19. সুরাহ মরিয়ম (01-98)


ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি
দয়ালু
[1] ﻛﻬﻴﻌﺺ
[1] কাফ-হা-ইয়া-আইন-সাদ
[1] Kâf¬ Hâ¬Y⬒Aîn¬Sâd. [These letters
are one of the miracles of the Qur’ân,
and none but Allâh (Alone) knows their
meanings].
[2] ﺫِﻛﺮُ ﺭَﺣﻤَﺖِ ﺭَﺑِّﻚَ ﻋَﺒﺪَﻩُ
ﺯَﻛَﺮِﻳّﺎ
[2] এটা আপনার পালনকর্তার অনুগ্রহের বিবরণ
তাঁর বান্দা যাকারিয়ার প্রতি।
[2] (This is) a mention of the mercy of
your Lord to His slave Zakariyya
(Zachariah).
[3] ﺇِﺫ ﻧﺎﺩﻯٰ ﺭَﺑَّﻪُ ﻧِﺪﺍﺀً ﺧَﻔِﻴًّﺎ
[3] যখন সে তাঁর পালনকর্তাকে আহবান
করেছিল নিভৃতে।
[3] When he called out his Lord (Allâh) a
call in secret.
[4] ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﺇِﻧّﻰ ﻭَﻫَﻦَ ﺍﻟﻌَﻈﻢُ
ﻣِﻨّﻰ ﻭَﺍﺷﺘَﻌَﻞَ ﺍﻟﺮَّﺃﺱُ ﺷَﻴﺒًﺎ
ﻭَﻟَﻢ ﺃَﻛُﻦ ﺑِﺪُﻋﺎﺋِﻚَ ﺭَﺏِّ ﺷَﻘِﻴًّﺎ
[4] সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা আমার
অস্থি বয়স-ভারাবনত হয়েছে; বার্ধক্যে
মস্তক সুশুভ্র হয়েছে; হে আমার
পালনকর্তা! আপনাকে ডেকে আমি কখনও
বিফলমনোরথ হইনি।
[4] He said: “My Lord! Indeed my bones
have grown feeble, and grey hair has
spread on my head, And I have never
been unblest in my invocation to You, O
my Lord!
[5] ﻭَﺇِﻧّﻰ ﺧِﻔﺖُ ﺍﻟﻤَﻮٰﻟِﻰَ ﻣِﻦ
ﻭَﺭﺍﺀﻯ ﻭَﻛﺎﻧَﺖِ ﺍﻣﺮَﺃَﺗﻰ
ﻋﺎﻗِﺮًﺍ ﻓَﻬَﺐ ﻟﻰ ﻣِﻦ ﻟَﺪُﻧﻚَ
ﻭَﻟِﻴًّﺎ
[5] আমি ভয় করি আমার পর আমার
স্বগোত্রকে এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা;
কাজেই আপনি নিজের পক্ষ থেকে
আমাকে এক জন কর্তব্য পালনকারী দান
করুন।
[5] “And Verily, I fear my relatives after
me, since my wife is barren. So give me
from Yourself an heir,
[6] ﻳَﺮِﺛُﻨﻰ ﻭَﻳَﺮِﺙُ ﻣِﻦ ﺀﺍﻝِ
ﻳَﻌﻘﻮﺏَ ۖ ﻭَﺍﺟﻌَﻠﻪُ ﺭَﺏِّ ﺭَﺿِﻴًّﺎ
[6] সে আমার স্থলাভিষিক্ত হবে ইয়াকুব
বংশের এবং হে আমার পালনকর্তা, তাকে করুন
সন্তোষজনক।
[6] “Who shall inherit me, and inherit
(also) the posterity of Ya’qûb (Jacob)
(inheritance of the religious knowledge
and Prophethood, not wealth). And make
him, my Lord, one with whom You are
Well-pleased!”
[7] ﻳٰﺰَﻛَﺮِﻳّﺎ ﺇِﻧّﺎ ﻧُﺒَﺸِّﺮُﻙَ ﺑِﻐُﻠٰﻢٍ
ﺍﺳﻤُﻪُ ﻳَﺤﻴﻰٰ ﻟَﻢ ﻧَﺠﻌَﻞ ﻟَﻪُ
ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ ﺳَﻤِﻴًّﺎ
[7] হে যাকারিয়া, আমি তোমাকে এক পুত্রের
সুসংবাদ দিচ্ছি, তার নাম হবে ইয়াহইয়া। ইতিপূর্বে
এই নামে আমি কারও নাম করণ করিনি।
[7] (Allâh said) “O Zakariyya
(Zachariah)! Verily, We give you the glad
tidings of a son, Whose name will be
Yahya (John). We have given that name
to none before (him).”
[8] ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﺃَﻧّﻰٰ ﻳَﻜﻮﻥُ ﻟﻰ
ﻏُﻠٰﻢٌ ﻭَﻛﺎﻧَﺖِ ﺍﻣﺮَﺃَﺗﻰ ﻋﺎﻗِﺮًﺍ
ﻭَﻗَﺪ ﺑَﻠَﻐﺖُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻜِﺒَﺮِ ﻋِﺘِﻴًّﺎ
[8] সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা কেমন
করে আমার পুত্র হবে অথচ আমার স্ত্রী
যে বন্ধ্যা, আর আমিও যে বার্ধক্যের শেষ
প্রান্তে উপনীত।
[8] He said: “My Lord! How can I have a
son, when my wife is barren, and I have
reached the extreme old age.”
[9] ﻗﺎﻝَ ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻗﺎﻝَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻫُﻮَ
ﻋَﻠَﻰَّ ﻫَﻴِّﻦٌ ﻭَﻗَﺪ ﺧَﻠَﻘﺘُﻚَ ﻣِﻦ
ﻗَﺒﻞُ ﻭَﻟَﻢ ﺗَﻚُ ﺷَﻴـًٔﺎ
[9] তিনি বললেনঃ এমনিতেই হবে। তোমার
পালনকর্তা বলে দিয়েছেনঃ এটা আমার
পক্ষে সহজ। আমি তো পুর্বে তোমাকে
সৃষ্টি করেছি এবং তুমি কিছুই ছিলে না।
[9] He said: “So (it will be). Your Lord
says; It is easy for Me. Certainly I have
created you before, when you had been
nothing!”
[10] ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﺍﺟﻌَﻞ ﻟﻰ ﺀﺍﻳَﺔً ۚ
ﻗﺎﻝَ ﺀﺍﻳَﺘُﻚَ ﺃَﻟّﺎ ﺗُﻜَﻠِّﻢَ ﺍﻟﻨّﺎﺱَ
ﺛَﻠٰﺚَ ﻟَﻴﺎﻝٍ ﺳَﻮِﻳًّﺎ
[10] সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে
একটি নির্দশন দিন। তিনি বললেন তোমার
নিদর্শন এই যে, তুমি সুস্থ অবস্থায় তিন দিন
মানুষের সাথে কথাবার্তা বলবে না।
[10] [Zakariyya (Zachariah)] said: “My
Lord! Appoint for me a sign.” He said:
“Your sign is that you shall not speak
unto mankind for three nights, though
having no bodily defect.”
[11] ﻓَﺨَﺮَﺝَ ﻋَﻠﻰٰ ﻗَﻮﻣِﻪِ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻤِﺤﺮﺍﺏِ ﻓَﺄَﻭﺣﻰٰ ﺇِﻟَﻴﻬِﻢ ﺃَﻥ
ﺳَﺒِّﺤﻮﺍ ﺑُﻜﺮَﺓً ﻭَﻋَﺸِﻴًّﺎ
[11] অতঃপর সে কক্ষ থেকে বের হয়ে
তার সম্প্রদায়ের কাছে এল এবং ইঙ্গিতে
তাদেরকে সকাল সন্ধ্যায় আল্লাহকে স্মরণ
করতে বললঃ
[11] Then he came out to his people from
Al-Mihrâb (a praying place or a private
room), he told them by signs to glorify
Allâh’s Praises in the morning and in the
afternoon.
[12] ﻳٰﻴَﺤﻴﻰٰ ﺧُﺬِ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ﺑِﻘُﻮَّﺓٍ ۖ
ﻭَﺀﺍﺗَﻴﻨٰﻪُ ﺍﻟﺤُﻜﻢَ ﺻَﺒِﻴًّﺎ
[12] হে ইয়াহইয়া দৃঢ়তার সাথে এই গ্রন্থ ধারণ
কর। আমি তাকে শৈশবেই বিচারবুদ্ধি দান
করেছিলাম।
[12] (It was said to his son): “O Yahya
(John)! Hold fast the Scripture [the
Taurât (Torah)].” And We gave him
wisdom while yet a child.
[13] ﻭَﺣَﻨﺎﻧًﺎ ﻣِﻦ ﻟَﺪُﻧّﺎ ﻭَﺯَﻛﻮٰﺓً ۖ
ﻭَﻛﺎﻥَ ﺗَﻘِﻴًّﺎ
[13] এবং নিজের পক্ষ থেকে আগ্রহ ও
পবিত্রতা দিয়েছি। সে ছিল পরহেযগার।
[13] And (made him) sympathetic to men
as a mercy (or a grant) from Us, and
pure from sins [i.e. Yahya (John)] and he
was righteous,
[14] ﻭَﺑَﺮًّﺍ ﺑِﻮٰﻟِﺪَﻳﻪِ ﻭَﻟَﻢ ﻳَﻜُﻦ
ﺟَﺒّﺎﺭًﺍ ﻋَﺼِﻴًّﺎ
[14] পিতা-মাতার অনুগত এবং সে উদ্ধত, নাফরমান
ছিল না।
[14] And dutiful towards his parents, and
he was neither an arrogant nor
disobedient (to Allâh or to his parents).
[15] ﻭَﺳَﻠٰﻢٌ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻳَﻮﻡَ ﻭُﻟِﺪَ
ﻭَﻳَﻮﻡَ ﻳَﻤﻮﺕُ ﻭَﻳَﻮﻡَ ﻳُﺒﻌَﺚُ
ﺣَﻴًّﺎ
[15] তার প্রতি শান্তি-যেদিন সে জন্মগ্রহণ
করে এবং যেদিন মৃত্যুবরণ করবে এবং
যেদিন জীবিতাবস্থায় পুনরুত্থিত হবে।
[15] And Salâm (peace) be on him the
day he was born, the day he dies, and
the day he will be raised up to life
(again)!
[16] ﻭَﺍﺫﻛُﺮ ﻓِﻰ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ ﻣَﺮﻳَﻢَ
ﺇِﺫِ ﺍﻧﺘَﺒَﺬَﺕ ﻣِﻦ ﺃَﻫﻠِﻬﺎ ﻣَﻜﺎﻧًﺎ
ﺷَﺮﻗِﻴًّﺎ
[16] এই কিতাবে মারইয়ামের কথা বর্ণনা করুন,
যখন সে তার পরিবারের লোকজন থেকে
পৃথক হয়ে পূর্বদিকে এক স্থানে আশ্রয়
নিল।
[16] And mention in the Book (the
Qur’ân, O Muhammad SAW , the story
of) Maryam (Mary), when she withdrew
in seclusion from her family to a place
facing east
[17] ﻓَﺎﺗَّﺨَﺬَﺕ ﻣِﻦ ﺩﻭﻧِﻬِﻢ
ﺣِﺠﺎﺑًﺎ ﻓَﺄَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﺇِﻟَﻴﻬﺎ ﺭﻭﺣَﻨﺎ
ﻓَﺘَﻤَﺜَّﻞَ ﻟَﻬﺎ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﺳَﻮِﻳًّﺎ
[17] অতঃপর তাদের থেকে নিজেকে
আড়াল করার জন্যে সে পর্দা করলো।
অতঃপর আমি তার কাছে আমার রূহ প্রেরণ
করলাম, সে তার নিকট পুর্ণ মানবাকৃতিতে
আত্নপ্রকাশ করল।
[17] She placed a screen (to screen
herself) from them; then We sent to her
Our Ruh [angel Jibril (Gabriel)], and he
appeared before her in the form of a
man in all respects.
[18] ﻗﺎﻟَﺖ ﺇِﻧّﻰ ﺃَﻋﻮﺫُ ﺑِﺎﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ
ﻣِﻨﻚَ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺖَ ﺗَﻘِﻴًّﺎ
[18] মারইয়াম বললঃ আমি তোমা থেকে
দয়াময়ের আশ্রয় প্রার্থনা করি যদি তুমি
আল্লাহভীরু হও।
[18] She said: “Verily! I seek refuge with
the Most Gracious (Allâh) from you, if
you do fear Allâh.”
[19] ﻗﺎﻝَ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﺃَﻧﺎ۠ ﺭَﺳﻮﻝُ ﺭَﺑِّﻚِ
ﻟِﺄَﻫَﺐَ ﻟَﻚِ ﻏُﻠٰﻤًﺎ ﺯَﻛِﻴًّﺎ
[19] সে বললঃ আমি তো শুধু তোমার
পালনকর্তা প্রেরিত, যাতে তোমাকে এক
পবিত্র পুত্র দান করে যাব।
[19] (The angel) said: “I am only a
messenger from your Lord, (to
announce) to you the gift of a righteous
son.”
[20] ﻗﺎﻟَﺖ ﺃَﻧّﻰٰ ﻳَﻜﻮﻥُ ﻟﻰ ﻏُﻠٰﻢٌ
ﻭَﻟَﻢ ﻳَﻤﺴَﺴﻨﻰ ﺑَﺸَﺮٌ ﻭَﻟَﻢ ﺃَﻙُ
ﺑَﻐِﻴًّﺎ
[20] মরিইয়াম বললঃ কিরূপে আমার পুত্র হবে,
যখন কোন মানব আমাকে স্পর্শ করেনি এবং
আমি ব্যভিচারিণীও কখনও ছিলাম না ?
[20] She said: “How can I have a son,
when no man has touched me, nor am I
unchaste?”
[21] ﻗﺎﻝَ ﻛَﺬٰﻟِﻚِ ﻗﺎﻝَ ﺭَﺑُّﻚِ ﻫُﻮَ
ﻋَﻠَﻰَّ ﻫَﻴِّﻦٌ ۖ ﻭَﻟِﻨَﺠﻌَﻠَﻪُ ﺀﺍﻳَﺔً
ﻟِﻠﻨّﺎﺱِ ﻭَﺭَﺣﻤَﺔً ﻣِﻨّﺎ ۚ ﻭَﻛﺎﻥَ
ﺃَﻣﺮًﺍ ﻣَﻘﻀِﻴًّﺎ
[21] সে বললঃ এমনিতেই হবে। তোমার
পালনকর্তা বলেছেন, এটা আমার জন্যে
সহজ সাধ্য এবং আমি তাকে মানুষের জন্যে
একটি নিদর্শন ও আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ
স্বরূপ করতে চাই। এটা তো এক স্থিরীকৃত
ব্যাপার।
[21] He said: “So (it will be), your Lord
said: ‘That is easy for Me (Allâh): And
(We wish) to appoint him as a sign to
mankind and a mercy from Us (Allâh),
and it is a matter (already) decreed, (by
Allâh).’ ”
[22] ۞ ﻓَﺤَﻤَﻠَﺘﻪُ ﻓَﺎﻧﺘَﺒَﺬَﺕ ﺑِﻪِ
ﻣَﻜﺎﻧًﺎ ﻗَﺼِﻴًّﺎ
[22] অতঃপর তিনি গর্ভে সন্তান ধারণ করলেন
এবং তৎসহ এক দূরবর্তী স্থানে চলে
গেলেন।
[22] So she conceived him, and she
withdrew with him to a far place (i.e.
Bethlehem valley about 4-6 miles from
Jerusalem).
[23] ﻓَﺄَﺟﺎﺀَﻫَﺎ ﺍﻟﻤَﺨﺎﺽُ ﺇِﻟﻰٰ
ﺟِﺬﻉِ ﺍﻟﻨَّﺨﻠَﺔِ ﻗﺎﻟَﺖ ﻳٰﻠَﻴﺘَﻨﻰ
ﻣِﺖُّ ﻗَﺒﻞَ ﻫٰﺬﺍ ﻭَﻛُﻨﺖُ ﻧَﺴﻴًﺎ
ﻣَﻨﺴِﻴًّﺎ
[23] প্রসব বেদনা তাঁকে এক খেজুর বৃক্ষ-
মূলে আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। তিনি বললেনঃ
হায়, আমি যদি কোনরূপে এর পূর্বে মরে
যেতাম এবং মানুষের স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত
হয়ে, যেতাম!
[23] And the pains of childbirth drove
her to the trunk of a date-palm. She
said: “Would that I had died before this,
and had been forgotten and out of
sight!”
[24] ﻓَﻨﺎﺩﻯٰﻬﺎ ﻣِﻦ ﺗَﺤﺘِﻬﺎ ﺃَﻟّﺎ
ﺗَﺤﺰَﻧﻰ ﻗَﺪ ﺟَﻌَﻞَ ﺭَﺑُّﻚِ ﺗَﺤﺘَﻚِ
ﺳَﺮِﻳًّﺎ
[24] অতঃপর ফেরেশতা তাকে নিম্নদিক
থেকে আওয়ায দিলেন যে, তুমি দুঃখ করো
না। তোমার পালনকর্তা তোমার পায়ের তলায়
একটি নহর জারি করেছেন।
[24] Then [the babe ‘Īsā (Jesus) or Jibril
(Gabriel)] cried unto her from below her,
saying: “Grieve not! Your Lord has
provided a water stream under you;
[25] ﻭَﻫُﺰّﻯ ﺇِﻟَﻴﻚِ ﺑِﺠِﺬﻉِ
ﺍﻟﻨَّﺨﻠَﺔِ ﺗُﺴٰﻘِﻂ ﻋَﻠَﻴﻚِ ﺭُﻃَﺒًﺎ
ﺟَﻨِﻴًّﺎ
[25] আর তুমি নিজের দিকে খেজুর গাছের
কান্ডে নাড়া দাও, তা থেকে তোমার উপর
সুপক্ক খেজুর পতিত হবে।
[25] “And shake the trunk of date-palm
towards you, it will let fall fresh ripe-
dates upon you.”
[26] ﻓَﻜُﻠﻰ ﻭَﺍﺷﺮَﺑﻰ ﻭَﻗَﺮّﻯ
ﻋَﻴﻨًﺎ ۖ ﻓَﺈِﻣّﺎ ﺗَﺮَﻳِﻦَّ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺒَﺸَﺮِ
ﺃَﺣَﺪًﺍ ﻓَﻘﻮﻟﻰ ﺇِﻧّﻰ ﻧَﺬَﺭﺕُ
ﻟِﻠﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺻَﻮﻣًﺎ ﻓَﻠَﻦ ﺃُﻛَﻠِّﻢَ
ﺍﻟﻴَﻮﻡَ ﺇِﻧﺴِﻴًّﺎ
[26] যখন আহার কর, পান কর এবং চক্ষু শীতল
কর। যদি মানুষের মধ্যে কাউকে তুমি দেখ,
তবে বলে দিওঃ আমি আল্লাহর উদ্দেশে
রোযা মানত করছি। সুতরাং আজ আমি কিছুতেই
কোন মানুষের সাথে কথা বলব না।
[26] “So eat and drink and be glad, And
if you see any human being, say: ‘Verily!
I have vowed a fast unto the Most
Gracious (Allâh) so I shall not speak to
any human being this day.'”
[27] ﻓَﺄَﺗَﺖ ﺑِﻪِ ﻗَﻮﻣَﻬﺎ ﺗَﺤﻤِﻠُﻪُ ۖ
ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﻤَﺮﻳَﻢُ ﻟَﻘَﺪ ﺟِﺌﺖِ ﺷَﻴـًٔﺎ
ﻓَﺮِﻳًّﺎ
[27] অতঃপর তিনি সন্তানকে নিয়ে তার
সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হলেন। তারা
বললঃ হে মারইয়াম, তুমি একটি অঘটন ঘটিয়ে
বসেছ।
[27] Then she brought him (the baby) to
her people, carrying him. They said: “O
Mary! Indeed you have brought a thing
Fariyy (a mighty thing). (Tafsir At-
Tabari)
[28] ﻳٰﺄُﺧﺖَ ﻫٰﺮﻭﻥَ ﻣﺎ ﻛﺎﻥَ
ﺃَﺑﻮﻙِ ﺍﻣﺮَﺃَ ﺳَﻮﺀٍ ﻭَﻣﺎ ﻛﺎﻧَﺖ
ﺃُﻣُّﻚِ ﺑَﻐِﻴًّﺎ
[28] হে হারূণ-ভাগিনী, তোমার পিতা অসৎ
ব্যক্তি ছিলেন না এবং তোমার মাতাও ছিল না
ব্যভিচারিনী।
[28] “O sister (i.e. the like) of Hârûn
(Aaron) ! Your father was not a man who
used to commit adultery, nor your
mother was an unchaste woman.”
[29] ﻓَﺄَﺷﺎﺭَﺕ ﺇِﻟَﻴﻪِ ۖ ﻗﺎﻟﻮﺍ
ﻛَﻴﻒَ ﻧُﻜَﻠِّﻢُ ﻣَﻦ ﻛﺎﻥَ ﻓِﻰ
ﺍﻟﻤَﻬﺪِ ﺻَﺒِﻴًّﺎ
[29] অতঃপর তিনি হাতে সন্তানের দিকে ইঙ্গিত
করলেন। তারা বললঃ যে কোলের শিশু তার
সাথে আমরা কেমন করে কথা বলব?
[29] Then she pointed to him. They said:
“How can we talk to one who is a child
in the cradle?”
[30] ﻗﺎﻝَ ﺇِﻧّﻰ ﻋَﺒﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺀﺍﺗﻯٰﻨِﻰَ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ﻭَﺟَﻌَﻠَﻨﻰ
ﻧَﺒِﻴًّﺎ
[30] সন্তান বললঃ আমি তো আল্লাহর দাস। তিনি
আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী
করেছেন।
[30] “He [‘Īsā (Jesus)] said: Verily! I am a
slave of Allâh, He has given me the
Scripture and made me a Prophet;”
[31] ﻭَﺟَﻌَﻠَﻨﻰ ﻣُﺒﺎﺭَﻛًﺎ ﺃَﻳﻦَ ﻣﺎ
ﻛُﻨﺖُ ﻭَﺃَﻭﺻٰﻨﻰ ﺑِﺎﻟﺼَّﻠﻮٰﺓِ
ﻭَﺍﻟﺰَّﻛﻮٰﺓِ ﻣﺎ ﺩُﻣﺖُ ﺣَﻴًّﺎ
[31] আমি যেখানেই থাকি, তিনি আমাকে
বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ
দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন নামায
ও যাকাত আদায় করতে।
[31] “And He has made me blessed
wheresoever I be, and has enjoined on
me Salât (prayer), and Zakât, as long as I
live.”
[32] ﻭَﺑَﺮًّﺍ ﺑِﻮٰﻟِﺪَﺗﻰ ﻭَﻟَﻢ
ﻳَﺠﻌَﻠﻨﻰ ﺟَﺒّﺎﺭًﺍ ﺷَﻘِﻴًّﺎ
[32] এবং জননীর অনুগত থাকতে এবং
আমাকে তিনি উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি।
[32] “And dutiful to my mother, and
made me not arrogant, unblest.
[33] ﻭَﺍﻟﺴَّﻠٰﻢُ ﻋَﻠَﻰَّ ﻳَﻮﻡَ ﻭُﻟِﺪﺕُ
ﻭَﻳَﻮﻡَ ﺃَﻣﻮﺕُ ﻭَﻳَﻮﻡَ ﺃُﺑﻌَﺚُ
ﺣَﻴًّﺎ
[33] আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি জন্মগ্রহণ
করেছি, যেদিন মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন
পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত হব।
[33] “And Salâm (peace) be upon me the
day I was born, and the day I die, and
the day I shall be raised alive!”
[34] ﺫٰﻟِﻚَ ﻋﻴﺴَﻰ ﺍﺑﻦُ ﻣَﺮﻳَﻢَ ۚ
ﻗَﻮﻝَ ﺍﻟﺤَﻖِّ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻓﻴﻪِ
ﻳَﻤﺘَﺮﻭﻥَ
[34] এই মারইয়ামের পুত্র ঈসা। সত্যকথা, যে
সম্পর্কে লোকেরা বিতর্ক করে।
[34] Such is ‘Īsā (Jesus), son of Maryam
(Mary). (it is) a statement of truth, about
which they doubt (or dispute)
[35] ﻣﺎ ﻛﺎﻥَ ﻟِﻠَّﻪِ ﺃَﻥ ﻳَﺘَّﺨِﺬَ ﻣِﻦ
ﻭَﻟَﺪٍ ۖ ﺳُﺒﺤٰﻨَﻪُ ۚ ﺇِﺫﺍ ﻗَﻀﻰٰ ﺃَﻣﺮًﺍ
ﻓَﺈِﻧَّﻤﺎ ﻳَﻘﻮﻝُ ﻟَﻪُ ﻛُﻦ ﻓَﻴَﻜﻮﻥُ
[35] আল্লাহ এমন নন যে, সন্তান গ্রহণ
করবেন, তিনি পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা, তিনি যখন
কোন কাজ করা সিদ্ধান্ত করেন, তখন একথাই
বলেনঃ হও এবং তা হয়ে যায়।
[35] It befits not (the Majesty of) Allâh
that He should beget a son [this refers to
the slander of Christians against Allâh,
by saying that ‘Īsā (Jesus) is the son of
Allâh]. Glorified (and Exalted is He
above all that they associate with Him).
When He decrees a thing, He only says to
it, “Be!” and it is
[36] ﻭَﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺭَﺑّﻰ ﻭَﺭَﺑُّﻜُﻢ
ﻓَﺎﻋﺒُﺪﻭﻩُ ۚ ﻫٰﺬﺍ ﺻِﺮٰﻁٌ
ﻣُﺴﺘَﻘﻴﻢٌ
[36] তিনি আরও বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ আমার
পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। অতএব,
তোমরা তার এবাদত কর। এটা সরল পথ।
[36] [‘Īsā (Jesus) said]: “And verily Allâh
is my Lord and your Lord. So worship
Him (Alone). That is the Straight Path.
(Allâh’s religion of Islâmic Monotheism
which He did ordain for all of His
Prophets).” [Tafsir At-Tabarî]
[37] ﻓَﺎﺧﺘَﻠَﻒَ ﺍﻷَﺣﺰﺍﺏُ ﻣِﻦ
ﺑَﻴﻨِﻬِﻢ ۖ ﻓَﻮَﻳﻞٌ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ
ﻣِﻦ ﻣَﺸﻬَﺪِ ﻳَﻮﻡٍ ﻋَﻈﻴﻢٍ
[37] অতঃপর তাদের মধ্যে দলগুলো পৃথক
পৃথক পথ অবলম্বন করল। সুতরাং মহাদিবস
আগমনকালে কাফেরদের জন্যে ধবংস।
[37] Then the sects differed [i.e. the
Christians about ‘Īsā (Jesus) A.S.], so woe
unto the disbelievers [those who gave
false witness by saying that ‘Īsā (Jesus) is
the son of Allâh] from the Meeting of a
great Day (i.e. the Day of Resurrection,
when they will be thrown in the blazing
Fire).
[38] ﺃَﺳﻤِﻊ ﺑِﻬِﻢ ﻭَﺃَﺑﺼِﺮ ﻳَﻮﻡَ
ﻳَﺄﺗﻮﻧَﻨﺎ ۖ ﻟٰﻜِﻦِ ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻮﻥَ ﺍﻟﻴَﻮﻡَ
ﻓﻰ ﺿَﻠٰﻞٍ ﻣُﺒﻴﻦٍ
[38] সেদিন তারা কি চমৎকার শুনবে এবং
দেখবে, যেদিন তারা আমার কাছে আগমন
করবে। কিন্তু আজ জালেমরা প্রকাশ্য
বিভ্রান্তিতে রয়েছে।
[38] How clearly will they (polytheists
and disbelievers in the Oneness of Allâh)
see and hear, the Day when they will
appear before Us! But the Zalimûn
(polytheists and wrong-doers) today are
in plain error
[39] ﻭَﺃَﻧﺬِﺭﻫُﻢ ﻳَﻮﻡَ ﺍﻟﺤَﺴﺮَﺓِ ﺇِﺫ
ﻗُﻀِﻰَ ﺍﻷَﻣﺮُ ﻭَﻫُﻢ ﻓﻰ ﻏَﻔﻠَﺔٍ
ﻭَﻫُﻢ ﻻ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[39] আপনি তাদেরকে পরিতাপের দিবস
সম্পর্কে হুশিয়ার করে দিন যখন সব
ব্যাপারের মীমাংসা হয়ে যাবে। এখন তারা
অনবধানতায় আছে এবং তারা বিশ্বাস স্থাপন
করছে না।
[39] And warn them (O Muhammad
SAW) of the Day of grief and regrets,
when the case has been decided, while
(now) they are in a state of carelessness,
and they believe not
[40] ﺇِﻧّﺎ ﻧَﺤﻦُ ﻧَﺮِﺙُ ﺍﻷَﺭﺽَ
ﻭَﻣَﻦ ﻋَﻠَﻴﻬﺎ ﻭَﺇِﻟَﻴﻨﺎ ﻳُﺮﺟَﻌﻮﻥَ
[40] আমিই চুড়ান্ত মালিকানার অধিকারী হব
পৃথিবীর এবং তার উপর যারা আছে তাদের এবং
আমারই কাছে তারা প্রত্যাবর্তিত হবে।
[40] Verily! We will inherit the earth and
whatsoever is thereon. And to Us they all
shall be returned,
[41] ﻭَﺍﺫﻛُﺮ ﻓِﻰ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ
ﺇِﺑﺮٰﻫﻴﻢَ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛﺎﻥَ ﺻِﺪّﻳﻘًﺎ ﻧَﺒِﻴًّﺎ
[41] আপনি এই কিতাবে ইব্রাহীমের কথা
বর্ণনা করুন। নিশ্চয় তিনি ছিলেন সত্যবাদী,
নবী।
[41] And mention in the Book (the
Qur’ân) Ibrâhim (Abraham). Verily! he
was a man of truth, a Prophet.
[42] ﺇِﺫ ﻗﺎﻝَ ﻟِﺄَﺑﻴﻪِ ﻳٰﺄَﺑَﺖِ ﻟِﻢَ
ﺗَﻌﺒُﺪُ ﻣﺎ ﻻ ﻳَﺴﻤَﻊُ ﻭَﻻ ﻳُﺒﺼِﺮُ
ﻭَﻻ ﻳُﻐﻨﻰ ﻋَﻨﻚَ ﺷَﻴـًٔﺎ
[42] যখন তিনি তার পিতাকে বললেনঃ হে আমার
পিতা, যে শোনে না, দেখে না এবং তোমার
কোন উপকারে আসে না, তার এবাদত কেন
কর?
[42] When he said to his father: “O my
father! Why do you worship that which
hears not, sees not and cannot avail you
in anything?
[43] ﻳٰﺄَﺑَﺖِ ﺇِﻧّﻰ ﻗَﺪ ﺟﺎﺀَﻧﻰ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﻌِﻠﻢِ ﻣﺎ ﻟَﻢ ﻳَﺄﺗِﻚَ
ﻓَﺎﺗَّﺒِﻌﻨﻰ ﺃَﻫﺪِﻙَ ﺻِﺮٰﻃًﺎ ﺳَﻮِﻳًّﺎ
[43] হে আমার পিতা, আমার কাছে এমন জ্ঞান
এসেছে; যা তোমার কাছে আসেনি, সুতরাং
আমার অনুসরণ কর, আমি তোমাকে সরল পথ
দেখাব।
[43] “O my father! Verily! there has come
to me of knowledge that which came not
unto you. So follow me. I will guide you
to a Straight Path.
[44] ﻳٰﺄَﺑَﺖِ ﻻ ﺗَﻌﺒُﺪِ ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦَ ۖ
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦَ ﻛﺎﻥَ ﻟِﻠﺮَّﺣﻤٰﻦِ
ﻋَﺼِﻴًّﺎ
[44] হে আমার পিতা, শয়তানের এবাদত করো
না। নিশ্চয় শয়তান দয়াময়ের অবাধ্য।
[44] “O my father! Worship not Shaitân
(Satan). Verily! Shaitân (Satan) has been
a rebel against the Most Gracious (Allâh)
[45] ﻳٰﺄَﺑَﺖِ ﺇِﻧّﻰ ﺃَﺧﺎﻑُ ﺃَﻥ
ﻳَﻤَﺴَّﻚَ ﻋَﺬﺍﺏٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ
ﻓَﺘَﻜﻮﻥَ ﻟِﻠﺸَّﻴﻄٰﻦِ ﻭَﻟِﻴًّﺎ
[45] হে আমার পিতা, আমি আশঙ্কা করি,
দয়াময়ের একটি আযাব তোমাকে স্পর্শ
করবে, অতঃপর তুমি শয়তানের সঙ্গী হয়ে
যাবে।
[45] “O my father! Verily! I fear lest a
torment from the Most Gracious (Allâh)
should overtake you, so that you become
a companion of Shaitân (Satan) (in the
Hell-fire).” [Tafsir Al-Qurtubî]
[46] ﻗﺎﻝَ ﺃَﺭﺍﻏِﺐٌ ﺃَﻧﺖَ ﻋَﻦ
ﺀﺍﻟِﻬَﺘﻰ ﻳٰﺈِﺑﺮٰﻫﻴﻢُ ۖ ﻟَﺌِﻦ ﻟَﻢ
ﺗَﻨﺘَﻪِ ﻟَﺄَﺭﺟُﻤَﻨَّﻚَ ۖ ﻭَﺍﻫﺠُﺮﻧﻰ
ﻣَﻠِﻴًّﺎ
[46] পিতা বললঃ যে ইব্রাহীম, তুমি কি আমার
উপাস্যদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ? যদি
তুমি বিরত না হও, আমি অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে
তোমার প্রাণনাশ করব। তুমি চিরতরে আমার কাছ
থেকে দূর হয়ে যাও।
[46] He (the father) said: “Do you reject
my gods, O Ibrâhim (Abraham)? If you
stop not (this), I will indeed stone you. So
get away from me safely (before I punish
you).”
[47] ﻗﺎﻝَ ﺳَﻠٰﻢٌ ﻋَﻠَﻴﻚَ ۖ
ﺳَﺄَﺳﺘَﻐﻔِﺮُ ﻟَﻚَ ﺭَﺑّﻰ ۖ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛﺎﻥَ
ﺑﻰ ﺣَﻔِﻴًّﺎ
[47] ইব্রাহীম বললেনঃ তোমার উপর শান্তি
হোক, আমি আমার পালনকর্তার কাছে তোমার
জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিশ্চয় তিনি আমার
প্রতি মেহেরবান।
[47] Ibrâhim (Abraham) said: “Peace be
on you! I will ask Forgiveness of my Lord
for you. Verily! He is unto me, Ever Most
Gracious.
[48] ﻭَﺃَﻋﺘَﺰِﻟُﻜُﻢ ﻭَﻣﺎ ﺗَﺪﻋﻮﻥَ
ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺃَﺩﻋﻮﺍ ﺭَﺑّﻰ
ﻋَﺴﻰٰ ﺃَﻟّﺎ ﺃَﻛﻮﻥَ ﺑِﺪُﻋﺎﺀِ ﺭَﺑّﻰ
ﺷَﻘِﻴًّﺎ
[48] আমি পরিত্যাগ করছি তোমাদেরকে এবং
তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদের এবাদত কর
তাদেরকে; আমি আমার পালনকর্তার এবাদত
করব। আশা করি, আমার পালনকর্তার এবাদত
করে আমি বঞ্চিত হব না।
[48] “And I shall turn away from you and
from those whom you invoke besides
Allâh. And I shall call upon my Lord; and
I hope that I shall not be unblest in my
invocation to my Lord.”
[49] ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺍﻋﺘَﺰَﻟَﻬُﻢ ﻭَﻣﺎ
ﻳَﻌﺒُﺪﻭﻥَ ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻫَﺒﻨﺎ
ﻟَﻪُ ﺇِﺳﺤٰﻖَ ﻭَﻳَﻌﻘﻮﺏَ ۖ ﻭَﻛُﻠًّﺎ
ﺟَﻌَﻠﻨﺎ ﻧَﺒِﻴًّﺎ
[49] অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে এবং তার
আল্লাহ ব্যতীত যাদের এবাদত করত, তাদের
সবাইকে পরিত্যাগ করলেন, তখন আমি তাকে
দান করলাম ইসহাক ও ইয়াকুব এবং প্রত্যেককে
নবী করলাম।
[49] So when he had turned away from
them and from those whom they
worshipped besides Allâh, We gave him
Ishâq (Isaac) and Ya’qûb (Jacob), and
each one of them We made a Prophet.
[50] ﻭَﻭَﻫَﺒﻨﺎ ﻟَﻬُﻢ ﻣِﻦ ﺭَﺣﻤَﺘِﻨﺎ
ﻭَﺟَﻌَﻠﻨﺎ ﻟَﻬُﻢ ﻟِﺴﺎﻥَ ﺻِﺪﻕٍ
ﻋَﻠِﻴًّﺎ
[50] আমি তাদেরকে দান করলাম আমার
অনুগ্রহ এবং তাদেরকে দিলাম সমুচ্চ সুখ্যাতি।
[50] And We gave them of Our Mercy (a
good provision in plenty), and We
granted them honour on the tongues (of
all the nations, i.e everybody remembers
them with a good praise).
[51] ﻭَﺍﺫﻛُﺮ ﻓِﻰ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ
ﻣﻮﺳﻰٰ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛﺎﻥَ ﻣُﺨﻠَﺼًﺎ
ﻭَﻛﺎﻥَ ﺭَﺳﻮﻟًﺎ ﻧَﺒِﻴًّﺎ
[51] এই কিতাবে মূসার কথা বর্ণনা করুন, তিনি
ছিলেন মনোনীত এবং তিনি ছিলেন রাসূল,
নবী।
[51] And mention in the Book (this
Qur’ân) Mûsa (Moses). Verily! he was
chosen and he was a Messenger (and) a
Prophet
[52] ﻭَﻧٰﺪَﻳﻨٰﻪُ ﻣِﻦ ﺟﺎﻧِﺐِ ﺍﻟﻄّﻮﺭِ
ﺍﻷَﻳﻤَﻦِ ﻭَﻗَﺮَّﺑﻨٰﻪُ ﻧَﺠِﻴًّﺎ
[52] আমি তাকে আহবান করলাম তূর পাহাড়ের
ডান দিক থেকে এবং গুঢ়তত্ত্ব আলোচনার
উদ্দেশে তাকে নিকটবর্তী করলাম।
[52] And We called him from the right
side of the Mount, and made him draw
near to Us for a talk with him [Mûsa
(Moses)]
[53] ﻭَﻭَﻫَﺒﻨﺎ ﻟَﻪُ ﻣِﻦ ﺭَﺣﻤَﺘِﻨﺎ
ﺃَﺧﺎﻩُ ﻫٰﺮﻭﻥَ ﻧَﺒِﻴًّﺎ
[53] আমি নিজ অনুগ্রহে তাঁকে দান করলাম তাঁর
ভাই হারুনকে নবীরূপে।
[53] And We granted him his brother
Hârûn (Aaron), (also) a Prophet, out of
Our Mercy.
[54] ﻭَﺍﺫﻛُﺮ ﻓِﻰ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ
ﺇِﺳﻤٰﻌﻴﻞَ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛﺎﻥَ ﺻﺎﺩِﻕَ
ﺍﻟﻮَﻋﺪِ ﻭَﻛﺎﻥَ ﺭَﺳﻮﻟًﺎ ﻧَﺒِﻴًّﺎ
[54] এই কিতাবে ইসমাঈলের কথা বর্ণনা করুন,
তিনি প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যাশ্রয়ী এবং তিনি
ছিলেন রসূল, নবী।
[54] And mention in the Book (the
Qur’ân) Ismâ’il (Ishmael). Verily! he was
true to what he promised, and he was a
Messenger, (and) a Prophet.
[55] ﻭَﻛﺎﻥَ ﻳَﺄﻣُﺮُ ﺃَﻫﻠَﻪُ ﺑِﺎﻟﺼَّﻠﻮٰﺓِ
ﻭَﺍﻟﺰَّﻛﻮٰﺓِ ﻭَﻛﺎﻥَ ﻋِﻨﺪَ ﺭَﺑِّﻪِ
ﻣَﺮﺿِﻴًّﺎ
[55] তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে নামায ও যাকাত
আদায়ের নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তাঁর
পালনকর্তার কাছে পছন্দনীয় ছিলেন।
[55] And he used to enjoin on his family
and his people As-Salât (the prayers) and
the Zakât, and his Lord was pleased with
him.
[56] ﻭَﺍﺫﻛُﺮ ﻓِﻰ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ
ﺇِﺩﺭﻳﺲَ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛﺎﻥَ ﺻِﺪّﻳﻘًﺎ ﻧَﺒِﻴًّﺎ
[56] এই কিতাবে ইদ্রীসের কথা আলোচনা
করুন, তিনি ছিলেন সত্যবাদী নবী।
[56] And mention in the Book (the
Qur’ân) Idris (Enoch).Verily! he was a
man of truth, (and) a Prophet.
[57] ﻭَﺭَﻓَﻌﻨٰﻪُ ﻣَﻜﺎﻧًﺎ ﻋَﻠِﻴًّﺎ
[57] আমি তাকে উচ্চে উন্নীত করেছিলাম।
[57] And We raised him to a high station.
[58] ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺃَﻧﻌَﻢَ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲّۦﻥَ ﻣِﻦ
ﺫُﺭِّﻳَّﺔِ ﺀﺍﺩَﻡَ ﻭَﻣِﻤَّﻦ ﺣَﻤَﻠﻨﺎ ﻣَﻊَ
ﻧﻮﺡٍ ﻭَﻣِﻦ ﺫُﺭِّﻳَّﺔِ ﺇِﺑﺮٰﻫﻴﻢَ
ﻭَﺇِﺳﺮٰﺀﻳﻞَ ﻭَﻣِﻤَّﻦ ﻫَﺪَﻳﻨﺎ
ﻭَﺍﺟﺘَﺒَﻴﻨﺎ ۚ ﺇِﺫﺍ ﺗُﺘﻠﻰٰ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ
ﺀﺍﻳٰﺖُ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺧَﺮّﻭﺍ ﺳُﺠَّﺪًﺍ
ﻭَﺑُﻜِﻴًّﺎ ۩
[58] এরাই তারা-নবীগণের মধ্য থেকে
যাদেরকে আল্লাহ তা’আলা নেয়ামত দান
করেছেন। এরা আদমের বংশধর এবং
যাদেরকে আমি নূহের সাথে নৌকায়
আরোহন করিয়েছিলাম, তাদের বংশধর, এবং
ইব্রাহীম ও ইসরাঈলের বংশধর এবং
যাদেরকে আমি পথ প্রদর্শন করেছি ও
মনোনীত করেছি, তাদের বংশোদ্ভূত।
তাদের কাছে যখন দয়াময় আল্লাহর আয়াতসমূহ
পাঠ করা হত, তখন তারা সেজদায় লুটিয়ে পড়ত
এবং ক্রন্দন করত।
[58] Those were they unto whom Allâh
bestowed His Grace from among the
Prophets, of the offspring of Adam, and
of those whom We carried (in the ship)
with Nûh (Noah), and of the offspring of
Ibrâhim (Abraham) and Israel and from
among those whom We guided and
chose. When the Verses of the Most
Gracious (Allâh) were recited unto them,
they fell down prostrat and weeping.
[59] ۞ ﻓَﺨَﻠَﻒَ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِﻫِﻢ
ﺧَﻠﻒٌ ﺃَﺿﺎﻋُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﻠﻮٰﺓَ
ﻭَﺍﺗَّﺒَﻌُﻮﺍ ﺍﻟﺸَّﻬَﻮٰﺕِ ۖ ﻓَﺴَﻮﻑَ
ﻳَﻠﻘَﻮﻥَ ﻏَﻴًّﺎ
[59] অতঃপর তাদের পরে এল অপদার্থ
পরবর্তীরা। তারা নামায নষ্ট করল এবং
কুপ্রবৃত্তির অনুবর্তী হল। সুতরাং তারা অচিরেই
পথভ্রষ্টতা প্রত্যক্ষ করবে।
[59] Then, there has succeeded them a
posterity who have given up As-Salât
(the prayers) [i.e. made their Salât
(prayers) to be lost, either by not
offering them or by not offering them
perfectly or by not offering them in their
proper fixed times] and have followed
lusts. So they will be thrown in Hell.
[60] ﺇِﻟّﺎ ﻣَﻦ ﺗﺎﺏَ ﻭَﺀﺍﻣَﻦَ
ﻭَﻋَﻤِﻞَ ﺻٰﻠِﺤًﺎ ﻓَﺄُﻭﻟٰﺌِﻚَ
ﻳَﺪﺧُﻠﻮﻥَ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔَ ﻭَﻻ ﻳُﻈﻠَﻤﻮﻥَ
ﺷَﻴـًٔﺎ
[60] কিন্তু তারা ব্যতীত, যারা তওবা করেছে,
বিশ্বাস স্থাপন করেছে। সুতরাং তারা জান্নাতে
প্রবেশ করবে এবং তাদের উপর কোন
জুলুম করা হবে না।
[60] Except those who repent and believe
(in the Oneness of Allâh and His
Messenger Muhammad SAW), and work
righteousness. Such will enter Paradise
and they will not be wronged in aught.
[61] ﺟَﻨّٰﺖِ ﻋَﺪﻥٍ ﺍﻟَّﺘﻰ ﻭَﻋَﺪَ
ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦُ ﻋِﺒﺎﺩَﻩُ ﺑِﺎﻟﻐَﻴﺐِ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ
ﻛﺎﻥَ ﻭَﻋﺪُﻩُ ﻣَﺄﺗِﻴًّﺎ
[61] তাদের স্থায়ী বসবাস হবে যার ওয়াদা
দয়াময় আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে অদৃশ্যভাবে
দিয়েছেন। অবশ্যই তাঁর ওয়াদার তারা পৌঁছাবে।
[61] (They will enter) ‘Adn (Eden)
Paradise (everlasting Gardens), which
the Most Gracious (Allâh) has promised
to His slaves in the unseen: Verily! His
Promise must come to pass.
[62] ﻻ ﻳَﺴﻤَﻌﻮﻥَ ﻓﻴﻬﺎ ﻟَﻐﻮًﺍ ﺇِﻟّﺎ
ﺳَﻠٰﻤًﺎ ۖ ﻭَﻟَﻬُﻢ ﺭِﺯﻗُﻬُﻢ ﻓﻴﻬﺎ
ﺑُﻜﺮَﺓً ﻭَﻋَﺸِﻴًّﺎ
[62] তারা সেখানে সালাম ব্যতীত কোন
অসার কথাবার্তা শুনবে না এবং সেখানে সকাল-
সন্ধ্যা তাদের জন্যে রুযী থাকবে।
[62] They shall not hear therein (in
Paradise) any Laghw (dirty, false, evil
vain talk), but only Salâm (salutations of
peace). And they will have therein their
sustenance, morning and afternoon. [See
(V.40:55)]
[63] ﺗِﻠﻚَ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔُ ﺍﻟَّﺘﻰ ﻧﻮﺭِﺙُ
ﻣِﻦ ﻋِﺒﺎﺩِﻧﺎ ﻣَﻦ ﻛﺎﻥَ ﺗَﻘِﻴًّﺎ
[63] এটা ঐ জান্নাত যার অধিকারী করব আমার
বান্দাদের মধ্যে পরহেযগারদেরকে।
[63] Such is the Paradise which We shall
give as an inheritance to those of Our
slaves who have been Al-Muttaqûn
(pious and righteous persons – See V.2:2).
[64] ﻭَﻣﺎ ﻧَﺘَﻨَﺰَّﻝُ ﺇِﻟّﺎ ﺑِﺄَﻣﺮِ ﺭَﺑِّﻚَ ۖ
ﻟَﻪُ ﻣﺎ ﺑَﻴﻦَ ﺃَﻳﺪﻳﻨﺎ ﻭَﻣﺎ ﺧَﻠﻔَﻨﺎ
ﻭَﻣﺎ ﺑَﻴﻦَ ﺫٰﻟِﻚَ ۚ ﻭَﻣﺎ ﻛﺎﻥَ ﺭَﺑُّﻚَ
ﻧَﺴِﻴًّﺎ
[64] (জিব্রাইল বললঃ) আমি আপনার পালনকর্তার
আদেশ ব্যতীত অবতরণ করি না, যা আমাদের
সামনে আছে, যা আমাদের পশ্চাতে আছে
এবং যা এ দুই-এর মধ্যস্থলে আছে, সবই তাঁর
এবং আপনার পালনকর্তা বিস্মৃত হওয়ার নন।
[64] And we (angels) descend not except
by the Command of your Lord (O
Muhammad SAW). To Him belongs what
is before us and what is behind us, and
what is between those two, and your
Lord is never forgetful,—
[65] ﺭَﺏُّ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ
ﻭَﻣﺎ ﺑَﻴﻨَﻬُﻤﺎ ﻓَﺎﻋﺒُﺪﻩُ ﻭَﺍﺻﻄَﺒِﺮ
ﻟِﻌِﺒٰﺪَﺗِﻪِ ۚ ﻫَﻞ ﺗَﻌﻠَﻢُ ﻟَﻪُ ﺳَﻤِﻴًّﺎ
[65] তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডলে এতদুভয়ের
মধ্যবর্তী সবার পালনকর্তা। সুতরাং তাঁরই
বন্দেগী করুন এবং তাতে দৃঢ় থাকুন আপনি কি
তাঁর সমনাম কাউকে জানেন?
[65] Lord of the heavens and the earth,
and all that is between them, so worship
Him (Alone) and be constant and patient
in His worship. Do you know of any who
is similar to Him? (of course none is
similar or coequal or comparable to Him,
and He has none as partner with Him).
[There is nothing like unto Him and He
is the All-Hearer, the All-Seer].
[66] ﻭَﻳَﻘﻮﻝُ ﺍﻹِﻧﺴٰﻦُ ﺃَﺀِﺫﺍ ﻣﺎ
ﻣِﺖُّ ﻟَﺴَﻮﻑَ ﺃُﺧﺮَﺝُ ﺣَﻴًّﺎ
[66] মানুষ বলেঃ আমার মৃত্যু হলে পর আমি কি
জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হব?
[66] And man (the disbeliever) says:
“When I am dead, shall I then be raised
up alive?”
[67] ﺃَﻭَﻻ ﻳَﺬﻛُﺮُ ﺍﻹِﻧﺴٰﻦُ ﺃَﻧّﺎ
ﺧَﻠَﻘﻨٰﻪُ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ ﻭَﻟَﻢ ﻳَﻚُ ﺷَﻴـًٔﺎ
[67] মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে
ইতি পূর্বে সৃষ্টি করেছি এবং সে তখন কিছুই
ছিল না।
[67] Does not man remember that We
created him before, while he was
nothing?
[68] ﻓَﻮَﺭَﺑِّﻚَ ﻟَﻨَﺤﺸُﺮَﻧَّﻬُﻢ
ﻭَﺍﻟﺸَّﻴٰﻄﻴﻦَ ﺛُﻢَّ ﻟَﻨُﺤﻀِﺮَﻧَّﻬُﻢ
ﺣَﻮﻝَ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﺟِﺜِﻴًّﺎ
[68] সুতরাং আপনার পালনকর্তার কসম, আমি
অবশ্যই তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে
একত্রে সমবেত করব, অতঃপর অবশ্যই
তাদেরকে নতজানু অবস্থায় জাহান্নামের
চারপাশে উপস্থিত করব।
[68] So by your Lord, surely, We shall
gather them together, and (also) the
Shayâtin (devils) (with them), then We
shall bring them round Hell on their
knees.
[69] ﺛُﻢَّ ﻟَﻨَﻨﺰِﻋَﻦَّ ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﺷﻴﻌَﺔٍ
ﺃَﻳُّﻬُﻢ ﺃَﺷَﺪُّ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ
ﻋِﺘِﻴًّﺎ
[69] অতঃপর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মধ্যে
যে দয়াময় আল্লাহর সর্বাধিক অবাধ্য আমি
অবশ্যই তাকে পৃথক করে নেব।
[69] Then indeed We shall drag out from
every sect all those who were worst in
obstinate rebellion against the Most
Gracious (Allâh).
[70] ﺛُﻢَّ ﻟَﻨَﺤﻦُ ﺃَﻋﻠَﻢُ ﺑِﺎﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻫُﻢ ﺃَﻭﻟﻰٰ ﺑِﻬﺎ ﺻِﻠِﻴًّﺎ
[70] অতঃপর তাদের মধ্যে যারা জাহান্নামে
প্রবেশের অধিক যোগ্য, আমি তাদের
বিষয়ে ভালোভাবে জ্ঞাত আছি।
[70] Then, verily, We know best those
who are most worthy of being burnt
therein.
[71] ﻭَﺇِﻥ ﻣِﻨﻜُﻢ ﺇِﻟّﺎ ﻭﺍﺭِﺩُﻫﺎ ۚ
ﻛﺎﻥَ ﻋَﻠﻰٰ ﺭَﺑِّﻚَ ﺣَﺘﻤًﺎ ﻣَﻘﻀِﻴًّﺎ
[71] তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই
যে তথায় পৌছবে না। এটা আপনার
পালনকর্তার অনিবার্য ফায়সালা।
[71] There is not one of you but will pass
over it (Hell); this is with your Lord; a
Decree which must be accomplished
[72] ﺛُﻢَّ ﻧُﻨَﺠِّﻰ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺍﺗَّﻘَﻮﺍ
ﻭَﻧَﺬَﺭُ ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ ﻓﻴﻬﺎ ﺟِﺜِﻴًّﺎ
[72] অতঃপর আমি পরহেযগারদেরকে উদ্ধার
করব এবং জালেমদেরকে সেখানে নতজানু
অবস্থায় ছেড়ে দেব।
[72] Then We shall save those who use to
fear Allâh and were dutiful to Him. And
We shall leave the Zâlimûn (polytheists
and wrongdoers) therein (humbled) to
their knees (in Hell).
[73] ﻭَﺇِﺫﺍ ﺗُﺘﻠﻰٰ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺀﺍﻳٰﺘُﻨﺎ
ﺑَﻴِّﻨٰﺖٍ ﻗﺎﻝَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ
ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﺃَﻯُّ ﺍﻟﻔَﺮﻳﻘَﻴﻦِ
ﺧَﻴﺮٌ ﻣَﻘﺎﻣًﺎ ﻭَﺃَﺣﺴَﻦُ ﻧَﺪِﻳًّﺎ
[73] যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট
আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন কাফেররা
মুমিনদেরকে বলেঃ দুই দলের মধ্যে
কোনটি মর্তবায় শ্রেষ্ঠ এবং কার মজলিস
উত্তম?
[73] And when Our Clear Verses are
recited to them, those who disbelieve
(the rich and strong among the pagans
of Quraish who live a life of luxury) say
to those who believe (the weak, poor
companions of Prophet Muhammad SAW
who have a hard life): “Which of the two
groups (i.e. believers or disbelievers) is
best in (point of) position and as regards
station (place of council for
consultation).”
[74] ﻭَﻛَﻢ ﺃَﻫﻠَﻜﻨﺎ ﻗَﺒﻠَﻬُﻢ ﻣِﻦ
ﻗَﺮﻥٍ ﻫُﻢ ﺃَﺣﺴَﻦُ ﺃَﺛٰﺜًﺎ ﻭَﺭِﺀﻳًﺎ
[74] তাদের পূর্বে কত মানব গোষ্ঠীকে
আমি বিনাশ করেছি, তারা তাদের চাইতে
সম্পদে ও জাঁক-জমকে শ্রেষ্ঠ ছিল।
[74] And how many a generation (past
nations) have We destroyed before them,
who were better in wealth, goods and
outward appearance?
[75] ﻗُﻞ ﻣَﻦ ﻛﺎﻥَ ﻓِﻰ ﺍﻟﻀَّﻠٰﻠَﺔِ
ﻓَﻠﻴَﻤﺪُﺩ ﻟَﻪُ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦُ ﻣَﺪًّﺍ ۚ
ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ ﺭَﺃَﻭﺍ ﻣﺎ ﻳﻮﻋَﺪﻭﻥَ
ﺇِﻣَّﺎ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏَ ﻭَﺇِﻣَّﺎ ﺍﻟﺴّﺎﻋَﺔَ
ﻓَﺴَﻴَﻌﻠَﻤﻮﻥَ ﻣَﻦ ﻫُﻮَ ﺷَﺮٌّ
ﻣَﻜﺎﻧًﺎ ﻭَﺃَﺿﻌَﻒُ ﺟُﻨﺪًﺍ
[75] বলুন, যারা পথভ্রষ্টতায় আছে, দয়াময়
আল্লাহ তাদেরকে যথেষ্ট অবকাশ
দেবেন; এমনকি অবশেষে তারা প্রত্যক্ষ
করবে যে বিষয়ে তাদেরকে ওয়াদা দেয়া
হচ্ছে, তা আযাব হোক অথবা কেয়ামতই
হোক। সুতরাং তখন তারা জানতে পারবে কে
মর্তবায় নিকৃষ্ট ও দলবলে দূর্বল।
[75] Say (O Muhammad SAW) whoever is
in error, the Most Gracious (Allâh) will
extend (the rope) to him, until, when
they see that which they were promised,
either the torment or the Hour, they will
come to know who is worst in position,
and who is weaker in forces. [This is the
answer to the question in Verse
No.19:73]
[76] ﻭَﻳَﺰﻳﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺍﻫﺘَﺪَﻭﺍ
ﻫُﺪًﻯ ۗ ﻭَﺍﻟﺒٰﻘِﻴٰﺖُ ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤٰﺖُ
ﺧَﻴﺮٌ ﻋِﻨﺪَ ﺭَﺑِّﻚَ ﺛَﻮﺍﺑًﺎ ﻭَﺧَﻴﺮٌ
ﻣَﺮَﺩًّﺍ
[76] যারা সৎপথে চলে আল্লাহ তাদের
পথপ্রাপ্তি বৃদ্ধি করেন এবং স্থায়ী
সৎকর্মসমূহ তোমার পালনকর্তার কাছে
সওয়াবের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ এবং প্রতিদান
হিসেবেও শ্রেষ্ট।
[76] And Allâh increases in guidance
those who walk aright. And the righteous
good deeds that last, are better with your
Lord, for reward and better for resort.
[77] ﺃَﻓَﺮَﺀَﻳﺖَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻛَﻔَﺮَ
ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ﻭَﻗﺎﻝَ ﻟَﺄﻭﺗَﻴَﻦَّ ﻣﺎﻟًﺎ
ﻭَﻭَﻟَﺪًﺍ
[77] আপনি কি তাকে লক্ষ্য করেছেন যে,
আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে না এবং
বলেঃ আমাকে অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি
অবশ্যই দেয়া হবে।
[77] Have you seen him who disbelieved
in Our Ayât (this Qur’ân and
Muhammad SAW) and said: “I shall
certainly be given wealth and children
[if I will be alive (again)],”
[78] ﺃَﻃَّﻠَﻊَ ﺍﻟﻐَﻴﺐَ ﺃَﻡِ ﺍﺗَّﺨَﺬَ
ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﻋَﻬﺪًﺍ
[78] সে কি অদৃশ্য বিষয় জেনে
ফেলেছে, অথবা দয়াময় আল্লাহর নিকট
থেকে কোন প্রতিশ্রুতি প্রাপ্ত হয়েছে?
[78] Has he known the unseen or has he
taken a covenant from the Most Gracious
(Allâh)?
[79] ﻛَﻠّﺎ ۚ ﺳَﻨَﻜﺘُﺐُ ﻣﺎ ﻳَﻘﻮﻝُ
ﻭَﻧَﻤُﺪُّ ﻟَﻪُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏِ ﻣَﺪًّﺍ
[79] না, এটা ঠিক নয়। সে যা বলে আমি তা
লিখে রাখব এবং তার শাস্তি দীর্ঘায়িত করতে
থাকব।
[79] Nay! We shall record what he says,
and We shall increase his torment (in the
Hell);
[80] ﻭَﻧَﺮِﺛُﻪُ ﻣﺎ ﻳَﻘﻮﻝُ ﻭَﻳَﺄﺗﻴﻨﺎ
ﻓَﺮﺩًﺍ
[80] সে যা বলে, মৃত্যুর পর আমি তা নিয়ে
নেব এবং সে আমার কাছে আসবে
একাকী।
[80] And We shall inherit from him (at
his death) all that he talks of (i.e. wealth
and children which We have bestowed
upon him in this world), and he shall
come to Us alone
[81] ﻭَﺍﺗَّﺨَﺬﻭﺍ ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺀﺍﻟِﻬَﺔً ﻟِﻴَﻜﻮﻧﻮﺍ ﻟَﻬُﻢ ﻋِﺰًّﺍ
[81] তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য ইলাহ গ্রহণ
করেছে, যাতে তারা তাদের জন্যে
সাহায্যকারী হয়।
[81] And they have taken (for worship)
âlihah (gods) besides Allâh, that they
might give them honour, power and
glory (and also protect them from Allâh’s
Punishment).
[82] ﻛَﻠّﺎ ۚ ﺳَﻴَﻜﻔُﺮﻭﻥَ ﺑِﻌِﺒﺎﺩَﺗِﻬِﻢ
ﻭَﻳَﻜﻮﻧﻮﻥَ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺿِﺪًّﺍ
[82] কখনই নয়, তারা তাদের এবাদত অস্বীকার
করবে এবং তাদের বিপক্ষে চলে যাবে।
[82] Nay, but they (the so-called gods)
will deny their worship of them, and
become opponents to them (on the Day
of Resurrection).
[83] ﺃَﻟَﻢ ﺗَﺮَ ﺃَﻧّﺎ ﺃَﺭﺳَﻠﻨَﺎ
ﺍﻟﺸَّﻴٰﻄﻴﻦَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻜٰﻔِﺮﻳﻦَ
ﺗَﺆُﺯُّﻫُﻢ ﺃَﺯًّﺍ
[83] আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, আমি
কাফেরদের উপর শয়তানদেরকে ছেড়ে
দিয়েছি। তারা তাদেরকে বিশেষভাবে
(মন্দকর্মে) উৎসাহিত করে।
[83] See you not that We have sent the
Shayâtin (devils) against the disbelievers
to push them to do evil.
[84] ﻓَﻼ ﺗَﻌﺠَﻞ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ۖ ﺇِﻧَّﻤﺎ
ﻧَﻌُﺪُّ ﻟَﻬُﻢ ﻋَﺪًّﺍ
[84] সুতরাং তাদের ব্যাপারে আপনি তাড়াহুড়া
করবেন না। আমি তো তাদের গণনা পূর্ণ করছি
মাত্র।
[84] So make no haste against them; We
only count out to them a (limited)
number (of the days of the life of this
world and delay their term so that they
may increase in evil and sins).
[85] ﻳَﻮﻡَ ﻧَﺤﺸُﺮُ ﺍﻟﻤُﺘَّﻘﻴﻦَ ﺇِﻟَﻰ
ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﻭَﻓﺪًﺍ
[85] সেদিন দয়াময়ের কাছে
পরহেযগারদেরকে অতিথিরূপে সমবেত
করব,
[85] The Day We shall gather the
Muttaqûn (pious and righteous Persons –
see V.2:2) unto the Most Gracious (Allâh),
like a delegatation (presented before a
king for honour).
[86] ﻭَﻧَﺴﻮﻕُ ﺍﻟﻤُﺠﺮِﻣﻴﻦَ ﺇِﻟﻰٰ
ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﻭِﺭﺩًﺍ
[86] এবং অপরাধীদেরকে পিপাসার্ত অবস্থায়
জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাব।
[86] And We shall drive the Mujrimûn
(polytheists, sinners, criminals,
disbelievers in the Oneness of Allâh) to
Hell, in a thirsty state (like a thirsty herd
driven down to water),
[87] ﻻ ﻳَﻤﻠِﻜﻮﻥَ ﺍﻟﺸَّﻔٰﻌَﺔَ ﺇِﻟّﺎ ﻣَﻦِ
ﺍﺗَّﺨَﺬَ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﻋَﻬﺪًﺍ
[87] যে দয়াময় আল্লাহর কাছ থেকে
প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে, সে ব্যতীত
আর কেউ সুপারিশ করার অধিকারী হবে না।
[87] None shall have the power of
intercession, but such a one as has
received permission (or promise) from
the Most Gracious (Allâh).
[88] ﻭَﻗﺎﻟُﻮﺍ ﺍﺗَّﺨَﺬَ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦُ
ﻭَﻟَﺪًﺍ
[88] তারা বলেঃ দয়াময় আল্লাহ সন্তান গ্রহণ
করেছেন।
[88] And they say: “The Most Gracious
(Allâh) has begotten a son (or offspring
or children) [as the Jews say: ‘Uzair
(Ezra) is the son of Allâh, and the
Christians say that He has begotten a son
[‘Īsā (Christ) A.S.], and the pagan Arabs
say that He has begotten daughters
(angels, etc.)].”
[89] ﻟَﻘَﺪ ﺟِﺌﺘُﻢ ﺷَﻴـًٔﺎ ﺇِﺩًّﺍ
[89] নিশ্চয় তোমরা তো এক অদ্ভুত কান্ড
করেছ।
[89] Indeed you have brought forth (said)
a terrible evil thing.
[90] ﺗَﻜﺎﺩُ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕُ ﻳَﺘَﻔَﻄَّﺮﻥَ
ﻣِﻨﻪُ ﻭَﺗَﻨﺸَﻖُّ ﺍﻷَﺭﺽُ ﻭَﺗَﺨِﺮُّ
ﺍﻟﺠِﺒﺎﻝُ ﻫَﺪًّﺍ
[90] হয় তো এর কারণেই এখনই নভোমন্ডল
ফেটে পড়বে, পৃথিবী খন্ড-বিখন্ড হবে
এবং পর্বতমালা চূর্ণ-বিচুর্ণ হবে।
[90] Whereby the heavens are almost
torn, and the earth is split asunder, and
the mountains fall in ruins,
[91] ﺃَﻥ ﺩَﻋَﻮﺍ ﻟِﻠﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﻭَﻟَﺪًﺍ
[91] এ কারণে যে, তারা দয়াময় আল্লাহর
জন্যে সন্তান আহবান করে।
[91] That they ascribe a son (or offspring
or children) to the Most Gracious (Allâh).
[92] ﻭَﻣﺎ ﻳَﻨﺒَﻐﻰ ﻟِﻠﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺃَﻥ
ﻳَﺘَّﺨِﺬَ ﻭَﻟَﺪًﺍ
[92] অথচ সন্তান গ্রহণ করা দয়াময়ের জন্য
শোভনীয় নয়।
[92] But it is not suitable for (the Majesty
of) the Most Gracious (Allâh) that He
should beget a son (or offspring or
children).
[93] ﺇِﻥ ﻛُﻞُّ ﻣَﻦ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ﺇِﻟّﺎ ﺀﺍﺗِﻰ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ
ﻋَﺒﺪًﺍ
[93] নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে কেউ নেই
যে, দয়াময় আল্লাহর কাছে দাস হয়ে উপস্থিত
হবে না।
[93] There is none in the heavens and
the earth but comes unto the Most
Gracious (Allâh) as a slave.
[94] ﻟَﻘَﺪ ﺃَﺣﺼﻯٰﻬُﻢ ﻭَﻋَﺪَّﻫُﻢ
ﻋَﺪًّﺍ
[94] তাঁর কাছে তাদের পরিসংখ্যান রয়েছে
এবং তিনি তাদেরকে গণনা করে
রেখেছেন।
[94] Verily, He knows each one of them,
and has counted them a full counting.
[95] ﻭَﻛُﻠُّﻬُﻢ ﺀﺍﺗﻴﻪِ ﻳَﻮﻡَ ﺍﻟﻘِﻴٰﻤَﺔِ
ﻓَﺮﺩًﺍ
[95] কেয়ামতের দিন তাদের সবাই তাঁর কাছে
একাকী অবস্থায় আসবে।
[95] And everyone of them will come to
Him alone on the Day of Resurrection
(without any helper, or protector or
defender).
[96] ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ
ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤٰﺖِ ﺳَﻴَﺠﻌَﻞُ ﻟَﻬُﻢُ
ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦُ ﻭُﺩًّﺍ
[96] যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম
সম্পাদন করে, তাদেরকে দয়াময় আল্লাহ
ভালবাসা দেবেন।
[96] Verily, those who believe [in the
Oneness of Allâh and in His Messenger
(Muhammad SAW)] and work deeds of
righteousness, the Most Gracious (Allâh)
will bestow love for them (in the hearts
of the believers).
[97] ﻓَﺈِﻧَّﻤﺎ ﻳَﺴَّﺮﻧٰﻪُ ﺑِﻠِﺴﺎﻧِﻚَ
ﻟِﺘُﺒَﺸِّﺮَ ﺑِﻪِ ﺍﻟﻤُﺘَّﻘﻴﻦَ ﻭَﺗُﻨﺬِﺭَ ﺑِﻪِ
ﻗَﻮﻣًﺎ ﻟُﺪًّﺍ
[97] আমি কোরআনকে আপনার ভাষায় সহজ
করে দিয়েছি, যাতে আপনি এর দ্বারা
পরহেযগারদেরকে সুসংবাদ দেন এবং
কলহকারী সম্প্রদায়কে সতর্ক করেন।
[97] So We have made this (the Qur’ân)
easy in your own tongue (O Muhammad
SAW), only that you may give glad
tidings to the Muttaqûn (pious and
righteous persons – See V.2:2), and warn
with it the Luda (most quarrelsome)
people.
[98] ﻭَﻛَﻢ ﺃَﻫﻠَﻜﻨﺎ ﻗَﺒﻠَﻬُﻢ ﻣِﻦ
ﻗَﺮﻥٍ ﻫَﻞ ﺗُﺤِﺲُّ ﻣِﻨﻬُﻢ ﻣِﻦ
ﺃَﺣَﺪٍ ﺃَﻭ ﺗَﺴﻤَﻊُ ﻟَﻬُﻢ ﺭِﻛﺰًﺍ
[98] তাদের পূর্বে আমি কত
মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি। আপনি কি
তাদের কাহারও সাড়া পান, অথবা তাদের
ক্ষীনতম আওয়ায ও শুনতে পান?
[98] And how many a generation before
them have We destroyed! Can you (O
Muhammad SAW) find a single one of
them or hear even a whisper of them?
Bangla translation of Quran. Developed
by Syed Mohammad Rasel
Surah Maryam Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. কাফ-হা-ইয়া-আইন-সাদ 2. এটা আপনার পালনকর্তার অনুগ্রহের বিবরণ তাঁর বান্দা যাকারিয়ার প্রতি। 3. যখন সে তাঁর পালনকর্তাকে আহবান করেছিল নিভৃতে। 4. সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা আমার অস্থি বয়স-ভারাবনত হয়েছে; বার্ধক্যে মস্তক সুশুভ্র হয়েছে; হে আমার পালনকর্তা! আপনাকে ডেকে আমি কখনও বিফলমনোরথ হইনি। 5. আমি ভয় করি আমার পর আমার স্বগোত্রকে এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা; কাজেই আপনি নিজের পক্ষ থেকে আমাকে এক জন কর্তব্য পালনকারী দান করুন। 6. সে আমার স্থলাভিষিক্ত হবে ইয়াকুব বংশের এবং হে আমার পালনকর্তা, তাকে করুন সন্তোষজনক। 7. হে যাকারিয়া, আমি তোমাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি, তার নাম হবে ইয়াহইয়া। ইতিপূর্বে এই নামে আমি কারও নাম করণ করিনি। 8. সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা কেমন করে আমার পুত্র হবে অথচ আমার স্ত্রী যে বন্ধ্যা, আর আমিও যে বার্ধক্যের শেষ প্রান্তে উপনীত। 9. তিনি বললেনঃ এমনিতেই হবে। তোমার পালনকর্তা বলে দিয়েছেনঃ এটা আমার পক্ষে সহজ। আমি তো পুর্বে তোমাকে সৃষ্টি করেছি এবং তুমি কিছুই ছিলে না। 10. সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে একটি নির্দশন দিন। তিনি বললেন তোমার নিদর্শন এই যে, তুমি সুস্থ অবস্থায় তিন দিন মানুষের সাথে কথাবার্তা বলবে না। 11. অতঃপর সে কক্ষ থেকে বের হয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে এল এবং ইঙ্গিতে তাদেরকে সকাল সন্ধ্যায় আল্লাহকে স্মরণ করতে বললঃ 12. হে ইয়াহইয়া দৃঢ়তার সাথে এই গ্রন্থ ধারণ কর। আমি তাকে শৈশবেই বিচারবুদ্ধি দান করেছিলাম। 13. এবং নিজের পক্ষ থেকে আগ্রহ ও পবিত্রতা দিয়েছি। সে ছিল পরহেযগার। 14. পিতা-মাতার অনুগত এবং সে উদ্ধত, নাফরমান ছিল না। 15. তার প্রতি শান্তি-যেদিন সে জন্মগ্রহণ করে এবং যেদিন মৃত্যুবরণ করবে এবং যেদিন জীবিতাবস্থায় পুনরুত্থিত হবে। 16. এই কিতাবে মারইয়ামের কথা বর্ণনা করুন, যখন সে তার পরিবারের লোকজন থেকে পৃথক হয়ে পূর্বদিকে এক স্থানে আশ্রয় নিল। 17. অতঃপর তাদের থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্যে সে পর্দা করলো। অতঃপর আমি তার কাছে আমার রূহ প্রেরণ করলাম, সে তার নিকট পুর্ণ মানবাকৃতিতে আত্নপ্রকাশ করল। 18. মারইয়াম বললঃ আমি তোমা থেকে দয়াময়ের আশ্রয় প্রার্থনা করি যদি তুমি আল্লাহভীরু হও। 19. সে বললঃ আমি তো শুধু তোমার পালনকর্তা প্রেরিত, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করে যাব। 20. মরিইয়াম বললঃ কিরূপে আমার পুত্র হবে, যখন কোন মানব আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও কখনও ছিলাম না? 21. সে বললঃ এমনিতেই হবে। তোমার পালনকর্তা বলেছেন, এটা আমার জন্যে সহজ সাধ্য এবং আমি তাকে মানুষের জন্যে একটি নিদর্শন ও আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ স্বরূপ করতে চাই। এটা তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার। 22. অতঃপর তিনি গর্ভে সন্তান ধারণ করলেন এবং তৎসহ এক দূরবর্তী স্থানে চলে গেলেন। 23. প্রসব বেদনা তাঁকে এক খেজুর বৃক্ষ-মূলে আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। তিনি বললেনঃ হায়, আমি যদি কোনরূপে এর পূর্বে মরে যেতাম এবং মানুষের স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে, যেতাম! 24. অতঃপর ফেরেশতা তাকে নিম্নদিক থেকে আওয়ায দিলেন যে, তুমি দুঃখ করো না। তোমার পালনকর্তা তোমার পায়ের তলায় একটি নহর জারি করেছেন। 25. আর তুমি নিজের দিকে খেজুর গাছের কান্ডে নাড়া দাও, তা থেকে তোমার উপর সুপক্ক খেজুর পতিত হবে। 26. যখন আহার কর, পান কর এবং চক্ষু শীতল কর। যদি মানুষের মধ্যে কাউকে তুমি দেখ, তবে বলে দিওঃ আমি আল্লাহর উদ্দেশে রোযা মানত করছি। সুতরাং আজ আমি কিছুতেই কোন মানুষের সাথে কথা বলব না। 27. অতঃপর তিনি সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হলেন। তারা বললঃ হে মারইয়াম, তুমি একটি অঘটন ঘটিয়ে বসেছ। 28. হে হারূণ-ভাগিনী, তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না এবং তোমার মাতাও ছিল না ব্যভিচারিনী। 29. অতঃপর তিনি হাতে সন্তানের দিকে ইঙ্গিত করলেন। তারা বললঃ যে কোলের শিশু তার সাথে আমরা কেমন করে কথা বলব? 30. সন্তান বললঃ আমি তো আল্লাহর দাস। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন। 31. আমি যেখানেই থাকি, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন নামায ও যাকাত আদায় করতে। 32. এবং জননীর অনুগত থাকতে এবং আমাকে তিনি উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি। 33. আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত হব। 34. এই মারইয়ামের পুত্র ঈসা। সত্যকথা, যে সম্পর্কে লোকেরা বিতর্ক করে। 35. আল্লাহ এমন নন যে, সন্তান গ্রহণ করবেন, তিনি পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা, তিনি যখন কোন কাজ করা সিদ্ধান্ত করেন, তখন একথাই বলেনঃ হও এবং তা হয়ে যায়। 36. তিনি আরও বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ আমার পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তোমরা তার এবাদত কর। এটা সরল পথ। 37. অতঃপর তাদের মধ্যে দলগুলো পৃথক পৃথক পথ অবলম্বন করল। সুতরাং মহাদিবস আগমনকালে কাফেরদের জন্যে ধবংস। 38. সেদিন তারা কি চমৎকার শুনবে এবং দেখবে, যেদিন তারা আমার কাছে আগমন করবে। কিন্তু আজ জালেমরা প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে রয়েছে। 39. আপনি তাদেরকে পরিতাপের দিবস সম্পর্কে হুশিয়ার করে দিন যখন সব ব্যাপারের মীমাংসা হয়ে যাবে। এখন তারা অনবধানতায় আছে এবং তারা বিশ্বাস স্থাপন করছে না। 40. আমিই চুড়ান্ত মালিকানার অধিকারী হব পৃথিবীর এবং তার উপর যারা আছে তাদের এবং আমারই কাছে তারা প্রত্যাবর্তিত হবে। 41. আপনি এই কিতাবে ইব্রাহীমের কথা বর্ণনা করুন। নিশ্চয় তিনি ছিলেন সত্যবাদী, নবী। 42. যখন তিনি তার পিতাকে বললেনঃ হে আমার পিতা, যে শোনে না, দেখে না এবং তোমার কোন উপকারে আসে না, তার এবাদত কেন কর? 43. হে আমার পিতা, আমার কাছে এমন জ্ঞান এসেছে; যা তোমার কাছে আসেনি, সুতরাং আমার অনুসরণ কর, আমি তোমাকে সরল পথ দেখাব। 44. হে আমার পিতা, শয়তানের এবাদত করো না। নিশ্চয় শয়তান দয়াময়ের অবাধ্য। 45. হে আমার পিতা, আমি আশঙ্কা করি, দয়াময়ের একটি আযাব তোমাকে স্পর্শ করবে, অতঃপর তুমি শয়তানের সঙ্গী হয়ে যাবে। 46. পিতা বললঃ যে ইব্রাহীম, তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ? যদি তুমি বিরত না হও, আমি অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে তোমার প্রাণনাশ করব। তুমি চিরতরে আমার কাছ থেকে দূর হয়ে যাও। 47. ইব্রাহীম বললেনঃ তোমার উপর শান্তি হোক, আমি আমার পালনকর্তার কাছে তোমার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি মেহেরবান। 48. আমি পরিত্যাগ করছি তোমাদেরকে এবং তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদের এবাদত কর তাদেরকে; আমি আমার পালনকর্তার এবাদত করব। আশা করি, আমার পালনকর্তার এবাদত করে আমি বঞ্চিত হব না। 49. অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে এবং তার আল্লাহ ব্যতীত যাদের এবাদত করত, তাদের সবাইকে পরিত্যাগ করলেন, তখন আমি তাকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়াকুব এবং প্রত্যেককে নবী করলাম। 50. আমি তাদেরকে দান করলাম আমার অনুগ্রহ এবং তাদেরকে দিলাম সমুচ্চ সুখ্যাতি। 51. এই কিতাবে মূসার কথা বর্ণনা করুন, তিনি ছিলেন মনোনীত এবং তিনি ছিলেন রাসূল, নবী। 52. আমি তাকে আহবান করলাম তূর পাহাড়ের ডান দিক থেকে এবং গুঢ়তত্ত্ব আলোচনার উদ্দেশে তাকে নিকটবর্তী করলাম। 53. আমি নিজ অনুগ্রহে তাঁকে দান করলাম তাঁর ভাই হারুনকে নবীরূপে। 54. এই কিতাবে ইসমাঈলের কথা বর্ণনা করুন, তিনি প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যাশ্রয়ী এবং তিনি ছিলেন রসূল, নবী। 55. তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে নামায ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে পছন্দনীয় ছিলেন। 56. এই কিতাবে ইদ্রীসের কথা আলোচনা করুন, তিনি ছিলেন সত্যবাদী নবী। 57. আমি তাকে উচ্চে উন্নীত করেছিলাম। 58. এরাই তারা-নবীগণের মধ্য থেকে যাদেরকে আল্লাহ তা’আলা নেয়ামত দান করেছেন। এরা আদমের বংশধর এবং যাদেরকে আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহন করিয়েছিলাম, তাদের বংশধর, এবং ইব্রাহীম ও ইসরাঈলের বংশধর এবং যাদেরকে আমি পথ প্রদর্শন করেছি ও মনোনীত করেছি, তাদের বংশোদ্ভূত। তাদের কাছে যখন দয়াময় আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করা হত, তখন তারা সেজদায় লুটিয়ে পড়ত এবং ক্রন্দন করত। 59. অতঃপর তাদের পরে এল অপদার্থ পরবর্তীরা। তারা নামায নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুবর্তী হল। সুতরাং তারা অচিরেই পথভ্রষ্টতা প্রত্যক্ষ করবে। 60. কিন্তু তারা ব্যতীত, যারা তওবা করেছে, বিশ্বাস স্থাপন করেছে। সুতরাং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের উপর কোন জুলুম করা হবে না। 61. তাদের স্থায়ী বসবাস হবে যার ওয়াদা দয়াময় আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে অদৃশ্যভাবে দিয়েছেন। অবশ্যই তাঁর ওয়াদার তারা পৌঁছাবে। 62. তারা সেখানে সালাম ব্যতীত কোন অসার কথাবার্তা শুনবে না এবং সেখানে সকাল- সন্ধ্যা তাদের জন্যে রুযী থাকবে। 63. এটা ঐ জান্নাত যার অধিকারী করব আমার বান্দাদের মধ্যে পরহেযগারদেরকে। 64. (জিব্রাইল বললঃ) আমি আপনার পালনকর্তার আদেশ ব্যতীত অবতরণ করি না, যা আমাদের সামনে আছে, যা আমাদের পশ্চাতে আছে এবং যা এ দুই-এর মধ্যস্থলে আছে, সবই তাঁর এবং আপনার পালনকর্তা বিস্মৃত হওয়ার নন। 65. তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডলে এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবার পালনকর্তা। সুতরাং তাঁরই বন্দেগী করুন এবং তাতে দৃঢ় থাকুন আপনি কি তাঁর সমনাম কাউকে জানেন? 66. মানুষ বলেঃ আমার মৃত্যু হলে পর আমি কি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হব? 67. মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে ইতি পূর্বে সৃষ্টি করেছি এবং সে তখন কিছুই ছিল না। 68. সুতরাং আপনার পালনকর্তার কসম, আমি অবশ্যই তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে একত্রে সমবেত করব, অতঃপর অবশ্যই তাদেরকে নতজানু অবস্থায় জাহান্নামের চারপাশে উপস্থিত করব। 69. অতঃপর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মধ্যে যে দয়াময় আল্লাহর সর্বাধিক অবাধ্য আমি অবশ্যই তাকে পৃথক করে নেব। 70. অতঃপর তাদের মধ্যে যারা জাহান্নামে প্রবেশের অধিক যোগ্য, আমি তাদের বিষয়ে ভালোভাবে জ্ঞাত আছি। 71. তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তথায় পৌছবে না। এটা আপনার পালনকর্তার অনিবার্য ফায়সালা। 72. অতঃপর আমি পরহেযগারদেরকে উদ্ধার করব এবং জালেমদেরকে সেখানে নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দেব। 73. যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন কাফেররা মুমিনদেরকে বলেঃ দুই দলের মধ্যে কোনটি মর্তবায় শ্রেষ্ঠ এবং কার মজলিস উত্তম? 74. তাদের পূর্বে কত মানব গোষ্ঠীকে আমি বিনাশ করেছি, তারা তাদের চাইতে সম্পদে ও জাঁক- জমকে শ্রেষ্ঠ ছিল। 75. বলুন, যারা পথভ্রষ্টতায় আছে, দয়াময় আল্লাহ তাদেরকে যথেষ্ট অবকাশ দেবেন; এমনকি অবশেষে তারা প্রত্যক্ষ করবে যে বিষয়ে তাদেরকে ওয়াদা দেয়া হচ্ছে, তা আযাব হোক অথবা কেয়ামতই হোক। সুতরাং তখন তারা জানতে পারবে কে মর্তবায় নিকৃষ্ট ও দলবলে দূর্বল। 76. যারা সৎপথে চলে আল্লাহ তাদের পথপ্রাপ্তি বৃদ্ধি করেন এবং স্থায়ী সৎকর্মসমূহ তোমার পালনকর্তার কাছে সওয়াবের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ এবং প্রতিদান হিসেবেও শ্রেষ্ট। 77. আপনি কি তাকে লক্ষ্য করেছেন যে, আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে না এবং বলেঃ আমাকে অর্থ- সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি অবশ্যই দেয়া হবে। 78. সে কি অদৃশ্য বিষয় জেনে ফেলেছে, অথবা দয়াময় আল্লাহর নিকট থেকে কোন প্রতিশ্রুতি প্রাপ্ত হয়েছে? 79. না, এটা ঠিক নয়। সে যা বলে আমি তা লিখে রাখব এবং তার শাস্তি দীর্ঘায়িত করতে থাকব। 80. সে যা বলে, মৃত্যুর পর আমি তা নিয়ে নেব এবং সে আমার কাছে আসবে একাকী। 81. তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য ইলাহ গ্রহণ করেছে, যাতে তারা তাদের জন্যে সাহায্যকারী হয়। 82. কখনই নয়, তারা তাদের এবাদত অস্বীকার করবে এবং তাদের বিপক্ষে চলে যাবে। 83. আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, আমি কাফেরদের উপর শয়তানদেরকে ছেড়ে দিয়েছি। তারা তাদেরকে বিশেষভাবে (মন্দকর্মে) উৎসাহিত করে। 84. সুতরাং তাদের ব্যাপারে আপনি তাড়াহুড়া করবেন না। আমি তো তাদের গণনা পূর্ণ করছি মাত্র। 85. সেদিন দয়াময়ের কাছে পরহেযগারদেরকে অতিথিরূপে সমবেত করব, 86. এবং অপরাধীদেরকে পিপাসার্ত অবস্থায় জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাব। 87. যে দয়াময় আল্লাহর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে, সে ব্যতীত আর কেউ সুপারিশ করার অধিকারী হবে না। 88. তারা বলেঃ দয়াময় আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। 89. নিশ্চয় তোমরা তো এক অদ্ভুত কান্ড করেছ। 90. হয় তো এর কারণেই এখনই নভোমন্ডল ফেটে পড়বে, পৃথিবী খন্ড-বিখন্ড হবে এবং পর্বতমালা চূর্ণ-বিচুর্ণ হবে। 91. এ কারণে যে, তারা দয়াময় আল্লাহর জন্যে সন্তান আহবান করে। 92. অথচ সন্তান গ্রহণ করা দয়াময়ের জন্য শোভনীয় নয়। 93. নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে কেউ নেই যে, দয়াময় আল্লাহর কাছে দাস হয়ে উপস্থিত হবে না। 94. তাঁর কাছে তাদের পরিসংখ্যান রয়েছে এবং তিনি তাদেরকে গণনা করে রেখেছেন। 95. কেয়ামতের দিন তাদের সবাই তাঁর কাছে একাকী অবস্থায় আসবে। 96. যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদেরকে দয়াময় আল্লাহ ভালবাসা দেবেন। 97. আমি কোরআনকে আপনার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি, যাতে আপনি এর দ্বারা পরহেযগারদেরকে সুসংবাদ দেন এবং কলহকারী সম্প্রদায়কে সতর্ক করেন। 98. তাদের পূর্বে আমি কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি। আপনি কি তাদের কাহারও সাড়া পান, অথবা তাদের ক্ষীনতম আওয়ায ও শুনতে পান? ********

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s