নারীর হজ ও উমরা


নারীর হজ ও উমরা

 হজের অর্থ :
হজ শব্দের অর্থ ইচ্ছা করা। শরিয়তের পরিভাষায় হজ বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে বায়তুল্লাহ ও আরাফা সহ সুনির্দিষ্ট কিছু স্থানে যাওয়া।
হজের গুরুত্ব ও ফজিলত :
হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা কাবা শরীফ পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য রাখেন তাদের উপর হজ ফরজ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা এ ব্যাপারে এভাবে তাগিদ দিয়ে বলেছেন:
﴿ وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ﴾
“মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ করা তার জন্য অবশ্য কর্তব্য। এবং যে কেউ প্রত্যাখ্যান করল সে জেনে রাখুক, নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন।” [১]
উপরোক্ত আয়াতে হজকে আল্লাহর অধিকার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
সূরা আল-হজে আল্লাহ তাআলা হজের মূলে কি এবং তা কখন শুরু হয় তা স্পষ্ট বর্ণনা করেছেন:
“এবং মানুষের কাছে হজের ঘোষণা করে দিন, ওরা আপনার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে ও সব ধরনের ক্ষীণকায় উটের পিঠে, এরা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে। যাতে তারা তাদের কল্যাণময় স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে এবং তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু হতে যা রিজিক হিসেবে দান করেছেন তার উপর নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে। তারপর তোমরা তা থেকে খাও এবং দুস্থ, অভাবগ্রস্তকে খাওয়াও।”[২]
উপরোক্ত নির্দেশটি মহান আল্লাহ ইব্‌রাহীম আলাইহিসসালামকে দিয়েছিলেন। তিনি সে নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছিলেন। আয়াতের তাফসীরে সাহাবি ও তাবেয়ীদের থেকে সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, ইব্‌রাহীম আলাইহিসসালাম এ নির্দেশ পাওয়ার পর বলেছিলেন, হে আমার প্রভু! আমার ঘোষণা তাদের কানে পৌঁছাবে কে? মহান আল্লাহ তখন সেটা পৌঁছানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন।[৩]
হজ মুসলিমদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কল্যাণকর ইবাদত। এটি সামর্থ্যবানদের জন্য জীবনে একবারই ফরজ। বাকি সময়ে সেটি তার জন্য নফল হিসেবে থাকে।
বিভিন্ন হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতকে হজের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে তাগিদ করেছেন।
• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন কাজটি সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন: “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনা”। জিজ্ঞেস করা হলো, তারপর কোনটি? তিনি বললেন: “আল্লাহর পথে জিহাদ করা”। জিজ্ঞেস করা হলো, তারপর কোনটি? তিনি জবাব দিলেন: “তারপর হচ্ছে মাবরুর হজ।[৪] হজে মাবরুর বলতে এমন হজকে বুঝায় যে হজে ত্রুটি হয়নি বা যা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য।
• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন: “এক উমরা আদায় করার পর আবার উমরা আদায় করলে তা মাঝখানের সময়টুকুর জন্য কাফফারা হয়ে যায়। আর মাবরুর হজের প্রতিদানই হচ্ছে জান্নাত”।[৫]
• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন: “যে ব্যক্তি এমনভাবে হজ করবে যে, তাতে সে অশ্লীল কথা বলে না এবং কোন গুনাহের কাজ করে না, সে সকল গুনাহ থেকে মা তাকে প্রসব করার দিনের মত অবস্থায় ফিরে যায়।”[৬]
• রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন : যে ব্যক্তি এ ঘরে আসল, তাতে সে অশ্লীল কথা বলে না এবং কোন গুনাহের কাজ করে না, সে সকল গুনাহ থেকে মা তাকে প্রসব করার দিনের মত অবস্থায় ফিরে যায়।”[৭] হাদিসটি একই সাথে হজ এবং উমরাকে অন্তর্ভূক্ত করে।[৮]
এ হচ্ছে হজের কিছু গুরুত্ব ও ফজিলত। যা নারী-পুরুষ সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাছাড়া নারীদের জন্য হজের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।
মহিলাদের হজের গুরুত্ব:
মহিলাদের হজের গুরুত্ব পুরুষদের থেকে আলাদা। কারণ তা তাদের জন্য জেহাদের সমতুল্য। হাদিসে এসেছে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো দেখছি জেহাদই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ আমল, তাহলে আমরা (নারীরা) জেহাদ করব না কেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন: “তোমাদের জন্য মাবরুর হজই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ জেহাদ”।[৯]
এ হাদিস থেকে আমরা মহিলাদের জন্য হজের আলাদা গুরুত্ব বুঝতে পারি। এটি ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ হওয়ার পাশাপাশি মহিলাদের জন্য জিহাদ। সুতরাং যে মহিলা হজের জন্য বের হয়েছেন সে হাজী সাহেবাকে আমরা আমাদের অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ এমন অনেক মহিলা আছে যাদের উপর হজ ফরজ হয়েছে অথচ তারা তা জানে না। আবার এমন অনেক মহিলাও আছেন যাদের উপর হজ ফরজ হওয়ার পরে তা করতে গড়িমসি করতে করতে অপারগ অবস্থায় উপনীত হয়েছে। এরা অবশ্যই গুনাহ্‌গার হবে। আপনাকে আল্লাহ তার আনুগত্যের জন্য বাছাই করে নিয়েছেন সে জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন এবং বলুন: আল-হাম-দু-লিল্লাহ।
হজের শর্তসমূহ:
অন্যান্য এবাদতের মত হজেরও কিছু শর্ত রয়েছে, তম্মধ্যে এমন কিছু শর্ত রয়েছে যা না পাওয়া গেলে হজ শুদ্ধই হবে না। যেমন,
১- মুসলিম হওয়া।
২- বিবেকবান হওয়া।
এ ছাড়া আরো কিছু শর্ত রয়েছে যা হজ ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত। শুদ্ধ হওয়ার জন্য নয়। যেমন:
৩- বালেগ হওয়া। যদি কোন শিশু হজ করে তবে তা তার নিজের ফরজ হজ হিসেবে আদায় হবে না।
৪- স্বাধীন হওয়া। দাসের উপর হজ করা ফরজ নয়। কিন্তু যদি কোন দাস হজ করে তবে তা শুদ্ধ হবে। এ শর্তগুলোর ক্ষেত্রে নারী পুরুষ সমান।
৫- মক্কায় যাওয়ার ক্ষমতা থাকা।
এ শর্তের ব্যাপারে পুরুষ ও মহিলার মধ্যে তারতম্য রয়েছে। পুরুষের জন্য এ সক্ষমতা দু’ধরনের:
এক. আর্থিক সক্ষমতা।
দুই. শারীরিক সক্ষমতা।
যদি কারও আর্থিক ও শারীরিক ক্ষমতা থাকে তবে সে নিজেই হজ করতে হবে। আর যদি আর্থিক ক্ষমতা থাকে কিন্তু শারীরিক ক্ষমতা না থাকে তবে কাউকে দিয়ে হজ করাতে হবে। আর যদি শুধু শারীরিক ক্ষমতা আছে কিন্তু আর্থিক ক্ষমতা নেই তাহলে তার উপর হজ ফরজ নয়। কিন্তু তারপরও যদি সে তা করে তা গ্রহণযোগ্য হবে।
নারীদের জন্য সক্ষমতা তিন ধরনের:
এক. আর্থিক সক্ষমতা।
দুই. শারীরিক সক্ষমতা।
তিন. মাহরাম সাথে থাকা।
সুতরাং যদি কোন মহিলা আর্থিক ও শারীরিক ক্ষমতাসম্পন্ন হয় এবং মাহরাম পাওয়া যায় তবে তার উপর হজ ফরজ হবে।
কিন্তু যদি শুধু আর্থিক ক্ষমতা থাকে তবে মহিলার উপর হজ ফরজ হবে, তিনি নিজে না গেলে কাউকে তার পরিবর্তে হজে পাঠাতে হবে।
আর যদি শুধু শারীরিক ক্ষমতা থাকে তবে তার জন্য হজ ফরজ নয়। কিন্তু যদি তিনি কোনভাবে হজে গমন করেন তবে তার হজ হয়ে যাবে। মুহরিম সাথে না থাকলে সেজন্য গুনাহ্‌গার হবে।
আর্থিক সংগতি বলতে কি বুঝায়? তার পরিমাণ কত?
যদি কেউ ঋণ পরিশোধ করা, যাদের খাবার দেয়া তার উপর ওয়াজিব তাদের খাবার দেয়া, নিজের অত্যাবশ্যক সামগ্রী যেমন, খাবার, পানীয়, পরিধেয়, বাসস্থান ও এতৎসংক্রান্ত অতি প্রয়োজনীয় বস্তু যেমন বাহন, বই পত্র ইত্যাদির বাইরে হজে যাওয়া আসা করা এবং সেখানে খরচ করার মত সম্পদ থাকে তবে সে অবশ্যই হজের জন্য ক্ষমতাবান। তাকে হজ করতে হবে। আর এটাই শরিয়তের দৃষ্টিতে আর্থিক সংগতি ধরা হবে। এর পরিমাণ সময়, কাল, অবস্থা ও ব্যক্তির ভিন্ন হওয়া সাপেক্ষে ভিন্ন ভিন্ন হতে বাধ্য।
মাহরাম কারা?
এখানে মাহরাম তারাই যাদের সাথে বিয়ে হওয়া স্থায়ীভাবে হারাম। তারা তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:
এক. বংশীয় মাহরাম।
বংশীয় মাহরাম মোট সাত শ্রেণি:
১- মহিলার মূল যেমন, পিতা, দাদা, নানা। (যত উপরেই যাক)
২- মহিলার শাখা যেমন, পুত্র, পুত্রের পুত্র, কন্যার পুত্র। (যত নীচেই যাক)
৩- মহিলার ভাই। আপন ভাই বা বৈপিত্রেয় ভাই অথবা বৈমাত্রেয় ভাই।
৪- মহিলার চাচা। আপন চাচা বা বৈপিত্রেয় চাচা অথবা বৈমাত্রেয় চাচা। অথবা কোন মহিলার পিতা বা মাতার চাচা।
৫- মহিলার মামা, আপন মামা বা বৈপিত্রেয় মামা অথবা বৈমাত্রেয় মামা। অথবা কোন মহিলার পিতা বা মাতার মামা।
৬- ভাইপো, ভাইপোর ছেলে, ভাইপোর কন্যাদের ছেলে (যত নীচেই যাক)।
৭- বোনপো, বোনপোর ছেলে, বোনপোর কন্যাদের ছেলে (যত নীচেই যাক)।
দুই. দুধ খাওয়াজনিত মাহরাম।
দুধ খাওয়াজনিত মাহরামও বংশীয় মাহরামের মত সাত শ্রেণি। যাদের বর্ণনা উপরে চলে গেছে।
তিন. বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে মাহরাম।
বৈবাহিক কারণে চার শ্রেণি মাহরাম হয়।
১- মহিলার স্বামীর পুত্রগণ, তাদের পুত্রের পুত্রগণ, কন্যার পুত্রগণ (যত নীচেই যাক)।
২- মহিলার স্বামীর পিতা, দাদা, নানা (যত উপরেই যাক)।
৩- মহিলার কন্যার স্বামী, মহিলার পুত্র সন্তানের মেয়ের স্বামী, মহিলার কন্যা সন্তানের মেয়ের স্বামী (যত নীচেই যাক)
৪- যে সমস্ত মহিলাদের সাথে সহবাস হয়েছে সে সমস্ত মহিলার মায়ের স্বামী এবং দাদি বা নানির স্বামী।
মাহরাম- এর কিছু শর্ত:
মাহরামকে অবশ্যই মুসলিম, বিবেকবান এবং প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে।
হজের আদবসমূহ:
১- একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তার সাওয়াবের আশা করা।
২- খাটি তাওবা করে নেয়া
৩- পাওনাদারদের কাছ থেকে মাফ নেয়া।
৪- হজের মালটুকু পবিত্র হওয়া।
৫- প্রতিটি কাজে একমাত্র আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং উপর ভরসা করা।
৬- যেহেতু সে এক বরকতময় সফরে বের হয়েছে সুতরাং প্রত্যেক মানসিক, শারীরিক এবং আর্থিক কষ্ট ও খরচের জন্য সওয়াবের আশা করা।
৭- হজের যাবতীয় কষ্টকে ধৈর্য সহকারে মোকাবিলা করা।
৮- যাদের সাথে বের হলে ঈমান ও আমল ঠিক থাকবে তাদের সাথি হওয়া।
৯- নিয়মিত ফরজ নামাজসমূহ আদায় করা।
১০- বেশি বেশি করে আল্লাহর জিকির করা।
আল্লাহর দরবারে আমল কবুল হওয়ার জন্য শর্ত সমূহ:
মহান আল্লাহর দরবারে কোন আমল কবুল হতে হলে দু’টি শর্ত অপরিহার্য।
এক. এখলাস তথা কাজটি একমাত্র আল্লাহর জন্য হওয়া। সুতরাং আমল করার আগে তাওহীদ ঠিক রাখতে হবে। শিরক থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
দুই. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত মোতাবেক হতে হবে। যদি রাসূলের সুন্নাত অনুযায়ী না হয় তা হলে বিদ’আতে পরিণত হবে।
হজ শুরু করার আগে যা করণীয়
এক. হজ শুরু করার আগে আপনাকে কয়েকটি কাজ করতে হবে:
১- স্বামীর অনুমতি:
(ক) যদি আপনার হজটি ফরজ হজ হয়ে থাকে তবে স্বামীর অনুমতি নেয়া আপনার জন্য মুস্তাহাব। যদি স্বামী অনুমতি দেন তবে ভাল। আর যদি অনুমতি না দেন তারপরও যদি আপনি মুহরিম সাথি পান তবে আপনাকে হজ করতে হবে। কোন স্বামীর জন্য আপন স্ত্রীকে ফরজ হজ আদায় করতে বাধা দেয়া উচিত হবে না। হাঁ, এ ব্যাপারে স্ত্রীর নিরাপত্তা ও অন্যান্য যাবতীয় শর্তাদি পূরণ হয়েছে কি না তা দেখাও স্বামীর কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। কারণ, সক্ষম হলেই দেরি না করে হজ আদায় করে নেয়া উচিত। নচেৎ যদি বাধা দেয়ার কারণে স্ত্রী কোন কারণে পরবর্তীতে অপারগ হয়ে পড়ে তবে স্বামী সহ তারা উভয়ই গুনাহ্‌গার হবে।
আর যদি আপনার হজটি নফল হজ হয়ে থাকে তবে স্বামীর অনুমতি নেয়া আপনার জন্য ফরজ। স্বামীর অনুমতি ব্যতীত আপনি হজে যেতে পারবেন না। অনুরূপভাবে, স্বামীও আপনাকে নফল হজে গমনের ক্ষেত্রে তার অধিকারের কথা বিবেচনায় রেখে বাধা দেয়ার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।
আর যদি কোন মহিলা স্বামীর মৃত্যু-জনিত ইদ্দত পালন অবস্থায় থাকে। তাহলে সে মহিলা ইদ্দতের সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত হজে যেতে পারবে না। কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا الْعِدَّةَ وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ لا تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ وَلا يَخْرُجْنَ﴾
“হে নবী! তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রী গণকে তালাক দিতে ইচ্ছে কর তাদেরকে তালাক দিয়ো ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং তোমরা ইদ্দতের হিসেব রেখো এবং তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা তাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বহিষ্কার করো না এবং তারাও যেন বের না হয়।”[১০]
(খ) কোন পিতা বা মাতা কেউই তাদের মেয়ে সন্তানকে ফরজ হজে গমন করতে বাধা দেয়ার অধিকার রাখে না। যদি কোন মেয়ে হজে যাওয়ার সামর্থ্য থাকে এবং মাহরাম পায় তখন তার জন্য পিতা-মাতার আনুগত্যের দোহাই দিয়ে হজে যাওয়া থেকে বিরত থাকা বৈধ নয়।
২- মাহরাম থাকা:
মহিলাদের উপর হজ ফরজ হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, মাহরাম থাকা। কেননা; কোন মাহরাম ব্যতীত মহিলাদের একাকী সফর করা জায়েয নয়। এ ব্যাপারে যুবা-বৃদ্ধা, সুন্দরী-কুশ্রী, চাই সে সফর উড়োজাহাজে হোক অথবা গাড়ি-রেলগাড়ি যেটাই হোক সর্বাবস্থায় মাহরাম থাকা বাধ্যতামূলক। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,
لا تسافر المرأة إلا مع ذي محرم، ولا يدخل عليها رجل إلا ومعها محرم، فقال رجل يا رسول الله: إني أريد أن أخرج في جيش كذا وكذا، وامرأتي تريد الحج ؟ فقال: اخرج معها.
“কোন মহিলা মাহরাম ছাড়া যেন সফর না করে, অনুরূপভাবে কোন মাহরাম এর উপস্থিতি ছাড়া কোন পুরুষ যেন কোন মহিলার ঘরে প্রবেশ না করে” এ কথা শোনার পর এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক অমুক যুদ্ধে যেতে চাই অথচ আমার স্ত্রী হজে যেতে চায়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তুমি তার সাথে বের হও”।[১১]
৩- খাটি তাওবা :
তাওবাহর গুরুত্ব এ থেকে বোঝা যায় যে, আল্লাহ তাআলা কেবলমাত্র মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন। মহান আল্লাহ বলেন:
﴿إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ﴾
“আল্লাহ কেবলমাত্র মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন”।[১২]
আর যে ব্যক্তি বারবার কোন গুনাহ করে সে তাকওয়া থেকে দূরে রয়েছে। সুতরাং এ গুরুত্বপূর্ণ সফরের পূর্বে অবশ্যই খাটি তাওবা করে নেয়া উচিত এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসা দরকার। মহান আল্লাহ কোন বান্দার তাওবায় এতই খুশি হোন যে, এ বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি উদাহরণের মাধ্যমে পেশ করেছেন। তিনি বলেন:.
“কোন বান্দা যখন তাওবা করে তখন আল্লাহ তার তাওবায় এতই খুশি হোন যেমন তোমাদের কেউ শুষ্ক জনমানবহীন মরুভূমিতে ছিল। এমন সময় তার বাহনটি তার কাছ থেকে পালিয়ে গেল অথচ সে বাহনের উপর তার খাবার ও পানীয় রয়েছে। সে নিরাশ হয়ে এক গাছের নীচে শুয়ে পড়ল। তার মনে হচ্ছে যে, মৃত্যু তার খুবই নিকটে। এমতাবস্থায় হঠাৎ করে সে দেখল যে, তার বাহনটি তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তখন সে বাহনটির লাগাম ধরে খুশির চোটে ভুল করে বলল: হে আল্লাহ তুমি আমার বান্দা আর আমি তোমার প্রভু।”[১৩]
আর তাওবাহ তখনই পূর্ণ হবে যখন যাবতীয় হারাম কার্যাদী থেকে নিজেকে পবিত্র রাখা যায়। চাই তা কথার মাধ্যমে হোক বা কাজের মাধ্যমে হোক যেমন, গিবত, পরনিন্দা, পরচর্চা, বেপর্দা, ও হারাম গান-বাদ্য ইত্যাদি থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
৪- এখলাস :
তাকওয়ার উপর ভিত্তি করে কোন এবাদত না হলে যেমন তা কবুল হয় না তেমনিভাবে এখলাস না থাকলেও সেটা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না। একমাত্র মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোন কাজ না হলে আল্লাহ সেটা গ্রহণ করেন না। সুতরাং যে কেউ লোক দেখানো অথবা শোনানোর জন্য, হাজী সাহেবা বলানোর জন্য হজ করতে যাবে সে সওয়াবের বদলে তার জীবনের সমস্ত সওয়াব শেষ করে আসবে। কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহ বলবেন:
اذهبوا إلى الذين كنتم تراءون)
“তাদের কাছে যাও যাদেরকে দেখানো বা শোনানোর জন্য তোমরা আমল করেছিলে”।[১৪]
৫- অসিয়ত করা।
এ সফরে যাওয়ার আগে আপনি আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অসিয়ত করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
(ما حق امرئ مسلم له شيء يوصي فيه يبيت ليلتين إلا ووصيته مكتوبة عنده)
“কোন মুসলিমের যদি কোন কিছু অসিয়ত করার থাকে তার জন্য এটা উচিত হবে না যে, সে অসিয়ত না করে দু’টি রাত যাপন করে”।[১৫]
আলেমগণ বলেন, যদি মানুষের হকের ব্যাপারে কোন অসিয়ত থাকে, যেমন কারো ঋণ, আমানত অথবা কোন ফরজ হক যা অসিয়ত ছাড়া সাব্যস্ত করার উপায় নেই এমতাবস্থায় অসিয়ত করে তা লিখে রাখাও উচিত। আর যদি কারো জন্যে সম্পদ থেকে নফল অসিয়ত করতে চায় তাহলে এক তৃতীয়াংশের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ রাখা প্রয়োজন।
৬- হজের মাসলা-মাসায়েল শিক্ষা করা.
হজের হুকুম আহকাম জানা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অথচ অধিকাংশ মানুষ হজের নিয়মাবলি না জেনে বা ভাসা ভাসা ধারণা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে। ফলে অনেক সময় দেখা যায় যে হজের জন্য এতকিছু বিসর্জন দিল তার সে হজ আশানুরূপ হয়ে উঠে না। অন্যায়-ও শরিয়ত গর্হিত কাজে নিজেরা জড়িয়ে পড়ে। আবার অনেকে বিদআতও করে বসে। হজ করা যেমন ফরজ, হজের নিয়ম-নীতি জানাও তেমনি ফরজ। কারণ, ফকিহগণের সুনির্দিষ্ট একটি “ধারা” হলো: “যা না হলে ফরজ আদায় হয় না তা করাও ফরজ।”
সুতরাং প্রত্যেক হাজী সাহেবারই উচিত হজের মাসলা-মাসায়েল সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা। চাই সেটা বিজ্ঞ আলেমদের জিজ্ঞাসা করেই হোক বা গ্রহণযোগ্য হজের কিতাব পাঠ করার মাধ্যমেই হোক অথবা হজ সংক্রান্ত কোন ক্যাসেট বা সিডি দেখার মাধ্যমেই হোক।
৭- টিকা গ্রহণ করা.
মুসলিম নর-নারী সবারই উচিত ছোট-বড় যাবতীয় বিষয়ে একমাত্র আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে কাজ করা। এ তাওয়াক্কুলের পর্যায়ে পড়ে এতদসংক্রান্ত বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করা। উপায়-উপকরণ গ্রহণের প্রথমেই রয়েছে, টিকা গ্রহণ করা। কারণ বিভিন্ন দেশ থেকে সেখানে মানুষের সমাগম হয়। বিভিন্ন ধরনের মহামারির উপদ্রব হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই আল্লাহর উপর ভরসা করার সাথে সাথে তাকে মারাত্মক জ্বর-রোগ-ব্যামো ইত্যাদির জন্য টিকা নেয়া উচিত।
দুই. হজের সফরে আপনাকে কয়েকটি জিনিস সাথে নিতে হবে:
হজের সফরে আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জিনিস সাথে নিতে হতে পারে, যা আপনার কাজে আসবে। যেমন:
১- এক খণ্ড কোরআন শরীফ :
যাতে আপনি গাড়ি, কিংবা বিমান অথবা খীমা যেখানে যে অবস্থায় থাকুন না কেন নিজের সময়টুকু কাজে লাগাতে পারেন। এ গুরুত্বপূর্ণ ঈমানী সফরটুকুকে কাজে লাগানোর সবচেয়ে উত্তম ও সঠিক মাধ্যম হলো, আল্লাহর কোরআনের সাথে সময়টুকু কাটানো। চিন্তা করে দেখুন, এক বর্ণে দশ নেকি থেকে শুরু করে সাত শত নেকি পর্যন্ত।
অনেকে বাজারে প্রচলিত ওজিফা নিয়ে থাকে। এ সমস্ত ওজিফা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শরিয়ত-বিরুদ্ধ কথা ও কাজে ভরপুর। এগুলো সাথে নেয়া যেমন গর্হিত কাজ তেমনি এগুলো পড়ে সময় নষ্ট করাও খারাপ কাজ। এগুলোর পরিবর্তে নিজেকে পবিত্র কোরআনের সাথে রাখুন।
২- ব্যাটারি সমেত ছোট একটি ক্যাসেট প্লেয়ার:
কারণ যখন আপনার কোরআন পড়তে অসুবিধা হবে তখন আপনি কারো কোরআন পড়া শুনতে পারেন। কোরআন শুনলেও সওয়াব হয়। সুতরাং আপনার প্রতিটা মুহূর্তে কোন না কোন ভাল কাজে ব্যয় করার জন্য সচেষ্ট থাকুন। তাছাড়া কোন হজ বা দীনি কোন ভাল আলেমের ক্যাসেটও শুনতে পারেন।
৩- গুরুত্বপূর্ণ কিছু দ্বীনি কিতাব:
হজের আহকাম সংবলিত ভালো ও গ্রহণযোগ্য কোন গ্রন্থ আপনার সাথে রাখার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে শায়খ আব্দুল আযীয ইবনে বায ও শায়খ মুহাম্মদ ইবনে সালেহ আল-উসাইমীন রাহেমাহুল্লাহ এর গ্রন্থসমূহ থেকে আপনি হজের সঠিক দিক-নির্দেশনা নিতে পারেন।
৪- স্যানেটারী ন্যাপকিন ও গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ সাথে নেয়া:
বিশেষ করে যাদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা আছে, তাদের উচিত যে ঔষধ তাদের সবসময় সেবন করতে হয় তা সাথে নিয়ে নেয়া। যেমন, ডায়াবেটিস, হাইপার-টেনশন, রক্তচাপ, মাথা ব্যথা ইত্যাদির ঔষধ সাথে নিয়ে নেয়া জরুরি।
তিন. হজের সফরে যাওয়ার সময় আপনার বিশেষ করণীয়
৫- হজে বের হওয়ার পূর্ব ক্ষণে দু’রাকাআত নামাজ পড়ে এ নামাজের অসীলা দিয়ে দোয়া করতে পারেন যাতে আল্লাহ আপনার যাবতীয় কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেন।
৬- হজে বের হওয়ার সময় সফরের শুরুতে যানবাহনে উঠে সফরের দোয়া পড়া। সফরের দোয়া হচ্ছে:
উচ্চারণ: “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। সুবহানাল্লাযী সাখখারা লানা হাযা ওমা কুন্না লাহূ মুকরিনীন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনকালিবূন। আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফী সাফারিনা হাযাল বিররা ওয়াত্‌ তাক্‌ওয়া, ওয়া মিনাল ‘আমালি মা তারদ্বা, আল্লাহুম্মা হাওয়িন ‘আলাইনা সাফারানা হাযা ওয়াতওয়ে ‘আন্না বু’দাহু, আল্লাহুম্মা আনতাস সাহিবু ফিস সাফারে ওয়াল খালিফাতু ফিল আহলি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আ’উযু বিকা মিন ওয়া’সায়িস সাফারে, ওয়া কাআবাতিল মানযারি ওয়া সূওয়িল মুনকালাবি ফিল মালি ওয়াল আহল”।
“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। কতই না পবিত্র সে মহান সত্তা যিনি আমাদের জন্য এটাকে বশীভূত করে দিয়েছেন যদিও আমরা তা বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না, আর আমরা অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করব আমাদের প্রতিপালকের নিকট।” হে আল্লাহ! আমাদের এ সফরে আমরা আপনার নিকট নেককাজ আর তাকওয়া এবং যে কাজে আপনি সন্তুষ্ট এমন কাজ প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য এ সফরকে সহজসাধ্য করে দিন এবং এর দূরত্বকে আমাদের জন্য হ্রাস করে দিন। হে আল্লাহ! আপনিই সফরে আমাদের সাথি এবং গৃহে রেখে আসা পরিবার পরিজনের খলিফা বা স্থলাভিষিক্ত (তাদের রক্ষণা বেক্ষনকারী)। হে আল্লাহ! আমরা আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি সফরের ক্লেশ হতে এবং অবাঞ্ছিত কষ্টদায়ক দৃশ্য দর্শন হতে এবং সফর হতে প্রত্যাবর্তনকালে সম্পদ ও পরিজনের ক্ষয়ক্ষতির অনিষ্টকর দৃশ্য দর্শন হতে।[১৬]
মহিলা হাজী সাহেবার জন্য যা বর্জনীয়
এহরামের আগে ও পরে সর্বাবস্থায় বর্জনীয় বিষয়সমূহ:
কিছু কিছু জিনিস এমন আছে যেগুলো এহরাম অবস্থা ছাড়াও হারাম। তারপর যদি সেগুলো এহরাম অবস্থায় করা হয় তখন সেটা গুরুতর অপরাধ বলে বিবেচিত হয়। সুতরাং হজের এহরাম বাধা বা সংকল্প করার সাথে সাথে প্রত্যেকে হাজী সাহেবার উচিত এগুলো থেকে নিজেকে হেফাজত করা। যেমন, গিবত, চোগলখোরী, পরনিন্দা, পর-চর্চা, মিথ্যা কথা, মিথ্যা সাক্ষী, হারাম গান-বাজনা শোনা, হারাম বস্তুর দিকে তাকানো, গালি-গালাজ অন্যায় আচরণ ও ঝগড়া ইত্যাদি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে রাখতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন:
“হজ হয় সুবিদিত মাসগুলোতে। তারপর যে কেউ এ মাসগুলোতে হজ করা স্থির করে তার জন্য হজের সময় স্ত্রী-সম্ভোগ, অন্যায় আচরণ ও কলহ-বিবাদ করা যাবে না। তোমরা উত্তম কাজের যা কিছু কর আল্লাহ তা জানেন আর তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর, অবশ্য তাকওয়াই শ্রেষ্ঠ পাথেয়। হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ! তোমরা আমাকে ভয় কর।”[১৭]
এ জন্য মহিলা হাজীসাহেবাদের উচিত যে সমস্ত কথাবার্তায় কোন উপকার নেই সে সমস্ত কথা ত্যাগ করে চলা। এতে করে তিনি অনেক পাপাচার থেকে নিজেকে হেফাজত করতে পারবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليقل خيراً أو ليصمت
“তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও আখেরাত দিনের উপর ঈমান রাখে সে যেন কল্যাণের কথা বলে অথবা চুপ থাকে”।[১৮]
সুতরাং আপনার উচিত কাজ হবে অবসর সময়টুকু তালবিয়া, আল্লাহর জিকির, কোরআন তিলাওয়াত, সৎকাজের আদেশ অসৎ কাজ থেকে নিষেধ অথবা কোন মূর্খকে কিছু শেখানোর মাধ্যমে কাটানো। যে সমস্ত কথাবার্তায় গুনাহ নেই তা বলা জায়েয হলেও কম বলা উচিত।
এহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজসমূহ :
১) মাথার চুল কামানো বা উঠানো অথবা যে কোনভাবে তা দূর করা যাবে না। মহান আল্লাহ বলেন:

 وَلا تَحْلِقُوا رُؤُوسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ
“আর যতক্ষণ পর্যন্ত হাদী তার স্থানে না পৌঁছাবে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের মাথা মুণ্ডন করো না”।[১৯]
অধিকাংশ আলেমের মতে, শরীরের অন্যান্য অংশের চুলের বিধানও একই প্রকার। সুতরাং এহরাম অবস্থায় শরীরের কোন অংশের চুলই কাটতে বা ছাঁটতে পারবে না।
২) নখ কাটাঃ
আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, এহরাম অবস্থায় চুল কাটা যেমন হারাম তেমনি নখ কাটাও হারাম। তবে যদি কোন কারণে নখ ভেঙে যায় তবে সেটা ফেলে দেয়ায় কোন দোষ নেই।[২০]
৩) গায়ে বা কাপড়ে সুগন্ধি লাগানো:
এহরাম অবস্থায় গায়ে বা কাপড়ে সুগন্ধি লাগানো যাবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
(لا تلبسوا من الثياب شيئا مسه الزعفران. ولا الورس )
“তোমরা এমন কাপড় পরিধান করো না যাতে জাফরান বা ওয়ারস সুগন্ধি লেগেছে।”[২১]
অনুরূপভাবে এক সাহাবি হজের সময় তার বাহন থেকে পড়ে মারা যায় তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কাফন দেয়ার নিয়ম বলে দেয়ার সময় বলেছিলেন:
(ولا تقربوه طيبا )
“তোমরা একে আতর বা সুগন্ধি লাগিও না”।[২২] তাই সুগন্ধিযুক্ত বস্তু পরিত্যাগ করতে হবে। যেমন, সুগন্ধিযুক্ত সাবান, সুগন্ধিযুক্ত পানীয় ও খাবার ইত্যাদিও পরিত্যাজ্য।
৪) নেকাব ও হাত মোজা পরিধান করা পরিত্যাগ করতে হবে। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
( لا تتنقب المرأة الحرم (أي المحرمة ) ولا تلبس القفازين )
“এহরাম অবস্থায় কোন মহিলা নেকাব পরবে না, অনুরূপভাবে হাত মোজাও লাগাবে না”।[২৩]
৫) বিয়ে-শাদি করা বা করানো কোনটাই করা যাবে না:
রা