প্রচলিত বিভিন্ন খতম : তাৎপর্য ও পর্যালোচনা :(পঞ্চম পর্ব)


প্রচলিত বিভিন্ন খতম : তাৎপর্য ও পর্যালোচনা : (পঞ্চম পর্ব) খতমে জালালী  আল্লাহর পবিত্র নামসমূহের মধ্যে তার  মূল নাম ‘ ﺍﻟﻠﻪ’ । এই পবিত্র নাম বা ইসমে যাত  নিয়ে তামাশার এক পদ্ধতির নাম  খতমে জালালী। প্রথমেই দো‘আ করি  , যে অজ্ঞ ব্যক্তি এই খতম আবিষ্কার  করেছে আল্লাহ যেন তাকে মাফ  করে দেন। খতমের পদ্ধতিটি দেখলেই  সচেতন ব্যক্তি যিনি ইসলাম  সম্পর্কে নূন্যতম ধারণা রাখেন তার  কাছে এই খতমের খারাবী ধরা পড়বে।  তবে যিনি ইলমের ধারক হওয়া সত্বেও  দুনিয়ার লালসায় হাবুডুবু  খাচ্ছেন, তিনি ধর্মের  রক্ষা নয় বরং ধর্মই  তাকে রক্ষা করছে এমন ব্যক্তির  কথা ভিন্ন। খতমের  পদ্ধতিটি যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে:  ‘‘নদী ভাঙ্গন বা ঐরূপ কঠিন  বিপদ হইতে উদ্ধারকল্পে এই  নাম সোয়া লক্ষ বার  কাগজে লিখিবে ও  সোয়া লক্ষ ময়দার আটার  গুলী তৈয়ার করিবে  , গুলী তৈয়ার করার  সময় ‘আল্লাহু’ এই নাম  মুখে বলিবে, তৎপর আল্লাহর  নাম লিখিয়া কাগজগুলি একটি  করিয়া গুলীর মধ্যে ভরিবে  , তৎপর  গুলীগুলি নদী বা যে পুকুরে  মাছ  থাকে তাহাতে ফেলিয়া  দিবে। সকলেই পাক সাফ  অবস্থায় ওযুসহ এই আমল করিবে।  নতুবা হিতে বিপরীত  হইতে পারে। এই আমল  দ্বারা বিপদ হইতে উদ্ধার  হইবে ও মতলব পূর্ণ হইবে।  ইহাতে কোনো সন্দেহ নাই।  আল্লাহর নামসমূহ ২  ভাগে বিভক্ত-  জালালী  (তেজস্বী) ও  জামালী (সৌন্দর্যময়)।  ‘আল্লাহ’ নাম জালালীর  অন্তর্ভুক্ত; এই জন্য ইহার  খতমকে খতমে জালালী বলা  হয়।’’ [116]  আবার অনেক এমন রয়েছেন  যিনি একে অপছন্দ করেন তবে অংশ নেন।  তাদেরকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়  ভাই, আপনি জানা সত্বেও কেন এসব  খতমে উপস্থিত হন তাদের একই কথা  , ভাই, আমার টাকার দরকার তাই যাই। আবার  এমন অনেক আছেন যারা এটির  পক্ষে সাফাই গান। বিভিন্ন যুক্তি ও  হিলার মাধ্যমে এগুলোকে জায়েয  রাখবার চেষ্টা করেন। স্বার্থের  কারণে দ্বীনী বিষয়ের  যে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া তাদের  কাছে কোনো ব্যাপারই নয়।  ব্যাখ্যা সঠিক নাকি ভুল এই বিষয় তাদের  কাছে মূল্যহীন। এই কর্ম আমাকে কোথায়  নিয়ে যাচ্ছে সেটিও উপেক্ষিত। অর্থই  যেন তাদের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য। অথচ  সম্পদের স্বার্থে ইলমের জোরে দীনের  যে কোনো অপব্যাখ্যা ইয়াহুদী  আলেমদের গুণ ছিল বলে আমাদের  সকলের জানা। ইলমের দ্বারা অপব্যাখ্যার  মাধ্যমে দো‘আ দুরূদের সুন্নাহ বহির্ভূত  পদ্ধতি আবিষ্কার বা আবিষ্কৃত বিষয়  জায়েয বানাবার  অপচেষ্টা নবী সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভবিষ্যৎবাণীর  প্রকাশ। নবী সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভবিষ্যৎ  বাণী ছিল যার মর্ম হচ্ছে: তার উম্মত  বনী ইসরাঈলের পূর্ণ অনুসরণ করবে।  এমনকি এক জোড়া জুতার মাঝে যেমন  কোনো বেশ কম হয় না তার উম্মত ও  বনী ইসরাঈলের উম্মতের  মাঝে কোনো বেশ কম হবে না। [117] তাই  আল্লাহর কাছে সর্বদা অশ্রয়  প্রার্থনা করা উচিত যে, আল্লাহ যেন  আমাদেরকে কখনো এই তৃতীয় স্তরের  আলেমদের মাঝে শামেল না করেন।  আমাদের ঈমানকে দুর্বল করে দ্বিতীয়  স্তরের মধ্যে ও যেন না রাখেন। বরং এই  তিন শ্রেণির আলেমের মাঝে আল্লাহ  আমাদেরকে প্রথম স্তরের আলেমদের  অন্তুর্ভুক্ত করুন এবং এই প্রথম শ্রেণির মত  আমাদেরকেও সঠিক দীন বোঝার তওফীক  দিন। টাকার স্বার্থে বুঝে না বোঝার  বাহানার মত মারাত্মক  ব্যাধি থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন।  আমীন।  খতমে দুরুদে মাহি  ‘মাহি’ ফারসি শব্দ। যার অর্থ মাছ।  বানানো একটি দুরূদকে ‘দুরুদে মাহি  ’ হিসেবে নামকরণের কারণ  হিসেবে যে কাল্পনিক  কাহিনীটি বলা হয়েছে তা নিম্নরূপ  :  ‘‘হযরত রসূল (সাঃ) এর সময় একজন  কামেল ব্যক্তি নদীর  তীরে বসিয়া সর্বদা এই দুরূদ  শরীফ পড়িতেন। ঐ নদীর  একটি রুগ্ন মৎস্য  ইহা সর্বদা শুনিতে শুনিতে  শিখিয়া ফেলিল ও  পড়িতে লাগিল।  ক্রমে মৎস্যটির রোগ আরোগ্য  হইতে লাগিল ও তাহার  শরীরের রং বদলাইয়া সোনার  বর্ণ ধারণ করিল। দৈবাৎ একদিন  এক ইহুদী জেলের  জালে মৎস্যটি ধরা পড়িল।  ইহুদীর স্ত্রী অনেক  চেষ্টা করিয়া মৎস্যটি  কাটিতে পারিল না।  অবশেষে উহাকে ফুটন্ত  তৈলের  মধ্যে ছাড়িয়া দেওয়া হইল।  কিন্তু  মৎস্যটি নির্বিঘ্নে তৈলের  মধ্যে ঘুরিয়া ঘুরিয়া এই দরূদ  শরীফ পড়িতে লাগিল।  ইহা দেখিয়া ইহুদী অতিশয়  আশ্চর্যান্বিত হইয়া পড়িল ও  মৎস্যটিকে লইয়া হযরত রসূল  (সাঃ) এর নিকট উপস্থিত হইল।  হযরত (সাঃ) এর দোয়ায়  মৎস্যটি বাকশক্তি লাভ করিল ও  সমস্ত বিষয় হযরত (সাঃ) এর  নিকট বর্ণনা করিল।  ইহা শুনামাত্র  সেখানে উপস্থিত ৭০ জন  ইহুদী তৎক্ষনাৎ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ  করিলেন ও রসূল (সাঃ) এর  নবুয়তের উপর ঈমান আনিলেন।  তৎপর  মৎস্যটিকে নদীতে ছাড়িয়া  দেওয়া হইল। উপরোক্ত  কারণে এই দরূদ  শরীফ ‘দরূদে মাহি  ’ তথা মাছের দরূদ  বলিয়া খ্যাতি লাভ করিয়াছে।  ইহা পড়িলে অতি মধুর  শুনা যায়।’’ [118]  দুরূদটি নিমণরুপ:  ” ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺻﻞ ﻋﻠﻰ ﻣﺤﻤﺪ ﺧﻴﺮ ﺍﻟﺨﻼﺋﻖ،  ﺃﻓﻀﻞ ﺍﻟﺒﺸﺮ، ﺷﻔﻴﻊ ﺍﻻﻣﺔ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺤﺸﺮ  ﻭﺍﻟﻨﺸﺮ ﺳﻴﺪﻧﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻌﺪﺩ ﻛﻞ ﻣﻌﻠﻮﻡ ﻟﻚ،  ﻭﺻﻞ ﻋﻠﻰ ﺟﻤﻴﻊ ﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ ﻭﺍﻟﻤﺮﺳﻠﻴﻦ  ﻭﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﺍﻟﻤﻘﺮﺑﻴﻦ ﻭﻋﻠﻰ ﻋﺒﺎﺩ ﺍﻟﻠﻪ  ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﻴﻦ، ﻭﺍﺭﺣﻤﻨﺎ ﺑﺮﺣﻤﺘﻚ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ  ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ .”  এই খতমের নিয়মে বলা হয়: ২১  দিনে বা ৪২ দিনে সোয়া লক্ষবার বর্ণিত  দুরূদটি পড়া। এই নিয়মে এই খতম  পড়লে নাকি হাতে হাতে ফল  পাওয়া যায়। অযু সহকারে নদীর  তীরে বসে পড়লে আরও বেশি দ্রুত ফল  পাওয়া যায় বলে বর্ণনা করা হয়েছ।[119]  এখানে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্যণীয়:  বর্ণিত দুরূদটি মাছুর তথা রাসূল  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  থেকে প্রমাণিত নয়।  বরং এটি কারো বানানো একটি দো‘আ ।  তাই একে ওযিফা হিসেবে আমলে আনা  যাবে না। তবে এতে কোনো আপত্তিকর  শব্দ নেই। তাই কেউ ইচ্ছা করলে দো‘আর  উদ্দেশ্যেই তা পড়তে পারে।  এর যে পদ্ধতি ও ফযিলত  বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ  মনগড়া বানানো বক্তব্য। তাই মুমিন এ  সবের পিছে পড়েন না এবং তা বিশ্বাস  করেন না।  দুরুদে মাহি নামকরণের  কারণে যে কাহিনীটি উল্লেখ  করা হয়েছে তা জালিয়াতদের  বানানো সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মনগড়া, এ  কাহিনীর কোনো সত্যতা নেই।  সূরা ইখলাস দ্বারা কুরআন খতম  নির্দিষ্ট সংখ্যার  মাধ্যমে সূরা ইখলাসের খতম প্রচলিত  না থাকলেও সূরা ইখলাস তিনবার পড়ার  মাধ্যমে কুরআন খতমের প্রচলন রয়েছে।  তিনবার সূরা ইখলাস পাঠ করলে পূর্ণ এক  খতম কুরআন তেলাওয়াতের ছওয়াব  পাওয়া যায় বলে অনেকের ধারণা। তাই  অনেক সময় কুরআন খতম করতে অপারগ  হলে তিনবার এই সূরা পাঠ করা হয়। বলা হয়  হাদীসে রয়েছে, তিনবার সূরা ইখলাস  পাঠ করলে এক খতম কুরআনের ছওয়াব  পাওয়া যায়। অথচ এমন  কোনো কথা নবী সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়  নি। রাসূলের হাদীসের সাথে যুক্তির  মিশ্রণ ঘটিয়ে এমন কথা বলা হয়। আর  অনেক ক্ষেত্রে এভাবেই রাসূল  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের  কথার মর্ম পরিবর্তন হয়ে শরীয়তের  বিকৃতি ঘটেছে।  কুরআন আল্লাহর পবিত্র কালাম। তার  প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্য,  প্রতিটি আয়াত, প্রতিটি সূরা বরকতময় ও  মর্যাদাপূর্ণ। আল্লাহর কালাম  হিসেবে মর্যাদার দিক  থেকে পুরো কুরআন এক সমান। তবে ভাব  বা মর্মের দিক থেকে কোনো কোন  আয়াত বা সূরার ফযিলত অন্যটির তুলনায়  বেশি বলে নবী সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম  আমাদেরকে জানিয়েছেন। এরকম  মর্যাদাপূর্ণ একটি সূরা হচ্ছে সূরা ইখলাস।  সুরাটিতে আল্লাহ তাঁর পরিচয় অত্যন্ত অল্প  বাক্যের  মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে তুলে ধরেছেন। এই  সূরার ফযিলতে নবী সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন:  ” ﻭﺍﻟﺬﻱ ﻧﻔﺴﻲ ﺑﻴﺪﻩ ﺇﻧﻬﺎ ﻟﺘﻌﺪﻝ ﺛﻠﺚ  ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ .” ‏(ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺘﻔﺴﻴﺮ،  ﺑﺎﺏ ﻓﻀﻞ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ، ﺭﻗﻢ 4726: ‏)  ‘‘ঐ সত্তার কসম যার  হাতে আমার প্রাণ নিশ্চয়  এটি (ইখলাস) কুরআনের এক  তৃতীয়াংশের বরাবর।’’ [120]  আরেকটি হাদীসে রয়েছে  , নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  এরশাদ করেন:  ‏« ﺃﻳﻌﺠﺰ ﺃﺣﺪﻛﻢ ﺃﻥ ﻳﻘﺮﺃ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺛﻠﺚ  ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ‏». ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻭﻛﻴﻒ ﻳﻘﺮﺃ ﺛﻠﺚ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻗﺎﻝ  ‏« ‏(ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ‏) ﻳﻌﺪﻝ ﺛﻠﺚ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ‏» .  ‏(ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺘﻔﺴﻴﺮ، ﺑﺎﺏ ﻓﻀﻞ  ﻗﺮﺍﺀﺓ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ، ﺭﻗﻢ 1922: ‏)  ‘‘তোমাদের কেউ  কি প্রতি রাতে কুরআনের এক  তৃতীয়াংশ  পড়তে অক্ষম? সাহাবিরা  বললেন, এক তৃতীয়াংশ  কীভাবে পড়বে? রাসূল  সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,  ( ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ) এক  তৃতীয়াংশের সমান।’’ [121]  এবার দেখুন, এই হাদীসের  অর্থটিকে কীভাবে পরিবর্তন  করে তা রাসূল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্পৃক্ত  করা হয়েছে, যার কোনো বিবরণ  সহীহে হাদীসে নেই। এক তৃতীয়াংশের  সমান হওয়া এবং তিনবার পড়লে পূর্ণ কুরআন  পড়ার ছওয়াব  পাওয়া কি এক? উলামায়ে কেরাম এই  হাদীসের মর্ম বর্ণনা করেন যে, কুরআনের  বিষয়বস্তু মূলত তিনটি: আহকাম বা জীবন  বিধান, আখবার বা সংবাদসমূহ, তাওহীদ  তথা আল্লাহর একত্ববাদের বিবরণ।  সূরা ইখলাসে তাওহীদের  আলোচনা বা আল্লাহর  একত্ববাদকে সুন্দরভাবে তুলে ধরা  হয়েছে। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে এক  তৃতীয়াংশ বলেছেন। [122]  একেই কেউ কেউ এভাবে বলেন  যে, কুরআনের অর্থ তিন ভাগে বিভক্ত।  ঘটনাবলী, আহকাম, আল্লাহর গুণাবলী।  সূরা ইখলাসটি আল্লাহর  গুণাবলীতে বিশেষিত। [123] এভাবেও  বলা যায় যে, পুরো কুরআনের  আলোচনা তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাত  নিয়ে। যে কোনো বিষয় এ তিনটির  কোনোটির সাথে সম্পৃক্ত। আর  সূরা ইখলাসে তাওহীদের  আলোচনা অত্যন্ত  নিপুণভাবে করা হয়েছে, তাই এ  সূরাকে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ  বলা হয়েছে।  নবী সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীস  থেকেও এ অর্থেই এক তৃতীয়াংশ বলার  কথাটি স্পষ্ট হয়ে যায়।  নবী সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:  ‏« ﺇﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺟﺰﺃ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺛﻼﺛﺔ ﺃﺟﺰﺍﺀ ﻓﺠﻌﻞ ﻗﻞ  ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ﺟﺰﺀﺍ ﻣﻦ ﺃﺟﺰﺍﺀ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ‏» .  ‏( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﺍﻟﻤﺮﺟﻊ ﺍﻟﺴﺎﺑﻖ، ﺭﻗﻢ : 1923 ‏)  ‘‘আল্লাহ তা‘আলা কুরআনকে তিন  অংশে বিভক্ত করেছেন। “ ﻗﻞ ﻫﻮ  ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ” (সূরা ইখলাস)  কে কুরআনের তিন অংশের এক  অংশ সাব্যস্ত করেছেন।’’ [124]  এই হাদীস থেকে উপরোক্ত  মর্মটি আরো স্পষ্ট হয়ে যায়। তবে কেউ  কেউ এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য বলতে এক  তৃতীয়াংশ পড়লে যে ছওয়াব হয়  সূরা ইখলাস তেলাওয়াত করলে এই পরিমাণ  ছওয়াব হয় বলে বলেছেন। কিন্তু এই মর্মটির  কোনো দলীল নেই। বুখারীর  ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল বারী’তে লিখেন:  ” ﻭﻣﻨﻬﻢ ﻣﻦ ﺣﻤﻞ ﺍﻟﻤﺜﻠﻴﺔ ﻋﻠﻰ ﺗﺤﺼﻴﻞ  ﺍﻟﺜﻮﺍﺏ ﻓﻘﺎﻝ ﻣﻌﻨﻰ ﻛﻮﻧﻬﺎ ﺛﻠﺚ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺃﻥ  ﺛﻮﺍﺏ ﻗﺮﺍﺀﺗﻬﺎ ﻳﺤﺼﻞ ﻟﻠﻘﺎﺭﺉ ﻣﺜﻞ ﺛﻮﺍﺏ ﻣﻦ  ﻗﺮﺃ ﺛﻠﺚ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻭﻗﻴﻞ ﻣﺜﻠﻪ ﺑﻐﻴﺮ ﺗﻀﻌﻴﻒ  ﻭﻫﻲ ﺩﻋﻮﻯ ﺑﻐﻴﺮ ﺩﻟﻴﻞ .” ‏( ﻓﺘﺢ ﺍﻟﺒﺎﺭﻱ،  ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺘﻔﺴﻴﺮ، ﺑﺎﺏ ﻓﻀﻞ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ  ﺃﺣﺪ، 60-9 ‏)  ‘‘আলেমগণের মধ্যে কেউ  সমতুল্য অর্থটি ছওয়াব অর্জনের  ক্ষেত্রে নেন এবং বলেন, এক  তৃতীয়াংশ হওয়ার অর্থ এই  সুরাটি পড়ার ছওয়াব পাঠকের  জন্য ঐ ব্যক্তির সমান  হবে যে এক তৃতীয়াংশ কুরআন  পড়েছে। এটাও  বলা হয়ে থাকে, অতিরিক্ত  ছওয়াব ব্যতিরেকে মূল  ছওয়াবের এক তৃতীয়াংশের  সমান। তবে এই দাবীর  সপক্ষে কোনো দলীল  নেই।’’ [126]  এখানে লক্ষণীয় যে, একবার  সূরা ইখলাস তেলাওয়াত করলে কুরআনের  এক তৃতীয়াংশ পড়ার ছওয়াব পাওয়ার  ব্যাপারে কোনো সহীহ হাদীস নেই।  একটি হাদীস থেকে এই মর্ম নেয়ার  সামান্য সম্ভাবনা ছিল মাত্র, তবে মুসলিম  শরীফের হাদীসের মাধ্যমে এই  সম্ভাবনাটির অবকাশ দূর হয়ে গেছে।  তথাপি দূরবর্তী সম্ভাবনা অনুযায়ী আমরা  যদি মেনে নেই যে, একবার সূরা ইখলাস  তেলাওয়াত করলে কুরআনের এক  তৃতীয়াংশ পরিমাণ পড়ার ছওয়াব  পাওয়া যায় তবে একথা অত্যন্ত স্পষ্ট যে  , তিনবার সুরাটি তেলাওয়াত করলে এক  তৃতীয়াংশ তিনবার পড়ার ছওয়াব  পাওয়া যাবে। পূরো কুরআন একবার পড়ার  ছওয়াব  পাওয়া যাবে বলে কোনো ইঙ্গিত  হাদীসে নেই। বিষয়টি সহজে  বোঝার  জন্য মনে করুন, আপনার একটি কাজ আছে।  যে কাজের তিনটি অংশ রয়েছে। এই  কাজটি পূর্ণ করার উপর আপনার ১০০ টাকার  দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।  তবে একটি অংশ করলে ২০ টাকা দেওয়ার  প্রতিশ্রুতি। এখন কেউ যদি একটি অংশ  তিনবার করে এবং এমনটি করার সুযোগ  থাকে তবে আপনার  প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সে ৬০  টাকা পাওয়ার কথা। এখন  যদি সে দাবী করে যে, মোট অংশ  তিনটি, আমি একটি অংশ তিনবার করেছি  , সুতরাং আমি কাজটি পূর্ণ করেছি, তাই  যুক্তির দাবী হলো আমাকে ১০০  টাকা দেওয়া হোক, এখানে আপনি তার  এই যুক্তিকে কীভাবে দেখবেন? ঠিক  তদ্রূপ একবার সূরা ইখলাস তেলাওয়াত  করলে এক তৃতীয়াংশের ছওয়াব  মেনে নিলেও একবার পড়লে এক খতম  কুরআনের ছওয়াব পাওয়া যাবে এমন  কথা যেমন নির্ভরযোগ্য হাদীস  বহির্ভূত, তেমন যুক্তি বহির্ভূত।  কোনো ইবাদত বা তার ছওয়াবের  ক্ষেত্রে যুক্তি দিয়ে কিছু বলার সুযোগ  নেই, তথাপি অনেক দূরবর্তী একটি যুক্তির  আলোকে আমাদের মাঝে সূরা ইখলাস  তিনবার পড়ে কুরআন খতমের ছওয়াব  অর্জনের কথা ও আমল অত্যন্ত  ব্যাপকভাবে প্রচারিত ও প্রচলিত।  এমনকি অনেকে পুরো কুরআন পড়ার পর  তিনবার সূরা ইখলাস পড়েন  যাতে করে ভুলভ্রান্তি কিছু হলে এর  মাধ্যমে তার ঘাটতি পূর্ণ  হয়ে যায়, তারাবীর  সালাতে অনেকে এই সূরা তিনবার  পড়ে ঘাটতি পূর্ণ করেন, অথচ শরীয়তে এ  সবের কোনো ভিত্তি নেই।  সবচেয়ে আশ্চর্য্যের বিষয় হলো, অন্যের  জন্য খতম  পড়তে গিয়ে ঘটনাক্রমে পড়া শেষ  না হলে এই সূরা তিনবার  পড়ে বেঁচে যাওয়ার বাহানা তালাশ  করা হয়। খতমের আয়োজকের প্রশ্নের  জবাব দেওয়ার জন্য এই সূরা তিনবার  পড়ে নিলেই কাম সারে।  এভাবে বিভিন্ন সুন্নাহ বিরোধী কর্মের  অনুপ্রবেশ ঘটে।  কেউ বলতে পারেন সূরা ইখলাসের  বর্ণিত ফযিলতের ব্যাপারে হাদীস  রয়েছে, যেমন একটি হাদীসে এসেছে:  ” ﻣﻦ ﻗﺮﺃ ‏( ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ( ﺛﻼﺙ ﻣﺮﺍﺕ  ﻓﻜﺄﻧﻤﺎ ﻗﺮﺃ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺃﺟﻤﻊ .”  ‘‘যে ব্যক্তি ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ  ﺃﺣﺪ তিনবার পড়ল সে যেন  পুরো কুরআন পাঠ করল।’’ [127]  এ হাদীসটি অনির্ভরযোগ্য। এর  কোনো নির্ভরযোগ্য সনদ নেই। [128] এ  হাদীস ছাড়াও উক্ত সূরা সংক্রান্ত  নির্দিষ্ট সংখ্যা ও বিশাল ফযিলতের  কথা সহ আরো কিছু হাদীস রয়েছে যার  নির্ভরযোগ্য কোনো সনদ  বা ভিত্তি নেই। হাদীসের  সাথে যাদের গভীর সম্পর্ক  রয়েছে তারা জানেন যে, অন্যের  কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে নিসবত  বা সম্পৃক্তের একটি দিক হচ্ছে, অনেক সময়  রাসূল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের  বিভিন্ন মর্ম বা ব্যাখ্যা মানুষ তাদের  জ্ঞান  বা মেধা থেকে বর্ণনা করে থাকেন।  পরবর্তীতে ব্যাখ্যাকারী নিজে অথবা  অন্য কেউ উক্ত ব্যাখ্যা বা মর্মকেই রাসূল  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের  দিকে সম্পৃক্ত করে হাদীস  বলে চালিয়ে দিয়েছেন। অনেক জাল  হাদীসের অনুপ্রবেশ এভাবেই ঘটেছে।  আল্লামা সুয়ুতী মনে করেন জাল  হাদীসের এই প্রকারটি সর্বাধিক।  [129] নির্ভরযোগ্য বা গ্রহণযোগ্য  কোনো সনদ না থাকায় বর্ণিত হাদীসটিও  এই ধরণের বলে সহজেই অনুমেয়। আল্লাহ  আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং সহীহ  সুন্নাহ মোতাবেক আমাদের জীবন  পরিচালনার তওফীক দান করুন। আমীন।  অভিজ্ঞতা বনাম ধর্মীয় অনুভূতি  উল্লেখিত প্রচলিত খতমসমূহ  নবী সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা বহির্ভূত  খেলাফে সুন্নাত স্বীকার করা সত্বেও  তা জায়েয বা এতে কোনো সমস্যা নেই  এর পক্ষে যে দলীল পেশ করা হয়  তা হলো, অভিজ্ঞতা। আলেমগণের এক  শ্রেণি ঈসালে ছওয়াবের খতমে অংশ  নিলেও তা বিদ‘আত মনে করেন।  কেননা তারা জানেন যে, খাইরুল  ক্বুরুনে খতমের মাধ্যমে ঈসালের  কোনো পদ্ধতি ছিল না  , তবে তারা ঈসালে ছওয়াব  ছাড়া অন্যান্য সমস্যার  কারণে যে কোনো খতম  করতে কোনো সমস্যা নেই  বলে মনে করেন। তাদের যুক্তি হলো  , এটি একটি তাজরিবাহ বা অভিজ্ঞতার  বিষয়। এর সাথে বিদ‘আতের  কোনো সম্পর্ক নেই। কেননা বিদ‘আতের  সম্পর্ক ইবাদতের সাথে। খতম  যদি ইবাদতের  উদ্দেশ্যে না করা হয়, বরং রোগমুক্তি বা  অন্য উদ্দেশ্যে করা হয় তবে নাজায়েয  হওয়ার কোনো কারণ নেই।  এগুলো বিভিন্ন বুযুর্গের  অভিজ্ঞতা মাত্র। অভিজ্ঞতার  আলোকে অমুক খতমে অমুক ফল  দেখা গেছে, তাই আমরা সেই আশায় খতম  পড়ছি।        যে কোনো খতম  পড়তে কোনো সমস্যা নেই একথা কতটুকু  গ্রহণযোগ্য তা আমরা খতমের আলোচনায়  বুঝতে পেরেছি। এবার  হলো যে খতমে শব্দগত  কোনো আপত্তি নেই তার কথা।  অভিজ্ঞতার আলোকে এমন  খতমাদিকে শুদ্ধ বলে চালানো কতটুকু  গ্রহণযোগ্য? মূলত অভিজ্ঞতা ও ধর্মীয়  অনুভূতি দুটি বিষয়কে এক করে দেওয়ার  ফলে আমরা এমন কথা বলি, অথচ  দুটি বিষয়ে আকাশ পাতাল ব্যবধান।  ইবনে তাইমিয়া রাহ.  [130] বিষয়টি সুন্দরভাবে বুঝিয়েছেন।  ইবনে তাইমিয়া রাহ. এর আলোচনা পেশ  করার আগে সহজেই বিষয়টি  বোঝার  চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।  মূলত কোনো জিনিসের  সাথে বারংবার সম্পৃক্ত হওয়া, সেই  বস্তুকে নিয়ে গবেষণা  , পরীক্ষা নিরিক্ষা ইত্যাদির  মাধ্যমে উক্ত বস্তুর ভিতর বাস্তব  যে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়  তাকে বলে অভিজ্ঞতা। অভিজ্ঞতার  আলোকে কোনো কিছু প্রমাণিত  হলে তা উক্ত বস্তুর বৈশিষ্ট্য। তাই  তা অস্বীকারের কারো কোনো উপায়  নেই। পাগল ছাড়া কেউ তা অস্বীকার  করতে পারে না। কেউ স্বীকার করুক  বা নাই করুক, বিশ্বাস করুক বা নাই করুক, উক্ত  বস্তু তার কাজ করেই যাবে।  এখানে ধর্মের সাথে কোনো সম্পর্ক  নেই। যেমন ধরুন, আগুনের ভিতর  জ্বালানোর বৈশিষ্ট্য মানুষ  প্রথমে অভিজ্ঞতার আলোকেই  পেয়েছে। আগুন জ্বালায় এ কথা সবাই  মানেন। এভাবে যে কোনো রোগের  ঔষধ অনেক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয়  করা হয়েছে। অভিজ্ঞতায়  দেখা গেছে অমুক ঔষধ খেলে অমুক রোগ  ভাল হওয়ার বৈশিষ্ট্য আল্লাহ সেই  ঔষধে রেখেছেন। অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত  হলে মুসলিম, খৃষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ সবাই  তা স্বীকার করেন। কেননা এটা সেই  বস্তুর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। তাই  অভিজ্ঞতা সঠিক হলে সবাই তা স্বীকার  করতে বাধ্য। অপরদিকে ধর্মীয়  অনুভূতি এমন যা একজন বিশ্বাস  করলে অপরজন করেন না। যেমন  ধরুন, একটি অত্যন্ত সুন্দর পাথর, হিন্দু ধর্মের  ব্যক্তি তাকে খুবই শ্রদ্ধা করছেন।  তিনি বলছেন, অভিজ্ঞতায়  দেখা গেছে এই পাথর থেকে এই ফল  পাওয়া যায়, এর অসম্মান করলে এই  ক্ষতি হয়। অপর ব্যক্তি যিনি এই  ধর্মে বিশ্বাসী নন তিনি এই  পাথরকে লাথি মেরে উড়িয়ে দিচ্ছেন।  কেননা হিন্দু ব্যক্তি যে বিশ্বাস পোষণ  করেন তিনি তা করেন না।  পাথরকে লাথি মারলেও তার  কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। হিন্দু ব্যক্তির  কথাটি বাস্তব হলে লাথি মারলে এই  ব্যক্তিরও ক্ষতি হওয়ার কথা ছিল।  এখানে হিন্দু ব্যক্তির  ধারণাকে আমরা অভিজ্ঞতা বলতে পারি  না। বরং তা তার একটি ধর্মীয় বিশ্বাস।  সে যদি পাথরকে শ্রদ্ধার  কারণে কোনো লাভ, অপমান করার  কারণে কোনো ক্ষতির বাস্তব ঘটনা শুনায়  তবুও মুসলিম  তা উড়িয়ে দিবেন, এমনকি তা নিয়ে  হাসির কৌতুকও রচনা করতে পারেন।  তিনি বলবেন মূলত লাভ ক্ষতি অন্য  কারণে হয়েছে, হিন্দু ব্যক্তির বিশ্বাস  তাকে এদিকে টেনে নিয়ে গেছে। এই  হলো অভিজ্ঞতা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের  পার্থক্য।        এভাবে যে ব্যক্তি মাজারে নিয়মিত  আসা যাওয়া করে  , মাজারকে ভক্তি শ্রদ্ধা করে  , তাকে আপনি এর  খারাবী বুঝাতে চেষ্টা করলে বা  এখানে এসে কোনো লাভ নেই  বললে সে আপনাকে তার অনেক লাভ  দেখিয়ে দিবে। সে বলবে আমি এই  পেয়েছি, সেই পেয়েছি। শাহজালাল  বাবার কাছে চাইলে পাওয়া যায়  বলে আমার কাছে অনেক প্রমাণ রয়েছে।  এ কথাগুলো কোনো কাল্পনিক  বা ধরে নেওয়ার ভিত্তিতে নয়  বরং বাস্তব। আমার নিজ  কানে সিলেটের অনেককেই  বলতে শুনেছি, এত লোক  কি এখানে এমনিতেই আসে? নিশ্চয়  তারা কিছু পায়। আমাদের ঘরের জিনিস  তাই আমরা এর ক্বদর তথা মূল্যায়ন করি না।  এখানে সে তাঁর অভিজ্ঞতা দেখালেও  সহীহ আক্বীদা পোষণকারী মুসলিম  তা বিশ্বাস করেন না। মাজার  বিশ্বাসী লোকটির এমন কথা আপনার  হাসি ও আক্ষেপকেই বৃদ্ধি করে।  আপনি এটিকে তাঁর  একটি বোকামী বলেই দেখছেন।  কেননা এটা তাঁর মনের  তৈরী একটি বিশ্বাস যার কোনো প্রমাণ  নেই। প্রথমে বিশ্বাস তৈরীর পর সে তাঁর  লাভ ক্ষতিকে মাজার কেন্দ্রিক  টেনে নিয়ে যাচ্ছে। সে যতই  অভিজ্ঞতার কথা বলুক না কেন  আপনাকে তা বিশ্বাস  করাতে পারবে না। তার কারণ হলো  , এটাকে অভিজ্ঞতা নাম দিলেও  প্রকৃতপক্ষে অভিজ্ঞতার সাথে এর  কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এটিও তাঁর  একটি ধর্মীয় অনুভূতি বা বিশ্বাস।  এভাবে হাজারো উদাহরণ আপনি নিজেই  চিন্তা করলে বের  করতে পারবেন, যেখানে ধর্মীয়  বিশ্বাসকে অভিজ্ঞতার নাম দিয়ে মানুষ  বিভ্রান্ত হচ্ছে। কুরআন হাদীসের  বিপরীত যত ভ্রান্ত  আক্বীদা রয়েছে তার অধিকাংশই এ  পর্যায়ের।        আরেকটি উদাহরণ  দেখুন: ‘বিসমিল্লাহ’ বলে খাওয়া শুরু  করলে খাবারের মাঝে বরকত হয়  বলে আমরা মুসলিম হিসেবে বিশ্বাস  করি। কেননা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বলে গেছেন।  নবী সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে ব্যক্তি নবী  বলে অস্বীকার করে সে এটি বিশ্বাস  করবে না। মুসলিম ব্যক্তি বাস্তবে এই বরকত  উপলব্ধি করলেও  তিনি এখানে অভিজ্ঞতার দলীল  দিতে পারেন না।  কেননা এটা অভিজ্ঞতার বিষয় নয়।  অভিজ্ঞতার বস্তু হলে মুসলিম অমুসলিম  সবাই তা বিশ্বাস করতে বাধ্য।  বরং এটি মুসলিম ব্যক্তির একটি ধর্মীয়  বিশ্বাস। নবী সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলার  কারণে তিনি এই বিশ্বাস পোষণ করেন।  আল্লাহ বা রাসূল ছাড়া অন্য কেউ  বললে এই একই ব্যক্তি তা উড়িয়ে দিতেন।  কেননা ওহী ছাড়া ধর্মীয় বিশ্বাস পোষণ  করা যায় না। ওহীর বাইরের  আক্বীদা মানেই ভ্রান্তি । ধরুন  আমি বুযুর্গির এক  পর্যায়ে পৌছে যদি বলি ‘ক্বুল  হুয়াল্লাহু…’ পড়ে খাবার শুরু  করলে খাবারে বরকত হয়। এখন  দেখা যাবে আমার কিছু অন্ধ ভক্ত  একথা বিশ্বাস করবেন এবং তারাও এর  আলোকে আমল শুরু করবেন। একথা বিশ্বাস  করতে কোনো সমস্যা নেই  দাবী করে দলীল  হিসেবে বলবেন, এটা উনার অভিজ্ঞতা।  তবে যিনি মুহাক্বিক আবার অন্ধ ভক্ত  নন, বরং শরীয়তের সীমার  ভিতরে থেকে ভক্তি করেন, তিনি এ  কথা মেনে নিবেন না।  কেননা তিনি জানেন যে  , এটা অভিজ্ঞতার বিষয় নয়।  এখানে একটি বিশ্বাসকে অভিজ্ঞতার  নাম দেওয়া হয়েছে মাত্র। ওহীর  বাইরে এমন কথা তিনি মেনে নিবেন  না। তবে ‘বিসমিল্লাহ’ এর বরকত  ওহী দ্বারা প্রমাণিত, তাই  তিনি তা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন  এবং আমল করেন। আশাকরি ধর্মীয় বিশ্বাস  এবং অভিজ্ঞতার মাঝে পার্থক্য  বুঝতে আর কোনো উদাহরণের প্রয়োজন  নেই। এবার পাঠক নিজেই বিভিন্ন খতমের  ব্যাপারে ফায়সালা করুন। এই খতমে এই  হয়, সেই খতমে সেই  হয়, তা কি অভিজ্ঞতার  বিষয়? না কি একটি ধর্মীয়  বিশ্বাস? দ্বিতীয়টি হলে -আপনি অন্ধ  ভক্ত না হলে এটাই আপনার কাছে বাস্তব-  ওহী ছাড়া আমরা এমন বিশ্বাস ও তার উপর  আমল কীভাবে করতে পারি?  একটি ঘটনা দেখুন: চট্টগ্রামের জনৈক  ব্যক্তি লন্ডন বসবাস করেন।  দেশে আসলেই তিনি সিলেট আসেন  এবং শাহজালাল রাহ. এর মাজার যিয়ারত  করেন। দেশে আসলে কোনো বারই  নাকি তাঁর এই সফর মিস হয় না।  তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ভাই  আপনি কেন আসেন? এর  প্রতি উত্তরে লোকটি বলল,  ‘‘বাবা আঁরে লন্ডন ফাটাইয়ি ইতাল্লাই আঁই  ফতিবার এডে আঁই’’ অর্থাৎ শাহজালাল  বাবা আমাকে লন্ডন পাঠিয়েছেন, তাই  আমি প্রত্যেকবার তথা দেশে আসলেই  এখানে আসি। লোকটির বিশ্বাস দেখুন।  সে তাঁর এ কথাগুলো অভিজ্ঞতার  আলোকেই বলছে।  কেননা সে এখানে এসেছে এবং লন্ডন  যাবার জন্য দো‘আ  করেছে এবং যেতে পেরেছে। একজন  সহীহ  আক্বীদা পোষণকারী হিসেবে আপনি  লোকটির এই  কথাগুলো কিভাবে নিবেন? আপনি সহীহ  আক্বীদা পোষণকারী নিশ্চয় বলবেন, তার  লন্ডন যাবার অনুমোদন প্রাপ্ত হওয়ার  যাবতীয় জরুরী কাগজপত্র, ভিসা  , পাসপোর্ট ইত্যাদি শর্ত মোতাবেক  হয়েছে বলে অল্লাহর ইচ্ছায়  সে যেতে পেরেছে । লন্ডনের  অনুমোনের শর্তাদি পুরো না হলে একবার  কেন শতবার মাজারে আসলেও  সে যেতে পারত না । কিন্তু এমন  লোককে যদি আপনি বলেন:  ভাই, এখানে শাহজালাল সাহেবের  কী সম্পর্ক? আপনার তো লন্ডন  যেতে পারা যাবতীয়  শর্তাদি সঠিকভাবে পূরণ হওয়ার  কারণে হয়েছে, সে বলবে, কাগজপত্র  সবকিছু বাবার ওসীলায় ঠিক হয়েছে।  এভাবেই অতিভক্তির মাধ্যমে মানুষ  বিশ্বাসের ধোকায় নিপতিত হয়।  অতিভক্তি তার বিশ্বাসকে এদিক  থেকে ওদিকে নিয়ে যায়।  বাস্তবতা থেকে অবাস্তবতার  দিকে নিয়ে যায়, অথচ সে টেরই পায় না।  আমাদের অবস্থা এমন  হচ্ছে কি না তা নিয়ে ভেবে দেখা  দরকার। দীনের জন্য একটু ভাবলে ক্ষতিই  বা কী? বরং এতে আমার অনেক লাভ  রয়েছে। আমি সঠিক পথে থাকলেও  ভাবার কারণে নিশ্চয় ছওয়াব পাব।  এবার আমরা ইবনে তাইমিয়া রাহ. এর  বক্তব্যটি উপস্থাপন করছি। তিনি লিখেন:  ” ﺛﻢ ﻗﺪ ﻳﻜﻮﻥ ﺳﺒﺐ ﻗﻀﺎﺀ ﺣﺎﺟﺔ ﻫﺆﻻﺀ  ﺍﻟﺪﺍﻋﻴﻦ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﺍﻟﻤﺤﺮﻡ؛ ﻟﺸﺪﺓ ﺿﺮﻭﺭﺗﻪ ﻟﻮ  ﺩﻋﺎ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻬﺎ ﻣﺸﺮﻙ ﻋﻨﺪ ﻭﺛﻦ ﻻﺳﺘﺠﻴﺐ ﻟﻪ  ﻟﺼﺪﻕ ﺗﻮﺟﻬﻪ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻠﻪ – ﺗﻌﺎﻟﻰ .” ) ﺍﻟﻤﻨﻬﺞ  ﺍﻟﻘﻮﻳﻢ ﻓﻲ ﺍﺧﺘﺼﺎﺭ ﺍﻗﺘﻀﺎﺀ ﺍﻟﺼﺮﺍﻁ  ﺍﻟﻤﺴﺘﻘﻴﻢ 96-1 ‏)  ‘‘এরপর অনেক সময় এসব  প্রার্থনাকারী যারা হারাম  প্রার্থনা করে তাঁর কঠিন  প্রয়োজনের কারণে আল্লাহ  তাঁর প্রয়োজন পূর্ণ  করেন, যদি কোনো মুশরিক  একটি মূর্তির কাছে গিয়ে এই  প্রয়োজনের প্রার্থনা করত তাঁর  প্রার্থনা ক্ববুল  করা হত, কেননা (সে মূর্তির  কাছে হলেও) তার পূর্ণ  মনোযোগ আল্লাহর  দিকে।’’ [131]  ইবনে তাইমিয়া রাহ.  এখানে যে কথাটি বুঝাতে চেয়েছেন  তা অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রার্থনাকারী হারাম  বস্তু কামনা করছে। আল্লাহ তার মনের  আহাজারী, কাতর অবস্থা দেখে এমন  প্রার্থনাও শুনছেন। তবে এই বস্তু  পেয়ে যাওয়া তাঁর কামনা জায়েয হওয়ার  দলীল নয়। এভাবে মূর্তির কাছে গিয়েও  সে যে প্রার্থনা করে, তাঁর কান্নাকাটি  , আহাজারী, মনের অবস্থার দিকে লক্ষ্য  করে আল্লাহ তার দো‘আ শুনেন ।  তবে দো‘আ কবুল করা মূর্তির  কাছে যাওয়ার কারণে নয়, বরং তার মনের  করুণ অবস্থার কারণে। কিন্তু  প্রার্থনাকারী লোকটি তার  বিশ্বাসকে মূর্তির  দিকে নিয়ে গিয়ে ফিতনায় পতিত হয়।  সে মনে করে মূর্তির কাছে এসে কিছু  চাইলে পাওয়া যায়।  তিনি আরো লিখেন:  ﻭﻣﻦ ﻫﻨﺎ ﻳﻐﻠﻂ ﻛﺜﻴﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻳﺒﻠﻐﻬﻢ ﺃﻥ  ﺑﻌﺾ ﺍﻷﻋﻴﺎﻥ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﻴﻦ ﻋﺒﺪ ﻋﺒﺎﺩﺓ، ﺃﻭ ﺩﻋﺎ  ﺩﻋﺎﺀ ﻭﺟﺪ ﺃﺛﺮﻩ، ﻓﻴﺠﻌﻞ ﺫﻟﻚ ﺩﻟﻴﻼ ﻋﻠﻰ  ﺍﺳﺘﺤﺒﺎﺏ ﺗﻠﻚ ﺍﻟﻌﺒﺎﺩﺓ ﻭﺍﻟﺪﻋﺎﺀ، ﻭﻳﺠﻌﻠﻮﻥ  ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﺳﻨﺔ ﻛﺄﻧﻪ ﻗﺪ ﻓﻌﻠﻪ ﻧﺒﻲ، ﻭﻫﺬﺍ  ﻏﻠﻂ ﻋﻈﻴﻢ ﻟﻤﺎ ﺫﻛﺮﻧﺎﻩ ﺧﺼﻮﺻﺎ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ  ﺍﻟﻌﻤﻞ ﺇﻧﻤﺎ ﻛﺎﻥ ﺃﺛﺮﻩ ﺑﺼﺪﻕ ﻗﺎﻡ ﻓﻲ ﻗﻠﺐ  ﻓﺎﻋﻠﻪ ﺣﻴﻦ ﺍﻟﻔﻌﻞ ﺛﻢ ﺗﻔﻌﻠﻪ ﺍﻷﺗﺒﺎﻉ ﺻﻮﺭﺓ،  ﻓﻴﻀﺮﻭﻥ ﺑﻪ.  ‘‘এখান থেকেই অনেক মানুষ  ভুলের মধ্যে পতিত হয়, যখন  তাদের কাছে খবর পৌঁছে  , কোনো নেক মানুষ  একটি ইবাদত  করেছেন, অথবা একটি দো‘আ  করে তার ফল  পেয়েছেন, অতঃপর এটিকে ঐ  ইবাদত এবং দো‘আ মুস্তাহাব  হওয়ার দলীল  বানিয়ে দেওয়া হয়  এবং তারা সেই  আমলটিকে সুন্নাত  বানিয়ে নেয়, যেন  তা কোনো নবী করেছেন।  আর এটা মারাত্মক ভুল  যা আমরা উল্লেখ করেছি।  বিশেষ করে যখন আমলটির ফল  কর্মের সময় আমলকারী মনের  নিষ্ঠার  কারণে ছিল, পরবর্তীতে  অনুসারীরা শুধুমাত্র বাহ্যিক  আমল হিসেবে তা করে থাকে  , ফলে তারা এর  মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’’ [132]  পাঠক, আশা করি ইবনে তাইমিয়া রাহ.  এর বক্তব্য থেকে বিষয়টি আমাদের  সামনে আরো স্পষ্ট হয়ে গেল যে  , কোনো বুযুর্গ কোনো দো‘আর আমলের  মাধ্যমে কিছু পেলে আমরা তা সেই দো  ‘আর প্রতিফল ভাবতে পারি না।  কেননা ওহী ছাড়া এমন কথা বলা যায় না।  তবে নেক বুযুর্গ তিনি যে প্রতিফল  পেয়েছেন এটা মূলত তার মনের অবস্থার  প্রতিফল। যে কোনো মুমিন মনের আবেগ  নিয়ে সকাতরে আল্লাহর কাছে যেই দো  ‘আ করুক না কেন আল্লাহ তার প্রতিফল  দিবেন। এমনকি সকাতরে কাফের ব্যক্তিও  যখন আল্লাহর কাছে কিছু চায় আল্লাহ তার  প্রতিফল দেন  বলে কুরআনে তিনি নিজেই উল্লেখ  করেছেন।[133]  আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বস্তু  উপলব্ধি করার তওফিক দান করুন। শুধুমাত্র  সুন্নাতের মধ্যেই সফলতা দেখার তওফিক  দান করুন। আমীন।  আমাদের জানামতে সমাজে কম-বেশ  যে খতমগুলো রয়েছে, বা যে দো‘আ  দুরূদগুলো খতম হিসেবে পড়ার  প্রথা রয়েছে সেগুলো নিয়ে সামান্য  পর্যালোচনা করলাম। আলোচনার বিষয়বস্তু  মূলত সমাজে বা আমাদের মাঝে প্রচলিত  খতম নিয়ে। তাই অন্যান্য  বানানো আরো কিছু আমল যেগুলোর  প্রচলন রয়েছে তবে তা আমাদের  সমাজে খতম হিসেবে প্রসিদ্ধ  নয়, সেগুলোর আলোচনা করা হয় নি।  যেমন : দুরুদে তাজ, দুরুদে হক্কানী  , দুরুদে তুনাজ্জিনা  , দুরুদে ফুতুহাত, দুরুদে রু‘ইয়াতে নবী  , দুরুদে শিফা  , দুরুদে খাইর, দুরুদে আকবার, দুরুদে লাখি  , দুরুদে হাজারী, দুরুদে রুহি  , দুরুদে বীর, দুরুদে শাফিয়ী  , দুরুদে গাওসিয়া, দুরুদে মুহাম্মাদী…। এসব  দুরূদ পরবর্তী যুগের মানুষের বানানো।  অতএব এগুলোর ফযিলতে যা কিছু বলা হয়  সবই বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কথা।  [134] তাছাড়া এগুলোর অনেকটির  মধ্যে কিছু কিছু আপত্তিকর শব্দও বিদ্যমান।  আপত্তির পর্যায়টি না-জায়েয ক্ষেত্র  বিশেষে শির্ক পর্যন্ত রয়েছে। তাই  এগুলোর চটকদার লাভের গল্প শুনেই তার  পিছে না পড়া জ্ঞানী ব্যক্তির কাজ।  এগুলোতে আমার আপনার বুযুর্গের  ছোঁয়া থাকলেও নবুওয়াতের নুর নেই। তাই  নিজেকে নবী সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত দুরূদ  ও দো‘আর মাঝে সীমাবদ্ধ রাখাই  নিরাপদ। তাযকিয়ার  চূড়ান্তে পদচারণা করতে তাঁর  শিখানো দুরূদ ও পদ্ধতিই আমাদের জন্য  যথেষ্ট। সাহাবায়ে কেরাম রাসূল  সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর  সুন্নাতের ভিতর থেকেই দুনিয়ায়  থাকাবস্থায় আল্লাহর সন্তুষ্টির  সার্টিফিকেট পেয়ে গিয়েছিলেন।  তারা যেমন সুন্নাতের বাইরে কিছুই  ভাবতে পারেন নি, আমরাও তাদের  আদর্শের দাবীদার হলে তাযকিয়ার জন্য  রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম  এর বাতানো ওযিফার  বাইরে কোনো ওযিফা ভাবতে পারি না।  বিপদে আপদে আল্লাহর শরণাপন্ন  হতে তাঁর আদর্শ ও পদ্ধতি ছাড়া অন্য  পদ্ধতিতে শরণাপন্ন হতে পারি না। তাঁর  বাতলানো পদ্ধতির মাধ্যমে শরণাপন্ন  হলেই আল্লাহ আমাদের কথা দ্রুত শুনবেন  বলে আমরা আশাবাদী। আল্লাহ তাঁর প্রিয়  রাসূলকে তো একারণেই আমাদের  কাছে পাঠিয়েছেন যে, আল্লাহর  বান্দা হিসেবে আমরা কিভাবে, কিসের  মাধ্যমে তাঁর কাছে প্রার্থনা করব, কোন  পদ্ধতিতে কোন আমলে তাঁর নৈকট্য লাভ  করব সেটা আমাদের তিনি জানাবেন।  আল্লাহ আমাদের সবাইকে রাসূল  সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর  আদর্শের গণ্ডির ভিতর রাখুন। আমীন।  পরিশেষ  সম্মানিত পাঠক, আবারো নিজের  ইলমী দুর্বলতা ভাষাগত অক্ষমতা স্বীকার  করত আপনাদের কাছে বিশেষ  করে আলেমদের কাছে বিনীত নিবেদন  এই যে, আমাদের এই  আলোচনা পর্যালোচনা কারো সম্মান  বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে নয়।  কারো সম্মান এবং তার অনুসরণ এক নয়।  সবার সম্মান করতে হবে, আমরা এর জন্য  নির্দেশিত। অপরদিকে আক্বাঈদ বিশ্বাস  বা ইবাদত সংক্রান্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে ‘‘ ﻣﺎ  ﺃﻧﺎ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺃﺻﺤﺎﺑﻪ ’’ এর  বাইরে যাওয়া যাওয়া যাবে না বলে  আমরা আদেশপ্রাপ্ত। এর বাইরে গেলেই  আমরা আহলুস্-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের  বাইরে চলে যাব বলে সর্বদা আমাদের  শ্রদ্ধেয় উস্তাদ মহোদয়গণ এবং আকাবীর  আসলাফরা সতর্ক করে আসছেন। যুক্তি  , বিবেক, জ্ঞান, ইলমের পাণ্ডিত্যের  মাধ্যমে এর বাইরে যাওয়া থেকেই  বিভ্রান্তির শুরু । তাই নিজ  জ্ঞান  দিয়ে নতুন আবিষ্কৃত  বিষয়কে যাচাই করে দেখাকে নিরাপদ  মনে করতে পারি না । নিরাপদ  মনে করি শুধু রাসূল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা কর্মের পূর্ণ  অনুসরণ। আমাদের একটাই কথা রাসূল  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই  আক্বীদা পোষণ করতেন কি না? তিনি এই  ইবাদত এই পদ্ধতিতে বা এই  উদ্দেশ্যে করেছেন  কি না বা করতে নির্দেশ দিয়েছেন  কি না? তিনি করলে বা নির্দেশ  দিলে আর কোনো ঝুঁকি নেই। যে সব  আলেমে দীন, আসাতিযা থেকে  এভাবে সুন্নাতের অনুসরণ  শিখেছি তাদের কেউই আমার এই ক্ষুদ্র  পরিশ্রমে দুঃখিত হবেন  না বলে আমি শতভাগ আশাবাদী।  বরং তারা খুশি হয়ে দো‘আ করবেন।  তাদের দো‘আ ও সহযোগিতায় এই সামান্য  খেদমতের ফায়েদা ব্যাপক  হবে বলে আমি পূর্ণ আস্থাবান। আর  যারা অনেক বড় আলেম, যারা তাদের  জ্ঞানের উপর পূর্ণ আস্থা করত রাসূলের  কর্ম বহির্ভূত পদ্ধতিকে দলীল  (?) দিয়ে জায়েয করতে পারেন তাদের  কাছে আমার সবিনয় আবেদন যে  , আপনারা আমাদের মত রাসূল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ণ  অনুসারীদের পূর্ণ অনুসরণের  ওজুহাতটি কবুল করে আমাদেরকে, বিশেষ  করে আমি নাদানকে আপনাদের দো‘আয়  শামিল রাখবেন। পরিশেষে সবার  কাছে দো‘আ চেয়ে শেষ করছি। আল্লাহ  আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে ক্ববুল করুন।  সুন্নাতকে জলাঞ্জলি না দিয়ে  সুন্নাতের জন্য  নিজেকে জলাঞ্জলি বা বিলিয়ে  দেওয়ার তওফিক দিন। আমীন।  গ্রন্থপঞ্জি  রচনাটি লিখতে যে সমস্ত কিতাবের উপর  মূলত নির্ভর  করা হয়েছে এবং উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে  সেগুলোর মোটামুটি তালিকা  , কিতাবের মুসান্নিফের নাম সহ  নিম্নে প্রদান করা হলো। সালাফিয়্যাত  বা সিনিয়ারিটির মূল্যায়নের  লক্ষ্যে মুসান্নিফদের ওফাত সন উল্লেখ  করা হয়েছে। সাধারণত ‘আল-মাকবাতুশ্  শামিলাহ’ দ্বিতীয় প্রকাশনীর উপর নির্ভর  করা হয়েছে।  তবে পাঠককে যাতে যে কোনো  তথ্য  বের করতে বেগ পেতে না হয় তাই  শুধুমাত্র খণ্ড ও পৃষ্ঠা নং বা হাদীস  নম্বরের উপর নির্ভর না করে হাদীস  বা অন্যান্য তথ্যের অধ্যায় অনুচ্ছেদ  উল্লেখ করার যথাসাধ্য  চেষ্টা করা হয়েছে। দৃষ্টিভঙ্গির  তারতম্যে হাদীসের নাম্বার উল্লেখের  ক্ষেত্রে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন  ধরণ, তাই পাঠক এক্ষেত্রে শুধুমাত্র  নাম্বারের উপর পূর্ণ নির্ভর  না করে অধ্যায় ও অনুচ্ছেদের উপর নির্ভর  করবেন।  আল-কুরআনুল করীম।  ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল (২৪১ হি.)  মুসনাদে আহমদ।  মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল আল-বুখারী (২৫৬ হি.)  সহীহুল বুখারী।  মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ  (২৬১ হি.), সহীহ  মুসলিম।  সুলায়মান ইবনু আশআস আবু দাঊ আস-  সিজিস্তানী (২৭৫ হি.),  আস-সুনান।  মুহাম্মদ ইবনু ইয়াযিদ ইবনু মাজাহ (২৭৫  হি.), আস-সুনান।  আবু ঈসা মুহাম্মদ তিরমিযী (২৭৯  হি.), আস-সুনান।  আহমদ ইবনু শুয়াব নাসায়ী (৩০৩হি.), আস-  সুনান।  ইবনু খুযায়মাহ (৩১১ হি.), সহীহ ইব্নু  খুযায়মা।  . আবু জা‘ফর ত্বাহাবী (৩২১ হি.), আল-  আক্বীদাতুত্-ত্বাহাবিয়্যাহ।  . ইবুন হিববান (৩৫৪ হি.), সহীহ ইবনু হিববান।  . আবুল কাসেম তাবারানী (৩৬০ হি.), আল-  মু‘জামুল কবীর।  . আহমদ ইবনু ফারিস (৩৯৫ হি.) মু‘জামু  মাক্বায়িসিল লুগাহ।  . মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ হাকিম  নাইসাপুরী (৪০৫ হি.), আল-  মুসতাদরাক ‘আলাস্সহীহাইন।  . মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন সাহাল আস্-  সার্খাসি (৪৮৩ হি.), আল-মাবসুত।  . বুরহানুদ্দীন ইবনু মাজাহ (৬১৬ হি.), আল-  মুহিত্বুল বুরহানী।  . হাফিজ মুনযিরী (৬৫৬ হি.), আত তারগীব  ওয়াত তারহীব।  . ইমাম নববী (৬৭৬ হি.), শরহু সহীহ মুসলিম।  . ইবনু মানযুর ৭১১ হি. লিসানু আরব।  . ইবনু তাইমিয়া (৭২৮ হি.), আল-মানহাজুল  ক্বাবীম ফি ইখতিছারি ‘ইক্বতিদ্বায়ুস্-  সিরাতিল মুস্তাক্বীম।  . ইবরাহিম ইবনু মুসা আশ-শাত্বিবী (৭৯০  হি.), আল-ই‘তিসাম।  . ইবনু আবীল ইয (৭৯২  হি.), শরহুল  আক্বীদাতুত্তাহাবীয়্যাহ।  . নুরুদ্দীন হাইসামী (৮০৭ হি.), মাজমাউয-  যাওয়ায়িদ।  . ইবনু হাজার আসক্বালানী (৮৫২  হি.), ফাতহুল বারী।  . আল্লামা বদরুদ্দীন আল-আইনি (৮৫৫  হি.), আল বিনায়াহ।  . জালালুদ্দীন সুয়ূতী (৯১১  হি.), তাদরীবুর্রাবী।  . জালালুদ্দীন সুয়ূতী, জাম‘উল জাওয়ামি‘‘য়।  . জালালুদ্দীন সুয়ূতী, আল-জামি‘উল কবীর।  . ইবনু নুজাইম (৯৭০ হি.),আল-বাহরুর রায়িক্ব।  . আলাউদ্দীন আলী ইবন হুসামুদ্দীন আল-  মুত্তাক্বী (৯৭৫ হি.), কানযুল উম্মাল।  . আলাউদ্দীন আল-হাসকাফী (১০৮৮  হি.), আদ্দুর্রুল মুখতার।  . ইবনু আবেদীন শামী (১১২৫ হি.), রাদ্দুল  মুহতার।  . শাহ ওয়ালিউল্লাহ  মুহাদ্দিসে দেহলবী (১১৭৬  হি.), হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ।  . মুহাম্মদ ইবন আলী আশ্-শাওকানী (১২৫০  হি.) ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহ্ক্বীক্বিল  হাক্কি মিন ইলমিল উসূল।  . আল্লামা আলুসী (১৩৪২ হি.), রুহুল মা  ‘আনী।  . খাইরুদ্দীন যিরিক্লী (১৩৯৬ হি.), আল-  আ‘লাম।  . নাসিরুদ্দীন আলবানী (১৪১৯হি.), সহীহ  ওয়া দ‘য়ীফলু জামি‘‘য়স সাগীর।  . আলবানী, সহীহুত তারগীব ওয়াত্  তারহীব।  . আলবানী, সিলসিলাতুল আহাদীসি-  দ্ব্‘য়ীফাহ।  . আলবানী, তিরমিযির সহীহ ও দ‘য়ীফ।  . মুফতী ফয়জুল্লাহ,(১৩৯৬  হি.), পান্দে নামাহ খাকী।  . শামসুদ্দীন আফগানী (১৪২০ হি.), জুহুদু  উলামায়িল হানাফিয়্যাহ  ফি ইব্তালি আক্বায়িদিল ক্বুবুরিয়্যাহ।  . মুফতী রশীদ আহমদ লুদয়ানবী(১৪২২  হি.), আহসানুল ফাতাওয়া।  . বারি’ ইরফান তাওফিক্ব, সহীহু কুনুযিস্-  সুন্নাতিন্-নাবাবিয়্যাহ।  . আলী ইবন ইবরাহিম হুশাইশ, সিলসিলাতুল  আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ।  . শায়খ আব্দুল্লাহ মুহসিন, আল ইমাম বুখারী ও  কিতাবুহু আল-জামি‘উস সহীহ।  . ড. মুহাম্মদ হুসাইন ইবন হাসান, মা‘আলিমুল  উসূলিল ফিক্বহী ‘ইনদা আহলিস্-  সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ।  . আব্দুর রহমান আল-খামিছ, ই‘তিক্বাদুল  আয়িম্মাতিল আরবা‘আহ।  . ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ  জাহাঙ্গির, হাদীসের  নামে জালিয়াতী।  . মৌলবী শামছুল হুদা, নেয়ামুল কুরআন।  . আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোহাম্মদ  নাজমুল হক, মোকছুদুল মো’মিনীন  বা বেহেশ্তের পুঞ্জী।  . শাইখ আব্দুর রেজা মা‘আশ, মুনতাদাল  কফিল ওয়েব।  সমাপ্ত [116] নেয়ামুল কুরআন, ১৯৮।  [117] তিরমিযী, সুনান, উম্মতের  দলাদলি অনুচ্ছেদ, নং: ২৬৪১, হাকীম, আল-  মুসতাদরাদক ‘আলাস-সহীহাইন, ফিতনা ও  পরস্পর লড়াই অধ্যায়, নং:৮৪৪৮, ৪/৫১৬।  [118] নেয়ামুল কুরআন, পৃষ্ঠা:৪৩-৪৪।  [119] প্রাগুক্ত।  [120] সহীহুল বুখারী, তাফসীর অধ্যায়, “ ﻗﻞ  ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ” এর ফযিলত পরিচ্ছেদ, নং: ৪৭২৬।  উল্লেখ্য বুখারীর আরো একাধিক  জায়গায় হাদীসটি রয়েছে।  [121] সহীহ মুসলিম, কুরআন ফযিলত সমূহ  অধ্যায়, “ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ” পড়ার ফযিলত  পরিচ্ছেদ, নং: ১৯২২,  সহীহুল বুখারী, তাফসীর অধ্যায়, “ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ  ﺃﺣﺪ” এর ফযিলত পরিচ্ছেদ, নং: ৪৭২৭।  উল্লেখ্য বুখারীর বর্ণনাটি সামান্য ভিন্ন।  বর্ণনাটি এইরূপ,  ” ﺃﻳﻌﺠﺰ ﺃﺣﺪﻛﻢ ﺃﻥ ﻳﻘﺮﺃ ﺛﻠﺚ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻓﻲ ﻟﻴﻠﺔ ﻓﺸﻖ ﺫﻟﻚ  ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻭﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃﻳﻨﺎ ﻳﻄﻴﻖ ﺫﻟﻚ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ؟ ﻓﻘﺎﻝ: ﺍﻟﻠﻪ  ﺍﻟﻮﺍﺣﺪ ﺍﻟﺼﻤﺪ ﺛﻠﺚ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ .”  [122] ইবনু হাজার, ফাতহুল বারী, প্রাগুক্ত  অধ্যায়, ৯/৫৯।  [123] ইমাম নাওয়াওয়ী, মুসলিমের  ব্যাখ্যাগ্রন্থ, প্রাগুক্ত অধ্যায়।  [124] সহীহ মুসলিম, প্রাগুক্ত, নং: ১৯২৩।  [125] একথার মর্ম হল: যে কোনো নেক  আমলের একটি মূল নেকী রয়েছে  , তবে আল্লাহ তা‘আলা তার দয়ায় এই  নেকী কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেন  বলে কুরআন ও হাদীস  থেকে আমরা জানতে পারি। এই  হিসেবে পূর্ণ কুরআন একবার তেলাওয়াত  করলে তার মূল এক ছওয়াব রয়েছে।  তেলাওয়াতের  মাঝে ইখলাস, গভীরতা ইত্যাদি অনুযায়ী  ব্যক্তি বিশেষে আল্লাহ তা অনেকগুণ  বাড়িয়ে দিতে পারেন। একবার  সূরা ইখলাস পড়লে এক তৃতীয়াংশের মূল  ছওয়াব পাওয়া যাবে। অতিরিক্তটুকু নয়।  [126] ফাতহুল বারী, প্রাগুক্ত অধ্যায়, ৯/৬০।  [127] আল্লামা জালাল উদ্দীন সুয়ূতী,  (৮৪৯-৯১১ হিজরী, ১৪৪৫-১৫০৫ ঈসায়ী)  জাম‘উল জাওয়ামি‘‘য়, মিম হরফের  হাদীস, নং ৬২০১, আলাউদ্দীন আলী ইবন  হুসামুদ্দীন আল-মুত্তাক্বী, (৮৮৮-৯৭৫  হিজরী, ১৪৮৩-১৫৬৭ ঈসায়ী) কানযুল  উম্মাল,১/৫৯৮।  [128] নুরুদ্দীন আলী ইবনু আবু বাকর আল-  হাইসামী, মাজমা‘উয্যাওয়ায়িদ, সূরা “ ﻗﻞ  ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ” এবং এবিষয়ে যা বর্ণিত  হয়েছে, নং:১১৫৪০, আলবানী  , সিলসিলাতুল আহাদীসিদ্দা  ‘য়ীফাহ, ১০/১৩৬, নং: ৪৬৩৪।  [129] সুয়ূতী, তাদরীবুর-রাবী  , জালিয়াতের প্রকার, ১/২৮৭।  [130] শায়খুল ইসলাম আহমদ ইবন আব্দুল হালীম  তাক্বীউদ্দীন ইবনু তাইমিয়া। জন্ম: ৬৬১  হিজরী মোতাবেক ১২৬৩ ঈসায়ী  , ওফাত:৭২৮ হিজরী, মোতাবেক ১৩২৮।  তিনি মূলত হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী।  বহু গ্রন্থ প্রণেতা। তাফসীর ও  উসুলে তাকে ‘আয়াত’ নিদর্শন বলা হত।  (আল-আ‘লাম:/১৪৪) সমস্ত বিশ্বের  আলেমদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা  , সহীহ আকীদার দওয়াত, প্রচার, প্রসারের  ক্ষেত্রে তার তুলনা অত্যন্ত দুর্লভ।  [131] ইব্নু তাইমিয়া, আল-মানহাজুল  ক্বাওয়ীম  ফি ইখতিছারি ‘ইক্বতিদ্বায়ুসসিরাতিল  মুস্তাক্বীম’, কিছু বস্তুর প্রতিক্রিয়ার  আলোচনা যা অনেক সময় কম জ্ঞানী ও  দুর্বল ধার্মিক ব্যক্তির জন্য  ফিতনা হয়, এমনকি তার জ্ঞান  ছিনিয়ে নিয়ে যায়, ১/৯৬।  [132] প্রাগুক্ত, ১/৯৭।  [133] দেখুন: সূরা আনকাবুত, আয়াত:  ৬৫, লুক্বমান, আয়াত: ৩২।  [134] প্রখ্যাত হাদীস গবেষক ড. খোন্দকার  আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির, হাদীসের  নামে জালিয়াতী, পৃষ্ঠা: ৬২০।  _________________________________________________  ________________________________  লেখক: শাইখ মুস্তাফা সোহেল হিলালী  সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া  সূত্র: ইসলামহাউজ

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s