিখে দাও।
﴿ﻭَﻣَﺎٓ ﺃَﺩۡﺭَﻯٰﻚَ ﻣَﺎ ﻋِﻠِّﻴُّﻮﻥَ ١٩ ﻛِﺘَٰﺐٞ ﻣَّﺮۡﻗُﻮﻡٞ ٢٠ ﻳَﺸۡﻬَﺪُﻩُ ﭐﻟۡﻤُﻘَﺮَّﺑُﻮﻥَ
٢١﴾ ‏[ ﺍﻟﻤﻄﻔﻔﻴﻦ : ١٩، ٢١ ‏]
“আপনি জানেন ইল্লিয়্যিন কি? এটি একটি লিপিবদ্ধ
দফতর, আল্লাহর নৈকট্য লাভকারী ফিরিশতাগণ একে
প্রত্যক্ষ করবে।” [সূরা আল-মুতাফফিফীন, আয়াত:
১৯-২১]
তখন তার কিতাব ইল্লিয়্যিনে লেখা হয়। অতঃপর বলা
হবে: তাকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে দাও, কেননা আমি
তাদেরকে অঙ্গিকার দিয়েছি যে, তা থেকে
তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এবং তাতে ফিরিয়ে দেব
আবার তা থেকেই পূনরায় উত্তোলন করব।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তাকে
পৃথিবীতে পাঠিয়ে তার শরীরে তার রূহ ফিরিয়ে
দেওয়া হবে। তিনি বলেন, তখন সে তার ফিরে যাওয়া
সাথীদের জুতার আওয়াজ শুনতে পাবে। অতঃপর
হুংকারকারী শক্তিশালী দু’জন ফিরিশতা এসে তাকে
ধমক দিয়ে বসিয়ে প্রশ্ন করবে:
তোমার রব কে?
সে বলবে: আমার রব আল্লাহ।
তারা বলবে: তোমার দীন কি?
বলবে: আমার দীন ইসলাম ।
তারা বলবে: তোমাদের নিকট প্রেরিত লোকটি কে?
সে বলবে: তিনি হচ্ছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
তারা বলবে: তুমি কীভাবে জানলে?
সে বলবে: আল্লাহর কিতাব পড়েছি, এর ওপর ঈমান
এনেছি এবং বিশ্বাস করেছি।
তাকে ধরে জিজ্ঞাসা করে বলবে: তোমার প্রভু কে?
তোমার দীন কি? তোমার নবী কে? আর এটিই হবে
মুমিন আত্মার ওপর অর্পিত শেষ ফিতনা।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ﻳُﺜَﺒِّﺖُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮﺍْ ﺑِﭑﻟۡﻘَﻮۡﻝِ ﭐﻟﺜَّﺎﺑِﺖِ ﻓِﻲ ﭐﻟۡﺤَﻴَﻮٰﺓِ ﭐﻟﺪُّﻧۡﻴَﺎ
﴾ ‏[ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ : ٢٧‏]
“আল্লাহ তা‘আলা মুমিন বান্দাদেরকে পার্থিব
জীবনে মজবুত বাক্য দ্বারা মজবুত করেন।” [সূরা
ইব্রাহীম, আয়াত: ২৭]
সে বলবে আমার রব আল্লাহ, দীন ইসলাম এবং নবী
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তখন
আকাশ হতে একজন আহ্বানকারী আহ্বান করবেন যে,
আমার বান্দা সত্য বলেছে। সুতরাং তার জন্য
জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে জান্নাতের পোশাক
পরিধান করিয়ে দাও। তিনি বলেন, তখন জান্নাত
থেকে সুগন্ধির হাওয়া আসতে থাকবে এবং তার জন্য
তার কবরকে চোখের শেষ দৃষ্টি পর্যন্ত প্রশস্ত করে
দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন: তার নিকট সুশ্রী
সুন্দর পোশাক পরিহিত একজন ফিরিশতা আসবে, অন্য
বর্ণনায়: তার বেশ ধরে এসে বলবে: তোমাকে
আনন্দিত করবে এমন একটি সুসংবাদ গ্রহণ কর।
আল্লাহর সমত্তষ্টি এবং অসীম শান্তি বিশিষ্ট
জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর।
আজ সেই দিন, যেই দিনের অঙ্গিকার তোমাকে
দেওয়া হয়েছিল। সে বলবে: আল্লাহ তোমাকে দিয়ে
যে সুসংবাদ পাঠিয়েছেন তুমি কে? তোমার
চেহারাতো সৌভাগ্যশালী চেহারা। তখন সে বলবে:
আমি তোমার ভালো আমল। আল্লাহর কসম! তুমি ছিলে
আল্লাহর আনুগত্যের প্রতি অত্যন্ত সজাগ এবং তাঁর
নাফরমানীর প্রতি ছিলে নিশ্চল। কাজেই আল্লাহ
তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিয়েছেন।
অতঃপর তার জন্য জান্নাতের একটি দরজা ও
জাহান্নামের একটি দরজা খুলে দিয়ে বলা হবে: তুমি
যদি আল্লাহর নাফরমানী করতে তাহলে তোমার
ঠিকানা হতো জাহান্নামে; কিন্তু এর বদলায়
তোমাকে জান্নাত দিয়েছেন। যখন সে জান্নাতের
নি‘আমত দেখবে তখন বলবে: হে আল্লাহ তাড়াতাড়ি
কিয়ামত সংঘটিত কর যেন আমি আমার পরিবার
পরিজন এবং ঐশ্বর্য্যে ফিরে যেতে পারি। তাকে
বলা হবে: এখানেই থাক, (এটাই তোমার স্থান)।
এ ছিল মুমিন আত্মার বিচরণ, যা আল্লাহ তা‘আলা
অনুগ্রহ করে গুরুত্বসহকারে রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন,
যেন রূহ হাসি খুসিতে আল্লাহর নিকট ফিরে যেতে
পারে; যাকে পৃথিবীতে চিনেছিল এবং যার ইবাদত
করেছিল।
এখন আমরা অন্য একটি ভয়ানক ভ্রমণের দিকে যাব, যা
হবে খারাপ আত্মার ভ্রমণ বা বিচরণ।
আকাশ ও জমিনে মন্দ আত্মার ভ্রমণ
এখানে কাফির বা পাপিষ্ঠ আত্মার ভ্রমণ কাহিনী
এমনভাবে বর্ণনা করব যেমনভাবে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
কাফির বান্দা, অন্য বর্ণনায় পাপিষ্ঠ বান্দা যখন
পৃথিবী ত্যাগ করে আখিরাতের দিকে অগ্রসর হয় তখন
আকাশ থেকে কালো চেহারা বিশিষ্ট কঠিন হৃদয়ের
ফিরিশতাগণ অবতীর্ণ হয়, যাদের সঙ্গে আগুনের
পোশাক রয়েছে। অতঃপর চোখের শেষ দৃষ্টি দূরত্বে
বসে থাকে, শুধু মৃত্যুর ফিরিশতা এগিয়ে এসে তার
মাথার পাশে বসে বলে: হে খারাপ আত্মা! আল্লাহর
অসন্তুষ্টি এবং গজবের দিকে বের হয়ে আস। তিনি
বলেন: তখন সমস্ত শরীরে তা ছড়িয়ে পড়লে এমনভাবে
টেনে বের করবে যেমনভাবে ভিঁজা তুলা হতে বহু
কাটা বিশিষ্ট লাঠি টেনে বের করা হয়। এতে তার
সকল শিরা উপশিরা ছিড়ে বের হয়ে আসবে। তারপর
আকাশ ও জমিনসহ আকাশের সকল ফিরিশতাগণ তাকে
অভিশম্পাত করে, সেই সাথে আকাশের সকল দরজা
বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং প্রত্যেক দরজার
অধিবাসিগণ আল্লাহর নিকট দো’আ করতে থাকে যে,
তাদের নিকট দিয়ে যেন তা না নেওয়া হয়। তারপর
মৃত্যুর ফিরিশতা রূহটি হাতে নিয়ে এক মুহূর্তও রাখতে
পারে না; বরং অপেক্ষমান ফিরিশতাগণ আংটায়
রেখে দেয় এবং তা থেকে মৃত জানোয়ারের দেহের
দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। অতঃপর তা নিয়ে উপরে
উঠতে থাকে, যখনই কোনো ফিরিশতার নিকট দিয়ে
অতিবাহিত হয়, তখন তারা বলে: এ খারাপ আত্মাটি
কার? তখন পৃথিবীতে সবচেয়ে খারাপ নামে ডাকা
নাম ধরে তারা বলবে: এটি অমুকের ছেলে অমুক,
যতক্ষণ না পৃথিবীর আকাশ পর্যন্ত যাবে। সেখানে
পৌঁছে দরজা খোলে দেওয়ার জন্য বলা হবে কিন্তু
খোলা হবে না।
﴿ﻟَﺎ ﺗُﻔَﺘَّﺢُ ﻟَﻬُﻢۡ ﺃَﺑۡﻮَٰﺏُ ﭐﻟﺴَّﻤَﺎٓﺀِ ﻭَﻟَﺎ ﻳَﺪۡﺧُﻠُﻮﻥَ ﭐﻟۡﺠَﻨَّﺔَ ﺣَﺘَّﻰٰ ﻳَﻠِﺞَ ﭐﻟۡﺠَﻤَﻞُ ﻓِﻲ ﺳَﻢِّ ﭐﻟۡﺨِﻴَﺎﻁِۚ﴾ ‏[ ﺍﻻﻋﺮﺍﻑ : ٤٠ ‏]
“তাদের জন্য আকাশের দরজা খোলা হবে না এবং
ততক্ষণ পর্যন্ত তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে
না, যতক্ষণ না সূচের নাভী দিয়ে উট প্রবেশ
করবে।” [সূরা আল-‘আরাফ, আয়াত: ৪০]
তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: তার জায়গা নিম্ন
ভূমিতে উপস্থিত সিজ্জিনে লিখে দাও। কেননা আমি
তাদেরকে অঙ্গিকার দিয়েছি যে, তাদেরকে যেখান
থেকে সৃষ্টি করেছি সেখানে ফিরিয়ে নিব, পুনরায়
সেখান থেকে বের করব। তারপর আকাশ থেকে তার
রূহকে ছুড়ে মারা হলে তার শরীরে এসে প্রবেশ করবে।
অতঃপর তিনি পড়লেন,
﴿ﻭَﻣَﻦ ﻳُﺸۡﺮِﻙۡ ﺑِﭑﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻜَﺄَﻧَّﻤَﺎ ﺧَﺮَّ ﻣِﻦَ ﭐﻟﺴَّﻤَﺎٓﺀِ ﻓَﺘَﺨۡﻄَﻔُﻪُ ﭐﻟﻄَّﻴۡﺮُ ﺃَﻭۡ ﺗَﻬۡﻮِﻱ ﺑِﻪِ
ﭐﻟﺮِّﻳﺢُ ﻓِﻲ ﻣَﻜَﺎﻥٖ ﺳَﺤِﻴﻖٖ ٣١﴾ ‏[ﺍﻟﺤﺞ : ٣١‏]
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশিদার করবে সে
যেন আকাশ থেকে ছিটকে পড়ল, অতঃপর মৃতভোজি
পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা বাতাস
তাকে উড়িয়ে নিয়ে কোনো দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ
করল।” [সূরা আল-হজ, আয়াত: ৩১]
তারপর শরীরে তার রূহ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি
বলেন: তখন সে তার নিকট থেকে ফিরে যাওয়া
সাথীদের জুতার আওয়াজ শুনতে পাবে। অতঃপর তার
নিকট গম্ভীর দু’জন ফিরিশতা এসে ধমকাবে এবং
তাকে বসিয়ে বলবে:
তোমার রব কে?
সে বলবে: হায়! হায়! আমি জানি না।
তারা বলবে: তোমার দীন কি?
সে বলবে হায়! হায়! আমি জানি না।
তারা বলবে: সেই লোকটি কে? যাকে তোমাদের
নিকট প্রেরণ করা হয়েছিল? তখন সে তাঁর নাম স্মরণ
করতে পারবে না,
বলা হবে (তাঁর নাম কি) মুহাম্মদ?
সে বলবে: হায়! হায়! আমি জানি না কিন্তু
লোকজনকে এ নাম বলতে শুনেছি।
তিনি বলেন: তাকে বলা হবে তুমি জান নি এবং যারা
জেনেছে তাদের অনুসরণও কর নি। তখন আকাশ থেকে
একজন ‌আহ্বানকারী আহ্বান করে বলবেন: সে মিথ্যা
বলেছে। সুতরাং তার জন্য জাহান্নামের বিছানা
বিছিয়ে দাও এবং জাহান্নামের একটি দরজা খুলে
দাও; যেন সেখান থেকে উত্তাপ ও প্রখর বাষ্প আসতে
থাকে এবং তার কবরকে এমন সংকীর্ণ করে দেওয়া
হবে যে, তার বুকের হাড়গুলো একদিক থেকে অন্য
দিকে চলে যাবে। তারপর বিশ্রী মুখ বিশিষ্ট জীর্ণ
কাপড় পরিহিত দুর্গন্ধযুক্ত এক ব্যক্তি তার নিকট
আসবে- অন্য বর্ণনায় তার বেশ ধরে বলবে: তুমি এমন
একটি সুসংবাদ গ্রহণ কর, যা তোমার অনিষ্ট করবে।
আজ সেই দিন যে দিনের অঙ্গিকার তোমাকে দেওয়া
হয়েছিল।
সে বলবে: তুমি কে? তোমাকে আল্লাহ এমন দুঃসংবাদ
দিয়ে পাঠিয়েছেন? তোমার চেহারাতো সেই
চেহারা যা অনিষ্ট বয়ে আনে।
সে বলবে: আমি তোমার মন্দ আমল। আল্লাহর কসম!
তুমি তাঁর আনুগত্যের প্রতি ছিলে অত্যন্ত নিশ্চল এবং
তাঁর নাফরমানির প্রতি ছিলে চতুর। সুতরাং আল্লাহ
তোমার মন্দের যথাযথ প্রতিদান দিয়েছেন।
অতঃপর তার জন্য একজন অন্ধ, বধির এবং কুৎসিত
ফিরিশতা নিযুক্ত করা হবে, যার হাতে থাকবে একটি
হাতুড়ী। যদি এর দ্বারা কোনো পাহাড়ে আঘাত করা
হয় তবে পাহাড় ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে। তা দ্বারা
তাকে আঘাত করে ধুলিস্যাৎ করে দেবে। আবার
আল্লাহ তাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিবেন,
আবার তাকে মারলে এমন জোরে চিৎকার করবে যে,
জিন্ন ও মানুষ ব্যতীত অন্যান্য সকল সৃষ্টিজীব তা
শুনতে পাবে। অতঃপর তার জন্য জাহান্নামের একটি
দরজা খোলে দিয়ে জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে
দেওয়া হবে। তখন সে বলবে: হে আল্লাহ! তুমি
কিয়ামত সংঘটিত কর। [1]
প্রিয় ভ্রাতৃবৃন্দ, এটাই ছিল আকাশ ও জমিনে আত্মার
সবচেয়ে বড় বিচরণ বা ভ্রমণ। হায়! আমি যদি জানতাম!
কোনো বিমানে আমাদের আত্মার ভ্রমণ হবে, কোনো
ফিরিশতা আমাদের রূহকে অভ্যর্থনা জানাবে এবং
কোনো নামে আমাদেরকে ডাকা হবে!। কবরে
সবচেয়ে বড় ফিতনায় কী হবে আমাদের অবস্থা,
বারযাখের কোনো ঘরে আমরা অতিসত্বর পদার্পন করব
এবং সেখানে কি আমরা শাস্তিপ্রাপ্ত হব নাকি
শান্তিপ্রাপ্ত হব? নিঃসন্দেহে বলা যায় যে,
প্রতিটি মুসলিম আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা এবং
তাঁর সন্তুষ্টি লাভ করার আশা আকাঙ্খা রাখে; কিন্তু
মানুষ যদি নিজের হিসেব নিজেই করে, তবে তার
বর্তমান অবস্থার একটি চিত্র ফুটে উঠবে। আল্লাহ
তা‘আলা বলেন,
﴿ﺑَﻞِ ﭐﻟۡﺈِﻧﺴَٰﻦُ ﻋَﻠَﻰٰ ﻧَﻔۡﺴِﻪِۦ ﺑَﺼِﻴﺮَﺓٞ ١٤ ﻭَﻟَﻮۡ ﺃَﻟۡﻘَﻰٰ ﻣَﻌَﺎﺫِﻳﺮَﻩُۥ ١٥ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ :
١٤، ١٥‏]
“বরং মানুষ নিজেই তার সম্পর্কে চক্ষুষ্মান যদিও সে
তার অজুহাত পেশ করতে চাইবে।” [সূরা আল-কিয়ামাহ,
আয়াত: ১৪-১৫]
হালাল হারাম পরিস্কার ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে,
আল্লাহ তা‘আলা ততক্ষণ পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেন
না; যতক্ষণ না তার ওপর অকাট্য প্রমাণ পেশ করে
তাকে ঠিকমত বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তারপরও আল্লাহর
হুকুম পরিস্কার। তিনি বলেন,
﴿ﺃَﻓَﻤَﻦ ﻛَﺎﻥَ ﻣُﺆۡﻣِﻨٗﺎ ﻛَﻤَﻦ ﻛَﺎﻥَ ﻓَﺎﺳِﻘٗﺎۚ ﻟَّﺎ ﻳَﺴۡﺘَﻮُۥﻥَ ١٨ ﴾ ‏[ﺍﻟﺴﺠﺪﺓ : ١٨‏]
“মুমিন ও ফাসিক কখনো সমকক্ষ হতে পারে না।” [সূরা
আস-সিজদা, আয়াত: ১৮]
এখন আপনি নিজের দিকে ফিরে দেখুন এবং আমলসমূহ
মেপে দেখুন, যদি অনুগ্রহ ও আনুগত্যের প্রতি অগ্রসর
এবং ধ্বংসের দিকে শীথিলতা পান; তবে আল্লাহর
সমত্তষ্টি ও নাজাতের আশা করে ভালো ভালো কাজ
করে যান। পক্ষান্তরে যদি বিভিন্ন প্রকার খারাপ
কাজে নিজেকে লিপ্ত পান এবং ভালো কাজে কমতি
ও ওয়াজিব পালনে ব্যর্থতা পান; তাহলে আপনি
বিপদের সম্মুখীন, সুতরাং তাওবা করে অতি শীঘ্রই
আল্লাহর দিকে ফিরে যান এবং উযর পেশ করে তাঁর
দিকে অগ্রসর হোন। যদি তা পালনে সক্ষম হন তবে
আল্লাহর অঙ্গিকারের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। তিনি
বলেন:
﴿ﻓَﺄُﻭْﻟَٰٓﺌِﻚَ ﻳُﺒَﺪِّﻝُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﺳَﻴَِّٔﺎﺗِﻬِﻢۡ ﺣَﺴَﻨَٰﺖٖۗ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻏَﻔُﻮﺭٗﺍ ﺭَّﺣِﻴﻤٗﺎ
﴾ ‏[ ﺍﻟﻔﺮﻗﺎﻥ : ٦٩‏]
“আল্লাহ তাদের পাপকে পুণ্যের দ্বারা পরিবর্তিত
করে দিবেন এবং আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম
করুণাময়।” [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৬৯]
আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রার্থনা এই, তিনি যেন
আমাদেরকে ভালো কাজ করার এবং মন্দ কাজ
পরিত্যাগ করার তাওফীক দান করেন এবং দুনিয়া ও
আখিরাতে যেন আমাদের সম্মান দান করেন।
কবরের শাস্তি ও শান্তি
প্রিয় ভাই সকল! আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের
ইমামগণ কবরের শাস্তি এবং শান্তির ব্যাপারে ঈমান
আনা ওয়াজিব হওয়ার যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা
এখানে তুলে ধরলাম।
প্রত্যেক মানুষ (নিম্নের) তিনটি স্তর অতিক্রম করে
থাকে।
1- ইহকালীন জীবন
2- বারযাখী জীবন
3- পরকালীন জীবন বা চিরস্থায়ী জীবন, যার কোনো
শেষ নেই।
বারযাখী জীবন একটি বিশিষ্ট জীবন, যেখানে
পরীক্ষা নিরীক্ষা রয়েছে, হয় শান্তি না হয় শাস্তি,
যা কুরআনের আয়াত এবং হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। আর
এটাই সালাফ এবং ইমামদের তরীকা যে, যখন কোনো
ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তখন সে শান্তি না হয় শাস্তিতে
থাকে।
রূহ শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর শাস্তিতে
অথবা শান্তিতে বাকী থেকে যাবে, কখনো শরীরের
সাথে সম্পৃক্ত হলে তখন রূহের সাথে শরীরেরও শান্তি
বা শাস্তি হবে। অতঃপর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত
হবে সে দিন রূহকে শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হলে তার
রবের জন্য কবর থেকে উঠে দাঁড়াবে।[2]
কুরআনের যে সকল আয়াত দ্বারা কবরের শাস্তি
প্রমাণিত হয় তা এই: আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ﻭَﺣَﺎﻕَ ﺑَِٔﺎﻝِ ﻓِﺮۡﻋَﻮۡﻥَ ﺳُﻮٓﺀُ ﭐﻟۡﻌَﺬَﺍﺏِ ٤٥ ﭐﻟﻨَّﺎﺭُ ﻳُﻌۡﺮَﺿُﻮﻥَ ﻋَﻠَﻴۡﻬَﺎ ﻏُﺪُﻭّٗﺍ
ﻭَﻋَﺸِﻴّٗﺎۚ ﻭَﻳَﻮۡﻡَ ﺗَﻘُﻮﻡُ ﭐﻟﺴَّﺎﻋَﺔُ ﺃَﺩۡﺧِﻠُﻮٓﺍْ ﺀَﺍﻝَ ﻓِﺮۡﻋَﻮۡﻥَ ﺃَﺷَﺪَّ ﭐﻟۡﻌَﺬَﺍﺏِ ٤٦
﴾ ‏[ﻏﺎﻓﺮ : ٤٥، ٤٦ ‏]
“ফির‘আউন গোত্রকে শোচনীয় ‘আযাব গ্রাস করল,
সকাল সন্ধায় তাদেরকে আগুনের সম্মুখে পেশ করা হয়
এবং যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সে দিন আদেশ
করা হবে, ফির‘আউন গোত্রকে কঠিনতম ‘‘আযাবে পেশ
করাও।” [সূরা গাফির, আয়াত: ৪৫-৪৬]
হাফেজ ইবন হাজার রহ. এ আয়াতের তাফসীরে বলেন,
ফির‘আউন এবং তার অনুসারীদের রূহসমূহ কিয়ামত
পর্যন্ত সকাল সন্ধায় আগুনের সম্মুখীন করা হবে, যখন
কিয়ামত সংঘটিত হবে তখন তাদের রূহ এবং শরীর
গুলো আগুনে একত্রিত করা হবে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ﻭَﺣَﺎﻕَ ﺑَِٔﺎﻝِ ﻓِﺮۡﻋَﻮۡﻥَ ﺳُﻮٓﺀُ ﭐﻟۡﻌَﺬَﺍﺏِ ٤٥ ﭐﻟﻨَّﺎﺭُ ﻳُﻌۡﺮَﺿُﻮﻥَ ﻋَﻠَﻴۡﻬَﺎ ﻏُﺪُﻭّٗﺍ
ﻭَﻋَﺸِﻴّٗﺎۚ ﻭَﻳَﻮۡﻡَ ﺗَﻘُﻮﻡُ ﭐﻟﺴَّﺎﻋَﺔُ ﺃَﺩۡﺧِﻠُﻮٓﺍْ ﺀَﺍﻝَ ﻓِﺮۡﻋَﻮۡﻥَ ﺃَﺷَﺪَّ ﭐﻟۡﻌَﺬَﺍﺏِ ٤٦
﴾ ‏[ﻏﺎﻓﺮ : ٤٥، ٤٦ ‏]
“ফির‘আউন গোত্রকে শোচনীয় ‘আযাব গ্রাস করল,
সকাল সন্ধায় তাদেরকে আগুনের সম্মুখে পেশ করা হয়
এবং যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সে দিন আদেশ
করা হবে, ফির‘আউন গোত্রকে কঠিনতম ‘‘আযাবে পেশ
করাও।” [সূরা গাফির, আয়াত: ৪৫-৪৬]
ব্যাখ্যা: যন্ত্রনার দিক দিয়ে কঠিন এবং অপমানের
দিক দিয়ে বড়। এ আয়াতটি কবরে বারযাখের শাস্তির
ওপর প্রমাণিত আহলে সুন্নাতের মূল দলীল। আর এটাই
আল্লাহর বাণী:
﴿ﭐﻟﻨَّﺎﺭُ ﻳُﻌۡﺮَﺿُﻮﻥَ ﻋَﻠَﻴۡﻬَﺎ ﻏُﺪُﻭّٗﺍ ﻭَﻋَﺸِﻴّٗﺎۚ﴾ ‏[ﻏﺎﻓﺮ : ٤٦‏]
“সকাল সন্ধায় তাদেরকে আগুনের সম্মুখীন করা
হবে।” [সূরা গাফির, আয়াত: ৪৬] [3]
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ﻳَﻮۡﻡَ ﻟَﺎ ﻳُﻐۡﻨِﻲ ﻋَﻨۡﻬُﻢۡ ﻛَﻴۡﺪُﻫُﻢۡ ﺷَﻴۡٔٗﺎ ﻭَﻟَﺎ ﻫُﻢۡ ﻳُﻨﺼَﺮُﻭﻥَ ٤٦ ﻭَﺇِﻥَّ ﻟِﻠَّﺬِﻳﻦَ
ﻇَﻠَﻤُﻮﺍْ ﻋَﺬَﺍﺑٗﺎ ﺩُﻭﻥَ ﺫَٰﻟِﻚَ ﻭَﻟَٰﻜِﻦَّ ﺃَﻛۡﺜَﺮَﻫُﻢۡ ﻟَﺎ ﻳَﻌۡﻠَﻤُﻮﻥَ ٤٧﴾ ‏[ ﺍﻟﻄﻮﺭ : ٤٦،
٤٧‏]
“অতঃপর তাদেরকে সেদিন পর্যন্ত অবকাশ দিন,
যেদিন তাদের ওপর বজ্রাঘাত পতিত হবে। সেদিন
তাদের চক্রান্ত কোনো কাজে আসবে না এবং
তাদেরকে কোনো সাহায্য করা হবে না। আর
যালিমদের জন্য এ ছাড়াও রয়েছে অন্য শাস্তি। কিন্তু
তাদের অধিকাংশই তা জানে না।” [সূরা আত-তূর,
আয়াত: ৪৫-৪৭]
আল্লাহর এ বাণী:
﴿ﻭَﺇِﻥَّ ﻟِﻠَّﺬِﻳﻦَ ﻇَﻠَﻤُﻮﺍْ ﻋَﺬَﺍﺑٗﺎ ﺩُﻭﻥَ ﺫَٰﻟِﻚَ ﻭَﻟَٰﻜِﻦَّ ﺃَﻛۡﺜَﺮَﻫُﻢۡ ﻟَﺎ ﻳَﻌۡﻠَﻤُﻮﻥَ
٤٧﴾ ‏[ ﺍﻟﻄﻮﺭ : ٤٧‏]
“আর যালিমদের জন্য এ ছাড়াও রয়েছে অন্য শাস্তি;
কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না” [সূরা আত-তূর,
আয়াত: ৪৭] দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায় যে, এর দ্বারা
উদ্দেশ্য হলো, বারযাখে শাস্তি হওয়া। যেমন ইবন
কাইয়্যুম তার কিতাবে (আর-রূহে) ইঙ্গিত দিয়েছেন। [4]
তিনি বলেন, এ আয়াত দ্বারা একটি বড় জামা‘আত
কবরের ‘‘আযাবের ওপর দলীল সাব্যস্ত করেছে।
তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু
‘আনহুমা একজন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে
যে সকল সহীহ হাদীস কবরের ‘আযাব সাব্যস্ত করে তা
অনেক মুস্তাফিজ হাদীস (যার সনদে দু’জন করে
সাহাবী রয়েছে) এবং কতিপয় উলামা তা
মুতাওয়াতির বলেছেন।[5] তার মধ্যে বারা ইবন ‘আযিব
রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদীস, যা সুনান (আবু দাউদ,
তিরমিযী, নাসায়ী এবং ইবন মাজাহ) ও মুসনাদে
এসেছে। আর আমি পূর্বে যা উল্লেখ করেছি তাই
বর্ণনার ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ।
কবরের ‘আযাব সাব্যস্তকারী হাদীস গুলো নিম্নরূপ:
ইমাম বুখারী তার সহীহ বুখারীতে আয়েশা
রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার হাদীস নিয়ে এসেছেন, তিনি
বলেন, একদা এক ইহুদী মহিলা তার নিকট এসে কবরের
‘আযাবের কথা উল্লখ করলে তিনি বলেন, আল্লাহ
তোমাকে কবরের ‘আযাব হতে রক্ষা করুন। অতঃপর
তিনি কবরের ‘আযাব সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা
করলে তিনি বলেন, হ্যাঁ, কবরের ‘আযাব সত্য।[6]
আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, এর পর যখনই
তাঁকে সালাত পড়তে দেখেছি তখনই তিনি কবরের
‘আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন।
আসমা বিনতে আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে
বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবায় দাঁড়িয়ে কবরের
ফিতনা উল্লেখ করেছেন, যেখানে মানুষ ফিতনার
সম্মুখীন হবে। তা উল্লেখ করার সাথে সাথে
সাহাবীগণ আর্তনাদ করতে শুরু করলেন। ইমাম নাসায়ী
আসমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার কথাটি আরো সামান্য
বৃদ্ধি করে বলেন যে, সাহাবীগণ চিৎকার করায়
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
শেষ কথাটি আমার বুঝতে অসুবিধা হলো। তাদের
চিৎকার একটু থামলে আমার নিকটবর্তী একজনকে
জিজ্ঞাসা করলাম যে, আল্লাহ তোমায় বরকত দিন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর
শেষ কথায় কী বলেছেন? বললেন, তিনি বলেছেন,
(আমার নিকট অহী এসেছে যে, নিশ্চয়ই তোমরা কবরে
ফিতনার সম্মুখীন হবে, যা দাজ্জালের ফিতনার
সমকক্ষ প্রায়