জান্নাতী রমণী (১ম পর্ব)


 জান্নাতী রমণী (১ম পর্ব)

আল্‌ হামদু লিল্লাহ ওয়াছ্‌ ছালাতু ওয়াস্‌ সালামু আলা রাসূলিল্লাহ্‌।
পুরুষের জন্য নারী সহোদরের মত মূল্যবান। সে তার জীবন সঙ্গী। একজন অপরজনের পরিপুরক। উভয়ের প্রতি আল্লাহ তা’আলা নির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ নাযিল করেছেন এবং তাদেরকে তাদের কর্মের উপর প্রতিফল প্রদানের অঙ্গিকার করেছেন। পূণ্যের ঠিকানা জান্নাতে পাপের ঠিকানা অন্যস্থানে। সেই জান্নাত লাভের আশায় ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার কামনায় নারী-পুরুষ সকলকেই সেই পথ Aej¤^b করতে হবে।
আলোচ্য পুস্তকে একজন মুসলিম রমণী কিভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিল করে জান্নাত লাভে ধন্য হতে পারবে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সুন্নাত এবং পূর্বসূরী নেক মনিষীদের বচন থেকে জান্নাতী রমণীর পরিচয় ও গুণাবলী তুলে ধরা হয়েছে। প্রত্যেক মুমিন নারীর উচিত হচ্ছে উক্ত গুণাবলী সম্পর্কে জ্ঞান হাসিল করা এবং তদানুযায়ী নিজের জীবনকে গড়ে তোলা।
একজন নারীর জান্নাতী হওয়ার জন্য অবশ্যই ¯^vgxi সহযোগিতা আবশ্যক। তাই বিষয়টিকে পূর্ণতা দেয়ার জন্য ¯^vgx কিভাবে স্ত্রীর হক আদায় করবে? স্ত্রী জান্নাতের পথ পরিত্যাগ করে বক্রপথে চললে ¯^vgx কোন পদ্ধতি Aej¤^b করে তাকে সংশোধন করতে পারবে? ইত্যাদি বিষয়ে ¯^vgx‡KI নসীহত করা হয়েছে।
ইসলামের নির্দেশাবলীর জ্ঞান লাভ, তার প্রতি বিশ্বাস ও কর্ম জীবনের বাস্তবায়নের জন্য প্রত্যেক নারী ও পুরুষের নিম্ন লিখিত মূলনীতিটি সর্বাবস্থায় স্মরণ রেখে চলতে হবে। আর তা হচ্ছে, আল্লাহর বিধানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ এবং সর্বাবস্থায় রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর জীবনকে নিজের জন্য মডেল বা আদর্শরূপে গ্রহণ। এ উপলক্ষে মহান আল্লাহ বলেন,
]وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمْ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلالا مُبِينًا[
“আল্লাহ্‌ এবং তাঁর রাসূল কোন আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করার কোন অধিকার নেই। যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্য করবে, সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হবে।”[1]
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
“আমার উম্মতের প্রত্যেক ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, কিন্তু ঐ ব্যক্তি নয় যে জান্নাতে যেতে A¯^xKvi করে। তাঁরা বললেন, কে এমন আছে জান্নাতে যেতে A¯^xKvi করে? তিনি বললেন, যে আমার আনুগত্য করবে সে জান্নাতে যাবে। আর যে আমার অবাধ্য হবে সেই জান্নাতে যেতে A¯^xKvi করবে।”[2]
উপরোক্ত আয়াত ও হাদীছটি যে ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত জীবনের চলমান পথে স্মরণ রাখবে তার জন্য ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান মান্য করা সহজসাধ্য হবে।
সম্মানিত পাঠক-পাঠিকাদের প্রতি আমাদের নিবেদন, এই পুস্তকের মধ্যে যে কোন ধরনের ত্রুটি বা অভিযোগ পরিলক্ষিত হলে, আমাদেরকে জানাতে চেষ্টা করবেন। আমরা কৃতজ্ঞতার সাথে তা গ্রহণ করে পরবর্তী সংস্করণে তা সংশোধন করব। ইনশাআল্লাহ্‌॥
আল্লাহর কাছে আমাদের আকুল আবেদন তিনি যেন এই পুস্তিকাটি দ্বারা আমাদেরকে এবং সমস্ত মুসলমানকে উপকৃত করেন। একনিষ্ঠভাবে তাঁর জন্য কবূল করে নেন। মুসলিম রমণীদের তাঁর সন্তুষ্টি মূলক কাজ আঞ্জাম দিয়ে জান্নাত লাভে ধন্য করেন। আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন॥
নিবেদক,
মুহাঃ আবদুল্লাহ্‌ আল কাফী
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
দাঈ, জুবাইল দা‘ওয়া এন্ড গাইডেন্স সেন্টার
পো: বক্স নং ১৫৮০, ফোনঃ ০৩-৩৬২৫৫০০
সঊদী আরব।
mmohdkafi12@yahoo.com
ইসলামে নারীর মর্যাদাঃ
ইসলাম নারীকে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদায় ভূষিত করেছে। এই ধর্ম নারীকে যে সম্মান দিয়েছে তা কোন যুগে কোন কালে কোন ধর্ম ও কোন জাতি দিতে পারেনি। ইসলাম নারীকে পুরুষের সাথী হিসেবে নির্ধারণ করেছে। তাদের একজন অপরজন ছাড়া অচল। দু‘জনই পরস্পরের মুখাপেক্ষী। নারীর দৃষ্টিতে যে পুরুষ শ্রেষ্ঠ মানুষের মধ্যে সেই সর্বোত্তম।
শিশুকালে নারী দুগ্ধ পানের সাথে সাথে বিশেষ তত্বাবধান ও উত্তম লালন-পালনের দাবীদার। সে সময় সে পিতা-মাতা ও ভাই-বোনের চক্ষু শীতলকারীনী ও হৃদয় ঠান্ডাকারীনী। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তিকে এই কন্যা সন্তান প্রদান করার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে, সে যদি তাদের প্রতি সুন্দর আচরণ করে, তাদেরকে সঠিকভাবে লালন-পালন করে, তবে তারা জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য পর্দা ¯^iƒc হয়ে যাবে।”[3] রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “কারো যদি তিনজন কন্যা সন্তান থাকে বা তিনজন বোন থাকে, অথবা দু’জন কন্যা বা দু’জন বোন থাকে এবং সে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ্‌কে ভয় করে তাদের প্রতি করুণা ও সদ্ব্যবহার করে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”[4]
এই নারী প্রাপ্তবয়স্কা হলে পরিবারে সর্বাধিক সম্মানিত। যার সম্মান ও ইজ্জত-আবরু রক্ষার জন্য পুরুষ তার সর্বাধিক প্রিয় বস্তু জানও বিসর্জন দিতে প্রস্তুত। পরপুরুষের কাল হাত অগ্রসর হলে, অপ্রিয় কন্ঠ তাকে ত্যাক্ত করলে ও লোভনীয় চোরা দৃষ্টি তার প্রতি নিক্ষিপ্ত হলেই সে তার প্রতিবাদে সোচ্চার হয় এবং তার ইজ্জতের সংরক্ষণ করতে নিজের জানকে বাজী রাখে।  নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি নিজ পরিবারের ইজ্জত রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হবে, সে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে।”[5]
এই নারী বিবাহিতা হলে, আল্লাহর বাণীর দৃঢ় অঙ্গিকারের মাধ্যমে হয়। ¯^vgx গৃহে সে হয় সর্বাধিক নিকটতম সাথী, সম্মানিত প্রতিবেশী। ¯^vgxi উপর আবশ্যক হয় তাকে সম্মান করা, তার প্রতি করুণা করা ও তাকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকা। ভরণ-পোষণসহ তার যাবতীয় প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট থাকা এবং সে ক্ষেত্রে কোন ত্রুটি না করা।
এই নারী মাতা হলে, আল্লাহর হক আদায় করার সাথে সাথে তাঁর সাথে সদ্ব্যবহার করা ওয়াজিব হয়ে যায়। আল্লাহর সাথে শির্ক যেমন নিষিদ্ধ তেমনি মায়ের নাফরমানী ও তার সাথে অসদাচরণও নিষিদ্ধ। জনৈক ব্যক্তি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মধ্যে কে আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার সর্বাধিক অধিকার রাখে? তিনি বললেন, তোমার মাতা। সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মাতা। সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মাতা। সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার পিতা।”[6]
এই নারী বোন হলে, ইসলাম তার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে, তাকে সম্মান ও তার সম্ভ্রম রক্ষা করতে আদেশ করেছে।
এই নারী খালা হলে, খেদমত ও সদ্ববহারের ক্ষেত্রে মায়ের স্থানে তাঁর মতই মর্যাদাবান।
এই নারী বৃদ্ধা হলে বা দাদী-নানী হলে পরিবারে তিনি হন অত্যধিক সম্মানিতা ও সর্বশ্রদ্ধেয়া। সন্তান-সন্তুতি, নাতী-নাতনী ও নিকটাত্মীয় সকলেই তার প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট থাকে। তার মতামতকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।
এই নারী যদি দূরবর্তী কোন সাধারণ নারী হয়, তবে ইসলামের অধিকার অনুযায়ী তাকে সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে রক্ষা করা কর্তব্য, দৃষ্টি নত রাখা আবশ্যক।
ইসলাম নারীকে অধিকার দিয়েছে- সে শিক্ষা অর্জন করবে, সম্পদ উপার্জন করবে, সম্পদের মালিক হবে, বেচা-কেনা করবে, উত্তরাধীকার হবে, বিবাহের প্রস্তাব দানকারী পুরুষকে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে।
ইসলামী সমাজের সর্বত্রই নারী এভাবেই সম্মানিত হয়ে আসছে। ফলে নারী সেই সমাজে সর্বাধিক মূল্যবান, মর্যাদাবান ও শ্রদ্ধাভাজন হয়ে অবস্থান করে।
নারীর উপর পুরুষের কর্তৃত্বঃ
আল্লাহ্‌ বলেন,
]الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ[
“পুরুষগণ নারীদের উপর কর্তৃত্বকারী। কেননা আল্লাহ তাদের একজনকে অপর জনের উপর মর্যাদাবান করেছেন। এবং পুরুষগণ তাদের সম্পদ খরচ করে থাকে।”[7]
হাফেয ইবনু কাছীর এই আয়াতের তাফসীরে বলেন, পুরুষ নারীর কতৃত্বকারী। অর্থাৎ সে তার প্রধান, তার চাইতে শ্রেষ্ঠ, তার শাসক এবং বাঁকা পথে চললে তাকে শিক্ষাদানকারী।
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিম্ন লিখিত বাণীটি উক্ত অর্থকে সমর্থন করে। আবদুল্লাহ্‌ বিন আবু আউফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
“গাইরুল্লাকে সিজদা করার জন্য আমি যদি কাউকে আদেশ করতাম তবে নারীকে আদেশ করতাম তার ¯^vgx‡K সিজদা করতে। শপথ সেই সত্বার যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, কোন নারী তার পালনকর্তার হক আদায় করতে পারবে না যে পর্যন্ত সে তার ¯^vgxi যাবতীয় হক আদায় না করবে। এমনকি যদি উটের হাওদাজে বসে তাকে সহবাস করতে আহবান করে, তবুও বাধা দিবে না।”[8]
আল্লাহ্‌ বলেন,
]فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ[
“পূণ্যবতী রমণীগণ আনুগত্য করে এবং আল্লাহর সংরক্ষিত প্রচ্ছন্ন বিষয়ের সংরক্ষণ করে।”[9]
ইমাম ইবনু তায়মিয়া ফতোয়া গ্রন্থে এই আয়াতের তাফসীরে বলেন, ‘নারী সর্বদা ¯^vgxi আনুগত্য করবে। তিনি বলেন, আল্লাহ ও রাসূলের পর নারীর আনুগত্য পাওয়ার জন্য ¯^vgxi চাইতে অন্য কেউ অধিক হকদার নয়।’[10]
অতএব বর্তমান যুগের মডার্ন ও প্রগতিবাদী নারীরা সাবধান। যারা ¯^vgxi অবাধ্য হয়ে চলতে চায়, পুরুষের mv`„kej¤^b করে পুরুষের উপর কর্তৃত্ব করতে চায়। লজ্জা ও আবরু পদদলিত করে বেপরওয়াভাবে যা ইচ্ছা তা করতে চায়, যেখানে খুশি যেতে চায়। ¯^vaxbZv ও নারী অধিকারের নামে আখেরাতের বিনিময়ে দুনিয়া ও তার চাকচিক্য ক্রয় কতে চায়। সাবধান হে মুসলিম বোন! তাদের চক্রান্তের জাল থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করুন। তাদের পথ ও চরিত্র থেকে সতর্ক হোন। কারণ সেদিন বেশী দূরে নয় যখন আপনার যৌবনের চমক ও অহংকার শেষ হবে, মৃত্যুর বিভিষীকা আপনাকে ঘিরে ফেলবে। আপনি উপস্থিত হবেন সেই দিনে যেদিন শিশু বার্ধক্যে উপনিত হবে। অর্থাৎ- ক্বিয়ামত দিবস।
সৎ রমণী পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদঃ
আবদুল্লাহ্‌ বিন আমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
]الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَخَيْرُ مَتَاعِ الدُّنْيَا الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ[
“পৃথিবীটা হচ্ছে ভোগের বস্তু। আর পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে নেক রমণী।”[11]
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
]تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لأَرْبَعٍ لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ[
“চারটি গুণের কারণে কোন রমণীকে বিবাহ করা হয়, তার সম্পদ, বংশ মর্যাদা, সৌন্দর্য ও ধর্মভীরুতা। ধর্মভীরু নারী বিবাহ করে তুমি বিজয়ী হও। তোমার দু’হাত ধুলোলুন্ঠিত হোক।”[12]
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেন, “চারটি বস্তু সৌভাগ্যের। ১) নেক রমণী ২) প্রশস্ত আবাসস্থল ৩) সৎ প্রতিবেশী এবং ৪) আরাম দায়ক আরোহী। আর চারটি বস্তুতে রয়েছে দুর্ভাগ্য। ১) অসৎ নারী। …।”[13]
এ সমস্ত উক্তি ও অনুরূপ আরো অনেক হাদীছ থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, একজন মুসলিম পুরুষের জীবন সঙ্গী নির্বাচন করার জন্য একজন নেক ও সৎ রমণী অনুসন্ধান করা কত গুরুত্বপূর্ণ। আর মুসলিম রমণীর উপর আবশ্যক হচ্ছে নেক স্ত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সর্বোত্তম গুণাবলী সমূহ অর্জন করার চেষ্টা করা। যাতে আল্লাহ তার উপর সন্তুষ্ট হন। ইহ-পরকালে তার জীবন হয় পূণ্য ও সফলতায় পরিপূর্ণ।
হে মুসলিম বোন! নিম্নে নেক রমণী হওয়ার জন্য কুরআন-সুন্নাহ ও পূর্বসূরী নেক মনিষীদের কতিপয় উক্তি সন্নিবেশ করা হল। এগুলোর শিখুন এবং নিজের জীবনে তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করুন। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “শিক্ষা অর্জন করার মাধ্যমে জ্ঞান লাভ করা যায়, ধৈর্যের অনুশীলনের মাধ্যমে সহিষ্ণু হওয়া যায়। যে ব্যক্তি কল্যাণ লাভের চেষ্টা করে, তাকে উহা প্রদান করা হয়।”[14]
সৎ স্ত্রীর গুণাবলীঃ
আল্লাহ তা’আলা বলেন,
]فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ[
“পূণ্যবতী রমণীগণ আনুগত্য করে এবং আল্লাহর সংরক্ষিত প্রচ্ছন্ন বিষয়ের সংরক্ষন করে।” (সূরা নিসা- ৩৪) হাফেয ইবনু কাছীর (রহঃ) অত্র আয়াতের তাফসীরে বলেন, صالحات  বলতে সৎ ও পূণ্যশীল নারীদেরকে বুঝানো হয়েছে। ইবনু আব্বাস প্রমুখ বলেন, قانتات অর্থ হচ্ছে, ¯^vgxi আনুগত্যকারীনী। حافظات للغيب অর্থ সম্পর্কে সুদ্দী প্রমুখ বলেন, ¯^vgxi অনুপস্থিতে স্ত্রী নিজের ইজ্জতের সংরক্ষণ করবে এবং ¯^vgxi সম্পদ হেফাযত করবে।[15]
আবদুর রহমান বিন আউফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
]إِذَا صَلَّتِ الْمَرْأَةُ خَمْسَهَا وَصَامَتْ شَهْرَهَا وَحَفِظَتْ فَرْجَهَا وَأَطَاعَتْ زَوْجَهَا قِيلَ لَهَا ادْخُلِي الْجَنَّةَ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شِئْتِ[
“মুসলিম রমণী যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে, রামাযানের ছিয়াম পালন করে, নিজের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে এবং ¯^vgxi আনুগত্য করে, তবে তাকে বলা হবে, জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছে তুমি ভিতরে প্রবেশ কর।”[16]
আনাস বিন মলেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেন, “কোন ধরণের রমণী জান্নাতী আমি কি তোমাদেরকে বলে দিব না? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, তোমাদের জান্নাতী রমণীগণ হচ্ছে, ¯^vgxi প্রতি প্রেম নিবেদনকারীনী এবং অধিক সন্তান প্রসবকারীনী। তার আনুগত্যের প্রকাশ হচ্ছে, সে ivMw¤^Zv হলে বা তার সাথে খারাপ আচরণ করা হলে বা ¯^vgx তার প্রতি ivMw¤^Z হলে, ¯^vgxi কাছে গিয়ে বলে, এই আমার হাত আপনার হাতে সপে দিলাম, আপনি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমি চোখের পলক ফেলব না। অর্থাৎ আমি কোন আরাম নিব না কোন আনন্দ বিনোদন করব না যতক্ষণ আপনি আমার প্রতি খুশি না হন।”[17]
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
]قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ النِّسَاءِ خَيْرٌ قَالَ الَّتِي تَسُرُّهُ إِذَا نَظَرَ وَتُطِيعُهُ إِذَا أَمَرَ وَلا تُخَالِفُهُ فِي نَفْسِهَا وَمَالِهَا بِمَا يَكْرَهُ[
রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে প্রশ্ন করা হল হে আল্লাহর রাসূল! কোন শ্রেণীর নারী সর্বোত্তম? তিনি বলেন, “তার পরিচয় হচ্ছে তুমি তার দিকে চাইলে সে তোমাকে আনন্দিত করবে, কোন নির্দেশ দিলে তা বাস্তবায়ন করবে। তার নিজের ব্যাপারে এবং ¯^vgxi সম্পদের ব্যাপারে ¯^vgx পসন্দ করেন না এমন কাজ করে তার বিরোধীতা করবে না।”[18]
অন্য বর্ণনায় এসেছে, একদা রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওমর (রাঃ)কে লক্ষ্য করে বললেন,
]أَلا أُخْبِرُكَ بِخَيْرِ مَا يَكْنِزُ الْمَرْءُ الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ إِذَا نَظَرَ إِلَيْهَا سَرَّتْهُ وَإِذَا أَمَرَهَا أَطَاعَتْهُ وَإِذَا غَابَ عَنْهَا حَفِظَتْهُ[
“আমি কি তোমাকে মানুষের আকর্ষণীয় শ্রেষ্ঠ গুপ্তধন সম্পর্কে বলে দিব না? তা হচ্ছে, নেক রমণী। ¯^vgx তার দিকে তাকালে সে তাকে আনন্দিত করে দেয়, কোন আদেশ করলে তা পালন করে এবং বাড়িতে না থাকলে তার ইজ্জত-আবরু রক্ষা করে।”[19]
ওহে মুসলিম বোন নিজের প্রতি লক্ষ্য করুন, উক্ত গুণাবলী কি আপনার চরিত্রে সমাবেশ ঘটাতে পেরেছেন। আপনি কোথায়? আপনার কি উচিত নয় পালনকর্তার সন্তুষ্টির পথ অনুসন্ধান করা? দু’নিয়া-আখেরাতে সুখের জীবন গঠন করার জন্য ¯^vgx-mš—v‡bi খেদমত করা ও আনন্দময় সংসার গড়তে সচেষ্ট হওয়া?
¯^vgxi খেদমত জান্নাতে প্রবেশ করার মাধ্যমঃ
হুসাইন বিন মেহসান (রাঃ) বলেন, আমার ফুফু আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। একদা তিনি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছে কোন প্রয়োজনে গিয়েছিলেন। প্রয়োজন শেষ হলে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন,
]أَذَاتُ زَوْجٍ أَنْتِ قَالَتْ نَعَمْ قَالَ كَيْفَ أَنْتِ لَهُ قَالَتْ مَا آلُوهُ إِلا مَا عَجَزْتُ عَنْهُ قَالَ فَانْظُرِي أَيْنَ أَنْتِ مِنْهُ فَإِنَّمَا هُوَ جَنَّتُكِ وَنَارُكِ[
“তোমার কি ¯^vgx আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তার জন্য তুমি কেমন স্ত্রী? আমি বললাম, একান্ত অপারগ না হলে তার খেদমত করতে কোন ত্রুটি করি না। তিনি বললেন, ভালভাবে খেয়াল রাখবে, তুমি কিরূপ তার খেদমত করে থাক। কেননা সেই তোমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।”[20]
অর্থাৎ- তার অনুগত্য ও খেদমত করলে জান্নাতে যাবে আর অবাধ্য হলে জাহান্নামে যাবে। শায়খ আলবানী বলেন, ‘এই হাদীছ থেকে সুস্পষ্টভাবে এ দলীল পাওয়া যায়, ¯^vgxi আনুগত্য করা স্ত্রীর উপর ওয়াজিব এবং  সাধ্যের মধ্যে তার খেদমত করা তার উপর আবশ্যক। সন্দেহ নেই যে, খেদমতের প্রথম বিষয় হচ্ছে, ¯^vgxi গৃহের তদারকি করা তার সন্তান-সন্তুতিকে সুষ্ঠুভাবে লালন-পালন করা।’
উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
]أَيُّمَا امْرَأَةٍ مَاتَتْ وَزَوْجُهَا عَنْهَا رَاضٍ دَخَلَتِ الْجَنَّةَ[
“যে নারী এমন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে যে, ¯^vgx তার প্রতি সন্তুষ্ট, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”[21]
জান্নাতী রমণীর কতিপয় আলামতঃ
উল্লেখিত হাদীছ সমূহ থেকে জান্নাতী রমণীর পরিচয়ে নিম্ন লিখিত বিষয়গুলো জানা যায়ঃ
1) জান্নাতী রমণী নেক ও পূণ্যের কাজে অংশ নেয় এবং আপন পালনকর্তার ইবাদত করে তাঁর হক আদায় করে।
2)     জান্নাতী রমণী এমন ক্ষেত্রে ¯^vgxi আনুগত্য করবে যাতে আল্লাহর নাফরমানী নেই।
3)     নিজের ইজ্জতের হেফাযত করবে- বিশেষ করে ¯^vgxi অনুপস্থিতিতে।
4)     ¯^vgxi সম্পদের হেফাযত করবে ও তার সন্তানদেরকে সঠিকভাবে লালন-পালন করবে।
5) সর্বদা এমনভাবে ¯^vgxi সম্মুখবর্তী হবে যাতে তিনি খুশি হন এবং এজন্য নিজের অতিরিক্ত সৌন্দর্য ও হাসি মুখ তার সামনে প্রকাশ করতে সচেষ্ট হবে।
6) ¯^vgx ivMw¤^Z হলে যে কোন প্রকারে তাকে খুশি করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করবে। কেননা সেই তার জান্নাত অথবা জাহান্নাম। যেমনটি ইতোপূর্বে হাদীছে উল্লেখ হয়েছে।
7) ¯^vgx তার সঙ্গ চাইলে কোনভাবেই তাতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করবে না। তার ডাকে সাড়া দিবে এবং পরিপূর্ণরূপে নিজেকে তার কাছে সমর্পন করবে।
জান্নাতের অঙ্গীকারঃ
উল্লেখিত কাজগুলো করলেই প্রিয় নবীজীর ভাষায় তার জন্য জান্নাতে প্রবেশ করার অঙ্গীকার রয়েছে। যেমনটি তিনি এরশাদ করেনঃ
স্ত্রী যদিঃ
1)     পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে।
2)     রামাযানের ছিয়াম পালন করে।
3)     নিজ লজ্জাস্থানের হেফাযত করে। (ব্যভিচার প্রভৃতি থেকে বিরত থাকে।) এবং
4)     ¯^vgxi আনুগত্য করে।
তবে তাকে বলা হবে জান্নাতের আটটি দরজার যে কোনটি দ্বারা জান্নাতে প্রবেশ কর।[22]
আনুগত্যশীল নেক রমণীর দৃষ্টান্তঃ
হায়ছাম বিন আদী আত্‌ ত্বাঈ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, শা’বীর বরাতে মুজালেদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। শা’বী বলেন, শুরাইহ আমাকে একবার বললেন, শা’বী! তুমি বনু তামীম গোত্রের রমণী বিবাহ কর। কেননা আমি তাদেরকে সর্বাধিক জ্ঞানী ও বুদ্ধিমতি দেখেছি।
শা’বী প্রশ্ন করলেন, তাদের বুদ্ধিমত্তার তুমি কি দেখেছো? শুরাইহ বললেন, আমি এক দুপুরে জনৈক ব্যক্তির জানাযা শেষে ফেরার পথে তাদের এক বাড়ীর পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। বাড়ীর দরজায় দেখলাম এক বৃদ্ধা এবং তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে একজন বালিকা। মেয়েটি ছিল অতিব সুন্দরী ও রুপসী। এটা দেখে আমি তাদের দিকে এগিয়ে গেলাম এবং পানি পান করতে চাইলাম। অথচ আমার কোন পিপাসাই ছিল না।
বৃদ্ধা বললেন, কোন ধরণের পানীয় চাও।
আমি বললাম, সহজলভ্য যে কোন পানীয়।
বৃদ্ধা বললেন, এই মেয়ে! একে দুধ পান করাও। মনে হচ্ছে লোকটি ভিনদেশী।
আমি বৃদ্ধাকে প্রশ্ন করলামঃ মেয়েটি কে?
সে বললঃ তার নাম যায়নাব বিনতে জারীর। হানযালা পরিবারের এক মেয়ে।
আমি বললামঃ বিবাহিতা না কুমারী?
সে বললঃ এখন পর্যন্ত অবিবাহিতা কুমারী।
আমি বললামঃ তার সাথে আমার বিবাহের ব্যবস্থা করে দিন।
সে বললঃ যদি তুমি তার যোগ্য হও তবে হতে পারে।
আমি একথা শুনে গৃহে ফিরে এলাম। কায়লুলা তথা দুপুর বেলার নিদ্রা যাওয়া ইচ্ছা করলাম। কিন্তু চোখে নিদ এল না। যোহরের নামায আদায় করে, আমার বন্ধুবর সম্মানিত ক্বারী সাহেবদেরকে সাথে নিলাম। তাদের মধ্যে আলকামা, আসওয়াদ, মুসআইয়্যেব এবং মূসা বিন আরফাতা ছিলেন। তাঁদেরকে সাথে নিয়ে মেয়েটির চাচার নিকট পৌঁছলাম। তিনি বললেন, আপনাদের কি খেদমত করতে পারি?
আমি বললামঃ আপনার ভাতিজী যায়নাবকে বিবাহ করার প্রস্তাব নিয়ে এসেছি।
তিনি জাবাবে বললেনঃ সেও আপনার ব্যাপারী অনাগ্রহী নয়।
তারপর তিনি তার সাথে আমার বিবাহ দিয়ে দিলেন। সে যখন আমার বন্ধনের জালে আটকা পড়ল আমি যেন লজ্জিত হলাম। মনে মনে বললাম, তামীম গোত্রের মেয়েদের সাথে আমি কি আচরণ করতে পারি? আবার তাদের অন্তরের রূঢ়তার কথাও আমার মনে ভাসল। মনে মনে বললাম, তাকে তালাক দিয়ে দিব নাকি? আবার বললাম, যা হওয়ার হয়েছে, তাকে রেখেই দিব। মর্জি মোতাবেক চললে তো ভাল অন্যথা পথ খোলাই আছে তালাক দিয়ে দিব।
শা’বী! তুমি যদি আমার পাশে হতে যখন কিনা বনু তামীমের মেয়েরা তাকে হাদিয়া-উপহার দিচ্ছিল! তারপর তাকে আমার রুমে প্রবেশ করিয়ে দিল!
আমি মনে মনে বললামঃ সুন্নাত তো হচ্ছে, স্ত্রীকে ¯^vgxi নিকট প্রবেশ করালে দু’রাকাত ছালাত আদায় করা। তারপর আল্লাহর কাছে স্ত্রীর কল্যাণ কামনা করা ও অকল্যাণ থেকে আশ্রয় কামনা করা। তাই আমি দু’রাকাত নামায আদায় করলাম। নামায শেষে সালাম ফিরিয়ে দেখি সেও পিছনে আমার অনুসরণে নামায আদায় করছে। নামায শেষ করলে তার দাসীরা এসে আমার পরনের কাপড় নিয়ে হলুদ রঙ্গের একটি চাদর পরিয়ে দিল।
ঘর থেকে লোকজন প্রস্থান করলে আমি স্ত্রীর নিকটবর্তী হতে চাইলাম এবং তার দিকে হাত বাড়ালাম।
কিন্তু সে বাধা দিয়ে বললঃ আবু উমাইয়্যা! একটু থামুন। প্রশান্তি ও ধৈর্যের সাথে নিজ স্থানে অবস্থান করুন। তারপর বললঃ
(الحمد لله، أحمده وأستعينه، وأصلي على محمد وآله، إني امرأة غريبة، لا علم لي بأخلاقك فبين لي ما تحب فآتيه ……)
‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার জন্য নিবেদিত। আমি তাঁর প্রশংসা গাইছি ও তাঁর কাছে সাহায্য কামনা করছি। দরূদ পেশ করছি মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)ও তাঁর পরিবারের উপর। নিঃসন্দেহে আমি আপনার কাছে একজন অপরিচিত নতুন নারী। আমি আপনার আচরণ, অভ্যাস ও রীতি-নীতি সম্পর্কে অবগত নই। দয়া করে বলুন আপনি আমার কাছে কি রকম আচরণ ভালবাসেন? যাতে করে আমি আপনার পসন্দমত চলতে পারি। আর আপনি যা অপসন্দ করেন তা থেকে বিরত থাকতে পারি!’
সে আরো বললঃ সন্দেহ নেই যে আপনার গোত্রে আপনার উপযুক্ত মেয়ে ছিল। আর আমার গোত্রেও আমার জন্য উপযুক্ত ¯^vgx ছিল। কিন্তু আল্লাহ্‌ যা ফায়সালা করে রেখেছেন তা অবশ্যই হবে। আল্লাহর যা নির্দেশ হয় মানুষ সেটাই করে। অতএব আপনি যার মালিক হয়েছেন তার সাথে আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক আচরণ করবেন। অর্থাৎ- সৎভাবে সাংসারিক জীবন পরিচালনা করা অন্যথা ভালভাবে পৃথক করে দেয়া। (أقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولك) আমার কথা এটুকুই। আমি আল্লাহর কাছে আপনার জন্য এবং আমার জন্য মাগফিরাত কামনা করছি।
শুরাইহ বলেলেন, শা’বী! তার এই কথা শুনে আমিও একটি বক্তব্য দেয়ার প্রয়োজন অনুভব করলাম। আমি বললামঃ
(الحمد لله، أحمده وأستعينه، وأصلي على محمد وآله وأسلم، فإنك قلت كلاماً ……)
‘নিঃসন্দেহে তুমি এমন কিছু কথা বলেছো যদি তুমি তার উপর দৃঢ় পদ থাক তবে তোমার উপকার হবে। কিন্তু যদি তার বিপরীত হয় তবে উহা তোমার বিপক্ষে দলীল হিসেবে গণ্য হবে। আমি এরূপ এরূপ আচরণ পসন্দ করি এবং এরূপ এরূপ আচরণ অপসন্দ করি। আমরা দু’জন একই সূত্রে গাঁথা। তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে না। ভাল কিছু দেখলে তার প্রচার করবে। আর মন্দ কিছু দেখলে তা গোপন করবে।
মেয়েটি বললঃ আরো কিছু কথা ছিল যা বলা হয়নি। আমার পরিবারে লোকদের বেড়াতে আসা আপনি কি পসন্দ করেন?
আমি বললামঃ আমি চাই না যে আমার শশুর পরিবারের লোকেরা আমার পেরেশানী ও ক্লান্তির কারণ হবেন।
সে বললঃ আপনার কোন কোন প্রতিবেশীকে আপনি ভালবাসেন? তাদের কেউ এলে ভিতরে আসার অনুমতি দিব? আর কাকে কাকে অপসন্দ করেন, আমিও তাকে অপসন্দ করব?
আমি বললামঃ উমুক গোত্রের লোকেরা ভাল মানুষ। আর উমুক গোত্রের লোকেরা অসৎ।
শুরাইহ্‌ বলেনঃ শা’বী! আমি তার সাথে আনন্দময় একটি রাত কাটালাম। সে আমার সাথে পূর্ণ একবছর অবস্থান করল। এর মধ্যে অপসন্দনীয় কোন কিছু আমি তার নিকট থেকে দেখিনি। বছর পূর্ণ হলে আমি বিচারালয় থেকে এক দিন বাড়ি ফিরে দেখি এক বৃদ্ধ মহিলা গৃহের তদারকি করছে। এটা কর এটা করো না ইত্যাদি।
আমি প্রশ্ন করলামঃ ইনি কে? বাড়ির লোকেরা বললঃ আপনার শশুর পক্ষের উমুক নারী। একথা শুনে আমি যে ধারণা করছিলাম তা পাল্টে গেল এবং আমি আনন্দিত হলাম। আমি আসন গ্রহণ করলে বৃদ্ধা আমার নিকটে এলেন।
বললেনঃ আস্‌ সালামু আলাইকুম আবু উমাইয়া!
আমি বললামঃ ওয়া আলাইকাস্‌ সালাম। আপনাকে তো চিনলাম না?
তিনি বললেনঃ আমি আপনার শাশুড়ী।
বললামঃ আল্লাহ