প্রচলিত বিভিন্ন খতমঃ তাৎপর্য ও পর্যালোচনা (চতুর্থ পর্ব)


প্রচলিত বিভিন্ন খতম : তাৎপর্য ও পর্যালোচনা, চতুর্থ পর্ব :খতমে শিফা  ‘শিফা’ শব্দের আরবী মূল শব্দ ‘ ﺷِﻔﺎﺀ ’ যার  অর্থ রোগমুক্ত করা বা রোগ নিরাময়।  এভাবে ‘খতমে শিফা’ অর্থ: রোগ নিরাময়  করার খতম। কেউ অসুস্থ হলে তার  রোগমুক্তির আশায় এই খতম পড়ানো হয়।  আমাদের দেশে প্রচলিত একটি বইয়ে এই  খতমটি যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে :  ‘‘খতমে শিফা  ﻻ ﺍﻟﻪ ﺍﻻ  ﺍﻟﻠﻪ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্)  এই পবিত্র কালেমা একলক্ষ  পঁচিশ হাজার বার পাঠ  করাকে ‘‘খতমে শিফা’’ বলে।  একে খতমে তাহলীলও বলা হয়।  এই খতম পাঠ করিয়া এর সোয়াব  মৃত লোকের রূহের  উদ্দেশ্যে বখশিশ  করিয়া দিলে নিশ্চয় আল্লাহ  তা‘আলা এর উসিলায়  তাহাকে মাফ করিয়া দিবেন ও  বেহেশত দান করবেন।  যদি কোনো ব্যক্তি কোনো  কঠিন বিপদের সম্মুখীন হয়  অথবা কোনো কঠিন  রোগে আক্রান্ত  হইয়া দীর্ঘদিন ভুগিতে থাকে  , তবে উক্ত কালাম তাহার  নিকট বসিয়া সশব্দে পাঠ  করিতে থাকিবে, যেন সেই  রোগী উহা শুনিতে পায়।  আল্লাহর ফযলে খতম শেষ হইবার  পূর্বেই ইহার আশ্চর্য ফল  বুঝিতে পারা যায়।  কোনো মুমূর্ষু লোকের নিকট  বসে এই খতম পাঠ করলে তাহার  রোগ যন্ত্রনা লাঘব হয়  এবং পরমায়ূ শেষ  হইয়া থাকিলে আছানির সহিত  মৃত্যু হয়। এই খতম একজনে পাঠ  করাই  ভাল, তবে জরুরী প্রয়োজনে  ১০/১৫ জন একত্র  বসিয়া একদিনেও খতম  করা চলে।’’ [91]  ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি  রাজি‘ঊন। ওহি নির্ভর কথার উপর নিজ  থেকে কিছু বলার কি দুঃসাহসিকতা!!  রোগ আল্লাহ দেন এবং তিনিই  মানুষকে রোগমুক্ত করেন। কারো রোগ  দেখা দিলে রোগীর নিজের  কী করণীয় এবং তার বেলায় অন্যদের  কী করণীয় সবই বলে গেছেন রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষার  মাঝে ‘খতমে শিফা’ নামের কিছু নেই।  একবার সাহাবায়ে কেরাম আরয  করলেন  ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা কি চিকিৎসা করব  ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রশ্নের  উত্তরে বলেন:  ‏« ﺗﺪﺍﻭﻭﺍ ﻓﺈﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ ﻟﻢ ﻳﻀﻊ ﺩﺍﺀ ﺇﻻ  ﻭﺿﻊ ﻟﻪ ﺩﻭﺍﺀ ﻏﻴﺮ ﺩﺍﺀ ﻭﺍﺣﺪ ﺍﻟﻬﺮﻡ ‏» . ‏( ﺳﻨﻦ  ﺃﺑﻲ ﺩﺍﻭﺩ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻄﺐ، ﺑﺎﺏ ﻓﻲ ﺍﻟﺮﺟﻞ  ﻳﺘﺪﺍﻭﻯ، ﺭﻗﻢ : 3857 ، ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻛﺘﺎﺏ  ﺍﻟﻄﺐ، ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺪﻭﺍﺀ ﻭﺍﻟﺤﺚ ﻋﻠﻴﻪ،ﺭﻗﻢ 2038: ‏)  ‘‘তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর।  কেননা মহান আল্লাহ তা  ‘আলা এমন কোনো রোগ  দেননি যার ঔষধ দেননি  , একমাত্র মৃত্যু ব্যতীত ।’’ [92]  আরেকটি হাদীসে এরশাদ  করেন:  ‏« ﻟﻜﻞ ﺩﺍﺀ ﺩﻭﺍﺀ ﻓﺈﺫﺍ ﺃﺻﻴﺐ ﺩﻭﺍﺀ ﺍﻟﺪﺍﺀ ﺑﺮﺃ  ﺑﺈﺫﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ ‏»  ‏( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﺑﺎﺏ ﻟﻜﻞ ﺩﺍﺀ ﺩﻭﺍﺀ  ﻭﺍﺳﺘﺤﺒﺎﺏ ﺍﻟﺘﺪﺍﻭﻱ، ﺭﻗﻢ 5871: ‏)  ‘‘প্রত্যেক রোগের ঔষধ  রয়েছে। অতঃপর যখন ঔষধ  রোগের সাথে ঠিকমত  পড়ে আল্লাহর ইচ্ছায় ভাল  হয়।’’  এভাবে নবী সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লামের  চিকিৎসা গ্রহণের আরো অনেক হাদীস  রয়েছে। স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন ধরণের  চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। হাদীসের  পাতা খুললেই চিকিৎসা গ্রহণের  ঘটনা পাওয়া যায়।  মুহাদ্দিসীনে কেরামের  অনেকে তাদের  কিতাবে ‘চিকিৎসা অধ্যায়’ নামে পৃথক  অধ্যায় রচনা করেছেন। তবে মুমিন  ব্যক্তি চিকিৎসাকে শুধুমাত্র মাধ্যম  হিসেবেই গ্রহণ করেন। তার বিশ্বাস, রোগ  নিবারণের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা  ‘আলা । তবে আল্লাহ অমুক ঔষধ অমুক  রোগের জন্য দিয়েছেন বলে গবেষণার  মাধ্যমে এ বিষয়ের পণ্ডিতগণ  জানতে পেরেছেন। তাই ঔষধ ব্যবহার  মূলত আল্লাহর নির্দেশ বলেই  আমরা হাদীসের  অপরদিকে এক মুমিন আরেক মুমিনের  ভাই বলে কুরআন ও  হাদীসে ঘোষণা করা হয়েছে । তাই  একজন মুমিন অসুস্থ হয়ে বিপদে পড়লে অপর  মুমিনের অনেক দায়িত্ব রয়েছে।  নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  সব মুমিনকে একই ব্যক্তির  সাথে তুলনা করেছেন। একজন মানুষের  একটি অঙ্গে ব্যথা হলে তার সমস্ত শরীর  যেমন কষ্ট অনূভব করে তদ্রূপ একজন মুমিন  ব্যথিত হলে প্রতিটি মুমিন তার ব্যথায়  ব্যথিত হওয়া ঈমানের আলামত  বলে আমাদেরকে বুঝিয়েছেন  নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ।  ‏« ﻣﺜﻞ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ﻓﻰ ﺗﻮﺍﺩﻫﻢ ﻭﺗﺮﺍﺣﻤﻬﻢ  ﻭﺗﻌﺎﻃﻔﻬﻢ ﻣﺜﻞ ﺍﻟﺠﺴﺪ ﺇﺫﺍ ﺍﺷﺘﻜﻰ ﻣﻨﻪ  ﻋﻀﻮ ﺗﺪﺍﻋﻰ ﻟﻪ ﺳﺎﺋﺮ ﺍﻟﺠﺴﺪ ﺑﺎﻟﺴﻬﺮ  ﻭﺍﻟﺤﻤﻰ ‏».  ‏(ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﺑﺎﺏ ﺗﺮﺍﺣﻢ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ  ﻭﺗﻌﺎﻃﻔﻬﻢ ﻭﺗﻌﺎﺿﺪﻫﻢ، ﺭﻗﻢ: 6751 ‏)  ‘‘মুমিনদের দৃষ্টান্ত পরস্পরের  প্রতি দয়া, মমতা, আন্তরিকতার  দিক দিয়ে একটি দেহের মত।  তাদের দেহের একটি অংশ  আক্রান্ত হলে, তার সমগ্র অঙ্গ  ব্যথা, যন্ত্রনা ও অনিদ্রায়  আক্রান্ত হয়।’’ [94]  এই হাদীস থেকেই কোনো মুমিন  অসুস্থ হলে আরেক মুমিনের  কি করণীয়, তার কতটুকু দায়িত্ব  উপলব্ধি করা যায়। তথাপি এ হাদীস  ছাড়া আরো অনেক  হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিনের অনেক  করণীয় স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন।  একজন অসুস্থ মুমিনের আরেক মুমিনের উপর  তাকে দেখতে যাওয়াকে অধিকার  সাব্যস্ত করেছেন।  নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেন:  ‏« ﺣَﻖُّ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻢِ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻢِ ﺳِﺖٌّ ‏» . ﻗِﻴﻞَ ﻣَﺎ  ﻫُﻦَّ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻗَﺎﻝَ : … ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻣَﺮِﺽَ ﻓَﻌُﺪْﻩُ  ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻣَﺎﺕَ ﻓَﺎﺗَّﺒِﻌْﻪُ ‏». ‏(ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﺑﺎﺏ  ﻣﻦ ﺣﻖ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ، ﺭﻗﻢ 5778: ‏)  ‘‘এক মুসলিমের অপর মুসলিমের  উপর ছয়টি প্রাপ্য রয়েছে।  বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল:  সেগুলো কী? রাসূল  সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বললেন: ….আর যখন সে অসুস্থ  হয় তাকে দেখতে যাও, আর  যখন সে মারা যায় তার  জানাযায় অংশ নাও।’’ [95]  রোগীকে দেখতে যাওয়া বা  তার সেবার ফযিলতে রাসূল  সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:  ‏« ﻣﻦ ﻋﺎﺩ ﻣﺮﻳﻀﺎ ﻟﻢ ﻳﺰﻝ ﻓﻰ ﺧﺮﻓﺔ ﺍﻟﺠﻨﺔ  ﺣﺘﻰ ﻳﺮﺟﻊ ‏». ‏(ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ،ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺒﺮ  ﻭﺍﻟﺼﻠﺔ ﻭﺍﻷﺩﺏ، ﺑﺎﺏ ﻓﻀﻞ ﻋﻴﺎﺩﺓ ﺍﻟﻤﺮﻳﺾ،  ﺭﻗﻢ : 6717 ‏)  ‘‘যে ব্যক্তি রোগীকে  দেখতে যায় ফিরে আসার পূর্ব  পর্যন্ত সে জান্নাতের ফলের  মাঝে থাকে।’’ [96]  এভাবে রোগী দেখতে যাওয়া  , তাঁর সেবা করা, এর ফযিলত সংক্রান্ত  বিভিন্ন হাদীস বর্ণিত হয়েছে।  দেখতে গিয়ে কী পড়বে এতেও নবীর  সুন্নাত রয়েছে। হাদীসে রয়েছে:  ” ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ  ﺩﺧﻞ ﻋﻠﻰ ﺭﺟﻞ ﻳﻌﻮﺩﻩ ﻓﻘﺎﻝ : ” ﻻ ﺑﺄﺱ  ﻃﻬﻮﺭ ﺇﻥ ﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ” .” ‏(ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ،  ﺑﺎﺏ ﻋﻼﻣﺎﺕ ﺍﻟﻨﺒﻮﺓ ﻓﻲ ﺍﻹﺳﻼﻡ، ﺭﻗﻢ :  5338 ‏)  ‘‘রাসূল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক  ব্যক্তির কাছে তার রোগ  দেখতে গেলেন।  গিয়ে বললেন:  কোনো অসুবিধা নেই, (ভাল  হয়ে যাবে) পবিত্র হবে (রোগ  গোনাহের  কাফ্ফারা হয়ে গোনাহ  থেকে পবিত্র করবে) ইন-শা-  আল্লাহ।’’ [97]  রাসূল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লামের এত দিক  নির্দেশনা থাকতে এগুলো বাদ দিয়ে  , বা এগুলো রেখে নতুন কিছু সংযোজন  করে ‘খতমে শিফা’ নামে খতম বের  করা হয়েছে যার কোনো ভিত্তি নেই।  এর ফযিলতে যা বলা হয়েছে সবই মনগড়া।  এই খতম রোগ নিবারণের খতম হলে আর  অন্য কিছুর কি দরকার ছিল? রোগের জন্য  কুরআন খতম, বুখারীর হাদীসের  খতমকে অভিজ্ঞতার বাহানায় অর্থ  উপার্জনের মাধ্যম বানানোর  কি প্রয়োজন ছিল। অসুস্থ ব্যক্তি অজ্ঞতার  কারণে না বুঝলে তাকে সঠিক বিষয়  বোঝানোই ছিল একজন আলেমের  দায়িত্ব। তাকে দীনের দা‘ওয়াত  দেওয়ার এটি ছিল একটি সুবর্ণ সুযোগ।  তাকে দীনের সঠিক একটি শিক্ষাদান  আমার মৃত্যুর পরও কাজে আসতো। এই  দায়িত্ব আদায় না করে বরং তার  অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের  স্বার্থ উদ্ধারের চিন্তা করা কতটুকু  অমানবিক কাজ  তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। এই অমানবিক  কাজকেই তার থেকে কিছু অর্থ উদ্ধারের  সুবর্ণ সুযোগ  পাওয়া গেছে বলে মনে করা হয়।  সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার এই যে, একজন  অসুস্থ মানুষ মানেই সে যে কোনো দিক  থেকে বিপদগ্রস্ত । এই  বিপদে আমাকে আমার  সামর্থানুযায়ী তার  সাহায্যে এগিয়ে আসা প্রয়োজন ছিল।  আজীবন রাসূল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এই  শিক্ষাই দিয়ে গেলেন। আমরা রাসূলের  এই শিক্ষাতো গ্রহণ করছিই না, উপরন্তু  বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে আরো বিপদ ও  ঝামেলায় ফেলছি। তাকে সাহায্য  না করে খতমের বাহানায় তার থেকেই  আর্থিক সাহায্য নিচ্ছি। আল্লাহ  আমাকে এবং সবাইকে হেদায়াত দান  করুন। সাহায্য গ্রহণ না করে সাহায্য করার  তওফিক ও মানসিকতা দান করুন। আমীন।  উল্লেখ্য যে, ‘খতমে শিফা’ নামের  খতমের বর্ণিত পদ্ধতি ছাড়া অন্য পদ্ধতিও  বলা হয়ে থাকে। যেমন,  ‘ইয়া সালামু’ নির্দিষ্ট সংখ্যায় পড়া। এর  কোনো ভিত্তি নেই। টাকার  পরিমাণে ছোট দো‘আ, বড় দো‘আ, কম  সংখ্যা, বেশি সংখ্যা নির্ধারিত  হয়ে থাকে। অনেক সময় পড়ার মাঝে কম  বেশ করা আয়োজকের তদারিকের উপর  নির্ভর করে। আল্লাহ আমাদেরকে এসব  থেকে দূরে রাখুন। আমীন।  খতমে তাহলীল  খতমে তাহলীল বা ” ﻻ ﺍﻟﻪ ﺍﻻ  ﺍﻟﻠﻪ ” (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্)  এর খতম।  খতমে শিফার সাথেই তা পড়ার নিয়ম ও এর  ফযিলতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ  সবকিছুই মনগড়া, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।  এই কালিমাটি হচ্ছে ইসলামে মূল।  রাসূল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লামের ২৩ বছরের  পুরো জীবনটাই এই কালেমার তাৎপর্য  বুঝানো এবং এর তাৎপর্যের উপর  সাহাবিদেরকে উঠানোর পিছনে ব্যয়  করেছেন। সাহাবায়ে কেরাম  থেকে বর্ণিত, তারা প্রথমে ঈমান  অতঃপর কুরআন শিক্ষা করেছেন।  [98] হাদীসে এই কালেমার  যিকরকে সর্বোত্তম যিকর বলা হয়েছে।  জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু  ‘আনহু থেকে বর্ণিত :  ‘‘আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে  বলতে শুনেছি: সর্বশ্রেষ্ট  যিকর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’  এবং সর্বশ্রেষ্ট  দো‘আ ‘আলহামদুলিল্লাহ’’ ।  পক্ষান্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি তাঁর জীবনে কখনো  সাহাবিদেরকে খতম নামের  এসব কোনো কথা বলেননি বা  শিক্ষা দেন নি। রাসূল  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের  শিক্ষার  ভিত্তিতে সাহাবায়ে কেরাম  তাদের জীবনে ঈমানের  পিছনে অনেক মেহনত করে এই  কালেমার তাৎপর্য তাদের  অন্তরে বসালেও কখনোই  তাদের থেকে এমন ধরণের  কোনো শিক্ষা বা কথাবার্তা  পাওয়া যায় না  , এমনকি কল্যাণের  সাক্ষ্যপ্রাপ্ত বা খাইরুল  ক্বুরুনের কোনো যুগেই এসবের  কোনো অস্তিত্ব বিদ্যমান  নেই। অন্য মানুষ এই কালেমার  খতম করে মৃত  ব্যক্তিকে জান্নাতে বা  স্বর্গে পাঠিয়ে দেওয়ার  ধারণা মূলত বিধর্মী, ব্রাহ্মণী  , পুরোহিতবাদি শিক্ষা।  ইসলামের শিক্ষা যার সম্পূর্ণ  বিপরীত। হিন্দুত্ববাদের  হাওয়ায় কোনো অজ্ঞ  সুফি সাধক থেকে এই খতমের  সুচনা হওয়া অসম্ভবের কিছু নয়।  আমাদের দেশের হিন্দু  সমাজে এর  বাস্তবতা পাওয়া যায়। আল্লাহই  ভাল জানেন।  তিনি আমাদেরকে এসব  বুঝে এগুলোর খপ্পর  থেকে নিরাপদ রাখুন।  কালিমার সঠিক মর্ম বুঝে আমল  করা এবং এর দা‘ওয়াত দেওয়ার  তওফিক দান করুন। আমীন।  খতমে তাসমিয়া  ‘তাসমিয়া’ শব্দের মূল অর্থ নামকরণ করা।  মুসলিম ব্যক্তি যে কোনো কাজ আল্লাহর  নাম নিয়েই শুরু করেন, তাই আল্লাহর নাম  নেওয়া বা বিসমিল্লাহ বলার ক্ষেত্রেও  শব্দটি প্রয়োগ হয়।  এভাবে ‘খতমে তাসমিয়া’ বিসমিল্লাহ এর  খতমকে বুঝানো হয়ে থাকে। একলক্ষ  পঁচিশ হাজার বার ‘‘বিসমিল্লাহির  রাহমানির রাহিম’’ পাঠের মাধ্যমে এই  খতম করতে হয়। এই খতমের  বিবরণে লেখা হয়েছে:  ‘‘এই পাক কালাম একলক্ষ পঁচিশ  হাজার বার পাঠ  করাকে ‘‘খতমে তাসমিয়া  ’’ বলে। কোনো কঠিন বিপদ  হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য  অথবা কোনো মনোবাসনা পূর্ণ  হওয়ার জন্য এই খতম অত্যন্ত  ফলপ্রদ। অনেক লোক একত্রিত  হয়ে একই বৈঠকে এই খতম পাঠ  করিয়া আল্লাহর  দরবারে মোনাজাত  করলে আল্লাহ তাআলা নিশ্চয়  তাহাকে সেই বিপদ  হইতে রক্ষা করেন বা তাহার  বাসনা পূর্ণ করেন।’’ [100]  যে কোনো কাজ আল্লাহর নামে শুরু  করা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অন্যতম।  ‘‘পড় তোমার রাবব্ এর  নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন’’ [  101] বলে ওহির সুচনাতেই রাসূল  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই  শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। রাসূল  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর  জীবনের সকল ক্ষেত্রে এই শিক্ষার  বাস্তবায়ন করেছেন।  ‘বিসমিল্লাহ’ ব্যবহারের মাধ্যমে এর  বাস্তব প্রয়োগের  সাথে সাথে সাহাবায়ে  কেরামদেরকেও এর নির্দেশ দিয়েছেন।  সাহাবায়ে কেরাম তাদের জীবনের  সর্বক্ষেত্রে এই শিক্ষার বাস্তবায়ন  ঘটিয়েছেন।  এছাড়া ‘বিসমিল্লাহ’ বলে রোগের ঝাড়  ফুঁকের আমলও রাসূল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম  থেকে পাওয়া যায়। সাহাবী উসমান ইবন  আবিল ‘আস আস-সাক্বাফী একদা রাসূল  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের  কাছে তাঁর শরীরের একটি ব্যথার  অভিযোগ করলেন। ইসলাম গ্রহণের পর  থেকেই তিনি তাঁর শরীরে এই  ব্যথা অনুভব করছেন বলে রাসূল  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের  কাছে আরয করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন:  ‏« ﺿﻊ ﻳﺪﻙ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺬﻯ ﺗﺄﻟﻢ ﻣﻦ ﺟﺴﺪﻙ ﻭﻗﻞ  ﺑﺎﺳﻢ ﺍﻟﻠﻪ. ﺛﻼﺛﺎ. ﻭﻗﻞ ﺳﺒﻊ ﻣﺮﺍﺕ ﺃﻋﻮﺫ ﺑﺎﻟﻠﻪ  ﻭﻗﺪﺭﺗﻪ ﻣﻦ ﺷﺮ ﻣﺎ ﺃﺟﺪ ﻭﺃﺣﺎﺫﺭ  ‏» . ‏( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﺑﺎﺏ ﺍﺳﺘﺤﺒﺎﺏ ﻭﺿﻊ  ﻳﺪﻩ ﻋﻠﻰ ﻣﻮﺿﻊ ﺍﻷﻟﻢ ﻣﻊ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ،  ﺭﻗﻢ 5867: ‏)  ‘‘তোমার শরীরের  যে জায়গায়  ব্যথা রয়েছে সেখানে হাত  রাখ এবং তিনবার ‘ ﺑِﺎﺳْﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪ ’ বল।  আরো সাতবার বল:  ‘‘ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻗُﺪْﺭَﺗِﻪِ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺃَﺟِﺪُ  ﻭَﺃُﺣَﺎﺫِﺭُ ’’ (আমি যে ব্যথা অনুভব  করছি এবং যে ভয়  পাচ্ছি তা থেকে আল্লাহ ও  তার কুদরতের আশ্রয়  প্রার্থনা করছি)’’ [102]  এই হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন  থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ এর শিক্ষা। সাহাবা  , খাইরুল ক্বুরুন সবার জীবনেও এই একই  শিক্ষা দেখতে পাবেন। এর বাইরে খতম  নামে যা কিছু বলা হয়ে থাকে তা সম্পূর্ণ  মনগড়া ও ভিত্তিহীন। নবী সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা সাহাবিদের  জীবনে এই তাসমিয়া খতমের  কোনো দৃষ্টান্ত নেই, কল্যাণের  সাক্ষ্যপ্রাপ্ত কোনো যুগেই এর  কোনো নজীর নেই। এ সবকিছু তাদের  যুগের অনেক পরের উদ্ভাবন। এছাড়া এই  খতমের ফযিলতে যা কিছু বলা হয় সবই  মনগড়া বানানো। আল্লাহ আমাদেরকে এ  সমস্ত মনগড়া কর্ম থেকে রক্ষা করুন।  ‘বিসমিল্লাহ’ এর মৌলিক শিক্ষায়  আমাদের জীবন গড়ার তওফিক দান করুন।  আমীন।  খতমে খাজেগান  ফার্সি শব্দ ‘খাজা’ যার  বহুবচন ‘খাজেগাঁ’ । খতমের নাম থেকেই  তা যে অনারব কোনো সুফি থেকে  আবিষ্কৃত তা সহজেই অনুমেয়। এই  নামকরণের কারণে বলা হয়, ‘‘পীর-  পীরানগণের উপর দো‘আ করা হয়  বলিয়া এই খতমের নাম খাজেগান  বা পীরান [103] রাখা হইয়াছে’’ ।  খতমের নিয়মে লিখা হয়েছে: [104]  ১. সূরা ফাতেহা ৭০ বার।  ২. দুরূদ শরীফ ১০০ বার।  ৩. সূরা ‘আলাম নাশরাহ লাকা’ ৭০ বার।  ৪. সূরা ইখলাস ১০০০ বার।  ৫. পুনরায় সূরা ফাতেহা ৭ বার।  ৬. পুনরায় দুরূদ শরীফ ১০০ বার।  ৭. নিম্নাক্ত দো‘আ ১০০ বার:  ” ﻓﺴﻬﻞ ﻳﺎ ﺍﻟﻬﻲ ﻛﻞ ﺻﻌﺐ ﺑﺤﺮﻣﺔ ﺳﻴﺪ ﺍﻷﺑﺮﺍﺭ ﺳﻬﻞ  ﺑﻔﻀﻠﻚ ﻳﺎ ﻋﺰﻳﺰ “.  (হে আল্লাহ নেক্কারগণের সরদারের  (নবী সা.) সম্মানার্থে আমার প্রত্যেক  কঠিন কাজ সহজ  করিয়া দাও, হে ক্ষমাশীল, তোমার দয়ায়  সহজ করিয়া দাও।  এই খতমের এই পদ্ধতি লিখিত হলেও  যে যার মত সময়ের দিকে লক্ষ্য রেখে  , টাকা পয়সার কম বেশির  দিকে বিবেচনা করে এদিক সেদিক যোগ  বিয়োগ করে বানিয়ে খতম করেন।  খতমকারীদের ভাষায় সটকার্ট খতম  বা লং খতম। বানানো জিনিস একেকজন  একেক রকম বানাবেন এটাই স্বাভাবিক।  এই খতমের ৭ নাম্বারে উল্লেখিত  দো‘আটি আপত্তিকর। আপত্তির কারণ ও  পর্যায় একটু পরেই  আলোচনা করছি ইনশাআল্লাহ। এ  ছাড়া বাকী অনেকটি যেমন সুরা, দুরূদ  মানসুস, যার নির্দিষ্ট ফযিলত রয়েছে। কিছু  বাক্য যেগুলোতে আল্লাহকে সম্বোধন  করা হয়েছে এই  বাক্যগুলো দ্বারা আল্লাহকে ডাকা এবং  নিজের প্রয়োজন প্রার্থনা করা যাবে।  ওযিফা হিসেবে তা পাঠ বা এতে ছওয়াব  আছে মনে করা যাবে না  , কেননা ছওয়াবের বিষয়টি সম্পূর্ণ  তাওক্বীফি বা ওহি নির্ভর। এর  বাইরে খতমের যে ধারা উল্লেখ  করা হয়েছে এবং এর নির্দিষ্ট যে ফযিলত  বলা হয় তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মানসুস  বা রাসূল সাল্লাল্লাহু থেকে প্রমাণিত  আমলগুলো তিনি যেভাবে করেছেন  সেভাবেই  করতে হবে এবং তিনি যে ফযিলত  বলেছেন বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এর মধ্যেই  সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। আমলের  ক্ষেত্রে এর বাইরে কিছু বলার  কারো কোনো অধিকার নেই।  এই খতমের ফযিলতে বলা হয়ে থাকে  , কঠিন পীড়া ও বিপদাপদ হতে উদ্ধার  লাভের জন্য ও প্রত্যেক প্রকার মনের  বাসনা, পরীক্ষা পাস ও চাকরী লাভ  করিবার জন্য এই খতমটি অদ্বিতীয়।[105]  এ সবকথাই ভিত্তিহীন ও মনগড়া।  এগুলো হচ্ছে বিভিন্ন দো‘আ বা ইবাদত।  এর ফযিলত একমাত্র তিনি বলতে পারেন  যিনি এগুলো দিয়েছেন। আল্লাহ ও তার  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  যে আমল যেভাবে করলে যে ফযিলত  বলেছেন তা সেভাবে করেই উক্ত  ফযিলতের আশা করতে হবে। রাসূল কর্তৃক  প্রদানকৃত রূপকে পরিবর্তন  করা এবং সাথে সাথে নতুন ফযিলতের  বুলি আওড়ানোর অধিকার  কাউকে তিনি দেননি। আর  এগুলো হচ্ছে ধর্মীয় বিষয়। ধর্মীয়  বিষয়ে অভিজ্ঞতার কথা বলা অনর্থক।  ৭ নং দো‘আটি আপত্তিকর হওয়ার কারণ  হলো, অন্যের মর্যাদার দোহাই দিয়ে পার  পাওয়ার ধারণা মূলত মুশরিকদের।  ঈসা আলাইহিস সালামের মর্যাদার  দোহাই দিয়ে পার  পাওয়া খ্রিস্টবাদী ধারণা। উযাইর  আলাইহিস সালামের দোহাই দিয়ে পার  পাওয়ার আশা ইয়াহুদীবাদী ধারণা।  ফেরেশ্তাগণ আল্লাহর মেয়ে হওয়ার  ধারণায় তাদের মর্যাদার দোহাই  দিয়ে পার হওয়ার ধারণা মক্কার  মুশরিকরা লালন করত। কুরআন  করীমে এসবের বিবরণ ও তা প্রত্যাখ্যান  করা হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন  জাতি আল্লাহতে বিশ্বাসী হওয়া সত্বেও  শির্কে লিপ্ত হয়। ইসলাম এর মূলোৎপাটন  করেছে। আল্লাহর বিধান রাসূল  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের  শিখানো পদ্ধতিতে পালনের  মাধ্যমে একমাত্র আল্লাহরই দয়ায় পার  পাওয়া যাবে বলে শিক্ষা দিয়েছে।  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  উম্মতকে আজীবন এই শিক্ষাই  দিয়ে গেছেন। কুরআন ও হাদীসের  সাথে সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে দিলেই  বিষয়টি সবার কাছে ফুটে উঠবে। কুরআন  বা হাদীসে বর্ণিত দো‘আগুলো এবং দো  ‘আর শিক্ষা থেকেও  আমরা বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারি।  আল্লাহ তাঁর জ্ঞানের দিক  থেকে বান্দার শাহরগের চেয়েও অধিক  নিকটে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।  তাই আল্লাহর কাছে কিছু  চাইতে কোনো ব্যক্তি মিডিয়া বা  ব্যক্তির মর্যাদা মিডিয়া বানানোর  প্রয়োজন ইসলাম বোধ করে না। আর এটাই  ছিল সালাফে সালিহিনের আক্বীদা।  ইমাম আবু হানিফা রাহ. বলেন:  ” ﻻ ﻳﻨﺒﻐﻲ ﻷﺣﺪ ﺃﻥ ﻳﺪﻋﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺇﻻ ﺑﻪ ﻭﺍﻟﺪﻋﺎﺀ  ﺍﻟﻤﺄﺫﻭﻥ ﻓﻴﻪ ﺍﻟﻤﺄﻣﻮﺭ ﺑﻪ ﻣﺎ ﺍﺳﺘﻔﻴﺪ ﻣﻦ ﻗﻮﻟﻪ  ﺗﻌﺎﻟﻰ ” ﻭﻟﻠﻪ ﺍﻷﺳﻤﺎﺀ ﺍﻟﺤﺴﻨﻰ ﻓﺎﺩﻋﻮﻩ ﺑﻬﺎ  .”) ﺍﻟﺪﺭ ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺤﻈﺮ ﻭﺍﻻﺑﺎﺣﺔ ‏)  ‘‘কারো জন্য উচিত নয় আল্লাহর  কাছে তারই মাধ্যম ছাড়া দো  ‘আ করা। আর তাঁর নাম  নিয়ে দো‘আর অনুমোদন ও  নির্দেশিত হওয়ার দলীল  আল্লাহর বাণী: ‘‘আর আল্লাহর  অনেক সুন্দর নাম রয়েছে  , অতএব  তোমরা তাকে এগুলোর  মাধ্যমে ডাকো’’ ।’’ [107]  ‘তারই মাধ্যমে’ দো‘আর ব্যখ্যায়  আল্লামা শামী লিখেন:  “( ﻗﻮﻟﻪ ﺇﻻ ﺑﻪ ‏) ﺃﻱ ﺑﺬﺍﺗﻪ ﻭﺻﻔﺎﺗﻪ ﻭﺃﺳﻤﺎﺋﻪ “.  অর্থাৎ আল্লাহর সত্বা, তার  গুণাবলী এবং তার নামের মর্যাদার  ওসিলাতেই কেবল দো‘আ করা যাবে।  ফিক্বহে হানাফীতে আবু  হানিফা রাহ. মাযহাব  উল্লেখে বলা হয়েছে:  ” ‏( ﻭ ‏) ﻛﺮﻩ ﻗﻮﻟﻪ ‏( ﺑﺤﻖ ﺭﺳﻠﻚ ﻭﺃﻧﺒﻴﺎﺋﻚ  ﻭﺃﻭﻟﻴﺎﺋﻚ ‏) ﺃﻭ ﺑﺤﻖ ﺍﻟﺒﻴﺖ ﻷﻧﻪ ﻻ ﺣﻖ  ﻟﻠﺨﻠﻖ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺨﺎﻟﻖ ﺗﻌﺎﻟﻰ.”  ‘‘এবং বলা মাকরূহ [108] , তোমার  রাসূলগণ, নবীগণ ও ওলীগণের  অধিকারে অথবা বাইতুল্লাহর  অধিকারে কেননা আল্লাহর  উপর মাখলুকের  কোনো অধিকার নেই।’’ [109]  আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত, বিশেষ  করে ইমাম আবু হানিফা (রাহ.) ও তার দুই  বিশিষ্ট ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ (রাহ.)  এবং ইমাম মুহাম্মদ (রাহ.) এর  আক্বীদা বর্ণনায়  হানাফী মাযহাবের  বিখ্যাত আলেম আবু জা‘ফর আত্ত্বাহাবী  রচিত আক্বীদার কিতাব ‘আল-  আক্বীদাতুত্ত্বাহাবীয়্যাহ’ এর  ব্যাখ্যা গ্রন্থে আল্লামা আবুল-ইয আল-  হানাফী[111] লিখেন:  ” ﻗﺎﻝ ﺃﺑﻮ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﻭﺻﺎﺣﺒﺎﻩ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ  ﻋﻨﻬﻢ: ﻳﻜﺮﻩ ﺃﻥ ﻳﻘﻮﻝ ﺍﻟﺪﺍﻋﻲ: ﺃﺳﺄﻟﻚ ﺑﺤﻖ  ﻓﻼﻥ، ﺃﻭ ﺑﺤﻖ ﺃﻧﺒﻴﺎﺋﻚ ﻭﺭﺳﻠﻚ، ﻭﺑﺤﻖ  ﺍﻟﺒﻴﺖ ﺍﻟﺤﺮﺍﻡ، ﻭﺍﻟﻤﺸﻌﺮ ﺍﻟﺤﺮﺍﻡ، ﻭﻧﺤﻮ ﺫﻟﻚ  ﺣﺘﻰ ﻛﺮﻩ ﺃﺑﻮ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﻭﻣﺤﻤﺪ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ  ﻋﻨﻬﻤﺎ ﺃﻥ ﻳﻘﻮﻝ ﺍﻟﺮﺟﻞ : ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺇﻧﻲ ﺃﺳﺄﻟﻚ  ﺑﻤﻌﻘﺪ ﺍﻟﻌﺰ ﻣﻦ ﻋﺮﺷﻚ.”  ‘‘আবু হানীফা এবং তার দুই  সঙ্গী (ইমাম আবু ইউসুফ ও  মুহাম্মদ) রাদিয়াল্লাহু আনহুম  বলেন: দো‘আকারীর জন্য  বলা মাকরূহ, ‘‘অমুকের  অধিকারে তোমার  কাছে প্রার্থনা করছি  , অথবা তোমার নবী ও  রাসূলগণের  অধিকারে এবং বাইতুল  হারামের  অধিকারে এবং মাশ‘আরে  হারামের [112] অধিকারে।’’ এ  জাতীয় আরো যা রয়েছে।  এমনকি ইমাম আবু হানিফা ও  মুহাম্মদ রাদিয়াল্লাহু  আনহুমা মাকরূহ মনে করেন যে  , লোকটি বলবে: ‘‘হে আল্লাহ,  তোমার আরশের সম্মানিত  আসনের দোহাই  দিয়ে তোমার  কাছে প্রার্থনা করছি’’ ।’’ [113]  তিনি আরো লিখেন:  ﻭﺗﺎﺭﺓ ﻳﻘﻮﻝ: ﺑﺠﺎﻩ ﻓﻼﻥ ﻋﻨﺪﻙ، ﻳﻘﻮﻝ :  ﻧﺘﻮﺳﻞ ﺇﻟﻴﻚ ﺑﺄﻧﺒﻴﺎﺋﻚ ﻭﺭﺳﻠﻚ ﻭﺃﻭﻟﻴﺎﺋﻚ .  ﻭﻣﺮﺍﺩﻩ ﺃﻥ ﻓﻼﻧﺎ ﻋﻨﺪﻙ ﺫﻭ ﻭﺟﺎﻫﺔ ﻭﺷﺮﻑ  ﻭﻣﻨﺰﻟﺔ ﻓﺄﺟﺐ ﺩﻋﺎﺀﻧﺎ . ﻭﻫﺬﺍ ﺃﻳﻀﺎ ﻣﺤﺬﻭﺭ،  ﻓﺈﻧﻪ ﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﻫﺬﺍ ﻫﻮ ﺍﻟﺘﻮﺳﻞ ﺍﻟﺬﻱ ﻛﺎﻥ  ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﻳﻔﻌﻠﻮﻧﻪ ﻓﻲ ﺣﻴﺎﺓ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ  ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻟﻔﻌﻠﻮﻩ ﺑﻌﺪ ﻣﻮﺗﻪ، ﻭﺇﻧﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ  ﻳﺘﻮﺳﻠﻮﻥ ﻓﻲ ﺣﻴﺎﺗﻪ ﺑﺪﻋﺎﺋﻪ، ﻳﻄﻠﺒﻮﻥ ﻣﻨﻪ  ﺃﻥ ﻳﺪﻋﻮ ﻟﻬﻢ، ﻭﻫﻢ ﻳﺆﻣﻨﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﺩﻋﺎﺋﻪ،  ﻛﻤﺎ ﻓﻲ ﺍﻻﺳﺘﺴﻘﺎﺀ ﻭﻏﻴﺮﻩ . ﻓﻠﻤﺎ ﻣﺎﺕ ﺻﻠﻰ  ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ –  ﻟﻤﺎ ﺧﺮﺟﻮﺍ ﻳﺴﺘﺴﻘﻮﻥ :- ‏« ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺇﻧﺎ ﻛﻨﺎ ﺇﺫﺍ  ﺃﺟﺪﺑﻨﺎ ﻧﺘﻮﺳﻞ ﺇﻟﻴﻚ ﺑﻨﺒﻴﻨﺎ ﻓﺘﺴﻘﻴﻨﺎ، ﻭﺇﻧﺎ  ﻧﺘﻮﺳﻞ ﺇﻟﻴﻚ ﺑﻌﻢ ﻧﺒﻴﻨﺎ ‏» . ﻣﻌﻨﺎﻩ ﺑﺪﻋﺎﺋﻪ ﻫﻮ  ﺭﺑﻪ ﻭﺷﻔﺎﻋﺘﻪ ﻭﺳﺆﺍﻟﻪ، ﻟﻴﺲ ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺃﻧﺎ  ﻧﻘﺴﻢ ﻋﻠﻴﻚ ﺑﻪ، ﺃﻭ ﻧﺴﺄﻟﻚ ﺑﺠﺎﻫﻪ ﻋﻨﺪﻙ، ﺇﺫ  ﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﺫﻟﻚ ﻣﺮﺍﺩﺍ ﻟﻜﺎﻥ ﺟﺎﻩ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ  ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃﻋﻈﻢ ﻭﺃﻋﻈﻢ ﻣﻦ ﺟﺎﻩ  ﺍﻟﻌﺒﺎﺱ. ‏( ﺷﺮﺡ ﺍﻟﻌﻘﻴﺪﺓ ﺍﻟﻄﺤﺎﻭﻳﺔ، ﺑﺤﺚ :  ﺍﻟﺸﻔﺎﻋﺔ، 154-1 ‏)  ‘‘এবং অনেক সময় দো‘আ  প্রার্থী বলে: ‘আপনার  কাছে অমুকের যে সম্মান  রয়েছে তার মাধ্যমে  ’ সে বলে ‘আমরা আপনার নিকট  আপনার নবী, রাসূল ও  ওলীগণকে মাধ্যম গ্রহণ করছি  ’, এর দ্বারা লোকটির  উদ্দেশ্য, অমুক আপনার নিকট  মান, সম্মান ও মর্যাদার  অধিকারী, তাই  আপনি আমাদের দো‘আ কবুল  করুন। এটাও নিষিদ্ধ।  কেননা যদি সাহাবায়ে  কেরাম নবীজী সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লামের  জীবিত থাকাকালে এ ধরণের  মাধ্যম গ্রহণ করতেন তবে তাঁর  মৃত্যুর পরও অবশ্যই নিতেন। অথচ  তিনি সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিত  থাকাকালে তারা তাঁর দো  ‘আর মাধ্যম নিতেন। তারা তাঁর  কাছে তাদের জন্য দো‘আর  প্রার্থনা করতেন। তারা তাঁর  দো‘আর উপর ঈমান  রাখতেন, যেমন  বৃষ্টি কামনা ইত্যাদির বেলায়।  অতঃপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম  মারা গেলেন  এবং তারা বৃষ্টি কামনার দো  ‘আর জন্য বের হলেন, তখন উমর  রাদিয়াল্লাহু আনহু  বললেন : ‘হে আল্লাহ, যখন  আমরা দুর্ভিক্ষের শিকার হতাম  তোমার কাছে তোমার নবীর  মাধ্যমে দো‘আ  করতাম, ফলে তুমি আমাদের  বৃষ্টি দিতে। এখন  আমরা তোমার  কাছে আমাদের নবীর  চাচা (আব্বাস) এর (দো‘আর)  মাধ্যম গ্রহণ করছি’ । এর অর্থ  হলো, তিনি আল্লাহর  কাছে যে দো‘আ  করেন, সুপারিশ করেন  এবং প্রার্থনা করেন এর  মাধ্যমে । তোমার কাছে তার  শপথ এ উদ্দেশ্য  নয়, অথবা আমরা তোমার  কাছে প্রার্থনা করছি তার  সম্মানের মাধ্যমে যা তোমার  কাছে রয়েছে এটাও উদ্দেশ্য  নয়। কেননা যদি এ ধরণের  মাধ্যম ধরা উদ্দেশ্য হত  তবে নবী সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লামের  সম্মান সর্বাধিক  এবং আব্বাসের সম্মান  থেকে বেশি।’’ [114]  কুরআন হাদীসের শিক্ষা অনুযায়ী এই  ছিল আবু হানিফা রাহ. সহ সমস্ত আসলাফের  আক্বীদা বা বিশ্বাস।  সালফে সালিহিনের আক্বীদা  , বিশ্বাস, আদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়ার  ফলেই আজ আমাদের মাঝে এমন অনেক  কিছু বিস্তার লাভ করেছে যা তাদের  মাঝে ছিল না। তাদের আদর্শ  থেকে সরে যাওয়ার ফলেই আমরা রাসূল  সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর  সুন্নাত থেকে সরে গেছি। রাসূল  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও  সাহাবিদের আর আমাদের আমলের  মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারতম্য  সৃষ্টি হয়ে গেছে। আল্লাহ  আমাদেরকে তাদের নমূনার উপর উঠার  তওফিক দান করুন। সুন্নাতের বিপরীত  যে কোনো ইবাদতের বেলায় জায়েয  না-জায়েযের বাহাসে লিপ্ত  না হয়ে চোখ বুঁজে রাসূল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি সাল্লামের  সুন্নাতকে সাহাবা ও  সালফে সালেহিনের মত নেয়ার তওফিক  দান করুন। হক্ব  বোঝার জন্য প্রথমে আমার  চক্ষু এবং আমাদের চক্ষু খোলে দিন।  মুফতি ফয়জুল্লাহ রাহ. রচিত কবিতার  দুটি পঙক্তি দিয়ে আলোচনাটি শেষ  করছি। পঙক্তিদ্বয় এই:  ﮬﻢ ﻣﺮﻭﺝ ﺍﯾﮟ ﺩﻋﺎﮮ ﺧﻮﺍﺟﮕﺎﮞ @ ﺍﺯ ﺳﻠﻒ ﻣﻨﻘﻮﻝ  ﻧﮯ ﺧﻮﺏ ﺩﺍﮞ  ﺍﮞ ﻋﺒﺎﺩﺕ ﻧﯿﺴﺖ ﺑﺎﺍﮞ ﺍﮬﺘﻤﺎﻡ @ ﻣﺜﻞ ﻃﺎﻋﺖ  ﺑﺪﻋﺖ ﺍﻣﺪ ﻻ ﮐﻼﻡ  ‘‘প্রচলিত এই খাজেগাঁর দো  ‘আও, ভালভাবে জেনে রাখ  এগুলো সালাফ থেকে প্রমাণিত নয়,  এগুলো ইবাদত নয়, ইবাদতের মত এগুলোর  গুরুত্ব দেওয়া নিশ্চিত বিদ‘আত। ’’ [115)  [91] মোকছুদুল মো’মিনীন বা বেহেশ্তের  পুঞ্জী, আলহাজ্ব হযরত  মাওলানা মোহাম্মদ নাজমুল হক, পঞ্চদশ  খ-, ১৭৮ পৃষ্ঠা । সাদনান পাবলিকেশন।  [92] আবু  দাঊদ, সুনান, চিকিৎসা অধ্যায়, ব্যক্তির  চিকিৎসা গ্রহণ অনুচ্ছেদ, নং:  ৩৮৫৭, তিরমিযী  , সুনান, চিকিৎসা অধ্যায়, ঔষধ ও তার  প্রতি উৎসাহিত করা অনুচ্ছেদ, নং: ২০৩৮।  [93] সহীহ মুসলিম, প্রত্যেক রোগের ঔষধ  রয়েছে এবং চিকিৎসা করা মুস্তাহাব  অনুচ্ছেদ, নং: ৫৮৭১।  [94] সহীহ মুসলিম, কিতাবুল বির  ওয়াসসিলাহ, মুমিনদের প্রতি দয়া  , মমতা সহযোগিতা পরিচ্ছেদ, নং:  ৬৭৫১, সহীহুল বুখারী, কিতাবুল  আদব, পরিচ্ছেদ: মানুষ ও চতুষ্পদ জন্তুর উপর  দয়া করা, নং:৫৬৬৫।  [95] সহীহ মুসলিম, মুসলিমের উপর অপর  মুসলিমের হক্ব পরিচ্ছেদ, নং:৫৭৭৮।  [96]