15. সুরা আল হিজর (01-99)


ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম
করুণাময়, অতি দয়ালু
[1] ﺍﻟﺮ ۚ ﺗِﻠﻚَ ﺀﺍﻳٰﺖُ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ
ﻭَﻗُﺮﺀﺍﻥٍ ﻣُﺒﻴﻦٍ
[1] আলিফ-লা-ম-রা; এগুলো পরিপূর্ণ
গ্রন্থ ও সুস্পষ্ট কোরআনের আয়াত।
[1] Alif-Lâm-Râ. [These letters are one of
the miracles of the Qur’ân, and none but
Allâh (Alone) knows their meanings].
These are the Verses of the Book, and a
plain Qur’ân.
[2] ﺭُﺑَﻤﺎ ﻳَﻮَﺩُّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﻟَﻮ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻣُﺴﻠِﻤﻴﻦَ
[2] কোন সময় কাফেররা আকাঙ্ক্ষা
করবে যে, কি চমৎকার হত, যদি তারা
মুসলমান হত।
[2] How much will those who disbelieve
desire that they were Muslims [those who
have submitted themselves to Allâh’s
Will in Islâm i.e. Islâmic Monotheism,
this will be on the Day of Resurrection
when they will see the disbelievers going
to Hell and the Muslims going to
Paradise].
[3] ﺫَﺭﻫُﻢ ﻳَﺄﻛُﻠﻮﺍ ﻭَﻳَﺘَﻤَﺘَّﻌﻮﺍ
ﻭَﻳُﻠﻬِﻬِﻢُ ﺍﻷَﻣَﻞُ ۖ ﻓَﺴَﻮﻑَ
ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[3] আপনি ছেড়ে দিন তাদেরকে, খেয়ে
নিক এবং ভোগ করে নিক এবং আশায়
ব্যাপৃত থাকুক। অতি সত্বর তারা জেনে
নেবে।
[3] Leave them to eat and enjoy, and let
them be preoccupied with (false) hope.
They will come to know!
[4] ﻭَﻣﺎ ﺃَﻫﻠَﻜﻨﺎ ﻣِﻦ ﻗَﺮﻳَﺔٍ ﺇِﻟّﺎ
ﻭَﻟَﻬﺎ ﻛِﺘﺎﺏٌ ﻣَﻌﻠﻮﻡٌ
[4] আমি কোন জনপদ ধবংস করিনি;
কিন্ত তার নির্দিষ্ট সময় লিখিত ছিল।
[4] And never did We destroy a
township but there was a known decree
for it.
[5] ﻣﺎ ﺗَﺴﺒِﻖُ ﻣِﻦ ﺃُﻣَّﺔٍ ﺃَﺟَﻠَﻬﺎ
ﻭَﻣﺎ ﻳَﺴﺘَـٔﺨِﺮﻭﻥَ
[5] কোন সম্প্রদায় তার নির্দিষ্ট
সময়ের অগ্রে যায় না এবং পশ্চাতে
থাকে না।
[5] No nation can advance its term, nor
delay it.
[6] ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﺄَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻧُﺰِّﻝَ
ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺍﻟﺬِّﻛﺮُ ﺇِﻧَّﻚَ ﻟَﻤَﺠﻨﻮﻥٌ
[6] তারা বললঃ হে ঐ ব্যক্তি, যার
প্রতি কোরআন নাযিল হয়েছে, আপনি
তো একজন উম্মাদ।
[6] And they say: “O you (Muhammad
SAW ) to whom the Dhikr (the Qur’ân)
has been sent down! Verily, you are a
mad man.
[7] ﻟَﻮ ﻣﺎ ﺗَﺄﺗﻴﻨﺎ ﺑِﺎﻟﻤَﻠٰﺌِﻜَﺔِ ﺇِﻥ
ﻛُﻨﺖَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺼّٰﺪِﻗﻴﻦَ
[7] যদি আপনি সত্যবাদী হন, তবে
আমাদের কাছে ফেরেশতাদেরকে
আনেন না কেন?
[7] “Why do you not bring angels to us if
you are of the truthful?”
[8] ﻣﺎ ﻧُﻨَﺰِّﻝُ ﺍﻟﻤَﻠٰﺌِﻜَﺔَ ﺇِﻟّﺎ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ
ﻭَﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﺇِﺫًﺍ ﻣُﻨﻈَﺮﻳﻦَ
[8] আমি ফেরেশতাদেরকে একমাত্র
ফায়সালার জন্যেই নাযিল করি। তখন
তাদেরকে অবকাশ দেয়া হবে না।
[8] We send not the angels down except
with the truth (i.e. for torment), and in
that case, they (the disbelievers) would
have no respite!
[9] ﺇِﻧّﺎ ﻧَﺤﻦُ ﻧَﺰَّﻟﻨَﺎ ﺍﻟﺬِّﻛﺮَ ﻭَﺇِﻧّﺎ
ﻟَﻪُ ﻟَﺤٰﻔِﻈﻮﻥَ
[9] আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ
করেছি এবং আমি নিজেই এর
সংরক্ষক।
[9] Verily We: It is We Who have sent
down the Dhikr (i.e. the Qur’ân) and
surely, We will guard it (from
corruption)
[10] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻠِﻚَ
ﻓﻰ ﺷِﻴَﻊِ ﺍﻷَﻭَّﻟﻴﻦَ
[10] আমি আপনার পূর্বে পূর্ববর্তী
সম্প্রদায়ের মধ্যে রসূল প্রেরণ করেছি।
[10] Indeed, We sent (Messengers) before
you (O Muhammad SAW) amongst the
sects (communities) of old.
[11] ﻭَﻣﺎ ﻳَﺄﺗﻴﻬِﻢ ﻣِﻦ ﺭَﺳﻮﻝٍ ﺇِﻟّﺎ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﺑِﻪِ ﻳَﺴﺘَﻬﺰِﺀﻭﻥَ
[11] ওদের কাছে এমন কোন রসূল
আসেননি, যাদের সাথে ওরা
ঠাট্টাবিদ্রূপ করতে থাকেনি।
[11] And never came a Messenger to
them but they did mock at him.
[12] ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻧَﺴﻠُﻜُﻪُ ﻓﻰ ﻗُﻠﻮﺏِ
ﺍﻟﻤُﺠﺮِﻣﻴﻦَ
[12] এমনিভাবে আমি এ ধরনের আচরণ
পাপীদের অন্তরে বদ্ধমূল করে দেই।
[12] Thus do We let it (polytheism and
disbelief) enter the hearts of the
Mujrimûn [criminals, polytheists, and
pagans. (because of their mocking at the
Messengers)]
[13] ﻻ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ ﺑِﻪِ ۖ ﻭَﻗَﺪ ﺧَﻠَﺖ
ﺳُﻨَّﺔُ ﺍﻷَﻭَّﻟﻴﻦَ
[13] ওরা এর প্রতি বিশ্বাস করবে না।
পূর্ববর্তীদের এমন রীতি চলে আসছে।
[13] They would not believe in it (the
Qur’ân), and already the example of
(Allâh’s punishment of) the ancients
(who disbelieved) has gone forth.
[14] ﻭَﻟَﻮ ﻓَﺘَﺤﻨﺎ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺑﺎﺑًﺎ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﻓَﻈَﻠّﻮﺍ ﻓﻴﻪِ
ﻳَﻌﺮُﺟﻮﻥَ
[14] যদি আমি ওদের সামনে আকাশের
কোন দরজাও খুলে দেই আর তাতে ওরা
দিনভর আরোহণ ও করতে থাকে।
[14] And even if We opened to them a
gate from the heaven and they were to
keep on ascending thereto, (all the day
long).
[15] ﻟَﻘﺎﻟﻮﺍ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﺳُﻜِّﺮَﺕ
ﺃَﺑﺼٰﺮُﻧﺎ ﺑَﻞ ﻧَﺤﻦُ ﻗَﻮﻡٌ
ﻣَﺴﺤﻮﺭﻭﻥَ
[15] তবুও ওরা একথাই বলবে যে,
আমাদের দৃষ্টির বিভ্রাট ঘটানো
হয়েছে না বরং আমরা যাদুগ্রস্ত হয়ে
পড়েছি।
[15] They would surely say (in the
evening): “Our eyes have been (as if)
dazzled (We have not seen any angle or
heaven). Nay, we are a people
bewitched.”
[16] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺟَﻌَﻠﻨﺎ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ
ﺑُﺮﻭﺟًﺎ ﻭَﺯَﻳَّﻨّٰﻬﺎ ﻟِﻠﻨّٰﻈِﺮﻳﻦَ
[16] নিশ্চয় আমি আকাশে রাশিচক্র
সৃষ্টি করেছি এবং তাকে দর্শকদের
জন্যে সুশোভিত করে দিয়েছি।
[16] And indeed, We have put the big
stars in the heaven and We beautified it
for the beholders.
[17] ﻭَﺣَﻔِﻈﻨٰﻬﺎ ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﺷَﻴﻄٰﻦٍ
ﺭَﺟﻴﻢٍ
[17] আমি আকাশকে প্রত্যেক
বিতাড়িত শয়তান থেকে নিরাপদ করে
দিয়েছি।
[17] And We have guarded it (near
heaven) from every outcast Shaitân
(devil).
[18] ﺇِﻟّﺎ ﻣَﻦِ ﺍﺳﺘَﺮَﻕَ ﺍﻟﺴَّﻤﻊَ
ﻓَﺄَﺗﺒَﻌَﻪُ ﺷِﻬﺎﺏٌ ﻣُﺒﻴﻦٌ
[18] কিন্তু যে চুরি করে শুনে পালায়,
তার পশ্চাদ্ধাবন করে উজ্জ্বল
উল্কাপিন্ড।
[18] Except him (devil) who steals the
hearing then he is pursued by a clear
flaming fire.
[19] ﻭَﺍﻷَﺭﺽَ ﻣَﺪَﺩﻧٰﻬﺎ ﻭَﺃَﻟﻘَﻴﻨﺎ
ﻓﻴﻬﺎ ﺭَﻭٰﺳِﻰَ ﻭَﺃَﻧﺒَﺘﻨﺎ ﻓﻴﻬﺎ
ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲﺀٍ ﻣَﻮﺯﻭﻥٍ
[19] আমি ভু-পৃষ্ঠকে বিস্তৃত করেছি
এবং তার উপর পর্বতমালা স্থাপন
করেছি এবং তাতে প্রত্যেক বস্তু
সুপরিমিতভাবে উৎপন্ন করেছি।
[19] And the earth We have spread out,
and have placed therein firm mountains,
and caused to grow therein all kinds of
things in due proportion.
[20] ﻭَﺟَﻌَﻠﻨﺎ ﻟَﻜُﻢ ﻓﻴﻬﺎ ﻣَﻌٰﻴِﺶَ
ﻭَﻣَﻦ ﻟَﺴﺘُﻢ ﻟَﻪُ ﺑِﺮٰﺯِﻗﻴﻦَ
[20] আমি তোমাদের জন্যে তাতে
জীবিকার উপকরন সৃষ্টি করছি এবং
তাদের জন্যেও যাদের অন্নদাতা
তোমরা নও।
[20] And We have provided therein
means of living, for you and for those
whom you provide not [moving (living)
creatures, cattle, beasts, and other
animals].
[21] ﻭَﺇِﻥ ﻣِﻦ ﺷَﻲﺀٍ ﺇِﻟّﺎ ﻋِﻨﺪَﻧﺎ
ﺧَﺰﺍﺋِﻨُﻪُ ﻭَﻣﺎ ﻧُﻨَﺰِّﻟُﻪُ ﺇِﻟّﺎ ﺑِﻘَﺪَﺭٍ
ﻣَﻌﻠﻮﻡٍ
[21] আমার কাছে প্রত্যেক বস্তুর
ভান্ডার রয়েছে। আমি নির্দিষ্ট
পরিমানেই তা অবতরণ করি।
[21] And there is not a thing, but with Us
are the stores thereof. And We send it
not down except in a known measure.
[22] ﻭَﺃَﺭﺳَﻠﻨَﺎ ﺍﻟﺮِّﻳٰﺢَ ﻟَﻮٰﻗِﺢَ
ﻓَﺄَﻧﺰَﻟﻨﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﻣﺎﺀً
ﻓَﺄَﺳﻘَﻴﻨٰﻜُﻤﻮﻩُ ﻭَﻣﺎ ﺃَﻧﺘُﻢ ﻟَﻪُ
ﺑِﺨٰﺰِﻧﻴﻦَ
[22] আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু পরিচালনা
করি অতঃপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ
করি, এরপর তোমাদেরকে তা পান
করাই। বস্তুতঃ তোমাদের কাছে এর
ভান্ডার নেই।
[22] And We send the winds fertilizing
(to fill heavily the clouds with water),
then caused the water (rain) to descend
from the sky, and We gave it to you to
drink, and it is not you who are the
owners of its stores [i.e. to give water to
whom you like or to withhold it from
whom you like].
[23] ﻭَﺇِﻧّﺎ ﻟَﻨَﺤﻦُ ﻧُﺤﻲۦ
ﻭَﻧُﻤﻴﺖُ ﻭَﻧَﺤﻦُ ﺍﻟﻮٰﺭِﺛﻮﻥَ
[23] আমিই জীবনদান করি, মৃত্যুদান
করি এবং আমিই চুড়ান্ত মালিকানার
অধিকারী।
[23] And certainly We! We it is Who give
life, and cause death, and We are the
Inheritors.
[24] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﻋَﻠِﻤﻨَﺎ ﺍﻟﻤُﺴﺘَﻘﺪِﻣﻴﻦَ
ﻣِﻨﻜُﻢ ﻭَﻟَﻘَﺪ ﻋَﻠِﻤﻨَﺎ
ﺍﻟﻤُﺴﺘَـٔﺨِﺮﻳﻦَ
[24] আমি জেনে রেখেছি তোমাদের
অগ্রগামীদেরকে এবং আমি জেনে
রেখেছি পশ্চাদগামীদেরকে।
[24] And indeed, We know the first
generations of you who had passed
away, and indeed, We know the present
generations of you (mankind), and also
those who will come afterwards
[25] ﻭَﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻫُﻮَ ﻳَﺤﺸُﺮُﻫُﻢ ۚ
ﺇِﻧَّﻪُ ﺣَﻜﻴﻢٌ ﻋَﻠﻴﻢٌ
[25] আপনার পালনকর্তাই তাদেরকে
একত্রিত করে আনবেন। নিশ্চয় তিনি
প্রজ্ঞাবান, জ্ঞানময়।
[25] And verily, your Lord will gather
them together. Truly, He is All-Wise, All-
Knowing
[26] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺧَﻠَﻘﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴٰﻦَ ﻣِﻦ
ﺻَﻠﺼٰﻞٍ ﻣِﻦ ﺣَﻤَﺈٍ ﻣَﺴﻨﻮﻥٍ
[26] আমি মানবকে পচা কর্দম থেকে
তৈরী বিশুস্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা
সৃষ্টি করেছি।
[26] And indeed, We created man from
dried (sounding) clay of altered mud.
[27] ﻭَﺍﻟﺠﺎﻥَّ ﺧَﻠَﻘﻨٰﻪُ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ
ﻣِﻦ ﻧﺎﺭِ ﺍﻟﺴَّﻤﻮﻡِ
[27] এবং জিনকে এর আগে লু এর
আগুনের দ্বারা সৃজিত করেছি।
[27] And the jinn, We created aforetime
from the smokeless flame of fire.
[28] ﻭَﺇِﺫ ﻗﺎﻝَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻟِﻠﻤَﻠٰﺌِﻜَﺔِ
ﺇِﻧّﻰ ﺧٰﻠِﻖٌ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻣِﻦ ﺻَﻠﺼٰﻞٍ
ﻣِﻦ ﺣَﻤَﺈٍ ﻣَﺴﻨﻮﻥٍ
[28] আর আপনার পালনকর্তা যখন
ফেরেশতাদেরকে বললেনঃ আমি পচা
কর্দম থেকে তৈরী বিশুষ্ক ঠনঠনে মাটি
দ্বারা সৃষ্ট একটি মানব জাতির পত্তন
করব।
[28] And (remember) when your Lord
said to the angels: “I am going to create
a man (Adam) from dried (sounding)
clay of altered mud.
[29] ﻓَﺈِﺫﺍ ﺳَﻮَّﻳﺘُﻪُ ﻭَﻧَﻔَﺨﺖُ
ﻓﻴﻪِ ﻣِﻦ ﺭﻭﺣﻰ ﻓَﻘَﻌﻮﺍ ﻟَﻪُ
ﺳٰﺠِﺪﻳﻦَ
[29] অতঃপর যখন তাকে ঠিকঠাক করে
নেব এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফঁুক
দেব, তখন তোমরা তার সামনে
সেজদায় পড়ে যেয়ো।
[29] “So, when I have fashioned him
completely and breathed into him
(Adam) the soul which I created for him,
then fall (you) down prostrating
yourselves unto him.”
[30] ﻓَﺴَﺠَﺪَ ﺍﻟﻤَﻠٰﺌِﻜَﺔُ ﻛُﻠُّﻬُﻢ
ﺃَﺟﻤَﻌﻮﻥَ
[30] তখন ফেরেশতারা সবাই মিলে
সেজদা করল।
[30] So, the angels prostrated themselves,
all of them together.
[31] ﺇِﻟّﺎ ﺇِﺑﻠﻴﺲَ ﺃَﺑﻰٰ ﺃَﻥ ﻳَﻜﻮﻥَ
ﻣَﻊَ ﺍﻟﺴّٰﺠِﺪﻳﻦَ
[31] কিন্তু ইবলীস-সে সেজদাকারীদের
অন্তর্ভূক্ত হতে স্বীকৃত হল না।
[31] Except Iblîs (Satan), – he refused to
be among the prostrators.
[32] ﻗﺎﻝَ ﻳٰﺈِﺑﻠﻴﺲُ ﻣﺎ ﻟَﻚَ ﺃَﻟّﺎ
ﺗَﻜﻮﻥَ ﻣَﻊَ ﺍﻟﺴّٰﺠِﺪﻳﻦَ
[32] আল্লাহ বললেনঃ হে ইবলিস,
তোমার কি হলো যে তুমি
সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত হতে
স্বীকৃত হলে না?
[32] (Allâh) said: “O Iblîs (Satan)! What is
your reason for not being among the
prostrators?”
[33] ﻗﺎﻝَ ﻟَﻢ ﺃَﻛُﻦ ﻟِﺄَﺳﺠُﺪَ ﻟِﺒَﺸَﺮٍ
ﺧَﻠَﻘﺘَﻪُ ﻣِﻦ ﺻَﻠﺼٰﻞٍ ﻣِﻦ ﺣَﻤَﺈٍ
ﻣَﺴﻨﻮﻥٍ
[33] বললঃ আমি এমন নই যে, একজন
মানবকে সেজদা করব, যাকে আপনি
পচা কর্দম থেকে তৈরী ঠনঠনে বিশুষ্ক
মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।
[33] [Iblîs (Satan)] said: “I am not the
one to prostrate myself to a human
being, whom You created from dried
(sounding) clay of altered mud.”
[34] ﻗﺎﻝَ ﻓَﺎﺧﺮُﺝ ﻣِﻨﻬﺎ ﻓَﺈِﻧَّﻚَ
ﺭَﺟﻴﻢٌ
[34] আল্লাহ বললেনঃ তবে তুমি এখান
থেকে বের হয়ে যাও। তুমি বিতাড়িত।
[34] (Allâh) said: “Then, get out from
here, for verily, you are Rajîm (an
outcast or a cursed one).” [Tafsîr At-
Tabarî]
[35] ﻭَﺇِﻥَّ ﻋَﻠَﻴﻚَ ﺍﻟﻠَّﻌﻨَﺔَ ﺇِﻟﻰٰ
ﻳَﻮﻡِ ﺍﻟﺪّﻳﻦِ
[35] এবং তোমার প্রতি ন্যায়
বিচারের দিন পর্যন্ত অভিসম্পাত।
[35] “And verily, the curse shall be upon
you till the Day of Recompense (i.e. the
Day of Resurrection).”
[36] ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﻓَﺄَﻧﻈِﺮﻧﻰ ﺇِﻟﻰٰ
ﻳَﻮﻡِ ﻳُﺒﻌَﺜﻮﻥَ
[36] সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা,
আপনি আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত
অবকাশ দিন।
[36] [Iblîs (Satan)] said: “O my Lord!
Give me then respite till the Day they
(the dead) will be resurrected.”
[37] ﻗﺎﻝَ ﻓَﺈِﻧَّﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﻨﻈَﺮﻳﻦَ
[37] আল্লাহ বললেনঃ তোমাকে
অবকাশ দেয়া হল।
[37] Allâh said: “Then, verily, you are of
those reprieved,
[38] ﺇِﻟﻰٰ ﻳَﻮﻡِ ﺍﻟﻮَﻗﺖِ ﺍﻟﻤَﻌﻠﻮﻡِ
[38] সেই অবধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার
দিন পর্যন্ত।
[38] “Till the Day of the time appointed.”
[39] ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﺑِﻤﺎ ﺃَﻏﻮَﻳﺘَﻨﻰ
ﻟَﺄُﺯَﻳِّﻨَﻦَّ ﻟَﻬُﻢ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﻭَﻟَﺄُﻏﻮِﻳَﻨَّﻬُﻢ ﺃَﺟﻤَﻌﻴﻦَ
[39] সে বললঃ হে আমার পলনকর্তা,
আপনি যেমন আমাকে পথ ভ্রষ্ট
করেছেন, আমিও তাদের সবাইকে
পৃথিবীতে নানা সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করব
এবং তাদের সবাইকে পথ ভ্রষ্ঠ করে
দেব।
[39] [Iblîs (Satan)] said: “O my Lord!
Because you misled me, I shall indeed
adorn the path of error for them
(mankind) on the earth, and I shall
mislead them all.
[40] ﺇِﻟّﺎ ﻋِﺒﺎﺩَﻙَ ﻣِﻨﻬُﻢُ
ﺍﻟﻤُﺨﻠَﺼﻴﻦَ
[40] আপনার মনোনীত বান্দাদের
ব্যতীত।
[40] “Except Your chosen, (guided) slaves
among them.”
[41] ﻗﺎﻝَ ﻫٰﺬﺍ ﺻِﺮٰﻁٌ ﻋَﻠَﻰَّ
ﻣُﺴﺘَﻘﻴﻢٌ
[41] আল্লাহ বললেনঃ এটা আমা পর্যন্ত
সোজা পথ।
[41] (Allâh) said: “This is the Way which
will lead straight to Me.”
[42] ﺇِﻥَّ ﻋِﺒﺎﺩﻯ ﻟَﻴﺲَ ﻟَﻚَ
ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺳُﻠﻄٰﻦٌ ﺇِﻟّﺎ ﻣَﻦِ ﺍﺗَّﺒَﻌَﻚَ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﻐﺎﻭﻳﻦَ
[42] যারা আমার বান্দা, তাদের উপর
তোমার কোন ক্ষমতা নেই; কিন্তু
পথভ্রান্তদের মধ্য থেকে যারা
তোমার পথে চলে।
[42] “Certainly, you shall have no
authority over My slaves, except those
who follow you of the Ghâwun
(Mushrikûn and those who go astray,
criminals, polytheists, and evil-doers)
[43] ﻭَﺇِﻥَّ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﻟَﻤَﻮﻋِﺪُﻫُﻢ
ﺃَﺟﻤَﻌﻴﻦَ
[43] তাদের সবার নির্ধারিত স্থান
হচ্ছে জাহান্নাম।
[43] “And surely, Hell is the promised
place for them all.
[44] ﻟَﻬﺎ ﺳَﺒﻌَﺔُ ﺃَﺑﻮٰﺏٍ ﻟِﻜُﻞِّ ﺑﺎﺏٍ
ﻣِﻨﻬُﻢ ﺟُﺰﺀٌ ﻣَﻘﺴﻮﻡٌ
[44] এর সাতটি দরজা আছে। প্রত্যেক
দরজার জন্যে এক একটি পৃথক দল আছে।
[44] “It (Hell) has seven gates, for each of
those gates is a (special) class (of sinners)
assigned.
[45] ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻤُﺘَّﻘﻴﻦَ ﻓﻰ ﺟَﻨّٰﺖٍ
ﻭَﻋُﻴﻮﻥٍ
[45] নিশ্চয় খোদাভীরুরা বাগান ও
নির্ঝরিনীসহূহে থাকবে।
[45] “Truly! The Muttaqûn (pious and
righteous persons – see V.2:2) will be
amidst Gardens and water-springs
(Paradise).
[46] ﺍﺩﺧُﻠﻮﻫﺎ ﺑِﺴَﻠٰﻢٍ ﺀﺍﻣِﻨﻴﻦَ
[46] বলা হবেঃ এগুলোতে নিরাপত্তা
ও শান্তি সহকরে প্রবেশ কর।
[46] “(It will be said to them): ‘Enter
therein (Paradise), in peace and
security.’
[47] ﻭَﻧَﺰَﻋﻨﺎ ﻣﺎ ﻓﻰ ﺻُﺪﻭﺭِﻫِﻢ
ﻣِﻦ ﻏِﻞٍّ ﺇِﺧﻮٰﻧًﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﺳُﺮُﺭٍ
ﻣُﺘَﻘٰﺒِﻠﻴﻦَ
[47] তাদের অন্তরে যে ক্রোধ ছিল,
আমি তা দূর করে দেব। তারা ভাই
ভাইয়ের মত সামনা-সামনি আসনে
বসবে।
[47] “And We shall remove from their
breasts any deep feeling of bitterness
(that they may have), (So they will be
like) brothers facing each other on
thrones.
[48] ﻻ ﻳَﻤَﺴُّﻬُﻢ ﻓﻴﻬﺎ ﻧَﺼَﺐٌ
ﻭَﻣﺎ ﻫُﻢ ﻣِﻨﻬﺎ ﺑِﻤُﺨﺮَﺟﻴﻦَ
[48] সেখানে তাদের মোটেই কষ্ট হবে
না এবং তারা সেখান থেকে বহিস্কৃত
হবে না।
[48] “No sense of fatigue shall touch
them, nor shall they (ever) be asked to
leave it.”
[49] ۞ ﻧَﺒِّﺊ ﻋِﺒﺎﺩﻯ ﺃَﻧّﻰ ﺃَﻧَﺎ
ﺍﻟﻐَﻔﻮﺭُ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢُ
[49] আপনি আমার বান্দাদেরকে
জানিয়ে দিন যে, আমি অত্যন্ত
ক্ষমাশীল দয়ালু।
[49] Declare (O Muhammad SAW) unto
My slaves, that truly, I am the Oft-
Forgiving, the Most-Merciful.
[50] ﻭَﺃَﻥَّ ﻋَﺬﺍﺑﻰ ﻫُﻮَ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏُ
ﺍﻷَﻟﻴﻢُ
[50] এবং ইহাও যে, আমার শাস্তিই
যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি।
[50] And that My Torment is indeed the
most painful torment.
[51] ﻭَﻧَﺒِّﺌﻬُﻢ ﻋَﻦ ﺿَﻴﻒِ
ﺇِﺑﺮٰﻫﻴﻢَ
[51] আপনি তাদেরকে ইব্রাহীমের
মেহমানদের অবস্থা শুনিয়ে দিন।
[51] And tell them about the guests (the
angels) of Ibrâhim (Abraham).
[52] ﺇِﺫ ﺩَﺧَﻠﻮﺍ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻓَﻘﺎﻟﻮﺍ
ﺳَﻠٰﻤًﺎ ﻗﺎﻝَ ﺇِﻧّﺎ ﻣِﻨﻜُﻢ ﻭَﺟِﻠﻮﻥَ
[52] যখন তারা তাঁর গৃহে আগমন করল
এবং বললঃ সালাম। তিনি বললেনঃ
আমরা তোমাদের ব্যাপারে ভীত।
[52] When they entered unto him, and
said: Salâm (peace)! [Ibrâhim
(Abraham)] said: “Indeed! We are afraid
of you.”
[53] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻻ ﺗَﻮﺟَﻞ ﺇِﻧّﺎ ﻧُﺒَﺸِّﺮُﻙَ
ﺑِﻐُﻠٰﻢٍ ﻋَﻠﻴﻢٍ
[53] তারা বললঃ ভয় করবেন না। আমরা
আপনাকে একজন জ্ঞানবান ছেলে-
সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি।
[53] They (the angels) said: “Do not be
afraid! We give you glad tidings of a boy
(son) possessing much knowledge and
wisdom.”
[54] ﻗﺎﻝَ ﺃَﺑَﺸَّﺮﺗُﻤﻮﻧﻰ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﻥ
ﻣَﺴَّﻨِﻰَ ﺍﻟﻜِﺒَﺮُ ﻓَﺒِﻢَ ﺗُﺒَﺸِّﺮﻭﻥَ
[54] তিনি বললেনঃ তোমরা কি
আমাকে এমতাবস্থায় সুসংবাদ দিচ্ছ,
যখন আমি বার্ধক্যে পৌছে গেছি ?
[54] [Ibrâhim (Abraham)] said: “Do you
give me glad tidings (of a son) when old
age has overtaken me? Of what then is
your news?”
[55] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺑَﺸَّﺮﻧٰﻚَ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ﻓَﻼ
ﺗَﻜُﻦ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻘٰﻨِﻄﻴﻦَ
[55] তারা বললঃ আমরা আপনাকে সত্য
সু-সংবাদ দিচ্ছি! অতএব আপনি নিরাশ
হবেন না।
[55] They (the angels) said: “We give you
glad tidings in truth. So be not of the
despairing.”
[56] ﻗﺎﻝَ ﻭَﻣَﻦ ﻳَﻘﻨَﻂُ ﻣِﻦ
ﺭَﺣﻤَﺔِ ﺭَﺑِّﻪِ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻀّﺎﻟّﻮﻥَ
[56] তিনি বললেনঃ পালনকর্তার রহমত
থেকে পথভ্রষ্টরা ছাড়া কে নিরাশ হয় ?
[56] [Ibrâhim (Abraham)] said: “And
who despairs of the Mercy of his Lord
except those who are astray?”
[57] ﻗﺎﻝَ ﻓَﻤﺎ ﺧَﻄﺒُﻜُﻢ ﺃَﻳُّﻬَﺎ
ﺍﻟﻤُﺮﺳَﻠﻮﻥَ
[57] তিনি বললেনঃ অতঃপর
তোমাদের প্রধান উদ্দেশ্য কি হে
আল্লাহর প্রেরিতগণ ?
[57] [Ibrâhim (Abraham) again] said:
“What then is the business on which you
have come, O Messengers?”
[58] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺇِﻧّﺎ ﺃُﺭﺳِﻠﻨﺎ ﺇِﻟﻰٰ ﻗَﻮﻡٍ
ﻣُﺠﺮِﻣﻴﻦَ
[58] তারা বললঃ আমরা একটি অপরাধী
সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছি।
[58] They (the angels) said: “We have
been sent to a people who are Mujrimûn
(criminals, disbelievers, polytheists,
sinners).
[59] ﺇِﻟّﺎ ﺀﺍﻝَ ﻟﻮﻁٍ ﺇِﻧّﺎ
ﻟَﻤُﻨَﺠّﻮﻫُﻢ ﺃَﺟﻤَﻌﻴﻦَ
[59] কিন্তু লূতের পরিবার-পরিজন।
আমরা অবশ্যই তাদের সবাইকে বাঁচিয়ে
নেব।
[59] “(All) except the family of Lut (Lot).
Them all we are surely going to save
(from destruction).
[60] ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻣﺮَﺃَﺗَﻪُ ﻗَﺪَّﺭﻧﺎ ۙ ﺇِﻧَّﻬﺎ
ﻟَﻤِﻦَ ﺍﻟﻐٰﺒِﺮﻳﻦَ
[60] তবে তার স্ত্রী। আমরা স্থির
করেছি যে, সে থেকে যাওয়াদের
দলভূক্ত হবে।
[60] “Except his wife, of whom We have
decreed that she shall be of those who
remain behind (i.e. she will be
destroyed).”
[61] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَ ﺀﺍﻝَ ﻟﻮﻁٍ
ﺍﻟﻤُﺮﺳَﻠﻮﻥَ
[61] অতঃপর যখন প্রেরিতরা লূতের গৃহে
পৌছল।
[61] Then, when the Messengers (the
angels) came unto the family of Lut (Lot).
[62] ﻗﺎﻝَ ﺇِﻧَّﻜُﻢ ﻗَﻮﻡٌ ﻣُﻨﻜَﺮﻭﻥَ
[62] তিনি বললেনঃ তোমরা তো
অপরিচিত লোক।
[62] He said: “Verily! You are people
unknown to me.”
[63] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺑَﻞ ﺟِﺌﻨٰﻚَ ﺑِﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻓﻴﻪِ ﻳَﻤﺘَﺮﻭﻥَ
[63] তারা বললঃ না বরং আমরা
আপনার কাছে ঐ বস্তু নিয়ে এসেছি,
যে সম্পর্কে তারা বিবাদ করত।
[63] They said: “Nay, we have come to
you with that (torment) which they have
been doubting.
[64] ﻭَﺃَﺗَﻴﻨٰﻚَ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ﻭَﺇِﻧّﺎ
ﻟَﺼٰﺪِﻗﻮﻥَ
[64] এবং আমরা আপনার কাছে সত্য
বিষয় নিয়ে এসেছি এবং আমরা
সত্যবাদী।
[64] “And we have brought to you the
truth (the news of the destruction of your
nation) and certainly, we tell the truth.
[65] ﻓَﺄَﺳﺮِ ﺑِﺄَﻫﻠِﻚَ ﺑِﻘِﻄﻊٍ ﻣِﻦَ
ﺍﻟَّﻴﻞِ ﻭَﺍﺗَّﺒِﻊ ﺃَﺩﺑٰﺮَﻫُﻢ ﻭَﻻ
ﻳَﻠﺘَﻔِﺖ ﻣِﻨﻜُﻢ ﺃَﺣَﺪٌ ﻭَﺍﻣﻀﻮﺍ
ﺣَﻴﺚُ ﺗُﺆﻣَﺮﻭﻥَ
[65] অতএব আপনি শেষরাত্রে
পরিবারের সকলকে নিয়ে চলে যান
এবং আপনি তাদের পশ্চাদনুসরণ করবেন
না এবং আপনাদের মধ্যে কেউ যেন
পিছন ফিরে না দেখে। আপনারা
যেখানে আদেশ প্রাপ্ত হচ্ছেন
সেখানে যান।
[65] “Then travel in a part of the night
with your family, and you go behind
them in the rear, and let no one amongst
you look back, but go on to where you
are ordered.”
[66] ﻭَﻗَﻀَﻴﻨﺎ ﺇِﻟَﻴﻪِ ﺫٰﻟِﻚَ ﺍﻷَﻣﺮَ
ﺃَﻥَّ ﺩﺍﺑِﺮَ ﻫٰﺆُﻻﺀِ ﻣَﻘﻄﻮﻉٌ
ﻣُﺼﺒِﺤﻴﻦَ
[66] আমি লূতকে এ বিষয় পরিজ্ঞাত
করে দেই যে, সকাল হলেই তাদেরকে
সমুলে বিনাশ করে দেয়া হবে।
[66] And We made known this decree to
him, that the root of those (sinners) was
to be cut off in the early morning.
[67] ﻭَﺟﺎﺀَ ﺃَﻫﻞُ ﺍﻟﻤَﺪﻳﻨَﺔِ
ﻳَﺴﺘَﺒﺸِﺮﻭﻥَ
[67] শহরবাসীরা আনন্দ-উল্লাস করতে
করতে পৌছল।
[67] And the inhabitants of the city came
rejoicing (at the news of the young men’s
arrival)
[68] ﻗﺎﻝَ ﺇِﻥَّ ﻫٰﺆُﻻﺀِ ﺿَﻴﻔﻰ
ﻓَﻼ ﺗَﻔﻀَﺤﻮﻥِ
[68] লূত বললেনঃ তারা আমার মেহমান।
অতএব আমাকে লাঞ্ছিত করো না।
[68] [Lut (Lot)] said: “Verily! these are
my guests, so shame me not.
[69] ﻭَﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﻻ ﺗُﺨﺰﻭﻥِ
[69] তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং
আমার ইযযত নষ্ট করো না।
[69] “And fear Allâh and disgrace me
not.”
[70] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃَﻭَﻟَﻢ ﻧَﻨﻬَﻚَ ﻋَﻦِ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[70] তার বললঃ আমরা কি আপনাকে
জগৎদ্বাসীর সমর্থন করতে নিষেধ
করিনি।
[70] They (people of the city) said: “Did
we not forbid you to entertaining (or
protecting) any of the ‘Alamîn (people,
foreigners, strangers from us)?”
[71] ﻗﺎﻝَ ﻫٰﺆُﻻﺀِ ﺑَﻨﺎﺗﻰ ﺇِﻥ
ﻛُﻨﺘُﻢ ﻓٰﻌِﻠﻴﻦَ
[71] তিনি বললেনঃ যদি তোমরা
একান্ত কিছু করতেই চাও, তবে আমার
কন্যারা উপস্থিত আছে।
[71] [Lut (Lot)] said: “These (the girls of
the nation) are my daughters (to marry
lawfully), if you must act (so).”
[72] ﻟَﻌَﻤﺮُﻙَ ﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻟَﻔﻰ ﺳَﻜﺮَﺗِﻬِﻢ
ﻳَﻌﻤَﻬﻮﻥَ
[72] আপনার প্রাণের কসম, তারা আপন
নেশায় প্রমত্ত ছিল।
[72] Verily, by your life (O Muhammad
SAW), in their wild intoxication, they
were wandering blindly.
[73] ﻓَﺄَﺧَﺬَﺗﻬُﻢُ ﺍﻟﺼَّﻴﺤَﺔُ
ﻣُﺸﺮِﻗﻴﻦَ
[73] অতঃপর সুর্যোদয়ের সময়
তাদেরকে প্রচন্ড একটি শব্দ এসে
পাকড়াও করল।
[73] So As-Saîhah (torment – awful cry)
overtook them at the time of sunrise;
[74] ﻓَﺠَﻌَﻠﻨﺎ ﻋٰﻠِﻴَﻬﺎ ﺳﺎﻓِﻠَﻬﺎ
ﻭَﺃَﻣﻄَﺮﻧﺎ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺣِﺠﺎﺭَﺓً ﻣِﻦ
ﺳِﺠّﻴﻞٍ
[74] অতঃপর আমি জনপদটিকে উল্টে
দিলাম এবং তাদের উপর কঙ্করের
প্রস্থর বর্ষণ করলাম।
[74] And We turned (the towns of Sodom
in Palestine) upside down and rained
down on them stones of baked clay.
[75] ﺇِﻥَّ ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻚَ ﻝَﺀﺍﻳٰﺖٍ
ﻟِﻠﻤُﺘَﻮَﺳِّﻤﻴﻦَ
[75] নিশ্চয় এতে চিন্তাশীলদের জন্যে
নিদর্শনাবলী রয়েছে।
[75] Surely! In this are signs, for those
who see (or understand or learn the
lessons from the Signs of Allâh).
[76] ﻭَﺇِﻧَّﻬﺎ ﻟَﺒِﺴَﺒﻴﻞٍ ﻣُﻘﻴﻢٍ
[76] জনপদটি সোজা পথে অবস্থিত
রয়েছে।
[76] And verily! They (the cities) were
right on the highroad (from Makkah to
Syria i.e. the place where the Dead Sea is
now)
[77] ﺇِﻥَّ ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻚَ ﻝَﺀﺍﻳَﺔً
ﻟِﻠﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[77] নিশ্চয় এতে ঈমানদারদের জন্যে
নিদর্শণ আছে।
[77] Surely! Therein is indeed a sign for
the believers.
[78] ﻭَﺇِﻥ ﻛﺎﻥَ ﺃَﺻﺤٰﺐُ ﺍﻷَﻳﻜَﺔِ
ﻟَﻈٰﻠِﻤﻴﻦَ
[78] নিশ্চয় গহীন বনের অধিবাসীরা
পাপী ছিল।
[78] And the Dwellers in the wood [i.e.
the people of Madyan (Midian) to whom
Prophet Shu’aib (A.S.) was sent by Allâh),
were also Zâlimûn (polytheists and
wrong-doers)
[79] ﻓَﺎﻧﺘَﻘَﻤﻨﺎ ﻣِﻨﻬُﻢ ﻭَﺇِﻧَّﻬُﻤﺎ
ﻟَﺒِﺈِﻣﺎﻡٍ ﻣُﺒﻴﻦٍ
[79] অতঃপর আমি তাদের কাছ থেকে
প্রতিশোধ নিয়েছি। উভয় বস্তি
প্রকাশ্য রাস্তার উপর অবস্থিত।
[79] So, We took vengeance on them.
They are both on an open highway, plain
to see.
[80] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﻛَﺬَّﺏَ ﺃَﺻﺤٰﺐُ
ﺍﻟﺤِﺠﺮِ ﺍﻟﻤُﺮﺳَﻠﻴﻦَ
[80] নিশ্চয় হিজরের বাসিন্দারা
পয়গম্বরগণের প্রতি মিথ্যারোপ
করেছে।
[80] And verily, the dwellers of Al-Hijr
(the rocky tract) denied the Messengers.
[81] ﻭَﺀﺍﺗَﻴﻨٰﻬُﻢ ﺀﺍﻳٰﺘِﻨﺎ ﻓَﻜﺎﻧﻮﺍ
ﻋَﻨﻬﺎ ﻣُﻌﺮِﺿﻴﻦَ
[81] আমি তাদেরকে নিজের
নিদর্শনাবলী দিয়েছি। অতঃপর তারা
এগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
[81] And We gave them Our Signs, but
they were averse to them.
[82] ﻭَﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻨﺤِﺘﻮﻥَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺠِﺒﺎﻝِ ﺑُﻴﻮﺗًﺎ ﺀﺍﻣِﻨﻴﻦَ
[82] তারা পাহাড়ে নিশ্চিন্তে ঘর
খোদাই করত।
[82] And they used to hew out dwellings
from the mountains (feeling themselves)
secure.
[83] ﻓَﺄَﺧَﺬَﺗﻬُﻢُ ﺍﻟﺼَّﻴﺤَﺔُ
ﻣُﺼﺒِﺤﻴﻦَ
[83] অতঃপর এক প্রত্যুষে তাদের উপর
একটা শব্দ এসে আঘাত করল।
[83] But As-Saîhah (torment – awful cry)
overtook them in the early morning (of
the fourth day of their promised
punishment days)
[84] ﻓَﻤﺎ ﺃَﻏﻨﻰٰ ﻋَﻨﻬُﻢ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻳَﻜﺴِﺒﻮﻥَ
[84] তখন কোন উপকারে আসল না যা
তারা উপার্জন করেছিল।
[84] And all that they used to earn
availed them not
[85] ﻭَﻣﺎ ﺧَﻠَﻘﻨَﺎ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽَ ﻭَﻣﺎ ﺑَﻴﻨَﻬُﻤﺎ ﺇِﻟّﺎ
ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ۗ ﻭَﺇِﻥَّ ﺍﻟﺴّﺎﻋَﺔَ ﻝَﺀﺍﺗِﻴَﺔٌ ۖ
ﻓَﺎﺻﻔَﺢِ ﺍﻟﺼَّﻔﺢَ ﺍﻟﺠَﻤﻴﻞَ
[85] আমি নভোমন্ডল, ভুমন্ডল এবং
এতদুভয়ের মধ্যবর্তী যা আছে তা
তাৎপর্যহীন সৃষ্টি করিনি। কেয়ামত
অবশ্যই আসবে। অতএব পরম ঔদাসীন্যের
সাথে ওদের ক্রিয়াকর্ম উপক্ষো করুন।
[85] And We created not the heavens
and the earth and all that is between
them except with truth, and the Hour is
surely coming, so overlook (O
Muhammad SAW), their faults with
gracious forgiveness. [This was before
the ordainment of Jihâd holy fighting in
Allâh’s Cause]
[86] ﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻫُﻮَ ﺍﻟﺨَﻠّٰﻖُ ﺍﻟﻌَﻠﻴﻢُ
[86] নিশ্চয় আপনার পালনকর্তাই
স্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।
[86] Verily, your Lord is the All-Knowing
Creator.
[87] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺀﺍﺗَﻴﻨٰﻚَ ﺳَﺒﻌًﺎ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻤَﺜﺎﻧﻰ ﻭَﺍﻟﻘُﺮﺀﺍﻥَ ﺍﻟﻌَﻈﻴﻢَ
[87] আমি আপনাকে সাতটি বার বার
পঠিতব্য আয়াত এবং মহান কোরআন
দিয়েছি।
[87] And indeed, We have bestowed
upon you seven of Al-Mathâni (the seven
repeatedly recited Verses), (i.e. Sûrat Al-
Fâtihah) and the Grand Qur’ân.
[88] ﻻ ﺗَﻤُﺪَّﻥَّ ﻋَﻴﻨَﻴﻚَ ﺇِﻟﻰٰ ﻣﺎ
ﻣَﺘَّﻌﻨﺎ ﺑِﻪِ ﺃَﺯﻭٰﺟًﺎ ﻣِﻨﻬُﻢ ﻭَﻻ
ﺗَﺤﺰَﻥ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻭَﺍﺧﻔِﺾ
ﺟَﻨﺎﺣَﻚَ ﻟِﻠﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[88] আপনি চক্ষু তুলে ঐ বস্তুর প্রতি
দেখবেন না, যা আমি তাদের মধ্যে
কয়েক প্রকার লোককে ভোগ করার
জন্যে দিয়েছি, তাদের জন্যে চিন্তিত
হবেন না আর ঈমানদারদের জন্যে স্বীয়
বাহু নত করুন।
[88] Look not with your eyes ambitiously
at what We have bestowed on certain
classes of them (the disbelievers), nor
grieve over them. And lower your wings
for the believers (be courteous to the
fellow-believers).
[89] ﻭَﻗُﻞ ﺇِﻧّﻰ ﺃَﻧَﺎ ﺍﻟﻨَّﺬﻳﺮُ
ﺍﻟﻤُﺒﻴﻦُ
[89] আর বলুনঃ আমি প্রকাশ্য ভয়
প্রদর্শক।
[89] And say (O Muhammad SAW): “I am
indeed a plain warner.”
[90] ﻛَﻤﺎ ﺃَﻧﺰَﻟﻨﺎ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟﻤُﻘﺘَﺴِﻤﻴﻦَ
[90] যেমন আমি নাযিল করেছি যারা
বিভিন্ন মতে বিভক্ত তাদের উপর।
[90] As We have sent down on the
dividers, (Quraish pagans or Jews and
Christians).
[91] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺟَﻌَﻠُﻮﺍ ﺍﻟﻘُﺮﺀﺍﻥَ
ﻋِﻀﻴﻦَ
[91] যারা কোরআনকে খন্ড খন্ড
করেছে।
[91] Who have made the Qur’ân into
parts. (i.e. believed in one part and
disbelieved in the other). (Tafir At-
Tabari)
[92] ﻓَﻮَﺭَﺑِّﻚَ ﻟَﻨَﺴـَٔﻠَﻨَّﻬُﻢ ﺃَﺟﻤَﻌﻴﻦَ
[92] অতএব আপনার পালনকর্তার কসম,
আমি অবশ্যই ওদের সবাইকে
জিজ্ঞাসাবাদ করব।
[92] So, by your Lord (O Muhammad
SAW), We shall certainly call all of them
to account.
[93] ﻋَﻤّﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[93] ওদের কাজকর্ম সম্পর্কে।
[93] For all that they used to do.
[94] ﻓَﺎﺻﺪَﻉ ﺑِﻤﺎ ﺗُﺆﻣَﺮُ
ﻭَﺃَﻋﺮِﺽ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻤُﺸﺮِﻛﻴﻦَ
[94] অতএব আপনি প্রকাশ্যে শুনিয়ে
দিন যা আপনাকে আদেশ করা হয় এবং
মুশরিকদের পরওয়া করবেন না।
[94] Therefore proclaim openly (Allâh’s
Message – Islâmic Monotheism) that
which you are commanded, and turn
away from Al-Mushrikûn (polytheists,
idolaters, and disbelievers, etc. – see
V.2:105).
[95] ﺇِﻧّﺎ ﻛَﻔَﻴﻨٰﻚَ ﺍﻟﻤُﺴﺘَﻬﺰِﺀﻳﻦَ
[95] বিদ্রুপকারীদের জন্যে আমি
আপনার পক্ষ থেকে যথেষ্ট।
[95] Truly! We will suffice you against
the scoffers.
[96] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳَﺠﻌَﻠﻮﻥَ ﻣَﻊَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺇِﻟٰﻬًﺎ ﺀﺍﺧَﺮَ ۚ ﻓَﺴَﻮﻑَ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[96] যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্য
সাব্যস্ত করে। অতএব অতিসত্তর তারা
জেনে নেবে।
[96] Who set up along with Allâh another
ilâh (god), but they will come to know.
[97] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﻧَﻌﻠَﻢُ ﺃَﻧَّﻚَ ﻳَﻀﻴﻖُ
ﺻَﺪﺭُﻙَ ﺑِﻤﺎ ﻳَﻘﻮﻟﻮﻥَ
[97] আমি জানি যে আপনি তাদের
কথাবর্তায় হতোদ্যম হয়ে পড়েন।
[97] Indeed, We know that your breast is
straitened at what they say.
[98] ﻓَﺴَﺒِّﺢ ﺑِﺤَﻤﺪِ ﺭَﺑِّﻚَ ﻭَﻛُﻦ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴّٰﺠِﺪﻳﻦَ
[98] অতএব আপনি পালনকর্তার
সৌন্দর্য স্মরণ করুন এবং
সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যান।
[98] So glorify the praises of your Lord
and be of those who prostrate themselves
(to Him).
[99] ﻭَﺍﻋﺒُﺪ ﺭَﺑَّﻚَ ﺣَﺘّﻰٰ ﻳَﺄﺗِﻴَﻚَ
ﺍﻟﻴَﻘﻴﻦُ
[99] এবং পালনকর্তার এবাদত করুন, যে
পর্যন্ত আপনার কাছে নিশ্চিত কথা না
আসে।
[99] And worship your Lord until there
comes unto you the certainty (i.e. death).
Bangla translation of Quran. Developed
by Syed Mohammad Rasel
Surah Al Hijr Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. আলিফ-লা-ম-রা; এগুলো পরিপূর্ণ গ্রন্থ ও সুস্পষ্ট কোরআনের আয়াত। 2. কোন সময় কাফেররা আকাঙ্ক্ষা করবে যে, কি চমৎকার হত, যদি তারা মুসলমান হত। 3. আপনি ছেড়ে দিন তাদেরকে, খেয়ে নিক এবং ভোগ করে নিক এবং আশায় ব্যাপৃত থাকুক। অতি সত্বর তারা জেনে নেবে। 4. আমি কোন জনপদ ধবংস করিনি; কিন্ত তার নির্দিষ্ট সময় লিখিত ছিল। 5. কোন সম্প্রদায় তার নির্দিষ্ট সময়ের অগ্রে যায় না এবং পশ্চাতে থাকে না। 6. তারা বললঃ হে ঐ ব্যক্তি, যার প্রতি কোরআন নাযিল হয়েছে, আপনি তো একজন উম্মাদ। 7. যদি আপনি সত্যবাদী হন, তবে আমাদের কাছে ফেরেশতাদেরকে আনেন না কেন? 8. আমি ফেরেশতাদেরকে একমাত্র ফায়সালার জন্যেই নাযিল করি। তখন তাদেরকে অবকাশ দেয়া হবে না। 9. আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক। 10. আমি আপনার পূর্বে পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের মধ্যে রসূল প্রেরণ করেছি। 11. ওদের কাছে এমন কোন রসূল আসেননি, যাদের সাথে ওরা ঠাট্টাবিদ্রূপ করতে থাকেনি। 12. এমনিভাবে আমি এ ধরনের আচরণ পাপীদের অন্তরে বদ্ধমূল করে দেই। 13. ওরা এর প্রতি বিশ্বাস করবে না। পূর্ববর্তীদের এমন রীতি চলে আসছে। 14. যদি আমি ওদের সামনে আকাশের কোন দরজাও খুলে দেই আর তাতে ওরা দিনভর আরোহণ ও করতে থাকে। 15. তবুও ওরা একথাই বলবে যে, আমাদের দৃষ্টির বিভ্রাট ঘটানো হয়েছে না বরং আমরা যাদুগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। 16. নিশ্চয় আমি আকাশে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছি এবং তাকে দর্শকদের জন্যে সুশোভিত করে দিয়েছি। 17. আমি আকাশকে প্রত্যেক বিতাড়িত শয়তান থেকে নিরাপদ করে দিয়েছি। 18. কিন্তু যে চুরি করে শুনে পালায়, তার পশ্চাদ্ধাবন করে উজ্জ্বল উল্কাপিন্ড। 19. আমি ভু-পৃষ্ঠকে বিস্তৃত করেছি এবং তার উপর পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে প্রত্যেক বস্তু সুপরিমিতভাবে উৎপন্ন করেছি। 20. আমি তোমাদের জন্যে তাতে জীবিকার উপকরন সৃষ্টি করছি এবং তাদের জন্যেও যাদের অন্নদাতা তোমরা নও। 21. আমার কাছে প্রত্যেক বস্তুর ভান্ডার রয়েছে। আমি নির্দিষ্ট পরিমানেই তা অবতরণ করি। 22. আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু পরিচালনা করি অতঃপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি, এরপর তোমাদেরকে তা পান করাই। বস্তুতঃ তোমাদের কাছে এর ভান্ডার নেই। 23. আমিই জীবনদান করি, মৃত্যুদান করি এবং আমিই চুড়ান্ত মালিকানার অধিকারী। 24. আমি জেনে রেখেছি তোমাদের অগ্রগামীদেরকে এবং আমি জেনে রেখেছি পশ্চাদগামীদেরকে। 25. আপনার পালনকর্তাই তাদেরকে একত্রিত করে আনবেন। নিশ্চয় তিনি প্রজ্ঞাবান, জ্ঞানময়। 26. আমি মানবকে পচা কর্দম থেকে তৈরী বিশুস্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছি। 27. এবং জিনকে এর আগে লু এর আগুনের দ্বারা সৃজিত করেছি। 28. আর আপনার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদেরকে বললেনঃ আমি পচা কর্দম থেকে তৈরী বিশুষ্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্ট একটি মানব জাতির পত্তন করব। 29. অতঃপর যখন তাকে ঠিকঠাক করে নেব এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফঁুক দেব, তখন তোমরা তার সামনে সেজদায় পড়ে যেয়ো। 30. তখন ফেরেশতারা সবাই মিলে সেজদা করল। 31. কিন্তু ইবলীস-সে সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত হতে স্বীকৃত হল না। 32. আল্লাহ বললেনঃ হে ইবলিস, তোমার কি হলো যে তুমি সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত হতে স্বীকৃত হলে না? 33. বললঃ আমি এমন নই যে, একজন মানবকে সেজদা করব, যাকে আপনি পচা কর্দম থেকে তৈরী ঠনঠনে বিশুষ্ক মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। 34. আল্লাহ বললেনঃ তবে তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও। তুমি বিতাড়িত। 35. এবং তোমার প্রতি ন্যায় বিচারের দিন পর্যন্ত অভিসম্পাত। 36. সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন। 37. আল্লাহ বললেনঃ তোমাকে অবকাশ দেয়া হল। 38. সেই অবধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত। 39. সে বললঃ হে আমার পলনকর্তা, আপনি যেমন আমাকে পথ ভ্রষ্ট করেছেন, আমিও তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানা সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করব এবং তাদের সবাইকে পথ ভ্রষ্ঠ করে দেব। 40. আপনার মনোনীত বান্দাদের ব্যতীত। 41. আল্লাহ বললেনঃ এটা আমা পর্যন্ত সোজা পথ। 42. যারা আমার বান্দা, তাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই; কিন্তু পথভ্রান্তদের মধ্য থেকে যারা তোমার পথে চলে। 43. তাদের সবার নির্ধারিত স্থান হচ্ছে জাহান্নাম। 44. এর সাতটি দরজা আছে। প্রত্যেক দরজার জন্যে এক একটি পৃথক দল আছে। 45. নিশ্চয় খোদাভীরুরা বাগান ও নির্ঝরিনীসহূহে থাকবে। 46. বলা হবেঃ এগুলোতে নিরাপত্তা ও শান্তি সহকরে প্রবেশ কর। 47. তাদের অন্তরে যে ক্রোধ ছিল, আমি তা দূর করে দেব। তারা ভাই ভাইয়ের মত সামনা-সামনি আসনে বসবে। 48. সেখানে তাদের মোটেই কষ্ট হবে না এবং তারা সেখান থেকে বহিস্কৃত হবে না। 49. আপনি আমার বান্দাদেরকে জানিয়ে দিন যে, আমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল দয়ালু। 50. এবং ইহাও যে, আমার শাস্তিই যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি। 51. আপনি তাদেরকে ইব্রাহীমের মেহমানদের অবস্থা শুনিয়ে দিন। 52. যখন তারা তাঁর গৃহে আগমন করল এবং বললঃ সালাম। তিনি বললেনঃ আমরা তোমাদের ব্যাপারে ভীত। 53. তারা বললঃ ভয় করবেন না। আমরা আপনাকে একজন জ্ঞানবান ছেলে-সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি। 54. তিনি বললেনঃ তোমরা কি আমাকে এমতাবস্থায় সুসংবাদ দিচ্ছ, যখন আমি বার্ধক্যে পৌছে গেছি? 55. তারা বললঃ আমরা আপনাকে সত্য সু-সংবাদ দিচ্ছি! অতএব আপনি নিরাশ হবেন না। 56. তিনি বললেনঃ পালনকর্তার রহমত থেকে পথভ্রষ্টরা ছাড়া কে নিরাশ হয়? 57. তিনি বললেনঃ অতঃপর তোমাদের প্রধান উদ্দেশ্য কি হে আল্লাহর প্রেরিতগণ? 58. তারা বললঃ আমরা একটি অপরাধী সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছি। 59. কিন্তু লূতের পরিবার-পরিজন। আমরা অবশ্যই তাদের সবাইকে বাঁচিয়ে নেব। 60. তবে তার স্ত্রী। আমরা স্থির করেছি যে, সে থেকে যাওয়াদের দলভূক্ত হবে। 61. অতঃপর যখন প্রেরিতরা লূতের গৃহে পৌছল। 62. তিনি বললেনঃ তোমরা তো অপরিচিত লোক। 63. তারা বললঃ না বরং আমরা আপনার কাছে ঐ বস্তু নিয়ে এসেছি, যে সম্পর্কে তারা বিবাদ করত। 64. এবং আমরা আপনার কাছে সত্য বিষয় নিয়ে এসেছি এবং আমরা সত্যবাদী। 65. অতএব আপনি শেষরাত্রে পরিবারের সকলকে নিয়ে চলে যান এবং আপনি তাদের পশ্চাদনুসরণ করবেন না এবং আপনাদের মধ্যে কেউ যেন পিছন ফিরে না দেখে। আপনারা যেখানে আদেশ প্রাপ্ত হচ্ছেন সেখানে যান। 66. আমি লূতকে এ বিষয় পরিজ্ঞাত করে দেই যে, সকাল হলেই তাদেরকে সমুলে বিনাশ করে দেয়া হবে। 67. শহরবাসীরা আনন্দ-উল্লাস করতে করতে পৌছল। 68. লূত বললেনঃ তারা আমার মেহমান। অতএব আমাকে লাঞ্ছিত করো না। 69. তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার ইযযত নষ্ট করো না। 70. তার বললঃ আমরা কি আপনাকে জগৎদ্বাসীর সমর্থন করতে নিষেধ করিনি। (70) 71. তিনি বললেনঃ যদি তোমরা একান্ত কিছু করতেই চাও, তবে আমার কন্যারা উপস্থিত আছে। 72. আপনার প্রাণের কসম, তারা আপন নেশায় প্রমত্ত ছিল। 73. অতঃপর সুর্যোদয়ের সময় তাদেরকে প্রচন্ড একটি শব্দ এসে পাকড়াও করল। 74. অতঃপর আমি জনপদটিকে উল্টে দিলাম এবং তাদের উপর কঙ্করের প্রস্থর বর্ষণ করলাম। 75. নিশ্চয় এতে চিন্তাশীলদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। 76. জনপদটি সোজা পথে অবস্থিত রয়েছে। 77. নিশ্চয় এতে ঈমানদারদের জন্যে নিদর্শণ আছে। 78. নিশ্চয় গহীন বনের অধিবাসীরা পাপী ছিল। 79. অতঃপর আমি তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি। উভয় বস্তি প্রকাশ্য রাস্তার উপর অবস্থিত। 80. নিশ্চয় হিজরের বাসিন্দারা পয়গম্বরগণের প্রতি মিথ্যারোপ করেছে। 81. আমি তাদেরকে নিজের নিদর্শনাবলী দিয়েছি। অতঃপর তারা এগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। 82. তারা পাহাড়ে নিশ্চিন্তে ঘর খোদাই করত। 83. অতঃপর এক প্রত্যুষে তাদের উপর একটা শব্দ এসে আঘাত করল। 84. তখন কোন উপকারে আসল না যা তারা উপার্জন করেছিল। 85. আমি নভোমন্ডল, ভুমন্ডল এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী যা আছে তা তাৎপর্যহীন সৃষ্টি করিনি। কেয়ামত অবশ্যই আসবে। অতএব পরম ঔদাসীন্যের সাথে ওদের ক্রিয়াকর্ম উপক্ষো করুন। 86. নিশ্চয় আপনার পালনকর্তাই স্রষ্টা, সর্বজ্ঞ। 87. আমি আপনাকে সাতটি বার বার পঠিতব্য আয়াত এবং মহান কোরআন দিয়েছি। 88. আপনি চক্ষু তুলে ঐ বস্তুর প্রতি দেখবেন না, যা আমি তাদের মধ্যে কয়েক প্রকার লোককে ভোগ করার জন্যে দিয়েছি, তাদের জন্যে চিন্তিত হবেন না আর ঈমানদারদের জন্যে স্বীয় বাহু নত করুন। 89. আর বলুনঃ আমি প্রকাশ্য ভয় প্রদর্শক। 90. যেমন আমি নাযিল করেছি যারা বিভিন্ন মতে বিভক্ত তাদের উপর। 91. যারা কোরআনকে খন্ড খন্ড করেছে। 92. অতএব আপনার পালনকর্তার কসম, আমি অবশ্যই ওদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। 93. ওদের কাজকর্ম সম্পর্কে। 94. অতএব আপনি প্রকাশ্যে শুনিয়ে দিন যা আপনাকে আদেশ করা হয় এবং মুশরিকদের পরওয়া করবেন না। 95. বিদ্রুপকারীদের জন্যে আমি আপনার পক্ষ থেকে যথেষ্ট। 96. যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্য সাব্যস্ত করে। অতএব অতিসত্তর তারা জেনে নেবে। 97. আমি জানি যে আপনি তাদের কথাবর্তায় হতোদ্যম হয়ে পড়েন। 98. অতএব আপনি পালনকর্তার সৌন্দর্য স্মরণ করুন এবং সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যান। 99. এবং পালনকর্তার এবাদত করুন, যে পর্যন্ত আপনার কাছে নিশ্চিত কথা না আসে। *********

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s