Gallery

এদেশের ৯০% মুসলিম জানেনা বিদআত কাকে বলে!


এদেশের ৯০% মুসলিম জানেনা বিদআত কাকে বলে!♥আমার গবেষণা মতে, বাংলাদেশের ৯০ % মুসলিম ই বিদাত বুঝেনা, তাহলে বিদাতের ভয়াবহতা বুঝবে কি করে? আর এই জন্যেই মসজিদের ইমাম নিজেই যখন বিদাত করে তখন মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিরা মনে করে ইবাদত ত ইবাদত ই, যেভাবে খুশি আল্লাহকে ডাকলেই হয়।

★★ বিদাত হচ্ছে তরকারীতে পরিমিত লবণের মত। একটি তরকারি উপযুক্ত স্বাদ পাওয়ার জন্য যতটুকু লবণ দরকার ঠিক ততটুকু লবণ ই দিতে হবে, এর একটু কম বা বেশি হলে আপনার মুল্যবান খাবারটুকু অখাদ্য হয়ে যাবে, বেশি হলে তা ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা। ঠিক তেমনি, আপনার ইবাদত যদি রাসুলের তরিকার বা নিয়মের বাইরে হয়, তা কোন কাজে আসবেনা।

>> আর এ কথাটি ই আল্লাহতালা বার বার তার কোরানে বলেছে, তোমরা শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত কর কেবলমাত্র রাসুলের তরিকায়, তোমরা তোমাদের আমল বাতিল করিও না। তারমানে, আপনার আমল বা ইবাদত রাসুলের তরিকায় না হলে, হাদিছ কোরানে তার কোন দলিল না থাকলে, অথবা মাযহাবের নামে নতুন কোন ইবাদতের পদ্ধতি হলে সেটাই বিদাত ( গোমরাহি) যার ফলাফল জাহান্নাম।

♦ মনে রাখা জরুরি >> শিরক ঈমান নষ্ট করে আর বিদাত আমল নষ্ট করে। অথচ, আপনার জন্ম থেকে শুরু করে মরণ বা কবর পর্যন্ত সব কিছুতেই রয়েছে বিদাত( বাড়াবাড়ি এবং দলিলবিহিন ইবাদত) যার প্রচলন ঘটিয়েছে এক শ্রেণির পোশাকধারী আলেমসমাজ।

♥আভিধানিক অর্থে বিদআত হলো নব আবিস্কৃত ও নব উদযাপন। আর,পারিভাষিক অর্থে বিদআত হলো দ্বীনে ও ইবাদতের মধ্যে নতুন কোন কিছু সংযোজন করা।

♦রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رد
যে ব্যক্তি আমাদের এ দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করেছে যা এতে নেই, তাহলে তা প্রত্যাখ্যাত হবে। [ কারণ ইসলাম একটি পুর্ণাংগ জীবন ব্যাবস্থা]
(সহীহুল বুখারী: ২৬৯৭ সহিহ মুসলিম: ৪৩৮৪)
সাবধান আবার দ্বীন বা ইবাদতের ক্ষেত্রে ‘বিদআতে হাসানাহ’ (ভাল বিদআত) বলে কোন বিদআত নেই। বরং প্রত্যেক বিদআতই ‘সাইয়্যিআহ’ (মন্দ)।

♦রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন;
وَشَرُّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ، وَكُلُّ ضَلَالَةٍ فِي النَّارِ
আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট হল দ্বীনের মধ্যে নতুন জিনিস সৃষ্টি করা আর সকল নতুন জিনিসই বিদআত আর সকল বিদআত-ই-গুমরাহী (পথভ্রষ্ট) আর সকল গুমরাহীর (পথভ্রষ্ট) পরিণাম জাহান্নাম। [নাসায়ী: ১৫৭৮] রাসূল (ﷺ) দ্বীনের মধ্যে বিদআতের কোন ভাগ করেন নাই বরং সকল বিদআতকে গুমরাহী বলছেন। তাই ভাল বিদআত, মন্দ বিদআত বলে কিছু নেই।উই

>>>> 🔴 *সহজ বাংলায় বিদাতের সংজ্ঞা হচ্ছে — মনগড়া ইবাদত *🔴

📚 *…আর যারা কেতাবের মাঝে মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে নিশ্চয়ই তারা জেদের বশবর্তী হয়ে অনেক দূরে চলে গেছে।* [ আল বাকারা – ১৭৬ ]

📚নবী (স) বলেন……. *”যে ব্যক্তি আমার সম্পর্কে এমন কথা প্রচার করলো যা আমি বলিনি, তবে সে নিজের জায়গা জাহান্নামে ঠিক করে নিলো”*
– (হাদীস টি আছে: মিশকাত, রিয়াদুস সালেহিন, সিহাহ সিত্তার অন্যান্য বই তে)

📚রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন,
“ *তোমরা (দ্বীন) নব উদ্ভাবিত কর্মসমূহ (বিদআত) থেকে বেঁচে থাকবে। কারণ, প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।”*৮১ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী)

📚“ *যে ব্যক্তি আমার এই দ্বীনে (নিজের পক্ষ থেকে) কোন নতুন কিছু উদ্ভাবন করল- যা তাঁর মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য*
৮২ (বুখারী ও মুসলিম)

📚মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, *যে ব্যাক্তি এমন কাজ করল, যে ব্যপারে আমাদের নির্দেশ নেই, তা বর্জনীয়।*

♦♦তবে বলা বাহুল্য, নব আবিষ্কৃত পার্থিব কোন বিষয়কে, নিত্য প্রয়োজনীয় কোন বিষয়কে বিদআত বলা যাবে না।

একজন মুসলিম হিসেবে আমার দায়িত্ব কুরান হাদিস এরর দলিক মোতাবেক সত্যকে তুলে ধরা, কে কিভাবে গ্রহণ করবে সেটা যার যার বিবেকের কাছে।

*আল্লাহ তাদের অন্তর কলুষিত করে দেন, যারা তার বিবেক-বুদ্ধি ব্যবহার করে না। (কুরান-১০:১০০)*

নিম্নে প্রচলিত কিছু জাল হাদীস বা জ্ঞানীদের কিছু কথাকে নবী(স) এর উক্তি বলে চালানো কি রকম দেখুন ঃ
…………….
১.দেশপ্রেম ইমানের অংগ
………….
২. মুর্খের ইবাদতের চেয়ে জ্ঞানীর ঘুম উত্তম
………..
৩. স্বামীর পা এর নিচে স্ত্রীর বেহেশত
………….
৪. খাদ্য খাবার সময় সালাম দেয়া যাবেনা
…………….
৫. আমি তিন কারণে আরবদের ভালবাসি , জান্নাতের ভাষা আরবী, আরবদের ভাষা আরবী, আমার ভাষাও আরবী
………….
৬. ওলিগণের কারামত সত্য
………….
৭.. যে নিজকে চিনলো সে তার রবকে চিনলো
…………..
৮.. মসজিদে দুনিয়াবী কথা বললে তার চল্লিশ বছরের আমল নষ্ট হয়
………….
৯. মুমিনের হৃদয় আল্লাহর আরশ
…………
১০. প্রয়োজনে চীন দেশে গিয়ে বিদ্যা অর্যন করো
…………..
১১. শহিদের রক্তের চেয়ে জ্ঞানীর কলমের কালি উত্তম . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
১২. খাবারের আগে লবণ খাওয়া

বুঝতেই পারছেন, কেউ একজন লেখা পড়া শিখতে চাইছেনা, তাকে লেখা পড়া শিখানোর জন্য বলে দিলো ১০ নং কথাটি| লোকটি প্রশ্ন করলো এটা মিথ্যা কথা | তখন ছদ্মবেশি মাস্টর বললো এটা হাদীস | আর ধর্মপ্রাণ মুসলিম তা মেনে নিল ও প্রচার করতে লাগলো | এভাবে ….. একই ভাবে নিজের কথা মানানোর জন্য প্রচার করে |
………..
আর ১নং জাল হাদীস এর উদ্দেশ্য কিন্তু এটা নয় যে দেশপ্রেম করা যাবেনা, দেশপ্রেম ইমানদারের বৈশিষ্ট ঠিক আছে, রাসুল (সঃ) এর কাজে কর্মে দেশপ্রেম ছিল যা মুসলিমের বৈশিষ্ঠ সব ঠিক আছে.. কিন্তু এটি রাসুল (সঃ) এর কথা নয়, তিনি উক্তিটি করেননি |
.
এটি কোন মণিষির কথা | জ্ঞাণীরা তার চিন্তা থেকে এটা বলেছেন এবং কথাটি ঠিক আছে | কিন্তু একে কি হাদীস বলা ঠিক ? আপনি পারবেন আপনার একটা কথাকে হাদীস বলতে ? ভেবে দেখুন …..
আশা করি বুঝতে পেরেছেন……

♦পবিত্র কুরানে আল্লাহ বলেন >>৩ঃ৩১>
*”তোমরা যদিন আল্লাহ্‌কে ভালোবাস তবে তোমরা আমায়(নবী সঃ কে) অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ্ তোমাদের ভালবাসবেন, আর তোমাদের পরিত্রাণ করবেন তোমাদের অপরাধ থেকে….।’’*

♦♦আল্লাহ পবিত্র কুরানে বলেন,…
*আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্মব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ করলাম* মানে ইসলামের শরীয়ত পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন।

এর পরেও যদি আমরা আজ ও দ্বীনের ব্যাপারে রদ বদল বা যোগ বিয়োগ করি তাহলে সেটা হবে নবী(স)এর জন্য অবমাননাকর। সেটা যত ভালই মনে করি না কেন তা অগ্রহণযোগ্য ও পরিত্যাজ্য।

আল্লাহ আমাদের সতর্ক করে বলেন>> [৪ -ঃ১১৫ ]
*আর যে কেউ রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে পথনির্দেশ তার কাছে সুস্পষ্ট হবার পরে, আর অনুসরণ করে মূমিনদের পথ থেকে ভিন্ন, আমরা তাকে ফেরাবো সেই দিকে যে দিকে সে ফিরেছে, আর তাকে প্রবেশ করাবো জাহান্নামে, আর মন্দ সেই গন্তব্যস্থান!*

🔥কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … সাহল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ *আমি ‘হাওয’ (কাওসার) এর কাছে তোমাদের জন্য অগ্রগামী। যে সেখানে আসবে, সেই পান করবে। আর যে তা থেকে পান করবে, সে কখনো পিপাসার্ত হবে না। আর আমার কাছে এমন কতক দল উপনীত হবে, যাদের আমি চিনতে পারব এবং তারাও আমাকে চিনতে পারবে। তারপর আমার ও তাদের মাঝে বাধা সৃষ্টি করা হবে। রাবী আবূ হাযিম (রহঃ) বলেন, আমি যখন তাঁদের কাছে এ হাদীস বর্ণনা করি, তখন নুমান ইবনু আবূ আয়্যাশ শুনে বললেন, তুমি কি সাহল (রাঃ) কে এরূপই বলতে শুনেছো? তিনি বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। নুমান বললেন, আর আমি আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি অবশ্যই তাকে অধিক রিওয়ায়াত করতে শুনেছি যে, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলবেন, এরা তো আমার উম্মাত! তখন বলা হবে, আপনি তো জানেন না, তারা আপনার পরে কি আমল করেছে। আমি বলবঃ দূর হও, দূর হও, যারা আমার পরে (দ্বীনে) রদ-বদল করেছে।*
(মুসলিম ৫৭৬৮)

🔥 *যে হাদিস জাল করে বা বানোয়াট করে বা মিথ্যা হাদিস ছড়ায় এবং যে ব্যক্তি ঐ মিথ্যা হাদিস প্রচারে সহযোগীতা করে, আর যারা তা অনুসরণ করবে, তাদের সমস্ত গুনাহ ঐ ব্যক্তিদের ঘাড়ে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত জমা হতে থাকবে।* সংগৃহীত

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s