18. সুরাহ আল কাহাফ(01-110)


ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি
দয়ালু
[1] ﺍﻟﺤَﻤﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺃَﻧﺰَﻝَ ﻋَﻠﻰٰ
ﻋَﺒﺪِﻩِ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ﻭَﻟَﻢ ﻳَﺠﻌَﻞ ﻟَﻪُ
ﻋِﻮَﺟﺎ ۜ
[1] সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি নিজের বান্দার
প্রতি এ গ্রন্থ নাযিল করেছেন এবং তাতে
কোন বক্রতা রাখেননি।
[1] All the praises and thanks are to
Allâh, Who has sent down to His slave
(Muhammad SAW) the Book (the
Qur’ân), and has not placed therein any
crookedness.
[2] ﻗَﻴِّﻤًﺎ ﻟِﻴُﻨﺬِﺭَ ﺑَﺄﺳًﺎ ﺷَﺪﻳﺪًﺍ
ﻣِﻦ ﻟَﺪُﻧﻪُ ﻭَﻳُﺒَﺸِّﺮَ ﺍﻟﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤٰﺖِ ﺃَﻥَّ
ﻟَﻬُﻢ ﺃَﺟﺮًﺍ ﺣَﺴَﻨًﺎ
[2] একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যা আল্লাহর
পক্ষ থেকে একটি ভীষণ বিপদের ভয়
প্রদর্শন করে এবং মুমিনদেরকে যারা
সৎকর্ম সম্পাদন করে-তাদেরকে সুসংবাদ দান
করে যে, তাদের জন্যে উত্তম প্রতিদান
রয়েছে।
[2] (He has made it) Straight to give
warning (to the disbelievers) of a severe
punishment from Him, and to give glad
tidings to the believers (in the Oneness
of Allâh Islâmic Monotheism), who do
righteous – deeds, that they shall have a
fair reward (i.e. Paradise).
[3] ﻣٰﻜِﺜﻴﻦَ ﻓﻴﻪِ ﺃَﺑَﺪًﺍ
[3] তারা তাতে চিরকাল অবস্থান করবে।
[3] They shall abide therein forever.
[4] ﻭَﻳُﻨﺬِﺭَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻗﺎﻟُﻮﺍ ﺍﺗَّﺨَﺬَ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻟَﺪًﺍ
[4] এবং তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করার
জন্যে যারা বলে যে, আল্লাহর সন্তান
রয়েছে।
[4] And to warn those (Jews, Christians,
and pagans) who say, “Allâh has
begotten a son (or offspring or
children).”
[5] ﻣﺎ ﻟَﻬُﻢ ﺑِﻪِ ﻣِﻦ ﻋِﻠﻢٍ ﻭَﻻ
ﻝِﺀﺍﺑﺎﺋِﻬِﻢ ۚ ﻛَﺒُﺮَﺕ ﻛَﻠِﻤَﺔً
ﺗَﺨﺮُﺝُ ﻣِﻦ ﺃَﻓﻮٰﻫِﻬِﻢ ۚ ﺇِﻥ
ﻳَﻘﻮﻟﻮﻥَ ﺇِﻟّﺎ ﻛَﺬِﺑًﺎ
[5] এ সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই
এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও নেই। কত কঠিন
তাদের মুখের কথা। তারা যা বলে তা তো সবই
মিথ্যা।
[5] No knowledge have they of such a
thing, nor had their fathers. Mighty is
the word that comes out of their mouths
(i.e. He begot sons and daughters). They
utter nothing but a lie.
[6] ﻓَﻠَﻌَﻠَّﻚَ ﺑٰﺨِﻊٌ ﻧَﻔﺴَﻚَ ﻋَﻠﻰٰ
ﺀﺍﺛٰﺮِﻫِﻢ ﺇِﻥ ﻟَﻢ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﺍ ﺑِﻬٰﺬَﺍ
ﺍﻟﺤَﺪﻳﺚِ ﺃَﺳَﻔًﺎ
[6] যদি তারা এই বিষয়বস্তুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না
করে, তবে তাদের পশ্চাতে সম্ভবতঃ আপনি
পরিতাপ করতে করতে নিজের প্রাণ নিপাত
করবেন।
[6] Perhaps, you, would kill yourself (O
Muhammad SAW) in grief, over their
footsteps (for their turning away from
you), because they believe not in this
narration (the Qur’ân).
[7] ﺇِﻧّﺎ ﺟَﻌَﻠﻨﺎ ﻣﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﺯﻳﻨَﺔً ﻟَﻬﺎ ﻟِﻨَﺒﻠُﻮَﻫُﻢ ﺃَﻳُّﻬُﻢ
ﺃَﺣﺴَﻦُ ﻋَﻤَﻠًﺎ
[7] আমি পৃথিবীস্থ সব কিছুকে পৃথিবীর
জন্যে শোভা করেছি, যাতে লোকদের
পরীক্ষা করি যে, তাদের মধ্যে কে ভাল
কাজ করে।
[7] Verily! We have made that which is
on earth as an adornment for it, in
order that We may test them (mankind)
as to which of them are best in deeds.
[i.e.those who do good deeds in the most
perfect manner, that means to do them
(deeds) totally for Allâh’s sake and in
accordance to the legal ways of the
Prophet SAW ].
[8] ﻭَﺇِﻧّﺎ ﻟَﺠٰﻌِﻠﻮﻥَ ﻣﺎ ﻋَﻠَﻴﻬﺎ
ﺻَﻌﻴﺪًﺍ ﺟُﺮُﺯًﺍ
[8] এবং তার উপর যাকিছু রয়েছে, অবশ্যই তা
আমি উদ্ভিদশূন্য মাটিতে পরিণত করে দেব।
[8] And verily! We shall make all that is
on it (the earth) a bare dry soil (without
any vegetation or trees).
[9] ﺃَﻡ ﺣَﺴِﺒﺖَ ﺃَﻥَّ ﺃَﺻﺤٰﺐَ
ﺍﻟﻜَﻬﻒِ ﻭَﺍﻟﺮَّﻗﻴﻢِ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻣِﻦ
ﺀﺍﻳٰﺘِﻨﺎ ﻋَﺠَﺒًﺎ
[9] আপনি কি ধারণা করেন যে, গুহা ও গর্তের
অধিবাসীরা আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে
বিস্ময়কর ছিল ?
[9] Do you think that the people of the
Cave and the Inscription (the news or
the names of the people of the Cave)
were a wonder among Our Signs?
[10] ﺇِﺫ ﺃَﻭَﻯ ﺍﻟﻔِﺘﻴَﺔُ ﺇِﻟَﻰ
ﺍﻟﻜَﻬﻒِ ﻓَﻘﺎﻟﻮﺍ ﺭَﺑَّﻨﺎ ﺀﺍﺗِﻨﺎ ﻣِﻦ
ﻟَﺪُﻧﻚَ ﺭَﺣﻤَﺔً ﻭَﻫَﻴِّﺊ ﻟَﻨﺎ ﻣِﻦ
ﺃَﻣﺮِﻧﺎ ﺭَﺷَﺪًﺍ
[10] যখন যুবকরা পাহাড়ের গুহায় আশ্রয়গ্রহণ
করে তখন দোআ করেঃ হে আমাদের
পালনকর্তা, আমাদেরকে নিজের কাছ
থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের
জন্যে আমাদের কাজ সঠিকভাবে পূর্ণ করুন।
[10] (Remember) when the young men
fled for refuge (from their disbelieving
folk) to the Cave, They said: “Our Lord!
Bestow on us mercy from Yourself, and
facilitate for us our affair in the right
way!”
[11] ﻓَﻀَﺮَﺑﻨﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﺀﺍﺫﺍﻧِﻬِﻢ
ﻓِﻰ ﺍﻟﻜَﻬﻒِ ﺳِﻨﻴﻦَ ﻋَﺪَﺩًﺍ
[11] তখন আমি কয়েক বছরের জন্যে গুহায়
তাদের কানের উপর নিদ্রার পর্দা ফেলে
দেই।
[11] Therefore, We covered up their
(sense of) hearing (causing them, to go in
deep sleep) in the Cave for a number of
years.
[12] ﺛُﻢَّ ﺑَﻌَﺜﻨٰﻬُﻢ ﻟِﻨَﻌﻠَﻢَ ﺃَﻯُّ
ﺍﻟﺤِﺰﺑَﻴﻦِ ﺃَﺣﺼﻰٰ ﻟِﻤﺎ ﻟَﺒِﺜﻮﺍ
ﺃَﻣَﺪًﺍ
[12] অতঃপর আমি তাদেরকে পুনরত্থিত করি,
একথা জানার জন্যে যে, দুই দলের মধ্যে
কোন দল তাদের অবস্থানকাল সম্পর্কে
অধিক নির্ণয় করতে পারে।
[12] Then We raised them up (from their
sleep), that We might test which of the
two parties was best at calculating the
time period that they had tarried.
[13] ﻧَﺤﻦُ ﻧَﻘُﺺُّ ﻋَﻠَﻴﻚَ ﻧَﺒَﺄَﻫُﻢ
ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ۚ ﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻓِﺘﻴَﺔٌ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ
ﺑِﺮَﺑِّﻬِﻢ ﻭَﺯِﺩﻧٰﻬُﻢ ﻫُﺪًﻯ
[13] আপনার কাছে তাদের ইতিবৃত্তান্ত
সঠিকভাবে বর্ণনা করছি। তারা ছিল কয়েকজন
যুবক। তারা তাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস
স্থাপন করেছিল এবং আমি তাদের সৎপথে
চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।
[13] We narrate unto you (O Muhammad
SAW) their story with truth: Truly! they
were young men who believed in their
Lord (Allâh), and We increased them in
guidance.
[14] ﻭَﺭَﺑَﻄﻨﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﻗُﻠﻮﺑِﻬِﻢ ﺇِﺫ
ﻗﺎﻣﻮﺍ ﻓَﻘﺎﻟﻮﺍ ﺭَﺑُّﻨﺎ ﺭَﺏُّ
ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ﻟَﻦ ﻧَﺪﻋُﻮَﺍ۟
ﻣِﻦ ﺩﻭﻧِﻪِ ﺇِﻟٰﻬًﺎ ۖ ﻟَﻘَﺪ ﻗُﻠﻨﺎ ﺇِﺫًﺍ
ﺷَﻄَﻄًﺎ
[14] আমি তাদের মন দৃঢ় করেছিলাম, যখন তারা
উঠে দাঁড়িয়েছিল। অতঃপর তারা বললঃ আমাদের
পালনকর্তা আসমান ও যমীনের পালনকর্তা
আমরা কখনও তার পরিবর্তে অন্য কোন
উপাস্যকে আহবান করব না। যদি করি, তবে তা
অত্যন্ত গর্হিত কাজ হবে।
[14] And We made their hearts firm and
strong (with the light of Faith in Allâh
and bestowed upon them patience to
bear the separation of their kith and kin
and dwellings) when they stood up and
said: “Our Lord is the Lord of the
heavens and the earth, never shall we
call upon any ilâh (god) other than Him;
if we did, we should indeed have uttered
an enormity in disbelief.
[15] ﻫٰﺆُﻻﺀِ ﻗَﻮﻣُﻨَﺎ ﺍﺗَّﺨَﺬﻭﺍ ﻣِﻦ
ﺩﻭﻧِﻪِ ﺀﺍﻟِﻬَﺔً ۖ ﻟَﻮﻻ ﻳَﺄﺗﻮﻥَ
ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺑِﺴُﻠﻄٰﻦٍ ﺑَﻴِّﻦٍ ۖ ﻓَﻤَﻦ
ﺃَﻇﻠَﻢُ ﻣِﻤَّﻦِ ﺍﻓﺘَﺮﻯٰ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻛَﺬِﺑًﺎ
[15] এরা আমাদেরই স্ব-জাতি, এরা তাঁর
পরিবর্তে অনেক উপাস্য গ্রহণ করেছে।
তারা এদের সম্পর্কে প্রকাশ্য প্রমাণ
উপস্থিত করে না কেন? যে আল্লাহ
সম্পর্কে মিথ্যা উদ্ভাবন করে, তার চাইতে
অধিক গোনাহগার আর কে?
[15] “These our people have taken for
worship âlihah (gods) other than Him
(Allâh). Why do they not bring for them
a clear authority? And who does more
wrong than he who invents a lie against
Allâh.
[16] ﻭَﺇِﺫِ ﺍﻋﺘَﺰَﻟﺘُﻤﻮﻫُﻢ ﻭَﻣﺎ
ﻳَﻌﺒُﺪﻭﻥَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻓَﺄﻭۥﺍ ﺇِﻟَﻰ
ﺍﻟﻜَﻬﻒِ ﻳَﻨﺸُﺮ ﻟَﻜُﻢ ﺭَﺑُّﻜُﻢ ﻣِﻦ
ﺭَﺣﻤَﺘِﻪِ ﻭَﻳُﻬَﻴِّﺊ ﻟَﻜُﻢ ﻣِﻦ
ﺃَﻣﺮِﻛُﻢ ﻣِﺮﻓَﻘًﺎ
[16] তোমরা যখন তাদের থেকে পৃথক
হলে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের
এবাদত করে তাদের থেকে, তখন তোমরা
গুহায় আশ্রয়গ্রহণ কর। তোমাদের পালনকর্তা
তোমাদের জন্যে দয়া বিস্তার করবেন এবং
তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ
কর্মকে ফলপ্রসু করার ব্যবস্থা করবেন।
[16] (The young men said to one
another): “And when you withdraw from
them, and that which they worship,
except Allâh, then seek refuge in the
Cave, your Lord will open a way for you
from His Mercy and will make easy for
you your affair (i.e. will give you what
you will need of provision, dwelling).”
[17] ۞ ﻭَﺗَﺮَﻯ ﺍﻟﺸَّﻤﺲَ ﺇِﺫﺍ
ﻃَﻠَﻌَﺖ ﺗَﺰٰﻭَﺭُ ﻋَﻦ ﻛَﻬﻔِﻬِﻢ
ﺫﺍﺕَ ﺍﻟﻴَﻤﻴﻦِ ﻭَﺇِﺫﺍ ﻏَﺮَﺑَﺖ
ﺗَﻘﺮِﺿُﻬُﻢ ﺫﺍﺕَ ﺍﻟﺸِّﻤﺎﻝِ ﻭَﻫُﻢ
ﻓﻰ ﻓَﺠﻮَﺓٍ ﻣِﻨﻪُ ۚ ﺫٰﻟِﻚَ ﻣِﻦ
ﺀﺍﻳٰﺖِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۗ ﻣَﻦ ﻳَﻬﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻓَﻬُﻮَ
ﺍﻟﻤُﻬﺘَﺪِ ۖ ﻭَﻣَﻦ ﻳُﻀﻠِﻞ ﻓَﻠَﻦ
ﺗَﺠِﺪَ ﻟَﻪُ ﻭَﻟِﻴًّﺎ ﻣُﺮﺷِﺪًﺍ
[17] তুমি সূর্যকে দেখবে, যখন উদিত হয়,
তাদের গুহা থেকে পাশ কেটে ডান দিকে
চলে যায় এবং যখন অস্ত যায়, তাদের থেকে
পাশ কেটে বামদিকে চলে যায়, অথচ তারা
গুহার প্রশস্ত চত্বরে অবস্থিত। এটা আল্লাহর
নিদর্শনাবলীর অন্যতম। আল্লাহ যাকে
সৎপথে চালান, সেই সৎপথ প্রাপ্ত এবং তিনি
যাকে পথভ্রষ্ট করেন, আপনি কখনও তার
জন্যে পথপ্রদর্শনকারী ও সাহায্যকারী
পাবেন না।
[17] And you might have seen the sun,
when it rose, declining to the right from
their Cave, and when it set, turning
away from them to the left, while they
lay in the midst of the Cave. That is (one)
of the Ayât (proofs, evidences, signs) of
Allâh. He whom Allâh guides, is rightly
guided; but he whom He sends astray,
for him you will find no Walî (guiding
friend) to lead him (to the right Path).
[18] ﻭَﺗَﺤﺴَﺒُﻬُﻢ ﺃَﻳﻘﺎﻇًﺎ ﻭَﻫُﻢ
ﺭُﻗﻮﺩٌ ۚ ﻭَﻧُﻘَﻠِّﺒُﻬُﻢ ﺫﺍﺕَ ﺍﻟﻴَﻤﻴﻦِ
ﻭَﺫﺍﺕَ ﺍﻟﺸِّﻤﺎﻝِ ۖ ﻭَﻛَﻠﺒُﻬُﻢ
ﺑٰﺴِﻂٌ ﺫِﺭﺍﻋَﻴﻪِ ﺑِﺎﻟﻮَﺻﻴﺪِ ۚ ﻟَﻮِ
ﺍﻃَّﻠَﻌﺖَ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻟَﻮَﻟَّﻴﺖَ ﻣِﻨﻬُﻢ
ﻓِﺮﺍﺭًﺍ ﻭَﻟَﻤُﻠِﺌﺖَ ﻣِﻨﻬُﻢ ﺭُﻋﺒًﺎ
[18] তুমি মনে করবে তারা জাগ্রত, অথচ তারা
নিদ্রিত। আমি তাদেরকে পার্শ্ব পরিবর্তন করাই
ডান দিকে ও বাম দিকে। তাদের কুকুর ছিল
সামনের পা দুটি গুহাদ্বারে প্রসারিত করে। যদি
তুমি উঁকি দিয়ে তাদেরকে দেখতে, তবে
পেছন ফিরে পলায়ন করতে এবং তাদের
ভয়ে আতংক গ্রস্ত হয়ে পড়তে।
[18] And you would have thought them
awake, whereas they were asleep. And
We turned them on their right and on
their left sides, and their dog stretching
forth his two forelegs at the entrance [of
the Cave or in the space near to the
entrance of the Cave (as a guard at the
gate)]. Had you looked at them, you
would certainly have turned back from
them in flight, and would certainly have
been filled with awe of them
[19] ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﺑَﻌَﺜﻨٰﻬُﻢ
ﻟِﻴَﺘَﺴﺎﺀَﻟﻮﺍ ﺑَﻴﻨَﻬُﻢ ۚ ﻗﺎﻝَ ﻗﺎﺋِﻞٌ
ﻣِﻨﻬُﻢ ﻛَﻢ ﻟَﺒِﺜﺘُﻢ ۖ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻟَﺒِﺜﻨﺎ
ﻳَﻮﻣًﺎ ﺃَﻭ ﺑَﻌﺾَ ﻳَﻮﻡٍ ۚ ﻗﺎﻟﻮﺍ
ﺭَﺑُّﻜُﻢ ﺃَﻋﻠَﻢُ ﺑِﻤﺎ ﻟَﺒِﺜﺘُﻢ
ﻓَﺎﺑﻌَﺜﻮﺍ ﺃَﺣَﺪَﻛُﻢ ﺑِﻮَﺭِﻗِﻜُﻢ
ﻫٰﺬِﻩِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻤَﺪﻳﻨَﺔِ ﻓَﻠﻴَﻨﻈُﺮ
ﺃَﻳُّﻬﺎ ﺃَﺯﻛﻰٰ ﻃَﻌﺎﻣًﺎ ﻓَﻠﻴَﺄﺗِﻜُﻢ
ﺑِﺮِﺯﻕٍ ﻣِﻨﻪُ ﻭَﻟﻴَﺘَﻠَﻄَّﻒ ﻭَﻻ
ﻳُﺸﻌِﺮَﻥَّ ﺑِﻜُﻢ ﺃَﺣَﺪًﺍ
[19] আমি এমনি ভাবে তাদেরকে জাগ্রত
করলাম, যাতে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করে।
তাদের একজন বললঃ তোমরা কতকাল অবস্থান
করেছ? তাদের কেউ বললঃ একদিন অথবা
একদিনের কিছু অংশ অবস্থান করছি। কেউ
কেউ বললঃ তোমাদের পালনকর্তাই ভাল
জানেন তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ।
এখন তোমাদের একজনকে তোমাদের এই
মুদ্রাসহ শহরে প্রেরণ কর; সে যেন
দেখে কোন খাদ্য পবিত্র। অতঃপর তা
থেকে যেন কিছু খাদ্য নিয়ে আসে
তোমাদের জন্য; সে যেন নম্রতা সহকারে
যায় ও কিছুতেই যেন তোমাদের খবর
কাউকে না জানায়।
[19] Likewise, We awakened them (from
their long deep sleep) that they might
question one another. A speaker from
among them said: “How long have you
stayed (here)?” They said: “We have
stayed (perhaps) a day or part of a day.”
They said: “Your Lord (Alone) knows
best how long you have stayed (here). So
send one of you with this silver coin of
yours to the town, and let him find out
which is the good lawful food, and bring
some of that to you. And let him be
careful and let no man know of you
[20] ﺇِﻧَّﻬُﻢ ﺇِﻥ ﻳَﻈﻬَﺮﻭﺍ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ
ﻳَﺮﺟُﻤﻮﻛُﻢ ﺃَﻭ ﻳُﻌﻴﺪﻭﻛُﻢ ﻓﻰ
ﻣِﻠَّﺘِﻬِﻢ ﻭَﻟَﻦ ﺗُﻔﻠِﺤﻮﺍ ﺇِﺫًﺍ ﺃَﺑَﺪًﺍ
[20] তারা যদি তোমাদের খবর জানতে পারে,
তবে পাথর মেরে তোমাদেরকে হত্যা
করবে, অথবা তোমাদেরকে তাদের ধর্মে
ফিরিয়ে নেবে। তাহলে তোমরা কখনই
সাফল্য লাভ করবে না।
[20] “For if they come to know of you,
they will stone you (to death or abuse
and harm you) or turn you back to their
religion, and in that case you will never
be successful.”
[21] ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﺃَﻋﺜَﺮﻧﺎ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ
ﻟِﻴَﻌﻠَﻤﻮﺍ ﺃَﻥَّ ﻭَﻋﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺣَﻖٌّ
ﻭَﺃَﻥَّ ﺍﻟﺴّﺎﻋَﺔَ ﻻ ﺭَﻳﺐَ ﻓﻴﻬﺎ ﺇِﺫ
ﻳَﺘَﻨٰﺰَﻋﻮﻥَ ﺑَﻴﻨَﻬُﻢ ﺃَﻣﺮَﻫُﻢ ۖ
ﻓَﻘﺎﻟُﻮﺍ ﺍﺑﻨﻮﺍ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺑُﻨﻴٰﻨًﺎ ۖ
ﺭَﺑُّﻬُﻢ ﺃَﻋﻠَﻢُ ﺑِﻬِﻢ ۚ ﻗﺎﻝَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻏَﻠَﺒﻮﺍ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﻣﺮِﻫِﻢ ﻟَﻨَﺘَّﺨِﺬَﻥَّ
ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻣَﺴﺠِﺪًﺍ
[21] এমনিভাবে আমি তাদের খবর প্রকাশ
করে দিলাম, যাতে তারা জ্ঞাত হয় যে,
আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কেয়ামতে কোন
সন্দেহ নেই। যখন তারা নিজেদের কর্তব্য
বিষয়ে পরস্পর বিতর্ক করছিল, তখন তারা বললঃ
তাদের উপর সৌধ নির্মাণ কর। তাদের
পালনকর্তা তাদের বিষয়ে ভাল জানেন।
তাদের কর্তব্য বিষয়ে যাদের মত প্রবল
হল, তারা বললঃ আমরা অবশ্যই তাদের স্থানে
মসজিদ নির্মান করব।
[21] And thus We made their case known
to (the people), that they might know that
the Promise of Allâh is true, and that
there can be no doubt about the Hour.
(Remember) when they (the people of the
city) disputed among themselves about
their case, they said: “Construct a
building over them, their Lord knows
best about them,” (then) those who won
their point said (most probably the
disbelievers): “We verily shall build a
place of worship over them.”
[22] ﺳَﻴَﻘﻮﻟﻮﻥَ ﺛَﻠٰﺜَﺔٌ ﺭﺍﺑِﻌُﻬُﻢ
ﻛَﻠﺒُﻬُﻢ ﻭَﻳَﻘﻮﻟﻮﻥَ ﺧَﻤﺴَﺔٌ
ﺳﺎﺩِﺳُﻬُﻢ ﻛَﻠﺒُﻬُﻢ ﺭَﺟﻤًﺎ
ﺑِﺎﻟﻐَﻴﺐِ ۖ ﻭَﻳَﻘﻮﻟﻮﻥَ ﺳَﺒﻌَﺔٌ
ﻭَﺛﺎﻣِﻨُﻬُﻢ ﻛَﻠﺒُﻬُﻢ ۚ ﻗُﻞ ﺭَﺑّﻰ
ﺃَﻋﻠَﻢُ ﺑِﻌِﺪَّﺗِﻬِﻢ ﻣﺎ ﻳَﻌﻠَﻤُﻬُﻢ ﺇِﻟّﺎ
ﻗَﻠﻴﻞٌ ۗ ﻓَﻼ ﺗُﻤﺎﺭِ ﻓﻴﻬِﻢ ﺇِﻟّﺎ
ﻣِﺮﺍﺀً ﻇٰﻬِﺮًﺍ ﻭَﻻ ﺗَﺴﺘَﻔﺖِ
ﻓﻴﻬِﻢ ﻣِﻨﻬُﻢ ﺃَﺣَﺪًﺍ
[22] অজ্ঞাত বিষয়ে অনুমানের উপর ভিত্তি
করে এখন তারা বলবেঃ তারা ছিল তিন জন;
তাদের চতুর্থটি তাদের কুকুর। একথাও বলবে;
তারা পাঁচ জন। তাদের ছষ্ঠটি ছিল তাদের কুকুর।
আরও বলবেঃ তারা ছিল সাত জন। তাদের
অষ্টমটি ছিল তাদের কুকুর। বলুনঃ আমার
পালনকর্তা তাদের সংখ্যা ভাল জানেন। তাদের
খবর অল্প লোকই জানে। সাধারণ আলোচনা
ছাড়া আপনি তাদের সম্পর্কে বিতর্ক করবেন
না এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাদের
কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ ও করবেন না।
[22] (Some) say they were three, the dog
being the fourth among them; and
(others) say they were five, the dog being
the sixth, guessing at the unseen; (yet
others) say they were seven, the dog
being the eighth. Say (O Muhammad
SAW): “My Lord knows best their
number; none knows them but a few.” So
debate not (about their number) except
with the clear proof (which We have
revealed to you). And consult not any of
them (people of the Scripture, Jews and
Christians) about (the affair of) the
people of the Cave.
[23] ﻭَﻻ ﺗَﻘﻮﻟَﻦَّ ﻟِﺸَﺎ۟ﻱﺀٍ ﺇِﻧّﻰ
ﻓﺎﻋِﻞٌ ﺫٰﻟِﻚَ ﻏَﺪًﺍ
[23] আপনি কোন কাজের বিষয়ে বলবেন না
যে, সেটি আমি আগামী কাল করব।
[23] And never say of anything, “I shall
do such and such thing tomorrow.”
[24] ﺇِﻟّﺎ ﺃَﻥ ﻳَﺸﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ۚ ﻭَﺍﺫﻛُﺮ
ﺭَﺑَّﻚَ ﺇِﺫﺍ ﻧَﺴﻴﺖَ ﻭَﻗُﻞ ﻋَﺴﻰٰ
ﺃَﻥ ﻳَﻬﺪِﻳَﻦِ ﺭَﺑّﻰ ﻟِﺄَﻗﺮَﺏَ ﻣِﻦ
ﻫٰﺬﺍ ﺭَﺷَﺪًﺍ
[24] ‘আল্লাহ ইচ্ছা করলে’ বলা ব্যতিরেকে।
যখন ভুলে যান, তখন আপনার পালনকর্তাকে
স্মরণ করুন এবং বলুনঃ আশা করি আমার পালনকর্তা
আমাকে এর চাইতেও নিকটতম সত্যের পথ
নির্দেশ করবেন।
[24] Except (with the saying), “If Allâh
will!” And remember your Lord when
you forget and say: “It may be that my
Lord guides me unto a nearer way of
truth than this.”
[25] ﻭَﻟَﺒِﺜﻮﺍ ﻓﻰ ﻛَﻬﻔِﻬِﻢ ﺛَﻠٰﺚَ
ﻣِﺎ۟ﺋَﺔٍ ﺳِﻨﻴﻦَ ﻭَﺍﺯﺩﺍﺩﻭﺍ ﺗِﺴﻌًﺎ
[25] তাদের উপর তাদের গুহায় তিনশ বছর,
অতিরিক্ত আরও নয় বছর অতিবাহিত হয়েছে।
[25] And they stayed in their Cave three
hundred (solar) years, and adding nine
(for lunar years). (Tafsir Al-Qurtubi)
[26] ﻗُﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻋﻠَﻢُ ﺑِﻤﺎ ﻟَﺒِﺜﻮﺍ ۖ
ﻟَﻪُ ﻏَﻴﺐُ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ۖ
ﺃَﺑﺼِﺮ ﺑِﻪِ ﻭَﺃَﺳﻤِﻊ ۚ ﻣﺎ ﻟَﻬُﻢ ﻣِﻦ
ﺩﻭﻧِﻪِ ﻣِﻦ ﻭَﻟِﻰٍّ ﻭَﻻ ﻳُﺸﺮِﻙُ ﻓﻰ
ﺣُﻜﻤِﻪِ ﺃَﺣَﺪًﺍ
[26] বলুনঃ তারা কতকাল অবস্থান করেছে, তা
আল্লাহই ভাল জানেন। নভোমন্ডল ও
ভুমন্ডলের অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান তাঁরই
কাছে রয়েছে। তিনি কত চমৎকার দেখেন
ও শোনেন। তিনি ব্যতীত তাদের জন্য
কোন সাহায্যকারী নেই। তিনি কাউকে নিজ
কর্তৃত্বে শরীক করেন না।
[26] Say: “Allâh knows best how long
they stayed. With Him is (the knowledge
of) the unseen of the heavens and the
earth. How clearly He sees, and hears
(everything)! They have no Walî (Helper,
Disposer of affairs, Protector) other than
Him, and He makes none to share in His
Decision and His Rule.”
[27] ﻭَﺍﺗﻞُ ﻣﺎ ﺃﻭﺣِﻰَ ﺇِﻟَﻴﻚَ ﻣِﻦ
ﻛِﺘﺎﺏِ ﺭَﺑِّﻚَ ۖ ﻻ ﻣُﺒَﺪِّﻝَ ﻟِﻜَﻠِﻤٰﺘِﻪِ
ﻭَﻟَﻦ ﺗَﺠِﺪَ ﻣِﻦ ﺩﻭﻧِﻪِ ﻣُﻠﺘَﺤَﺪًﺍ
[27] আপনার প্রতি আপনার পালনকর্তার যে,
কিতাব প্রত্যাদিষ্ট করা হয়েছে, তা পাঠ করুন।
তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নাই। তাঁকে
ব্যতীত আপনি কখনই কোন আশ্রয় স্থল
পাবেন না।
[27] And recite what has been revealed
to you (O Muhammad SAW) of the Book
(the Qur’ân) of your Lord (i.e. recite it,
understand and follow its teachings and
act on its orders and preach it to men).
None can change His Words, and none
will you find as a refuge other than Him.
[28] ﻭَﺍﺻﺒِﺮ ﻧَﻔﺴَﻚَ ﻣَﻊَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻳَﺪﻋﻮﻥَ ﺭَﺑَّﻬُﻢ ﺑِﺎﻟﻐَﺪﻭٰﺓِ
ﻭَﺍﻟﻌَﺸِﻰِّ ﻳُﺮﻳﺪﻭﻥَ ﻭَﺟﻬَﻪُ ۖ ﻭَﻻ
ﺗَﻌﺪُ ﻋَﻴﻨﺎﻙَ ﻋَﻨﻬُﻢ ﺗُﺮﻳﺪُ ﺯﻳﻨَﺔَ
ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓِ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ۖ ﻭَﻻ ﺗُﻄِﻊ ﻣَﻦ
ﺃَﻏﻔَﻠﻨﺎ ﻗَﻠﺒَﻪُ ﻋَﻦ ﺫِﻛﺮِﻧﺎ ﻭَﺍﺗَّﺒَﻊَ
ﻫَﻮﻯٰﻪُ ﻭَﻛﺎﻥَ ﺃَﻣﺮُﻩُ ﻓُﺮُﻃًﺎ
[28] আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে
আবদ্ধ রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের
পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের
উদ্দেশ্যে আহবান করে এবং আপনি পার্থিব
জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের
থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না।
যার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল
করে দিয়েছি, যে, নিজের প্রবৃত্তির
অনুসরণ করে এবং যার কার্য কলাপ হচ্ছে
সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার অনুগত্য
করবেন না।
[28] And keep yourself (O Muhammad
SAW) patiently with those who call on
their Lord (i.e. your companions who
remember their Lord with glorification,
praising in prayers, and other righteous
deeds) morning and afternoon, seeking
His Face, and let not your eyes overlook
them, desiring the pomp and glitter of
the life of the world; and obey not him
whose heart We have made heedless of
Our Remembrance, and who follows his
own lusts and whose affair (deeds) has
been lost.
[29] ﻭَﻗُﻞِ ﺍﻟﺤَﻖُّ ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻜُﻢ ۖ
ﻓَﻤَﻦ ﺷﺎﺀَ ﻓَﻠﻴُﺆﻣِﻦ ﻭَﻣَﻦ
ﺷﺎﺀَ ﻓَﻠﻴَﻜﻔُﺮ ۚ ﺇِﻧّﺎ ﺃَﻋﺘَﺪﻧﺎ
ﻟِﻠﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ ﻧﺎﺭًﺍ ﺃَﺣﺎﻁَ ﺑِﻬِﻢ
ﺳُﺮﺍﺩِﻗُﻬﺎ ۚ ﻭَﺇِﻥ ﻳَﺴﺘَﻐﻴﺜﻮﺍ
ﻳُﻐﺎﺛﻮﺍ ﺑِﻤﺎﺀٍ ﻛَﺎﻟﻤُﻬﻞِ ﻳَﺸﻮِﻯ
ﺍﻟﻮُﺟﻮﻩَ ۚ ﺑِﺌﺲَ ﺍﻟﺸَّﺮﺍﺏُ
ﻭَﺳﺎﺀَﺕ ﻣُﺮﺗَﻔَﻘًﺎ
[29] বলুনঃ সত্য তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ
থেকে আগত। অতএব, যার ইচ্ছা, বিশ্বাস
স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক। আমি
জালেমদের জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করে
রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদের কে
পরিবেষ্টন করে থাকবে। যদি তারা পানীয়
প্রার্থনা করে, তবে পুঁজের ন্যায় পানীয়
দেয়া হবে যা তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে।
কত নিকৃষ্ট পানীয় এবং খুবই মন্দ আশ্রয়।
[29] And say: “The truth is from your
Lord.” Then whosoever wills, let him
believe, and whosoever wills, let him
disbelieve. Verily, We have prepared for
the Zâlimûn (polytheists and wrong-
doers), a Fire whose walls will be
surrounding them (disbelievers in the
Oneness of Allâh). And if they ask for
help (relief, water) they will be granted
water like boiling oil, that will scald
their faces. Terrible is the drink, and an
evil Murtafaq (dwelling, resting place)!
[30] ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ
ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤٰﺖِ ﺇِﻧّﺎ ﻻ ﻧُﻀﻴﻊُ ﺃَﺟﺮَ
ﻣَﻦ ﺃَﺣﺴَﻦَ ﻋَﻤَﻠًﺎ
[30] যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম
সম্পাদন করে আমি সৎকর্মশীলদের
পুরস্কার নষ্ট করি না।
[30] Verily As for those who believed and
did righteous deeds, certainly We shall
not make to be lost the reward of anyone
who does his (righteous) deeds in the
most perfect manner.
[31] ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻟَﻬُﻢ ﺟَﻨّٰﺖُ ﻋَﺪﻥٍ
ﺗَﺠﺮﻯ ﻣِﻦ ﺗَﺤﺘِﻬِﻢُ ﺍﻷَﻧﻬٰﺮُ
ﻳُﺤَﻠَّﻮﻥَ ﻓﻴﻬﺎ ﻣِﻦ ﺃَﺳﺎﻭِﺭَ ﻣِﻦ
ﺫَﻫَﺐٍ ﻭَﻳَﻠﺒَﺴﻮﻥَ ﺛِﻴﺎﺑًﺎ ﺧُﻀﺮًﺍ
ﻣِﻦ ﺳُﻨﺪُﺱٍ ﻭَﺇِﺳﺘَﺒﺮَﻕٍ
ﻣُﺘَّﻜِـٔﻴﻦَ ﻓﻴﻬﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻷَﺭﺍﺋِﻚِ ۚ
ﻧِﻌﻢَ ﺍﻟﺜَّﻮﺍﺏُ ﻭَﺣَﺴُﻨَﺖ
ﻣُﺮﺗَﻔَﻘًﺎ
[31] তাদেরই জন্যে আছে বসবাসের
জান্নাত। তাদের পাদদেশে প্রবাহিত হয়
নহরসমূহ। তাদের তথায় স্বর্ণ-কংকনে অলংকৃত
করা হবে এবং তারা পাতলা ও মোটা রেশমের
সবুজ কাপর পরিধান করবে এমতাবস্থায় যে, তারা
সিংহাসনে সমাসীন হবে। চমৎকার প্রতিদান এবং
কত উত্তম আশ্রয়।
[31] These! For them will be ‘Adn (Eden)
Paradise (everlasting Gardens); wherein
rivers flow underneath them, therein
they will be adorned with bracelets of
gold, and they will wear green garments
of fine and thick silk. They will recline
therein on raised thrones. How good is
the reward, and what an excellent
Murtafaq (dwelling, resting place)!
[32] ۞ ﻭَﺍﺿﺮِﺏ ﻟَﻬُﻢ ﻣَﺜَﻠًﺎ
ﺭَﺟُﻠَﻴﻦِ ﺟَﻌَﻠﻨﺎ ﻟِﺄَﺣَﺪِﻫِﻤﺎ
ﺟَﻨَّﺘَﻴﻦِ ﻣِﻦ ﺃَﻋﻨٰﺐٍ ﻭَﺣَﻔَﻔﻨٰﻬُﻤﺎ
ﺑِﻨَﺨﻞٍ ﻭَﺟَﻌَﻠﻨﺎ ﺑَﻴﻨَﻬُﻤﺎ ﺯَﺭﻋًﺎ
[32] আপনি তাদের কাছে দু ব্যক্তির উদাহরণ
বর্ণনা করুন। আমি তাদের একজনকে দুটি
আঙ্গুরের বাগান দিয়েছি এবং এ দু’টিকে
খর্জুর বৃক্ষ দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছি এবং দু
এর মাঝখানে করেছি শস্যক্ষেত্র।
[32] And put forward to them the
example of two men; unto one of them
We had given two gardens of grapes, and
We had surrounded both with date-
palms; and had put between them green
crops (cultivated fields).
[33] ﻛِﻠﺘَﺎ ﺍﻟﺠَﻨَّﺘَﻴﻦِ ﺀﺍﺗَﺖ
ﺃُﻛُﻠَﻬﺎ ﻭَﻟَﻢ ﺗَﻈﻠِﻢ ﻣِﻨﻪُ ﺷَﻴـًٔﺎ ۚ
ﻭَﻓَﺠَّﺮﻧﺎ ﺧِﻠٰﻠَﻬُﻤﺎ ﻧَﻬَﺮًﺍ
[33] উভয় বাগানই ফলদান করে এবং তা থেকে
কিছুই হ্রাস করত না এবং উভয়ের ফাঁকে ফাঁকে
আমি নহর প্রবাহিত করেছি।
[33] Each of those two gardens brought
forth its produce, and failed not in the
least therein, and We caused a river to
gush forth in the midst of them.
[34] ﻭَﻛﺎﻥَ ﻟَﻪُ ﺛَﻤَﺮٌ ﻓَﻘﺎﻝَ
ﻟِﺼٰﺤِﺒِﻪِ ﻭَﻫُﻮَ ﻳُﺤﺎﻭِﺭُﻩُ ﺃَﻧﺎ۠
ﺃَﻛﺜَﺮُ ﻣِﻨﻚَ ﻣﺎﻟًﺎ ﻭَﺃَﻋَﺰُّ ﻧَﻔَﺮًﺍ
[34] সে ফল পেল। অতঃপর কথা প্রসঙ্গে
সঙ্গীকে বললঃ আমার ধন-সম্পদ তোমার
চাইতে বেশী এবং জনবলে আমি অধিক
শক্তিশালী।
[34] And he had property (or fruit) and
he said to his companion, in the course
of mutual talk: I am more than you in
wealth and stronger in respect of
men.” [See Tafsir Qurtubî].
[35] ﻭَﺩَﺧَﻞَ ﺟَﻨَّﺘَﻪُ ﻭَﻫُﻮَ ﻇﺎﻟِﻢٌ
ﻟِﻨَﻔﺴِﻪِ ﻗﺎﻝَ ﻣﺎ ﺃَﻇُﻦُّ ﺃَﻥ ﺗَﺒﻴﺪَ
ﻫٰﺬِﻩِ ﺃَﺑَﺪًﺍ
[35] নিজের প্রতি জুলুম করে সে তার
বাগানে প্রবেশ করল। সে বললঃ আমার মনে
হয় না যে, এ বাগান কখনও ধ্বংস হয়ে যাবে।
[35] And he went into his garden while
in a state (of pride and disbelief) unjust
to himself. He said: “I think not that this
will ever perish.
[36] ﻭَﻣﺎ ﺃَﻇُﻦُّ ﺍﻟﺴّﺎﻋَﺔَ ﻗﺎﺋِﻤَﺔً
ﻭَﻟَﺌِﻦ ﺭُﺩِﺩﺕُ ﺇِﻟﻰٰ ﺭَﺑّﻰ ﻟَﺄَﺟِﺪَﻥَّ
ﺧَﻴﺮًﺍ ﻣِﻨﻬﺎ ﻣُﻨﻘَﻠَﺒًﺎ
[36] এবং আমি মনে করি না যে, কেয়ামত
অনুষ্ঠিত হবে। যদি কখনও আমার পালনকর্তার
কাছে আমাকে পৌঁছে দেয়া হয়, তবে
সেখানে এর চাইতে উৎকৃষ্ট পাব।
[36] “And I think not the Hour will ever
come, and if indeed I am brought back to
my Lord, (on the Day of Resurrection), I
surely shall find better than this when I
return to Him.”
[37] ﻗﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﺻﺎﺣِﺒُﻪُ ﻭَﻫُﻮَ
ﻳُﺤﺎﻭِﺭُﻩُ ﺃَﻛَﻔَﺮﺕَ ﺑِﺎﻟَّﺬﻯ
ﺧَﻠَﻘَﻚَ ﻣِﻦ ﺗُﺮﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ
ﻧُﻄﻔَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﺳَﻮّﻯٰﻚَ ﺭَﺟُﻠًﺎ
[37] তার সঙ্গী তাকে কথা প্রসঙ্গে বললঃ
তুমি তাঁকে অস্বীকার করছ, যিনি তোমাকে
সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য
থেকে, অতঃপর র্পূনাঙ্গ করেছেন
তোমাকে মানবাকৃতিতে?
[37] His companion said to him, during
the talk with him: “Do you disbelieve in
Him Who created you out of dust (i.e.
your father Adam), then out of Nutfah
(mixed semen drops of male and female
discharge), then fashioned you into a
man?
[38] ﻟٰﻜِﻨّﺎ۠ ﻫُﻮَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺭَﺑّﻰ ﻭَﻻ
ﺃُﺷﺮِﻙُ ﺑِﺮَﺑّﻰ ﺃَﺣَﺪًﺍ
[38] কিন্তু আমি তো একথাই বলি, আল্লাহই
আমার পালনকর্তা এবং আমি কাউকে আমার
পালনকর্তার শরীক মানি না।
[38] “But as for my part (I believe) that
He is Allâh, my Lord and none shall I
associate as partner with my Lord.
[39] ﻭَﻟَﻮﻻ ﺇِﺫ ﺩَﺧَﻠﺖَ ﺟَﻨَّﺘَﻚَ
ﻗُﻠﺖَ ﻣﺎ ﺷﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻻ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻟّﺎ
ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ۚ ﺇِﻥ ﺗَﺮَﻥِ ﺃَﻧﺎ۠ ﺃَﻗَﻞَّ ﻣِﻨﻚَ
ﻣﺎﻟًﺎ ﻭَﻭَﻟَﺪًﺍ
[39] যদি তুমি আমাকে ধনে ও সন্তানে
তোমার চাইতে কম দেখ, তবে যখন তুমি
তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন একথা
কেন বললে না; আল্লাহ যা চান, তাই হয়।
আল্লাহর দেয়া ব্যতীত কোন শক্তি নেই।
[39] It was better for you to say, when
you entered your garden: ‘That which
Allâh wills (will come to pass)! There is
no power but with Allâh ‘. If you see me
less than you in wealth, and children.
[40] ﻓَﻌَﺴﻰٰ ﺭَﺑّﻰ ﺃَﻥ ﻳُﺆﺗِﻴَﻦِ
ﺧَﻴﺮًﺍ ﻣِﻦ ﺟَﻨَّﺘِﻚَ ﻭَﻳُﺮﺳِﻞَ
ﻋَﻠَﻴﻬﺎ ﺣُﺴﺒﺎﻧًﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ
ﻓَﺘُﺼﺒِﺢَ ﺻَﻌﻴﺪًﺍ ﺯَﻟَﻘًﺎ
[40] আশাকরি আমার পালকর্তা আমাকে তোমার
বাগান অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর কিছু দেবেন এবং
তার (তোমার বাগানের) উপর আসমান থেকে
আগুন প্রেরণ করবেন। অতঃপর সকাল
বেলায় তা পরিষ্কার ময়দান হয়ে যাবে।
[40] “It may be that my Lord will give me
something better than your garden, and
will send on it Husbân (torment, bolt)
from the sky, then it will be a slippery
earth
[41] ﺃَﻭ ﻳُﺼﺒِﺢَ ﻣﺎﺅُﻫﺎ ﻏَﻮﺭًﺍ
ﻓَﻠَﻦ ﺗَﺴﺘَﻄﻴﻊَ ﻟَﻪُ ﻃَﻠَﺒًﺎ
[41] অথবা সকালে তার পানি শুকিয়ে যাবে।
অতঃপর তুমি তা তালাশ করে আনতে পারবে না।
[41] “Or the water thereof (of the
gardens) becomes deep-sunken
(underground) so that you will never be
able to seek it.”
[42] ﻭَﺃُﺣﻴﻂَ ﺑِﺜَﻤَﺮِﻩِ ﻓَﺄَﺻﺒَﺢَ
ﻳُﻘَﻠِّﺐُ ﻛَﻔَّﻴﻪِ ﻋَﻠﻰٰ ﻣﺎ ﺃَﻧﻔَﻖَ
ﻓﻴﻬﺎ ﻭَﻫِﻰَ ﺧﺎﻭِﻳَﺔٌ ﻋَﻠﻰٰ
ﻋُﺮﻭﺷِﻬﺎ ﻭَﻳَﻘﻮﻝُ ﻳٰﻠَﻴﺘَﻨﻰ ﻟَﻢ
ﺃُﺷﺮِﻙ ﺑِﺮَﺑّﻰ ﺃَﺣَﺪًﺍ
[42] অতঃপর তার সব ফল ধ্বংস হয়ে গেল এবং
সে তাতে যা ব্যয় করেছিল, তার জন্য
সকালে হাত কচলিয়ে আক্ষেপ করতে
লাগল। বাগনটি কাঠসহ পুড়ে গিয়েছিল। সে
বলতে লাগলঃ হায়, আমি যদি কাউকে আমার
পালনকর্তার সাথে শরীক না করতাম।
[42] So his fruits were encircled (with
ruin). And he remained clapping his
hands (with sorrow) over what he had
spent upon it, while it was all destroyed
on its trellises, he could only say: “Would
that I had ascribed no partners to my
Lord!” [Tafsir Ibn Kathîr]
[43] ﻭَﻟَﻢ ﺗَﻜُﻦ ﻟَﻪُ ﻓِﺌَﺔٌ
ﻳَﻨﺼُﺮﻭﻧَﻪُ ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻣﺎ
ﻛﺎﻥَ ﻣُﻨﺘَﺼِﺮًﺍ
[43] আল্লাহ ব্যতীত তাকে সাহায্য করার
কোন লোক হল না এবং সে নিজেও প্রতিকার
করতে পারল না।
[43] And he had no group of men to help
him against Allâh, nor could he defend
(or save) himself.
[44] ﻫُﻨﺎﻟِﻚَ ﺍﻟﻮَﻟٰﻴَﺔُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺍﻟﺤَﻖِّ ۚ
ﻫُﻮَ ﺧَﻴﺮٌ ﺛَﻮﺍﺑًﺎ ﻭَﺧَﻴﺮٌ ﻋُﻘﺒًﺎ
[44] এরূপ ক্ষেত্রে সব অধিকার সত্য
আল্লাহর। তারই পুরস্কার উত্তম এবং তারই
প্রদত্ত প্রতিদান শ্রেষ্ঠ।
[44] There (on the Day of Resurrection),
Al-Walâyah (protection, power, authority
and kingdom) will be for Allâh (Alone),
the – True God. He (Allâh) is the Best for
reward and the Best for the final end.
(Lâ ilâha ill-allâh none has the right to
be worshipped but Allâh).
[45] ﻭَﺍﺿﺮِﺏ ﻟَﻬُﻢ ﻣَﺜَﻞَ
ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓِ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﻛَﻤﺎﺀٍ ﺃَﻧﺰَﻟﻨٰﻪُ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﻓَﺎﺧﺘَﻠَﻂَ ﺑِﻪِ
ﻧَﺒﺎﺕُ ﺍﻷَﺭﺽِ ﻓَﺄَﺻﺒَﺢَ ﻫَﺸﻴﻤًﺎ
ﺗَﺬﺭﻭﻩُ ﺍﻟﺮِّﻳٰﺢُ ۗ ﻭَﻛﺎﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﻋَﻠﻰٰ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲﺀٍ ﻣُﻘﺘَﺪِﺭًﺍ
[45] তাদের কাছে পার্থিব জীবনের উপমা
বর্ণনা করুন। তা পানির ন্যায়, যা আমি আকাশ
থেকে নাযিল করি। অতঃপর এর সংমিশ্রণে
শ্যামল সবুজ ভূমিজ লতা-পাতা নির্গত হয়; অতঃপর
তা এমন শুস্ক চুর্ণ-বিচুর্ণ হয় যে, বাতাসে
উড়ে যায়। আল্লাহ এ সবকিছুর উপর শক্তিমান।
[45] And put forward to them the
example of the life of this world, it is like
the water (rain) which We send down
from the sky, and the vegetation of the
earth mingles with it, and becomes fresh
and green. But (later) it becomes dry and
broken pieces, which the winds scatter.
And Allâh is Able to do everything.
[46] ﺍﻟﻤﺎﻝُ ﻭَﺍﻟﺒَﻨﻮﻥَ ﺯﻳﻨَﺔُ
ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓِ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ۖ ﻭَﺍﻟﺒٰﻘِﻴٰﺖُ
ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤٰﺖُ ﺧَﻴﺮٌ ﻋِﻨﺪَ ﺭَﺑِّﻚَ
ﺛَﻮﺍﺑًﺎ ﻭَﺧَﻴﺮٌ ﺃَﻣَﻠًﺎ
[46] ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব
জীবনের সৌন্দর্য এবং স্থায়ী
সৎকর্মসমূহ আপনার পালনকর্তার কাছে
প্রতিদান প্রাপ্তি ও আশা লাভের জন্যে
উত্তম।
[46] Wealth and children are the
adornment of the life of this world. But
the good righteous deeds, that last, are
better with your Lord for rewards and
better in respect of hope.
[47] ﻭَﻳَﻮﻡَ ﻧُﺴَﻴِّﺮُ ﺍﻟﺠِﺒﺎﻝَ
ﻭَﺗَﺮَﻯ ﺍﻷَﺭﺽَ ﺑﺎﺭِﺯَﺓً
ﻭَﺣَﺸَﺮﻧٰﻬُﻢ ﻓَﻠَﻢ ﻧُﻐﺎﺩِﺭ ﻣِﻨﻬُﻢ
ﺃَﺣَﺪًﺍ
[47] যেদিন আমি পর্বতসমূহকে পরিচালনা করব
এবং আপনি পৃথিবীকে দেখবেন একটি
উম্মুক্ত প্রান্তর এবং আমি মানুষকে একত্রিত
করব অতঃপর তাদের কাউকে ছাড়ব না।
[47] And (remember) the Day We shall
cause the mountains to pass away (like
clouds of dust), and you will see the
earth as a levelled plain, and we shall
gather them all together so as to leave
not one of them behind.
[48] ﻭَﻋُﺮِﺿﻮﺍ ﻋَﻠﻰٰ ﺭَﺑِّﻚَ ﺻَﻔًّﺎ
ﻟَﻘَﺪ ﺟِﺌﺘُﻤﻮﻧﺎ ﻛَﻤﺎ ﺧَﻠَﻘﻨٰﻜُﻢ
ﺃَﻭَّﻝَ ﻣَﺮَّﺓٍ ۚ ﺑَﻞ ﺯَﻋَﻤﺘُﻢ ﺃَﻟَّﻦ
ﻧَﺠﻌَﻞَ ﻟَﻜُﻢ ﻣَﻮﻋِﺪًﺍ
[48] তারা আপনার পালনকর্তার সামনে পেশ
হবে সারিবদ্ধ ভাবে এবং বলা হবেঃ তোমরা
আমার কাছে এসে গেছ; যেমন
তোমাদেরকে প্রথম বার সৃষ্টি করেছিলাম।
না, তোমরা তো বলতে যে, আমি তোমাদের
জন্যে কোন প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করব না।
[48] And they will be set before your
Lord in (lines as) rows, (and Allâh will
say): “Now indeed, you have come to Us
as We created you the first time. Nay,
but you thought that We had appointed
no meeting for you (with Us).”
[49] ﻭَﻭُﺿِﻊَ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐُ ﻓَﺘَﺮَﻯ
ﺍﻟﻤُﺠﺮِﻣﻴﻦَ ﻣُﺸﻔِﻘﻴﻦَ ﻣِﻤّﺎ ﻓﻴﻪِ
ﻭَﻳَﻘﻮﻟﻮﻥَ ﻳٰﻮَﻳﻠَﺘَﻨﺎ ﻣﺎﻝِ ﻫٰﺬَﺍ
ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ ﻻ ﻳُﻐﺎﺩِﺭُ ﺻَﻐﻴﺮَﺓً ﻭَﻻ
ﻛَﺒﻴﺮَﺓً ﺇِﻟّﺎ ﺃَﺣﺼﻯٰﻬﺎ ۚ ﻭَﻭَﺟَﺪﻭﺍ
ﻣﺎ ﻋَﻤِﻠﻮﺍ ﺣﺎﺿِﺮًﺍ ۗ ﻭَﻻ ﻳَﻈﻠِﻢُ
ﺭَﺑُّﻚَ ﺃَﺣَﺪًﺍ
[49] আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা
আছে; তার কারণে আপনি
অপরাধীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত
দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ
কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন
কিছুই বাদ দেয়নি-সবই এতে রয়েছে। তারা
তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে।
আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন
না।
[49] And the Book (one’s Record) will be
placed (in the right hand for a believer
in the Oneness of Allâh, and in the left
hand for a disbeliever in the Oneness of
Allâh), and you will see the Mujrimûn
(criminals, polytheists, sinners), fearful
of that which is (recorded) therein. They
will say: “Woe to us! What sort of Book is
this that leaves neither a small thing nor
a big thing, but has recorded it with
numbers!” And they will find all that
they did, placed before them, and your
Lord treats no one with injustice.
[50] ﻭَﺇِﺫ ﻗُﻠﻨﺎ ﻟِﻠﻤَﻠٰﺌِﻜَﺔِ
ﺍﺳﺠُﺪﻭﺍ ﻝِﺀﺍﺩَﻡَ ﻓَﺴَﺠَﺪﻭﺍ
ﺇِﻟّﺎ ﺇِﺑﻠﻴﺲَ ﻛﺎﻥَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺠِﻦِّ
ﻓَﻔَﺴَﻖَ ﻋَﻦ ﺃَﻣﺮِ ﺭَﺑِّﻪِ ۗ
ﺃَﻓَﺘَﺘَّﺨِﺬﻭﻧَﻪُ ﻭَﺫُﺭِّﻳَّﺘَﻪُ ﺃَﻭﻟِﻴﺎﺀَ
ﻣِﻦ ﺩﻭﻧﻰ ﻭَﻫُﻢ ﻟَﻜُﻢ ﻋَﺪُﻭٌّ ۚ
ﺑِﺌﺲَ ﻟِﻠﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ ﺑَﺪَﻟًﺎ
[50] যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ
আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা
করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের
একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য
করল। অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে
তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ
করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা
জালেমদের জন্যে খুবই নিকৃষ্ট বদল।
[50] And (remember) when We said to
the angels;”Prostrate yourselves unto
Adam.” So they prostrated themselves
except Iblîs (Satan). He was one of the
jinn; he disobeyed the Command of his
Lord. Will you then take him (Iblîs) and
his offspring as protectors and helpers
rather than Me while they are enemies
to you? What an evil is the exchange for
the Zâlimûn (polytheists, and wrong-
doers).
[51] ۞ ﻣﺎ ﺃَﺷﻬَﺪﺗُﻬُﻢ ﺧَﻠﻖَ
ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﻻ ﺧَﻠﻖَ
ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢ ﻭَﻣﺎ ﻛُﻨﺖُ ﻣُﺘَّﺨِﺬَ
ﺍﻟﻤُﻀِﻠّﻴﻦَ ﻋَﻀُﺪًﺍ
[51] নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের সৃজনকালে
আমি তাদেরকে সাক্ষ্য রাখিনি এবং তাদের
নিজেদের সৃজনকালেও না। এবং আমি এমনও
নই যে, বিভ্রান্ত কারীদেরকে
সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করবো।
[51] I (Allâh) made them (Iblîs and his
offspring) not to witness (nor took their
help in) the creation of the heavens and
the earth and not (even) their own
creation, nor was I (Allâh) to take the
misleaders as helpers
[52] ﻭَﻳَﻮﻡَ ﻳَﻘﻮﻝُ ﻧﺎﺩﻭﺍ
ﺷُﺮَﻛﺎﺀِﻯَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺯَﻋَﻤﺘُﻢ
ﻓَﺪَﻋَﻮﻫُﻢ ﻓَﻠَﻢ ﻳَﺴﺘَﺠﻴﺒﻮﺍ
ﻟَﻬُﻢ ﻭَﺟَﻌَﻠﻨﺎ ﺑَﻴﻨَﻬُﻢ ﻣَﻮﺑِﻘًﺎ
[52] যেদিন তিনি বলবেনঃ তোমরা যাদেরকে
আমার শরীক মনে করতে তাদেরকে ডাক।
তারা তখন তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা এ
আহবানে সাড়া দেবে না। আমি তাদের
মধ্যস্থলে রেখে দেব একটি মৃত্যু গহবর।
[52] And (remember) the Day He will
say:”Call those (so-called) partners of
Mine whom you pretended.” Then they
will cry unto them, but they will not
answer them, and We shall put Maubiq
(barrier) between them.
[53] ﻭَﺭَﺀَﺍ ﺍﻟﻤُﺠﺮِﻣﻮﻥَ ﺍﻟﻨّﺎﺭَ
ﻓَﻈَﻨّﻮﺍ ﺃَﻧَّﻬُﻢ ﻣُﻮﺍﻗِﻌﻮﻫﺎ ﻭَﻟَﻢ
ﻳَﺠِﺪﻭﺍ ﻋَﻨﻬﺎ ﻣَﺼﺮِﻓًﺎ
[53] অপরাধীরা আগুন দেখে বোঝে
নেবে যে, তাদেরকে তাতে পতিত হতে
হবে এবং তারা তা থেকে রাস্তা পরিবর্তন
করতে পারবে না।
[53] And the Mujrimûn (criminals,
polytheists, sinners), shall see the Fire
and apprehend that they have to fall
therein. And they will find no way of
escape from there.
[54] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺻَﺮَّﻓﻨﺎ ﻓﻰ ﻫٰﺬَﺍ
ﺍﻟﻘُﺮﺀﺍﻥِ ﻟِﻠﻨّﺎﺱِ ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺜَﻞٍ ۚ
ﻭَﻛﺎﻥَ ﺍﻹِﻧﺴٰﻦُ ﺃَﻛﺜَﺮَ ﺷَﻲﺀٍ
ﺟَﺪَﻟًﺎ
[54] নিশ্চয় আমি এ কোরআনে মানুষকে
নানাভাবে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী
বুঝিয়েছি। মানুষ সব বস্তু থেকে অধিক
তর্কপ্রিয়।
[54] And indeed We have put forth every
kind of example in this Qur’ân, for
mankind. But, man is ever more
quarrelsome than anything.
[55] ﻭَﻣﺎ ﻣَﻨَﻊَ ﺍﻟﻨّﺎﺱَ ﺃَﻥ
ﻳُﺆﻣِﻨﻮﺍ ﺇِﺫ ﺟﺎﺀَﻫُﻢُ ﺍﻟﻬُﺪﻯٰ
ﻭَﻳَﺴﺘَﻐﻔِﺮﻭﺍ ﺭَﺑَّﻬُﻢ ﺇِﻟّﺎ ﺃَﻥ
ﺗَﺄﺗِﻴَﻬُﻢ ﺳُﻨَّﺔُ ﺍﻷَﻭَّﻟﻴﻦَ ﺃَﻭ
ﻳَﺄﺗِﻴَﻬُﻢُ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏُ ﻗُﺒُﻠًﺎ
[55] হেদায়েত আসার পর এ প্রতীক্ষাই শুধু
মানুষকে বিশ্বাস স্থাপন করতে এবং তাদের
পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বিরত
রাখে যে, কখন আসবে তাদের কাছে
পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অথবা কখন
আসবে তাদের কাছেআযাব সামনাসামনি।
[55] And nothing prevents men from
believing, (now) when the guidance (the
Qur’ân) has come to them, and from
asking Forgiveness of their Lord, except
that the ways of the ancients be repeated
with them (i.e. their destruction decreed
by Allâh), or the torment be brought to
them face to face?
[56] ﻭَﻣﺎ ﻧُﺮﺳِﻞُ ﺍﻟﻤُﺮﺳَﻠﻴﻦَ ﺇِﻟّﺎ
ﻣُﺒَﺸِّﺮﻳﻦَ ﻭَﻣُﻨﺬِﺭﻳﻦَ ۚ ﻭَﻳُﺠٰﺪِﻝُ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﺑِﺎﻟﺒٰﻄِﻞِ
ﻟِﻴُﺪﺣِﻀﻮﺍ ﺑِﻪِ ﺍﻟﺤَﻖَّ ۖ
ﻭَﺍﺗَّﺨَﺬﻭﺍ ﺀﺍﻳٰﺘﻰ ﻭَﻣﺎ ﺃُﻧﺬِﺭﻭﺍ
ﻫُﺰُﻭًﺍ
[56] আমি রাসূলগনকে সুসংবাদ দাতা ও ভয়
প্রদর্শন কারীরূপেই প্রেরণ করি এবং
কাফেররাই মিথ্যা অবলম্বনে বিতর্ক করে, তা
দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার
উদ্দেশে এবং তারা আমার নিদর্শনাবলীও
যদ্বারা তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করা হয়,
সেগুলোকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করেছে।
[56] And We send not the Messengers
except as givers of glad tidings and
warners. But those who disbelieve,
dispute with false argument, in order to
refute the truth thereby. And they treat
My Ayât (proofs, evidences, verses,
lessons, signs, revelations, etc.), and that
with which they are warned, as jest and
mockery!
[57] ﻭَﻣَﻦ ﺃَﻇﻠَﻢُ ﻣِﻤَّﻦ ﺫُﻛِّﺮَ
ﺑِـٔﺎﻳٰﺖِ ﺭَﺑِّﻪِ ﻓَﺄَﻋﺮَﺽَ ﻋَﻨﻬﺎ
ﻭَﻧَﺴِﻰَ ﻣﺎ ﻗَﺪَّﻣَﺖ ﻳَﺪﺍﻩُ ۚ ﺇِﻧّﺎ
ﺟَﻌَﻠﻨﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﻗُﻠﻮﺑِﻬِﻢ ﺃَﻛِﻨَّﺔً ﺃَﻥ
ﻳَﻔﻘَﻬﻮﻩُ ﻭَﻓﻰ ﺀﺍﺫﺍﻧِﻬِﻢ ﻭَﻗﺮًﺍ ۖ
ﻭَﺇِﻥ ﺗَﺪﻋُﻬُﻢ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻬُﺪﻯٰ ﻓَﻠَﻦ
ﻳَﻬﺘَﺪﻭﺍ ﺇِﺫًﺍ ﺃَﺑَﺪًﺍ
[57] তার চাইতে অধিক জালেম কে, যাকে
তার পালনকর্তার কালাম দ্বারা বোঝানো হয়,
অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং
তার পূর্ববর্তী কৃতকর্মসমূহ ভুলে যায়? আমি
তাদের অন্তরের উপর পর্দা রেখে
দিয়েছি, যেন তা না বোঝে এবং তাদের
কানে রয়েছে বধিরতার বোঝা। যদি আপনি
তাদেরকে সৎপথের প্রতি দাওয়াত দেন,
তবে কখনই তারা সৎপথে আসবে না।
[57] And who does more wrong than he
who is reminded of the Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) of his Lord, but turns
away from them forgetting what (deeds)
his hands have sent forth. Truly, We
have set veils over their hearts lest they
should understand this (the Qur’ân), and
in their ears, deafness. And if you (O
Muhammad SAW) call them to guidance,
even then they will never be guided.
[58] ﻭَﺭَﺑُّﻚَ ﺍﻟﻐَﻔﻮﺭُ ﺫُﻭ ﺍﻟﺮَّﺣﻤَﺔِ ۖ
ﻟَﻮ ﻳُﺆﺍﺧِﺬُﻫُﻢ ﺑِﻤﺎ ﻛَﺴَﺒﻮﺍ
ﻟَﻌَﺠَّﻞَ ﻟَﻬُﻢُ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏَ ۚ ﺑَﻞ ﻟَﻬُﻢ
ﻣَﻮﻋِﺪٌ ﻟَﻦ ﻳَﺠِﺪﻭﺍ ﻣِﻦ ﺩﻭﻧِﻪِ
ﻣَﻮﺋِﻠًﺎ
[58] আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু, যদি
তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে
পাকড়াও করেন তবে তাদের শাস্তি ত্বরাম্বিত
করতেন, কিন্তু তাদের জন্য রয়েছে একটি
প্রতিশ্রুত সময়, যা থেকে তারা সরে যাওয়ার
জায়গা পাবে না।
[58] And your Lord is Most Forgiving,
Owner of Mercy. Were He to call them to
account for what they have earned, then
surely, He would have hastened their
punishment. But they have their
appointed time, beyond which they will
find no escape.
[59] ﻭَﺗِﻠﻚَ ﺍﻟﻘُﺮﻯٰ ﺃَﻫﻠَﻜﻨٰﻬُﻢ ﻟَﻤّﺎ
ﻇَﻠَﻤﻮﺍ ﻭَﺟَﻌَﻠﻨﺎ ﻟِﻤَﻬﻠِﻜِﻬِﻢ
ﻣَﻮﻋِﺪًﺍ
[59] এসব জনপদও তাদেরকে আমি ধংস
করে দিয়েছি, যখন তারা জালেম হয়ে
গিয়েছিল এবং আমি তাদের ধ্বংসের জন্যে
একটি প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করেছিলাম।
[59] And these towns (population, ‘Ad,
Thamûd) We destroyed them when they
did wrong. And We appointed a fixed
time for their destruction.
[60] ﻭَﺇِﺫ ﻗﺎﻝَ ﻣﻮﺳﻰٰ ﻟِﻔَﺘﻯٰﻪُ
ﻻ ﺃَﺑﺮَﺡُ ﺣَﺘّﻰٰ ﺃَﺑﻠُﻎَ ﻣَﺠﻤَﻊَ
ﺍﻟﺒَﺤﺮَﻳﻦِ ﺃَﻭ ﺃَﻣﻀِﻰَ ﺣُﻘُﺒًﺎ
[60] যখন মূসা তাঁর যুবক (সঙ্গী) কে
বললেনঃ দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে না
পৌছা পর্যন্ত আমি আসব না অথবা আমি যুগ
যুগ ধরে চলতে থাকব।
[60] And (remember) when Mûsa (Moses)
said to his boy-servant: “I will not give
up (travelling) until I reach the junction
of the two seas or (until) I spend years
and years in travelling.”
[61] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺑَﻠَﻐﺎ ﻣَﺠﻤَﻊَ ﺑَﻴﻨِﻬِﻤﺎ
ﻧَﺴِﻴﺎ ﺣﻮﺗَﻬُﻤﺎ ﻓَﺎﺗَّﺨَﺬَ ﺳَﺒﻴﻠَﻪُ
ﻓِﻰ ﺍﻟﺒَﺤﺮِ ﺳَﺮَﺑًﺎ
[61] অতঃপর যখন তাঁরা দুই সুমুদ্রের
সঙ্গমস্থলে পৌছালেন, তখন তাঁরা
নিজেদের মাছের কথা ভুলে গেলেন।
অতঃপর মাছটি সমুদ্রে সুড়ঙ্গ পথ সৃষ্টি করে
নেমে গেল।
[61] But when they reached the junction
of the two seas, they forgot their fish,
and it took its way through the sea as in
a tunnel
[62] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺟﺎﻭَﺯﺍ ﻗﺎﻝَ ﻟِﻔَﺘﻯٰﻪُ
ﺀﺍﺗِﻨﺎ ﻏَﺪﺍﺀَﻧﺎ ﻟَﻘَﺪ ﻟَﻘﻴﻨﺎ ﻣِﻦ
ﺳَﻔَﺮِﻧﺎ ﻫٰﺬﺍ ﻧَﺼَﺒًﺎ
[62] যখন তাঁরা সে স্থানটি অতিক্রম করে
গেলেন, মূসা সঙ্গী কে বললেনঃ
আমাদের নাশতা আন। আমরা এই সফরে
পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছি।
[62] So when they had passed further on
(beyond that fixed place), Mûsa (Moses)
said to his boy-servant: “Bring us our
morning meal; truly, we have suffered
much fatigue in this, our journey.”
[63] ﻗﺎﻝَ ﺃَﺭَﺀَﻳﺖَ ﺇِﺫ ﺃَﻭَﻳﻨﺎ ﺇِﻟَﻰ
ﺍﻟﺼَّﺨﺮَﺓِ ﻓَﺈِﻧّﻰ ﻧَﺴﻴﺖُ
ﺍﻟﺤﻮﺕَ ﻭَﻣﺎ ﺃَﻧﺴﻯٰﻨﻴﻪُ ﺇِﻟَّﺎ
ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦُ ﺃَﻥ ﺃَﺫﻛُﺮَﻩُ ۚ ﻭَﺍﺗَّﺨَﺬَ
ﺳَﺒﻴﻠَﻪُ ﻓِﻰ ﺍﻟﺒَﺤﺮِ ﻋَﺠَﺒًﺎ
[63] সে বললঃ আপনি কি লক্ষ্য করেছেন,
আমরা যখন প্রস্তর খন্ডে আশ্রয়
নিয়েছিলাম, তখন আমি মাছের কথা ভুলে
গিয়েছিলাম। শয়তানই আমাকে একথা স্মরণ
রাখতে ভুলিয়ে দিয়েছিল। মাছটি আশ্চর্য
জনক ভাবে সমুদ্রে নিজের পথ করে
নিয়েছে।
[63] He said:”Do you remember when we
betook ourselves to the rock? I indeed
forgot the fish, none but Shaitân (Satan)
made me forget to remember it. It took
its course into the sea in a strange
(way)!”
[64] ﻗﺎﻝَ ﺫٰﻟِﻚَ ﻣﺎ ﻛُﻨّﺎ ﻧَﺒﻎِ ۚ
ﻓَﺎﺭﺗَﺪّﺍ ﻋَﻠﻰٰ ﺀﺍﺛﺎﺭِﻫِﻤﺎ
ﻗَﺼَﺼًﺎ
[64] মূসা বললেনঃ আমরা তো এ স্থানটিই
খুঁজছিলাম। অতঃপর তাঁরা নিজেদের চিহ্ন ধরে
ফিরে চললেন।
[64] [Mûsa (Moses)] said: “That is what
we have been seeking.” So they went
back retracing their footsteps
[65] ﻓَﻮَﺟَﺪﺍ ﻋَﺒﺪًﺍ ﻣِﻦ ﻋِﺒﺎﺩِﻧﺎ
ﺀﺍﺗَﻴﻨٰﻪُ ﺭَﺣﻤَﺔً ﻣِﻦ ﻋِﻨﺪِﻧﺎ
ﻭَﻋَﻠَّﻤﻨٰﻪُ ﻣِﻦ ﻟَﺪُﻧّﺎ ﻋِﻠﻤًﺎ
[65] অতঃপর তাঁরা আমার বান্দাদের মধ্যে এমন
একজনের সাক্ষাত পেলেন, যাকে আমি
আমার পক্ষ থেকে রহমত দান করেছিলাম ও
আমার পক্ষ থেকে দিয়েছিলাম এক বিশেষ
জ্ঞান।
[65] Then they found one of Our slaves,
on whom We had bestowed mercy from
Us, and whom We had taught knowledge
from Us.
[66] ﻗﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﻣﻮﺳﻰٰ ﻫَﻞ
ﺃَﺗَّﺒِﻌُﻚَ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﻥ ﺗُﻌَﻠِّﻤَﻦِ ﻣِﻤّﺎ
ﻋُﻠِّﻤﺖَ ﺭُﺷﺪًﺍ
[66] মূসা তাঁকে বললেনঃ আমি কি এ শর্তে
আপনার অনুসরণ করতে পারি যে, সত্যপথের
যে জ্ঞান আপনাকে শেখানো হয়েছে, তা
থেকে আমাকে কিছু শিক্ষা দেবেন?
[66] Mûsa (Moses) said to him (Khidr)
“May I follow you so that you teach me
something of that knowledge (guidance
and true path) which you have been
taught (by Allâh)?”
[67] ﻗﺎﻝَ ﺇِﻧَّﻚَ ﻟَﻦ ﺗَﺴﺘَﻄﻴﻊَ
ﻣَﻌِﻰَ ﺻَﺒﺮًﺍ
[67] তিনি বললেনঃ আপনি আমার সাথে
কিছুতেই ধৈর্য্যধারণ করে থাকতে পারবেন
না।
[67] He (Khidr) said: “Verily! You will
not be able to have patience with me!
[68] ﻭَﻛَﻴﻒَ ﺗَﺼﺒِﺮُ ﻋَﻠﻰٰ ﻣﺎ ﻟَﻢ
ﺗُﺤِﻂ ﺑِﻪِ ﺧُﺒﺮًﺍ
[68] যে বিষয় বোঝা আপনার আয়ত্তাধীন
নয়, তা দেখে আপনি ধৈর্য্যধারণ করবেন
কেমন করে?
[68] “And how can you have patience
about a thing which you know not?”
[69] ﻗﺎﻝَ ﺳَﺘَﺠِﺪُﻧﻰ ﺇِﻥ ﺷﺎﺀَ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺻﺎﺑِﺮًﺍ ﻭَﻻ ﺃَﻋﺼﻰ ﻟَﻚَ
ﺃَﻣﺮًﺍ
[69] মূসা বললেনঃ আল্লাহ চাহেন তো আপনি
আমাকে ধৈর্য্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার
কোন আদেশ অমান্য করব না।
[69] Mûsa (Moses) said: “If Allâh wills,
you will find me patient, and I will not
disobey you in aught.”
[70] ﻗﺎﻝَ ﻓَﺈِﻥِ ﺍﺗَّﺒَﻌﺘَﻨﻰ ﻓَﻼ
ﺗَﺴـَٔﻠﻨﻰ ﻋَﻦ ﺷَﻲﺀٍ ﺣَﺘّﻰٰ
ﺃُﺣﺪِﺙَ ﻟَﻚَ ﻣِﻨﻪُ ﺫِﻛﺮًﺍ
[70] তিনি বললেনঃ যদি আপনি আমার অনুসরণ
করেনই তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন
করবেন না, যে পর্যন্ত না আমি নিজেই সে
সম্পর্কে আপনাকে কিছু বলি।
[70] He (Khidr) said: “Then, if you follow
me, ask me not about anything till I
myself mention of it to you.”
[71] ﻓَﺎﻧﻄَﻠَﻘﺎ ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ ﺭَﻛِﺒﺎ
ﻓِﻰ ﺍﻟﺴَّﻔﻴﻨَﺔِ ﺧَﺮَﻗَﻬﺎ ۖ ﻗﺎﻝَ
ﺃَﺧَﺮَﻗﺘَﻬﺎ ﻟِﺘُﻐﺮِﻕَ ﺃَﻫﻠَﻬﺎ ﻟَﻘَﺪ
ﺟِﺌﺖَ ﺷَﻴـًٔﺎ ﺇِﻣﺮًﺍ
[71] অতঃপর তারা চলতে লাগলঃ অবশেষে
যখন তারা নৌকায় আরোহণ করল, তখন তিনি
তাতে ছিদ্র করে দিলেন। মূসা বললেনঃ
আপনি কি এর আরোহীদেরকে ডুবিয়ে
দেয়ার জন্যে এতে ছিদ্র করে দিলেন?
নিশ্চয়ই আপনি একটি গুরুতর মন্দ কাজ করলেন।
[71] So they both proceeded, till, when
they embarked the ship, he (Khidr)
scuttled it. Mûsa (Moses) said: “Have you
scuttled it in order to drown its people?
Verily, you have committed a thing
“Imr” (a Munkar – evil, bad, dreadful
thing).”
[72] ﻗﺎﻝَ ﺃَﻟَﻢ ﺃَﻗُﻞ ﺇِﻧَّﻚَ ﻟَﻦ
ﺗَﺴﺘَﻄﻴﻊَ ﻣَﻌِﻰَ ﺻَﺒﺮًﺍ
[72] তিনি বললেনঃ আমি কি বলিনি যে, আপনি
আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য্য ধরতে পারবেন
না ?
[72] He (Khidr) said: “Did I not tell you,
that you would not be able to have
patience with me?”
[73] ﻗﺎﻝَ ﻻ ﺗُﺆﺍﺧِﺬﻧﻰ ﺑِﻤﺎ
ﻧَﺴﻴﺖُ ﻭَﻻ ﺗُﺮﻫِﻘﻨﻰ ﻣِﻦ
ﺃَﻣﺮﻯ ﻋُﺴﺮًﺍ
[73] মূসা বললেনঃ আমাকে আমার ভুলের
জন্যে অপরাধী করবেন না এবং আমার
কাজে আমার উপর কঠোরতা আরোপ
করবেন না।
[73] [Mûsa (Moses)] said: “Call me not to
account for what I forgot, and be not
hard upon me for my affair (with you).”
[74] ﻓَﺎﻧﻄَﻠَﻘﺎ ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ ﻟَﻘِﻴﺎ
ﻏُﻠٰﻤًﺎ ﻓَﻘَﺘَﻠَﻪُ ﻗﺎﻝَ ﺃَﻗَﺘَﻠﺖَ ﻧَﻔﺴًﺎ
ﺯَﻛِﻴَّﺔً ﺑِﻐَﻴﺮِ ﻧَﻔﺲٍ ﻟَﻘَﺪ ﺟِﺌﺖَ
ﺷَﻴـًٔﺎ ﻧُﻜﺮًﺍ
[74] অতঃপর তারা চলতে লাগল। অবশেষে
যখন একটি বালকের সাক্ষাত পেলেন, তখন
তিনি তাকে হত্যা করলেন। মূসা বললেন?
আপনি কি একটি নিস্পাপ জীবন শেষ করে
দিলেন প্রাণের বিনিময় ছাড়াই? নিশ্চয়ই আপনি
তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন।
[74] Then they both proceeded, till they
met a boy, he (Khidr) killed him. Mûsa
(Moses) said: “Have you killed an
innocent person who had killed none?
Verily, you have committed a thing
“Nukr” (a great Munkar – prohibited,
evil, dreadful thing)!”
[75] ۞ ﻗﺎﻝَ ﺃَﻟَﻢ ﺃَﻗُﻞ ﻟَﻚَ ﺇِﻧَّﻚَ
ﻟَﻦ ﺗَﺴﺘَﻄﻴﻊَ ﻣَﻌِﻰَ ﺻَﺒﺮًﺍ
[75] তিনি বললেনঃ আমি কি বলিনি যে, আপনি
আমার সাথে ধৈর্য্য ধরে থাকতে পারবেন না।
[75] (Khidr) said: “Did I not tell you that
you can have no patience with me?”
[76] ﻗﺎﻝَ ﺇِﻥ ﺳَﺄَﻟﺘُﻚَ ﻋَﻦ
ﺷَﻲﺀٍ ﺑَﻌﺪَﻫﺎ ﻓَﻼ ﺗُﺼٰﺤِﺒﻨﻰ ۖ
ﻗَﺪ ﺑَﻠَﻐﺖَ ﻣِﻦ ﻟَﺪُﻧّﻰ ﻋُﺬﺭًﺍ
[76] মূসা বললেনঃ এরপর যদি আমি আপনাকে
কোন বিষয়ে প্রশ্ন করি, তবে আপনি
আমাকে সাথে রাখবেন না। আপনি আমার পক্ষ
থেকে অভিযোগ মুক্ত হয়ে গেছেন।
[76] [Mûsa (Moses)] said: “If I ask you
anything after this, keep me not in your
company, you have received an excuse
from me.”
[77] ﻓَﺎﻧﻄَﻠَﻘﺎ ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ ﺃَﺗَﻴﺎ
ﺃَﻫﻞَ ﻗَﺮﻳَﺔٍ ﺍﺳﺘَﻄﻌَﻤﺎ ﺃَﻫﻠَﻬﺎ
ﻓَﺄَﺑَﻮﺍ ﺃَﻥ ﻳُﻀَﻴِّﻔﻮﻫُﻤﺎ ﻓَﻮَﺟَﺪﺍ
ﻓﻴﻬﺎ ﺟِﺪﺍﺭًﺍ ﻳُﺮﻳﺪُ ﺃَﻥ ﻳَﻨﻘَﺾَّ
ﻓَﺄَﻗﺎﻣَﻪُ ۖ ﻗﺎﻝَ ﻟَﻮ ﺷِﺌﺖَ
ﻟَﺘَّﺨَﺬﺕَ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺃَﺟﺮًﺍ
[77] অতঃপর তারা চলতে লাগল, অবশেষে
যখন একটি জনপদের অধিবাসীদের কাছে
পৌছে তাদের কাছে খাবার চাইল, তখন তারা
তাদের অতিথেয়তা করতে অস্বীকার করল।
অতঃপর তারা সেখানে একটি পতনোম্মুখ
প্রাচীর দেখতে পেলেন, সেটি তিনি
সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিলেন। মূসা
বললেনঃ আপনি ইচ্ছা করলে তাদের কাছ
থেকে এর পারিশ্রমিক আদায় করতে
পারতেন।
[77] Then they both proceeded, till, when
they came to the people of a town, they
asked them for food, but they refused to
entertain them. Then they found therein
a wall about to collapse and he (Khidr)
set it up straight. [Mûsa (Moses)] said: If
you had wished, surely, you could have
taken wages for it!”
[78] ﻗﺎﻝَ ﻫٰﺬﺍ ﻓِﺮﺍﻕُ ﺑَﻴﻨﻰ
ﻭَﺑَﻴﻨِﻚَ ۚ ﺳَﺄُﻧَﺒِّﺌُﻚَ ﺑِﺘَﺄﻭﻳﻞِ ﻣﺎ
ﻟَﻢ ﺗَﺴﺘَﻄِﻊ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺻَﺒﺮًﺍ
[78] তিনি বললেনঃ এখানেই আমার ও আপনার
মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হল। এখন যে বিষয়ে
আপনি ধৈর্য্য ধরতে পারেননি, আমি তার
তাৎপর্য বলে দিচ্ছি।
[78] (Khidr) said: “This is the parting
between me and you, I will tell you the
interpretation of (those) things over
which you were unable to hold patience
[79] ﺃَﻣَّﺎ ﺍﻟﺴَّﻔﻴﻨَﺔُ ﻓَﻜﺎﻧَﺖ
ﻟِﻤَﺴٰﻜﻴﻦَ ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ ﻓِﻰ ﺍﻟﺒَﺤﺮِ
ﻓَﺄَﺭَﺩﺕُ ﺃَﻥ ﺃَﻋﻴﺒَﻬﺎ ﻭَﻛﺎﻥَ
ﻭَﺭﺍﺀَﻫُﻢ ﻣَﻠِﻚٌ ﻳَﺄﺧُﺬُ ﻛُﻞَّ
ﺳَﻔﻴﻨَﺔٍ ﻏَﺼﺒًﺎ
[79] নৌকাটির ব্যাপারে-সেটি ছিল
কয়েকজন দরিদ্র ব্যক্তির। তারা সমুদ্রে
জীবিকা অন্বেষন করত। আমি ইচ্ছা করলাম
যে, সেটিকে ক্রটিযুক্ত করে দেই।
তাদের অপরদিকে ছিল এক বাদশাহ। সে
বলপ্রয়োগে প্রত্যেকটি নৌকা ছিনিয়ে
নিত।
[79] “As for the ship, it belonged to
Masâkîn (poor people) working in the
sea. So I wished to make a defective
damage in it, as there was a king behind
them who seized every ship by force.
[80] ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺍﻟﻐُﻠٰﻢُ ﻓَﻜﺎﻥَ ﺃَﺑَﻮﺍﻩُ
ﻣُﺆﻣِﻨَﻴﻦِ ﻓَﺨَﺸﻴﻨﺎ ﺃَﻥ
ﻳُﺮﻫِﻘَﻬُﻤﺎ ﻃُﻐﻴٰﻨًﺎ ﻭَﻛُﻔﺮًﺍ
[80] বালকটির ব্যাপার তার পিতা-মাতা ছিল ঈমানদার।
আমি আশঙ্কা করলাম যে, সে অবাধ্যতা ও
কুফর দ্বারা তাদেরকে প্রভাবিত করবে।
[80] “And as for the boy, his parents
were believers, and we feared lest he
should oppress them by rebellion and
disbelief.
[81] ﻓَﺄَﺭَﺩﻧﺎ ﺃَﻥ ﻳُﺒﺪِﻟَﻬُﻤﺎ ﺭَﺑُّﻬُﻤﺎ
ﺧَﻴﺮًﺍ ﻣِﻨﻪُ ﺯَﻛﻮٰﺓً ﻭَﺃَﻗﺮَﺏَ
ﺭُﺣﻤًﺎ
[81] অতঃপর আমি ইচ্ছা করলাম যে, তাদের
পালনকর্তা তাদেরকে মহত্তর, তার চাইতে
পবিত্রতায় ও ভালবাসায় ঘনিষ্ঠতর একটি শ্রেষ্ঠ
সন্তান দান করুক।
[81] “So we intended that their Lord
should change him for them for one
better in righteousness and nearer to
mercy.
[82] ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺍﻟﺠِﺪﺍﺭُ ﻓَﻜﺎﻥَ
ﻟِﻐُﻠٰﻤَﻴﻦِ ﻳَﺘﻴﻤَﻴﻦِ ﻓِﻰ ﺍﻟﻤَﺪﻳﻨَﺔِ
ﻭَﻛﺎﻥَ ﺗَﺤﺘَﻪُ ﻛَﻨﺰٌ ﻟَﻬُﻤﺎ ﻭَﻛﺎﻥَ
ﺃَﺑﻮﻫُﻤﺎ ﺻٰﻠِﺤًﺎ ﻓَﺄَﺭﺍﺩَ ﺭَﺑُّﻚَ ﺃَﻥ
ﻳَﺒﻠُﻐﺎ ﺃَﺷُﺪَّﻫُﻤﺎ ﻭَﻳَﺴﺘَﺨﺮِﺟﺎ
ﻛَﻨﺰَﻫُﻤﺎ ﺭَﺣﻤَﺔً ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻚَ ۚ ﻭَﻣﺎ
ﻓَﻌَﻠﺘُﻪُ ﻋَﻦ ﺃَﻣﺮﻯ ۚ ﺫٰﻟِﻚَ ﺗَﺄﻭﻳﻞُ
ﻣﺎ ﻟَﻢ ﺗَﺴﻄِﻊ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺻَﺒﺮًﺍ
[82] প্রাচীরের ব্যাপার-সেটি ছিল নগরের
দুজন পিতৃহীন বালকের। এর নীচে ছিল
তাদের গুপ্তধন এবং তাদের পিতা ছিল সৎকর্ম
পরায়ন। সুতরাং আপনার পালনকর্তা দায়বশতঃ ইচ্ছা
করলেন যে, তারা যৌবনে পদার্পন করুক
এবং নিজেদের গুপ্তধন উদ্ধার করুক। আমি
নিজ মতে এটা করিনি। আপনি যে বিষয়ে
ধৈর্য্যধারণ করতে অক্ষম হয়েছিলেন, এই
হল তার ব্যাখ্যা।
[82] “And as for the wall, it belonged to
two orphan boys in the town; and there
was under it a treasure belonging to
them; and their father was a righteous
man, and your Lord intended that they
should attain their age of full strength
and take out their treasure as a mercy
from your Lord. And I did them not of
my own accord. That is the
interpretation of those (things) over
which you could not hold patience.”
[83] ﻭَﻳَﺴـَٔﻠﻮﻧَﻚَ ﻋَﻦ ﺫِﻯ
ﺍﻟﻘَﺮﻧَﻴﻦِ ۖ ﻗُﻞ ﺳَﺄَﺗﻠﻮﺍ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ
ﻣِﻨﻪُ ﺫِﻛﺮًﺍ
[83] তারা আপনাকে যুলকারনাইন সম্পর্কে
জিজ্ঞাসা করে। বলুনঃ আমি তোমাদের কাছে
তাঁর কিছু অবস্থা বর্ণনা করব।
[83] And they ask you about Dhul-
Qarnain. Say: “I shall recite to you
something of his story.”
[84] ﺇِﻧّﺎ ﻣَﻜَّﻨّﺎ ﻟَﻪُ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﻭَﺀﺍﺗَﻴﻨٰﻪُ ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲﺀٍ ﺳَﺒَﺒًﺎ
[84] আমি তাকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত
করেছিলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের
কার্যোপকরণ দান করেছিলাম।
[84] Verily, We established him in the
earth, and We gave him the means of
everything.
[85] ﻓَﺄَﺗﺒَﻊَ ﺳَﺒَﺒًﺎ
[85] অতঃপর তিনি এক কার্যোপকরণ অবলম্বন
করলেন।
[85] So he followed a way.
[86] ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ ﺑَﻠَﻎَ ﻣَﻐﺮِﺏَ
ﺍﻟﺸَّﻤﺲِ ﻭَﺟَﺪَﻫﺎ ﺗَﻐﺮُﺏُ ﻓﻰ
ﻋَﻴﻦٍ ﺣَﻤِﺌَﺔٍ ﻭَﻭَﺟَﺪَ ﻋِﻨﺪَﻫﺎ
ﻗَﻮﻣًﺎ ۗ ﻗُﻠﻨﺎ ﻳٰﺬَﺍ ﺍﻟﻘَﺮﻧَﻴﻦِ ﺇِﻣّﺎ
ﺃَﻥ ﺗُﻌَﺬِّﺏَ ﻭَﺇِﻣّﺎ ﺃَﻥ ﺗَﺘَّﺨِﺬَ
ﻓﻴﻬِﻢ ﺣُﺴﻨًﺎ
[86] অবশেষে তিনি যখন সুর্যের
অস্তাচলে পৌছলেন; তখন তিনি সুর্যকে
এক পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যেতে
দেখলেন এবং তিনি সেখানে এক
সম্প্রদায়কে দেখতে পেলেন। আমি
বললাম, হে যুলকারনাইন! আপনি তাদেরকে
শাস্তি দিতে পারেন অথবা তাদেরকে
সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পারেন।
[86] Until, when he reached the setting
place of the sun, he found it setting in a
spring of black muddy (or hot) water.
And he found near it a people. We
(Allâh) said (by inspiration): “O Dhul-
Qarnain! Either you punish them, or
treat them with kindness.”
[87] ﻗﺎﻝَ ﺃَﻣّﺎ ﻣَﻦ ﻇَﻠَﻢَ ﻓَﺴَﻮﻑَ
ﻧُﻌَﺬِّﺑُﻪُ ﺛُﻢَّ ﻳُﺮَﺩُّ ﺇِﻟﻰٰ ﺭَﺑِّﻪِ
ﻓَﻴُﻌَﺬِّﺑُﻪُ ﻋَﺬﺍﺑًﺎ ﻧُﻜﺮًﺍ
[87] তিনি বললেনঃ যে কেউ
সীমালঙ্ঘনকারী হবে আমি তাকে শাস্তি
দেব। অতঃপর তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে
ফিরে যাবেন। তিনি তাকে কঠোর শাস্তি
দেবেন।
[87] He said: “As for him (a disbeliever
in the Oneness of Allâh) who does wrong,
we shall punish him; and then he will be
brought back unto his Lord; Who will
punish him with a terrible torment
(Hell).
[88] ﻭَﺃَﻣّﺎ ﻣَﻦ ﺀﺍﻣَﻦَ ﻭَﻋَﻤِﻞَ
ﺻٰﻠِﺤًﺎ ﻓَﻠَﻪُ ﺟَﺰﺍﺀً ﺍﻟﺤُﺴﻨﻰٰ ۖ
ﻭَﺳَﻨَﻘﻮﻝُ ﻟَﻪُ ﻣِﻦ ﺃَﻣﺮِﻧﺎ ﻳُﺴﺮًﺍ
[88] এবং যে বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম
করে তার জন্য প্রতিদান রয়েছে কল্যাণ এবং
আমার কাজে তাকে সহজ নির্দেশ দেব।
[88] “But as for him who believes (in
Allâh’s Oneness) and works
righteousness, he shall have the best
reward, (Paradise), and we (Dhul-
Qarnain) shall speak unto him mild
words (as instructions).”
[89] ﺛُﻢَّ ﺃَﺗﺒَﻊَ ﺳَﺒَﺒًﺎ
[89] অতঃপর তিনি এক উপায় অবলম্বন করলেন।
[89] Then he followed another way,
[90] ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ ﺑَﻠَﻎَ ﻣَﻄﻠِﻊَ
ﺍﻟﺸَّﻤﺲِ ﻭَﺟَﺪَﻫﺎ ﺗَﻄﻠُﻊُ ﻋَﻠﻰٰ
ﻗَﻮﻡٍ ﻟَﻢ ﻧَﺠﻌَﻞ ﻟَﻬُﻢ ﻣِﻦ ﺩﻭﻧِﻬﺎ
ﺳِﺘﺮًﺍ
[90] অবশেষে তিনি যখন সূর্যের
উদয়াচলে পৌছলেন, তখন তিনি তাকে
এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদয় হতে
দেখলেন, যাদের জন্যে সূর্যতাপ
থেকে আত্নরক্ষার কোন আড়াল আমি সৃষ্টি
করিনি।
[90] Until, when he came to the rising
place of the sun, he found it rising on a
people for whom We (Allâh) had
provided no shelter against the sun.
[91] ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻭَﻗَﺪ ﺃَﺣَﻄﻨﺎ ﺑِﻤﺎ
ﻟَﺪَﻳﻪِ ﺧُﺒﺮًﺍ
[91] প্রকৃত ঘটনা এমনিই। তার বৃত্তান্ত আমি
সম্যক অবগত আছি।
[91] So (it was)! And We knew all about
him (Dhul-Qarnain).
[92] ﺛُﻢَّ ﺃَﺗﺒَﻊَ ﺳَﺒَﺒًﺎ
[92] আবার তিনি এক পথ ধরলেন।
[92] Then he followed (another) way,
[93] ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ ﺑَﻠَﻎَ ﺑَﻴﻦَ
ﺍﻟﺴَّﺪَّﻳﻦِ ﻭَﺟَﺪَ ﻣِﻦ ﺩﻭﻧِﻬِﻤﺎ
ﻗَﻮﻣًﺎ ﻻ ﻳَﻜﺎﺩﻭﻥَ ﻳَﻔﻘَﻬﻮﻥَ
ﻗَﻮﻟًﺎ
[93] অবশেষে যখন তিনি দুই পর্বত
প্রচীরের মধ্যস্থলে পৌছলেন, তখন
তিনি সেখানে এক জাতিকে পেলেন, যারা তাঁর
কথা একেবারেই বুঝতে পারছিল না।
[93] Until, when he reached between two
mountains, he found, before (near) them
(those two mountains), a people who
scarcely understood a word.
[94] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﺬَﺍ ﺍﻟﻘَﺮﻧَﻴﻦِ ﺇِﻥَّ
ﻳَﺄﺟﻮﺝَ ﻭَﻣَﺄﺟﻮﺝَ ﻣُﻔﺴِﺪﻭﻥَ
ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﻓَﻬَﻞ ﻧَﺠﻌَﻞُ ﻟَﻚَ
ﺧَﺮﺟًﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﻥ ﺗَﺠﻌَﻞَ ﺑَﻴﻨَﻨﺎ
ﻭَﺑَﻴﻨَﻬُﻢ ﺳَﺪًّﺍ
[94] তারা বললঃ হে যুলকারনাইন, ইয়াজুজ ও
মাজুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আপনি
বললে আমরা আপনার জন্যে কিছু কর ধার্য
করব এই শর্তে যে, আপনি আমাদের ও
তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে
দেবেন।
[94] They said: “O Dhul-Qarnain! Verily!
Ya’jûj and Ma’jûj (Gog and Magog) are
doing great mischief in the land. Shall
we then pay you a tribute in order that
you might erect a barrier between us
and them?”
[95] ﻗﺎﻝَ ﻣﺎ ﻣَﻜَّﻨّﻰ ﻓﻴﻪِ ﺭَﺑّﻰ
ﺧَﻴﺮٌ ﻓَﺄَﻋﻴﻨﻮﻧﻰ ﺑِﻘُﻮَّﺓٍ ﺃَﺟﻌَﻞ
ﺑَﻴﻨَﻜُﻢ ﻭَﺑَﻴﻨَﻬُﻢ ﺭَﺩﻣًﺎ
[95] তিনি বললেনঃ আমার পালনকর্তা আমাকে
যে সামর্থø দিয়েছেন, তাই যথেষ্ট।
অতএব, তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য
কর। আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে একটি
সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব।
[95] He said: “That (wealth, authority
and power) in which my Lord had
established me is better (than your
tribute). So help me with strength (of
men), I will erect between you and them
a barrier.
[96] ﺀﺍﺗﻮﻧﻰ ﺯُﺑَﺮَ ﺍﻟﺤَﺪﻳﺪِ ۖ
ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ ﺳﺎﻭﻯٰ ﺑَﻴﻦَ
ﺍﻟﺼَّﺪَﻓَﻴﻦِ ﻗﺎﻝَ ﺍﻧﻔُﺨﻮﺍ ۖ
ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ ﺟَﻌَﻠَﻪُ ﻧﺎﺭًﺍ ﻗﺎﻝَ
ﺀﺍﺗﻮﻧﻰ ﺃُﻓﺮِﻍ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻗِﻄﺮًﺍ
[96] তোমরা আমাকে লোহার পাত এনে দাও।
অবশেষে যখন পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা
স্থান পূর্ণ হয়ে গেল, তখন তিনি বললেনঃ
তোমরা হাঁপরে দম দিতে থাক। অবশেষে
যখন তা আগুনে পরিণত হল, তখন তিনি বললেনঃ
তোমরা গলিত তামা নিয়ে এস, আমি তা এর
উপরে ঢেলে দেই।
[96] “Give me pieces (blocks) of iron,”
then, when he had filled up the gap
between the two mountain-cliffs, he
said: “Blow,” then when he had made
them (red as) fire, he said: “Bring me
molten copper to pour over them.”
[97] ﻓَﻤَﺎ ﺍﺳﻄٰﻌﻮﺍ ﺃَﻥ ﻳَﻈﻬَﺮﻭﻩُ
ﻭَﻣَﺎ ﺍﺳﺘَﻄٰﻌﻮﺍ ﻟَﻪُ ﻧَﻘﺒًﺎ
[97] অতঃপর ইয়াজুজ ও মাজুজ তার উপরে
আরোহণ করতে পারল না এবং তা ভেদ
করতে ও সক্ষম হল না।
[97] So they [Ya’jûj and Ma’jûj (Gog and
Magog)] could not to scale it or dig
through it.
[98] ﻗﺎﻝَ ﻫٰﺬﺍ ﺭَﺣﻤَﺔٌ ﻣِﻦ ﺭَﺑّﻰ ۖ
ﻓَﺈِﺫﺍ ﺟﺎﺀَ ﻭَﻋﺪُ ﺭَﺑّﻰ ﺟَﻌَﻠَﻪُ
ﺩَﻛّﺎﺀَ ۖ ﻭَﻛﺎﻥَ ﻭَﻋﺪُ ﺭَﺑّﻰ ﺣَﻘًّﺎ
[98] যুলকারনাইন বললেনঃ এটা আমার
পালনকর্তার অনুগ্রহ। যখন আমার পালনকর্তার
প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণ-
বিচূর্ণ করে দেবেন এবং আমার পালনকর্তার
প্রতিশ্রুতি সত্য।
[98] (Dhul-Qarnain) said: “This is a
mercy from my Lord, but when the
Promise of my Lord comes, He shall level
it down to the ground. And the Promise
of my Lord is ever true.”
[99] ۞ ﻭَﺗَﺮَﻛﻨﺎ ﺑَﻌﻀَﻬُﻢ
ﻳَﻮﻣَﺌِﺬٍ ﻳَﻤﻮﺝُ ﻓﻰ ﺑَﻌﺾٍ ۖ
ﻭَﻧُﻔِﺦَ ﻓِﻰ ﺍﻟﺼّﻮﺭِ ﻓَﺠَﻤَﻌﻨٰﻬُﻢ
ﺟَﻤﻌًﺎ
[99] আমি সেদিন তাদেরকে দলে দলে
তরঙ্গের আকারে ছেড়ে দেব এবং শিঙ্গায়
ফুঁৎকার দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের
সবাইকে একত্রিত করে আনব।
[99] And on that Day [i.e. the Day Ya’jûj
and Ma’jûj (Gog and Magog) will come
out], We shall leave them to surge like
waves on one another, and the Trumpet
will be blown, and We shall collect them
(the creatures) all together.
[100] ﻭَﻋَﺮَﺿﻨﺎ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﻳَﻮﻣَﺌِﺬٍ
ﻟِﻠﻜٰﻔِﺮﻳﻦَ ﻋَﺮﺿًﺎ
[100] সেদিন আমি কাফেরদের কাছে
জাহান্নামকে প্রত্যক্ষ ভাবে উপস্থিত করব।
[100] And on that Day We shall present
Hell to the disbelievers, plain to view,—
[101] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛﺎﻧَﺖ ﺃَﻋﻴُﻨُﻬُﻢ ﻓﻰ
ﻏِﻄﺎﺀٍ ﻋَﻦ ﺫِﻛﺮﻯ ﻭَﻛﺎﻧﻮﺍ ﻻ
ﻳَﺴﺘَﻄﻴﻌﻮﻥَ ﺳَﻤﻌًﺎ
[101] যাদের চক্ষুসমূহের উপর পর্দা ছিল
আমার স্মরণ থেকে এবং যারা শুনতেও সক্ষম
ছিল না।
[101] (To) those whose eyes had been
under a covering from My Reminder
(this Qur’ân), and who could not bear to
hear (it).
[102] ﺃَﻓَﺤَﺴِﺐَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ
ﺃَﻥ ﻳَﺘَّﺨِﺬﻭﺍ ﻋِﺒﺎﺩﻯ ﻣِﻦ
ﺩﻭﻧﻰ ﺃَﻭﻟِﻴﺎﺀَ ۚ ﺇِﻧّﺎ ﺃَﻋﺘَﺪﻧﺎ
ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﻟِﻠﻜٰﻔِﺮﻳﻦَ ﻧُﺰُﻟًﺎ
[102] কাফেররা কি মনে করে যে, তারা
আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদেরকে
অভিভাবক রূপে গ্রহণ করবে? আমি
কাফেরদের অভ্যর্থনার জন্যে
জাহান্নামকে প্রস্তুত করে রেখেছি।
[102] Do then those who disbelieved
think that they can take My slaves [i.e.,
the angels, Allâh’s Messengers, ‘Īsā
(Jesus), son of Maryam (Mary)] as
Auliyâ’ (lords, gods, protectors) besides
Me? Verily, We have prepared Hell as an
entertainment for the disbelievers (in
the Oneness of Allâh Islâmic
Monotheism).
[103] ﻗُﻞ ﻫَﻞ ﻧُﻨَﺒِّﺌُﻜُﻢ
ﺑِﺎﻷَﺧﺴَﺮﻳﻦَ ﺃَﻋﻤٰﻠًﺎ
[103] বলুনঃ আমি কি তোমাদেরকে সেসব
লোকের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক দিয়ে
খুবই ক্ষতিগ্রস্ত।
[103] Say (O Muhammad SAW): “Shall
We tell you the greatest losers in respect
of (their) deeds?
[104] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺿَﻞَّ ﺳَﻌﻴُﻬُﻢ ﻓِﻰ
ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓِ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﻭَﻫُﻢ
ﻳَﺤﺴَﺒﻮﻥَ ﺃَﻧَّﻬُﻢ ﻳُﺤﺴِﻨﻮﻥَ
ﺻُﻨﻌًﺎ
[104] তারাই সে লোক, যাদের প্রচেষ্টা
পার্থিবজীবনে বিভ্রান্ত হয়, অথচ তারা মনে
করে যে, তারা সৎকর্ম করেছে।
[104] “Those whose efforts have been
wasted in this life while they thought
that they were acquiring good by their
deeds!
[105] ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ
ﺑِـٔﺎﻳٰﺖِ ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﻭَﻟِﻘﺎﺋِﻪِ ﻓَﺤَﺒِﻄَﺖ
ﺃَﻋﻤٰﻠُﻬُﻢ ﻓَﻼ ﻧُﻘﻴﻢُ ﻟَﻬُﻢ ﻳَﻮﻡَ
ﺍﻟﻘِﻴٰﻤَﺔِ ﻭَﺯﻧًﺎ
[105] তারাই সে লোক, যারা তাদের
পালনকর্তার নিদর্শনাবলী এবং তাঁর সাথে
সাক্ষাতের বিষয় অস্বীকার করে। ফলে
তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়। সুতরাং
কেয়ামতের দিন তাদের জন্য আমি কোন
গুরুত্ব স্থির করব না।
[105] “They are those who deny the Ayât
(proofs, evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) of their Lord and the
Meeting with Him (in the Hereafter). So
their works are in vain, and on the Day
of Resurrection, We shall assign not
weight for them.
[106] ﺫٰﻟِﻚَ ﺟَﺰﺍﺅُﻫُﻢ ﺟَﻬَﻨَّﻢُ ﺑِﻤﺎ
ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﻭَﺍﺗَّﺨَﺬﻭﺍ ﺀﺍﻳٰﺘﻰ
ﻭَﺭُﺳُﻠﻰ ﻫُﺰُﻭًﺍ
[106] জাহান্নাম-এটাই তাদের প্রতিফল; কারণ,
তারা কাফের হয়েছে এবং আমার নিদর্শনাবলী
ও রসূলগণকে বিদ্রূপের বিষয় রূপে গ্রহণ
করেছে।
[106] “That shall be their recompense,
Hell; because they disbelieved and took
My Ayât (proofs, evidences, verses,
lessons, signs, revelations, etc.) and My
Messengers by way of jest and mockery.
[107] ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ
ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤٰﺖِ ﻛﺎﻧَﺖ ﻟَﻬُﻢ
ﺟَﻨّٰﺖُ ﺍﻟﻔِﺮﺩَﻭﺱِ ﻧُﺰُﻟًﺎ
[107] যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম
সম্পাদন করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্যে
আছে জান্নাতুল ফেরদাউস।
[107] “Verily! those who believe (in the
Oneness of Allâh – Islâmic Monotheism)
and do righteous deeds, shall have the
Gardens of Al-Firdaus (the Paradise) for
their entertainment.
[108] ﺧٰﻠِﺪﻳﻦَ ﻓﻴﻬﺎ ﻻ ﻳَﺒﻐﻮﻥَ
ﻋَﻨﻬﺎ ﺣِﻮَﻟًﺎ
[108] সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখান
থেকে স্থান পরিবর্তন করতে চাইবে না।
[108] “Wherein they shall dwell (forever).
No desire will they have for removal
therefrom.”
[109] ﻗُﻞ ﻟَﻮ ﻛﺎﻥَ ﺍﻟﺒَﺤﺮُ ﻣِﺪﺍﺩًﺍ
ﻟِﻜَﻠِﻤٰﺖِ ﺭَﺑّﻰ ﻟَﻨَﻔِﺪَ ﺍﻟﺒَﺤﺮُ ﻗَﺒﻞَ
ﺃَﻥ ﺗَﻨﻔَﺪَ ﻛَﻠِﻤٰﺖُ ﺭَﺑّﻰ ﻭَﻟَﻮ
ﺟِﺌﻨﺎ ﺑِﻤِﺜﻠِﻪِ ﻣَﺪَﺩًﺍ
[109] বলুনঃ আমার পালনকর্তার কথা, লেখার
জন্যে যদি সমুদ্রের পানি কালি হয়, তবে
আমার পালনকর্তার কথা, শেষ হওয়ার আগেই
সে সমুদ্র নিঃশেষিত হয়ে যাবে। সাহায্যার্থে
অনুরূপ আরেকটি সমুদ্র এনে দিলেও।
[109] Say (O Muhammad SAW to
mankind). “If the sea were ink for
(writing) the Words of my Lord, surely,
the sea would be exhausted before the
Words of my Lord would be finished,
even if we brought (another sea) like it
for its aid.”
[110] ﻗُﻞ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﺃَﻧﺎ۠ ﺑَﺸَﺮٌ ﻣِﺜﻠُﻜُﻢ
ﻳﻮﺣﻰٰ ﺇِﻟَﻰَّ ﺃَﻧَّﻤﺎ ﺇِﻟٰﻬُﻜُﻢ ﺇِﻟٰﻪٌ
ﻭٰﺣِﺪٌ ۖ ﻓَﻤَﻦ ﻛﺎﻥَ ﻳَﺮﺟﻮﺍ ﻟِﻘﺎﺀَ
ﺭَﺑِّﻪِ ﻓَﻠﻴَﻌﻤَﻞ ﻋَﻤَﻠًﺎ ﺻٰﻠِﺤًﺎ ﻭَﻻ
ﻳُﺸﺮِﻙ ﺑِﻌِﺒﺎﺩَﺓِ ﺭَﺑِّﻪِ ﺃَﺣَﺪًﺍ
[110] বলুনঃ আমি ও তোমাদের মতই একজন
মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে,
তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে
ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে,
সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার
পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরীক না
করে।
[110] Say (O Muhammad SAW): “I am
only a man like you. It has been revealed
to me that your Ilâh (God) is One Ilâh
(God — i.e. Allâh). So whoever hopes for
the Meeting with his Lord, let him work
righteousness and associate none as a
partner in the worship of his Lord.”
Bangla translation of Quran. Developed
by Syed Mohammad Rasel
Surah Al Kahf Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি নিজের বান্দার প্রতি এ গ্রন্থ নাযিল করেছেন এবং তাতে কোন বক্রতা রাখেননি। 2. একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ভীষণ বিপদের ভয় প্রদর্শন করে এবং মুমিনদেরকে যারা সৎকর্ম সম্পাদন করে- তাদেরকে সুসংবাদ দান করে যে, তাদের জন্যে উত্তম প্রতিদান রয়েছে। 3. তারা তাতে চিরকাল অবস্থান করবে। 4. এবং তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করার জন্যে যারা বলে যে, আল্লাহর সন্তান রয়েছে। 5. এ সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও নেই। কত কঠিন তাদের মুখের কথা। তারা যা বলে তা তো সবই মিথ্যা। 6. যদি তারা এই বিষয়বস্তুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করে, তবে তাদের পশ্চাতে সম্ভবতঃ আপনি পরিতাপ করতে করতে নিজের প্রাণ নিপাত করবেন। 7. আমি পৃথিবীস্থ সব কিছুকে পৃথিবীর জন্যে শোভা করেছি, যাতে লোকদের পরীক্ষা করি যে, তাদের মধ্যে কে ভাল কাজ করে। 8. এবং তার উপর যাকিছু রয়েছে, অবশ্যই তা আমি উদ্ভিদশূন্য মাটিতে পরিণত করে দেব। 9. আপনি কি ধারণা করেন যে, গুহা ও গর্তের অধিবাসীরা আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে বিস্ময়কর ছিল? 10. যখন যুবকরা পাহাড়ের গুহায় আশ্রয়গ্রহণ করে তখন দোআ করেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে নিজের কাছ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্যে আমাদের কাজ সঠিকভাবে পূর্ণ করুন। 11. তখন আমি কয়েক বছরের জন্যে গুহায় তাদের কানের উপর নিদ্রার পর্দা ফেলে দেই। 12. অতঃপর আমি তাদেরকে পুনরত্থিত করি, একথা জানার জন্যে যে, দুই দলের মধ্যে কোন দল তাদের অবস্থানকাল সম্পর্কে অধিক নির্ণয় করতে পারে। 13. আপনার কাছে তাদের ইতিবৃত্তান্ত সঠিকভাবে বর্ণনা করছি। তারা ছিল কয়েকজন যুবক। তারা তাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং আমি তাদের সৎপথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। 14. আমি তাদের মন দৃঢ় করেছিলাম, যখন তারা উঠে দাঁড়িয়েছিল। অতঃপর তারা বললঃ আমাদের পালনকর্তা আসমান ও যমীনের পালনকর্তা আমরা কখনও তার পরিবর্তে অন্য কোন উপাস্যকে আহবান করব না। যদি করি, তবে তা অত্যন্ত গর্হিত কাজ হবে। 15. এরা আমাদেরই স্ব-জাতি, এরা তাঁর পরিবর্তে অনেক উপাস্য গ্রহণ করেছে। তারা এদের সম্পর্কে প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থিত করে না কেন? যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা উদ্ভাবন করে, তার চাইতে অধিক গোনাহগার আর কে? 16. তোমরা যখন তাদের থেকে পৃথক হলে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের এবাদত করে তাদের থেকে, তখন তোমরা গুহায় আশ্রয়গ্রহণ কর। তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে দয়া বিস্তার করবেন এবং তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ কর্মকে ফলপ্রসু করার ব্যবস্থা করবেন। 17. তুমি সূর্যকে দেখবে, যখন উদিত হয়, তাদের গুহা থেকে পাশ কেটে ডান দিকে চলে যায় এবং যখন অস্ত যায়, তাদের থেকে পাশ কেটে বামদিকে চলে যায়, অথচ তারা গুহার প্রশস্ত চত্বরে অবস্থিত। এটা আল্লাহর নিদর্শনাবলীর অন্যতম। আল্লাহ যাকে সৎপথে চালান, সেই সৎপথ প্রাপ্ত এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, আপনি কখনও তার জন্যে পথপ্রদর্শনকারী ও সাহায্যকারী পাবেন না। 18. তুমি মনে করবে তারা জাগ্রত, অথচ তারা নিদ্রিত। আমি তাদেরকে পার্শ্ব পরিবর্তন করাই ডান দিকে ও বাম দিকে। তাদের কুকুর ছিল সামনের পা দুটি গুহাদ্বারে প্রসারিত করে। যদি তুমি উঁকি দিয়ে তাদেরকে দেখতে, তবে পেছন ফিরে পলায়ন করতে এবং তাদের ভয়ে আতংক গ্রস্ত হয়ে পড়তে। 19. আমি এমনি ভাবে তাদেরকে জাগ্রত করলাম, যাতে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের একজন বললঃ তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ? তাদের কেউ বললঃ একদিন অথবা একদিনের কিছু অংশ অবস্থান করছি। কেউ কেউ বললঃ তোমাদের পালনকর্তাই ভাল জানেন তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ। এখন তোমাদের একজনকে তোমাদের এই মুদ্রাসহ শহরে প্রেরণ কর; সে যেন দেখে কোন খাদ্য পবিত্র। অতঃপর তা থেকে যেন কিছু খাদ্য নিয়ে আসে তোমাদের জন্য; সে যেন নম্রতা সহকারে যায় ও কিছুতেই যেন তোমাদের খবর কাউকে না জানায়। 20. তারা যদি তোমাদের খবর জানতে পারে, তবে পাথর মেরে তোমাদেরকে হত্যা করবে, অথবা তোমাদেরকে তাদের ধর্মে ফিরিয়ে নেবে। তাহলে তোমরা কখনই সাফল্য লাভ করবে না। 21. এমনিভাবে আমি তাদের খবর প্রকাশ করে দিলাম, যাতে তারা জ্ঞাত হয় যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কেয়ামতে কোন সন্দেহ নেই। যখন তারা নিজেদের কর্তব্য বিষয়ে পরস্পর বিতর্ক করছিল, তখন তারা বললঃ তাদের উপর সৌধ নির্মাণ কর। তাদের পালনকর্তা তাদের বিষয়ে ভাল জানেন। তাদের কর্তব্য বিষয়ে যাদের মত প্রবল হল, তারা বললঃ আমরা অবশ্যই তাদের স্থানে মসজিদ নির্মান করব। 22. অজ্ঞাত বিষয়ে অনুমানের উপর ভিত্তি করে এখন তারা বলবেঃ তারা ছিল তিন জন; তাদের চতুর্থটি তাদের কুকুর। একথাও বলবে; তারা পাঁচ জন। তাদের ছষ্ঠটি ছিল তাদের কুকুর। আরও বলবেঃ তারা ছিল সাত জন। তাদের অষ্টমটি ছিল তাদের কুকুর। বলুনঃ আমার পালনকর্তা তাদের সংখ্যা ভাল জানেন। তাদের খবর অল্প লোকই জানে। সাধারণ আলোচনা ছাড়া আপনি তাদের সম্পর্কে বিতর্ক করবেন না এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাদের কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ ও করবেন না। 23. আপনি কোন কাজের বিষয়ে বলবেন না যে, সেটি আমি আগামী কাল করব। 24. ‘আল্লাহ ইচ্ছা করলে’ বলা ব্যতিরেকে। যখন ভুলে যান, তখন আপনার পালনকর্তাকে স্মরণ করুন এবং বলুনঃ আশা করি আমার পালনকর্তা আমাকে এর চাইতেও নিকটতম সত্যের পথ নির্দেশ করবেন। 25. তাদের উপর তাদের গুহায় তিনশ বছর, অতিরিক্ত আরও নয় বছর অতিবাহিত হয়েছে। 26. বলুনঃ তারা কতকাল অবস্থান করেছে, তা আল্লাহই ভাল জানেন। নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান তাঁরই কাছে রয়েছে। তিনি কত চমৎকার দেখেন ও শোনেন। তিনি ব্যতীত তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। তিনি কাউকে নিজ কর্তৃত্বে শরীক করেন না। 27. আপনার প্রতি আপনার পালনকর্তার যে, কিতাব প্রত্যাদিষ্ট করা হয়েছে, তা পাঠ করুন। তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নাই। তাঁকে ব্যতীত আপনি কখনই কোন আশ্রয় স্থল পাবেন না। 28. আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহবান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে, নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্য কলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার অনুগত্য করবেন না। 29. বলুনঃ সত্য তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত। অতএব, যার ইচ্ছা, বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক। আমি জালেমদের জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদের কে পরিবেষ্টন করে থাকবে। যদি তারা পানীয় প্রার্থনা করে, তবে পুঁজের ন্যায় পানীয় দেয়া হবে যা তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে। কত নিকৃষ্ট পানীয় এবং খুবই মন্দ আশ্রয়। 30. যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার নষ্ট করি না। 31. তাদেরই জন্যে আছে বসবাসের জান্নাত। তাদের পাদদেশে প্রবাহিত হয় নহরসমূহ। তাদের তথায় স্বর্ণ-কংকনে অলংকৃত করা হবে এবং তারা পাতলা ও মোটা রেশমের সবুজ কাপর পরিধান করবে এমতাবস্থায় যে, তারা সিংহাসনে সমাসীন হবে। চমৎকার প্রতিদান এবং কত উত্তম আশ্রয়। 32. আপনি তাদের কাছে দু ব্যক্তির উদাহরণ বর্ণনা করুন। আমি তাদের একজনকে দুটি আঙ্গুরের বাগান দিয়েছি এবং এ দু’টিকে খর্জুর বৃক্ষ দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছি এবং দু এর মাঝখানে করেছি শস্যক্ষেত্র। 33. উভয় বাগানই ফলদান করে এবং তা থেকে কিছুই হ্রাস করত না এবং উভয়ের ফাঁকে ফাঁকে আমি নহর প্রবাহিত করেছি। 34. সে ফল পেল। অতঃপর কথা প্রসঙ্গে সঙ্গীকে বললঃ আমার ধন- সম্পদ তোমার চাইতে বেশী এবং জনবলে আমি অধিক শক্তিশালী। 35. নিজের প্রতি জুলুম করে সে তার বাগানে প্রবেশ করল। সে বললঃ আমার মনে হয় না যে, এ বাগান কখনও ধ্বংস হয়ে যাবে। 36. এবং আমি মনে করি না যে, কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। যদি কখনও আমার পালনকর্তার কাছে আমাকে পৌঁছে দেয়া হয়, তবে সেখানে এর চাইতে উৎকৃষ্ট পাব। 37. তার সঙ্গী তাকে কথা প্রসঙ্গে বললঃ তুমি তাঁকে অস্বীকার করছ, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, অতঃপর র্পূনাঙ্গ করেছেন তোমাকে মানবাকৃতিতে? 38. কিন্তু আমি তো একথাই বলি, আল্লাহই আমার পালনকর্তা এবং আমি কাউকে আমার পালনকর্তার শরীক মানি না। 39. তবে যখন তুমি তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন একথা কেন বললে না; আল্লাহ যা চান, তাই হয়। আল্লাহর দেয়া ব্যতীত কোন শক্তি নেই। যদি তুমি আমাকে ধনে ও সন্তানে তোমার চাইতে কম দেখ, 40. আশাকরি আমার পালকর্তা আমাকে তোমার বাগান অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর কিছু দেবেন এবং তার (তোমার বাগানের) উপর আসমান থেকে আগুন প্রেরণ করবেন। অতঃপর সকাল বেলায় তা পরিষ্কার ময়দান হয়ে যাবে। 41. অথবা সকালে তার পানি শুকিয়ে যাবে। অতঃপর তুমি তা তালাশ করে আনতে পারবে না। 42. অতঃপর তার সব ফল ধ্বংস হয়ে গেল এবং সে তাতে যা ব্যয় করেছিল, তার জন্য সকালে হাত কচলিয়ে আক্ষেপ করতে লাগল। বাগনটি কাঠসহ পুড়ে গিয়েছিল। সে বলতে লাগলঃ হায়, আমি যদি কাউকে আমার পালনকর্তার সাথে শরীক না করতাম। 43. আল্লাহ ব্যতীত তাকে সাহায্য করার কোন লোক হল না এবং সে নিজেও প্রতিকার করতে পারল না। 44. এরূপ ক্ষেত্রে সব অধিকার সত্য আল্লাহর। তারই পুরস্কার উত্তম এবং তারই প্রদত্ত প্রতিদান শ্রেষ্ঠ। 45. তাদের কাছে পার্থিব জীবনের উপমা বর্ণনা করুন। তা পানির ন্যায়, যা আমি আকাশ থেকে নাযিল করি। অতঃপর এর সংমিশ্রণে শ্যামল সবুজ ভূমিজ লতা- পাতা নির্গত হয়; অতঃপর তা এমন শুস্ক চুর্ণ-বিচুর্ণ হয় যে, বাতাসে উড়ে যায়। আল্লাহ এ সবকিছুর উপর শক্তিমান। 46. ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য এবং স্থায়ী সৎকর্মসমূহ আপনার পালনকর্তার কাছে প্রতিদান প্রাপ্তি ও আশা লাভের জন্যে উত্তম। 47. যেদিন আমি পর্বতসমূহকে পরিচালনা করব এবং আপনি পৃথিবীকে দেখবেন একটি উম্মুক্ত প্রান্তর এবং আমি মানুষকে একত্রিত করব অতঃপর তাদের কাউকে ছাড়ব না। 48. তারা আপনার পালনকর্তার সামনে পেশ হবে সারিবদ্ধ ভাবে এবং বলা হবেঃ তোমরা আমার কাছে এসে গেছ; যেমন তোমাদেরকে প্রথম বার সৃষ্টি করেছিলাম। না, তোমরা তো বলতে যে, আমি তোমাদের জন্যে কোন প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করব না। 49. আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে; তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত- সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি- সবই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না। 50. যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল। অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা জালেমদের জন্যে খুবই নিকৃষ্ট বদল। 51. নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের সৃজনকালে আমি তাদেরকে সাক্ষ্য রাখিনি এবং তাদের নিজেদের সৃজনকালেও না। এবং আমি এমনও নই যে, বিভ্রান্ত কারীদেরকে সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করবো। 52. যেদিন তিনি বলবেনঃ তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তাদেরকে ডাক। তারা তখন তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা এ আহবানে সাড়া দেবে না। আমি তাদের মধ্যস্থলে রেখে দেব একটি মৃত্যু গহবর। 53. অপরাধীরা আগুন দেখে বোঝে নেবে যে, তাদেরকে তাতে পতিত হতে হবে এবং তারা তা থেকে রাস্তা পরিবর্তন করতে পারবে না। 54. নিশ্চয় আমি এ কোরআনে মানুষকে নানাভাবে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী বুঝিয়েছি। মানুষ সব বস্তু থেকে অধিক তর্কপ্রিয়। 55. হেদায়েত আসার পর এ প্রতীক্ষাই শুধু মানুষকে বিশ্বাস স্থাপন করতে এবং তাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বিরত রাখে যে, কখন আসবে তাদের কাছে পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অথবা কখন আসবে তাদের কাছেআযাব সামনাসামনি। 56. আমি রাসূলগনকে সুসংবাদ দাতা ও ভয় প্রদর্শন কারীরূপেই প্রেরণ করি এবং কাফেররাই মিথ্যা অবলম্বনে বিতর্ক করে, তা দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার উদ্দেশে এবং তারা আমার নিদর্শনাবলীও যদ্বারা তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করা হয়, সেগুলোকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করেছে। 57. তার চাইতে অধিক জালেম কে, যাকে তার পালনকর্তার কালাম দ্বারা বোঝানো হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার পূর্ববর্তী কৃতকর্মসমূহ ভুলে যায়? আমি তাদের অন্তরের উপর পর্দা রেখে দিয়েছি, যেন তা না বোঝে এবং তাদের কানে রয়েছে বধিরতার বোঝা। যদি আপনি তাদেরকে সৎপথের প্রতি দাওয়াত দেন, তবে কখনই তারা সৎপথে আসবে না। 58. আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু, যদি তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে পাকড়াও করেন তবে তাদের শাস্তি ত্বরাম্বিত করতেন, কিন্তু তাদের জন্য রয়েছে একটি প্রতিশ্রুত সময়, যা থেকে তারা সরে যাওয়ার জায়গা পাবে না। 59. এসব জনপদও তাদেরকে আমি ধংস করে দিয়েছি, যখন তারা জালেম হয়ে গিয়েছিল এবং আমি তাদের ধ্বংসের জন্যে একটি প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করেছিলাম। 60. যখন মূসা তাঁর যুবক (সঙ্গী) কে বললেনঃ দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে না পৌছা পর্যন্ত আমি আসব না অথবা আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকব। 61. অতঃপর যখন তাঁরা দুই সুমুদ্রের সঙ্গমস্থলে পৌছালেন, তখন তাঁরা নিজেদের মাছের কথা ভুলে গেলেন। অতঃপর মাছটি সমুদ্রে সুড়ঙ্গ পথ সৃষ্টি করে নেমে গেল। 62. যখন তাঁরা সে স্থানটি অতিক্রম করে গেলেন, মূসা সঙ্গী কে বললেনঃ আমাদের নাশতা আন। আমরা এই সফরে পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছি। 63. সে বললঃ আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন প্রস্তর খন্ডে আশ্রয় নিয়েছিলাম, তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। শয়তানই আমাকে একথা স্মরণ রাখতে ভুলিয়ে দিয়েছিল। মাছটি আশ্চর্য জনক ভাবে সমুদ্রে নিজের পথ করে নিয়েছে। 64. মূসা বললেনঃ আমরা তো এ স্থানটিই খুঁজছিলাম। অতঃপর তাঁরা নিজেদের চিহ্ন ধরে ফিরে চললেন। 65. অতঃপর তাঁরা আমার বান্দাদের মধ্যে এমন একজনের সাক্ষাত পেলেন, যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে রহমত দান করেছিলাম ও আমার পক্ষ থেকে দিয়েছিলাম এক বিশেষ জ্ঞান। 66. মূসা তাঁকে বললেনঃ আমি কি এ শর্তে আপনার অনুসরণ করতে পারি যে, সত্যপথের যে জ্ঞান আপনাকে শেখানো হয়েছে, তা থেকে আমাকে কিছু শিক্ষা দেবেন? 67. তিনি বললেনঃ আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য্যধারণ করে থাকতে পারবেন না। 68. যে বিষয় বোঝা আপনার আয়ত্তাধীন নয়, তা দেখে আপনি ধৈর্য্যধারণ করবেন কেমন করে? 69. মূসা বললেনঃ আল্লাহ চাহেন তো আপনি আমাকে ধৈর্য্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোন আদেশ অমান্য করব না। 70. তিনি বললেনঃ যদি আপনি আমার অনুসরণ করেনই তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না, যে পর্যন্ত না আমি নিজেই সে সম্পর্কে আপনাকে কিছু বলি। 71. অতঃপর তারা চলতে লাগলঃ অবশেষে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করল, তখন তিনি তাতে ছিদ্র করে দিলেন। মূসা বললেনঃ আপনি কি এর আরোহীদেরকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্যে এতে ছিদ্র করে দিলেন? নিশ্চয়ই আপনি একটি গুরুতর মন্দ কাজ করলেন। 72. তিনি বললেনঃ আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য্য ধরতে পারবেন না? 73. মূসা বললেনঃ আমাকে আমার ভুলের জন্যে অপরাধী করবেন না এবং আমার কাজে আমার উপর কঠোরতা আরোপ করবেন না। 74. অতঃপর তারা চলতে লাগল। অবশেষে যখন একটি বালকের সাক্ষাত পেলেন, তখন তিনি তাকে হত্যা করলেন। মূসা বললেন? আপনি কি একটি নিস্পাপ জীবন শেষ করে দিলেন প্রাণের বিনিময় ছাড়াই? নিশ্চয়ই আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন। 75. তিনি বললেনঃ আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সাথে ধৈর্য্য ধরে থাকতে পারবেন না। 76. মূসা বললেনঃ এরপর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করি, তবে আপনি আমাকে সাথে রাখবেন না। আপনি আমার পক্ষ থেকে অভিযোগ মুক্ত হয়ে গেছেন। 77. অতঃপর তারা চলতে লাগল, অবশেষে যখন একটি জনপদের অধিবাসীদের কাছে পৌছে তাদের কাছে খাবার চাইল, তখন তারা তাদের অতিথেয়তা করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তারা সেখানে একটি পতনোম্মুখ প্রাচীর দেখতে পেলেন, সেটি তিনি সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিলেন। মূসা বললেনঃ আপনি ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে এর পারিশ্রমিক আদায় করতে পারতেন। 78. তিনি বললেনঃ এখানেই আমার ও আপনার মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হল। এখন যে বিষয়ে আপনি ধৈর্য্য ধরতে পারেননি, আমি তার তাৎপর্য বলে দিচ্ছি। 79. নৌকাটির ব্যাপারে- সেটি ছিল কয়েকজন দরিদ্র ব্যক্তির। তারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষন করত। আমি ইচ্ছা করলাম যে, সেটিকে ক্রটিযুক্ত করে দেই। তাদের অপরদিকে ছিল এক বাদশাহ। সে বলপ্রয়োগে প্রত্যেকটি নৌকা ছিনিয়ে নিত। 80. বালকটির ব্যাপার তার পিতা-মাতা ছিল ঈমানদার। আমি আশঙ্কা করলাম যে, সে অবাধ্যতা ও কুফর দ্বারা তাদেরকে প্রভাবিত করবে। 81. অতঃপর আমি ইচ্ছা করলাম যে, তাদের পালনকর্তা তাদেরকে মহত্তর, তার চাইতে পবিত্রতায় ও ভালবাসায় ঘনিষ্ঠতর একটি শ্রেষ্ঠ সন্তান দান করুক। 82. প্রাচীরের ব্যাপার- সেটি ছিল নগরের দুজন পিতৃহীন বালকের। এর নীচে ছিল তাদের গুপ্তধন এবং তাদের পিতা ছিল সৎকর্ম পরায়ন। সুতরাং আপনার পালনকর্তা দায়বশতঃ ইচ্ছা করলেন যে, তারা যৌবনে পদার্পন করুক এবং নিজেদের গুপ্তধন উদ্ধার করুক। আমি নিজ মতে এটা করিনি। আপনি যে বিষয়ে ধৈর্য্যধারণ করতে অক্ষম হয়েছিলেন, এই হল তার ব্যাখ্যা। 83. তারা আপনাকে যুলকারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুনঃ আমি তোমাদের কাছে তাঁর কিছু অবস্থা বর্ণনা করব। 84. আমি তাকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের কার্যোপকরণ দান করেছিলাম। 85. অতঃপর তিনি এক কার্যোপকরণ অবলম্বন করলেন। 86. অবশেষে তিনি যখন সুর্যের অস্তাচলে পৌছলেন; তখন তিনি সুর্যকে এক পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখলেন এবং তিনি সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেলেন। আমি বললাম, হে যুলকারনাইন! আপনি তাদেরকে শাস্তি দিতে পারেন অথবা তাদেরকে সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পারেন। 87. তিনি বললেনঃ যে কেউ সীমালঙ্ঘনকারী হবে আমি তাকে শাস্তি দেব। অতঃপর তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে ফিরে যাবেন। তিনি তাকে কঠোর শাস্তি দেবেন। 88. এবং যে বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে তার জন্য প্রতিদান রয়েছে কল্যাণ এবং আমার কাজে তাকে সহজ নির্দেশ দেব। 89. অতঃপর তিনি এক উপায় অবলম্বন করলেন। 90. অবশেষে তিনি যখন সূর্যের উদয়াচলে পৌছলেন, তখন তিনি তাকে এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদয় হতে দেখলেন, যাদের জন্যে সূর্যতাপ থেকে আত্নরক্ষার কোন আড়াল আমি সৃষ্টি করিনি। 91. প্রকৃত ঘটনা এমনিই। তার বৃত্তান্ত আমি সম্যক অবগত আছি। 92. আবার তিনি এক পথ ধরলেন। 93. অবশেষে যখন তিনি দুই পর্বত প্রচীরের মধ্যস্থলে পৌছলেন, তখন তিনি সেখানে এক জাতিকে পেলেন, যারা তাঁর কথা একেবারেই বুঝতে পারছিল না। 94. তারা বললঃ হে যুলকারনাইন, ইয়াজুজ ও মাজুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আপনি বললে আমরা আপনার জন্যে কিছু কর ধার্য করব এই শর্তে যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন। 95. তিনি বললেনঃ আমার পালনকর্তা আমাকে যে সামর্থÃ, দিয়েছেন, তাই যথেষ্ট। অতএব, তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব। 96. তোমরা আমাকে লোহার পাত এনে দাও। অবশেষে যখন পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান পূর্ণ হয়ে গেল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা হাঁপরে দম দিতে থাক। অবশেষে যখন তা আগুনে পরিণত হল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা গলিত তামা নিয়ে এস, আমি তা এর উপরে ঢেলে দেই। 97. অতঃপর ইয়াজুজ ও মাজুজ তার উপরে আরোহণ করতে পারল না এবং তা ভেদ করতে ও সক্ষম হল না। 98. যুলকারনাইন বললেনঃ এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ। যখন আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য। 99. আমি সেদিন তাদেরকে দলে দলে তরঙ্গের আকারে ছেড়ে দেব এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করে আনব। 100. সেদিন আমি কাফেরদের কাছে জাহান্নামকে প্রত্যক্ষ ভাবে উপস্থিত করব। 101. যাদের চক্ষুসমূহের উপর পর্দা ছিল আমার স্মরণ থেকে এবং যারা শুনতেও সক্ষম ছিল না। 102. কাফেররা কি মনে করে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদেরকে অভিভাবক রূপে গ্রহণ করবে? আমি কাফেরদের অভ্যর্থনার জন্যে জাহান্নামকে প্রস্তুত করে রেখেছি। 103. বলুনঃ আমি কি তোমাদেরকে সেসব লোকের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। 104. তারাই সে লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিবজীবনে বিভ্রান্ত হয়, অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করেছে। 105. তারাই সে লোক, যারা তাদের পালনকর্তার নিদর্শনাবলী এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয় অস্বীকার করে। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়। সুতরাং কেয়ামতের দিন তাদের জন্য আমি কোন গুরুত্ব স্থির করব না। 106. জাহান্নাম-এটাই তাদের প্রতিফল; কারণ, তারা কাফের হয়েছে এবং আমার নিদর্শনাবলী ও রসূলগণকে বিদ্রূপের বিষয় রূপে গ্রহণ করেছে। 107. যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্যে আছে জান্নাতুল ফেরদাউস। 108. সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখান থেকে স্থান পরিবর্তন করতে চাইবে না। 109. বলুনঃ আমার পালনকর্তার কথা, লেখার জন্যে যদি সমুদ্রের পানি কালি হয়, তবে আমার পালনকর্তার কথা, শেষ হওয়ার আগেই সে সমুদ্র নিঃশেষিত হয়ে যাবে। সাহায্যার্থে অনুরূপ আরেকটি সমুদ্র এনে দিলেও। 110. বলুনঃ আমি ও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরীক না করে। ******

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s