মুসলিম নারী এবং সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য (২য় পর্ব)


মুসলিম নারী এবং সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য (২য় পর্ব)

(শরী‘আত ও বাস্তবতার নিরীখে একটি সুদৃঢ় পর্যালোচনা)
তৃতীয় ক্ষেত্র: সমাজ ও জাতি কেন্দ্রিক একজন নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য
নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্যের পরিধি সমাজ ও পুরো জাতিকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর সে কর্তব্য হচ্ছে, তাদের মাঝে আল্লাহর দিকে আহ্বান, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজে নিষেধ, কল্যাণ কামনা ও সংস্কার করার মত কাজের আঞ্জাম দেয়া।
আর এখানে আমি সাধারণভাবে এই দাওয়াতের গুরুত্ব, তার আবশ্যকতা ও ফলাফল, অতঃপর বিশেষকরে নারীর সাথে সংশ্লিষ্ট শরী‘আতের কিছু দলীল-প্রমাণাদি উল্লেখ করছি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ وَمَنۡ أَحۡسَنُ قَوۡلٗا مِّمَّن دَعَآ إِلَى ٱللَّهِ وَعَمِلَ صَٰلِحٗا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ ٱلۡمُسۡلِمِينَ ٣٣ وَلَا تَسۡتَوِي ٱلۡحَسَنَةُ وَلَا ٱلسَّيِّئَةُۚ ٱدۡفَعۡ بِٱلَّتِي هِيَ أَحۡسَنُ فَإِذَا ٱلَّذِي بَيۡنَكَ وَبَيۡنَهُۥ عَدَٰوَةٞ كَأَنَّهُۥ وَلِيٌّ حَمِيمٞ ٣٤  [سُورَةُ فُصِّلَتۡ: 33 – 34 ]
“কথায় কে উত্তম ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা, যে আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহ্বান করে, সৎকর্ম করে এবং বলে, ‘আমি তো অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত।’ ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দ প্রতিহত কর উৎকৃষ্ট দ্বারা; ফলে তোমার সাথে যার শত্রুতা আছে, সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত।” – ( সূরা ফুসসিলাত: ৩৩ – ৩৪ )।

 

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿وَلۡتَكُن مِّنكُمۡ أُمَّةٞ يَدۡعُونَ إِلَى ٱلۡخَيۡرِ وَيَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِۚ وَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ ١٠٤[سُورَةُ آلِ عِمۡرَانَ: 104 ]
“তোমাদের মধ্যে এমন এক দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজের নিষেধ করবে; এরাই সফলকাম।” – ( সূরা আলে ইমরান: ১০৪ )।
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿ ٱدۡعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِٱلۡحِكۡمَةِ وَٱلۡمَوۡعِظَةِ ٱلۡحَسَنَةِۖ وَجَٰدِلۡهُم بِٱلَّتِي هِيَ أَحۡسَنُۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعۡلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِۦ وَهُوَ أَعۡلَمُ بِٱلۡمُهۡتَدِينَ ١٢٥  [ سُورَةُ النَّحۡلِ: 125 ]
“তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান কর হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে তর্ক করবে উত্তম পন্থায়। তোমার প্রতিপালক সেই ব্যক্তি সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত, যে ব্যক্তি তাঁর পথ ছেড়ে বিপথগামী হয় এবং কারা সৎপথে আছে, তাও তিনি সবিশেষ অবহিত।” – (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿فَلَوۡلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرۡقَةٖ مِّنۡهُمۡ طَآئِفَةٞ لِّيَتَفَقَّهُواْ فِي ٱلدِّينِ وَلِيُنذِرُواْ قَوۡمَهُمۡ إِذَا رَجَعُوٓاْ إِلَيۡهِمۡ لَعَلَّهُمۡ يَحۡذَرُونَ ١٢٢ [سُورَةُ التَّوۡبَةِ: 122 ]
“তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না কেন, যাতে তারা দীন সম্বন্ধে জ্ঞান অনুশীলন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে, যখন তারা তাদের নিকট ফিরে আসবে; আশা করা যায় তারা সতর্ক হবে।” – ( সূরা আত-তাওবা: ১২২ )।
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿ قُلۡ هَٰذِهِۦ سَبِيلِيٓ أَدۡعُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِۚ عَلَىٰ بَصِيرَةٍ أَنَا۠ وَمَنِ ٱتَّبَعَنِيۖ وَسُبۡحَٰنَ ٱللَّهِ وَمَآ أَنَا۠ مِنَ ٱلۡمُشۡرِكِينَ ١٠٨ [سُورَةُ يُوسُفَ: 108 ]
“বল, এটাই আমার পথ; আল্লাহর প্রতি মানুষকে আমি আহ্বান করি সজ্ঞানে— আমি এবং আমার অনুসারীগণও। আল্লাহ মহিমান্বিত এবং যারা আল্লাহর শরীক করে আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” – (সূরা ইউসূফ: ১০৮ )।
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿وَٱلۡمُؤۡمِنُونَ وَٱلۡمُؤۡمِنَٰتُ بَعۡضُهُمۡ أَوۡلِيَآءُ بَعۡضٖۚ يَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ [ سُورَةُ التَّوۡبَةِ: 71 ]
“মুমিন নর ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎকাজের নিষেধ করে।” – (সূরা আত-তাওবা: ৭১ )।
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿ٱلۡمُنَٰفِقُونَ وَٱلۡمُنَٰفِقَٰتُ بَعۡضُهُم مِّنۢ بَعۡضٖۚ يَأۡمُرُونَ بِٱلۡمُنكَرِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمَعۡرُوفِ [ سُورَةُ التَّوۡبَةِ:  67]
“মুনাফিক নর ও মুনাফিক নারী একে অপরের অনুরূপ, তারা অসৎকর্মের নির্দেশ দেয় এবং সৎকর্ম নিষেধ করে।” – ( সূরা আত-তাওবা: ৬৭ )।
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿ وَتَوَاصَوۡاْ بِٱلۡحَقِّ وَتَوَاصَوۡاْ بِٱلصَّبۡرِ ٣ [سُورَةُ العَصۡرِ:3 ]
“এবং যারা পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়।” – ( সূরা আল-‘আসর: ৩ )।
আর সহীহ মুসলিমের মধ্যে তামীম ইবন আওস আদ-দারেমী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« الدِّينُ النَّصِيحَةُ » قُلْنَا لِمَنْ؟  قَالَ: «لِلَّهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِرَسُولِهِ وَلأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ ». ( رواه مسلم في صحيحه ).
“দীন হচ্ছে (জনগণের) কল্যাণ কামনা করা। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, কার জন্য? তিনি বললেন: আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল, মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও সমস্ত মুসলিমের জন্য।”—( হাদিসটি ইমাম মুসলিম করেন )।[38]
ইমাম মুসলিম আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ » (رواه مسلم في صحيحه).
“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন অশ্লীল কাজ দেখে, সে যেন তা হাত দ্বারা প্রতিরোধ করে; আর যদি তাতে সে অক্ষম হয়, তবে সে যেন তার মুখ দ্বারা তার প্রতিবাদ করে; আর সে যদি তাতেও অক্ষম হয়, তবে সে যেন তার অন্তর দ্বারা তা প্রতিরোধের পরিকল্পনা করে; আর তা হচ্ছে ঈমানের দুর্বলতা।”[39] ([40])
ইমাম বুখারী রা. আবদুল্লাহ ইবন ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদিস থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« بلغوا عني ولو آية » (رواه البخاري).
“তোমরা আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও।”[41] ([42])
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন:
«مثل القائم على حدود الله والواقع فيها كمثل قوم استهموا على سفينة فأصاب بعضهم أعلاها وبعضهم أسفلها فكان الذين في أسفلها إذا استقوا من الماء مروا على من فوقهم فقالوا لو أنا خرقنا في نصيبنا خرقا ولم نؤذ من فوقنا فإن يتركوهم وما أرادوا هلكوا جميعا وإن أخذوا على أيديهم نجوا ونجوا جميعا ». (رواه البخاري).
“যে মহান আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং যে সীমালংঘন করে, তাদের দৃষ্টান্ত সেই যাত্রীদলের মত, যারা কুর‘আ (লটারি)র মাধ্যমে এক নৌযানে নিজেদের স্থান নির্ধারণ করে নিল। তাদের কেউ স্থান পেল উপর তলায়, আর কেউ নীচ তলায় (পানির ব্যবস্থা ছিল উপর তলায়); কাজেই নীচের তলার লোকেরা পানি সংগ্রহকালে উপর তলার লোকদের ডিঙ্গিয়ে যেত। তখন নীচ তলার লোকেরা বলল, উপর তলার লোকদের কষ্ট না দিয়ে আমরা যদি নিজেদের অংশে একটি ছিদ্র করে নেই (তবে ভাল হত); এমতাবস্থায় তারা যদি এদেরকে আপন মর্জির উপর ছেড়ে দেয়, তাহলে সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যদি তারা এদের হাত ধরে রাখে (বিরত রাখে), তবে তারা এবং এরা সকলেই রক্ষা পাবে।”[43]
তাছাড়া সেখানে অনেক উপযুক্ত ও যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে, যা নারীর উপর এই দায়িত্ব ও কর্তব্য অর্পণ করে, আর যা নিরবিচ্ছন্নভাবে তার ও তার পরিবারের জন্য এ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনকে বাধ্যতামূলক করে দেয়। সেসব যৌক্তিকতা হচ্ছে:
১. সমাজের সাথে নারীর সম্পর্ক:
আর এটা এমন সম্পর্ক, যা নারীকে সমাজের বিভিন্ন পক্ষের সাথে মজবুত সম্পর্ক তৈরির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে এবং তাকে আত্মীয়তার রূপ দান করে; সুতরাং নারী মা, অথবা স্ত্রী, অথবা কন্যা, অথবা বোন, অথবা খালা, অথবা ফুফু … ইত্যাদি হওয়া থেকে মুক্ত নয়, বা তার বাইরের কেউ নয়; আবার তার মধ্যে যুক্ত হয় বৈবাহিক সূত্রে আত্মীয়তার সম্পর্ক, প্রতিবেশিত্ব, বন্ধুত্ব ও সতীর্থ; অনুরূপভাবে নারী হচ্ছে সমাজ ও জাতির অঙ্গ এবং তার উপাদানসমূহের মধ্য থেকে অন্যতম উপাদান, সমাজের সাথে এই ধরনের প্রতিটি সম্পর্কই নারীকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্যের অধিকারী বানিয়ে দেয়। আর আত্মীয়তা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা বড় অধিকার (হক) ও দায়িত্ব; আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿فَهَلۡ عَسَيۡتُمۡ إِن تَوَلَّيۡتُمۡ أَن تُفۡسِدُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَتُقَطِّعُوٓاْ أَرۡحَامَكُمۡ ٢٢[سُورَةُ مُحَمَّد:22 ]
“তবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে।” – (সূরা মুহাম্মদ: ২২ )।
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«من سره أن يبسط له في رزقه أو ينسأ له في أثره فليصل رحمه». (أخرجه البخاري و مسلم).
“যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তার জীবিকার মধ্যে প্রবৃদ্ধি হউক অথবা তার মৃত্যুর পরে সুনাম থাকুক, তবে সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে চলে।” – ( ইমাম বুখারী ও মুসলিম র. হাদিসখানা বর্ণনা করেন)। [44]
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ وَأَنذِرۡ عَشِيرَتَكَ ٱلۡأَقۡرَبِينَ ٢١٤ [سُورَةُ الشُّعَرَاء:22 ]
“তোমার নিকট-আত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও।” – ( সূরা আশ-শু‘আরা: ২১৪ )।
আর প্রতিবেশীরও বড় রকমের হক তথা অধিকার রয়েছে; কেননা রাসূলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ جَارَهُ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ». ( أخرجه البخاري و مسلم ).
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা চুপ থাকে; আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে।” – (ইমাম বুখারী ও মুসলিম র. হাদিসখানা বর্ণনা করেন)।[45]
রাসূলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«ما زال يوصيني جبريل بالجار حتى ظننت أنه سيورثه». ( أخرجه البخاري و مسلم ).
“আমাকে জিবরাঈল আ. সব সময় প্রতিবেশী সম্পর্কে অসীয়ত করে থাকেন। এমনকি, আমার মনে হল যে, তিনি অচিরেই প্রতিবেশীকে ওয়ারিস (উত্তরাধিকারী) বানিয়ে দেবেন।” – ( ইমাম বুখারী ও মুসলিম র. হাদিসখানা বর্ণনা করেন)। [46]
আর বন্ধুর জন্য রয়েছে বন্ধুত্বের এবং সাধারণ ও বিশেষ ভ্রাতৃত্বের অধিকার।
আর প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির জন্য রয়েছে ইসলাম সম্পর্কিত অধিকার, যেমনিভাবে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা এসেছে; আর অমুসলিমদের জন্য রয়েছে তাদেরকে এই দীন তথা জীবনব্যবস্থার দিকে দাওয়াত পাওয়ার অধিকার।[47]
আর মুসলিম নারী হলেন এই সমাজের মধ্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াশীল মহিলা এবং তার দায়িত্ব ও কর্তব্য হল এদের প্রত্যেককে তার মান অনুযায়ী মর্যাদাবান করে গড়ে তোলা।
২. মহিলাদের সাথে বিশেষ কিছু বিষয়ে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন সম্পর্কে বিশেষভাবে কথা বলার ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে নারীই অধিক উপযুক্ত; আরও উপযুক্ত এর উপর ভিত্তি করে বিন্যস্থ ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিষয়গুলোর ব্যাপারে কথা বলতে। সুতরাং এখানে পুরুষের পক্ষে কোন বিষয় প্রচার করতে যা অসম্ভব, নারীর পক্ষে তা প্রচার কারা সহজেই সম্ভব।
৩. অনুরূপভাবে নারী সংস্কারের সকল ক্ষেত্রে তার স্বজাতীয় মেয়েদের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে, তাদের আচার-আচরণের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে এবং তারা ভুল-ত্রুটিতে পতিত হলে তার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণের মাধ্যমে যথাযথ সংস্কার-পদ্ধতি প্রয়োগে সক্ষম; এ ক্ষেত্রে পুরুষের কার্যক্রম তার বিপরীত, যিনি নকল বা মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল; আর যে স্বচক্ষে দেখে সে ঐ ব্যক্তির চেয়ে অগ্রগামী, যে শুধু শ্রবণ করে।
৪. কল্যাণজনক ক্ষেত্রে এবং ইসলামের শিক্ষাসমূহের সমন্বয়সাধন, তার বিধাসমূহকে বাধ্যতামূলক দায়িত্বরূপে গ্রহণ এবং তার নিয়ম-পদ্ধতিসমূহের উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকার ক্ষেত্রে তার আদর্শিক প্রভাবের পরিধি মানুষের কথার চেয়ে অনেক বেশি প্রভাবশালী; সুতরাং আহূত ব্যক্তিদের প্রাণের মধ্যে তার আদর্শের একটা বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে।
৫. মহিলাদের মধ্যে ব্যক্তিগত নসিহত ও ব্যক্তিগত দাওয়াতী কাজ যথাযথভাবে পরিচালনা করা পুরুষের পক্ষে সম্ভব নয়; সুতরাং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য তাদের মধ্য থেকে নারীকে ভূমিকা রাখতে হবে; কেননা নারীদের উপর তাদের অপরিচিত পুরুষদের থেকে পর্দা করা ফরয।
৬. মুসলিম নারী সমাজের মধ্যে কোন ব্যর্থ সদস্য নন; বরং তিনি হলেন প্রভাব-প্রতিপত্তির পাত্র; আর মুসলিম নারী হলেন আল্লাহর পথের আহ্বানকারিনী ও উপদেষ্টা; সুতরাং তার জন্য আবশ্যক কর্তব্য হল, সে সমাজ বিনির্মাণ, সংশোধন ও পরিচালনার কাজে অংশগ্রহণ করবে; আরও অংশগ্রহণ করবে কল্যাণের পথে দাওয়াতী কার্যক্রমে।
৭. আদর্শ নারীগণ এ রকমই হয়েছেন; আর তাদের শীর্ষে রয়েছেন সম্মানিত মহিলা সাহাবীগণ; আর যারা সংস্কার, সংশোধন ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছেন, তাদের মধ্যে মুমিন-জননীগণ উল্লেখযোগ্য; সুতরাং তাদের মধ্যে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা উম্মতের জন্য কেননা রাসূলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁর (রাসূলের) আবাসিক অবস্থার বিবরণ দিয়েছেন এবং সাহাবীদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে সংশোধন করেন; আর তাঁদেরই আরেক জন হলেন যয়নব বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা মিসকীনদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাঁর নিকট কোন কিছুই অবশিষ্ট ছিল না; আর এইভাবে অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে; সুতরাং ঐসব মর্যদাবান নারীগণ হলেন আদর্শ নমুনা ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
৮. নারী কেন্দ্রীক ইসলামের শত্রুগণের চেষ্টা ও সাধনা দুইভাবে হয়ে থাকে: প্রথমত তারা নারীর জাতিসত্বাকে ধ্বংস ও বিপর্যস্ত করার জন্য তাদেরকে কেন্দ্রীভূত করে; দ্বিতীয়ত নারীদেরকে ধ্বংস ও বিপথগামী করার পর ঐ নারীদেরকে অন্যান্য নারীদের ধ্বংস ও বিপথগামী করার কাজে ব্যবহার করা; আর কাফির ও ষড়যন্ত্রকারীদের বাস্তবতা এই কথারই সাক্ষ্য দেয়; সুতরাং নারীর আবশ্যকীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য হল এই বিপর্যয়ের পথ রুদ্ধ করার জন্য তার যথাযথ ভূমিকা পালন করা; মোটকথা, মেয়ে বা নারীজাতিকে সমাজ ও উম্মতের (জাতির) মধ্যে সংস্কারমূলক ভূমিকায় ব্যস্ত থাকতে হবে।
৯. মহান মর্যাদাপূর্ণ ও পর্যাপ্ত সাওয়াবের এই কাজে সে পুরুষের সহযোগিতা নেবে; কারণ, ভাল কাজসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ ও মুস্তাহাব কর্মসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ মানের কর্ম হল সমাজের কল্যাণে সংস্কারমূলক কাজ ও দাওয়াতী কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা করা, যেমন অচিরেই সেই ব্যাপারে বিস্তারিত বিবরণ আসছে।
৩. এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রয়োজনীয় বিষয়াদি:
সংস্কারের ক্ষেত্রে ব্যাপক দায়-দায়িত্বের ব্যাপারে পূর্বে যে আলোচনা হয়েছে, তার সাথে প্রয়োজনীয় বিষয়াদি নিম্নরূপে নির্ধারণ করা যায়:
 (ক) আত্মীয়-স্বজন পক্ষ:

নিকটতম ও দূরতম আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে নারী নিম্নলিখিতভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে পারে:

  • তাদের অধিকারসমূহ আদায় করা।
  • তাদের পোষাক-পরিচ্ছদ, চুল প্রদর্শন ও কথাবার্তা বলার ক্ষেত্রে প্রকাশভঙ্গির শর‘য়ী দিক পর্যবেক্ষণ করা।
  • সময়ে সময়ে তাদের সাথে কথাবার্তা বলা; তাদের অবস্থাদি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা, বিশেষ করে তাদের মধ্যে যার কোন বিশেষ সমস্যা রয়েছে। যেমন রোগী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা এবং তার জন্য দো‘আ করা।
  • তাদের সমাবেশেকে ভাল কথা ও উত্তম উপদেশ দ্বারা ফলপ্রসূ করা। এই ক্ষেত্রে উত্তম হল তাদেরকে উপদেশ দেয়া, তাদের নিকট উপকারী বক্তব্য পেশ করা, অথবা তাদেরকে প্রচলিত ভুলত্রুটি ও অন্যায়-অপরাধ সম্পর্কে সতর্ক করা, অথবা তাদের জন্য মহিলা দা‘ঈকে মেহমান হিসেবে আনা, অথবা বিভিন্ন বয়স অনুযায়ী তাদের মধ্যে সাধারণ প্রতিযোগিতা পরিচালনা করা, অথবা তাদেরকে উপকারী ক্যাসেট-অডিও ইত্যাদি শুনানোর ব্যবস্থা করা অথবা উপকারী কিচ্ছা-কাহিনী আলোচনা করা এবং ইত্যাদি।
  • বিভিন্ন উপলক্ষকে কেন্দ্র করে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা, তা অল্প দামের হউক না কেন। কারণ, উপহার উপঢৌকন মানব মনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। তা সকল প্রকার বিদ্বেষ দূর করে; অন্তরের কলুষতা ও অপবিত্রতাকে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দেয়; মন থেকে বিদ্বেষ ও শত্রুতাকে আস্তে আস্তে বের করে দেয়; সম্পর্ককে নির্ভেজাল করে; সকল প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে এবং মানুষের একে অপরকে কাছাকাছি করে।
  • তাদের দরিদ্রদেরকে (ফকীরকে) সহযোগিতা করা, মিসকীন তথা নিঃস্বদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, বিধবাদেরকে সাহায্য করা এবং তাদের অভাবীদের অভাব নিবারণ করা।
  • আরও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল, তাদের অসুস্থকে সেবা করা, তাকে সান্তনা দেয়া এবং তার সামনে শুভ সঙ্কেত মেলে ধরা; আর অনুরূপভাবে মৃত্যু ও অন্যান্য কারণে তাদের বিপদগ্রস্তকে সাহায্য-সহযোগিতা করা এবং তার জন্য দো‘আ করা; আর তারা যে কোন প্রয়োজনের মুখোমুখি হলে, সে ক্ষেত্র তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া।
  • যৌথভাবে দাওয়াতীমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া। যেমন, নিঃস্বদেরকে সহযোগিতার জন্য অনুদান সংগ্রহ করা, অথবা বইপত্র ক্রয় করে বিতরণ প্রভৃতি।
(খ) প্রতিবেশীদের পক্ষ:

আর প্রতিবেশীদের ক্ষেত্র্রে তাদের দাওয়াতী কার্যক্রমের মধ্যে যা অন্তর্ভুক্ত, তা নিম্নরূপ:

  • তাদের শরীয়াহ ভিত্তিক অধিকারসমূহ আদায় করা।
  • প্রতিবেশী সকল নারীর ব্যাপারে জানা এবং পৃথকভাবে নিকট ও সাংস্কৃতিক দিক বিবেচনা করে প্রত্যেক প্রতিবেশীর সাথে আচরণ করা।
  • সে নিজে যে খাবার খায়, তার থেকে তাদেরকে খাওয়াবে। বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে সে তার প্রতিবেশীদেরকে খাবার দান করে, যদিও তা ছাগলের খুর হউক; আর তার ঝোল থেকে তাকে কিছু দান করতে বলেছেন।[48]
  • সময়ে সময়ে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করা এবং এই সাক্ষাতকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ফলপ্রসূ করা (আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আচরণে যেমনটি বলা হয়েছে)।
  • তাদেরকে কথা অথবা কাজের মাধ্যমে কোন প্রকার কষ্ট না দেয়া।
  • সময়ে সময়ে তাদেরকে ফোন করা এবং তাদের অবস্থাদি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা।
  • উপদেশ চাওয়ার সময়ে অথবা শরয়ী কোনো বিষয় দৃষ্টিগোচর হলে উপদেশ দেয়া।
(গ) নারীদের সমাবেশে: 

নারীকে সামাজিক জীবনে বহু সমাবেশে হাজির থাকতে হয়— কখনও আবশ্যকভাবে, আবার কখনও ঐচ্ছিকভাবে। উভয় প্রকার সমাবেশেই নারীর উপর দাওয়াতী দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।

তন্মধ্যে আবশ্যিক সমাবেশসমূহে, উদাহরণস্বরূপ বলা যায়: মানুষ এই জীবনের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার রোগ-ব্যাধি ও বিপদ-মুসিবতের মুখোমুখি হয়, অতঃপর সে সঠিক কারণ উদ্ঘাটন করে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের নিকট গমন করে; সুতরাং যখন কোন নারী ডাক্তারের নিকট গমন করে, তখন সে মহিলা ডাক্তারের নিকট প্রবেশের অপেক্ষায় থাকে; অতএব তার সাথে একত্রিত হয় অপেক্ষমান মহিলাদের কেউ কেউ; আর এটা জানা কথা যে, পুরুষদের চেয়ে নারীরাই অধিক সামাজিক; সুতরাং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা তাদের কারও কারও সাথে আলাপ-আলোচনা ও কথাবার্তায় মেতে উঠে; সুতরাং তিনিই হলেন সৌভাগবান নারী, যিনি এই সমাবেশটিকে ব্যবহার করেন নিম্নরূপ কাজে:
  • উপহারস্বরূপ দেয়ার জন্য কিছু বাছাই করা বইপত্র ও ক্যাসেট/সিডি সঙ্গে রাখা; অতঃপর তার সাথে অপেক্ষমান নারীকে তা উপহার দেবে; বিশেষ করে ঐ সিডিটি উপহার হিসেবে দিলেই ভাল হবে, যখন সিডিটি রোগীর অবস্থাদি সম্পর্কে এবং শরী‘আতের বিধিবিধান ও অন্যান্য বিষয়ে (রোগীর জন্য) যেসব করণীয় নিয়ে আলোচনা করে।
  • মহিলা ডাক্তার ও রোগীদের সাথে তার ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কাহিনী আকারে আলোচনা করা এবং তার থেকে উপকারী বিষয়গুলোকে শিক্ষা হিসেবে পেশ করা।
  • বিভিন্ন রোগ-বালাইর অবস্থা আলোচনা করা; আর এভাবেই সে উপস্থিত মহিলাদের মধ্যে আনন্দের উদ্রেক করতে পারবে এবং সেখান থেকে সে তার অর্থবহ কাঙ্খিত কথাবার্তা নিয়ে তাদের মধ্যে প্রবেশ করবে।
  • ভাল ভাল ইসলামী পত্রপত্রিকা ও ম্যাগাজিন সঙ্গে রাখবে সেগুলোর পরিচিতি তুলে ধরার জন্য এবং তার ইতিবাচক দিকগুলো এবং তার মধ্যে যেসব উপকারী বিষয় রয়েছে, তা আলোচনা করা।
  • যখন সে এমন কোন অবস্থা বা অবস্থান লক্ষ্য করবে, যা উপদেশ দাবি করে, তখন সরাসরি নসিহত করা।
–  আর ঐচ্ছিক সমাবেশে, উদাহরণস্বরূপ মহিলাদের ‘হিফজুল কুরআনুল কারীম’ কোর্সে উপস্থিত হওয়া। আর তার এই উপস্থিতি হয় সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে, অথবা উপকৃত হওয়ার জন্য ছাত্রী হিসেবে, অথবা উৎসাহদানকারিনী দর্শক হিসেবে, অথবা অন্যান্য কোন উদ্দেশ্যে। আর সকল পরিবেশ-পরিস্থিতিতে উচিত কাজ হল, সে তার উপস্থিতির সুবর্ণ সুযোগটি সঠিকভাবে কাজে লাগাবে; সুতরাং সে যদি শিক্ষকা বা ছাত্রী হয়, তবে তাদের পাঠ্যক্রম (সিলেবাস) সম্পর্কে কথাবার্তা বলবে ও এর বিস্তারিত আলোচনায় আসবে; আর সে যদি দা‘ঈ তথা আল্লাহর পথে আহ্বানকারিনী হয়, তবে এই ক্ষেত্রে তার দাওয়াতী দায়িত্ব প্রতিষ্ঠা করবে; আর সে যদি উৎসাহদানকারিনী দর্শক হয়, তবে সে পরিচালক, ব্যবস্থাপক ও শিক্ষিকাদেরকে উৎসাহ দেয়ার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করবে এবং তাদের জন্য দো‘আ করবে। কারণ, তাদের মহৎ কাজ অব্যাহত রাখা এবং এই ক্ষেত্রে তাদের মানকে সমুন্নত করার ব্যাপারে এটা একটা বড় ধরনের উদ্দীপক।
অনুরূপভাবে সে সমস্ত হিফজ প্রতিষ্ঠানসমূহে আর্থিকভাবে সামর্থ্য অনুযায়ী যথাসম্ভব সাহায্য ও সহযোগিতা করা, যদিও তা সামান্য বস্তু হউক; কেননা কম কম করেই বেশি হয়; আর ফোটাগুলো একত্রিত হয়ে সৃষ্টি হয় বন্যার। আর যখন তারা তার নিকট কিছু জানতে বা পেতে চাইবে; তার পক্ষ থেকে সহযোগিতার কথা জানাবে, এবং বলবে যে এ ব্যাপারে (সহযোগিতা করার জন্য) শুধু তার সাথে ফোনে কথা বললেই হবে।
আর এই সবই কল্যাণের দিকে আহ্বান এবং পুণ্য ও তাকওয়ার কাজে পারস্পরিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
আর এই দুই প্রকারের সমাবেশের দাওয়াতকে অন্য সব ধরনের নারী সমাবেশের জন্য মডেল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে।
(ঘ) ক্লাবসমূহ এবং সেগুলোর প্রতি মুসলিম নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য:

আমরা যেই যুগে বসবাস করছি, তার অন্যতম দৃশ্য হল বহু রকমের সাংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়া, সাথে সাথে রয়েছে বহু সভা-সেমিনার, উৎসব-অনুষ্ঠান এবং এগুলোর মত করে আরও অন্যান্য বিবিধ নামের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীগণ ও তাদের অনুরূপ মতাদর্শের ব্যক্তিবর্গ যা নিয়ে অগ্রসর হয়েছে, তন্মধ্যে অন্যতম হল তাদের নারী সমাজকে এসব ক্লাব বা সংঘের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করা এবং তাদের বিকৃত চিন্তাধারার মাধ্যমে সেগুলোর সুবিধা ভোগ করা। আর মুসলিম সংস্কৃতিমনা রক্ষণশীল আল্লাহর দীনের আহ্বায়ক নারী সমাজের এসব ক্লাবে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের সময় হয়েছে; সুতরাং তারা এগুলোকে নিম্নলিখিতরূপে ব্যবহার করবে:
–          মৌলিকত্ব সহকারে সে সব সভা-সমিতিতে কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করা, যাতে সে সেখানে তার দ্বীন তথা আকীদা ও শরী‘আত, চরিত্র ও চাল-চলনে যে নির্দেশনা দেয় সেটা সেখানে স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে। আর সকল প্রকার অনিষ্টতা ও খারাপী থেকে সতর্ক করবে।
–          সেমিনারসমূহে নিজের মতামত পেশ করার মাধ্যমে কল্যাণকর কাজে উৎসাহিত করা, অথবা অপকর্ম থেকে সতর্ক করা।
–          শরী‘আতের দলিল-প্রমাণ ও বাস্তবভিত্তিক প্রমাণাদির মাধ্যমে সাহসিকতা ও সচেতনতার সাথে বাতিল যুক্তি-প্রমাণাদির বিরুদ্ধে সোচ্ছার থাকা।
–          ইসলামের বাস্তব ও কার্যকর চিত্র তুলে ধরা; ফলে তা উপস্থিত লোকদের মধ্যে মুসলিম নারী তার বাহ্যিক ও আভ্যন্তরিণ গঠনে কেমন হওয়া আবশ্যক তার আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হবে।
–          সততা ও কল্যাণের অনুসারীদের সংখ্যাধিক্যকে আরও বৃদ্ধি করার মানসে এ সব সভা-সমিতিতে উপস্থিত হওয়া।
–          উপস্থিত সকল নারীর সাথে উত্তম আচার-আচরণের মাধ্যমে কাজ করা, চাই তারা উত্তম চরিত্রের অধিকারিনী হউক, অথবা তারা পাপাচারিণী বা বিকৃত মানসিকতা সম্পন্না হউক; কেননা কথার চেয়ে চরিত্র ও নৈতিকতার প্রভাব অনেক বেশি; আর মুসলিম নারী তো পারস্পরিক উত্তম আচার-আচরণের জন্য আদিষ্ট।
–          এসব ক্লাবের মধ্যে যে সকল অসামাজিক ও খারাপ কাজ হয়ে থাকে সেগুলোর পরিসংখ্যান নেয়া এবং এ গুলো যাতে প্রসার লাভ করতে না পারে ও এগুলোর প্রভাব যাতে সীমাবদ্ধ করা যায় এ ব্যাপারে সহযোগিতার জন্য যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত করা।
(ঙ) কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব:

এই যুগে নারীরা পুরুষের সাথে অনেক বিষয়ে অংশগ্রহণ করে থাকে, এখানে রয়েছে নারীদের অনেক কর্মক্ষেত্র। নারীরা এর এক বিরাট অংশ দখল করে আছে; সুতরাং তারা বিভিন্ন ময়দানে প্রবেশ করেছে; আমি এসব ময়দানের দু’টি দৃষ্টান্ত উল্লেখ করছি, বাকি ময়দান বা ক্ষেত্রসমূহকে এই দু’টি দৃষ্টান্তের উপর অনুমান করা হবে: