নারীদের বিভাগ, মাসজিদ ও জুম’আ


ঢাকা শহরে মেয়েদের নামায পড়ার স্থান গুলোর একটা তালিকা

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালুmasjid_21

ঢাকা শহরে মহিলাদের নামায পড়ার স্থানগুলো কোথায়  তা আমাদের অনেক বোনই জানেন না। তাদের জন্য আজ আমারা একটি তালিকা প্রকাশ করতে যাচ্ছি ইনশাহআল্লাহ এই লিস্ট আপডেট হতে থাকবে। নিচে দেয়া স্থানগুলি ব্যাতিত অন্য কোন স্থান যদি আপনাদের জানা থাকে তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানান। ইনশাহআল্লাহ তা আমাদের বোনদের উপকারে আসবে।

ঢাকা শাহরের যে সকল স্থানে মেয়েদের নামায পড়ার ব্যাবস্থা রয়েছেঃ

১. ঢাকা নিউ মার্কেট মসজিদ

২. রাইফেলস স্কয়ার (জিগাতলা)

৩. ইস্টার্ন মল্লিকার ছাদে

৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ

৫. রাপা প্লাজার ৫ম তলায় জয়ীতার শো-রুম ও মার্কেটের ছাদ (ধানমন্ডি ২৭)

৬. সোবহানবাগ জামে মসজিদ (ধানমন্ডি ২৭)

৭. গাউছিয়া মার্কেটের নিচ তলায় (ধানমন্ডি হকারস এর উল্টোদিকে)

৮. চাঁদনি চকের ৩য় তলায় (নিউমার্কেটের উল্টোদিকে)

৯. তাকওয়া মসজিদ (ধানমন্ডি ১২/এ লেকের সাথে)

১০. বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স, পান্থপথ (৪র্থ তলায়)

১১. বায়তুল মামুর মসজিদ, সায়েন্সল্যাব (২য় তলা)

১২. ফেরদৌসি মসজিদ, মিরপুর-১

১৩. মৌচাক মার্কেট (৪র্থ তলা)

১৪. জেনেটিক প্লাজা ১ম তলা (ধানমন্ডি ২৭)

১৫. বায়তুল আমান মসজিদ (ধানমন্ডি ৮)

১৬. উত্তরা ৪ নং, ৬ নং, ৭ নং সেক্টর মসজিদ

১৭. স্কয়ার হসপিটাল

১৮. ডিসিসি সুপার মার্কেট (গুলশান ১)

১৯. উত্তরা হাউস বিল্ডিং, নর্থ টাওয়ার (মার্কেট) ৯বম তলা

২০.রমনা থানা জামে মসজিদ

২১. ইউনাইটেড হসপিটাল (৩য় তলা)

২২. এপলো হসপিটাল (৫ম তলা)

২৩. পিঙ্ক সিটি (বেইজমেন্ট)

২৪. মোহাম্মদপুর এ স্যার সৈয়দ রোড এর আল আমিন মসজিদ

২৫. আযাদ মসজিদ (গুলশান ২)

২৬. নায়েম ভবন মসজিদ (ঢাকা কলেজের পেছনে)

২৭. ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক হসপিটাল (১.৫ তলা)

২৮. টুইন টাওয়ার শপিং সেন্টার (৪র্থ তলা)

২৯. ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ধানমণ্ডি (বেইজমেন্ট)

৩০. বাড়ীধারা এর লেকের পারের মাসজিদ।

 

 

অনুগ্রহ করে আপনার জানা তথ্য শেয়ার করুন। ধন্যবাদ

Source: Sister Ishrat Jahan Inu

Edited By: Mainuddin Ahmed Shuvo

মাসজিদে নারীদের সালাত আদায় করা বৈধ না অবৈধ?

মাসজিদে নারীদের সালাত আদায় করা বৈধ না অবৈধ?

 

হাদীস-১; আব্দুল্লাহ ইবন উমার(রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণীত রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা আল্লাহর বান্দীদেরকে(নারীদের) মাসজিদে যেতে নিষেধ করো না। আব্দুল্লাহ ইবন উমার(রাদিয়াল্লাহু আনহু) অন্য সনদে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা আল্লাহর বান্দীদেরকে মাসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করতে নিষেধ করো না। [সহীহ মুসলিম, মুয়াত্তা ইমাম মালিক,আবু দাউদ, মুসনাদ ইমাম আহমাদ;হাদীস-১৩২৭,খণ্ড-২]

 

হাদীস-২; আবু হুরাইরা(রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা আল্লাহর বান্দীদেরকে মাসজিদে যাওয়া থেকে বাধা দিও না, তারা যেন সুগন্ধীবিহীন বের হয়।  [আবু দাউদ, দারেমী, বাইহাকী, ইবন খুযাইমা, মুসনাদ ইমাম আহমাদ;হাদীস-১৩২৮,খণ্ড-২]

 

হাদীস-৩; আব্দুল্লাহ ইবন উমার(রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণীত রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা তোমাদের নারীদেরকে রাত্রিবেলা মাসজিদে যাওয়া থেকে বাধা প্রদান করবে না।  [মুসনাদ ইমাম আহমাদ;হাদীস-১৩৩২,খণ্ড-২]

 

হাদীস-৪;  আয়িশা(রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নারীরা রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে ফজরের সালাত আদায় করতো, অতঃপর তাদের চাদর মুড়ি দিয়ে বের হয়ে যেত (তখন) তাদেরকে চেনা যেত না।  [সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ, মুসনাদ ইমাম আহমাদ;হাদীস-১৩৪৪,খণ্ড-২]

 

 

হাদীস-৫; আব্দুল্লাহ ইবন উমার(রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা তোমাদের নারীদেরকে তাদের মাসজিদে যাওয়ার অধিকার থেকে বাধা দিও না। যখন তারা তোমাদের কাছে অনুমতি চাইবে।  [সহীহ মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, তাবারানী, মুসনাদ ইমাম আহমাদ;হাদীস-১৩৩৪,খণ্ড-২]

 

হাদীস-৬; আব্দুল্লাহ ইবন উমার(রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন তোমাদের কারো স্ত্রী তার নিকট থেকে মাসজিদে যাওয়ার অনুমতি চায় তখন সে তাকে বাধা দিবে না। রাবী বলেন, উমার(রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর স্ত্রী মাসজিদে সালাত আদায় করতেন। উমার(রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন, তুমি তো জান আমি কি পছন্দ করি? তখন তিনি(স্ত্রী) জবাবে বললেন, আল্লাহর কসম! আমাকে তুমি নিষেধ না করা পর্যন্ত আমি এ কাজ(মাসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করা) থেকে বিরত হব না। রাবী বলেন-  উমার(রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে যখন আঘাত(শহীদ) করা হয় তখনও তিনি (তার স্ত্রী) মাসজিদে।  [সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মুসনাদ ইমাম আহমাদ;হাদীস-১৩৩৬,খণ্ড-২]

 

হাদীস-৭; আবু হুরাইরা(রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে মহিলা সুগন্ধ জাতীয় দ্রব্য (শরীরে) লাগিয়েছে সে যেন ইশার সালাতে হাযির না হয়।  [সহীহ মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাই, ইবন মাজাহ, মুসনাদ ইমাম আহমাদ;হাদীস-১৩৪০,খণ্ড-২]

 

হাদীস-৮; আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ এর স্ত্রী জয়নব আছ ছাকাফিয়া থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ ইশার জামা’আতে আসবে তখন যেন সে সুগন্ধি স্পর্শ না করে। [সহীহ মুসলিম, মুসনাদ ইমাম আহমাদ;হাদীস- ১৩৪৩,খণ্ড-২]

 

হাদীস-৯; আব্দুল্লাহ ইবন উমার(রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণীত,রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা তোমাদের নারীদেরকে মাসজিদে যাওয়াকে বাধা দিও না। অবশ্য (সালাতের জন্য) তাদের গৃহই তাদের জন্য উত্তম। [আবু দাউদ, বায়হাকী, তাবারানী, মুসনাদ ইমাম আহমাদ;হাদীস-১৩৩৩,খণ্ড-২]

 

এই মর্মে আরো হাদীস রয়েছে যে নারীরা মাসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করতে পারবে। ইমাম মালিক, ইমাম শাফেঈ, ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল এরও এই অভিমত পাওয়া যায়।

ইমাম আবু হানিফা এর অনুসারীরা এই বিষয়ে দু’ভাগে বিভক্ত। তাদের একদল বলে যে নারীরা মাসজিদে সালাত আদায় করতে পারবে     আরেকদল বলে যে নারীরা মাসজিদে সালাত আদায় করতে পারবে না।

 

উপরক্ত  ৯টি হাদীস থেকে এটি প্রমানিত যে নারীরা মাসজিদে সালাত আদায় করতে পারবে, আর কেউ যদি নারীদের মাসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করতে বাধা দেয় তাহলে সে রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বিরুদ্ধাচারন করলো, কেননা রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা আল্লাহর বান্দীদেরকে(নারীদের) মাসজিদে যেতে নিষেধ করো না”।

 

নারীরা মাসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করতে পারবে কিন্তু একটি নিয়ম তাদের মেনে চলতে হবে, তা হল তারা সুগন্ধি লাগিয়ে মাসজিদে যেতে পারবে না, কেননা রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা আল্লাহর বান্দীদেরকে মাসজিদে যাওয়া থেকে বাধা দিও না, তারা যেন সুগন্ধীবিহীন বের হয়”

উক্ত হাদীস দ্বারা প্রমানিত হয় যে সুগন্ধীবিহীন অবস্থায় মাসজিদে যাওয়া একটি সর্ত। অর্থাৎ নারীদের সুগন্ধীবিহীন অবস্থায় মাসজিদে যেতে হবে।

 

নারীদের জন্য কোথায় সালাত আদায় করা উত্তম?

নারীদের জন্য তাদের নিজেদের গৃহে সালাত আদায় করা উত্তম। কেননা,

উম্মু সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ(সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, নারীদের সর্বোত্তম মাসজিদ হচ্ছে, তাদের গৃহের কুঠরি। [তাবারানী, ইবন খুজাইমা, মুসনাদ ইমাম আহমাদ;হাদীস-১৩৩৮,খণ্ড-২]

অর্থাৎ, নারীদের জন্য মাসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করা বৈধ কিন্তু তাদের জন্য  উত্তম হল তাদের গৃহে সালাত আদায় করা।

 

যারা বলে নারীদের মাসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করা বৈধ নয়, তাদের জবাবঃ

যারা বলে নারীদের মাসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করা বৈধ নয় তারা দলীল হিসাবে পেশ করে যে,

মা আয়েশা(রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, যদি রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আজকের দিনের নারীদেরকে দেখতেন তাহলে তাদের মাসজিদে যেতে বারন করতেন। [মুসনাদ ইমাম আহমাদ;হাদীস-১৩৪১,১৩৪২,খণ্ড-২]

উক্ত হাদীর ব্যাখ্যায় প্রখ্যাত হানাফী ফাকিহ আবুল হাই লাখনোভী(রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ “উক্ত হাদীস দ্বারা নারীদের মাসজিদে যাওয়ার বৈধতা প্রমানিত হয়, কেননা উক্ত হাদিসে আয়েশা(রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন যদি রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আজকের দিনের নারীদেরকে দেখতেন তাহলে তাদের মাসজিদে যেতে বারন করতেন, কিন্তু যেহেতু নিষেধ করেননি সেহেতু একে নিষেধ করার মত কেউ নেই”

প্রকৃত পক্ষেই উক্ত হাদীস নারীদের মাসজিদে যাওয়ার বৈধতা প্রমান করে, কেননা আয়েশা(রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন যদি রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আজকের দিনের নারীদেরকে দেখতেন তাহলে তাদের মাসজিদে যেতে বারন করতেন, কিন্তু যেহেতু রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই নারীদেরকে দেখেননি এবং নিষেধও করেননি সেহেতু নারীদের মাসজিদে যাওয়া এখনও বৈধ।

 

যারা বলে নারীদের মাসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করা বৈধ নয় তারা একটি মিথ্যা দলীল পেশ করে, তারা বলে যে, উমার(রাদিয়াল্লাহু আনহু) নারীদের মাসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করাকে হারাম করেছেন।(নাউযুবিল্লাহ) এত বড় অপবাদ একজন সাহাবীর নামে দিতে তাদের কি বুক কাঁপে না???

কোন হাদীসে এই কথা নেই যে উমার(রাদিয়াল্লাহু আনহু) নারীদের মাসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করাকে হারাম করেছেন। বরং সহীহ হাদীসে আমরা তার উল্টোটা পাই, তা হল-

উমার(রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে যখন আঘাত(শহীদ) করা হয় তখনও তিনি (তার স্ত্রী) মাসজিদে।  [সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মুসনাদ ইমাম আহমাদ;হাদীস-১৩৩৬,খণ্ড-২]

যদি উমার(রাদিয়াল্লাহু আনহু) নারীদের মাসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করাকে হারাম করে থাকেন তাহলে যখন উমার(রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে যখন আঘাত(শহীদ) করা হয় তখন তার স্ত্রী মাসজিদে কাভাবে থাকে? তার মানে কি উমার(রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর স্ত্রী হারাম [যদি উমার(রাদিয়াল্লাহু আনহু) নারীদের মাসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করাকে হারাম করে থাকেন] কাজ করেছেন? না, কখনই না, উমার(রাদিয়াল্লাহু আনহু) কখনই নারীদের মাসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করাকে হারাম করেন নি।

এছাড়াও আমরা জানি যে, মা আয়েশা(রাদিয়াল্লাহু আনহা) সারা জীবন মাসজিদে সালাত আদায় করতেন।

অর্থাৎ, যারা বলে নারীদের মাসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করা বৈধ নয়, তারা মূলত ভুল কথা বলছেন।

 

আর মা আয়েশা(রাদিয়াল্লাহু আনহা) কেন বললেন যে, যদি রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আজকের দিনের নারীদেরকে দেখতেন তাহলে তাদের মাসজিদে যেতে বারন করতেন?

মা আয়েশা(রাদিয়াল্লাহু আনহা) এই কথা বলেছেন তার কারন হল, নারীরা সুগন্ধী লাগিয়ে মাসজিদে যাওয়া শুরু করেছিল। তার প্রমানঃ

আয়েশা(রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা আল্লাহর বান্দীদেরকে আল্লাহর মাসজিদে যেতে বাধা দিও না। আর তারা মাসজিদে যাবে সুগন্ধীমুক্ত(সুগন্ধী বিহীন) অবস্থায়।  আয়েশা(রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন- যদি রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আজকের দিনের নারীদেরকে দেখতেন তাহলে তাদের মাসজিদে যেতে বারন করতেন। [মুসনাদ ইমাম আহমাদ;হাদীস-১৩৪১,খণ্ড-২]

উক্ত হাদীসে সুগন্ধী লাগানোর বিষয়টি এবং রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বারন করার বিষয়টি একই সাথে আসায় এটিই প্রমান হয় যে নারীদের সুগন্ধী লাগিয়ে মাসজিদে আসার অবস্থা দেখে মা আয়েশা এই কথা বলেছেন। এই কথার প্রমান বহন করে নীচের হাদিসটি,

আয়েশা(রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আজকে আমরা নারী সমাজের যে অবস্থা দেখছি, তা যদি রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দেখতেন তাহলে অবশ্যই তাদের মাসজিদে যেতে বারন করে দিতেন। [মুসনাদ ইমাম আহমাদ;হাদীস-১৩৪২,খণ্ড-২]

 

সুতরাং, নারীদের জন্য নিজ গৃহে সালাত আদায় করা উত্তম, মাসজিদে সালাত আদায় করা বৈধ তবে শর্ত হল যে সুগন্ধী ছাড়া মাসজিদে যেতে হবে।

ক্যারিয়ার হিসেবে মেয়েদের জন্য এয়ার হোস্টেস / কেবিন ক্রু ক্যারিয়ার বেছে নেয়া প্রসঙ্গে

ক্যারিয়ার হিসেবে মেয়েদের জন্য এয়ার হোস্টেস / কেবিন ক্রু ক্যারিয়ার বেছে নেয়া প্রসঙ্গেঃঅনেকের কাছে এটা স্বপ্নের ক্যারিয়ার।

অধিকাংশ লোকই মনে করে থাকে-
উন্নত জীবনের প্রত্যাশী তরুণীদের জন্যও কেবিন ক্রু একটি আদর্শ পেশা , আকাশে স্বপ্নের ঠিকানা। আকাশে উড়ার সাধ অনেকেরই থাকে। বিশেষ করে এয়ার হোস্টেস/কেবিন ক্রু হয়ে। এ পেশায় আকাশের বুকে উড়ার পাশাপাশি জানা যায়গোটা বিশ্বকেই।

এই পেশার যে লাইফ স্টাইল এবং রোমাঞ্চকর অনুভূতি তা সহজেই তরুণ তরুণীদের আকর্ষণ করে। এছাড়া বেতন ও রোজগারও ভাল। মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইন্সগুলো লক্ষাধিক, ব্রিটিশ সিঙ্গাপুর সহ অন্যান্য এয়ার লাইন্সে কেবিন ক্রু ১ লাখ টাকারও বেশি আয় করে থাকে। কেবিন ক্রু যখন যে দেশে যায় তার সে দেশে থাকা খাওয়ার খরচ ও ফ্লাইং আওয়ার ভিত্তিতে ভাতা পেয়ে থাকে। অন্যান্য পেশার চাকরির মত এই পেশায় রয়েছে প্রভিডেন্ট ফান্ড, মেডিকেল বেনিফিট, আবাসন সহ বিভিন্ন সুবিধাবলী।

কথাগুলো শুনে মনে হতে পারে এটি নারীদের জন্য অত্যান্ত সম্মানজনক পেশা।
কিন্তু আসুন দেখি এ ব্যাপারে ইসলামী শারিয়াহ কি বলেঃ

বেশীরভাগ ফ্লাইটের এয়ার হোস্টেস হিসেবে নারীদের নিয়োগ দেয়া হয়। আর এয়ার হোস্টেস হিসেবে কোন কুৎসিত চেহারার নারী কখনোই আপনি দেখবেন না। এয়ার হোস্টেস হিসেবে শুধুমাত্র সুন্দরী রমনীদের-ই নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়াও এয়ার হোস্টেস হিসেবে কোন বিবাহিত নারীকে নিয়োগ দেয়া হয় না। কোন মেয়েকে নিয়োগ দেয়ার পর তাকে শর্ত দিয়ে দেয় যে- আপনি আগামী ৫ বছরের মধ্যে বিয়ে করতে পারবেন না। কোন নারীর বয়স ৩৫ ঊর্ধ্ব হয়ে গেলে তাকে আর রাখা হয় না। কোন নারী সন্তান প্রসব করার কারনে যদি তার ফিগার নষ্ট হয়ে যায় তবে তাকে আর রাখা হয় না। এটা আসলে কাস্টমারদের আকৃষ্ট করার একটা কৌশল। এভাবে তারা নারীকে পণ্য বানিয়ে গ্রাহক আকৃষ্ট করছে। এবার আপনারাই বলুন এই পেশাটা সম্মানজনক নাকি নারীর পণ্যায়ণ?

অনেক সময় অনেক পুরুষ যাত্রী টিজ করার উদ্দেশে নারী এয়ার হোস্টেসকে আদেশ করে- আমার সিট বেল্টটা বেঁধে দিন। তখন ঐ নারীর অন্য কোন উপায় থাকে না তাকে সিট বেল্ট বেঁধে দেয়া ছাড়া। ফলে ঐ নারীকে ঐ পুরুষের খুব কাছাকাছি আসতে হয় আর সুযোগে ঐ পুরুষ যাত্রী তাকে টিজ করে।

এবার আপনারাই বলুন এই পেশা কি সম্মানজনক?

আমিই পূর্বেই বলেছি-
এই পেশার যে লাইফ স্টাইল এবং রোমাঞ্চকর অনুভূতি তা সহজেই তরুণ তরুণীদের আকর্ষণ করে। এছাড়া বেতন ও রোজগারও ভাল। মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইন্সগুলো লক্ষাধিক, ব্রিটিশ সিঙ্গাপুর সহ অন্যান্য এয়ার লাইন্সে কেবিন ক্রু ১ লাখ টাকারও বেশি আয় করে থাকে। কেবিন ক্রু যখন যে দেশে যায় তার সে দেশে থাকা খাওয়ার খরচ ও ফ্লাইং আওয়ার ভিত্তিতে ভাতা পেয়ে থাকে। অন্যান্য পেশার চাকরির মত এই পেশায় রয়েছে প্রভিডেন্ট ফান্ড, মেডিকেল বেনিফিট, আবাসন সহ বিভিন্ন সুবিধাবলী।

বর্তমানে মুসলিম নারীরা পশ্চিমা বিশ্বের কাফের নারীদের খোলামেলা ও অবাধবিচরন দেখে এই ধরণের পেশার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

কিন্তু আমাদের রব বলেছেনঃ দেশে-বিদেশে কাফেরদের অবাধচাল-চলন যেন তোমাদিগকে মোহে না ফেলে দেয়। এটা হলো সামান্য দিনেরপ্রাপ্তি। এরপর তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আর সেটি হলো অতি নিকৃষ্ট স্থান। (সুরা আলেইমরানঃ ১৯৬-১৯৭)

মহান আল্লাহ্‌ আরো বলেনঃ “পার্থিব জীবনের উপর কাফেরদিগকে উম্মত্ত করে দেয়া হয়েছে। আর তারা ঈমানদারদের প্রতি লক্ষ্য করে হাসাহাসি করে। পক্ষান্তরে যারা পরহেযগার তারা সেই কাফেরদের তুলনায় কেয়ামতের দিন অত্যন্ত উচ্চমর্যাদায় থাকবে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সীমাহীন রুযী দান করেন। (সুরা বাকারাঃ ২১২)

মুখমণ্ডল কি হিজাবের অংশ নয়?

মুখমণ্ডল কি হিজাবের অংশ নয়?   

বর্তমান বিশ্বে হিজাব পশ্চিমা রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাথাব্যথার বিষয়। তারা সাংস্কৃতিক আগ্রাসন হিসেবে চিহ্নিত করে হিজাবের প্রসারকে বাধাগ্রস্থ করতে নানা কৌশল ও প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে। এর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাক ও নিকোলা সারকোজি, সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জ্যাক স্ট্র, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টসহ বহু রাজনীতি ও শিক্ষাবিদসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পেশার লোক।

২০০২ সালে সাবিনা নামক এক স্কুলছাত্রী উত্তর লন্ডনের ডেনবিগ হাইস্কুল থেকে বহিস্কৃত হন; জার্মানিতে স্কুল শিক্ষিকা ফিরিশতা লুদিন চাকুরি হারান হিজাবের সপক্ষে কথা বলায়। ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হিজাব নিষিদ্ধ করে আইন পাশ করে ফ্রান্স। সুইডেনে হিজাব সম্মত পোশাক পরার অপরাধে চাকরি হারাতে হয় অনেক নারীকে। ২০০২ সালের ডিসেম্বরে সুইডিশ টিভি হিজাব পরা এক মুসলিম উপস্থাপিকার উপস্থাপনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তেমনি অনেক দেশেই হিজাবকে ‘আইনী লড়াই’ এবং নানা রকম বাধা ও প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে পাশ্চাত্য ধারার শিক্ষা ও চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত কিছু কিছু ‌ইসলামিক স্কলার বা মুসলিম রাজনীতিক হিজাবের প্রতি গুরুত্ব প্রদান সত্ত্বেও নিকাবকে অস্বীকার কিংবা অপ্রয়োজনীয় বলে দাবী করছেন। হোসনী মোবারকের আমলে মিশরের ঐতিহ্যবাহী আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শায়খ তানতাবী তো নিকাবকে অস্বীকার করেই বসেছিলেন। তখন এ ঘটনা পুরো মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছিল। এর আগে এবং পরে বর্তমানকাল পর্যন্ত মেয়েদের নিকাব তথা মুখবন্ধনী হিজাব বা পর্দার অন্তর্ভুক্ত কি-না বিষয়টি নিয়ে মাঝে মধ্যে অনেকে কবরে দাফন হয়ে যাওয়া বিতর্ক নতুন করে চাঙ্গা করতে সচেষ্ট হয়েছেন। সর্বশেষ বাংলাদেশে গত ১৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) দৈনিক যুগান্তরের ‘ইসলাম ও জীবন’ পাতায় একটি লেখা প্রকাশিত হয় ‘কোরআনের পর্দাকে বোরকায় ঢাকল কারা’ শিরোনামে। লেখাটিতে ইসলামের পর্দা বিধানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ-‘বোরকা’ ও ‘পরপুরুষের সামনে নারীর চেহারা আবৃত রাখা’র বিষয়ে কিছু অশালীন ও অমার্জিত বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে। অস্বীকার করা হয়েছে মুখ ঢাকার আবশ্যকীয়তাকে।

মূলত বিষয়টি এক পর্যায়ে ইষৎ বিরোধপূর্ণ ছিল। চেহারা পর্দার অংশ নয় মর্মে কিছু বক্তব্য আছে ঠিকই। কিন্তু নানা মত ও যুক্তি পর্যালোচনার পর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মত ও তাবৎ শরীয়তবিদের সিদ্ধান্ত হলো, হিজাব যেমন অপরিহার্য, ঠিক তেমনি নিকাব তথা মুখ ঢাকাও অত্যাবশ্যক। দু’টিকে পৃথক ভাবার কারণ নেই। কারণ শরীয়তে দু’টো পৃথক কোনো বিষয় নয়। যখন হিজাব শব্দটি আসে তখন তার শর‘ঈ অর্থ এটাই বুঝা যায়, নারী মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে রাখবে। কুরআনে কারীমের সূরা আল-আহযাবে মুসলিম নারীদেরকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে, ঘর থেকে বাইরে বেরুবার সময় যেন তারা নিজেদের শরীরে জিলবাব ঝুলিয়ে নেয়। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ قُل لِّأَزۡوَٰجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ يُدۡنِينَ عَلَيۡهِنَّ مِن جَلَٰبِيبِهِنَّۚ ذَٰلِكَ أَدۡنَىٰٓ أَن يُعۡرَفۡنَ فَلَا يُؤۡذَيۡنَۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورٗا رَّحِيمٗا ٥٩ ﴾ [الاحزاب: ٥٩]

‘হে নবী, তুমি তোমার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মু’মিনদের নারীগণকে বল, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না।’ {সূরা আল-আহযাব, আয়াত : ৫৯}

পর্দা বিষয়ে এ আয়াত অত্যন্ত পরিস্কার ও স্পষ্ট। কারণ, এ আয়াত থেকে জানা যায়, পর্দার নির্দেশের মধ্যে মুখমণ্ডলও অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া এ আয়াতে আযওয়াজে মুতাহহারাত (রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুতঃপবিত্র সহধর্মীনীগণ) ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যাগণের সঙ্গে মুসলিম মহিলাদেরও সম্বোধন করা হয়েছে। এ আয়াতে ‘জালাবীব’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা ‘জিলবাব’ শব্দের বহুবচন। আরবী অভিধানের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘লিসানুল ‘আরাব’ –এ লেখা হয়েছে, ‘জিলবাব’ ওই চাদরকে বলা হয় যা মহিলারা নিজেদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢাকার জন্য ব্যবহার করে। [১/২৭৩]

অভিধান থেকে সরে গিয়ে মুফাসসিরগণের বক্তব্য দেখলেও জানা যায়, ‘জিলবাব’ এমন কাপড়কে বলে যদ্বারা মহিলারা নিজেদের শরীর ঢাকেন। ‘জিলবাব’ অর্থ বড় চাদর, যা দ্বারা মুখমণ্ডল ও পূর্ণ দেহ আবৃত করা যায়। [কুরতুবী, আল-জামে‘ লিআহকামিল কুরআন :  ১৪/২৪৩]

আল্লামা আলূসী রহ. ‘আব্দুল্লাহ ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর বরাত দিয়ে লিখেন, ‘জিলবাব’ সেই চাদরকে বলে যা মহিলারা দেহের ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত উড়িয়ে ছেড়ে দেয়। [রুহুল মা‘আনী : ২২/৮৮]

আল্লামা ইবন হাযম রহ. লিখেন, আরবী ভাষায় ‘জিলবাব’ এমন কাপড়কে বলা হয় যা সারা শরীর আচ্ছাদন করে। যে কাপড় সমস্ত শরীর ঢাকে না, সে কাপড়ের ক্ষেত্রে ‘জিলবাব’ শব্দটির প্রয়োগ সঠিক ও শুদ্ধ নয়। [আল-মুহাল্লা : ৩/২১৭]

তাই শত শত বছর যাবৎ মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র যে দীনদার নারীগণ নিকাব ও হিজাব পরিধান করে আসছেন তাঁরা এই জিলবাব ধারণের বিধানই পালন করছেন।

রূহুল মা‘আনী গ্রন্থের লেখক يُدۡنِينَ عَلَيۡهِنَّ এর তফসীরে লিখেছেন, শব্দটি অভিধানে কোনো জিনিস নিকটবর্তী করা অর্থে বলা হয়। এখানে শব্দটি ঝুলানো এবং ফেলে দেওয়া অর্থে এসেছে। কারণ, শব্দটিকে এখানে عَلَيۡ (‘আলা) অব্যয় দ্বারা কর্মবাচক ক্রিয়ায় রূপান্তর করা হয়েছে। [রুহুল মা‘আনী : ২২/৮৮]

আল্লামা যামাখশারী রহ. শব্দটির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেন, এর অর্থ, মহিলারা নিজেদের মুখমণ্ডলের ওপর চাদর টেনে দেবে। যেমন : কোনো মহিলার মুখমণ্ডল থেকে নিকাব সরে যায় তখন তাকে ‌আরবীতে বলা হয় : (ইউদ্নী ছাওবিকে আলা ওয়াজহিকে)      তোমার মুখমণ্ডলের ওপর তোমার কাপড় ফেলে দাও। (প্রাগুক্ত) এ থেকে বুঝা গেল, কুরআন কারীমের এই আয়াতে মুখমণ্ডল ঢাকার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে।

কোনো কোনো সাহাবী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তাঁরা পর্দা হিসেবে ‘জিলবাব’ ব্যবহারের নিয়ম-পদ্ধতিও বর্ণনা করেছেন। ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মুখমণ্ডলের ওপর ‘জিলবাব’ ফেলার যে পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন তা হলো, ‘মুসলিম মহিলারা নিজেদের চাদর দ্বারা নিজ নিজ মাথা ও মুখমণ্ডল ঢেকে বের হবে। তারা কেবল একটি চোখ খোলা রাখতে পারে’। [শাওকানী, ফাতহুল কাদীর : ৭/৩০৭]

জনৈক ব্যক্তি ‘উবায়দা ইবন সুফইয়ান ইবন হারিছ হাযরামী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর কাছে এর নিয়ম জানতে চান। তিনি নিজের চাদরটি উঠিয়ে এমনভাবে ছড়িয়ে দেন যে, তাঁর মাথা ও কপাল ভ্রূ পর্যন্ত ঢেকে যায়। তারপর চাদরের কিছু অংশ মুখমণ্ডলের ওপর এমনভাবে রাখেন যে, গোটা মুখমণ্ডল ঢেকে যায়, কেবল একটি চোখ খোলা থাকে। [তাফসীরে কুরতুবী : ৪/২৩৪]

সূরা আল-আহযাবের উল্লেখিত আয়াতের তাফসীর করতে গিয়ে সকল মুফাসসির মুখমণ্ডল ঢাকা হিজাবের অত্যাবশ্যক অংশ গণ্য করেছেন। আবূ বকর আর-রাযী ও আল-জাস্সাস আল-হানাফী রহ. বলেন, এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয়, যুবতী মহিলারা ঘর থেকে বাইরে বেরোনোর সময় বেগানা পুরুষের দৃষ্টি থেকে তাদ