12. আল ইউসুফ (01-111)


ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম
করুণাময়, অতি দয়ালু
[1] ﺍﻟﺮ ۚ ﺗِﻠﻚَ ﺀﺍﻳٰﺖُ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ
ﺍﻟﻤُﺒﻴﻦِ
[1] আলিফ-লা-ম-রা; এগুলো সুস্পষ্ট
গ্রন্থের আয়াত।
[1] Alif-Lâm-Râ. [These letters are one of
the miracles of the Qur’an, and none but
Allâh (Alone) knows their meanings].
These are the Verses of the Clear Book
(the Qur’ân that makes clear the legal
and illegal things, laws, a guidance and a
blessing).
[2] ﺇِﻧّﺎ ﺃَﻧﺰَﻟﻨٰﻪُ ﻗُﺮﺀٰﻧًﺎ ﻋَﺮَﺑِﻴًّﺎ
ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢ ﺗَﻌﻘِﻠﻮﻥَ
[2] আমি একে আরবী ভাষায় কোরআন
রূপে অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা
বুঝতে পার।
[2] Verily, We have sent it down as an
Arabic Qur’ân in order that you may
understand.
[3] ﻧَﺤﻦُ ﻧَﻘُﺺُّ ﻋَﻠَﻴﻚَ ﺃَﺣﺴَﻦَ
ﺍﻟﻘَﺼَﺺِ ﺑِﻤﺎ ﺃَﻭﺣَﻴﻨﺎ ﺇِﻟَﻴﻚَ
ﻫٰﺬَﺍ ﺍﻟﻘُﺮﺀﺍﻥَ ﻭَﺇِﻥ ﻛُﻨﺖَ ﻣِﻦ
ﻗَﺒﻠِﻪِ ﻟَﻤِﻦَ ﺍﻟﻐٰﻔِﻠﻴﻦَ
[3] আমি তোমার নিকট উত্তম কাহিনী
বর্ণনা করেছি, যেমতে আমি এ
কোরআন তোমার নিকট অবতীর্ণ
করেছি। তুমি এর আগে অবশ্যই এ
ব্যাপারে অনবহিতদের অন্তর্ভূক্ত
ছিলে।
[3] We relate unto you (Muhammad
SAW) the best of stories through Our
Revelations unto you, of this Qur’ân. And
before this (i.e. before the coming of
Divine Revelation to you), you were
among those who knew nothing about it
(the Qur’ân)
[4] ﺇِﺫ ﻗﺎﻝَ ﻳﻮﺳُﻒُ ﻟِﺄَﺑﻴﻪِ
ﻳٰﺄَﺑَﺖِ ﺇِﻧّﻰ ﺭَﺃَﻳﺖُ ﺃَﺣَﺪَ ﻋَﺸَﺮَ
ﻛَﻮﻛَﺒًﺎ ﻭَﺍﻟﺸَّﻤﺲَ ﻭَﺍﻟﻘَﻤَﺮَ
ﺭَﺃَﻳﺘُﻬُﻢ ﻟﻰ ﺳٰﺠِﺪﻳﻦَ
[4] যখন ইউসুফ পিতাকে বললঃ পিতা,
আমি স্বপ্নে দেখেছি এগারটি
নক্ষত্রকে। সুর্যকে এবং চন্দ্রকে। আমি
তাদেরকে আমার উদ্দেশে সেজদা
করতে দেখেছি।
[4] (Remember) when Yûsuf (Joseph) said
to his father: “O my father! Verily, I saw
(in a dream) eleven stars and the sun
and the moon,— I saw them prostrating
themselves to me.”
[5] ﻗﺎﻝَ ﻳٰﺒُﻨَﻰَّ ﻻ ﺗَﻘﺼُﺺ
ﺭُﺀﻳﺎﻙَ ﻋَﻠﻰٰ ﺇِﺧﻮَﺗِﻚَ
ﻓَﻴَﻜﻴﺪﻭﺍ ﻟَﻚَ ﻛَﻴﺪًﺍ ۖ ﺇِﻥَّ
ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦَ ﻟِﻺِﻧﺴٰﻦِ ﻋَﺪُﻭٌّ ﻣُﺒﻴﻦٌ
[5] তিনি বললেনঃ বৎস, তোমার
ভাইদের সামনে এ স্বপ্ন বর্ণনা করো
না। তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে
চক্রান্ত করবে। নিশ্চয় শয়তান মানুষের
প্রকাশ্য।
[5] He (the father) said: “O my son!
Relate not your vision to your brothers,
lest they arrange a plot against you.
Verily! Shaitân (Satan) is to man an open
enemy!
[6] ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻳَﺠﺘَﺒﻴﻚَ ﺭَﺑُّﻚَ
ﻭَﻳُﻌَﻠِّﻤُﻚَ ﻣِﻦ ﺗَﺄﻭﻳﻞِ
ﺍﻷَﺣﺎﺩﻳﺚِ ﻭَﻳُﺘِﻢُّ ﻧِﻌﻤَﺘَﻪُ
ﻋَﻠَﻴﻚَ ﻭَﻋَﻠﻰٰ ﺀﺍﻝِ ﻳَﻌﻘﻮﺏَ
ﻛَﻤﺎ ﺃَﺗَﻤَّﻬﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﺑَﻮَﻳﻚَ ﻣِﻦ
ﻗَﺒﻞُ ﺇِﺑﺮٰﻫﻴﻢَ ﻭَﺇِﺳﺤٰﻖَ ۚ ﺇِﻥَّ
ﺭَﺑَّﻚَ ﻋَﻠﻴﻢٌ ﺣَﻜﻴﻢٌ
[6] এমনিভাবে তোমার পালনকর্তা
তোমাকে মনোনীত করবেন এবং
তোমাকে বাণীসমূহের নিগুঢ় তত্ত্ব
শিক্ষা দেবেন এবং পূর্ণ করবেন স্বীয়
অনুগ্রহ তোমার প্রতি ও ইয়াকুব
পরিবার-পরিজনের প্রতি; যেমন
ইতিপূর্বে তোমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম ও
ইসহাকের প্রতি পূর্ণ করেছেন। নিশ্চয়
তোমার পালনকর্তা অত্যন্ত জ্ঞানী,
প্রজ্ঞাময়।
[6] “Thus will your Lord choose you and
teach you the interpretation of dreams
(and other things) and perfect His
Favour on you and on the offspring of
Ya’qûb (Jacob), as He perfected it on
your fathers, Ibrahîm (Abraham) and
Ishâq (Isaac) aforetime! Verily, your
Lord is All-Knowing, All-Wise.”
[7] ۞ ﻟَﻘَﺪ ﻛﺎﻥَ ﻓﻰ ﻳﻮﺳُﻒَ
ﻭَﺇِﺧﻮَﺗِﻪِ ﺀﺍﻳٰﺖٌ ﻟِﻠﺴّﺎﺋِﻠﻴﻦَ
[7] অবশ্য ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের
কাহিনীতে জিজ্ঞাসুদের জন্যে
নিদর্শনাবলী রয়েছে।
[7] Verily, in Yûsuf (Joseph) and his
brethren, there were Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) for those who ask.
[8] ﺇِﺫ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻟَﻴﻮﺳُﻒُ ﻭَﺃَﺧﻮﻩُ
ﺃَﺣَﺐُّ ﺇِﻟﻰٰ ﺃَﺑﻴﻨﺎ ﻣِﻨّﺎ ﻭَﻧَﺤﻦُ
ﻋُﺼﺒَﺔٌ ﺇِﻥَّ ﺃَﺑﺎﻧﺎ ﻟَﻔﻰ ﺿَﻠٰﻞٍ
ﻣُﺒﻴﻦٍ
[8] যখন তারা বললঃ অবশ্যই ইউসুফ ও
তাঁর ভাই আমাদের পিতার কাছে
আমাদের চাইতে অধিক প্রিয় অথচ
আমরা একটা সংহত শক্তি বিশেষ।
নিশ্চয় আমাদের পিতা স্পষ্ট
ভ্রান্তিতে রয়েছেন।
[8] When they said: “Truly, Yûsuf
(Joseph) and his brother (Benjamin) are
dearer to our father than we, but we are
a strong group. Really, our father is in a
plain error.
[9] ﺍﻗﺘُﻠﻮﺍ ﻳﻮﺳُﻒَ ﺃَﻭِ
ﺍﻃﺮَﺣﻮﻩُ ﺃَﺭﺿًﺎ ﻳَﺨﻞُ ﻟَﻜُﻢ
ﻭَﺟﻪُ ﺃَﺑﻴﻜُﻢ ﻭَﺗَﻜﻮﻧﻮﺍ ﻣِﻦ
ﺑَﻌﺪِﻩِ ﻗَﻮﻣًﺎ ﺻٰﻠِﺤﻴﻦَ
[9] হত্যা কর ইউসুফকে কিংবা ফেলে
আস তাকে অন্য কোন স্থানে। এতে শুধু
তোমাদের প্রতিই তোমাদের পিতার
মনোযোগ নিবিষ্ট হবে এবং এরপর
তোমরা যোগ্য বিবেচিত হয়ে
থাকবে।
[9] “Kill Yûsuf (Joseph) or cast him out to
some (other) land, so that the favour of
your father may be given to you alone,
and after that you will be righteous folk
(by intending repentance before
committing the sin).”
[10] ﻗﺎﻝَ ﻗﺎﺋِﻞٌ ﻣِﻨﻬُﻢ ﻻ ﺗَﻘﺘُﻠﻮﺍ
ﻳﻮﺳُﻒَ ﻭَﺃَﻟﻘﻮﻩُ ﻓﻰ ﻏَﻴٰﺒَﺖِ
ﺍﻟﺠُﺐِّ ﻳَﻠﺘَﻘِﻄﻪُ ﺑَﻌﺾُ
ﺍﻟﺴَّﻴّﺎﺭَﺓِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ ﻓٰﻌِﻠﻴﻦَ
[10] তাদের মধ্য থেকে একজন বলল,
তোমরা ইউসুফ কে হত্যা করো না,
বরং ফেলে দাও তাকে অন্ধকূপে যাতে
কোন পথিক তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়,
যদি তোমাদের কিছু করতেই হয়।
[10] One from among them said: “Kill
not Yûsuf (Joseph), but if you must do
something, throw him down to the
bottom of a well, he will be picked up by
some caravan of travellers.”
[11] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﺄَﺑﺎﻧﺎ ﻣﺎ ﻟَﻚَ ﻻ
ﺗَﺄﻣَ۫ﻨّﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﻳﻮﺳُﻒَ ﻭَﺇِﻧّﺎ ﻟَﻪُ
ﻟَﻨٰﺼِﺤﻮﻥَ
[11] তারা বললঃ পিতাঃ ব্যাপার কি,
আপনি ইউসুফের ব্যাপারে আমাদেরকে
বিশ্বাস করেন না ? আমরা তো তার
হিতাকাংখী।
[11] They said: “O our father! Why do
you not trust us with Yûsuf (Joseph)
though we are indeed his well-wishers?”
[12] ﺃَﺭﺳِﻠﻪُ ﻣَﻌَﻨﺎ ﻏَﺪًﺍ ﻳَﺮﺗَﻊ
ﻭَﻳَﻠﻌَﺐ ﻭَﺇِﻧّﺎ ﻟَﻪُ ﻟَﺤٰﻔِﻈﻮﻥَ
[12] আগামীকাল তাকে আমাদের
সাথে প্রেরণ করুন-তৃপ্তিসহ খাবে এবং
খেলাধুলা করবে এবং আমরা অবশ্যই
তার রক্ষণাবেক্ষন করব।
[12] “Send him with us tomorrow to
enjoy himself and play, and verily, we
will take care of him.”
[13] ﻗﺎﻝَ ﺇِﻧّﻰ ﻟَﻴَﺤﺰُﻧُﻨﻰ ﺃَﻥ
ﺗَﺬﻫَﺒﻮﺍ ﺑِﻪِ ﻭَﺃَﺧﺎﻑُ ﺃَﻥ ﻳَﺄﻛُﻠَﻪُ
ﺍﻟﺬِّﺋﺐُ ﻭَﺃَﻧﺘُﻢ ﻋَﻨﻪُ ﻏٰﻔِﻠﻮﻥَ
[13] তিনি বললেনঃ আমার দুশ্চিন্তা হয়
যে, তোমরা তাকে নিয়ে যাবে এবং
আমি আশঙ্কা করি যে, ব্যাঘ্র তাঁকে
খেয়ে ফেলবে এবং তোমরা তার দিক
থেকে গাফেল থাকবে।
[13] He [Ya’qûb (Jacob)] said: “Truly, it
saddens me that you should take him
away. I fear lest a wolf should devour
him, while you are careless of him.”
[14] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻟَﺌِﻦ ﺃَﻛَﻠَﻪُ ﺍﻟﺬِّﺋﺐُ
ﻭَﻧَﺤﻦُ ﻋُﺼﺒَﺔٌ ﺇِﻧّﺎ ﺇِﺫًﺍ
ﻟَﺨٰﺴِﺮﻭﻥَ
[14] তারা বললঃ আমরা একটি ভারী
দল থাকা সত্ত্বেও যদি ব্যাঘ্র তাকে
খেয়ে ফেলে, তবে আমরা সবই
হারালাম।
[14] They said: “If a wolf devours him,
while we are a strong group (to guard
him), then surely, we are the losers.”
[15] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺫَﻫَﺒﻮﺍ ﺑِﻪِ ﻭَﺃَﺟﻤَﻌﻮﺍ
ﺃَﻥ ﻳَﺠﻌَﻠﻮﻩُ ﻓﻰ ﻏَﻴٰﺒَﺖِ
ﺍﻟﺠُﺐِّ ۚ ﻭَﺃَﻭﺣَﻴﻨﺎ ﺇِﻟَﻴﻪِ
ﻟَﺘُﻨَﺒِّﺌَﻨَّﻬُﻢ ﺑِﺄَﻣﺮِﻫِﻢ ﻫٰﺬﺍ ﻭَﻫُﻢ
ﻻ ﻳَﺸﻌُﺮﻭﻥَ
[15] অতঃপর তারা যখন তাকে নিয়ে
চলল এবং অন্ধকূপে নিক্ষেপ করতে
একমত হল এবং আমি তাকে ইঙ্গিত
করলাম যে, তুমি তাদেরকে তাদের এ
কাজের কথা বলবে এমতাবস্থায় যে,
তারা তোমাকে চিনবে না।
[15] So, when they took him away, they
all agreed to throw him down to the
bottom of the well (they did so), and We
revealed to him: “Indeed, you shall (one
day) inform them of this their affair,
when they know (you) not.”
[16] ﻭَﺟﺎﺀﻭ ﺃَﺑﺎﻫُﻢ ﻋِﺸﺎﺀً
ﻳَﺒﻜﻮﻥَ
[16] তারা রাতের বেলায় কাঁদতে
কাঁদতে পিতার কাছে এল।
[16] And they came to their father in the
early part of the night weeping.
[17] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﺄَﺑﺎﻧﺎ ﺇِﻧّﺎ ﺫَﻫَﺒﻨﺎ
ﻧَﺴﺘَﺒِﻖُ ﻭَﺗَﺮَﻛﻨﺎ ﻳﻮﺳُﻒَ ﻋِﻨﺪَ
ﻣَﺘٰﻌِﻨﺎ ﻓَﺄَﻛَﻠَﻪُ ﺍﻟﺬِّﺋﺐُ ۖ ﻭَﻣﺎ
ﺃَﻧﺖَ ﺑِﻤُﺆﻣِﻦٍ ﻟَﻨﺎ ﻭَﻟَﻮ ﻛُﻨّﺎ
ﺻٰﺪِﻗﻴﻦَ
[17] তারা বললঃ পিতাঃ আমরা দৌড়
প্রতিযোগিতা করতে গিয়েছিলাম
এবং ইউসুফকে আসবাব-পত্রের কাছে
রেখে গিয়েছিলাম। অতঃপর তাকে
বাঘে খেয়ে ফেলেছে। আপনি তো
আমাদেরকে বিশ্বাস করবেন না, যদিও
আমরা সত্যবাদী।
[17] They said:”O our father! We went
racing with one another, and left Yûsuf
(Joseph) by our belongings and a wolf
devoured him; but you will never believe
us even when we speak the truth.”
[18] ﻭَﺟﺎﺀﻭ ﻋَﻠﻰٰ ﻗَﻤﻴﺼِﻪِ
ﺑِﺪَﻡٍ ﻛَﺬِﺏٍ ۚ ﻗﺎﻝَ ﺑَﻞ ﺳَﻮَّﻟَﺖ
ﻟَﻜُﻢ ﺃَﻧﻔُﺴُﻜُﻢ ﺃَﻣﺮًﺍ ۖ ﻓَﺼَﺒﺮٌ
ﺟَﻤﻴﻞٌ ۖ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟﻤُﺴﺘَﻌﺎﻥُ ﻋَﻠﻰٰ
ﻣﺎ ﺗَﺼِﻔﻮﻥَ
[18] এবং তারা তার জামায় কৃত্রিম
রক্ত লাগিয়ে আনল। বললেনঃ এটা
কখনই নয়; বরং তোমাদের মন
তোমাদেরকে একটা কথা সাজিয়ে
দিয়েছে। সুতরাং এখন ছবর করাই শ্রেয়।
তোমরা যা বর্ণনা করছ, সে বিষয়ে
একমাত্র আল্লাহই আমার সাহায্য স্থল।
[18] And they brought his shirt stained
with false blood. He said: “Nay, but your
ownselves have made up a tale. So (for
me) patience is most fitting. And it is
Allâh (Alone) Whose help can be sought
against that (lie) which you describe.”
[19] ﻭَﺟﺎﺀَﺕ ﺳَﻴّﺎﺭَﺓٌ ﻓَﺄَﺭﺳَﻠﻮﺍ
ﻭﺍﺭِﺩَﻫُﻢ ﻓَﺄَﺩﻟﻰٰ ﺩَﻟﻮَﻩُ ۖ ﻗﺎﻝَ
ﻳٰﺒُﺸﺮﻯٰ ﻫٰﺬﺍ ﻏُﻠٰﻢٌ ۚ ﻭَﺃَﺳَﺮّﻭﻩُ
ﺑِﻀٰﻌَﺔً ۚ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠﻴﻢٌ ﺑِﻤﺎ
ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[19] এবং একটি কাফেলা এল। অতঃপর
তাদের পানি সংগ্রাহককে প্রেরণ
করল। সে বালতি ফেলল। বললঃ কি
আনন্দের কথা। এ তো একটি কিশোর
তারা তাকে পন্যদ্রব্য গণ্য করে গোপন
করে ফেলল। আল্লাহ খুব জানেন যা
কিছু তারা করেছিল।
[19] And there came a caravan of
travellers; they sent their water-drawer,
and he let down his bucket (into the
well). He said: “What good news! Here is
a boy.” So they hid him as merchandise
(a slave). And Allâh was the All-Knower
of what they did
[20] ﻭَﺷَﺮَﻭﻩُ ﺑِﺜَﻤَﻦٍ ﺑَﺨﺲٍ
ﺩَﺭٰﻫِﻢَ ﻣَﻌﺪﻭﺩَﺓٍ ﻭَﻛﺎﻧﻮﺍ ﻓﻴﻪِ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﺰّٰﻫِﺪﻳﻦَ
[20] ওরা তাকে কম মূল্যে বিক্রি করে
দিল গনাগুণতি কয়েক দেরহাম এবং তাঁর
ব্যাপারে নিরাসক্ত ছিল।
[20] And they sold him for a low price, –
for a few Dirhams (i.e. for a few silver
coins). And they were of those who
regarded him insignificant
[21] ﻭَﻗﺎﻝَ ﺍﻟَّﺬِﻯ ﺍﺷﺘَﺮﻯٰﻪُ ﻣِﻦ
ﻣِﺼﺮَ ﻟِﺎﻣﺮَﺃَﺗِﻪِ ﺃَﻛﺮِﻣﻰ ﻣَﺜﻮﻯٰﻪُ
ﻋَﺴﻰٰ ﺃَﻥ ﻳَﻨﻔَﻌَﻨﺎ ﺃَﻭ ﻧَﺘَّﺨِﺬَﻩُ
ﻭَﻟَﺪًﺍ ۚ ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻣَﻜَّﻨّﺎ ﻟِﻴﻮﺳُﻒَ
ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﻟِﻨُﻌَﻠِّﻤَﻪُ ﻣِﻦ
ﺗَﺄﻭﻳﻞِ ﺍﻷَﺣﺎﺩﻳﺚِ ۚ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ
ﻏﺎﻟِﺐٌ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﻣﺮِﻩِ ﻭَﻟٰﻜِﻦَّ ﺃَﻛﺜَﺮَ
ﺍﻟﻨّﺎﺱِ ﻻ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[21] মিসরে যে ব্যক্তি তাকে ক্রয় করল,
সে তার স্ত্রীকে বললঃ একে সম্মানে
রাখ। সম্ভবতঃ সে আমাদের কাছে
আসবে অথবা আমরা তাকে পুত্ররূপে
গ্রহণ করে নেব। এমনিভাবে আমি
ইউসুফকে এদেশে প্রতিষ্ঠিত করলাম
এবং এ জন্যে যে তাকে বাক্যাদির
পূর্ণ মর্ম অনুধাবনের পদ্ধতি বিষয়ে
শিক্ষা দেই। আল্লাহ নিজ কাজে প্রবল
থাকেন, কিন্তু অধিকাংশ লোক তা
জানে না।
[21] And he (the man) from Egypt who
bought him, said to his wife: “Make his
stay comfortable, may be he will profit
us or we shall adopt him as a son.” Thus
did We establish Yûsuf (Joseph) in the
land, that We might teach him the
interpretation of events. And Allâh has
full power and control over His Affairs,
but most of men know not
[22] ﻭَﻟَﻤّﺎ ﺑَﻠَﻎَ ﺃَﺷُﺪَّﻩُ ﺀﺍﺗَﻴﻨٰﻪُ
ﺣُﻜﻤًﺎ ﻭَﻋِﻠﻤًﺎ ۚ ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻧَﺠﺰِﻯ
ﺍﻟﻤُﺤﺴِﻨﻴﻦَ
[22] যখন সে পূর্ণ যৌবনে পৌছে গেল,
তখন তাকে প্রজ্ঞা ও ব্যুৎপত্তি দান
করলাম। এমননিভাবে আমি
সৎকর্মপরায়ণদেরকে প্রতিদান দেই।
[22] And when he [Yûsuf (Joseph)]
attained his full manhood, We gave him
wisdom and knowledge (the
Prophethood), thus We reward the
Muhsinûn (doers of good – see V.2:112).
[23] ﻭَﺭٰﻭَﺩَﺗﻪُ ﺍﻟَّﺘﻰ ﻫُﻮَ ﻓﻰ
ﺑَﻴﺘِﻬﺎ ﻋَﻦ ﻧَﻔﺴِﻪِ ﻭَﻏَﻠَّﻘَﺖِ
ﺍﻷَﺑﻮٰﺏَ ﻭَﻗﺎﻟَﺖ ﻫَﻴﺖَ ﻟَﻚَ ۚ
ﻗﺎﻝَ ﻣَﻌﺎﺫَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۖ ﺇِﻧَّﻪُ ﺭَﺑّﻰ
ﺃَﺣﺴَﻦَ ﻣَﺜﻮﺍﻯَ ۖ ﺇِﻧَّﻪُ ﻻ ﻳُﻔﻠِﺢُ
ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻮﻥَ
[23] আর সে যে মহিলার ঘরে ছিল, ঐ
মহিলা তাকে ফুসলাতে লাগল এবং
দরজাসমূহ বন্ধ করে দিল। সে মহিলা
বললঃ শুন! তোমাকে বলছি, এদিকে
আস, সে বললঃ আল্লাহ রক্ষা করুন;
তোমার স্বামী আমার মালিক। তিনি
আমাকে সযত্নে থাকতে দিয়েছেন।
নিশ্চয় সীমা লংঘনকারীগণ সফল হয়
না।
[23] And she, in whose house he was,
sought to seduce him (to do an evil act),
and she closed the doors and said:
“Come on, O you.” He said: “I seek refuge
in Allâh (or Allâh forbid)! Truly, he (your
husband) is my master! He made my
living in a great comfort! (So I will never
betray him). Verily, the Zâlimûn (wrong
and evil-doers) will never be successful.”
[24] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﻫَﻤَّﺖ ﺑِﻪِ ۖ ﻭَﻫَﻢَّ ﺑِﻬﺎ
ﻟَﻮﻻ ﺃَﻥ ﺭَﺀﺍ ﺑُﺮﻫٰﻦَ ﺭَﺑِّﻪِ ۚ
ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻟِﻨَﺼﺮِﻑَ ﻋَﻨﻪُ ﺍﻟﺴّﻮﺀَ
ﻭَﺍﻟﻔَﺤﺸﺎﺀَ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﻣِﻦ ﻋِﺒﺎﺩِﻧَﺎ
ﺍﻟﻤُﺨﻠَﺼﻴﻦَ
[24] নিশ্চয় মহিলা তার বিষয়ে চিন্তা
করেছিল এবং সেও মহিলার বিষয়ে
চিন্তা করত। যদি না সে স্বীয়
পালনকর্তার মহিমা অবলোকন করত।
এমনিবাবে হয়েছে, যাতে আমি তার
কাছ থেকে মন্দ বিষয় ও নিলজ্জ বিষয়
সরিয়ে দেই। নিশ্চয় সে আমার
মনোনীত বান্দাদের একজন।
[24] And indeed she did desire him and
he would have inclined to her desire,
had he not seen the evidence of his Lord.
Thus it was, that We might turn away
from him evil and illegal sexual
intercourse. Surely, he was one of Our
chosen, (guided) slaves.
[25] ﻭَﺍﺳﺘَﺒَﻘَﺎ ﺍﻟﺒﺎﺏَ ﻭَﻗَﺪَّﺕ
ﻗَﻤﻴﺼَﻪُ ﻣِﻦ ﺩُﺑُﺮٍ ﻭَﺃَﻟﻔَﻴﺎ
ﺳَﻴِّﺪَﻫﺎ ﻟَﺪَﺍ ﺍﻟﺒﺎﺏِ ۚ ﻗﺎﻟَﺖ ﻣﺎ
ﺟَﺰﺍﺀُ ﻣَﻦ ﺃَﺭﺍﺩَ ﺑِﺄَﻫﻠِﻚَ ﺳﻮﺀًﺍ
ﺇِﻟّﺎ ﺃَﻥ ﻳُﺴﺠَﻦَ ﺃَﻭ ﻋَﺬﺍﺏٌ ﺃَﻟﻴﻢٌ
[25] তারা উভয়ে ছুটে দরজার দিকে
গেল এবং মহিলা ইউসুফের জামা পিছন
দিক থেকে ছিঁড়ে ফেলল। উভয়ে
মহিলার স্বামীকে দরজার কাছে পেল।
মহিলা বললঃ যে ব্যক্তি তোমার
পরিজনের সাথে কুকর্মের ইচ্ছা করে,
তাকে কারাগারে পাঠানো অথবা
অন্য কোন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেয়া
ছাড়া তার আর কি শাস্তি হতে পারে?
[25] So they raced with one another to
the door, and she tore his shirt from the
back. They both found her lord (i.e. her
husband) at the door. She said: “What is
the recompense (punishment) for him
who intended an evil design against your
wife, except that he be put in prison or a
painful torment?”
[26] ﻗﺎﻝَ ﻫِﻰَ ﺭٰﻭَﺩَﺗﻨﻰ ﻋَﻦ
ﻧَﻔﺴﻰ ۚ ﻭَﺷَﻬِﺪَ ﺷﺎﻫِﺪٌ ﻣِﻦ
ﺃَﻫﻠِﻬﺎ ﺇِﻥ ﻛﺎﻥَ ﻗَﻤﻴﺼُﻪُ ﻗُﺪَّ
ﻣِﻦ ﻗُﺒُﻞٍ ﻓَﺼَﺪَﻗَﺖ ﻭَﻫُﻮَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻜٰﺬِﺑﻴﻦَ
[26] ইউসুফ (আঃ) বললেন, সেই আমাকে
আত্মসংবরণ না করতে ফুসলিয়েছে।
মহিলার পরিবারে জনৈক সাক্ষী দিল
যে, যদি তার জামা সামনের দিক
থেকে ছিন্ন থাকে, তবে মহিলা
সত্যবাদিনী এবং সে মিথ্যাবাদি।
[26] He [Yûsuf (Joseph)] said: “It was she
that sought to seduce me,” – and a
witness of her household bore witness
(saying): “If it be that his shirt is torn
from the front, then her tale is true and
he is a liar!
[27] ﻭَﺇِﻥ ﻛﺎﻥَ ﻗَﻤﻴﺼُﻪُ ﻗُﺪَّ ﻣِﻦ
ﺩُﺑُﺮٍ ﻓَﻜَﺬَﺑَﺖ ﻭَﻫُﻮَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺼّٰﺪِﻗﻴﻦَ
[27] এবং যদি তার জামা পেছনের দিক
থেকে ছিন্ন থাকে, তবে মহিলা
মিথ্যাবাদিনী এবং সে সত্যবাদী।
[27] “But if it be that his shirt is torn
from the back, then she has told a lie
and he is speaking the truth!”
[28] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺭَﺀﺍ ﻗَﻤﻴﺼَﻪُ ﻗُﺪَّ ﻣِﻦ
ﺩُﺑُﺮٍ ﻗﺎﻝَ ﺇِﻧَّﻪُ ﻣِﻦ ﻛَﻴﺪِﻛُﻦَّ ۖ ﺇِﻥَّ
ﻛَﻴﺪَﻛُﻦَّ ﻋَﻈﻴﻢٌ
[28] অতঃপর গৃহস্বামী যখন দেখল যে,
তার জামা পেছন দিক থেকে ছিন্ন,
তখন সে বলল, নিশ্চয় এটা তোমাদের
ছলনা। নিঃসন্দেহে তোমাদের ছলনা
খুবই মারাত্নক।
[28] So when he (her husband) saw his
[(Yûsuf’s (Joseph)] shirt torn at the back;
(her husband) said: “Surely, it is a plot of
you women! Certainly mighty is your
plot!
[29] ﻳﻮﺳُﻒُ ﺃَﻋﺮِﺽ ﻋَﻦ ﻫٰﺬﺍ ۚ
ﻭَﺍﺳﺘَﻐﻔِﺮﻯ ﻟِﺬَﻧﺒِﻚِ ۖ ﺇِﻧَّﻚِ
ﻛُﻨﺖِ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺨﺎﻃِـٔﻴﻦَ
[29] ইউসুফ এ প্রসঙগ ছাড়! আর হে নারী,
এ পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর
নিঃসন্দেহে তুমি-ই পাপাচারিনী।
[29] “O Yûsuf (Joseph)! Turn away from
this! (O woman!) Ask forgiveness for
your sin. Verily, you were of the sinful.”
[30] ۞ ﻭَﻗﺎﻝَ ﻧِﺴﻮَﺓٌ ﻓِﻰ
ﺍﻟﻤَﺪﻳﻨَﺔِ ﺍﻣﺮَﺃَﺕُ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰِ ﺗُﺮٰﻭِﺩُ
ﻓَﺘﻯٰﻬﺎ ﻋَﻦ ﻧَﻔﺴِﻪِ ۖ ﻗَﺪ ﺷَﻐَﻔَﻬﺎ
ﺣُﺒًّﺎ ۖ ﺇِﻧّﺎ ﻟَﻨَﺮﻯٰﻬﺎ ﻓﻰ ﺿَﻠٰﻞٍ
ﻣُﺒﻴﻦٍ
[30] নগরে মহিলারা বলাবলি করতে
লাগল যে, আযীযের স্ত্রী স্বীয়
গোলামকে কুমতলব চরিতার্থ করার
জন্য ফুসলায়। সে তার প্রেমে উম্মত্ত
হয়ে গেছে। আমরা তো তাকে প্রকাশ্য
ভ্রান্তিতে দেখতে পাচ্ছি।
[30] And women in the city said: “The
wife of Al-‘Azîz is seeking to seduce her
(slave) young man, indeed she loves him
violently; verily we see her in plain
error.”
[31] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺳَﻤِﻌَﺖ ﺑِﻤَﻜﺮِﻫِﻦَّ
ﺃَﺭﺳَﻠَﺖ ﺇِﻟَﻴﻬِﻦَّ ﻭَﺃَﻋﺘَﺪَﺕ ﻟَﻬُﻦَّ
ﻣُﺘَّﻜَـًٔﺎ ﻭَﺀﺍﺗَﺖ ﻛُﻞَّ ﻭٰﺣِﺪَﺓٍ
ﻣِﻨﻬُﻦَّ ﺳِﻜّﻴﻨًﺎ ﻭَﻗﺎﻟَﺖِ ﺍﺧﺮُﺝ
ﻋَﻠَﻴﻬِﻦَّ ۖ ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺭَﺃَﻳﻨَﻪُ ﺃَﻛﺒَﺮﻧَﻪُ
ﻭَﻗَﻄَّﻌﻦَ ﺃَﻳﺪِﻳَﻬُﻦَّ ﻭَﻗُﻠﻦَ ﺣٰﺶَ
ﻟِﻠَّﻪِ ﻣﺎ ﻫٰﺬﺍ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﺇِﻥ ﻫٰﺬﺍ ﺇِﻟّﺎ
ﻣَﻠَﻚٌ ﻛَﺮﻳﻢٌ
[31] যখন সে তাদের চক্রান্ত শুনল, তখন
তাদেরকে ডেকে পাঠাল এবং তাদের
জন্যে একটি ভোজ সভার আয়োজন
করল। সে তাদের প্রত্যেককে একটি
ছুরি দিয়ে বললঃ ইউসুফ এদের সামনে
চলে এস। যখন তারা তাকে দেখল,
হতভম্ব হয়ে গেল এবং আপন হাত কেটে
ফেলল। তারা বললঃ কখনই নয় এ ব্যক্তি
মানব নয়। এ তো কোন মহান
ফেরেশতা।
[31] So when she heard of their
accusation, she sent for them and
prepared a banquet for them; she gave
each one of them a knife (to cut the
foodstuff with), and she said [(to Yûsuf
(Joseph)]: “Come out before them.” Then,
when they saw him, they exalted him (at
his beauty) and (in their astonishment)
cut their hands. They said: “How perfect
is Allâh (or Allâh forbid)! No man is this!
This is none other than a noble angel!”
[32] ﻗﺎﻟَﺖ ﻓَﺬٰﻟِﻜُﻦَّ ﺍﻟَّﺬﻯ
ﻟُﻤﺘُﻨَّﻨﻰ ﻓﻴﻪِ ۖ ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺭٰﻭَﺩﺗُﻪُ
ﻋَﻦ ﻧَﻔﺴِﻪِ ﻓَﺎﺳﺘَﻌﺼَﻢَ ۖ ﻭَﻟَﺌِﻦ
ﻟَﻢ ﻳَﻔﻌَﻞ ﻣﺎ ﺀﺍﻣُﺮُﻩُ ﻟَﻴُﺴﺠَﻨَﻦَّ
ﻭَﻟَﻴَﻜﻮﻧًﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺼّٰﻐِﺮﻳﻦَ
[32] মহিলা বললঃ এ ঐ ব্যক্তি, যার
জন্যে তোমরা আমাকে ভৎর্সনা
করছিলে। আমি ওরই মন জয় করতে
চেয়েছিলাম। কিন্তু সে নিজেকে
নিবৃত্ত রেখেছে। আর আমি যা আদেশ
দেই, সে যদি তা না করে, তবে অবশ্যই
সে কারাগারে প্রেরিত হবে এবং
লাঞ্চিত হবে।
[32] She said: “This is he (the young
man) about whom you did blame me,
and I did seek to seduce him, but he
refused. And now if he refuses to obey
my order, he shall certainly be cast into
prison, and will be one of those who are
disgraced.”
[33] ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﺍﻟﺴِّﺠﻦُ ﺃَﺣَﺐُّ
ﺇِﻟَﻰَّ ﻣِﻤّﺎ ﻳَﺪﻋﻮﻧَﻨﻰ ﺇِﻟَﻴﻪِ ۖ ﻭَﺇِﻟّﺎ
ﺗَﺼﺮِﻑ ﻋَﻨّﻰ ﻛَﻴﺪَﻫُﻦَّ ﺃَﺻﺐُ
ﺇِﻟَﻴﻬِﻦَّ ﻭَﺃَﻛُﻦ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺠٰﻬِﻠﻴﻦَ
[33] ইউসুফ বললঃ হে পালনকর্তা তারা
আমাকে যে কাজের দিকে আহবান
করে, তার চাইতে আমি কারাগারই
পছন্দ করি। যদি আপনি তাদের চক্রান্ত
আমার উপর থেকে প্রতিহত না করেন,
তবে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে
পড়ব এবং অজ্ঞদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে
যাব।
[33] He said:”O my Lord! Prison is
dearer to me than that to which they
invite me. Unless You turn away their
plot from me, I will feel inclined towards
them and be one (of those who commit
sin and deserve blame or those who do
deeds) of the ignorant.”
[34] ﻓَﺎﺳﺘَﺠﺎﺏَ ﻟَﻪُ ﺭَﺑُّﻪُ
ﻓَﺼَﺮَﻑَ ﻋَﻨﻪُ ﻛَﻴﺪَﻫُﻦَّ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﻫُﻮَ
ﺍﻟﺴَّﻤﻴﻊُ ﺍﻟﻌَﻠﻴﻢُ
[34] অতঃপর তার পালনকর্তা তার
দোয়া কবুল করে নিলেন। অতঃপর
তাদের চক্রান্ত প্রতিহত করলেন।
নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
[34] So his Lord answered his invocation
and turned away from him their plot.
Verily, He is the All-Hearer, the All-
Knower.
[35] ﺛُﻢَّ ﺑَﺪﺍ ﻟَﻬُﻢ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِ ﻣﺎ
ﺭَﺃَﻭُﺍ ﺍﻝﺀﺍﻳٰﺖِ ﻟَﻴَﺴﺠُﻨُﻨَّﻪُ
ﺣَﺘّﻰٰ ﺣﻴﻦٍ
[35] অতঃপর এসব নিদর্শন দেখার পর
তারা তাকে কিছুদিন কারাগারে
রাখা সমীচীন মনে করল।
[35] Then it occurred to them, after they
had seen the proofs (of his innocence) to
imprison him for a time.
[36] ﻭَﺩَﺧَﻞَ ﻣَﻌَﻪُ ﺍﻟﺴِّﺠﻦَ
ﻓَﺘَﻴﺎﻥِ ۖ ﻗﺎﻝَ ﺃَﺣَﺪُﻫُﻤﺎ ﺇِﻧّﻰ
ﺃَﺭﻯٰﻨﻰ ﺃَﻋﺼِﺮُ ﺧَﻤﺮًﺍ ۖ ﻭَﻗﺎﻝَ
ﺍﻝﺀﺍﺧَﺮُ ﺇِﻧّﻰ ﺃَﺭﻯٰﻨﻰ ﺃَﺣﻤِﻞُ
ﻓَﻮﻕَ ﺭَﺃﺳﻰ ﺧُﺒﺰًﺍ ﺗَﺄﻛُﻞُ
ﺍﻟﻄَّﻴﺮُ ﻣِﻨﻪُ ۖ ﻧَﺒِّﺌﻨﺎ ﺑِﺘَﺄﻭﻳﻠِﻪِ ۖ ﺇِﻧّﺎ
ﻧَﺮﻯٰﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﺤﺴِﻨﻴﻦَ
[36] তাঁর সাথে কারাগারে দুজন যুবক
প্রবেশ করল। তাদের একজন বললঃ আমি
স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি মদ
নিঙড়াচ্ছি। অপরজন বললঃ আমি
দেখলাম যে, নিজ মাথায় রুটি বহন
করছি। তা থেকে পাখী ঠুকরিয়ে
খাচ্ছে। আমাদের কে এর ব্যাখ্যা বলুন।
আমরা আপনাকে সৎকর্মশীল দেখতে
পাচ্ছি।
[36] And there entered with him two
young men in the prison. One of them
said: “Verily, I saw myself (in a dream)
pressing wine.” The other said: “Verily, I
saw myself (in a dream) carrying bread
on my head and birds were eating
thereof.” (They said): “Inform us of the
interpretation of this. Verily, we think
you are one of the Muhsinûn (doers of
good).”
[37] ﻗﺎﻝَ ﻻ ﻳَﺄﺗﻴﻜُﻤﺎ ﻃَﻌﺎﻡٌ
ﺗُﺮﺯَﻗﺎﻧِﻪِ ﺇِﻟّﺎ ﻧَﺒَّﺄﺗُﻜُﻤﺎ ﺑِﺘَﺄﻭﻳﻠِﻪِ
ﻗَﺒﻞَ ﺃَﻥ ﻳَﺄﺗِﻴَﻜُﻤﺎ ۚ ﺫٰﻟِﻜُﻤﺎ ﻣِﻤّﺎ
ﻋَﻠَّﻤَﻨﻰ ﺭَﺑّﻰ ۚ ﺇِﻧّﻰ ﺗَﺮَﻛﺖُ ﻣِﻠَّﺔَ
ﻗَﻮﻡٍ ﻻ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻫُﻢ
ﺑِﺎﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﻫُﻢ ﻛٰﻔِﺮﻭﻥَ
[37] তিনি বললেনঃ তোমাদেরকে
প্রত্যহ যে খাদ্য দেয়া হয়, তা
তোমাদের কাছে আসার আগেই আমি
তার ব্যাখ্যা বলে দেব। এ জ্ঞান আমার
পালনকর্তা আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন।
আমি ঐসব লোকের ধর্ম পরিত্যাগ
করেছি যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস
স্থাপন করে না এবং পরকালে
অবিশ্বাসী।
[37] He said: “No food will come to you
(in wakefulness or in dream) as your
provision, but I will inform (in
wakefulness) its interpretation before it
(the food) comes. This is of that which
my Lord has taught me. Verily, I have
abandoned the religion of a people that
believe not in Allâh and are disbelievers
in the Hereafter (i.e. the Kan’ânyyun of
Egypt who were polytheists and used to
worship sun and other false deities).
[38] ﻭَﺍﺗَّﺒَﻌﺖُ ﻣِﻠَّﺔَ ﺀﺍﺑﺎﺀﻯ
ﺇِﺑﺮٰﻫﻴﻢَ ﻭَﺇِﺳﺤٰﻖَ ﻭَﻳَﻌﻘﻮﺏَ ۚ
ﻣﺎ ﻛﺎﻥَ ﻟَﻨﺎ ﺃَﻥ ﻧُﺸﺮِﻙَ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ
ﻣِﻦ ﺷَﻲﺀٍ ۚ ﺫٰﻟِﻚَ ﻣِﻦ ﻓَﻀﻞِ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﻠَﻴﻨﺎ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨّﺎﺱِ
ﻭَﻟٰﻜِﻦَّ ﺃَﻛﺜَﺮَ ﺍﻟﻨّﺎﺱِ ﻻ
ﻳَﺸﻜُﺮﻭﻥَ
[38] আমি আপন পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম,
ইসহাক ও ইয়াকুবের ধর্ম অনুসরণ করছি।
আমাদের জন্য শোভা পায় না যে,
কোন বস্তুকে আল্লাহর অংশীদার
করি। এটা আমাদের প্রতি এবং অন্য সব
লোকের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ। কিন্ত
অধিকাংশ লোক অনুগ্রহ স্বীকার করে
না।
[38] “And I have followed the religion of
my fathers, – Ibrahîm (Abraham), Ishâq
(Isaac) and Ya’qûb (Jacob) [A.S.], and
never could we attribute any partners
whatsoever to Allâh. This is from the
Grace of Allâh to us and to mankind, but
most men thank not (i.e. they neither
believe in Allâh, nor worship Him).
[39] ﻳٰﺼﻯٰﺤِﺒَﻰِ ﺍﻟﺴِّﺠﻦِ
ﺀَﺃَﺭﺑﺎﺏٌ ﻣُﺘَﻔَﺮِّﻗﻮﻥَ ﺧَﻴﺮٌ ﺃَﻡِ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟﻮٰﺣِﺪُ ﺍﻟﻘَﻬّﺎﺭُ
[39] হে কারাগারের সঙ্গীরা! পৃথক
পৃথক অনেক উপাস্য ভাল, না
পরাক্রমশালী এক আল্লাহ?
[39] “O two companions of the prison!
Are many different lords (gods) better or
Allâh, the One, the Irresistible?
[40] ﻣﺎ ﺗَﻌﺒُﺪﻭﻥَ ﻣِﻦ ﺩﻭﻧِﻪِ ﺇِﻟّﺎ
ﺃَﺳﻤﺎﺀً ﺳَﻤَّﻴﺘُﻤﻮﻫﺎ ﺃَﻧﺘُﻢ
ﻭَﺀﺍﺑﺎﺅُﻛُﻢ ﻣﺎ ﺃَﻧﺰَﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻬﺎ
ﻣِﻦ ﺳُﻠﻄٰﻦٍ ۚ ﺇِﻥِ ﺍﻟﺤُﻜﻢُ ﺇِﻟّﺎ ﻟِﻠَّﻪِ ۚ
ﺃَﻣَﺮَ ﺃَﻟّﺎ ﺗَﻌﺒُﺪﻭﺍ ﺇِﻟّﺎ ﺇِﻳّﺎﻩُ ۚ ﺫٰﻟِﻚَ
ﺍﻟﺪّﻳﻦُ ﺍﻟﻘَﻴِّﻢُ ﻭَﻟٰﻜِﻦَّ ﺃَﻛﺜَﺮَ
ﺍﻟﻨّﺎﺱِ ﻻ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[40] তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে নিছক
কতগুলো নামের এবাদত কর, সেগুলো
তোমরা এবং তোমাদের বাপ-
দাদারা সাব্যস্ত করে নিয়েছে।
আল্লাহ এদের কোন প্রমাণ অবতীর্ণ
করেননি। আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান
দেবার ক্ষমতা নেই। তিনি আদেশ
দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কারও
এবাদত করো না। এটাই সরল পথ। কিন্তু
অধিকাংশ লোক তা জানে না।
[40] “You do not worship besides Him
but only names which you have named
(forged), you and your fathers,— for
which Allâh has sent down no authority.
The command (or the judgement) is for
none but Allâh. He has commanded that
you worship none but Him (i.e. His
Monotheism), that is the (true) straight
religion, but most men know not.
[41] ﻳٰﺼﻯٰﺤِﺒَﻰِ ﺍﻟﺴِّﺠﻦِ ﺃَﻣّﺎ
ﺃَﺣَﺪُﻛُﻤﺎ ﻓَﻴَﺴﻘﻰ ﺭَﺑَّﻪُ ﺧَﻤﺮًﺍ ۖ
ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺍﻝﺀﺍﺧَﺮُ ﻓَﻴُﺼﻠَﺐُ
ﻓَﺘَﺄﻛُﻞُ ﺍﻟﻄَّﻴﺮُ ﻣِﻦ ﺭَﺃﺳِﻪِ ۚ
ﻗُﻀِﻰَ ﺍﻷَﻣﺮُ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻓﻴﻪِ
ﺗَﺴﺘَﻔﺘِﻴﺎﻥِ
[41] হে কারাগারের সঙ্গীরা!
তোমাদের একজন আপন প্রভুকে
মদ্যপান করাবে এবং দ্বিতীয়জন,
তাকে শুলে চড়ানো হবে। অতঃপর তার
মস্তক থেকে পাখী আহার করবে।
তোমরা যে, বিষয়ে জানার আগ্রহী
তার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।
[41] “O two companions of the prison! As
for one of you, he (as a servant) will
pour out wine for his lord (king or
master) to drink; and as for the other, he
will be crucified and birds will eat from
his head. Thus is the case judged
concerning which you both did inquire.”
[42] ﻭَﻗﺎﻝَ ﻟِﻠَّﺬﻯ ﻇَﻦَّ ﺃَﻧَّﻪُ ﻧﺎﺝٍ
ﻣِﻨﻬُﻤَﺎ ﺍﺫﻛُﺮﻧﻰ ﻋِﻨﺪَ ﺭَﺑِّﻚَ
ﻓَﺄَﻧﺴﻯٰﻪُ ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦُ ﺫِﻛﺮَ ﺭَﺑِّﻪِ
ﻓَﻠَﺒِﺚَ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴِّﺠﻦِ ﺑِﻀﻊَ
ﺳِﻨﻴﻦَ
[42] যে ব্যক্তি সম্পর্কে ধারণা ছিল
যে, সে মুক্তি পাবে, তাকে ইউসুফ বলে
দিলঃ আপন প্রভুর কাছে আমার
আলোচনা করবে। অতঃপর শয়তান
তাকে প্রভুর কাছে আলোচনার কথা
ভুলিয়ে দিল। ফলে তাঁকে কয়েক বছর
কারাগারে থাকতে হল।
[42] And he said to the one whom he
knew to be saved: “Mention me to your
lord (i.e. your king, so as to get me out of
the prison).” But Shaitân (Satan) made
him forget to mention it to his Lord [or
Satan made [(Yûsuf (Joseph)] to forget
the remembrance of his Lord (Allâh) as
to ask for His Help, instead of others]. So
[Yûsuf (Joseph)] stayed in prison a few
(more) years
[43] ﻭَﻗﺎﻝَ ﺍﻟﻤَﻠِﻚُ ﺇِﻧّﻰ ﺃَﺭﻯٰ
ﺳَﺒﻊَ ﺑَﻘَﺮٰﺕٍ ﺳِﻤﺎﻥٍ ﻳَﺄﻛُﻠُﻬُﻦَّ
ﺳَﺒﻊٌ ﻋِﺠﺎﻑٌ ﻭَﺳَﺒﻊَ ﺳُﻨﺒُﻠٰﺖٍ
ﺧُﻀﺮٍ ﻭَﺃُﺧَﺮَ ﻳﺎﺑِﺴٰﺖٍ ۖ ﻳٰﺄَﻳُّﻬَﺎ
ﺍﻟﻤَﻠَﺄُ ﺃَﻓﺘﻮﻧﻰ ﻓﻰ ﺭُﺀﻳٰﻰَ ﺇِﻥ
ﻛُﻨﺘُﻢ ﻟِﻠﺮُّﺀﻳﺎ ﺗَﻌﺒُﺮﻭﻥَ
[43] বাদশাহ বললঃ আমি স্বপ্নে
দেখলাম, সাতটি মোটাতাজা গাভী-
এদেরকে সাতটি শীর্ণ গাভী খেয়ে
যাচ্ছে এবং সাতটি সবুজ শীষ ও
অন্যগুলো শুষ্ক। হে পরিষদবর্গ!
তোমরা আমাকে আমার স্বপ্নের
ব্যাখ্যা বল, যদি তোমরা স্বপ্নের
ব্যাখ্যায় পারদর্শী হয়ে থাক।
[43] And the king (of Egypt) said: “Verily,
I saw (in a dream) seven fat cows, whom
seven lean ones were devouring – and
seven green ears of corn, and (seven)
others dry. O notables! Explain to me my
dream, if it be that you can interpret
dreams.”
[44] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃَﺿﻐٰﺚُ ﺃَﺣﻠٰﻢٍ ۖ ﻭَﻣﺎ
ﻧَﺤﻦُ ﺑِﺘَﺄﻭﻳﻞِ ﺍﻷَﺣﻠٰﻢِ ﺑِﻌٰﻠِﻤﻴﻦَ
[44] তারা বললঃ এটা কল্পনাপ্রসূত
স্বপ্ন। এরূপ স্বপ্নের ব্যাখ্যা আমাদের
জানা নেই।
[44] They said: “Mixed up false dreams
and we are not skilled in the
interpretation of dreams.”
[45] ﻭَﻗﺎﻝَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻧَﺠﺎ ﻣِﻨﻬُﻤﺎ
ﻭَﺍﺩَّﻛَﺮَ ﺑَﻌﺪَ ﺃُﻣَّﺔٍ ﺃَﻧﺎ۠ ﺃُﻧَﺒِّﺌُﻜُﻢ
ﺑِﺘَﺄﻭﻳﻠِﻪِ ﻓَﺄَﺭﺳِﻠﻮﻥِ
[45] দু’জন কারারুদ্ধের মধ্য থেকে যে
ব্যক্তি মুক্তি পেয়েছিল এবং
দীর্ঘকাল পর স্মরণ হলে, সে বলল, আমি
তোমাদেরকে এর ব্যাখ্যা বলছি।
তোমরা আমাকে প্রেরণ কর।
[45] Then the man who was released
(one of the two who were in prison), now
at length remembered and said: “I will
tell you its interpretation, so send me
forth.”
[46] ﻳﻮﺳُﻒُ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﺼِّﺪّﻳﻖُ
ﺃَﻓﺘِﻨﺎ ﻓﻰ ﺳَﺒﻊِ ﺑَﻘَﺮٰﺕٍ ﺳِﻤﺎﻥٍ
ﻳَﺄﻛُﻠُﻬُﻦَّ ﺳَﺒﻊٌ ﻋِﺠﺎﻑٌ ﻭَﺳَﺒﻊِ
ﺳُﻨﺒُﻠٰﺖٍ ﺧُﻀﺮٍ ﻭَﺃُﺧَﺮَ ﻳﺎﺑِﺴٰﺖٍ
ﻟَﻌَﻠّﻰ ﺃَﺭﺟِﻊُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨّﺎﺱِ ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ
ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[46] সে তথায় পৌঁছে বললঃ হে ইউসুফ!
হে সত্যবাদী! সাতটি মোটাতাজা
গাভী-তাদেরকে খাচ্ছে সাতটি শীর্ণ
গাভী এবং সাতটি সবুজ শীর্ষ ও
অন্যগুলো শুষ্ক; আপনি আমাদেরকে এ
স্বপ্ন সম্পর্কে পথনির্দেশ প্রদান করুনঃ
যাতে আমি তাদের কাছে ফিরে গিয়ে
তাদের অবগত করাতে পারি।
[46] (He said): “O Yûsuf (Joseph), the
man of truth! Explain to us (the dream)
of seven fat cows whom seven lean ones
were devouring, and of seven green ears
of corn, and (seven) others dry, that I
may return to the people, and that they
may know.”
[47] ﻗﺎﻝَ ﺗَﺰﺭَﻋﻮﻥَ ﺳَﺒﻊَ ﺳِﻨﻴﻦَ
ﺩَﺃَﺑًﺎ ﻓَﻤﺎ ﺣَﺼَﺪﺗُﻢ ﻓَﺬَﺭﻭﻩُ ﻓﻰ
ﺳُﻨﺒُﻠِﻪِ ﺇِﻟّﺎ ﻗَﻠﻴﻠًﺎ ﻣِﻤّﺎ ﺗَﺄﻛُﻠﻮﻥَ
[47] বললঃ তোমরা সাত বছর উত্তম
রূপে চাষাবাদ করবে। অতঃপর যা
কাটবে, তার মধ্যে যে সামান্য পরিমাণ
তোমরা খাবে তা ছাড়া অবশিষ্ট শস্য
শীষ সমেত রেখে দেবে।
[47] [(Yûsuf (Joseph)] said: “For seven
consecutive years, you shall sow as usual
and that (the harvest) which you reap
you shall leave it in ears, (all) – except a
little of it which you may eat.
[48] ﺛُﻢَّ ﻳَﺄﺗﻰ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِ ﺫٰﻟِﻚَ
ﺳَﺒﻊٌ ﺷِﺪﺍﺩٌ ﻳَﺄﻛُﻠﻦَ ﻣﺎ ﻗَﺪَّﻣﺘُﻢ
ﻟَﻬُﻦَّ ﺇِﻟّﺎ ﻗَﻠﻴﻠًﺎ ﻣِﻤّﺎ ﺗُﺤﺼِﻨﻮﻥَ
[48] এবং এরপরে আসবে দূর্ভিক্ষের
সাত বছর; তোমরা এ দিনের জন্যে যা
রেখেছিলে, তা খেয়ে যাবে, কিন্তু
অল্প পরিমাণ ব্যতীত, যা তোমরা তুলে
রাখবে।
[48] “Then will come after that, seven
hard (years), which will devour what you
have laid by in advance for them, (all)
except a little of that which you have
guarded (stored)
[49] ﺛُﻢَّ ﻳَﺄﺗﻰ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِ ﺫٰﻟِﻚَ
ﻋﺎﻡٌ ﻓﻴﻪِ ﻳُﻐﺎﺙُ ﺍﻟﻨّﺎﺱُ ﻭَﻓﻴﻪِ
ﻳَﻌﺼِﺮﻭﻥَ
[49] এর পরেই আসবে একবছর-এতে
মানুষের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হবে এবং
এতে তারা রস নিঙড়াবে।
[49] “Then thereafter will come a year in
which people will have abundant rain
and in which they will press (wine and
oil).”
[50] ﻭَﻗﺎﻝَ ﺍﻟﻤَﻠِﻚُ ﺍﺋﺘﻮﻧﻰ ﺑِﻪِ ۖ
ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَﻩُ ﺍﻟﺮَّﺳﻮﻝُ ﻗﺎﻝَ
ﺍﺭﺟِﻊ ﺇِﻟﻰٰ ﺭَﺑِّﻚَ ﻓَﺴـَٔﻠﻪُ ﻣﺎ ﺑﺎﻝُ
ﺍﻟﻨِّﺴﻮَﺓِ ﺍﻟّٰﺘﻰ ﻗَﻄَّﻌﻦَ ﺃَﻳﺪِﻳَﻬُﻦَّ ۚ
ﺇِﻥَّ ﺭَﺑّﻰ ﺑِﻜَﻴﺪِﻫِﻦَّ ﻋَﻠﻴﻢٌ
[50] বাদশাহ বললঃ ফিরে যাও
তোমাদের প্রভুর কাছে এবং
জিজ্ঞেস কর তাকে ঐ মহিলার স্বরূপ
কি, যারা স্বীয় হস্ত কর্তন করেছিল!
আমার পালনকর্তা তো তাদের ছলনা
সবই জানেন।
[50] And the king said: “Bring him to
me.” But when the messenger came to
him, [Yûsuf (Joseph)] said: “Return to
your lord and ask him, ‘What happened
to the women who cut their hands?
Surely, my Lord (Allâh) is Well-Aware of
their plot.'”
[51] ﻗﺎﻝَ ﻣﺎ ﺧَﻄﺒُﻜُﻦَّ ﺇِﺫ
ﺭٰﻭَﺩﺗُﻦَّ ﻳﻮﺳُﻒَ ﻋَﻦ ﻧَﻔﺴِﻪِ ۚ
ﻗُﻠﻦَ ﺣٰﺶَ ﻟِﻠَّﻪِ ﻣﺎ ﻋَﻠِﻤﻨﺎ ﻋَﻠَﻴﻪِ
ﻣِﻦ ﺳﻮﺀٍ ۚ ﻗﺎﻟَﺖِ ﺍﻣﺮَﺃَﺕُ
ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰِ ﺍﻟـٰٔﻦَ ﺣَﺼﺤَﺺَ ﺍﻟﺤَﻖُّ
ﺃَﻧﺎ۠ ﺭٰﻭَﺩﺗُﻪُ ﻋَﻦ ﻧَﻔﺴِﻪِ ﻭَﺇِﻧَّﻪُ
ﻟَﻤِﻦَ ﺍﻟﺼّٰﺪِﻗﻴﻦَ
[51] বাদশাহ মহিলাদেরকে বললেনঃ
তোমাদের হাল-হাকিকত কি, যখন
তোমরা ইউসুফকে আত্মসংবরণ থেকে
ফুসলিয়েছিলে? তারা বললঃ আল্লাহ
মহান, আমরা তার সম্পর্কে মন্দ কিছু
জানি না। আযীয-পত্মি বললঃ এখন সত্য
কথা প্রকাশ হয়ে গেছে। আমিই তাকে
আত্মসংবরণ থেকে ফুসলিয়েছিলাম
এবং সে সত্যবাদী।
[51] (The King) said (to the women):
“What was your affair when you did
seek to seduce Yûsuf (Joseph)?” The
women said: “Allâh forbid! No evil know
we against him!” The wife of Al-‘Azîz
said: “Now the truth is manifest (to all),
it was I who sought to seduce him, and
he is surely of the truthful.”
[52] ﺫٰﻟِﻚَ ﻟِﻴَﻌﻠَﻢَ ﺃَﻧّﻰ ﻟَﻢ ﺃَﺧُﻨﻪُ
ﺑِﺎﻟﻐَﻴﺐِ ﻭَﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻻ ﻳَﻬﺪﻯ
ﻛَﻴﺪَ ﺍﻟﺨﺎﺋِﻨﻴﻦَ
[52] ইউসুফ বললেনঃ এটা এজন্য, যাতে
আযীয জেনে নেয় যে, আমি গোপনে
তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি।
আরও এই যে, আল্লাহ বিশ্বাসঘাতকদের
প্রতারণাকে এগুতে দেন না।
[52] [Then Yûsuf (Joseph) said: “I asked
for this enquiry] in order that he
(Al-‘Azîz) may know that I betrayed him
not in his (absence). And, verily! Allâh
guides not the plot of the betrayers.
[53] ۞ ﻭَﻣﺎ ﺃُﺑَﺮِّﺉُ ﻧَﻔﺴﻰ ۚ ﺇِﻥَّ
ﺍﻟﻨَّﻔﺲَ ﻟَﺄَﻣّﺎﺭَﺓٌ ﺑِﺎﻟﺴّﻮﺀِ ﺇِﻟّﺎ ﻣﺎ
ﺭَﺣِﻢَ ﺭَﺑّﻰ ۚ ﺇِﻥَّ ﺭَﺑّﻰ ﻏَﻔﻮﺭٌ
ﺭَﺣﻴﻢٌ
[53] আমি নিজেকে নির্দোষ বলি না।
নিশ্চয় মানুষের মন মন্দ কর্মপ্রবণ কিন্তু
সে নয়-আমার পালনকর্তা যার প্রতি
অনুগ্রহ করেন। নিশ্চয় আমার পালনকর্তা
ক্ষমাশীল, দয়ালু।
[53] “And I free not myself (from the
blame). Verily, the (human) self is
inclined to evil, except when my Lord
bestows His Mercy (upon whom He
wills). Verily, my Lord is Oft-Forgiving,
Most Merciful.”
[54] ﻭَﻗﺎﻝَ ﺍﻟﻤَﻠِﻚُ ﺍﺋﺘﻮﻧﻰ ﺑِﻪِ
ﺃَﺳﺘَﺨﻠِﺼﻪُ ﻟِﻨَﻔﺴﻰ ۖ ﻓَﻠَﻤّﺎ
ﻛَﻠَّﻤَﻪُ ﻗﺎﻝَ ﺇِﻧَّﻚَ ﺍﻟﻴَﻮﻡَ ﻟَﺪَﻳﻨﺎ
ﻣَﻜﻴﻦٌ ﺃَﻣﻴﻦٌ
[54] বাদশাহ বললঃ তাকে আমার কাছে
নিয়ে এসো। আমি তাকে নিজের
বিশ্বস্ত সহচর করে রাখব। অতঃপর যখন
তার সাথে মতবিনিময় করল, তখন বললঃ
নিশ্চয়ই আপনি আমার কাছে আজ
থেকে বিশ্বস্ত হিসাবে মর্যাদার
স্থান লাভ করেছেন।
[54] And the king said: “Bring him to me
that I may attach him to my person.”
Then, when he spoke to him, he said:
“Verily, this day, you are with us high in
rank and fully trusted.”
[55] ﻗﺎﻝَ ﺍﺟﻌَﻠﻨﻰ ﻋَﻠﻰٰ ﺧَﺰﺍﺋِﻦِ
ﺍﻷَﺭﺽِ ۖ ﺇِﻧّﻰ ﺣَﻔﻴﻆٌ ﻋَﻠﻴﻢٌ
[55] ইউসুফ বললঃ আমাকে দেশের ধন-
ভান্ডারে নিযুক্ত করুন। আমি বিশ্বস্ত
রক্ষক ও অধিক জ্ঞানবান।
[55] [Yûsuf (Joseph)] said: “Set me over
the storehouses of the land; I will indeed
guard them with full knowledge” (as a
minister of finance in Egypt).
[56] ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻣَﻜَّﻨّﺎ ﻟِﻴﻮﺳُﻒَ ﻓِﻰ
ﺍﻷَﺭﺽِ ﻳَﺘَﺒَﻮَّﺃُ ﻣِﻨﻬﺎ ﺣَﻴﺚُ
ﻳَﺸﺎﺀُ ۚ ﻧُﺼﻴﺐُ ﺑِﺮَﺣﻤَﺘِﻨﺎ ﻣَﻦ
ﻧَﺸﺎﺀُ ۖ ﻭَﻻ ﻧُﻀﻴﻊُ ﺃَﺟﺮَ
ﺍﻟﻤُﺤﺴِﻨﻴﻦَ
[56] এমনিভাবে আমি ইউসুফকে সে
দেশের বুকে প্রতিষ্ঠা দান করেছি। সে
তথায় যেখানে ইচ্ছা স্থান করে নিতে
পারত। আমি স্বীয় রহমত যাকে ইচ্ছা
পৌছে দেই এবং আমি পূণ্যবানদের
প্রতিদান বিনষ্ট করি না।
[56] Thus did We give full authority to
Yûsuf (Joseph) in the land, to take
possession therein, when or where he
likes. We bestow of Our Mercy on whom
We will, and We make not to be lost the
reward of Al-Muhsinûn (the good doers –
see V.2:112)
[57] ﻭَﻟَﺄَﺟﺮُ ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﺧَﻴﺮٌ
ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻭَﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﺘَّﻘﻮﻥَ
[57] এবং ঐ লোকদের জন্য পরকালে
প্রতিদান উত্তম যারা ঈমান এনেছে ও
সতর্কতা অবলম্বন করে।
[57] And verily, the reward of the
Hereafter is better for those who believe
and used to fear Allâh and keep their
duty to Him (by abstaining from all
kinds of sins and evil deeds and by
performing all kinds of righteous good
deeds).
[58] ﻭَﺟﺎﺀَ ﺇِﺧﻮَﺓُ ﻳﻮﺳُﻒَ
ﻓَﺪَﺧَﻠﻮﺍ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻓَﻌَﺮَﻓَﻬُﻢ ﻭَﻫُﻢ
ﻟَﻪُ ﻣُﻨﻜِﺮﻭﻥَ
[58] ইউসুফের ভ্রাতারা আগমন করল,
অতঃপর তার কাছে উপস্থিত হল। সে
তাদেরকে চিনল এবং তারা তাকে
চিনল না।
[58] And Yûsuf’s (Joseph) brethren came
and they entered unto him, and he
recognized them, but they recognized
him not.
[59] ﻭَﻟَﻤّﺎ ﺟَﻬَّﺰَﻫُﻢ ﺑِﺠَﻬﺎﺯِﻫِﻢ
ﻗﺎﻝَ ﺍﺋﺘﻮﻧﻰ ﺑِﺄَﺥٍ ﻟَﻜُﻢ ﻣِﻦ
ﺃَﺑﻴﻜُﻢ ۚ ﺃَﻻ ﺗَﺮَﻭﻥَ ﺃَﻧّﻰ ﺃﻭﻓِﻰ
ﺍﻟﻜَﻴﻞَ ﻭَﺃَﻧﺎ۠ ﺧَﻴﺮُ ﺍﻟﻤُﻨﺰِﻟﻴﻦَ
[59] এবং সে যখন তাদেরকে তাদের
রসদ প্রস্তুত করে দিল, তখন সে বললঃ
তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাইকে আমার
কাছে নিয়ে এসো। তোমরা কি দেখ
না যে, আমি পুরা মাপ দেই এবং
মেহমানদেরকে উত্তম সমাদার করি?
[59] And when he had furnished them
with provisions (according to their
need), he said: “Bring me a brother of
yours from your father; (he meant
Benjamin). See you not that I give full
measure, and that I am the best of the
hosts?
[60] ﻓَﺈِﻥ ﻟَﻢ ﺗَﺄﺗﻮﻧﻰ ﺑِﻪِ ﻓَﻼ
ﻛَﻴﻞَ ﻟَﻜُﻢ ﻋِﻨﺪﻯ ﻭَﻻ ﺗَﻘﺮَﺑﻮﻥِ
[60] অতঃপর যদি তাকে আমার কাছে
না আন, তবে আমার কাছে তোমাদের
কোন বরাদ্ধ নেই এবং তোমরা আমার
কাছে আসতে পারবে না।
[60] “But if you bring him not to me,
there shall be no measure (of corn) for
you with me, nor shall you come near
me.”
[61] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺳَﻨُﺮٰﻭِﺩُ ﻋَﻨﻪُ ﺃَﺑﺎﻩُ
ﻭَﺇِﻧّﺎ ﻟَﻔٰﻌِﻠﻮﻥَ
[61] তারা বললঃ আমরা তার সম্পর্কে
তার পিতাকে সম্মত করার চেষ্টা করব
এবং আমাদেরকে একাজ করতেই হবে।
[61] They said: “We shall try to get
permission (for him) from his father,
and verily, we shall do it.”
[62] ﻭَﻗﺎﻝَ ﻟِﻔِﺘﻴٰﻨِﻪِ ﺍﺟﻌَﻠﻮﺍ
ﺑِﻀٰﻌَﺘَﻬُﻢ ﻓﻰ ﺭِﺣﺎﻟِﻬِﻢ ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ
ﻳَﻌﺮِﻓﻮﻧَﻬﺎ ﺇِﺫَﺍ ﺍﻧﻘَﻠَﺒﻮﺍ ﺇِﻟﻰٰ
ﺃَﻫﻠِﻬِﻢ ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ ﻳَﺮﺟِﻌﻮﻥَ
[62] এবং সে ভৃত্যদেরকে বললঃ তাদের
পণ্যমূল্য তাদের রসদ-পত্রের মধ্যে
রেখে দাও-সম্ভবতঃ তারা গৃহে পৌঁছে
তা বুঝতে পারবে, সম্ভবতঃ তারা
পুনর্বার আসবে।
[62] And [Yûsuf (Joseph)] told his
servants to put their money (with which
they had bought the corn) into their
bags, so that they might know it when
they go back to their people, in order
that they might come again.
[63] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺭَﺟَﻌﻮﺍ ﺇِﻟﻰٰ ﺃَﺑﻴﻬِﻢ
ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﺄَﺑﺎﻧﺎ ﻣُﻨِﻊَ ﻣِﻨَّﺎ ﺍﻟﻜَﻴﻞُ
ﻓَﺄَﺭﺳِﻞ ﻣَﻌَﻨﺎ ﺃَﺧﺎﻧﺎ ﻧَﻜﺘَﻞ
ﻭَﺇِﻧّﺎ ﻟَﻪُ ﻟَﺤٰﻔِﻈﻮﻥَ
[63] তারা যখন তাদের পিতার কাছে
ফিরে এল তখন বললঃ হে আমাদের
পিতা, আমাদের জন্যে খাদ্য শস্যের
বরাদ্দ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতএব
আপনি আমাদের ভাইকে আমাদের
সাথে প্রেরণ করুন; যাতে আমরা খাদ্য
শস্যের বরাদ্দ আনতে পারি এবং আমরা
অবশ্যই তার পুরোপুরি হেফাযত করব।
[63] So, when they returned to their
father, they said: “O our father! No more
measure of grain shall we get (unless we
take our brother). So send our brother
with us, and we shall get our measure
and truly we will guard him.”
[64] ﻗﺎﻝَ ﻫَﻞ ﺀﺍﻣَﻨُﻜُﻢ ﻋَﻠَﻴﻪِ
ﺇِﻟّﺎ ﻛَﻤﺎ ﺃَﻣِﻨﺘُﻜُﻢ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﺧﻴﻪِ
ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ ۖ ﻓَﺎﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴﺮٌ ﺣٰﻔِﻈًﺎ ۖ
ﻭَﻫُﻮَ ﺃَﺭﺣَﻢُ ﺍﻟﺮّٰﺣِﻤﻴﻦَ
[64] বললেন, আমি তার সম্পর্কে
তোমাদেরকে কি সেরূপ বিশ্বাস করব,
যেমন ইতিপূর্বে তার ভাই সম্পর্কে
বিশ্বাস করেছিলাম? অতএব আল্লাহ
উত্তম হেফাযতকারী এবং তিনিই
সর্বাধিক দয়ালু।
[64] He said: “Can I entrust him to you
except as I entrusted his brother [Yûsuf
(Joseph)] to you aforetime? But Allâh is
the Best to guard, and He is the Most
Merciful of those who show mercy.”
[65] ﻭَﻟَﻤّﺎ ﻓَﺘَﺤﻮﺍ ﻣَﺘٰﻌَﻬُﻢ
ﻭَﺟَﺪﻭﺍ ﺑِﻀٰﻌَﺘَﻬُﻢ ﺭُﺩَّﺕ ﺇِﻟَﻴﻬِﻢ ۖ
ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﺄَﺑﺎﻧﺎ ﻣﺎ ﻧَﺒﻐﻰ ۖ ﻫٰﺬِﻩِ
ﺑِﻀٰﻌَﺘُﻨﺎ ﺭُﺩَّﺕ ﺇِﻟَﻴﻨﺎ ۖ ﻭَﻧَﻤﻴﺮُ
ﺃَﻫﻠَﻨﺎ ﻭَﻧَﺤﻔَﻆُ ﺃَﺧﺎﻧﺎ ﻭَﻧَﺰﺩﺍﺩُ
ﻛَﻴﻞَ ﺑَﻌﻴﺮٍ ۖ ﺫٰﻟِﻚَ ﻛَﻴﻞٌ ﻳَﺴﻴﺮٌ
[65] এবং যখন তারা আসবাবপত্র খুলল,
তখন দেখতে পেল যে, তাদেরকে তাদের
পন্যমুল্য ফেরত দেয়া হয়েছে। তারা
বললঃ হে আমাদের পিতা, আমরা আর
কি চাইতে পারি। এই আমাদের প্রদত্ত
পন্যমূল্য, আমাদেরকে ফেরত দেয়া
হয়েছে। এখন আমরা আবার আমাদের
পরিবারবর্গের জন্যে রসদ আনব এবং
আমাদের ভাইয়ের দেখাশোনা করব
এবং এক এক উটের বরাদ্দ খাদ্যশস্য
আমরা অতিরিক্ত আনব। ঐ বরাদ্দ সহজ।
[65] And when they opened their bags,
they found their money had been
returned to them. They said: “O our
father! What (more) can we desire? This,
our money has been returned to us, so
we shall get (more) food for our family,
and we shall guard our brother and add
one more measure of a camel’s load. This
quantity is easy (for the king to give).”
[66] ﻗﺎﻝَ ﻟَﻦ ﺃُﺭﺳِﻠَﻪُ ﻣَﻌَﻜُﻢ
ﺣَﺘّﻰٰ ﺗُﺆﺗﻮﻥِ ﻣَﻮﺛِﻘًﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻟَﺘَﺄﺗُﻨَّﻨﻰ ﺑِﻪِ ﺇِﻟّﺎ ﺃَﻥ ﻳُﺤﺎﻁَ
ﺑِﻜُﻢ ۖ ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺀﺍﺗَﻮﻩُ ﻣَﻮﺛِﻘَﻬُﻢ
ﻗﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠﻰٰ ﻣﺎ ﻧَﻘﻮﻝُ
ﻭَﻛﻴﻞٌ
[66] বললেন, তাকে ততক্ষণ তোমাদের
সাথে পাঠাব না, যতক্ষণ তোমরা
আমাকে আল্লাহর নামে অঙ্গীকার না
দাও যে, তাকে অবশ্যই আমার কাছে
পৌঁছে দেবে; কিন্তু যদি তোমরা
সবাই একান্তই অসহায় না হয়ে যাও।
অতঃপর যখন সবাই তাঁকে অঙ্গীকার
দিল, তখন তিনি বললেনঃ আমাদের
মধ্যে যা কথাবার্তা হলো সে
ব্যাপারে আল্লাহই মধ্যস্থ রইলেন।
[66] He [Ya’qûb (Jacob)] said: “I will not
send him with you until you swear a
solemn oath to me in Allâh’s Name, that
you will bring him back to me unless you
are yourselves surrounded (by enemies),”
And when they had sworn their solemn
oath, he said: “Allâh is the Witness over
what we have said.”
[67] ﻭَﻗﺎﻝَ ﻳٰﺒَﻨِﻰَّ ﻻ ﺗَﺪﺧُﻠﻮﺍ
ﻣِﻦ ﺑﺎﺏٍ ﻭٰﺣِﺪٍ ﻭَﺍﺩﺧُﻠﻮﺍ ﻣِﻦ
ﺃَﺑﻮٰﺏٍ ﻣُﺘَﻔَﺮِّﻗَﺔٍ ۖ ﻭَﻣﺎ ﺃُﻏﻨﻰ
ﻋَﻨﻜُﻢ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣِﻦ ﺷَﻲﺀٍ ۖ ﺇِﻥِ
ﺍﻟﺤُﻜﻢُ ﺇِﻟّﺎ ﻟِﻠَّﻪِ ۖ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺗَﻮَﻛَّﻠﺖُ ۖ
ﻭَﻋَﻠَﻴﻪِ ﻓَﻠﻴَﺘَﻮَﻛَّﻞِ ﺍﻟﻤُﺘَﻮَﻛِّﻠﻮﻥَ
[67] ইয়াকুব বললেনঃ হে আমার বৎসগণ!
সবাই একই প্রবেশদ্বার দিয়ে যেয়ো
না, বরং পৃথক পৃথক দরজা দিয়ে প্রবেশ
করো। আল্লাহর কোন বিধান থেকে
আমি তোমাদেরকে রক্ষা করতে পারি
না। নির্দেশ আল্লাহরই চলে। তাঁরই উপর
আমি ভরসা করি এবং তাঁরই উপর ভরসা
করা উচিত ভরসাকারীদের।
[67] And he said: “O my sons! Do not
enter by one gate, but enter by different
gates, and I cannot avail you against
Allâh at all. Verily! The decision rests
only with Allâh. In him, I put my trust
and let all those that trust, put their trust
in Him.”
[68] ﻭَﻟَﻤّﺎ ﺩَﺧَﻠﻮﺍ ﻣِﻦ ﺣَﻴﺚُ
ﺃَﻣَﺮَﻫُﻢ ﺃَﺑﻮﻫُﻢ ﻣﺎ ﻛﺎﻥَ ﻳُﻐﻨﻰ
ﻋَﻨﻬُﻢ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣِﻦ ﺷَﻲﺀٍ ﺇِﻟّﺎ
ﺣﺎﺟَﺔً ﻓﻰ ﻧَﻔﺲِ ﻳَﻌﻘﻮﺏَ
ﻗَﻀﻯٰﻬﺎ ۚ ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﺬﻭ ﻋِﻠﻢٍ ﻟِﻤﺎ
ﻋَﻠَّﻤﻨٰﻪُ ﻭَﻟٰﻜِﻦَّ ﺃَﻛﺜَﺮَ ﺍﻟﻨّﺎﺱِ ﻻ
ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[68] তারা যখন পিতার কথামত প্রবেশ
করল, তখন আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে
তা তাদের বাঁচাতে পারল না। কিন্তু
ইয়াকুবের সিদ্ধান্তে তাঁর মনের একটি
বাসনা ছিল, যা তিনি পূর্ণ করেছেন।
এবং তিনি তো আমার শেখানো
বিষয় অবগত ছিলেন। কিন্তু অনেক মানুষ
অবগত নয়।
[68] And when they entered according to
their father’s advice, it did not avail
them in the least against (the Will of)
Allâh, it was but a need of Ya’qûb’s
(Jacob) inner-self which he discharged.
And verily, he was endowed with
knowledge because We had taught him,
but most men know not
[69] ﻭَﻟَﻤّﺎ ﺩَﺧَﻠﻮﺍ ﻋَﻠﻰٰ ﻳﻮﺳُﻒَ
ﺀﺍﻭﻯٰ ﺇِﻟَﻴﻪِ ﺃَﺧﺎﻩُ ۖ ﻗﺎﻝَ ﺇِﻧّﻰ
ﺃَﻧﺎ۠ ﺃَﺧﻮﻙَ ﻓَﻼ ﺗَﺒﺘَﺌِﺲ ﺑِﻤﺎ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[69] যখন তারা ইউসুফের কাছে উপস্থিত
হল, তখন সে আপন ভ্রাতাকে নিজের
কাছে রাখল। বললঃ নিশ্চই আমি
তোমার সহোদর। অতএব তাদের
কৃতকর্মের জন্যে দুঃখ করো না।
[69] And when they went in before Yûsuf
(Joseph), he took his brother (Benjamin)
to himself and said: “Verily!I am your
brother, so grieve not for what they used
to do.”
[70] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺟَﻬَّﺰَﻫُﻢ ﺑِﺠَﻬﺎﺯِﻫِﻢ
ﺟَﻌَﻞَ ﺍﻟﺴِّﻘﺎﻳَﺔَ ﻓﻰ ﺭَﺣﻞِ
ﺃَﺧﻴﻪِ ﺛُﻢَّ ﺃَﺫَّﻥَ ﻣُﺆَﺫِّﻥٌ ﺃَﻳَّﺘُﻬَﺎ
ﺍﻟﻌﻴﺮُ ﺇِﻧَّﻜُﻢ ﻟَﺴٰﺮِﻗﻮﻥَ
[70] অতঃপর যখন ইউসুফ তাদের রসদপত্র
প্রস্তুত করে দিল, তখন পানপাত্র আপন
ভাইয়ের রসদের মধ্যে রেখে দিল।
অতঃপর একজন ঘোষক ডেকে বললঃ হে
কাফেলার লোকজন, তোমরা অবশ্যই
চোর।
[70] So when he had furnished them
forth with their provisions, he put the
(golden) bowl into his brother’s bag,
Then a crier cried: “O you (in) the
caravan! Surely, you are thieves!”
[71] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻭَﺃَﻗﺒَﻠﻮﺍ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻣﺎﺫﺍ
ﺗَﻔﻘِﺪﻭﻥَ
[71] তারা ওদের দিকে মুখ করে বললঃ
তোমাদের কি হারিয়েছে?
[71] They, turning towards them, said:
“What is it that you have lost?”
[72] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻧَﻔﻘِﺪُ ﺻُﻮﺍﻉَ ﺍﻟﻤَﻠِﻚِ
ﻭَﻟِﻤَﻦ ﺟﺎﺀَ ﺑِﻪِ ﺣِﻤﻞُ ﺑَﻌﻴﺮٍ
ﻭَﺃَﻧﺎ۠ ﺑِﻪِ ﺯَﻋﻴﻢٌ
[72] তারা বললঃ আমরা বাদশাহর
পানপাত্র হারিয়েছি এবং যে কেউ
এটা এনে দেবে সে এক উটের বোঝা
পরিমাণ মাল পাবে এবং আমি এর
যামিন।
[72] They said: “We have lost the
(golden) bowl of the king and for him
who produces it is (the reward of) a
camel load; I will be bound by it.”
[73] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺗَﺎﻟﻠَّﻪِ ﻟَﻘَﺪ ﻋَﻠِﻤﺘُﻢ ﻣﺎ
ﺟِﺌﻨﺎ ﻟِﻨُﻔﺴِﺪَ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﻣﺎ
ﻛُﻨّﺎ ﺳٰﺮِﻗﻴﻦَ
[73] তারা বললঃ আল্লাহর কসম,
তোমরা তো জান, আমরা অনর্থ
ঘটাতে এদেশে আসিনি এবং আমরা
কখনও চোর ছিলাম না।
[73] They said: “By Allâh! Indeed you
know that we came not to make mischief
in the land, and we are no thieves!”
[74] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻓَﻤﺎ ﺟَﺰٰﺅُﻩُ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ
ﻛٰﺬِﺑﻴﻦَ
[74] তারা বললঃ যদি তোমরা
মিথ্যাবাদী হও, তবে যে, চুরি করেছে
তার কি শাস্তি?
[74] They [Yûsuf’s (Joseph) men] said:
“What then shall be the penalty of him, if
you are (proved to be) liars.”
[75] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺟَﺰٰﺅُﻩُ ﻣَﻦ ﻭُﺟِﺪَ
ﻓﻰ ﺭَﺣﻠِﻪِ ﻓَﻬُﻮَ ﺟَﺰٰﺅُﻩُ ۚ ﻛَﺬٰﻟِﻚَ
ﻧَﺠﺰِﻯ ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
[75] তারা বললঃ এর শাস্তি এই যে,
যার রসদপত্র থেকে তা পাওয়া যাবে,
এর প্রতিদানে সে দাসত্বে যাবে।
আমরা যালেমদেরকে এভাবেই শাস্তি
দেই।
[75] They [Yûsuf’s (Joseph) brothers]
said: “His penalty should be that he, in
whose bag it is found, should be held for
the punishment (of the crime). Thus we
punish the Zâlimûn (wrong-doers)!”
[76] ﻓَﺒَﺪَﺃَ ﺑِﺄَﻭﻋِﻴَﺘِﻬِﻢ ﻗَﺒﻞَ
ﻭِﻋﺎﺀِ ﺃَﺧﻴﻪِ ﺛُﻢَّ ﺍﺳﺘَﺨﺮَﺟَﻬﺎ
ﻣِﻦ ﻭِﻋﺎﺀِ ﺃَﺧﻴﻪِ ۚ ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻛِﺪﻧﺎ
ﻟِﻴﻮﺳُﻒَ ۖ ﻣﺎ ﻛﺎﻥَ ﻟِﻴَﺄﺧُﺬَ ﺃَﺧﺎﻩُ
ﻓﻰ ﺩﻳﻦِ ﺍﻟﻤَﻠِﻚِ ﺇِﻟّﺎ ﺃَﻥ ﻳَﺸﺎﺀَ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ۚ ﻧَﺮﻓَﻊُ ﺩَﺭَﺟٰﺖٍ ﻣَﻦ ﻧَﺸﺎﺀُ ۗ
ﻭَﻓَﻮﻕَ ﻛُﻞِّ ﺫﻯ ﻋِﻠﻢٍ ﻋَﻠﻴﻢٌ
[76] অতঃপর ইউসুফ আপন ভাইদের থলের
পূর্বে তাদের থলে তল্লাশী শুরু করলেন।
অবশেষে সেই পাত্র আপন ভাইয়ের
থলের মধ্য থেকে বের করলেন।
এমনিভাবে আমি ইউসুফকে কৌশল
শিক্ষা দিয়েছিলাম। সে বাদশাহর
আইনে আপন ভাইকে কখনও দাসত্বে
দিতে পারত না, কিুæ আল্লাহ যদি
ইচ্ছা করেন। আমি যাকে ইচ্ছা,
মর্যাদায় উন্নীত করি এবং প্রত্যেক
জ্ঞানীর উপরে আছে অধিকতর এক
জ্ঞানীজন।
[76] So he [Yûsuf (Joseph)] began (the
search) in their bags before the bag of
his brother. Then he brought it out of his
brother’s bag. Thus did We plan for
Yûsuf (Joseph). He could not take his
brother by the law of the king (as a
slave), except that Allâh willed it. (So
Allâh made the brothers to bind
themselves with their way of
“punishment, i.e. enslaving of a thief.”)
We raise to degrees whom We will, but
over all those endowed with knowledge
is the All-Knowing (Allâh)
[77] ۞ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺇِﻥ ﻳَﺴﺮِﻕ ﻓَﻘَﺪ
ﺳَﺮَﻕَ ﺃَﺥٌ ﻟَﻪُ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ ۚ
ﻓَﺄَﺳَﺮَّﻫﺎ ﻳﻮﺳُﻒُ ﻓﻰ ﻧَﻔﺴِﻪِ
ﻭَﻟَﻢ ﻳُﺒﺪِﻫﺎ ﻟَﻬُﻢ ۚ ﻗﺎﻝَ ﺃَﻧﺘُﻢ
ﺷَﺮٌّ ﻣَﻜﺎﻧًﺎ ۖ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻋﻠَﻢُ ﺑِﻤﺎ
ﺗَﺼِﻔﻮﻥَ
[77] তারা বলতে লাগলঃ যদি সে চুরি
করে থাকে, তবে তার এক ভাইও
ইতিপূর্বে চুরি করেছিল। তখন ইউসুফ
প্রকৃত ব্যাপার নিজের মনে রাখলেন
এবং তাদেরকে জানালেন না। মনে
মনে বললেনঃ তোমরা লোক হিসাবে
নিতান্ত মন্দ এবং আল্লাহ খুব জ্ঞাত
রয়েছেন, যা তোমরা বর্ণনা করছ;
[77] They [(Yûsuf’s (Joseph) brothers]
said: “If he steals, there was a brother of
his [Yûsuf (Joseph)] who did steal before
(him).” But these things did Yûsuf
(Joseph) keep in himself, revealing not
the secrets to them. He said (within
himself): “You are in worst case, and
Allâh is the Best Knower of that which
you discribe!”
[78] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﺄَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ ﺇِﻥَّ ﻟَﻪُ
ﺃَﺑًﺎ ﺷَﻴﺨًﺎ ﻛَﺒﻴﺮًﺍ ﻓَﺨُﺬ ﺃَﺣَﺪَﻧﺎ
ﻣَﻜﺎﻧَﻪُ ۖ ﺇِﻧّﺎ ﻧَﺮﻯٰﻚَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻤُﺤﺴِﻨﻴﻦَ
[78] তারা বলতে লাগলঃ হে আযীয,
তার পিতা আছেন, যিনি খুবই বৃদ্ধ
বয়স্ক। সুতরাং আপনি আমাদের
একজনকে তার বদলে রেখে দিন। আমরা
আপনাকে অনুগ্রহশীল ব্যক্তিদের একজন
দেখতে পাচ্ছি।
[78] They said: “O ruler of the land!
Verily, he has an old father (who will
grieve for him); so take one of us in his
place. Indeed we think that you are one
of the Muhsinûn (good-doers – see foot
note of V.2:112).”
[79] ﻗﺎﻝَ ﻣَﻌﺎﺫَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻥ ﻧَﺄﺧُﺬَ
ﺇِﻟّﺎ ﻣَﻦ ﻭَﺟَﺪﻧﺎ ﻣَﺘٰﻌَﻨﺎ ﻋِﻨﺪَﻩُ
ﺇِﻧّﺎ ﺇِﺫًﺍ ﻟَﻈٰﻠِﻤﻮﻥَ
[79] তিনি বললেনঃ যার কাছে আমরা
আমাদের মাল পেয়েছি, তাকে ছাড়া
আর কাউকে গ্রেফতার করা থেকে
আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন। তা হলে
তো আমরা নিশ্চিতই অন্যায়কারী হয়ে
যাব।
[79] He said: “Allâh forbid, that we
should take anyone but him with whom
we found our property. Indeed (if we did
so), we should be Zâlimûn (wrong-
doers).”
[80] ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺍﺳﺘَﻴـَٔﺴﻮﺍ ﻣِﻨﻪُ
ﺧَﻠَﺼﻮﺍ ﻧَﺠِﻴًّﺎ ۖ ﻗﺎﻝَ ﻛَﺒﻴﺮُﻫُﻢ
ﺃَﻟَﻢ ﺗَﻌﻠَﻤﻮﺍ ﺃَﻥَّ ﺃَﺑﺎﻛُﻢ ﻗَﺪ ﺃَﺧَﺬَ
ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﻣَﻮﺛِﻘًﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻣِﻦ
ﻗَﺒﻞُ ﻣﺎ ﻓَﺮَّﻃﺘُﻢ ﻓﻰ ﻳﻮﺳُﻒَ ۖ
ﻓَﻠَﻦ ﺃَﺑﺮَﺡَ ﺍﻷَﺭﺽَ ﺣَﺘّﻰٰ ﻳَﺄﺫَﻥَ
ﻟﻰ ﺃَﺑﻰ ﺃَﻭ ﻳَﺤﻜُﻢَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟﻰ ۖ
ﻭَﻫُﻮَ ﺧَﻴﺮُ ﺍﻟﺤٰﻜِﻤﻴﻦَ
[80] অতঃপর যখন তারা তাঁর কাছ থেকে
নিরাশ হয়ে গেল, তখন পরামর্শের জন্যে
এখানে বসল। তাদের জ্যেষ্ঠ ভাই বললঃ
তোমরা কি জান না যে, পিতা
তোমাদের কাছ থেকে আল্লাহর নামে
অঙ্গীকার নিয়েছেন এবং পূর্বে
ইউসুফের ব্যাপারেও তোমরা অন্যায়
করেছো? অতএব আমি তো কিছুতেই
এদেশ ত্যাগ করব না, যে পর্যন্ত না
পিতা আমাকে আদেশ দেন অথবা
আল্লাহ আমার পক্ষে কোন ব্যবস্থা
করে দেন। তিনিই সর্বোত্তম
ব্যবস্থাপক।
[80] So, when they despaired of him,
they held a conference in private. The
eldest among them said: “Know you not
that your father did take an oath from
you in Allâh’s Name, and before this you
did fail in your duty with Yûsuf (Joseph)?
Therefore I will not leave this land until
my father permits me, or Allâh decides
my case (by releasing Benjamin) and He
is the Best of the judges.
[81] ﺍﺭﺟِﻌﻮﺍ ﺇِﻟﻰٰ ﺃَﺑﻴﻜُﻢ
ﻓَﻘﻮﻟﻮﺍ ﻳٰﺄَﺑﺎﻧﺎ ﺇِﻥَّ ﺍﺑﻨَﻚَ ﺳَﺮَﻕَ
ﻭَﻣﺎ ﺷَﻬِﺪﻧﺎ ﺇِﻟّﺎ ﺑِﻤﺎ ﻋَﻠِﻤﻨﺎ ﻭَﻣﺎ
ﻛُﻨّﺎ ﻟِﻠﻐَﻴﺐِ ﺣٰﻔِﻈﻴﻦَ
[81] তোমরা তোমাদের পিতার কাছে
ফিরে যাও এবং বলঃ পিতা আপনার
ছেলে চুরি করেছে। আমরা তাই বলে
দিলাম, যা আমাদের জানা ছিল এবং
অদৃশ্য বিষয়ের প্রতি আমাদের লক্ষ্য
ছিল না।
[81] “Return to your father and say, ‘O
our father! Verily, your son (Benjamin)
has stolen, and we testify not except
according to what we know, and we
could not know the unseen!
[82] ﻭَﺳـَٔﻞِ ﺍﻟﻘَﺮﻳَﺔَ ﺍﻟَّﺘﻰ ﻛُﻨّﺎ
ﻓﻴﻬﺎ ﻭَﺍﻟﻌﻴﺮَ ﺍﻟَّﺘﻰ ﺃَﻗﺒَﻠﻨﺎ ﻓﻴﻬﺎ ۖ
ﻭَﺇِﻧّﺎ ﻟَﺼٰﺪِﻗﻮﻥَ
[82] জিজ্ঞেস করুন ঐ জনপদের
লোকদেরকে যেখানে আমরা ছিলাম
এবং ঐ কাফেলাকে, যাদের সাথে
আমরা এসেছি। নিশ্চিতই আমরা সত্য
বলছি।
[82] “And ask (the people of) the town
where we have been, and the caravan in
which we returned, and indeed we are
telling the truth.”
[83] ﻗﺎﻝَ ﺑَﻞ ﺳَﻮَّﻟَﺖ ﻟَﻜُﻢ
ﺃَﻧﻔُﺴُﻜُﻢ ﺃَﻣﺮًﺍ ۖ ﻓَﺼَﺒﺮٌ ﺟَﻤﻴﻞٌ ۖ
ﻋَﺴَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻥ ﻳَﺄﺗِﻴَﻨﻰ ﺑِﻬِﻢ
ﺟَﻤﻴﻌًﺎ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﻫُﻮَ ﺍﻟﻌَﻠﻴﻢُ
ﺍﻟﺤَﻜﻴﻢُ
[83] তিনি বললেনঃ কিছুই না, তোমরা
মনগড়া একটি কথা নিয়েই এসেছ। এখন
ধৈর্য্যধারণই উত্তম। সম্ভবতঃ আল্লাহ
তাদের সবাইকে একসঙ্গে আমার কাছে
নিয়ে আসবেন তিনি সুবিজ্ঞ,
প্রজ্ঞাময়।
[83] He [Ya’qûb (Jacob)] said: “Nay, but
your ownselves have beguiled you into
something. So patience is most fitting
(for me). May be Allâh will bring them
(back) all to me. Truly He! only He is All-
Knowing, All-Wise.”
[84] ﻭَﺗَﻮَﻟّﻰٰ ﻋَﻨﻬُﻢ ﻭَﻗﺎﻝَ
ﻳٰﺄَﺳَﻔﻰٰ ﻋَﻠﻰٰ ﻳﻮﺳُﻒَ
ﻭَﺍﺑﻴَﻀَّﺖ ﻋَﻴﻨﺎﻩُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺤُﺰﻥِ
ﻓَﻬُﻮَ ﻛَﻈﻴﻢٌ
[84] এবং তাদের দিক থেকে তিনি মুখ
ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেনঃ হায়
আফসোস ইউসুফের জন্যে। এবং দুঃখে
তাঁর চক্ষুদ্বয় সাদা হয়ে গেল। এবং
অসহনীয় মনস্তাপে তিনি ছিলেন
ক্লিষ্ট।
[84] And he turned away from them and
said: “Alas, my grief for Yûsuf (Joseph)!”
And he lost his sight because of the
sorrow that he was suppressing.
[85] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺗَﺎﻟﻠَّﻪِ ﺗَﻔﺘَﺆُﺍ۟ ﺗَﺬﻛُﺮُ
ﻳﻮﺳُﻒَ ﺣَﺘّﻰٰ ﺗَﻜﻮﻥَ ﺣَﺮَﺿًﺎ
ﺃَﻭ ﺗَﻜﻮﻥَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻬٰﻠِﻜﻴﻦَ
[85] তারা বলতে লাগলঃ আল্লাহর কসম
আপনি তো ইউসুফের স্মরণ থেকে নিবৃত
হবেন না, যে পর্যন্ত মরণপন্ন না হয়ে
যান কিংবা মৃতবরণ না করেন
[85] They said: “By Allâh! You will never
cease remembering Yûsuf (Joseph) until
you become weak with old age, or until
you be of the dead.”
[86] ﻗﺎﻝَ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﺃَﺷﻜﻮﺍ ﺑَﺜّﻰ
ﻭَﺣُﺰﻧﻰ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺃَﻋﻠَﻢُ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣﺎ ﻻ ﺗَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[86] তিনি বললেনঃ আমি তো আমার
দুঃখ ও অস্থিরতা আল্লাহর সমীপেই
নিবেদন করছি এবং আল্লাহর পক্ষ
থেকে আমি যা জানি, তা তোমরা
জান না।
[86] He said: “I only complain of my
grief and sorrow to Allâh, and I know
from Allâh that which you know not.
[87] ﻳٰﺒَﻨِﻰَّ ﺍﺫﻫَﺒﻮﺍ ﻓَﺘَﺤَﺴَّﺴﻮﺍ
ﻣِﻦ ﻳﻮﺳُﻒَ ﻭَﺃَﺧﻴﻪِ ﻭَﻻ
ﺗَﺎ۟ﻳـَٔﺴﻮﺍ ﻣِﻦ ﺭَﻭﺡِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۖ ﺇِﻧَّﻪُ ﻻ
ﻳَﺎ۟ﻳـَٔﺲُ ﻣِﻦ ﺭَﻭﺡِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻟَّﺎ
ﺍﻟﻘَﻮﻡُ ﺍﻟﻜٰﻔِﺮﻭﻥَ
[87] বৎসগণ! যাও, ইউসুফ ও তার ভাইকে
তালাশ কর এবং আল্লাহর রহমত থেকে
নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত
থেকে কাফের সম্প্রদায়, ব্যতীত অন্য
কেউ নিরাশ হয় না।
[87] “O my sons! Go you and enquire
about Yûsuf (Joseph) and his brother,
and never give up hope of Allâh’s Mercy.
Certainly no one despairs of Allâh’s
Mercy, except the people who
disbelieve.”
[88] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺩَﺧَﻠﻮﺍ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻗﺎﻟﻮﺍ
ﻳٰﺄَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ ﻣَﺴَّﻨﺎ ﻭَﺃَﻫﻠَﻨَﺎ
ﺍﻟﻀُّﺮُّ ﻭَﺟِﺌﻨﺎ ﺑِﺒِﻀٰﻌَﺔٍ ﻣُﺰﺟﻯٰﺔٍ
ﻓَﺄَﻭﻑِ ﻟَﻨَﺎ ﺍﻟﻜَﻴﻞَ ﻭَﺗَﺼَﺪَّﻕ
ﻋَﻠَﻴﻨﺎ ۖ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳَﺠﺰِﻯ
ﺍﻟﻤُﺘَﺼَﺪِّﻗﻴﻦَ
[88] অতঃপর যখন তারা ইউসুফের কাছে
পৌঁছল তখন বললঃ হে আযীয, আমরা ও
আমাদের পরিবারবর্গ কষ্টের সম্মুখীন
হয়ে পড়েছি এবং আমরা অপর্যাপ্ত
পুঁজি নিয়ে এসেছি। অতএব আপনি
আমাদের পুরোপুরি বরাদ্দ দিন এবং
আমাদের কে দান করুন। আল্লাহ
দাতাদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকেন।
[88] Then, when they entered unto him
[Yûsuf (Joseph)], they said: “O ruler of
the land! A hard time has hit us and our
family, and we have brought but poor
capital, so pay us full measure and be
charitable to us. Truly, Allâh does reward
the charitable.”
[89] ﻗﺎﻝَ ﻫَﻞ ﻋَﻠِﻤﺘُﻢ ﻣﺎ ﻓَﻌَﻠﺘُﻢ
ﺑِﻴﻮﺳُﻒَ ﻭَﺃَﺧﻴﻪِ ﺇِﺫ ﺃَﻧﺘُﻢ
ﺟٰﻬِﻠﻮﻥَ
[89] ইউসুফ বললেনঃ তোমাদের জানা
আছে কি, যা তোমরা ইউসুফ ও তার
ভাইয়ের সাথে করেছ, যখন তোমরা
অপরিণামদর্শী ছিলে?
[89] He said: “Do you know what you did
with Yûsuf (Joseph) and his brother,
when you were ignorant?”
[90] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃَﺀِﻧَّﻚَ ﻟَﺄَﻧﺖَ ﻳﻮﺳُﻒُ ۖ
ﻗﺎﻝَ ﺃَﻧﺎ۠ ﻳﻮﺳُﻒُ ﻭَﻫٰﺬﺍ ﺃَﺧﻰ ۖ
ﻗَﺪ ﻣَﻦَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴﻨﺎ ۖ ﺇِﻧَّﻪُ ﻣَﻦ
ﻳَﺘَّﻖِ ﻭَﻳَﺼﺒِﺮ ﻓَﺈِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻻ
ﻳُﻀﻴﻊُ ﺃَﺟﺮَ ﺍﻟﻤُﺤﺴِﻨﻴﻦَ
[90] তারা বলল, তবে কি তুমিই ইউসুফ!
বললেনঃ আমিই ইউসুফ এবং এ হল আমার
সহোদর ভাই। আল্লাহ আমাদের প্রতি
অনুগ্রহ করেছেন। নিশ্চয় যে তাকওয়া
অবলম্বন করে এবং সবর করে, আল্লাহ
এহেন সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট
করেন না।
[90] They said: “Are you indeed Yûsuf
(Joseph)?” He said: “I am Yûsuf (Joseph),
and this is my brother (Benjamin). Allâh
has indeed been gracious to us. Verily,
he who fears Allâh with obedience to
Him (by abstaining from sins and evil
deeds, and by performing righteous good
deeds), and is patient, then surely, Allâh
makes not the reward of the Muhsinûn
(good-doers – see V.2:112) to be lost.”
[91] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺗَﺎﻟﻠَّﻪِ ﻟَﻘَﺪ ﺀﺍﺛَﺮَﻙَ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴﻨﺎ ﻭَﺇِﻥ ﻛُﻨّﺎ ﻟَﺨٰﻄِـٔﻴﻦَ
[91] তারা বললঃ আল্লাহর কসম,
আমাদের চাইতে আল্লাহ তোমাকে
পছন্দ করেছেন এবং আমরা অবশ্যই
অপরাধী ছিলাম।
[91] They said: “By Allâh! Indeed Allâh
has preferred you above us, and we
certainly have been sinners.”
[92] ﻗﺎﻝَ ﻻ ﺗَﺜﺮﻳﺐَ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢُ
ﺍﻟﻴَﻮﻡَ ۖ ﻳَﻐﻔِﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟَﻜُﻢ ۖ ﻭَﻫُﻮَ
ﺃَﺭﺣَﻢُ ﺍﻟﺮّٰﺣِﻤﻴﻦَ
[92] বললেন, আজ তোমাদের বিরুদ্ধে
কোন অভিযোগ নেই। আল্লাহ
তোমাদের কে ক্ষমা করুন। তিনি সব
মেহেরবানদের চাইতে অধিক
মেহেরবান।
[92] He said: “No reproach on you this
day, may Allâh forgive you, and He is the
Most Merciful of those who show mercy!
[93] ﺍﺫﻫَﺒﻮﺍ ﺑِﻘَﻤﻴﺼﻰ ﻫٰﺬﺍ
ﻓَﺄَﻟﻘﻮﻩُ ﻋَﻠﻰٰ ﻭَﺟﻪِ ﺃَﺑﻰ ﻳَﺄﺕِ
ﺑَﺼﻴﺮًﺍ ﻭَﺃﺗﻮﻧﻰ ﺑِﺄَﻫﻠِﻜُﻢ
ﺃَﺟﻤَﻌﻴﻦَ
[93] তোমরা আমার এ জামাটি নিয়ে
যাও। এটি আমার পিতার মুখমন্ডলের
উপর রেখে দিও, এতে তাঁর দৃষ্টি শক্তি
ফিরে আসবে। আর তোমাদের
পরিবারবর্গের সবাইকে আমার কাছে
নিয়ে এস।
[93] “Go with this shirt of mine, and cast
it over the face of my father, he will
become clear-sighted, and bring me all
your family.”
[94] ﻭَﻟَﻤّﺎ ﻓَﺼَﻠَﺖِ ﺍﻟﻌﻴﺮُ ﻗﺎﻝَ
ﺃَﺑﻮﻫُﻢ ﺇِﻧّﻰ ﻟَﺄَﺟِﺪُ ﺭﻳﺢَ
ﻳﻮﺳُﻒَ ۖ ﻟَﻮﻻ ﺃَﻥ ﺗُﻔَﻨِّﺪﻭﻥِ
[94] যখন কাফেলা রওয়ানা হল, তখন
তাদের পিতা বললেনঃ যদি তোমরা
আমাকে অপ্রকৃতিস্থ না বল, তবে বলিঃ
আমি নিশ্চিতরূপেই ইউসুফের গন্ধ
পাচ্ছি।
[94] And when the caravan departed,
their father said: “I do indeed feel the
smell of Yûsuf (Joseph), if only you think
me not a dotard (a person who has
weakness of mind because of old age).”
[95] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺗَﺎﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻧَّﻚَ ﻟَﻔﻰ
ﺿَﻠٰﻠِﻚَ ﺍﻟﻘَﺪﻳﻢِ
[95] লোকেরা বললঃ আল্লাহর কসম,
আপনি তো সেই পুরানো ভ্রান্তিতেই
পড়ে আছেন।
[95] They said: “By Allâh! Certainly, you
are in your old error.”
[96] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺃَﻥ ﺟﺎﺀَ ﺍﻟﺒَﺸﻴﺮُ
ﺃَﻟﻘﻯٰﻪُ ﻋَﻠﻰٰ ﻭَﺟﻬِﻪِ ﻓَﺎﺭﺗَﺪَّ
ﺑَﺼﻴﺮًﺍ ۖ ﻗﺎﻝَ ﺃَﻟَﻢ ﺃَﻗُﻞ ﻟَﻜُﻢ
ﺇِﻧّﻰ ﺃَﻋﻠَﻢُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣﺎ ﻻ
ﺗَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[96] অতঃপর যখন সুসংবাদদাতা পৌঁছল,
সে জামাটি তাঁর মুখে রাখল। অমনি
তিনি দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেলেন।
বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে
বলিনি যে, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে
যা জানি তোমরা তা জান না?
[96] Then, when the bearer of the glad
tidings arrived, he cast it (the shirt) over
his face, and he became clear-sighted. He
said: “Did I not say to you, ‘I know from
Allâh that which you know not.’ ”
[97] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﺄَﺑﺎﻧَﺎ ﺍﺳﺘَﻐﻔِﺮ ﻟَﻨﺎ
ﺫُﻧﻮﺑَﻨﺎ ﺇِﻧّﺎ ﻛُﻨّﺎ ﺧٰﻄِـٔﻴﻦَ
[97] তারা বললঃ পিতা আমাদের
অপরাধ ক্ষমা করান। নিশ্চয় আমরা
অপরাধী ছিলাম।
[97] They said: “O our father! Ask
forgiveness (from Allâh) for our sins,
indeed we have been sinners.”
[98] ﻗﺎﻝَ ﺳَﻮﻑَ ﺃَﺳﺘَﻐﻔِﺮُ ﻟَﻜُﻢ
ﺭَﺑّﻰ ۖ ﺇِﻧَّﻪُ ﻫُﻮَ ﺍﻟﻐَﻔﻮﺭُ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢُ
[98] বললেন, সত্বরই আমি পালনকর্তার
কাছে তোমাদের জন্য ক্ষমা চাইব।
নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালূ।
[98] He said: “I will ask my Lord for
forgiveness for you, verily He! Only He is
the Oft-Forgiving, the Most Merciful.”
[99] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺩَﺧَﻠﻮﺍ ﻋَﻠﻰٰ ﻳﻮﺳُﻒَ
ﺀﺍﻭﻯٰ ﺇِﻟَﻴﻪِ ﺃَﺑَﻮَﻳﻪِ ﻭَﻗﺎﻝَ
ﺍﺩﺧُﻠﻮﺍ ﻣِﺼﺮَ ﺇِﻥ ﺷﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﺀﺍﻣِﻨﻴﻦَ
[99] অতঃপর যখন তারা ইউসুফের কাছে
পৌঁছল, তখন ইউসুফ পিতা-মাতাকে
নিজের কাছে জায়গা দিলেন এবং
বললেনঃ আল্লাহ চাহেন তো শান্তি
চিত্তে মিসরে প্রবেশ করুন।
[99] Then, when they came in before
Yûsuf (Joseph), he betook his parents to
himself and said: “Enter Egypt, if Allâh
wills, in security.”
[100] ﻭَﺭَﻓَﻊَ ﺃَﺑَﻮَﻳﻪِ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟﻌَﺮﺵِ ﻭَﺧَﺮّﻭﺍ ﻟَﻪُ ﺳُﺠَّﺪًﺍ ۖ
ﻭَﻗﺎﻝَ ﻳٰﺄَﺑَﺖِ ﻫٰﺬﺍ ﺗَﺄﻭﻳﻞُ
ﺭُﺀﻳٰﻰَ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ ﻗَﺪ ﺟَﻌَﻠَﻬﺎ
ﺭَﺑّﻰ ﺣَﻘًّﺎ ۖ ﻭَﻗَﺪ ﺃَﺣﺴَﻦَ ﺑﻰ ﺇِﺫ
ﺃَﺧﺮَﺟَﻨﻰ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴِّﺠﻦِ ﻭَﺟﺎﺀَ
ﺑِﻜُﻢ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺒَﺪﻭِ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِ ﺃَﻥ
ﻧَﺰَﻍَ ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦُ ﺑَﻴﻨﻰ ﻭَﺑَﻴﻦَ
ﺇِﺧﻮَﺗﻰ ۚ ﺇِﻥَّ ﺭَﺑّﻰ ﻟَﻄﻴﻒٌ ﻟِﻤﺎ
ﻳَﺸﺎﺀُ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﻫُﻮَ ﺍﻟﻌَﻠﻴﻢُ
ﺍﻟﺤَﻜﻴﻢُ
[100] এবং তিনি পিতা-মাতাকে
সিংহাসনের উপর বসালেন এবং তারা
সবাই তাঁর সামনে সেজদাবনত হল।
তিনি বললেনঃ পিতা এ হচ্ছে আমার
ইতিপূর্বেকার স্বপ্নের বর্ণনা আমার
পালনকর্তা একে সত্যে পরিণত করেছেন
এবং তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ
করেছেন। আমাকে জেল থেকে বের
করেছেন এবং আপনাদেরকে গ্রাম
থেকে নিয়ে এসেছেন, শয়তান আমার ও
আমার ভাইদের মধ্যে কলহ সৃষ্টি করে
দেয়ার পর। আমার পালনকর্তা যা চান,
কৌশলে সম্পন্ন করেন। নিশ্চয় তিনি
বিজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
[100] And he raised his parents to the
throne and they fell down before him
prostrate. And he said: “O my father!
This is the interpretation of my dream
aforetime! My Lord has made it come
true! He was indeed good to me, when
He took me out of the prison, and
brought you (all here) out of the bedouin-
life, after Shaitân (Satan) had sown
enmity between me and my brothers.
Certainly, my Lord is the Most Courteous
and Kind unto whom He wills. Truly He!
Only He is the All-Knowing, the All-Wise.
[101] ۞ ﺭَﺏِّ ﻗَﺪ ﺀﺍﺗَﻴﺘَﻨﻰ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻤُﻠﻚِ ﻭَﻋَﻠَّﻤﺘَﻨﻰ ﻣِﻦ ﺗَﺄﻭﻳﻞِ
ﺍﻷَﺣﺎﺩﻳﺚِ ۚ ﻓﺎﻃِﺮَ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ﺃَﻧﺖَ ﻭَﻟِﻲّۦ ﻓِﻰ
ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﻭَﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ۖ ﺗَﻮَﻓَّﻨﻰ
ﻣُﺴﻠِﻤًﺎ ﻭَﺃَﻟﺤِﻘﻨﻰ ﺑِﺎﻟﺼّٰﻠِﺤﻴﻦَ
[101] হে পালনকর্তা আপনি আমাকে
রাষ্ট্রক্ষমতাও দান করেছেন এবং
আমাকে বিভিন্ন তাৎপর্য সহ ব্যাখ্যা
করার বিদ্যা শিখিয়ে দিয়েছেন। হে
নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের স্রষ্টা,
আপনিই আমার কার্যনির্বাহী ইহকাল ও
পরকালে। আমাকে ইসলামের উপর
মৃত্যুদান করুন এবং আমাকে স্বজনদের
সাথে মিলিত করুন।
[101] “My Lord! You have indeed
bestowed on me of the sovereignty, and
taught me something of the
interpretation of dreams – the (Only)
Creator of the heavens and the earth!
You are my Walî (Protector, Helper,
Supporter, Guardian, God, Lord.) in this
world and in the Hereafter. Cause me to
die as a Muslim (the one submitting to
Your Will), and join me with the
righteous.”
[102] ﺫٰﻟِﻚَ ﻣِﻦ ﺃَﻧﺒﺎﺀِ ﺍﻟﻐَﻴﺐِ
ﻧﻮﺣﻴﻪِ ﺇِﻟَﻴﻚَ ۖ ﻭَﻣﺎ ﻛُﻨﺖَ
ﻟَﺪَﻳﻬِﻢ ﺇِﺫ ﺃَﺟﻤَﻌﻮﺍ ﺃَﻣﺮَﻫُﻢ
ﻭَﻫُﻢ ﻳَﻤﻜُﺮﻭﻥَ
[102] এগুলো অদৃশ্যের খবর, আমি
আপনার কাছে প্রেরণ করি। আপনি
তাদের কাছে ছিলেন না, যখন তারা
স্বীয় কাজ সাব্যস্ত করছিল এবং
চক্রান্ত করছিল।
[102] That is of the news of the Ghaib
(unseen) which We reveal to you (O
Muhammad SAW ). You were not
(present) with them when they arranged
their plan together, and (while) they
were plotting.
[103] ﻭَﻣﺎ ﺃَﻛﺜَﺮُ ﺍﻟﻨّﺎﺱِ ﻭَﻟَﻮ
ﺣَﺮَﺻﺖَ ﺑِﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[103] আপনি যতই চান, অধিকাংশ
লোক বিশ্বাসকারী নয়।
[103] And most of mankind will not
believe even if you desire it eagerly
[104] ﻭَﻣﺎ ﺗَﺴـَٔﻠُﻬُﻢ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻣِﻦ
ﺃَﺟﺮٍ ۚ ﺇِﻥ ﻫُﻮَ ﺇِﻟّﺎ ﺫِﻛﺮٌ ﻟِﻠﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[104] আপনি এর জন্যে তাদের কাছে
কোন বিনিময় চান না। এটা তো
সারা বিশ্বের জন্যে উপদেশ বৈ নয়।
[104] And no reward you (O Muhammad
SAW) ask of them (those who deny your
Prophethood) for it, it(the Qur’ân) is no
less than a Reminder and an advice unto
the ‘Alamîn (men and jinn).
[105] ﻭَﻛَﺄَﻳِّﻦ ﻣِﻦ ﺀﺍﻳَﺔٍ ﻓِﻰ
ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ﻳَﻤُﺮّﻭﻥَ
ﻋَﻠَﻴﻬﺎ ﻭَﻫُﻢ ﻋَﻨﻬﺎ ﻣُﻌﺮِﺿﻮﻥَ
[105] অনেক নিদর্শন রয়েছে
নভোমন্ডলে ও ভু-মন্ডলে যেগুলোর
উপর দিয়ে তারা পথ অতিক্রম করে এবং
তারা এসবের দিকে মনোনিবেশ করে
না।
[105] And how many a sign in the
heavens and the earth they pass by,
while they are averse therefrom
[106] ﻭَﻣﺎ ﻳُﺆﻣِﻦُ ﺃَﻛﺜَﺮُﻫُﻢ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ
ﺇِﻟّﺎ ﻭَﻫُﻢ ﻣُﺸﺮِﻛﻮﻥَ
[106] অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি
বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে
সাথে শিরকও করে।
[106] And most of them believe not in
Allâh except that they attribute partners
unto Him [i.e. they are Mushrikûn –
polytheists – see Verse 6: 121]
[107] ﺃَﻓَﺄَﻣِﻨﻮﺍ ﺃَﻥ ﺗَﺄﺗِﻴَﻬُﻢ
ﻏٰﺸِﻴَﺔٌ ﻣِﻦ ﻋَﺬﺍﺏِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻭ
ﺗَﺄﺗِﻴَﻬُﻢُ ﺍﻟﺴّﺎﻋَﺔُ ﺑَﻐﺘَﺔً ﻭَﻫُﻢ ﻻ
ﻳَﺸﻌُﺮﻭﻥَ
[107] তারা কি নির্ভীক হয়ে গেছে এ
বিষয়ে যে, আল্লাহর আযাবের কোন
বিপদ তাদেরকে আবৃত করে ফেলবে
অথবা তাদের কাছে হঠাৎ কেয়ামত
এসে যাবে, অথচ তারা টেরও পাবে না?
[107] Do they then feel secure from the
coming against them of the covering veil
of the Torment of Allâh, or of the coming
against them of the (Final) Hour, all of a
sudden while they perceive not?
[108] ﻗُﻞ ﻫٰﺬِﻩِ ﺳَﺒﻴﻠﻰ ﺃَﺩﻋﻮﺍ
ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۚ ﻋَﻠﻰٰ ﺑَﺼﻴﺮَﺓٍ ﺃَﻧﺎ۠
ﻭَﻣَﻦِ ﺍﺗَّﺒَﻌَﻨﻰ ۖ ﻭَﺳُﺒﺤٰﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻭَﻣﺎ ﺃَﻧﺎ۠ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﺸﺮِﻛﻴﻦَ
[108] বলে দিনঃ এই আমার পথ। আমি
আল্লাহর দিকে বুঝে সুঝে দাওয়াত দেই
আমি এবং আমার অনুসারীরা। আল্লাহ
পবিত্র। আমি অংশীবাদীদের
অন্তর্ভুক্ত নই।
[108] Say (O Muhammad SAW): “This is
my way; I invite unto Allâh (i.e. to the
Oneness of Allâh – Islâmic Monotheism)
with sure knowledge, I and whosoever
follows me (also must invite others to
Allâh i.e to the Oneness of Allâh – Islâmic
Monotheism with sure knowledge). And
Glorified and Exalted is Allâh (above all
that they associate as partners with
Him). And I am not of the Mushrikûn
(polytheists, pagans, idolaters and
disbelievers in the Oneness of Allâh;
those who worship others along with
Allâh or set up rivals or partners to
Allâh).”
[109] ﻭَﻣﺎ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻠِﻚَ ﺇِﻟّﺎ
ﺭِﺟﺎﻟًﺎ ﻧﻮﺣﻰ ﺇِﻟَﻴﻬِﻢ ﻣِﻦ ﺃَﻫﻞِ
ﺍﻟﻘُﺮﻯٰ ۗ ﺃَﻓَﻠَﻢ ﻳَﺴﻴﺮﻭﺍ ﻓِﻰ
ﺍﻷَﺭﺽِ ﻓَﻴَﻨﻈُﺮﻭﺍ ﻛَﻴﻒَ ﻛﺎﻥَ
ﻋٰﻘِﺒَﺔُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻠِﻬِﻢ ۗ
ﻭَﻟَﺪﺍﺭُ ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﺧَﻴﺮٌ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ
ﺍﺗَّﻘَﻮﺍ ۗ ﺃَﻓَﻼ ﺗَﻌﻘِﻠﻮﻥَ
[109] আপনার পূর্বে আমি যতজনকে রসূল
করে পাঠিয়েছি, তারা সবাই পুরুষই
ছিল জনপদবাসীদের মধ্য থেকে। আমি
তাঁদের কাছে ওহী প্রেরণ করতাম।
তারা কি দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করে না,
যাতে দেখে নিত কিরূপ পরিণতি
হয়েছে তাদের যারা পূর্বে ছিল ?
সংযমকারীদের জন্যে পরকালের
আবাসই উত্তম। তারা কি এখনও বোঝে
না?
[109] And We sent not before you (as
Messengers) any but men, whom We
revealed from among the people of
townships. Have they not travelled in the
land and seen what was the end of those
who were before them? And verily, the
home of the Hereafter is the best for
those who fear Allâh and obey Him (by
abstaining from sins and evil deeds, and
by performing righteous good deeds). Do
you not then understand?
[110] ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫَﺍ ﺍﺳﺘَﻴـَٔﺲَ
ﺍﻟﺮُّﺳُﻞُ ﻭَﻇَﻨّﻮﺍ ﺃَﻧَّﻬُﻢ ﻗَﺪ
ﻛُﺬِﺑﻮﺍ ﺟﺎﺀَﻫُﻢ ﻧَﺼﺮُﻧﺎ ﻓَﻨُﺠِّﻰَ
ﻣَﻦ ﻧَﺸﺎﺀُ ۖ ﻭَﻻ ﻳُﺮَﺩُّ ﺑَﺄﺳُﻨﺎ ﻋَﻦِ
ﺍﻟﻘَﻮﻡِ ﺍﻟﻤُﺠﺮِﻣﻴﻦَ
[110] এমনকি যখন পয়গম্বরগণ নৈরাশ্যে
পতিত হয়ে যেতেন, এমনকি এরূপ ধারণা
করতে শুরু করতেন যে, তাদের অনুমান
বুঝি মিথ্যায় পরিণত হওয়ার উপক্রম
হয়েছিল, তখন তাদের কাছে আমার
সাহায্য পৌছে। অতঃপর আমি যাদের
চেয়েছি তারা উদ্ধার পেয়েছে। আমার
শাস্তি অপরাধী সম্প্রদায় থেকে
প্রতিহত হয় না।
[110] (They were reprieved) until, when
the Messengers gave up hope and
thought that they were denied (by their
people), then came to them Our Help,
and whomsoever We willed were
rescued. And Our Punishment cannot be
warded off from the people who are
Mujrimûn (criminals, sinners,
disbelievers, polytheists).
[111] ﻟَﻘَﺪ ﻛﺎﻥَ ﻓﻰ ﻗَﺼَﺼِﻬِﻢ
ﻋِﺒﺮَﺓٌ ﻟِﺄُﻭﻟِﻰ ﺍﻷَﻟﺒٰﺐِ ۗ ﻣﺎ ﻛﺎﻥَ
ﺣَﺪﻳﺜًﺎ ﻳُﻔﺘَﺮﻯٰ ﻭَﻟٰﻜِﻦ ﺗَﺼﺪﻳﻖَ
ﺍﻟَّﺬﻯ ﺑَﻴﻦَ ﻳَﺪَﻳﻪِ ﻭَﺗَﻔﺼﻴﻞَ ﻛُﻞِّ
ﺷَﻲﺀٍ ﻭَﻫُﺪًﻯ ﻭَﺭَﺣﻤَﺔً ﻟِﻘَﻮﻡٍ
ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[111] তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের
জন্য রয়েছে প্রচুর শিক্ষণীয় বিষয়, এটা
কোন মনগড়া কথা নয়, কিন্তু যারা
বিশ্বাস স্থাপন করে তাদের জন্যে
পূর্বেকার কালামের সমর্থন এবং
প্রত্যেক বস্তুর বিবরণ রহমত ও
হেদায়েত।
[111] Indeed in their stories, there is a
lesson for men of understanding. It (the
Qur’an) is not a forged statement but a
confirmation of the Allâh’s existing
Books which were before it [the Taurât
(Torah), the Injeel (Gospel) and other
Scriptures of Allâh] and a detailed
explanation of everything and a guide
and a Mercy for the people who believe.
Bangla translation of Quran. Developed
by Syed Mohammad RaselSurah Yusuf Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. আলিফ-লা-ম-রা; এগুলো সুস্পষ্ট গ্রন্থের আয়াত। 2. আমি একে আরবী ভাষায় কোরআন রূপে অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পার। 3. আমি তোমার নিকট উত্তম কাহিনী বর্ণনা করেছি, যেমতে আমি এ কোরআন তোমার নিকট অবতীর্ণ করেছি। তুমি এর আগে অবশ্যই এ ব্যাপারে অনবহিতদের অন্তর্ভূক্ত ছিলে। 4. যখন ইউসুফ পিতাকে বললঃ পিতা, আমি স্বপ্নে দেখেছি এগারটি নক্ষত্রকে। সুর্যকে এবং চন্দ্রকে। আমি তাদেরকে আমার উদ্দেশে সেজদা করতে দেখেছি। 5. তিনি বললেনঃ বৎস, তোমার ভাইদের সামনে এ স্বপ্ন বর্ণনা করো না। তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবে। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য। 6. এমনিভাবে তোমার পালনকর্তা তোমাকে মনোনীত করবেন এবং তোমাকে বাণীসমূহের নিগুঢ় তত্ত্ব শিক্ষা দেবেন এবং পূর্ণ করবেন স্বীয় অনুগ্রহ তোমার প্রতি ও ইয়াকুব পরিবার- পরিজনের প্রতি; যেমন ইতিপূর্বে তোমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম ও ইসহাকের প্রতি পূর্ণ করেছেন। নিশ্চয় তোমার পালনকর্তা অত্যন্ত জ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। 7. অবশ্য ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের কাহিনীতে জিজ্ঞাসুদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। 8. যখন তারা বললঃ অবশ্যই ইউসুফ ও তাঁর ভাই আমাদের পিতার কাছে আমাদের চাইতে অধিক প্রিয় অথচ আমরা একটা সংহত শক্তি বিশেষ। নিশ্চয় আমাদের পিতা স্পষ্ট ভ্রান্তিতে রয়েছেন। 9. হত্যা কর ইউসুফকে কিংবা ফেলে আস তাকে অন্য কোন স্থানে। এতে শুধু তোমাদের প্রতিই তোমাদের পিতার মনোযোগ নিবিষ্ট হবে এবং এরপর তোমরা যোগ্য বিবেচিত হয়ে থাকবে। 10. তাদের মধ্য থেকে একজন বলল, তোমরা ইউসুফ কে হত্যা করো না, বরং ফেলে দাও তাকে অন্ধকূপে যাতে কোন পথিক তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়, যদি তোমাদের কিছু করতেই হয়। 11. তারা বললঃ পিতাঃ ব্যাপার কি, আপনি ইউসুফের ব্যাপারে আমাদেরকে বিশ্বাস করেন না? আমরা তো তার হিতাকাংখী। 12. আগামীকাল তাকে আমাদের সাথে প্রেরণ করুন-তৃপ্তিসহ খাবে এবং খেলাধুলা করবে এবং আমরা অবশ্যই তার রক্ষণাবেক্ষন করব। 13. তিনি বললেনঃ আমার দুশ্চিন্তা হয় যে, তোমরা তাকে নিয়ে যাবে এবং আমি আশঙ্কা করি যে, ব্যাঘ্র তাঁকে খেয়ে ফেলবে এবং তোমরা তার দিক থেকে গাফেল থাকবে। 14. তারা বললঃ আমরা একটি ভারী দল থাকা সত্ত্বেও যদি ব্যাঘ্র তাকে খেয়ে ফেলে, তবে আমরা সবই হারালাম। 15. অতঃপর তারা যখন তাকে নিয়ে চলল এবং অন্ধকূপে নিক্ষেপ করতে একমত হল এবং আমি তাকে ইঙ্গিত করলাম যে, তুমি তাদেরকে তাদের এ কাজের কথা বলবে এমতাবস্থায় যে, তারা তোমাকে চিনবে না। 16. তারা রাতের বেলায় কাঁদতে কাঁদতে পিতার কাছে এল। 17. তারা বললঃ পিতাঃ আমরা দৌড় প্রতিযোগিতা করতে গিয়েছিলাম এবং ইউসুফকে আসবাব-পত্রের কাছে রেখে গিয়েছিলাম। অতঃপর তাকে বাঘে খেয়ে ফেলেছে। আপনি তো আমাদেরকে বিশ্বাস করবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী। 18. এবং তারা তার জামায় কৃত্রিম রক্ত লাগিয়ে আনল। বললেনঃ এটা কখনই নয়; বরং তোমাদের মন তোমাদেরকে একটা কথা সাজিয়ে দিয়েছে। সুতরাং এখন ছবর করাই শ্রেয়। তোমরা যা বর্ণনা করছ, সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার সাহায্য স্থল। 19. এবং একটি কাফেলা এল। অতঃপর তাদের পানি সংগ্রাহককে প্রেরণ করল। সে বালতি ফেলল। বললঃ কি আনন্দের কথা। এ তো একটি কিশোর তারা তাকে পন্যদ্রব্য গণ্য করে গোপন করে ফেলল। আল্লাহ খুব জানেন যা কিছু তারা করেছিল। 20. ওরা তাকে কম মূল্যে বিক্রি করে দিল গনাগুণতি কয়েক দেরহাম এবং তাঁর ব্যাপারে নিরাসক্ত ছিল। 21. মিসরে যে ব্যক্তি তাকে ক্রয় করল, সে তার স্ত্রীকে বললঃ একে সম্মানে রাখ। সম্ভবতঃ সে আমাদের কাছে আসবে অথবা আমরা তাকে পুত্ররূপে গ্রহণ করে নেব। এমনিভাবে আমি ইউসুফকে এদেশে প্রতিষ্ঠিত করলাম এবং এ জন্যে যে তাকে বাক্যাদির পূর্ণ মর্ম অনুধাবনের পদ্ধতি বিষয়ে শিক্ষা দেই। আল্লাহ নিজ কাজে প্রবল থাকেন, কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না। 22. যখন সে পূর্ণ যৌবনে পৌছে গেল, তখন তাকে প্রজ্ঞা ও ব্যুৎপত্তি দান করলাম। এমননিভাবে আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে প্রতিদান দেই। 23. আর সে যে মহিলার ঘরে ছিল, ঐ মহিলা তাকে ফুসলাতে লাগল এবং দরজাসমূহ বন্ধ করে দিল। সে মহিলা বললঃ শুন! তোমাকে বলছি, এদিকে আস, সে বললঃ আল্লাহ রক্ষা করুন; তোমার স্বামী আমার মালিক। তিনি আমাকে সযত্নে থাকতে দিয়েছেন। নিশ্চয় সীমা লংঘনকারীগণ সফল হয় না। 24. নিশ্চয় মহিলা তার বিষয়ে চিন্তা করেছিল এবং সেও মহিলার বিষয়ে চিন্তা করত। যদি না সে স্বীয় পালনকর্তার মহিমা অবলোকন করত। এমনিবাবে হয়েছে, যাতে আমি তার কাছ থেকে মন্দ বিষয় ও নিলজ্জ বিষয় সরিয়ে দেই। নিশ্চয় সে আমার মনোনীত বান্দাদের একজন। 25. তারা উভয়ে ছুটে দরজার দিকে গেল এবং মহিলা ইউসুফের জামা পিছন দিক থেকে ছিঁড়ে ফেলল। উভয়ে মহিলার স্বামীকে দরজার কাছে পেল। মহিলা বললঃ যে ব্যক্তি তোমার পরিজনের সাথে কুকর্মের ইচ্ছা করে, তাকে কারাগারে পাঠানো অথবা অন্য কোন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেয়া ছাড়া তার আর কি শাস্তি হতে পারে? 26. ইউসুফ (আঃ) বললেন, সেই আমাকে আত্মসংবরণ না করতে ফুসলিয়েছে। মহিলার পরিবারে জনৈক সাক্ষী দিল যে, যদি তার জামা সামনের দিক থেকে ছিন্ন থাকে, তবে মহিলা সত্যবাদিনী এবং সে মিথ্যাবাদি। 27. এবং যদি তার জামা পেছনের দিক থেকে ছিন্ন থাকে, তবে মহিলা মিথ্যাবাদিনী এবং সে সত্যবাদী। 28. অতঃপর গৃহস্বামী যখন দেখল যে, তার জামা পেছন দিক থেকে ছিন্ন, তখন সে বলল, নিশ্চয় এটা তোমাদের ছলনা। নিঃসন্দেহে তোমাদের ছলনা খুবই মারাত্নক। 29. ইউসুফ এ প্রসঙগ ছাড়! আর হে নারী, এ পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর নিঃসন্দেহে তুমি-ই পাপাচারিনী। 30. নগরে মহিলারা বলাবলি করতে লাগল যে, আযীযের স্ত্রী স্বীয় গোলামকে কুমতলব চরিতার্থ করার জন্য ফুসলায়। সে তার প্রেমে উম্মত্ত হয়ে গেছে। আমরা তো তাকে প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে দেখতে পাচ্ছি। 31. যখন সে তাদের চক্রান্ত শুনল, তখন তাদেরকে ডেকে পাঠাল এবং তাদের জন্যে একটি ভোজ সভার আয়োজন করল। সে তাদের প্রত্যেককে একটি ছুরি দিয়ে বললঃ ইউসুফ এদের সামনে চলে এস। যখন তারা তাকে দেখল, হতভম্ব হয়ে গেল এবং আপন হাত কেটে ফেলল। তারা বললঃ কখনই নয় এ ব্যক্তি মানব নয়। এ তো কোন মহান ফেরেশতা। 32. মহিলা বললঃ এ ঐ ব্যক্তি, যার জন্যে তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করছিলে। আমি ওরই মন জয় করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে। আর আমি যা আদেশ দেই, সে যদি তা না করে, তবে অবশ্যই সে কারাগারে প্রেরিত হবে এবং লাঞ্চিত হবে। 33. ইউসুফ বললঃ হে পালনকর্তা তারা আমাকে যে কাজের দিকে আহবান করে, তার চাইতে আমি কারাগারই পছন্দ করি। যদি আপনি তাদের চক্রান্ত আমার উপর থেকে প্রতিহত না করেন, তবে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ব এবং অজ্ঞদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাব। 34. অতঃপর তার পালনকর্তা তার দোয়া কবুল করে নিলেন। অতঃপর তাদের চক্রান্ত প্রতিহত করলেন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। 35. অতঃপর এসব নিদর্শন দেখার পর তারা তাকে কিছুদিন কারাগারে রাখা সমীচীন মনে করল। 36. তাঁর সাথে কারাগারে দুজন যুবক প্রবেশ করল। তাদের একজন বললঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি মদ নিঙড়াচ্ছি। অপরজন বললঃ আমি দেখলাম যে, নিজ মাথায় রুটি বহন করছি। তা থেকে পাখী ঠুকরিয়ে খাচ্ছে। আমাদের কে এর ব্যাখ্যা বলুন। আমরা আপনাকে সৎকর্মশীল দেখতে পাচ্ছি। 37. তিনি বললেনঃ তোমাদেরকে প্রত্যহ যে খাদ্য দেয়া হয়, তা তোমাদের কাছে আসার আগেই আমি তার ব্যাখ্যা বলে দেব। এ জ্ঞান আমার পালনকর্তা আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন। আমি ঐসব লোকের ধর্ম পরিত্যাগ করেছি যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না এবং পরকালে অবিশ্বাসী। 38. আমি আপন পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইসহাক ও ইয়াকুবের ধর্ম অনুসরণ করছি। আমাদের জন্য শোভা পায় না যে, কোন বস্তুকে আল্লাহর অংশীদার করি। এটা আমাদের প্রতি এবং অন্য সব লোকের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ। কিন্ত অধিকাংশ লোক অনুগ্রহ স্বীকার করে না। 39. হে কারাগারের সঙ্গীরা! পৃথক পৃথক অনেক উপাস্য ভাল, না পরাক্রমশালী এক আল্লাহ? 40. তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে নিছক কতগুলো নামের এবাদত কর, সেগুলো তোমরা এবং তোমাদের বাপ- দাদারা সাব্যস্ত করে নিয়েছে। আল্লাহ এদের কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান দেবার ক্ষমতা নেই। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কারও এবাদত করো না। এটাই সরল পথ। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না। 41. হে কারাগারের সঙ্গীরা! তোমাদের একজন আপন প্রভুকে মদ্যপান করাবে এবং দ্বিতীয়জন, তাকে শুলে চড়ানো হবে। অতঃপর তার মস্তক থেকে পাখী আহার করবে। তোমরা যে, বিষয়ে জানার আগ্রহী তার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। 42. যে ব্যক্তি সম্পর্কে ধারণা ছিল যে, সে মুক্তি পাবে, তাকে ইউসুফ বলে দিলঃ আপন প্রভুর কাছে আমার আলোচনা করবে। অতঃপর শয়তান তাকে প্রভুর কাছে আলোচনার কথা ভুলিয়ে দিল। ফলে তাঁকে কয়েক বছর কারাগারে থাকতে হল। 43. বাদশাহ বললঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম, সাতটি মোটাতাজা গাভী-এদেরকে সাতটি শীর্ণ গাভী খেয়ে যাচ্ছে এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অন্যগুলো শুষ্ক। হে পরিষদবর্গ! তোমরা আমাকে আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা বল, যদি তোমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যায় পারদর্শী হয়ে থাক। 44. তারা বললঃ এটা কল্পনাপ্রসূত স্বপ্ন। এরূপ স্বপ্নের ব্যাখ্যা আমাদের জানা নেই। 45. দু’জন কারারুদ্ধের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি মুক্তি পেয়েছিল এবং দীর্ঘকাল পর স্মরণ হলে, সে বলল, আমি তোমাদেরকে এর ব্যাখ্যা বলছি। তোমরা আমাকে প্রেরণ কর। 46. সে তথায় পৌঁছে বললঃ হে ইউসুফ! হে সত্যবাদী! সাতটি মোটাতাজা গাভী-তাদেরকে খাচ্ছে সাতটি শীর্ণ গাভী এবং সাতটি সবুজ শীর্ষ ও অন্যগুলো শুষ্ক; আপনি আমাদেরকে এ স্বপ্ন সম্পর্কে পথনির্দেশ প্রদান করুনঃ যাতে আমি তাদের কাছে ফিরে গিয়ে তাদের অবগত করাতে পারি। 47. বললঃ তোমরা সাত বছর উত্তম রূপে চাষাবাদ করবে। অতঃপর যা কাটবে, তার মধ্যে যে সামান্য পরিমাণ তোমরা খাবে তা ছাড়া অবশিষ্ট শস্য শীষ সমেত রেখে দেবে। 48. এবং এরপরে আসবে দূর্ভিক্ষের সাত বছর; তোমরা এ দিনের জন্যে যা রেখেছিলে, তা খেয়ে যাবে, কিন্তু অল্প পরিমাণ ব্যতীত, যা তোমরা তুলে রাখবে। 49. এর পরেই আসবে একবছর-এতে মানুষের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হবে এবং এতে তারা রস নিঙড়াবে। 50. বাদশাহ বললঃ ফিরে যাও তোমাদের প্রভুর কাছে এবং জিজ্ঞেস কর তাকে ঐ মহিলার স্বরূপ কি, যারা স্বীয় হস্ত কর্তন করেছিল! আমার পালনকর্তা তো তাদের ছলনা সবই জানেন। 51. বাদশাহ মহিলাদেরকে বললেনঃ তোমাদের হাল-হাকিকত কি, যখন তোমরা ইউসুফকে আত্মসংবরণ থেকে ফুসলিয়েছিলে? তারা বললঃ আল্লাহ মহান, আমরা তার সম্পর্কে মন্দ কিছু জানি না। আযীয-পত্মি বললঃ এখন সত্য কথা প্রকাশ হয়ে গেছে। আমিই তাকে আত্মসংবরণ থেকে ফুসলিয়েছিলাম এবং সে সত্যবাদী। 52. ইউসুফ বললেনঃ এটা এজন্য, যাতে আযীয জেনে নেয় যে, আমি গোপনে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি। আরও এই যে, আল্লাহ বিশ্বাসঘাতকদের প্রতারণাকে এগুতে দেন না। 53. আমি নিজেকে নির্দোষ বলি না। নিশ্চয় মানুষের মন মন্দ কর্মপ্রবণ কিন্তু সে নয়- আমার পালনকর্তা যার প্রতি অনুগ্রহ করেন। নিশ্চয় আমার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু। 54. বাদশাহ বললঃ তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো। আমি তাকে নিজের বিশ্বস্ত সহচর করে রাখব। অতঃপর যখন তার সাথে মতবিনিময় করল, তখন বললঃ নিশ্চয়ই আপনি আমার কাছে আজ থেকে বিশ্বস্ত হিসাবে মর্যাদার স্থান লাভ করেছেন। 55. ইউসুফ বললঃ আমাকে দেশের ধন-ভান্ডারে নিযুক্ত করুন। আমি বিশ্বস্ত রক্ষক ও অধিক জ্ঞানবান। 56. এমনিভাবে আমি ইউসুফকে সে দেশের বুকে প্রতিষ্ঠা দান করেছি। সে তথায় যেখানে ইচ্ছা স্থান করে নিতে পারত। আমি স্বীয় রহমত যাকে ইচ্ছা পৌছে দেই এবং আমি পূণ্যবানদের প্রতিদান বিনষ্ট করি না। 57. এবং ঐ লোকদের জন্য পরকালে প্রতিদান উত্তম যারা ঈমান এনেছে ও সতর্কতা অবলম্বন করে। 58. ইউসুফের ভ্রাতারা আগমন করল, অতঃপর তার কাছে উপস্থিত হল। সে তাদেরকে চিনল এবং তারা তাকে চিনল না। 59. এবং সে যখন তাদেরকে তাদের রসদ প্রস্তুত করে দিল, তখন সে বললঃ তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাইকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তোমরা কি দেখ না যে, আমি পুরা মাপ দেই এবং মেহমানদেরকে উত্তম সমাদার করি? 60. অতঃপর যদি তাকে আমার কাছে না আন, তবে আমার কাছে তোমাদের কোন বরাদ্ধ নেই এবং তোমরা আমার কাছে আসতে পারবে না। 61. তারা বললঃ আমরা তার সম্পর্কে তার পিতাকে সম্মত করার চেষ্টা করব এবং আমাদেরকে একাজ করতেই হবে। 62. এবং সে ভৃত্যদেরকে বললঃ তাদের পণ্যমূল্য তাদের রসদ-পত্রের মধ্যে রেখে দাও- সম্ভবতঃ তারা গৃহে পৌঁছে তা বুঝতে পারবে, সম্ভবতঃ তারা পুনর্বার আসবে। 63. তারা যখন তাদের পিতার কাছে ফিরে এল তখন বললঃ হে আমাদের পিতা, আমাদের জন্যে খাদ্য শস্যের বরাদ্দ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতএব আপনি আমাদের ভাইকে আমাদের সাথে প্রেরণ করুন; যাতে আমরা খাদ্য শস্যের বরাদ্দ আনতে পারি এবং আমরা অবশ্যই তার পুরোপুরি হেফাযত করব। 64. বললেন, আমি তার সম্পর্কে তোমাদেরকে কি সেরূপ বিশ্বাস করব, যেমন ইতিপূর্বে তার ভাই সম্পর্কে বিশ্বাস করেছিলাম? অতএব আল্লাহ উত্তম হেফাযতকারী এবং তিনিই সর্বাধিক দয়ালু। 65. এবং যখন তারা আসবাবপত্র খুলল, তখন দেখতে পেল যে, তাদেরকে তাদের পন্যমুল্য ফেরত দেয়া হয়েছে। তারা বললঃ হে আমাদের পিতা, আমরা আর কি চাইতে পারি। এই আমাদের প্রদত্ত পন্যমূল্য, আমাদেরকে ফেরত দেয়া হয়েছে। এখন আমরা আবার আমাদের পরিবারবর্গের জন্যে রসদ আনব এবং আমাদের ভাইয়ের দেখাশোনা করব এবং এক এক উটের বরাদ্দ খাদ্যশস্য আমরা অতিরিক্ত আনব। ঐ বরাদ্দ সহজ। 66. বললেন, তাকে ততক্ষণ তোমাদের সাথে পাঠাব না, যতক্ষণ তোমরা আমাকে আল্লাহর নামে অঙ্গীকার না দাও যে, তাকে অবশ্যই আমার কাছে পৌঁছে দেবে; কিন্তু যদি তোমরা সবাই একান্তই অসহায় না হয়ে যাও। অতঃপর যখন সবাই তাঁকে অঙ্গীকার দিল, তখন তিনি বললেনঃ আমাদের মধ্যে যা কথাবার্তা হলো সে ব্যাপারে আল্লাহই মধ্যস্থ রইলেন। 67. ইয়াকুব বললেনঃ হে আমার বৎসগণ! সবাই একই প্রবেশদ্বার দিয়ে যেয়ো না, বরং পৃথক পৃথক দরজা দিয়ে প্রবেশ করো। আল্লাহর কোন বিধান থেকে আমি তোমাদেরকে রক্ষা করতে পারি না। নির্দেশ আল্লাহরই চলে। তাঁরই উপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই উপর ভরসা করা উচিত ভরসাকারীদের। 68. তারা যখন পিতার কথামত প্রবেশ করল, তখন আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে তা তাদের বাঁচাতে পারল না। কিন্তু ইয়াকুবের সিদ্ধান্তে তাঁর মনের একটি বাসনা ছিল, যা তিনি পূর্ণ করেছেন। এবং তিনি তো আমার শেখানো বিষয় অবগত ছিলেন। কিন্তু অনেক মানুষ অবগত নয়। 69. যখন তারা ইউসুফের কাছে উপস্থিত হল, তখন সে আপন ভ্রাতাকে নিজের কাছে রাখল। বললঃ নিশ্চই আমি তোমার সহোদর। অতএব তাদের কৃতকর্মের জন্যে দুঃখ করো না। 70. অতঃপর যখন ইউসুফ তাদের রসদপত্র প্রস্তুত করে দিল, তখন পানপাত্র আপন ভাইয়ের রসদের মধ্যে রেখে দিল। অতঃপর একজন ঘোষক ডেকে বললঃ হে কাফেলার লোকজন, তোমরা অবশ্যই চোর। 71. তারা ওদের দিকে মুখ করে বললঃ তোমাদের কি হারিয়েছে? 72. তারা বললঃ আমরা বাদশাহর পানপাত্র হারিয়েছি এবং যে কেউ এটা এনে দেবে সে এক উটের বোঝা পরিমাণ মাল পাবে এবং আমি এর যামিন। 73. তারা বললঃ আল্লাহর কসম, তোমরা তো জান, আমরা অনর্থ ঘটাতে এদেশে আসিনি এবং আমরা কখনও চোর ছিলাম না। 74. তারা বললঃ যদি তোমরা মিথ্যাবাদী হও, তবে যে, চুরি করেছে তার কি শাস্তি? 75. তারা বললঃ এর শাস্তি এই যে, যার রসদপত্র থেকে তা পাওয়া যাবে, এর প্রতিদানে সে দাসত্বে যাবে। আমরা যালেমদেরকে এভাবেই শাস্তি দেই। 76. অতঃপর ইউসুফ আপন ভাইদের থলের পূর্বে তাদের থলে তল্লাশী শুরু করলেন। অবশেষে সেই পাত্র আপন ভাইয়ের থলের মধ্য থেকে বের করলেন। এমনিভাবে আমি ইউসুফকে কৌশল শিক্ষা দিয়েছিলাম। সে বাদশাহর আইনে আপন ভাইকে কখনও দাসত্বে দিতে পারত না, কি¦ আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন। আমি যাকে ইচ্ছা, মর্যাদায় উন্নীত করি এবং প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে আছে অধিকতর এক জ্ঞানীজন। 77. তারা বলতে লাগলঃ যদি সে চুরি করে থাকে, তবে তার এক ভাইও ইতিপূর্বে চুরি করেছিল। তখন ইউসুফ প্রকৃত ব্যাপার নিজের মনে রাখলেন এবং তাদেরকে জানালেন না। মনে মনে বললেনঃ তোমরা লোক হিসাবে নিতান্ত মন্দ এবং আল্লাহ খুব জ্ঞাত রয়েছেন, যা তোমরা বর্ণনা করছ; 78. তারা বলতে লাগলঃ হে আযীয, তার পিতা আছেন, যিনি খুবই বৃদ্ধ বয়স্ক। সুতরাং আপনি আমাদের একজনকে তার বদলে রেখে দিন। আমরা আপনাকে অনুগ্রহশীল ব্যক্তিদের একজন দেখতে পাচ্ছি। 79. তিনি বললেনঃ যার কাছে আমরা আমাদের মাল পেয়েছি, তাকে ছাড়া আর কাউকে গ্রেফতার করা থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন। তা হলে তো আমরা নিশ্চিতই অন্যায়কারী হয়ে যাব। 80. অতঃপর যখন তারা তাঁর কাছ থেকে নিরাশ হয়ে গেল, তখন পরামর্শের জন্যে এখানে বসল। তাদের জ্যেষ্ঠ ভাই বললঃ তোমরা কি জান না যে, পিতা তোমাদের কাছ থেকে আল্লাহর নামে অঙ্গীকার নিয়েছেন এবং পূর্বে ইউসুফের ব্যাপারেও তোমরা অন্যায় করেছো? অতএব আমি তো কিছুতেই এদেশ ত্যাগ করব না, যে পর্যন্ত না পিতা আমাকে আদেশ দেন অথবা আল্লাহ আমার পক্ষে কোন ব্যবস্থা করে দেন। তিনিই সর্বোত্তম ব্যবস্থাপক। 81. তোমরা তোমাদের পিতার কাছে ফিরে যাও এবং বলঃ পিতা আপনার ছেলে চুরি করেছে। আমরা তাই বলে দিলাম, যা আমাদের জানা ছিল এবং অদৃশ্য বিষয়ের প্রতি আমাদের লক্ষ্য ছিল না। 82. জিজ্ঞেস করুন ঐ জনপদের লোকদেরকে যেখানে আমরা ছিলাম এবং ঐ কাফেলাকে, যাদের সাথে আমরা এসেছি। নিশ্চিতই আমরা সত্য বলছি। 83. তিনি বললেনঃ কিছুই না, তোমরা মনগড়া একটি কথা নিয়েই এসেছ। এখন ধৈর্য্যধারণই উত্তম। সম্ভবতঃ আল্লাহ তাদের সবাইকে একসঙ্গে আমার কাছে নিয়ে আসবেন তিনি সুবিজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। 84. এবং তাদের দিক থেকে তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেনঃ হায় আফসোস ইউসুফের জন্যে। এবং দুঃখে তাঁর চক্ষুদ্বয় সাদা হয়ে গেল। এবং অসহনীয় মনস্তাপে তিনি ছিলেন ক্লিষ্ট। 85. তারা বলতে লাগলঃ আল্লাহর কসম আপনি তো ইউসুফের স্মরণ থেকে নিবৃত হবেন না, যে পর্যন্ত মরণপন্ন না হয়ে যান কিংবা মৃতবরণ না করেন 86. তিনি বললেনঃ আমি তো আমার দুঃখ ও অস্থিরতা আল্লাহর সমীপেই নিবেদন করছি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি যা জানি, তা তোমরা জান না। 87. বৎসগণ! যাও, ইউসুফ ও তার ভাইকে তালাশ কর এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত থেকে কাফের সম্প্রদায়, ব্যতীত অন্য কেউ নিরাশ হয় না। 88. অতঃপর যখন তারা ইউসুফের কাছে পৌঁছল তখন বললঃ হে আযীয, আমরা ও আমাদের পরিবারবর্গ কষ্টের সম্মুখীন হয়ে পড়েছি এবং আমরা অপর্যাপ্ত পুঁজি নিয়ে এসেছি। অতএব আপনি আমাদের পুরোপুরি বরাদ্দ দিন এবং আমাদের কে দান করুন। আল্লাহ দাতাদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকেন। 89. ইউসুফ বললেনঃ তোমাদের জানা আছে কি, যা তোমরা ইউসুফ ও তার ভাইয়ের সাথে করেছ, যখন তোমরা অপরিণামদর্শী ছিলে? 90. তারা বলল, তবে কি তুমিই ইউসুফ! বললেনঃ আমিই ইউসুফ এবং এ হল আমার সহোদর ভাই। আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। নিশ্চয় যে তাকওয়া অবলম্বন করে এবং সবর করে, আল্লাহ এহেন সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না। 91. তারা বললঃ আল্লাহর কসম, আমাদের চাইতে আল্লাহ তোমাকে পছন্দ করেছেন এবং আমরা অবশ্যই অপরাধী ছিলাম। 92. বললেন, আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। আল্লাহ তোমাদের কে ক্ষমা করুন। তিনি সব মেহেরবানদের চাইতে অধিক মেহেরবান। 93. তোমরা আমার এ জামাটি নিয়ে যাও। এটি আমার পিতার মুখমন্ডলের উপর রেখে দিও, এতে তাঁর দৃষ্টি শক্তি ফিরে আসবে। আর তোমাদের পরিবারবর্গের সবাইকে আমার কাছে নিয়ে এস। 94. যখন কাফেলা রওয়ানা হল, তখন তাদের পিতা বললেনঃ যদি তোমরা আমাকে অপ্রকৃতিস্থ না বল, তবে বলিঃ আমি নিশ্চিতরূপেই ইউসুফের গন্ধ পাচ্ছি। 95. লোকেরা বললঃ আল্লাহর কসম, আপনি তো সেই পুরানো ভ্রান্তিতেই পড়ে আছেন। 96. অতঃপর যখন সুসংবাদদাতা পৌঁছল, সে জামাটি তাঁর মুখে রাখল। অমনি তিনি দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেলেন। বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা জানি তোমরা তা জান না? 97. তারা বললঃ পিতা আমাদের অপরাধ ক্ষমা করান। নিশ্চয় আমরা অপরাধী ছিলাম। 98. বললেন, সত্বরই আমি পালনকর্তার কাছে তোমাদের জন্য ক্ষমা চাইব। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালূ। 99. অতঃপর যখন তারা ইউসুফের কাছে পৌঁছল, তখন ইউসুফ পিতা- মাতাকে নিজের কাছে জায়গা দিলেন এবং বললেনঃ আল্লাহ চাহেন তো শান্তি চিত্তে মিসরে প্রবেশ করুন। 100. এবং তিনি পিতা- মাতাকে সিংহাসনের উপর বসালেন এবং তারা সবাই তাঁর সামনে সেজদাবনত হল। তিনি বললেনঃ পিতা এ হচ্ছে আমার ইতিপূর্বেকার স্বপ্নের বর্ণনা আমার পালনকর্তা একে সত্যে পরিণত করেছেন এবং তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। আমাকে জেল থেকে বের করেছেন এবং আপনাদেরকে গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছেন, শয়তান আমার ও আমার ভাইদের মধ্যে কলহ সৃষ্টি করে দেয়ার পর। আমার পালনকর্তা যা চান, কৌশলে সম্পন্ন করেন। নিশ্চয় তিনি বিজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। 101. হে পালনকর্তা আপনি আমাকে রাষ্ট্রক্ষমতাও দান করেছেন এবং আমাকে বিভিন্ন তাৎপর্য সহ ব্যাখ্যা করার বিদ্যা শিখিয়ে দিয়েছেন। হে নভোমন্ডল ও ভূ- মন্ডলের স্রষ্টা, আপনিই আমার কার্যনির্বাহী ইহকাল ও পরকালে। আমাকে ইসলামের উপর মৃত্যুদান করুন এবং আমাকে স্বজনদের সাথে মিলিত করুন। 102. এগুলো অদৃশ্যের খবর, আমি আপনার কাছে প্রেরণ করি। আপনি তাদের কাছে ছিলেন না, যখন তারা স্বীয় কাজ সাব্যস্ত করছিল এবং চক্রান্ত করছিল। 103. আপনি যতই চান, অধিকাংশ লোক বিশ্বাসকারী নয়। 104. আপনি এর জন্যে তাদের কাছে কোন বিনিময় চান না। এটা তো সারা বিশ্বের জন্যে উপদেশ বৈ নয়। 105. অনেক নিদর্শন রয়েছে নভোমন্ডলে ও ভু- মন্ডলে যেগুলোর উপর দিয়ে তারা পথ অতিক্রম করে এবং তারা এসবের দিকে মনোনিবেশ করে না। 106. অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে। 107. তারা কি নির্ভীক হয়ে গেছে এ বিষয়ে যে, আল্লাহর আযাবের কোন বিপদ তাদেরকে আবৃত করে ফেলবে অথবা তাদের কাছে হঠাৎ কেয়ামত এসে যাবে, অথচ তারা টেরও পাবে না? 108. বলে দিনঃ এই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে বুঝে সুঝে দাওয়াত দেই আমি এবং আমার অনুসারীরা। আল্লাহ পবিত্র। আমি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত নই। 109. আপনার পূর্বে আমি যতজনকে রসূল করে পাঠিয়েছি, তারা সবাই পুরুষই ছিল জনপদবাসীদের মধ্য থেকে। আমি তাঁদের কাছে ওহী প্রেরণ করতাম। তারা কি দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করে না, যাতে দেখে নিত কিরূপ পরিণতি হয়েছে তাদের যারা পূর্বে ছিল? সংযমকারীদের জন্যে পরকালের আবাসই উত্তম। তারা কি এখনও বোঝে না? 110. এমনকি যখন পয়গম্বরগণ নৈরাশ্যে পতিত হয়ে যেতেন, এমনকি এরূপ ধারণা করতে শুরু করতেন যে, তাদের অনুমান বুঝি মিথ্যায় পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌছে। অতঃপর আমি যাদের চেয়েছি তারা উদ্ধার পেয়েছে। আমার শাস্তি অপরাধী সম্প্রদায় থেকে প্রতিহত হয় না। 111. তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য রয়েছে প্রচুর শিক্ষণীয় বিষয়, এটা কোন মনগড়া কথা নয়, কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করে তাদের জন্যে পূর্বেকার কালামের সমর্থন এবং প্রত্যেক বস্তুর বিবরণ রহমত ও হেদায়েত। *********

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s