নারী পুরুষে দেখাদেখি, নির্জনে অবস্থান ও সহাবস্থান বিষয়ক ফতোয়া পর্ব -2


শিল্প-কারখানা ও অফিস-আদালতে নারী-
পুরুষে সহাবস্থানের বিধান
প্রশ্ন: শিল্প-কারখানায় অথবা অনিসলামিক
অফিসসমূহে পুরুষদের মতো করে নারীদের
কাজকারবার ও লেনদেনের বিধান কী? আর
ঐ জীবনের বিধান কী হবে, যে ভয়াবহ
রোগের কারণে ধ্বংসের মুখোমুখি হয়েছে,
উল্লিখিত এ পরিস্থিতিতে সে রোগের
চিকিৎসার বিষয়টি মুসলিম নারীকে বেপর্দা
করার দিকে নিয়ে যায়, যদিও ইসলামী তথা
মুসলিম দেশসমূহের ডাক্তারগণ সবই পুরুষ?
উত্তর: অমুসলিমদের দেশে অমুসলিম পুরুষদের
সাথে অমুসিলম নারীদের মেলামেশা বা
সহাবস্থানের বিধানের ব্যাপারে কথা হলো,
তা অবৈধ, বরং তাদের জন্য এর চেয়ে আরও
বড় অপরাধ হলো আল্লাহ তা‘আলাকে
অস্বীকার করা। সুতরাং তাদের মাঝে এ
ধরনের অশ্লীল কাজ সংঘটিত হওয়ার
বিষয়টিকে অযৌক্তিক ভাবার কিছু নেই। আর
ইসলামী দেশে মুসলিম পুরুষদের সাথে মুসিলম
নারীদের মেলামেশা বা সহাবস্থানের
বিষয়টি একেবারেই হারাম এবং যেখানে এ
ধরনের সহাবস্থান পরিলক্ষিত হবে,
সেখানকার প্রশাসন বা দায়িত্বশীলগণের
জন্য আবশ্যকীয় করণীয় হলো, তারা নারী ও
পুরুষদেরকে আলাদা আলাদা বিভাগে কাজ
করাবেন। কেননা নারী ও পুরুষের মাঝে
মেলামেশা ও সহাবস্থানের মধ্যে নৈতিক ও
চারিত্রিক বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ, যা
ন্যূনতম বুদ্ধি ও বিবেকবান ব্যক্তির নিকটও
অস্পষ্ট নয়। আর চিকিৎসার জন্য পুরুষ কর্তৃক
মুসলিম নারীকে জরুরি প্রয়োজনে (শরীরের
কোনো অঙ্গ) নগ্ন করতে হয় এবং এমতাবস্থায়
পুরুষ ব্যতীত কোনো নারী চিকিৎসক পাওয়া
না যায়, তখন এটা বৈধ হবে, কিন্তু সম্ভব হলে
তা হতে হবে তার স্বামীর উপস্থিতিতে এবং
তার শরীর থেকে ততটুকু পরিমাণ জায়গাই
বস্ত্রমুক্ত করবে, যতটুকু নগ্ন করা চিকিৎসার
প্রয়োজনে জরুরি হয়, আর এটা বৈধ হওয়ার
ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো এমন কতগুলো দলীল,
যা জরুরি মুহূর্তে উম্মতের জন্য শরী‘আতকে
শিথিল করে দিয়েছে এবং সংকট দূর
করেছে। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ﻣَﺎ ﻳُﺮِﻳﺪُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻟِﻴَﺠۡﻌَﻞَ ﻋَﻠَﻴۡﻜُﻢ ﻣِّﻦۡ ﺣَﺮَﺝٖ﴾ ‏[ ﺍﻟﻤﺎﺋﺪﺓ : ٦‏]
“আর আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো
সংকীর্ণতা করতে চান না”। [সূরা আল-
মায়েদা, আয়াত: ৬]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿ﻭَﻣَﺎ ﺟَﻌَﻞَ ﻋَﻠَﻴۡﻜُﻢۡ ﻓِﻲ ﭐﻟﺪِّﻳﻦِ ﻣِﻦۡ ﺣَﺮَﺝٖۚ﴾ ‏[ﺍﻟﺤﺞ : ٧٨‏]
“আর তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর
কোন সংকীর্ণতা রাখেন নি”। [সূরা আল-হজ,
আয়াত: ৭৮]
স্থায়ী ফতোয়া বোর্ড
নারী-পুরুষ সহাবস্থানে নারী’র কাজ করার
বিধান
প্রশ্ন: কোনো যুবতীর জন্য পুরুষদের সাথে
সহাবস্থানে থেকে কোনো জায়গায় কাজ
করা জায়েয হবে কি, জেনে রাখা ভালো
যে, সে জায়গায় সে ছাড়া আরও অন্যান্য
মেয়েরাও কাজ করে?
উত্তর: আমার মতে নারী ও পুরুষ
সম্মিলিতভাবে কোনো সরকারী কাজ করা,
অথবা কোনো বিশেষ ক্ষেত্র বা এলাকায়
কাজ করা, অথবা কোনো সরকারী বা
বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করা
বৈধ নয়। কারণ, নারী-পুরুষ সহাবস্থানে অনেক
ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি হয়, আর তাতে নারীর
লজ্জা-শরমের অবসান ঘটে এবং পুরুষদের
ব্যাপরে শ্রদ্ধামিশ্রিত ভয় বা আতঙ্কের
ব্যাপারটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। কেননা যখন পুরুষ
ও নারীদের সংমিশ্রণ ঘটে, তখন অবস্থা এমন
হয়ে যায় যে, পুরুষদের নিকট নারীদের থেকে
ভয়ের কোনো বিষয় থাকে না এবং নারীদের
নিকট পুরুষদের ব্যাপারে লজ্জা করার
কোনো ব্যাপার থাকে না, আর এটা (অর্থাৎ
নারী ও পুরুষদের মাঝে অবাধ মেলামেশা)
ইসলামী শরী‘আত যা দাবি করে, তার সম্পূর্ণ
বিপরীত এবং পূর্ববর্তী সৎ ব্যক্তিগণ যে
নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, তারও
পরিপন্থী; আপনি কি জানেন না যে, যখন
মহিলারা ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হতেন,
তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম
তাদের জন্য একটি বিশেষ স্থান নির্ধারণ
করে দিতেন, যাতে তারা পুরুষদের সাথে
মিশে না যায়; যেমন সহীহ হাদীসের মধ্যে
এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম পুরুষদের মাঝে ভাষণ দেওয়ার
সময় (তাদের মাঝে) অবস্থান করতেন এবং
পরে নারীদের উদ্দেশ্যে চলে যেতেন, তারপর
তাদেরকে ওয়াজ নসীহত করতেন, এটি প্রমাণ
করে যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লামের খুতবা (ভাষণ) শুনতে পেতেন
না অথবা শুনতে পেলেও রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে
তারা যা শুনতেন, তা সম্পূর্ণভাবে হৃদয়ঙ্গম
করতে পারতেন না। তারপর আপনি কি জানেন
না যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
‏« ﺧَﻴْﺮُ ﺻُﻔُﻮﻑِ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀِ ﺁﺧِﺮُﻫَﺎ، ﻭَﺷَﺮُّﻫَﺎ ﺃَﻭَّﻟُﻬَﺎ . ﻭَﺧَﻴْﺮُ ﺻُﻔُﻮﻑِ
ﺍﻟﺮِّﺟَﺎﻝِ ﺃَﻭَّﻟُﻬَﺎ، ﻭَﺷَﺮُّﻫَﺎ ﺁﺧِﺮُﻫَﺎ ‏» .
“নারীদের সর্বোত্তম সারি বা কাতার হলো
শেষ কাতার এবং সবচেয়ে মন্দ কাতার হলো
তাদের প্রথম কাতার, আর পুরুষদের সর্বোত্তম
কাতার হলো প্রথম কাতার এবং সবচেয়ে মন্দ
কাতার হলো তাদের শেষ কাতার।” [14]
আর নারীদের প্রথম সারিটি শুধু পুরুষদের
থেকে নিকটবর্তী হওয়ার কারণেই তা নিকৃষ্ট
সারি হয়ে গেল এবং নারীদের সর্বশেষ
সারিটি শুধু পুরুষদের থেকে দূরবর্তী হওয়ার
কারণেই তা উৎকৃষ্ট সারি হয়ে গেল, আর যখন
এ রকম অবস্থা যৌথভাবে ‘ইবাদত করার
ক্ষেত্রে হয়, তখন ‘ইবাদত ভিন্ন অন্য ক্ষেত্রে
আপনার অবস্থাটা কেমন হওয়া দরকার! আবার
সকলেরই জানা আছে যে, মানুষ ‘ইবাদত করা
অবস্থায় লিঙ্গ বা শ্রেণীগত স্বভাব-প্রকৃতির
সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি থেকে অনেক দূরে
থাকে। সুতরাং যখন ইবাদাত ভিন্ন অন্য
ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সহাবস্থান হবে, তখন
অবস্থাটি কেমন হবে?! কারণ, শয়তান তো বনী
আদমের রক্ত সঞ্চালনের শিরায় শিরায়
চলাচল করে সুতরাং সে তো এ ধরনের
সহাবস্থানের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টি ও বড়
ধরনের দুর্ঘটনা ঘটানোর ব্যাপারে দূরে দূরে
থাকবে না, আর আমি আমাদের ভাইদেরকে
যে দিকে আহ্বান করব, তা হলো তারা যেন
নারীদের সাথে সহাবস্থান করা থেকে দূরে
থাকে এবং তারা যেন জেনে রাখে যে,
পুরুষদের জন্য তা খুবই ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক,
যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
‏« ﻣَﺎ ﺗَﺮَﻛْﺖُ ﺑَﻌْﺪِﻯ ﻓِﻰ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻓِﺘْﻨَﺔً ﺃَﺿَﺮَّ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺮِّﺟَﺎﻝِ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀِ ‏» .
“আমি আমার পর জনগণের মাঝে পুরুষদের জন্য
মহিলাদের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর আর কোনো
ফিতনা ছেড়ে যাচ্ছি না।” [15]
সুতরাং আমরা আল-হামদুলিল্লাহ! আমরা
মুসলিম, আমাদের একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য
আছে- আমাদের জন্য আবশ্যক হলো আমরা সে
বৈশিষ্ট্যের দ্বারা অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র
বৈশিষ্ট্য নিয়ে থাকব, আর আমাদের জেনে
রাখা আবশ্যক যে, প্রজ্ঞাময় মহান আল্লাহর
শরী‘আতের অনুসারী, যিনি বান্দা ও
রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর বিষয় সম্পর্কে
জানেন এবং আমাদের আরও জেনে রাখা
উচিৎ যে, যারা আল্লাহ তা‘আলার রাস্তা ও
শরী‘য়ত থেকে দূরে থাকবে, তারা পথভ্রষ্ট
এবং তাদের কর্মকাণ্ড বিশৃঙ্খলা ও
বিপর্যয়ের পরিণতি লাভ করে, আর এ জন্য
আমরা শুনতে পাই, যেসব জাতির নারীরা
পুরুষদের সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে,
তারা এখন যথাসাধ্য চেষ্টা করছে এ
পরিস্থিতি থেকে মুক্তিলাভ করার জন্য,
কিন্তু তারা এতো দূর থেকে কীভাবে সে
কাঙ্খিত মুক্তিলাভ করবে। আল্লাহ তা‘আলার
নিকট আমাদের আবেদন, তিনি যেন আমাদের
দেশ ও মুসলিম অধ্যূষিত দেশসমূহকে যাবতীয়
মন্দ, খারাপি ও ফিতনা থেকে রক্ষা করেন।
শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-‘উসাইমীন
ভাবির চেহারার দিকে দৃষ্টি দেওয়ার
বিধান
প্রশ্ন: এখানে আধুনিক সভ্যতার
দাবিদারগণের কেউ কেউ ভাবির (ভাইয়ের
বউ’র) চেহারার দিকে তাকানোকে বৈধ বলে
প্রচার করেন এবং এর সপক্ষে কিছু বিশুদ্ধ
দলীলও (তাদের দৃষ্টিতে) পেশ করেন। এর
জবাবে আপনাদের মতামত কীভাবে ব্যক্ত
করবেন, সবিনয়ে জানতে চাই?
উত্তর: ভাইয়ের বউ তথা ভাবি অন্যান্য নারীর
মতো-ই অপরিচিত বা পরনারীদের অন্তর্ভুক্ত।
সুতরাং তার ভাইয়ের জন্য তার (ভাবির)
দিকে তাকানো বৈধ নয়, যেমনিভাবে বৈধ নয়
চাচী, মামী ও তাদের মত নারীদের দিকে
তাকানো। আর তার জন্য বৈধ নয় সকল
অপরিচিত নারীদের মত তাদের কোনো
একজনের সাথে একান্ত নির্জনে সাক্ষাৎ
করা, আর তাদেরও কারো জন্য বৈধ নয় তার
স্বামীর ভাই তথা দেবরের সামনে বা তার
(দেবরের) চাচা বা মামার সামনে বেপর্দা
অবস্থায় চলাফেরা করা অথবা তাকে নিয়ে
সফর করা বা একান্ত নির্জনে অবস্থান বা
সাক্ষাৎ করা। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা
সাধারণভাবে বলেন:
﴿ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺳَﺄَﻟۡﺘُﻤُﻮﻫُﻦَّ ﻣَﺘَٰﻌٗﺎ ﻓَﺴَۡٔﻠُﻮﻫُﻦَّ ﻣِﻦ ﻭَﺭَﺍٓﺀِ ﺣِﺠَﺎﺏٖۚ ﺫَٰﻟِﻜُﻢۡ
ﺃَﻃۡﻬَﺮُ ﻟِﻘُﻠُﻮﺑِﻜُﻢۡ ﻭَﻗُﻠُﻮﺑِﻬِﻦَّۚ﴾ ‏[ ﺍﻻﺣﺰﺍﺏ : ٥٣ ‏]
“তোমরা তার পত্নীদের কাছ থেকে কিছু
চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এ
বিধান তোমাদের ও তাদের হৃদয়ের জন্য
বেশি পবিত্র”।[সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৩]
আহলুল ইলমের বিশুদ্ধ মতে এ আয়াতটি
সাধারণভাবে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ ও অন্যান্য নারীদের
বেলায় সমানভাবে প্রযোজ্য। তাছাড়া
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেছেন:
﴿ﻗُﻞ ﻟِّﻠۡﻤُﺆۡﻣِﻨِﻴﻦَ ﻳَﻐُﻀُّﻮﺍْ ﻣِﻦۡ ﺃَﺑۡﺼَٰﺮِﻫِﻢۡ ﻭَﻳَﺤۡﻔَﻈُﻮﺍْ ﻓُﺮُﻭﺟَﻬُﻢۡۚ
ﺫَٰﻟِﻚَ ﺃَﺯۡﻛَﻰٰ ﻟَﻬُﻢۡۚ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﺧَﺒِﻴﺮُۢ ﺑِﻤَﺎ ﻳَﺼۡﻨَﻌُﻮﻥَ ٣٠﴾ ‏[ﺍﻟﻨﻮﺭ :
٣٠ ‏]
“মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের
দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের
লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। এটিই তাদের
জন্য অধিক পবিত্র। তারা যা করে নিশ্চয়
আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত”। [সূরা আন-
নূর, আয়াত: ৩০]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﻗُﻞ ﻟِّﺄَﺯۡﻭَٰﺟِﻚَ ﻭَﺑَﻨَﺎﺗِﻚَ ﻭَﻧِﺴَﺎٓﺀِ ﭐﻟۡﻤُﺆۡﻣِﻨِﻴﻦَ
ﻳُﺪۡﻧِﻴﻦَ ﻋَﻠَﻴۡﻬِﻦَّ ﻣِﻦ ﺟَﻠَٰﺒِﻴﺒِﻬِﻦَّۚ ﺫَٰﻟِﻚَ ﺃَﺩۡﻧَﻰٰٓ ﺃَﻥ ﻳُﻌۡﺮَﻓۡﻦَ ﻓَﻠَﺎ
ﻳُﺆۡﺫَﻳۡﻦَۗ﴾ ‏[ ﺍﻻﺣﺰﺍﺏ :
٥٩‏]
“হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে,
কন্যাদেরকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন,
তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ
নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে
চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্যক্ত
করা হবে না”। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৯]
আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেন:
‏« ﻻَ ﺗُﺴَﺎﻓِﺮُ ﺍﻟﻤَﺮْﺃﺓُ ﺇِﻻَّ ﻣَﻊَ ﺫِﻱ ﻣَﺤْﺮَﻡٍ ‏» .
“কোনো মাহরাম পুরুষের সাথে ছাড়া কোনো
নারী সফর করবে না।” [16]
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আরও বলেছেন:
‏« ﻻَ ﻳَﺨْﻠُﻮَﻥَّ ﺭَﺟُﻞٌ ﺑِﺎﻣْﺮَﺃَﺓٍ ﺇِﻟَّﺎ ﻛَﺎﻥَ ﺛَﺎﻟِﺜَﻬُﻤَﺎ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥُ‏» .
“কোনো ব্যক্তি কখনও কোনো মহিলার সাথে
একান্তে সাক্ষাৎ করবে না। তবে জেনে
রাখবে এমতাবস্থায় তাদের সাথে তৃতীয় জন
হলো শয়তান।” [17]
তাছাড়া তার দেবর বা অনুরূপ কোনো
পুরুষের সামনে বেপর্দা অবস্থায় চলার মধ্যে
এবং ঐ পুরুষ কর্তৃক তার চেহারার দিকে
তাকানোর মধ্যে ফিতনার অনেক কারণ
নিহিত রয়েছে এবং আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক
নিষিদ্ধ কাজে জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও
অনেক। আল্লাহই ভালো জানেন- এসব বিষয়ই
হলো পর্দার বিষয়টি বাধ্যতামূলক হওয়ার,
তাদের দিকে দৃষ্টি দেওয়া ও তার সাথে
একান্ত নির্জনে সাক্ষাৎ করাটা নিষিদ্ধ
ঘোষণার অন্যতম হিকমত। কেননা চেহারা
হলো সৌন্দর্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু। আর
আল্লাহই হলেন তাওফীক দানের একমাত্র
মালিক।
শাইখ আবদুল আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায
নারীদের চেহারার দিকে তাকানোর
বিধান
প্রশ্ন: পুরুষ ব্যক্তির জন্য অপরিচিত নারীর
দিকে আকস্মিক এক নজরের চেয়ে বেশি বার
তাকানো বৈধ কিনা? আর যদি তা বৈধ না
হয়, তাহলে পুরুষ ছাত্রদের জন্য
শিক্ষাগ্রহণের যুক্তি দেখিয়ে এমন
বক্তব্যের অনুষ্ঠানে হাযির হওয়া বৈধ হবে
কি, যেখানে বক্তব্য পেশ করেন একজন
সৌন্দর্য প্রদর্শনকারিনী নারী অথবা
শরীরের সাথে লেগে থাকা আঁটসাঁট পোশাক
পরিহিতা নারী?
উত্তর: পুরুষ ব্যক্তির জন্য অপরিচিত নারীর
দিকে আকস্মিক এক নজরের চেয়ে বেশি বার
তাকানো জায়েয হবে না; কিন্তু ডুবে যাওয়া
থেকে, অথবা আগুনে পোড়া থেকে অথবা
ধ্বংসস্তুপ থেকে অথবা অনুরূপ কোনো বিপদ
থেকে উদ্ধার করার মতো জরুরি অবস্থায়
অথবা ডাক্তারি পরীক্ষা করা অথবা রোগের
চিকিৎসা করানোর মত জরুরি অবস্থায় যখন এ
দায়িত্ব পালন করার মত কোনো নারীকে
পাওয়া সহজ না হয়, তখন বিশেষ প্রয়োজনের
কারণে পুরুষ ব্যক্তির জন্য আক্রান্ত নারীর
দিকে একাধিকবার তাকানো বৈধ হবে।
ﻭ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻰ ﻧﺒﻴﻨﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﻭ ﻋﻠﻰ ﺁﻟﻪ ﻭ ﺻﺤﺒﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ
.
(আল্লাহ সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন
আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এবং তাঁর
পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর)।
স্থায়ী ফতোয়া বোর্ড
যৌন কামনা ব্যতীত হারাম শরীফে
নারীদের দিকে তাকানো
প্রশ্ন: হারাম শরীফে যৌন কামনা ব্যতীত
কোনো পুরুষ নারীদের দিকে তাকালে তাকে
শরী‘আতের দৃষ্টিতে দোষী সাব্যস্ত করা হবে
কিনা, জেনে রাখা দরকার যে, নারীরাই
তাদের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে?
উত্তর: বাস্তব কথা হলো হারাম শরীফে
নারীদের সমস্যাটি একটি বড় ধরনের সমস্যা।
কারণ, নারীদের মধ্যে যারা ইবাদাত ও
আনুগত্যের এ স্থানটিতে হাযির হন, তারা
এমন চেহারা নিয়ে হাযির হন, যাতে কেউ
ফিতনার শিকার না হয়, আবার কোনো
কোনো নারী আসে সৌন্দর্য প্রদর্শন করে
সুগন্ধি লাগিয়ে এবং কখনও কখনও তার
চালচলন থেকে এমন ভাব প্রকাশ পায় যে, সে
পুরুষদের সাথে প্রেমালাপ করছে, আর এ
কাজটি মসজিদে হারাম ছাড়া অন্য যে
কোনো জায়গাতেও অন্যায় ও অপরাধ।
সুতরাং তা মসজিদে হারামে কীভাবে বৈধ
হতে পারে?! আর তাদের মধ্য থেকে যারা
শুনেন ও পাঠ করেন, তাদের প্রতি আমার
নসীহত বা উপদেশ হলো, তারা যেন তাদের
নিজেদের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলাকে ভয়
করেন এবং যে কেনো অপরাধ সংঘটিত হওয়া
থেকে ‘বাইতুল্লাহ’ তথা আল্লাহ তা‘আলার
ঘরকে সম্মান করেন। আর পুরুষগণের দায়িত্ব
হলো, যখন তারা কোনো নারীকে অশালীন
চেহারায় দেখতে পাবে, তখন তাদের কর্তব্য
হলো তাকে উপদেশ দেওয়া, ধমক দেওয়া
অথবা যিনি তাকে নিষেধ করতে ও ধমক
দিতে পারেন, তার সম্পর্কে তাকে জানিয়ে
দেওয়া, আর আল-হামদুলিল্লাহ, (সেখানকার)
মানুষগুলোর মধ্যে ভালো গুণ রয়েছে।
কিন্তু এটা সত্ত্বেও আমরা বলব: অবশ্যই পুরুষ
ব্যক্তির দায়িত্ব হলো সাধ্য অনুযায়ী তার
দৃষ্টিকে অবনমিত রাখা, যেমনটি আল্লাহ
তা‘আলা বলেছেন:
﴿ﻗُﻞ ﻟِّﻠۡﻤُﺆۡﻣِﻨِﻴﻦَ ﻳَﻐُﻀُّﻮﺍْ ﻣِﻦۡ ﺃَﺑۡﺼَٰﺮِﻫِﻢۡ ﻭَﻳَﺤۡﻔَﻈُﻮﺍْ ﻓُﺮُﻭﺟَﻬُﻢۡۚ
﴾ ‏[ ﺍﻟﻨﻮﺭ : ٣٠ ‏]
“মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের
দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের
লজ্জাস্থানের হিফাযত করে।” [18]
সুতরাং তার আবশ্যকীয় দায়িত্ব হলো তার
দৃষ্টিকে সাধ্যানুসারে অবনমিত রাখা,
বিশেষ করে যখন সে নিজেকে দেখবে মজা
পাওয়ার জন্য মন আনচান করে, তখন তার জন্য
ওয়াজিব হলো বেশি বেশি করে নিচের
দিকে তাকানো, আর এ বিষয়ে জনগণের
মধ্যে বহু রকম-ফের রয়েছে।
শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-‘উসাইমীন
ইচ্ছাকৃতভাবে হারাম শরীফে নারীদের
দিকে তাকানোর বিধান
প্রশ্ন: যখন পুরুষ ব্যক্তি মসজিদে হারামে
(জুমু‘আর) সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হয়
এবং নারীদের স্থানের খুব কাছাকাছি
সালাত আদায় করে, আর কয়েক বার তাদের
চেহারার দিকে তাকানো হয়ে যায়,
এমতাবস্থায় এর বিধান কী হবে?
উত্তর: হাদীসে সালাতের মধ্যে পুরুষগণ কর্তৃক
নারীদের নিকটবর্তী স্থানে অবস্থানের
ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
কারণ, পুরুষদের সর্বোত্তম সারি বা কাতার
হলো প্রথম কাতার এবং সবচেয়ে মন্দ কাতার
হলো তাদের শেষ কাতার। কেননা শেষ
কাতারটি নারীদের নিকটবর্তী হওয়ার
কারণেই মন্দ কাতার, আর নারীদের
সর্বোত্তম সারি বা কাতার হলো শেষ কাতার
এবং সবচেয়ে মন্দ কাতার হলো তাদের প্রথম
কাতার। কেননা প্রথম কাতারটি পুরুষদের
নিকটবর্তী হওয়ার কারণেই মন্দ কাতার।
সুতরাং পুরুষের জন্য মসজিদে ইচ্ছকৃতভাবে
নারীদের দিকে তাকানো হারাম এবং
নারীর আবশ্যকীয় কাজ হলো সে মসজিদে
পর্দা পালন করবে এবং এমন জায়গায় প্রবেশ
করবে, যেখানে সাধারণত পুরুষগণ প্রবেশ করে
না। এটি হলো, সে যদি মসজিদে সালাত
আদায় করতে চায়, তবে সালাত আদায়ের জন্য
তার নিজস্ব ঘরই উত্তম স্থান।
শাইখ আবদুল্লাহ ইবন আবদির রহমান আল-
জিবরীন
ছাত্র কর্তৃক ছাত্রীকে সালাম দেওয়ার
বিধান
প্রশ্ন: আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, কোনো
কোনো সময় আমি মেয়েদেরকে সালাম দেই।
আমার প্রশ্ন হলো ছাত্র কর্তৃক তার সহপাঠী
বান্ধবীদেরকে স্কুল-কলেজে সালাম দেয় কী
বৈধ, নাকি অবৈধ?
উত্তর: প্রথমত মেয়েদের সাথে একই জায়গায়
একই প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করাটাই বৈধ
নয়। কেননা এটা হলো ফিতনার অন্যতম বড়
একটি কারণ। সুতরাং কোনো ছাত্র ও
ছাত্রীর জন্য এ ধরনের যৌথ অংশগ্রহণমূলক
কোনো কর্মকাণ্ড বৈধ নয়, যেহেতু তার মধ্যে
ফিতনার আশঙ্কা রয়েছে। আর সালামের
বিষয়টি হলো যে সালামের মধ্যে ফিতনার
কোনো কারণ প্রদর্শিত হয় না ছাত্র কর্তৃক
ছাত্রীকে এমন শরী‘আত সম্মত সালাম প্রদান
করাতে কোনো অসুবিধা নেই এবং ছাত্রী
কর্তৃক ছাত্রকে সালাম দেওয়াতেও কোনো
সমস্যা নেই, তবে কোনো অবস্থাতেই তারা
মুসাফাহা (করমর্দন) করবে না। কারণ,
অপরিচিত নারী পুরুষে মুসাফাহা করা বৈধ
নয়; বরং সালাম হবে পর্দা রক্ষা করে দূর
থেকে এবং সাথে ফিতনার উপলক্ষসমূহ
থেকেও দূরে থাকতে হবে, আর কোনো
অবস্থাতেই একান্ত নির্জনে এ ধরনের সালাম
চলবে না। কারণ, শরী‘আতসম্মত সালামের
মধ্যে কোনো ফিতনা না থাকাতে তাতে
কোনো দোষ নেই। তবে ছাত্র কর্তৃক
ছাত্রীকে অথবা ছাত্রী কর্তৃক ছাত্রকে
সালাম দেওয়ার সময় যখন এমন কোনো
মানসিকতা থাকে, যা ফিতনার কারণ
হিসেবে গণ্য (অর্থাৎ কামভাবের সাথে ও
আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক নিষিদ্ধ কোনো
উদ্দীপনা নিয়ে সালাম দেওয়া), তখন এ
সালাম শরী‘আতের নিয়মানুযায়ী নিষিদ্ধ।
আর তাওফীক দানের মালিক হলেন আল্লাহ।
শাইখ আবদুল আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায
টেলিভিশনে সৌন্দর্য প্রদর্শনকারিনী
নারীদেরকে দেখার বিধান
প্রশ্ন: আপনার নিকট প্রশ্ন হলো টেলিভিশনে
সৌন্দর্য প্রদর্শনকারিনী নারীদেরকে
দেখার বিধান কী?
উত্তর: উলঙ্গ অথবা অর্ধ উলঙ্গ অথবা বে-
পর্দা নারীদেরকে দেখা বৈধ নয়।
অনুরূপভাবে এমন পুরুষ লোকদেরকেও দেখা
বৈধ নয়, যারা তাদের উরুকে উন্মুক্ত করে
রাখে। এ দৃশ্য দেখা কোনো অবস্থাতেই বৈধ
নয়, চাই টেলিভিশনে হউক অথবা ভিডিও বা
সিনেমাতে হউক অথবা অন্য কোথাও; বরং এ
ক্ষেত্রে আবশ্যক হলে চক্ষুকে অবনমিত রাখা
এবং দৃষ্টিকে ফিরিয়ে রাখা। কারণ, এটা
একটা ফিতনা এবং হৃদয় মনকে নষ্ট করার ও
হিদায়াতের পথ থেকে বিচ্যুতির অন্যতম
কারণ। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ﻗُﻞ ﻟِّﻠۡﻤُﺆۡﻣِﻨِﻴﻦَ ﻳَﻐُﻀُّﻮﺍْ ﻣِﻦۡ ﺃَﺑۡﺼَٰﺮِﻫِﻢۡ ﻭَﻳَﺤۡﻔَﻈُﻮﺍْ ﻓُﺮُﻭﺟَﻬُﻢۡۚ
ﺫَٰﻟِﻚَ ﺃَﺯۡﻛَﻰٰ ﻟَﻬُﻢۡۚ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﺧَﺒِﻴﺮُۢ ﺑِﻤَﺎ ﻳَﺼۡﻨَﻌُﻮﻥَ ٣٠ ﻭَﻗُﻞ
ﻟِّﻠۡﻤُﺆۡﻣِﻨَٰﺖِ ﻳَﻐۡﻀُﻀۡﻦَ ﻣِﻦۡ ﺃَﺑۡﺼَٰﺮِﻫِﻦَّ ﻭَﻳَﺤۡﻔَﻈۡﻦَ ﻓُﺮُﻭﺟَﻬُﻦَّ ﻭَﻟَﺎ
ﻳُﺒۡﺪِﻳﻦَ ﺯِﻳﻨَﺘَﻬُﻦَّ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﺎ ﻇَﻬَﺮَ ﻣِﻨۡﻬَﺎۖ ﻭَﻟۡﻴَﻀۡﺮِﺑۡﻦَ ﺑِﺨُﻤُﺮِﻫِﻦَّ ﻋَﻠَﻰٰ
ﺟُﻴُﻮﺑِﻬِﻦَّۖ﴾ ‏[ﺍﻟﻨﻮﺭ : ٣٠، ٣١ ‏]
“মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের
দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের
লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। এটিই তাদের
জন্য অধিক পবিত্র। তারা যা করে নিশ্চয়
আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত। আর মুমিন
নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে
সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের
হিফাযত করে, আর তারা যেন তাদের
সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে, তবে যা সাধারণত
প্রকাশ থাকে। আর তারা তাদের গলা ও বুক
যেন মাথার কাপড় দ্বারা ঢেকে রাখে”।
[সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩০–৩১]
আর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেন:
‏« ﺍﻟﻨﻈﺮﺓ ﺳﻬﻢ ﻣﻦ ﺳﻬﺎﻡ ﺇﺑﻠﻴﺲ ‏» .
“দৃষ্টি হলো ইবলিসের (বিষাক্ত) তীরসমূহের
অন্যতম একটি তীর।” [19]
সুতরাং দৃষ্টির বিষয়টি ভয়াবহ বিপজ্জনক,
ফলে তার থেকে সাবধান হওয়া উচিৎ এবং
প্রতিটি মানুষের উচিৎ এর থেকে নিজেকে
রক্ষা করা। আর টেলিভিশন ও অন্যান্য প্রচার
মাধ্যমে শুধু তাই দেখা যাবে, যাতে উপকার
আছে। যেমন, দীনী (ধর্মীয়) বা শিক্ষা
বিষয়ক সভা-সমাবেশ বা সেমিনার, অথবা
শিল্পসংক্রান্ত বা এ জতীয় অন্য কোনো
অনুষ্ঠান দেখা বৈধ, যা থেকে দর্শক উপকৃত
হয়; কিন্তু হারাম কিছু দেখা বৈধ নয়।
শাইখ আবদুল ‘আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায
টেলিভিশনে নারীদের দিকে তাকানোর
বিধান
প্রশ্ন: টেলিভিশনের দৃশ্য দেখার মাঝে
নারী কর্তৃক অপরিচিত পুরুষকে এবং পুরুষ
কর্তৃক অপরিচিত নারীকে দেখার বিধান
কী?
উত্তর: বৈধ নয়। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে
টেলিভিশনে নারীদের মধ্য থেকে যা প্রকাশ
পায়, তা হলো সৌন্দর্য প্রদর্শন ও তাদের
কিছু সংবেদনশীল গোপন অঙ্গ, আর পুরুষদের
মধ্য থেকেও অনুরূপ সৌন্দর্য ও সাজগোজ
প্রকাশ হয়, এটা অধিকাংশ সময় ফিতনাও
ফ্যাসাদের উস্কানিদাতা।
স্থায়ী ফতোয়া বোর্ড
পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে নারীদের ছবির
দিকে তাকানোর বিধান
প্রশ্ন: পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও অন্য কোথাও
নারীদের ছবির দিকে তাকানোর বিধান
কী?
উত্তর: মুসলিম ব্যক্তির জন্য নারীদের
চেহারার দিকে এবং তাদের অভ্যন্তরীণ
কোনো কিছুর দিকে তাকোনোর (শরী‘আত
সম্মত) কোনো সুযোগ নেই -এ ধরনের সুযোগ
পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে যেমন নেই, ঠিক
সে সুযোগ অন্য কোথাও নেই। কারণ, এতে
ফিতনার যাবতীয় কারণ বিদ্যমান রয়েছে;
বরং তার জন্য আবশ্যক হলো তার দৃষ্টিকে এর
থেকে অবনমিত করা, যাতে এর থেকে
বারণকারী শরী‘আতের দলীলসমূহের ব্যাপক
ভিত্তিক আমল হয় এবং সাথে ফিতনার
আশঙ্কাটিও মনে থাকে, অনুরূপভাবে সে
তাদের থেকে রাস্তা-ঘাটে ও অন্যান্য
জায়গায়ও তার দৃষ্টিকে অবনমিত রাখবে, আর
আল্লাহর কাছেই তাওফীক চাই।
শাইখ আবদুল ‘আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায
এসব ধারাবাহিক (নাটক) অনুষ্ঠান দেখা
হারাম
প্রশ্ন: গান-বাদ্য শুনার বিধান কী? আর যেসব
ধারাবাহিক নাটক অনুষ্ঠানে নারীরা
সৌন্দর্য প্রদর্শন করে, সেসব অনুষ্ঠান দেখার
বিধান কী?
উত্তর: এসব ধারাবাহিক নাটক বা অনুষ্ঠান
হারাম ও নিষিদ্ধ। কারণ, এর মধ্যে আল্লাহর
পথে বাধা ও অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়
রয়েছে এবং ঝুঁকি রয়েছে এমন সব অশ্লীল
কাজে জড়িয়ে যাওয়ার, যা আল্লাহ তা‘আলা
হারাম ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা
বলেন:
﴿ﻭَﻣِﻦَ ﭐﻟﻨَّﺎﺱِ ﻣَﻦ ﻳَﺸۡﺘَﺮِﻱ ﻟَﻬۡﻮَ ﭐﻟۡﺤَﺪِﻳﺚِ ﻟِﻴُﻀِﻞَّ ﻋَﻦ ﺳَﺒِﻴﻞِ
ﭐﻟﻠَّﻪِ ﺑِﻐَﻴۡﺮِ ﻋِﻠۡﻢٖ ﻭَﻳَﺘَّﺨِﺬَﻫَﺎ ﻫُﺰُﻭًﺍۚ ﺃُﻭْﻟَٰٓﺌِﻚَ ﻟَﻬُﻢۡ ﻋَﺬَﺍﺏٞ ﻣُّﻬِﻴﻦٞ ٦
ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺗُﺘۡﻠَﻰٰ ﻋَﻠَﻴۡﻪِ ﺀَﺍﻳَٰﺘُﻨَﺎ ﻭَﻟَّﻰٰ ﻣُﺴۡﺘَﻜۡﺒِﺮٗﺍ ﻛَﺄَﻥ ﻟَّﻢۡ ﻳَﺴۡﻤَﻌۡﻬَﺎ ﻛَﺄَﻥَّ
ﻓِﻲٓ ﺃُﺫُﻧَﻴۡﻪِ ﻭَﻗۡﺮٗﺍۖ ﻓَﺒَﺸِّﺮۡﻩُ ﺑِﻌَﺬَﺍﺏٍ ﺃَﻟِﻴﻢٍ ٧﴾ ‏[ ﻟﻘﻤﺎﻥ : ٦، ٧‏]
“আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর পথ
থেকে বিচ্যুত করার জন্য অসার বাক্য কিনে
নেয় কোনো জ্ঞান ছাড়াই এবং আল্লাহ
দেখানো পথ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে।
তাদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি। আর
যখন তার কাছে আমাদের আয়াতসমূহ
তিলাওয়াত করা হয়, তখন সে অহংকারে মুখ
ফিরিয়ে নেয় যেন সে এটা শুনতে পায় নি,
যেন তার কান দুটো বধির। অতএব, তাকে
যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ দিন”। [সূরা
লোকমান, আয়াত: ৬-৭]
সুতরাং এ আয়াত দু’টিতে পরিষ্কার
নির্দেশনা রয়েছে যে, বাদ্যযন্ত্র ও গান
শুনাটা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুতি, আল্লাহর
আয়াতসমূহকে ঠাট্টা-বিদ্রূপের বস্তু হিসেবে
গ্রহণ এবং আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনার
ব্যাপারে অহঙ্কার প্রদর্শনের অন্যতম কারণ
হিসেবে গণ্য।
আর যে ব্যক্তি এ কাজ করবে, আল্লাহ
তা‘আলা তাকে অবমাননাকর শাস্তি ও
যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির হুমকি দিয়েছেন। আর
অধিকাংশ আলেম আয়াতে উল্লিখিত ﻟَﻬۡﻮَ
ﭐﻟۡﺤَﺪِﻳﺚ (অসার বাক্য)-এর ব্যাখ্যা করেছেন
‘গান ও বাদ্যযন্ত্র’ এর দ্বারা এবং এমন
প্রতিটি শব্দ বা সুর, যা আল্লাহর পথে চলতে
প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আর সহীহ
বুখারীতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
‏« ﻟﻴﻜﻮﻧَﻦَّ ﻣﻦ ﺃﻣﺘﻲ ﺃَﻗْﻮَﺍﻡٌ ﻳَﺴْﺘَﺤِﻠُّﻮﻥ ﺍﻟﺤِﺮَ، ﻭﺍﻟﺤﺮﻳﺮَ،
ﻭﺍﻟﺨﻤﺮَ، ﻭﺍﻟﻤﻌﺎﺯﻑَ ‏» .
“আমার উম্মতের মধ্যে অবশ্যই এমন কতগুলো
দলের সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশমি
কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে
করবে।” [20]
হাদীসে উল্লিখিত ﺍﻟﺤِﺮَ শব্দের অর্থ ﺍﻟﺰﻧﺎ
(ব্যভিচার), আর শব্দের ﺍﻟﺤﺮﻳﺮ অর্থ রেশমি
কাপড়, ﺍﻟﺤﺮﻳﺮ শব্দটি (রেশমি কাপড় যা)
সর্বজনবিদিত, আর তা পুরুষদের জন্য হারাম,
আর ﺍﻟﺨﻤﺮ (মদ) শব্দটি সর্বজন পরিচিত, আর তা
হলো প্রত্যেক নেশা জাতীয় বা মাতালকারী
বস্তু, আর এটা সকলের জন্য হারাম, আর ﺍﻟﻤﻌﺎﺯﻑ
শব্দের অর্থ খেল-তামাশা বা বিনোদনযন্ত্র।
যেমন, বাঁশি, সেতারা, তবলা, তাম্বুরা
ইত্যাদি। [21]
সুতরাং মুসলিম নারী ও পুরুষ সকলের জন্য এসব
অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকা এবং তা থেকে
সতর্কতা অবলম্বন করা ওয়াজিব, আর
অনুরূপভাবে যেসব ধারাবাহিক নাটকীয় দৃশ্যে
নারীদের সৌন্দর্য প্রদর্শনের বিষয়
অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সেগুলো দেখাও হারাম।
কারণ, এর মধ্যে তার দর্শকের জন্য মহাবিপদ
রয়েছে। যেমন, তার অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত হওয়া,
ব্যক্তিত্ব নষ্ট হওয়া এবং কখনও কখনও এটা
তাক