হজ, উমরা ও যিয়ারতের পদ্ধতি [মাসনূন দো‘আ সহ]


হজ, উমরা ও যিয়ারতের পদ্ধতি [মাসনূন দো‘আ সহ]

ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা সারা বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। পবিত্র ও বরকতময় অগণিত স্ত্ততি আল্লাহর জন্যই নিবেদিত। আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা যিনি সম্মানিত ঘরকে মানুষের মিলনকেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে পরিণত করেছেন, যে ঘরের প্রতি রয়েছে আল্লাহর মু’মিন বান্দাদের হৃদয়ের আকর্ষণ।
দরূদ ও সালাম প্রিয় নবী মুস্তাফার উপর যিনি ঔ সকল ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বোত্তম যারা আল্লাহর ঘরে হজ ও উমরা পালন করেছেন, যাকে সারা জগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আমানতের দায়িত্ব আদায় করেছেন, উম্মাতকে নসীহত করেছেন, আল্লাহর পথে সর্বাত্মক জিহাদ করেছেন, আল্লাহ তাঁকে দ্বীন ইসলাম সহকারে পাঠিয়েছেন। তা দিয়ে তিনি বান্দাহদেরকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন এবং কুফর ও শির্কের অন্ধকার থেকে তাদেরকে মুক্ত করে ইসলামের প্রদীপ্ত সূর্যালোকে নিয়ে এসেছেন।
আল্লাহ তা’আলা বলেন :
﴿ وَكَذَٰلِكَ أَوۡحَيۡنَآ إِلَيۡكَ رُوحٗا مِّنۡ أَمۡرِنَاۚ مَا كُنتَ تَدۡرِي مَا ٱلۡكِتَٰبُ وَلَا ٱلۡإِيمَٰنُ وَلَٰكِن جَعَلۡنَٰهُ نُورٗا نَّهۡدِي بِهِۦ مَن نَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِنَاۚ وَإِنَّكَ لَتَهۡدِيٓ إِلَىٰ صِرَٰطٖ مُّسۡتَقِيمٖ ٥٢ ﴾ [الشورى: ٥٢]
‘‘আর এভাবে আমি আপনার কাছে অহী প্রেরণ করেছি যা আমার নির্দেশের অন্তর্গত। আপনি তো জানতেন না কিতাব কি এবং ঈমান কি ! কিন্তু আমি একে এমনই এক আলোকবর্তিকায় পরিণত করেছি যদ্বারা আমার বান্দাদের থেকে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি। আর আপনিতো নিশ্চয়ই সরল পথের দিকে পথ প্রদর্শনই করেন।’’[সুরা আশ্ শুরা: ৫২]
হে আল্লাহ আপনি যে শরীয়ত প্রদান করেছেন সে জন্য আপনার প্রশংসা। আপনি যে নির্দেশ দিয়েছেন সে জন্য আপনার প্রশংসা। আপনি যা সহজ করেছেন এবং নির্ধারণ করে দিয়েছেন সে জন্য আপনার প্রশংসা।

প্রিয় মুসলিম ভাই! মক্কা সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান এবং আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়, যেখানে রয়েছে মাসজিদুল হারাম ও সম্মানিত কাবা ঘর। সকল স্থানেই মুসলিমদের ক্বিবলারূপে আল্লাহ্ একে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহর অনুগত হয়ে ও তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে তারা প্রতিদিন পাঁচবার সে ঘর অভিমুখী হয়। মক্কা নবীগণের লালনভূমি, আমাদের পিতা ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালামের অবস্থানস্থল ও আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত প্রাপ্তির স্থান।
প্রিয় বন্ধু !
আপনি সুদূর দেশে অবস্থানকালে মক্কা মুকাররমা ও কাবা শরীফের দিকে মুখ করে আল্লাহর প্রতি নামাযে অভিনিবেশ করতেন, মুসল্লীগণের হারামে নামায আদায় করার দৃশ্য অবলোকন করতেন। আল্লাহর কাছে আশা করতেন যে, আপনিও তাদের একজন হবেন, তারা যেমন তাওয়াফ করছে আপনিও তেমনি তাওয়াফ করবেন, তাদের মতই আপনিও কা‘বা চত্বরে নামায আদায় করবেন, যমযমের পানি পান করবেন, সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সা‘য়ী করবেন এবং যত জায়গায় আল্লাহর ইবাদাত করা হয় তন্মধ্যে শ্রেষ্ঠতম স্থানে আপনি তাঁর ইবাদাত করবেন।
প্রিয় মুসলিম ভাই !
আপনি আল্লাহর কাছে দো‘আ করেছিলেন তিনি যেন আপনার জন্য হজ ও উমরার কাজ সহজ করে দেন। তাই তিনি আপনার জন্য তা সহজ করে দিয়েছেন এবং আপনার দো‘আ কবুল করে আপনার আশা ও ইচ্ছা বাস্তবায়িত করেছেন। আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা। আল্লাহর সম্মানিত ঘরের উদ্দেশ্যে সফরের জন্য আপনি এখন দৃঢ় সংকল্প। এ ভ্রমণে আপনাকে সাহচর্য প্রদান করে এ সম্মানিত শহরে আপনার সফরের সংকল্প করার মুহুর্ত থেকে নিরাপদে আপনার পরিজনের কাছে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত সকল বৃত্তান্ত বর্ণনা করা আপনার প্রতি আমাদের কর্তব্য।
হজ ও উমরার ফযিলত
আল্লাহর কাছে হজ ও উমরার ফযিলত অসীম ঐ ব্যক্তির জন্য যে তার নিয়্যতকে আল্লাহর জন্য খালেস করে নেবে এবং মহান আল কুরআন ও পবিত্র সুন্নাহ্ মোতাবেক হজ ও উমরার সকল কাজ সমাধা করবে।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
«مَنْ أَتَى هَذَا الْبَيْتَ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَمَا وَلَدَتْهُ أُمُّه»
‘‘যে ব্যক্তি এ ঘরে আগমন করল এবং কোন অশালীন আচরণ করেনি ও পাপকাজে লিপ্ত হয়নি (হজ শেষে) সে ঐরূপ হয়ে ফিরে যাবে যে রূপ তার মা তাকে প্রসব করেছিল।’’[1]
অর্থাৎ সে এমন অবস্থায় ফিরে যাবে যে, তার সকল পাপ মাফ করে দেয়া হয়েছে, ঐ শিশুর ন্যায় যে কোন পাপ বা অন্যায় করেনি।
আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে আরো বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
«الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلاَّ الْجَنَّة»
‘‘এক উমরা থেকে আরেক উমরা পালন এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সময়ে কৃত পাপের কাফফারা হয়ে থাকে। আর পূণ্যময় হজের পুরস্কার জান্নাত ছাড়া আর কিছূই নয়।’’[2]
প্রিয় মুসলিম ভাই !
পূণ্যময় হজ হল সে হজ যাতে কোন প্রদর্শনেচ্ছা (রিয়া) ও প্রসিদ্ধি লাভের লোভ নেই এবং যা পাপ ও ফিসক্ মিশ্রিত নয়। আর তা এমন – হজ পালনকারী যার সকল কাজ পরিপূর্ণভাবে সমাধা করেছে, যেমনটি আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন।
হজ ও উমরার হুকুম
হজ ইসলামের পঞ্চম রোকন। নবুওয়াতের যুগ থেকেই মুসলিম উম্মাহ এ কথার উপর একমত যে, প্রাপ্তবয়স্ক, বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন, স্বাধীন এবং শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থবান প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির উপর হজ ফরয।
আল্লাহ তা’আলা বলেন,
﴿وَلِلَّهِ عَلَى ٱلنَّاسِ حِجُّ ٱلۡبَيۡتِ مَنِ ٱسۡتَطَاعَ إِلَيۡهِ سَبِيلٗاۚ ﴾ [ال عمران: ٩٧]
‘‘আল্লাহর জন্য বায়তুল্লার হজ করা এমন লোকদের উপর ফরয যারা এর সামর্থ রাখে।’’[3]
আলেমগণের বিভিন্ন উক্তির মধ্য থেকে সঠিক কথা হল জীবনে একবার উমরা করা ওয়াজিব। চাই তা হজের সাথেই পালন করা হোক কিংবা বছরের অন্য যে কোন সময়ে পৃথকভাবে পালন করা হোক। প্রাপ্ত বয়স্ক ও বিবেকবুদ্ধি সম্পন্ন প্রত্যেক এমন মুসলিম ব্যক্তির উপর তা আদায় করা ওয়াজিব যে মক্কা শরীফে যাওয়ার মত পাথেয় এবং সেখানে নিজের সকল প্রয়োজন মিটানোর মত অর্থের অধিকারী।
হজ ও উমরা কবুলের শর্ত:
হজ ও উমরা হচ্ছে মহান আল্লাহর ইবাদাত। ছোট বড় সকল ইবাদাতেরই দুটো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে, যেন তা আল্লাহর কাছে কবুল হয় এবং এ দ্বারা আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভের যে বাসনা রাখেন তা লাভ করতে পারেন।
প্রথম শর্ত:
ইবাদাত একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যেই খালেছ হতে হবে। এতে মুসলিম আল্লাহর সাথে তাঁর সৃষ্টির কাউকেই শরীক করবে না। হাদীসে কুদসিতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
«أَنَا أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ مَنْ عَمِلَ عَمَلاً أَشْرَكَ فِيهِ مَعِى غَيْرِى تَرَكْتُهُ وَشِرْكَهُ»
‘‘শরীকদের মধ্যে আমিই শির্ক থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী। যে ব্যক্তিই এমন কোন কাজ করে যাতে সে আমার সাথে অন্যকে শরীক করে ফেলে, আমি তাকে ও তার শির্ককে পরিত্যাগ করি।’’[4]
এর অর্থ হল আল্লাহর সাথে নিয়্যতে কাউকে শরীক করা অবস্থায় আল্লাহ বান্দার আমল কবুল করেন না। এরই অন্তর্গত হল ঐ ব্যক্তি যে ইবাদাত পালন করে এই উদ্দেশ্যে যে, তাকে মানুষ হাজী বা উমরাকারী হিসাবে দেখবে কিংবা মানুষের কাছে সে তা শ্রবণ করবে। এ সবই আমল বিনষ্টকারী। সুতরাং প্রিয় ভাই এ সকল কিছু থেকে সাবধান থাকুন।
দ্বিতীয় শর্ত :
ইবাদাত পালনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ। আল্লাহ যত ইবাদাতের নির্দেশ আমাদেরকে প্রদান করেছেন, তিনি সেসব কিছুরই বর্ণনা ও পদ্ধতি আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। আল্লাহর মহান গ্রন্থ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নায় এটাই আমরা পেয়ে থাকি।
ইসলামে যে ইবাদাতই আপনি দেখুন না কেন, তা আদায়ের একটি পদ্ধতি রয়েছে। অতএব নামাযের যেমন একটি বিশেষ পদ্ধতি রয়েছে, তেমনি রয়েছে যাকাতেরও। একইভাবে রমযানের রোযা, হজ ও সকল প্রকার ইবাদাত পালনেরও সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজের আমল সমূহ পালন করতেন এবং বলতেন
«خُذُوا عَنِّى مَنَاسِكَكُم»
‘‘আমার কাছ থেকে তোমরা তোমাদের হজের আমল গ্রহণ কর।’’[5]
অর্থাৎ দেখ আমি হজ ও উমরার কি কি আমল করছি এবং সেগুলো পালনে আমার অনুকরণ কর।
তিনি সে সকল অতিরঞ্জন থেকে সতর্ক করেছেন, যা আল্লাহ শরীয়ত সিদ্ধ করেননি এবং তিনি নিজেও অনুমোদন দেননি। তিনি বলেছেন :
«مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَد»
‘‘যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করল যে কাজে আমাদের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।’’[6]
অর্থাৎ যেই এমন কোন পন্থা ও ইবাদাত আনয়ন করে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুমোদন করেননি, তার সে পন্থা ও ইবাদাত প্রত্যাখ্যাত ও অগ্রহণযোগ্য।
প্রিয়ভাই, আপনার উচিত সকল ইবাদাত পালনের ক্ষেত্রে এ দু’টি শর্ত আপনার সম্মুখে রাখা। আপনি জানেন যে, হজ ও উমরা আদায়ের প্রাক্কালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি আপনার উপর ওয়াজিব তা হল আপনার এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যে, আপনি কি আল্লাহর জন্য ইখলাস বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন? আপনি কি ঐভাবে হজ ও উমরা আদায় করেছেন, যেভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুমোদন করেছেন?
হে আল্লাহ ! আমাদের সকল আমল আপনার জন্য খালেস করে নিন। এদ্বারা লোক দেখানো ও প্রসিদ্ধি লাভের ইচ্ছা আমরা পোষণ করি না। হে রব ! যেভাবে আপনি ও আপনার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ প্রদান করেছেন সেভাবেই আমরা তা আপনার জন্য পালন করব। হে আল্লাহ ! আপনি কবুল করুন।
প্রিয় মুসলিম ভাই !
হজ করার জন্য মক্কায় আল্লাহর সম্মানিত ঘরের উদ্দেশ্যে সফরের স্থির সিদ্ধান্ত আপনি যখন গ্রহণ করবেন, তখন আপনার পাথেয় ও খরচাদি পবিত্র ও হালাল মাল হতে চয়ন করুন। আর পূন্যবান সাথী-সহচর তালাশ করুন যারা পূন্যকাজে আপনাকে সহযোগিতা করবে ও হজ সম্পর্কিত হুকুম আহকাম শিক্ষা দিবে, যাতে আপনি জেনে শুনে আল্লাহর ইবাদাত করতে পারেন এবং এমন ভুলে পতিত না হন যা আপনার হজ বরবাদ করে দেবে। আপনার যে কোন সমস্যায় আপনি হজ সম্পর্কে অভিজ্ঞ আলেমদেরকে জিজ্ঞাসা করুন। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
«إِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الأَنْبِيَاء»
“নিশ্চয় আলেমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী।’’[7]
সম্মানিত ভাই, আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে, মাসজিদুল হারামের অভ্যন্তরে এবং পবিত্র স্থান সমূহের সর্বত্র ফাতাওয়ার অফিস ও মহিলাদের জন্য ফাতাওয়া জানার উদ্দেশ্যে টেলিফোনের সুব্যবস্থা রয়েছে। হজ এবং উমরায় আপনার যে কোন সমস্যায় আপনি আলেমদেরকে প্রশ্ন করতে পারেন। এ ব্যাপারে যারা তত্ত্বাবধায়ন করছেন আল্লাহ তাদেরকে উত্তম বিনিময় দান করুন।
মহিলাদের উপর ওয়াজিব হল বাবা, ভাই, ছেলে বা স্বামী কিংবা তাদের মত কোন মাহরাম ব্যক্তির সাথে সফর করা। তবে যদি কেউ মাহরাম ছাড়াই একাকী সফর করেন এবং হজ আদায় করেন তবে তিনি গোনাহগার হবেন এবং আল্লাহ তা‘আলা চাহেত তার হজ শুদ্ধ হবে।
প্রিয় ভাই ! এখন আপনাকে নিয়ে এ মহান দ্বীনের আঙিনায় ও মহান একটি ইবাদাতের হুকুমে আমরা প্রবেশ করব। আল্লাহর সর্বোত্তম ভূমির দিকে আপনার সাথে আমরা যাত্রা শুরু করব, এমন ভূমির দিকে যেখানে আল্লাহ বরকত ঢেলে দিয়েছেন, যাকে তিনি নিরাপদ শহর হিসাবে নির্ধারণ করেছেন এবং এখানে যারা রয়েছে তাদের সকলকে তিনি নিরাপত্তা দান করেছেন। আমরা যাত্রা করব আল্লাহর সম্মানিত ঘরের দিকে।
হজের প্রকারভেদ :
হজ তিন প্রকার, এর যে কোনটি হাজী সাহেব এখতিয়ার করতে পারেন। আর যেটিই পালন করেন না কেন, তার হজ শুদ্ধ হবে।
এ প্রকারগুলো হচ্ছে নিম্নরূপ :
প্রথম প্রকার : তামাত্তু
আর তা হল হজের মাসসমূহে মীকাত থেকে শুধু উমরার ইহরামের নিয়্যত করা। হজের মাস সমূহ হল শাওয়াল, যিলক্বদ এবং যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন।
এ কথা বলে ইহরামের নিয়্যত করবে যে,  لبيك عُمْرَةً ‘লাববাইকা উমরাতান’।
এরপর উমরার কাজসমূহ পরিপূর্ণরূপে সমাধা করবে। তাওয়াফ, সা‘য়ী ও মাথার চুল হলক করলে কিংবা ছেঁটে নিলে উমরার কাজ শেষ হবে এবং ইহরামের কারণে তার উপর যা কিছু হারাম ছিল সবই তার জন্য হালাল হয়ে যাবে। এরপর যিলহজ মাসের আট তারিখে সে মক্কার যে স্থানে অবস্থান করবে সেখান থেকেই শুধু হজের ইহরামের নিয়্যত করবে এ কথা বলে যে,
لبيك حَجاً
‘‘লাববাইকা হাজ্জান’’
তামাত্তু হজ পালনাকারীর উপর হাদী যবাই করা ওয়াজিব। আর হাদী হল একটি ছাগল কিংবা উটের এক সপ্তমাংশ অথবা গরুর এক সপ্তমাংশ। যদি কুরবানীর জন্য হাদী না পাওয়া যায়, তাহলে হজের মধ্যে তিন দিন রোযা রাখতে হবে এবং নিজ পরিজনের কাছে ফিরে এলে সাতদিন রোযা রাখবে।
আলেমগণের বিশুদ্ধ মতের আলোকে হজের প্রকারভেদের মধ্যে সর্বোত্তম হল তামাত্তু হজ ঐ ব্যক্তির জন্য, যে নিজের সাথে হাদীর পশু না নেয়, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাফা ও মারওয়ায় সা‘য়ী করবার পর সাহাবীগণকে বলেছিলেন,
«فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ لَيْسَ مَعَهُ هَدْىٌ فَلْيَحِلَّ وَلْيَجْعَلْهَا عُمْرَة»
‘‘তোমাদের মধ্যে যার সাথে কুরবানীর হাদী নেই সে যেন হালাল হয়ে যায় এবং এ কাজ গুলোকে উমরা হিসাবে গন্য করে।’’[8]
এ প্রকার হজ উত্তম হওয়ার আর একটি কারণ হল – হাজী সাহেব তার সফরে হজ ও উমরার উভয়কাজ ভিন্নভাবে সম্পাদন করেছেন।
দ্বিতীয় প্রকার : ক্বিরান
আর তা হল হজের মাসসমূহে মীকাত থেকে হজ ও উমরার জন্য একত্রে ইহরামের নিয়্যত করা। হজের কাজে প্রবেশের নিয়্যতের সময় একথা বলবে যে,
لبيك عُمرةً و حَجاً
“লাববাইকা উমরাতান ওয়া হাজ্জান”
অত:পর মক্কায় পৌঁছে উমরার তাওয়াফ করবে এবং হজ ও উমরার জন্য হজের সা‘য়ী তাওয়াফে ইফাদার পর পর্যন্ত বিলম্ব করতে পারবে। এভাবে মাথার চুল হলক না করে কিংবা না ছেঁটে ইহরাম অবস্থায় থাকবে। এরপর যিলহজ মাসের আট তারিখে মিনায় রওয়ানা করবে এবং হজের বাকি কাজগুলো সমাধা করবে। তামাত্তু হজকারীর মতই ক্বিরান হজ আদায়কারীর উপরও ‘‘হাদী’’ যবাই করা ওয়াজিব। তবে ‘হাদী’ না পেলে হজের মধ্যে তিনদিন ও পরিজনের কাছে ফিরে যাওয়ার পর সাতদিন রোযা রাখবে।
তৃতীয় প্রকার : ইফরাদ
তা হল হজের মাসসমূহে মীকাত থেকে শুধু হজের জন্য ইহরামের নিয়্যত করবে। হজের কাজে প্রবেশের নিয়্যতের সময় বলবে-
«لبيك حَجاً»
“লাববাইকা হাজ্জান”
ইফরাদকারী ক্বিরান হজ পালনকারীর মতই আমল করবে। অবশ্য ক্বিরান পালনকারীর উপর ‘হাদী’ যবাই করা ওয়াজিব, আর ইফরাদকারীর উপর ‘হাদী’ ওয়াজিব নয়; কেননা সে ক্বিরান ও তামাত্তু কারীর ন্যায় হজ ও উমরাকে একত্র করে নি।
এ তিন প্রকার হজের যে কোনটি পালনের ব্যাপারে হাজীসাহেবের এখতিয়ার রয়েছে। কিন্তু তন্মধ্যে সর্বোত্তম হল তামাত্তু – ঐ ব্যক্তির জন্য, যে নিজের সাথে হাদী এর পশু নেয়নি, যেমনটি ইতঃপূর্বে বলা হয়েছে।
প্রিয় মুসলিম ভাই!
আপনি যখন হজ কিংবা উমরা করার সংকল্প নিয়ে আল্লাহর সম্মানিত ঘরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন, তখন জেনে নিন যে মিকাত থেকে ইহরাম করাই হল হজের কাজে আপনার প্রবেশের সূচনা। আর ইহরাম করার অর্থ হল – হজ কিংবা উমরার কাজে প্রবেশের নিয়্যত করা।
যারাই হজ কিংবা উমরা করার ইচ্ছা নিয়ে মক্কায় আগমন করবে, তাদের প্রত্যেককেই মীকাত থেকে ইহরামের নিয়্যাত করতে হবে। আর মীকাত হল সে সকল সুনির্দিষ্ট স্থানসমূহ যা আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান হতে বায়তুল্লাহ শরীফে আগমনকারীদের জন্য বর্ণনা ও নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যেন তারা সেখান থেকে বায়তুল্লায় পৌঁছার আগেই ইহরাম করে নেয়।
এ সকল মীকাত হল নিম্নরূপ:
যুল হুলাইফা:
এটা হল মদীনাবাসি এবং যারা তাদের এ পথ দিয়ে আসবে তাদের সকলের মীকাত। মাসজিদে নববী ও এ স্থানের মধ্যবর্তী দূরত্ব হল তের কিলোমিটার। এটি মক্কা থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী মীকাত। মক্কা ও এর মধ্যকার দূরত্ব হল চারশত বিশ কিলোমিটার। বর্তমানে এ স্থানের নাম হল ‘‘আবইয়ার আলী’’।
আল জুহফা:
এটি রাবেগ শহরের নিকটবর্তী একটি গ্রাম। লোকজন এখন রাবেগ থেকেই ইহরামের নিয়্যাত করে, কেননা রাবেগ জুহফার সামান্য একটু আগে অবস্থিত। এ স্থান ও মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্ব হল দুইশত আশি কিলোমিটার। এটা মিশর ও শাসবাসীদের মীকাত এবং সউদি আরবের উত্তরাঞ্চলের অধিবাসী, উত্তর পশ্চিম আফ্রিকার দেশসমূহের অধিবাসী এবং যারা এ পথ হয়ে আগমন করবে তাদের সকলের মীকাত।
কারনুল মানাযেল :
একে বলা হয় ‘আস সাইল আল কাবীর’। মক্কা ও এর মধ্যকার দূরত্ব হল আটাত্তোর কিলোমিটার। এটা নাজদবাসী, আরব উপসাগরীয় অঞ্চল, ইরাক ও ইরান সহ সকল পূর্বঞ্চলীয় লোকদের এবং যারা এ পথে আগমন করবে তাদের মীকাত। বর্তমানে এ মীকাতের সমান্তরালে রয়েছে ‘‘মীকাতে ওয়াদী মুহরিম’’ যা তায়েফের পশ্চিমে আল হাদা রোডে অবস্থিত। মক্কা থেকে এর দূরত্ব পঁচাত্তর কিলোমিটার। এটা তায়েফবাসী ও তাদের পথ দিয়ে আগমনকারীদের মীকাত। এটা আলাদা কোন মীকাত নয়।
ইয়ালামলাম:
আজকাল এ স্থানটিকে বলা হয় সা‘দিয়া, যা মক্কা থেকে একশত বিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটা হল ইয়ামানবাসী ও তাদের পথ দিয়ে যারা আসবে তাদের মীকাত।
যাত-’ইর্ক:
এ স্থান হল ইরাকবাসী ও পূর্বাঞ্চলের লোকদের মীকাত। বর্তমানে এ স্থান পরিত্যাক্ত; কেননা সেখানে যাওয়ার কোন রাস্তা নেই। স্থানটি মক্কা থেকে একশত কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। ইরাক ও পূর্বাঞ্চলের হাজীগণ ‘আস সাইল আল কাবীর’ থেকে কিংবা যুল হুলাইফা থেকে ইহরামের নিয়্যাত করে থাকে।
আর মক্কাবাসীগণ হজের জন্য নিজ নিজ বাসস্থান থেকেই ইহরামের নিয়্যত করবে। আর উমরার জন্য তারা তান‘য়ীম কিংবা হারাম সীমানার বাইরে যে কোন স্থান থেকে ইহরামের নিয়্যত করবে। হজের সংকল্প নিয়ে যে সকল মুসলিম এ মীকাতসমূহ অতিক্রম করবে তাদের প্রত্যেকের জন্য ওয়াজিব হল সেখান থেকে ইহরামের নিয়্যাত করা। যদি হজের ইচ্ছা নিয়ে ইহরাম করা ছাড়াই কেউ স্বেচ্ছায় মীকাত অতিক্রম করে তবে তার উপর ওয়াজিব হবে মীকাতে ফিরে এসে সেখান থেকে ইহরাম করা। তা না করলে তাকে দম দিতে হবে। আর তা হল -মক্কায় একটি ছাগল যবেহ করে সেখানকার দরিদ্র লোকদের মধ্যে তা বন্টন করে দেয়া। যদি কেউ ভুলে কিংবা নিদ্রাবস্থায় ইহরাম না করেই মীকাত অতিক্রম করে, তার উপর ওয়াজিব হল স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে ফিরে গিয়ে মীকাত থেকে ইহরাম করা। তা না করলে তাকেও দম দিতে হবে, যেরূপ ইত‌ঃপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
মীকাতে হজ ও উমরাকারীর করণীয় কাজ:
যদি আপনি স্থল পথে গাড়ী কিংবা অন্য কোন যানবাহনে করে মীকাত পৌঁছেন, তাহলে আপনার জন্য সুন্নাত হল গোসল করা, সারা শরীরে সুগন্ধি মাখা এবং সম্ভব হলে নখ কাটা। তারপরে আপনার উপর ওয়াজিব হল ইহরামের সাদা দু’টি কাপড় তথা সিলাইবিহীন লুঙ্গি ও চাদর পরিধান করা। এগুলো নতুন হওয়া উত্তম, অন্যথায় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হতে হবে।
ইহরামের কাপড়ে সুগন্ধি লাগানো যাবে না। সুগন্ধি যদি এতে লেগে যায়, তাহলে আপনার উচিত হবে তা ধুয়ে ফেলা।
ইহরামের জন্য মহিলাদের সুন্নাতী কোন পোষাক নেই। বরং তারা তাদের ইচ্ছামত পোষাক পরিধান করতে পারবে। তবে তারা এমন পোষাক পরিধান করবে যা হবে মার্জিত ও শরীর আচ্ছাদনকারী। ফিতনা সৃষ্টি করার উপকরণ থেকে তাদের দূরে থাকতে হবে। পুরুষদের পাশ দিয়ে যাতায়াত করলে ইহরামের জন্য মহিলারা সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবে না।
প্রিয় ভাই, যে কোন ফরয নামাযের পর ইহরামের নিয়্যত করা আপনার জন্য মুস্তাহাব। যদি ফরয নামাযের ওয়াক্ত না হয়, তাহলে অযুর দু’রাকাত সুন্নাত নামাযের নিয়্যত করে তা আদায় করবেন।
এসব করা শেষ হলে আপনি আপনার সংকল্প অনুযায়ী ইহরামের নিয়্যত করবেন। আপনি যদি তামাত্তুকারী হন, তাহলে বলবেন, ‘‘লাববাইকা উমরাতান’’ অথবা ক্বিরানকারী হলে বলবেন, ‘‘লাববাইকা উমরাতান ওয়া হাজ্জান’’ কিংবা যদি ইফরাদকারী হন তাহলে বলবেন ‘‘ লাববাইকা হাজ্জান’’।
এরপর তালবিয়া পড়া শুরু করে আপনি সে রকমই বলবেন, যেমন আপনার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহরাম করে তালবিয়া পাঠের প্রাক্কালে বলেছিলেন :
«لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ»
“লাববাইকা আল্লাহুম্মা লাববাইক, লাববাইকা লা শারীকা লাকা লাববাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাকা।’’[9]
অর্থ : “আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, আমি আপনার কাছে হাজির। আপনার কোন শরীক নেই। আমি আপনার কাছে হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা, অনুগ্রহ ও রাজত্ব আপনারই। আপনার কোন শরীক নেই।’’
আর জলপথে কিংবা আকাশ পথে আপনার আগমন হলে এ প্রথাই চলে আসছে যে, প্লেনের পাইলট ও জাহাজের ক্যাপ্টেন যাত্রীদেরকে মীকাতের নিকটবর্তী হওয়ার সংবাদ জানিয়ে দেন, যাতে হাজীগণ ও উমরাকারীগণ তাদের ইহরামের কাপড় পরিধান করার প্রস্ত্ততি নেন। এরপর মীকাত বরাবর পৌঁছলেই তারা সকলে ইহরামের নিয়্যত করেন, ঐভাবে যা ইতঃপূর্বে আপনার উদ্দেশ্যে আমরা বর্ণনা করেছি। এ অবস্থায় বাড়ী থেকে ইহরামের কাপড় পরিধান করে রওয়ানা হয়ে প্লেনে কিংবা জাহাজে আরোহণ করায় কোন অসুবিধা নেই। অতঃপর মীকাত বরাবর পৌঁছার সংবাদ যখন জানতে পারবেন, তখন ইহরামের নিয়্যত করে তালবিয়া পাঠ করবেন।
হাজীদের উচিত বেশি বেশি উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করা। তবে মেয়েরা এতটা নিম্নস্বরে তালবিয়া পাঠ করবে যে, শুধু তারা নিজেরাই তা শুনতে পাবে। উমরাকারী তাওয়াফ শুরু করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থাকবে। আর হাজীগণ হজের ইহরাম করার পর থেকে কুরবানীর দিন জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ অব্যাহত রাখবে।
ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজসমূহ:
প্রিয় ভাই !
হজ ও উমরার কাজে প্রবেশের সাথে সাথে আপনার উপর অনেকগুলো কাজ নিষিদ্ধ হয়ে যায়। ফলে সে কাজগুলো আপনার জন্য হারাম হয়ে যায়। এগুলোকে বলা হয় ‘‘ইহরামের নিষিদ্ধকাজ’’।
আর তা হল :
1. কেটে বা অন্য কোনভাবে চুল উপড়ে ফেলা এবং হাত বা পায়ের নখ কাটা। অবশ্য হাত দ্বারা মুহরিম ব্যক্তির মাথা চুলকানো জায়েয যদি তা প্রয়োজন হয়। এতে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কোন চুল পড়ে যায় অথবা মুহরিম ব্যক্তি তা ভুলে কিংবা হুকুম না জেনে করে ফেলে, তাহলে তার উপর কিছু ওয়াজিব হবে না।
2. ইহরামের পর কাপড়ে কিংবা শরীরে কিংবা অন্যত্র সুগন্ধি ব্যবহার করা। তবে ইহরামের আগে মাথায় ও দাঁড়িতে যে সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়েছে তা ইহরামের পর বাকী থাকলেও কোন অসুবিধা নেই।
3. মুহরিম ব্যক্তি স্ত্রী সঙ্গম করতে পারবে না, যৌন উত্তেজনার সাথে স্ত্রীকে স্পর্শও করবে না, স্ত্রীকে চুমু খাবে না এবং যৌন কামনার বশবর্তী হয়ে তার দিকে তাকানো যাবে না। মুহরিম ব্যক্তি মহিলাদের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবে না এবং নিজের জন্য বা অন্য কারো জন্য বিয়ের আকদ করবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে ইহরাম অবস্থায় থাকবে।
4. মুহরিম ব্যক্তি হাত মোজা ব্যবহার করবে না।
5. মুহরিম ব্যক্তির জন্য খরগোস ও কবুতর প্রভৃতির ন্যায় কোন স্থলজ শিকারী প্রাণীকে হত্যা করা অথবা পশ্চাদ্ধাবন করা কিংবা সে কাজে সাহায্য করা নিষিদ্ধ। মুহরিম ব্যক্তির জন্য সর্বাবস্থায় শিকার করা নিষিদ্ধ। আর মুহরিম নয় এমন ব্যক্তির জন্য হারাম শরীফের সীমানার ভেতর অবস্থানকালে শিকার করা নিষিদ্ধ।
6. সর্বাঙ্গে অথবা শরীরের কোন অঙ্গে জামা কিংবা পাজামা, গেঞ্জি, পাগড়ী, টুপী ও মোজার ন্যায় সেলাইকৃত কাপড় পরিধান করা পুরুষের জন্য হারাম। তবে যদি কেউ লুঙ্গির কাপড় না পায় – যেমন কেউ তা নিতে ভুলে গিয়েছে এবং প্লেনের মধ্যে অবস্থান করছে এমতাবস্থায় সে যেকোন কাপড় পরিধান করবে। আর তাও না পেলে পাজামা পরে ইহরাম করবে। অনুরূপভাবে যদি সেন্ডেল না পায় তাহলে মোজা পরতে পারবে এবং আল্লাহ চাহেত এতে কোন অসুবিধা হবে না।
মুহরিম ব্যক্তির জন্য সেন্ডেল, হাত ঘড়ি, আংটি, চশমা, কানে শোনার যন্ত্র, বেল্ট এবং টাকা-পয়সা ও কাগজপত্র হেফাযতের ব্যাগ ব্যবহার করা জায়েয।
7. মুহরিম ব্যক্তি পুরুষ হলে মাথার সাথে লেগে থাকে এমন কিছু যেমন ইহরামের কাপড় বা পাগড়ী, রুমাল কিংবা টুপি দিয়ে মাথা ঢাকা হারাম।
তবে ছাতা, তাঁবু কিংবা গাড়ীর ছাদের ছায়ায় থাকলে অথবা মাথার উপর বোঝা বহন করলে কোন অসুবিধা নেই। মুহরিম ব্যক্তি যদি ভুলে কিংবা হুকুম না জেনে মাথা ঢেকে ফেলে তাহলে তার উপর ওয়াজিব হল যখনই স্মরণ হবে কিংবা হুকুম সম্পর্কে জানতে পারবে আবৃতকারী বস্ত্তটি সরিয়ে ফেলবে। আর এতে তার উপর কোন দম আসবে না।
8. ইহরাম অবস