20. সুরাহ তহা (01-135)


ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি
দয়ালু
[1] ﻃﻪ
[1] তোয়া-হা
[1] Ta – Ha [These letters are one of the
miracles of the Qur’ân, and none but
Allâh (Alone) knows their meanings.]
[2] ﻣﺎ ﺃَﻧﺰَﻟﻨﺎ ﻋَﻠَﻴﻚَ ﺍﻟﻘُﺮﺀﺍﻥَ
ﻟِﺘَﺸﻘﻰٰ
[2] আপনাকে ক্লেশ দেবার জন্য আমি
আপনার প্রতি কোরআন অবতীর্ণ করিনি।
[2] We have not sent down the Qur’ân
unto you (O Muhammad SAW) to cause
you distress,
[3] ﺇِﻟّﺎ ﺗَﺬﻛِﺮَﺓً ﻟِﻤَﻦ ﻳَﺨﺸﻰٰ
[3] কিন্তু তাদেরই উপদেশের জন্য যারা ভয়
করে।
[3] But only as a Reminder to those who
fear (Allâh).
[4] ﺗَﻨﺰﻳﻠًﺎ ﻣِﻤَّﻦ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻷَﺭﺽَ
ﻭَﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﺍﻟﻌُﻠَﻰ
[4] এটা তাঁর কাছ থেকে অবতীর্ণ, যিনি
ভূমন্ডল ও সমুচ্চ নভোমন্ডল সৃষ্টি
করেছেন।
[4] A revelation from Him (Allâh) Who
has created the earth and high heavens.
[5] ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻌَﺮﺵِ
ﺍﺳﺘَﻮﻯٰ
[5] তিনি পরম দয়াময়, আরশে সমাসীন
হয়েছেন।
[5] The Most Gracious (Allâh) rrose over
(Istawâ) the (Mighty) Throne (in a
manner that suits His Majesty).
[6] ﻟَﻪُ ﻣﺎ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﻣﺎ
ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﻣﺎ ﺑَﻴﻨَﻬُﻤﺎ ﻭَﻣﺎ
ﺗَﺤﺖَ ﺍﻟﺜَّﺮﻯٰ
[6] নভোমন্ডলে, ভুমন্ডলে, এতদুভয়ের
মধ্যবর্তী স্থানে এবং সিক্ত ভূগর্ভে যা
আছে, তা তাঁরই।
[6] To Him belongs all that is in the
heavens and all that is on the earth, and
all that is between them, and all that is
under the soil.
[7] ﻭَﺇِﻥ ﺗَﺠﻬَﺮ ﺑِﺎﻟﻘَﻮﻝِ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ
ﻳَﻌﻠَﻢُ ﺍﻟﺴِّﺮَّ ﻭَﺃَﺧﻔَﻰ
[7] যদি তুমি উচ্চকন্ঠেও কথা বল, তিনি তো
গুপ্ত ও তদপেক্ষাও গুপ্ত বিষয়বস্তু জানেন।
[7] And if you (O Muhammad SAW)
speak (the invocation) aloud, then verily,
He knows the secret and that which is
yet more hidden.
[8] ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻻ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻟّﺎ ﻫُﻮَ ۖ ﻟَﻪُ
ﺍﻷَﺳﻤﺎﺀُ ﺍﻟﺤُﺴﻨﻰٰ
[8] আল্লাহ তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য ইলাহ
নেই। সব সৌন্দর্যমন্ডিত নাম তাঁরই।
[8] Allâh! Lâ ilâhla illa Huwa (none has
the right to be worshipped but He)! To
Him belong the Best Names
[9] ﻭَﻫَﻞ ﺃَﺗﻯٰﻚَ ﺣَﺪﻳﺚُ
ﻣﻮﺳﻰٰ
[9] আপনার কাছে মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি।
[9] And has there come to you the story
of Mûsa (Moses)?
[10] ﺇِﺫ ﺭَﺀﺍ ﻧﺎﺭًﺍ ﻓَﻘﺎﻝَ ﻟِﺄَﻫﻠِﻪِ
ﺍﻣﻜُﺜﻮﺍ ﺇِﻧّﻰ ﺀﺍﻧَﺴﺖُ ﻧﺎﺭًﺍ
ﻟَﻌَﻠّﻰ ﺀﺍﺗﻴﻜُﻢ ﻣِﻨﻬﺎ ﺑِﻘَﺒَﺲٍ ﺃَﻭ
ﺃَﺟِﺪُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ ﻫُﺪًﻯ
[10] তিনি যখন আগুন দেখলেন, তখন
পরিবারবর্গকে বললেনঃ তোমরা এখানে
অবস্থান কর আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবতঃ
আমি তা থেকে তোমাদের কাছে কিছু আগুন
জালিয়ে আনতে পারব অথবা আগুনে
পৌছে পথের সন্ধান পাব।
[10] When he saw a fire, he said to his
family: “Wait! Verily, I have seen a fire,
perhaps I can bring you some burning
brand therefrom, or find some guidance
at the fire.”
[11] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺃَﺗﻯٰﻬﺎ ﻧﻮﺩِﻯَ
ﻳٰﻤﻮﺳﻰٰ
[11] অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে
পৌছলেন, তখন আওয়াজ আসল হে মূসা,
[11] And when he came to it (the fire), he
was called by name: “O Mûsa (Moses)!
[12] ﺇِﻧّﻰ ﺃَﻧﺎ۠ ﺭَﺑُّﻚَ ﻓَﺎﺧﻠَﻊ
ﻧَﻌﻠَﻴﻚَ ۖ ﺇِﻧَّﻚَ ﺑِﺎﻟﻮﺍﺩِ ﺍﻟﻤُﻘَﺪَّﺱِ
ﻃُﻮًﻯ
[12] আমিই তোমার পালনকর্তা, অতএব তুমি জুতা
খুলে ফেল, তুমি পবিত্র উপত্যকা তুয়ায়
রয়েছ।
[12] “Verily! I am your Lord! So take off
your shoes, you are in the sacred valley,
Tuwa.
[13] ﻭَﺃَﻧَﺎ ﺍﺧﺘَﺮﺗُﻚَ ﻓَﺎﺳﺘَﻤِﻊ ﻟِﻤﺎ
ﻳﻮﺣﻰٰ
[13] এবং আমি তোমাকে মনোনীত করেছি,
অতএব যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে, তা শুনতে
থাক।
[13] “And I have chosen you. So listen to
that which will be revealed (to you).
[14] ﺇِﻧَّﻨﻰ ﺃَﻧَﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻻ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻟّﺎ ﺃَﻧﺎ۠
ﻓَﺎﻋﺒُﺪﻧﻰ ﻭَﺃَﻗِﻢِ ﺍﻟﺼَّﻠﻮٰﺓَ
ﻟِﺬِﻛﺮﻯ
[14] আমিই আল্লাহ আমি ব্যতীত কোন ইলাহ
নেই। অতএব আমার এবাদত কর এবং আমার
স্মরণার্থে নামায কায়েম কর।
[14] “Verily! I am Allâh! Lâ ilâha illa Ana
(none has the right to be worshipped but
I), so worship Me, and perform As-Salât
(Iqâmat-as-Salât) for My Remembrance.
[15] ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺴّﺎﻋَﺔَ ﺀﺍﺗِﻴَﺔٌ ﺃَﻛﺎﺩُ
ﺃُﺧﻔﻴﻬﺎ ﻟِﺘُﺠﺰﻯٰ ﻛُﻞُّ ﻧَﻔﺲٍ ﺑِﻤﺎ
ﺗَﺴﻌﻰٰ
[15] কেয়ামত অবশ্যই আসবে, আমি তা
গোপন রাখতে চাই; যাতে প্রত্যেকেই তার
কর্মানুযায়ী ফল লাভ করে।
[15] “Verily, the Hour is coming and I am
almost hiding it from myself – that every
person may be rewarded for that which
he strives.
[16] ﻓَﻼ ﻳَﺼُﺪَّﻧَّﻚَ ﻋَﻨﻬﺎ ﻣَﻦ ﻻ
ﻳُﺆﻣِﻦُ ﺑِﻬﺎ ﻭَﺍﺗَّﺒَﻊَ ﻫَﻮﻯٰﻪُ
ﻓَﺘَﺮﺩﻯٰ
[16] সুতরাং যে ব্যক্তি কেয়ামতে বিশ্বাস
রাখে না এবং নিজ খাহেশের অনুসরণ করে,
সে যেন তোমাকে তা থেকে নিবৃত্ত না
করে। নিবৃত্ত হলে তুমি ধবংস হয়ে যাবে।
[16] “Therefore, let not the one who
believes not therein (i.e. in the Day of
Resurrection, Reckoning, Paradise and
Hell), but follows his own lusts, divert
you therefrom, lest you perish.
[17] ﻭَﻣﺎ ﺗِﻠﻚَ ﺑِﻴَﻤﻴﻨِﻚَ
ﻳٰﻤﻮﺳﻰٰ
[17] হে মূসা, তোমার ডানহাতে ওটা কি?
[17] “And what is that in your right
hand, O Mûsa (Moses)?”
[18] ﻗﺎﻝَ ﻫِﻰَ ﻋَﺼﺎﻯَ ﺃَﺗَﻮَﻛَّﺆُﺍ۟
ﻋَﻠَﻴﻬﺎ ﻭَﺃَﻫُﺶُّ ﺑِﻬﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﻏَﻨَﻤﻰ
ﻭَﻟِﻰَ ﻓﻴﻬﺎ ﻣَـٔﺎﺭِﺏُ ﺃُﺧﺮﻯٰ
[18] তিনি বললেনঃ এটা আমার লাঠি, আমি এর উপর
ভর দেই এবং এর দ্বারা আমার ছাগপালের
জন্যে বৃক্ষপত্র ঝেড়ে ফেলি এবং এতে
আমার অন্যান্য কাজ ও চলে।
[18] He said: “This is my stick, whereon I
lean, and wherewith I beat down
branches for my sheep, and wherein I
find other uses.”
[19] ﻗﺎﻝَ ﺃَﻟﻘِﻬﺎ ﻳٰﻤﻮﺳﻰٰ
[19] আল্লাহ বললেনঃ হে মূসা, তুমি ওটা
নিক্ষেপ কর।
[19] (Allâh) said: “Cast it down, O Mûsa
(Moses)!”
[20] ﻓَﺄَﻟﻘﻯٰﻬﺎ ﻓَﺈِﺫﺍ ﻫِﻰَ ﺣَﻴَّﺔٌ
ﺗَﺴﻌﻰٰ
[20] অতঃপর তিনি তা নিক্ষেপ করলেন, অমনি তা
সাপ হয়ে ছুটাছুটি করতে লাগল।
[20] He cast it down, and behold! It was
a snake, moving quickly.
[21] ﻗﺎﻝَ ﺧُﺬﻫﺎ ﻭَﻻ ﺗَﺨَﻒ ۖ
ﺳَﻨُﻌﻴﺪُﻫﺎ ﺳﻴﺮَﺗَﻬَﺎ ﺍﻷﻭﻟﻰٰ
[21] আল্লাহ বললেনঃ তুমি তাকে ধর এবং ভয়
করো না, আমি এখনি একে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে
দেব।
[21] Allâh said:”Grasp it, and fear not,
We shall return it to its former state,
[22] ﻭَﺍﺿﻤُﻢ ﻳَﺪَﻙَ ﺇِﻟﻰٰ
ﺟَﻨﺎﺣِﻚَ ﺗَﺨﺮُﺝ ﺑَﻴﻀﺎﺀَ ﻣِﻦ
ﻏَﻴﺮِ ﺳﻮﺀٍ ﺀﺍﻳَﺔً ﺃُﺧﺮﻯٰ
[22] তোমার হাত বগলে রাখ, তা বের হয়ে
আসবে নির্মল উজ্জ্বল হয়ে অন্য এক
নিদর্শন রূপে; কোন দোষ ছাড়াই।
[22] “And press your (right) hand to your
(left) side, it will come forth white (and
shining), without any disease as another
sign,—
[23] ﻟِﻨُﺮِﻳَﻚَ ﻣِﻦ ﺀﺍﻳٰﺘِﻨَﺎ ﺍﻟﻜُﺒﺮَﻯ
[23] এটা এজন্যে যে, আমি আমার বিরাট
নিদর্শনাবলীর কিছু তোমাকে দেখাই।
[23] “That We may show you (some) of
Our Greater Signs,
[24] ﺍﺫﻫَﺐ ﺇِﻟﻰٰ ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ ﺇِﻧَّﻪُ
ﻃَﻐﻰٰ
[24] ফেরাউনের নিকট যাও, সে দারুণ উদ্ধত
হয়ে গেছে।
[24] “Go to Fir’aun (Pharaoh)! Verily, he
has transgressed (all bounds in disbelief
and disobedience, and has behaved as
an arrogant, and as a tyrant).”
[25] ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﺍﺷﺮَﺡ ﻟﻰ
ﺻَﺪﺭﻯ
[25] মূসা বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা আমার
বক্ষ প্রশস্ত করে দিন।
[25] [Mûsa (Moses)] said: “O my Lord!
Open for me my chest (grant me self-
confidence, contentment, and boldness)
[26] ﻭَﻳَﺴِّﺮ ﻟﻰ ﺃَﻣﺮﻯ
[26] এবং আমার কাজ সহজ করে দিন।
[26] “And ease my task for me;
[27] ﻭَﺍﺣﻠُﻞ ﻋُﻘﺪَﺓً ﻣِﻦ ﻟِﺴﺎﻧﻰ
[27] এবং আমার জিহবা থেকে জড়তা দূর করে
দিন।
[27] “And loose the knot (the defect)
from my tongue, (i.e. remove the
incorrectness from my speech) [That
occurred as a result of a brand of fire
which Mûsa (Moses) put in his mouth
when he was an infant]. [Tafsir At-
Tabarî]
[28] ﻳَﻔﻘَﻬﻮﺍ ﻗَﻮﻟﻰ
[28] যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।
[28] “That they understand my speech,
[29] ﻭَﺍﺟﻌَﻞ ﻟﻰ ﻭَﺯﻳﺮًﺍ ﻣِﻦ
ﺃَﻫﻠﻰ
[29] এবং আমার পরিবারবর্গের মধ্য থেকে
আমার একজন সাহায্যকারী করে দিন।
[29] “And appoint for me a helper from
my family,
[30] ﻫٰﺮﻭﻥَ ﺃَﺧِﻰ
[30] আমার ভাই হারুনকে।
[30] “Hârûn (Aaron), my brother;
[31] ﺍﺷﺪُﺩ ﺑِﻪِ ﺃَﺯﺭﻯ
[31] তার মাধ্যমে আমার কোমর মজবুত করুন।
[31] “Increase my strength with him,
[32] ﻭَﺃَﺷﺮِﻛﻪُ ﻓﻰ ﺃَﻣﺮﻯ
[32] এবং তাকে আমার কাজে অংশীদার করুন।
[32] “And let him share my task (of
conveying Allâh’s Message and
Prophethood),
[33] ﻛَﻰ ﻧُﺴَﺒِّﺤَﻚَ ﻛَﺜﻴﺮًﺍ
[33] যাতে আমরা বেশী করে আপনার
পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করতে পারি।
[33] “That we may glorify You much,
[34] ﻭَﻧَﺬﻛُﺮَﻙَ ﻛَﺜﻴﺮًﺍ
[34] এবং বেশী পরিমাণে আপনাকে স্মরণ
করতে পারি।
[34] “And remember You much,
[35] ﺇِﻧَّﻚَ ﻛُﻨﺖَ ﺑِﻨﺎ ﺑَﺼﻴﺮًﺍ
[35] আপনি তো আমাদের অবস্থা সবই
দেখছেন।
[35] “Verily! You are Ever a Well-Seer of
us.”
[36] ﻗﺎﻝَ ﻗَﺪ ﺃﻭﺗﻴﺖَ ﺳُﺆﻟَﻚَ
ﻳٰﻤﻮﺳﻰٰ
[36] আল্লাহ বললেনঃ হে মূসা, তুমি যা
চেয়েছ তা তোমাকে দেয়া হল।
[36] (Allâh) said: “You are granted your
request, O Mûsa (Moses)!
[37] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﻣَﻨَﻨّﺎ ﻋَﻠَﻴﻚَ ﻣَﺮَّﺓً
ﺃُﺧﺮﻯٰ
[37] আমি তোমার প্রতি আরও একবার অনুগ্রহ
করেছিলাম।
[37] “And indeed We conferred a favour
on you another time (before).
[38] ﺇِﺫ ﺃَﻭﺣَﻴﻨﺎ ﺇِﻟﻰٰ ﺃُﻣِّﻚَ ﻣﺎ
ﻳﻮﺣﻰٰ
[38] যখন আমি তোমার মাতাকে নির্দেশ
দিয়েছিলাম যা অতঃপর বর্ণিত হচ্ছে।
[38] “When We inspired your mother
with that which We inspired.
[39] ﺃَﻥِ ﺍﻗﺬِﻓﻴﻪِ ﻓِﻰ ﺍﻟﺘّﺎﺑﻮﺕِ
ﻓَﺎﻗﺬِﻓﻴﻪِ ﻓِﻰ ﺍﻟﻴَﻢِّ ﻓَﻠﻴُﻠﻘِﻪِ
ﺍﻟﻴَﻢُّ ﺑِﺎﻟﺴّﺎﺣِﻞِ ﻳَﺄﺧُﺬﻩُ ﻋَﺪُﻭٌّ
ﻟﻰ ﻭَﻋَﺪُﻭٌّ ﻟَﻪُ ۚ ﻭَﺃَﻟﻘَﻴﺖُ ﻋَﻠَﻴﻚَ
ﻣَﺤَﺒَّﺔً ﻣِﻨّﻰ ﻭَﻟِﺘُﺼﻨَﻊَ ﻋَﻠﻰٰ
ﻋَﻴﻨﻰ
[39] যে, তুমি (মূসাকে) সিন্দুকে রাখ, অতঃপর
তা দরিয়ায় ভাসিয়ে দাও, অতঃপর দরিয়া তাকে
তীরে ঠেলে দেবে। তাকে আমার
শক্র ও তার শক্র উঠিয়ে নেবে। আমি
তোমার প্রতি মহব্বত সঞ্চারিত করেছিলাম
আমার নিজের পক্ষ থেকে, যাতে তুমি আমার
দৃষ্টির সামনে প্রতি পালিত হও।
[39] “Saying: ‘Put him (the child) into the
Tabût (a box or a case or a chest) and
put it into the river (Nile), then the river
shall cast it up on the bank, and there,
an enemy of Mine and an enemy of his
shall take him.’ And I endued you with
love from Me, in order that you may be
brought up under My Eye,
[40] ﺇِﺫ ﺗَﻤﺸﻰ ﺃُﺧﺘُﻚَ ﻓَﺘَﻘﻮﻝُ
ﻫَﻞ ﺃَﺩُﻟُّﻜُﻢ ﻋَﻠﻰٰ ﻣَﻦ ﻳَﻜﻔُﻠُﻪُ ۖ
ﻓَﺮَﺟَﻌﻨٰﻚَ ﺇِﻟﻰٰ ﺃُﻣِّﻚَ ﻛَﻰ ﺗَﻘَﺮَّ
ﻋَﻴﻨُﻬﺎ ﻭَﻻ ﺗَﺤﺰَﻥَ ۚ ﻭَﻗَﺘَﻠﺖَ
ﻧَﻔﺴًﺎ ﻓَﻨَﺠَّﻴﻨٰﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻐَﻢِّ
ﻭَﻓَﺘَﻨّٰﻚَ ﻓُﺘﻮﻧًﺎ ۚ ﻓَﻠَﺒِﺜﺖَ ﺳِﻨﻴﻦَ
ﻓﻰ ﺃَﻫﻞِ ﻣَﺪﻳَﻦَ ﺛُﻢَّ ﺟِﺌﺖَ
ﻋَﻠﻰٰ ﻗَﺪَﺭٍ ﻳٰﻤﻮﺳﻰٰ
[40] যখন তোমার ভগিনী এসে বললঃ আমি কি
তোমাদেরকে বলে দেব কে তাকে
লালন পালন করবে। অতঃপর আমি তোমাকে
তোমার মাতার কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার
চক্ষু শীতল হয় এবং দুঃখ না পায়। তুমি এক
ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে, অতঃপর আমি
তোমাকে এই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেই;
আমি তোমাকে অনেক পরীক্ষা করেছি।
অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদইয়ান বাসীদের
মধ্যে অবস্থান করেছিলে; হে মূসা, অতঃপর
তুমি নির্ধারিত সময়ে এসেছ।
[40] “When your sister went and said:
‘Shall I show you one who will nurse
him?’ So We restored you to your
mother, that she might cool her eyes and
she should not grieve. Then you did kill a
man, but We saved you from great
distress and tried you with a heavy trial.
Then you stayed a number of years with
the people of Madyan (Midian). Then you
came here according to the fixed term
which I ordained (for you), O Mûsa
(Moses)!
[41] ﻭَﺍﺻﻄَﻨَﻌﺘُﻚَ ﻟِﻨَﻔﺴِﻰ
[41] এবং আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য
তৈরী করে নিয়েছি।
[41] “And I have chosen you for Myself.
[42] ﺍﺫﻫَﺐ ﺃَﻧﺖَ ﻭَﺃَﺧﻮﻙَ
ﺑِـٔﺎﻳٰﺘﻰ ﻭَﻻ ﺗَﻨِﻴﺎ ﻓﻰ ﺫِﻛﺮِﻯ
[42] তুমি ও তোমার ভাই আমার নিদর্শনাবলীসহ
যাও এবং আমার স্মরণে শৈথিল্য করো না।
[42] “Go you and your brother with My
Ayât (proofs, evidences, verses, lessons,
signs, revelations, etc.), and do not, you
both, slacken and become weak in My
Remembrance.
[43] ﺍﺫﻫَﺒﺎ ﺇِﻟﻰٰ ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ ﺇِﻧَّﻪُ
ﻃَﻐﻰٰ
[43] তোমরা উভয়ে ফেরআউনের কাছে
যাও সে খুব উদ্ধত হয়ে গেছে।
[43] “Go, both of you, to Fir’aun
(Pharaoh), verily, he has transgressed
(all bounds in disbelief and disobedience
and behaved as an arrogant and as a
tyrant)
[44] ﻓَﻘﻮﻻ ﻟَﻪُ ﻗَﻮﻟًﺎ ﻟَﻴِّﻨًﺎ ﻟَﻌَﻠَّﻪُ
ﻳَﺘَﺬَﻛَّﺮُ ﺃَﻭ ﻳَﺨﺸﻰٰ
[44] অতঃপর তোমরা তাকে নম্র কথা বল,
হয়তো সে চিন্তা-ভাবনা করবে অথবা ভীত
হবে।
[44] “And speak to him mildly, perhaps
he may accept admonition or fear
(Allâh).”
[45] ﻗﺎﻻ ﺭَﺑَّﻨﺎ ﺇِﻧَّﻨﺎ ﻧَﺨﺎﻑُ ﺃَﻥ
ﻳَﻔﺮُﻁَ ﻋَﻠَﻴﻨﺎ ﺃَﻭ ﺃَﻥ ﻳَﻄﻐﻰٰ
[45] তারা বললঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা
আশঙ্কা করি যে, সে আমাদের প্রতি জুলুম
করবে কিংবা উত্তেজিত হয়ে উঠবে।
[45] They said: “Our Lord! Verily! We
fear lest he should hasten to punish us or
lest he should transgress (all bounds
against us).”
[46] ﻗﺎﻝَ ﻻ ﺗَﺨﺎﻓﺎ ۖ ﺇِﻧَّﻨﻰ
ﻣَﻌَﻜُﻤﺎ ﺃَﺳﻤَﻊُ ﻭَﺃَﺭﻯٰ
[46] আল্লাহ বললেনঃ তোমরা ভয় করো না,
আমি তোমাদের সাথে আছি, আমি শুনি ও
দেখি।
[46] He (Allâh) said: “Fear not, verily! I
am with you both, hearing and seeing.
[47] ﻓَﺄﺗِﻴﺎﻩُ ﻓَﻘﻮﻻ ﺇِﻧّﺎ ﺭَﺳﻮﻻ
ﺭَﺑِّﻚَ ﻓَﺄَﺭﺳِﻞ ﻣَﻌَﻨﺎ ﺑَﻨﻰ
ﺇِﺳﺮٰﺀﻳﻞَ ﻭَﻻ ﺗُﻌَﺬِّﺑﻬُﻢ ۖ ﻗَﺪ
ﺟِﺌﻨٰﻚَ ﺑِـٔﺎﻳَﺔٍ ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻚَ ۖ
ﻭَﺍﻟﺴَّﻠٰﻢُ ﻋَﻠﻰٰ ﻣَﻦِ ﺍﺗَّﺒَﻊَ ﺍﻟﻬُﺪﻯٰ
[47] অতএব তোমরা তার কাছে যাও এবং বলঃ
আমরা উভয়েই তোমার পালনকর্তার প্রেরিত
রসূল, অতএব আমাদের সাথে বনী
ইসরাঈলকে যেতে দাও এবং তাদেরকে
নিপীড়ন করো না। আমরা তোমার পালনকর্তার
কাছ থেকে নিদর্শন নিয়ে তোমার কাছে
আগমন করেছি। এবং যে সৎপথ অনুসরণ
করে, তার প্রতি শান্তি।
[47] “So go you both to him, and say:
‘Verily, we are Messengers of your Lord,
so let the Children of Israel go with us,
and torment them not; indeed, we have
come with a sign from your Lord! And
peace will be upon him who follows the
guidance!
[48] ﺇِﻧّﺎ ﻗَﺪ ﺃﻭﺣِﻰَ ﺇِﻟَﻴﻨﺎ ﺃَﻥَّ
ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏَ ﻋَﻠﻰٰ ﻣَﻦ ﻛَﺬَّﺏَ
ﻭَﺗَﻮَﻟّﻰٰ
[48] আমরা ওহী লাভ করেছি যে, যে
ব্যক্তি মিথ্যারোপ করে এবং মুখ ফিরিয়ে
নেয়, তার উপর আযাব পড়বে।
[48] ‘Truly, it has been revealed to us
that the torment will be for him who
denies [believes not in the Oneness of
Allâh, and in His Messengers], and turns
away.'(from the truth and obedience of
Allâh)”
[49] ﻗﺎﻝَ ﻓَﻤَﻦ ﺭَﺑُّﻜُﻤﺎ ﻳٰﻤﻮﺳﻰٰ
[49] সে বললঃ তবে হে মূসা, তোমাদের
পালনকর্তা কে?
[49] Fir’aun (Pharaoh) said: “Who then,
O Mûsa (Moses), is the Lord of you two?”
[50] ﻗﺎﻝَ ﺭَﺑُّﻨَﺎ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺃَﻋﻄﻰٰ ﻛُﻞَّ
ﺷَﻲﺀٍ ﺧَﻠﻘَﻪُ ﺛُﻢَّ ﻫَﺪﻯٰ
[50] মূসা বললেনঃ আমাদের পালনকর্তা তিনি,
যিনি প্রত্যেক বস্তুকে তার যোগ্য আকৃতি দান
করেছেন, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন।
[50] [Mûsa (Moses)] said: “Our Lord is He
Who gave to each thing its form and
nature, then guided it aright.”
[51] ﻗﺎﻝَ ﻓَﻤﺎ ﺑﺎﻝُ ﺍﻟﻘُﺮﻭﻥِ
ﺍﻷﻭﻟﻰٰ
[51] ফেরাউন বললঃ তাহলে অতীত যুগের
লোকদের অবস্থা কি?
[51] [Fir’aun (Pharaoh)] said: “What
about the generations of old?”
[52] ﻗﺎﻝَ ﻋِﻠﻤُﻬﺎ ﻋِﻨﺪَ ﺭَﺑّﻰ ﻓﻰ
ﻛِﺘٰﺐٍ ۖ ﻻ ﻳَﻀِﻞُّ ﺭَﺑّﻰ ﻭَﻻ
ﻳَﻨﺴَﻰ
[52] মূসা বললেনঃ তাদের খবর আমার
পালনকর্তার কাছে লিখিত আছে। আমার
পালনকর্তা ভ্রান্ত হন না এং বিস্মৃতও হন না।
[52] [Mûsa (Moses)] said: “The knowledge
thereof is with my Lord, in a Record. My
Lord is neither unaware nor He forgets, ”
[53] ﺍﻟَّﺬﻯ ﺟَﻌَﻞَ ﻟَﻜُﻢُ ﺍﻷَﺭﺽَ
ﻣَﻬﺪًﺍ ﻭَﺳَﻠَﻚَ ﻟَﻜُﻢ ﻓﻴﻬﺎ ﺳُﺒُﻠًﺎ
ﻭَﺃَﻧﺰَﻝَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﻣﺎﺀً
ﻓَﺄَﺧﺮَﺟﻨﺎ ﺑِﻪِ ﺃَﺯﻭٰﺟًﺎ ﻣِﻦ ﻧَﺒﺎﺕٍ
ﺷَﺘّﻰٰ
[53] তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে
শয্যা করেছেন এবং তাতে চলার পথ
করেছেন, আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ
করেছেন এবং তা দ্বারা আমি বিভিন্ন প্রকার
উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি।
[53] Who has made earth for you like a
bed (spread out); and has opened roads
(ways and paths etc.) for you therein;
and has sent down water (rain) from the
sky. And We have brought forth with it
various kinds of vegetation.
[54] ﻛُﻠﻮﺍ ﻭَﺍﺭﻋَﻮﺍ ﺃَﻧﻌٰﻤَﻜُﻢ ۗ ﺇِﻥَّ
ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻚَ ﻝَﺀﺍﻳٰﺖٍ ﻟِﺄُﻭﻟِﻰ
ﺍﻟﻨُّﻬﻰٰ
[54] তোমরা আহার কর এবং তোমাদের
চতুস্পদ জন্তু চরাও। নিশ্চয় এতে বিবেক
বানদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।
[54] Eat and pasture your cattle,
(therein); verily, in this are Ayat (proofs
and signs) for men of understanding
[55] ۞ ﻣِﻨﻬﺎ ﺧَﻠَﻘﻨٰﻜُﻢ ﻭَﻓﻴﻬﺎ
ﻧُﻌﻴﺪُﻛُﻢ ﻭَﻣِﻨﻬﺎ ﻧُﺨﺮِﺟُﻜُﻢ
ﺗﺎﺭَﺓً ﺃُﺧﺮﻯٰ
[55] এ মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে
সৃজন করেছি, এতেই তোমাদেরকে
ফিরিয়ে দিব এবং পুনরায় এ থেকেই আমি
তোমাদেরকে উত্থিত করব।
[55] Thereof (the earth) We created you,
and into it We shall return you, and
from it We shall bring you out once
again.
[56] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺃَﺭَﻳﻨٰﻪُ ﺀﺍﻳٰﺘِﻨﺎ ﻛُﻠَّﻬﺎ
ﻓَﻜَﺬَّﺏَ ﻭَﺃَﺑﻰٰ
[56] আমি ফেরাউনকে আমার সব নিদর্শন
দেখিয়ে দিয়েছি, অতঃপর সে মিথ্যা আরোপ
করেছে এবং অমান্য করেছে।
[56] And indeed We showed him [Fir’aun
(Pharaoh)] all Our Ayat (Signs and
Evidences), but he denied and refused.
[57] ﻗﺎﻝَ ﺃَﺟِﺌﺘَﻨﺎ ﻟِﺘُﺨﺮِﺟَﻨﺎ ﻣِﻦ
ﺃَﺭﺿِﻨﺎ ﺑِﺴِﺤﺮِﻙَ ﻳٰﻤﻮﺳﻰٰ
[57] সে বললঃ হে মূসা, তুমি কি যাদুর জোরে
আমাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করার
জন্যে আগমন করেছ?
[57] He [Fir’aun (Pharaoh)] said: “Have
you come to drive us out of our land with
your magic, O Mûsa (Moses)?
[58] ﻓَﻠَﻨَﺄﺗِﻴَﻨَّﻚَ ﺑِﺴِﺤﺮٍ ﻣِﺜﻠِﻪِ
ﻓَﺎﺟﻌَﻞ ﺑَﻴﻨَﻨﺎ ﻭَﺑَﻴﻨَﻚَ ﻣَﻮﻋِﺪًﺍ
ﻻ ﻧُﺨﻠِﻔُﻪُ ﻧَﺤﻦُ ﻭَﻻ ﺃَﻧﺖَ
ﻣَﻜﺎﻧًﺎ ﺳُﻮًﻯ
[58] অতএব, আমরাও তোমার মোকাবেলায়
তোমার নিকট অনুরূপ যাদু উপস্থিত করব। সুতরাং
আমাদের ও তোমার মধ্যে একটি ওয়াদার দিন
ঠিক কর, যার খেলাফ আমরাও করব না এবং তুমিও
করবে না একটি পরিষ্কার প্রান্তরে।
[58] “Then verily, we can produce magic
the like thereof; so appoint a meeting
between us and you, which neither we,
nor you shall fail to keep, in an open
wide place where both shall have a just
and equal chance (and beholders could
witness the competition).”
[59] ﻗﺎﻝَ ﻣَﻮﻋِﺪُﻛُﻢ ﻳَﻮﻡُ ﺍﻟﺰّﻳﻨَﺔِ
ﻭَﺃَﻥ ﻳُﺤﺸَﺮَ ﺍﻟﻨّﺎﺱُ ﺿُﺤًﻰ
[59] মূসা বললঃ তোমাদের ওয়াদার দিন
উৎসবের দিন এবং পূর্বাহেß লোকজন
সমবেত হবে।
[59] [Mûsa (Moses)] said: “Your
appointed meeting is the day of the
festival, and let the people assemble
when the sun has risen (forenoon).”
[60] ﻓَﺘَﻮَﻟّﻰٰ ﻓِﺮﻋَﻮﻥُ ﻓَﺠَﻤَﻊَ
ﻛَﻴﺪَﻩُ ﺛُﻢَّ ﺃَﺗﻰٰ
[60] অতঃপর ফেরাউন প্রস্থান করল এবং তার
সব কলাকৌশল জমা করল অতঃপর উপস্থিত
হল।
[60] So Fir’aun (Pharaoh) withdrew,
devised his plot and then came back.
[61] ﻗﺎﻝَ ﻟَﻬُﻢ ﻣﻮﺳﻰٰ ﻭَﻳﻠَﻜُﻢ
ﻻ ﺗَﻔﺘَﺮﻭﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻛَﺬِﺑًﺎ
ﻓَﻴُﺴﺤِﺘَﻜُﻢ ﺑِﻌَﺬﺍﺏٍ ۖ ﻭَﻗَﺪ
ﺧﺎﺏَ ﻣَﻦِ ﺍﻓﺘَﺮﻯٰ
[61] মূসা (আঃ) তাদেরকে বললেনঃ দুর্ভাগ্য
তোমাদের; তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা
আরোপ করো না। তাহলে তিনি
তোমাদেরকে আযাব দ্বারা ধবংস করে
দেবেন। যে মিথ্যা উদভাবন করে, সেই
বিফল মনোরথ হয়েছে।
[61] Mûsa (Moses) said to them: “Woe
unto you! Invent not a lie against Allâh,
lest He should destroy you completely by
a torment. And surely, he who invents a
lie (against Allâh) will fail miserably.”
[62] ﻓَﺘَﻨٰﺰَﻋﻮﺍ ﺃَﻣﺮَﻫُﻢ ﺑَﻴﻨَﻬُﻢ
ﻭَﺃَﺳَﺮُّﻭﺍ ﺍﻟﻨَّﺠﻮﻯٰ
[62] অতঃপর তারা তাদের কাজে নিজেদের
মধ্যে বিতর্ক করল এবং গোপনে পরামর্শ
করল।
[62] Then they debated one with another
what they must do, and they kept their
talk secret.
[63] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺇِﻥ ﻫٰﺬٰﻥِ ﻟَﺴٰﺤِﺮٰﻥِ
ﻳُﺮﻳﺪﺍﻥِ ﺃَﻥ ﻳُﺨﺮِﺟﺎﻛُﻢ ﻣِﻦ
ﺃَﺭﺿِﻜُﻢ ﺑِﺴِﺤﺮِﻫِﻤﺎ ﻭَﻳَﺬﻫَﺒﺎ
ﺑِﻄَﺮﻳﻘَﺘِﻜُﻢُ ﺍﻟﻤُﺜﻠﻰٰ
[63] তারা বললঃ এই দুইজন নিশ্চিতই যাদুকর, তারা
তাদের যাদু দ্বারা তোমাদেরকে তোমাদের
দেশ থেকে বহিস্কার করতে চায় এবং
তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন ব্যবস্থা রহিত
করতে চায়।
[63] They said: “Verily! these are two
magicians. Their object is to drive you
out from your land with magic, and
overcome your chiefs and nobles.
[64] ﻓَﺄَﺟﻤِﻌﻮﺍ ﻛَﻴﺪَﻛُﻢ ﺛُﻢَّ ﺍﺋﺘﻮﺍ
ﺻَﻔًّﺎ ۚ ﻭَﻗَﺪ ﺃَﻓﻠَﺢَ ﺍﻟﻴَﻮﻡَ ﻣَﻦِ
ﺍﺳﺘَﻌﻠﻰٰ
[64] অতএব, তোমরা তোমাদের
কলাকৌশল সুসংহত কর, অতঃপর সারিবদ্ধ হয়ে
আস। আজ যে জয়ী হবে, সেই সফলকাম
হবে।
[64] “So devise your plot, and then
assemble in line. And whoever
overcomes this day will be indeed
successful.”
[65] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﻤﻮﺳﻰٰ ﺇِﻣّﺎ ﺃَﻥ
ﺗُﻠﻘِﻰَ ﻭَﺇِﻣّﺎ ﺃَﻥ ﻧَﻜﻮﻥَ ﺃَﻭَّﻝَ ﻣَﻦ
ﺃَﻟﻘﻰٰ
[65] তারা বললঃ হে মূসা, হয় তুমি নিক্ষেপ কর, না
হয় আমরা প্রথমে নিক্ষেপ করি।
[65] They said:”O Mûsa (Moses)! Either
you throw first or we be the first to
throw?”
[66] ﻗﺎﻝَ ﺑَﻞ ﺃَﻟﻘﻮﺍ ۖ ﻓَﺈِﺫﺍ
ﺣِﺒﺎﻟُﻬُﻢ ﻭَﻋِﺼِﻴُّﻬُﻢ ﻳُﺨَﻴَّﻞُ
ﺇِﻟَﻴﻪِ ﻣِﻦ ﺳِﺤﺮِﻫِﻢ ﺃَﻧَّﻬﺎ ﺗَﺴﻌﻰٰ
[66] মূসা বললেনঃ বরং তোমরাই নিক্ষেপ কর।
তাদের যাদুর প্রভাবে হঠাৎ তাঁর মনে হল,
যেন তাদের রশিগুলো ও লাঠিগুলো চুটাছুটি
করছে।
[66] [Mûsa (Moses)] said: “Nay, throw
you (first)!” Then behold, their ropes and
their sticks, by their magic, appeared to
him as though they moved fast.
[67] ﻓَﺄَﻭﺟَﺲَ ﻓﻰ ﻧَﻔﺴِﻪِ
ﺧﻴﻔَﺔً ﻣﻮﺳﻰٰ
[67] অতঃপর মূসা মনে মনে কিছুটা ভীতি
অনুভব করলেন।
[67] So Mûsa (Moses) conceived fear in
himself.
[68] ﻗُﻠﻨﺎ ﻻ ﺗَﺨَﻒ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧﺖَ
ﺍﻷَﻋﻠﻰٰ
[68] আমি বললামঃ ভয় করো না, তুমি বিজয়ী
হবে।
[68] We (Allâh) said: “Fear not! Surely,
you will have the upper hand.
[69] ﻭَﺃَﻟﻖِ ﻣﺎ ﻓﻰ ﻳَﻤﻴﻨِﻚَ
ﺗَﻠﻘَﻒ ﻣﺎ ﺻَﻨَﻌﻮﺍ ۖ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﺻَﻨَﻌﻮﺍ
ﻛَﻴﺪُ ﺳٰﺤِﺮٍ ۖ ﻭَﻻ ﻳُﻔﻠِﺢُ ﺍﻟﺴّﺎﺣِﺮُ
ﺣَﻴﺚُ ﺃَﺗﻰٰ
[69] তোমার ডান হাতে যা আছে তুমি তা
নিক্ষেপ কর। এটা যা কিছু তারা করেছে তা
গ্রাস করে ফেলবে। তারা যা করেছে তা
তো কেবল যাদুকরের কলাকৌশল। যাদুকর
যেখানেই থাকুক, সফল হবে না।
[69] “And throw that which is in your
right hand! It will swallow up that which
they have made. That which they have
made is only a magician’s trick, and the
magician will never be successful, to
whatever amount (of skill) he may
attain.”
[70] ﻓَﺄُﻟﻘِﻰَ ﺍﻟﺴَّﺤَﺮَﺓُ ﺳُﺠَّﺪًﺍ
ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺀﺍﻣَﻨّﺎ ﺑِﺮَﺏِّ ﻫٰﺮﻭﻥَ
ﻭَﻣﻮﺳﻰٰ
[70] অতঃপর যাদুকররা সেজদায় পড়ে গেল।
তারা বললঃ আমরা হারুন ও মূসার পালনকর্তার প্রতি
বিশ্বাস স্থাপন করলাম।
[70] So the magicians fell down
prostrate. They said: “We believe in the
Lord of Hârûn (Aaron) and Mûsa
(Moses).”
[71] ﻗﺎﻝَ ﺀﺍﻣَﻨﺘُﻢ ﻟَﻪُ ﻗَﺒﻞَ ﺃَﻥ
ﺀﺍﺫَﻥَ ﻟَﻜُﻢ ۖ ﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻜَﺒﻴﺮُﻛُﻢُ
ﺍﻟَّﺬﻯ ﻋَﻠَّﻤَﻜُﻢُ ﺍﻟﺴِّﺤﺮَ ۖ
ﻓَﻠَﺄُﻗَﻄِّﻌَﻦَّ ﺃَﻳﺪِﻳَﻜُﻢ ﻭَﺃَﺭﺟُﻠَﻜُﻢ
ﻣِﻦ ﺧِﻠٰﻒٍ ﻭَﻟَﺄُﺻَﻠِّﺒَﻨَّﻜُﻢ ﻓﻰ
ﺟُﺬﻭﻉِ ﺍﻟﻨَّﺨﻞِ ﻭَﻟَﺘَﻌﻠَﻤُﻦَّ ﺃَﻳُّﻨﺎ
ﺃَﺷَﺪُّ ﻋَﺬﺍﺑًﺎ ﻭَﺃَﺑﻘﻰٰ
[71] ফেরাউন বললঃ আমার অনুমতি দানের
পূর্বেই? তোমরা কি তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন
করলে; দেখছি সেই তোমাদের প্রধান,
সে তোমাদেরকে যাদু শিক্ষা দিয়েছে।
অতএব আমি অবশ্যই তোমাদের হস্তপদ
বিপরীত দিক থেকে কর্তন করব এবং আমি
তোমাদেরকে খর্জুর বৃক্ষের কান্ডে
শূলে চড়াব এবং তোমরা নিশ্চিত রূপেই জানতে
পারবে আমাদের মধ্যে কার আযাব
কঠোরতর এবং অধিক্ষণ স্থায়ী।
[71] [Fir’aun (Pharaoh)] said: “Believe
you in him [Mûsa (Moses)] before I give
you permission? Verily! he is your chief
who has taught you magic. So I will
surely cut off your hands and feet on
opposite sides, and I will surely crucify
you on the trunks of date-palms, and you
shall surely know which of us [I (Fir’aun
Pharaoh) or the Lord of Mûsa (Moses)
(Allâh)] can give the severe and more
lasting torment.”
[72] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻟَﻦ ﻧُﺆﺛِﺮَﻙَ ﻋَﻠﻰٰ ﻣﺎ
ﺟﺎﺀَﻧﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺒَﻴِّﻨٰﺖِ ﻭَﺍﻟَّﺬﻯ
ﻓَﻄَﺮَﻧﺎ ۖ ﻓَﺎﻗﺾِ ﻣﺎ ﺃَﻧﺖَ
ﻗﺎﺽٍ ۖ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﺗَﻘﻀﻰ ﻫٰﺬِﻩِ
ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓَ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ
[72] যাদুকররা বললঃ আমাদের কাছে যে,
সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে তার উপর এবং যিনি
আমাদের কে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর উপর
আমরা কিছুতেই তোমাকে প্রাধান্য দেব না।
অতএব, তুমি যা ইচ্ছা করতে পার। তুমি তো শুধু
এই পার্থিব জীবনেই যা করার করবে।
[72] They said: “We prefer you not over
what have come to us, of the clear signs
And to Him (Allâh) Who created us. So
decree whatever you desire to decree, for
you can only decree (regarding) this life
of the world.
[73] ﺇِﻧّﺎ ﺀﺍﻣَﻨّﺎ ﺑِﺮَﺑِّﻨﺎ ﻟِﻴَﻐﻔِﺮَ ﻟَﻨﺎ
ﺧَﻄٰﻴٰﻨﺎ ﻭَﻣﺎ ﺃَﻛﺮَﻫﺘَﻨﺎ ﻋَﻠَﻴﻪِ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴِّﺤﺮِ ۗ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴﺮٌ
ﻭَﺃَﺑﻘﻰٰ
[73] আমরা আমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস
স্থাপন করেছি যাতে তিনি আমাদের পাপ এবং
তুমি আমাদেরকে যে যাদু করতে বাধ্য
করেছ, তা মার্জনা করেন। আল্লাহ শ্রেষ্ঠ ও
চিরস্থায়ী।
[73] “Verily! We have believed in our
Lord, that He may forgive us our faults,
and the magic to which you did compel
us. And Allâh is better as regards reward
in comparison to your [Fir’aun’s
(Pharaoh)] reward, and more lasting (as
regards punishment in comparison to
your punishment).”
[74] ﺇِﻧَّﻪُ ﻣَﻦ ﻳَﺄﺕِ ﺭَﺑَّﻪُ ﻣُﺠﺮِﻣًﺎ
ﻓَﺈِﻥَّ ﻟَﻪُ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﻻ ﻳَﻤﻮﺕُ ﻓﻴﻬﺎ
ﻭَﻻ ﻳَﺤﻴﻰٰ
[74] নিশ্চয়ই যে তার পালনকর্তার কাছে
অপরাধী হয়ে আসে, তার জন্য রয়েছে
জাহান্নাম। সেখানে সে মরবে না এবং
বাঁচবেও না।
[74] Verily! whoever comes to his Lord as
a Mujrim (criminal, polytheist,
disbeliever in the Oneness of Allâh and
His Messengers), then surely, for him is
Hell, wherein he will neither die nor live
[75] ﻭَﻣَﻦ ﻳَﺄﺗِﻪِ ﻣُﺆﻣِﻨًﺎ ﻗَﺪ ﻋَﻤِﻞَ
ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤٰﺖِ ﻓَﺄُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻟَﻬُﻢُ
ﺍﻟﺪَّﺭَﺟٰﺖُ ﺍﻟﻌُﻠﻰٰ
[75] আর যারা তাঁর কাছে আসে এমন ঈমানদার
হয়ে যায় সৎকর্ম সম্পাদন করেছে, তাদের
জন্যে রয়েছে সুউচ্চ মর্তবা।
[75] But whoever comes to Him (Allâh) as
a believer (in the Oneness of Allâh), and
has done righteous good deeds, for such
are the high ranks (in the Hereafter),—
[76] ﺟَﻨّٰﺖُ ﻋَﺪﻥٍ ﺗَﺠﺮﻯ ﻣِﻦ
ﺗَﺤﺘِﻬَﺎ ﺍﻷَﻧﻬٰﺮُ ﺧٰﻠِﺪﻳﻦَ ﻓﻴﻬﺎ ۚ
ﻭَﺫٰﻟِﻚَ ﺟَﺰﺍﺀُ ﻣَﻦ ﺗَﺰَﻛّﻰٰ
[76] বসবাসের এমন পুষ্পোদ্যান রয়েছে
যার তলদেশে দিয়ে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত
হয়। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এটা তাদেরই
পুরস্কার, যারা পবিত্র হয়।
[76] ‘Adn (Eden) Paradise (everlasting
Gardens), under which rivers flow,
wherein they will abide forever: such is
the reward of those who purify
themselves (by abstaining from all kinds
of sins and evil deeds which Allâh has
forbidden and by doing all that which
Allâh has ordained).
[77] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺃَﻭﺣَﻴﻨﺎ ﺇِﻟﻰٰ ﻣﻮﺳﻰٰ
ﺃَﻥ ﺃَﺳﺮِ ﺑِﻌِﺒﺎﺩﻯ ﻓَﺎﺿﺮِﺏ ﻟَﻬُﻢ
ﻃَﺮﻳﻘًﺎ ﻓِﻰ ﺍﻟﺒَﺤﺮِ ﻳَﺒَﺴًﺎ ﻻ
ﺗَﺨٰﻒُ ﺩَﺭَﻛًﺎ ﻭَﻻ ﺗَﺨﺸﻰٰ
[77] আমি মূসা প্রতি এই মর্মে ওহী করলাম
যে, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিযোগে
বের হয়ে যাও এবং তাদের জন্যে সমুদ্রে
শুষ্কপথ নির্মাণ কর। পেছন থেকে এসে
তোমাদের ধরে ফেলার আশঙ্কা করো না
এবং পানিতে ডুবে যাওয়ার ভয় করো না।
[77] And indeed We revealed to Mûsa
(Moses) (saying): “Travel by night with
Ibâdi (My slaves) and strike a dry path
for them in the sea, fearing neither to be
overtaken [by Fir’aun (Pharaoh)] nor
being afraid (of drowning in the sea).”
[78] ﻓَﺄَﺗﺒَﻌَﻬُﻢ ﻓِﺮﻋَﻮﻥُ ﺑِﺠُﻨﻮﺩِﻩِ
ﻓَﻐَﺸِﻴَﻬُﻢ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻴَﻢِّ ﻣﺎ ﻏَﺸِﻴَﻬُﻢ
[78] অতঃপর ফেরাউন তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে
তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল এবং সমুদ্র
তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জত করল।
[78] Then Fir’aun (Pharaoh) pursued
them with his hosts, but the sea-water
completely overwhelmed them and
covered them up
[79] ﻭَﺃَﺿَﻞَّ ﻓِﺮﻋَﻮﻥُ ﻗَﻮﻣَﻪُ ﻭَﻣﺎ
ﻫَﺪﻯٰ
[79] ফেরআউন তার সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত
করেছিল এবং সৎপথ দেখায়নি।
[79] And Fir’aun (Pharaoh) led his people
astray, and he did not guide them
[80] ﻳٰﺒَﻨﻰ ﺇِﺳﺮٰﺀﻳﻞَ ﻗَﺪ
ﺃَﻧﺠَﻴﻨٰﻜُﻢ ﻣِﻦ ﻋَﺪُﻭِّﻛُﻢ
ﻭَﻭٰﻋَﺪﻧٰﻜُﻢ ﺟﺎﻧِﺐَ ﺍﻟﻄّﻮﺭِ
ﺍﻷَﻳﻤَﻦَ ﻭَﻧَﺰَّﻟﻨﺎ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢُ ﺍﻟﻤَﻦَّ
ﻭَﺍﻟﺴَّﻠﻮﻯٰ
[80] হে বনী-ইসরাঈল! আমি তোমাদেরকে
তোমাদের শক্রুর কবল থেকে উদ্ধার
করেছি, তুর পাহাড়ের দক্ষিণ পার্শ্বে
তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দান করেছি এবং
তোমাদের কাছে ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’ নাযিল
করেছি।
[80] O Children of Israel! We delivered
you from your enemy, and We made a
covenant with you on the right side of
the Mount, and We sent down to you Al-
Manna and quails,
[81] ﻛُﻠﻮﺍ ﻣِﻦ ﻃَﻴِّﺒٰﺖِ ﻣﺎ
ﺭَﺯَﻗﻨٰﻜُﻢ ﻭَﻻ ﺗَﻄﻐَﻮﺍ ﻓﻴﻪِ
ﻓَﻴَﺤِﻞَّ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﻏَﻀَﺒﻰ ۖ ﻭَﻣَﻦ
ﻳَﺤﻠِﻞ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻏَﻀَﺒﻰ ﻓَﻘَﺪ
ﻫَﻮﻯٰ
[81] বলেছিঃ আমার দেয়া পবিত্র বস্তুসমূহ খাও
এবং এতে সীমালংঘন করো না, তা হলে
তোমাদের উপর আমার ক্রোধ নেমে
আসবে এবং যার উপর আমার ক্রোধ নেমে
আসে সে ধবংস হয়ে যায়।
[81] (Saying) eat of the Taiyyibât (good
lawful things) wherewith We have
provided you, and commit no oppression
therein, lest My Anger should justly
descend on you. And he on whom My
Anger descends, he is indeed perished.
(Tafsir At-Tabari)
[82] ﻭَﺇِﻧّﻰ ﻟَﻐَﻔّﺎﺭٌ ﻟِﻤَﻦ ﺗﺎﺏَ
ﻭَﺀﺍﻣَﻦَ ﻭَﻋَﻤِﻞَ ﺻٰﻠِﺤًﺎ ﺛُﻢَّ
ﺍﻫﺘَﺪﻯٰ
[82] আর যে তওবা করে, ঈমান আনে এবং
সৎকর্ম করে অতঃপর সৎপথে অটল থাকে,
আমি তার প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল।
[82] And verily, I am indeed forgiving to
him who repents, believes (in My
Oneness, and associates none in worship
with Me) and does righteous good deeds,
and then remains constant in doing
them, (till his death).
[83] ۞ ﻭَﻣﺎ ﺃَﻋﺠَﻠَﻚَ ﻋَﻦ
ﻗَﻮﻣِﻚَ ﻳٰﻤﻮﺳﻰٰ
[83] হে মূসা, তোমার সম্প্রদায়কে
পেছনে ফেলে তুমি ত্বরা করলে কেন?
[83] “And what made you hasten from
your people, O Mûsa (Moses)?”
[84] ﻗﺎﻝَ ﻫُﻢ ﺃُﻭﻻﺀِ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﺛَﺮﻯ
ﻭَﻋَﺠِﻠﺖُ ﺇِﻟَﻴﻚَ ﺭَﺏِّ ﻟِﺘَﺮﺿﻰٰ
[84] তিনি বললেনঃ এই তো তারা আমার
পেছনে আসছে এবং হে আমার পালনকর্তা,
আমি তাড়াতাড়ি তোমার কাছে এলাম, যাতে তুমি
সন্তুষ্ট হও।
[84] He said: “They are close on my
footsteps, and I hastened to You, O my
Lord, that You might be pleased.”
[85] ﻗﺎﻝَ ﻓَﺈِﻧّﺎ ﻗَﺪ ﻓَﺘَﻨّﺎ ﻗَﻮﻣَﻚَ
ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِﻙَ ﻭَﺃَﺿَﻠَّﻬُﻢُ ﺍﻟﺴّﺎﻣِﺮِﻯُّ
[85] বললেনঃ আমি তোমার সম্প্রদায়কে
পরীক্ষা করেছি তোমার পর এবং সামেরী
তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে।
[85] (Allâh) said: “Verily! we have tried
your people in your absence, and As-
Samiri has led them astray.”
[86] ﻓَﺮَﺟَﻊَ ﻣﻮﺳﻰٰ ﺇِﻟﻰٰ ﻗَﻮﻣِﻪِ
ﻏَﻀﺒٰﻦَ ﺃَﺳِﻔًﺎ ۚ ﻗﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺃَﻟَﻢ
ﻳَﻌِﺪﻛُﻢ ﺭَﺑُّﻜُﻢ ﻭَﻋﺪًﺍ ﺣَﺴَﻨًﺎ ۚ
ﺃَﻓَﻄﺎﻝَ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢُ ﺍﻟﻌَﻬﺪُ ﺃَﻡ
ﺃَﺭَﺩﺗُﻢ ﺃَﻥ ﻳَﺤِﻞَّ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ
ﻏَﻀَﺐٌ ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻜُﻢ ﻓَﺄَﺧﻠَﻔﺘُﻢ
ﻣَﻮﻋِﺪﻯ
[86] অতঃপর মূসা তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে
ফিরে গেলেন ক্রদ্ধ ও অনুতপ্ত অবস্থায়।
তিনি বললেনঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমাদের
পালনকর্তা কি তোমাদেরকে একটি উত্তম
প্রতিশ্রুতি দেননি? তবে কি প্রতিশ্রুতির
সময়কাল তোমাদের কাছে দীর্ঘ হয়েছে,
না তোমরা চেয়েছ যে, তোমাদের উপর
তোমাদের পালনকর্তার ক্রোধ নেমে
আসুক, যে কারণে তোমরা আমার সাথে কৃত
ওয়াদা ভঙ্গ করলে?
[86] Then Mûsa (Moses) returned to his
people in a state of anger and sorrow.
He said: “O my people! Did not your
Lord promise you a fair promise? Did
then the promise seem to you long in
coming? Or did you desire that wrath
should descend from your Lord on you,
that you broke your promise to me (i.e
disbelieving in Allâh and worshipping
the calf)?”
[87] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻣﺎ ﺃَﺧﻠَﻔﻨﺎ ﻣَﻮﻋِﺪَﻙَ
ﺑِﻤَﻠﻜِﻨﺎ ﻭَﻟٰﻜِﻨّﺎ ﺣُﻤِّﻠﻨﺎ ﺃَﻭﺯﺍﺭًﺍ
ﻣِﻦ ﺯﻳﻨَﺔِ ﺍﻟﻘَﻮﻡِ ﻓَﻘَﺬَﻓﻨٰﻬﺎ
ﻓَﻜَﺬٰﻟِﻚَ ﺃَﻟﻘَﻰ ﺍﻟﺴّﺎﻣِﺮِﻯُّ
[87] তারা বললঃ আমরা তোমার সাথে কৃত ওয়াদা
স্বেচ্ছায় ভঙ্গ করিনি; কিন্তু আমাদের উপর
ফেরউনীদের অলংকারের বোঝা চাপিয়ে
দেয়া হয়েছিল। অতঃপর আমরা তা নিক্ষেপ
করে দিয়েছি। এমনি ভাবে সামেরীও
নিক্ষেপ করেছে।
[87] They said: “We broke not the
promise to you, of our own will, but we
were made to carry the weight of the
ornaments of the [Fir’aun’s (Pharaoh)]
people, then we cast them (into the fire),
and that was what As-Samiri suggested.”
[88] ﻓَﺄَﺧﺮَﺝَ ﻟَﻬُﻢ ﻋِﺠﻠًﺎ ﺟَﺴَﺪًﺍ
ﻟَﻪُ ﺧُﻮﺍﺭٌ ﻓَﻘﺎﻟﻮﺍ ﻫٰﺬﺍ ﺇِﻟٰﻬُﻜُﻢ
ﻭَﺇِﻟٰﻪُ ﻣﻮﺳﻰٰ ﻓَﻨَﺴِﻰَ
[88] অতঃপর সে তাদের জন্য তৈরী করে
বের করল একটি গো-বৎস, একটা দেহ, যার
মধ্যে গরুর শব্দ ছিল। তারা বললঃ এটা
তোমাদের উপাস্য এবং মূসার ও উপাস্য, অতঃপর
মূসা ভুলে গেছে।
[88] Then he took out (of the fire) for
them (a statue of) a calf which seemed to
low. They said: “This is your ilâh (god),
and the ilâh (god) of Mûsa (Moses), but
[Mûsa (Moses)] has forgotten (his god).'”
[89] ﺃَﻓَﻼ ﻳَﺮَﻭﻥَ ﺃَﻟّﺎ ﻳَﺮﺟِﻊُ
ﺇِﻟَﻴﻬِﻢ ﻗَﻮﻟًﺎ ﻭَﻻ ﻳَﻤﻠِﻚُ ﻟَﻬُﻢ
ﺿَﺮًّﺍ ﻭَﻻ ﻧَﻔﻌًﺎ
[89] তারা কি দেখে না যে, এটা তাদের কোন
কথার উত্তর দেয় না এবং তারে কোন ক্ষতি ও
উপকার করার ক্ষমতাও রাখে না?
[89] Did they not see that it could not
return them a word (for answer), and
that it had no power either to harm them
or to do them good?
[90] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﻗﺎﻝَ ﻟَﻬُﻢ ﻫٰﺮﻭﻥُ ﻣِﻦ
ﻗَﺒﻞُ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﻓُﺘِﻨﺘُﻢ ﺑِﻪِ ۖ
ﻭَﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻜُﻢُ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦُ
ﻓَﺎﺗَّﺒِﻌﻮﻧﻰ ﻭَﺃَﻃﻴﻌﻮﺍ ﺃَﻣﺮﻯ
[90] হারুন তাদেরকে পুর্বেই বলেছিলেনঃ
হে আমার কওম, তোমরা তো এই গো-বৎস
দ্বারা পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছ এবং
তোমাদের পালনকর্তা দয়াময়। অতএব, তোমরা
আমার অনুসরণ কর এবং আমার আদেশ মেনে
চল।
[90] And Hârûn (Aaron) indeed had said
to them beforehand: “O my people! You
are being tried in this, and verily, your
Lord is (Allâh) the Most Gracious, so
follow me and obey my order.”
[91] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻟَﻦ ﻧَﺒﺮَﺡَ ﻋَﻠَﻴﻪِ
ﻋٰﻜِﻔﻴﻦَ ﺣَﺘّﻰٰ ﻳَﺮﺟِﻊَ ﺇِﻟَﻴﻨﺎ
ﻣﻮﺳﻰٰ
[91] তারা বললঃ মূসা আমাদের কাছে ফিরে
আসা পর্যন্ত আমরা সদাসর্বদা এর সাথেই
সংযুক্ত হয়ে বসে থাকব।
[91] They said: “We will not stop
worshipping it (i.e. the calf), until Mûsa
(Moses) returns to us.”
[92] ﻗﺎﻝَ ﻳٰﻬٰﺮﻭﻥُ ﻣﺎ ﻣَﻨَﻌَﻚَ ﺇِﺫ
ﺭَﺃَﻳﺘَﻬُﻢ ﺿَﻠّﻮﺍ
[92] মূসা বললেনঃ হে হারুন, তুমি যখন
তাদেরকে পথ ভ্রষ্ট হতে দেখলে, তখন
তোমাকে কিসে নিবৃত্ত করল ?
[92] [Mûsa (Moses)] said: “O Hârûn
(Aaron)! What prevented you when you
saw them going astray;
[93] ﺃَﻟّﺎ ﺗَﺘَّﺒِﻌَﻦِ ۖ ﺃَﻓَﻌَﺼَﻴﺖَ
ﺃَﻣﺮﻯ
[93] আমার পদাঙ্ক অনুসরণ করা থেকে?
তবে তুমি কি আমার আদেশ অমান্য করেছ?
[93] “That you followed me not
(according to my advice to you)? Have
you then disobeyed my order?”
[94] ﻗﺎﻝَ ﻳَﺒﻨَﺆُﻡَّ ﻻ ﺗَﺄﺧُﺬ
ﺑِﻠِﺤﻴَﺘﻰ ﻭَﻻ ﺑِﺮَﺃﺳﻰ ۖ ﺇِﻧّﻰ
ﺧَﺸﻴﺖُ ﺃَﻥ ﺗَﻘﻮﻝَ ﻓَﺮَّﻗﺖَ
ﺑَﻴﻦَ ﺑَﻨﻰ ﺇِﺳﺮٰﺀﻳﻞَ ﻭَﻟَﻢ
ﺗَﺮﻗُﺐ ﻗَﻮﻟﻰ
[94] তিনি বললেনঃ হে আমার জননী-তনয়,
আমার শ্মশ্রু ও মাথার চুল ধরে আকর্ষণ করো
না; আমি আশঙ্কা করলাম যে, তুমি বলবেঃ তুমি
বনী-ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি
করেছ এবং আমার কথা স্মরণে রাখনি।
[94] He [Hârûn (Aaron)] said: “O son of
my mother! Seize (me) not by my beard,
nor by my head! Verily, I feared lest you
should say: ‘You have caused a division
among the Children of Israel, and you
have not respected my word!’ ”
[95] ﻗﺎﻝَ ﻓَﻤﺎ ﺧَﻄﺒُﻚَ ﻳٰﺴٰﻤِﺮِﻯُّ
[95] মূসা বললেন হে সামেরী, এখন
তোমার ব্যাপার কি?
[95] [Mûsa (Moses)] said: “And what is
the matter with you. O Samiri? (i.e. why
did you do so?)”
[96] ﻗﺎﻝَ ﺑَﺼُﺮﺕُ ﺑِﻤﺎ ﻟَﻢ
ﻳَﺒﺼُﺮﻭﺍ ﺑِﻪِ ﻓَﻘَﺒَﻀﺖُ ﻗَﺒﻀَﺔً
ﻣِﻦ ﺃَﺛَﺮِ ﺍﻟﺮَّﺳﻮﻝِ ﻓَﻨَﺒَﺬﺗُﻬﺎ
ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﺳَﻮَّﻟَﺖ ﻟﻰ ﻧَﻔﺴﻰ
[96] সে বললঃ আমি দেখলাম যা অন্যেরা
দেখেনি। অতঃপর আমি সেই প্রেরিত
ব্যক্তির পদচিহেßর নীচ থেকে এক মুঠি
মাটি নিয়ে নিলাম। অতঃপর আমি তা নিক্ষেপ
করলাম। আমাকে আমার মন এই মন্ত্রণাই দিল।
[96] (Samiri) said: “I saw what they saw
not, so I took a handful (of dust) from
the (hoof) print of the messenger [Jibril’s
(Gabriel) horse] and threw it [into the
fire in which were put the ornaments of
the Fir’aun’s (Pharaoh) people, or into
the calf]. Thus my inner-self suggested to
me.”
[97] ﻗﺎﻝَ ﻓَﺎﺫﻫَﺐ ﻓَﺈِﻥَّ ﻟَﻚَ ﻓِﻰ
ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓِ ﺃَﻥ ﺗَﻘﻮﻝَ ﻻ ﻣِﺴﺎﺱَ ۖ
ﻭَﺇِﻥَّ ﻟَﻚَ ﻣَﻮﻋِﺪًﺍ ﻟَﻦ ﺗُﺨﻠَﻔَﻪُ ۖ
ﻭَﺍﻧﻈُﺮ ﺇِﻟﻰٰ ﺇِﻟٰﻬِﻚَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻇَﻠﺖَ
ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻋﺎﻛِﻔًﺎ ۖ ﻟَﻨُﺤَﺮِّﻗَﻨَّﻪُ ﺛُﻢَّ
ﻟَﻨَﻨﺴِﻔَﻨَّﻪُ ﻓِﻰ ﺍﻟﻴَﻢِّ ﻧَﺴﻔًﺎ
[97] মূসা বললেনঃ দূর হ, তোর জন্য সারা
জীবন এ শাস্তিই রইল যে, তুই বলবি;
আমাকে স্পর্শ করো না, এবং তোর জন্য
একটি নির্দিষ্ট ওয়াদা আছে, যার ব্যতিক্রম হবে
না। তুই তোর সেই ইলাহের প্রতি লক্ষ্য কর,
যাকে তুই ঘিরে থাকতি। আমরা সেটি জালিয়ে
দেবই। অতঃপর একে বিক্ষিপ্ত করে সাগরে
ছড়িয়ে দেবই।
[97] Mûsa (Moses) said: “Then go away!
And verily, your (punishment) in this life
will be that you will say: “Touch me not
(i.e.you will live alone exiled away from
mankind); and verily (for a future
torment), you have a promise that will
not fail. And look at your ilâh (god), to
which you have been devoted. We will
certainly burn it, and scatter its particles
in the sea.”
[98] ﺇِﻧَّﻤﺎ ﺇِﻟٰﻬُﻜُﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻻ
ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻟّﺎ ﻫُﻮَ ۚ ﻭَﺳِﻊَ ﻛُﻞَّ ﺷَﻲﺀٍ
ﻋِﻠﻤًﺎ
[98] তোমাদের ইলাহ তো কেবল আল্লাহই,
যিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই। সব বিষয়
তাঁর জ্ঞানের পরিধিভুক্ত।
[98] Your Ilâh (God) is only Allâh, (the
One) Lâ ilâha illa Huwa (none has the
right to be worshipped but He). He has
full knowledge of all things.
[99] ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻧَﻘُﺺُّ ﻋَﻠَﻴﻚَ ﻣِﻦ
ﺃَﻧﺒﺎﺀِ ﻣﺎ ﻗَﺪ ﺳَﺒَﻖَ ۚ ﻭَﻗَﺪ
ﺀﺍﺗَﻴﻨٰﻚَ ﻣِﻦ ﻟَﺪُﻧّﺎ ﺫِﻛﺮًﺍ
[99] এমনিভাবে আমি পূর্বে যা ঘটেছে, তার
সংবাদ আপনার কাছে বর্ণনা করি। আমি আমার কাছ
থেকে আপনাকে দান করেছি পড়ার গ্রন্থ।
[99] Thus We relate to you (O
Muhammad SAW) some information of
what happened before. And indeed We
have given you from Us a Reminder (this
Qur’ân).
[100] ﻣَﻦ ﺃَﻋﺮَﺽَ ﻋَﻨﻪُ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ
ﻳَﺤﻤِﻞُ ﻳَﻮﻡَ ﺍﻟﻘِﻴٰﻤَﺔِ ﻭِﺯﺭًﺍ
[100] যে এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে,
সে কেয়ামতের দিন বোঝা বহন করবে।
[100] Whoever turns away from it (this
Qur’ân i.e. does not believe in it, nor
acts on its orders), verily, they will bear
a heavy burden (of sins) on the Day of
Resurrection,
[101] ﺧٰﻠِﺪﻳﻦَ ﻓﻴﻪِ ۖ ﻭَﺳﺎﺀَ ﻟَﻬُﻢ
ﻳَﻮﻡَ ﺍﻟﻘِﻴٰﻤَﺔِ ﺣِﻤﻠًﺎ
[101] তারা তাতে চিরকাল থাকবে এবং
কেয়ামতের দিন এই বোঝা তাদের জন্যে
মন্দ হবে।
[101] They will abide in that (state in the
Fire of Hell),— and evil indeed will it be
that load for them on the Day of
Resurrection;
[102] ﻳَﻮﻡَ ﻳُﻨﻔَﺦُ ﻓِﻰ ﺍﻟﺼّﻮﺭِ ۚ
ﻭَﻧَﺤﺸُﺮُ ﺍﻟﻤُﺠﺮِﻣﻴﻦَ ﻳَﻮﻣَﺌِﺬٍ
ﺯُﺭﻗًﺎ
[102] যেদিন সিঙ্গায় ফূৎকার দেয়া হবে,
সেদিন আমি অপরাধীদেরকে সমবেত
করব নীল চক্ষু অবস্থায়।
[102] The Day when the Trumpet will be
blown (the second blowing): that Day,
We shall gather the Mujrimûn (criminals,
polytheists, sinners, disbelievers in the
Oneness of Allâh) blue or blind eyed with
thirst.
[103] ﻳَﺘَﺨٰﻔَﺘﻮﻥَ ﺑَﻴﻨَﻬُﻢ ﺇِﻥ
ﻟَﺒِﺜﺘُﻢ ﺇِﻟّﺎ ﻋَﺸﺮًﺍ
[103] তারা চুপিসারে পরস্পরে বলাবলি করবেঃ
তোমরা মাত্র দশ দিন অবস্থান করেছিলে।
[103] In whispers will they speak in a
very low voice to each other (saying):
“You stayed not longer than ten (days).”
[104] ﻧَﺤﻦُ ﺃَﻋﻠَﻢُ ﺑِﻤﺎ ﻳَﻘﻮﻟﻮﻥَ
ﺇِﺫ ﻳَﻘﻮﻝُ ﺃَﻣﺜَﻠُﻬُﻢ ﻃَﺮﻳﻘَﺔً ﺇِﻥ
ﻟَﺒِﺜﺘُﻢ ﺇِﻟّﺎ ﻳَﻮﻣًﺎ
[104] তারা কি বলে তা আমি ভালোভাবে জানি।
তাদের মধ্যে যে, অপেক্ষাকৃত উত্তম
পথের অনুসারী সে বলবেঃ তোমরা মাত্র
একদিন অবস্থান করেছিলে।
[104] We know very well what they will
say, when the best among them in
knowledge and wisdom will say: “You
stayed no longer than a day!”
[105] ﻭَﻳَﺴـَٔﻠﻮﻧَﻚَ ﻋَﻦِ ﺍﻟﺠِﺒﺎﻝِ
ﻓَﻘُﻞ ﻳَﻨﺴِﻔُﻬﺎ ﺭَﺑّﻰ ﻧَﺴﻔًﺎ
[105] তারা আপনাকে পাহাড় সম্পর্কে প্রশ্ন
করা। অতএব, আপনি বলুনঃ আমার পালনকর্তা
পহাড়সমূহকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত
করে দিবেন।
[105] And they ask you concerning the
mountains, say;”My Lord will blast them
and scatter them as particles of dust.
[106] ﻓَﻴَﺬَﺭُﻫﺎ ﻗﺎﻋًﺎ ﺻَﻔﺼَﻔًﺎ
[106] অতঃপর পৃথিবীকে মসৃণ সমতলভূমি
করে ছাড়বেন।
[106] “Then He shall leave them as a
level smooth plain.
[107] ﻻ ﺗَﺮﻯٰ ﻓﻴﻬﺎ ﻋِﻮَﺟًﺎ ﻭَﻻ
ﺃَﻣﺘًﺎ
[107] তুমি তাতে মোড় ও টিলা দেখবে না।
[107] “You will see therein nothing
crooked or curved.”
[108] ﻳَﻮﻣَﺌِﺬٍ ﻳَﺘَّﺒِﻌﻮﻥَ ﺍﻟﺪّﺍﻋِﻰَ
ﻻ ﻋِﻮَﺝَ ﻟَﻪُ ۖ ﻭَﺧَﺸَﻌَﺖِ
ﺍﻷَﺻﻮﺍﺕُ ﻟِﻠﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﻓَﻼ ﺗَﺴﻤَﻊُ
ﺇِﻟّﺎ ﻫَﻤﺴًﺎ
[108] সেই দিন তারা আহবানকারীর অনুসরণ
করবে, যার কথা এদিক-সেদিক হবে না এবং
দয়াময় আল্লাহর ভয়ে সব শব্দ ক্ষীণ হয়ে
যাবে। সুতরাং মৃদু গুঞ্জন ব্যতীত তুমি কিছুই
শুনবে না।
[108] On that Day mankind will follow
strictly (the voice of) Allâh’s caller, no
crookedness (that is without going to the
right or left of that voice) will they show
him (Allâh’s caller). And all voices will
be humbled for the Most Gracious
(Allâh), and nothing shall you hear but
the low voice of their footsteps
[109] ﻳَﻮﻣَﺌِﺬٍ ﻻ ﺗَﻨﻔَﻊُ ﺍﻟﺸَّﻔٰﻌَﺔُ
ﺇِﻟّﺎ ﻣَﻦ ﺃَﺫِﻥَ ﻟَﻪُ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦُ
ﻭَﺭَﺿِﻰَ ﻟَﻪُ ﻗَﻮﻟًﺎ
[109] দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দেবেন
এবং যার কথায় সন্তুষ্ট হবেন সে ছাড়া কারও
সুপারিশ সেদিন কোন উপকারে আসবে না।
[109] On that day no intercession shall
avail, except the one for whom the Most
Gracious (Allâh) has given permission
and whose word is acceptable to Him.
[110] ﻳَﻌﻠَﻢُ ﻣﺎ ﺑَﻴﻦَ ﺃَﻳﺪﻳﻬِﻢ
ﻭَﻣﺎ ﺧَﻠﻔَﻬُﻢ ﻭَﻻ ﻳُﺤﻴﻄﻮﻥَ ﺑِﻪِ
ﻋِﻠﻤًﺎ
[110] তিনি জানেন যা কিছু তাদের সামনে ও
পশ্চাতে আছে এবং তারা তাকে জ্ঞান দ্বারা
আয়ত্ত করতে পারে না।
[110] He (Allâh) knows what happens to
them (His creatures) in this world, and
what will happen to them (in the
Hereafter), but they will never compass
anything of His Knowledge.
[111] ۞ ﻭَﻋَﻨَﺖِ ﺍﻟﻮُﺟﻮﻩُ
ﻟِﻠﺤَﻰِّ ﺍﻟﻘَﻴّﻮﻡِ ۖ ﻭَﻗَﺪ ﺧﺎﺏَ ﻣَﻦ
ﺣَﻤَﻞَ ﻇُﻠﻤًﺎ
[111] সেই চিরঞ্জীব চিরস্থায়ীর সামনে
সব মুখমন্ডল অবনমিত হবে এবং সে ব্যর্থ
হবে যে জুলুমের বোঝা বহন করবে।
[111] And (all) faces shall be humbled
before (Allâh), the Ever Living, the One
Who sustains and protects all that exists.
And he who carried (a burden of)
wrongdoing (i.e. he who disbelieved in
Allâh, ascribed partners to Him, and did
deeds of His disobedience), will be
indeed a complete failure (on that Day).
[112] ﻭَﻣَﻦ ﻳَﻌﻤَﻞ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤٰﺖِ ﻭَﻫُﻮَ ﻣُﺆﻣِﻦٌ ﻓَﻼ
ﻳَﺨﺎﻑُ ﻇُﻠﻤًﺎ ﻭَﻻ ﻫَﻀﻤًﺎ
[112] যে ঈমানদার অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন
করে, সে জুলুম ও ক্ষতির আশঙ্কা করবে
না।
[112] And he who works deeds of
righteousness, while he is a believer (in
Islâmic Monotheism) then he will have
no fear of injustice, nor of any
curtailment (of his reward).
[113] ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﺃَﻧﺰَﻟﻨٰﻪُ ﻗُﺮﺀﺍﻧًﺎ
ﻋَﺮَﺑِﻴًّﺎ ﻭَﺻَﺮَّﻓﻨﺎ ﻓﻴﻪِ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻮَﻋﻴﺪِ ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ ﻳَﺘَّﻘﻮﻥَ ﺃَﻭ
ﻳُﺤﺪِﺙُ ﻟَﻬُﻢ ﺫِﻛﺮًﺍ
[113] এমনিভাবে আমি আরবী ভাষায়
কোরআন নাযিল করেছি এবং এতে নানাভাবে
সতর্কবাণী ব্যক্ত করেছি, যাতে তারা
আল্লাহভীরু হয় অথবা তাদের অন্তরে
চিন্তার খোরাক যোগায়।
[113] And thus We have sent it down as
a Qur’ân in Arabic, and have explained
therein in detail the warnings, in order
that they may fear Allâh, or that it may
cause them to have a lesson from it (or to
have the honour for believing and acting
on its teachings).
[114] ﻓَﺘَﻌٰﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟﻤَﻠِﻚُ ﺍﻟﺤَﻖُّ ۗ
ﻭَﻻ ﺗَﻌﺠَﻞ ﺑِﺎﻟﻘُﺮﺀﺍﻥِ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞِ
ﺃَﻥ ﻳُﻘﻀﻰٰ ﺇِﻟَﻴﻚَ ﻭَﺣﻴُﻪُ ۖ ﻭَﻗُﻞ
ﺭَﺏِّ ﺯِﺩﻧﻰ ﻋِﻠﻤًﺎ
[114] সত্যিকার অধীশ্বর আল্লাহ মহান।
আপনার প্রতি আল্লাহর ওহী সম্পুর্ণ হওয়ার
পূর্বে আপনি কোরআন গ্রহণের ব্যপারে
তাড়াহুড়া করবেন না এবং বলুনঃ হে আমার
পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।
[114] Then High above all be Allâh, the
True King. And be not in haste (O
Muhammad SAW) with the Qur’ân
before its revelation is completed to you,
and say: “My Lord! Increase me in
knowledge.”
[115] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﻋَﻬِﺪﻧﺎ ﺇِﻟﻰٰ ﺀﺍﺩَﻡَ
ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ ﻓَﻨَﺴِﻰَ ﻭَﻟَﻢ ﻧَﺠِﺪ ﻟَﻪُ
ﻋَﺰﻣًﺎ
[115] আমি ইতিপূর্বে আদমকে নির্দেশ
দিয়েছিলাম। অতঃপর সে ভুলে গিয়েছিল এবং
আমি তার মধ্যে দৃঢ়তা পাইনি।
[115] And indeed We made a covenant
with Adam before, but he forgot, and We
found on his part no firm will-power.
[116] ﻭَﺇِﺫ ﻗُﻠﻨﺎ ﻟِﻠﻤَﻠٰﺌِﻜَﺔِ
ﺍﺳﺠُﺪﻭﺍ ﻝِﺀﺍﺩَﻡَ ﻓَﺴَﺠَﺪﻭﺍ
ﺇِﻟّﺎ ﺇِﺑﻠﻴﺲَ ﺃَﺑﻰٰ
[116] যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ
তোমরা আদমকে সেজদা কর, তখন ইবলীস
ব্যতীত সবাই সেজদা করল। সে অমান্য
করল।
[116] And (remember) when We said to
the angels: “Prostrate yourselves to
Adam.” They prostrated themselves (all)
except Iblîs (Satan), who refused.
[117] ﻓَﻘُﻠﻨﺎ ﻳٰـٔﺎﺩَﻡُ ﺇِﻥَّ ﻫٰﺬﺍ ﻋَﺪُﻭٌّ
ﻟَﻚَ ﻭَﻟِﺰَﻭﺟِﻚَ ﻓَﻼ ﻳُﺨﺮِﺟَﻨَّﻜُﻤﺎ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ ﻓَﺘَﺸﻘﻰٰ
[117] অতঃপর আমি বললামঃ হে আদম, এ
তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু, সুতরাং সে
যেন বের করে না দেয় তোমাদের
জান্নাত থেকে। তাহলে তোমরা কষ্টে
পতিত হবে।
[117] Then We said: “O Adam! Verily,
this is an enemy to you and to your wife.
So let him not get you both out of
Paradise, so that you will be distressed.
[118] ﺇِﻥَّ ﻟَﻚَ ﺃَﻟّﺎ ﺗَﺠﻮﻉَ ﻓﻴﻬﺎ
ﻭَﻻ ﺗَﻌﺮﻯٰ
[118] তোমাকে এই দেয়া হল যে, তুমি
এতে ক্ষুধার্ত হবে না এবং বস্ত্রহীণ হবে
না।
[118] Verily, you have (a promise from
Us) that you will never be hungry therein
nor naked.
[119] ﻭَﺃَﻧَّﻚَ ﻻ ﺗَﻈﻤَﺆُﺍ۟ ﻓﻴﻬﺎ ﻭَﻻ
ﺗَﻀﺤﻰٰ
[119] এবং তোমার পিপাসাও হবে না এবং
রৌদ্রেও কষ্ট পাবে না।
[119] And you (will) suffer not from
thirst therein nor from the sun’s heat.
[120] ﻓَﻮَﺳﻮَﺱَ ﺇِﻟَﻴﻪِ ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦُ
ﻗﺎﻝَ ﻳٰـٔﺎﺩَﻡُ ﻫَﻞ ﺃَﺩُﻟُّﻚَ ﻋَﻠﻰٰ
ﺷَﺠَﺮَﺓِ ﺍﻟﺨُﻠﺪِ ﻭَﻣُﻠﻚٍ ﻻ ﻳَﺒﻠﻰٰ
[120] অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রনা দিল,
বললঃ হে আদম, আমি কি তোমাকে বলে দিব
অনন্তকাল জীবিত থাকার বৃক্ষের কথা এবং
অবিনশ্বর রাজত্বের কথা?
[120] Then Shaitân (Satan) whispered to
him, saying : “O Adam! Shall I lead you
to the Tree of Eternity and to a kingdom
that will never waste away?”
[121] ﻓَﺄَﻛَﻼ ﻣِﻨﻬﺎ ﻓَﺒَﺪَﺕ ﻟَﻬُﻤﺎ
ﺳَﻮﺀٰﺗُﻬُﻤﺎ ﻭَﻃَﻔِﻘﺎ ﻳَﺨﺼِﻔﺎﻥِ
ﻋَﻠَﻴﻬِﻤﺎ ﻣِﻦ ﻭَﺭَﻕِ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ ۚ
ﻭَﻋَﺼﻰٰ ﺀﺍﺩَﻡُ ﺭَﺑَّﻪُ ﻓَﻐَﻮﻯٰ
[121] অতঃপর তারা উভয়েই এর ফল ভক্ষণ
করল, তখন তাদের সামনে তাদের লজ্জাস্থান
খুলে গেল এবং তারা জান্নাতের বৃক্ষ-পত্র
দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করতে শুরু
করল। আদম তার পালনকর্তার অবাধ্যতা করল,
ফলে সে পথ ভ্রষ্ঠ হয়ে গেল।
[121] Then they both ate of the tree, and
so their private parts became manifest to
them, and they began to cover
themselves with the leaves of Paradise
for their covering. Thus did Adam
disobey his Lord, so he went astray
[122] ﺛُﻢَّ ﺍﺟﺘَﺒٰﻪُ ﺭَﺑُّﻪُ ﻓَﺘﺎﺏَ
ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻭَﻫَﺪﻯٰ
[122] এরপর তার পালনকর্তা তাকে মনোনীত
করলেন, তার প্রতি মনোযোগী হলেন এবং
তাকে সুপথে আনয়ন করলেন।
[122] Then his Lord chose him, and
turned to him with forgiveness, and gave
him guidance
[123] ﻗﺎﻝَ ﺍﻫﺒِﻄﺎ ﻣِﻨﻬﺎ ﺟَﻤﻴﻌًﺎ ۖ
ﺑَﻌﻀُﻜُﻢ ﻟِﺒَﻌﺾٍ ﻋَﺪُﻭٌّ ۖ ﻓَﺈِﻣّﺎ
ﻳَﺄﺗِﻴَﻨَّﻜُﻢ ﻣِﻨّﻰ ﻫُﺪًﻯ ﻓَﻤَﻦِ ﺍﺗَّﺒَﻊَ
ﻫُﺪﺍﻯَ ﻓَﻼ ﻳَﻀِﻞُّ ﻭَﻻ ﻳَﺸﻘﻰٰ
[123] তিনি বললেনঃ তোমরা উভয়েই এখান
থেকে এক সঙ্গে নেমে যাও। তোমরা
একে অপরের শত্রু। এরপর যদি আমার পক্ষ
থেকে তোমাদের কাছে হেদায়েত
আসে, তখন যে আমার বর্ণিত পথ অনুসরণ
করবে, সে পথভ্রষ্ঠ হবে না এবং কষ্টে
পতিত হবে না।
[123] He (Allâh) said:”Get you down
(from the Paradise to the earth), both of
you, together, some of you are an enemy
to some others. Then if there comes to
you guidance from Me, then whoever
follows My Guidance he shall neither go
astray, nor shall be distressed.
[124] ﻭَﻣَﻦ ﺃَﻋﺮَﺽَ ﻋَﻦ ﺫِﻛﺮﻯ
ﻓَﺈِﻥَّ ﻟَﻪُ ﻣَﻌﻴﺸَﺔً ﺿَﻨﻜًﺎ
ﻭَﻧَﺤﺸُﺮُﻩُ ﻳَﻮﻡَ ﺍﻟﻘِﻴٰﻤَﺔِ ﺃَﻋﻤﻰٰ
[124] এবং যে আমার স্মরণ থেকে মুখ
ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে
এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ
অবস্থায় উত্থিত করব।
[124] “But whosoever turns away from
My Reminder (i.e. neither believes in this
Qur’ân nor acts on its teachings) verily,
for him is a life of hardship, and We
shall raise him up blind on the Day of
Resurrection.”
[125] ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﻟِﻢَ ﺣَﺸَﺮﺗَﻨﻰ
ﺃَﻋﻤﻰٰ ﻭَﻗَﺪ ﻛُﻨﺖُ ﺑَﺼﻴﺮًﺍ
[125] সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা
আমাকে কেন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত
করলেন? আমি তো চক্ষুমান ছিলাম।
[125] He will say:”O my Lord! Why have
you raised me up blind, while I had sight
(before).”
[126] ﻗﺎﻝَ ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﺃَﺗَﺘﻚَ ﺀﺍﻳٰﺘُﻨﺎ
ﻓَﻨَﺴﻴﺘَﻬﺎ ۖ ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﺍﻟﻴَﻮﻡَ
ﺗُﻨﺴﻰٰ
[126] আল্লাহ বলবেনঃ এমনিভাবে তোমার
কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, অতঃপর তুমি
সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে। তেমনিভাবে
আজ তোমাকে ভুলে যাব।
[126] (Allâh) will say: “Like this, Our
Ayât (proofs, evidences, verses, lessons,
signs, revelations, etc.) came unto you,
but you disregarded them (i.e. you left
them, did not think deeply in them, and
you turned away from them), and so this
Day, you will be neglected (in the Hell-
fire, away from Allâh’s Mercy).”
[127] ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻧَﺠﺰﻯ ﻣَﻦ
ﺃَﺳﺮَﻑَ ﻭَﻟَﻢ ﻳُﺆﻣِﻦ ﺑِـٔﺎﻳٰﺖِ ﺭَﺑِّﻪِ ۚ
ﻭَﻟَﻌَﺬﺍﺏُ ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﺃَﺷَﺪُّ
ﻭَﺃَﺑﻘﻰٰ
[127] এমনিভাবে আমি তাকে প্রতিফল দেব,
যে সীমালঙ্ঘন করে এবং পালনকর্তার কথায়
বিশ্বাস স্থাপন না করে। তার পরকালের শাস্তি
কঠোরতর এবং অনেক স্থায়ী।
[127] And thus do We requite him who
transgresses beyond bounds [i.e. commits
the great sins and disobeys his Lord
(Allâh) and believes not in His
Messengers, and His revealed Books, like
this Qur’ân, etc.], and believes not in the
Ayât (proofs, evidences, verses, lessons,
signs, revelations) of his Lord, and the
torment of the Hereafter is far more
severe and more lasting.
[128] ﺃَﻓَﻠَﻢ ﻳَﻬﺪِ ﻟَﻬُﻢ ﻛَﻢ ﺃَﻫﻠَﻜﻨﺎ
ﻗَﺒﻠَﻬُﻢ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻘُﺮﻭﻥِ ﻳَﻤﺸﻮﻥَ
ﻓﻰ ﻣَﺴٰﻜِﻨِﻬِﻢ ۗ ﺇِﻥَّ ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻚَ
ﻝَﺀﺍﻳٰﺖٍ ﻟِﺄُﻭﻟِﻰ ﺍﻟﻨُّﻬﻰٰ
[128] আমি এদের পূর্বে অনেক
সম্প্রদায়কে ধবংস করেছি। যাদের
বাসভুমিতে এরা বিচরণ করে, এটা কি
এদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করল না? নিশ্চয়
এতে বুদ্ধিমানদের জন্যে নিদর্শনাবলী
রয়েছে।
[128] Is it not a guidance for them (to
know) how many generations We have
destroyed before them, in whose
dwellings they walk? Verily, in this are
signs indeed for men of understanding.
[129] ﻭَﻟَﻮﻻ ﻛَﻠِﻤَﺔٌ ﺳَﺒَﻘَﺖ ﻣِﻦ
ﺭَﺑِّﻚَ ﻟَﻜﺎﻥَ ﻟِﺰﺍﻣًﺎ ﻭَﺃَﺟَﻞٌ
ﻣُﺴَﻤًّﻰ
[129] আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে পূর্ব
সিদ্ধান্ত এবং একটি কাল নির্দিষ্ট না থাকলে শাস্তি
অবশ্যম্ভাবী হয়ে যেত।
[129] And had it not been for a Word
that went forth before from your Lord,
and a term determined, (their
punishment) must necessarily have come
(in this world).
[130] ﻓَﺎﺻﺒِﺮ ﻋَﻠﻰٰ ﻣﺎ ﻳَﻘﻮﻟﻮﻥَ
ﻭَﺳَﺒِّﺢ ﺑِﺤَﻤﺪِ ﺭَﺑِّﻚَ ﻗَﺒﻞَ
ﻃُﻠﻮﻉِ ﺍﻟﺸَّﻤﺲِ ﻭَﻗَﺒﻞَ
ﻏُﺮﻭﺑِﻬﺎ ۖ ﻭَﻣِﻦ ﺀﺍﻧﺎﺉِ ﺍﻟَّﻴﻞِ
ﻓَﺴَﺒِّﺢ ﻭَﺃَﻃﺮﺍﻑَ ﺍﻟﻨَّﻬﺎﺭِ ﻟَﻌَﻠَّﻚَ
ﺗَﺮﺿﻰٰ
[130] সুতরাং এরা যা বলে সে বিষয়ে ধৈর্য্য
ধারণ করুন এবং আপনার পালনকর্তার প্রশংসা
পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করুন সূর্যোদয়ের
পূর্বে, সূর্যাস্তের পূর্বে এবং পবিত্রতা ও
মহিমা ঘোষনা করুন রাত্রির কিছু অংশ ও দিবাভাগে,
সম্ভবতঃ তাতে আপনি সন্তুষ্ট হবেন।
[130] So bear patiently (O Muhammad
SAW) what they say, and glorify the
praises of your Lord before the rising of
the sun, and before its setting, and
during some hours of the night, and at
the ends of the day (an indication for the
five compulsory congregational prayers),
that you may become pleased with the
reward which Allâh shall give you.
[131] ﻭَﻻ ﺗَﻤُﺪَّﻥَّ ﻋَﻴﻨَﻴﻚَ ﺇِﻟﻰٰ ﻣﺎ
ﻣَﺘَّﻌﻨﺎ ﺑِﻪِ ﺃَﺯﻭٰﺟًﺎ ﻣِﻨﻬُﻢ ﺯَﻫﺮَﺓَ
ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓِ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﻟِﻨَﻔﺘِﻨَﻬُﻢ ﻓﻴﻪِ ۚ
ﻭَﺭِﺯﻕُ ﺭَﺑِّﻚَ ﺧَﻴﺮٌ ﻭَﺃَﺑﻘﻰٰ
[131] আমি এদের বিভিন্ন প্রকার লোককে
পরীক্ষা করার জন্যে পার্থিবজীবনের
সৌন্দর্য স্বরূপ ভোগ-বিলাসের যে
উপকরণ দিয়েছি, আপনি সেই সব বস্তুর প্রতি
দৃষ্টি নিক্ষেপ করবেন না। আপনার পালনকর্তার
দেয়া রিযিক উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী।
[131] And strain not your eyes in longing
for the things We have given for
enjoyment to various groups of them
(polytheists and disbelievers in the
Oneness of Allâh), the splendour of the
life of this world that We may test them
thereby. But the provision (good reward
in the Hereafter) of your Lord is better
and more lasting.
[132] ﻭَﺃﻣُﺮ ﺃَﻫﻠَﻚَ ﺑِﺎﻟﺼَّﻠﻮٰﺓِ
ﻭَﺍﺻﻄَﺒِﺮ ﻋَﻠَﻴﻬﺎ ۖ ﻻ ﻧَﺴـَٔﻠُﻚَ
ﺭِﺯﻗًﺎ ۖ ﻧَﺤﻦُ ﻧَﺮﺯُﻗُﻚَ ۗ ﻭَﺍﻟﻌٰﻘِﺒَﺔُ
ﻟِﻠﺘَّﻘﻮﻯٰ
[132] আপনি আপনার পরিবারের
লোকদেরকে নামাযের আদেশ দিন এবং
নিজেও এর ওপর অবিচল থাকুন। আমি আপনার
কাছে কোন রিযিক চাই না। আমি আপনাকে রিযিক
দেই এবং আল্লাহ ভীরুতার পরিণাম শুভ।
[132] And enjoin As-Salât (the prayer) on
your family, and be patient in offering
them [i.e. the Salât (prayers)]. We ask
not of you a provision (i.e. to give Us
something: money); We provide for you.
And the good end (i.e. Paradise) is for
the Muttaqûn (pious and righteous
persons – see V.2:2).
[133] ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ ﻟَﻮﻻ ﻳَﺄﺗﻴﻨﺎ ﺑِـٔﺎﻳَﺔٍ
ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻪِ ۚ ﺃَﻭَﻟَﻢ ﺗَﺄﺗِﻬِﻢ ﺑَﻴِّﻨَﺔُ ﻣﺎ
ﻓِﻰ ﺍﻟﺼُّﺤُﻒِ ﺍﻷﻭﻟﻰٰ
[133] এরা বলেঃ সে আমাদের কাছে তার
পালনকর্তার কাছ থেকে কোন নিদর্শন
আনয়ন করে না কেন? তাদের কাছে কি
প্রমাণ আসেনি, যা পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে
আছে?
[133] They say: “Why does he not bring
us a sign (proof) from his Lord?” Has
there not come to them the proof of that
which is (written) in the former papers
[Scriptures, i.e. the Taurât (Torah), and
the Injeel (Gospel), etc. about the coming
of the Prophet Muhammad SAW].
[134] ﻭَﻟَﻮ ﺃَﻧّﺎ ﺃَﻫﻠَﻜﻨٰﻬُﻢ ﺑِﻌَﺬﺍﺏٍ
ﻣِﻦ ﻗَﺒﻠِﻪِ ﻟَﻘﺎﻟﻮﺍ ﺭَﺑَّﻨﺎ ﻟَﻮﻻ
ﺃَﺭﺳَﻠﺖَ ﺇِﻟَﻴﻨﺎ ﺭَﺳﻮﻟًﺎ ﻓَﻨَﺘَّﺒِﻊَ
ﺀﺍﻳٰﺘِﻚَ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞِ ﺃَﻥ ﻧَﺬِﻝَّ
ﻭَﻧَﺨﺰﻯٰ
[134] যদি আমি এদেরকে ইতিপূর্বে কোন
শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করতাম, তবে এরা বলতঃ হে
আমাদের পালনকর্তা, আপনি আমাদের কাছে
একজন রসূল প্রেরণ করলেন না কেন?
তাহলে তো আমরা অপমানিত ও হেয় হওয়ার
পূর্বেই আপনার নিদর্শন সমূহ মেনে চলতাম।
[134] And if We had destroyed them with
a torment before this (i.e. Messenger
Muhammad SAW and the Qur’ân), they
would surely have said: “Our Lord! If
only You had sent us a Messenger, we
should certainly have followed Your Ayât
(proofs, evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.), before we were
humiliated and disgraced.”.
[135] ﻗُﻞ ﻛُﻞٌّ ﻣُﺘَﺮَﺑِّﺺٌ
ﻓَﺘَﺮَﺑَّﺼﻮﺍ ۖ ﻓَﺴَﺘَﻌﻠَﻤﻮﻥَ ﻣَﻦ
ﺃَﺻﺤٰﺐُ ﺍﻟﺼِّﺮٰﻁِ ﺍﻟﺴَّﻮِﻯِّ
ﻭَﻣَﻦِ ﺍﻫﺘَﺪﻯٰ
[135] বলুন, প্রত্যেকেই পথপানে চেয়ে
আছে, সুতরাং তোমরাও পথপানে চেয়ে থাক।
অদূর ভবিষ্যতে তোমরা জানতে পারবে কে
সরল পথের পথিক এবং কে সৎপথ প্রাপ্ত
হয়েছে।
[135] Say (O Muhammad SAW): “Each
one (believer and disbeliever) is waiting,
so wait you too, and you shall know who
are they that are on the Straight and
Even Path (i.e. Allâh’s religion of Islâmic
Monotheism), and who are they that
have let themselves be guided (on the
Right Path).
Bangla translation of Quran. Developed
by Syed Mohammad Rasel
Surah TaHa Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. তোয়া-হা 2. আপনাকে ক্লেশ দেবার জন্য আমি আপনার প্রতি কোরআন অবতীর্ণ করিনি। 3. কিন্তু তাদেরই উপদেশের জন্য যারা ভয় করে। 4. এটা তাঁর কাছ থেকে অবতীর্ণ, যিনি ভূমন্ডল ও সমুচ্চ নভোমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। 5. তিনি পরম দয়াময়, আরশে সমাসীন হয়েছেন। 6. নভোমন্ডলে, ভুমন্ডলে, এতদুভয়ের মধ্যবর্তী স্থানে এবং সিক্ত ভূগর্ভে যা আছে, তা তাঁরই। 7. যদি তুমি উচ্চকন্ঠেও কথা বল, তিনি তো গুপ্ত ও তদপেক্ষাও গুপ্ত বিষয়বস্তু জানেন। 8. আল্লাহ তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য ইলাহ নেই। সব সৌন্দর্যমন্ডিত নাম তাঁরই। 9. আপনার কাছে মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি। 10. তিনি যখন আগুন দেখলেন, তখন পরিবারবর্গকে বললেনঃ তোমরা এখানে অবস্থান কর আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবতঃ আমি তা থেকে তোমাদের কাছে কিছু আগুন জালিয়ে আনতে পারব অথবা আগুনে পৌছে পথের সন্ধান পাব। 11. অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে পৌছলেন, তখন আওয়াজ আসল হে মূসা, 12. আমিই তোমার পালনকর্তা, অতএব তুমি জুতা খুলে ফেল, তুমি পবিত্র উপত্যকা তুয়ায় রয়েছ। 13. এবং আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, অতএব যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে, তা শুনতে থাক। 14. আমিই আল্লাহ আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অতএব আমার এবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর। 15. কেয়ামত অবশ্যই আসবে, আমি তা গোপন রাখতে চাই; যাতে প্রত্যেকেই তার কর্মানুযায়ী ফল লাভ করে। 16. সুতরাং যে ব্যক্তি কেয়ামতে বিশ্বাস রাখে না এবং নিজ খাহেশের অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে তা থেকে নিবৃত্ত না করে। নিবৃত্ত হলে তুমি ধবংস হয়ে যাবে। 17. হে মূসা, তোমার ডানহাতে ওটা কি? 18. তিনি বললেনঃ এটা আমার লাঠি, আমি এর উপর ভর দেই এবং এর দ্বারা আমার ছাগপালের জন্যে বৃক্ষপত্র ঝেড়ে ফেলি এবং এতে আমার অন্যান্য কাজ ও চলে। 19. আল্লাহ বললেনঃ হে মূসা, তুমি ওটা নিক্ষেপ কর। 20. অতঃপর তিনি তা নিক্ষেপ করলেন, অমনি তা সাপ হয়ে ছুটাছুটি করতে লাগল। 21. আল্লাহ বললেনঃ তুমি তাকে ধর এবং ভয় করো না, আমি এখনি একে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেব। 22. তোমার হাত বগলে রাখ, তা বের হয়ে আসবে নির্মল উজ্জ্বল হয়ে অন্য এক নিদর্শন রূপে; কোন দোষ ছাড়াই। 23. ফেরাউনের নিকট যাও, সে দারুণ উদ্ধত হয়ে গেছে। 24. মূসা বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন। 25. এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। 26. এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। 27. এবং আমার জিহবা থেকে জড়তা দূর করে দিন। 28. যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। 29. এবং আমার পরিবারবর্গের মধ্য থেকে আমার একজন সাহায্যকারী করে দিন। 30. আমার ভাই হারুনকে। 31. তার মাধ্যমে আমার কোমর মজবুত করুন। 32. এবং তাকে আমার কাজে অংশীদার করুন। 33. যাতে আমরা বেশী করে আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করতে পারি। 34. এবং বেশী পরিমাণে আপনাকে স্মরণ করতে পারি। 35. আপনি তো আমাদের অবস্থা সবই দেখছেন। 36. আল্লাহ বললেনঃ হে মূসা, তুমি যা চেয়েছ তা তোমাকে দেয়া হল। 37. আমি তোমার প্রতি আরও একবার অনুগ্রহ করেছিলাম। 38. যখন আমি তোমার মাতাকে নির্দেশ দিয়েছিলাম যা অতঃপর বর্ণিত হচ্ছে। 39. যে, তুমি (মূসাকে) সিন্দুকে রাখ, অতঃপর তা দরিয়ায় ভাসিয়ে দাও, অতঃপর দরিয়া তাকে তীরে ঠেলে দেবে। তাকে আমার শক্র ও তার শক্র উঠিয়ে নেবে। আমি তোমার প্রতি মহব্বত সঞ্চারিত করেছিলাম আমার নিজের পক্ষ থেকে, যাতে তুমি আমার দৃষ্টির সামনে প্রতি পালিত হও। 40. যখন তোমার ভগিনী এসে বললঃ আমি কি তোমাদেরকে বলে দেব কে তাকে লালন পালন করবে। অতঃপর আমি তোমাকে তোমার মাতার কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চক্ষু শীতল হয় এবং দুঃখ না পায়। তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে, অতঃপর আমি তোমাকে এই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেই; আমি তোমাকে অনেক পরীক্ষা করেছি। অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদইয়ান বাসীদের মধ্যে অবস্থান করেছিলে; হে মূসা, অতঃপর তুমি নির্ধারিত সময়ে এসেছ। 41. এবং আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য তৈরী করে নিয়েছি। 42. তুমি ও তোমার ভাই আমার নিদর্শনাবলীসহ যাও এবং আমার স্মরণে শৈথিল্য করো না। 43. তোমরা উভয়ে ফেরআউনের কাছে যাও সে খুব উদ্ধত হয়ে গেছে। 44. অতঃপর তোমরা তাকে নম্র কথা বল, হয়তো সে চিন্তা- ভাবনা করবে অথবা ভীত হবে। 45. তারা বললঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা আশঙ্কা করি যে, সে আমাদের প্রতি জুলুম করবে কিংবা উত্তেজিত হয়ে উঠবে। 46. আল্লাহ বললেনঃ তোমরা ভয় করো না, আমি তোমাদের সাথে আছি, আমি শুনি ও দেখি। 47. অতএব তোমরা তার কাছে যাও এবং বলঃ আমরা উভয়েই তোমার পালনকর্তার প্রেরিত রসূল, অতএব আমাদের সাথে বনী ইসরাঈলকে যেতে দাও এবং তাদেরকে নিপীড়ন করো না। আমরা তোমার পালনকর্তার কাছ থেকে নিদর্শন নিয়ে তোমার কাছে আগমন করেছি। এবং যে সৎপথ অনুসরণ করে, তার প্রতি শান্তি। 48. আমরা ওহী লাভ করেছি যে, যে ব্যক্তি মিথ্যারোপ করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার উপর আযাব পড়বে। 49. সে বললঃ তবে হে মূসা, তোমাদের পালনকর্তা কে? 50. মূসা বললেনঃ আমাদের পালনকর্তা তিনি, যিনি প্রত্যেক বস্তুকে তার যোগ্য আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন। 51. ফেরাউন বললঃ তাহলে অতীত যুগের লোকদের অবস্থা কি? 52. মূসা বললেনঃ তাদের খবর আমার পালনকর্তার কাছে লিখিত আছে। আমার পালনকর্তা ভ্রান্ত হন না এং বিস্মৃতও হন না। 53. তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে শয্যা করেছেন এবং তাতে চলার পথ করেছেন, আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন এবং তা দ্বারা আমি বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি। 54. তোমরা আহার কর এবং তোমাদের চতুস্পদ জন্তু চরাও। নিশ্চয় এতে বিবেক বানদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে। 55. এ মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে সৃজন করেছি, এতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিব এবং পুনরায় এ থেকেই আমি তোমাদেরকে উত্থিত করব। 56. আমি ফেরাউনকে আমার সব নিদর্শন দেখিয়ে দিয়েছি, অতঃপর সে মিথ্যা আরোপ করেছে এবং অমান্য করেছে। 57. সে বললঃ হে মূসা, তুমি কি যাদুর জোরে আমাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করার জন্যে আগমন করেছ? 58. অতএব, আমরাও তোমার মোকাবেলায় তোমার নিকট অনুরূপ যাদু উপস্থিত করব। সুতরাং আমাদের ও তোমার মধ্যে একটি ওয়াদার দিন ঠিক কর, যার খেলাফ আমরাও করব না এবং তুমিও করবে না একটি পরিষ্কার প্রান্তরে। 59. মূসা বললঃ তোমাদের ওয়াদার দিন উৎসবের দিন এবং পূর্বাহেলোকজন সমবেত হবে। 60. অতঃপর ফেরাউন প্রস্থান করল এবং তার সব কলাকৌশল জমা করল অতঃপর উপস্থিত হল। 61. মূসা (আঃ) তাদেরকে বললেনঃ দুর্ভাগ্য তোমাদের; তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না। তাহলে তিনি তোমাদেরকে আযাব দ্বারা ধবংস করে দেবেন। যে মিথ্যা উদভাবন করে, সেই বিফল মনোরথ হয়েছে। 62. অতঃপর তারা তাদের কাজে নিজেদের মধ্যে বিতর্ক করল এবং গোপনে পরামর্শ করল। 63. তারা বললঃ এই দুইজন নিশ্চিতই যাদুকর, তারা তাদের যাদু দ্বারা তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বহিস্কার করতে চায় এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন ব্যবস্থা রহিত করতে চায়। 64. অতএব, তোমরা তোমাদের কলাকৌশল সুসংহত কর, অতঃপর সারিবদ্ধ হয়ে আস। আজ যে জয়ী হবে, সেই সফলকাম হবে। 65. তারা বললঃ হে মূসা, হয় তুমি নিক্ষেপ কর, না হয় আমরা প্রথমে নিক্ষেপ করি। 66. মূসা বললেনঃ বরং তোমরাই নিক্ষেপ কর। তাদের যাদুর প্রভাবে হঠাৎ তাঁর মনে হল, যেন তাদের রশিগুলো ও লাঠিগুলো চুটাছুটি করছে। 67. অতঃপর মূসা মনে মনে কিছুটা ভীতি অনুভব করলেন। 68. আমি বললামঃ ভয় করো না, তুমি বিজয়ী হবে। 69. তোমার ডান হাতে যা আছে তুমি তা নিক্ষেপ কর। এটা যা কিছু তারা করেছে তা গ্রাস করে ফেলবে। তারা যা করেছে তা তো কেবল যাদুকরের কলাকৌশল। যাদুকর যেখানেই থাকুক, সফল হবে না। 70. অতঃপর যাদুকররা সেজদায় পড়ে গেল। তারা বললঃ আমরা হারুন ও মূসার পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। 71. ফেরাউন বললঃ আমার অনুমতি দানের পূর্বেই? তোমরা কি তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলে; দেখছি সেই তোমাদের প্রধান, সে তোমাদেরকে যাদু শিক্ষা দিয়েছে। অতএব আমি অবশ্যই তোমাদের হস্তপদ বিপরীত দিক থেকে কর্তন করব এবং আমি তোমাদেরকে খর্জুর বৃক্ষের কান্ডে শূলে চড়াব এবং তোমরা নিশ্চিত রূপেই জানতে পারবে আমাদের মধ্যে কার আযাব কঠোরতর এবং অধিক্ষণ স্থায়ী। 72. যাদুকররা বললঃ আমাদের কাছে যে, সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে তার উপর এবং যিনি আমাদের কে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর উপর আমরা কিছুতেই তোমাকে প্রাধান্য দেব না। অতএব, তুমি যা ইচ্ছা করতে পার। তুমি তো শুধু এই পার্থিব জীবনেই যা করার করবে। 73. আমরা আমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি যাতে তিনি আমাদের পাপ এবং তুমি আমাদেরকে যে যাদু করতে বাধ্য করেছ, তা মার্জনা করেন। আল্লাহ শ্রেষ্ঠ ও চিরস্থায়ী। 74. নিশ্চয়ই যে তার পালনকর্তার কাছে অপরাধী হয়ে আসে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম। সেখানে সে মরবে না এবং বাঁচবেও না। 75. আর যারা তাঁর কাছে আসে এমন ঈমানদার হয়ে যায় সৎকর্ম সম্পাদন করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে সুউচ্চ মর্তবা। 76. বসবাসের এমন পুষ্পোদ্যান রয়েছে যার তলদেশে দিয়ে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হয়। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এটা তাদেরই পুরস্কার, যারা পবিত্র হয়। 77. আমি মূসা প্রতি এই মর্মে ওহী করলাম যে, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিযোগে বের হয়ে যাও এবং তাদের জন্যে সমুদ্রে শুষ্কপথ নির্মাণ কর। পেছন থেকে এসে তোমাদের ধরে ফেলার আশঙ্কা করো না এবং পানিতে ডুবে যাওয়ার ভয় করো না। 78. অতঃপর ফেরাউন তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল এবং সমুদ্র তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জত করল। 79. ফেরআউন তার সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করেছিল এবং সৎপথ দেখায়নি। 80. হে বনী-ইসরাঈল! আমি তোমাদেরকে তোমাদের শক্রুর কবল থেকে উদ্ধার করেছি, তুর পাহাড়ের দক্ষিণ পার্শ্বে তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দান করেছি এবং তোমাদের কাছে ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’ নাযিল করেছি। 81. বলেছিঃ আমার দেয়া পবিত্র বস্তুসমূহ খাও এবং এতে সীমালংঘন করো না, তা হলে তোমাদের উপর আমার ক্রোধ নেমে আসবে এবং যার উপর আমার ক্রোধ নেমে আসে সে ধবংস হয়ে যায়। 82. আর যে তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎপথে অটল থাকে, আমি তার প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল। 83. হে মূসা, তোমার সম্প্রদায়কে পেছনে ফেলে তুমি ত্বরা করলে কেন? 84. তিনি বললেনঃ এই তো তারা আমার পেছনে আসছে এবং হে আমার পালনকর্তা, আমি তাড়াতাড়ি তোমার কাছে এলাম, যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও। 85. বললেনঃ আমি তোমার সম্প্রদায়কে পরীক্ষা করেছি তোমার পর এবং সামেরী তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে। 86. অতঃপর মূসা তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গেলেন ক্রদ্ধ ও অনুতপ্ত অবস্থায়। তিনি বললেনঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমাদের পালনকর্তা কি তোমাদেরকে একটি উত্তম প্রতিশ্রুতি দেননি? তবে কি প্রতিশ্রুতির সময়কাল তোমাদের কাছে দীর্ঘ হয়েছে, না তোমরা চেয়েছ যে, তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার ক্রোধ নেমে আসুক, যে কারণে তোমরা আমার সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করলে? 87. তারা বললঃ আমরা তোমার সাথে কৃত ওয়াদা স্বেচ্ছায় ভঙ্গ করিনি; কিন্তু আমাদের উপর ফেরউনীদের অলংকারের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। অতঃপর আমরা তা নিক্ষেপ করে দিয়েছি। এমনি ভাবে সামেরীও নিক্ষেপ করেছে। 88. অতঃপর সে তাদের জন্য তৈরী করে বের করল একটি গো-বৎস, একটা দেহ, যার মধ্যে গরুর শব্দ ছিল। তারা বললঃ এটা তোমাদের উপাস্য এবং মূসার ও উপাস্য, অতঃপর মূসা ভুলে গেছে। 89. তারা কি দেখে না যে, এটা তাদের কোন কথার উত্তর দেয় না এবং তারে কোন ক্ষতি ও উপকার করার ক্ষমতাও রাখে না? 90. হারুন তাদেরকে পুর্বেই বলেছিলেনঃ হে আমার কওম, তোমরা তো এই গো-বৎস দ্বারা পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছ এবং তোমাদের পালনকর্তা দয়াময়। অতএব, তোমরা আমার অনুসরণ কর এবং আমার আদেশ মেনে চল। 91. তারা বললঃ মূসা আমাদের কাছে ফিরে আসা পর্যন্ত আমরা সদাসর্বদা এর সাথেই সংযুক্ত হয়ে বসে থাকব। 92. মূসা বললেনঃ হে হারুন, তুমি যখন তাদেরকে পথ ভ্রষ্ট হতে দেখলে, তখন তোমাকে কিসে নিবৃত্ত করল? 93. আমার পদাঙ্ক অনুসরণ করা থেকে? তবে তুমি কি আমার আদেশ অমান্য করেছ? 94. তিনি বললেনঃ হে আমার জননী-তনয়, আমার শ্মশ্রু ও মাথার চুল ধরে আকর্ষণ করো না; আমি আশঙ্কা করলাম যে, তুমি বলবেঃ তুমি বনী-ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছ এবং আমার কথা স্মরণে রাখনি। 95. মূসা বললেন হে সামেরী, এখন তোমার ব্যাপার কি? 96. সে বললঃ আমি দেখলাম যা অন্যেরা দেখেনি। অতঃপর আমি সেই প্রেরিত ব্যক্তির পদচিহেনীচ থেকে এক মুঠি মাটি নিয়ে নিলাম। অতঃপর আমি তা নিক্ষেপ করলাম। আমাকে আমার মন এই মন্ত্রণাই দিল। 97. মূসা বললেনঃ দূর হ, তোর জন্য সারা জীবন এ শাস্তিই রইল যে, তুই বলবি; আমাকে স্পর্শ করো না, এবং তোর জন্য একটি নির্দিষ্ট ওয়াদা আছে, যার ব্যতিক্রম হবে না। তুই তোর সেই ইলাহের প্রতি লক্ষ্য কর, যাকে তুই ঘিরে থাকতি। আমরা সেটি জালিয়ে দেবই। অতঃপর একে বিক্ষিপ্ত করে সাগরে ছড়িয়ে দেবই। 98. তোমাদের ইলাহ তো কেবল আল্লাহই, যিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই। সব বিষয় তাঁর জ্ঞানের পরিধিভুক্ত। 99. এমনিভাবে আমি পূর্বে যা ঘটেছে, তার সংবাদ আপনার কাছে বর্ণনা করি। আমি আমার কাছ থেকে আপনাকে দান করেছি পড়ার গ্রন্থ। 100. যে এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে কেয়ামতের দিন বোঝা বহন করবে। 101. তারা তাতে চিরকাল থাকবে এবং কেয়ামতের দিন এই বোঝা তাদের জন্যে মন্দ হবে। 102. যেদিন সিঙ্গায় ফূৎকার দেয়া হবে, সেদিন আমি অপরাধীদেরকে সমবেত করব নীল চক্ষু অবস্থায়। 103. তারা চুপিসারে পরস্পরে বলাবলি করবেঃ তোমরা মাত্র দশ দিন অবস্থান করেছিলে। 104. তারা কি বলে তা আমি ভালোভাবে জানি। তাদের মধ্যে যে, অপেক্ষাকৃত উত্তম পথের অনুসারী সে বলবেঃ তোমরা মাত্র একদিন অবস্থান করেছিলে। 105. তারা আপনাকে পাহাড় সম্পর্কে প্রশ্ন করা। অতএব, আপনি বলুনঃ আমার পালনকর্তা পহাড়সমূহকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দিবেন। 106. অতঃপর পৃথিবীকে মসৃণ সমতলভূমি করে ছাড়বেন। 107. তুমি তাতে মোড় ও টিলা দেখবে না। 108. সেই দিন তারা আহবানকারীর অনুসরণ করবে, যার কথা এদিক-সেদিক হবে না এবং দয়াময় আল্লাহর ভয়ে সব শব্দ ক্ষীণ হয়ে যাবে। সুতরাং মৃদু গুঞ্জন ব্যতীত তুমি কিছুই শুনবে না। 109. দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দেবেন এবং যার কথায় সন্তুষ্ট হবেন সে ছাড়া কারও সুপারিশ সেদিন কোন উপকারে আসবে না। 110. তিনি জানেন যা কিছু তাদের সামনে ও পশ্চাতে আছে এবং তারা তাকে জ্ঞান দ্বারা আয়ত্ত করতে পারে না। 111. সেই চিরঞ্জীব চিরস্থায়ীর সামনে সব মুখমন্ডল অবনমিত হবে এবং সে ব্যর্থ হবে যে জুলুমের বোঝা বহন করবে। 112. যে ঈমানদার অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করে, সে জুলুম ও ক্ষতির আশঙ্কা করবে না। 113. এমনিভাবে আমি আরবী ভাষায় কোরআন নাযিল করেছি এবং এতে নানাভাবে সতর্কবাণী ব্যক্ত করেছি, যাতে তারা আল্লাহভীরু হয় অথবা তাদের অন্তরে চিন্তার খোরাক যোগায়। 114. সত্যিকার অধীশ্বর আল্লাহ মহান। আপনার প্রতি আল্লাহর ওহী সম্পুর্ণ হওয়ার পূর্বে আপনি কোরআন গ্রহণের ব্যপারে তাড়াহুড়া করবেন না এবং বলুনঃ হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন। 115. আমি ইতিপূর্বে আদমকে নির্দেশ দিয়েছিলাম। অতঃপর সে ভুলে গিয়েছিল এবং আমি তার মধ্যে দৃঢ়তা পাইনি। 116. যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ তোমরা আদমকে সেজদা কর, তখন ইবলীস ব্যতীত সবাই সেজদা করল। সে অমান্য করল। 117. অতঃপর আমি বললামঃ হে আদম, এ তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু, সুতরাং সে যেন বের করে না দেয় তোমাদের জান্নাত থেকে। তাহলে তোমরা কষ্টে পতিত হবে। 118. তোমাকে এই দেয়া হল যে, তুমি এতে ক্ষুধার্ত হবে না এবং বস্ত্রহীণ হবে না। 119. এবং তোমার পিপাসাও হবে না এবং রৌদ্রেও কষ্ট পাবে না। 120. অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রনা দিল, বললঃ হে আদম, আমি কি তোমাকে বলে দিব অনন্তকাল জীবিত থাকার বৃক্ষের কথা এবং অবিনশ্বর রাজত্বের কথা? 121. অতঃপর তারা উভয়েই এর ফল ভক্ষণ করল, তখন তাদের সামনে তাদের লজ্জাস্থান খুলে গেল এবং তারা জান্নাতের বৃক্ষ-পত্র দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করতে শুরু করল। আদম তার পালনকর্তার অবাধ্যতা করল, ফলে সে পথ ভ্রষ্ঠ হয়ে গেল। 122. এরপর তার পালনকর্তা তাকে মনোনীত করলেন, তার প্রতি মনোযোগী হলেন এবং তাকে সুপথে আনয়ন করলেন। 123. তিনি বললেনঃ তোমরা উভয়েই এখান থেকে এক সঙ্গে নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু। এরপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে হেদায়েত আসে, তখন যে আমার বর্ণিত পথ অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ঠ হবে না এবং কষ্টে পতিত হবে না। 124. এবং যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব। 125. সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা আমাকে কেন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করলেন? আমি তো চক্ষুমান ছিলাম। 126. আল্লাহ বলবেনঃ এমনিভাবে তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, অতঃপর তুমি সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে। তেমনিভাবে আজ তোমাকে ভুলে যাব। 127. এমনিভাবে আমি তাকে প্রতিফল দেব, যে সীমালঙ্ঘন করে এবং পালনকর্তার কথায় বিশ্বাস স্থাপন না করে। তার পরকালের শাস্তি কঠোরতর এবং অনেক স্থায়ী। 128. আমি এদের পূর্বে অনেক সম্প্রদায়কে ধবংস করেছি। যাদের বাসভুমিতে এরা বিচরণ করে, এটা কি এদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করল না? নিশ্চয় এতে বুদ্ধিমানদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। 129. আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত এবং একটি কাল নির্দিষ্ট না থাকলে শাস্তি অবশ্যম্ভাবী হয়ে যেত। 130. সুতরাং এরা যা বলে সে বিষয়ে ধৈর্য্য ধারণ করুন এবং আপনার পালনকর্তার প্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করুন সূর্যোদয়ের পূর্বে, সূর্যাস্তের পূর্বে এবং পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করুন রাত্রির কিছু অংশ ও দিবাভাগে, সম্ভবতঃ তাতে আপনি সন্তুষ্ট হবেন। 131. আমি এদের বিভিন্ন প্রকার লোককে পরীক্ষা করার জন্যে পার্থিবজীবনের সৌন্দর্য স্বরূপ ভোগ- বিলাসের যে উপকরণ দিয়েছি, আপনি সেই সব বস্তুর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করবেন না। আপনার পালনকর্তার দেয়া রিযিক উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী। 132. আপনি আপনার পরিবারের লোকদেরকে নামাযের আদেশ দিন এবং নিজেও এর ওপর অবিচল থাকুন। আমি আপনার কাছে কোন রিযিক চাই না। আমি আপনাকে রিযিক দেই এবং আল্লাহ ভীরুতার পরিণাম শুভ। 133. এরা বলেঃ সে আমাদের কাছে তার পালনকর্তার কাছ থেকে কোন নিদর্শন আনয়ন করে না কেন? তাদের কাছে কি প্রমাণ আসেনি, যা পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে আছে? 134. যদি আমি এদেরকে ইতিপূর্বে কোন শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করতাম, তবে এরা বলতঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি আমাদের কাছে একজন রসূল প্রেরণ করলেন না কেন? তাহলে তো আমরা অপমানিত ও হেয় হওয়ার পূর্বেই আপনার নিদর্শন সমূহ মেনে চলতাম। 135. বলুন, প্রত্যেকেই পথপানে চেয়ে আছে, সুতরাং তোমরাও পথপানে চেয়ে থাক। অদূর ভবিষ্যতে তোমরা জানতে পারবে কে সরল পথের পথিক এবং কে সৎপথ প্রাপ্ত হয়েছে। ********

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s