নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলাম


নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলাম

সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ তা‘আলার যিনি আমাদের জন্য দ্বীনকে করেছেন পরিপূর্ণ, আর আমাদের জন্য সম্পন্ন করেছেন তার অসংখ্য ও অগণিত নেয়ামতসমূহ এবং এ উম্মত তথা মুসলিম জাতিকে বানিয়েছেন সমগ্র উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম উম্মত। আমাদের থেকেই একজনকে রাসূল হিসেবে আমাদের কল্যাণের জন্য প্রেরণ করেছেন, যিনি আমাদের নিকট আল্লাহ তা‘আলার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, আমাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন এবং আমাদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ ও সংশোধন করেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সে মহামানবের উপর, যাকে সমগ্র জগতবাসীর জন্য রহমতস্বরূপ দুনিয়াতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং নির্বাচন করা হয়েছে নেক আমলকারীদের জন্য আদর্শস্বরূপ। আরও সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তার সমগ্র পরিবারবর্গ ও সাথী সঙ্গীদের উপর, যারা নবীগণের পর দুনিয়াতে সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী। আমীন।
একজন মুসলিম বান্দার উপর আল্লাহ তা‘আলার নেয়ামত ও অনুগ্রহ এত বেশি যে, দুনিয়ার কোন হিসাব-নিকাশ তা আয়ত্ত করতে পারবে না এবং হিসাব করে শেষও করা যাবে না। বিশেষ করে, আল্লাহ তা‘আলা একজন মুসলিমকে এ মহান দ্বীনের প্রতি যে হেদায়াত দিয়েছে, এর চেয়ে বড় নেয়ামত দুনিয়াতে আর কিছুই হতে পারে না। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা নিজেই এ দ্বীনের প্রতি সন্তুষ্টি জ্ঞাপন করেছেন এবং তিনি তার বান্দাদের জন্য এ দ্বীনকে পরিপূর্ণ করেছেন এবং পছন্দ করেছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার বান্দাদের থেকে এ দ্বীন ছাড়া অন্য কোন আর কিছুই তিনি কবুল করবেন না। কারণ, এ দ্বীনের কোন বিকল্প নাই, আল্লাহ তা‘আলা মানবজাতির কল্যাণের জন্য এ দীনকেই বাছাই করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا .
 অর্থাৎ আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম ইসলামকে। [সূরা: আল-মায়েদাহ্, আয়াত: ৩]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
 إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ.
অর্থাৎ নিশ্চয় আল্লাহর নিকট মনোনীত দীন হল ইসলাম। [সূরা: আলে-ইমরান, আয়াত: ১৯]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآَخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দীন চায়, তবে তার কাছ থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [সূরা: আলে-ইমরান আয়াত: ৮৫]
মহান আল্লাহ আরও বলেন,
وَلَكِنَّ اللَّهَ حَبَّبَ إِلَيْكُمُ الْإِيمَانَ وَزَيَّنَهُ فِي قُلُوبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمُ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ أُولَئِكَ هُمُ الرَّاشِدُونَ ﴿7﴾ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَنِعْمَةً وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
অর্থ, আর তোমরা জেনে রাখ যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল রয়েছেন। সে যদি অধিকাংশ বিষয়ে তোমাদের কথা মেনে নিত, তাহলে তোমরা অবশ্যই কষ্টে পতিত হতে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের কাছে ঈমানকে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তা তোমাদের অন্তরে সুশোভিত করেছেন। আর তোমাদের কাছে কুফরী পাপাচার ও অবাধ্যতাকে অপছন্দনীয় করে দিয়েছেন। তারাইতো সত্য পথপ্রাপ্ত ছিল| আল্লাহর পক্ষ হতে করুণা ও নিয়ামতস্বরূপ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। [সূরা: আল-হুজরাত, আয়াত: ৭-৮]
আল্লাহর পক্ষ হতে প্রেরিত দ্বীন এমন, যা দ্বারা আল্লাহ সংশোধন করেছেন মানব জাতির নৈতিক চরিত্র ও বিশ্বাস এবং দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনকে করেছেন সুন্দর। যারা এ দ্বীনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ও আনুগত্য করবে এবং দ্বীনের নির্দেশকে যথাযথ পালন করবে, আল্লাহ তাদেরকে যাবতীয় ভ্রান্তি ও গোমরাহি থেকে মুক্ত রাখবেন, তারা কখনই বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট হবে না এবং কোন প্রকার গোমরাহি তাদের স্পর্শ করতে পারবে না। এ দ্বীনকে বাদ দিয়ে যারা অন্য পথে গিয়েছে, তারা পদে পদে বিপদের সম্মূখীন হয়েছে। তারা গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা যাদের এ দ্বীনের প্রতি হেদায়াত দিয়েছে, তারাই দুনিয়াতে আলোর সন্ধান পেয়েছে।
 মনে রাখতে হবে, এ দ্বীন হল, অত্যন্ত মজবুত ও শক্তিশালী দ্বীন, যার কোন বিকল্প নাই, এ দ্বীনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অতীব সুদৃঢ় ও বস্তুনিষ্ঠ। এ দ্বীনের দিকে পথনির্দেশ বা আহ্বান করা যেমন মহৎ, অনুরূপভাবে যারা এ দ্বীনের ডাকে সাড়া দেবে, তাদের পরিণতি ও ফলাফল সবই হবে মধুর ও সুখকর।
 আরও মনে রাখতে হবে, এ দ্বীনের প্রতিটি সংবাদ সঠিক ও নির্ভুল। বিধানসমূহ ইনসাফ-পূর্ণ ও বস্তুনিষ্ঠ। এমন কোন আদেশ দেয়া হয়নি যার সম্পর্কে কোন সত্যিকার জ্ঞানী ব্যক্তি বলতে পারে, দ্বীনের এ আদেশটি যথার্থ বা প্রযোজ্য নয়। আবার এমন কোন নিষেধও করা হয়নি, যার সম্পর্কে কোন বুদ্ধিমান বলতে পারে এ কাজটি হতে নিষেধ করা অযৌক্তিক বা এ নিষেধটি না করলে ভালো হত। দুনিয়াতে আজ পর্যন্ত এমন কোন সত্যিকার জ্ঞানের আবির্ভাব হয়নি; যা দ্বারা এ দ্বীনের কোন বিধানকে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে এবং এমন কোন বিধান আজ পর্যন্ত কেউ দেখাতে পারেনি যার দ্বারা দ্বীনের কোন বিধানকে অযৌক্তিক প্রমাণ করা যেতে পারে। এ দ্বীন এমন একটি দ্বীন, যা মানুষের স্বভাবের সাথে আঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এ দ্বীন মানুষকে সঠিক পথ দেখায় ও হকের সন্ধান দেয়, সত্যের পতাকা তলে আশ্রয় দেয়। সততা হল এ দ্বীনের নিদর্শন, আর ইনসাফ হল এ দ্বীনের ভিত্তি, হক্ব হল এ দ্বীনের খুঁটি, রহমত হল এ দ্বীনের আত্মা ও শেষ প্রান্তর এবং কল্যাণ হল এ দ্বীনের চির সাথী। সংশোধন ও সতর্ক করা এ দ্বীনের সৌন্দর্য ও কর্ম, আর উত্তম চরিত্র হল এ দ্বীনের সম্বল ও উপার্জন।
 যে ব্যক্তি এ দ্বীনকে ছেড়ে দেয় এবং এ দ্বীনের অনুকরণ হতে বিরত থাকে, তার বিশ্বাস ও অবিচলতার বিলুপ্তি ঘটে, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আর অবশিষ্ট থাকে না, উন্নত ও উৎকৃষ্ট চরিত্রের অবনতি ঘটে। ভ্রান্ত ধারণাগুলো তার মধ্যে প্রগাঢ় হয়। দুশ্চিন্তা ও নানাবিধ ভ্রান্তি তার মধ্যে জাল বুনে। তার নীতি-নৈতিকতার পতন ঘটে এবং চারিত্রিক অবনতি দৃশ্যমান হয়।
 বলা বাহুল্য যে, দুনিয়াতে একজন বান্দার জন্য সবচেয়ে বড় পাওনা হল এ মহান দ্বীনের প্রতি হেদায়াত লাভ করা। আল্লাহ তা‘আলা যাকে এ দ্বীনের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন ও এ দ্বীনের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী চলার তাওফিক দিয়েছেন, তার চেয়ে সৌভাগ্যবান ও সফল ব্যক্তি দুনিয়াতে আর কেউ হতে পারে না। সেই দুনিয়া ও আখেরাতে একজন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি।
আর এ দ্বীনের পূর্ণতা ও সৌন্দর্য হল, মুসলিম মহিলা ও নারীদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন। যারা এ দ্বীনের অনুসারী তাদের দায়িত্ব হল, নারীদের ইজ্জত সম্ভ্রমের হেফাযত করতে আপ্রাণ চেষ্টা করা এবং তাদের অধিকারের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ রাখা, আর তাদের প্রতি কোন প্রকার বৈষম্য না করা। কোন মুসলিম ব্যক্তি যেন কোন নারীর সাথে এমন কোন কাজ না করে, যাতে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় এবং তাদের প্রতি কোন প্রকার অবমাননা হয়। এ ধরনের যে কোন কাজকে ইসলাম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তাদের দুর্বলতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেউ যাতে তাদের উপর কোন প্রকার যুলুম- অত্যাচার করতে না পারে, তার প্রতি ইসলাম বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। যে সব কাজে বা কর্মে এ ধরনের অবকাশ থাকে, ইসলাম সে ধরনের কাজ-কর্ম থেকে মুসলিমদের দূরে থাকা নির্দেশ দিয়েছে।
আর আল্লাহ তা‘আলা মুসলিম জাতির জন্য এবং বিশেষ করে যারা নারীদের সাথে বসবাস ও ঘর সংসার করে তাদের জন্য বিশেষ কিছু আইন, কানুন ও নীতিমালা এবং এমন কিছু দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, যেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে, নারীদের প্রতি কোন প্রকার অসদাচরণ করার সুযোগ থাকে না। তখন তারা অবশ্যই লাভ করবে আনন্দদায়ক জীবন, যথার্থ অধিকার এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ।
বিশেষ মূলনীতি
এ ক্ষেত্রে একজন মুসলিমের জন্য কতক গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি অবশ্যই জানা থাকতে হবে, যাতে করে সে, তার জ্ঞান- বুদ্ধি অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে ও তদনুযায়ী নিজেকে দুনিয়ার জীবনে পরিচালনা করতে পারে। আর একজন মুসলিমকে এ কথা অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, এসব মূলনীতি-গুলোর আলোকে জীবনকে পরিচালনা করার দ্বারা সে সত্যিকার অর্থে সম্মানের অধিকারী হবে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণ অর্জন করবে। নিম্নে এ সব মূলনীতিগুলোকে সংক্ষিপ্ত আকারে আলোচনা করা হল।
এক.
 একজন মুসলিম বান্দাকে এ কথার উপর অবিচল ও অটুট বিশ্বাস রাখেতে হবে যে, দুনিয়াতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দেয়া বিধানই সবচেয়ে সুন্দর, সঠিক, মজবুত, নিখুঁত ও পরিপূর্ণ বিধান। যার মধ্যে কোন প্রকার প্রশ্ন তোলার কোন অবকাশ নাই। আর আল্লাহর বিধান ছাড়া আর যত বিধানই দুনিয়াতে আবিষ্কার হয়েছে, সবই ভ্রান্ত ও ভূলেভরা। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা হলেন, সমগ্র মখলুকের স্রষ্টা। আর স্রষ্টার বিধান সৃষ্টির জন্য নিখুঁত হবে এটাই স্বাভাবিক। স্রষ্টা অবশ্যই জানে কোন বিধান তার সৃষ্টির জন্য উপযোগী হবে আর কেন বিধান তাদের জন্য অকল্যাণ হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন ,
إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
অর্থাৎ বিধান একমাত্র আল্লাহরই। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাকে ছাড়া আর কারো ইবাদত করো না। এটিই সঠিক দীন, কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না। [সূরা ইউসূফ: ৪০]
أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ
অর্থ, তারা কি তবে জাহিলিয়্যাতের বিধান চায়? আর নিশ্চিত বিশ্বাসী কওমের জন্য বিধান প্রদানে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক উত্তম?
أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَحْكَمِ الْحَاكِمِينَ
অর্থ, আল্লাহ তা‘আলা কি বিচারকদের শ্রেষ্ঠ বিচারক নন? [আরাফ: আয়াত-৭, ইউনুস: আয়াত- ১০৯, ইউসুফ: আয়াত-৮০]
كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آَيَاتِهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
অর্থ, এভাবেই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য তার আয়াতসমূহ বর্ণনা করেন। আল্লাহ তা‘আলা মহা জ্ঞানী প্রজ্ঞাময়। [সূরা: নূর, আয়াত- ৫৯]
দুই.
 এ কথা অবশ্যই জানা থাকতে হবে, একজন মুসলিমের যাবতীয় কল্যাণ, ইজ্জত, সম্মান ও সৌভাগ্য সবই, তার প্রভুর আনুগত্যের সাথে সম্পৃক্ত। একজন মুসলিম যত বেশি তার প্রভুর আনুগত্য করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তার ইজ্জত, সম্মান ও কামিয়াবি তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহর দেয়া বিধানের প্রতি তার আনুগত্য যতই বাড়বে, তার সওয়াব বা বিনিময়ও তদনুযায়ী বাড়বে। আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে করীমে বলেন,
إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُمْ مُدْخَلًا كَرِيمًا
অর্থাৎ তোমরা যদি সেসব কবিরা গুনাহ পরিহার কর, যা থেকে তোমাদের বারণ করা করা হয়েছে, তাহলে আমি তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেব এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাব সম্মানজনক প্রবেশস্থলে। [সূরা নিসা: আয়াত-৩১]
7﴾
অর্থ, নিশ্চয় আমি তোমাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছি, অতএব তোমরা আমার কথা শোন। তাকে বলা হল, জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলল, হায়! আমার কওম যদি জানতের পারত, আমার রব আমাকে কিসের বিনিময়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। [সূরা ইয়াছিন: ২৫-২৭]
قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا ﴿9﴾ وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا ﴿10﴾
অর্থ, নি: সন্দেহে সে সফল কাম হয়েছে, যে তাকে পরিশুদ্ধ করেছে। এবং সে ব্যর্থ হয়েছে, যে তাকে কলুষিত করেছে।
অর্থ, হে কিতাবীগণ, তোমাদের নিকট আমার রাসূল এসেছে, কিতাব থেকে যা তোমরা গোপন করতে, তার অনেক কিছু তোমাদের নিকট সে প্রকাশ করছে এবং কিছু অনেক কিছু ছেড়ে দিয়েছে। অবশ্যই তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ হতে আলো ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে।
এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে শান্তির পথ দেখান, যারা তার সন্তষ্টির অনুসরণ করে এবং তার অনুমতিতে তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করেন। আর তাদেরকে সরল পথের দিকে হেদায়েত দেন। [আল মায়েদাহ্: আয়াত, ১৫-১৬]
তিন.
 মুসলিম জাতিকে এ কথা অবশ্যই মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে যে, এ জগতে তাদের বিপক্ষে অসংখ্য- অগণিত শত্রু রয়েছে, যারা সব সময় তাদের ক্ষতি করতে সচেষ্ট থাকে, আপ্রাণ চেষ্টা করে কীভাবে এ জাতির ক্ষতি করা যায় এবং দুনিয়ার ইতিহাস থেকে তাদের নাম নিশানা মুছে ফেলা যায়। তাদের কাজই হল, মুসলিম জাতির ইজ্জত সম্মান লাভের যাবতীয় সব পথ ও উপকরণ বন্ধ করে দেয়া এবং তাদের অগ্রগতির সব পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা। মুসলিম জাতির ইজ্জত সম্মানকে ধূলিসাৎ করতে এবং তাদের অপমান- অপদস্থ করার লক্ষে তারা তাদের যাবতীয় প্রচেষ্টাকে ব্যয় করে। এমন কোন ষড়যন্ত্র নাই যা তারা মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে প্রয়োগ করে না। তারা মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে যত প্রকার উপায় উপকরণ আছে সব কিছু প্রয়োগ করে। মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে তারা নানা প্রকার অপপ্রচার চালায়। কোথাও আজ তারা যাতে নিজ পায়ে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্য যেখানেই তাদের কোন উত্থান দেখে, সেখানেই তারা আক্রমণ চালিয়ে তাদের নিস্তেজ করে দেয়।
 আর এদের অগ্রভাগে রয়েছে অভিশপ্ত ও বিতাড়িত শয়তান, যে শয়তান হল আল্লাহর দুশমন, ইসলাম ও মুমিন বান্দাদের দুশমন। আল্লাহ তা‘আলা যখন মুমিনদের এ দ্বীনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সম্মান দেন, তখন শয়তানই সর্বাধিক বিক্ষুব্ধ হয় এবং তার শরীরে আগুন ধরে যায়। ফলে সে আল্লাহর মুমিন বান্দাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং তাদের প্রতিটি চলার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার ঘোষণা দেয়। চতুর্দিক থেকে সে তাদের ঈমান-আমল ধ্বংস করার জন্য আক্রমণ চালায়। অভিশপ্ত শয়তানের লক্ষই হল, মুমিনদের ক্ষতি করা, তাদের সম্মানহানি ও অপমান করা এবং আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের যে সম্মান দিয়েছেন, তা নষ্ট করা। শয়তানের কাজই হল, মানুষকে দুনিয়ার জীবনে ধোঁকায় ফেলার জন্য চেষ্টা চালানো। তবে আল্লাহ যাদের হেফাযত করেন, শয়তান তাদের কোন ক্ষতি করতে পারে না।
 আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
আর স্মরণ কর, যখন আমি ফেরেশ্তাদের বললাম, আদমকে সেজদা কর, তখন ইবলীস ছাড়া সকলে সিজদা করল। সে বলল, আমি কি এমন ব্যক্তিকে সিজদা করব, যাকে আপনি কাদামাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন?
সে বলল, দেখুন, এ ব্যক্তি যাকে আপনি আমার উপর সম্মান দিয়েছেন, যদি আপনি আমাকে কিয়ামত পর্যন্ত সময় দেন, তবে অতি সামান্য সংখ্যক ছাড়া তার বংশধরদেরকে অবশ্যই পথভ্রষ্ট করে ছাড়বো।
তিনি বললেন, যাও, অত: পর তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে, জাহান্নামই হবে তোমাদের প্রতিদান, পূর্ণ প্রতিদান হিসেবে।
তোমার কন্ঠ দিয়ে তাদের মধ্যে যাকে পারো প্ররোচিত কর, তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়, তোমার আশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে এবং তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে অংশীদার হও এবং তাদেরকে ওয়াদা দাও। আর শয়তান প্রতারণা ছাড়া তাদেরকে কোন ওয়াদাই দেয় না।
إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا إِنَّمَا يَدْعُو حِزْبَهُ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ السَّعِيرِ ﴿6﴾
নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু, অতএব তাকে শত্রু হিসেবে গণ্য কর। সে তার দলকে কেবল এ জন্যই ডাকে যাতে তারা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসী হয়। [সূরা ফাতির, আয়াত: ৬]
চার.
 যাবতীয় ভাল কাজের তাওফিক, কর্মের বিশুদ্ধতা, আল্লাহর দ্বীনের উপর অবিচলতা ও সম্মান অর্জন সবকিছুই একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের হাতে, যাকে আল্লাহ তা‘আলা সম্মান দেয় তাকে অপমান করার কেউ নেই। আর যাকে আল্লাহ তা‘আলা অপমান করে তাকে ইজ্জত দেয়ারও কেউ নেই। আল্লাহ যা চান তাই করেন, তাকে বাধ্য করার কেউ নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَمَنْ يُهِنِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ مُكْرِمٍ إِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ ۩
অর্থ, আল্লাহ তা‘আলা যাকে অপমানিত করেন তার সম্মানদাতা কেউ নাই। নিশ্চয় আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন। [সূরা আল-হাজ্জ: আয়াত: ১৮]
 সুতরাং, একজন মুমিন বান্দার জন্য কর্তব্য হল, তারা যেন আল্লাহর সাথে তাদের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে এবং তারই নিকট ইজ্জত-সম্মান প্রার্থনা করে। তার বাইরে গিয়ে ইজ্জত সম্মান তালাশ করলে, তাকে অবশ্যই পদে পদে অপমানিত হতে হবে প্রতিটি ক্ষেত্রে। সুতরাং একজন মুসলিম বান্দাকে পদে পদে আল্লাহর দিকে মুখাপেক্ষী থাকতে হবে। কোনক্রমেই আল্লাহর বিধানের অবাধ্য হলে চলবে না।
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শ হল, তিনি দো‘আতে বলতেন,
অর্থ, হে আল্লাহ তুমি আমার জন্য আমার দ্বীনকে সংশোধন কর, যে দ্বীন হল আমার যাবতীয় কর্মের সংরক্ষক। আর আমার জন্য দুনিয়াকে উপযুক্ত করে দাও, যাতে রয়েছে আমাদের জীবন-যাপন। আর আমার জন্য আমার আখিরাতকে সুন্দর করে দাও যা হল আমার শেষ পরিণতি। আর আমার হায়াতকে তুমি বাড়িয়ে দাও প্রতিটি ভালো কর্মের জন্য। আর আমার মৃত্যুকে আমার জন্য আরামদায়ক করে দাও প্রতিটি খারাপ কর্মে নিপতিত হওয়ার পূর্বে।
 এ দো‘আ দ্বারা প্রমাণিত হয়, আমরা কেউ আমাদের রবের তাওফিকের বাইরে কোন প্রকার ইজ্জত সম্মান লাভ করতে পারি না এবং কোন ভালো কাজ করলেও তা আল্লাহর তাওফিকের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। আমাদের যাবতীয় কর্মের বিধায়ক কেবলই আমাদের প্রভু। তিনিই আমাদের ভালো কাজ করার তাওফিক দেন এবং খারাপ কাজ হতে বিরত রাখেন।
পাঁচ.
 একজন মুসলিমের দুনিয়াতে সব চেয়ে বড় চাহিদা যেন হয়, আল্লাহ তা‘আলার নিকট সম্মানী হওয়া। যদি কোন বান্দা আল্লাহ তা‘আলার নিকট সম্মানী হয়, দুনিয়ার কোন অসম্মান তার কোন ক্ষতি করতে পারে না। আর যখন আল্লাহর দরবারে তার কোন সম্মান থাকবে না, দুনিয়ার কোন ইজ্জত-সম্মান তার কোন কাজে আসবে না। যার ফলে সে যখন আল্লাহ তা‘আলার নিকট সম্মানী হবে, তখন নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করবে। আর যখন আল্লাহর নিকট অসম্মান হবে তখন সে নিজেকে দুর্ভাগা হিসেবে বিবেচনা করবে। আল্লাহ তা‘আলা মুমিন বান্দাদের জন্য অনেক সম্মান প্রস্তুত করে রেখেছেন। যখন কোন মুমিন আল্লাহ তা‘আলা যে সব নেয়ামতরাজি প্রস্তুত রেখেছেন, তা লাভ করবে তখন সে নিজেকে ধন্য ও ভাগ্যবান মনে করবে। মুমিনদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে করীমে ঘোষণা দিয়ে বলেন,
أُولَئِكَ فِي جَنَّاتٍ مُكْرَمُونَ ﴿35﴾
তারাই জান্নাতসমূহে সম্মানিত হবে। [সূরা আল-মা‘আরেজ, আয়াত: ৩৫]
প্রকৃতপক্ষে তারাই সম্মানী যাদের আল্লাহ সম্মান দেন, আর আল্লাহ যাদের অসম্মান করেন, তারা কখনোই সম্মানের অধিকারী হতে পারে না। আর আল্লাহর পক্ষ হতে সম্মান লাভ তখন হবে, যখন সে প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহকে ভয় করতে থাকবে। আল্লাহর ভয়ের সাথেই ইজ্জত-সম্মানের সম্পর্ক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ ﴿13﴾
অর্থ: হে মানুষ আমি তোমাদেরকে এক নারী ও এক পুরুষ হতে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি। যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক তোমাদের মধ্যে তাকওয়া সম্পন্ন। নিশ্চয় আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ সম্যক অবগত। [সূরা আল-হুজরাত: ১৩]
সহীহ বাখারীতে আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হল,
من أكرمُ الناس؟ قال: أكرمهم أتقاهم
অর্থ, দুনিয়াতে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত ব্যক্তি কে? উত্তরে তিনি বললেন, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানী ব্যক্তি হল, সে যে সর্বাধিক আল্লাহকে ভয় করে। [বুখারী: ৩৩৭৪]
হাদীস দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, আল্লাহর ভয়ের সাথেই ইজ্জত সম্মানের সম্পর্ক। ইজ্জত সম্মান লাভ করতে হলে তাকে অবশ্যই তাকওয়া অর্জন করতে হবে, আল্লাহকে ভয় করতে হবে। আর যে ব্যক্তি এর বাইরে গিয়ে সম্মান তালাশ করে, সে মরীচিকাকেই পানি হিসেবে দেখতে পাবে। আসলে তা কোন পানি নয়, তা কখনো তৃষ্ণা মেটাতে পারে না। যার ফলে সে নৈরাশ্য ও হতাশার ঘোর অন্ধকারে হাবু-ডবু খেতে থাকবে।
ছয়.
একজন নারীকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে, ইসলামের বিধানগুলো সম্পূর্ণ নিখুঁত, তাতে কোন প্রকার খুঁত নাই। বিশেষ করে মহিলাদের সাথে সম্পৃক্ত ইসলামের বিধানগুলো আরও বেশি নিখুঁত ও সঠিক । তার মধ্যে কোন প্রকার ছিদ্র ও ফাঁক নাই, যাতে কেউ আপত্তি তুলতে পারে এবং অবজ্ঞা করার বিন্দু-পরিমাণও সুযোগ নাই, যাতে কেউ এড়িয়ে যেতে পারে। ইসলাম নারীদের জন্য যে বিধান দিয়েছে, তা নারীদের স্বভাব ও মানসিকতার সাথে একেবারেই অভিন্ন। ইসলামের বিধানে তাদের প্রতি কোন প্রকার যুলুম, নির্যাতন ও অবিচার করা হয় নাই এবং তাদের প্রতি কোন বৈষম্যও করা হয়নি।
 আর তা কীভাবে সম্ভব হতে পারে? যেহেতু এ সব বিধানগুলো হল আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ বিধান। আর আল্লাহ হলেন সমগ্র জগতের স্রষ্টা ও প্রতিপালক। তিনিই এ জগতকে পরিচালনা করেন এবং পরিচালনায় তিনি মহা জ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ। আল্লাহ তার স্বীয় মাখলুক-বান্দাদের বিষয়েও অভিজ্ঞ। কোন কাজে তার বান্দাদের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ ও কামিয়াবি সে বিষয়ে তিনিই সর্বজ্ঞ। সুতরাং তিনি এমন কোন বিধান মানব জাতির জন্য দেবেন না, যাতে তাদের কোন অকল্যাণ থাকতে পারে।
 একটি কথা মনে রাখতে হবে, সবচেয়ে বড় অপরাধ ও অন্যায় হল, নারীদের সাথে সম্পৃক্ত বা অন্য যে বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত আল্লাহর দেয়া শরীয়তের কোন বিধান সম্পর্কে এ মন্তব্য করা যে, আল্লাহর এ বিধানে তার বান্দাদের প্রতি যুলুম করা হয়েছে অথবা এ বিধানে দুর্বলতা রয়েছে অথবা এ বিধানটি বর্তমানে প্রযোজ্য নয়, ইত্যাদি। এ ধরনের কথা যেই বলবে, মনে রাখতে হবে, অবশ্যই সে আল্লাহ তা‘আলার সম্মান সম্পর্কে একেবারেই মূর্খ। আল্লাহর কুদরাত ও ক্ষমতা সম্পর্কে তার কোন কাণ্ড-জ্ঞান বলতে কিছুই নাই। সে আল্লাহকে যথাযথ সম্মান দেয়নি। তার সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
مَا لَكُمْ لَا تَرْجُونَ لِلَّهِ وَقَارًا ﴿13﴾
অর্থ, তোমাদের কী হল, তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের পরোয়া করছ না।? [সূরা নুহ: ১৩]
আল্লাহকে সম্মান করার অর্থ হল, তার বিধানকে আঁকড়ে ধরা এবং তার দেয়া আদেশ ও নিষেধের পরিপূর্ণ আনুগত্য করা। আর এ কথা বিশ্বাস করা যে, আল্লাহর আদেশ নিষেধের আনুগত্য করার মধ্যেই দুনিয়াও আখিরাতের শান্তি ও কামিয়াবি। আর যে এ বিশ্বাসের পরিপন্থী কোন বিশ্বাস তার অন্তরে লালন করে, তার চেয়ে হতভাগা দুনিয়াতে আর কেউ হতেই পারে না। দুনিয়া ও আখিরাতে সেই অপমান অপদস্থের জন্য একমাত্র ব্যক্তি।
 উপরে ছয়টি নীতিমালা আলোচনা করা হল। আর এগুলো হল, এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা ও আইন কানুন, যা মুসলিম হিসেবে আমাদের প্রত্যেককে মেনে নিতে হবে। আর এখানে আমাদের মূল আলোচনার বিষয়টি সম্পর্কে জানার পূর্বে অবশ্যই এসব নীতিমালা সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে। অন্যথায় আলোচনাটি বুঝে আসবে না। আর এগুলো শুধু নীতিমালাই নয় বরং এগুলোই হল আমাদের আলোচনার মূলভিত্তি বা উপাদান। এ নীতিমালাকে সামনে রেখেই আমাদের আলোচনাকে সাজানো হয়েছে। এগুলো ছাড়া আমাদের আলোচনা একেবারেই নিষ্ফল।
নারী কে?
নারীদের সম্পর্কে আলোচনার পূর্বে নারীর সংজ্ঞা বা নারী বলতে আমর কি জানি তা আমাদের জানা থাকা আবশ্যক। المرأة শব্দটি المرء শব্দের স্ত্রী লিঙ্গ, অর্থ নারী। শব্দটি একবচন, এর কোন বহুবচন হয় না। তবে অপর শব্দ থেকে এ শব্দের বহু বচন হল نساء। অর্থাৎ নারী হল তারা যাদের আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াতে পুরুষের অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। মূলত: আল্লাহ তা‘আলা নারীদের পুরুষ হতেই সৃষ্ট করেছেন, যাতে তাদের পরষ্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় ও গভীর হয় এবং তাদের মধ্যে প্রেম, ভালোবাসা ও দয়া-অনুগ্রহ যেন হয়, অতীব সুন্দর ও মধুময়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
অর্থ, হে মানুষ তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক নফস থেকে। আর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে এবং তাদের থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চাও। আর ভয় কর রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক। [সূরা আন-নিসা: ১]
وَمِنْ آَيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ ﴿21﴾
অর্থ, আর তার নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছ যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেক