23. সুরাহ মু ‘মিনুন(01-118)


ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি
দয়ালু
[1] ﻗَﺪ ﺃَﻓﻠَﺢَ ﺍﻟﻤُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[1] মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে,
[1] Successful indeed are the believers.
[2] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻫُﻢ ﻓﻰ ﺻَﻼﺗِﻬِﻢ
ﺧٰﺸِﻌﻮﻥَ
[2] যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র;
[2] Those who offer their Salât (prayers)
with all solemnity and full
submissiveness.
[3] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻫُﻢ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻠَّﻐﻮِ
ﻣُﻌﺮِﺿﻮﻥَ
[3] যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত,
[3] And those who turn away from Al-
Laghw (dirty, false, evil vain talk,
falsehood, and all that Allâh has
forbidden).
[4] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻫُﻢ ﻟِﻠﺰَّﻛﻮٰﺓِ ﻓٰﻌِﻠﻮﻥَ
[4] যারা যাকাত দান করে থাকে
[4] And those who pay the Zakât.
[5] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻫُﻢ ﻟِﻔُﺮﻭﺟِﻬِﻢ
ﺣٰﻔِﻈﻮﻥَ
[5] এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত
রাখে।
[5] And those who guard their chastity
(i.e. private parts, from illegal sexual
acts).
[6] ﺇِﻟّﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﺯﻭٰﺟِﻬِﻢ ﺃَﻭ ﻣﺎ
ﻣَﻠَﻜَﺖ ﺃَﻳﻤٰﻨُﻬُﻢ ﻓَﺈِﻧَّﻬُﻢ ﻏَﻴﺮُ
ﻣَﻠﻮﻣﻴﻦَ
[6] তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত
দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা
তিরস্কৃত হবে না।
[6] Except from their wives or (slaves)
that their right hands possess, – for then,
they are free from blame;
[7] ﻓَﻤَﻦِ ﺍﺑﺘَﻐﻰٰ ﻭَﺭﺍﺀَ ﺫٰﻟِﻚَ
ﻓَﺄُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﺍﻟﻌﺎﺩﻭﻥَ
[7] অতঃপর কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে
কামনা করলে তারা সীমালংঘনকারী হবে।
[7] But whoever seeks beyond that, then
those are the transgressors;
[8] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻫُﻢ ﻟِﺄَﻣٰﻨٰﺘِﻬِﻢ
ﻭَﻋَﻬﺪِﻫِﻢ ﺭٰﻋﻮﻥَ
[8] এবং যারা আমানত ও অঙ্গীকার সম্পর্কে
হুশিয়ার থাকে।
[8] Those who are faithfully true to their
Amanât (all the duties which Allâh has
ordained, honesty, moral responsibility
and trusts) and to their covenants;
[9] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻫُﻢ ﻋَﻠﻰٰ ﺻَﻠَﻮٰﺗِﻬِﻢ
ﻳُﺤﺎﻓِﻈﻮﻥَ
[9] এবং যারা তাদের নামাযসমূহের খবর রাখে।
[9] And those who strictly guard their
(five compulsory congregational) Salawât
(prayers) (at their fixed stated hours).
[10] ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﺍﻟﻮٰﺭِﺛﻮﻥَ
[10] তারাই উত্তরাধিকার লাভ করবে।
[10] These are indeed the inheritors.
[11] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳَﺮِﺛﻮﻥَ ﺍﻟﻔِﺮﺩَﻭﺱَ
ﻫُﻢ ﻓﻴﻬﺎ ﺧٰﻠِﺪﻭﻥَ
[11] তারা শীতল ছায়াময় উদ্যানের উত্তরাধিকার
লাভ করবে। তারা তাতে চিরকাল থাকবে।
[11] Who shall inherit the Firdaus
(Paradise). They shall dwell therein
forever.
[12] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺧَﻠَﻘﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴٰﻦَ ﻣِﻦ
ﺳُﻠٰﻠَﺔٍ ﻣِﻦ ﻃﻴﻦٍ
[12] আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি
করেছি।
[12] And indeed We created man (Adam)
out of an extract of clay (water and
earth).
[13] ﺛُﻢَّ ﺟَﻌَﻠﻨٰﻪُ ﻧُﻄﻔَﺔً ﻓﻰ ﻗَﺮﺍﺭٍ
ﻣَﻜﻴﻦٍ
[13] অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক
সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি।
[13] Thereafter We made him (the
offspring of Adam) as a Nutfah (mixed
drops of the male and female sexual
discharge and lodged it) in a safe lodging
(womb of the woman).
[14] ﺛُﻢَّ ﺧَﻠَﻘﻨَﺎ ﺍﻟﻨُّﻄﻔَﺔَ ﻋَﻠَﻘَﺔً
ﻓَﺨَﻠَﻘﻨَﺎ ﺍﻟﻌَﻠَﻘَﺔَ ﻣُﻀﻐَﺔً
ﻓَﺨَﻠَﻘﻨَﺎ ﺍﻟﻤُﻀﻐَﺔَ ﻋِﻈٰﻤًﺎ
ﻓَﻜَﺴَﻮﻧَﺎ ﺍﻟﻌِﻈٰﻢَ ﻟَﺤﻤًﺎ ﺛُﻢَّ
ﺃَﻧﺸَﺄﻧٰﻪُ ﺧَﻠﻘًﺎ ﺀﺍﺧَﺮَ ۚ ﻓَﺘَﺒﺎﺭَﻙَ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﺣﺴَﻦُ ﺍﻟﺨٰﻠِﻘﻴﻦَ
[14] এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট
রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর জমাট
রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি, এরপর
সেই মাংসপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি,
অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি,
অবশেষে তাকে নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছি।
নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কত কল্যাণময়।
[14] Then We made the Nutfah into a
clot (a piece of thick coagulated blood),
then We made the clot into a little lump
of flesh, then We made out of that little
lump of flesh bones, then We clothed the
bones with flesh, and then We brought it
forth as another creation. So Blessed is
Allâh, the Best of creators.
[15] ﺛُﻢَّ ﺇِﻧَّﻜُﻢ ﺑَﻌﺪَ ﺫٰﻟِﻚَ
ﻟَﻤَﻴِّﺘﻮﻥَ
[15] এরপর তোমরা মৃত্যুবরণ করবে
[15] After that, surely, you will die.
[16] ﺛُﻢَّ ﺇِﻧَّﻜُﻢ ﻳَﻮﻡَ ﺍﻟﻘِﻴٰﻤَﺔِ
ﺗُﺒﻌَﺜﻮﻥَ
[16] অতঃপর কেয়ামতের দিন তোমরা
পুনরুত্থিত হবে।
[16] Then (again), surely, you will be
resurrected on the Day of Resurrection.
[17] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺧَﻠَﻘﻨﺎ ﻓَﻮﻗَﻜُﻢ ﺳَﺒﻊَ
ﻃَﺮﺍﺋِﻖَ ﻭَﻣﺎ ﻛُﻨّﺎ ﻋَﻦِ ﺍﻟﺨَﻠﻖِ
ﻏٰﻔِﻠﻴﻦَ
[17] আমি তোমাদের উপর সুপ্তপথ সৃষ্টি
করেছি এবং আমি সৃষ্টি সম্বন্ধে অনবধান নই।
[17] And indeed We have created above
you seven heavens (one over the other),
and We are never unaware of the
creation.
[18] ﻭَﺃَﻧﺰَﻟﻨﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﻣﺎﺀً
ﺑِﻘَﺪَﺭٍ ﻓَﺄَﺳﻜَﻨّٰﻪُ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ۖ
ﻭَﺇِﻧّﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﺫَﻫﺎﺏٍ ﺑِﻪِ ﻟَﻘٰﺪِﺭﻭﻥَ
[18] আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে থাকি
পরিমাণ মত অতঃপর আমি জমিনে সংরক্ষণ করি
এবং আমি তা অপসারণও করতে সক্ষম।
[18] And We sent down from the sky
water (rain) in (due) measure, and We
gave it lodging in the earth, and verily,
We are Able to take it away.
[19] ﻓَﺄَﻧﺸَﺄﻧﺎ ﻟَﻜُﻢ ﺑِﻪِ ﺟَﻨّٰﺖٍ ﻣِﻦ
ﻧَﺨﻴﻞٍ ﻭَﺃَﻋﻨٰﺐٍ ﻟَﻜُﻢ ﻓﻴﻬﺎ
ﻓَﻮٰﻛِﻪُ ﻛَﺜﻴﺮَﺓٌ ﻭَﻣِﻨﻬﺎ ﺗَﺄﻛُﻠﻮﻥَ
[19] অতঃপর আমি তা দ্বারা তোমাদের জন্যে
খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান সৃষ্টি করেছি।
তোমাদের জন্যে এতে প্রচুর ফল আছে
এবং তোমরা তা থেকে আহার করে থাক।
[19] Then We brought forth for you
therewith gardens of date-palms and
grapes, wherein is much fruit for you,
and whereof you eat.
[20] ﻭَﺷَﺠَﺮَﺓً ﺗَﺨﺮُﺝُ ﻣِﻦ ﻃﻮﺭِ
ﺳَﻴﻨﺎﺀَ ﺗَﻨﺒُﺖُ ﺑِﺎﻟﺪُّﻫﻦِ ﻭَﺻِﺒﻎٍ
ﻟِﻞﺀﺍﻛِﻠﻴﻦَ
[20] এবং ঐ বৃক্ষ সৃষ্টি করেছি, যা সিনাই
পর্বতে জন্মায় এবং আহারকারীদের জন্যে
তৈল ও ব্যঞ্জন উৎপন্ন করে।
[20] And a tree (olive) that springs forth
from Mount Sinai, that grows (produces)
oil, and (it is a) relish for the eaters.
[21] ﻭَﺇِﻥَّ ﻟَﻜُﻢ ﻓِﻰ ﺍﻷَﻧﻌٰﻢِ
ﻟَﻌِﺒﺮَﺓً ۖ ﻧُﺴﻘﻴﻜُﻢ ﻣِﻤّﺎ ﻓﻰ
ﺑُﻄﻮﻧِﻬﺎ ﻭَﻟَﻜُﻢ ﻓﻴﻬﺎ ﻣَﻨٰﻔِﻊُ
ﻛَﺜﻴﺮَﺓٌ ﻭَﻣِﻨﻬﺎ ﺗَﺄﻛُﻠﻮﻥَ
[21] এবং তোমাদের জন্যে চতুস্পদ জন্তু
সমূহের মধ্যে চিন্তা করার বিষয় রয়েছে।
আমি তোমাদেরকে তাদের উদরস্থিত বস্তু
থেকে পান করাই এবং তোমাদের জন্যে
তাদের মধ্যে প্রচুর উপকারিতা আছে।
তোমরা তাদের কতককে ভক্ষণ কর।
[21] And Verily! In the cattle there is
indeed a lesson for you. We give you to
drink (milk) of that which is in their
bellies. And there are, in them,
numerous (other) benefits for you, and
of them you eat.
[22] ﻭَﻋَﻠَﻴﻬﺎ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻔُﻠﻚِ
ﺗُﺤﻤَﻠﻮﻥَ
[22] তাদের পিঠে ও জলযানে তোমরা
আরোহণ করে চলাফেরা করে থাক।
[22] And on them, and on ships you are
carried.
[23] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﻧﻮﺣًﺎ ﺇِﻟﻰٰ
ﻗَﻮﻣِﻪِ ﻓَﻘﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺍﻋﺒُﺪُﻭﺍ
ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣﺎ ﻟَﻜُﻢ ﻣِﻦ ﺇِﻟٰﻪٍ ﻏَﻴﺮُﻩُ ۖ
ﺃَﻓَﻼ ﺗَﺘَّﻘﻮﻥَ
[23] আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের কাছে
প্রেরণ করেছিলাম। সে বলেছিলঃ হে
আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর বন্দেগী
কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন মাবুদ
নেই। তোমরা কি ভয় কর না।
[23] And indeed We sent Nûh (Noah) to
his people, and he said: “O my people!
Worship Allâh! You have no other Ilâh
(God) but Him (Islâmic Monotheism).
Will you not then be afraid (of Him i.e.
of His Punishment because of
worshipping others besides Him)?”
[24] ﻓَﻘﺎﻝَ ﺍﻟﻤَﻠَﺆُﺍ۟ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ
ﻣِﻦ ﻗَﻮﻣِﻪِ ﻣﺎ ﻫٰﺬﺍ ﺇِﻟّﺎ ﺑَﺸَﺮٌ
ﻣِﺜﻠُﻜُﻢ ﻳُﺮﻳﺪُ ﺃَﻥ ﻳَﺘَﻔَﻀَّﻞَ
ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﻭَﻟَﻮ ﺷﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟَﺄَﻧﺰَﻝَ
ﻣَﻠٰﺌِﻜَﺔً ﻣﺎ ﺳَﻤِﻌﻨﺎ ﺑِﻬٰﺬﺍ ﻓﻰ
ﺀﺍﺑﺎﺋِﻨَﺎ ﺍﻷَﻭَّﻟﻴﻦَ
[24] তখন তার সম্প্রদায়ের কাফের-প্রধানরা
বলেছিলঃ এ তো তোমাদের মতই একজন
মানুষ বৈ নয়। সে তোমাদের উপর নেতৃত্ব
করতে চায়। আল্লাহ ইচ্ছা করলে
ফেরেশতাই নাযিল করতেন। আমরা আমাদের
পূর্বপুরুষদের মধ্যে এরূপ কথা শুনিনি।
[24] But the chiefs of his people who
disbelieved said: “He is no more than a
human being like you, he seeks to make
himself superior to you. Had Allâh
willed, He surely could have sent down
angels; Never did we hear such a thing
among our fathers of old.
[25] ﺇِﻥ ﻫُﻮَ ﺇِﻟّﺎ ﺭَﺟُﻞٌ ﺑِﻪِ ﺟِﻨَّﺔٌ
ﻓَﺘَﺮَﺑَّﺼﻮﺍ ﺑِﻪِ ﺣَﺘّﻰٰ ﺣﻴﻦٍ
[25] সে তো এক উম্মাদ ব্যক্তি বৈ নয়। সুতরাং
কিছুকাল তার ব্যাপারে অপেক্ষা কর।
[25] “He is only a man in whom is
madness, so wait for him a while.”
[26] ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﺍﻧﺼُﺮﻧﻰ ﺑِﻤﺎ
ﻛَﺬَّﺑﻮﻥِ
[26] নূহ বলেছিলঃ হে আমার পালনকর্তা,
আমাকে সাহায্য কর; কেননা, তারা আমাকে
মিথ্যাবাদী বলছে।
[26] [Nûh (Noah)] said: “O my Lord! Help
me because they deny me.”
[27] ﻓَﺄَﻭﺣَﻴﻨﺎ ﺇِﻟَﻴﻪِ ﺃَﻥِ ﺍﺻﻨَﻊِ
ﺍﻟﻔُﻠﻚَ ﺑِﺄَﻋﻴُﻨِﻨﺎ ﻭَﻭَﺣﻴِﻨﺎ ﻓَﺈِﺫﺍ
ﺟﺎﺀَ ﺃَﻣﺮُﻧﺎ ﻭَﻓﺎﺭَ ﺍﻟﺘَّﻨّﻮﺭُ ۙ
ﻓَﺎﺳﻠُﻚ ﻓﻴﻬﺎ ﻣِﻦ ﻛُﻞٍّ ﺯَﻭﺟَﻴﻦِ
ﺍﺛﻨَﻴﻦِ ﻭَﺃَﻫﻠَﻚَ ﺇِﻟّﺎ ﻣَﻦ ﺳَﺒَﻖَ
ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺍﻟﻘَﻮﻝُ ﻣِﻨﻬُﻢ ۖ ﻭَﻻ
ﺗُﺨٰﻄِﺒﻨﻰ ﻓِﻰ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻇَﻠَﻤﻮﺍ ۖ
ﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻣُﻐﺮَﻗﻮﻥَ
[27] অতঃপর আমি তার কাছে আদেশ প্রেরণ
করলাম যে, তুমি আমার দৃষ্টির সামনে এবং আমার
নির্দেশে নৌকা তৈরী কর। এরপর যখন
আমার আদেশ আসে এবং চুল্লী প্লাবিত হয়,
তখন নৌকায় তুলে নাও, প্রত্যেক
জীবের এক এক জোড়া এবং তোমার
পরিবারবর্গকে, তাদের মধ্যে যাদের
বিপক্ষে পূর্বে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে
তাদের ছাড়া। এবং তুমি জালেমদের সম্পর্কে
আমাকে কিছু বলো না। নিশ্চয় তারা নিমজ্জত
হবে।
[27] So We revealed to him (saying):
“Construct the ship under Our Eyes and
under Our Revelation (guidance). Then,
when Our Command comes, and water
gushes forth from the oven, take on
board of each kind two (male and
female), and your family, except those
thereof against whom the Word has
already gone forth. And address Me not
in favour of those who have done wrong.
Verily, they are to be drowned.
[28] ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺍﺳﺘَﻮَﻳﺖَ ﺃَﻧﺖَ ﻭَﻣَﻦ
ﻣَﻌَﻚَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻔُﻠﻚِ ﻓَﻘُﻞِ ﺍﻟﺤَﻤﺪُ
ﻟِﻠَّﻪِ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻧَﺠّﻯٰﻨﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻘَﻮﻡِ
ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
[28] যখন তুমি ও তোমার সঙ্গীরা নৌকায়
আরোহণ করবে, তখন বলঃ আল্লাহর শোকর,
যিনি আমাদেরকে জালেম সম্প্রদায়ের কবল
থেকে উদ্ধার করেছেন।
[28] And when you have embarked on
the ship, you and whoever is with you,
then say: “All the praises and thanks are
to Allâh, Who has saved us from the
people who are Zâlimûn (i.e. oppressors,
wrong-doers, polytheists, those who join
others in worship with Allâh).
[29] ﻭَﻗُﻞ ﺭَﺏِّ ﺃَﻧﺰِﻟﻨﻰ ﻣُﻨﺰَﻟًﺎ
ﻣُﺒﺎﺭَﻛًﺎ ﻭَﺃَﻧﺖَ ﺧَﻴﺮُ ﺍﻟﻤُﻨﺰِﻟﻴﻦَ
[29] আরও বলঃ পালনকর্তা, আমাকে কল্যাণকর
ভাবে নামিয়ে দাও, তুমি শ্রেষ্ঠ
অবতারণকারী।
[29] And say: “My Lord! Cause me to
land at a blessed landing-place, for You
are the Best of those who bring to land.”
[30] ﺇِﻥَّ ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻚَ ﻝَﺀﺍﻳٰﺖٍ ﻭَﺇِﻥ
ﻛُﻨّﺎ ﻟَﻤُﺒﺘَﻠﻴﻦَ
[30] এতে নিদর্শনাবলী রয়েছে এবং আমি
পরীক্ষাকারী।
[30] Verily, in this [what We did as
regards drowning of the people of Nûh
(Noah)], there are indeed Ayât (proofs,
evidences, lessons, signs, etc. for men to
understand), for sure We are ever
putting (men) to the test
[31] ﺛُﻢَّ ﺃَﻧﺸَﺄﻧﺎ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِﻫِﻢ
ﻗَﺮﻧًﺎ ﺀﺍﺧَﺮﻳﻦَ
[31] অতঃপর অন্য এক সম্প্রদায় আমি তার
স্থলাভিষিক্ত করেছিলাম।
[31] Then, after them, We created
another generation
[32] ﻓَﺄَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﻓﻴﻬِﻢ ﺭَﺳﻮﻟًﺎ
ﻣِﻨﻬُﻢ ﺃَﻥِ ﺍﻋﺒُﺪُﻭﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣﺎ ﻟَﻜُﻢ
ﻣِﻦ ﺇِﻟٰﻪٍ ﻏَﻴﺮُﻩُ ۖ ﺃَﻓَﻼ ﺗَﺘَّﻘﻮﻥَ
[32] এবং তাদেরই একজনকে তাদের মধ্যে
রসূলরূপে প্রেরণ করেছিলাম এই বলে
যে, তোমরা আল্লাহর বন্দেগী কর। তিনি
ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন মাবুদ নেই।
তবুও কি তোমরা ভয় করবে না?
[32] And We sent to them a Messenger
from among themselves (saying):
“Worship Allâh! You have no other Ilâh
(God) but Him. Will you not then be
afraid (of Him i.e. of His Punishment
because of worshipping others besides
Him)?”
[33] ﻭَﻗﺎﻝَ ﺍﻟﻤَﻠَﺄُ ﻣِﻦ ﻗَﻮﻣِﻪِ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﻭَﻛَﺬَّﺑﻮﺍ ﺑِﻠِﻘﺎﺀِ
ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﻭَﺃَﺗﺮَﻓﻨٰﻬُﻢ ﻓِﻰ
ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓِ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﻣﺎ ﻫٰﺬﺍ ﺇِﻟّﺎ
ﺑَﺸَﺮٌ ﻣِﺜﻠُﻜُﻢ ﻳَﺄﻛُﻞُ ﻣِﻤّﺎ
ﺗَﺄﻛُﻠﻮﻥَ ﻣِﻨﻪُ ﻭَﻳَﺸﺮَﺏُ ﻣِﻤّﺎ
ﺗَﺸﺮَﺑﻮﻥَ
[33] তাঁর সম্প্রদায়ের প্রধানরা যারা কাফের
ছিল, পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা বলত এবং
যাদেরকে আমি পার্থিব জীবনে সুখ-
স্বাচ্ছন্দ্য দিয়েছিলাম, তারা বললঃ এতো
আমাদের মতই একজন মানুষ বৈ নয়। তোমরা যা
খাও, সেও তাই খায় এবং তোমরা যা পান কর,
সেও তাই পান করে।
[33] And the chiefs of his people, who
disbelieved and denied the Meeting in
the Hereafter, and whom We had given
the luxuries and comforts of this life,
said: “He is no more than a human
being like you, he eats of that which you
eat, and drinks of what you drink
[34] ﻭَﻟَﺌِﻦ ﺃَﻃَﻌﺘُﻢ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻣِﺜﻠَﻜُﻢ
ﺇِﻧَّﻜُﻢ ﺇِﺫًﺍ ﻟَﺨٰﺴِﺮﻭﻥَ
[34] যদি তোমরা তোমাদের মতই একজন
মানুষের আনুগত্য কর, তবে তোমরা
নিশ্চিতরূপেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
[34] “If you were to obey a human being
like yourselves, then verily! You indeed
would be losers.
[35] ﺃَﻳَﻌِﺪُﻛُﻢ ﺃَﻧَّﻜُﻢ ﺇِﺫﺍ ﻣِﺘُّﻢ
ﻭَﻛُﻨﺘُﻢ ﺗُﺮﺍﺑًﺎ ﻭَﻋِﻈٰﻤًﺎ ﺃَﻧَّﻜُﻢ
ﻣُﺨﺮَﺟﻮﻥَ
[35] সে কি তোমাদেরকে এই ওয়াদা দেয়
যে, তোমরা মারা গেলে এবং মৃত্তিকা ও
অস্থিতে পরিণত হলে তোমাদেরকে
পুনরুজ্জীবিত করা হবে?
[35] “Does he promise you that when you
have died and have become dust and
bones, you shall come out alive
(resurrected)?
[36] ۞ ﻫَﻴﻬﺎﺕَ ﻫَﻴﻬﺎﺕَ ﻟِﻤﺎ
ﺗﻮﻋَﺪﻭﻥَ
[36] তোমাদেরকে যে ওয়াদা দেয়া হচ্ছে,
তা কোথায় হতে পারে?
[36] “Far, very far is that which you are
promised!
[37] ﺇِﻥ ﻫِﻰَ ﺇِﻟّﺎ ﺣَﻴﺎﺗُﻨَﺎ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ
ﻧَﻤﻮﺕُ ﻭَﻧَﺤﻴﺎ ﻭَﻣﺎ ﻧَﺤﻦُ
ﺑِﻤَﺒﻌﻮﺛﻴﻦَ
[37] আমাদের পার্থিবজীবনই একমাত্র
জীবন। আমরা মরি ও বাঁচি এখানেই এবং আমারা
পুনরুত্থিত হবো না।
[37] “There is nothing but our life of this
world! We die and we live! And we are
not going to be resurrected!
[38] ﺇِﻥ ﻫُﻮَ ﺇِﻟّﺎ ﺭَﺟُﻞٌ ﺍﻓﺘَﺮﻯٰ
ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻛَﺬِﺑًﺎ ﻭَﻣﺎ ﻧَﺤﻦُ ﻟَﻪُ
ﺑِﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[38] সে তো এমন ব্যক্তি বৈ নয়, যে আল্লাহ
সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে এবং আমরা
তাকে বিশ্বাস করি না।
[38] “He is only a man who has invented
a lie against Allâh, and we are not going
to believe in him.”
[39] ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﺍﻧﺼُﺮﻧﻰ ﺑِﻤﺎ
ﻛَﺬَّﺑﻮﻥِ
[39] তিনি বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা,
আমাকে সাহায্য কর, কারণ তারা আমাকে
মিথ্যাবাদী বলছে।
[39] He said: “O my Lord! Help me
because they deny me.”
[40] ﻗﺎﻝَ ﻋَﻤّﺎ ﻗَﻠﻴﻞٍ ﻟَﻴُﺼﺒِﺤُﻦَّ
ﻧٰﺪِﻣﻴﻦَ
[40] আল্লাহ বললেনঃ কিছু দিনের মধ্যে তারা
সকাল বেলা অনুতপ্ত হবে।
[40] (Allâh) said: “In a little while, they
are sure to be regretful.”
[41] ﻓَﺄَﺧَﺬَﺗﻬُﻢُ ﺍﻟﺼَّﻴﺤَﺔُ
ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ﻓَﺠَﻌَﻠﻨٰﻬُﻢ ﻏُﺜﺎﺀً ۚ
ﻓَﺒُﻌﺪًﺍ ﻟِﻠﻘَﻮﻡِ ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
[41] অতঃপর সত্য সত্যই এক ভয়ংকর শব্দ
তাদেরকে হতচকিত করল এবং আমি
তাদেরকে বাত্যা-তাড়িত আবর্জনা সদৃশ করে
দিলাম। অতঃপর ধ্বংস হোক পাপী সম্প্রদায়।
[41] So As-Saîhah (torment – awful cry)
overtook them in truth (with justice), and
We made them as rubbish of dead
plants. So away with the people who are
Zâlimûn (polytheists, wrong-doers,
disbelievers in the Oneness of Allâh,
disobedient to His Messengers).
[42] ﺛُﻢَّ ﺃَﻧﺸَﺄﻧﺎ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِﻫِﻢ
ﻗُﺮﻭﻧًﺎ ﺀﺍﺧَﺮﻳﻦَ
[42] এরপর তাদের পরে আমি বহু সম্প্রদায়
সৃষ্টি করেছি।
[42] Then, after them, We created other
generations.
[43] ﻣﺎ ﺗَﺴﺒِﻖُ ﻣِﻦ ﺃُﻣَّﺔٍ ﺃَﺟَﻠَﻬﺎ
ﻭَﻣﺎ ﻳَﺴﺘَـٔﺨِﺮﻭﻥَ
[43] কোন সম্প্রদায় তার নির্দিষ্ট কালের
অগ্রে যেতে পারে না। এবং পশ্চাতেও
থকাতে পারে না।
[43] No nation can advance their term,
nor can they delay it.
[44] ﺛُﻢَّ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﺭُﺳُﻠَﻨﺎ ﺗَﺘﺮﺍ ۖ
ﻛُﻞَّ ﻣﺎ ﺟﺎﺀَ ﺃُﻣَّﺔً ﺭَﺳﻮﻟُﻬﺎ
ﻛَﺬَّﺑﻮﻩُ ۚ ﻓَﺄَﺗﺒَﻌﻨﺎ ﺑَﻌﻀَﻬُﻢ
ﺑَﻌﻀًﺎ ﻭَﺟَﻌَﻠﻨٰﻬُﻢ ﺃَﺣﺎﺩﻳﺚَ ۚ
ﻓَﺒُﻌﺪًﺍ ﻟِﻘَﻮﻡٍ ﻻ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[44] এরপর আমি একাদিক্রমে আমার রসূল
প্রেরণ করেছি। যখনই কোন উম্মতের
কাছে তাঁর রসূল আগমন করেছেন, তখনই
তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছে। অতঃপর আমি
তাদের একের পর এক ধ্বংস করেছি এবং
তাদেরকে কাহিনীর বিষয়ে পরিণত করেছি।
সুতরাং ধ্বংস হোক অবিশ্বাসীরা।
[44] Then We sent Our Messengers in
succession, Every time there came to a
nation their Messenger, they denied him,
so We made them follow one another (to
destruction), and We made them as
Ahadîth (the true stories for mankind to
learn a lesson from them). So away with
a people who believe not!
[45] ﺛُﻢَّ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﻣﻮﺳﻰٰ ﻭَﺃَﺧﺎﻩُ
ﻫٰﺮﻭﻥَ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ﻭَﺳُﻠﻄٰﻦٍ ﻣُﺒﻴﻦٍ
[45] অতঃপর আমি মূসা ও হারুণকে প্রেরণ
করেছিলাম আমার নিদর্শনাবলী ও সুস্পষ্ট
সনদসহ,
[45] Then We sent Mûsa (Moses) and his
brother Hârûn (Aaron), with Our Ayât
(proofs, evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) and manifest authority,
[46] ﺇِﻟﻰٰ ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ ﻭَﻣَﻠَﺈِﻳ۟ﻪِ
ﻓَﺎﺳﺘَﻜﺒَﺮﻭﺍ ﻭَﻛﺎﻧﻮﺍ ﻗَﻮﻣًﺎ
ﻋﺎﻟﻴﻦَ
[46] ফেরআউন ও তার অমাত্যদের কাছে।
অতঃপর তারা অহংকার করল এবং তারা উদ্ধত
সম্প্রদায় ছিল।
[46] To Fir’aun (Pharaoh) and his chiefs,
but they behaved insolently and they
were people self-exalting (by disobeying
their Lord, and exalting themselves over
and above the Messenger of Allâh).
[47] ﻓَﻘﺎﻟﻮﺍ ﺃَﻧُﺆﻣِﻦُ ﻟِﺒَﺸَﺮَﻳﻦِ
ﻣِﺜﻠِﻨﺎ ﻭَﻗَﻮﻣُﻬُﻤﺎ ﻟَﻨﺎ ﻋٰﺒِﺪﻭﻥَ
[47] তারা বললঃ আমরা কি আমাদের মতই এ দুই
ব্যক্তিতে বিশ্বাস স্থাপন করব; অথচ তাদের
সম্প্রদায় আমাদের দাস?
[47] They said: “Shall we believe in two
men like ourselves, and their people are
obedient to us with humility (and we use
them to serve us as we like).”
[48] ﻓَﻜَﺬَّﺑﻮﻫُﻤﺎ ﻓَﻜﺎﻧﻮﺍ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻤُﻬﻠَﻜﻴﻦَ
[48] অতঃপর তারা উভয়কে মিথ্যাবাদী বলল।
ফলে তারা ধ্বংস প্রাপ্ত হল।
[48] So they denied them both [Mûsa
(Moses) and Hârûn (Aaron)] and became
of those who were destroyed
[49] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺀﺍﺗَﻴﻨﺎ ﻣﻮﺳَﻰ
ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ ﻳَﻬﺘَﺪﻭﻥَ
[49] আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম যাতে তারা
সৎপথ পায়।
[49] And indeed We gave Mûsa (Moses)
the Scripture, that they may be guided.
[50] ﻭَﺟَﻌَﻠﻨَﺎ ﺍﺑﻦَ ﻣَﺮﻳَﻢَ ﻭَﺃُﻣَّﻪُ
ﺀﺍﻳَﺔً ﻭَﺀﺍﻭَﻳﻨٰﻬُﻤﺎ ﺇِﻟﻰٰ ﺭَﺑﻮَﺓٍ
ﺫﺍﺕِ ﻗَﺮﺍﺭٍ ﻭَﻣَﻌﻴﻦٍ
[50] এবং আমি মরিয়ম তনয় ও তাঁর মাতাকে এক
নিদর্শন দান করেছিলাম। এবং তাদেরকে এক
অবস্থানযোগ্য স্বচ্ছ পানি বিশিষ্ট টিলায় আশ্রয়
দিয়েছিলাম।
[50] And We made the son of Maryam
(Mary) and his mother as a sign, And We
gave them refuge on high ground, a
place of rest, security and flowing
streams.
[51] ﻳٰﺄَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﺮُّﺳُﻞُ ﻛُﻠﻮﺍ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻄَّﻴِّﺒٰﺖِ ﻭَﺍﻋﻤَﻠﻮﺍ ﺻٰﻠِﺤًﺎ ۖ
ﺇِﻧّﻰ ﺑِﻤﺎ ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ ﻋَﻠﻴﻢٌ
[51] হে রসূলগণ, পবিত্র বস্তু আহার করুন এবং
সৎকাজ করুন। আপনারা যা করেন সে বিষয়ে
আমি পরিজ্ঞাত।
[51] O (you) Messengers! Eat of the
Taiyyibât [all kinds of Halâl (lawful)
foods (meat of slaughtered eatable
animals, milk products, fats, vegetables,
fruits, etc.], and do righteous deeds.
Verily! I am Well-Acquainted with what
you do.
[52] ﻭَﺇِﻥَّ ﻫٰﺬِﻩِ ﺃُﻣَّﺘُﻜُﻢ ﺃُﻣَّﺔً
ﻭٰﺣِﺪَﺓً ﻭَﺃَﻧﺎ۠ ﺭَﺑُّﻜُﻢ ﻓَﺎﺗَّﻘﻮﻥِ
[52] আপনাদের এই উম্মত সব তো একই
ধর্মের অনুসারী এবং আমি আপনাদের
পালনকর্তা; অতএব আমাকে ভয় করুন।
[52] And verily! this your religion (of
Islâmic Monotheism) is one religion, and
I am your Lord, so keep your duty to Me.
[53] ﻓَﺘَﻘَﻄَّﻌﻮﺍ ﺃَﻣﺮَﻫُﻢ ﺑَﻴﻨَﻬُﻢ
ﺯُﺑُﺮًﺍ ۖ ﻛُﻞُّ ﺣِﺰﺏٍ ﺑِﻤﺎ ﻟَﺪَﻳﻬِﻢ
ﻓَﺮِﺣﻮﻥَ
[53] অতঃপর মানুষ তাদের বিষয়কে বহুধা বিভক্ত
করে দিয়েছে। প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ
নিজ মতবাদ নিয়ে আনন্দিত হচ্ছে।
[53] But they (men) have broken their
religion among them into sects, each
group rejoicing in what is with it (as its
belief).
[54] ﻓَﺬَﺭﻫُﻢ ﻓﻰ ﻏَﻤﺮَﺗِﻬِﻢ
ﺣَﺘّﻰٰ ﺣﻴﻦٍ
[54] অতএব তাদের কিছু কালের জন্যে
তাদের অজ্ঞানতায় নিমজ্জত থাকতে দিন।
[54] So leave them in their error for a
time.
[55] ﺃَﻳَﺤﺴَﺒﻮﻥَ ﺃَﻧَّﻤﺎ ﻧُﻤِﺪُّﻫُﻢ ﺑِﻪِ
ﻣِﻦ ﻣﺎﻝٍ ﻭَﺑَﻨﻴﻦَ
[55] তারা কি মনে করে যে, আমি
তাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে
যাচ্ছি।
[55] Do they think that in wealth and
children with which We enlarge them
[56] ﻧُﺴﺎﺭِﻉُ ﻟَﻬُﻢ ﻓِﻰ ﺍﻟﺨَﻴﺮٰﺕِ ۚ
ﺑَﻞ ﻻ ﻳَﺸﻌُﺮﻭﻥَ
[56] তাতে করে তাদেরকে দ্রুত
মঙ্গলের দিকে নিয়ে যাচ্ছি? বরং তারা
বোঝে না।
[56] We hasten unto them with good
things (Naz it is Fitnah (trail) in this
worldly life so that they will have no
share of good things in the Hereafter)?
but they perceive not. (Tafsir At-Qurtubi)
[57] ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻫُﻢ ﻣِﻦ ﺧَﺸﻴَﺔِ
ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﻣُﺸﻔِﻘﻮﻥَ
[57] নিশ্চয় যারা তাদের পালনকর্তার ভয়ে
সন্ত্রস্ত,
[57] Verily! those who live in awe for
fear of their Lord;
[58] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻫُﻢ ﺑِـٔﺎﻳٰﺖِ ﺭَﺑِّﻬِﻢ
ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[58] যারা তাদের পালনকর্তার কথায় বিশ্বাস
স্থাপন করে,
[58] And those who believe in the Ayât
(proofs, evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) of their Lord,
[59] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻫُﻢ ﺑِﺮَﺑِّﻬِﻢ ﻻ
ﻳُﺸﺮِﻛﻮﻥَ
[59] যারা তাদের পালনকর্তার সাথে কাউকে
শরীক করে না
[59] And those who join not anyone (in
worship) as partners with their Lord;
[60] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳُﺆﺗﻮﻥَ ﻣﺎ ﺀﺍﺗَﻮﺍ
ﻭَﻗُﻠﻮﺑُﻬُﻢ ﻭَﺟِﻠَﺔٌ ﺃَﻧَّﻬُﻢ ﺇِﻟﻰٰ
ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﺭٰﺟِﻌﻮﻥَ
[60] এবং যারা যা দান করবার, তা ভীত, কম্পিত
হৃদয়ে এ কারণে দান করে যে, তারা তাদের
পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন করবে,
[60] And those who give that (their
charity) which they give (and also do
other good deeds) with their hearts full
of fear (whether their alms and
charities, have been accepted or not),
because they are sure to return to their
Lord (for reckoning).
[61] ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻳُﺴٰﺮِﻋﻮﻥَ ﻓِﻰ
ﺍﻟﺨَﻴﺮٰﺕِ ﻭَﻫُﻢ ﻟَﻬﺎ ﺳٰﺒِﻘﻮﻥَ
[61] তারাই কল্যাণ দ্রুত অর্জন করে এবং তারা
তাতে অগ্রগামী।
[61] It is these who hasten in the good
deeds, and they are foremost in them
[e.g. offering the compulsory Salât
(prayers) in their (early) stated, fixed
times and so on].
[62] ﻭَﻻ ﻧُﻜَﻠِّﻒُ ﻧَﻔﺴًﺎ ﺇِﻟّﺎ
ﻭُﺳﻌَﻬﺎ ۖ ﻭَﻟَﺪَﻳﻨﺎ ﻛِﺘٰﺐٌ ﻳَﻨﻄِﻖُ
ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ۚ ﻭَﻫُﻢ ﻻ ﻳُﻈﻠَﻤﻮﻥَ
[62] আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত দায়িত্ব
অর্পন করি না। আমার এক কিতাব আছে, যা সত্য
ব্যক্ত করে এবং তাদের প্রতি জুলুম করা হবে
না।
[62] And We task not any person except
according to his capacity, and with Us is
a Record which speaks the truth, and
they will not be wronged.
[63] ﺑَﻞ ﻗُﻠﻮﺑُﻬُﻢ ﻓﻰ ﻏَﻤﺮَﺓٍ ﻣِﻦ
ﻫٰﺬﺍ ﻭَﻟَﻬُﻢ ﺃَﻋﻤٰﻞٌ ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ
ﺫٰﻟِﻚَ ﻫُﻢ ﻟَﻬﺎ ﻋٰﻤِﻠﻮﻥَ
[63] না, তাদের অন্তর এ বিষয়ে অজ্ঞানতায়
আচ্ছন্ন, এ ছাড়া তাদের আরও কাজ রয়েছে,
যা তারা করছে।
[63] Nay, but their hearts are covered
from (understanding) this (the Qur’ân),
and they have other (evil) deeds, besides,
which they are doing.
[64] ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ ﺃَﺧَﺬﻧﺎ ﻣُﺘﺮَﻓﻴﻬِﻢ
ﺑِﺎﻟﻌَﺬﺍﺏِ ﺇِﺫﺍ ﻫُﻢ ﻳَﺠـَٔﺮﻭﻥَ
[64] এমনকি, যখন আমি তাদের ঐশ্বর্যশালী
লোকদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করব,
তখনই তারা চীৎকার জুড়ে দেবে।
[64] Until, when We seize those of them
who lead a luxurious life with
punishment, behold! they make humble
invocation with a loud voice.
[65] ﻻ ﺗَﺠـَٔﺮُﻭﺍ ﺍﻟﻴَﻮﻡَ ۖ ﺇِﻧَّﻜُﻢ
ﻣِﻨّﺎ ﻻ ﺗُﻨﺼَﺮﻭﻥَ
[65] অদ্য চীৎকার করো না। তোমরা আমার
কাছ থেকে নিস্কৃতি পাবে না।
[65] Invoke not loudly this day!
Certainly, you shall not be helped by Us.
[66] ﻗَﺪ ﻛﺎﻧَﺖ ﺀﺍﻳٰﺘﻰ ﺗُﺘﻠﻰٰ
ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﻓَﻜُﻨﺘُﻢ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﻋﻘٰﺒِﻜُﻢ
ﺗَﻨﻜِﺼﻮﻥَ
[66] তোমাদেরকে আমার আয়াতসমূহ
শোনানো হত, তখন তোমরা উল্টো পায়ে
সরে পড়তে।
[66] Indeed My Verses used to be recited
to you, but you used to turn back on your
heels (denying them, and refusing with
hatred to listen to them).
[67] ﻣُﺴﺘَﻜﺒِﺮﻳﻦَ ﺑِﻪِ ﺳٰﻤِﺮًﺍ
ﺗَﻬﺠُﺮﻭﻥَ
[67] অহংকার করে এ বিষয়ে অর্থহীন গল্প-
গুজব করে যেতে।
[67] In pride (they Quraish pagans and
polytheists of Makkah used to feel proud
that they are the dwellers of Makkah
sanctuary Haram), talking evil about it
(the Qur’ân) by night.
[68] ﺃَﻓَﻠَﻢ ﻳَﺪَّﺑَّﺮُﻭﺍ ﺍﻟﻘَﻮﻝَ ﺃَﻡ
ﺟﺎﺀَﻫُﻢ ﻣﺎ ﻟَﻢ ﻳَﺄﺕِ ﺀﺍﺑﺎﺀَﻫُﻢُ
ﺍﻷَﻭَّﻟﻴﻦَ
[68] অতএব তারা কি এই কালাম সম্পêেক চিন্তা-
ভাবনা করে না? না তাদের কাছে এমন কিছু
এসেছে, যা তাদের পিতৃপুরুষদের কাছে
আসেনি?
[68] Have they not pondered over the
Word (of Allâh, i.e. what is sent down to
the Prophet SAW), or has there come to
them what had not come to their fathers
of old?
[69] ﺃَﻡ ﻟَﻢ ﻳَﻌﺮِﻓﻮﺍ ﺭَﺳﻮﻟَﻬُﻢ
ﻓَﻬُﻢ ﻟَﻪُ ﻣُﻨﻜِﺮﻭﻥَ
[69] না তারা তাদের রসূলকে চেনে না,
ফলে তারা তাঁকে অস্বীকার করে?
[69] Or is it that they did not recognize
their Messenger (Muhammad SAW) so
they deny him?
[70] ﺃَﻡ ﻳَﻘﻮﻟﻮﻥَ ﺑِﻪِ ﺟِﻨَّﺔٌ ۚ ﺑَﻞ
ﺟﺎﺀَﻫُﻢ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ﻭَﺃَﻛﺜَﺮُﻫُﻢ
ﻟِﻠﺤَﻖِّ ﻛٰﺮِﻫﻮﻥَ
[70] না তারা বলে যে, তিনি পাগল ? বরং তিনি
তাদের কাছে সত্য নিয়ে আগমন করেছেন
এবং তাদের অধিকাংশ সত্যকে অপছন্দ করে।
[70] Or say they: “There is madness in
him?” Nay, but he brought them the truth
[i.e. “Tauhîd: Worshipping Allâh Alone
in all aspects The Qur’ân and the
religion of Islâm,”] but most of them (the
disbelievers) are averse to the truth.
[71] ﻭَﻟَﻮِ ﺍﺗَّﺒَﻊَ ﺍﻟﺤَﻖُّ ﺃَﻫﻮﺍﺀَﻫُﻢ
ﻟَﻔَﺴَﺪَﺕِ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕُ ﻭَﺍﻷَﺭﺽُ
ﻭَﻣَﻦ ﻓﻴﻬِﻦَّ ۚ ﺑَﻞ ﺃَﺗَﻴﻨٰﻬُﻢ
ﺑِﺬِﻛﺮِﻫِﻢ ﻓَﻬُﻢ ﻋَﻦ ﺫِﻛﺮِﻫِﻢ
ﻣُﻌﺮِﺿﻮﻥَ
[71] সত্য যদি তাদের কাছে কামনা-বাসনার
অনুসারী হত, তবে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল
এবং এগুলোর মধ্যবর্তêী সবকিছুই বিশৃঙ্খল
হয়ে পড়ত। বরং আমি তাদেরকে দান করেছি
উপদেশ, কিন্তু তারা তাদের উপদেশ অনুধাবন
করে না।
[71] And if the truth had been in
accordance with their desires, verily, the
heavens and the earth, and whosoever is
therein would have been corrupted! Nay,
We have brought them their reminder,
but they turn away from their reminder.
[72] ﺃَﻡ ﺗَﺴـَٔﻠُﻬُﻢ ﺧَﺮﺟًﺎ ﻓَﺨَﺮﺍﺝُ
ﺭَﺑِّﻚَ ﺧَﻴﺮٌ ۖ ﻭَﻫُﻮَ ﺧَﻴﺮُ
ﺍﻟﺮّٰﺯِﻗﻴﻦَ
[72] না আপনি তাদের কাছে কোন প্রতিদান
চান? আপনার পালনকর্তার প্রতিদান উত্তম এবং
তিনিই রিযিকদাতা।
[72] Or is it that you (O Muhammad
SAW) ask them for some wages? But the
recompense of your Lord is better, and
He is the Best of those who give
sustenance.
[73] ﻭَﺇِﻧَّﻚَ ﻟَﺘَﺪﻋﻮﻫُﻢ ﺇِﻟﻰٰ
ﺻِﺮٰﻁٍ ﻣُﺴﺘَﻘﻴﻢٍ
[73] আপনি তো তাদেরকে সোজা পথে
দাওয়াত দিচ্ছেন;
[73] And certainly, you (O Muhammad
SAW) call them to the Straight Path (true
religion – Islâmic Monotheism).
[74] ﻭَﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻻ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
ﺑِﺎﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﻋَﻦِ ﺍﻟﺼِّﺮٰﻁِ
ﻟَﻨٰﻜِﺒﻮﻥَ
[74] আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারা
সোজা পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে।
[74] And verily, those who believe not in
the Hereafter are indeed deviating far
astray from the Path (true religion –
Islâmic Monotheism).
[75] ۞ ﻭَﻟَﻮ ﺭَﺣِﻤﻨٰﻬُﻢ ﻭَﻛَﺸَﻔﻨﺎ
ﻣﺎ ﺑِﻬِﻢ ﻣِﻦ ﺿُﺮٍّ ﻟَﻠَﺠّﻮﺍ ﻓﻰ
ﻃُﻐﻴٰﻨِﻬِﻢ ﻳَﻌﻤَﻬﻮﻥَ
[75] যদি আমি তাদের প্রতি দয়া করি এবং তাদের
কষ্ট দূর করে দেই, তবুও তারা তাদের
অবাধ্যতায় দিশেহারা হয়ে লেগে থাকবে।
[75] And though We had mercy on them
and removed the distress which is on
them, still they would obstinately persist
in their transgression, wandering
blindly.
[76] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺃَﺧَﺬﻧٰﻬُﻢ ﺑِﺎﻟﻌَﺬﺍﺏِ
ﻓَﻤَﺎ ﺍﺳﺘَﻜﺎﻧﻮﺍ ﻟِﺮَﺑِّﻬِﻢ ﻭَﻣﺎ
ﻳَﺘَﻀَﺮَّﻋﻮﻥَ
[76] আমি তাদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও
করেছিলাম, কিন্তু তারা তাদের পালনকর্তার
সামনে নত হল না এবং কাকুতি-মিনুতিও করল না।
[76] And indeed We seized them with
punishment, but they humbled not
themselves to their Lord, nor did they
invoke (Allâh) with submission to Him.
[77] ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ ﻓَﺘَﺤﻨﺎ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ
ﺑﺎﺑًﺎ ﺫﺍ ﻋَﺬﺍﺏٍ ﺷَﺪﻳﺪٍ ﺇِﺫﺍ ﻫُﻢ
ﻓﻴﻪِ ﻣُﺒﻠِﺴﻮﻥَ
[77] অবশেষে যখন আমি তাদের জন্য কঠিন
শাস্তির দ্বার খুলে দেব, তখন তাতে তাদের
আশা ভঙ্গ হবে।
[77] Until, when We open for them the
gate of severe punishment, then lo! they
will be plunged into destruction with
deep regrets, sorrows and in despair.
[78] ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺃَﻧﺸَﺄَ ﻟَﻜُﻢُ
ﺍﻟﺴَّﻤﻊَ ﻭَﺍﻷَﺑﺼٰﺮَ ﻭَﺍﻷَﻓـِٔﺪَﺓَ ۚ
ﻗَﻠﻴﻠًﺎ ﻣﺎ ﺗَﺸﻜُﺮﻭﻥَ
[78] তিনি তোমাদের কান, চোখ ও অন্তঃকরণ
সৃষ্টি করেছেন; তোমরা খুবই অল্প
কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে থাক।
[78] It is He, Who has created for you
(the sense of) hearing (ears), eyes (sight),
and hearts (understanding). Little thanks
you give.
[79] ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺫَﺭَﺃَﻛُﻢ ﻓِﻰ
ﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﺇِﻟَﻴﻪِ ﺗُﺤﺸَﺮﻭﻥَ
[79] তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে
ছড়িয়ে রেখেছেন এবং তারই দিকে
তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।
[79] And it is He Who has created you on
the earth, and to Him you shall be
gathered back.
[80] ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻳُﺤﻲۦ
ﻭَﻳُﻤﻴﺖُ ﻭَﻟَﻪُ ﺍﺧﺘِﻠٰﻒُ ﺍﻟَّﻴﻞِ
ﻭَﺍﻟﻨَّﻬﺎﺭِ ۚ ﺃَﻓَﻼ ﺗَﻌﻘِﻠﻮﻥَ
[80] তিনিই প্রাণ দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান এবং
দিবা-রাত্রির বিবর্তন তাঁরই কাজ, তবু ও কি তোমরা
বুঝবে না?
[80] And it is He Who gives life and
causes death, and His is the alternation
of night and day. Will you not then
understand?
[81] ﺑَﻞ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻣِﺜﻞَ ﻣﺎ ﻗﺎﻝَ
ﺍﻷَﻭَّﻟﻮﻥَ
[81] বরং তারা বলে যেমন তাদের
পূর্ববর্তীরা বলত।
[81] Nay, but they say the like of what
the men of old said.
[82] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃَﺀِﺫﺍ ﻣِﺘﻨﺎ ﻭَﻛُﻨّﺎ
ﺗُﺮﺍﺑًﺎ ﻭَﻋِﻈٰﻤًﺎ ﺃَﺀِﻧّﺎ ﻟَﻤَﺒﻌﻮﺛﻮﻥَ
[82] তারা বলেঃ যখন আমরা মরে যাব এবং
মৃত্তিকা ও অস্থিতে পরিণত হব, তখনও কি আমরা
পুনরুত্থিত হব ?
[82] They said: “When we are dead and
have become dust and bones, shall we be
resurrected indeed?
[83] ﻟَﻘَﺪ ﻭُﻋِﺪﻧﺎ ﻧَﺤﻦُ
ﻭَﺀﺍﺑﺎﺅُﻧﺎ ﻫٰﺬﺍ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ ﺇِﻥ
ﻫٰﺬﺍ ﺇِﻟّﺎ ﺃَﺳٰﻄﻴﺮُ ﺍﻷَﻭَّﻟﻴﻦَ
[83] অতীতে আমাদেরকে এবং আমাদের
পিতৃপুরুষদেরকে এই ওয়াদাই দেয়া হয়েছে।
এটা তো পূর্ববতীদের কল্প-কথা বৈ কিছুই
নয়।
[83] “Verily, this we have been promised,
– we and our fathers before (us)! This is
only the tales of the ancients!”
[84] ﻗُﻞ ﻟِﻤَﻦِ ﺍﻷَﺭﺽُ ﻭَﻣَﻦ
ﻓﻴﻬﺎ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[84] বলুন পৃথিবী এবং পৃথিবীতে যারা
আছে, তারা কার? যদি তোমরা জান, তবে বল।
[84] Say: “Whose is the earth and
whosoever is therein? If you know!”
[85] ﺳَﻴَﻘﻮﻟﻮﻥَ ﻟِﻠَّﻪِ ۚ ﻗُﻞ ﺃَﻓَﻼ
ﺗَﺬَﻛَّﺮﻭﻥَ
[85] এখন তারা বলবেঃ সবই আল্লাহর। বলুন,
তবুও কি তোমরা চিন্তা কর না?
[85] They will say: “It is Allâh’s!” Say:
“Will you not then remember?”
[86] ﻗُﻞ ﻣَﻦ ﺭَﺏُّ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﺍﻟﺴَّﺒﻊِ ﻭَﺭَﺏُّ ﺍﻟﻌَﺮﺵِ ﺍﻟﻌَﻈﻴﻢِ
[86] বলুনঃ সপ্তাকাশ ও মহা-আরশের মালিক
কে?
[86] Say: “Who is (the) Lord of the seven
heavens, and (the) Lord of the Great
Throne?”
[87] ﺳَﻴَﻘﻮﻟﻮﻥَ ﻟِﻠَّﻪِ ۚ ﻗُﻞ ﺃَﻓَﻼ
ﺗَﺘَّﻘﻮﻥَ
[87] এখন তারা বলবেঃ আল্লাহ। বলুন, তবুও কি
তোমরা ভয় করবে না?
[87] They will say: “Allâh.” Say: “Will you
not then fear Allâh (believe in His
Oneness, obey Him, believe in the
Resurrection and Recompense for every
good or bad deed)?”
[88] ﻗُﻞ ﻣَﻦ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻣَﻠَﻜﻮﺕُ ﻛُﻞِّ
ﺷَﻲﺀٍ ﻭَﻫُﻮَ ﻳُﺠﻴﺮُ ﻭَﻻ ﻳُﺠﺎﺭُ
ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[88] বলুনঃ তোমাদের জানা থাকলে বল, কার
হাতে সব বস্তুর কতৃর্êত্ব, যিনি রক্ষা করেন
এবং যার কবল থেকে কেউ রক্ষা করতে
পারে না ?
[88] Say “In Whose Hand is the
sovereignty of everything (i.e. treasures
of each and everything)? And He
protects (all), while against Whom there
is no protector, (i.e. if Allâh saves
anyone none can punish or harm him,
and if Allâh punishes or harms anyone
none can save him), if you
know?” [Tafsir Al-Qurtubî]
[89] ﺳَﻴَﻘﻮﻟﻮﻥَ ﻟِﻠَّﻪِ ۚ ﻗُﻞ ﻓَﺄَﻧّﻰٰ
ﺗُﺴﺤَﺮﻭﻥَ
[89] এখন তারা বলবেঃ আল্লাহর। বলুনঃ তাহলে
কোথা থেকে তোমাদেরকে জাদু করা
হচ্ছে?
[89] They will say: “(All that belongs) to
Allâh.” Say: “How then are you deceived
and turn away from the truth?”
[90] ﺑَﻞ ﺃَﺗَﻴﻨٰﻬُﻢ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ﻭَﺇِﻧَّﻬُﻢ
ﻟَﻜٰﺬِﺑﻮﻥَ
[90] কিছুই নয়, আমি তাদের কাছে সত্য
পৌঁছিয়েছি, আর তারা তো মিথ্যাবাদী।
[90] Nay, but We have brought them the
truth (Islâmic Monotheism), and verily,
they (disbelievers) are liars.
[91] ﻣَﺎ ﺍﺗَّﺨَﺬَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣِﻦ ﻭَﻟَﺪٍ ﻭَﻣﺎ
ﻛﺎﻥَ ﻣَﻌَﻪُ ﻣِﻦ ﺇِﻟٰﻪٍ ۚ ﺇِﺫًﺍ ﻟَﺬَﻫَﺐَ
ﻛُﻞُّ ﺇِﻟٰﻪٍ ﺑِﻤﺎ ﺧَﻠَﻖَ ﻭَﻟَﻌَﻼ
ﺑَﻌﻀُﻬُﻢ ﻋَﻠﻰٰ ﺑَﻌﺾٍ ۚ ﺳُﺒﺤٰﻦَ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﻤّﺎ ﻳَﺼِﻔﻮﻥَ
[91] আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করেননি এবং
তাঁর সাথে কোন মাবুদ নেই। থাকলে
প্রত্যেক মাবুদ নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে চলে
যেত এবং একজন অন্যজনের উপর প্রবল
হয়ে যেত। তারা যা বলে, তা থেকে আল্লাহ
পবিত্র।
[91] No son (or offspring or children) did
Allâh beget, nor is there any ilâh (god)
along with Him; (if there had been many
gods), then, each god would have taken
away what he had created, and some
would have tried to overcome others!
Glorified is Allâh above all that they
attribute to Him!
[92] ﻋٰﻠِﻢِ ﺍﻟﻐَﻴﺐِ ﻭَﺍﻟﺸَّﻬٰﺪَﺓِ
ﻓَﺘَﻌٰﻠﻰٰ ﻋَﻤّﺎ ﻳُﺸﺮِﻛﻮﻥَ
[92] তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী। তারা
শরীক করে, তিনি তা থেকে উর্ধ্বে।
[92] All-Knower of the unseen and the
seen! Exalted is He over all that they
associate as partners to Him!
[93] ﻗُﻞ ﺭَﺏِّ ﺇِﻣّﺎ ﺗُﺮِﻳَﻨّﻰ ﻣﺎ
ﻳﻮﻋَﺪﻭﻥَ
[93] বলুনঃ হে আমার পালনকর্তা! যে বিষয়ে
তাদেরকে ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা যদি
আমাকে দেখান,
[93] Say (O Muhammad SAW): ” My
Lord! If You would show me that with
which they are threatened (torment),
[94] ﺭَﺏِّ ﻓَﻼ ﺗَﺠﻌَﻠﻨﻰ ﻓِﻰ
ﺍﻟﻘَﻮﻡِ ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
[94] হে আমার পালনকর্তা! তবে আপনি
আমাকে গোনাহগার সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্ত
করবেন না।
[94] “My Lord! Then (save me from Your
Punishment), and put me not amongst
the people who are the Zâlimûn
(polytheists and wrong-doers).”
[95] ﻭَﺇِﻧّﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﻥ ﻧُﺮِﻳَﻚَ ﻣﺎ
ﻧَﻌِﺪُﻫُﻢ ﻟَﻘٰﺪِﺭﻭﻥَ
[95] আমি তাদেরকে যে বিষয়ের ওয়াদা
দিয়েছি, তা আপনাকে দেখাতে অবশ্যই
সক্ষম।
[95] And indeed We are Able to show
you (O Muhammad SAW) that with which
We have threatened them.
[96] ﺍﺩﻓَﻊ ﺑِﺎﻟَّﺘﻰ ﻫِﻰَ ﺃَﺣﺴَﻦُ
ﺍﻟﺴَّﻴِّﺌَﺔَ ۚ ﻧَﺤﻦُ ﺃَﻋﻠَﻢُ ﺑِﻤﺎ
ﻳَﺼِﻔﻮﻥَ
[96] মন্দের জওয়াবে তাই বলুন, যা উত্তম।
তারা যা বলে, আমি সে বিষয়ে সবিশেষ
অবগত।
[96] Repel evil with that which is better.
We are Best-Acquainted with the things
they utter.
[97] ﻭَﻗُﻞ ﺭَﺏِّ ﺃَﻋﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦ
ﻫَﻤَﺰٰﺕِ ﺍﻟﺸَّﻴٰﻄﻴﻦِ
[97] বলুনঃ হে আমার পালনকর্তা! আমি
শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার আশ্রয়
প্রার্থনা করি,
[97] And say: “My Lord! I seek refuge
with You from the whisperings
(suggestions) of the Shayâtin (devils).
[98] ﻭَﺃَﻋﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﺭَﺏِّ ﺃَﻥ
ﻳَﺤﻀُﺮﻭﻥِ
[98] এবং হে আমার পালনকর্তা! আমার নিকট
তাদের উপস্থিতি থেকে আপনার আশ্রয়
প্রার্থনা করি।
[98] “And I seek refuge with You, My
Lord! lest they (should come near) me.”
[99] ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ ﺟﺎﺀَ ﺃَﺣَﺪَﻫُﻢُ
ﺍﻟﻤَﻮﺕُ ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﺍﺭﺟِﻌﻮﻥِ
[99] যখন তাদের কারও কাছে মৃত্যু আসে,
তখন সে বলেঃ হে আমার পালণকর্তা!
আমাকে পুনরায় (দুনিয়াতে ) প্রেরণ করুন।
[99] Until, when death comes to one of
them (those who join partners with
Allâh), he says: “My Lord! Send me back,
[100] ﻟَﻌَﻠّﻰ ﺃَﻋﻤَﻞُ ﺻٰﻠِﺤًﺎ ﻓﻴﻤﺎ
ﺗَﺮَﻛﺖُ ۚ ﻛَﻠّﺎ ۚ ﺇِﻧَّﻬﺎ ﻛَﻠِﻤَﺔٌ ﻫُﻮَ
ﻗﺎﺋِﻠُﻬﺎ ۖ ﻭَﻣِﻦ ﻭَﺭﺍﺋِﻬِﻢ ﺑَﺮﺯَﺥٌ
ﺇِﻟﻰٰ ﻳَﻮﻡِ ﻳُﺒﻌَﺜﻮﻥَ
[100] যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি, যা আমি
করিনি। কখনই নয়, এ তো তার একটি কথার কথা
মাত্র। তাদের সামনে পর্দা আছে পুনরুত্থান
দিবস পর্যন্ত।
[100] “So that I may do good in that
which I have left behind!” No! It is but a
word that he speaks, and behind them is
Barzakh (a barrier) until the Day when
they will be resurrected.
[101] ﻓَﺈِﺫﺍ ﻧُﻔِﺦَ ﻓِﻰ ﺍﻟﺼّﻮﺭِ ﻓَﻼ
ﺃَﻧﺴﺎﺏَ ﺑَﻴﻨَﻬُﻢ ﻳَﻮﻣَﺌِﺬٍ ﻭَﻻ
ﻳَﺘَﺴﺎﺀَﻟﻮﻥَ
[101] অতঃপর যখন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে,
সেদিন তাদের পারস্পরিক আত্নীয়তার বন্ধন
থাকবে না এবং একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ
করবে না।
[101] Then, when the Trumpet is blown,
there will be no kinship among them
that Day, nor will they ask of one
another.
[102] ﻓَﻤَﻦ ﺛَﻘُﻠَﺖ ﻣَﻮٰﺯﻳﻨُﻪُ
ﻓَﺄُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﺍﻟﻤُﻔﻠِﺤﻮﻥَ
[102] যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে
সফলকাম,
[102] Then, those whose scales (of good
deeds) are heavy, – these, they are the
successful.
[103] ﻭَﻣَﻦ ﺧَﻔَّﺖ ﻣَﻮٰﺯﻳﻨُﻪُ
ﻓَﺄُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺧَﺴِﺮﻭﺍ
ﺃَﻧﻔُﺴَﻬُﻢ ﻓﻰ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﺧٰﻠِﺪﻭﻥَ
[103] এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে তারাই
নিজেদের ক্ষতিসাধন করেছে, তারা
দোযখেই চিরকাল বসবাস করবে।
[103] And those whose scales (of good
deeds) are light, they are those who lose
their ownselves, in Hell will they abide.
[104] ﺗَﻠﻔَﺢُ ﻭُﺟﻮﻫَﻬُﻢُ ﺍﻟﻨّﺎﺭُ
ﻭَﻫُﻢ ﻓﻴﻬﺎ ﻛٰﻠِﺤﻮﻥَ
[104] আগুন তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে
এবং তারা তাতে বীভৎস আকার ধারন করবে।
[104] The Fire will burn their faces, and
therein they will grin, with displaced lips
(disfigured).
[105] ﺃَﻟَﻢ ﺗَﻜُﻦ ﺀﺍﻳٰﺘﻰ ﺗُﺘﻠﻰٰ
ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﻓَﻜُﻨﺘُﻢ ﺑِﻬﺎ ﺗُﻜَﺬِّﺑﻮﻥَ
[105] তোমাদের সামনে কি আমার আয়াত সমূহ
পঠিত হত না? তোমরা তো সেগুলোকে মিথ্যা
বলতে।
[105] “Were not My Verses (this Qur’ân)
recited to you, and then you used to
deny them?”
[106] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺭَﺑَّﻨﺎ ﻏَﻠَﺒَﺖ ﻋَﻠَﻴﻨﺎ
ﺷِﻘﻮَﺗُﻨﺎ ﻭَﻛُﻨّﺎ ﻗَﻮﻣًﺎ ﺿﺎﻟّﻴﻦَ
[106] তারা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা,
আমরা দূর্ভাগ্যের হাতে পরাভূত ছিলাম এবং
আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত জাতি।
[106] They will say: “Our Lord! Our
wretchedness overcame us, and we were
(an) erring people.
[107] ﺭَﺑَّﻨﺎ ﺃَﺧﺮِﺟﻨﺎ ﻣِﻨﻬﺎ ﻓَﺈِﻥ
ﻋُﺪﻧﺎ ﻓَﺈِﻧّﺎ ﻇٰﻠِﻤﻮﻥَ
[107] হে আমাদের পালনকর্তা! এ থেকে
আমাদেরকে উদ্ধার কর; আমরা যদি পুনরায় তা
করি, তবে আমরা গোনাহগার হব।
[107] “Our Lord! Bring us out of this; if
ever we return (to evil), then indeed we
shall be Zâlimûn: (polytheists,
oppressors, unjust, and wrong-doers).”
[108] ﻗﺎﻝَ ﺍﺧﺴَـٔﻮﺍ ﻓﻴﻬﺎ ﻭَﻻ
ﺗُﻜَﻠِّﻤﻮﻥِ
[108] আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা ধিকৃত অবস্থায়
এখানেই পড়ে থাক এবং আমার সাথে কোন
কথা বলো না।
[108] He (Allâh) will say: “Remain you in
it with ignominy! And speak you not to
Me!”
[109] ﺇِﻧَّﻪُ ﻛﺎﻥَ ﻓَﺮﻳﻖٌ ﻣِﻦ
ﻋِﺒﺎﺩﻯ ﻳَﻘﻮﻟﻮﻥَ ﺭَﺑَّﻨﺎ ﺀﺍﻣَﻨّﺎ
ﻓَﺎﻏﻔِﺮ ﻟَﻨﺎ ﻭَﺍﺭﺣَﻤﻨﺎ ﻭَﺃَﻧﺖَ
ﺧَﻴﺮُ ﺍﻟﺮّٰﺣِﻤﻴﻦَ
[109] আমার বান্দাদের একদলে বলতঃ হে
আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপন
করেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর
ও আমাদের প্রতি রহম কর। তুমি তো
দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।
[109] Verily! there was a party of My
slaves, who used to say: “Our Lord! We
believe, so forgive us, and have mercy on
us, for You are the Best of all who show
mercy!”
[110] ﻓَﺎﺗَّﺨَﺬﺗُﻤﻮﻫُﻢ ﺳِﺨﺮِﻳًّﺎ
ﺣَﺘّﻰٰ ﺃَﻧﺴَﻮﻛُﻢ ﺫِﻛﺮﻯ ﻭَﻛُﻨﺘُﻢ
ﻣِﻨﻬُﻢ ﺗَﻀﺤَﻜﻮﻥَ
[110] অতঃপর তোমরা তাদেরকে ঠাট্টার
পাত্ররূপে গ্রহণ করতে। এমনকি, তা
তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে
দিয়েছিল এবং তোমরা তাদেরকে দেখে
পরিহাস করতে।
[110] But you took them for a
laughingstock, so much so that they made
you forget My Remembrance while you
used to laugh at them!
[111] ﺇِﻧّﻰ ﺟَﺰَﻳﺘُﻬُﻢُ ﺍﻟﻴَﻮﻡَ ﺑِﻤﺎ
ﺻَﺒَﺮﻭﺍ ﺃَﻧَّﻬُﻢ ﻫُﻢُ ﺍﻟﻔﺎﺋِﺰﻭﻥَ
[111] আজ আমি তাদেরকে তাদের সবরের
কারণে এমন প্রতিদান দিয়েছি যে, তারাই
সফলকাম।
[111] Verily! I have rewarded them this
Day for their patience, they are indeed
the ones that are successful.
[112] ﻗٰﻞَ ﻛَﻢ ﻟَﺒِﺜﺘُﻢ ﻓِﻰ
ﺍﻷَﺭﺽِ ﻋَﺪَﺩَ ﺳِﻨﻴﻦَ
[112] আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা পৃথিবীতে
কতদিন অবস্থান করলে বছরের গণনায়?
[112] He (Allâh) will say: “What number
of years did you stay on earth?”
[113] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻟَﺒِﺜﻨﺎ ﻳَﻮﻣًﺎ ﺃَﻭ
ﺑَﻌﺾَ ﻳَﻮﻡٍ ﻓَﺴـَٔﻞِ ﺍﻟﻌﺎﺩّﻳﻦَ
[113] তারা বলবে, আমরা একদিন অথবা দিনের
কিছু অংশ অবস্থান করেছি। অতএব আপনি
গণনাকারীদেরকে জিজ্ঞেস করুন।
[113] They will say: “We stayed a day or
part of a day. Ask of those who keep
account.”
[114] ﻗٰﻞَ ﺇِﻥ ﻟَﺒِﺜﺘُﻢ ﺇِﻟّﺎ ﻗَﻠﻴﻠًﺎ ۖ
ﻟَﻮ ﺃَﻧَّﻜُﻢ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[114] আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা তাতে
অল্পদিনই অবস্থান করেছ, যদি তোমরা
জানতে?
[114] He (Allâh) will say: “You stayed not
but a little, if you had only known!
[115] ﺃَﻓَﺤَﺴِﺒﺘُﻢ ﺃَﻧَّﻤﺎ ﺧَﻠَﻘﻨٰﻜُﻢ
ﻋَﺒَﺜًﺎ ﻭَﺃَﻧَّﻜُﻢ ﺇِﻟَﻴﻨﺎ ﻻ ﺗُﺮﺟَﻌﻮﻥَ
[115] তোমরা কি ধারণা কর যে, আমি
তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং
তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না?
[115] “Did you think that We had created
you in play (without any purpose), and
that you would not be brought back to
Us?”
[116] ﻓَﺘَﻌٰﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟﻤَﻠِﻚُ ﺍﻟﺤَﻖُّ ۖ
ﻻ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻟّﺎ ﻫُﻮَ ﺭَﺏُّ ﺍﻟﻌَﺮﺵِ
ﺍﻟﻜَﺮﻳﻢِ
[116] অতএব শীর্ষ মহিমায় আল্লাহ, তিনি
সত্যিকার মালিক, তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ
নেই। তিনি সম্মানিত আরশের মালিক।
[116] So Exalted is Allâh, the True King,
Lâ ilâha illa Huwa (none has the right to
be worshipped but He), the Lord of the
Supreme Throne!
[117] ﻭَﻣَﻦ ﻳَﺪﻉُ ﻣَﻊَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻟٰﻬًﺎ
ﺀﺍﺧَﺮَ ﻻ ﺑُﺮﻫٰﻦَ ﻟَﻪُ ﺑِﻪِ ﻓَﺈِﻧَّﻤﺎ
ﺣِﺴﺎﺑُﻪُ ﻋِﻨﺪَ ﺭَﺑِّﻪِ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﻻ ﻳُﻔﻠِﺢُ
ﺍﻟﻜٰﻔِﺮﻭﻥَ
[117] যে কেউ আল্লাহর সাথে অন্য
উপাস্যকে ডাকে, তার কাছে যার সনদ নেই,
তার হিসাব তার পালণকর্তার কাছে আছে। নিশ্চয়
কাফেররা সফলকাম হবে না।
[117] And whoever invokes (or
worships), besides Allâh, any other ilâh
(god), of whom he has no proof, then his
reckoning is only with his Lord. Surely!
Al-Kâfirûn (the disbelievers in Allâh and
in the Oneness of Allâh, polytheists,
pagans, idolaters) will not be successful
[118] ﻭَﻗُﻞ ﺭَﺏِّ ﺍﻏﻔِﺮ ﻭَﺍﺭﺣَﻢ
ﻭَﺃَﻧﺖَ ﺧَﻴﺮُ ﺍﻟﺮّٰﺣِﻤﻴﻦَ
[118] বলূনঃ হে আমার পালনকর্তা, ক্ষমা করুন ও
রহম করুন। রহমকারীদের মধ্যে আপনি
শ্রেষ্ট রহমকারী।
[118] And say (O Muhammad SAW): “My
Lord! Forgive and have mercy, for You
are the Best of those who show mercy!”
*Surah Al Mu’minun Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, 2. যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র; 3. যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত, 4. যারা যাকাত দান করে থাকে 5. এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। 6. তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না। 7. অতঃপর কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা সীমালংঘনকারী হবে। 8. এবং যারা আমানত ও অঙ্গীকার সম্পর্কে হুশিয়ার থাকে। 9. এবং যারা তাদের নামাযসমূহের খবর রাখে। 10. তারাই উত্তরাধিকার লাভ করবে। 11. তারা শীতল ছায়াময় উদ্যানের উত্তরাধিকার লাভ করবে। তারা তাতে চিরকাল থাকবে। 12. আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি। 13. অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। 14. এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি, এরপর সেই মাংসপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি, অবশেষে তাকে নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছি। নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কত কল্যাণময়। 15. এরপর তোমরা মৃত্যুবরণ করবে 16. অতঃপর কেয়ামতের দিন তোমরা পুনরুত্থিত হবে। 17. আমি তোমাদের উপর সুপ্তপথ সৃষ্টি করেছি এবং আমি সৃষ্টি সম্বন্ধে অনবধান নই। 18. আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে থাকি পরিমাণ মত অতঃপর আমি জমিনে সংরক্ষণ করি এবং আমি তা অপসারণও করতে সক্ষম। 19. অতঃপর আমি তা দ্বারা তোমাদের জন্যে খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান সৃষ্টি করেছি। তোমাদের জন্যে এতে প্রচুর ফল আছে এবং তোমরা তা থেকে আহার করে থাক। 20. এবং ঐ বৃক্ষ সৃষ্টি করেছি, যা সিনাই পর্বতে জন্মায় এবং আহারকারীদের জন্যে তৈল ও ব্যঞ্জন উৎপন্ন করে। 21. এবং তোমাদের জন্যে চতুস্পদ জন্তু সমূহের মধ্যে চিন্তা করার বিষয় রয়েছে। আমি তোমাদেরকে তাদের উদরস্থিত বস্তু থেকে পান করাই এবং তোমাদের জন্যে তাদের মধ্যে প্রচুর উপকারিতা আছে। তোমরা তাদের কতককে ভক্ষণ কর। 22. তাদের পিঠে ও জলযানে তোমরা আরোহণ করে চলাফেরা করে থাক। 23. আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছিলাম। সে বলেছিলঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর বন্দেগী কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন মাবুদ নেই। তোমরা কি ভয় কর না। 24. তখন তার সম্প্রদায়ের কাফের-প্রধানরা বলেছিলঃ এ তো তোমাদের মতই একজন মানুষ বৈ নয়। সে তোমাদের উপর নেতৃত্ব করতে চায়। আল্লাহ ইচ্ছা করলে ফেরেশতাই নাযিল করতেন। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে এরূপ কথা শুনিনি। 25. সে তো এক উম্মাদ ব্যক্তি বৈ নয়। সুতরাং কিছুকাল তার ব্যাপারে অপেক্ষা কর। 26. নূহ বলেছিলঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে সাহায্য কর; কেননা, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে। 27. অতঃপর আমি তার কাছে আদেশ প্রেরণ করলাম যে, তুমি আমার দৃষ্টির সামনে এবং আমার নির্দেশে নৌকা তৈরী কর। এরপর যখন আমার আদেশ আসে এবং চুল্লী প্লাবিত হয়, তখন নৌকায় তুলে নাও, প্রত্যেক জীবের এক এক জোড়া এবং তোমার পরিবারবর্গকে, তাদের মধ্যে যাদের বিপক্ষে পূর্বে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাদের ছাড়া। এবং তুমি জালেমদের সম্পর্কে আমাকে কিছু বলো না। নিশ্চয় তারা নিমজ্জত হবে। 28. যখন তুমি ও তোমার সঙ্গীরা নৌকায় আরোহণ করবে, তখন বলঃ আল্লাহর শোকর, যিনি আমাদেরকে জালেম সম্প্রদায়ের কবল থেকে উদ্ধার করেছেন। 29. আরও বলঃ পালনকর্তা, আমাকে কল্যাণকর ভাবে নামিয়ে দাও, তুমি শ্রেষ্ঠ অবতারণকারী। 30. এতে নিদর্শনাবলী রয়েছে এবং আমি পরীক্ষাকারী। 31. অতঃপর অন্য এক সম্প্রদায় আমি তার স্থলাভিষিক্ত করেছিলাম। 32. এবং তাদেরই একজনকে তাদের মধ্যে রসূলরূপে প্রেরণ করেছিলাম এই বলে যে, তোমরা আল্লাহর বন্দেগী কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন মাবুদ নেই। তবুও কি তোমরা ভয় করবে না? 33. তাঁর সম্প্রদায়ের প্রধানরা যারা কাফের ছিল, পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা বলত এবং যাদেরকে আমি পার্থিব জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দিয়েছিলাম, তারা বললঃ এতো আমাদের মতই একজন মানুষ বৈ নয়। তোমরা যা খাও, সেও তাই খায় এবং তোমরা যা পান কর, সেও তাই পান করে। 34. যদি তোমরা তোমাদের মতই একজন মানুষের আনুগত্য কর, তবে তোমরা নিশ্চিতরূপেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 35. সে কি তোমাদেরকে এই ওয়াদা দেয় যে, তোমরা মারা গেলে এবং মৃত্তিকা ও অস্থিতে পরিণত হলে তোমাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে? 36. তোমাদেরকে যে ওয়াদা দেয়া হচ্ছে, তা কোথায় হতে পারে? 37. আমাদের পার্থিবজীবনই একমাত্র জীবন। আমরা মরি ও বাঁচি এখানেই এবং আমারা পুনরুত্থিত হবো না। 38. সে তো এমন ব্যক্তি বৈ নয়, যে আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে এবং আমরা তাকে বিশ্বাস করি না। 39. তিনি বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে সাহায্য কর, কারণ তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে। 40. আল্লাহ বললেনঃ কিছু দিনের মধ্যে তারা সকাল বেলা অনুতপ্ত হবে। 41. অতঃপর সত্য সত্যই এক ভয়ংকর শব্দ তাদেরকে হতচকিত করল এবং আমি তাদেরকে বাত্যা-তাড়িত আবর্জনা সদৃশ করে দিলাম। অতঃপর ধ্বংস হোক পাপী সম্প্রদায়। 42. এরপর তাদের পরে আমি বহু সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছি। 43. কোন সম্প্রদায় তার নির্দিষ্ট কালের অগ্রে যেতে পারে না। এবং পশ্চাতেও থকাতে পারে না। 44. এরপর আমি একাদিক্রমে আমার রসূল প্রেরণ করেছি। যখনই কোন উম্মতের কাছে তাঁর রসূল আগমন করেছেন, তখনই তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছে। অতঃপর আমি তাদের একের পর এক ধ্বংস করেছি এবং তাদেরকে কাহিনীর বিষয়ে পরিণত করেছি। সুতরাং ধ্বংস হোক অবিশ্বাসীরা। 45. অতঃপর আমি মূসা ও হারুণকে প্রেরণ করেছিলাম আমার নিদর্শনাবলী ও সুস্পষ্ট সনদসহ, 46. ফেরআউন ও তার অমাত্যদের কাছে। অতঃপর তারা অহংকার করল এবং তারা উদ্ধত সম্প্রদায় ছিল। 47. তারা বললঃ আমরা কি আমাদের মতই এ দুই ব্যক্তিতে বিশ্বাস স্থাপন করব; অথচ তাদের সম্প্রদায় আমাদের দাস? 48. অতঃপর তারা উভয়কে মিথ্যাবাদী বলল। ফলে তারা ধ্বংস প্রাপ্ত হল। 49. আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম যাতে তারা সৎপথ পায়। 50. এবং আমি মরিয়ম তনয় ও তাঁর মাতাকে এক নিদর্শন দান করেছিলাম। এবং তাদেরকে এক অবস্থানযোগ্য স্বচ্ছ পানি বিশিষ্ট টিলায় আশ্রয় দিয়েছিলাম। 51. হে রসূলগণ, পবিত্র বস্তু আহার করুন এবং সৎকাজ করুন। আপনারা যা করেন সে বিষয়ে আমি পরিজ্ঞাত। 52. আপনাদের এই উম্মত সব তো একই ধর্মের অনুসারী এবং আমি আপনাদের পালনকর্তা; অতএব আমাকে ভয় করুন। 53. অতঃপর মানুষ তাদের বিষয়কে বহুধা বিভক্ত করে দিয়েছে। প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে আনন্দিত হচ্ছে। 54. অতএব তাদের কিছু কালের জন্যে তাদের অজ্ঞানতায় নিমজ্জত থাকতে দিন। 55. তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে যাচ্ছি। 56. তাতে করে তাদেরকে দ্রুত মঙ্গলের দিকে নিয়ে যাচ্ছি? বরং তারা বোঝে না। 57. নিশ্চয় যারা তাদের পালনকর্তার ভয়ে সন্ত্রস্ত, 58. যারা তাদের পালনকর্তার কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে, 59. যারা তাদের পালনকর্তার সাথে কাউকে শরীক করে না 60. এবং যারা যা দান করবার, তা ভীত, কম্পিত হৃদয়ে এ কারণে দান করে যে, তারা তাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন করবে, 61. তারাই কল্যাণ দ্রুত অর্জন করে এবং তারা তাতে অগ্রগামী। 62. আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত দায়িত্ব অর্পন করি না। আমার এক কিতাব আছে, যা সত্য ব্যক্ত করে এবং তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না। 63. না, তাদের অন্তর এ বিষয়ে অজ্ঞানতায় আচ্ছন্ন, এ ছাড়া তাদের আরও কাজ রয়েছে, যা তারা করছে। 64. এমনকি, যখন আমি তাদের ঐশ্বর্যশালী লোকদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করব, তখনই তারা চীৎকার জুড়ে দেবে। 65. অদ্য চীৎকার করো না। তোমরা আমার কাছ থেকে নিস্কৃতি পাবে না। 66. তোমাদেরকে আমার আয়াতসমূহ শোনানো হত, তখন তোমরা উল্টো পায়ে সরে পড়তে। 67. অহংকার করে এ বিষয়ে অর্থহীন গল্প-গুজব করে যেতে। 68. অতএব তারা কি এই কালাম সম্পক চিন্তা-ভাবনা করে না? না তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে, যা তাদের পিতৃপুরুষদের কাছে আসেনি? 69. না তারা তাদের রসূলকে চেনে না, ফলে তারা তাঁকে অস্বীকার করে? 70. না তারা বলে যে, তিনি পাগল ? বরং তিনি তাদের কাছে সত্য নিয়ে আগমন করেছেন এবং তাদের অধিকাংশ সত্যকে অপছন্দ করে। 71. সত্য যদি তাদের কাছে কামনা-বাসনার অনুসারী হত, তবে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং এগুলোর মধ্যবর্তী সবকিছুই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত। বরং আমি তাদেরকে দান করেছি উপদেশ, কিন্তু তারা তাদের উপদেশ অনুধাবন করে না। 72. না আপনি তাদের কাছে কোন প্রতিদান চান? আপনার পালনকর্তার প্রতিদান উত্তম এবং তিনিই রিযিকদাতা। 73. আপনি তো তাদেরকে সোজা পথে দাওয়াত দিচ্ছেন; 74. আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারা সোজা পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে। 75. যদি আমি তাদের প্রতি দয়া করি এবং তাদের কষ্ট দূর করে দেই, তবুও তারা তাদের অবাধ্যতায় দিশেহারা হয়ে লেগে থাকবে। 76. আমি তাদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম, কিন্তু তারা তাদের পালনকর্তার সামনে নত হল না এবং কাকুতি-মিনুতিও করল না। 77. অবশেষে যখন আমি তাদের জন্য কঠিন শাস্তির দ্বার খুলে দেব, তখন তাতে তাদের আশা ভঙ্গ হবে। 78. তিনি তোমাদের কান, চোখ ও অন্তঃকরণ সৃষ্টি করেছেন; তোমরা খুবই অল্প কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে থাক। 79. তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে রেখেছেন এবং তারই দিকে তোমাদেরকে সমবেত করা হবে। 80. তিনিই প্রাণ দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান এবং দিবা- রাত্রির বিবর্তন তাঁরই কাজ, তবু ও কি তোমরা বুঝবে না? 81. বরং তারা বলে যেমন তাদের পূর্ববর্তীরা বলত। 82. তারা বলেঃ যখন আমরা মরে যাব এবং মৃত্তিকা ও অস্থিতে পরিণত হব, তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব? 83. অতীতে আমাদেরকে এবং আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এই ওয়াদাই দেয়া হয়েছে। এটা তো পূর্ববতীদের কল্প-কথা বৈ কিছুই নয়। 84. বলুন পৃথিবী এবং পৃথিবীতে যারা আছে, তারা কার? যদি তোমরা জান, তবে বল। 85. এখন তারা বলবেঃ সবই আল্লাহর। বলুন, তবুও কি তোমরা চিন্তা কর না? 86. বলুনঃ সপ্তাকাশ ও মহা- আরশের মালিক কে? 87. এখন তারা বলবেঃ আল্লাহ। বলুন, তবুও কি তোমরা ভয় করবে না? 88. বলুনঃ তোমাদের জানা থাকলে বল, কার হাতে সব বস্তুর কতৃর্্ব, যিনি রক্ষা করেন এবং যার কবল থেকে কেউ রক্ষা করতে পারে না ? 89. এখন তারা বলবেঃ আল্লাহর। বলুনঃ তাহলে কোথা থেকে তোমাদেরকে জাদু করা হচ্ছে? 90. কিছুই নয়, আমি তাদের কাছে সত্য পৌঁছিয়েছি, আর তারা তো মিথ্যাবাদী। 91. আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে কোন মাবুদ নেই। থাকলে প্রত্যেক মাবুদ নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে চলে যেত এবং একজন অন্যজনের উপর প্রবল হয়ে যেত। তারা যা বলে, তা থেকে আল্লাহ পবিত্র। 92. তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী। তারা শরীক করে, তিনি তা থেকে উর্ধ্বে। 93. বলুনঃ হে আমার পালনকর্তা! যে বিষয়ে তাদেরকে ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা যদি আমাকে দেখান, 94. হে আমার পালনকর্তা! তবে আপনি আমাকে গোনাহগার সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্ত করবেন না। 95. আমি তাদেরকে যে বিষয়ের ওয়াদা দিয়েছি, তা আপনাকে দেখাতে অবশ্যই সক্ষম। 96. মন্দের জওয়াবে তাই বলুন, যা উত্তম। তারা যা বলে, আমি সে বিষয়ে সবিশেষ অবগত। 97. বলুনঃ হে আমার পালনকর্তা! আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি, 98. এবং হে আমার পালনকর্তা! আমার নিকট তাদের উপস্থিতি থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি। 99. যখন তাদের কারও কাছে মৃত্যু আসে, তখন সে বলেঃ হে আমার পালণকর্তা! আমাকে পুনরায় (দুনিয়াতে) প্রেরণ করুন। 100. যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি, যা আমি করিনি। কখনই নয়, এ তো তার একটি কথার কথা মাত্র। তাদের সামনে পর্দা আছে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত। 101. অতঃপর যখন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে, সেদিন তাদের পারস্পরিক আত্নীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে না। 102. যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে সফলকাম, 103. এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে তারাই নিজেদের ক্ষতিসাধন করেছে, তারা দোযখেই চিরকাল বসবাস করবে। 104. আগুন তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে এবং তারা তাতে বীভৎস আকার ধারন করবে। 105. তোমাদের সামনে কি আমার আয়াত সমূহ পঠিত হত না? তোমরা তো সেগুলোকে মিথ্যা বলতে। 106. তারা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা দূর্ভাগ্যের হাতে পরাভূত ছিলাম এবং আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত জাতি। 107. হে আমাদের পালনকর্তা! এ থেকে আমাদেরকে উদ্ধার কর; আমরা যদি পুনরায় তা করি, তবে আমরা গোনাহগার হব। 108. আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা ধিকৃত অবস্থায় এখানেই পড়ে থাক এবং আমার সাথে কোন কথা বলো না। 109. আমার বান্দাদের একদলে বলতঃ হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি রহম কর। তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। 110. অতঃপর তোমরা তাদেরকে ঠাট্টার পাত্ররূপে গ্রহণ করতে। এমনকি, তা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল এবং তোমরা তাদেরকে দেখে পরিহাস করতে। 111. আজ আমি তাদেরকে তাদের সবরের কারণে এমন প্রতিদান দিয়েছি যে, তারাই সফলকাম। 112. আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা পৃথিবীতে কতদিন অবস্থান করলে বছরের গণনায়? 113. তারা বলবে, আমরা একদিন অথবা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি। অতএব আপনি গণনাকারীদেরকে জিজ্ঞেস করুন। 114. আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা তাতে অল্পদিনই অবস্থান করেছ, যদি তোমরা জানতে? 115. তোমরা কি ধারণা কর যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না? 116. অতএব শীর্ষ মহিমায় আল্লাহ, তিনি সত্যিকার মালিক, তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি সম্মানিত আরশের মালিক। 117. যে কেউ আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে ডাকে, তার কাছে যার সনদ নেই, তার হিসাব তার পালণকর্তার কাছে আছে। নিশ্চয় কাফেররা সফলকাম হবে না। 118. বলূনঃ হে আমার পালনকর্তা, ক্ষমা করুন ও রহম করুন। রহমকারীদের মধ্যে আপনি শ্রেষ্ট রহমকারী। *********

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s