মুসলিম নারী এবং সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য (২য় পর্ব)


মুসলিম নারী এবং সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য (২য় পর্ব)

(শরী‘আত ও বাস্তবতার নিরীখে একটি সুদৃঢ় পর্যালোচনা)
তৃতীয় ক্ষেত্র: সমাজ ও জাতি কেন্দ্রিক একজন নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য
নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্যের পরিধি সমাজ ও পুরো জাতিকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর সে কর্তব্য হচ্ছে, তাদের মাঝে আল্লাহর দিকে আহ্বান, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজে নিষেধ, কল্যাণ কামনা ও সংস্কার করার মত কাজের আঞ্জাম দেয়া।
আর এখানে আমি সাধারণভাবে এই দাওয়াতের গুরুত্ব, তার আবশ্যকতা ও ফলাফল, অতঃপর বিশেষকরে নারীর সাথে সংশ্লিষ্ট শরী‘আতের কিছু দলীল-প্রমাণাদি উল্লেখ করছি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ وَمَنۡ أَحۡسَنُ قَوۡلٗا مِّمَّن دَعَآ إِلَى ٱللَّهِ وَعَمِلَ صَٰلِحٗا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ ٱلۡمُسۡلِمِينَ ٣٣ وَلَا تَسۡتَوِي ٱلۡحَسَنَةُ وَلَا ٱلسَّيِّئَةُۚ ٱدۡفَعۡ بِٱلَّتِي هِيَ أَحۡسَنُ فَإِذَا ٱلَّذِي بَيۡنَكَ وَبَيۡنَهُۥ عَدَٰوَةٞ كَأَنَّهُۥ وَلِيٌّ حَمِيمٞ ٣٤  [سُورَةُ فُصِّلَتۡ: 33 – 34 ]
“কথায় কে উত্তম ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা, যে আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহ্বান করে, সৎকর্ম করে এবং বলে, ‘আমি তো অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত।’ ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দ প্রতিহত কর উৎকৃষ্ট দ্বারা; ফলে তোমার সাথে যার শত্রুতা আছে, সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত।” – ( সূরা ফুসসিলাত: ৩৩ – ৩৪ )।

 

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿وَلۡتَكُن مِّنكُمۡ أُمَّةٞ يَدۡعُونَ إِلَى ٱلۡخَيۡرِ وَيَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِۚ وَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ ١٠٤[سُورَةُ آلِ عِمۡرَانَ: 104 ]
“তোমাদের মধ্যে এমন এক দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজের নিষেধ করবে; এরাই সফলকাম।” – ( সূরা আলে ইমরান: ১০৪ )।
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿ ٱدۡعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِٱلۡحِكۡمَةِ وَٱلۡمَوۡعِظَةِ ٱلۡحَسَنَةِۖ وَجَٰدِلۡهُم بِٱلَّتِي هِيَ أَحۡسَنُۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعۡلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِۦ وَهُوَ أَعۡلَمُ بِٱلۡمُهۡتَدِينَ ١٢٥  [ سُورَةُ النَّحۡلِ: 125 ]
“তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান কর হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে তর্ক করবে উত্তম পন্থায়। তোমার প্রতিপালক সেই ব্যক্তি সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত, যে ব্যক্তি তাঁর পথ ছেড়ে বিপথগামী হয় এবং কারা সৎপথে আছে, তাও তিনি সবিশেষ অবহিত।” – (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿فَلَوۡلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرۡقَةٖ مِّنۡهُمۡ طَآئِفَةٞ لِّيَتَفَقَّهُواْ فِي ٱلدِّينِ وَلِيُنذِرُواْ قَوۡمَهُمۡ إِذَا رَجَعُوٓاْ إِلَيۡهِمۡ لَعَلَّهُمۡ يَحۡذَرُونَ ١٢٢ [سُورَةُ التَّوۡبَةِ: 122 ]
“তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না কেন, যাতে তারা দীন সম্বন্ধে জ্ঞান অনুশীলন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে, যখন তারা তাদের নিকট ফিরে আসবে; আশা করা যায় তারা সতর্ক হবে।” – ( সূরা আত-তাওবা: ১২২ )।
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿ قُلۡ هَٰذِهِۦ سَبِيلِيٓ أَدۡعُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِۚ عَلَىٰ بَصِيرَةٍ أَنَا۠ وَمَنِ ٱتَّبَعَنِيۖ وَسُبۡحَٰنَ ٱللَّهِ وَمَآ أَنَا۠ مِنَ ٱلۡمُشۡرِكِينَ ١٠٨ [سُورَةُ يُوسُفَ: 108 ]
“বল, এটাই আমার পথ; আল্লাহর প্রতি মানুষকে আমি আহ্বান করি সজ্ঞানে— আমি এবং আমার অনুসারীগণও। আল্লাহ মহিমান্বিত এবং যারা আল্লাহর শরীক করে আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” – (সূরা ইউসূফ: ১০৮ )।
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿وَٱلۡمُؤۡمِنُونَ وَٱلۡمُؤۡمِنَٰتُ بَعۡضُهُمۡ أَوۡلِيَآءُ بَعۡضٖۚ يَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ [ سُورَةُ التَّوۡبَةِ: 71 ]
“মুমিন নর ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎকাজের নিষেধ করে।” – (সূরা আত-তাওবা: ৭১ )।
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿ٱلۡمُنَٰفِقُونَ وَٱلۡمُنَٰفِقَٰتُ بَعۡضُهُم مِّنۢ بَعۡضٖۚ يَأۡمُرُونَ بِٱلۡمُنكَرِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمَعۡرُوفِ [ سُورَةُ التَّوۡبَةِ:  67]
“মুনাফিক নর ও মুনাফিক নারী একে অপরের অনুরূপ, তারা অসৎকর্মের নির্দেশ দেয় এবং সৎকর্ম নিষেধ করে।” – ( সূরা আত-তাওবা: ৬৭ )।
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿ وَتَوَاصَوۡاْ بِٱلۡحَقِّ وَتَوَاصَوۡاْ بِٱلصَّبۡرِ ٣ [سُورَةُ العَصۡرِ:3 ]
“এবং যারা পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়।” – ( সূরা আল-‘আসর: ৩ )।
আর সহীহ মুসলিমের মধ্যে তামীম ইবন আওস আদ-দারেমী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« الدِّينُ النَّصِيحَةُ » قُلْنَا لِمَنْ؟  قَالَ: «لِلَّهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِرَسُولِهِ وَلأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ ». ( رواه مسلم في صحيحه ).
“দীন হচ্ছে (জনগণের) কল্যাণ কামনা করা। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, কার জন্য? তিনি বললেন: আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল, মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও সমস্ত মুসলিমের জন্য।”—( হাদিসটি ইমাম মুসলিম করেন )।[38]
ইমাম মুসলিম আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ » (رواه مسلم في صحيحه).
“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন অশ্লীল কাজ দেখে, সে যেন তা হাত দ্বারা প্রতিরোধ করে; আর যদি তাতে সে অক্ষম হয়, তবে সে যেন তার মুখ দ্বারা তার প্রতিবাদ করে; আর সে যদি তাতেও অক্ষম হয়, তবে সে যেন তার অন্তর দ্বারা তা প্রতিরোধের পরিকল্পনা করে; আর তা হচ্ছে ঈমানের দুর্বলতা।”[39] ([40])
ইমাম বুখারী রা. আবদুল্লাহ ইবন ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদিস থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« بلغوا عني ولو آية » (رواه البخاري).
“তোমরা আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও।”[41] ([42])
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন:
«مثل القائم على حدود الله والواقع فيها كمثل قوم استهموا على سفينة فأصاب بعضهم أعلاها وبعضهم أسفلها فكان الذين في أسفلها إذا استقوا من الماء مروا على من فوقهم فقالوا لو أنا خرقنا في نصيبنا خرقا ولم نؤذ من فوقنا فإن يتركوهم وما أرادوا هلكوا جميعا وإن أخذوا على أيديهم نجوا ونجوا جميعا ». (رواه البخاري).
“যে মহান আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং যে সীমালংঘন করে, তাদের দৃষ্টান্ত সেই যাত্রীদলের মত, যারা কুর‘আ (লটারি)র মাধ্যমে এক নৌযানে নিজেদের স্থান নির্ধারণ করে নিল। তাদের কেউ স্থান পেল উপর তলায়, আর কেউ নীচ তলায় (পানির ব্যবস্থা ছিল উপর তলায়); কাজেই নীচের তলার লোকেরা পানি সংগ্রহকালে উপর তলার লোকদের ডিঙ্গিয়ে যেত। তখন নীচ তলার লোকেরা বলল, উপর তলার লোকদের কষ্ট না দিয়ে আমরা যদি নিজেদের অংশে একটি ছিদ্র করে নেই (তবে ভাল হত); এমতাবস্থায় তারা যদি এদেরকে আপন মর্জির উপর ছেড়ে দেয়, তাহলে সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যদি তারা এদের হাত ধরে রাখে (বিরত রাখে), তবে তারা এবং এরা সকলেই রক্ষা পাবে।”[43]
তাছাড়া সেখানে অনেক উপযুক্ত ও যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে, যা নারীর উপর এই দায়িত্ব ও কর্তব্য অর্পণ করে, আর যা নিরবিচ্ছন্নভাবে তার ও তার পরিবারের জন্য এ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনকে বাধ্যতামূলক করে দেয়। সেসব যৌক্তিকতা হচ্ছে:
১. সমাজের সাথে নারীর সম্পর্ক:
আর এটা এমন সম্পর্ক, যা নারীকে সমাজের বিভিন্ন পক্ষের সাথে মজবুত সম্পর্ক তৈরির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে এবং তাকে আত্মীয়তার রূপ দান করে; সুতরাং নারী মা, অথবা স্ত্রী, অথবা কন্যা, অথবা বোন, অথবা খালা, অথবা ফুফু … ইত্যাদি হওয়া থেকে মুক্ত নয়, বা তার বাইরের কেউ নয়; আবার তার মধ্যে যুক্ত হয় বৈবাহিক সূত্রে আত্মীয়তার সম্পর্ক, প্রতিবেশিত্ব, বন্ধুত্ব ও সতীর্থ; অনুরূপভাবে নারী হচ্ছে সমাজ ও জাতির অঙ্গ এবং তার উপাদানসমূহের মধ্য থেকে অন্যতম উপাদান, সমাজের সাথে এই ধরনের প্রতিটি সম্পর্কই নারীকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্যের অধিকারী বানিয়ে দেয়। আর আত্মীয়তা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা বড় অধিকার (হক) ও দায়িত্ব; আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿فَهَلۡ عَسَيۡتُمۡ إِن تَوَلَّيۡتُمۡ أَن تُفۡسِدُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَتُقَطِّعُوٓاْ أَرۡحَامَكُمۡ ٢٢[سُورَةُ مُحَمَّد:22 ]
“তবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে।” – (সূরা মুহাম্মদ: ২২ )।
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«من سره أن يبسط له في رزقه أو ينسأ له في أثره فليصل رحمه». (أخرجه البخاري و مسلم).
“যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তার জীবিকার মধ্যে প্রবৃদ্ধি হউক অথবা তার মৃত্যুর পরে সুনাম থাকুক, তবে সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে চলে।” – ( ইমাম বুখারী ও মুসলিম র. হাদিসখানা বর্ণনা করেন)। [44]
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ وَأَنذِرۡ عَشِيرَتَكَ ٱلۡأَقۡرَبِينَ ٢١٤ [سُورَةُ الشُّعَرَاء:22 ]
“তোমার নিকট-আত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও।” – ( সূরা আশ-শু‘আরা: ২১৪ )।
আর প্রতিবেশীরও বড় রকমের হক তথা অধিকার রয়েছে; কেননা রাসূলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ جَارَهُ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ». ( أخرجه البخاري و مسلم ).
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা চুপ থাকে; আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে।” – (ইমাম বুখারী ও মুসলিম র. হাদিসখানা বর্ণনা করেন)।[45]
রাসূলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«ما زال يوصيني جبريل بالجار حتى ظننت أنه سيورثه». ( أخرجه البخاري و مسلم ).
“আমাকে জিবরাঈল আ. সব সময় প্রতিবেশী সম্পর্কে অসীয়ত করে থাকেন। এমনকি, আমার মনে হল যে, তিনি অচিরেই প্রতিবেশীকে ওয়ারিস (উত্তরাধিকারী) বানিয়ে দেবেন।” – ( ইমাম বুখারী ও মুসলিম র. হাদিসখানা বর্ণনা করেন)। [46]
আর বন্ধুর জন্য রয়েছে বন্ধুত্বের এবং সাধারণ ও বিশেষ ভ্রাতৃত্বের অধিকার।
আর প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির জন্য রয়েছে ইসলাম সম্পর্কিত অধিকার, যেমনিভাবে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা এসেছে; আর অমুসলিমদের জন্য রয়েছে তাদেরকে এই দীন তথা জীবনব্যবস্থার দিকে দাওয়াত পাওয়ার অধিকার।[47]
আর মুসলিম নারী হলেন এই সমাজের মধ্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াশীল মহিলা এবং তার দায়িত্ব ও কর্তব্য হল এদের প্রত্যেককে তার মান অনুযায়ী মর্যাদাবান করে গড়ে তোলা।
২. মহিলাদের সাথে বিশেষ কিছু বিষয়ে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন সম্পর্কে বিশেষভাবে কথা বলার ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে নারীই অধিক উপযুক্ত; আরও উপযুক্ত এর উপর ভিত্তি করে বিন্যস্থ ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিষয়গুলোর ব্যাপারে কথা বলতে। সুতরাং এখানে পুরুষের পক্ষে কোন বিষয় প্রচার করতে যা অসম্ভব, নারীর পক্ষে তা প্রচার কারা সহজেই সম্ভব।
৩. অনুরূপভাবে নারী সংস্কারের সকল ক্ষেত্রে তার স্বজাতীয় মেয়েদের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে, তাদের আচার-আচরণের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে এবং তারা ভুল-ত্রুটিতে পতিত হলে তার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণের মাধ্যমে যথাযথ সংস্কার-পদ্ধতি প্রয়োগে সক্ষম; এ ক্ষেত্রে পুরুষের কার্যক্রম তার বিপরীত, যিনি নকল বা মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল; আর যে স্বচক্ষে দেখে সে ঐ ব্যক্তির চেয়ে অগ্রগামী, যে শুধু শ্রবণ করে।
৪. কল্যাণজনক ক্ষেত্রে এবং ইসলামের শিক্ষাসমূহের সমন্বয়সাধন, তার বিধাসমূহকে বাধ্যতামূলক দায়িত্বরূপে গ্রহণ এবং তার নিয়ম-পদ্ধতিসমূহের উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকার ক্ষেত্রে তার আদর্শিক প্রভাবের পরিধি মানুষের কথার চেয়ে অনেক বেশি প্রভাবশালী; সুতরাং আহূত ব্যক্তিদের প্রাণের মধ্যে তার আদর্শের একটা বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে।
৫. মহিলাদের মধ্যে ব্যক্তিগত নসিহত ও ব্যক্তিগত দাওয়াতী কাজ যথাযথভাবে পরিচালনা করা পুরুষের পক্ষে সম্ভব নয়; সুতরাং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য তাদের মধ্য থেকে নারীকে ভূমিকা রাখতে হবে; কেননা নারীদের উপর তাদের অপরিচিত পুরুষদের থেকে পর্দা করা ফরয।
৬. মুসলিম নারী সমাজের মধ্যে কোন ব্যর্থ সদস্য নন; বরং তিনি হলেন প্রভাব-প্রতিপত্তির পাত্র; আর মুসলিম নারী হলেন আল্লাহর পথের আহ্বানকারিনী ও উপদেষ্টা; সুতরাং তার জন্য আবশ্যক কর্তব্য হল, সে সমাজ বিনির্মাণ, সংশোধন ও পরিচালনার কাজে অংশগ্রহণ করবে; আরও অংশগ্রহণ করবে কল্যাণের পথে দাওয়াতী কার্যক্রমে।
৭. আদর্শ নারীগণ এ রকমই হয়েছেন; আর তাদের শীর্ষে রয়েছেন সম্মানিত মহিলা সাহাবীগণ; আর যারা সংস্কার, সংশোধন ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছেন, তাদের মধ্যে মুমিন-জননীগণ উল্লেখযোগ্য; সুতরাং তাদের মধ্যে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা উম্মতের জন্য কেননা রাসূলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁর (রাসূলের) আবাসিক অবস্থার বিবরণ দিয়েছেন এবং সাহাবীদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে সংশোধন করেন; আর তাঁদেরই আরেক জন হলেন যয়নব বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা মিসকীনদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাঁর নিকট কোন কিছুই অবশিষ্ট ছিল না; আর এইভাবে অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে; সুতরাং ঐসব মর্যদাবান নারীগণ হলেন আদর্শ নমুনা ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
৮. নারী কেন্দ্রীক ইসলামের শত্রুগণের চেষ্টা ও সাধনা দুইভাবে হয়ে থাকে: প্রথমত তারা নারীর জাতিসত্বাকে ধ্বংস ও বিপর্যস্ত করার জন্য তাদেরকে কেন্দ্রীভূত করে; দ্বিতীয়ত নারীদেরকে ধ্বংস ও বিপথগামী করার পর ঐ নারীদেরকে অন্যান্য নারীদের ধ্বংস ও বিপথগামী করার কাজে ব্যবহার করা; আর কাফির ও ষড়যন্ত্রকারীদের বাস্তবতা এই কথারই সাক্ষ্য দেয়; সুতরাং নারীর আবশ্যকীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য হল এই বিপর্যয়ের পথ রুদ্ধ করার জন্য তার যথাযথ ভূমিকা পালন করা; মোটকথা, মেয়ে বা নারীজাতিকে সমাজ ও উম্মতের (জাতির) মধ্যে সংস্কারমূলক ভূমিকায় ব্যস্ত থাকতে হবে।
৯. মহান মর্যাদাপূর্ণ ও পর্যাপ্ত সাওয়াবের এই কাজে সে পুরুষের সহযোগিতা নেবে; কারণ, ভাল কাজসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ ও মুস্তাহাব কর্মসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ মানের কর্ম হল সমাজের কল্যাণে সংস্কারমূলক কাজ ও দাওয়াতী কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা করা, যেমন অচিরেই সেই ব্যাপারে বিস্তারিত বিবরণ আসছে।
৩. এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রয়োজনীয় বিষয়াদি:
সংস্কারের ক্ষেত্রে ব্যাপক দায়-দায়িত্বের ব্যাপারে পূর্বে যে আলোচনা হয়েছে, তার সাথে প্রয়োজনীয় বিষয়াদি নিম্নরূপে নির্ধারণ করা যায়:
 (ক) আত্মীয়-স্বজন পক্ষ:

নিকটতম ও দূরতম আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে নারী নিম্নলিখিতভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে পারে:

  • তাদের অধিকারসমূহ আদায় করা।
  • তাদের পোষাক-পরিচ্ছদ, চুল প্রদর্শন ও কথাবার্তা বলার ক্ষেত্রে প্রকাশভঙ্গির শর‘য়ী দিক পর্যবেক্ষণ করা।
  • সময়ে সময়ে তাদের সাথে কথাবার্তা বলা; তাদের অবস্থাদি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা, বিশেষ করে তাদের মধ্যে যার কোন বিশেষ সমস্যা রয়েছে। যেমন রোগী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা এবং তার জন্য দো‘আ করা।
  • তাদের সমাবেশেকে ভাল কথা ও উত্তম উপদেশ দ্বারা ফলপ্রসূ করা। এই ক্ষেত্রে উত্তম হল তাদেরকে উপদেশ দেয়া, তাদের নিকট উপকারী বক্তব্য পেশ করা, অথবা তাদেরকে প্রচলিত ভুলত্রুটি ও অন্যায়-অপরাধ সম্পর্কে সতর্ক করা, অথবা তাদের জন্য মহিলা দা‘ঈকে মেহমান হিসেবে আনা, অথবা বিভিন্ন বয়স অনুযায়ী তাদের মধ্যে সাধারণ প্রতিযোগিতা পরিচালনা করা, অথবা তাদেরকে উপকারী ক্যাসেট-অডিও ইত্যাদি শুনানোর ব্যবস্থা করা অথবা উপকারী কিচ্ছা-কাহিনী আলোচনা করা এবং ইত্যাদি।
  • বিভিন্ন উপলক্ষকে কেন্দ্র করে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা, তা অল্প দামের হউক না কেন। কারণ, উপহার উপঢৌকন মানব মনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। তা সকল প্রকার বিদ্বেষ দূর করে; অন্তরের কলুষতা ও অপবিত্রতাকে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দেয়; মন থেকে বিদ্বেষ ও শত্রুতাকে আস্তে আস্তে বের করে দেয়; সম্পর্ককে নির্ভেজাল করে; সকল প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে এবং মানুষের একে অপরকে কাছাকাছি করে।
  • তাদের দরিদ্রদেরকে (ফকীরকে) সহযোগিতা করা, মিসকীন তথা নিঃস্বদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, বিধবাদেরকে সাহায্য করা এবং তাদের অভাবীদের অভাব নিবারণ করা।
  • আরও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল, তাদের অসুস্থকে সেবা করা, তাকে সান্তনা দেয়া এবং তার সামনে শুভ সঙ্কেত মেলে ধরা; আর অনুরূপভাবে মৃত্যু ও অন্যান্য কারণে তাদের বিপদগ্রস্তকে সাহায্য-সহযোগিতা করা এবং তার জন্য দো‘আ করা; আর তারা যে কোন প্রয়োজনের মুখোমুখি হলে, সে ক্ষেত্র তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া।
  • যৌথভাবে দাওয়াতীমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া। যেমন, নিঃস্বদেরকে সহযোগিতার জন্য অনুদান সংগ্রহ করা, অথবা বইপত্র ক্রয় করে বিতরণ প্রভৃতি।
(খ) প্রতিবেশীদের পক্ষ:

আর প্রতিবেশীদের ক্ষেত্র্রে তাদের দাওয়াতী কার্যক্রমের মধ্যে যা অন্তর্ভুক্ত, তা নিম্নরূপ:

  • তাদের শরীয়াহ ভিত্তিক অধিকারসমূহ আদায় করা।
  • প্রতিবেশী সকল নারীর ব্যাপারে জানা এবং পৃথকভাবে নিকট ও সাংস্কৃতিক দিক বিবেচনা করে প্রত্যেক প্রতিবেশীর সাথে আচরণ করা।
  • সে নিজে যে খাবার খায়, তার থেকে তাদেরকে খাওয়াবে। বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে সে তার প্রতিবেশীদেরকে খাবার দান করে, যদিও তা ছাগলের খুর হউক; আর তার ঝোল থেকে তাকে কিছু দান করতে বলেছেন।[48]
  • সময়ে সময়ে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করা এবং এই সাক্ষাতকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ফলপ্রসূ করা (আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আচরণে যেমনটি বলা হয়েছে)।
  • তাদেরকে কথা অথবা কাজের মাধ্যমে কোন প্রকার কষ্ট না দেয়া।
  • সময়ে সময়ে তাদেরকে ফোন করা এবং তাদের অবস্থাদি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা।
  • উপদেশ চাওয়ার সময়ে অথবা শরয়ী কোনো বিষয় দৃষ্টিগোচর হলে উপদেশ দেয়া।
(গ) নারীদের সমাবেশে: 

নারীকে সামাজিক জীবনে বহু সমাবেশে হাজির থাকতে হয়— কখনও আবশ্যকভাবে, আবার কখনও ঐচ্ছিকভাবে। উভয় প্রকার সমাবেশেই নারীর উপর দাওয়াতী দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।

তন্মধ্যে আবশ্যিক সমাবেশসমূহে, উদাহরণস্বরূপ বলা যায়: মানুষ এই জীবনের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার রোগ-ব্যাধি ও বিপদ-মুসিবতের মুখোমুখি হয়, অতঃপর সে সঠিক কারণ উদ্ঘাটন করে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের নিকট গমন করে; সুতরাং যখন কোন নারী ডাক্তারের নিকট গমন করে, তখন সে মহিলা ডাক্তারের নিকট প্রবেশের অপেক্ষায় থাকে; অতএব তার সাথে একত্রিত হয় অপেক্ষমান মহিলাদের কেউ কেউ; আর এটা জানা কথা যে, পুরুষদের চেয়ে নারীরাই অধিক সামাজিক; সুতরাং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা তাদের কারও কারও সাথে আলাপ-আলোচনা ও কথাবার্তায় মেতে উঠে; সুতরাং তিনিই হলেন সৌভাগবান নারী, যিনি এই সমাবেশটিকে ব্যবহার করেন নিম্নরূপ কাজে:
  • উপহারস্বরূপ দেয়ার জন্য কিছু বাছাই করা বইপত্র ও ক্যাসেট/সিডি সঙ্গে রাখা; অতঃপর তার সাথে অপেক্ষমান নারীকে তা উপহার দেবে; বিশেষ করে ঐ সিডিটি উপহার হিসেবে দিলেই ভাল হবে, যখন সিডিটি রোগীর অবস্থাদি সম্পর্কে এবং শরী‘আতের বিধিবিধান ও অন্যান্য বিষয়ে (রোগীর জন্য) যেসব করণীয় নিয়ে আলোচনা করে।
  • মহিলা ডাক্তার ও রোগীদের সাথে তার ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কাহিনী আকারে আলোচনা করা এবং তার থেকে উপকারী বিষয়গুলোকে শিক্ষা হিসেবে পেশ করা।
  • বিভিন্ন রোগ-বালাইর অবস্থা আলোচনা করা; আর এভাবেই সে উপস্থিত মহিলাদের মধ্যে আনন্দের উদ্রেক করতে পারবে এবং সেখান থেকে সে তার অর্থবহ কাঙ্খিত কথাবার্তা নিয়ে তাদের মধ্যে প্রবেশ করবে।
  • ভাল ভাল ইসলামী পত্রপত্রিকা ও ম্যাগাজিন সঙ্গে রাখবে সেগুলোর পরিচিতি তুলে ধরার জন্য এবং তার ইতিবাচক দিকগুলো এবং তার মধ্যে যেসব উপকারী বিষয় রয়েছে, তা আলোচনা করা।
  • যখন সে এমন কোন অবস্থা বা অবস্থান লক্ষ্য করবে, যা উপদেশ দাবি করে, তখন সরাসরি নসিহত করা।
–  আর ঐচ্ছিক সমাবেশে, উদাহরণস্বরূপ মহিলাদের ‘হিফজুল কুরআনুল কারীম’ কোর্সে উপস্থিত হওয়া। আর তার এই উপস্থিতি হয় সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে, অথবা উপকৃত হওয়ার জন্য ছাত্রী হিসেবে, অথবা উৎসাহদানকারিনী দর্শক হিসেবে, অথবা অন্যান্য কোন উদ্দেশ্যে। আর সকল পরিবেশ-পরিস্থিতিতে উচিত কাজ হল, সে তার উপস্থিতির সুবর্ণ সুযোগটি সঠিকভাবে কাজে লাগাবে; সুতরাং সে যদি শিক্ষকা বা ছাত্রী হয়, তবে তাদের পাঠ্যক্রম (সিলেবাস) সম্পর্কে কথাবার্তা বলবে ও এর বিস্তারিত আলোচনায় আসবে; আর সে যদি দা‘ঈ তথা আল্লাহর পথে আহ্বানকারিনী হয়, তবে এই ক্ষেত্রে তার দাওয়াতী দায়িত্ব প্রতিষ্ঠা করবে; আর সে যদি উৎসাহদানকারিনী দর্শক হয়, তবে সে পরিচালক, ব্যবস্থাপক ও শিক্ষিকাদেরকে উৎসাহ দেয়ার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করবে এবং তাদের জন্য দো‘আ করবে। কারণ, তাদের মহৎ কাজ অব্যাহত রাখা এবং এই ক্ষেত্রে তাদের মানকে সমুন্নত করার ব্যাপারে এটা একটা বড় ধরনের উদ্দীপক।
অনুরূপভাবে সে সমস্ত হিফজ প্রতিষ্ঠানসমূহে আর্থিকভাবে সামর্থ্য অনুযায়ী যথাসম্ভব সাহায্য ও সহযোগিতা করা, যদিও তা সামান্য বস্তু হউক; কেননা কম কম করেই বেশি হয়; আর ফোটাগুলো একত্রিত হয়ে সৃষ্টি হয় বন্যার। আর যখন তারা তার নিকট কিছু জানতে বা পেতে চাইবে; তার পক্ষ থেকে সহযোগিতার কথা জানাবে, এবং বলবে যে এ ব্যাপারে (সহযোগিতা করার জন্য) শুধু তার সাথে ফোনে কথা বললেই হবে।
আর এই সবই কল্যাণের দিকে আহ্বান এবং পুণ্য ও তাকওয়ার কাজে পারস্পরিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
আর এই দুই প্রকারের সমাবেশের দাওয়াতকে অন্য সব ধরনের নারী সমাবেশের জন্য মডেল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে।
(ঘ) ক্লাবসমূহ এবং সেগুলোর প্রতি মুসলিম নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য:

আমরা যেই যুগে বসবাস করছি, তার অন্যতম দৃশ্য হল বহু রকমের সাংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়া, সাথে সাথে রয়েছে বহু সভা-সেমিনার, উৎসব-অনুষ্ঠান এবং এগুলোর মত করে আরও অন্যান্য বিবিধ নামের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীগণ ও তাদের অনুরূপ মতাদর্শের ব্যক্তিবর্গ যা নিয়ে অগ্রসর হয়েছে, তন্মধ্যে অন্যতম হল তাদের নারী সমাজকে এসব ক্লাব বা সংঘের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করা এবং তাদের বিকৃত চিন্তাধারার মাধ্যমে সেগুলোর সুবিধা ভোগ করা। আর মুসলিম সংস্কৃতিমনা রক্ষণশীল আল্লাহর দীনের আহ্বায়ক নারী সমাজের এসব ক্লাবে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের সময় হয়েছে; সুতরাং তারা এগুলোকে নিম্নলিখিতরূপে ব্যবহার করবে:
–          মৌলিকত্ব সহকারে সে সব সভা-সমিতিতে কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করা, যাতে সে সেখানে তার দ্বীন তথা আকীদা ও শরী‘আত, চরিত্র ও চাল-চলনে যে নির্দেশনা দেয় সেটা সেখানে স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে। আর সকল প্রকার অনিষ্টতা ও খারাপী থেকে সতর্ক করবে।
–          সেমিনারসমূহে নিজের মতামত পেশ করার মাধ্যমে কল্যাণকর কাজে উৎসাহিত করা, অথবা অপকর্ম থেকে সতর্ক করা।
–          শরী‘আতের দলিল-প্রমাণ ও বাস্তবভিত্তিক প্রমাণাদির মাধ্যমে সাহসিকতা ও সচেতনতার সাথে বাতিল যুক্তি-প্রমাণাদির বিরুদ্ধে সোচ্ছার থাকা।
–          ইসলামের বাস্তব ও কার্যকর চিত্র তুলে ধরা; ফলে তা উপস্থিত লোকদের মধ্যে মুসলিম নারী তার বাহ্যিক ও আভ্যন্তরিণ গঠনে কেমন হওয়া আবশ্যক তার আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হবে।
–          সততা ও কল্যাণের অনুসারীদের সংখ্যাধিক্যকে আরও বৃদ্ধি করার মানসে এ সব সভা-সমিতিতে উপস্থিত হওয়া।
–          উপস্থিত সকল নারীর সাথে উত্তম আচার-আচরণের মাধ্যমে কাজ করা, চাই তারা উত্তম চরিত্রের অধিকারিনী হউক, অথবা তারা পাপাচারিণী বা বিকৃত মানসিকতা সম্পন্না হউক; কেননা কথার চেয়ে চরিত্র ও নৈতিকতার প্রভাব অনেক বেশি; আর মুসলিম নারী তো পারস্পরিক উত্তম আচার-আচরণের জন্য আদিষ্ট।
–          এসব ক্লাবের মধ্যে যে সকল অসামাজিক ও খারাপ কাজ হয়ে থাকে সেগুলোর পরিসংখ্যান নেয়া এবং এ গুলো যাতে প্রসার লাভ করতে না পারে ও এগুলোর প্রভাব যাতে সীমাবদ্ধ করা যায় এ ব্যাপারে সহযোগিতার জন্য যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত করা।
(ঙ) কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব:

এই যুগে নারীরা পুরুষের সাথে অনেক বিষয়ে অংশগ্রহণ করে থাকে, এখানে রয়েছে নারীদের অনেক কর্মক্ষেত্র। নারীরা এর এক বিরাট অংশ দখল করে আছে; সুতরাং তারা বিভিন্ন ময়দানে প্রবেশ করেছে; আমি এসব ময়দানের দু’টি দৃষ্টান্ত উল্লেখ করছি, বাকি ময়দান বা ক্ষেত্রসমূহকে এই দু’টি দৃষ্টান্তের উপর অনুমান করা হবে:

প্রথম দৃষ্টান্ত: শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দান।
একজন শিক্ষিকাকে তার মিশন সম্পাদন এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে যে সকল উপদেশ দেয়া যায় তা হচ্ছে,
  • তাকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মত দায়িত্ব ও কর্তব্যের মহত্ব ও গভীরতা অনুধাবন করতে হবে; আর তাকে বুঝতে হবে যে, তার উপর অনেক বড় দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। আর এসব ছোট অথবা বড় নারীদের বিবেক-বুদ্ধি তার প্রভাবের অধীন; আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তাকে এই দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন। কারণ, তিনি যাকে দায়িত্বের জন্য মনোনীত করেছেন, এমন প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। আর শিক্ষার কাজটি খুবই মহৎ ও মহান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার মহত্ব প্রকাশ পায় এই কাজটি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হওয়ার কারণে; সুতরাং শিক্ষিকা নবুওয়তের উত্তরাধিকারের দায়িত্ব বহন করেছেন; আর তিনি হলেন আয়েশা ও ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা’র প্রতিনিধি এবং তিনি মহান প্রশিক্ষিকা, মায়ের দায়িত্ব অথবা তার চেয়ে অনেক বড় দায়িত্ব পালন করেন; আর এটা এই জন্য যে, তার ছাত্রীদের উপর তার একটা বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। আর তিনি হলেন নির্দেশক ও পথপ্রদর্শক, তার নির্দেশনা ও পথপ্রদর্শন শ্রোতাদের পক্ষ থেকে গ্রহণীয় হয়ে থাকে; শিক্ষক ও শিক্ষিকার গুরুত্ব চিত্রিত করার ক্ষেত্রে সেই উক্তিটিই যথেষ্ট, যা কবি আহমাদ শাওকী ছন্দাকারে বলেন:
قم للمعلم وفِّه التبجيلا           كاد المعلِّم أن يكون رسولاً
শিক্ষকের জন্য দাঁড়াও, শিক্ষককে কর সম্মান
শিক্ষকের ভূমিকা তো প্রায় রাসূলের সমমান
আর তাই তার উপর ন্যাস্ত হয়ে পড়ে বড় মিশন ও ভারী দায়িত্ব, যা পালন করা তার উপর আবশ্যক; আর এই দায়িত্বানুভূতির সূচনা হল এর গুরুত্ব উপলব্ধি করা।
  • তার মূল কাজটিকে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা, যার উপর সে বেতন নিচ্ছে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ অর্জন করছে; অতঃপর তার দায়িত্ব হল তার দারস বা পাঠ প্রস্তুত করা, তার পরিকল্পনা করা, ছাত্রীদের মাঝে তা পেশ করা এবং এই বিষয়ে আবশ্যকীয় উপায়-উপকরণ ও সরাঞ্জামাদি সংগ্রহের কাজে চেষ্টাসাধনা করা। কারণ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তোমাদের কাউকে তখন ভালবাসেন, যখন সে কাজটি করে তার আস্থা, বিশ্বাস ও আন্তরিকতার সাথে।
  • তিনি হবেন তার প্রকাশ্যরূপে, কথাবার্তায়, সার্বিক তৎপরতায় ও নৈতিক চরিত্রের ক্ষেত্রে ছাত্রীদের কাছে আদর্শ নমুনা; কেননা আমরা পূর্বেই বর্ণনা করেছি যে, কর্মের প্রভাব কথার প্রভাবের চেয়ে অনেক বেশি ফলপ্রসূ। বিশেষ করে ছাত্রীরা সাধারণত: তার শিক্ষিকার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে থাকে, তাকে মডেল (আদর্শ) হিসেবে গ্রহণ করে থাকে, এমনকি তারা সার্বিক কর্মতৎপরতা, পোষাক-পরিচ্ছদ এবং চেহারা-ছবিতেও শিক্ষিকার অনুসরণ করে থাকে। সুতরাং সম্মানিত শিক্ষিকার জেনে রাখা উচিত যে, তার প্রতিটি কর্মতৎপরতা, কথা, কাজ ও পোষাক-পরিচ্ছদ হল তার ছাত্রীদের দৃষ্টির ক্ষেত্র এবং শিক্ষণীয় বিষয়; সুতরাং তা ভাল হলে, তারাও ভাল হবে আর মন্দ হলে তারাও মন্দ হবে; আর সৌভাগ্যবান বা আদর্শ শিক্ষিকা তিনিই হবেন, যিনি এই কাজের জন্য যথাযথ হিসাব-নিকাশ করেন এবং তার যথাযথ মূল্যায়ন করেন, যাতে করে তার কর্মকাণ্ড হয় প্রভাব বিস্তারকারী, যেমন প্রভাব বিস্তারকারী হয় তার কথাবার্তা; আর এতে করে সে কথা ও কাজ উভয়টির মাধ্যমেই প্রতিদান ও সাওয়াব প্রাপ্ত হতে পারে। আল্লাহ তা‘আলার কাছে দো‘আ করছি, তিনি যেন এক্ষেত্রে শিক্ষিকাদের আগ্রহকে বাড়িয়ে দেন।
  • ছাত্রীদেরকে তার বান্ধবী হিসাবে বিবেচনা করা, বিশেষ করে তারা যখন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের মত উপরের শ্রেণীর ছাত্রী হবে; তবে তারা যখন প্রাথমিক স্তরের এবং তার পূর্বের স্তরের হবে, তখন শিক্ষিকা নিজেকে ঐসব মেয়েদের মা বলে বিবেচনা করবেন, যাদেরকে তাদের পরিবারের লোকজন তার দায়িত্বে অর্পণ করেছেন। আর পূর্বে আলোচনা হয়ে গেছে যে, মায়ের কর্মকাণ্ড কেমন হবে? আর যখনই তিনি এই বিরাট অর্থ ও তাৎপর্য অনুধাবন করবেন, তখনই তার প্রভাব ও প্রতিপত্তি অনেক বড় ও মহান হবে।
  • ছাত্রীদের সাথে আচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম আচার-আচরণ ও লেনদেনের পরিচয় দেয়া এবং তাদের সাথে এর দ্বারা সুন্দরভাবে মেলামেশা করা। কারণ, আচার-আচরণ ও লেনদেনের প্রভাব খুব বেশী; সুতরাং তিনি তাদের উপর গর্ব, বড়ত্ব ও অহংকার প্রকাশ করবেন না; তার দায়িত্ব হল, তিনি অধ্যবসায়ী ছাত্রীকে অনুপ্রাণিত করবেন; ছোট ও দুর্বল ছাত্রীদেরকে আদর-স্নেহ করবেন; ছাত্রীদের সমস্যাগুলো সমাধান করবেন এবং তাদের আবাসিক ও ব্যক্তিগত অবস্থাদির প্রতি সদয় দৃষ্টি দেবেন; আর তাদের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সামাজিক, অথবা মানসিক সমস্যা এবং মাসিক শুরু জনিত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হওয়া ও তার যথাযথ সমাধান পেশ করা।
  • সিলেবাস বহির্ভূত কর্মতৎপরতায় অংশগ্রহণ করা, যার মাধ্যমে তিনি অত্যন্ত কাছে থেকে ছাত্রীদের সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং উপলব্ধি করতে পারবেন তাদের প্রবৃত্তি ও শক্তি-সামর্থ্যের ব্যাপারে; ফলে এর সাহায্যে তিনি তাদেরকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারবেন।
  • তার হৃদয়কে ছাত্রীদের জন্য এমনভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া, যাতে তাদের আবাসিক সমস্যাসমূহ এবং তাদের ঘরের মধ্যে তারা যে সমস্ত সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকে সেগুলো সম্পর্কে তিনি অবহিত হতে পারেন। বিশেষ করে ঐসব ছাত্রীদের ব্যাপারে অবহিত হতে পারেন, যাদের ব্যাপারে তাদের পরিবারের লোকজন অমনোযোগী এবং তারা ভালভাবে তাদের খোঁজখবর রাখে না; সুতরাং এখানে ঐসব ছাত্রীদের নিকট প্রবেশ করে তাদেরকে উপদেশ দেয়া এবং সঠিক হেদায়াত তথা দিক নির্দেশনা প্রদান করা, একজন সত্যিকারের কল্যাণকামী শিক্ষিকা হিসেবে তার বৃহৎ দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। আর তার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা একটি মেয়েকে হেদায়েত করাটা তারা জন্য একটি লালবর্ণের উটের মালিক হওয়া অপেক্ষা অনেক বেশি উত্তম, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ হাদিসের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে।[49]
  • পাঠসূচীর প্রত্যেক জ্ঞানের বিষয় পাঠ দানের সময় সেটার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষনে ভাল কাজ ও উন্নত ইসলামী চরিত্রের বিষয়ের প্রতি দিক-নির্দেশনা প্রদান; বিশেষ করে শরী‘আতের বিষয়, আরবি বিষয় ও সামাজিক বিষয়গুলোর পা‍ঠ্যক্রম। এমনকি অন্যান্য শিক্ষার পাঠ্যক্রমেও আবশ্যক হলো অনুরূপ কল্যাণ ও সম্মানজনক শিক্ষণীয় বিষয়গুলোর দিকনির্দেশনা মুক্ত না হওয়া। এই দিকনির্দেশনা পেশ করা শুধু শরী‘আতের বিষয়সমূহের পাঠদানকারিনী শিক্ষিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; নিঃসন্দেহে ছাত্রীদেরকে (পড়ানোর সময় পাঠের ভিতর থেকে) যাবতীয় কল্যাণ ও উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে শর‘য়ী বিষয়ের পাঠদানকারিনীর কর্তব্য অনেক বড়; কিন্তু এর অর্থ এ নয় যে, অপরাপর শিক্ষিকাগণ দায়িত্বশূন্য থাকবেন।
আর আমি এখানে কিভাবে এ সুযোগের সদ্ব্যাবহার করা যাবে তার কিছু দৃষ্টান্ত পেশ করছি:
–          আল-কুরআনুল কারীমের শিক্ষিকা কর্তৃক ছাত্রীদেরকে সূরা আল-ক্বারি‘আর পাঠদান; আর এটা জানা কথা যে, সূরা আল-ক্বারি‘আ কিয়ামতের দিন ও তার মহাপ্রস্তুতি ও আয়োজন নিয়ে আলোচনা করেছে, যেমন: পৃথিবী ও পাহাড়সমূহের অবস্থার পরিবর্তন থেকে শুরু করে মানুষের জান্নাত অথবা জাহান্নামে অবস্থান করা এসবই এ সূরায় রয়েছে; সুতরাং এই অর্থ বা তাৎপর্য বর্ণনার পর তার জন্য সম্ভব হবে কতগুলো প্রশ্নের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করা, যেমন: কিভাবে আমরা জান্নাতের অধিবাসী হব? জাহান্নামে প্রবেশের কারণগুলো কী কী? আর ছাত্রীদেরকে জবাব দেওয়ার পর তিনি মুমিনদের গুণাবলী ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করবেন; আরও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করবেন কাফির ও মুনাফিকদের গুণাবলী এবং এরূপভাবে … অতঃপর এসব গুণাবলীকে মানুষের বাস্তবতার সাথে মিল করে দেখাবেন এবং মানব জীবনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক স্থানগুলো বর্ণনা করবেন।
–          অপর একটি দৃষ্টান্ত হল: শিক্ষিকা ফিকহ শাস্ত্রের পাঠদান করবেন; তিনি শিক্ষা দেবেন হায়েয (মাসিক ঋতুস্রাব) ও নিফাস (সন্তান প্রসবকালীন স্রাব) সম্পর্কে; সুতরাং প্রস্তাবিত জ্ঞানগত বিষয়টি বর্ণনার পর তিনি যথাযোগ্য নির্দেশনার মধ্যে প্রবেশ করবেন; অতঃপর তিনি ছাত্রীদেরকে লক্ষ্য করে স্পষ্টভাবে বলবেন যে, নিশ্চয় এই হায়েযের নিয়মটি পুরুষদেরকে বাদ দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা নারীদের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন; আর এ জন্যই নারীর স্বভাব পুরুষের স্বভাব থেকে ভিন্ন রকম হয়ে থাকে এবং তিনি স্বভাবের ভিন্নতার কিছু দিক উল্লেখ করবেন … শেষ পর্যন্ত তিনি উল্লেখ করবেন যে, নিশ্চয়ই নারীর জন্য এমন কতগুলো বিধান রয়েছে, যা আল্লাহ তা‘আলা পুরুষদেরকে বাদ দিয়ে নারীর সাথে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন; তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: হিজাব (পর্দা), পুরুষের স্থান থেকে দূরে থাকা … ইত্যাদি।
–          তৃতীয় দৃষ্টান্ত: শিক্ষিকা ব্যাকরণগত নিয়মাবলী মুবতাদা (উদ্দেশ্য) ও খবর (বিধেয়) শিক্ষা দেবেন; আর এখানে শিক্ষিকার জন্য সুন্দর হবে এমন কিছু যথাযথ উদাহরণ পেশ করা, যা ছাত্রীদের মধ্যে কল্যাণকর কিছু গুণাগুণ তৈরীতে সহায়ক হবে, যেমন উদাহরণস্বরূপ তিনি নিম্নোক্ত বাক্যগুলো নিয়ে আসতে পারেন: هند حفظت كتاب الله (হিন্দা আল্লাহর কিতাব মুখস্ত করেছে), فاطمة مجدة في دروسها (ফাতিমা তার পাঠে অধ্যবসায়ী), زينب ذكية فطنة (যয়নব মেধাবীনী, বুদ্ধিমতী) ইত্যাদি।
দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত: প্রশাসনিক মহিলা কর্মকর্তা, চাই তিনি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, অথবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের; আর অনুরূপভাবে রোগীর সেবক, ডাক্তার ও অন্যান্য স্বাস্থ্য বিষয়ক মহিলা কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ; আর তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিম্নরূপ:
  • তাদেরকে অনুধাবন করতে হবে যে, নিশ্চয়ই এই কাজটি তাদের উপর আবশ্যক, এই ব্যাপারে তারা আমানতদার, এর উপর তারা একটা নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেন এবং অচিরেই তাদেরকে সেই ব্যাপারে হিসাবের মুখোমুখি হতে হবে; সুতরাং তাদের উপর আবশ্যক হল, তারা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্বটি সুন্দরভাবে পালন করবেন; অতএব তারা কোন এক শহর বা ভূ-খণ্ডের সীমানা পাহারার দায়িত্বে নিয়োজিত; সুতরাং তাতে কোনো প্রকার অবহেলা তাদের জন্য বৈধ হবে না।
  • তাদের আত্মপ্রকাশ হবে ইসলামী বেশভূষার মাধ্যমে, যাদেরকে তাদের বান্ধবী অথবা ছাত্রীরাসহ অপরাপর নারীদের জন্য আদর্শ নমুনা হিসেবে পেশ করা যায়, যদি তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অথবা হাসপাতালের মহিলা কর্মকর্তা-কর্মচারী হন অথবা যদি হন নার্স বা সেবিকা অথবা মহিলা ডাক্তার অথবা অনুরূপ কেউ। আর তাদের জেনে রাখা উচিত, তাদের এই বাহ্যিক রূপ, যা নিয়ে তারা অপরাপর মহিলাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন, তারা জেনে বা না জেনে এর মাধ্যমে তাদের মাঝে ইতিবাচক অথবা নেতিবাচকভাবে প্রভাব ফেলবেন।
  • নিজের পেশা ও চাকুরিকে অপরের সেবা, তাদের কল্যাণ কামনা এবং তাদেরকে কল্যাণকর ও মর্যাদাপূর্ণ কাজের দিকে পরিচালিত করা ও যাবতীয় অপকর্ম থেকে দূরে সরিয়ে রাখার কাজে সঠিকভাবে কাজে লাগানো; বিশেষ করে যখন তিনি হবেন রোগীর সেবিকা ও ডাক্তার কিংবা সামাজিক কনসালটেন্টের মত মানুষের সাথে সম্পর্কযুক্ত পেশার অধিকারিনী। উদাহরণস্বরূপ যখন তিনি হবেন ডাক্তার, তখন তার এ পেশা কতই না মহান! যার মাধ্যমে তিনি অন্যান্য মহিলাদের সেবা করবেন, তিনি তার নিজের মধ্যে এমন মহৎ গুণাবলী ধারণ করবেন, যা তিনি অপরের জন্য ছড়িয়ে দিবেন; যেমন: রুগ্ন নারীর মনে শান্তনা দান করা, তার জন্য রোগ নিরাময়ের দ্বার উন্মোচন ও আশাবাদ ব্যক্ত করা এবং হতাশাবাদ ব্যক্ত না করা অথবা রোগের ভয়াবহতা প্রকাশ না করা; অনুরূপভাবে রোগীদেরকে ভালো ভালো নসীহত করা, এবং পবিত্রতা ও সালাতের বিধিবিধানসমূহ থেকে কিছু কিছু দিক বর্ণনা করা।
যে বিষয়ে নির্দেশনা দেবেন তন্মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল: রুগ্ন নারীকে আল্লাহ তা‘আলার সাথে সম্পর্কযুক্ত করা এবং এই কথা বলা যে, রোগ নিরাময়কারী হলেন একমাত্র আল্লাহ, অন্য কেউ নন; আর মানুষের পক্ষ থেকে যা করা হয়, তা হল শুধু উসিলা বা উপলক্ষ মাত্র, আল্লাহ উপকার চাইলে তা উপকার করে, আর তিনি না চাইলে তা উপকার করতে পারে না; ইতাদি তার আরও গুণাবলী ও প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট্য থাকবে।
আর মহিলা ডাক্তারের মত অপরাপর যারা এ কাজটি করতে পারেন তারা হচ্ছেন: নার্স তথা রোগীর সেবিকা ও কিংবা সামাজিক কনসালটেন্ট।
আর তার দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক বড় মাপের হয়ে যাবে, যদি ঐ  চাকরিজীবী নারী হন প্রশাসনিক দায়িত্বশীল, যেমন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান অথবা মহিলা বিভাগসমূহ বা পরিচালনা পরিষদের  কোন একটি বিভাগের প্রধান এবং ইত্যাদি ইত্যাদি। সুতরাং তার উপর আবশ্যক হয়ে পড়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব, দাওয়াতী তৎপরতামূলক এবং সামাজিক দায়-দায়িত্বসমূহ পালন; যেমনটি শিক্ষিকা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার সম্পর্কে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।
(চ) শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব:

কোন সন্দেহ নেই যে, আজকের দিনে মানুষের জীবন গত দিনের চেয়ে অনেক ভিন্ন; আর ভিন্নতার স্থানসমূহের মধ্যে অন্যতম হল মেয়েদের শিক্ষা; আর রাষ্ট্রসমূহের পক্ষ থেকে নারী শিক্ষার দায়িত্বগ্রহণ; বরং বর্তমান বিশ্বে ছেলেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিযোগিতা করে মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি এমন অবস্থা খুব কমই পরিলক্ষিত হয়। আর পরিবারসমূহের পক্ষ থেকে কম পরিবারই আছে, যাতে মেয়ে আছে, অথচ সে বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেখানকার ছাত্রী হয় না। আর এখান থেকেই ছাত্রীর উপর আবশ্যক হল তার সমাজ ও জাতির সম্মুখে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অংশ গ্রহণ করা, বিশেষ করে উচ্চ শ্রেণির ছাত্রীর উপর এই দায়িত্ব আরও বেশি; আর আমি এখানে সংক্ষিপ্তভাবে এমন কিছু পয়েন্ট তুলে ধরছি, যার মাধ্যমে এই ছাত্রী তার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবে:
–          জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ত করা, অর্থাৎ তার নিয়ত হবে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ তা‘আলার জন্য; সুতরাং সে জ্ঞান অন্বেষণ করবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার জন্য; আর এই জ্ঞান অর্জন দ্বারা সে তার দীন, আকিদা-বিশ্বাস ও নৈতিক চরিত্রকে প্রতিষ্ঠা করবে এবং আল্লাহর ইবাদত করবে সুস্পষ্ট জ্ঞানের ভিত্তিতে।
–          ছাত্রী জ্ঞান অর্জনের আদব কায়েদা রপ্ত করার মাধ্যমে নৈতিক চরিত্র ও শিষ্টাচার অর্জন করবে। যেমন, অধ্যবসায়, উৎসাহ-উদ্দীপনা, পরস্পর পাঠক্রম আলোচনা, বারবার পাঠ ও সুন্দর চালচলন। বিশেষ করে তার শিক্ষিকাগণ ও বান্ধবীদের সাথে আচার-আচরণ ও লেনদেনের ক্ষেত্রে।
–          জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে চেষ্টা-প্রচেষ্টা ও চিন্তা-গবেষণা করা; সুতরাং সে পাঠ ব্যাখ্যা-বিশ্লষণের ক্ষেত্রে শিক্ষিকাকে অনুসরণ করবে, মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করবে, তিনি যা বলবেন সে দিকে সাবধানী হবে; অতঃপর তা তার বাসায় বার বার আলোচনা ও পর্যালোচনা করবে এবং সর্বোপরি তার সকল আবশ্যকীয় দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করবে।
–          সে তার শিক্ষিকাদের সম্মান ও মর্যাদা দেবে; আর শিক্ষা দানের ব্যাপারে তাদের অধিকারসমূহ যথাযথভাবে জানবে; আর এটাও উপলব্ধি করবে যে, তারা এক মহান ও সম্মানজনক কাজ করছেন; অতএব ছাত্রীকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দানের ক্ষেত্রে, তার কল্যাণ কামনায় এবং তার জন্য আদর্শ হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষিকা হলেন তার মায়ের অবস্থানে; সুতরাং তিনি তাকে উত্তম বিষয় সম্পর্কে পরিচিত করাবেন এবং মন্দ বিষয় থেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন।
–          তার বান্ধবীদের সাথে কোন প্রকার হিংসা, বিদ্বেষ, নিষ্ঠুরতা, কঠোরতা, কটু কথা বা কঠোর শব্দ উচ্চারণ না করেই সুন্দর ব্যবহার করা; কারণ, সে হল তার বোন, বান্ধবী ও সহপাঠী।
–          প্রাতিষ্ঠানের নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা; বিশেষ করে যা উত্তম চরিত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ, প্রকাশভঙ্গি, আকার-আকৃতি ও বেশ-ভূষার সাথে সম্পর্কিত; কারণ (যদি সে প্রতিষ্ঠানের নির্দেশ শরী‘আত বিরোধী না হয় তবে) প্রতিষ্ঠানের শৃংখলাজনিত এ নির্দেশগুলো ইসলামেরই নির্দেশ। সুতরাং সে সেগুলোকে দ্বীন ও চরিত্ররূপে বাস্তবায়ন করবে।
–          সিলেবাস বহির্ভূত তৎপরতায় অংশগ্রহণ করা, যাতে সে এমন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারে, যে জ্ঞান পাঠকক্ষে অর্জন করা সম্ভব হয়ে উঠে না। আর এতে থাকবে তার কিছু উপকারী ইতিবাচক অংশগ্রহণ, সে ভাল কথা বলবে, অথবা সুন্দরভাবে কুরআন তিলাওয়াত করবে, অথবা হাদিস মুখস্ত করবে, অথবা সেলাই করা, রান্না করা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণ করবে; বস্তুত: সিলেবাস বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে এমন অনেক উপকারিতা রয়েছে, যা পাঠকক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়।
–          তার সহপাঠী তথা বান্ধবীদের উদ্দেশ্যে শ্রেণী কক্ষে বক্তব্য পেশের মাধ্যমে অথবা এমন কিছু তার দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যা উপদেশ দাবি করে, এমন সব ক্ষেত্রে উপদেশ ও দিক নির্দেশনামূলক সাধারণ উপদেশ দেয়ার অভ্যাস তৈরী করা।
–          তার মুখস্তকরণ, আলোচনা-পর্যালোচনা, অনুধাবন, শিক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষা দানের ক্ষেত্রে তার সহপাঠী তথা বান্ধবীদের জন্য আদর্শ নমুনা হওয়া; বরং সে তার চেহারা-ছবিতে, প্রকাশভঙ্গি ও বেশ-ভূষার ক্ষেত্রে এবং তার কথাবার্তা, শব্দচয়ন ও অপরের সাথে তার আচার-আচরণের ক্ষেত্রে আদর্শ নমুনা হবে।
এগুলো শুধুমাত্র নারীর কর্মকাণ্ডের দৃষ্টান্ত এবং তার উপর অর্পিত আবশ্যকীয় দায়িত্ব ও কর্তব্যের কিছু দিকের আলোচনা; আর যেসব বিষয় আলোচনা হয়নি, তা পূর্বে আলোচিত বিষয়সমূহের উপর আন্দাজ বা অনুমান করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
[
*  *  *
চতুর্থ ক্ষেত্র: শত্রুদের ষড়যন্ত্রের বিপরীতে মুসলিম নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবী হিসেবে প্রেরিত হওয়ার পর থেকেই ইয়াহূদী, খ্রিষ্টান ও সমগ্র কাফির গোষ্ঠীসহ ইসলামের শত্রুগণ ইসলাম ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকে এবং তারা তাদের সকল শক্তি, সামর্থ্য, ষড়যন্ত্র ও অপকৌশল এই ক্ষেত্রে নিয়োজিত করে; এমনকি এই ব্যাপারে এমন কোন চেষ্টা নেই, যা তারা প্রয়োগ করে নি এবং এমন কোন পন্থা নেই, যা তারা অনুসরণ করে নি। আর এই ষড়যন্ত্রটি পরিচালনা করে মানুষ ও জিন সম্প্রদায়ের শয়তান গোষ্ঠী; আর এই ক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন পন্থা গ্রহণ করেছে; সুতরাং কখনও তারা সামরিক যুদ্ধের জন্য কেন্দ্রীভূত হয়েছে; আবার কখনও কখনও তারা চিন্তা ও সংস্কৃতি এবং এই দ্বীনের ব্যাপারে সন্দেহ-সংশয় ছড়িয়ে দেয়ার যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে; আবার কখনও কখনও তারা বেছে নিয়েছে তথ্য ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ইত্যাদি ব্যবহার করে শিশু ও নারীসহ উম্মতের মধ্যে প্রভাব বিস্তারকারী বলয়গুলো ধ্বংস করার জন্য।
আর এই যুগে তথা বিগত শতাব্দির শুরুর দিকে মুসলিম নারীর ব্যাপারে তার স্বাধীনতার নামে, অথবা পুরুষের সাথে তার সমতার বিষয় নিয়ে, অথবা তার অধিকারসমূহের জন্য মায়াকান্না করার দিকে অধিক পরিমানে জোর দিয়ে চলেছে।
আর আমরা মুসলিম নারীর বিরুদ্ধে তাদের পরিকল্পনাকে সংক্ষিপ্তভাবে নিম্নলিখিতরূপে উপস্থাপন করতে পারি:
১. নারীকে নষ্ট-ভ্রষ্ট করার জন্য তারা বিভিন্ন প্রকার পথ ও আলাপ-আলোচনা সূত্রপাত করেছে। যেমন:

(ক) নারীকে বিতর্কিত বিষয় হিসেবে প্রকাশ করা:

আর এর সপক্ষে কিছু লোক নারীর হিতাকাঙ্খী হিসেবে দাঁড়িয়ে যাওয়া। যেমন: নারী নির্যাতিত; অথবা সমাজ শুধু (পুরুষের মাধ্যমে) এক অন্ত্রে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে বা একপেশে আচরণ করছে, নারী অধিকার বঞ্চিত; অথবা আমরা জীবনযাপন করছি প্রাচীন উত্তরাধিকারের তলানির মধ্যে; আর আমাদেরকে সিদ্ধান্ত দেয় প্রাচীন প্রথা ও সনাতন ঐতিহ্য, যার উপর দিয়ে বয়ে গেছে বহু সময় এবং ইতিহাস তাকে মুছে দিয়েছে; এভাবেই এসকল কথা দ্বারাই তারা চিল্লাচিল্লি করে, সংবাদপত্রে লেখালেখি করে, টেলিভিশনের ধারাবাহিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ণনা করে এবং মাঝে মাঝে লেখার মাধ্যমে বর্ণনা করে। আর আশ্চর্যের বিষয় হল, তাদের নির্দিষ্ট কিছু দিন রয়েছে, যাতে তারা আত্মপ্রকাশ করে আর বিশেষ করে উম্মতের উপর দিয়ে কোনো কোনো নাজুক সময়ে। অথবা দায়িত্বশীলের কথা রেকর্ড করে তারা তা টুকরা টুকরা করে এবং খণ্ড-বিখণ্ড উত্থাপন করে নতুন করে নারীর বিষয়টি ইস্যুর আকার দেয়। আর এভাবেই এ সব কথা জনগণ বিশেষ করে নারীর স্মৃতিতে সুদৃঢ় ভিত্তির জন্ম দেয় যে নারীর রয়েছে মারাত্মক সমস্যা, যা সংস্কার ও সমাধান করা আবশ্যক।

(খ) মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে নোংরামি ও বিকৃত চিন্তাধারার বিস্তার করা:

তারা তা বিভিন্ন দর্শনযোগ্য মিডিয়ার মাধ্যমে বিস্তার করে, তন্মধ্যে কিছু পঠিত এবং কিছু শ্রুত। আর এটা জানা কথা যে, সমাজ বা ব্যক্তি প্রথম বারে সেই দৃশ্য দেখার সময় বা শুনার সময় প্রতিবাদ বা নিন্দা করে; কিন্তু এই ঘৃণা বা নিন্দার মাত্রা একটু একটু করে হালকা হতে থাকে, এমনকি শেষ পর্যন্ত তা প্রচলিত বিষয়ে পরিণত হয়।
সুতরাং মিডিয়া বা তথ্য-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উদাহরণস্বরূপ: পর্দার বিধান ধ্বংস এবং তাকে উপহাস করে নিষিদ্ধ ও আকৃষ্টকারী ছবির বিস্তার ও প্রসার ঘটানো; আর এসব দৃশ্য বারবার প্রদর্শন করানো হয় এমন সব চ্যানেলে যেগুলো এসব খারাপ জিনিস দেখানোর কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। এমনকি শেষ পর্যন্ত তা মুসলিম নারী সমাজের মধ্যে প্রচলিত ও পছন্দনীয় এবং অনিন্দনীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে; আর অনুরূপভাবে নোংরামি চলতে চলতে শেষ পর্যন্ত তা প্রচণ্ড কুৎসিত আকারে ছড়িয়ে পড়ে।
অনুরূপভাবে তা ছড়িয়ে পড়ে সংবাদপত্র ও সাময়িকী বা ম্যাগাজিনে; আর খুব কম ম্যাগাজিনই আছে, যার প্রচ্ছদ পৃষ্ঠায় নারীর পরিপূর্ণ সৌন্দর্য প্রকাশক ও বেপর্দা ছবি ছাপানো হয় না।
অপরদিকে আরও আধুনিক প্রযুক্তি ও উপায়-উপকরণ রয়েছে, যা আমাদের নিকট নাস্তিক্যবাদী বিশ্বে প্রচলিত অপসংস্কৃতি সঞ্চালন করে, যেমন: আকাশ সংস্কৃতি ও ইন্টারনেট জগৎ।
আর চিন্তা-গবেষণা, সে তো নিজেই নিজেকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে; যেমন: সংবাদপত্রের মধ্যে তাদের কলাম অথবা প্রবন্ধ লেখার মাধ্যমে এবং বিভিন্ন চ্যানেলের মধ্যে তাদের টক শোর মাধ্যমে তারা তাদের (খারাপ) চিন্তাধারা পেশ করে থাকে।
আর খুবই দুঃখজনক ব্যাপার হল, মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকাংশ ছেলে ও মেয়ে যারা ঐ সমস্ত লোকদের ভাষায় কথা বলে তারা এসব চিন্তা-দর্শন প্রচার করে থাকে, বরং তারা এর জন্য উৎসাহিত ও প্রলুব্ধ হয়।
আর তারা নারীর সাথে সংশ্লিষ্ট তথাকথিত সন্দেহ-সংশয়গুলোকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তন্মধ্যে উদাহরণস্বরূ কিছু দিক হল:
–          পুরুষের রক্তমূল্যের (Blood Money) অর্ধেক পরিমাণ হল নারীর রক্তমূল্য (Blood Money)।
–          পুরুষের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের অর্ধেক পরিমাণ হল তার সম্পদ।
–          দুই নারীর সাক্ষ্য সমান একজন পুরুষের সাক্ষ্য।
–          সে প্রশাসকও হতে পারবে না এবং বিচারকও হতে পারবে না।
–          একজন পুরুষের একাধিক স্ত্রী গ্রহণের সুযোগ।
–          তার উপর পুরুষের কর্তৃত্ব।
–          পর্দা।
(গ) তাদের ঘোষিত দুইটি মৌলিক দাবি:

– নারী স্বাধীনতার দাবি;
আর এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্যে হল, সে আল্লাহর দাসত্ব করা থেকে মুক্ত হয়ে নিজের নফসের দাসত্ব করবে অথবা সৃষ্টির দাসত্ব করবে; সুতরাং তার জন্য প্রণীত ঐ আল্লাহ তা‘আলার শরী‘আত তথা বিধিবিধান তাদেরকে মুগ্ধ করতে পারেনি, যিনি তার ও গোটা সমাজের স্বার্থ ও কল্যাণের ব্যাপরে সবচেয়ে বেশি অবগত; কেন নয়, তিনিই তো তাকে সৃষ্টি ও উদ্ভাবন করেছেন। তার ব্যাপারে তাদের ইচ্ছা ও আকাঙ্খা হল, সে যেন শরী‘আতের শিক্ষা ও দিকনির্দেশনাসমূহ থেকে মুক্তি বা নিষ্কৃতি পায়। অর্থাৎ- সে তার পর্দা, সচ্চরিত্রবান হওয়া ও লজ্জশীলতা থেকে নিষ্কৃতি পেতে চায়, যাতে সে হতে পারে এমন সস্তা পণ্য, যাকে প্রত্যেক লম্পট পেতে পারে।
“নারী স্বাধীনতা” নামক এই পরিভাষাটিকে তারা ব্যবহার করে পরিভাষাসমূহকে নিয়ে খেলাচ্ছলে বা কারচুপি করার ক্ষেত্রে; কিন্তু এর আড়াল থেকে তাদের লক্ষ্য হল তাদের পরিকল্পিত চিন্তাধারার সম্প্রসারণ করা; আর এই পরিভাষাটি একটি ইয়াহূদী পরিভাষা। ইয়াহূদী দার্শনিকদের প্রণীত প্রটোকলসমূহের প্রথমটিতে এসেছে “আমরা হলাম প্রথম, যারা জাতির মধ্যে স্বাধীনতা, ভ্রাতৃত্ব ও সমতার ডাক দিয়েছে; এসব কথা, যা অজ্ঞরা সারা জগতে ছড়িয়ে দিয়েছে, এর পর তারা কোন চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই অথবা অসচেতনতা বশত এই কথাগুলোর বার বার প্রতিধ্বনিত করছে; আর স্বাধীনতা, ভ্রাতৃত্ব ও সমতা নিয়ে আমাদের আহ্বান ও আমাদের সহযোগীদের দ্বারা বিশ্বের সকল কর্ণার থেকে দলে দলে লোকদেরকে এক সারিতে টেনে নিয়ে এসেছে, আর তারাই আমাদের এ পতাকাকে বীরত্ব ও আত্মমর্যাদাবোধের সাথে বহন করে চলেছে।”
-পুরুষের সাথে সমতার দাবি:
আর এটাও তার পূর্ববর্তী বিষয়ের মত, তার মাধ্যমে তারা আল্লাহ প্রদত্ত এমন স্বভাব-প্রকৃতির বিরোধিতা করে, যার উপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন; আর আল্লাহ তা‘আলা পুরুষ ও নারীকে দু’টি বিপরীতধর্মী স্বভাব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন; আর এই সত্যকে ঐ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ অস্বীকার করবে না, যার হৃদয় ও চক্ষুদ্বয়কে ঢেকে দেয়া হয়েছে; সুতরাং তারা চায় যে, প্রত্যেক ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ে সমান হউক। হ্যাঁ, এখানে শরী‘আতের সাধারণ নিয়ম-কানুনের ক্ষেত্রে উভয়ের মাঝে সমতা রয়েছে; যেমন: দায়িত্ব অর্পণের নীতির ক্ষেত্রে সমতা, সাওয়াব ও শাস্তির মাধ্যমে প্রতিদানের ক্ষেত্রে সমতা, মালিকানা গ্রহণের ক্ষেত্রে সমতা, জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমতা ইত্যাদি।
আর প্রত্যেক ক্ষেত্রে সমতার বিধান কায়েমের কথা যারা বলে, তাদের মধ্যে আল্লাহ কর্তৃক স্বভাব-প্রকৃতিই সেটার বিরোধিতা করে, যার উপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন; আল্লাহর হিকমত  ও শরী‘আত তো সেটা কখনও মেনে নেয় না। কিন্তু তারা এসব চাকচিক্যমান শ্লোগানসমূহ দ্বারা সাদাসিদে ও তাদের অনুরূপ লোকদেরকে প্রতারিত করে থাকে; আর বাস্তবেই তারা কিছু মানুষকে প্রতারিত করতে সক্ষম হয়েছে।
আর আমরা এখানে এসব ও অনুরূপ দাবি-দাওয়ার সমালোচনায় রত হতে চাই না, বরং আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এটা জানা যে, নারী ও সমাজের জন্য ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা রয়েছে।
(ঘ) নারীর মূল কাজকে গুরুত্বহীন হিসেবে চিত্রিত করা:

তারা এই ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যাতে তারা নারীকে তার আসল জগৎ বাড়ি-ঘর, পরিবার-পরিজন, শিশুদের লালন-পালন ও স্বামীর প্রতি মনোযোগ দেয়ার মত কর্মকাণ্ড থেকে সরিয়ে দিয়ে এমন কাজে লিপ্ত করবে, যেখানে সে পুরুষের সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারে। সুতরাং সে শিল্পকারখানা, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে, পুরুষের জন্য নির্দিষ্ট  চাকরিতে ও যৌথভাবে নির্ধারিত চাকরিতে এবং এগুলো ছাড়া ও অন্যান্য পেশায় পুরুষের সহযোগী হবে।
(ঙ) পুরুষের কর্তৃত্বকে আধিপত্যবাদী ও বর্বর বলে চিত্রিত করা:

আর এখানে তাই বলা যায়, যা বলা হয়েছে “ঘ” অনুচ্ছেদে; অর্থাৎ এসব কথা তখনই কেউ বলতে পারে যখন কারও কাছে সৃষ্টিগত ও শরী‘আত তথা বিধানগত মানদণ্ডটি নষ্ট হয়ে পড়ে, যার উপর আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।
(চ) ‘বাস্তবতা অবশ্য পালনীয়’ নামক নীতির অনুসরণ:

আর এটা এইভাবে যে, তারা কতগুলো সুস্পষ্ট কাজ বা বিষয়কে গ্রহণ করে, অথচ তারা জনগণকে বলবে না যে, আমাদের উদ্দেশ্য এইরূপ অথবা আমরা এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত হতে চাই; আর তারা তাদের অভিপ্রায় বাস্তবায়নের জন্য একটি দীর্ঘ পরিকল্পনা গ্রহণ করে; আর যখন তাদের ইচ্ছা-আকাঙ্খার সৌন্দর্যপূর্ণ বাহ্যিক রূপটি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হবে, তখন তার সাথে নিষিদ্ধ কাজ জুড়ে দেবে; যেমন: নারীদের জন্য কয়েকটি বিশেষ বিভাগ খোলা, অথচ বাস্তবে এসব বিভাগের কোন প্রয়োজন নেই; যেমন: নাট্য ও অনুরূপ অন্যান্য বিভাগসমূহ। সুতরাং যখন ছাত্রী পাশ করে বের হয়, তখন তার জন্য তার বিশেষ বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত চাকরি খোঁজা আবশ্যক হয়ে পড়ে; অতঃপর হারাম (নিষিদ্ধ) ও সংকটপূর্ণ কাজে নিপতিত হয়।
অপর আরেকটি দৃষ্টান্ত হল: অভ্যর্থনাকারিনী এবং হোটেলে কর্মরত নারী শ্রমিকদের প্রশিক্ষনের জন্য কিছু ইনষ্টিটিউট অথবা প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা। আর তারা এটিকে খুব গুরুত্বের সাথে ব্যক্ত করে; যাতে করে প্রথমেই বিরোধিতার সম্মুখীন না হয়, অতঃপর যখন তারা সনদ বা সার্টিফিকেট অর্জন করে, তখন তারা ঐ চাকুরির জন্য ইচ্ছা পোষণ করে; এভাবেই তারা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে থাকে। আল-কুরআনের ভাষায়:
﴿وَيَمۡكُرُونَ وَيَمۡكُرُ ٱللَّهُۖ وَٱللَّهُ خَيۡرُ ٱلۡمَٰكِرِينَ ٣٠[سُورَةُ الأَنفَال: 30 ]
“আর তারা ষড়যন্ত্র করে, আর আল্লাহও কৌশল করেন; আর আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী।” – (সূরা আল-আনফাল: ৩০);
বস্তুত: তারা এ পদ্ধতিতে রাষ্ট্র, সমাজ ও অভিভাবকদেরকে এমনকি স্বয়ং নারীকেও তাদের নোংরা ষড়যন্ত্রের শিকারে নিপতিত করে।
(ছ) শিক্ষা:

আর ঐসব শত্রুগণ এবং তাদের দ্বারা প্রতারিত ব্যক্তিগণ শিক্ষাকে তাদের বাহন হিসেবে গ্রহণ করেছে, যাতে করে তারা এর আশ্রয়ে মুসলিম নারীর ধ্বংস ও বিপর্যয়ের জন্য তাদের চিন্তাধারা ছড়িয়ে দিতে পারে। আর এর কারণ হল, শিক্ষাপদ্ধতি তথা শিক্ষার সঠিক সিলেবাসের অনুপস্থিতি, যা নারী ও তার ভূমিকা সম্পর্কে সঠিক দিক-নির্দেশনা প্রদান করবে; যেমন: ইসলামে তার অধিকারসমূহ, তার ঘর ও শিশুদের প্রতি মাতৃত্বের দায়িত্বের বর্ণনা, তাদের লালন-পালনের পদ্ধতি বর্ণনা, মায়েদের প্রতি সন্তানরা তাদের কর্তব্য পালনের বিভিন্ন মাধ্যমসমূহের বর্ণনা এবং নারীকে তার দায়িত্ব পালনে সহযোগিতাকারী সিলেবাসের অনুপস্থিতি।
যেমনিভাবে তারা কৌশলে শিক্ষাকে কয়েকটি ক্ষেত্রে আক্রমন করেছে, যেমন: প্রথম শ্রেণীসমূহের মধ্যে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে মিশ্রিত শিক্ষার দিকে আহ্বান করা; বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে নারীদের জন্য এমন একাধিক বিভাগ ঢুকিয়ে দেয়া নারীর জন্য যেসব বিভাগের কোনো প্রয়োজন নেই; ডাক্তারী ও অন্যান্য প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সহ-শিক্ষার মাধ্যমে প্রাকটিক্যাল ক্লাসের ব্যবস্থা করা; বিদ্যালয় ও অনুরূপ প্রতিষ্ঠানে শরীরচর্চা ও কসরৎ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করা।
(জ) পুরুষের কাজসমূহের মধ্যে নারীকে জোরপূর্বক ঢুকিয়ে দেওয়া:

আর এটা হল গুরুত্বপূর্ণ ময়দানসমূহের মধ্যে অন্যতম, যাতে তারা প্রবেশ করেছে, অতঃপর তারা নারীকে এসব ময়দানে ঢুকানোর জন্য অনেক উপায়-উপকরণ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে; অতঃপর তারা নিঃশর্তভাবে পুরুষদের প্রত্যেকটি ময়দানে তার অনুপ্রবেশ দাবি করেছে; অনুরূপভাবে হোটেল, বিমান ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক চেম্বার, কোম্পানি এবং এগুলো ছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহে; আর কান্না মিশ্রিত হাস্যকর ব্যাপার হল, প্লাম্বারিং, বৈদ্যুতিক কাজ, কাঠমিস্ত্রীর পেশা, সৈনিক, পুলিশ ইত্যাদির মত পেশাগত কর্মকাণ্ডে নারীদেরকে প্রবেশাধিকার দেয়ার দাবি করা। আমাদের প্রতিপালক অতি মহান ও পবিত্রময়, এটা হল বড় ধরনের অপবাদ[50]
২. এই সম্মিলিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুসলিম নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য:
মুসলিম নারীর বিরুদ্ধে এই চিন্তাধারা ও নিকৃষ্ট পদক্ষেপসমূহের বিপরীতে দায়িত্ব ও কর্তব্যটি প্রশাসনযন্ত্র, আলেম, ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ, দা‘ঈগণ ও নারীদের আইনানুগ অভিভাবকগণের মধ্যকার একটি যৌথ দায়িত্ব ও কর্তব্যপূর্ণ কাজ; আর এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের মাঝে তাদের সাথে মুসলিম নারী আধাআধি ভাগে অংশীদার হবে; আর তাই আমরা এখানে মুসলিম নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্যকে সংক্ষেপে বর্ণনা করব; তবে তার অর্থ এই নয় যে, অন্যান্যদেরকে তাদের দায়িত্ব থেকে অবকাশ দেয়া হয়েছে।
মুসলিম নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে:
(ক) নারী কর্তৃক নিজেকে জ্ঞানে, চিন্তায় ও কর্মে শক্তিশালীকরণ; আর এই শক্তিশালীকরণের সিলেবাস হলো তা, যা তার নিজের ব্যাপারে দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ বর্ণনা প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে; আর এখানে বিশেষ করে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, জ্ঞান অর্জন, পাঠ, ব্যাপকভাবে ইসলামিক সাংস্কৃতির জ্ঞান লাভের মাধ্যমে নিজের সংস্কৃতির ধারণ এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার প্রতি শক্তিশালী ঈমানসহ শরী‘আতের গুঢ়রহস্য ও তাৎপর্য সম্পর্কে জানা; কেননা তিনি শরী‘আত হিসেবে যে কোন বিষয়কে নির্দেশ ও অনুমোদন করেছেন, তা হিকমতের কারণেই করেছেন, তাতে সৃষ্টির কল্যাণ ও স্বার্থ জড়িত রয়েছে।
(খ) জ্ঞান অর্জন; কারণ ইয়াহূদী, খ্রিষ্টান, মুনাফিক ও ধর্মনিরপেক্ষ ইত্যাদি অনেক শত্রু রয়েছে, যারা বিভিন্ন বিভাগে তাকে (নারীকে) ঘায়েল করার জন্য সুযোগের অপেক্ষায় আছে; আর তারা কখনও কখনও আমাদের গোষ্ঠীর সন্তানদের মধ্য থেকে হয়ে থাকে এবং তারা আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করে; কিন্তু তারা হেদায়াত পাওয়ার পর পথভ্রষ্ট হতে চায়; ফলে তারা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয় এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করে; আর মানুষকে প্রথমই যা থেকে সতর্ক থাকতে হয়, তা হচ্ছে তার সবচেয়ে নিরাপদ স্থান, যাতে সে সেখান থেকে দংশিত না হয়; যেমন বলা হয়: “নিরাপদ স্থান নিয়েই সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়”; বস্তুত: ঐসব লোক তাদের নিজেদেরকে মুসলিম নারীর কল্যাণের জন্য একজন অশ্রুসিক্ত কল্যাণকামী হিসেবে প্রকাশ করে এবং তার স্বার্থ, কল্যাণ ও অধিকার প্রশ্নে কাঁদার ভান করে; কিন্তু তার কাপড়ের নীচে রয়েছে ষড়যন্ত্রকারী হায়েনা, যে এই নিঃস্ব নারীকে ধ্বংস করতে চায়। আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুন, কোন দিকে তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে!
(গ) আর এই জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মুসলিম নারীকে উপরোক্ত শত্রুদের উপায়-উপকরণ, পরিকল্পনা, দাবি-দাওয়া, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহের ব্যাপারেও অবগত থাকতে হবে:
          মন্দকে জান, নয় মন্দের জন্য,
       বরং তা থেকে বেঁচে থাকার জন্য।
আর শত্রুদের এসব উপায়-উপকরণ জানার মাধ্যমে অতিরিক্ত সাবধানতা ও রক্ষণাবেক্ষন করা সম্ভব হবে।
(ঘ) উপায়-উপকরণের যতটুকু হাতে আছে, তার সবটুকু নিয়ে এবং প্রত্যেক নারী তার সামর্থ্য অনুযায়ী এই আক্রমনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা; সুতরাং এই ব্যাপারে একজন ছাত্রীর দায়িত্ব অন্যান্যদের চেয়ে অনেক বড়; আর শিক্ষিকা এবং ছোট শিশুদের লালনপালনকারী নারী ও অন্যান্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্যও অনুরূপ। আরও উচিত এসব প্রতিরোধ কার্যক্রম সর্বদা চালিয়ে যাওয়া; কেননা বিষয়সমূহের মধ্যে এই বিষয়টি খুবই ভয়ঙ্কর, জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ; ভেবে দেখ, তোমাদের অবস্থা কেমন হবে, যখন এসব শত্রুরা তাদের ‌উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে!! আর তখন,
–          নারী তার চেহারা থেকে পর্দা খুলে ফেলবে এবং তার চুলের ব্যাপারে (পর্দাকে) সে নিরর্থক মনে করবে।
–          সে অনাবৃত অথবা আংশিক আবৃত শরীরে ভ্রমণ করবে।
–          পুরুষের কর্মক্ষেত্রের দিকে বেরিয়ে যাবে।
–          পুরুষদের সাথে অবাধ মেলামেশা করবে।
–          একাকী গাড়ি চালাবে।
–          সে তার বাচ্ছাদেরকে লালন-পালনকারী সংস্থা কিংবা কাজের মেয়ের নিকট রেখে যাবে।
–          সে পুরুষদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে এবং তাদের সাথে বিনিদ্র রাত কাটাবে।
–          সে কলকারখানার ধোঁয়া দ্বারা দূষিত হবে।
–          সে দুষ্ট প্রকৃতির লোকদের জন্য সাজগোছ করবে এবং তার স্বামী ও সন্তানদের ছেড়ে যাবে।
–          এগুলো ছাড়া আরও অনেক কিছু; তাদের ইচ্ছা, উদ্দেশ্য ও দুরভিসন্ধির তো কোনো শেষ নেই।
সুতরাং আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টির প্রত্যাশী একজন সফল মুসলিম নারীর কর্তব্য হল, সে তার শ্রেণীভুক্ত মেয়েদেরেকে সাথে নিয়ে এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
(ঙ) আরও যেসব জ্ঞান তাকে উপকৃত করবে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: কাফির নারীদের অবস্থাদির ব্যাপারে জেনে রাখা; আর কাফের নারীরা নিজেদেরকে উজাড় করে দেওয়ার কারণে যে সকল ধ্বংস ও দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে সেটাও জানা। তারা মূলত: অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে জীবনযাপনে করছে; সে হয়ে গেছে অপমানিত ও তুচ্ছ এক নারী, যে তার কুকুর ও বিড়ালীকে কোলে নিয়ে মৃত্যুবরণ করে। তার যৌবন ও সৌন্দয্যের সময় তাকে নিয়ে খেলোয়াড়রা খেলে, তারপর সে হয়ে পড়ে সে টিস্যুর মত, যার দ্বারা মোছার কাজ করা হয় এবং কাজ শেষ হয়ে গেলে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হয়; আর তাকে আরও তুলনা করা যায় রাস্তার উপরের শৌচাগারের মত, যাতে প্রত্যেকেই তা প্রস্রাবের কাজ সেরে তার ভ্রমণ অব্যাহত রাখে। সুতরাং যখন মুসলিম নারী জানতে ও বুঝতে পারবে যে তার পরিণতি ঐসব কাফের নারীদের চেয়ে ভিন্ন হবে না, তখন সে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইবে এবং নিজেকে এই ধরনের পঙ্কিল কাজে জড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে।
(চ) সে তার নিজের, ঘরের ও সমাজের সাথে সংশ্লিষ্ট সংস্কারমূলক ভূমিকা পালন করবে, যা পূর্বে আমরা বর্ণনা করেছি; সুতরাং সে প্রভাব সৃষ্টি করবে, প্রভাবিত হবে না; সংস্কার করবে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে না; কাজের হবে, অকর্মা হবে না; অনুসরণীয় হবে, অনুগামী হবে না এবং তার এই মিশন শেষ হবে জান্নাতে প্রবেশ ও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে।
 *  *  *

 

নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদ

নিজের প্রতি, ঘরের মধ্যে, সংস্কার ও সামাজিক পথনির্দেশের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং সমাজ ও জাতির প্রতি একজন নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্যের দ্রুত বর্ণনা পর, তার উপর আবশ্যক হল বেশ কিছু বিষয়ের প্রতি মনোযোগী হওয়া, যেগুলোর বর্ণনার মাধ্যমে আমরা এই আলোচনাটি শেষ করব; আর এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কিছু অনুচ্ছেদের মধ্যে আমরা তা উপস্থাপন করব। যেগুলো পূর্বোক্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর সফলতার জন্য সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।
প্রথম অনুচ্ছেদ: নারী কর্তৃক নিজেকে ঐ দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করা:

কোন সন্দেহ নেই যে, এই দায়িত্বটি খুবই বড় ও মহান এবং গৌরবময় কাজ; ঐসব সৌভাগ্যবান নারীগণ ব্যতীত কেউ তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করে না এবং তা কাজে পরিণত করে না, যারা সুউচ্চ পাহাড়ের শীর্ষে পৌঁছার জন্য প্রতিযোগিতামূলক কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে। আর এই মহান কাজটির পূর্বপ্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে, আর এই প্রয়োজনসমূহের সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ হতে পারে:
  • জ্ঞানগত প্রস্তুতি: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল শর‘য়ী জ্ঞান, যে জ্ঞান লাভ প্রতিটি বিবেকবান সুস্থ মানুষের উপর কর্তব্য, বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয় যেমন, আকিদা-বিশ্বাস, ইবাদাত, লেনদেন ও চাল-চলন সম্পর্কে[51]; সুতরাং নারীর উপর কর্তব্য হচ্ছে, বিভিন্ন বিষয়ের উপর একটা পরিপূর্ণ ধারণা রাখা; যেমন: আকিদা, ইবাদত, লেনদেন, নৈতিক চরিত্র, শিষ্টাচার, আচার-আচরণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত তথা জীবনবৃত্তান্ত এবং সৎ পূর্বপুরুষ তথা সাহাবা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম ও তাঁদের পরবর্তীদের জীবনী।
  • সামাজিক প্রস্তুতি: অর্থাৎ সে তার নিজের জন্য একটি ছোট্ট সমাজ প্রস্তুত করবে, তার মধ্য দিয়ে সে যথাযথভাবে দাওয়াতের কাজ আঞ্জাম দিতে সক্ষম হবে; আর এই কাজে তাকে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করবে তা হলো, বিয়ের সময় সে অবশ্যই একজন ভাল মানুষকে স্বামী হিসেবে মনোনীত করবে, যিনি তার মিশনকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তার জন্য একটি যথাযথ পরিবেশ সৃষ্টি করবে; আর নারীর উচিত নিজেকে প্রতিটি উৎকৃষ্ট ময়দানে নিয়োজিত করার কাজে ন্যস্ত করবে এবং এই কাজে নিজেকে অভ্যস্ত করবে, যেমন: নসিহত বা উপদেশ দান, দিকনির্দেশনা প্রদান, বক্তব্য প্রদান এবং আলোচনা পেশ করতে অভ্যস্ত হওয়া; আর উত্তম হয় যদি এর উপর সে তার ছোটকাল থেকে অভ্যাস গড়ে তুলে; বিশেষ করে ছাত্রী জীবনের প্রথম থেকে সে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে, এতে করে সে অত্যন্ত মহৎ ও উৎকৃষ্টভাবে তার ভূমিকা পেশ করতে পারবে। আর সে সামাজিক পরিবেশ ও নারী সমাজের অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে।
  • মানসিক প্রস্তুতি: আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, সে তার নিজের মন-মানসকে গঠন করবে, যাতে এই ময়দানে প্রবেশ করার জন্য শক্তিশালী প্রস্তুতি তার থাকে। যে এ ময়দানে প্রবেশ করবে পূর্ণ নির্ভরযোগ্যতা, স্থিরতা, দৃঢ় সিদ্ধান্ত এবং কোন প্রকার দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও দুর্বলতা ছাড়াই সাহসিকতাসহ। সে ব্যক্তিগত সংঘাত, ঠাট্টা-বিদ্রূপ ও উপহাসের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত থাকবে, যা কখনও কখনও তার সাথে সাক্ষাতকারিনী, অথবা পাপাচারিণী, অথবা চিন্তায় বা কখনও কখনও ধর্মীয়ভাবে তার বিরোধিতাকারিনীর পক্ষ থেকে সে শুনতে পাবে। আর এই ব্যাপারে তাকে যেসব বিষয় সহযোগিতা করবে, তা হলো আল্লাহ তা‘আলার প্রতি মজবুত ঈমান, এই মিশন পালনের ক্ষেত্রে তার প্রতি ইখলাস তথা একনিষ্ঠতা। এর বিনিময়ে দুনিয়ার সুনাম কুড়ানো, অথবা প্রদর্শনেচ্ছা,  অথবা দুনিয়াবী কোনো ক্ষেত্রে উন্নতি চাওয়ার মত কোন জিনিস না চাওয়া। আর ইখলাসের সাথে সাথে তার কাছে থাকবে এই দীনকে নিয়ে আত্মমর্যাদাবোধ। আল-কুরআনের ভাষায়:
﴿ وَلِلَّهِ ٱلۡعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِۦ وَلِلۡمُؤۡمِنِينَ وَلَٰكِنَّ ٱلۡمُنَٰفِقِينَ لَا يَعۡلَمُونَ ٨ [سُورَةُ المُنَافِقُونَ: 8 ]
“কিন্তু শক্তি তো আল্লাহরই, আর তাঁর রাসূল ও মুমিনদের। তবে মুনাফিকগণ তা জানে না।” (সূরা আল-মুনাফিকুন:৮ );
আর অনুরূপভাবে সত্যের ব্যাপারে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া; দুর্বলতা, দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও অলসতার পরিচয় না দেওয়া এবং আন্দাজ-অনুমান ও সন্দেহ-সংশয় পুঞ্জিভূত না করা; আর (দাওয়াত) গ্রহণ না করার এবং শয়তানের ধোঁকার আশঙ্কা না করা; সুতরাং সে কামনা করবে যে, সে তার নিকটস্থ সত্যের ব্যাপারে হবে আপোষহীন নারী; আর এই কারণেই সে জেনে রাখবে যে, এই পথে প্রতিবন্ধকতা থাকাটা খুবই স্বাভাবিক; কেননা তার আদর্শ হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম; তিনি এই পথে অনেক কষ্ট, ক্লান্তি, উপেক্ষা ও প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন এবং তিনি ও তাঁর সাহাবীগণ শাস্তির সম্মুখীন হয়েছেন; আর এত সব সত্ত্বেও তিনি এসব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করেছেন, শেষ পর্যন্ত জনগণ আল্লাহর দীনের মধ্যে দলে দলে শামিল হয়েছে, আল্লাহ তাঁর জন্য দীনকে পরিপূর্ণ করে দিলেন এবং তাঁর উপর নিয়ামতের ষোলকলা পূর্ণ করলেন।
  • পরিকল্পনাগত এবং দাওয়াতের লক্ষ্য ও পদ্ধতির পরিচয়গত প্রস্তুতি: ইসলামী দাওয়াত হলো জানা ও মানার সমন্বয়ে একটি আন্তর্জাতিক দাওয়াতী কাজ, যা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন হল তার প্রকৃতরূপ, উপায়-উপকরণ ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানা। আর নারী কর্তৃক এই দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আবশ্যক হলো, তা সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও নীতিমালার আলোকে পরিচালিত হবে; সে নিজের জন্য তার একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করবে, অথবা এই কাজে তার সহযোগীর সাথে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করবে; সুতরাং সে কাকে দাওয়াত দিতে চায়? এবং তার নিকটবর্তী ও দূরবর্তী লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ কী? আর এই লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য সফল পদ্ধতিসমূহ কী কী? নারীর জন্য আবশ্যক হল (দাওয়াতের) ময়দানে প্রবেশের পূর্বে নিজেকে এসব সম্পূর্ণ প্রস্তুত করে নেয়া, যাতে সে ব্যর্থ না হয়; নতুবা তার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে; ফলে সে তার দায়িত্ব পালন থেকে বসে পড়বে; আর এর উপর ভিত্তি করে তার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজন হলো:
–          তার দাওয়াতী পথের জন্য একটি পরিকল্পনা চিত্রায়ন করা: দূরবর্তী লক্ষ্যের পরিকল্পনা এবং নিকটবর্তী লক্ষ্যের পরিকল্পনা।
–          অনুরূপভাবে দাওয়াতী কাজের জন্য সহজলভ্য উপায়-উপকরণের প্রতি নজর দেয়া, যা নারী সহজে ব্যবহার করতে পারে; কারণ, উপায়-উপকরণের বেলায় কিছু আছে পুরুষের পক্ষে ব্যবহার করা সহজ, যা নারীর জন্য সহজ নয়; আবার কিছু আছে নারীর পক্ষে ব্যবহার করা সহজ, যা পুরুষের জন্য সহজ নয়।
–          দাওয়াত দেয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে জানা, যার মাধ্যমে সে তার দাওয়াতী দায়িত্ব পালন করবে এবং তা জনগণের নিকট প্রচার করবে।
–          প্রতিবন্ধকতাসমূহের ব্যাপারে জ্ঞান রাখা, যা তার সামনে আসতে পারে, যাতে সে এর সাহায্য নিয়ে  প্রতিবন্ধকতার সময় তা অতিক্রম করতে পারে।

 

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: একজন সফল মহিলা দা‘ঈ’র গুণাবলী:

প্রথম: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার জন্য একনিষ্ঠভাবে কাজ করা; সুতরাং এই ইখলাস তথা একনিষ্ঠতা ব্যতীত তার আমল বিক্ষিপ্ত ধূলায় পরিণত হবে; আর তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস, একজন মহিলা দা‘ঈ’র জন্য আবশ্যক হল, সে নিজেকে তার মধ্যে আলোচনা, পর্যালোচনা ও প্রতিকার করবে।  
দ্বিতীয়: ধৈর্যধারণ করা ও কষ্টসহিষ্ণু হওয়া; কারণ, দাওয়াতী কাজ একটি ভারী দায়িত্বপূর্ণ কাজ এবং তার প্রতিবন্ধকতাও অনেক; সুতরাং তা উত্তরণের জন্য প্রয়োজন এই ধৈর্যের; আল-কুরআনুল কারীমের মধ্যে নব্বইয়েরও অধিক স্থানে তার আলোচনার পুনারাবৃত্তি হয়েছে; বরং এর প্রতি নির্দেশগুলো সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল।
তৃতীয়: জ্ঞান অর্জন করা।[52]
চতুর্থ: ভাল কাজ, উত্তম চরিত্র এবং চরিত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা; কারণ, দাওয়াতকে ব্যর্থতায় পর্যবেশনকারী এবং দাওয়াত দাতা ইতিবাচক ফলাফল লাভ করতে না পারার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল কথার সাথে কাজের গরমিল; আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفۡعَلُونَ ٢ كَبُرَ مَقۡتًا عِندَ ٱللَّهِ أَن تَقُولُواْ مَا لَا تَفۡعَلُونَ ٣ [سُورَةُ الصَّفّ: 2 – 3 ]
“হে মুমিনগণ! তোমরা যা কর না, তা তোমরা কেন বল? তোমরা যা কর না, তোমাদের তা বলাটা আল্লাহর দৃষ্টিতে মারাত্মক অসন্তোষজনক।” – ( সূরা আস-সাফ্ফ: ২ – ৩ ); আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿ أَتَأۡمُرُونَ ٱلنَّاسَ بِٱلۡبِرِّ وَتَنسَوۡنَ أَنفُسَكُمۡ وَأَنتُمۡ تَتۡلُونَ ٱلۡكِتَٰبَۚ أَفَلَا تَعۡقِلُونَ ٤٤ [سُورَةُ البَقَرَةِ: 44 ]
“তোমরা কি মানুষকে সৎকাজের আদেশ দাও, আর তোমাদের নিজেদেরকে ভুলে যাও? অথচ তোমরা কিতাব অধ্যয়ন কর। তবে কি তোমরা বুঝ না?” – ( সূরা আল-বাকারা: ৪৪ ); আর এই অধ্যায় বা বিষয়ে আল-কুরআন ও সুন্নাহ’র আরও অনেক বক্তব্য রয়েছে।
পঞ্চম: ধৈর্য ও সহনশীলতা; কোনো ব্যক্তির জীবনে সবচেয়ে মহৎ যে জিনিস দেওয়া হয়ে থাকে, তা হল ধৈর্য, সহনশীলতা ও তাড়াহুড়া না করা; কেননা, পথ অনেক লম্বা; আর প্রত্যেক গৃহ নির্মাণকারীই সে গৃহে বসবাস করতে পারে না; হয়ত তুমি ঘর বানাবে, আর বসবাস করবে তুমি ভিন্ন অন্য কেউ; তুমি জ্ঞান অর্জন করবে এবং তা তুমি ভিন্ন অন্যের নিকট পৌঁছিয়ে দেবে; আর তুমি সম্পদ উপার্জন করবে, আর তার থেকে ভোগ করবে তুমি ভিন্ন অন্য কেউ। সুতরাং দা‘ঈ নারী তার উদ্দেশ্য ও ইচ্ছাকৃত লক্ষ্যে পৌঁছতে এবং তার (দাওয়াতের) পথে অবিচল থাকতে এই মহৎ গুণটি দ্বারা উপকৃত হতে পারে; রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল কায়েস গোত্রের আশাজ্জকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
« إِنَّ فِيكَ خَصْلَتَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ: الْحِلْمُ وَالأَنَاةُ ». ( أخرجه مسلم ).
“নিশ্চয়ই তোমার মধ্যে এমন দু’টি বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে, যেগুলোকে আল্লাহ পছন্দ করেন: ধৈর্য ও সহনশীলতা।” – ( ইমাম মুসলিম র. হাদিসখানা তাঁর গ্রন্থে বর্ণনা করেন)।[53] সুতরাং যার মধ্যে সহিষ্ণুতা নেই, তার উপর কর্তব্য হল, সহনশীলতার গুণ অর্জন করা; কারণ, জ্ঞান হয় জ্ঞান অর্জন করার মাধ্যমে; আর সহিষ্ণু হয় সহনশীলতার গুণ অর্জন করার মাধ্যমে।
ষষ্ঠ: প্রত্যেক ব্যাপারে সততার পরিচয় দেওয়া: আল্লাহর ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে সত্য অবলম্বন করা; মানুষের সাথে সত্য আচরণ করা; নিজের নফসের সাথে সততার পথ অবলম্বন করা এবং কিতাব, কথা ও কাজের ক্ষেত্রে সত্য অবলম্বন করা। সুতরাং সে যেন আল্লাহ অথবা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে মিথ্যা না বলে; কারণ, এটা জঘন্য ও ভয়াবহ মিথ্যাচার; আর সাধারণ মানুষের সাথেও মিথ্যা বলো না, এমনকি ছোট বাচ্চা ও জীবজন্তুদের সাথেও নয়; সুতরাং তার জন্য আবশ্যক হল, সে হবে সত্যের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
সপ্তম: সে বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে জানা, যে অবস্থার মধ্যে মুসলিম নারী জীবনযাপন করে; সুতরাং সে ততটুকুই আলোচনা করবে, যতটুকু কোনো মুসলিম নারী বুঝে ও ধারণ করে। অতএব যখন সে মানুষের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবে, বিশেষ করে নারীর অবস্থা সম্পর্কে, তখন সে তাদের হৃদয়ে পৌঁছাতে সক্ষম হবে এবং তাদের সমস্যাসমূহ প্রতিকার করতে পারবে; আর তাদের সাথে তাদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতে পারবে।
অষ্টম: শরী‘আতের আদব-কায়দার মাধ্যমে সে নিজে আদব-কায়দা ও শিষ্টাচার সম্পন্না হবে; আরও বিশেষ করে আবশ্যকীয় বিষয়গুলো অনুসরণের মাধ্যমে; যেমন: শর‘য়ী পর্দা, পুরুষদের সাথে মেলামেশা না করা, তাদের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে নরম হয়ে কথা না বলা এবং তার আকার-আকৃতি ও বেশভূষা হবে শরী‘আতের বিধান মোতাবেক।
নবম: নিজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদির উপর শরী‘আতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দিককে প্রাধান্য দেবে; সুতরাং তার সার্বক্ষনিক চিন্তা থাকবে অন্যদেরকে হেদায়াত করা, তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং তাদের মধ্যে যারা শত্রুদের পাতা ফাঁদে জড়িয়ে গেছে তাদেরকে উদ্ধার করা। আর তার অভিপ্রায় এমন হবে না যে, সে খ্যাতিমান অথবা গণমানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে এবং দুনিয়ার কোন বস্তু পাওয়ার প্রত্যাশা করবে, ইত্যাদি ইত্যাদি।
দশম: দাওয়াতের সফল পদ্ধতিসমূহের প্রতি মনোযোগ দেওয়া[54]
আর এক কথায়, শরী‘আত যেসব বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেছে, সেসব বিষয় দ্বারা নিজেকে গুণান্বিত করা এবং শরী‘আত যেসব বিষয় থেকে সতর্ক করেছে, সেসব বিষয় থেকে দূরে থাকা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: নারীর দা‘ওয়াতের নীতিমালা:

মুসলিম নারী কর্তৃক আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাওয়াতী কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে উচিত কাজ হলো, সে নিজেকে তার স্বভাব-প্রকৃতি ও নারীত্ব থেকে বের করবে না; এখানে এই বিষয়ে কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ নিয়মনীতি রয়েছে, যেগুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপে উল্লেখ করা যায়:
১. মৌলিকভাবে নারীর অবস্থান ঘরের মধ্যে; আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿وَقَرۡنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجۡنَ تَبَرُّجَ ٱلۡجَٰهِلِيَّةِ ٱلۡأُولَىٰۖ [سورة الأحزاب: 32 – 33]
“আর তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে এবং প্রচীন (জাহেলী) যুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না।” – ( সূরা আল-আহযাব: ৩৩ ); রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«المرأة عورة فإذا خرجت استشرفها الشيطان » ( أخرجه الترمذي ).
“নারী হল গোপনীয় (তথা লজ্জার) বস্তু; সুতরাং সে যখন বের হয়, তখন শয়তান তার দিকে উঁকি দেয়।” – (ইমাম তিরমিযী র. হাদিসখানা বর্ণনা করেন )।[55]
২. নারীর জন্য কিছু বিশেষ নিয়মনীতি রয়েছে, সে যেখানেই তার দাওয়াতী কর্মতৎপরতা পরিচালনা করুক না কেন, তাকে অবশ্যই সেসব নিয়মনীতির প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে; তন্মধ্য থেকে কিছু বিষয় হল:
(ক) চেহারা ও দুই হাতের তালু ঢেকে রাখার শর্তসহ শর‘য়ী পর্দার প্রয়োজনীয়তা ও বাধ্যবাধকতা; আর চেহারা হল সৌন্দর্যের স্থান এবং পরিচয় লাভের জায়গা; আর তা ঢেকে রাখার বাধ্যবাধকতার উপর অনেক দলিল-প্রমাণ রয়েছে।
(খ) মাহরাম পুরুষ ব্যতীত তার ভ্রমণ করা হারাম; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« لا تسافر المرأة إلا مع ذي محرم » ( أخرجه البخاري و مسلم ).
“মাহরম পুরুষের সঙ্গে ছাড়া নারী যেন ভ্রমণ না করে।” – (ইমাম বুখারী ও মুসলিম র. হাদিসখানা বর্ণনা করেন )।[56]
(গ) অপরিচিত পুরুষের সাথে একাকী নির্জনে অবস্থান করা হারাম; কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلاَّ وَمَعَهَا ذُو مَحْرَمٍ ».( أخرجه البخاري و مسلم ). و في رواية : « لا يخلون رجل بامرأة إلا كان ثالثهما الشيطان»
“মাহরমের উপস্থিতি ব্যতীত কোন পুরুষ কোন নারীর সাথে নির্জনে সাক্ষাত করবে না।” – ( ইমাম বুখারী ও মুসলিম র. হাদিসখানা বর্ণনা করেন )[57]; অপর এক বর্ণনায় আছে: “কোন পুরুষ কোন নারীর সাথে নির্জনে সাক্ষাত করবে না; কিন্তু এমনটি করলে, তাদের তৃতীয় জন হবে শয়তান।”[58]
(ঘ) অপরিচিত পুরুষদের সাথে তারা মেলামেশা হারাম; কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদেরকে লক্ষ্য করে বলেছেন:
« اسْتَأْخِرْنَ فَإِنَّهُ لَيْسَ لَكُنَّ أَنْ تَحْقُقْنَ الطَّرِيقَ عَلَيْكُنَّ بِحَافَاتِ الطَّرِيقِ ». فَكَانَتِ الْمَرْأَةُ تَلْتَصِقُ بِالْجِدَارِ حَتَّى إِنَّ ثَوْبَهَا لَيَتَعَلَّقُ بِالْجِدَارِ مِنْ لُصُوقِهَا بِهِ.».( أخرجه أبو داود ).
“তোমরা (রাস্তায় চলার সময়) পিছে পিছে চল, কেননা তোমাদের জন্য রাস্তার মাঝখান দিয়ে হাঁটার সুযোগ নেই; তোমাদের দায়িত্ব হল রাস্তার পাশ দিয়ে পথ চলা। অতঃপর নারী প্রচীরের সাথে মিশে পথ চলত, এমনকি সে প্রাচীরের সাথে মিশে চলার কারণে তার কাপড় প্রাচীরের সাথে ঝুলে যেত।” – (ইমাম আবূ দাউদ র. হাদিসখানা বর্ণনা করেন)।[59]
(ঙ) অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত নারী কর্তৃক তার ঘর থেকে বের হওয়া হারাম; … এগুলো ছাড়াও শরী‘আতের আরও নিয়মকানুন রয়েছে, যাতে ক্রটিবিচ্যুতি করা বৈধ নয়।
৩. ইসলামের শত্রুগণ এই অধিক সংবেদনশীল শিরায় আঘাত করে; আর তারা এই ধরনের বিধিবিধানগুলোকে ইসলাম নারীকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করেছে বলে চিত্রিত করার প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহার করে এবং ইসলামের দা‘ঈদের কেউ কেউ এর দ্বারা প্রভাবিত হয়; ফলে এই বিষয়ে তারা ইসলামের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে পড়ে; সুতরাং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘য়াতের দা‘ঈদের নিকট জোর তাগিদ হল: এই ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সমাজের খেয়ালখুশি ও কামনা-বাসনা দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া।
৪. দাওয়াত ও সাধারণ ময়দানের শীর্ষস্থানীয় নেতা হওয়ার ক্ষেত্রে মূলনীতি হল, তা পুরুষদের জন্য নির্ধারিত, যেমন অবস্থা ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এবং পরবর্তী শ্রেষ্ঠ যুগসমূহে। আর ইতিহাসে নারীদের দাওয়াত সংক্রান্ত স্বতন্ত্র যে সকল নমুনা বর্ণিত হয়েছে, তার সাথে পুরুষদের ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে, তার কখনও তুলনা হয় না; আর এটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীরই প্রতিপাদন; তিনি বলেন:
«كمل من الرجال كثير ولم يكمل من النساء إلا آسية امرأة فرعون ومريم بنت عمران وإن فضل عائشة على النساء كفضل الثريد على سائر الطعام».( أخرجه البخاري و مسلم).
“পুরুষদের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতা লাভ করেছেন, কিন্তু মহিলাদের মধ্যে ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া ও মরিয়ম বিনত ইমরান আ. ছাড়া আর কেউ পূর্ণতা লাভ করতে পারেন নি। আর নিঃসন্দেহে অপরাপর নারীদের উপর আয়েশার ফযীলত অন্যান্য খাদ্যের উপর ‘সারীদ[60]’ এর ফযীলতের মত।” – (ইমাম বুখারী ও মুসলিম র. হাদিসখানা বর্ণনা করেন)।[61]
৫. আর এই কথার অর্থ নারীর ভূমিকাকে রহিত করা বা উপেক্ষা করা নয়; বরং তার ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না এবং তার শান ও মর্যাদার অনেক গুরুত্ব রয়েছে, এমনকি এই আলোচনাটি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে শুধু তার এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে বর্ণনা করার জন্য; কিন্তু পূর্বে আলোচিত নিয়মকানুনের প্রয়োজনীয়তা ও বাধ্যবাধকতাসহ।
৬. আসল নিয়ম হল, নারী দাওয়াতী কাজ করবে তার শ্রেণীভূক্ত মেয়েদের মধ্যে; সুতরাং সে এই ক্ষেত্রে যথাযথ পদ্ধতি ও উপায়-উপকরণসমূহ ব্যবহার করবে; আর শর‘য়ী নিয়মকানুন ব্যতীত সে এই নীতির বাইরে যাবে না।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: দাওয়াতের ক্ষেত্রে সফল পদ্ধতিসমূহ: 

একজন যোগ্যতাসম্পন্ন আদর্শ দা‘ঈ নারী, যিনি চান তার কথা ও কাজ তার ঘরে, সমাজে ও জাতির মধ্যে ফলপ্রসূ হউক, তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উচিত কাজ হল, তিনি দাওয়াতী কাজের সফল পদ্ধতিসমূহের প্রতি মনোযোগ দেবেন, যা তার কাঙ্খিত ফলাফল অর্জনের জন্য আল্লাহ সুবহানহু ওয়া তা‘আলার পরে তার জন্য সাহায্যকারী ভূমিকা রাখবে।
আর ঐসব পদ্ধতি সংক্ষেপে তা-ই, যা আল্লাহ সুবহানহু ওয়া তা‘আলা তাঁর বাণীর মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন; তিনি বলেন:
﴿ ٱدۡعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِٱلۡحِكۡمَةِ وَٱلۡمَوۡعِظَةِ ٱلۡحَسَنَةِۖ وَجَٰدِلۡهُم بِٱلَّتِي هِيَ أَحۡسَنُۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعۡلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِۦ وَهُوَ أَعۡلَمُ بِٱلۡمُهۡتَدِينَ ١٢٥  [ سُورَةُ النَّحۡلِ: 125 ]
“তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান কর হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে তর্ক করবে উত্তম পন্থায়। তোমার প্রতিপালক সেই ব্যক্তি সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত, যে ব্যক্তি তাঁর পথ ছেড়ে বিপথগামী হয় এবং কারা সৎপথে আছে, তাও তিনি সবিশেষ অবহিত।” – (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।
এই আয়াতের মধ্যে দাওয়াতের সফল পদ্ধতিসমূহের সারসংক্ষেপ আলোচিত হয়েছে; আর তা হল:
  • হিকমত তথা প্রজ্ঞা বা কৌশল: আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল বস্তুকে তার যথাযথ স্থানে রাখা; আর হিকমতের উদাহরণ হল: নফস বা নিজকে নিয়ন্ত্রণ, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে পরস্পরিক লেনদেন; আর দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমত বা কৌশল হল:
–           দাওয়াতের জন্য উপযুক্ত সময় বাছাই করা।
–          উপযুক্ত স্থান বাছাই করা। কারণ, দাওয়াত গ্রহণযোগ্য হওয়ার ব্যাপারে তার প্রভাব রয়েছে।
–          উপযুক্ত বিষয় নির্বাচন করা; আর যখনই তাদের সাথে আলোচিত বিষয়টি হবে বাস্তবমুখী, তখন তা হবে সর্বোত্তম, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং গ্রহণযোগ্য হওয়ার সবচেয়ে নিকটতর।
–          শরী‘আতের নিয়মনীতি ও দলিল-প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত বিধিবিধান দ্বারা সুবিন্যস্ত সহজ নিয়মের অনুসরণ করা; তাতে অনুসরণ করা হবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর, তিনি বলেন:
«يسروا ولا تعسروا وبشروا ولا تنفروا  ». ( أخرجه البخاري و مسلم).
“তোমরা (দীনের ব্যাপারে) সহজ পন্থা অবলম্বন করবে, কঠিন পন্থা অবলম্বন করবে না, মানুষকে সুসংবাদ শুনাবে, বিরক্তি সৃষ্টি করবে না।” – ( ইমাম বুখারী ও মুসলিম র. হাদিসখানা বর্ণনা করেন)। [62]
–           দাওয়াত ও তাবলীগ তথা প্রচারের ক্ষেত্রে ক্রমধারা অবলম্বন করা এবং ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া; কারণ, মানুষের মন অনুশীলনের প্রয়োজন অনুভব করে এবং আস্তে আস্তে অগ্রসর হয়; আর তা মু‘য়ায ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণিত হাদিসের বক্তব্যের অনুসরণে, যখন তাঁকে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানে প্রেরণ করেছিলেন, তখন তিনি তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন:
« ادعهم إلى شهادة أن لا إله إلا الله وأني رسول الله فإن هم أطاعوه لذلك فأعلمهم أن الله قد افترض عليهم خمس صلوات في كل يوم وليلة فإن هم أطاعوه لذلك فأعلمهم أن الله افترض عليهم صدقة في أموالهم تؤخذ من أغنيائهم وترد على فقرائهم ». (أخرجه البخاري و مسلم).
“তুমি তাদেরকে এ কথার সাক্ষ্য দিতে আহ্বান করবে যে, আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত কোন হক উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। সুতরাং তারা যদি এ ব্যাপারে আনুগত্য করে, তবে তাদেরকে অবহিত করবে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। সুতরাং তারা যদি এ ব্যাপারেও আনুগত্য করে, তবে তাদেরকে অবহিত করবে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর যাকাত ফরয করে দিয়েছেন, যা তাদের ধনীদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা হবে।” (ইমাম বুখারী ও মুসলিম র. হাদিসখানা বর্ণনা করেন)।[63] সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তাদের মাঝে শরী‘আতের বিধান পেশ করার ক্ষেত্রে ক্রমধারা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছেন; অনরূপভাবে যোগ্যতাসম্পন্ন পুরুষ ও মহিলা দা‘ঈগণও ক্রমধারা অবলম্বন করবেন; আর এই ক্রমধারার উপর ভিত্তি করে দাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রথম সারির বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ দিতে হবে এবং প্রথমে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তারপরে দ্বিতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এভাবে ক্রমান্বয়ে …।[64]
–          আর হিকমত তথা কৌশলের মধ্য থেকে অন্যতম আরও একটি দিক হল, কল্যাণকর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা; সুতরাং কল্যাণকর জিনিস আহরণ করার চেয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বিষয়টি দমন করার ব্যাপারটি প্রাধান্য পাবে; আর দু’টি কল্যাণকর বিষয়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের সময় উভয়টির সর্বোচ্চটির প্রতি দৃষ্টি দেয়া হবে; আর দু’টি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বিষয়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের সময় উভয়টির মধ্যে যেটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক, তা থেকে দূরে থাকতে হবে এবং অনুরূপভাবে। আর যোগ্যতাসম্পন্ন আদর্শ দা‘ঈ নারী হলেন এমন, যিনি এই পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে বিষয়গুলো ওজন করবেন।
  • উত্তম উপদেশ: তার দ্বারা উদ্দেশ্য হল দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিকট দাওয়াত পেশ করার সময় সুন্দর, কোমল ও আন্তরিকতাপূর্ণ কথার অনুসরণ করা; আর দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও যে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে সে অবস্থান করছে, তার আলোকে বক্তব্য নির্বাচন করা; আর ব্যক্তিকে উৎসাহিত ও সাবধান করার ক্ষেত্রে উত্তম উপদেশের মধ্যে দলিল-প্রমাণের সংযুক্তিও অন্তর্ভুক্ত হবে।
আর উত্তম উপদেশের মধ্যে কিচ্ছা-কাহিনীও থাকবে; কেননা আল-কুরআন ও সুন্নাহ’র মধ্যে বহুবার কিচ্ছা-কাহিনীর আলোচনার পুনারাবৃত্তি হয়েছে; আর সেই কাহিনীগুলো হবে এমন, যেগুলোতে উপদেশ ও শিক্ষা থাকবে; তবে শর্ত হল, সেই কাহিনীগুলো বিশুদ্ধ হওয়া। কারণ, গল্পকাররা যেসব খারাপ ও নিষেধাজ্ঞায় নিপতিত হয়েছে তা কেবল এমন কিচ্ছা-কাহিনীর উপর নির্ভর করার কারণেই, যা আল-কুরআন ও সুন্নাহ’র মধ্যে বর্ণিত হয় নি।
আর উত্তম উপদেশের মধ্যে রয়েছে মানুষকে এমন বক্তব্যের মাধ্যমে সম্বোধন করা, যে সম্বোধনটি তারা পছন্দ করে; যেমন মহিলা দা‘ঈ মানুষের মধ্য থেকে বিশেষ কোন নারীকে বলবে: হে অমুকের মা, হে আমার বোন, হে বিশ্বস্ত মুমিন (নারী) … এবং সাধারণভাবে মানুষকে বলবে: হে প্রিয় বোনেরা, হে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী নারীরা এবং অনুরূপভাবে …।
আর পরিতুষ্টকারী পদ্ধতি ব্যবহার করাও উত্তম উপদেশের অন্তর্ভুক্ত; যেমন: কসম বা শপথের মাধ্যমে তাগিদ দেয়া, প্রয়োজনের মুহূর্তে কথাকে পুনরাবৃত্তি করা ইত্যাদি।
  • সর্বোত্তম পদ্ধতিতে বিতর্ক করা: আর বিতর্ক হল পরস্পর যুক্তি ও দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে লড়াই করা, অথবা প্রতিপক্ষকে বাধ্য করার জন্য বক্তৃতা ও কথাবার্তার ক্ষেত্রে বিতর্ক করা।
আর কয়েকটি ক্ষেত্রে বিতর্কের ব্যবহার হতে পারে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু দিক হল:
–          সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিরোধকারীর সাথে বিতর্ক; আর এই বিরোধকারী ব্যক্তির অবস্থার আলোকে বিতর্ক পরিচালিত হবে; সুতরাং বিরোধকারী ব্যক্তি যদি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হয়, তবে তার সাথে বিতর্ক পরিচালিত হবে ঈমান ভিত্তিক; আর সে যদি বুদ্ধিজীবী হয়, তবে তার সাথে বিতর্ক পরিচালিত হবে বুদ্ধি ভিত্তিক দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে।
–          সাধারণ মানুষের সাথে বিতর্ক হবে, এমন কিছু দ্বারা যা তারা বুঝতে পারে এবং তাদের সাথে কথা বলার অবস্থাটি এর অন্তর্ভুক্ত হবে, যেমন এই কথা বলা: ‘বক্তা যদি এরূপ বলে, তবে এই রকম বলা হবে’।
–          ছাত্রীদের সাথে বিতর্ক হবে তাদেরকে বিতর্ক, বাদানুবাদ ও অনুরূপ বিতর্কমূলক কিছুর পদ্ধতির প্রশক্ষিণদানের জন্য।
আর এক্ষেত্রে নিম্নলিখিত আদব-কায়দা ও শিষ্টাচারপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য করা আবশ্যক:
  • দলিল-প্রমাণের সংযুক্ত করা।
  • বিতর্ককারী ব্যক্তির উপর কথা অথবা কাজের দ্বারা সীমালংঘন না করা।
  • বক্তব্যকে এমন অর্থে না নিয়ে যাওয়া যা বক্তব্য সমর্থন করে না।
  • মিথ্যা কথা না বলা।
  • শান্ত থাকা এবং উত্তেজিত না হওয়া।
  • সত্যকে মেনে নেয়া।
  • বিষয়বস্তুর বাইরে না যাওয়া।
  • ধারণাকে সুন্দর করা।
  • তাকওয়া তথা আল্লাহ সচেতনতার প্রতি এমনভাবে লক্ষ্য রাখা যে, অচিরেই বান্দাকে তার বক্তব্যের ব্যাপারে হিসাবের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে; যদি ভাল হয়, তবে পরিণতি ভাল হবে; আর যদি মন্দ হয়, তবে পরিণতিও মন্দ হবে।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: নারীর দাওয়াতী ক্ষেত্রসমূহ থেকে:

পূর্বে প্রস্তাবিত দাওয়াতী ক্ষেত্রসমূহের কিছু উল্লেখযোগ্য ও প্রসিদ্ধ দিক নিম্নে পেশ করা হল:
          ১. সরকারী ও বেসরকারী বালিকা বিদ্যালয়সমূহ।
২. সৎকাজের আদেশ ও অসৎকর্মে নিষেধকারী সংস্থাসমূহ।
          ৩. নারীদের হিফযুল কুরআন মাদরাসা ও কোর্সসমূহ।
          ৪. স্বাস্থ্যবিষয়ক সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ।
৫. শর‘য়ী নিয়মনীতির আলোকে নারীর জন্য উপযুক্ত গণমাধ্যমকে (পঠিত ও শ্রুত) কাজে লাগানো।
          ৬. আবাসিক গৃহ।
          ৭. মাসজিদ।
          ৮. নারী সঙ্ঘ।
          ৯. হজের কাফেলা; ইত্যাদি।
আর এই প্রাণবন্ত প্রস্তাবনাটি অচিরেই সীমিত পয়েন্ট আকারে ও সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হবে; তবে  তা নির্ধারিত ক্ষেত্রসমূহ, প্রত্যেক ক্ষেত্রে কাজের ধরণ-প্রকৃতি এবং সময় ও স্থানের জন্য উপযুক্ত বিবেচনা করে উন্নতকরণ ও পুনর্বিন্যাসের দাবী রাখে:   
১. সরকারী ও বেসরকারী বালিকা বিদ্যালয়সমূহ:
শিক্ষিকার দায়িত্ব ও কর্তব্য প্রসঙ্গে যা আলোচনা হয়েছে, তা সত্ত্বেও এমন কিছু সুস্পষ্ট প্রাণবন্ত বিষয়ের উল্লেখ করা যায়, যেগুলো বালিকা বিদ্যালয়সমূহের অভ্যন্তরে নারীর জন্য উপস্থাপন করা সম্ভব:
          ১. কিছু সিডি/ক্যাসেট অথবা বাছাই করা পুস্তিকা তার প্রস্তাবনার ভিত্তিতে সৌজন্য কপি হিসেবে, অথবা কোন একজন শিক্ষিকার মাধ্যমে বিতরণ করা।
          ২. কিছু সংখ্যক শিক্ষিকাকে বিভিন্ন প্রকার প্রতিযোগিতার প্যাকেজ ছেড়ে দেয়ার জন্য উৎসাহিত করা, যেমন: হিফযুল কুরআন, অথবা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, অথবা বিভিন্ন প্রকার উপদেশমূলক প্রচারপত্র ও বার্ষিকী সংকলনের প্রকাশনা উপলক্ষে রচনা লিখন অথবা কিছু সংখ্যক কিতাবের সারাংশ লিখন প্রতিযোগিতা … ইত্যাদি।
          ৩. বিভিন্ন প্রকার জনকল্যাণমূলক মেলার আয়োজন করা এবং তার মধ্য দিয়ে কিছু সিডি/ক্যাসেট বা বই-পুস্তক প্রদর্শন করা; আর একই সাথে কোন একজন শিক্ষিকা অথবা পরিচালিকার দ্বারা সেমিনার বা সিম্পোজিয়ামের ব্যবস্থা করা।
          ৪. কিছু সংখ্যক সক্রিয় শিক্ষিকাকে ছাত্রীদের জন্য বিদ্যালয়ে নির্ধারিত মুসাল্লা তথা সালাত আদায় করার জায়গায় নিয়মিত দারস বা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য উৎসাহিত করা।
          ৫. মুসাল্লা (সালাতের আদায়ের স্থান) ভিত্তিক সংঘ প্রতিষ্ঠা করার জন্য কোন একজন শিক্ষিকাকে উৎসাহিত করা, যাতে বিদ্যালয়ের উপদেশ ও দিকনির্দেশনামূলক দিকগুলো প্রাণচঞ্চল করা যায়।
          ৬. শিক্ষিকাদের মাঝে যোগাযোগ ও দেখা-সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা, যাতে বিদ্যালয়ে দাওয়াতী কর্মসূচী পালন করার ব্যাপারে আলোচনা করা যায়।
          ৭. বিদ্যালয় ও কলেজসমূহে উপকারী সিডি/ক্যাসেট ও পুস্তিকাসমূহ বিক্রয়ের জন্য একটা গ্রুপ বা স্টাফ তৈরি করা।
          ৮. বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিকট থেকে ময়দানে প্রশিক্ষণকালীন সময়ের মধ্যে দাওয়াতী প্রেরণা লাভের উদ্দেশ্যে জ্ঞান লাভ করা।
          ৯. ইসলামী বিভিন্ন সমিতি ও সংস্থার সাথে সমন্বয় সাধন করা; যাতে কিছু সংখ্যক প্রদর্শনী মেলা এবং ইসলামী বিশ্বের সমস্যা ও ক্ষত-যখম-আঘাতসমূহ সম্পর্কে পরিচিত করে তোলা যায় এবং তাদের জন্য অনুদান সংগ্রহের সাথে সাথে তাদের মধ্যে ইসলামী চেতনা পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে তা থেকে ফায়দা হাসিল করা যায়।
          ১০. বেসরকারী মাদরাসাসমূহের পরিচালকদের নিকট আল-কুরআন ও আরবি ভাষার সাথে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত দারস বা পাঠ তৈরির জন্য প্রস্তাব দেওয়া, যেমনটি কোনো কোনো মাদরাসায় চালু রয়েছে।
          ১১. বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রেডিওর মধ্য থেকে যা উপকারী, তার থেকে ফায়দা হাসিল করা; চাই তা সকাল বেলার এসেম্বলীর মাধ্যমে হোক, অথবা বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কোনো ক্লাসের কর্মতৎপরতার মাধ্যমেই হোক।
          ১২. নেতিবাচক বাহ্যিক দৃশ্য ও শরী‘আত বিরোধী কর্মকাণ্ডের নজরদারী করা, যা কখনও কখনও ছাত্রীদের মধ্যে পাওয়া যায় এবং এই বাহ্যিক দিকগুলো প্রতিকারের জন্য প্রচারপত্র অথবা বুকলেট বা পুস্তিকা তৈরি করা। আর এ ব্যাপারে যে বিষয়গুলোতে বেশি গুরুত্ব প্রদান করা যায়, তা হল: “টেলিফোনে কথা চালাচালি, অপ্রচলিত বা অসামাজিক সম্পর্ক, আত্মতুষ্টি বা গর্ব ও পর্দার ক্ষেত্রে শৈথিল্য”।
          ১৩. ছাত্রী ও শিক্ষিকাদেরকে বিভিন্ন বার্ষিক ইসলামী ম্যাগাজিন সংগ্রহে রাখার ব্যাপারে উৎসাহিত করা। —–
          ১৪. বার্ষিক ইসলামী বই ও সিডি মেলার আয়োজন করা।
          ১৫. বিদ্যালয়ে “প্রতিক্ষার ব্যাগ” ভর্তি করে রাখা, যাতে শিক্ষিকা অপেক্ষাকালীন সময়ে ব্যাগ থেকে ফায়দা হাসিল করতে পারে; আর শ্রেণীর ছাত্রীদের সংখ্যা অনুপাতে ব্যাগের ভিতরে পুস্তিকা (গল্প বা উপন্যাস জাতীয়) এবং প্রতিযোগিতার বই-পুস্তকের মধ্য থেকে প্রতিযোগিতামূলক বইসমূহ থাকবে। আর শিক্ষিকা ছাত্রীদেরকে পুস্তিকাসমূহ পাঠ করার দায়িত্ব অর্পণ করবেন, অথবা তিনি প্রতিযোগিতার বই-পুস্তকের মধ্যে সময়ে সময়ে পস্তিকাসমূহে পরিবর্তন করে আগ্রহ সৃষ্টিসহকারে তাদের জন্য প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করবেন।
          ১৬. কার্য পরিকল্পনার দলীল বা রেকর্ড লিখিত আকারে সংরক্ষণে রাখা, যা এমন কিছু বিনোদনমূলক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করবে, যার মধ্য থেকে স্বাধীন কর্মকাণ্ডের ক্লাসে সহজেই উপকৃত হওয়া যায় অথবা এই ক্লাসে দাওয়াতদানে প্রসিদ্ধ কোন মহিলা দাওয়াতদানকারিনীকে বিদ্যালয়ে আহ্বান করার ব্যাপারে সমন্বয় সাধন করা।
          ১৭. শিক্ষিকাদের কক্ষসমূহকে উপযুক্ত কিছু ম্যাগাজিন বা সাময়িকী দ্বারা সমৃদ্ধশালী করা। — তার সাথে বিভিন্ন উপলক্ষে প্রকাশিত ছোট ছোট পুস্তিকাসমূহও থাকতে পারে।
২. সৎকাজের আদেশ ও অসৎকর্মে নিষেধ করা:
নারীকে সঠিক দিক-নির্দেশনা প্রদান এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট অশ্লিলতা থেকে মুক্তির আন্দোলনে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকর্মে নিষেধ করার বড় ধরণের ভূমিকা রয়েছে; তন্মধ্যে কিছু দিক হল:
          (ক) মুসলিম নারীকে এমন দিক-নির্দেশনা প্রদান করা, যা তাকে তার ধর্মীয় ব্যাপারে উপকৃত করবে এবং তাকে এমন মতামত বা পরমর্শ দেয়া, যা তাকে তার পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে উপকৃত করবে।
          (খ) বাইরের দেশে ভ্রমণ করা এবং তা থেকে যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়, তার ভয়াবহ বর্ণনা পেশ করা।
          (গ) অভিভাবকগণকে উৎসাহ দেয়া, যাতে তারা তাদের স্ত্রী ও কন্যাদেরকে মাহরাম ব্যতীত সফর করতে না দেয়।
          (ঘ) কিছু গণমাধ্যম ও মিডিয়ার ভয়াবহ দিক বর্ণনা করা; যেমন: ডিশ-এন্টিনা, ভিডিও, টেলিভিশন এবং কুরুচিপূর্ণ ম্যাগাজিন।
          (ঙ) যেসব স্থানে নারীদের একত্রিত হওয়ার মধ্যে অশ্লিলতা ও বেহায়াপনার মত কাজ হয়, সেসব স্থানের ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা (বিদ্যালয়, বাজার বা মেলা, বাগান বা পার্ক এবং বিনোদন কেন্দ্রসমূহ)।
          (চ) ক্লিনিক ও হাসপাতালসমূহের মধ্যে যেসব শরী‘আত বিরোধী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়, সে সম্পর্কে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।
৩. নারীদের হিফযুল কুরআন মাদরাসা ও মক্তবসমূহ:
এই বরকতময় দেশ ও অন্যান্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হিফযুল কুরআন বা তাহফিযুল কুরআন মাদরাসা ও মক্তব ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন বয়স ও শিক্ষা-সাংস্কৃতির দিক থেকে বিভিন্ন স্তরের নারীদের অনেকে সেসব মাদরাসা ও মক্তবে আসা-যাওয়া করে থাকে। সেখানকার দাওয়াতী ক্ষেত্রের বা দাওয়াতকে সহযোগিতার কথা নিম্নলিখিতরূপে উল্লেখ করা যেতে পারে:
          ১. নারীদের জন্য হিফযুল কুরআনের আসরে সহযোগিতার জন্য কল্যাণকামীদেরকে উৎসাহিত করা এবং আরও উৎসাহিত করা এসব আসরের সাহায্যার্থে ওয়াকফকারী ব্যক্তি খুঁজে বের করতে কাজ করা।
          ২. এসব মাদরাসার তত্ত্বাবধায়ক কমিটিতে অংশগ্রহণ করা অথবা তার পরিচালনায় অংশগ্রহণ করা, অথবা তার কোন কোন মাদরাসার কোন কোন আসরের তত্ত্বাবধান করা।
          ৩. হিফযুল কুরআন বা তাহফিযুল কুরআন মক্তবসমূহের জন্য সিলেবাস বা পাঠপরিকল্পনা তৈরি করা এবং আসরগুলো চালানোর জন্য পরিকল্পনা তৈরি করা।
          ৪. মহল্লার এসব মাদরাসার মধ্যে সমন্বয় সাধন ও সেতু বন্ধনের কাজ করা।
          ৫. প্রত্যেক এলাকায় বিভিন্ন বক্তৃতা ও শিক্ষাদানে ছাত্রীদের সাথে অংশগ্রহণ করা এবং উপযুক্ত দিক-নির্দেশনা প্রদানকারিনীদের কারও কারও কাছ থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপকৃত হওয়া।
          ৬. পরিবার ও বোনদেরকে শিক্ষাদানের কাজে উদ্বুদ্ধ করা এবং হিফযুল কুরআন বা তাহফিযুল কুরআন মাদরাসাসমূহে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা।
          ৭. শর‘য়ী নিয়মকানুন প্রাণবন্তকরণমূলক কোর্সের আয়োজন করা এবং ঐসব মাদরাসার শিক্ষিকা ও প্রশাসনিক মহিলা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
          ৮. নারী দা‘ঈ তৈরির উদ্দেশ্যে দাওয়াতী কাজের প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা।
৪. তথ্য ও প্রচার মাধ্যমের (পঠিত ও শ্রুত) ব্যবহার করা:
উপযুক্ত কাজ হল, পাঠযোগ্য তথ্য ও প্রচার মাধ্যমে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো পেশ করা:
          ১. স্বামী-স্ত্রী ও সামাজিক সমস্যাসমূহের মত প্রধান সমস্যাগুলো পেশ করা, যা ছোট-খাট সমস্যাগুলোর মৌল বলে বিবেচিত।
          ২. কিছু কিছু বিষয়ের মৌলিকত্ব প্রতিষ্ঠিত করা, যে ব্যাপারগুলো শরী‘আত অকাট্যভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছে; যেমন: নারীর বাইরে বের হওয়া এবং তার কাজ করার বিষয়টি।
          ৩. এই উপস্থাপন করাটা অব্যাহতভাবে করে যেতে হবে  এবং মৌলিকভাবে হতে হবে, কোনক্রমেই যেন তা বিপরীত প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপিত না হয়।
৪. আরব রাষ্ট্রে নারীমুক্তি আন্দোলনের ফলাফলসমূহ ও তার নেতিবাচক প্রভাবসমূহ প্রকাশ করা।
৫. শরী‘আতের বিধানসমূহ ও সামাজিক প্রথার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরা।
৬. এই দেশের প্রতিষ্ঠার সময়, তার মাঝখানে ও তার পরে পবিত্রা নারীদের ইতিবাচক ভূমিকা প্রকাশ করা; যেমন: ইমাম মুহাম্মদ ইবন সা‘উদকে ইমাম মুহাম্মদ ইবন আবদিল ওহাব র. এর সহযোগিতার প্রতি উৎসাহদান করার ক্ষেত্রে ইমাম মুহাম্মদ ইবন সা‘উদের স্ত্রীর ভূমিকা।
৫. স্বাস্থ্যবিষয়ক সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ:
স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠানসমূহকে নারীর কর্মক্ষেত্র হিসেবে গণ্য করা হয়; আর সেখানে নারীর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করাই রক্ষণশীল মুসলিম সমাজের আশা-আকাঙ্খা বা চাহিদা। সেখানে যে সকল দাওয়াতী কাজ করা সম্ভব তা হচ্ছে:
          ১. বড় হাসপাতালগুলোতে দিক-নির্দেশনা ও পথপ্রদর্শনের জন্য অফিস উদ্ভাবনের ব্যাপারে কাজ করা, যাতে সে অফিস মহিলা রোগী, দর্শনার্থী এবং তাদের সঙ্গী-সাথীর সেবা দিতে পারে; আর তাৎক্ষণিকভাবে কোন কোন হাসপাতালে প্রতিষ্ঠিত সামাজিক সেবাকেন্দ্রগুলো থেকে এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে।
          ২. হাসপাতালের লাইব্রেরির জন্য জ্ঞানধর্মী পুস্তকাদি ও রেফারেন্স বইয়ের সমষ্টি সরবরাহ করার কাজের সাথে সাথে ক্লিনিক ও হাসপাতালসমূহকে পুস্তকাদি ও সংশ্লিষ্ট উপকারী স্টিকারাদি দ্বারা সমৃদ্ধশালী করা।
          ৩. তথ্য ও প্রচার মাধ্যমে সময়ে সময়ে হাসপাতালের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এই কেন্দ্রীক যেসব লেখার প্রচার ও প্রকাশ হয় তা অনুসরণ করা এবং এ ব্যাপারে লেখালেখি করা।
৬. আবাসিক গৃহ:
প্রভাবের দিক দিয়ে তা হল শ্রেষ্ঠ ময়দান ও মাধ্যম; আর অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, আল্লাহ তা‘আলা স্বামী ও স্ত্রীর প্রত্যেককেই তার ঘরের দায়িত্বশীল বানিয়ে দিয়েছেন; আর অচিরেই আল্লাহ স্বামীকে তার পরিবার-পরিজন ও তার স্ত্রীর রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে এবং স্ত্রীকে তার পরিবার-পরিজন ও তার স্বামীর রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করবেন; আর তিনি তাদের উভয়কে নির্দেশ দিয়েছেন পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য। অপরাপর মাধ্যমসমূহের মধ্য দিয়ে দাওয়াতী কাজের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন যতই কম হবে ততই তা পিতা-মাতার দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে অতিরিক্ত মাত্রা যোগ করবে। আর দায়িত্বের একটা বিরাট অংশ হল মায়ের। যেসব দায়িত্বের মধ্যে নারী পুরুষের অংশীদার তার পরিমাণ অনেক; তন্মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হল: ঈমানী প্রশিক্ষণ, জ্ঞানগত, চারিত্রিক, শারীরিক, আত্মিক, সামাজিক, লিঙ্গগত, সৎকর্মের আদেশ করা, অসৎকর্মে নিষেধ করা এবং আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাওয়াত তথা আহ্বান করার দায়িত্ব।
আর গৃহের ব্যাপারটি অন্যান্য উপায়-উপকরণ বা মাধ্যমসমূহ থেকে আলাদা; কারণ পরিবারের সকল সদস্য দীর্ঘ সময় ধরে একত্রে বসবাস করে থাকে; আর তাদের মধ্যে আত্মিক ও সামাজিক মিল বা সমন্বয় থাকে, ফলে সেখানে সহজেই উত্তম আদর্শ পেশ করা সম্ভব। তাছাড়া সেখানে রয়েছে পরোক্ষ দিক-নির্দেশনা দেয়ার মাধ্যমে প্রভাবিত করার, সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের সূবর্ণ সুযোগ। আরও রয়েছে সকল প্রকার সুযোগ ও অবস্থার সদ্ব্যাবহার। আর সাধারণ মানুষের চক্ষুর অন্তরালে দিক-নির্দেশনা প্রদান ও শাস্তি দ্বারা প্রভাবিত করার মত ব্যবস্থা।[65]
৭. সমাজ:
আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও অভাবীদের প্রতি ইহসান তথা অনুগ্রহ করা এবং তাদেরকে দাওয়াত ও নির্দেশনা দেয়ার মধ্য দিয়ে একটি জাতির প্রতিটি সদস্যের মধ্যে একটি চমৎকার বন্ধন ও তাদের মধ্যে একটি শরীরের মত সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া যায়; অনুরূপভাবে কতগুলো দাওয়াতী প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে তা আারও শক্তিশালী হয়ে থাকে, যেমন:
–          পারিবারিক পরামর্শ আদান-প্রদান কেন্দ্র।
–          পরস্পর সম্পর্ক সংস্কার কেন্দ্র।
–          কারাগারে বন্দীদের পরিবারের তত্ত্বাবধান করা।
–          বিয়ের উপযুক্ত পাত্রদের জন্য কোর্সের আয়োজন করা।
৮. মাসজিদ:
যখন নারীর জন্য তার অভিভাবকের অনুমতিক্রমে মাসজিদে উপস্থিত হওয়া বৈধ – আর তার অভিভাবকের জন্য তাকে বারণ করা উচিত হবে না, যখন সে তার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করে— তখন মাসজিদে যে বক্তব্য পেশ করা হয়, তা থেকে এবং অপর কোনো আদর্শ সৎকর্মশীলা নারী থেকে ফায়দা হাসিল করা সম্ভব। কারণ, সাধারণত: মানুষের মধ্য থেকে বাছাই করা ভালো লোকরাই মাসজিদে যাওয়া-আসা করে থাকে। আর এ মাসজিদই হচ্ছে তাহফিযুল কুরআন এবং উপকারী শর‘য়ী জ্ঞান শিক্ষা ইত্যাদির আসর থেকে নারীদেরকে প্রাণবন্তকরণের জন্য যথাযথ স্থান; আর সেই প্রাণবন্তকরণের বিষয়গুলো থেকে প্রস্তাবিত কিছু দিক হচ্ছে:
          ১. মাসজিদে নারীদের জন্য বিশেষ আলোচনার ব্যবস্থা করা, যাতে নারীদের বিরাট একটা সংখ্যা তাতে সহজে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ পায়।
          ২. মহিলা দা‘ঈদেরকে আমন্ত্রণ জানানো, যাতে তারা রমযান মাসে তারাবীর সালাতের পর নারী মুসল্লীদের (নামাযীদের) মাঝে আলোচনা পেশ করতে পারেন।
          ৩. খতীবগণ জুম‘আ ও অন্যান্য আলোচনার মধ্যে এমন কিছু বিষয়কে নিয়ে আসবেন, যেগুলো নারী, পরিবার, আদব-কায়দার প্রশিক্ষণ … ইত্যাদির সাথে নির্দিষ্ট।
          ৪. রমযান মাসে, গ্রীষ্মকালে ও বিভিন্ন উপলক্ষকে কেন্দ্র করে পারিবারিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
          ৫. মাসজিদের প্রশিক্ষণ ও দাওয়াতী ভূমিকা ক্রিয়াশীল করা।
৯. নারী সঙ্ঘ:
কিছু দরিদ্র পরিবার ও কারাবন্দী পরিবারকে সাথে নিয়ে এই ধরনের সঙ্ঘ বা সমিতির জন্য কিছু কিছু কল্যাণকর উদ্যোগ গ্রহণ করা যায়; তবে তা ব্যক্তি ও বস্তুর সম্ভাব্যতার উপর ভিত্তি করে সীমিত আকারে হবে; সুতরাং উল্লেখিত ক্ষেত্রসমূহ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে এসব সঙ্ঘ বা সমিতি প্রাণবন্ত হয়ে উঠার সম্ভাবনা রাখে।
১০. হজের সফর:
হজের সফরে নারী বিভাগে দাওয়াতী কর্মসূচী গ্রহণ করা; আর এখানে প্রস্তাবিত বিষয়গুলো হল:
          ১. অভিজ্ঞ নারী দা‘ঈদেরকে এই অভিযানে অংশগ্রহণ করার জন্য উৎসাহিত করা, যাতে তারা হজের শর‘য়ী বিধানসমূহ বর্ণনা করে দিতে পারেন এবং নারীদেরকে এমন নির্দেশনা দিতে পারেন, যা তাদেরকে উপকৃত করবে।
          ২. নারীর জন্য বিভিন্ন প্রকারের দাওয়াতী ও দিকনির্দেশনামূলক কর্মসূচী প্রস্তুত করা; যেমন: নারীর জন্য উপযোগী প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা, হাল্কা কথোপকথন, সিডি, পুস্তিকা ও বিভিন্ন সংকলনসমূহ প্রস্তুত করা; তারপর তা অন্যান্য কাফেলায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বন্টন করা এবং তাদের মাঝেও তা কার্যকর করতে উৎসাহ প্রদান করা।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: দাওয়াত ও প্রশিক্ষণের বিষয়সমূহ:

কোন সন্দেহ নেই যে, গোটা দীনই দাওয়াতের বিষয়, যার দিকে আহ্বান করা হয় এবং যার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়; কিন্তু এখানে আমি নারী দা‘ঈর জন্য এমন কিছু বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করবো, যা সম্ভবত তার জন্য দাওয়াতের অনেকগুলো দ্বার উন্মোচিত করে দেবে, যাতে সে সেগুলোর মধ্য দিয়ে দাওয়াতী কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হয়। আমরা এগুলোকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করতে পারি:
প্রথম প্রকার: মূলভিত্তিগত বা বুনিয়াদী বিষয়সমূহ: তার অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ হল:
  • আকিদা বা বিশ্বসগত বিষয়সমূহ: তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হল:
–          ঈমানের রুকন বা স্তম্ভসমূহ এবং সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট অধ্যায় ও মাসআলাসমূহ।
–          জগত, জীবন ও মানুষ নিয়ে মুসলিম ব্যক্তির ইপ্সিত চিন্তা ও ধারণা।
–          ঈমান ও তাওহীদ তথা একত্ববাদের বিপরীত, যেমন: আল্লাহর সাথে শরীক করা, নিফাক, দ্বীন নিয়ে ঠাট্টাবিদ্রূপ, জাদু ইত্যাদি।
–          ঈমান ও তাওহীদের চাহিদাসমূহ, যেমন: মহব্বত তথা ভালবাসা, আশা-আকঙ্খা, ভয়ভীতি, ধৈর্য, ইখলাস বা একনিষ্ঠতা, বন্ধুত্ব, সদ্ব্যবহার ইত্যাদি।
  • ইবাদতের বিষয়সমূহ:
যেমন: পবিত্রতা ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ; সালাত ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ; যাকাত, সাওম, হাজ্জ ও ‘উমরা; (ফরয সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট) সুন্নাত সালাতসমূহ ও বিতরের সালাত; আর সকল ইবাদতের মধ্যে সকল প্রকার নফল ইবাদতসমূহ; অনুরূপভাবে পবিত্রতার বিধান ও তার সাথে আবশ্যকীয় বিষয়সমূহ।
  • পারিবারিক বিষয়সমূহ:
আর তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ হল যেমন: ভাল পরিবার গঠনের জন্য কাজকর্মসমূহ; মাতার অধিকারসমূহ; পিতার অধিকারসমূহ; সন্তানদের অধিকারসমূহ; স্বামী-স্ত্রীর অধিকারসমূহ; খাদেম বা কাজের লোকের অধিকারসমূহ; পরিবার গঠনের জন্য কাজকর্মসমূহ এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার আচার-আচরণ।
·         আচার-আচরণ ও চারিত্রিক বিষয়সমূহ:
যেমন: সুন্দর লেনদেন ও আচার-ব্যবহার; উত্তম চরিত্র; অনুগ্রহ ও অনুকম্পা; উদারতা ও দানশীলতা; সততা ও সত্যবাদিতা; বিশ্বস্ততা; হাসিমুখে থাকা; ঘরের আদব-কায়দা; কথাবার্তা ও মজলিসের আদব-কায়দা; খাওয়ার আদব-কায়দা; ঘুমানোর আদব-কায়দা; চারিত্রিক বিষয়সমূহের মধ্যে আরও মুসলিম ব্যক্তির অধিকারসমূহ; প্রতিবেশীর অধিকারসমূহ; অমুসলিমদের অধিকারসমূহ এবং রাস্তার অধিকার বা হকসমূহ।
  • দাওয়াতের পদ্ধতিগত বিষয়সমূহ:
তন্মধ্যে অন্যতম হল: দাওয়াতের হুকুম বা বিধান, তার আবশ্যকীয় বিষয়সমূহ, তার আদব-কায়দাসমূহ, তার উপায়-উপকরণসমূহ, তার পদ্ধতিসমূহ, তার গুরুত্ব; স্বাস্থ্যকর দাওয়াতের দিকসমূহ ও অস্বাস্থ্যকর দাওয়াতি দিকসমূহ; ইলম (জ্ঞান) ও তার গুরুত্ব; ছাত্রীর আদব-কায়দা বা শিষ্টাচারিতা; ছাত্রীদের সঠিক সিলেবাস; মহিলা দা‘ঈদের কিছু কিছু রোগ এবং মহিলা দা‘ঈদের দৃঢ়তা ও স্থায়িত্বের কার্যক্রমসমূহ।
দ্বিতীয় প্রকার: নারীর সাথে নির্দিষ্ট বিষয়সমূহ:
যেমন: তার সালাত ও বক্তৃতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া; নারী ও নারীদের অনুষ্ঠানসমূহ; নারী ও বাজারসমূহ; নারী ও বিনোদন কন্দ্রেসমূহ; পর্দা; নারী ও শরীরচর্চা; নারী কর্তৃক তার বাচ্চাদের লালনপালন ও প্রশিক্ষণ; নারী কেন্দ্রীক ইসলামের শত্রুদের ষড়যন্ত্র; প্রাচ্যে ও পাশ্চাত্যে নারী; সংস্কারমূলক কাজে নারীর ভূমিকা এবং এই ক্ষেত্রে তার আদব-কায়দা ও বিধিবিধানসমূহ; সাংস্কৃতিক ময়দানে নারীর অংশগ্রহণ; নারীর নিজের জন্য জ্ঞানগত ও দাওয়াতী ভিত তৈরি করা; নারীর দৃঢ়তা ও স্থায়িত্ব এবং দীনের উপর অটল থাকার কার্যক্রমসমূহ ইত্যাদি।
তৃতীয় প্রকার: ক্রুটিপূর্ণ উপলব্ধিগত বিষয়সমূহ:
ইসলামী চিন্তা ও পরিকল্পনার ঘাটতি; দীনের বিধিবিধানের ব্যাপারে মুসলিম নারীর অজ্ঞতা; দায়িত্ব ও কর্তব্যে পালনে দুর্বলতা, এই দুর্বল কর্মকাণ্ডসমূহ ও তার প্রতিকার; শয়তান ও তার ষড়যন্ত্রসমূহ; নারী ঘরের বাইরে বের হওয়া ও তার কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে ত্রুটিপূর্ণ বুঝ বা উপলব্ধি; চিন্তাভাবনা ও নৈতিকতার যুদ্ধ; নারীর উপর দুশ্চরিত্রবানদের হামলা।
চতুর্থ প্রকার: বিশেষ শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়সমূহ:
আর এটা শুধু ছাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট, যেমন: তাফসীর অথবা সে বিষয়ে বিশেষ কোর্স, অথবা হাদিস ও উসূলুল হাদিস, অথবা ফিকহ, অথবা (সহীহ) আকিদা ও বিপরীত আকিদা, অথবা এসব বিষয়ের মূলনীতিমালার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ পাঠপরিকল্পনা তৈরি করা; আর অনুরূপভাবে সীরাত, ইলমে নাহু (আরবি ব্যাকরণ সংক্রান্ত), সাহিত্য, ইতিহাস, অথবা সাধারণ সংস্কৃতি ইত্যাদির ক্ষেত্রেও একটি বিশেষ পাঠপরিকল্পনা তৈরি করা। আর পরিশেষে আমি বলব: নিশ্চয়ই একজন মুসলিম মহিলা বিচক্ষণ দা‘ঈর কর্তব্য হল, সে এমন একটি কর্মসূচী বাছাই করবে, যা এসব বিষয় ও অন্যান্য বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং অনুরূপভাবে তাদের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে সে যাদের সাথে এই ব্যাপারে কথা বলবে; আর এগুলো শুধু কয়েকটি উদাহরণ মাত্র; নতুবা বিষয়টি অনেক ব্যাপক ও বড় হয়ে যেত।

 

সপ্তম অনুচ্ছেদ: দায়িত্ব পালনের সহযোগী উপায়-উপকরণ:

আর আমরা এই নগণ্য আলোচনাটির প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে উপনীত হয়েছি, এখন আমি সামগ্রিকভাবে এমন উপায়-উপকরণ বা উপাদানের উল্লেখ করব, যা একজন মহিলা দা‘ঈকে যথাযথভাবে শরয়ী নির্দেশনার ভিত্তিতেই তার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সহযোগিতা করবে; যেমন:
–          আমল বা কর্মকাণ্ডের ইখলাস তথা একনিষ্ঠতাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার জন্য নির্দিষ্ট করা এবং এই ইখলাস তথা একনিষ্ঠতাকে সংস্কার করা; আর এর উপর প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার নিকট প্রার্থনা করা; কারণ, তা হল প্রত্যেক সফলতার মূল এবং প্রত্যেক কামিয়াবীর পরিচালক; আর তা হল সকল আমল বা কর্মকাণ্ডের নির্ভেজাল উৎস এবং আল্লাহ তা‘আলার নিকট গ্রহণযোগ্য হওয়ার মূলভিত্তি; আর এই ব্যাপারে কিছু বর্ণনা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
–          আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার নিকট নিয়মিত দো‘আ বা প্রার্থনা করা, যাতে তিনি এই নারীকে তার ঐ পথে টিকে থাকার তাওফীক দান করেন, যে পথের পথিক সে হয়েছে এবং আরও তাওফীক দান করেন, যাতে সে তার নিজের, তার ঘরের, তার সমাজের ও তার জাতির সাথে সম্পৃক্ত তার দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করতে পারে; আর সে এই দো‘আ বা প্রার্থনা করার ব্যাপারে কখনও গাফেল হবে না; বরং সে এ ব্যাপারে বারবার দো‘আ করতে থাকবে; কারণ, যখনই কোন বান্দা তার প্রতিপালকের নিকট এভাবে দো‘আ করে তখনই তা প্রাপ্ত হওয়া ও কবুল হওয়ার বেশি উপযোগী। আর এই অধ্যায়ে কুরআন ও হাদিসের এমন অনেক বক্তব্য রয়েছে, যা গণনার বাইরে।[66]
–          ইবাদতগত এমন কিছু কর্মসূচী গ্রহণ করা, যার মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার সাথে সম্পর্ক শক্তিশালী হবে; যেমন: সে তার জন্য মুস্তাহাব তথা নফল সালাতের একটা অংশ বরাদ্ধ করবে; অনুরূপভাবে সাওম, দান-সাদকা, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির-আযকার, পিতা-মাতার আনুগত্য করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা ইত্যাদি; সুতরাং এটা মহান সঞ্চয়, যা একজন বিজ্ঞ মহিলা দা‘ঈ তার এই জীবন চলার পথের পাথেয় হিসেবে বহন করবে।
–          তার এমন আকাঙ্খা থাকা যে, তার নির্ভেজাল আমলসমূহ থেকে এমন কিছু আমল থাকবে, যার ব্যাপারে এক আল্লাহ ব্যতীত অপর কেউ অবগত নয়, যদিও সে নিকটবর্তীর চেয়েও আরও নিকটবর্তী হউক, যেমন: স্বামী, অথবা পিতা-মাতা, অথবা সন্তান, অথবা অনুরূপ অন্য কেউ, যাতে তা ইখলাস তথা একনিষ্ঠতার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ, অন্তরের নির্মলতার জন্য শ্রেষ্ঠ দলিল এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার সাথে সম্পর্কের ব্যাপারে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হতে পারে।
–          তার নিজের আত্মিক উন্নতি ও অগ্রগতির ব্যাপারে সদা সচেতন থাকা; সুতরাং সে এমন কোন একটা নির্দিষ্ট সীমায় দাঁড়িয়ে থেকে মনে করবে না যে সে কামিল বা পূর্ণতা লাভ করেছে; আর এটা হল শয়তান অনুপ্রবেশের প্রশস্ত দরজা, ফলে সে তার আমলসমূহ বিনষ্ট করবে এবং তার হৃদয়কে রোগগ্রস্থ করে দেবে।
–          কাজ ও সময়কে ভাগ করে একটি কার্যকরী কর্মসূচী বা রুটিন তৈরি করা এবং তার যথাযথ অনুসরণ করা; যদিও তা পুরাপুরিভাবে শৃঙ্খলা ও নিয়মের মধ্যে আবদ্ধ করা যাবে না; কিন্তু পুরাপুরিভাবে আয়ত্ব করা না গেলেও, পুরাপুরি পরিত্যক্ত হবে না; আর অল্প অল্প করেই অধিক হয়; যেমন: ফযরের পরে কিছু সময় কুরআন অধ্যয়ন ও যিকির-আযকারের জন্য নির্দিষ্ট করা; আর দুপর বেলায় যদি সে কাজ করে, তবে সে সময়টি তার কাজের জন্য বরাদ্ধ করা এবং সে সময়ে সে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবে; আর যদি ঐ সময়ে সে কাজ না করে, তবে সে ঐ সময়টিকে তার ঘর-গৃহস্থালির কাজ ও বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়নের জন্য নির্দিষ্ট করবে; আর যোহরের পর: হালকা কর্মকাণ্ডের জন্য, যেমন: কিছুটা বিশ্রাম নেয়ার সাথে সাথে প্রবন্ধ লেখা, অথবা পিতা-মাতা ও সন্তানের সাথে আলাপ করা এবং অনুরূপ অন্য কিছু একটা করা। আর আসরের পর: অধ্যয়নকৃত বিষয় পুনরায় দেখা, আলোচনা প্রস্তুত করা, গবেষণা ও গভীরভাবে অধ্যয়ন করা। আর মাগরিবের পর: এই সময়টি বরাদ্ধ হবে কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য, যেমন: বক্তৃতা বা আলোচনা পেশ করা, অথবা সন্তানদের সাথে সম্মিলন করা এবং তাদের সাথে কিছু কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা, অথবা তাদের পাঠ পর্যালোচনা করা। আর এশার পর: বাকি কাজগুলো সেরে নেওয়া এবং ঘুমানোর প্রস্তুতি নেওয়া … ইত্যাদি; আর সবকিছুই তার হিসাব অনুযায়ী হবে; হবে তার সময়, স্থান ও মেজায অনুযায়ী।
–          এমন সৎকর্মশীল নারীদের সাথে উঠাবসা করা, যারা তাকে স্মরণ করিয়ে দেবে, যখন সে ভুলে যাবে, তাকে শিক্ষা দেবে, সে যা জানবে না এবং স্মরণ হওয়া বিষয়ে তারা তাকে সহযোগিতা করবে; সুতরাং সে তাদের নিকট থেকে শুধু ভাল কথাই শুনবে, অথবা প্রসিদ্ধ সৎকর্মশীল নারীর ব্যাপারে শুনবে, অথবা উপকারী গল্প শুনবে, অথবা উপকারী ইলম তথা জ্ঞানের কথা শুনবে; সুতরাং ভাল বন্ধুর একটা ভাল প্রভাব রয়েছে।
–          সময়ে সময়ে নিজকে নিজে তথা আত্মসমালোচনা করা, চাই তা সাপ্তাহিক হউক, অথবা মাসিক, অথবা বার্ষিক হউক।
–          তার নারীগৃহে যোগদান করা, অথবা ভালো দিক-নির্দেশনাসম্পন্না নারীদের সাথে মিলিত হওয়া; কারণ, পরস্পরিক সহযোগিতা প্রেরণা ও উৎসাহ যোগায় এবং শয়তানকে তাড়িয়ে দেয়, আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে অধিক ফল ও উৎকৃষ্ট লাভ বয়ে আনার ক্ষেত্রে সহযোগী। আর তার কর্মকাণ্ড সব সময় এককভাবে হবে না, এমন হলে সে বিরক্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়বে; কিন্তু পারস্পরিক সহযোগিতার দ্বারা মানুষ আল্লাহর অনুমোদনক্রমে কল্যাণজনক অবস্থায় পৌঁছাতে পারে।
–          নারী তার সর্বশক্তি ও অনুদান বিনিয়োগ করবে দাওয়াতের ক্ষেত্রে; অতঃপর সে লক্ষ্য করবে তার শক্তি-সামর্থ্য ও বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার দিকে, অতঃপর সে উভয়টিকে নিয়ে নিকটতম ও দূরতম সমাজে তার দাওয়াতী তৎপরতা চালু করবে। উদাহরণস্বরূপ: বিভিন্ন শ্রেণির লেখালেখি, বক্তৃতা প্রদান, সেমিনার পরিচালনা, নারী কল্যাণ সমিতি পরিচালনা, বিদ্যালয় পরিচালনা, দাওয়াতী কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা, নারীদেরকে প্রাণবন্তকরণের ব্যবস্থা করা … ইত্যাদি।
অষ্টম অনুচ্ছেদ: মুসলিম নারীর কাজ কাজ করার নিয়ম-পদ্ধতি:

নারীর কাজের ব্যাপারে মূল কথা হচ্ছে তা শরী‘আত সম্মত। আর ইসলামের প্রাথমিক যুগের নারীদের কেউ কেউ কাজ করেছেন; কিন্তু তা কতগুলো নিয়মনীতির দ্বারা শরী‘আত সম্মত, যখন তা পুরাপুরি বিদ্যমান থাকবে, তখন কাজ করাটা বৈধ হবে এবং কোন প্রকার নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই তা শরী‘আত সম্মত হবে।
আর এসব নিয়মনীতির সারকথা হল:
          ১. তার হৃদয় আল্লাহ তা‘আলার পর্যবেক্ষণে থাকা; সুতরাং সে অনুধাবন করবে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তার ব্যাপারে অবগত আছেন এবং তিনি তার সকল বিষয়ে হিসাব রাখেন; আল-কুরআনের ভাষায়:
﴿ فَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٍ خَيۡرٗا يَرَهُۥ ٧ وَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٖ شَرّٗا يَرَهُۥ ٨[سُورَةُ الزَّلۡزَلَةِ: 7 – 8 ]
“সুতরাং কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে সে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে সে তাও দেখতে পাবে” – ( সূরা আল-যিলযাল: ৭ – ৮ )।
          ২. তার উপর ফরযকৃত পর্দাকে তার আবশ্যকীয় দায়িত্বরূপে গ্রহণ করা, যাতে চেহারা ঢেকে রাখার ব্যবস্থা থাকবে; আর এটা আবশ্যক হওয়ার ব্যাপারে দলিল পেশ করাটা আমাদের বিষয় নয়; কারণ, এই প্রসঙ্গে কতগুলো বিশেষ লেখা রয়েছে; কিন্তু এখানে আমরা এই ব্যাপারে তাগিদ দিচ্ছি যে, এটি হচ্ছে কাজের উদ্দেশ্যে নারীর বাইরে বের হওয়ার নিয়মনীতিসমূহের মধ্য থেকে একটি নিয়ম; আল-কুরআনের ভাষায়:
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ قُل لِّأَزۡوَٰجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ يُدۡنِينَ عَلَيۡهِنَّ مِن جَلَٰبِيبِهِنَّۚ ذَٰلِكَ أَدۡنَىٰٓ أَن يُعۡرَفۡنَ فَلَا يُؤۡذَيۡنَۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورٗا رَّحِيمٗا ٥٩ [ سورة الأحزاب: 59 ]
“হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের নারীগণকে বল, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” – ( সূরা আল-আহযাব: ৫৯ )।
          ৩. পুরুষদের সাথে মেলা-মেশা থেকে দূরে থাকা, এমনকি সে যদি নিকটতম এমন কেউ হয়, যে তার মাহরাম নয়; আর এই প্রসঙ্গে কুরআন ও হাদিসের অনেক ভাষ্য বিদ্যমান রয়েছে।
          ৪. বাইরের কাজ যাতে তার মূল দায়িত্ব ও কর্তব্যের উপর প্রভাব সৃষ্টি না করে; বস্তুত: তার মূল দায়িত্ব হল তার ঘর, তার স্বামীর বিষয়-আশয় ও তার শিশু সন্তানগণ; সুতরাং যখন (তার বাইরের কাজ) এসব মৌলিক কাজের উপর প্রভাব বিস্তার করবে, তখন তা বৈধতা থেকে বের হয়ে হারাম পর্যায়ে চলে যাবে; কারণ, শরী‘আতের দৃষ্টিতে ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় বিষয়টি নফল বা অতিরিক্ত বিষয়ের উপরে অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য।
          ৫. কাজটি এমন হওয়া, যা নারীর জন্য উপযুক্ত এবং আল্লাহ তাকে যে স্বভাব-প্রকৃতির উপর সৃষ্টি করেছেন, তার সাথে যথাযথ ও লাগসই; সুতরাং সে ভারী কোন কাজের দায়িত্ব বহন করবে না, শিল্পকারখানায় কাজ করবে না এবং পুলিশ বা প্রহরী হিসেবে কাজ করবে না; অথবা মহাসড়ক বা রাস্তা পরিষ্কারের কোন কাজে অংশগ্রহণ করবে না, অথবা পুরুষদের জন্য পণ্য বিক্রেতা হিসেবে কাজ করবে না, অথবা এমন কোন কাজ করবে না, যা বিশৃঙ্খলার উপলক্ষ্য বা কারণ বলে বিবেচিত হয়, ইত্যাদি ইত্যাদি।
আর সামাজিক সংস্কারমূলক কাজের ক্ষেত্রে নারী যেসব পরিমণ্ডল বা ক্ষেত্রকে গ্রহণ করেছে, যে দিকে আমরা পূর্বে ইঙ্গিত করেছি, তন্মধ্য থেকে কিছু দিক হল: শিক্ষাদান; নারীদের মাঝে আল্লাহর দিকে আহ্বানমূলক দাওয়াতী কাজ; নারীদের চিকিৎসা ও সেবাদান; এমন প্রত্যেক কল্যাণমূলক কাজ, যা নারীদের সাথে নির্দিষ্ট এবং এগুলো ছাড়া আরও যেসব কাজ তার অবস্থা ও স্বভাব-প্রকৃতির সাথে যথোপযুক্ত ও মানানসই।
          ৬. তার অভিভাবকের অনুমতি মানে তার স্বামী অথবা পিতার অনুমতি; সুতরাং যখন কোন কোন নফল ইবাদতের ক্ষেত্রে তাদের নিকট অনুমতি চাওয়ার প্রয়োজন হয়, তখন এখানে (বাইরে কাজ করার ক্ষেত্রে) অনুমতি চাওয়ার বিষয়টি আরও বেশী ও সমীচীনভাবেই জরুরি।

 

কতিপয় সুপারিশ বা পরামর্শ

দ্রুত এই আলোচনার পর এমন কিছু সুপারিশ বা পরামর্শকে একত্রিতভাবে পেশ করছি, যেগুলো আল্লাহর ইচ্ছায় উপকারী হবে বলে আমি আশাবাদী:
          ১. বিজ্ঞজন ও দা‘ঈদের পক্ষ থেকে মুসলিম নারীর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে গুরুত্বারোপ করা; চাই তা গঠনমূলক হউক, অথবা প্রতিরোধমূলক হউক বা অন্য কোন ভাবে; কারণ, যুদ্ধ এখনো চলছে, আর ইসলামের শত্রুগণ নিরবচ্ছিন্ন ও ধারাবাহিকভাবে তাদের চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা কখনও বিরক্তবোধ করে না; সুতরাং আলেম ও দা‘ঈগণের আবশ্যকীয় কর্তব্য হল, তারা নিরবচ্ছিন্ন ও ধারাবাহিকভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং বিতর্ক করবে; আর তারা কর্তব্য কাজে অবহেলা করবে না, অথবা ভুলে যাবে না, অথবা মূর্খতার পরিচয় দেবে না; কারণ, বিষয়টি খুবই বিপজ্জনক; আল্লাহ আমাদেরকে সকল প্রকার অনিষ্টতা, খারাপি ও অন্যায়-অপরাধ থেকে রক্ষা করুন।
২. সরকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নারীর বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া; বিশেষ করে সরকারী কর্তৃপক্ষ তার শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং তার প্রত্যেকটি অবস্থা সম্পর্কে নিম্নলিখিতভাবে গুরুত্বারোপ করবে:
–          শত্রুদের ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনাসমূহের ব্যাপারে সতর্ক করা; আর এই বরকতময় দেশটিকে ঐ দিকে টেনে না নেয়া, যেদিকে তাড়িত করেছে ইসলামী বিশ্বের কোন কোন দেশকে।
–          নারীশিক্ষার সিলেবাস বা পাঠ্যক্রম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা, অতঃপর তার সাথে যেসব বিষয় নির্দিষ্ট, সেগুলোকে গুরুত্ব প্রদান করা, যাতে নারী শুধু তার রাজ্য তথা ঘরের বাইরে নয় বরং তার রাজ্যের অভ্যন্তরের মৌলিক কাজ সম্পাদনের জন্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে।
–          নারীদের অবসর গ্রহণের বয়সের প্রতি ঐকান্তিকতার সাথে লক্ষ্য রাখা, যাতে তার বিভিন্ন প্রকার দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে সমন্বয় সাধনের উদ্যোগ নেয়া যায়।
–          নারী তার কর্মস্থল নির্ধারণ করবে, যেখানে সে থাকবে, আর তাকে দূরবর্তী কোন জায়গায় সরিয়ে দেয়ার চিন্তা না করা, যেখান গেলে তার বিপদ-মুসিবত বৃদ্ধি পেতে পারে।
–          রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সার্বজনীন গণপরিবহণের ব্যবস্থা করা, যাতে নারী চালক ও অনুরূপ ব্যক্তিদের শরণাপন্ন না হয়, যেমন ভাড়ায় চালিত ছোট গাড়ীসমূহ, কেননা এগুলোর মধ্যে সুস্পষ্ট নগ্নতা ও বেহায়াপনা রয়েছে।
–          নারীকে এমন স্থানে নিয়োগ না দেয়া, যেখানে বিভিন্ন সময় ও পরিবেশ-পরিস্থিতিতে পুরুষগণ এসে তাদের সাথে মিশে যায়।
–          তাদের জন্য দৈনন্দিন কাজের সময় হ্রাস করা, যাতে সে অধিকাংশ সময় তার বাড়ি ও ঘরে কাটাতে পারে; ফলে সে ভালভাবে তা সম্পন্ন করতে পারবে; যেমন: তাকে দৈনিক তিন ঘন্টা, অথবা সপ্তাহে তিন দিন কাজ করার দায়িত্ব অর্পণ করা।
–          মেয়েদের জন্য স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিয়ে পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা চালু করার জোর দাবি করা।
৩. ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক নারীর মধ্যে দাওয়াতী কার্যক্রম ব্যাপকভাবে পরিচালনার জন্য একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা, যার কার্যাবলী ও উদ্দেশ্য-লক্ষ্যের আওতার অন্তর্ভুক্ত হবে নারীদের জন্য বিশেষ দাওয়াতী কর্মসূচীর ব্যবস্থা করা; সুতরাং এ কথা সুস্পষ্ট যে, এ ধরনের ভূমিকা বা কর্মসূচী বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্পষ্ট দুর্বলতা রয়েছে; কেননা তারা হল সমাজের অর্ধেক বা তার চেয়ে বেশি এবং পুরুষদের মা-জননী ও লালন-পালনকারিনী; সুতরাং সময় হয়েছে তাদের জন্য প্রত্যেক দাওয়াতী মাধ্যম বা মিডিয়ায় বিশেষ দাওয়াতী কর্মসূচী গ্রহণ করার; নারী সেশন বা কোর্স— বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে কর্মসূচী গ্রহণ— সমাবেশমূলক সেশন …  বিভিন্ন প্রকার প্রদর্শনী এবং এগুলো ছাড়া অন্যান্য কর্মসূচী, যা কারও নিকট অস্পষ্ট নয়।
          ৪. নারী জাগরণমূলক বেশি বেশি ম্যাগাজিন ও তার উপযোগী পুস্তকাদি বের করার জন্য শিক্ষা পরিক্রমায় কাজ করা; যেমন তথ্য ও প্রচার কোম্পানীগুলো বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে তা প্রকাশ করবে; আর এই ব্যাপারে বিশেষ সুযোগ হল ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য মিডিয়া।
          ৫. দাওয়াতী ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচী থেকে প্রত্যেক নারী ঐ কাজটি করবে, যা তার জন্য ও তার পরিবারের জন্য যথাযথ হয়; সে জীবনকে উদাসীনভাবে পরিচালিত করবে না।
* * *

 

উপসংহার
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যার নিয়ামতেই যাবতীয় সৎকর্মসমূহ পূর্ণতা লাভ করে থাকে এবং যার একান্ত কৃপা ও অনুগ্রহে সাওয়াবের মধ্যে বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে। আমি তাঁর গুণগানসহ প্রশংসা করি এবং আমি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি; আর তিনি হলেন অনুগ্রহের অধিকারী ও দানবীর। আর সালাত (দুরূদ) ও সালাম তাঁর সৃষ্টির সর্বোত্তম ব্যক্তির উপর, যিনি সৃষ্টির সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী এবং শান্তি বর্ষিত হউক তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর, তাঁর সাহাবীদের উপর, পবিত্র মুমিনজননীদের উপর, তাবে‘য়ীনদের উপর এবং আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তাদের পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত যারা ভালভাবে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের উপর;
অতঃপর:
মুসলিম নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্ণনার ব্যাপারে আমরা খুব দ্রুত একটি আলোচনা শেষ করে আনলাম। আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা। আমি আলোচনাটিকে এজন্যই বিভাজন  ও খণ্ডিতকরণের দিকে মনোনিবেশ করেছি, যাতে তা সুস্পষ্ট ও পরিপূর্ণ হয়ে উঠে; আর শুরুর দিকে আমি নারী সম্পর্কে আলোচনার গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য পেশ করেছি এবং এও বলেছি যে, নারীকে নিয়ে কথা বলা বিজ্ঞজন ও ছাত্র-ছাত্রীদের উপর অত্যাবশ্যক; অতঃপর আমি নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্যকে চারটি ক্ষেত্র বা পরিমণ্ডলে কাঠামোবদ্ধ করেছি, যা এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কিছুকে একত্রিত করবে:
প্রথম ক্ষেত্র: তার নিজের ব্যাপারে দায়িত্ব ও কর্তব্য; এসব দায়িত্বের বর্ণনা করা হয়েছে নিম্নোক্ত শিরোনামের মাধ্যমে:
(ক) তার প্রতিপালকের প্রতি তার ঈমান তথা বিশ্বাস এবং অনুরূপভাবে ঈমানের বাকি রুকনসমূহ।
(খ) তার জ্ঞানগত দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত কথা।
(গ) তার সৎকর্ম সম্পাদনের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
(ঘ) নিজেকে পাপাচার ও অবাধ্যতা থেকে রক্ষাকরণ প্রসঙ্গে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
দ্বিতীয় ক্ষেত্র: তার ঘরের ব্যাপারে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য; আর এর অধীনে যা এসেছে:
(ক) এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের ক্ষেত্রে শরয়ী সূচনা।
(খ) এসব দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিস্তারিত বিবরণ হল:
–          আদর্শ স্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
–          আদর্শ মা হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
–          আদর্শ কন্যা হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
–          আদর্শ বোন হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
তৃতীয় ক্ষেত্র: সমাজ ও জাতি কেন্দ্রীক তার দায়িত্ব ও কর্তব্য; আর এর অধীনে যা এসেছে:
–          এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের শর‘য়ী সূচনা।
–          এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের যৌক্তিকতা।
–          এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রয়োজনীয় বিষয়াদি; আর এর অধীনে যা এসেছে:
১. আত্মীয়-স্বজনের পক্ষে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
২. প্রতিবেশীদের পক্ষে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
৩. নারী সমাজের পক্ষে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
৪. ক্লাবসমূহের পক্ষে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
৫. তার চাকুরি জাতীয় কর্মের ব্যাপারে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
৬. ছাত্রী হওয়ার দিক থেকে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
চতুর্থ ক্ষেত্র: শত্রুদের ষড়যন্ত্রের বিপরীতে মুসলিম নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য; তন্মধ্য থেকে:
১. মুসলিম নারীর বিরুদ্ধে শত্রুদের পরিকল্পনাসমূহের সারসংক্ষেপ।
২. এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুসলিম নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য।
আর আমি আলোচনাটি শেষ করেছি এসব দায়িত্ব ও কর্তব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদের মাধ্যমে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: নারী কর্তৃক নিজেকে ঐ দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: একজন সফল মহিলা দা‘ঈ’র গুণাবলী।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: নারীর দাওয়াতের নীতিমালা।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: দাওয়াতের ক্ষেত্রে সফল পদ্ধতি সমূহ।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: নারীর দাওয়াতী ক্ষেত্রসমূহ থেকে।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: দাওয়াত ও প্রশিক্ষণের বিষয়সমূহ।
সপ্তম অনুচ্ছেদ: দায়িত্ব পালনের সহযোগী উপায়-উপকরণ।
অষ্টম অনুচ্ছেদ: মুসলিম নারীর কাজ করার নিয়মনীতি।
কতিপয় সুপারিশ বা পরামর্শ
উপসংহার: আর তাতে পুরো আলোচনাটির পয়েণ্টগুলোর সারসংক্ষেপ পেশ করা হয়েছে।
অতঃপর আমি আমার কথায় ফিরে যাচ্ছি: নিশ্চয়ই নারীর প্রতি নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও মহৎ; আর অনুরূপভাবে তার প্রতি তার অভিভাবকদের দায়িত্ব ও কর্তব্যও অনেক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ; সুতরাং এই দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে আল্লাহকে ভয় কর! আল্লাহকে ভয় কর! কারণ, এই প্রসঙ্গে নির্দেশ হল খুবই ভয়াবহ ও মহান; আল-কুরআনের ভাষায়:
﴿ إِنۡ أُرِيدُ إِلَّا ٱلۡإِصۡلَٰحَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُۚ وَمَا تَوۡفِيقِيٓ إِلَّا بِٱللَّهِۚ عَلَيۡهِ تَوَكَّلۡتُ وَإِلَيۡهِ أُنِيبُ ٨٨[سُورَةُ هُود: 88 ]
“আমি তো আমার সাধ্যমত সংস্কারই করতে চাই। আমার কর্মসাধন তো আল্লাহরই সাহায্যে; আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী।” – ( সূরা হুদ: ৮৮ );
আর আমি আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে, আমাদের নারীদেরকে, আমাদের পরিবারসমূহকে, আমাদের সমাজকে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের সমাজসমূহকে সংশোধন ও সংস্কার করে দেন; আর তাদেরকে যাবতীয় অনিষ্টতা ও বিশৃঙ্খলা থেকে যেন তিনি রক্ষা করেন; আর তিনি যেন তাদের ব্যাপারে ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রকে, সীমালংঘনকারীদের বাড়াবাড়িকে, মুনাফিকদের নিফাকীকে ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের উপায়-উপকরণসমূহকে প্রত্যাখ্যান ও প্রতিরোধ করেন; আর তিনি যেন তাদের ধ্বংসকে তাদের শিক্ষায় পরিণত করেন; তিনি শ্রবণকারী, আহ্বানে সাড়াদানকারী।
এটা হল চেষ্টা ও সাধনা, যার জন্য আমি আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি যেন এটাকে এই জীবনে ও মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য সঞ্চয় হিসেবে গ্রহণ করেন; আর তার মধ্যে যা কিছু সঠিক রয়েছে, তা তাঁরই পক্ষ থেকে; আর তার মধ্যে এর ব্যতীক্রম যা রয়েছে, তবে তো আমার পক্ষ থেকে। তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি সকল প্রকার ভুল-ক্রটি থেকে। আর পাঠক-পাঠিকা ভাই ও বোনদের মধ্য থেকে যিনি এমন কিছু পান, যা উপদেশ, দৃষ্টি আকর্ষণী অথবা প্রস্তাবনা আকারে আমার নিকট আসা প্রয়োজন, (তা যদি আমাকে জানানো হয়) তাতে আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব, আহ্বান করব আল-কুরআনের ভাষায়:
﴿ وَتَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡبِرِّ وَٱلتَّقۡوَىٰۖ وَلَا تَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡإِثۡمِ وَٱلۡعُدۡوَٰنِۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ ٢[سُورَةُ المَائ‍ِدَةِ: 2 ]
“সৎকর্ম ও তাকওয়ার ব্যাপারে তোমরা পরস্পর সাহায্য করবে এবং পাপ ও সীমালংঘনের ক্ষেত্রে একে অন্যের সাহায্য করবে না। আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করবে, নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর।” – (সূরা আল-মায়িদা: ২)।
و صلى الله و سلم على نبينا محمد و على آله و صحبه أجمعين .
লেখক: ফালেহ ইবন মুহাম্মদ ইবন ফালেহ আস-সগীর
রিয়াদ: ১৭/ ৪/ ১৪২২ হি:
* * *
বিষয়গুলোর সূচিপত্র
বিষয়                                          পৃষ্ঠা
ভূমিকা
নারী এবং তার দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা কেন
মুসলিম নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্যের পরিমণ্ডল
প্রথম ক্ষেত্র: তার নিজের ব্যাপারে দায়িত্ব ও কর্তব্য
প্রথমত: তার প্রতিপালকের প্রতি তার ঈমান তথা বিশ্বাস প্রসঙ্গ
দ্বিতীয়ত: তার নিজের ব্যাপারে দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ
–          মুসলিম নারীর সাংস্কৃতিক ভিত্তির খুঁটিসমূহ
–          মুসলিম নারীর সাংস্কৃতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য
তৃতীয়ত: তার নিজের ব্যাপারে দায়িত্ব ও কর্তব্যের অন্যতম দিক হল সৎকর্ম প্রতিষ্ঠা করা
চতুর্থত: তার নিজেকে অন্যায় ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা করা
দ্বিতীয় ক্ষেত্র: তার ঘরের ব্যাপারে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য
১. তার দায়িত্ব ও কর্তব্যের ক্ষেত্রে শরয়ী সূচনা হল তার ঘরের মধ্যে
২. ঐসব দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিস্তারিত বিবরণ
–          আদর্শ স্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য
–          আদর্শ মা হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য
–          আদর্শ কন্যা হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য
–          আদর্শ বোন হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য
তৃতীয় ক্ষেত্র: সমাজ ও জাতি কেন্দ্রিক তার দায়িত্ব ও কর্তব্য
চতুর্থ ক্ষেত্র: শত্রুদের ষড়যন্ত্রের বিপরীতে মুসলিম নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য
নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদ
প্রথম অনুচ্ছেদ: নারী কর্তৃক নিজেকে ঐ দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করা
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: একজন সফল মহিলা দা‘ঈ’র গুণাবলী
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: নারীর দাওয়াতের নীতিমালা
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: দাওয়াতের ক্ষেত্রে সফল পদ্ধতিসমূহ
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: নারীর দাওয়াতী ক্ষেত্রসমূহ থেকে
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: দাওয়াত ও প্রশিক্ষণের বিষয়সমূহ
সপ্তম অনুচ্ছেদ: দায়িত্ব পালনের সহযোগী উপায়-উপকরণ
অষ্টম অনুচ্ছেদ: মুসলিম নারীর কর্মপন্থা
কতিপয় সুপারিশ বা পরামর্শ
উপসংহার
বিষয়গুলোর সূচিপত্র
* * *


 

[1] দ্রষ্টব্য: সাকাফাতুল মুসলিমা (ثقافة المسلمة), পৃ. ১৭
[2] এই উক্তিটি বর্তমানে খুব বেশি ধ্বনিত হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে যে ব্যক্তি বিশেষজ্ঞ না হওয়া সত্ত্বেও শরী‘আত সম্পর্কে কথা বলতে ইচ্ছা পোষণ করে সে এই গণ্ডিতে অনুপ্রবেশের সুযোগ পায় এবং যেকোনো কিছু  দলিল থাকুক বা না থাকুক নিজের মর্জিমতো হারাম করতে কিংবা হালাল করতে পারে। সেক্ষেত্রে তারা কোন প্রকার নিয়মনীতি বা বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করেই যুক্তি দেখায়: ‘এটা আমার মত, আর ওটা তোমার মত’; ‘এটা আমার বুঝ, আর এটা তোমার বুঝ’।
[3] দ্রষ্টব্য: সাকাফাতুল মুসলিমা (ثقافة المسلمة), পৃ. ১৭ – ১৮
[4] তাফসীরু ইবনে কাছীর, ৬/ ৪৮৮ – ৪৮৯
[5] তিরমিযী, অধ্যায়: কিয়ামতের বিবরণ প্রসঙ্গে (صفة القيامة والرقائق والورع), পরিচ্ছেদ: কিয়ামত প্রসঙ্গে (باب في القيامة), বাব নং- ২, হাদিস নং- ২৪১৭
[6] আহমদ, মুসানাদ, অধ্যায়: মুসনাদুল ‘আশরাতিল মুবাশশিরীনা বিল জান্নাহ (مسند العشرة المبشرين بالجنة), পরিচ্ছেদ: আবদুর রহমান ইবন ‘আউফ রা. বর্ণিত হাদিস (حديث عبد الرحمن بن عوف الزهري رضي الله عنه), হাদিস নং- ১৬৬১।
[7] বুখারী, কিতাবুল জুম‘আ (كتاب الجمعة), পরিচ্ছেদ: গ্রাম ও শহরে জুম‘আ প্রসঙ্গে (باب الجمعة في القرى و المدن), বাব নং- ১০, হাদিস নং- ৮৫৩
[8] দেখুন, পূর্ববর্তী পৃ. …..।
[9] আবূ দাউদ, ইলম অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ইলম অনুসন্ধানে উৎসাহদান প্রসঙ্গে (باب الحث على طلب العلم ), বাব নং- ১, হাদিস নং- ৩৬৪৩; তিরমিযী, ইলম অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ইবাদতের উপর জ্ঞানের মর্যাদা প্রসঙ্গে (باب فضل الفقه على العبادة), বাব নং- ২০, হাদিস নং- ২৬৮২; ইবনু মাজাহ, কিতাবের ভূমিকা (افتتاح الكتاب في الإيمان و فضائل الصحابة و العلم), পরিচ্ছেদ: ইলম অনুসন্ধানে উৎসাহদান প্রসঙ্গে (باب فضل العلماء و الحث على طلب العلم ), বাব নং- ১৭, হাদিস নং- ২২৩
[10] দ্রষ্টব্য: লেখক কর্তৃক সম্পাদিত ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে করা নারীদের প্রশ্নসমূহ’ (أسئلة النساء لرسول الله صلى الله عليه و سلم); তাতে অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে; আর অচিরেই আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছায় তা প্রকাশিত হবে।
[11] আহমদ, মুসানাদ, অধ্যায়: মুসনাদুল ‘আশরাতিল মুবাশশিরীনা বিল জান্নাহ (مسند العشرة المبشرين بالجنة), পরিচ্ছেদ: আবদুর রহমান ইবন ‘আউফ রা. বর্ণিত হাদিস (حديث عبد الرحمن بن عوف الزهري رضي الله عنه), হাদিস নং- ১৬৬১
[12] শাইখ ডক্টর আবূ যায়েদ তার ‘হারাসাতুল ফদিলত’ (حراسة الفضيلة ) নামক অভিনব পুস্তকে আয়াতসমূহকে দলিল হিসেবে পেশ করার কারণসমূহ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
[13] তাফসীরু ইবনে কাছির, সূরা আন-নাহলের তাফসীর, আয়াত: ৮০
[14] বুখারী, কিতাবুল জুম‘আ (كتاب الجمعة ), পরিচ্ছেদ: গ্রাম ও শহরে জুম‘আ প্রসঙ্গে (باب الجمعة في القرى و المدن), বাব নং- ১০, হাদিস নং- ৮৫৩; মুসলিম, ইমারত (الإمارة) অধ্যায়, বাব নং- ৫, হাদিস নং- ৪৮২৮
[15] তিরমিযী, অধ্যায়: দুগ্ধপান ( كتاب الرضاع), পরিচ্ছেদ: স্বামীর উপর তার স্ত্রীর অধিকারের ব্যাপারে যা এসেছে (باب ما جاء في حق المرأة على زوجها), বাব নং- ১১, হাদিস নং- ১১৬৩; ইবনু মাজাহ, অধ্যায়: বিবাহ ( كتاب النكاح),পরিচ্ছেদ: স্বামীর উপর স্ত্রীর অধিকার ( باب حق المرأة على زوجها), বাব নং- ৩, হাদিস নং- ১৪৫১; ইমাম তিরমিযী র. বলেন: এই হাদিসটি হাসান, সহীহ।
[16] আহমদ, মুসানাদ, অধ্যায়: মুসনাদুল মুকছিরীন মিনাস্ সাহাবা (مسند المكثرين من الصحابة), পরিচ্ছেদ: মুসনাদে আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু (مسند أنس ابن مالك رضي الله عنه), হাদিস নং- ১২৬৩৫
[17] তিরমিযী, অধ্যায়: দুগ্ধপান (كتاب الرضاع), পরিচ্ছেদ: স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকারের ব্যাপারে যা এসেছে (باب ما جاء في حق الزوج على المرأة), বাব নং- ১০, হাদিস নং- ১১৬১; ইবনু মাজাহ, অধ্যায়: বিবাহ (كتاب النكاح),পরিচ্ছেদ: স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার (باب حق الزوج على المرأة), বাব নং- ৪, হাদিস নং- ১৪৫৪; ইমাম তিরমিযী র. বলেন: এই হাদিসটি হাসান, গরীব।
[18] আহমদ, মুসানাদ, অধ্যায়: মুসনাদুল ‘আশরাতিল মুবাশশিরীনা বিল জান্নাহ (مسند العشرة المبشرين بالجنة), পরিচ্ছেদ: আবদুর রহমান ইবন ‘আউফ রা. বর্ণিত হাদিস (حديث عبد الرحمن بن عوف الزهري رضي الله عنه), হাদিস নং- ১৬৬১
[19] নাসায়ী, বিবাহ অধ্যায় (كتاب النكاح), পরিচ্ছেদ: কোন নারী সবচেয়ে উত্তম? (أي النساء خير), বাব নং- ১৫, হাদিস নং- ৫৩৪৩
[20] তিরমিযী, অধ্যায়: দুগ্ধপান (كتاب الرضاع), পরিচ্ছেদ: … (باب …), বাব নং- ১৯, হাদিস নং- ১১৭৪; ইবনু মাজাহ, অধ্যায়: বিবাহ (كتاب النكاح),পরিচ্ছেদ: যে স্ত্রী তার স্বামীকে কষ্ট দেয়, তার প্রসঙ্গে (باب في المرأة تؤذي زوجه), বাব নং- ৬২, হাদিস নং- ২০১৪; ইমাম তিরমিযী র. বলেন: এই হাদিসটি হাসান, গরীব; আলবানী হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।
[21] বুখারী, অধ্যায়: বিবাহ (كتاب النكاح), পরিচ্ছেদ: স্ত্রী কর্তৃক তার ঘরে স্বামীর অনুমতি ব্যতীত কাউকে প্রবেশের অনুমতি না দেয়া প্রসঙ্গে (باب لا تأذن المرأة في بيتها لأحد إلا بإذنه.), বাব নং- ৮৬, হাদিস নং- ৪৮৯৯; মুসলিম, অধ্যায়: যাকাত (الزكاة), পরিচ্ছেদ: গোলাম তার মনিবের মাল থেকে যা দান করবে, সে প্রসঙ্গে (باب مَا أَنْفَقَ الْعَبْدُ مِنْ مَالِ مَوْلاَهُ), বাব নং- ২৭, হাদিস নং- ২৪১৭
[22] তিরমিযী, অধ্যায়: দুগ্ধপান (كتاب الرضاع), পরিচ্ছেদ: স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকারের ব্যাপারে যা এসেছে (باب ما جاء في حق الزوج على المرأة), বাব নং- ১০, হাদিস নং- ১১৬১; ইবনু মাজাহ, অধ্যায়: বিবাহ (كتاب النكاح),পরিচ্ছেদ: স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার (باب حق الزوج على المرأة), বাব নং- ৪, হাদিস নং- ১৪৫৪; ইমাম তিরমিযী র. বলেন: এই হাদিসটি হাসান, গরীব।
[23] বুখারী, অধ্যায়: বিবাহ (كتاب النكاح), পরিচ্ছেদ: যদি কোন মহিলা তার স্বামীর বিছানা বাদ দিয়ে আলাদা বিছানায় রাত কাটায় (باب إذا باتت المرأة مهاجرة فراش زوجها), বাব নং- ৮৫, হাদিস নং- ৪৮৯৭; মুসলিম, অধ্যায়: বিবাহ (النكاح), পরিচ্ছেদ: স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর বিছানায় যেতে বারণ করা হারাম (باب تَحْرِيمِ امْتِنَاعِهَا مِنْ فِرَاشِ زَوْجِهَا ), বাব নং- ২০, হাদিস নং- ৩৬১১
[24] মুসলিম, অধ্যায়: দুই ঈদের সালাত (صلاة العيدين), পরিচ্ছেদ: … (باب … ), বাব নং- ১, হাদিস নং- ২০৮৫
[25] বুখারী, অধ্যায়: ঈমান (كتاب الإيمان), পরিচ্ছেদ: স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা এবং এক কুফর অন্য কুফর থেকে ছোট (باب كفران العشير وكفر دون كفر), বাব নং- ১৯, হাদিস নং- ২৯; মুসলিম, অধ্যায়: কুসূফ (الكسوف), পরিচ্ছেদ: সালাতুল কুসূফের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জান্নাত ও জাহান্নামের বিষয় থেকে যা কিছু পেশ করা হয় (باب مَا عُرِضَ عَلَى النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم فِى صَلاَةِ الْكُسُوفِ مِنْ أَمْرِ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ), বাব নং- ৩, হাদিস নং- ২১৪৭
[26] বুখারী, অধ্যায়: বিবাহ (كتاب النكاح), পরিচ্ছেদ: আত্মমর্যাদাবোধ (باب الغيرة), বাব নং- ১০৬, হাদিস নং- ৪৯২৬; মুসলিম, অধ্যায়: সালাম (السلام), পরিচ্ছেদ: অপরিচিত নারী পথ-শ্রান্ত হলে তাকে আরোহণে সঙ্গী করার বৈধতা (باب جَوَازِ إِرْدَافِ الْمَرْأَةِ الأَجْنَبِيَّةِ إِذَا أَعْيَتْ فِى الطَّرِيقِِ), বাব নং- ১৪, হাদিস নং- ৫৮২১
[27] বুখারী, অধ্যায়: দো‘আ (كتاب الدعوات), পরিচ্ছেদ: ঘুমানোর সময়ের তাসবীহ ও তাকবীর (باب التكبير والتسبيح عند المنام), বাব নং- ১১, হাদিস নং- ৫৯৫৯; মুসলিম, অধ্যায়: যিকির, দো‘আ ও তাওবা (الذكر والدعاء والتوبة), পরিচ্ছেদ: দিনের প্রথম ভাগে ও ঘুমানোর সময়ের তাসবীহ (باب التَّسْبِيحِ أَوَّلَ النَّهَارِ وَعِنْدَ النَّوْمِ), বাব নং- ১৯, হাদিস নং- ৭০৯০
[28] বুখারী, অধ্যায়: আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب), পরিচ্ছেদ: মানুষের মধ্যে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার কে বেশি হকদার? (باب من أحق الناس بحسن الصحبة), বাব নং- ২, হাদিস নং- ৫৬২৬; মুসলিম, অধ্যায়: সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও আচার-ব্যবহার (البروالصلة والآدب), পরিচ্ছেদ: পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার এবং তারা উভয়ে এর সবচেয়ে বেশি হকদার (باب بِرِّ الْوَالِدَيْنِ وَأَنَّهُمَا أَحَقُّ بِهِ), বাব নং- ১, হাদিস নং- ৬৬৬৪
[29] বুখারী, কিতাবুল জুম‘আ (كتاب الجمعة ), পরিচ্ছেদ: গ্রাম ও শহরে জুম‘আ প্রসঙ্গে (باب الجمعة في القرى و المدن), বাব নং- ১০, হাদিস নং- ৮৫৩; মুসলিম, ইমারত (الإمارة) অধ্যায়, বাব নং- ৫, হাদিস নং- ৪৮২৮
[30] তুহফাতুল মাওদুদ (تحفة المودود), পৃ. ৩৮৭
[31] তিরমিযী, অধ্যায়: বিবাহ (كتاب النكاح), পরিচ্ছেদ: যখন তোমাদের নিকট এমন ব্যক্তি আসে যার দীনদারীতে তোমরা সন্তুষ্ট, তবে তোমরা তার বিয়ের ব্যবস্থা কর (باب ما جاء إذا جاءكم من تضرون دينه فزوجوه), বাব নং- ৩, হাদিস নং- ১০৮৪; ইবনু মাজাহ, অধ্যায়: বিবাহ (كتاب النكاح),পরিচ্ছেদ: সমতা (باب الأكفاء), বাব নং- ৪৬, হাদিস নং- ১৯৬৭
[32] তিরমিযী, অধ্যায়: কুরবানী (كتاب الأضاحي عن رسول الله صلى الله عليه و سلم), পরিচ্ছেদ: আকিকা (باب من العقيقة), বাব নং- ২৩, হাদিস নং- ১৫২২; আবূ দাউদ, অধ্যায়: কুরবানী (الضحايا), পরিচ্ছেদ: আকিকা প্রসঙ্গে (باب فِى الْعَقِيقَةِ), বাব নং- ২১, হাদিস নং- ২৮৩৯; নাসায়ী, অধ্যায়: আকিকা (كتاب العقيقة), পরিচ্ছেদ: কখন আকিকা করা হবে? (متى يعق), বাব নং- ৬, হাদিস নং- ৪৫৪৬; ইবনু মাজাহ, অধ্যায়: জবেহ (كتاب الذبائح), পরিচ্ছেদ: আকিকা (باب العقيقة), বাব নং- ১, হাদিস নং- ৩১৬৫
[33] বুখারী, অধ্যায়: নবীগণ (كتاب الأنبياء), বাব নং- ১২, হাদিস নং- ৩১৯১, আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
«كان النبي صلى الله عليه و سلم يعوذ الحسن والحسين ويقول: إن أباكما كان يعوذ بها إسماعيل وإسحاق أعوذ بكلمات الله التامة من كل شيطان وهامة ومن كل عين لامة»
(নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হোসাইনের জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করতেন, তিনি বলতেন: নিশ্চয়ই তোমাদের পিতা ইসমাঈল ও ইসহাক আ. তা দ্বারা প্রার্থনা করতেন: আমি আশ্রয় চাই আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহ দ্বারা প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক কুদৃষ্টিসম্পন্ন চোখ থেকে।
[34] আহমদ, মুসানাদ, অধ্যায়: মুসনাদুল মুকছিরীন মিনাস্ সাহাবা (مسند المكثرين من الصحابة), পরিচ্ছেদ: মুসনাদে আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা (مسند عبد الله بن عمرو رضى الله تعالى عنهما), হাদিস নং- ৬৭৫৬;  আবূ দাউদ, অধ্যায়: সালাত (الصلاة), পরিচ্ছেদ: কখন সন্তানকে সালাতের নির্দেশ দেয়া হবে (باب مَتَى يُؤْمَرُ الْغُلاَمُ بِالصَّلاَةِ), বাব নং- ২৬, হাদিস নং- ৪৯৫
[35] মুসলিম, অধ্যায়: সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও আচার-ব্যবহার (البر والصلة والآدب), পরিচ্ছেদ: কন্যাদের প্রতি সদ্ব্যবহারের ফযিলত(ِ باب فَضْلِ الإِحْسَانِ إِلَى الْبَنَاتِ), বাব নং- ৪৬, হাদিস নং- ৬৮৬৪
[36] আবদুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
«المرأة عورة فإذا خرجت استشرفها الشيطان»
(নারী হল গোপন বস্তু, সে যখন বের হয়, তখন শয়তান তার দিকে উঁকি দেয়) – ইমাম তিরমিযী, অধ্যায়: দুগ্ধপান (كتاب الرضاع), পরিচ্ছেদ: শয়তান কর্তৃক নারীর দিকে উঁকি দেয়া যখন সে বের হয় ( باب استشراف الشيطان المرأة إذا خرجت), বাব নং- ১৮, হাদিস নং- ১১৭৩; ইমাম তিরমিযী বলেন: এই হাদিসটি হাসান, গরীব।
[37] পাঠক ও পাঠিকা আবার মনে করবেন না যে, শরীয়ত নিয়ন্ত্রিত বৈধ আমোদ-প্রমোদ ও সুস্থ বিনোদন নিষিদ্ধ। বরং এখানে সেসব উদ্দেশ্য, যেগুলো মুসলিম সমাজের অধিকাংশ স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে— যেগুলোর সর্বনিম্ন পর্যায় হলো পুরুষ ও নারীদের মেলামেশা। কিন্তু যখন বিনোদন শরীয়ত সম্মত পন্থায় নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে তা বৈধ; বরং জীবনের কোন কোন স্তরে তা কাম্যও বটে। – দ্রষ্টব্য: ডক্টর আবদুল্লাহ আস-সাদহান রচিত কিতাবুত তারফীহ (كتاب الترفيه)। গ্রন্থটিতে যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য রয়েছে, আল্লাহ তাকে তাওফীক দিন।
[38] মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ‘দীন হচ্ছে কল্যাণ কামনা করা’ –এর বর্ণনা (باب بيان أن الدِّينُ النَّصِيحَةُ ), হাদিস নং- ৫৫
[39] মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত … (باب بَيَانِ كَوْنِ النَّهْىِ عَنِ الْمُنْكَرِ مِنَ الإِيمَانِ وَأَنَّ الإِيمَانَ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ وَأَنَّ الأَمْرَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْىَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاجِبَانِ), বাব নং- ২২, হাদিস নং- ১৮৬
[40] এই হাদিসের বিস্তারিত পর্যালোচনা দেখুন আমার কিতাবে: ‘দিরাসাতু হাদিসে আবি সা‘ঈদ আল-খুদরী রিওয়াতান ওয়া দিরায়াহ্ (دراسة حديث أبي سعيد الخدري رواية و دراية )
[41] বুখারী, অধ্যায়: নবীগণ (كتاب الأنبياء), পরিচ্ছেদ: বনী ইসরাঈল সম্পর্কে যা আলোচনা করা হয়েছে, সে প্রসেঙ্গ(باب ما ذكر عن بني إسرائيل), বাব নং- ৫১, হাদিস নং- ৩২৭৪
[42] দাওয়াত ও সৎকাজের নির্দেশের ভাষ্যসমূহের ব্যাপারে জানার জন্য দেখুন: আবদুল গনী আল-মাকদেসী, কিতাবুল আমরি বিলমা‘রুফ ( كتاب الأمر بالمعروف); এই গ্রন্থটির ভূমিকা ও পর্যালোচনা আমার দ্বারা সম্পাদিত।
[43] বুখারী, অধ্যায়: অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة ), পরিচ্ছেদ: লটারীর মাধ্যমে বণ্টন ও অংশ নির্ধারণ করা যাবে কি? (باب هل يقرع في القسمة والاستهام فيه), বাব নং- ৬, হাদিস নং- ২৩৬১
[44] বুখারী, অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع), পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি জীবিকায় বৃদ্ধি কামনা করে (باب من أحب البسط في الرزق), বাব নং- ১৩, হাদিস নং- ১৯৬১; মুসলিম, অধ্যায়: সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও আচার-ব্যবহার (البر والصلة والآدب), পরিচ্ছেদ: আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা এবং তা বিচ্ছিন্ন করা হারাম হওয়া প্রসঙ্গে (ِ باب صلة الرحم وتحريم قطيعتها), বাব নং- ৬, হাদিস নং- ৬৬৮৭
[45] বুখারী, অধ্যায়: শিষ্টাচার (كتاب الأدب), পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয় (باب من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فلا يؤذ جاره), বাব নং- ৩১, হাদিস নং- ৫৬৭২; মুসলিম, অধ্যায়: ঈমান (الإيمان), পরিচ্ছেদ: প্রতিবেশী ও মেহমানকে সম্মান দানের ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান এবং কল্যাণকর কথা ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে চুপ থাকার আবশ্যকতা এবং এই সবগুলোই ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হওয়া (ِ باب الْحَثِّ عَلَى إِكْرَامِ الْجَارِ وَالضَّيْفِ وَلُزُومِ الصَّمْتِ إِلاَّ مِنَ الْخَيْرِ وَكَوْنِ ذَلِكَ كُلِّهِ مِنَ الإِيمَانِ), বাব নং- ২১, হাদিস নং- ১৮২
[46] বুখারী, অধ্যায়: শিষ্টাচার (كتاب الأدب), পরিচ্ছেদ: প্রতিবেশীর জন্য অসীয়ত (باب الوصاءة بالجار), বাব নং- ২৮, হাদিস নং- ৫৬৬৮; মুসলিম, অধ্যায়: সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও আচার-ব্যবহার (البروالصلة والآدب), পরিচ্ছেদ: প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসীয়ত ও তার প্রতি সদ্ব্যবহার (ِ باب الوصية بالجار والإحسان إليه ), বাব নং- ৪২, হাদিস নং- ৬৮৫২
[47] সামগ্রিকভাবে এই অধিকারের বিষয়টি আমার “দুরুসুন ফিল হুকুক” (دروس في الحقوق) নামক গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছি; সুতরাং তা অধ্যয়ন করা যেতে পারে।
[48] হাদিসে আছে, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বলেন:
«يَا نِسَاءَ الْمُسْلِمَاتِ لاَ تَحْقِرَنَّ جَارَةٌ لِجَارَتِهَا وَلَوْ فِرْسِنَ شَاةٍ »
(হে মুসলিম নারীগণ! কোন মহিলা প্রতিবেশিনী যেন তার অপর মহিলা প্রতিবেশিনী (প্রদত্ত হাদিয়াকে) তুচ্ছ মনে না করে, এমনকি তা স্বল্প গোশত বিশিষ্ট বকরীর হাঁড় অথবা বকরীর খুর হলেও );  -বুখারী, অধ্যায়: হেবা ও তার ফযিলত (كتاب الهبة وفضلها), পরিচ্ছেদ: হেবার ফযিলত ও তার প্রতি উৎসাহ প্রদান (باب فضلها والتحريض عليها), = = বাব নং- ১, হাদিস নং- ২৪২৭; মুসলিম, অধ্যায়: যাকাত (الزكاة), পরিচ্ছেদ: পরিমাণ অল্প হলেও তা থেকে সাদকা দেওয়ার উৎসাহ দান এবং অল্প পরিমাণ দান তুচ্ছ মনে করে বিরত না থাকা (باب الْحَثِّ عَلَى الصَّدَقَةِ وَلَوْ بِالْقَلِيلِ وَلاَ تُمْتَنَعُ مِنَ الْقَلِيلِ لاِحْتِقَارِهِ) বাব নং- ৩০, হাদিস নং- ২৪২৬; অপর এক হাদিসে আছে, আবূ যর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«يَا أَبَا ذَرٍّ إِذَا طَبَخْتَ مَرَقَةً فَأَكْثِرْ مَاءَهَا وَتَعَاهَدْ جِيرَانَكَ». ( أخرجه مسلم)
(হে আবূ যর! যখন তুমি ঝোলবিশিষ্ট তরকারি রান্না করবে, তবে তার পানি বাড়িয়ে দাও এবং তোমার প্রতিবেশীদেরকে শামিল করে নাও); – মুসলিম, অধ্যায়: সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও আচার-ব্যবহার (البروالصلة والآدب), পরিচ্ছেদ: প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসীয়ত ও তার প্রতি সদ্ব্যবহার (ِ باب الوصية بالجار والإحسان إليه ), বাব নং- ৪২, হাদিস নং- ৬৮৫৫
[49] সুতরাং হাদিসের মধ্যে এসেছে, সাহল ইবন সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«فوالله لأن يهدي الله رجلا بك خير لك من أن يكون لك حمر النعم »
(আল্লাহর কসম! আল্লাহ তা‘আলা যদি তোমার মাধ্যমে এক ব্যক্তিকে হেদায়াত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লালবর্ণের উটের মালিক হওয়া অপেক্ষা উত্তম); – বুখারী, অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধ জীবন (كتاب الجهاد والسير), পরিচ্ছেদ: যার হাতে কোন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছে, তার ফযীলত (باب فضل من أسلم على يديه رجل ), বাব নং- ১৪১, হাদিস নং- ২৮৪৭; মুসলিম, অধ্যায়: সাহাবীদের ফযীলত ( فضائل الصحابة ), পরিচ্ছেদ: আলী ইবন আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’র ফযীলত থেকে ( باب مِنْ فَضَائِلِ عَلِىِّ بْنِ أَبِى طَالِبٍ رضى الله عنه ), বাব নং- ৪, হাদিস নং- ৬৩৭৬
[50] এসব বাক্য ঐসব পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত, যে ব্যক্তি এই ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে চাইবে, সে যেন “আউদাতুল হিজাব” (عودة الحجاب), কিতাবটি দেখে নেয়। তাতে আরও রয়েছে, আরব সমাজসমূহের মধ্যে মুসলিম নারীর বিরুদ্ধে আক্রমনের সূচনা, বইটিকে সংক্ষেপ ও পরিমার্জন করেছেন ড. বকর আবূ যায়েদ “হিরাসাতুল ফদিলত” (حراسة الفضيلة), গ্রন্থে, আল্লাহ তাদের সকলকে তাওফীক দান করুন।
[51] নারীর জ্ঞানগত দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ের বর্ণনা প্রসঙ্গে পূর্বে আলোচনা হয়েছে।
[52] এই ব্যাপারে পূর্বে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
[53] মুসলিম, অধ্যায়: ঈমান (الإيمان), পরিচ্ছেদ: আল্লাহ, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও দীনের অনুশাসনের প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ এবং তার প্রতি মানুষকে আহ্বান করা, দীন সম্পর্কে প্রশ্ন করা ও তা সংরক্ষণ করা, আর যার কাছে দীন পৌঁছায়নি, তার কাছে দীনের দাওয়াত পেশ করা  ( باب الأَمْرِ بِالإِيمَانِ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَشَرَائِعِ الدِّينِ وَالدُّعَاءِ إِلَيْهِ, و السوال عنه, و حفظه و تبليغه من لم يبلغه.), বাব নং- ৮, হাদিস নং- ১২৬
[54] অচিরেই তৃতীয় অনুচ্ছেদে তার বর্ণনা আসছে।
[55] তিরমিযী, তিনি আবদুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন, অধ্যায়: দুগ্ধপান (كتاب الرضاع), পরিচ্ছেদ: শয়তান কর্তৃক নারীর দিকে উঁকি দেয়া যখন সে বের হয় ( باب استشراف الشيطان المرأة إذا خرجت), বাব নং- ১৮, হাদিস নং- ১১৭৩; ইমাম তিরমিযী বলেন: এই হাদিসটি হাসান, গরীব।
[56] বুখারী, অধ্যায়: হাজ্জ (كتاب الحج), পরিচ্ছেদ: নারীদের হাজ্জ (باب حج النساء), বাব নং- ৩৭, হাদিস নং- ১৭৬৩; মুসলিম, অধ্যায়: হাজ্জ (الحج), পরিচ্ছেদ: হাজ্জ ও অন্যান্য কাজে মুহাররম পুরুষের সাথে নারীর ভ্রমণ করা (باب سَفَرِ الْمَرْأَةِ مَعَ مَحْرَمٍ إِلَى حَجٍّ وَغَيْرِهِ), বাব নং- ৭৪, হাদিস নং- ৩৩২২
[57] বুখারী, অধ্যায়: বিবাহ (كتاب النكاح), পরিচ্ছেদ: মাহরমের উপস্থিতি ব্যতীত কোন পুরুষ কোন নারীর সাথে নির্জনে সাক্ষাত করবে না এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে কোন নারীর কাছে কোন পুরুষের গমন (হারাম)  (باب لا يخلون رجل بامرأة إلا ذو محرم والدخول على المغيبة), বাব নং- ১১০, হাদিস নং- ৪৯৩৫; মুসলিম, অধ্যায়: হাজ্জ (الحج), পরিচ্ছেদ: হাজ্জ ও অন্যান্য কাজে মুহাররম পুরুষের সাথে নারীর ভ্রমণ করা (باب سَفَرِ الْمَرْأَةِ مَعَ مَحْرَمٍ إِلَى حَجٍّ وَغَيْرِهِ), বাব নং- ৭৪, হাদিস নং- ৩৩৩৬
[58] তিরমিযী, অধ্যায়: দুগ্ধপান (كتاب الرضاع), পরিচ্ছেদ: স্বামীর অনুপস্থিতিতে কোন নারীর কাছে কোন পুরুষের গমন অপছন্দ হওয়ার ব্যাপারে যা এসেছে (باب ما جاء في كراهية الدخول على المغيبات), বাব নং- ১৬, হাদিস নং- ১১৭১
[59] আবূ দাউদ, অধ্যায়: শিষ্টাচার (الأدب), পরিচ্ছেদ: রাস্তার মধ্যে পুরুষদের সাথে নারীদের পথ চলা প্রসঙ্গে (باب فِى مَشْىِ النِّسَاءِ مَعَ الرِّجَالِ فِى الطَّرِيقِ), বাব নং- ১৮১, হাদিস নং- ৫২৭৪
[60] গোস্ত ও রুটি দিয়ে তৈরী খাদ্য বিশেষ। যা আরবে খুব বেশী জনপ্রিয়। [সম্পাদক]
[61] বুখারী, অধ্যায়: নবীগণ (كتاب الأنبياء), পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা‘আলার বাণী: আর আল্লাহ ঈমানদারদের জন্য দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন ফেরাউনের স্ত্রীকে … আর তিনি ছিলেন অনুগত বান্দা-বান্দীদের মধ্যে অন্যতমা (باب قول الله تعالى { وضرب الله مثلا للذين آمنوا امرأة فرعون – إلى قوله – وكانت من القانتين }), বাব নং- ৩৩, হাদিস নং- ৩২৩০; মুসলিম, অধ্যায়: সাহাবাদের ফযীলত (فضائل الصحابة), পরিচ্ছেদ: উম্মুল মুমিনীন খাদিজা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা’র ফযীলত  (باب فَضَائِلِ خَدِيجَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ رضى الله تعالى عنها), বাব নং- ১২, হাদিস নং- ৬৪২৫।
[62] বুখারী, অধ্যায়: ইলম (كتاب العلم), পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়ায-নসীহতে, ইলম শিক্ষাদানে উপযুক্ত সময়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন, যাতে লোকজন বিরক্ত না হয়ে পড়ে  (باب ما كان النبي صلى الله عليه و سلم يتخولهم بالموعظة والعلم كي لا ينفروا), বাব নং- ১১, হাদিস নং- ৬৯; মুসলিম, অধ্যায়: জিহাদ ও এর নীতিমালা (الجهاد والسير), পরিচ্ছেদ: সহজ পন্থা অবলম্বন ও বিরক্তিকরণ পরিহার করার নির্দেশ (باب فِى الأَمْرِ بِالتَّيْسِيرِ وَتَرْكِ التَّنْفِيرِ), বাব নং- ৩, হাদিস নং- ৪৬২২
[63] বুখারী, অধ্যায়: যাকাত (كتاب الزكاة), পরিচ্ছেদ: যাকাত আবশ্যক হওয়া প্রসঙ্গে (باب وجوب الزكاة), বাব নং- ১, হাদিস নং- ১৩৩১; মুসলিম, অধ্যায়: ঈমান (الحج), পরিচ্ছেদ: শাহাদাতাঈন ও ইসলামের বিধিবিধানের দিকে আহ্বান করা (باب الدُّعَاءِ إِلَى الشَّهَادَتَيْنِ وَشَرَائِعِ الإِسْلاَمِِ), বাব নং- ৯, হাদিস নং- ১৩০।
[64] দ্রষ্টব্য: মু‘য়ায ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’র হাদিসকে কেন্দ্র করে আমি যে স্বতন্ত্র পুস্তিকা লিপিবদ্ধ করেছি; সুতরাং আমি তাতে এর তাৎপর্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
[65] এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত বর্ণনা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
[66] দ্রষ্টব্য: আমার তাহকীক করা হাফেয আবদুল গনী আল-মাকদেসী’র লিখিত গ্রন্থ, ‘আত-তারগীব ফীদ দো‘আ’। তা ইনশাআল্লাহ যথেষ্ট হবে।
____________________________________________________________________________________________________________
সংকলন: অধ্যাপক ড. ফালেহ ইবন মুহাম্মদ আস-সুগাইর 
অনুবাদক: ড. আবু বকর মো: যাকারিয়া – ড. মো: আমিনুল ইসলাম
সূত্র: ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ, সৌদিআরব

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s