11. সুরা আল হুদ (01-123)


ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম
করুণাময়, অতি দয়ালু
[1] ﺍﻟﺮ ۚ ﻛِﺘٰﺐٌ ﺃُﺣﻜِﻤَﺖ ﺀﺍﻳٰﺘُﻪُ
ﺛُﻢَّ ﻓُﺼِّﻠَﺖ ﻣِﻦ ﻟَﺪُﻥ ﺣَﻜﻴﻢٍ
ﺧَﺒﻴﺮٍ
[1] আলিফ, লা-ম, রা; এটি এমন এক
কিতাব, যার আয়াত সমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত
অতঃপর সবিস্তারে বর্ণিত এক
মহাজ্ঞানী, সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ হতে।
[1] Alif-Lâm-Râ. [These letters are one of
the miracles of the Qur’ân and none but
Allâh (Alone) knows their meanings].
(This is) a Book, the Verses whereof are
perfected (in every sphere of
knowledge), and then explained in detail
from One (Allâh), Who is All-Wise Well-
Acquainted (with all things).
[2] ﺃَﻟّﺎ ﺗَﻌﺒُﺪﻭﺍ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪَ ۚ ﺇِﻧَّﻨﻰ
ﻟَﻜُﻢ ﻣِﻨﻪُ ﻧَﺬﻳﺮٌ ﻭَﺑَﺸﻴﺮٌ
[2] যেন তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য
কারো বন্দেগী না কর। নিশ্চয় আমি
তোমাদের প্রতি তাঁরই পক্ষ হতে
সতর্ককারী ও সুসংবাদ দাতা।
[2] (Saying) worship none but Allâh.
Verily, I (Muhammad SAW) am unto you
from Him a warner and a bringer of
glad tidings.
[3] ﻭَﺃَﻥِ ﺍﺳﺘَﻐﻔِﺮﻭﺍ ﺭَﺑَّﻜُﻢ ﺛُﻢَّ
ﺗﻮﺑﻮﺍ ﺇِﻟَﻴﻪِ ﻳُﻤَﺘِّﻌﻜُﻢ ﻣَﺘٰﻌًﺎ
ﺣَﺴَﻨًﺎ ﺇِﻟﻰٰ ﺃَﺟَﻞٍ ﻣُﺴَﻤًّﻰ
ﻭَﻳُﺆﺕِ ﻛُﻞَّ ﺫﻯ ﻓَﻀﻞٍ ﻓَﻀﻠَﻪُ ۖ
ﻭَﺇِﻥ ﺗَﻮَﻟَّﻮﺍ ﻓَﺈِﻧّﻰ ﺃَﺧﺎﻑُ
ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﻋَﺬﺍﺏَ ﻳَﻮﻡٍ ﻛَﺒﻴﺮٍ
[3] আর তোমরা নিজেদের পালনকর্তা
সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অনন্তর
তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর। তাহলে
তিনি তোমাদেরকে নির্দিষ্ট সময়
পর্যন্ত উৎকৃষ্ট জীবনোপকরণ দান
করবেন এবং অধিক আমলকারীকে
বেশী করে দেবেন আর যদি তোমরা
বিমুখ হতে থাক, তবে আমি তোমাদের
উপর এক মহা দিবসের আযাবের আশঙ্কা
করছি।
[3] And (commanding you): “Seek the
forgiveness of your Lord, and turn to
Him in repentance, that He may grant
you good enjoyment, for a term
appointed, and bestow His abounding
Grace to every owner of grace (i.e. the
one who helps and serves needy and
deserving, physically and with his
wealth, and even with good words). But
if you turn away, then I fear for you the
torment of a Great Day (i.e. the Day of
Resurrection).
[4] ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣَﺮﺟِﻌُﻜُﻢ ۖ ﻭَﻫُﻮَ
ﻋَﻠﻰٰ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲﺀٍ ﻗَﺪﻳﺮٌ
[4] আল্লাহর সান্নিধ্যেই
তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। আর
তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
[4] To Allâh is your return, and He is
Able to do all things.”
[5] ﺃَﻻ ﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻳَﺜﻨﻮﻥَ ﺻُﺪﻭﺭَﻫُﻢ
ﻟِﻴَﺴﺘَﺨﻔﻮﺍ ﻣِﻨﻪُ ۚ ﺃَﻻ ﺣﻴﻦَ
ﻳَﺴﺘَﻐﺸﻮﻥَ ﺛِﻴﺎﺑَﻬُﻢ ﻳَﻌﻠَﻢُ ﻣﺎ
ﻳُﺴِﺮّﻭﻥَ ﻭَﻣﺎ ﻳُﻌﻠِﻨﻮﻥَ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ
ﻋَﻠﻴﻢٌ ﺑِﺬﺍﺕِ ﺍﻟﺼُّﺪﻭﺭِ
[5] জেনে রাখ, নিশ্চয়ই তারা
নিজেদের বক্ষদেশ ঘুরিয়ে দেয় যেন
আল্লাহর নিকট হতে লুকাতে পারে। শুন,
তারা তখন কাপড়ে নিজেদেরকে
আচ্ছাদিত করে, তিনি তখনও জানেন
যা কিছু তারা চুপিসারে বলে আর
প্রকাশ্যভাবে বলে। নিশ্চয় তিনি
জানেন যা কিছু অন্তর সমূহে নিহিত
রয়েছে।
[5] No doubt! They did fold up their
breasts, that they may hide from Him.
Surely, even when they cover themselves
with their garments, He knows what they
conceal and what they reveal. Verily, He
is the All-Knower of the (innermost
secrets) of the breasts.
[6] ۞ ﻭَﻣﺎ ﻣِﻦ ﺩﺍﺑَّﺔٍ ﻓِﻰ
ﺍﻷَﺭﺽِ ﺇِﻟّﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺭِﺯﻗُﻬﺎ
ﻭَﻳَﻌﻠَﻢُ ﻣُﺴﺘَﻘَﺮَّﻫﺎ
ﻭَﻣُﺴﺘَﻮﺩَﻋَﻬﺎ ۚ ﻛُﻞٌّ ﻓﻰ ﻛِﺘٰﺐٍ
ﻣُﺒﻴﻦٍ
[6] আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল
নেই, তবে সবার জীবিকার দায়িত্ব
আল্লাহ নিয়েছেন তিনি জানেন তারা
কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত
হয়। সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে
রয়েছে।
[6] And no (moving) living creature is
there on earth but its provision is due
from Allâh. And He knows its dwelling
place and its deposit (in the uterus,
grave). all is in a Clear Book (Al-Lauh Al-
Mahfûz – the Book of Decrees with Allâh).
[7] ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽَ ﻓﻰ ﺳِﺘَّﺔِ ﺃَﻳّﺎﻡٍ
ﻭَﻛﺎﻥَ ﻋَﺮﺷُﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻤﺎﺀِ
ﻟِﻴَﺒﻠُﻮَﻛُﻢ ﺃَﻳُّﻜُﻢ ﺃَﺣﺴَﻦُ ﻋَﻤَﻠًﺎ ۗ
ﻭَﻟَﺌِﻦ ﻗُﻠﺖَ ﺇِﻧَّﻜُﻢ ﻣَﺒﻌﻮﺛﻮﻥَ
ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِ ﺍﻟﻤَﻮﺕِ ﻟَﻴَﻘﻮﻟَﻦَّ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﺇِﻥ ﻫٰﺬﺍ ﺇِﻟّﺎ
ﺳِﺤﺮٌ ﻣُﺒﻴﻦٌ
[7] তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে
তৈরী করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির
উপরে, তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা
করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে
সবচেয়ে ভাল কাজ করে। আর যদি
আপনি তাদেরকে বলেন যে, “নিশ্চয়
তোমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবিত
ওঠানো হবে, তখন কাফেরেরা অবশ্য
বলে এটা তো স্পষ্ট যাদু!”;
[7] And He it is Who has created the
heavens and the earth in six Days and
His Throne was on the water, that He
might try you, which of you is the best in
deeds. But if you were to say to them:
“You shall indeed be raised up after
death,” those who disbelieve would be
sure to say, “This is nothing but obvious
magic.”
[8] ﻭَﻟَﺌِﻦ ﺃَﺧَّﺮﻧﺎ ﻋَﻨﻬُﻢُ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏَ
ﺇِﻟﻰٰ ﺃُﻣَّﺔٍ ﻣَﻌﺪﻭﺩَﺓٍ ﻟَﻴَﻘﻮﻟُﻦَّ ﻣﺎ
ﻳَﺤﺒِﺴُﻪُ ۗ ﺃَﻻ ﻳَﻮﻡَ ﻳَﺄﺗﻴﻬِﻢ
ﻟَﻴﺲَ ﻣَﺼﺮﻭﻓًﺎ ﻋَﻨﻬُﻢ ﻭَﺣﺎﻕَ
ﺑِﻬِﻢ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﺑِﻪِ ﻳَﺴﺘَﻬﺰِﺀﻭﻥَ
[8] আর যদি আমি এক নির্ধারিত মেয়াদ
পর্যন্ত তাদের আযাব স্থগিত রাখি,
তাহলে তারা নিশ্চয়ই বলবে কোন
জিনিসে আযাব ঠেকিয়ে রাখছে? শুনে
রাখ, যেদিন তাদের উপর আযাব এসে
পড়বে, সেদিন কিন্তু তা ফিরে যাওয়ার
নয়; তারা যে ব্যাপারে উপহাস করত
তাই তাদেরকে ঘিরে ফেলবে।
[8] And if We delay the torment for them
till a determined term, they are sure to
say, “What keeps it back?” Verily, on the
day it reaches them, nothing will turn it
away from them, and they will be
surrounded by (or fall in) that at which
they used to mock!
[9] ﻭَﻟَﺌِﻦ ﺃَﺫَﻗﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴٰﻦَ ﻣِﻨّﺎ
ﺭَﺣﻤَﺔً ﺛُﻢَّ ﻧَﺰَﻋﻨٰﻬﺎ ﻣِﻨﻪُ ﺇِﻧَّﻪُ
ﻟَﻴَـٔﻮﺱٌ ﻛَﻔﻮﺭٌ
[9] আর অবশ্যই যদি আমি মানুষকে
আমার রহমতের আস্বাদ গ্রহণ করতে
দেই, অতঃপর তা তার থেকে ছিনিয়ে
নেই; তাহলে সে হতাশ ও কৃতঘ্ন হয়।
[9] And if We give man a taste of Mercy
from Us, and then withdraw it from him,
verily! he is despairing, ungrateful.
[10] ﻭَﻟَﺌِﻦ ﺃَﺫَﻗﻨٰﻪُ ﻧَﻌﻤﺎﺀَ ﺑَﻌﺪَ
ﺿَﺮّﺍﺀَ ﻣَﺴَّﺘﻪُ ﻟَﻴَﻘﻮﻟَﻦَّ ﺫَﻫَﺐَ
ﺍﻟﺴَّﻴِّـٔﺎﺕُ ﻋَﻨّﻰ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻔَﺮِﺡٌ
ﻓَﺨﻮﺭٌ
[10] আর যদি তার উপর আপতিত দুঃখ
কষ্টের পরে তাকে সুখভোগ করতে দেই,
তবে সে বলতে থাকে যে, আমার অমঙ্গল
দূর হয়ে গেছে, আর সে আনন্দে
আত্নহারা হয়, অহঙ্কারে উদ্দত হয়ে
পড়ে।
[10] But if We let him taste good (favour)
after evil (poverty and harm) has
touched him, he is sure to say: “Ills have
departed from me.” Surely, he is
exultant, and boastful (ungrateful to
Allâh).
[11] ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺻَﺒَﺮﻭﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ
ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤٰﺖِ ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻟَﻬُﻢ ﻣَﻐﻔِﺮَﺓٌ
ﻭَﺃَﺟﺮٌ ﻛَﺒﻴﺮٌ
[11] তবে যারা ধৈর্য্যধারণ করেছে
এবং সৎকার্য করেছে তাদের জন্য
ক্ষমা ও বিরাট প্রতিদান রয়েছে।
[11] Except those who show patience and
do righteous good deeds, those: theirs
will be forgiveness and a great reward
(Paradise).
[12] ﻓَﻠَﻌَﻠَّﻚَ ﺗﺎﺭِﻙٌ ﺑَﻌﺾَ ﻣﺎ
ﻳﻮﺣﻰٰ ﺇِﻟَﻴﻚَ ﻭَﺿﺎﺋِﻖٌ ﺑِﻪِ
ﺻَﺪﺭُﻙَ ﺃَﻥ ﻳَﻘﻮﻟﻮﺍ ﻟَﻮﻻ ﺃُﻧﺰِﻝَ
ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻛَﻨﺰٌ ﺃَﻭ ﺟﺎﺀَ ﻣَﻌَﻪُ ﻣَﻠَﻚٌ ۚ
ﺇِﻧَّﻤﺎ ﺃَﻧﺖَ ﻧَﺬﻳﺮٌ ۚ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠﻰٰ
ﻛُﻞِّ ﺷَﻲﺀٍ ﻭَﻛﻴﻞٌ
[12] আর সম্ভবতঃ ঐসব আহকাম যা ওহীর
মাধ্যমে তোমার নিকট পাঠানো হয়,
তার কিছু অংশ বর্জন করবে? এবং এতে
মন ছোট করে বসবে? তাদের এ কথায়
যে, তাঁর উপর কোন ধন-ভান্ডার কেন
অবতীর্ণ হয়নি? অথবা তাঁর সাথে কোন
ফেরেশতা আসেনি কেন? তুমিতো শুধু
সতর্ককারী মাত্র; আর সব কিছুরই
দায়িত্বভার তো আল্লাহই নিয়েছেন।
[12] So perchance you (Muhammad SAW)
may give up a part of what is revealed
unto you, and that your breast feels
straitened for it because they say, “Why
has not a treasure been sent down unto
him, or an angel has come with him?”
But you are only a warner. And Allâh is
a Wakîl (Disposer of affairs, Trustee,
Guardian) over all things.
[13] ﺃَﻡ ﻳَﻘﻮﻟﻮﻥَ ﺍﻓﺘَﺮﻯٰﻪُ ۖ ﻗُﻞ
ﻓَﺄﺗﻮﺍ ﺑِﻌَﺸﺮِ ﺳُﻮَﺭٍ ﻣِﺜﻠِﻪِ
ﻣُﻔﺘَﺮَﻳٰﺖٍ ﻭَﺍﺩﻋﻮﺍ ﻣَﻦِ
ﺍﺳﺘَﻄَﻌﺘُﻢ ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻥ
ﻛُﻨﺘُﻢ ﺻٰﺪِﻗﻴﻦَ
[13] তারা কি বলে? কোরআন তুমি
তৈরী করেছ? তুমি বল, তবে তোমরাও
অনুরূপ দশটি সূরা তৈরী করে নিয়ে আস
এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পার ডেকে
নাও, যদি তোমাদের কথা সত্য হয়ে
থাকে।
[13] Or they say, “He (Prophet
Muhammad SAW) forged it (the
Qur’an).” Say: “Bring you then ten forged
Sûrahs (chapters) like unto it, and call
whomsoever you can, other than Allâh
(to your help), if you speak the truth!”
[14] ﻓَﺈِﻟَّﻢ ﻳَﺴﺘَﺠﻴﺒﻮﺍ ﻟَﻜُﻢ
ﻓَﺎﻋﻠَﻤﻮﺍ ﺃَﻧَّﻤﺎ ﺃُﻧﺰِﻝَ ﺑِﻌِﻠﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻭَﺃَﻥ ﻻ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻟّﺎ ﻫُﻮَ ۖ ﻓَﻬَﻞ ﺃَﻧﺘُﻢ
ﻣُﺴﻠِﻤﻮﻥَ
[14] অতঃপর তারা যদি তোমাদের
কথা পুরণ করতে অপারগ হয়; তবে জেনে
রাখ, এটি আল্লাহর এলম দ্বারা
অবতীর্ণ হয়েছে; আরো একীন করে
নাও যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন
মাবুদ নেই। অতএব, এখন কি তোমরা
আত্নসমর্পন করবে?
[14] If then they answer you not, know
then that it [the Revelation (this Qur’ân)]
is sent down with the Knowledge of
Allâh and that Lâ ilâha illa Huwa: (none
has the right to be worshipped but He)!
Will you then be Muslims (those who
submit to Islâm)?
[15] ﻣَﻦ ﻛﺎﻥَ ﻳُﺮﻳﺪُ ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓَ
ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﻭَﺯﻳﻨَﺘَﻬﺎ ﻧُﻮَﻑِّ ﺇِﻟَﻴﻬِﻢ
ﺃَﻋﻤٰﻠَﻬُﻢ ﻓﻴﻬﺎ ﻭَﻫُﻢ ﻓﻴﻬﺎ ﻻ
ﻳُﺒﺨَﺴﻮﻥَ
[15] যে ব্যক্তি পার্থিবজীবন ও তার
চাকচিক্যই কামনা করে, হয় আমি
তাদের দুনিয়াতেই তাদের আমলের
প্রতিফল ভোগ করিয়ে দেব এবং
তাতে তাদের প্রতি কিছুমাত্র কমতি
করা হয় না।
[15] Whosoever desires the life of the
world and its glitter; to them We shall
pay in full (the wages of) their deeds
therein, and they will have no
diminution therein.
[16] ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻟَﻴﺲَ ﻟَﻬُﻢ
ﻓِﻰ ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻨّﺎﺭُ ۖ
ﻭَﺣَﺒِﻂَ ﻣﺎ ﺻَﻨَﻌﻮﺍ ﻓﻴﻬﺎ
ﻭَﺑٰﻄِﻞٌ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[16] এরাই হল সেসব লোক আখেরাতে
যাদের জন্য আগুন ছাড়া নেই। তারা
এখানে যা কিছু করেছিল সবই বরবাদ
করেছে; আর যা কিছু উপার্জন
করেছিল, সবই বিনষ্ট হল।
[16] They are those for whom there is
nothing in the Hereafter but Fire; and
vain are the deeds they did therein. And
of no effect is that which they used to do
[17] ﺃَﻓَﻤَﻦ ﻛﺎﻥَ ﻋَﻠﻰٰ ﺑَﻴِّﻨَﺔٍ ﻣِﻦ
ﺭَﺑِّﻪِ ﻭَﻳَﺘﻠﻮﻩُ ﺷﺎﻫِﺪٌ ﻣِﻨﻪُ ﻭَﻣِﻦ
ﻗَﺒﻠِﻪِ ﻛِﺘٰﺐُ ﻣﻮﺳﻰٰ ﺇِﻣﺎﻣًﺎ
ﻭَﺭَﺣﻤَﺔً ۚ ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ ﺑِﻪِ ۚ
ﻭَﻣَﻦ ﻳَﻜﻔُﺮ ﺑِﻪِ ﻣِﻦَ ﺍﻷَﺣﺰﺍﺏِ
ﻓَﺎﻟﻨّﺎﺭُ ﻣَﻮﻋِﺪُﻩُ ۚ ﻓَﻼ ﺗَﻚُ ﻓﻰ
ﻣِﺮﻳَﺔٍ ﻣِﻨﻪُ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﺍﻟﺤَﻖُّ ﻣِﻦ
ﺭَﺑِّﻚَ ﻭَﻟٰﻜِﻦَّ ﺃَﻛﺜَﺮَ ﺍﻟﻨّﺎﺱِ ﻻ
ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[17] আচ্ছা বল তো, যে ব্যক্তি তার
প্রভুর সুস্পষ্ট পথে রয়েছে, আর সাথে
সাথে আল্লাহর তরফ থেকে একটি
সাক্ষীও বর্তমান রয়েছে এবং তার
পূর্ববর্তী মূসা (আঃ) এর কিতাবও
সাক্ষী যা ছিল পথনির্দেশক ও রহমত
স্বরূপ, (তিনি কি অন্যান্যের সমান)
অতএব তাঁরা কোরআনের প্রতি ঈমান
আনেন। আর ঐসব দলগুলি যে কেউ তা
অস্বীকার করে, দোযখই হবে তার
ঠিকানা। অতএব, আপনি তাতে কোন
সন্দেহে থাকবেন না। নিঃসন্দেহে তা
আপনার পালনকর্তার পক্ষ হতে ধ্রুব
সত্য; তথাপি অনেকেই তা বিশ্বাস করে
না।
[17] Can they (Muslims) who rely on a
clear proof (the Qur’ân) from their Lord,
and whom a witness [Jibrail (Gabriel
A.S.] from Him recities (follows) it (can
they be equal with the disbelievers); and
before it, came the Book of Mûsa
(Moses), a guidance and a mercy, they
believe therein, but those of the sects
(Jews, Christians and all the other non-
Muslim nations) that reject it (the
Qur’ân), the Fire will be their promised
meeting-place. So be not in doubt about
it (i.e. those who denied Prophet
Muhammad SAW and also denied all that
which he brought from Allâh, surely,
they will enter Hell). Verily, it is the
truth from your Lord, but most of the
mankind believe not
[18] ﻭَﻣَﻦ ﺃَﻇﻠَﻢُ ﻣِﻤَّﻦِ ﺍﻓﺘَﺮﻯٰ
ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻛَﺬِﺑًﺎ ۚ ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ
ﻳُﻌﺮَﺿﻮﻥَ ﻋَﻠﻰٰ ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﻭَﻳَﻘﻮﻝُ
ﺍﻷَﺷﻬٰﺪُ ﻫٰﺆُﻻﺀِ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﺬَﺑﻮﺍ
ﻋَﻠﻰٰ ﺭَﺑِّﻬِﻢ ۚ ﺃَﻻ ﻟَﻌﻨَﺔُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
[18] আর তাদের চেয়ে বড় যালেম কে
হতে পারে, যারা আল্লাহর প্রতি
মিথ্যারোপ করে। এসব লোককে
তাদের পালনকর্তার সাক্ষাত সম্মূখীন
করা হবে আর সাক্ষিগণ বলতে থাকবে,
এরাই ঐসব লোক, যারা তাদের
পালনকর্তার প্রতি মিথ্যারোপ
করেছিল। শুনে রাখ, যালেমদের উপর
আল্লাহর অভিসম্পাত রয়েছে।
[18] And who does more wrong than he
who invents a lie against Allâh. Such wi,l
be brought before their Lord, and the
witnesses will say, “These are the ones
who lied against their Lord!” No doubt!
the curse of Allâh is on the Zâlimûn
(polytheists, wrong-doers, oppressors)
[19] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳَﺼُﺪّﻭﻥَ ﻋَﻦ
ﺳَﺒﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻳَﺒﻐﻮﻧَﻬﺎ ﻋِﻮَﺟًﺎ
ﻭَﻫُﻢ ﺑِﺎﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﻫُﻢ ﻛٰﻔِﺮﻭﻥَ
[19] যারা আল্লাহর পথে বাধা দেয়,
আর তাতে বক্রতা খুজে বেড়ায়, এরাই
আখরাতকে অস্বীকার করে।
[19] Those who hinder (others) from the
Path of Allâh (Islâmic Monotheism), and
seek a crookedness therein, while they
are disbelievers in the Hereafter.
[20] ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻟَﻢ ﻳَﻜﻮﻧﻮﺍ
ﻣُﻌﺠِﺰﻳﻦَ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﻣﺎ
ﻛﺎﻥَ ﻟَﻬُﻢ ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣِﻦ
ﺃَﻭﻟِﻴﺎﺀَ ۘ ﻳُﻀٰﻌَﻒُ ﻟَﻬُﻢُ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏُ ۚ
ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﺴﺘَﻄﻴﻌﻮﻥَ ﺍﻟﺴَّﻤﻊَ
ﻭَﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳُﺒﺼِﺮﻭﻥَ
[20] তারা পৃথিবীতেও আল্লাহকে
অপারগ করতে পারবে না এবং আল্লাহ
ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারীও
নেই, তাদের জন্য দ্বিগুণ শাস্তি
রয়েছে; তারা শুনতে পারত না এবং
দেখতেও পেত না।
[20] By no means will they escape (from
Allâh’s Torment) on earth, nor have they
protectors besides Allâh! Their torment
will be doubled! They could not bear to
hear (the preachers of the truth) and
they used not to see (the truth because of
their severe aversoin, inspite of the fact
that they had the sense of hearing and
sight).
[21] ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺧَﺴِﺮﻭﺍ
ﺃَﻧﻔُﺴَﻬُﻢ ﻭَﺿَﻞَّ ﻋَﻨﻬُﻢ ﻣﺎ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻔﺘَﺮﻭﻥَ
[21] এরা সে লোক, যারা নিজেরাই
নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, আর
এরা যা কিছু মিথ্যা মা’বুদ সাব্যস্ত
করেছিল, তা সবই তাদের থেকে
হারিয়ে গেছে।
[21] They are those who have lost their
ownselves, and their invented false
deities will vanish from them.
[22] ﻻ ﺟَﺮَﻡَ ﺃَﻧَّﻬُﻢ ﻓِﻰ
ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﻫُﻢُ ﺍﻷَﺧﺴَﺮﻭﻥَ
[22] আখেরাতে এরাই হবে সর্বাধিক
ক্ষতিগ্রস্থ কোন সন্দেহ নেই।
[22] Certainly, they are those who will be
the greatest losers in the Hereafter.
[23] ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ
ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤٰﺖِ ﻭَﺃَﺧﺒَﺘﻮﺍ ﺇِﻟﻰٰ ﺭَﺑِّﻬِﻢ
ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﺃَﺻﺤٰﺐُ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ ۖ ﻫُﻢ
ﻓﻴﻬﺎ ﺧٰﻠِﺪﻭﻥَ
[23] নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও
সৎকাজ করেছে এবং স্বীয়
পালনকর্তার সমীপে বিনতি প্রকাশ
করেছে তারাই বেহেশতবাসী,
সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে।
[23] Verily, those who believe (in the
Oneness of Allâh – Islâmic Monotheism)
and do righteous good deeds, and
humble themselves (in repentance and
obedience) before their Lord, – they will
be dwellers of Paradise to dwell therein
forever.
[24] ۞ ﻣَﺜَﻞُ ﺍﻟﻔَﺮﻳﻘَﻴﻦِ
ﻛَﺎﻷَﻋﻤﻰٰ ﻭَﺍﻷَﺻَﻢِّ ﻭَﺍﻟﺒَﺼﻴﺮِ
ﻭَﺍﻟﺴَّﻤﻴﻊِ ۚ ﻫَﻞ ﻳَﺴﺘَﻮِﻳﺎﻥِ ﻣَﺜَﻠًﺎ ۚ
ﺃَﻓَﻼ ﺗَﺬَﻛَّﺮﻭﻥَ
[24] উভয় পক্ষের দৃষ্টান্ত হচ্ছে যেমন
অন্ধ ও বধির এবং যে দেখতে পায় ও
শুনতে পায় উভয়ের অবস্থা কি এক
সমান? তবুও তোমরা কি ভেবে দেখ
না?
[24] The likeness of the two parties is as
the blind and the deaf and the seer and
the hearer. Are they equal when
compared? Will you not then take heed?
[25] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﻧﻮﺣًﺎ ﺇِﻟﻰٰ
ﻗَﻮﻣِﻪِ ﺇِﻧّﻰ ﻟَﻜُﻢ ﻧَﺬﻳﺮٌ ﻣُﺒﻴﻦٌ
[25] আর অবশ্যই আমি নূহ (আঃ) কে তাঁর
জাতির প্রতি প্রেরণ করেছি, (তিনি
বললেন) নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য
প্রকাশ্য সতর্ককারী।
[25] And indeed We sent Nûh (Noah) to
his people (and he said): “I have come to
you as a plain warner.”
[26] ﺃَﻥ ﻻ ﺗَﻌﺒُﺪﻭﺍ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪَ ۖ ﺇِﻧّﻰ
ﺃَﺧﺎﻑُ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﻋَﺬﺍﺏَ ﻳَﻮﻡٍ
ﺃَﻟﻴﻢٍ
[26] তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারো
এবাদত করবে না। নিশ্চয় আমি
তোমাদের ব্যাপারে এক যন্ত্রণাদায়ক
দিনের আযাবের ভয় করছি।
[26] “That you worship none but Allâh,
surely, I fear for you the torment of a
painful Day.”
[27] ﻓَﻘﺎﻝَ ﺍﻟﻤَﻠَﺄُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ
ﻣِﻦ ﻗَﻮﻣِﻪِ ﻣﺎ ﻧَﺮﻯٰﻚَ ﺇِﻟّﺎ ﺑَﺸَﺮًﺍ
ﻣِﺜﻠَﻨﺎ ﻭَﻣﺎ ﻧَﺮﻯٰﻚَ ﺍﺗَّﺒَﻌَﻚَ ﺇِﻟَّﺎ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻫُﻢ ﺃَﺭﺍﺫِﻟُﻨﺎ ﺑﺎﺩِﻯَ ﺍﻟﺮَّﺃﻯِ
ﻭَﻣﺎ ﻧَﺮﻯٰ ﻟَﻜُﻢ ﻋَﻠَﻴﻨﺎ ﻣِﻦ
ﻓَﻀﻞٍ ﺑَﻞ ﻧَﻈُﻨُّﻜُﻢ ﻛٰﺬِﺑﻴﻦَ
[27] তখন তাঁর কওমের কাফের প্রধানরা
বলল আমরা তো আপনাকে আমাদের মত
একজন মানুষ ব্যতীত আর কিছু মনে করি
না; আর আমাদের মধ্যে যারা ইতর ও
স্থুল-বুদ্ধিসম্পন্ন তারা ব্যতীত কাউকে
তো আপনার আনুগত্য করতে দেখি না
এবং আমাদের উপর আপনাদের কেন
প্রাধান্য দেখি না, বরং আপনারা
সবাই মিথ্যাবাদী বলে আমারা মনে
করি।
[27] The chiefs who the disbelieved
among his people said: “We see you but
a man like ourselves, nor do we see any
follow you but the meanest among us
and they (too) followed you without
thinking. And we do not see in you any
merit above us, in fact we think you are
liars.”
[28] ﻗﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺃَﺭَﺀَﻳﺘُﻢ ﺇِﻥ
ﻛُﻨﺖُ ﻋَﻠﻰٰ ﺑَﻴِّﻨَﺔٍ ﻣِﻦ ﺭَﺑّﻰ
ﻭَﺀﺍﺗﻯٰﻨﻰ ﺭَﺣﻤَﺔً ﻣِﻦ ﻋِﻨﺪِﻩِ
ﻓَﻌُﻤِّﻴَﺖ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﺃَﻧُﻠﺰِﻣُﻜُﻤﻮﻫﺎ
ﻭَﺃَﻧﺘُﻢ ﻟَﻬﺎ ﻛٰﺮِﻫﻮﻥَ
[28] নূহ (আঃ) বললেন-হে আমার জাতি!
দেখ তো আমি যদি আমার
পালনকর্তার পক্ষ হতে স্পষ্ট দলীলের
উপর থাক, আর তিনি যদি তাঁর পক্ষ হতে
আমাকে রহমত দান করে থাকেন,
তারপরেও তা তোমাদের চোখে না
পড়ে, তাহলে আমি কি উহা তোমাদের
উপর তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই
চাপিয়ে দিতে পারি ?
[28] He said: “O my people! Tell me, if I
have a clear proof from my Lord, and a
Mercy (Prophethood) has come to me
from Him, but that (Mercy) has been
obscured from your sight. Shall we
compel you to accept it (Islâmic
Monotheism) when you have a strong
hatred for it?
[29] ﻭَﻳٰﻘَﻮﻡِ ﻻ ﺃَﺳـَٔﻠُﻜُﻢ ﻋَﻠَﻴﻪِ
ﻣﺎﻟًﺎ ۖ ﺇِﻥ ﺃَﺟﺮِﻯَ ﺇِﻟّﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۚ
ﻭَﻣﺎ ﺃَﻧﺎ۠ ﺑِﻄﺎﺭِﺩِ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ۚ
ﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻣُﻠٰﻘﻮﺍ ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﻭَﻟٰﻜِﻨّﻰ
ﺃَﺭﻯٰﻜُﻢ ﻗَﻮﻣًﺎ ﺗَﺠﻬَﻠﻮﻥَ
[29] আর হে আমার জাতি! আমি তো
এজন্য তোমাদের কাছে কোন অর্থ
চাই না; আমার পারিশ্রমিক তো
আল্লাহর জিম্মায় রয়েছে। আমি কিন্তু
ঈমানদারদের তাড়িয়ে দিতে পারি
না। তারা অবশ্যই তাদের পালনকর্তার
সাক্ষাত লাভ করবে। বরঞ্চ
তোমাদেরই আমি অজ্ঞ সম্প্রদায়
দেখছি।
[29] “And O my people! I ask of you no
wealth for it, my reward is from none
but Allâh. I am not going to drive away
those who have believed. Surely, they are
going to meet their Lord, but I see that
you are a people that are ignorant
[30] ﻭَﻳٰﻘَﻮﻡِ ﻣَﻦ ﻳَﻨﺼُﺮُﻧﻰ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻥ ﻃَﺮَﺩﺗُﻬُﻢ ۚ ﺃَﻓَﻼ
ﺗَﺬَﻛَّﺮﻭﻥَ
[30] আর হে আমার জাতি! আমি যদি
তাদের তাড়িয়ে দেই তাহলে আমাকে
আল্লাহ হতে রেহাই দেবে কে?
তোমরা কি চিন্তা করে দেখ না?
[30] “And O my people! Who will help
me against Allâh, if I drove them away?
Will you not then give a thought?
[31] ﻭَﻻ ﺃَﻗﻮﻝُ ﻟَﻜُﻢ ﻋِﻨﺪﻯ
ﺧَﺰﺍﺋِﻦُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻻ ﺃَﻋﻠَﻢُ ﺍﻟﻐَﻴﺐَ
ﻭَﻻ ﺃَﻗﻮﻝُ ﺇِﻧّﻰ ﻣَﻠَﻚٌ ﻭَﻻ ﺃَﻗﻮﻝُ
ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ ﺗَﺰﺩَﺭﻯ ﺃَﻋﻴُﻨُﻜُﻢ ﻟَﻦ
ﻳُﺆﺗِﻴَﻬُﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴﺮًﺍ ۖ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻋﻠَﻢُ
ﺑِﻤﺎ ﻓﻰ ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢ ۖ ﺇِﻧّﻰ ﺇِﺫًﺍ
ﻟَﻤِﻦَ ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
[31] আর আমি তোমাদেরকে বলি না
যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার
রয়েছে এবং একথাও বলি না যে, আমি
গায়বী খবরও জানি; একথাও বলি না
যে, আমি একজন ফেরেশতা; আর
তোমাদের দৃষ্টিতে যারা লাঞ্ছিত
আল্লাহ তাদের কোন কল্যাণ দান
করবেন না। তাদের মনের কথা আল্লাহ
ভাল করেই জানেন। সুতরাং এমন কথা
বললে আমি অন্যায় কারী হব।
[31] “And I do not say to you that with
me are the Treasures of Allâh, “Nor that I
know the Ghaib (unseen);”nor do I say I
am an angel, and I do not say of those
whom your eyes look down upon that
Allâh will not bestow any good on them.
Allâh knows what is in their inner-selves
(as regards belief, etc.). In that case, I
should, indeed be one of the Zâlimûn
(wrong-doers, oppressors).”
[32] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﻨﻮﺡُ ﻗَﺪ ﺟٰﺪَﻟﺘَﻨﺎ
ﻓَﺄَﻛﺜَﺮﺕَ ﺟِﺪٰﻟَﻨﺎ ﻓَﺄﺗِﻨﺎ ﺑِﻤﺎ
ﺗَﻌِﺪُﻧﺎ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺖَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺼّٰﺪِﻗﻴﻦَ
[32] তারা বলল-হে নূহ! আমাদের সাথে
আপনি তর্ক করেছেন এবং অনেক কলহ
করেছেন। এখন আপনার সেই আযাব
নিয়ে আসুন, যে সম্পর্কে আপনি
আমাদিগকে সতর্ক করেছেন, যদি
আপনি সত্যবাদী হয়ে থাকেন।
[32] They said: “O Nûh (Noah)! You have
disputed with us and much have you
prolonged the dispute with us, now bring
upon us what you threaten us with, if
you are of the truthful.”
[33] ﻗﺎﻝَ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﻳَﺄﺗﻴﻜُﻢ ﺑِﻪِ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﺇِﻥ ﺷﺎﺀَ ﻭَﻣﺎ ﺃَﻧﺘُﻢ ﺑِﻤُﻌﺠِﺰﻳﻦَ
[33] তিনি বলেন, উহা তোমাদের
কাছে আল্লাহই আনবেন, যদি তিনি
ইচ্ছা করেন তখন তোমরা পালিয়ে
তাঁকে অপারগ করতে পারবে না।
[33] He said: “Only Allâh will bring it
(the punishment) on you, if He wills, and
then you will escape not.
[34] ﻭَﻻ ﻳَﻨﻔَﻌُﻜُﻢ ﻧُﺼﺤﻰ ﺇِﻥ
ﺃَﺭَﺩﺕُ ﺃَﻥ ﺃَﻧﺼَﺢَ ﻟَﻜُﻢ ﺇِﻥ ﻛﺎﻥَ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳُﺮﻳﺪُ ﺃَﻥ ﻳُﻐﻮِﻳَﻜُﻢ ۚ ﻫُﻮَ
ﺭَﺑُّﻜُﻢ ﻭَﺇِﻟَﻴﻪِ ﺗُﺮﺟَﻌﻮﻥَ
[34] আর আমি তোমাদের নসীহত করতে
চাইলেও তা তোমাদের জন্য ফলপ্রসূ
হবে না, যদি আল্লাহ তোমাদেরকে
গোমরাহ করতে চান; তিনিই
তোমাদের পালনকর্তা এবং তাঁর
কাছেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে।
[34] “And my advice will not profit you,
even if I wish to give you good counsel,
if Allâh’s Will is to keep you astray. He is
your Lord! and to Him you shall return.”
[35] ﺃَﻡ ﻳَﻘﻮﻟﻮﻥَ ﺍﻓﺘَﺮﻯٰﻪُ ۖ ﻗُﻞ
ﺇِﻥِ ﺍﻓﺘَﺮَﻳﺘُﻪُ ﻓَﻌَﻠَﻰَّ ﺇِﺟﺮﺍﻣﻰ
ﻭَﺃَﻧﺎ۠ ﺑَﺮﻱﺀٌ ﻣِﻤّﺎ ﺗُﺠﺮِﻣﻮﻥَ
[35] তারা কি বলে? আপনি কোরআন
রচনা করে এনেছেন? আপনি বলে দিন
আমি যদি রচনা করে এনে থাকি, তবে
সে অপরাধ আমার, আর তোমরা যেসব
অপরাধ কর তার সাথে আমার কোন
সম্পর্ক নেই।
[35] Or they (the pagans of Makkah) say:
“He (Muhammad SAW) has fabricated it
(the Qur’ân).” Say: “If I have fabricated
it, upon me be my crimes, but I am
innocent of (all) those crimes which you
commit.”
[36] ﻭَﺃﻭﺣِﻰَ ﺇِﻟﻰٰ ﻧﻮﺡٍ ﺃَﻧَّﻪُ ﻟَﻦ
ﻳُﺆﻣِﻦَ ﻣِﻦ ﻗَﻮﻣِﻚَ ﺇِﻟّﺎ ﻣَﻦ ﻗَﺪ
ﺀﺍﻣَﻦَ ﻓَﻼ ﺗَﺒﺘَﺌِﺲ ﺑِﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻳَﻔﻌَﻠﻮﻥَ
[36] আর নূহ (আঃ) এর প্রতি ওহী প্রেরণ
করা হলো যে, যারা ইতিমধ্যেই ঈমান
এনেছে তাদের ছাড়া আপনার জাতির
অন্য কেউ ঈমান আনবেনা এতএব তাদের
কার্যকলাপে বিমর্ষ হবেন না।
[36] And it was revealed to Nûh (Noah):
“None of your people will believe except
those who have believed already. So be
not sad because of what they used to do.
[37] ﻭَﺍﺻﻨَﻊِ ﺍﻟﻔُﻠﻚَ ﺑِﺄَﻋﻴُﻨِﻨﺎ
ﻭَﻭَﺣﻴِﻨﺎ ﻭَﻻ ﺗُﺨٰﻄِﺒﻨﻰ ﻓِﻰ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻇَﻠَﻤﻮﺍ ۚ ﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻣُﻐﺮَﻗﻮﻥَ
[37] আর আপনি আমার সম্মুখে আমারই
নির্দেশ মোতাবেক একটি নৌকা
তৈরী করুন এবং পাপিষ্ঠদের ব্যাপারে
আমাকে কোন কথা বলবেন না। অবশ্যই
তারা ডুবে মরবে।
[37] “And construct the ship under Our
Eyes and with Our Revelation, and call
not upon Me on behalf of those who did
wrong; they are surely to be drowned.”
[38] ﻭَﻳَﺼﻨَﻊُ ﺍﻟﻔُﻠﻚَ ﻭَﻛُﻠَّﻤﺎ ﻣَﺮَّ
ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻣَﻠَﺄٌ ﻣِﻦ ﻗَﻮﻣِﻪِ ﺳَﺨِﺮﻭﺍ
ﻣِﻨﻪُ ۚ ﻗﺎﻝَ ﺇِﻥ ﺗَﺴﺨَﺮﻭﺍ ﻣِﻨّﺎ
ﻓَﺈِﻧّﺎ ﻧَﺴﺨَﺮُ ﻣِﻨﻜُﻢ ﻛَﻤﺎ
ﺗَﺴﺨَﺮﻭﻥَ
[38] তিনি নৌকা তৈরী করতে
লাগলেন, আর তাঁর কওমের নেতৃস্থানীয়
ব্যক্তিরা যখন পার্শ্ব দিয়ে যেত, তখন
তাঁকে বিদ্রুপ করত। তিনি বললেন,
তোমরা যদি আমাদের উপহাস করে
থাক, তবে তোমরা যেমন উপহাস করছ
আমরাও তদ্রুপ তোমাদের উপহাস
করছি।
[38] And as he was constructing the ship,
whenever the chiefs of his people passed
by him, they made a mocked at him. He
said: “If you mock at us, so do we mock
at you likewise for your mocking
[39] ﻓَﺴَﻮﻑَ ﺗَﻌﻠَﻤﻮﻥَ ﻣَﻦ
ﻳَﺄﺗﻴﻪِ ﻋَﺬﺍﺏٌ ﻳُﺨﺰﻳﻪِ ﻭَﻳَﺤِﻞُّ
ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻋَﺬﺍﺏٌ ﻣُﻘﻴﻢٌ
[39] অতঃপর অচিরেই জানতে পারবে-
লাঞ্ছনাজনক আযাব কার উপর আসে
এবং চিরস্থায়ী আযাব কার উপর
অবতরণ করে।
[39] “And you will know who it is on
whom will come a torment that will
cover him with disgrace and on whom
will fall a lasting torment.”
[40] ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ ﺟﺎﺀَ ﺃَﻣﺮُﻧﺎ ﻭَﻓﺎﺭَ
ﺍﻟﺘَّﻨّﻮﺭُ ﻗُﻠﻨَﺎ ﺍﺣﻤِﻞ ﻓﻴﻬﺎ ﻣِﻦ
ﻛُﻞٍّ ﺯَﻭﺟَﻴﻦِ ﺍﺛﻨَﻴﻦِ ﻭَﺃَﻫﻠَﻚَ ﺇِﻟّﺎ
ﻣَﻦ ﺳَﺒَﻖَ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺍﻟﻘَﻮﻝُ ﻭَﻣَﻦ
ﺀﺍﻣَﻦَ ۚ ﻭَﻣﺎ ﺀﺍﻣَﻦَ ﻣَﻌَﻪُ ﺇِﻟّﺎ
ﻗَﻠﻴﻞٌ
[40] অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে
পৌঁছাল এবং ভুপৃষ্ঠ উচ্ছসিত হয়ে উঠল,
আমি বললামঃ সর্বপ্রকার জোড়ার
দুটি করে এবং যাদের উপরে পূর্বহেßই
হুকুম হয়ে গেছে তাদের বাদি দিয়ে,
আপনার পরিজনবর্গ ও সকল
ঈমানদারগণকে নৌকায় তুলে নিন।
বলাবাহুল্য অতি অল্পসংখ্যক লোকই
তাঁর সাথে ঈমান এনেছিল।
[40] (So it was) till when Our Command
came and the oven gushed forth (water
like fountains from the earth). We said:
“Embark therein, of each kind two (male
and female), and your family – except
him against whom the Word has already
gone forth – and those who believe. And
none believed with him, except a few.”
[41] ۞ ﻭَﻗﺎﻝَ ﺍﺭﻛَﺒﻮﺍ ﻓﻴﻬﺎ
ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣَﺠﺮ۪ﻯٰﻬﺎ
ﻭَﻣُﺮﺳﻯٰﻬﺎ ۚ ﺇِﻥَّ ﺭَﺑّﻰ ﻟَﻐَﻔﻮﺭٌ
ﺭَﺣﻴﻢٌ
[41] আর তিনি বললেন, তোমরা এতে
আরোহন কর। আল্লাহর নামেই এর গতি
ও স্থিতি। আমার পালনকর্তা অতি
ক্ষমাপরায়ন, মেহেরবান।
[41] And he [Nûh (Noah) A.S.] said:
“Embark therein, in the Name of Allâh
will be its (moving) course and its
(resting) anchorage. Surely, my Lord is
Oft-Forgiving, Most Merciful.” (Tafsir At-
Tabarî)
[42] ﻭَﻫِﻰَ ﺗَﺠﺮﻯ ﺑِﻬِﻢ ﻓﻰ
ﻣَﻮﺝٍ ﻛَﺎﻟﺠِﺒﺎﻝِ ﻭَﻧﺎﺩﻯٰ ﻧﻮﺡٌ
ﺍﺑﻨَﻪُ ﻭَﻛﺎﻥَ ﻓﻰ ﻣَﻌﺰِﻝٍ ﻳٰﺒُﻨَﻰَّ
ﺍﺭﻛَﺐ ﻣَﻌَﻨﺎ ﻭَﻻ ﺗَﻜُﻦ ﻣَﻊَ
ﺍﻟﻜٰﻔِﺮﻳﻦَ
[42] আর নৌকাখানি তাদের বহন করে
চলল পর্বত প্রমাণ তরঙ্গমালার মাঝে,
আর নূহ (আঃ) তাঁর পুত্রকে ডাক দিলেন
আর সে সরে রয়েছিল, তিনি বললেন,
প্রিয় বৎস! আমাদের সাথে আরোহন কর
এবং কাফেরদের সাথে থেকো না।
[42] So it (the ship) sailed with them
amidst the waves like mountains, and
Nûh (Noah) called out to his son, who
had separated himself (apart), “O my
son! Embark with us and be not with the
disbelievers.”
[43] ﻗﺎﻝَ ﺳَـٔﺎﻭﻯ ﺇِﻟﻰٰ ﺟَﺒَﻞٍ
ﻳَﻌﺼِﻤُﻨﻰ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤﺎﺀِ ۚ ﻗﺎﻝَ ﻻ
ﻋﺎﺻِﻢَ ﺍﻟﻴَﻮﻡَ ﻣِﻦ ﺃَﻣﺮِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻟّﺎ
ﻣَﻦ ﺭَﺣِﻢَ ۚ ﻭَﺣﺎﻝَ ﺑَﻴﻨَﻬُﻤَﺎ
ﺍﻟﻤَﻮﺝُ ﻓَﻜﺎﻥَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﻐﺮَﻗﻴﻦَ
[43] সে বলল, আমি অচিরেই কোন
পাহাড়ে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানি
হতে রক্ষা করবে। নূহ (আঃ) বল্লেন
আজকের দিনে আল্লাহর হুকুম থেকে
কোন রক্ষাকারী নেই। একমাত্র তিনি
যাকে দয়া করবেন। এমন সময় উভয়ের
মাঝে তরঙ্গ আড়াল হয়ে দাঁড়াল, ফলে
সে নিমজ্জিত হল।
[43] (The son) replied: “I will betake
myself to some mountain, it will save me
from the water.” Nûh (Noah) said: “This
day there is no saviour from the Decree
of Allâh except him on whom He has
mercy.” And a waves came in between
them, so he (the son) was among the
drowned.
[44] ﻭَﻗﻴﻞَ ﻳٰﺄَﺭﺽُ ﺍﺑﻠَﻌﻰ
ﻣﺎﺀَﻙِ ﻭَﻳٰﺴَﻤﺎﺀُ ﺃَﻗﻠِﻌﻰ
ﻭَﻏﻴﺾَ ﺍﻟﻤﺎﺀُ ﻭَﻗُﻀِﻰَ ﺍﻷَﻣﺮُ
ﻭَﺍﺳﺘَﻮَﺕ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺠﻮﺩِﻯِّ ۖ
ﻭَﻗﻴﻞَ ﺑُﻌﺪًﺍ ﻟِﻠﻘَﻮﻡِ ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
[44] আর নির্দেশ দেয়া হল-হে পৃথিবী!
তোমার পানি গিলে ফেল, আর হে
আকাশ, ক্ষান্ত হও। আর পানি হ্রাস
করা হল এবং কাজ শেষ হয়ে গেল, আর
জুদী পর্বতে নৌকা ভিড়ল এবং
ঘোষনা করা হল, দুরাত্না কাফেররা
নিপাত যাক।
[44] And it was said: “O earth! Swallow
up your water, and O sky! Withhold
(your rain).” And the water was made to
subside and the Decree (of Allâh) was
fulfilled (i.e. the destruction of the
people of Nûh (Noah). And it (the ship)
rested on Mount Judi, and it was said:
“Away with the people who are Zalimûn
(polytheists and wrong-doers)!”
[45] ﻭَﻧﺎﺩﻯٰ ﻧﻮﺡٌ ﺭَﺑَّﻪُ ﻓَﻘﺎﻝَ
ﺭَﺏِّ ﺇِﻥَّ ﺍﺑﻨﻰ ﻣِﻦ ﺃَﻫﻠﻰ ﻭَﺇِﻥَّ
ﻭَﻋﺪَﻙَ ﺍﻟﺤَﻖُّ ﻭَﺃَﻧﺖَ ﺃَﺣﻜَﻢُ
ﺍﻟﺤٰﻜِﻤﻴﻦَ
[45] আর নূহ (আঃ) তাঁর পালনকর্তাকে
ডেকে বললেন-হে পরওয়ারদেগার,
আমার পুত্র তো আমার পরিজনদের
অন্তর্ভুক্ত; আর আপনার ওয়াদাও
নিঃসন্দেহে সত্য আর আপনিই
সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞ ফয়সালাকারী।
[45] And Nûh (Noah) called upon his
Lord and said, “O my Lord! Verily, my
son is of my family! And certainly, Your
Promise is true, and You are the Most
Just of the judges.”
[46] ﻗﺎﻝَ ﻳٰﻨﻮﺡُ ﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻴﺲَ ﻣِﻦ
ﺃَﻫﻠِﻚَ ۖ ﺇِﻧَّﻪُ ﻋَﻤَﻞٌ ﻏَﻴﺮُ ﺻٰﻠِﺢٍ ۖ
ﻓَﻼ ﺗَﺴـَٔﻠﻦِ ﻣﺎ ﻟَﻴﺲَ ﻟَﻚَ ﺑِﻪِ
ﻋِﻠﻢٌ ۖ ﺇِﻧّﻰ ﺃَﻋِﻈُﻚَ ﺃَﻥ ﺗَﻜﻮﻥَ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﺠٰﻬِﻠﻴﻦَ
[46] আল্লাহ বলেন, হে নূহ! নিশ্চয় সে
আপনার পরিবারভুক্ত নয়। নিশ্চই সে
দুরাচার! সুতরাং আমার কাছে এমন
দরখাস্ত করবেন না, যার খবর আপনি
জানেন না। আমি আপনাকে উপপদেশ
দিচ্ছি যে, আপনি অজ্ঞদের দলভুক্ত
হবেন না।
[46] He said: “O Nûh (Noah)! Surely, he
is not of your family; verily, his work is
unrighteous, so ask not of Me that of
which you have no knowledge! I
admonish you, lest you be one of the
ignorant.”
[47] ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﺇِﻧّﻰ ﺃَﻋﻮﺫُ ﺑِﻚَ
ﺃَﻥ ﺃَﺳـَٔﻠَﻚَ ﻣﺎ ﻟَﻴﺲَ ﻟﻰ ﺑِﻪِ
ﻋِﻠﻢٌ ۖ ﻭَﺇِﻟّﺎ ﺗَﻐﻔِﺮ ﻟﻰ ﻭَﺗَﺮﺣَﻤﻨﻰ
ﺃَﻛُﻦ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺨٰﺴِﺮﻳﻦَ
[47] নূহ (আঃ) বলেন-হে আমার
পালনকর্তা আমার যা জানা নেই এমন
কোন দরখাস্ত করা হতে আমি আপনার
কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আপনি
যদি আমাকে ক্ষমা না করেন, দয়া না
করেন, তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হব।
[47] Nûh (Noah) said: “O my Lord! I seek
refuge with You from asking You that of
which I have no knowledge. And unless
You forgive me and have Mercy on me, I
will indeed be one of the losers.”
[48] ﻗﻴﻞَ ﻳٰﻨﻮﺡُ ﺍﻫﺒِﻂ ﺑِﺴَﻠٰﻢٍ
ﻣِﻨّﺎ ﻭَﺑَﺮَﻛٰﺖٍ ﻋَﻠَﻴﻚَ ﻭَﻋَﻠﻰٰ
ﺃُﻣَﻢٍ ﻣِﻤَّﻦ ﻣَﻌَﻚَ ۚ ﻭَﺃُﻣَﻢٌ
ﺳَﻨُﻤَﺘِّﻌُﻬُﻢ ﺛُﻢَّ ﻳَﻤَﺴُّﻬُﻢ ﻣِﻨّﺎ
ﻋَﺬﺍﺏٌ ﺃَﻟﻴﻢٌ
[48] হুকুম হল-হে নূহ (আঃ)! আমার পক্ষ
হতে নিরাপত্তা এবং আপনার নিজের
ও সঙ্গীয় সম্প্রদায়গুলির উপর বরকত
সহকারে অবতরণ করুণ। আর অন্যান্য
যেসব সম্প্রদায় রয়েছে আমি তাদের
কেও উপকৃত হতে দেব। অতঃপর তাদের
উপর আমার দরুন আযাব আপতিত হবে।
[48] It was said: “O Nûh (Noah)! Come
down (from the ship) with peace from Us
and blessings on you and on the people
who are with you (and on some of their
off spring), but (there will be other)
people to whom We shall grant their
pleasures (for a time), but in the end a
painful torment will reach them from
Us.”
[49] ﺗِﻠﻚَ ﻣِﻦ ﺃَﻧﺒﺎﺀِ ﺍﻟﻐَﻴﺐِ
ﻧﻮﺣﻴﻬﺎ ﺇِﻟَﻴﻚَ ۖ ﻣﺎ ﻛُﻨﺖَ
ﺗَﻌﻠَﻤُﻬﺎ ﺃَﻧﺖَ ﻭَﻻ ﻗَﻮﻣُﻚَ ﻣِﻦ
ﻗَﺒﻞِ ﻫٰﺬﺍ ۖ ﻓَﺎﺻﺒِﺮ ۖ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻌٰﻘِﺒَﺔَ
ﻟِﻠﻤُﺘَّﻘﻴﻦَ
[49] এটি গায়বের খবর, আমি আপনার
প্রতি ওহী প্রেরন করছি। ইতিপূর্বে এটা
আপনার এবং আপনার জাতির জানা
ছিল না। আপনি ধৈর্য্যধারণ করুন। যারা
ভয় করে চলে, তাদের পরিণাম ভাল,
সন্দেহ নেই।
[49] This is of the news of the unseen
which We reveal unto you (O
Muhammad SAW), neither you nor your
people knew it before this. So be patient.
Surely, the (good) end is for the Al-
Muttaqûn (pious – see V.2:2)
[50] ﻭَﺇِﻟﻰٰ ﻋﺎﺩٍ ﺃَﺧﺎﻫُﻢ ﻫﻮﺩًﺍ ۚ
ﻗﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺍﻋﺒُﺪُﻭﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣﺎ
ﻟَﻜُﻢ ﻣِﻦ ﺇِﻟٰﻪٍ ﻏَﻴﺮُﻩُ ۖ ﺇِﻥ ﺃَﻧﺘُﻢ
ﺇِﻟّﺎ ﻣُﻔﺘَﺮﻭﻥَ
[50] আর আদ জাতির প্রতি আমি তাদের
ভাই হুদকে প্রেরণ করেছি; তিনি বলেন-
হে আমার জাতি, আল্লাহর বন্দেগী কর,
তিনি ভিন্ন তোমাদের কোন মাবুদ
নেই, তোমরা সবাই মিথ্যা আরোপ
করছ।
[50] And to ‘Ad (people We sent) their
brother Hûd. He said, “O my people!
Worship Allâh! You have no other ilâh
(god) but Him. Certainly, you do nothing
but invent lies!
[51] ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﻻ ﺃَﺳـَٔﻠُﻜُﻢ ﻋَﻠَﻴﻪِ
ﺃَﺟﺮًﺍ ۖ ﺇِﻥ ﺃَﺟﺮِﻯَ ﺇِﻟّﺎ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟَّﺬﻯ ﻓَﻄَﺮَﻧﻰ ۚ ﺃَﻓَﻼ ﺗَﻌﻘِﻠﻮﻥَ
[51] হে আমার জাতি! আমি এজন্য
তোমাদের কাছে কোন মজুরী চাই
না; আমার মজুরী তাঁরই কাছে যিনি
আমাকে পয়দা করেছেন; তবু তোমরা
কেন বোঝ না?
[51] “O my people I ask of you no reward
for it (the Message). My reward is only
from Him, Who created me. Will you not
then understand?
[52] ﻭَﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺍﺳﺘَﻐﻔِﺮﻭﺍ ﺭَﺑَّﻜُﻢ
ﺛُﻢَّ ﺗﻮﺑﻮﺍ ﺇِﻟَﻴﻪِ ﻳُﺮﺳِﻞِ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀَ
ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﻣِﺪﺭﺍﺭًﺍ ﻭَﻳَﺰِﺩﻛُﻢ ﻗُﻮَّﺓً
ﺇِﻟﻰٰ ﻗُﻮَّﺗِﻜُﻢ ﻭَﻻ ﺗَﺘَﻮَﻟَّﻮﺍ
ﻣُﺠﺮِﻣﻴﻦَ
[52] আর হে আমার কওম! তোমাদের
পালন কর্তার কাছে তোমরা ক্ষমা
প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁরই প্রতি
মনোনিবেশ কর; তিনি আসমান থেকে
তোমাদের উপর বৃষ্টি ধারা প্রেরণ
করবেন এবং তোমাদের শক্তির উপর
শক্তি বৃদ্ধি করবেন, তোমরা কিন্তু
অপরাধীদের মত বিমুখ হয়ো না।
[52] “And O my people! Ask forgiveness
of your Lord and then repent to Him, He
will send you (from the sky) abundant
rain, and add strength to your strength,
so do not turn away as Mujrimûn
(criminals, disbelievers in the Oneness of
Allâh).”
[53] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﻬﻮﺩُ ﻣﺎ ﺟِﺌﺘَﻨﺎ
ﺑِﺒَﻴِّﻨَﺔٍ ﻭَﻣﺎ ﻧَﺤﻦُ ﺑِﺘﺎﺭِﻛﻰ
ﺀﺍﻟِﻬَﺘِﻨﺎ ﻋَﻦ ﻗَﻮﻟِﻚَ ﻭَﻣﺎ ﻧَﺤﻦُ
ﻟَﻚَ ﺑِﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[53] তারা বলল-হে হুদ, তুমি আমাদের
কাছে কোন প্রমাণ নিয়ে আস নাই,
আমরা তোমার কথায় আমাদের দেব-
দেবীদের বর্জন করতে পারি না আর
আমরা তোমার প্রতি ঈমান
আনয়নকারীও নই।
[53] They said: “O Hûd! No evidence
have you brought us, and we shall not
leave our gods for your (mere) saying!
And we are not believers in you.
[54] ﺇِﻥ ﻧَﻘﻮﻝُ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻋﺘَﺮﻯٰﻚَ
ﺑَﻌﺾُ ﺀﺍﻟِﻬَﺘِﻨﺎ ﺑِﺴﻮﺀٍ ۗ ﻗﺎﻝَ
ﺇِﻧّﻰ ﺃُﺷﻬِﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺍﺷﻬَﺪﻭﺍ ﺃَﻧّﻰ
ﺑَﺮﻱﺀٌ ﻣِﻤّﺎ ﺗُﺸﺮِﻛﻮﻥَ
[54] বরং আমরাও তো বলি যে,
আমাদের কোন দেবতা তোমার উপরে
শোচনীয় ভূত চাপিয়ে দিয়েছে। হুদ
বললেন-আমি আল্লাহকে সাক্ষী
করেছি আর তোমাও সাক্ষী থাক যে,
আমার কোন সম্পর্ক নাই তাঁদের সাথে
যাদের কে তোমরা শরিক করছ;
[54] “All that we say is that some of our
gods (false deities) have seized you with
evil (madness).” He said: “I call Allâh to
witness and bear you witness that I am
free from that which you ascribe as
partners in worship,—
[55] ﻣِﻦ ﺩﻭﻧِﻪِ ۖ ﻓَﻜﻴﺪﻭﻧﻰ
ﺟَﻤﻴﻌًﺎ ﺛُﻢَّ ﻻ ﺗُﻨﻈِﺮﻭﻥِ
[55] তাকে ছাড়া, তোমরা সবাই মিলে
আমার অনিষ্ট করার প্রয়াস চালাও,
অতঃপর আমাকে কোন অবকাশ দিও
না।
[55] With Him (Allâh). So plot against
me, all of you, and give me no respite.
[56] ﺇِﻧّﻰ ﺗَﻮَﻛَّﻠﺖُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺭَﺑّﻰ ﻭَﺭَﺑِّﻜُﻢ ۚ ﻣﺎ ﻣِﻦ ﺩﺍﺑَّﺔٍ ﺇِﻟّﺎ
ﻫُﻮَ ﺀﺍﺧِﺬٌ ﺑِﻨﺎﺻِﻴَﺘِﻬﺎ ۚ ﺇِﻥَّ ﺭَﺑّﻰ
ﻋَﻠﻰٰ ﺻِﺮٰﻁٍ ﻣُﺴﺘَﻘﻴﻢٍ
[56] আমি আল্লাহর উপর নিশ্চিত ভরসা
করেছি যিনি আমার এবং তোমাদের
পরওয়ারদেগার। পৃথিবীর বুকে
বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নাই যা
তাঁর র্পূণ আয়ত্তাধীন নয়। আমার
পালকর্তার সরল পথে সন্দেহ নেই।
[56] “I put my trust in Allâh, my Lord
and your Lord! There is not a moving
(living) creature but He has grasp of its
forelock. Verily, my Lord is on the
Straight Path (the truth).
[57] ﻓَﺈِﻥ ﺗَﻮَﻟَّﻮﺍ ﻓَﻘَﺪ ﺃَﺑﻠَﻐﺘُﻜُﻢ
ﻣﺎ ﺃُﺭﺳِﻠﺖُ ﺑِﻪِ ﺇِﻟَﻴﻜُﻢ ۚ
ﻭَﻳَﺴﺘَﺨﻠِﻒُ ﺭَﺑّﻰ ﻗَﻮﻣًﺎ
ﻏَﻴﺮَﻛُﻢ ﻭَﻻ ﺗَﻀُﺮّﻭﻧَﻪُ ﺷَﻴـًٔﺎ ۚ ﺇِﻥَّ
ﺭَﺑّﻰ ﻋَﻠﻰٰ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲﺀٍ ﺣَﻔﻴﻆٌ
[57] তথাপি যদি তোমরা মুখ ফেরাও,
তবে আমি তোমাদেরকে তা
পৌছিয়েছি যা আমার কাছে
তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছে; আর
আমার পালনকর্তা অন্য কোন
জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত
করবেন, আর তোমরা তাঁর কিছুই
বিগড়াতে পারবে না; নিশ্চয়ই আমার
পরওয়ারদেগারই প্রতিটি বস্তুর
হেফাজতকারী।
[57] “So if you turn away, still I have
conveyed the Message with which I was
sent to you. My Lord will make another
people succeed you, and you will not
harm Him in the least. Surely, my Lord
is Guardian over all things.”
[58] ﻭَﻟَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَ ﺃَﻣﺮُﻧﺎ ﻧَﺠَّﻴﻨﺎ
ﻫﻮﺩًﺍ ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻣَﻌَﻪُ
ﺑِﺮَﺣﻤَﺔٍ ﻣِﻨّﺎ ﻭَﻧَﺠَّﻴﻨٰﻬُﻢ ﻣِﻦ
ﻋَﺬﺍﺏٍ ﻏَﻠﻴﻆٍ
[58] আর আমার আদেশ যখন উপস্থিত হল,
তখন আমি নিজ রহমতে হুদ এবং তাঁর
সঙ্গী ঈমানদারগণকে পরিত্রাণ করি
এবং তাদেরকে এক কঠিন শাস্তি
থেকে রক্ষা করি।
[58] And when Our Commandment
came, We saved Hûd and those who
believed with him by a Mercy from Us,
and We saved them from a severe
torment.
[59] ﻭَﺗِﻠﻚَ ﻋﺎﺩٌ ۖ ﺟَﺤَﺪﻭﺍ
ﺑِـٔﺎﻳٰﺖِ ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﻭَﻋَﺼَﻮﺍ ﺭُﺳُﻠَﻪُ
ﻭَﺍﺗَّﺒَﻌﻮﺍ ﺃَﻣﺮَ ﻛُﻞِّ ﺟَﺒّﺎﺭٍ ﻋَﻨﻴﺪٍ
[59] এ ছিল আদ জাতি, যারা তাদের
পালনকর্তার আয়াতকে অমান্য করেছে,
আর তদীয় রসূলগণের অবাধ্যতা করেছে
এবং প্রত্যেক উদ্ধত বিরোধীদের
আদেশ পালন করেছে।
[59] Such were ‘Ad (people). They
rejected the Ayât (proofs, evidences,
verses, lessons, signs, revelations, etc.) of
their Lord and disobeyed His
Messengers, and followed the command
of every proud obstinate (oppressor of
the truth, from their leaders)
[60] ﻭَﺃُﺗﺒِﻌﻮﺍ ﻓﻰ ﻫٰﺬِﻩِ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ
ﻟَﻌﻨَﺔً ﻭَﻳَﻮﻡَ ﺍﻟﻘِﻴٰﻤَﺔِ ۗ ﺃَﻻ ﺇِﻥَّ
ﻋﺎﺩًﺍ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﺭَﺑَّﻬُﻢ ۗ ﺃَﻻ ﺑُﻌﺪًﺍ
ﻟِﻌﺎﺩٍ ﻗَﻮﻡِ ﻫﻮﺩٍ
[60] এ দুনিয়ায় তাদের পিছনে পিছনে
লা’নত রয়েছে এবং কেয়ামতের
দিনেও; জেনে রাখ, আদ জাতি তাদের
পালনকর্তাকে অস্বীকার করেছে,
হুদের জ্ঞাতি আদ জাতির প্রতি
অভিসম্পাত রয়েছে জেনে রাখ।
[60] And they were pursued by a curse
in this world and (so they will be) on the
Day of Resurrection. No doubt! Verily,
‘Ad disbelieved in their Lord. So away
with ‘Ad, the people of Hûd
[61] ۞ ﻭَﺇِﻟﻰٰ ﺛَﻤﻮﺩَ ﺃَﺧﺎﻫُﻢ
ﺻٰﻠِﺤًﺎ ۚ ﻗﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺍﻋﺒُﺪُﻭﺍ
ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣﺎ ﻟَﻜُﻢ ﻣِﻦ ﺇِﻟٰﻪٍ ﻏَﻴﺮُﻩُ ۖ
ﻫُﻮَ ﺃَﻧﺸَﺄَﻛُﻢ ﻣِﻦَ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﻭَﺍﺳﺘَﻌﻤَﺮَﻛُﻢ ﻓﻴﻬﺎ
ﻓَﺎﺳﺘَﻐﻔِﺮﻭﻩُ ﺛُﻢَّ ﺗﻮﺑﻮﺍ ﺇِﻟَﻴﻪِ ۚ
ﺇِﻥَّ ﺭَﺑّﻰ ﻗَﺮﻳﺐٌ ﻣُﺠﻴﺐٌ
[61] আর সামুদ জাতি প্রতি তাদের ভাই
সালেহ কে প্রেরণ করি; তিনি বললেন,
হে আমার জাতি। আল্লাহর বন্দেগী কর,
তিনি ছাড়া তোমাদের কোন উপাস্য
নাই। তিনিই যমীন হতে তোমাদেরকে
পয়দা করেছেন, তন্মধ্যে তোমাদেরকে
বসতি দান করেছেন। অতএব; তাঁর কাছে
ক্ষমা প্রার্থনা কর অতঃপর তাঁরই
দিকে ফিরে চল আমার পালনকর্তা
নিকটেই আছেন, কবুল করে থাকেন;
সন্দেহ নেই।
[61] And to Thamûd (people, We sent)
their brother Sâlih. He said: “O my
people! Worship Allâh, you have no
other ilâh (god) but Him. He brought you
forth from the earth and settled you
therein, then ask forgiveness of Him and
turn to Him in repentance. Certainly, my
Lord is Near (to all by His Knowledge),
Responsive.”
[62] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﺼٰﻠِﺢُ ﻗَﺪ ﻛُﻨﺖَ
ﻓﻴﻨﺎ ﻣَﺮﺟُﻮًّﺍ ﻗَﺒﻞَ ﻫٰﺬﺍ ۖ
ﺃَﺗَﻨﻬﻯٰﻨﺎ ﺃَﻥ ﻧَﻌﺒُﺪَ ﻣﺎ ﻳَﻌﺒُﺪُ
ﺀﺍﺑﺎﺅُﻧﺎ ﻭَﺇِﻧَّﻨﺎ ﻟَﻔﻰ ﺷَﻚٍّ ﻣِﻤّﺎ
ﺗَﺪﻋﻮﻧﺎ ﺇِﻟَﻴﻪِ ﻣُﺮﻳﺐٍ
[62] তারা বলল-হে সালেহ, ইতিপূর্বে
তোমার কাছে আমাদের বড় আশা
ছিল। আমাদের বাপ-দাদা যা পূজা করত
তুমি কি আমাদেরকে তার পূজা করতে
নিষেধ কর? কিন্তু যার প্রতি তুমি
আমাদের আহবান জানাচ্ছ আমাদের
তাতে এমন সন্দেহ রয়েছে যে, মন
মোটেই সায় দিচ্ছে না।
[62] They said: “O Sâlih! You have been
among us as a figure of good hope (and
we wished for you to be our chief), till
this [new thing which you have brought;
that we leave our gods and worship your
God (Allâh) Alone]! Do you (now) forbid
us the worship of what our fathers have
worshipped? But we are really in grave
doubt as to that which you invite us
(monotheism).”
[63] ﻗﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺃَﺭَﺀَﻳﺘُﻢ ﺇِﻥ
ﻛُﻨﺖُ ﻋَﻠﻰٰ ﺑَﻴِّﻨَﺔٍ ﻣِﻦ ﺭَﺑّﻰ
ﻭَﺀﺍﺗﻯٰﻨﻰ ﻣِﻨﻪُ ﺭَﺣﻤَﺔً ﻓَﻤَﻦ
ﻳَﻨﺼُﺮُﻧﻰ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻥ ﻋَﺼَﻴﺘُﻪُ ۖ
ﻓَﻤﺎ ﺗَﺰﻳﺪﻭﻧَﻨﻰ ﻏَﻴﺮَ ﺗَﺨﺴﻴﺮٍ
[63] সালেহ বললেন-হে আমার জাতি!
তোমরা কি মনে কর, আমি যদি আমার
পালনকর্তার পক্ষ হতে বুদ্ধি বিবেচনা
লাভ করে থাকি আর তিনি যদি
আমাকে নিজের তরফ হতে রহমত দান
করে থাকেন, অতঃপর আমি যদি তাঁর
অবাধ্য হই তবে তার থেকে কে আমায়
রক্ষা করবে? তোমরা তো আমার
ক্ষতি ছাড়া কিছুই বৃদ্ধি করতে পরবে
না
[63] He said: “O my people! Tell me, if I
have a clear proof from my Lord, and
there has come to me a Mercy
(Prophethood) from Him, who then can
help me against Allâh, if I were to
disobey Him? Then you increase me not
but in loss.
[64] ﻭَﻳٰﻘَﻮﻡِ ﻫٰﺬِﻩِ ﻧﺎﻗَﺔُ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻟَﻜُﻢ ﺀﺍﻳَﺔً ﻓَﺬَﺭﻭﻫﺎ ﺗَﺄﻛُﻞ ﻓﻰ
ﺃَﺭﺽِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻻ ﺗَﻤَﺴّﻮﻫﺎ
ﺑِﺴﻮﺀٍ ﻓَﻴَﺄﺧُﺬَﻛُﻢ ﻋَﺬﺍﺏٌ
ﻗَﺮﻳﺐٌ
[64] আর হে আমার জাতি! আল্লাহর এ
উষ্ট্রীটি তোমাদের জন্য নিদর্শন,
অতএব তাকে আল্লাহর যমীনে বিচরণ
করে খেতে দাও, এবং তাকে মন্দভাবে
স্পর্শও করবে না। নতুবা অতি সত্বর
তোমাদেরকে আযাব পাকড়াও করবে।
[64] “And O my people! This she-camel of
Allâh is a sign to you, leave her to feed
(graze) in Allâh’s land, and touch her not
with evil, lest a near torment should
seize you.”
[65] ﻓَﻌَﻘَﺮﻭﻫﺎ ﻓَﻘﺎﻝَ ﺗَﻤَﺘَّﻌﻮﺍ
ﻓﻰ ﺩﺍﺭِﻛُﻢ ﺛَﻠٰﺜَﺔَ ﺃَﻳّﺎﻡٍ ۖ ﺫٰﻟِﻚَ
ﻭَﻋﺪٌ ﻏَﻴﺮُ ﻣَﻜﺬﻭﺏٍ
[65] তবু তারা উহার পা কেটে দিল।
তখন সালেহ বললেন-তোমরা
নিজেদের গৃহে তিনটি দিন উপভোগ
করে নাও। ইহা এমন ওয়াদা যা মিথ্যা
হবে না।
[65] But they killed her. So he said:
“Enjoy yourselves in your homes for
three days. This is a promise (i.e. a
threat) that will not be belied.”
[66] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَ ﺃَﻣﺮُﻧﺎ ﻧَﺠَّﻴﻨﺎ
ﺻٰﻠِﺤًﺎ ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻣَﻌَﻪُ
ﺑِﺮَﺣﻤَﺔٍ ﻣِﻨّﺎ ﻭَﻣِﻦ ﺧِﺰﻯِ
ﻳَﻮﻣِﺌِﺬٍ ۗ ﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻫُﻮَ ﺍﻟﻘَﻮِﻯُّ
ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ
[66] অতঃপর আমার আযাব যখন উপস্থিত
হল, তখন আমি সালেহকে ও তদীয় সঙ্গী
ঈমানদারগণকে নিজ রহমতে উদ্ধার
করি, এবং সেদিনকার অপমান হতে
রক্ষা করি। নিশ্চয় তোমার পালনকর্তা
তিনি সর্বশক্তিমান পরাক্রমশালী।
[66] So when Our Commandment came,
We saved Sâlih and those who believed
with him by a Mercy from Us, and from
the disgrace of that Day. Verily, your
Lord, He is the All-Strong, the All-Mighty
[67] ﻭَﺃَﺧَﺬَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻇَﻠَﻤُﻮﺍ
ﺍﻟﺼَّﻴﺤَﺔُ ﻓَﺄَﺻﺒَﺤﻮﺍ ﻓﻰ
ﺩِﻳٰﺮِﻫِﻢ ﺟٰﺜِﻤﻴﻦَ
[67] আর ভয়ঙ্কর গর্জন পাপিষ্ঠদের
পাকড়াও করল, ফলে ভোর হতে না
হতেই তারা নিজ নিজ গৃহসমূহে উপুর হয়ে
পড়ে রইল।
[67] And As-Saîhah (torment – awful cry)
overtook the wrong-doers, so they lay
(dead), prostrate in their homes,
[68] ﻛَﺄَﻥ ﻟَﻢ ﻳَﻐﻨَﻮﺍ ﻓﻴﻬﺎ ۗ ﺃَﻻ
ﺇِﻥَّ ﺛَﻤﻮﺩَﺍ۟ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﺭَﺑَّﻬُﻢ ۗ ﺃَﻻ
ﺑُﻌﺪًﺍ ﻟِﺜَﻤﻮﺩَ
[68] যেন তাঁরা কোনদিনই সেখানে
ছিল না। জেনে রাখ, নিশ্চয় সামুদ
জাতি তাদের পালনকর্তার প্রতি
অস্বীকার করেছিল। আরো শুনে রাখ,
সামুদ জাতির জন্য অভিশাপ রয়েছে।
[68] As if they had never lived there. No
doubt! Verily, Thamûd disbelieved in
their Lord. So away with Thamûd!
[69] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺟﺎﺀَﺕ ﺭُﺳُﻠُﻨﺎ
ﺇِﺑﺮٰﻫﻴﻢَ ﺑِﺎﻟﺒُﺸﺮﻯٰ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺳَﻠٰﻤًﺎ ۖ
ﻗﺎﻝَ ﺳَﻠٰﻢٌ ۖ ﻓَﻤﺎ ﻟَﺒِﺚَ ﺃَﻥ ﺟﺎﺀَ
ﺑِﻌِﺠﻞٍ ﺣَﻨﻴﺬٍ
[69] আর অবশ্যই আমার প্রেরিত
ফেরেশতারা ইব্রাহীমেরে কাছে
সুসংবাদ নিয়ে এসেছিল তারা বলল
সালাম, তিনিও বললেন-সালাম।
অতঃপর অল্পক্ষণের মধ্যেই তিনি একটি
ভুনা করা বাছুর নিয়ে এলেন!
[69] And verily, there came Our
Messengers to Ibrahîm (Abraham) with
glad tidings.They said: Salâm (greetings
or peace!) He answered, Salâm (greetings
or peace!) and he hastened to entertain
them with a roasted calf.
[70] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺭَﺀﺍ ﺃَﻳﺪِﻳَﻬُﻢ ﻻ ﺗَﺼِﻞُ
ﺇِﻟَﻴﻪِ ﻧَﻜِﺮَﻫُﻢ ﻭَﺃَﻭﺟَﺲَ ﻣِﻨﻬُﻢ
ﺧﻴﻔَﺔً ۚ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻻ ﺗَﺨَﻒ ﺇِﻧّﺎ
ﺃُﺭﺳِﻠﻨﺎ ﺇِﻟﻰٰ ﻗَﻮﻡِ ﻟﻮﻁٍ
[70] কিন্তু যখন দেখলেন যে,
আহার্য্যের দিকে তাদের হস্ত
প্রসারিত হচ্ছে না, তখন তিনি সন্ধিগ্ধ
হলেন এবং মনে মনে তাঁদের সম্পর্কে
ভয় অনুভব করতে লাগলেন। তারা বলল-
ভয় পাবেন না। আমরা লূতের কওমের
প্রতি প্রেরিত হয়েছি।
[70] But when he saw their hands went
not towards it (the meal), he mistrusted
them, and conceived a fear of them.
They said: “Fear not, we have been sent
against the people of Lût (Lot).”
[71] ﻭَﺍﻣﺮَﺃَﺗُﻪُ ﻗﺎﺋِﻤَﺔٌ ﻓَﻀَﺤِﻜَﺖ
ﻓَﺒَﺸَّﺮﻧٰﻬﺎ ﺑِﺈِﺳﺤٰﻖَ ﻭَﻣِﻦ ﻭَﺭﺍﺀِ
ﺇِﺳﺤٰﻖَ ﻳَﻌﻘﻮﺏَ
[71] তাঁর স্ত্রীও নিকটেই দাড়িয়েছিল,
সে হেসে ফেলল। অতঃপর আমি তাকে
ইসহাকের জন্মের সুখবর দিলাম এবং
ইসহাকের পরের ইয়াকুবেরও।
[71] And his wife was standing (there),
and she laughed (either, because the
Messengers did not eat their food or for
being glad for the destruction of the
people of Lut (Lot). But We gave her glad
tidings of Ishâq (Isaac), and after Ishâq,
of Ya’qûb (Jacob).
[72] ﻗﺎﻟَﺖ ﻳٰﻮَﻳﻠَﺘﻰٰ ﺀَﺃَﻟِﺪُ ﻭَﺃَﻧﺎ۠
ﻋَﺠﻮﺯٌ ﻭَﻫٰﺬﺍ ﺑَﻌﻠﻰ ﺷَﻴﺨًﺎ ۖ ﺇِﻥَّ
ﻫٰﺬﺍ ﻟَﺸَﻲﺀٌ ﻋَﺠﻴﺐٌ
[72] সে বলল-কি দুর্ভাগ্য আমার! আমি
সন্তান প্রসব করব? অথচ আমি
বার্ধক্যের শেষ প্রান্তে এসে উপনীত
হয়েছি আর আমার স্বামীও বৃদ্ধ, এতো
ভারী আশ্চর্য কথা।
[72] She said (in astonishment): “Woe
unto me! Shall I bear a child while I am
an old woman, and here is my husband,
an old man? Verily! This is a strange
thing!”
[73] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃَﺗَﻌﺠَﺒﻴﻦَ ﻣِﻦ ﺃَﻣﺮِ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ۖ ﺭَﺣﻤَﺖُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺑَﺮَﻛٰﺘُﻪُ
ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﺃَﻫﻞَ ﺍﻟﺒَﻴﺖِ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ
ﺣَﻤﻴﺪٌ ﻣَﺠﻴﺪٌ
[73] তারা বলল-তুমি আল্লাহর হুকুম
সম্পর্কে বিস্ময়বোধ করছ? হে
গৃহবাসীরা, তোমাদের উপর আল্লাহর
রহমত ও প্রভুত বরকত রয়েছে। নিশ্চয়
আল্লাহ প্রশংসিত মহিমাময়।
[73] They said: “Do you wonder at the
Decree of Allâh? The Mercy of Allâh and
His Blessings be on you, O the family [of
Ibrahîm (Abraham)]. Surely, He (Allâh) is
All-Praiseworthy, All-Glorious.”
[74] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺫَﻫَﺐَ ﻋَﻦ ﺇِﺑﺮٰﻫﻴﻢَ
ﺍﻟﺮَّﻭﻉُ ﻭَﺟﺎﺀَﺗﻪُ ﺍﻟﺒُﺸﺮﻯٰ
ﻳُﺠٰﺪِﻟُﻨﺎ ﻓﻰ ﻗَﻮﻡِ ﻟﻮﻁٍ
[74] অতঃপর যখন ইব্রাহীম (আঃ) এর
আতঙ্ক দূর হল এবং তিনি সুসংবাদ
প্রাপ্ত হলেন, তখন তিনি আমার সাথে
তর্ক শুরু করলেন কওমে লূত সম্পর্কে।
[74] Then when the fear had gone away
from (the mind of) Ibrahîm (Abraham),
and the glad tidings had reached him, he
began to plead with Us (Our Messengers)
for the people of Lut (Lot).
[75] ﺇِﻥَّ ﺇِﺑﺮٰﻫﻴﻢَ ﻟَﺤَﻠﻴﻢٌ ﺃَﻭّٰﻩٌ
ﻣُﻨﻴﺐٌ
[75] ইব্রাহীম (আঃ) বড়ই ধৈর্য্যশীল,
কোমল অন্তর, আল্লাহমুখী সন্দেহ নেই।
[75] Verily, Ibrahîm (Abraham) was,
without doubt, forbearing, used to
invoking Allâh with humility, and was
repentant (to Allâh all the time, again
and again).
[76] ﻳٰﺈِﺑﺮٰﻫﻴﻢُ ﺃَﻋﺮِﺽ ﻋَﻦ ﻫٰﺬﺍ ۖ
ﺇِﻧَّﻪُ ﻗَﺪ ﺟﺎﺀَ ﺃَﻣﺮُ ﺭَﺑِّﻚَ ۖ ﻭَﺇِﻧَّﻬُﻢ
ﺀﺍﺗﻴﻬِﻢ ﻋَﺬﺍﺏٌ ﻏَﻴﺮُ ﻣَﺮﺩﻭﺩٍ
[76] ইব্রাহীম, এহেন ধারণা পরিহার
কর; তোমার পালনকর্তার হুকুম এসে
গেছে, এবং তাদের উপর সে আযাব
অবশ্যই আপতিত হবে, যা কখনো
প্রতিহত হবার নয়।
[76] “O Ibrahîm (Abraham)! Forsake this.
Indeed, the Commandment of your Lord
has gone forth. Verily, there will come a
torment for them which cannot be
turned back.”
[77] ﻭَﻟَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَﺕ ﺭُﺳُﻠُﻨﺎ ﻟﻮﻃًﺎ
ﺳﻲﺀَ ﺑِﻬِﻢ ﻭَﺿﺎﻕَ ﺑِﻬِﻢ ﺫَﺭﻋًﺎ
ﻭَﻗﺎﻝَ ﻫٰﺬﺍ ﻳَﻮﻡٌ ﻋَﺼﻴﺐٌ
[77] আর যখন আমার প্রেরিত
ফেরেশতাগণ লূত (আঃ) এর নিকট
উপস্থিত হল। তখন তাঁদের আগমনে তিনি
দুচিন্তাগ্রস্ত হলেন এবং তিনি বলতে
লাগলেন, আজ অত্যন্ত কঠিন দিন।
[77] And when Our Messengers came to
Lut (Lot), he was grieved on for them
account and felt himself straitened for
them (lest the town people should
approach them to commit sodomy with
them). He said: “This is a distressful
day.”
[78] ﻭَﺟﺎﺀَﻩُ ﻗَﻮﻣُﻪُ ﻳُﻬﺮَﻋﻮﻥَ
ﺇِﻟَﻴﻪِ ﻭَﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
ﺍﻟﺴَّﻴِّـٔﺎﺕِ ۚ ﻗﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﻫٰﺆُﻻﺀِ
ﺑَﻨﺎﺗﻰ ﻫُﻦَّ ﺃَﻃﻬَﺮُ ﻟَﻜُﻢ ۖ ﻓَﺎﺗَّﻘُﻮﺍ
ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﻻ ﺗُﺨﺰﻭﻥِ ﻓﻰ ﺿَﻴﻔﻰ ۖ
ﺃَﻟَﻴﺲَ ﻣِﻨﻜُﻢ ﺭَﺟُﻞٌ ﺭَﺷﻴﺪٌ
[78] আর তাঁর কওমের লোকেরা
স্বতঃস্ফুর্তভাবে তার (গৃহ) পানে ছুটে
আসতে লাগল। পূর্ব থেকেই তারা কু-
কর্মে তৎপর ছিল। লূত (আঃ) বললেন-হে
আমার কওম, এ আমার কন্যারা রয়েছে,
এরা তোমাদের জন্য অধিক
পবিত্রতমা। সুতরাং তোমরা
আল্লাহকে ভয় কর এবং অতিথিদের
ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো না,
তোমাদের মধ্যে কি কোন ভাল মানুষ
নেই।
[78] And his people came rushing
towards him, and since aforetime they
used to commit crimes (sodomy), he
said: “O my people! Here are my
daughters (i.e. the women of nation),
they are purer for you (if you marry
them lawfully). So fear Allâh and
degrace me not with regards to my
guests! Is there not among you a single
right-minded man?”
[79] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻟَﻘَﺪ ﻋَﻠِﻤﺖَ ﻣﺎ ﻟَﻨﺎ
ﻓﻰ ﺑَﻨﺎﺗِﻚَ ﻣِﻦ ﺣَﻖٍّ ﻭَﺇِﻧَّﻚَ
ﻟَﺘَﻌﻠَﻢُ ﻣﺎ ﻧُﺮﻳﺪُ
[79] তারা বলল ু তুমি তো জানই,
তোমার কন্যাদের নিয়ে আমাদের
কোন গরজ নেই। আর আমরা কি চাই,
তাও তুমি অবশ্যই জান।
[79] They said: “Surely you know that we
have neither any desire nor need of your
daughters, and indeed you know well
what we want!”
[80] ﻗﺎﻝَ ﻟَﻮ ﺃَﻥَّ ﻟﻰ ﺑِﻜُﻢ ﻗُﻮَّﺓً
ﺃَﻭ ﺀﺍﻭﻯ ﺇِﻟﻰٰ ﺭُﻛﻦٍ ﺷَﺪﻳﺪٍ
[80] লূত (আঃ) বললেন-হায়, তোমাদের
বিরুদ্ধে যদি আমার শক্তি থাকত অথবা
আমি কোন সূদৃঢ় আশ্রয় গ্রহণ করতে
সক্ষম হতাম।
[80] He said: “Would that I had strength
(men) to overpower you, or that I could
betake myself to some powerful support
(to resist you).”
[81] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﻠﻮﻁُ ﺇِﻧّﺎ ﺭُﺳُﻞُ
ﺭَﺑِّﻚَ ﻟَﻦ ﻳَﺼِﻠﻮﺍ ﺇِﻟَﻴﻚَ ۖ ﻓَﺄَﺳﺮِ
ﺑِﺄَﻫﻠِﻚَ ﺑِﻘِﻄﻊٍ ﻣِﻦَ ﺍﻟَّﻴﻞِ ﻭَﻻ
ﻳَﻠﺘَﻔِﺖ ﻣِﻨﻜُﻢ ﺃَﺣَﺪٌ ﺇِﻟَّﺎ
ﺍﻣﺮَﺃَﺗَﻚَ ۖ ﺇِﻧَّﻪُ ﻣُﺼﻴﺒُﻬﺎ ﻣﺎ
ﺃَﺻﺎﺑَﻬُﻢ ۚ ﺇِﻥَّ ﻣَﻮﻋِﺪَﻫُﻢُ
ﺍﻟﺼُّﺒﺢُ ۚ ﺃَﻟَﻴﺲَ ﺍﻟﺼُّﺒﺢُ
ﺑِﻘَﺮﻳﺐٍ
[81] মেহমান ফেরেশতাগন বলল-হে লূত
(আঃ) আমরা তোমাদের পালনকর্তার
পক্ষ হতে প্রেরিত ফেরেশতা। এরা
কখনো তোমার দিকে পৌঁছাতে
পারবে না। ব্যস তুমি কিছুটা রাত
থাকতে থাকতে নিজের লোকজন
নিয়ে বাইরে চলে যাও। আর
তোমাদের কেউ যেন পিছনে ফিরে না
তাকায়। কিন্তু তোমার স্ত্রী নিশ্চয়
তার উপরও তা আপতিত হবে, যা ওদের
উপর আপতিত হবে। ভোর বেলাই তাদের
প্রতিশ্রুতির সময়, ভোর কি খুব নিকটে
নয়?
[81] They (Messengers) said: “O Lut (Lot)!
Verily, we are the Messengers from your
Lord! They shall not reach you! So travel
with your family in a part of the night,
and let not any of you look back, but
your wife (will remain behind), verily,
the punishment which will afflict them,
will afflict her. Indeed, morning is their
appointed time. Is not the morning
near?”
[82] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَ ﺃَﻣﺮُﻧﺎ ﺟَﻌَﻠﻨﺎ
ﻋٰﻠِﻴَﻬﺎ ﺳﺎﻓِﻠَﻬﺎ ﻭَﺃَﻣﻄَﺮﻧﺎ ﻋَﻠَﻴﻬﺎ
ﺣِﺠﺎﺭَﺓً ﻣِﻦ ﺳِﺠّﻴﻞٍ ﻣَﻨﻀﻮﺩٍ
[82] অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে
পৌঁছাল, তখন আমি উক্ত জনপদকে
উপরকে নীচে করে দিলাম এবং তার
উপর স্তরে স্তরে কাঁকর পাথর বর্ষণ
করলাম।
[82] So when Our Commandment came,
We turned (the towns of Sodom in
Palestine) upside down, and rained on
them stones of baked clay, in a well-
arranged manner one after another;
[83] ﻣُﺴَﻮَّﻣَﺔً ﻋِﻨﺪَ ﺭَﺑِّﻚَ ۖ ﻭَﻣﺎ
ﻫِﻰَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ ﺑِﺒَﻌﻴﺪٍ
[83] যার প্রতিটি তোমার পালনকর্তার
নিকট চিহ্নিত ছিল। আর সেই
পাপিষ্ঠদের থেকে খুব দূরেও নয়।
[83] Marked from your Lord, and they
are not ever far from the Zâlimûn
(polytheists, evil-doers,).
[84] ۞ ﻭَﺇِﻟﻰٰ ﻣَﺪﻳَﻦَ ﺃَﺧﺎﻫُﻢ
ﺷُﻌَﻴﺒًﺎ ۚ ﻗﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺍﻋﺒُﺪُﻭﺍ
ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣﺎ ﻟَﻜُﻢ ﻣِﻦ ﺇِﻟٰﻪٍ ﻏَﻴﺮُﻩُ ۖ
ﻭَﻻ ﺗَﻨﻘُﺼُﻮﺍ ﺍﻟﻤِﻜﻴﺎﻝَ
ﻭَﺍﻟﻤﻴﺰﺍﻥَ ۚ ﺇِﻧّﻰ ﺃَﺭﻯٰﻜُﻢ ﺑِﺨَﻴﺮٍ
ﻭَﺇِﻧّﻰ ﺃَﺧﺎﻑُ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﻋَﺬﺍﺏَ
ﻳَﻮﻡٍ ﻣُﺤﻴﻂٍ
[84] আর মাদইয়ানবাসীদের প্রতি
তাদের ভাই শোয়ায়েব (আঃ) কে
প্রেরণ করেছি। তিনি বললেন-হে
আমার কওম! আল্লাহর বন্দেগী কর,
তিনি ছাড়া আমাদের কোন মাবুদ
নাই। আর পরিমাপে ও ওজনে কম দিও
না, আজ আমি তোমাদেরকে ভাল
অবস্থায়ই দেখছি, কিন্তু আমি
তোমাদের উপর এমন একদিনের
আযাবের আশঙ্কা করছি যেদিনটি
পরিবেষ্টনকারী।
[84] And to the Madyan (Midian) people
(We sent) their brother Shu’aib. He said:
“O my people! Worship Allâh, you have
no other ilâh (god) but Him, and give not
short measure or weight, I see you in
prosperity; and verily I fear for you the
torment of a Day encompassing.
[85] ﻭَﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺃَﻭﻓُﻮﺍ ﺍﻟﻤِﻜﻴﺎﻝَ
ﻭَﺍﻟﻤﻴﺰﺍﻥَ ﺑِﺎﻟﻘِﺴﻂِ ۖ ﻭَﻻ
ﺗَﺒﺨَﺴُﻮﺍ ﺍﻟﻨّﺎﺱَ ﺃَﺷﻴﺎﺀَﻫُﻢ
ﻭَﻻ ﺗَﻌﺜَﻮﺍ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﻣُﻔﺴِﺪﻳﻦَ
[85] আর হে আমার জাতি, ন্যায়নিষ্ঠার
সাথে ঠিকভাবে পরিমাপ কর ও ওজন
দাও এবং লোকদের জিনিসপত্রে
কোনরূপ ক্ষতি করো না, আর
পৃথিবীতে ফাসাদ করে বেড়াবে না।
[85] “And O my people! Give full
measure and weight in justice and
reduce not the things that are due to the
people, and do not commit mischief in
the land, causing corruption.
[86] ﺑَﻘِﻴَّﺖُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺧَﻴﺮٌ ﻟَﻜُﻢ ﺇِﻥ
ﻛُﻨﺘُﻢ ﻣُﺆﻣِﻨﻴﻦَ ۚ ﻭَﻣﺎ ﺃَﻧﺎ۠
ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﺑِﺤَﻔﻴﻆٍ
[86] আল্লাহ প্রদত্ত উদ্ধৃত্ত তোমাদের
জন্য উত্তম, যদি তোমরা ঈমানদার হও,
আর আমি তো তোমাদের উপর সদা
পর্যবেক্ষণকারী নই।
[86] “That which is left by Allâh for you
(after giving the rights of the people) is
better for you, if you are believers. And I
am not a guardian over you.”
[87] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﺸُﻌَﻴﺐُ ﺃَﺻَﻠﻮٰﺗُﻚَ
ﺗَﺄﻣُﺮُﻙَ ﺃَﻥ ﻧَﺘﺮُﻙَ ﻣﺎ ﻳَﻌﺒُﺪُ
ﺀﺍﺑﺎﺅُﻧﺎ ﺃَﻭ ﺃَﻥ ﻧَﻔﻌَﻞَ ﻓﻰ
ﺃَﻣﻮٰﻟِﻨﺎ ﻣﺎ ﻧَﺸٰﺆُﺍ۟ ۖ ﺇِﻧَّﻚَ ﻟَﺄَﻧﺖَ
ﺍﻟﺤَﻠﻴﻢُ ﺍﻟﺮَّﺷﻴﺪُ
[87] তারা বলল-হে শোয়ায়েব (আঃ)
আপনার নামায কি আপনাকে ইহাই
শিক্ষা দেয় যে, আমরা ঐসব
উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব আমাদের
বাপ-দাদারা যাদের উপাসনা করত?
অথবা আমাদের ধন-সম্পদে ইচ্ছামত যা
কিছু করে থাকি, তা ছেড়ে দেব?
আপনি তো একজন খাস মহৎ ব্যক্তি ও
সৎপথের পথিক।
[87] They said: “O Shu‘aib! Does your
Salât (prayer) command that we give up
what our fathers used to worship, or that
we give up doing what we like with our
property? Verily, you are the forbearer,
right-minded!” (They said this
sarcastically).
[88] ﻗﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺃَﺭَﺀَﻳﺘُﻢ ﺇِﻥ
ﻛُﻨﺖُ ﻋَﻠﻰٰ ﺑَﻴِّﻨَﺔٍ ﻣِﻦ ﺭَﺑّﻰ
ﻭَﺭَﺯَﻗَﻨﻰ ﻣِﻨﻪُ ﺭِﺯﻗًﺎ ﺣَﺴَﻨًﺎ ۚ
ﻭَﻣﺎ ﺃُﺭﻳﺪُ ﺃَﻥ ﺃُﺧﺎﻟِﻔَﻜُﻢ ﺇِﻟﻰٰ ﻣﺎ
ﺃَﻧﻬﻯٰﻜُﻢ ﻋَﻨﻪُ ۚ ﺇِﻥ ﺃُﺭﻳﺪُ ﺇِﻟَّﺎ
ﺍﻹِﺻﻠٰﺢَ ﻣَﺎ ﺍﺳﺘَﻄَﻌﺖُ ۚ ﻭَﻣﺎ
ﺗَﻮﻓﻴﻘﻰ ﺇِﻟّﺎ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ۚ ﻋَﻠَﻴﻪِ
ﺗَﻮَﻛَّﻠﺖُ ﻭَﺇِﻟَﻴﻪِ ﺃُﻧﻴﺐُ
[88] শোয়ায়েব (আঃ) বললেন-হে
দেশবাসী, তোমরা কি মনে কর! আমি
যদি আমার পরওয়ারদেগারের পক্ষ হতে
সুস্পষ্ট দলীলের উপর কায়েম থাকি আর
তিনি যদি নিজের তরফ হতে আমাকে
উত্তম রিযিক দান করে থাকেন, (তবে
কি আমি তাঁর হুকুম অমান্য করতে
পারি?) আর আমি চাই না যে
তোমাদেরকে যা ছাড়াতে চাই পরে
নিজেই সে কাজে লিপ্ত হব, আমি তো
যথাসাধ্য শোধরাতে চাই। আল্লাহর
মদদ দ্বারাই কিন্তু কাজ হয়ে থাকে,
আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি এবং তাঁরই
প্রতি ফিরে যাই।
[88] He said: “O my people! Tell me, if I
have a clear evidence from my Lord, and
He has given me a good sustenance from
Himself (shall I corrupt it by mixing it
with the unlawfully earned money). I
wish not, in contradiction to you, to do
that which I forbid you. I only desire
reform to the best of my power. And my
guidance cannot come except from Allâh,
in Him I trust and unto Him I repent.
[89] ﻭَﻳٰﻘَﻮﻡِ ﻻ ﻳَﺠﺮِﻣَﻨَّﻜُﻢ
ﺷِﻘﺎﻗﻰ ﺃَﻥ ﻳُﺼﻴﺒَﻜُﻢ ﻣِﺜﻞُ ﻣﺎ
ﺃَﺻﺎﺏَ ﻗَﻮﻡَ ﻧﻮﺡٍ ﺃَﻭ ﻗَﻮﻡَ
ﻫﻮﺩٍ ﺃَﻭ ﻗَﻮﻡَ ﺻٰﻠِﺢٍ ۚ ﻭَﻣﺎ ﻗَﻮﻡُ
ﻟﻮﻁٍ ﻣِﻨﻜُﻢ ﺑِﺒَﻌﻴﺪٍ
[89] আর হে আমার জাতি! আমার সাথে
জিদ করে তোমরা নূহ বা হুদ অথবা
সালেহ (আঃ) এর কওমের মত নিজেদের
উপর আযাব ডেকে আনবে না। আর লূতের
জাতি তো তোমাদের থেকে খুব দূরে
নয়।
[89] “And O my people! Let not my
Shiqâq cause you to suffer the fate
similar to that of the people of Nûh
(Noah) or of Hûd or of Sâlih, and the
people of Lut (Lot) are not far off from
you!
[90] ﻭَﺍﺳﺘَﻐﻔِﺮﻭﺍ ﺭَﺑَّﻜُﻢ ﺛُﻢَّ
ﺗﻮﺑﻮﺍ ﺇِﻟَﻴﻪِ ۚ ﺇِﻥَّ ﺭَﺑّﻰ ﺭَﺣﻴﻢٌ
ﻭَﺩﻭﺩٌ
[90] আর তোমাদের পালনকর্তার
কাছে মার্জনা চাও এবং তাঁরই পানে
ফিরে এসো নিশ্চয়ই আমার
পরওয়ারদেগার খুবই মেহেরবান
অতিস্নেহময়।
[90] “And ask forgiveness of your Lord
and turn unto Him in repentance. Verily,
my Lord is Most Merciful, Most Loving.”
[91] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﺸُﻌَﻴﺐُ ﻣﺎ ﻧَﻔﻘَﻪُ
ﻛَﺜﻴﺮًﺍ ﻣِﻤّﺎ ﺗَﻘﻮﻝُ ﻭَﺇِﻧّﺎ ﻟَﻨَﺮﻯٰﻚَ
ﻓﻴﻨﺎ ﺿَﻌﻴﻔًﺎ ۖ ﻭَﻟَﻮﻻ ﺭَﻫﻄُﻚَ
ﻟَﺮَﺟَﻤﻨٰﻚَ ۖ ﻭَﻣﺎ ﺃَﻧﺖَ ﻋَﻠَﻴﻨﺎ
ﺑِﻌَﺰﻳﺰٍ
[91] তারা বলল-হে শোয়ায়েব (আঃ)
আপনি যা বলেছেন তার অনেক কথাই
আমরা বুঝি নাই, আমারা তো
আপনাকে আমাদের মধ্যে দূর্বল ব্যক্তি
রূপে মনে করি। আপনার ভাই বন্ধুরা না
থাকলে আমরা আপনাকে প্রস্তরাঘাতে
হত্যা করতাম। আমাদের দৃষ্টিতে আপনি
কোন মর্যাদাবান ব্যক্তি নন।
[91] They said: “O Shu’aib! We do not
understand much of what you say, and
we see you a weak (it is said that he was
a blind man) among us. Were it not for
your family, we should certainly have
stoned you and you are not powerful
against us.”
[92] ﻗﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺃَﺭَﻫﻄﻰ ﺃَﻋَﺰُّ
ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﺗَّﺨَﺬﺗُﻤﻮﻩُ
ﻭَﺭﺍﺀَﻛُﻢ ﻇِﻬﺮِﻳًّﺎ ۖ ﺇِﻥَّ ﺭَﺑّﻰ ﺑِﻤﺎ
ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ ﻣُﺤﻴﻂٌ
[92] শোয়ায়েব (আঃ) বলেন-হে আমার
জাতি, আমার ভাই বন্ধুরা কি
তোমাদের কাছে আল্লাহর চেয়ে
প্রভাবশালী? আর তোমরা তাকে
বিস্মৃত হয়ে পেছনে ফেলে রেখেছ,
নিশ্চয় তোমাদের কার্যকলাপ আমার
পালনকর্তার আয়ত্তে রয়েছে।
[92] He said: “O my people! Is then my
family of more weight with you than
Allâh? And you have cast Him away
behind your backs. Verily, my Lord is
surrounding all that you do
[93] ﻭَﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺍﻋﻤَﻠﻮﺍ ﻋَﻠﻰٰ
ﻣَﻜﺎﻧَﺘِﻜُﻢ ﺇِﻧّﻰ ﻋٰﻤِﻞٌ ۖ ﺳَﻮﻑَ
ﺗَﻌﻠَﻤﻮﻥَ ﻣَﻦ ﻳَﺄﺗﻴﻪِ ﻋَﺬﺍﺏٌ
ﻳُﺨﺰﻳﻪِ ﻭَﻣَﻦ ﻫُﻮَ ﻛٰﺬِﺏٌ ۖ
ﻭَﺍﺭﺗَﻘِﺒﻮﺍ ﺇِﻧّﻰ ﻣَﻌَﻜُﻢ ﺭَﻗﻴﺐٌ
[93] আর হে আমার জাতি, তোমরা
নিজ স্থানে কাজ করে যাও, আমিও
কাজ করছি, অচিরেই জানতে পারবে
কার উপর অপমানকর আযাব আসে আর
কে মিথ্যাবাদী? আর তোমরাও
অপেক্ষায় থাক, আমিও তোমাদের
সাথে অপেক্ষায় রইলাম।
[93] “And O my people! Act according to
your ability and way, and I am acting
(on my way). You will come to know who
it is on whom descends the torment that
will cover him with ignominy, and who
is a liar! And watch you! Verily, I too am
watching with you.”
[94] ﻭَﻟَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَ ﺃَﻣﺮُﻧﺎ ﻧَﺠَّﻴﻨﺎ
ﺷُﻌَﻴﺒًﺎ ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻣَﻌَﻪُ
ﺑِﺮَﺣﻤَﺔٍ ﻣِﻨّﺎ ﻭَﺃَﺧَﺬَﺕِ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻇَﻠَﻤُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﻴﺤَﺔُ ﻓَﺄَﺻﺒَﺤﻮﺍ
ﻓﻰ ﺩِﻳٰﺮِﻫِﻢ ﺟٰﺜِﻤﻴﻦَ
[94] আর আমার হুকুম যখন এল, আমি
শোয়ায়েব (আঃ) ও তাঁর সঙ্গী
ঈমানদারগণকে নিজ রহমতে রক্ষা করি
আর পাপিষ্ঠদের উপর বিকট গর্জন পতিত
হলো। ফলে ভোর না হতেই তারা
নিজেদের ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।
[94] And when Our Commandment
came, We saved Shu’aib and those who
believed with him by a Mercy from Us.
And As-Saihah (torment – awful cry)
seized the wrong-doers, and they lay
(dead) prostrate in their homes.
[95] ﻛَﺄَﻥ ﻟَﻢ ﻳَﻐﻨَﻮﺍ ﻓﻴﻬﺎ ۗ ﺃَﻻ
ﺑُﻌﺪًﺍ ﻟِﻤَﺪﻳَﻦَ ﻛَﻤﺎ ﺑَﻌِﺪَﺕ ﺛَﻤﻮﺩُ
[95] যেন তারা সেখানে কখনো
বসবাসই করে নাই। জেনে রাখ, সামুদের
প্রতি অভিসম্পাতের মত
মাদইয়ানবাসীর উপরেও অভিসম্পাত।
[95] As if they had never lived there! So
away with Madyan (Midian)! as away
with Thamud! (All these nations were
destroyed).
[96] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﻣﻮﺳﻰٰ
ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ﻭَﺳُﻠﻄٰﻦٍ ﻣُﺒﻴﻦٍ
[96] আর আমি মূসা (আঃ) কে প্রেরণ
করি আমার নিদর্শনাদি ও সুস্পষ্ট
সনদসহ;
[96] And indeed We sent Mûsa (Moses)
with Our Ayât (proofs, evidences, verses,
lessons, signs, revelations, etc.) and a
manifest authority;
[97] ﺇِﻟﻰٰ ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ ﻭَﻣَﻠَﺈِﻳ۟ﻪِ
ﻓَﺎﺗَّﺒَﻌﻮﺍ ﺃَﻣﺮَ ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ ۖ ﻭَﻣﺎ
ﺃَﻣﺮُ ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ ﺑِﺮَﺷﻴﺪٍ
[97] ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের
কাছে, তবুও তারা ফেরাউনের হুকুমে
চলতে থাকে, অথচ ফেরাউনের কোন
কথা ন্যায় সঙ্গত ছিল না।
[97] To Fir’aun (Pharaoh) and his chiefs,
but they followed the command of
Fir’aun (Pharaoh), and the command of
Fir’aun (Pharaoh) was no right guide.
[98] ﻳَﻘﺪُﻡُ ﻗَﻮﻣَﻪُ ﻳَﻮﻡَ ﺍﻟﻘِﻴٰﻤَﺔِ
ﻓَﺄَﻭﺭَﺩَﻫُﻢُ ﺍﻟﻨّﺎﺭَ ۖ ﻭَﺑِﺌﺲَ ﺍﻟﻮِﺭﺩُ
ﺍﻟﻤَﻮﺭﻭﺩُ
[98] কেয়ামতের দিন সে তার জাতির
লোকদের আগে আগে থাকবে এবং
তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে পৌঁছে
দিবে। আর সেটা অতীব নিকৃষ্ট স্থান,
সেখানে তারা পৌঁছেছে।।
[98] He will go ahead of his people on the
Day of Resurrection, and will lead them
into the Fire, and evil indeed is the place
to which they are led.
[99] ﻭَﺃُﺗﺒِﻌﻮﺍ ﻓﻰ ﻫٰﺬِﻩِ ﻟَﻌﻨَﺔً
ﻭَﻳَﻮﻡَ ﺍﻟﻘِﻴٰﻤَﺔِ ۚ ﺑِﺌﺲَ ﺍﻟﺮِّﻓﺪُ
ﺍﻟﻤَﺮﻓﻮﺩُ
[99] আর এ জগতেও তাদের পেছনে
লানত রয়েছে এবং কিয়ামতের দিনেও;
অত্যন্ত জঘন্য প্রতিফল, যা তারা
পেয়েছে।
[99] They were pursued by a curse in
this (deceiving life of this world) and (so
they will be pursued by a curse) on the
Day of Resurrection. Evil indeed is the
gift gifted [i.e., the curse (in this world)
pursued by another curse (in the
Hereafter)].
[100] ﺫٰﻟِﻚَ ﻣِﻦ ﺃَﻧﺒﺎﺀِ ﺍﻟﻘُﺮﻯٰ
ﻧَﻘُﺼُّﻪُ ﻋَﻠَﻴﻚَ ۖ ﻣِﻨﻬﺎ ﻗﺎﺋِﻢٌ
ﻭَﺣَﺼﻴﺪٌ
[100] এ হচ্ছে কয়েকটি জনপদের
সামান্য ইতিবৃত্ত, যা আমি আপনাকে
শোনাচ্ছি। তন্মধ্যে কোন কোনটি
এখনও বর্তমান আছে আর কোন
কোনটির শিকড় কেটে দেয়া হয়েছে।
[100] That is some of the news of the
(population of) towns which We relate
unto you (O Muhammad SAW); of them,
some are (still) standing, and some have
been (already) reaped.
[101] ﻭَﻣﺎ ﻇَﻠَﻤﻨٰﻬُﻢ ﻭَﻟٰﻜِﻦ
ﻇَﻠَﻤﻮﺍ ﺃَﻧﻔُﺴَﻬُﻢ ۖ ﻓَﻤﺎ ﺃَﻏﻨَﺖ
ﻋَﻨﻬُﻢ ﺀﺍﻟِﻬَﺘُﻬُﻢُ ﺍﻟَّﺘﻰ ﻳَﺪﻋﻮﻥَ
ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣِﻦ ﺷَﻲﺀٍ ﻟَﻤّﺎ
ﺟﺎﺀَ ﺃَﻣﺮُ ﺭَﺑِّﻚَ ۖ ﻭَﻣﺎ ﺯﺍﺩﻭﻫُﻢ
ﻏَﻴﺮَ ﺗَﺘﺒﻴﺐٍ
[101] আমি কিন্তু তাদের প্রতি জুলুম
করি নাই বরং তারা নিজেরাই নিজের
উপর অবিচার করেছে। ফলে আল্লাহকে
বাদ দিয়ে তারা যেসব মাবুদকে
ডাকতো আপনার পালনকর্তার হুকুম যখন
এসে পড়ল, তখন কেউ কোন কাজে আসল
না। তারা শুধু বিপর্যয়ই বৃদ্ধি করল।
[101] We wronged them not, but they
wronged themselves. So their âlihah
(gods), other than Allâh, whom they
invoked, profited them naught when
there came the Command of your Lord,
nor did they add aught (to them) but
destruction.
[102] ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﺃَﺧﺬُ ﺭَﺑِّﻚَ ﺇِﺫﺍ
ﺃَﺧَﺬَ ﺍﻟﻘُﺮﻯٰ ﻭَﻫِﻰَ ﻇٰﻠِﻤَﺔٌ ۚ ﺇِﻥَّ
ﺃَﺧﺬَﻩُ ﺃَﻟﻴﻢٌ ﺷَﺪﻳﺪٌ
[102] আর তোমার পরওয়ারদেগার যখন
কোন পাপপূর্ণ জনপদকে ধরেন, তখন
এমনিভাবেই ধরে থাকেন। নিশ্চয় তাঁর
পাকড়াও খুবই মারাত্নক, বড়ই কঠোর।
[102] Such is the Seizure of your Lord
when He seizes the (population of) towns
while they are doing wrong. Verily, His
Seizure is painful, (and) severe.
[103] ﺇِﻥَّ ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻚَ ﻝَﺀﺍﻳَﺔً ﻟِﻤَﻦ
ﺧﺎﻑَ ﻋَﺬﺍﺏَ ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ۚ ﺫٰﻟِﻚَ
ﻳَﻮﻡٌ ﻣَﺠﻤﻮﻉٌ ﻟَﻪُ ﺍﻟﻨّﺎﺱُ
ﻭَﺫٰﻟِﻚَ ﻳَﻮﻡٌ ﻣَﺸﻬﻮﺩٌ
[103] নিশ্চয় ইহার মধ্যে নিদর্শন রয়েছে
এমন প্রতিটি মানুষের জন্য যে
আখেরাতের আযাবকে ভয় করে। উহা
এমন একদিন, যে দিন সব মানুষেই সমবেত
হবে, সেদিনটি যে হাযিরের দিন।
[103] Indeed in that (there) is a sure
lesson for those who fear the torment of
the Hereafter. That is a Day whereon
mankind will be gathered together, and
that is a Day when all (the dwellers of
the heavens and the earth) will be
present.
[104] ﻭَﻣﺎ ﻧُﺆَﺧِّﺮُﻩُ ﺇِﻟّﺎ ﻟِﺄَﺟَﻞٍ
ﻣَﻌﺪﻭﺩٍ
[104] আর আমি যে উহা বিলম্বিত করি,
তা শুধু একটি ওয়াদার কারণে যা
নির্ধারিত রয়েছে।
[104] And We delay it only for a term
(already) fixed.
[105] ﻳَﻮﻡَ ﻳَﺄﺕِ ﻻ ﺗَﻜَﻠَّﻢُ ﻧَﻔﺲٌ
ﺇِﻟّﺎ ﺑِﺈِﺫﻧِﻪِ ۚ ﻓَﻤِﻨﻬُﻢ ﺷَﻘِﻰٌّ
ﻭَﺳَﻌﻴﺪٌ
[105] যেদিন তা আসবে সেদিন
আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কোন
কথা বলতে পারে না। অতঃপর কিছু
লোক হবে হতভাগ্য আর কিছু লোক
সৌভাগ্যবান।
[105] On the Day when it comes, no
person shall speak except by His (Allâh’s)
Leave. Some among them will be
wretched and (others) blessed.
[106] ﻓَﺄَﻣَّﺎ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺷَﻘﻮﺍ ﻓَﻔِﻰ
ﺍﻟﻨّﺎﺭِ ﻟَﻬُﻢ ﻓﻴﻬﺎ ﺯَﻓﻴﺮٌ ﻭَﺷَﻬﻴﻖٌ
[106] অতএব যারা হতভাগ্য তারা
দোযখে যাবে, সেখানে তারা
আর্তনাদ ও চিৎকার করতে থাকবে।
[106] As for those who are wretched,
they will be in the Fire, sighing in a high
and low tone.
[107] ﺧٰﻠِﺪﻳﻦَ ﻓﻴﻬﺎ ﻣﺎ ﺩﺍﻣَﺖِ
ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕُ ﻭَﺍﻷَﺭﺽُ ﺇِﻟّﺎ ﻣﺎ
ﺷﺎﺀَ ﺭَﺑُّﻚَ ۚ ﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻓَﻌّﺎﻝٌ ﻟِﻤﺎ
ﻳُﺮﻳﺪُ
[107] তারা সেখানে চিরকাল থাকবে,
যতদিন আসমান ও যমীন বর্তমান
থাকবে। তবে তোমার প্রতিপালক অন্য
কিছু ইচ্ছা করলে ভিন্ন কথা। নিশ্চয়
তোমার পরওয়ারদেগার যা ইচ্ছা
করতে পারেন।
[107] They will dwell therein for all the
time that the heavens and the earth
endure, except as your Lord wills. Verily,
your Lord is the Doer of whatsoever He
intends (or wills).
[108] ۞ ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺳُﻌِﺪﻭﺍ
ﻓَﻔِﻰ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ ﺧٰﻠِﺪﻳﻦَ ﻓﻴﻬﺎ ﻣﺎ
ﺩﺍﻣَﺖِ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕُ ﻭَﺍﻷَﺭﺽُ ﺇِﻟّﺎ
ﻣﺎ ﺷﺎﺀَ ﺭَﺑُّﻚَ ۖ ﻋَﻄﺎﺀً ﻏَﻴﺮَ
ﻣَﺠﺬﻭﺫٍ
[108] আর যারা সৌভাগ্যবান তারা
বেহেশতের মাঝে, সেখানেই চিরদিন
থাকবে, যতদিন আসমান ও যমীন
বর্তমান থাকবে। তবে তোমার প্রভু
অন্য কিছু ইচ্ছা করলে ভিন্ন কথা। এ
দানের ধারাবাহিকতা কখনো ছিন্ন
হওয়ার নয়।
[108] And those who are blessed, they
will be in Paradise, abiding therein for
all the time that the heavens and the
earth endure, except as your Lord wills,
a gift without an end.
[109] ﻓَﻼ ﺗَﻚُ ﻓﻰ ﻣِﺮﻳَﺔٍ ﻣِﻤّﺎ
ﻳَﻌﺒُﺪُ ﻫٰﺆُﻻﺀِ ۚ ﻣﺎ ﻳَﻌﺒُﺪﻭﻥَ ﺇِﻟّﺎ
ﻛَﻤﺎ ﻳَﻌﺒُﺪُ ﺀﺍﺑﺎﺅُﻫُﻢ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ ۚ
ﻭَﺇِﻧّﺎ ﻟَﻤُﻮَﻓّﻮﻫُﻢ ﻧَﺼﻴﺒَﻬُﻢ ﻏَﻴﺮَ
ﻣَﻨﻘﻮﺹٍ
[109] অতএব, তারা যেসবের উপাসনা
করে তুমি সে ব্যাপারে কোনরূপ
ধোঁকায় পড়বে না। তাদের পূর্ববর্তী
বাপ-দাদারা যেমন পূজা উপাসনা করত,
এরাও তেমন করছে। আর নিশ্চয় আমি
তাদেরকে আযাবের ভাগ কিছু মাত্রও
কম না করেই পুরোপুরি দান করবো।
[109] So be not in doubt (O Muhammad
SAW) as to what these people (pagans
and polytheists) worship. They worship
nothing but what their fathers
worshipped before (them). And verily,
We shall repay them in full their portion
without diminution.
[110] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺀﺍﺗَﻴﻨﺎ ﻣﻮﺳَﻰ
ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ﻓَﺎﺧﺘُﻠِﻒَ ﻓﻴﻪِ ۚ ﻭَﻟَﻮﻻ
ﻛَﻠِﻤَﺔٌ ﺳَﺒَﻘَﺖ ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻚَ ﻟَﻘُﻀِﻰَ
ﺑَﻴﻨَﻬُﻢ ۚ ﻭَﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻟَﻔﻰ ﺷَﻚٍّ ﻣِﻨﻪُ
ﻣُﺮﻳﺐٍ
[110] আর আমি মূসা (আঃ)-কে অবশ্যই
কিতাব দিয়েছিলাম অতঃপর তাতে
বিরোধ সৃষ্টি হল; বলাবাহুল্য তোমার
পালনকর্তার পক্ষ হতে, একটি কথা যদি
আগেই বলা না হত, তাহলে তাদের মধ্যে
চুড়ান্ত ফয়সালা হয়ে যেত তারা এ
ব্যাপারে এমনই সন্দেহ প্রবণ যে,
কিছুতেই নিশ্চিত হতে পারছে না।
[110] Indeed, We gave the Book to Mûsa
(Moses), but differences arose therein,
and had it not been for a Word that had
gone forth before from your Lord, the
case would have been judged between
them, and indeed they are in grave
doubt concerning it (this Qur’ân).
[111] ﻭَﺇِﻥَّ ﻛُﻠًّﺎ ﻟَﻤّﺎ ﻟَﻴُﻮَﻓِّﻴَﻨَّﻬُﻢ
ﺭَﺑُّﻚَ ﺃَﻋﻤٰﻠَﻬُﻢ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﺑِﻤﺎ
ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ ﺧَﺒﻴﺮٌ
[111] আর যত লোকই হোক না কেন,
যখন সময় হবে, তোমার প্রভু তাদের
সকলেরই আমলের প্রতিদান পুরোপুরি
দান করবেন। নিশ্চয় তিনি তাদের
যাবতীয় কার্যকলাপের খবর রাখেন।
[111] And verily, to each of them your
Lord will repay their works in full.
Surely, He is All-Aware of what they do.
[112] ﻓَﺎﺳﺘَﻘِﻢ ﻛَﻤﺎ ﺃُﻣِﺮﺕَ ﻭَﻣَﻦ
ﺗﺎﺏَ ﻣَﻌَﻚَ ﻭَﻻ ﺗَﻄﻐَﻮﺍ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﺑِﻤﺎ
ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ ﺑَﺼﻴﺮٌ
[112] অতএব, তুমি এবং তোমার সাথে
যারা তওবা করেছে সবাই সোজা পথে
চলে যাও-যেমন তোমায় হুকুম দেয়া
হয়েছে এবং সীমা লঙ্ঘন করবে না,
তোমরা যা কিছু করছ, নিশ্চয় তিনি
তার প্রতি দৃষ্টি রাখেন।
[112] So stand (ask Allâh to make) you
(Muhammad SAW) firm and straight (on
the religion of Islâmic Monotheism) as
you are commanded and those (your
companions) who turn in repentance
(unto Allâh) with you, and transgress not
(Allâh’s legal limits). Verily, He is All-
Seer of what you do.
[113] ﻭَﻻ ﺗَﺮﻛَﻨﻮﺍ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻇَﻠَﻤﻮﺍ ﻓَﺘَﻤَﺴَّﻜُﻢُ ﺍﻟﻨّﺎﺭُ ﻭَﻣﺎ
ﻟَﻜُﻢ ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣِﻦ ﺃَﻭﻟِﻴﺎﺀَ
ﺛُﻢَّ ﻻ ﺗُﻨﺼَﺮﻭﻥَ
[113] আর পাপিষ্ঠদের প্রতি ঝুঁকবে না।
নতুবা তোমাদেরকেও আগুনে ধরবে।
আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন
বন্ধু নাই। অতএব কোথাও সাহায্য
পাবে না।
[113] And incline not toward those who
do wrong, lest the Fire should touch you,
and you have no protectors other than
Allâh, nor you would then be helped
[114] ﻭَﺃَﻗِﻢِ ﺍﻟﺼَّﻠﻮٰﺓَ ﻃَﺮَﻓَﻰِ
ﺍﻟﻨَّﻬﺎﺭِ ﻭَﺯُﻟَﻔًﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟَّﻴﻞِ ۚ ﺇِﻥَّ
ﺍﻟﺤَﺴَﻨٰﺖِ ﻳُﺬﻫِﺒﻦَ ﺍﻟﺴَّﻴِّـٔﺎﺕِ ۚ
ﺫٰﻟِﻚَ ﺫِﻛﺮﻯٰ ﻟِﻠﺬّٰﻛِﺮﻳﻦَ
[114] আর দিনের দুই প্রান্তেই নামায
ঠিক রাখবে, এবং রাতের প্রান্তভাগে
পূর্ণ কাজ অবশ্যই পাপ দূর করে দেয়,
যারা স্মরণ রাখে তাদের জন্য এটি এক
মহা স্মারক।
[114] And perform As-Salât (Iqâmat-as-
Salât), at the two ends of the day and in
some hours of the night [i.e. the five
compulsory Salât (prayers)]. Verily, the
good deeds remove the evil deeds (i.e.
small sins). That is a reminder (an
advice) for the mindful (those who
accept advice).
[115] ﻭَﺍﺻﺒِﺮ ﻓَﺈِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻻ
ﻳُﻀﻴﻊُ ﺃَﺟﺮَ ﺍﻟﻤُﺤﺴِﻨﻴﻦَ
[115] আর ধৈর্য্যধারণ কর, নিশ্চয়ই
আল্লাহ পূণ্যবানদের প্রতিদান বিনষ্ট
করেন না।
[115] And be patient; verily, Allâh wastes
not the reward of the good-doers.
[116] ﻓَﻠَﻮﻻ ﻛﺎﻥَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻘُﺮﻭﻥِ
ﻣِﻦ ﻗَﺒﻠِﻜُﻢ ﺃُﻭﻟﻮﺍ ﺑَﻘِﻴَّﺔٍ ﻳَﻨﻬَﻮﻥَ
ﻋَﻦِ ﺍﻟﻔَﺴﺎﺩِ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﺇِﻟّﺎ
ﻗَﻠﻴﻠًﺎ ﻣِﻤَّﻦ ﺃَﻧﺠَﻴﻨﺎ ﻣِﻨﻬُﻢ ۗ
ﻭَﺍﺗَّﺒَﻊَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻇَﻠَﻤﻮﺍ ﻣﺎ
ﺃُﺗﺮِﻓﻮﺍ ﻓﻴﻪِ ﻭَﻛﺎﻧﻮﺍ ﻣُﺠﺮِﻣﻴﻦَ
[116] কাজেই, তোমাদের পূর্ববতী
জাতি গুলির মধ্যে এমন সৎকর্মশীল কেন
রইল না, যারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি
করতে বাধা দিত; তবে মুষ্টিমেয় লোক
ছিল যাদেরকে আমি তাদের মধ্য হতে
রক্ষা করেছি। আর পাপিষ্ঠরা তো
ভোগ বিলাসে মত্ত ছিল যার সামগ্রী
তাদেরকে যথেষ্ট দেয়া হয়েছিল।
আসলে তারা ছিল মহা অপরাধী।
[116] If only there had been among the
generations before you, persons having
wisdom, prohibiting (others) from Al-
Fasâd (disbelief, polytheism, and all
kinds of crimes and sins) in the earth,
(but there were none) except a few of
those whom We saved from among them.
Those who did wrong pursued the
enjoyment of good things of (this
worldly) life, and were Mujrimûn
(criminals, disbelievers in Allâh,
polytheists, sinners).
[117] ﻭَﻣﺎ ﻛﺎﻥَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻟِﻴُﻬﻠِﻚَ
ﺍﻟﻘُﺮﻯٰ ﺑِﻈُﻠﻢٍ ﻭَﺃَﻫﻠُﻬﺎ
ﻣُﺼﻠِﺤﻮﻥَ
[117] আর তোমার পালনকর্তা এমন নন
যে, জনবসতিগুলোকে অন্যায়ভাবে
ধ্বংস করে দেবেন, সেখানকার
লোকেরা সৎকর্মশীল হওয়া সত্ত্বেও।
[117] And your Lord would never
destroy the towns wrongfully, while their
people were right-doers.
[118] ﻭَﻟَﻮ ﺷﺎﺀَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻟَﺠَﻌَﻞَ
ﺍﻟﻨّﺎﺱَ ﺃُﻣَّﺔً ﻭٰﺣِﺪَﺓً ۖ ﻭَﻻ
ﻳَﺰﺍﻟﻮﻥَ ﻣُﺨﺘَﻠِﻔﻴﻦَ
[118] আর তোমার পালনকর্তা যদি
ইচ্ছা করতেন, তবে অবশ্যই সব মানুষকে
একই জাতিসত্তায় পরিনত করতে
পারতেন আর তারা বিভিন্ন ভাগে
বিভক্ত হতো না।
[118] And if your Lord had so willed, He
could surely have made mankind one
Ummah [nation or community (following
one religion only i.e. Islâm)], but they
will not cease to disagree,—
[119] ﺇِﻟّﺎ ﻣَﻦ ﺭَﺣِﻢَ ﺭَﺑُّﻚَ ۚ
ﻭَﻟِﺬٰﻟِﻚَ ﺧَﻠَﻘَﻬُﻢ ۗ ﻭَﺗَﻤَّﺖ ﻛَﻠِﻤَﺔُ
ﺭَﺑِّﻚَ ﻟَﺄَﻣﻠَﺄَﻥَّ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺠِﻨَّﺔِ
ﻭَﺍﻟﻨّﺎﺱِ ﺃَﺟﻤَﻌﻴﻦَ
[119] তোমার পালনকর্তা যাদের উপর
রহমত করেছেন, তারা ব্যতীত সবাই
চিরদিন মতভেদ করতেই থাকবে এবং
এজন্যই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আর
তোমার আল্লাহর কথাই পূর্ণ হল যে,
অবশ্যই আমি জাহান্নামকে জ্বিন ও
মানুষ দ্বারা একযোগে ভর্তি করব।
[119] Except him on whom your Lord has
bestowed His Mercy (the follower of
truth – Islâmic Monotheism) and for that
did He create them. And the Word of
your Lord has been fulfilled (i.e. His
Saying): “Surely, I shall fill Hell with jinn
and men all together.”
[120] ﻭَﻛُﻠًّﺎ ﻧَﻘُﺺُّ ﻋَﻠَﻴﻚَ ﻣِﻦ
ﺃَﻧﺒﺎﺀِ ﺍﻟﺮُّﺳُﻞِ ﻣﺎ ﻧُﺜَﺒِّﺖُ ﺑِﻪِ
ﻓُﺆﺍﺩَﻙَ ۚ ﻭَﺟﺎﺀَﻙَ ﻓﻰ ﻫٰﺬِﻩِ
ﺍﻟﺤَﻖُّ ﻭَﻣَﻮﻋِﻈَﺔٌ ﻭَﺫِﻛﺮﻯٰ
ﻟِﻠﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[120] আর আমি রসূলগণের সব বৃত্তান্তই
তোমাকে বলছি, যদ্দ্বারা তোমার
অন্তরকে মজবুত করছি। আর এভাবে
তোমার নিকট মহাসত্য এবং
ঈমানদারদের জন্য নসীহত ও স্বরণীয়
বিষয়বস্তু এসেছে।
[120] And all that We relate to you (O
Muhammad SAW) of the news of the
Messengers is in order that We may
make strong and firm your heart
thereby. And in this (chapter of the
Qur’an) has come to you the truth, as
well as an admonition and a reminder
for the believers.
[121] ﻭَﻗُﻞ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ ﻻ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
ﺍﻋﻤَﻠﻮﺍ ﻋَﻠﻰٰ ﻣَﻜﺎﻧَﺘِﻜُﻢ ﺇِﻧّﺎ
ﻋٰﻤِﻠﻮﻥَ
[121] আর যারা ঈমান আনে না,
তাদেরকে বলে দাও যে, তোমরা নিজ
নিজ অবস্থায় কাজ করে যাও আমরাও
কাজ করে যাই।
[121] And say to those who do not
believe: “Act according to your ability
and way, We are acting (in our way).
[122] ﻭَﺍﻧﺘَﻈِﺮﻭﺍ ﺇِﻧّﺎ ﻣُﻨﺘَﻈِﺮﻭﻥَ
[122] এবং তোমরাও অপেক্ষা করে
থাক, আমরাও অপেক্ষায় রইলাম।
[122] And you wait ! We (too) are
waiting.”
[123] ﻭَﻟِﻠَّﻪِ ﻏَﻴﺐُ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﺇِﻟَﻴﻪِ ﻳُﺮﺟَﻊُ ﺍﻷَﻣﺮُ
ﻛُﻠُّﻪُ ﻓَﺎﻋﺒُﺪﻩُ ﻭَﺗَﻮَﻛَّﻞ ﻋَﻠَﻴﻪِ ۚ
ﻭَﻣﺎ ﺭَﺑُّﻚَ ﺑِﻐٰﻔِﻞٍ ﻋَﻤّﺎ ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[123] আর আল্লাহর কাছেই আছে
আসমান ও যমীনের গোপন তথ্য; আর
সকল কাজের প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে;
অতএব, তাঁরই বন্দেগী কর এবং তাঁর উপর
ভরসা রাখ, আর তোমাদের কার্যকলাপ
সম্বন্ধে তোমার পালনকর্তা কিন্তু বে-
খবর নন।
[123] And to Allâh belongs the Ghaib
(unseen) of the heavens and the earth,
and to Him return all affairs (for
decision). So worship Him (O
Muhammad SAW) and put your trust in
Him. And your Lord is not unaware of
what you (people) do.”Surah Hud Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. আলিফ, লা-ম, রা; এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াত সমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত অতঃপর সবিস্তারে বর্ণিত এক মহাজ্ঞানী, সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ হতে। 2. যেন তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো বন্দেগী না কর। নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি তাঁরই পক্ষ হতে সতর্ককারী ও সুসংবাদ দাতা। 3. আর তোমরা নিজেদের পালনকর্তা সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অনন্তর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর। তাহলে তিনি তোমাদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উৎকৃষ্ট জীবনোপকরণ দান করবেন এবং অধিক আমলকারীকে বেশী করে দেবেন আর যদি তোমরা বিমুখ হতে থাক, তবে আমি তোমাদের উপর এক মহা দিবসের আযাবের আশঙ্কা করছি। 4. আল্লাহর সান্নিধ্যেই তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। 5. জেনে রাখ, নিশ্চয়ই তারা নিজেদের বক্ষদেশ ঘুরিয়ে দেয় যেন আল্লাহর নিকট হতে লুকাতে পারে। শুন, তারা তখন কাপড়ে নিজেদেরকে আচ্ছাদিত করে, তিনি তখনও জানেন যা কিছু তারা চুপিসারে বলে আর প্রকাশ্যভাবে বলে। নিশ্চয় তিনি জানেন যা কিছু অন্তর সমূহে নিহিত রয়েছে। 6. আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল নেই, তবে সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে রয়েছে। 7. তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে তৈরী করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে, তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভাল কাজ করে। আর যদি আপনি তাদেরকে বলেন যে, “নিশ্চয় তোমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবিত ওঠানো হবে, তখন কাফেরেরা অবশ্য বলে এটা তো স্পষ্ট যাদু!”; 8. আর যদি আমি এক নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত তাদের আযাব স্থগিত রাখি, তাহলে তারা নিশ্চয়ই বলবে কোন জিনিসে আযাব ঠেকিয়ে রাখছে? শুনে রাখ, যেদিন তাদের উপর আযাব এসে পড়বে, সেদিন কিন্তু তা ফিরে যাওয়ার নয়; তারা যে ব্যাপারে উপহাস করত তাই তাদেরকে ঘিরে ফেলবে। 9. আর অবশ্যই যদি আমি মানুষকে আমার রহমতের আস্বাদ গ্রহণ করতে দেই, অতঃপর তা তার থেকে ছিনিয়ে নেই; তাহলে সে হতাশ ও কৃতঘ্ন হয়। 10. আর যদি তার উপর আপতিত দুঃখ কষ্টের পরে তাকে সুখভোগ করতে দেই, তবে সে বলতে থাকে যে, আমার অমঙ্গল দূর হয়ে গেছে, আর সে আনন্দে আত্নহারা হয়, অহঙ্কারে উদ্দত হয়ে পড়ে। 11. তবে যারা ধৈর্য্যধারণ করেছে এবং সৎকার্য করেছে তাদের জন্য ক্ষমা ও বিরাট প্রতিদান রয়েছে। 12. আর সম্ভবতঃ ঐসব আহকাম যা ওহীর মাধ্যমে তোমার নিকট পাঠানো হয়, তার কিছু অংশ বর্জন করবে? এবং এতে মন ছোট করে বসবে? তাদের এ কথায় যে, তাঁর উপর কোন ধন-ভান্ডার কেন অবতীর্ণ হয়নি? অথবা তাঁর সাথে কোন ফেরেশতা আসেনি কেন? তুমিতো শুধু সতর্ককারী মাত্র; আর সব কিছুরই দায়িত্বভার তো আল্লাহই নিয়েছেন। 13. তারা কি বলে? কোরআন তুমি তৈরী করেছ? তুমি বল, তবে তোমরাও অনুরূপ দশটি সূরা তৈরী করে নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পার ডেকে নাও, যদি তোমাদের কথা সত্য হয়ে থাকে। 14. অতঃপর তারা যদি তোমাদের কথা পুরণ করতে অপারগ হয়; তবে জেনে রাখ, এটি আল্লাহর এলম দ্বারা অবতীর্ণ হয়েছে; আরো একীন করে নাও যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নেই। অতএব, এখন কি তোমরা আত্নসমর্পন করবে? 15. যে ব্যক্তি পার্থিবজীবন ও তার চাকচিক্যই কামনা করে, হয় আমি তাদের দুনিয়াতেই তাদের আমলের প্রতিফল ভোগ করিয়ে দেব এবং তাতে তাদের প্রতি কিছুমাত্র কমতি করা হয় না। 16. এরাই হল সেসব লোক আখেরাতে যাদের জন্য আগুন ছাড়া নেই। তারা এখানে যা কিছু করেছিল সবই বরবাদ করেছে; আর যা কিছু উপার্জন করেছিল, সবই বিনষ্ট হল। 17. আচ্ছা বল তো, যে ব্যক্তি তার প্রভুর সুস্পষ্ট পথে রয়েছে, আর সাথে সাথে আল্লাহর তরফ থেকে একটি সাক্ষীও বর্তমান রয়েছে এবং তার পূর্ববর্তী মূসা (আঃ) এর কিতাবও সাক্ষী যা ছিল পথনির্দেশক ও রহমত স্বরূপ, (তিনি কি অন্যান্যের সমান) অতএব তাঁরা কোরআনের প্রতি ঈমান আনেন। আর ঐসব দলগুলি যে কেউ তা অস্বীকার করে, দোযখই হবে তার ঠিকানা। অতএব, আপনি তাতে কোন সন্দেহে থাকবেন না। নিঃসন্দেহে তা আপনার পালনকর্তার পক্ষ হতে ধ্রুব সত্য; তথাপি অনেকেই তা বিশ্বাস করে না। 18. আর তাদের চেয়ে বড় যালেম কে হতে পারে, যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে। এসব লোককে তাদের পালনকর্তার সাক্ষাত সম্মূখীন করা হবে আর সাক্ষিগণ বলতে থাকবে, এরাই ঐসব লোক, যারা তাদের পালনকর্তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। শুনে রাখ, যালেমদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত রয়েছে। 19. যারা আল্লাহর পথে বাধা দেয়, আর তাতে বক্রতা খুজে বেড়ায়, এরাই আখরাতকে অস্বীকার করে। 20. তারা পৃথিবীতেও আল্লাহকে অপারগ করতে পারবে না এবং আল্লাহ ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারীও নেই, তাদের জন্য দ্বিগুণ শাস্তি রয়েছে; তারা শুনতে পারত না এবং দেখতেও পেত না। 21. এরা সে লোক, যারা নিজেরাই নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, আর এরা যা কিছু মিথ্যা মা’বুদ সাব্যস্ত করেছিল, তা সবই তাদের থেকে হারিয়ে গেছে। 22. আখেরাতে এরাই হবে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ কোন সন্দেহ নেই। 23. নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে এবং স্বীয় পালনকর্তার সমীপে বিনতি প্রকাশ করেছে তারাই বেহেশতবাসী, সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে। 24. উভয় পক্ষের দৃষ্টান্ত হচ্ছে যেমন অন্ধ ও বধির এবং যে দেখতে পায় ও শুনতে পায় উভয়ের অবস্থা কি এক সমান? তবুও তোমরা কি ভেবে দেখ না? 25. আর অবশ্যই আমি নূহ (আঃ) কে তাঁর জাতির প্রতি প্রেরণ করেছি, (তিনি বললেন) নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য প্রকাশ্য সতর্ককারী। 26. তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারো এবাদত করবে না। নিশ্চয় আমি তোমাদের ব্যাপারে এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের আযাবের ভয় করছি। 27. তখন তাঁর কওমের কাফের প্রধানরা বলল আমরা তো আপনাকে আমাদের মত একজন মানুষ ব্যতীত আর কিছু মনে করি না; আর আমাদের মধ্যে যারা ইতর ও স্থুল-বুদ্ধিসম্পন্ন তারা ব্যতীত কাউকে তো আপনার আনুগত্য করতে দেখি না এবং আমাদের উপর আপনাদের কেন প্রাধান্য দেখি না, বরং আপনারা সবাই মিথ্যাবাদী বলে আমারা মনে করি। 28. নূহ (আঃ) বললেন-হে আমার জাতি! দেখ তো আমি যদি আমার পালনকর্তার পক্ষ হতে স্পষ্ট দলীলের উপর থাক, আর তিনি যদি তাঁর পক্ষ হতে আমাকে রহমত দান করে থাকেন, তারপরেও তা তোমাদের চোখে না পড়ে, তাহলে আমি কি উহা তোমাদের উপর তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই চাপিয়ে দিতে পারি ? 29. আর হে আমার জাতি! আমি তো এজন্য তোমাদের কাছে কোন অর্থ চাই না; আমার পারিশ্রমিক তো আল্লাহর জিম্মায় রয়েছে। আমি কিন্তু ঈমানদারদের তাড়িয়ে দিতে পারি না। তারা অবশ্যই তাদের পালনকর্তার সাক্ষাত লাভ করবে। বরঞ্চ তোমাদেরই আমি অজ্ঞ সম্প্রদায় দেখছি। 30. আর হে আমার জাতি! আমি যদি তাদের তাড়িয়ে দেই তাহলে আমাকে আল্লাহ হতে রেহাই দেবে কে? তোমরা কি চিন্তা করে দেখ না? 31. আর আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে এবং একথাও বলি না যে, আমি গায়বী খবরও জানি; একথাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা; আর তোমাদের দৃষ্টিতে যারা লাঞ্ছিত আল্লাহ তাদের কোন কল্যাণ দান করবেন না। তাদের মনের কথা আল্লাহ ভাল করেই জানেন। সুতরাং এমন কথা বললে আমি অন্যায় কারী হব। 32. তারা বলল-হে নূহ! আমাদের সাথে আপনি তর্ক করেছেন এবং অনেক কলহ করেছেন। এখন আপনার সেই আযাব নিয়ে আসুন, যে সম্পর্কে আপনি আমাদিগকে সতর্ক করেছেন, যদি আপনি সত্যবাদী হয়ে থাকেন। 33. তিনি বলেন, উহা তোমাদের কাছে আল্লাহই আনবেন, যদি তিনি ইচ্ছা করেন তখন তোমরা পালিয়ে তাঁকে অপারগ করতে পারবে না। 34. আর আমি তোমাদের নসীহত করতে চাইলেও তা তোমাদের জন্য ফলপ্রসূ হবে না, যদি আল্লাহ তোমাদেরকে গোমরাহ করতে চান; তিনিই তোমাদের পালনকর্তা এবং তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে। 35. তারা কি বলে? আপনি কোরআন রচনা করে এনেছেন? আপনি বলে দিন আমি যদি রচনা করে এনে থাকি, তবে সে অপরাধ আমার, আর তোমরা যেসব অপরাধ কর তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। 36. আর নূহ (আঃ) এর প্রতি ওহী প্রেরণ করা হলো যে, যারা ইতিমধ্যেই ঈমান এনেছে তাদের ছাড়া আপনার জাতির অন্য কেউ ঈমান আনবেনা এতএব তাদের কার্যকলাপে বিমর্ষ হবেন না। 37. আর আপনি আমার সম্মুখে আমারই নির্দেশ মোতাবেক একটি নৌকা তৈরী করুন এবং পাপিষ্ঠদের ব্যাপারে আমাকে কোন কথা বলবেন না। অবশ্যই তারা ডুবে মরবে। 38. তিনি নৌকা তৈরী করতে লাগলেন, আর তাঁর কওমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা যখন পার্শ্ব দিয়ে যেত, তখন তাঁকে বিদ্রুপ করত। তিনি বললেন, তোমরা যদি আমাদের উপহাস করে থাক, তবে তোমরা যেমন উপহাস করছ আমরাও তদ্রুপ তোমাদের উপহাস করছি। 39. অতঃপর অচিরেই জানতে পারবে-লাঞ্ছনাজনক আযাব কার উপর আসে এবং চিরস্থায়ী আযাব কার উপর অবতরণ করে। 40. অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল এবং ভুপৃষ্ঠ উচ্ছসিত হয়ে উঠল, আমি বললামঃ সর্বপ্রকার জোড়ার দুটি করে এবং যাদের উপরে পূর্বহেই হুকুম হয়ে গেছে তাদের বাদি দিয়ে, আপনার পরিজনবর্গ ও সকল ঈমানদারগণকে নৌকায় তুলে নিন। বলাবাহুল্য অতি অল্পসংখ্যক লোকই তাঁর সাথে ঈমান এনেছিল। 41. আর তিনি বললেন, তোমরা এতে আরোহন কর। আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি। আমার পালনকর্তা অতি ক্ষমাপরায়ন, মেহেরবান। 42. আর নৌকাখানি তাদের বহন করে চলল পর্বত প্রমাণ তরঙ্গমালার মাঝে, আর নূহ (আঃ) তাঁর পুত্রকে ডাক দিলেন আর সে সরে রয়েছিল, তিনি বললেন, প্রিয় বৎস! আমাদের সাথে আরোহন কর এবং কাফেরদের সাথে থেকো না। 43. সে বলল, আমি অচিরেই কোন পাহাড়ে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানি হতে রক্ষা করবে। নূহ (আঃ) বল্লেন আজকের দিনে আল্লাহর হুকুম থেকে কোন রক্ষাকারী নেই। একমাত্র তিনি যাকে দয়া করবেন। এমন সময় উভয়ের মাঝে তরঙ্গ আড়াল হয়ে দাঁড়াল, ফলে সে নিমজ্জিত হল। 44. আর নির্দেশ দেয়া হল-হে পৃথিবী! তোমার পানি গিলে ফেল, আর হে আকাশ, ক্ষান্ত হও। আর পানি হ্রাস করা হল এবং কাজ শেষ হয়ে গেল, আর জুদী পর্বতে নৌকা ভিড়ল এবং ঘোষনা করা হল, দুরাত্না কাফেররা নিপাত যাক। 45. আর নূহ (আঃ) তাঁর পালনকর্তাকে ডেকে বললেন-হে পরওয়ারদেগার, আমার পুত্র তো আমার পরিজনদের অন্তর্ভুক্ত; আর আপনার ওয়াদাও নিঃসন্দেহে সত্য আর আপনিই সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞ ফয়সালাকারী। 46. আল্লাহ বলেন, হে নূহ! নিশ্চয় সে আপনার পরিবারভুক্ত নয়। নিশ্চই সে দুরাচার! সুতরাং আমার কাছে এমন দরখাস্ত করবেন না, যার খবর আপনি জানেন না। আমি আপনাকে উপপদেশ দিচ্ছি যে, আপনি অজ্ঞদের দলভুক্ত হবেন না। 47. নূহ (আঃ) বলেন-হে আমার পালনকর্তা আমার যা জানা নেই এমন কোন দরখাস্ত করা হতে আমি আপনার কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন, দয়া না করেন, তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হব। 48. হুকুম হল- হে নূহ (আঃ) ! আমার পক্ষ হতে নিরাপত্তা এবং আপনার নিজের ও সঙ্গীয় সম্প্রদায়গুলির উপর বরকত সহকারে অবতরণ করুণ। আর অন্যান্য যেসব সম্প্রদায় রয়েছে আমি তাদের কেও উপকৃত হতে দেব। অতঃপর তাদের উপর আমার দরুন আযাব আপতিত হবে। 49. এটি গায়বের খবর, আমি আপনার প্রতি ওহী প্রেরন করছি। ইতিপূর্বে এটা আপনার এবং আপনার জাতির জানা ছিল না। আপনি ধৈর্য্যধারণ করুন। যারা ভয় করে চলে, তাদের পরিণাম ভাল, সন্দেহ নেই। 50. আর আদ জাতির প্রতি আমি তাদের ভাই হুদকে প্রেরণ করেছি; তিনি বলেন-হে আমার জাতি, আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ভিন্ন তোমাদের কোন মাবুদ নেই, তোমরা সবাই মিথ্যা আরোপ করছ। 51. হে আমার জাতি! আমি এজন্য তোমাদের কাছে কোন মজুরী চাই না; আমার মজুরী তাঁরই কাছে যিনি আমাকে পয়দা করেছেন; তবু তোমরা কেন বোঝ না? 52. আর হে আমার কওম! তোমাদের পালন কর্তার কাছে তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর; তিনি আসমান থেকে তোমাদের উপর বৃষ্টি ধারা প্রেরণ করবেন এবং তোমাদের শক্তির উপর শক্তি বৃদ্ধি করবেন, তোমরা কিন্তু অপরাধীদের মত বিমুখ হয়ো না। 53. তারা বলল-হে হুদ, তুমি আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নিয়ে আস নাই, আমরা তোমার কথায় আমাদের দেব-দেবীদের বর্জন করতে পারি না আর আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনয়নকারীও নই। 54. বরং আমরাও তো বলি যে, আমাদের কোন দেবতা তোমার উপরে শোচনীয় ভূত চাপিয়ে দিয়েছে। হুদ বললেন-আমি আল্লাহকে সাক্ষী করেছি আর তোমাও সাক্ষী থাক যে, আমার কোন সম্পর্ক নাই তাঁদের সাথে যাদের কে তোমরা শরিক করছ; 55. তাকে ছাড়া, তোমরা সবাই মিলে আমার অনিষ্ট করার প্রয়াস চালাও, অতঃপর আমাকে কোন অবকাশ দিও না। 56. আমি আল্লাহর উপর নিশ্চিত ভরসা করেছি যিনি আমার এবং তোমাদের পরওয়ারদেগার। পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নাই যা তাঁর র্পূণ আয়ত্তাধীন নয়। আমার পালকর্তার সরল পথে সন্দেহ নেই। 57. তথাপি যদি তোমরা মুখ ফেরাও, তবে আমি তোমাদেরকে তা পৌছিয়েছি যা আমার কাছে তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছে; আর আমার পালনকর্তা অন্য কোন জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, আর তোমরা তাঁর কিছুই বিগড়াতে পারবে না; নিশ্চয়ই আমার পরওয়ারদেগারই প্রতিটি বস্তুর হেফাজতকারী। 58. আর আমার আদেশ যখন উপস্থিত হল, তখন আমি নিজ রহমতে হুদ এবং তাঁর সঙ্গী ঈমানদারগণকে পরিত্রাণ করি এবং তাদেরকে এক কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা করি। 59. এ ছিল আদ জাতি, যারা তাদের পালনকর্তার আয়াতকে অমান্য করেছে, আর তদীয় রসূলগণের অবাধ্যতা করেছে এবং প্রত্যেক উদ্ধত বিরোধীদের আদেশ পালন করেছে। 60. এ দুনিয়ায় তাদের পিছনে পিছনে লা’নত রয়েছে এবং কেয়ামতের দিনেও; জেনে রাখ, আদ জাতি তাদের পালনকর্তাকে অস্বীকার করেছে, হুদের জ্ঞাতি আদ জাতির প্রতি অভিসম্পাত রয়েছে জেনে রাখ। 61. আর সামুদ জাতি প্রতি তাদের ভাই সালেহ কে প্রেরণ করি; তিনি বললেন, হে আমার জাতি। আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন উপাস্য নাই। তিনিই যমীন হতে তোমাদেরকে পয়দা করেছেন, তন্মধ্যে তোমাদেরকে বসতি দান করেছেন। অতএব; তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর অতঃপর তাঁরই দিকে ফিরে চল আমার পালনকর্তা নিকটেই আছেন, কবুল করে থাকেন; সন্দেহ নেই। 62. তারা বলল-হে সালেহ, ইতিপূর্বে তোমার কাছে আমাদের বড় আশা ছিল। আমাদের বাপ-দাদা যা পূজা করত তুমি কি আমাদেরকে তার পূজা করতে নিষেধ কর? কিন্তু যার প্রতি তুমি আমাদের আহবান জানাচ্ছ আমাদের তাতে এমন সন্দেহ রয়েছে যে, মন মোটেই সায় দিচ্ছে না। 63. আমি যদি আমার পালনকর্তার পক্ষ হতে বুদ্ধি বিবেচনা লাভ করে থাকি আর তিনি যদি আমাকে নিজের তরফ হতে রহমত দান করে থাকেন, অতঃপর আমি যদি তাঁর অবাধ্য হই তবে তার থেকে কে আমায় রক্ষা করবে? তোমরা তো আমার ক্ষতি ছাড়া কিছুই বৃদ্ধি করতে পরবে না 64. আর হে আমার জাতি! আল্লাহর এ উষ্ট্রীটি তোমাদের জন্য নিদর্শন, অতএব তাকে আল্লাহর যমীনে বিচরণ করে খেতে দাও, এবং তাকে মন্দভাবে স্পর্শও করবে না। নতুবা অতি সত্বর তোমাদেরকে আযাব পাকড়াও করবে। 65. তবু তারা উহার পা কেটে দিল। তখন সালেহ বললেন- তোমরা নিজেদের গৃহে তিনটি দিন উপভোগ করে নাও। ইহা এমন ওয়াদা যা মিথ্যা হবে না। 66. অতঃপর আমার আযাব যখন উপস্থিত হল, তখন আমি সালেহকে ও তদীয় সঙ্গী ঈমানদারগণকে নিজ রহমতে উদ্ধার করি, এবং সেদিনকার অপমান হতে রক্ষা করি। নিশ্চয় তোমার পালনকর্তা তিনি সর্বশক্তিমান পরাক্রমশালী। 67. আর ভয়ঙ্কর গর্জন পাপিষ্ঠদের পাকড়াও করল, ফলে ভোর হতে না হতেই তারা নিজ নিজ গৃহসমূহে উপুর হয়ে পড়ে রইল। 68. যেন তাঁরা কোনদিনই সেখানে ছিল না। জেনে রাখ, নিশ্চয় সামুদ জাতি তাদের পালনকর্তার প্রতি অস্বীকার করেছিল। আরো শুনে রাখ, সামুদ জাতির জন্য অভিশাপ রয়েছে। 69. আর অবশ্যই আমার প্রেরিত ফেরেশতারা ইব্রাহীমেরে কাছে সুসংবাদ নিয়ে এসেছিল তারা বলল সালাম, তিনিও বললেন-সালাম। অতঃপর অল্পক্ষণের মধ্যেই তিনি একটি ভুনা করা বাছুর নিয়ে এলেন! 70. কিন্তু যখন দেখলেন যে, আহার্য্যের দিকে তাদের হস্ত প্রসারিত হচ্ছে না, তখন তিনি সন্ধিগ্ধ হলেন এবং মনে মনে তাঁদের সম্পর্কে ভয় অনুভব করতে লাগলেন। তারা বলল-ভয় পাবেন না। আমরা লূতের কওমের প্রতি প্রেরিত হয়েছি। 71. তাঁর স্ত্রীও নিকটেই দাড়িয়েছিল, সে হেসে ফেলল। অতঃপর আমি তাকে ইসহাকের জন্মের সুখবর দিলাম এবং ইসহাকের পরের ইয়াকুবেরও। 72. সে বলল-কি দুর্ভাগ্য আমার! আমি সন্তান প্রসব করব? অথচ আমি বার্ধক্যের শেষ প্রান্তে এসে উপনীত হয়েছি আর আমার স্বামীও বৃদ্ধ, এতো ভারী আশ্চর্য কথা। 73. তারা বলল-তুমি আল্লাহর হুকুম সম্পর্কে বিস্ময়বোধ করছ? হে গৃহবাসীরা, তোমাদের উপর আল্লাহর রহমত ও প্রভুত বরকত রয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ প্রশংসিত মহিমাময়। 74. অতঃপর যখন ইব্রাহীম (আঃ) এর আতঙ্ক দূর হল এবং তিনি সুসংবাদ প্রাপ্ত হলেন, তখন তিনি আমার সাথে তর্ক শুরু করলেন কওমে লূত সম্পর্কে। 75. ইব্রাহীম (আঃ) বড়ই ধৈর্য্যশীল, কোমল অন্তর, আল্লাহমুখী সন্দেহ নেই। 76. ইব্রাহীম, এহেন ধারণা পরিহার কর; তোমার পালনকর্তার হুকুম এসে গেছে, এবং তাদের উপর সে আযাব অবশ্যই আপতিত হবে, যা কখনো প্রতিহত হবার নয়। 77. আর যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতাগণ লূত (আঃ) এর নিকট উপস্থিত হল। তখন তাঁদের আগমনে তিনি দুচিন্তাগ্রস্ত হলেন এবং তিনি বলতে লাগলেন, আজ অত্যন্ত কঠিন দিন। 78. আর তাঁর কওমের লোকেরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে তার (গৃহ) পানে ছুটে আসতে লাগল। পূর্ব থেকেই তারা কু-কর্মে তৎপর ছিল। লূত (আঃ) বললেন-হে আমার কওম, এ আমার কন্যারা রয়েছে, এরা তোমাদের জন্য অধিক পবিত্রতমা। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং অতিথিদের ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো না, তোমাদের মধ্যে কি কোন ভাল মানুষ নেই। 79. তারা বলল ু তুমি তো জানই, তোমার কন্যাদের নিয়ে আমাদের কোন গরজ নেই। আর আমরা কি চাই, তাও তুমি অবশ্যই জান। 80. লূত (আঃ) বললেন-হায়, তোমাদের বিরুদ্ধে যদি আমার শক্তি থাকত অথবা আমি কোন সূদৃঢ় আশ্রয় গ্রহণ করতে সক্ষম হতাম। 81. মেহমান ফেরেশতাগন বলল- হে লূত (আঃ) আমরা তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ হতে প্রেরিত ফেরেশতা। এরা কখনো তোমার দিকে পৌঁছাতে পারবে না। ব্যস তুমি কিছুটা রাত থাকতে থাকতে নিজের লোকজন নিয়ে বাইরে চলে যাও। আর তোমাদের কেউ যেন পিছনে ফিরে না তাকায়। কিন্তু তোমার স্ত্রী নিশ্চয় তার উপরও তা আপতিত হবে, যা ওদের উপর আপতিত হবে। ভোর বেলাই তাদের প্রতিশ্রুতির সময়, ভোর কি খুব নিকটে নয়? 82. অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল, তখন আমি উক্ত জনপদকে উপরকে নীচে করে দিলাম এবং তার উপর স্তরে স্তরে কাঁকর পাথর বর্ষণ করলাম। 83. যার প্রতিটি তোমার পালনকর্তার নিকট চিহ্নিত ছিল। আর সেই পাপিষ্ঠদের থেকে খুব দূরেও নয়। 84. আর মাদইয়ানবাসীদের প্রতি তাদের ভাই শোয়ায়েব (আঃ) কে প্রেরণ করেছি। তিনি বললেন-হে আমার কওম! আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ছাড়া আমাদের কোন মাবুদ নাই। আর পরিমাপে ও ওজনে কম দিও না, আজ আমি তোমাদেরকে ভাল অবস্থায়ই দেখছি, কিন্তু আমি তোমাদের উপর এমন একদিনের আযাবের আশঙ্কা করছি যেদিনটি পরিবেষ্টনকারী। 85. আর হে আমার জাতি, ন্যায়নিষ্ঠার সাথে ঠিকভাবে পরিমাপ কর ও ওজন দাও এবং লোকদের জিনিসপত্রে কোনরূপ ক্ষতি করো না, আর পৃথিবীতে ফাসাদ করে বেড়াবে না। 86. আল্লাহ প্রদত্ত উদ্ধৃত্ত তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা ঈমানদার হও, আর আমি তো তোমাদের উপর সদা পর্যবেক্ষণকারী নই। 87. তারা বলল-হে শোয়ায়েব (আঃ) আপনার নামায কি আপনাকে ইহাই শিক্ষা দেয় যে, আমরা ঐসব উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব আমাদের বাপ-দাদারা যাদের উপাসনা করত? অথবা আমাদের ধন-সম্পদে ইচ্ছামত যা কিছু করে থাকি, তা ছেড়ে দেব? আপনি তো একজন খাস মহৎ ব্যক্তি ও সৎপথের পথিক। 88. শোয়ায়েব (আঃ) বললেন- হে দেশবাসী, তোমরা কি মনে কর! আমি যদি আমার পরওয়ারদেগারের পক্ষ হতে সুস্পষ্ট দলীলের উপর কায়েম থাকি আর তিনি যদি নিজের তরফ হতে আমাকে উত্তম রিযিক দান করে থাকেন, (তবে কি আমি তাঁর হুকুম অমান্য করতে পারি?) আর আমি চাই না যে তোমাদেরকে যা ছাড়াতে চাই পরে নিজেই সে কাজে লিপ্ত হব, আমি তো যথাসাধ্য শোধরাতে চাই। আল্লাহর মদদ দ্বারাই কিন্তু কাজ হয়ে থাকে, আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি এবং তাঁরই প্রতি ফিরে যাই। 89. আর হে আমার জাতি! আমার সাথে জিদ করে তোমরা নূহ বা হুদ অথবা সালেহ (আঃ) এর কওমের মত নিজেদের উপর আযাব ডেকে আনবে না। আর লূতের জাতি তো তোমাদের থেকে খুব দূরে নয়। 90. আর তোমাদের পালনকর্তার কাছে মার্জনা চাও এবং তাঁরই পানে ফিরে এসো নিশ্চয়ই আমার পরওয়ারদেগার খুবই মেহেরবান অতিস্নেহময়। 91. তারা বলল-হে শোয়ায়েব (আঃ) আপনি যা বলেছেন তার অনেক কথাই আমরা বুঝি নাই, আমারা তো আপনাকে আমাদের মধ্যে দূর্বল ব্যক্তি রূপে মনে করি। আপনার ভাই বন্ধুরা না থাকলে আমরা আপনাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করতাম। আমাদের দৃষ্টিতে আপনি কোন মর্যাদাবান ব্যক্তি নন। 92. শোয়ায়েব (আঃ) বলেন- হে আমার জাতি, আমার ভাই বন্ধুরা কি তোমাদের কাছে আল্লাহর চেয়ে প্রভাবশালী? আর তোমরা তাকে বিস্মৃত হয়ে পেছনে ফেলে রেখেছ, নিশ্চয় তোমাদের কার্যকলাপ আমার পালনকর্তার আয়ত্তে রয়েছে। 93. আর হে আমার জাতি, তোমরা নিজ স্থানে কাজ করে যাও, আমিও কাজ করছি, অচিরেই জানতে পারবে কার উপর অপমানকর আযাব আসে আর কে মিথ্যাবাদী? আর তোমরাও অপেক্ষায় থাক, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম। 94. আর আমার হুকুম যখন এল, আমি শোয়ায়েব (আঃ) ও তাঁর সঙ্গী ঈমানদারগণকে নিজ রহমতে রক্ষা করি আর পাপিষ্ঠদের উপর বিকট গর্জন পতিত হলো। ফলে ভোর না হতেই তারা নিজেদের ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে রইল। 95. যেন তারা সেখানে কখনো বসবাসই করে নাই। জেনে রাখ, সামুদের প্রতি অভিসম্পাতের মত মাদইয়ানবাসীর উপরেও অভিসম্পাত। 96. আর আমি মূসা (আঃ) কে প্রেরণ করি আমার নিদর্শনাদি ও সুস্পষ্ট সনদসহ; 97. ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে, তবুও তারা ফেরাউনের হুকুমে চলতে থাকে, অথচ ফেরাউনের কোন কথা ন্যায় সঙ্গত ছিল না। 98. কেয়ামতের দিন সে তার জাতির লোকদের আগে আগে থাকবে এবং তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে পৌঁছে দিবে। আর সেটা অতীব নিকৃষ্ট স্থান, সেখানে তারা পৌঁছেছে।। 99. আর এ জগতেও তাদের পেছনে লানত রয়েছে এবং কিয়ামতের দিনেও; অত্যন্ত জঘন্য প্রতিফল, যা তারা পেয়েছে। 100. এ হচ্ছে কয়েকটি জনপদের সামান্য ইতিবৃত্ত, যা আমি আপনাকে শোনাচ্ছি। তন্মধ্যে কোন কোনটি এখনও বর্তমান আছে আর কোন কোনটির শিকড় কেটে দেয়া হয়েছে। 101. আমি কিন্তু তাদের প্রতি জুলুম করি নাই বরং তারা নিজেরাই নিজের উপর অবিচার করেছে। ফলে আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা যেসব মাবুদকে ডাকতো আপনার পালনকর্তার হুকুম যখন এসে পড়ল, তখন কেউ কোন কাজে আসল না। তারা শুধু বিপর্যয়ই বৃদ্ধি করল। 102. আর তোমার পরওয়ারদেগার যখন কোন পাপপূর্ণ জনপদকে ধরেন, তখন এমনিভাবেই ধরে থাকেন। নিশ্চয় তাঁর পাকড়াও খুবই মারাত্নক, বড়ই কঠোর। 103. নিশ্চয় ইহার মধ্যে নিদর্শন রয়েছে এমন প্রতিটি মানুষের জন্য যে আখেরাতের আযাবকে ভয় করে। উহা এমন একদিন, যে দিন সব মানুষেই সমবেত হবে, সেদিনটি যে হাযিরের দিন। 104. আর আমি যে উহা বিলম্বিত করি, তা শুধু একটি ওয়াদার কারণে যা নির্ধারিত রয়েছে। 105. যেদিন তা আসবে সেদিন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কোন কথা বলতে পারে না। অতঃপর কিছু লোক হবে হতভাগ্য আর কিছু লোক সৌভাগ্যবান। 106. অতএব যারা হতভাগ্য তারা দোযখে যাবে, সেখানে তারা আর্তনাদ ও চিৎকার করতে থাকবে। 107. তারা সেখানে চিরকাল থাকবে, যতদিন আসমান ও যমীন বর্তমান থাকবে। তবে তোমার প্রতিপালক অন্য কিছু ইচ্ছা করলে ভিন্ন কথা। নিশ্চয় তোমার পরওয়ারদেগার যা ইচ্ছা করতে পারেন। 108. আর যারা সৌভাগ্যবান তারা বেহেশতের মাঝে, সেখানেই চিরদিন থাকবে, যতদিন আসমান ও যমীন বর্তমান থাকবে। তবে তোমার প্রভু অন্য কিছু ইচ্ছা করলে ভিন্ন কথা। এ দানের ধারাবাহিকতা কখনো ছিন্ন হওয়ার নয়। 109. অতএব, তারা যেসবের উপাসনা করে তুমি সে ব্যাপারে কোনরূপ ধোঁকায় পড়বে না। তাদের পূর্ববর্তী বাপ- দাদারা যেমন পূজা উপাসনা করত, এরাও তেমন করছে। আর নিশ্চয় আমি তাদেরকে আযাবের ভাগ কিছু মাত্রও কম না করেই পুরোপুরি দান করবো। 110. আর আমি মূসা (আঃ) -কে অবশ্যই কিতাব দিয়েছিলাম অতঃপর তাতে বিরোধ সৃষ্টি হল; বলাবাহুল্য তোমার পালনকর্তার পক্ষ হতে, একটি কথা যদি আগেই বলা না হত, তাহলে তাদের মধ্যে চুড়ান্ত ফয়সালা হয়ে যেত তারা এ ব্যাপারে এমনই সন্দেহ প্রবণ যে, কিছুতেই নিশ্চিত হতে পারছে না। 111. আর যত লোকই হোক না কেন, যখন সময় হবে, তোমার প্রভু তাদের সকলেরই আমলের প্রতিদান পুরোপুরি দান করবেন। নিশ্চয় তিনি তাদের যাবতীয় কার্যকলাপের খবর রাখেন। 112. অতএব, তুমি এবং তোমার সাথে যারা তওবা করেছে সবাই সোজা পথে চলে যাও-যেমন তোমায় হুকুম দেয়া হয়েছে এবং সীমা লঙ্ঘন করবে না, তোমরা যা কিছু করছ, নিশ্চয় তিনি তার প্রতি দৃষ্টি রাখেন। 113. আর পাপিষ্ঠদের প্রতি ঝুঁকবে না। নতুবা তোমাদেরকেও আগুনে ধরবে। আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন বন্ধু নাই। অতএব কোথাও সাহায্য পাবে না। 114. আর দিনের দুই প্রান্তেই নামায ঠিক রাখবে, এবং রাতের প্রান্তভাগে পূর্ণ কাজ অবশ্যই পাপ দূর করে দেয়, যারা স্মরণ রাখে তাদের জন্য এটি এক মহা স্মারক। 115. আর ধৈর্য্যধারণ কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ পূণ্যবানদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না। 116. কাজেই, তোমাদের পূর্ববতী জাতি গুলির মধ্যে এমন সৎকর্মশীল কেন রইল না, যারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে বাধা দিত; তবে মুষ্টিমেয় লোক ছিল যাদেরকে আমি তাদের মধ্য হতে রক্ষা করেছি। আর পাপিষ্ঠরা তো ভোগ বিলাসে মত্ত ছিল যার সামগ্রী তাদেরকে যথেষ্ট দেয়া হয়েছিল। আসলে তারা ছিল মহা অপরাধী। 117. আর তোমার পালনকর্তা এমন নন যে, জনবসতিগুলোকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করে দেবেন, সেখানকার লোকেরা সৎকর্মশীল হওয়া সত্ত্বেও। 118. আর তোমার পালনকর্তা যদি ইচ্ছা করতেন, তবে অবশ্যই সব মানুষকে একই জাতিসত্তায় পরিনত করতে পারতেন আর তারা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হতো না। 119. তোমার পালনকর্তা যাদের উপর রহমত করেছেন, তারা ব্যতীত সবাই চিরদিন মতভেদ করতেই থাকবে এবং এজন্যই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আর তোমার আল্লাহর কথাই পূর্ণ হল যে, অবশ্যই আমি জাহান্নামকে জ্বিন ও মানুষ দ্বারা একযোগে ভর্তি করব। 120. আর আমি রসূলগণের সব বৃত্তান্তই তোমাকে বলছি, যদ্দ্বারা তোমার অন্তরকে মজবুত করছি। আর এভাবে তোমার নিকট মহাসত্য এবং ঈমানদারদের জন্য নসীহত ও স্বরণীয় বিষয়বস্তু এসেছে। 121. আর যারা ঈমান আনে না, তাদেরকে বলে দাও যে, তোমরা নিজ নিজ অবস্থায় কাজ করে যাও আমরাও কাজ করে যাই। 122. এবং তোমরাও অপেক্ষা করে থাক, আমরাও অপেক্ষায় রইলাম। 123. আর আল্লাহর কাছেই আছে আসমান ও যমীনের গোপন তথ্য; আর সকল কাজের প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে; অতএব, তাঁরই বন্দেগী কর এবং তাঁর উপর ভরসা রাখ, আর তোমাদের কার্যকলাপ সম্বন্ধে তোমার পালনকর্তা কিন্তু বে-খবর নন। *********

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s