বিদআতীদের সাথে আচরণ কেমন হবে?


বিদ’আতীদের সাথে আচরণ কেমন হবে?
Bidati
বিদ’আতীগণ সুন্নাতের উপর আমল না করে নতুন
কিছুকে ইসলামের নামে চালিয়ে দেয় বলেই
তারা বিদ’আতী। বিদ’আতীরা কুরআন এবং সহীহ
হাদিসের অপব্যাখ্যা করেই তাদের
বিদ’আতটিকে জায়েয বলে জনগণের নিকট
চালিয়ে দিতে চায়। যেমন, প্রত্যেক সুন্নাতের
অনুসারীগণ জানেন যে, ইসলামে ৪ মাযহাব
বলতে কিছুই নেই। এটা ৪০০ হিজরীতে
বিদ’আতীদের আবিষ্কার। অথচ বর্তমানে
বিদ’আতীগণ মাযহাব মানার পক্ষে কুরআন
হাদীস থেকেই লেকচার দেয়। প্রশ্ন হল, এই
মাযহাবীগণ মাযহাব মানার পক্ষে কুরআন
হাদীসের কোথায় থেকে দলীল পেল? অথচ তা
রাসুলুল্লাহ ( ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ), সাহাবা ( ﺭﺿﻲ
ﺍﻟﻠّﻪ ﻋﻨﻪ )গণ পেলেন না এবং এর উপর আমলও
করলেন না। তাদের দলীলগুলো বিশ্লেষন করলে
বুঝা যায় যে, তারা আল্লাহর আয়াত সমূহকে
অপব্যাখ্যা করে তাদের বিদ’আতসমূহকে
জায়েজ করার অপচেষ্টা করে।
অনুরূপ অন্যান্য বিদ’আতের ক্ষেত্রেও তারা
আল্লাহর আয়াত সমূহকে অপব্যাখ্যা করে যা
আল্লাহ’র আয়াতসমূহকে উপহাস/ঠাট্টা বিদ্রুপ
করার নামান্তর। কেননা, আল্লাহর আয়াত
সমূহকে যদি গুরুত্ব দেওয়া হত তবে কেউ এর
অপব্যাখ্যা করে বিদ’আতকে জায়েজ
বানানোর চেষ্টা করত না।
আল্লাহ বলেন : আর যখন তুমি তাদেরকে দেখ
আমার আয়াতসমূহের ব্যাপারে উপহাসমূলক
সমালোচনার রত আছে, তুমি তাদের থেকে মুখ
ফিরিয়ে নাও, যতক্ষণ না তারা অন্য
কথাবর্তায় লিপ্ত হয়। আর যদি শয়তান
তোমাকে ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণের পর
যালিম সম্প্রদায়ের সাথে বসো না। (সুরা
আন’আম:৬৮)
আল্লাহ তা’আলা আরো বলেন : আর তিনি তো
কিতাবে তোমাদের প্রতি নাযিল করেছেন
যে, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর আয়াতসমূহ
অস্বীকার করা হচ্ছে এবং সেগুলো নিয়ে
উপহাস করা হচ্ছে, তাহলে তোমরা তাদের
সাথে বসবে না, যতক্ষণ না তারা অন্য কথায়
নিবিষ্ট হয়, তা না হলে তোমরাও তাদের মত
হয়ে যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ মুনাফিক ও
কাফিরদের সকলকে জাহান্নামে
একত্রকারী। (সুরা নিসা:১৪০)
নিচের এই হাদীস দ্বারাও প্রমাণ হয় যে,
বিদ’আতীদের লেকচার শুনা যাবে না,
যেখানে বিদ’আতীরা দ্বীন সম্পর্কে
আলোচনা করছে সেখানে বসা যাবে না।
তাদের থেকে দ্বীন শিক্ষা করা যাবে না।
তাদের থেকে দ্বীনের কোন তথ্যও নেওয়া
যাবে না।
আবু হুরায়রাহ ( ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠّﻪ ﻋﻨﻪ ) বলেন,
রাসুলুল্লাহ ( ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ) বলেছেন, শেষ
যামানায় কিছু মিথ্যাবাদী দাজ্জালের
আবির্ভাব ঘটবে তারা এমন কিছু হাদীস বা
কথা বার্তা বলবে যা না তোমরা শুনেছ, না
তোমাদের বাপ দাদারা কখনো শুনেছে।
সাবধান! তোমরা তাদের থেকে দূরে থাকবে
এবং তাদেরকে তোমাদের থেকে বিরত
রাখবে, যাতে তারা তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট
করতে না পারে। আর না পারে কোন প্রকার
বিপর্যয়ে ফেলতে। (মুসলিম, মিশকাত ১ম খন্ড,
হা/১৪৭ ‘কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা’
অনুচ্ছেদ।)
সালাফগণ এর উপর আমল করতে গিয়ে
বিদ’আতীদের থেকে কোন হাদীস গ্রহণ
করতেন না। যেমন, মুহাম্মদ ইবনু সিরীন বলেন,
এক সময়ে মানুষ হাদীসের সূত্র সম্পর্কে
জিজ্ঞেস করত না। যখন ফিতনা শুরু হল অর্থাৎ
যাছাই-বাছাই না করে মানুষ সত্য-মিথ্যা বলা
শুরু করল তখন শ্রোতারা বলল, আপনারা সূত্র
সহকারে বলুন। যদি বর্ণনাকারীগণ সুন্নাতের
অনুসারী হতেন, তাহলে তাদের হাদীছ গ্রহণ
করা হত। আর যদি বিদ’আতী হতেন, তাহলে
তাদের হাদীছ বর্জন করা হত। (মুসলিম, ১ম
খন্ড, পৃঃ৪৬)

Advertisements