26. সুরাহ আল শু ‘আরা(01-227)


ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি
দয়ালু
[1] ﻃﺴﻢ
[1] ত্বা, সীন, মীম।
[1] Tâ¬Sîn¬Mîm. [These letters are one of
the miracles of the Qur’ân, and none but
Allâh (Alone) knows their meanings.]
[2] ﺗِﻠﻚَ ﺀﺍﻳٰﺖُ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ ﺍﻟﻤُﺒﻴﻦِ
[2] এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
[2] These are the Verses of the manifest
Book [this Qur’ân, which was promised
by Allâh in the Taurât (Torah) and the
Injeel (Gospel), makes things clear].
[3] ﻟَﻌَﻠَّﻚَ ﺑٰﺨِﻊٌ ﻧَﻔﺴَﻚَ ﺃَﻟّﺎ
ﻳَﻜﻮﻧﻮﺍ ﻣُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[3] তারা বিশ্বাস করে না বলে আপনি হয়তো
মর্মব্যথায় আত্নঘাতী হবেন।
[3] It may be that you (O Muhammad
SAW) are going to kill yourself with
grief, that they do not become believers
[in your Risalah (Messengership) i.e. in
your Message of Islâmic Monotheism].
[4] ﺇِﻥ ﻧَﺸَﺄ ﻧُﻨَﺰِّﻝ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﺀﺍﻳَﺔً ﻓَﻈَﻠَّﺖ ﺃَﻋﻨٰﻘُﻬُﻢ
ﻟَﻬﺎ ﺧٰﻀِﻌﻴﻦَ
[4] আমি যদি ইচ্ছা করি, তবে আকাশ থেকে
তাদের কাছে কোন নিদর্শন নাযিল করতে
পারি। অতঃপর তারা এর সামনে নত হয়ে যাবে।
[4] If We will, We could send down to
them from the heaven a sign, to which
they would bend their necks in humility.
[5] ﻭَﻣﺎ ﻳَﺄﺗﻴﻬِﻢ ﻣِﻦ ﺫِﻛﺮٍ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﻣُﺤﺪَﺙٍ ﺇِﻟّﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻋَﻨﻪُ ﻣُﻌﺮِﺿﻴﻦَ
[5] যখনই তাদের কাছে রহমান এর কোন নতুন
উপদেশ আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখ
ফিরিয়ে নেয়।
[5] And never comes there unto them a
Reminder as a recent revelation from
the Most Gracious (Allâh), but they turn
away therefrom.
[6] ﻓَﻘَﺪ ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ ﻓَﺴَﻴَﺄﺗﻴﻬِﻢ
ﺃَﻧﺒٰﺆُﺍ۟ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﺑِﻪِ
ﻳَﺴﺘَﻬﺰِﺀﻭﻥَ
[6] অতএব তারা তো মিথ্যারোপ করেছেই;
সুতরাং যে বিষয় নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত, তার
যথার্থ স্বরূপ শীঘ্রই তাদের কাছে
পৌছবে।
[6] So they have indeed denied (the truth
— this Qur’ân), then the news of what
they mocked at, will come to them.
[7] ﺃَﻭَﻟَﻢ ﻳَﺮَﻭﺍ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﻛَﻢ
ﺃَﻧﺒَﺘﻨﺎ ﻓﻴﻬﺎ ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﺯَﻭﺝٍ
ﻛَﺮﻳﻢٍ
[7] তারা কি ভুপৃষ্ঠের প্রতি দৃষ্টিপাত করে না?
আমি তাতে সর্বপ্রকার বিশেষ-বস্তু কত
উদগত করেছি।
[7] Do they not observe the earth,— how
much of every good kind We cause to
grow therein?
[8] ﺇِﻥَّ ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻚَ ﻝَﺀﺍﻳَﺔً ۖ ﻭَﻣﺎ
ﻛﺎﻥَ ﺃَﻛﺜَﺮُﻫُﻢ ﻣُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[8] নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে, কিন্তু তাদের
অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।
[8] Verily, in this is an Ayâh (proof or
sign), yet most of them (polytheists,
pagans, who do not believe in
Resurrection) are not believers.
[9] ﻭَﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻟَﻬُﻮَ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ
ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢُ
[9] আপনার পালনকর্তা তো পরাক্রমশালী পরম
দয়ালু।
[9] And verily, your Lord! He is truly the
All-Mighty, the Most Merciful.
[10] ﻭَﺇِﺫ ﻧﺎﺩﻯٰ ﺭَﺑُّﻚَ ﻣﻮﺳﻰٰ ﺃَﻥِ
ﺍﺋﺖِ ﺍﻟﻘَﻮﻡَ ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
[10] যখন আপনার পালনকর্তা মূসাকে ডেকে
বললেনঃ তুমি পাপিষ্ঠ সম্প্রদায়ের নিকট যাও;
[10] And (remember) when your Lord
called Mûsa (Moses) (saying): “Go to the
people who are Zâlimûn (polytheists and
wrong-doing),—
[11] ﻗَﻮﻡَ ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ ۚ ﺃَﻻ ﻳَﺘَّﻘﻮﻥَ
[11] ফেরাউনের সম্প্রদায়ের নিকট; তারা কি
ভয় করে না?
[11] The people of Fir’aun (Pharaoh).
Will they not fear Allâh and become
righteous?”
[12] ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﺇِﻧّﻰ ﺃَﺧﺎﻑُ ﺃَﻥ
ﻳُﻜَﺬِّﺑﻮﻥِ
[12] সে বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমার
আশংকা হচ্ছে যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী
বলে দেবে।
[12] He said: “My Lord! Verily, I fear
that they will belie me,
[13] ﻭَﻳَﻀﻴﻖُ ﺻَﺪﺭﻯ ﻭَﻻ
ﻳَﻨﻄَﻠِﻖُ ﻟِﺴﺎﻧﻰ ﻓَﺄَﺭﺳِﻞ ﺇِﻟﻰٰ
ﻫٰﺮﻭﻥَ
[13] এবং আমার মন হতবল হয়ে পড়ে এবং
আমার জিহবা অচল হয়ে যায়। সুতরাং হারুনের
কাছে বার্তা প্রেরণ করুন।
[13] “And my breast straitens, and my
tongue expresses not well. So send for
Hârûn (Aaron) (to come along with me).
[14] ﻭَﻟَﻬُﻢ ﻋَﻠَﻰَّ ﺫَﻧﺐٌ ﻓَﺄَﺧﺎﻑُ
ﺃَﻥ ﻳَﻘﺘُﻠﻮﻥِ
[14] আমার বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ আছে।
অতএব আমি আশংকা করি যে, তারা আমাকে হত্যা
করবে।
[14] “And they have a charge of crime
against me, and I fear they will kill me.”
[15] ﻗﺎﻝَ ﻛَﻠّﺎ ۖ ﻓَﺎﺫﻫَﺒﺎ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ۖ
ﺇِﻧّﺎ ﻣَﻌَﻜُﻢ ﻣُﺴﺘَﻤِﻌﻮﻥَ
[15] আল্লাহ বলেন, কখনই নয় তোমরা
উভয়ে যাও আমার নিদর্শনাবলী নিয়ে। আমি
তোমাদের সাথে থেকে শোনব।
[15] (Allâh) said: “Nay! Go you both with
Our Signs. Verily! We shall be with you,
listening.
[16] ﻓَﺄﺗِﻴﺎ ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ ﻓَﻘﻮﻻ ﺇِﻧّﺎ
ﺭَﺳﻮﻝُ ﺭَﺏِّ ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[16] অতএব তোমরা ফেরআউনের কাছে
যাও এবং বল, আমরা বিশ্বজগতের পালনকর্তার
রসূল।
[16] “And go both of you to Fir’aun
(Pharaoh), and say: ‘We are the
Messengers of the Lord of the ‘Alamîn
(mankind, jinn and all that exists),
[17] ﺃَﻥ ﺃَﺭﺳِﻞ ﻣَﻌَﻨﺎ ﺑَﻨﻰ
ﺇِﺳﺮٰﺀﻳﻞَ
[17] যাতে তুমি বনী-ইসরাঈলকে আমাদের
সাথে যেতে দাও।
[17] “So allow the Children of Israel to go
with us.’ ”
[18] ﻗﺎﻝَ ﺃَﻟَﻢ ﻧُﺮَﺑِّﻚَ ﻓﻴﻨﺎ ﻭَﻟﻴﺪًﺍ
ﻭَﻟَﺒِﺜﺖَ ﻓﻴﻨﺎ ﻣِﻦ ﻋُﻤُﺮِﻙَ
ﺳِﻨﻴﻦَ
[18] ফেরাউন বলল, আমরা কি তোমাকে শিশু
অবস্থায় আমাদের মধ্যে লালন-পালন করিনি?
এবং তুমি আমাদের মধ্যে জীবনের বহু
বছর কাটিয়েছ।
[18] [Fir’aun (Pharaoh)] said [to Mûsa
(Moses)]: “Did we not bring you up
among us as a child? And you did dwell
many years of your life with us.
[19] ﻭَﻓَﻌَﻠﺖَ ﻓَﻌﻠَﺘَﻚَ ﺍﻟَّﺘﻰ
ﻓَﻌَﻠﺖَ ﻭَﺃَﻧﺖَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻜٰﻔِﺮﻳﻦَ
[19] তুমি সেই-তোমরা অপরাধ যা করবার
করেছ। তুমি হলে কৃতঘ্ন।
[19] “And you did your deed, which you
did (i.e. the crime of killing a man). And
you one of the ingrates.”
[20] ﻗﺎﻝَ ﻓَﻌَﻠﺘُﻬﺎ ﺇِﺫًﺍ ﻭَﺃَﻧﺎ۠ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻀّﺎﻟّﻴﻦَ
[20] মূসা বলল, আমি সে অপরাধ তখন করেছি,
যখন আমি ভ্রান্ত ছিলাম।
[20] Mûsa (Moses) said: “I did it then,
when I was an ignorant (as regards my
Lord and His Message).
[21] ﻓَﻔَﺮَﺭﺕُ ﻣِﻨﻜُﻢ ﻟَﻤّﺎ ﺧِﻔﺘُﻜُﻢ
ﻓَﻮَﻫَﺐَ ﻟﻰ ﺭَﺑّﻰ ﺣُﻜﻤًﺎ
ﻭَﺟَﻌَﻠَﻨﻰ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﺮﺳَﻠﻴﻦَ
[21] অতঃপর আমি ভীত হয়ে তোমাদের কাছ
থেকে পলায়ন করলাম। এরপর আমার
পালনকর্তা আমাকে প্রজ্ঞা দান করেছেন
এবং আমাকে পয়গম্বর করেছেন।
[21] “So I fled from you when I feared
you. But my Lord has granted me Hukm
(i.e. religious knowledge, right
judgement of the affairs and
Prophethood), and appointed me one of
the Messengers.
[22] ﻭَﺗِﻠﻚَ ﻧِﻌﻤَﺔٌ ﺗَﻤُﻨُّﻬﺎ ﻋَﻠَﻰَّ
ﺃَﻥ ﻋَﺒَّﺪﺕَ ﺑَﻨﻰ ﺇِﺳﺮٰﺀﻳﻞَ
[22] আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা
বলছ, তা এই যে, তুমি বনী-ইসলাঈলকে
গোলাম বানিয়ে রেখেছ।
[22] “And this is the past favour with
which you reproach me, that you have
enslaved the Children of Israel.”
[23] ﻗﺎﻝَ ﻓِﺮﻋَﻮﻥُ ﻭَﻣﺎ ﺭَﺏُّ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[23] ফেরাউন বলল, বিশ্বজগতের পালনকর্তা
আবার কি?
[23] [Fir’aun (Pharaoh)] said: “And what
is the Lord of the ‘Alamîn (mankind, jinn
and all that exists)?”
[24] ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏُّ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﻣﺎ ﺑَﻴﻨَﻬُﻤﺎ ۖ ﺇِﻥ
ﻛُﻨﺘُﻢ ﻣﻮﻗِﻨﻴﻦَ
[24] মূসা বলল, তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও
এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা
যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।
[24] [Mûsa (Moses)] said: “The Lord of
the heavens and the earth, and all that is
between them, if you seek to be
convinced with certainty.”
[25] ﻗﺎﻝَ ﻟِﻤَﻦ ﺣَﻮﻟَﻪُ ﺃَﻻ
ﺗَﺴﺘَﻤِﻌﻮﻥَ
[25] ফেরাউন তার পরিষদবর্গকে বলল,
তোমরা কি শুনছ না?
[25] [Fir’aun (Pharaoh)] said to those
around: “Do you not hear (what he
says)?”
[26] ﻗﺎﻝَ ﺭَﺑُّﻜُﻢ ﻭَﺭَﺏُّ ﺀﺍﺑﺎﺋِﻜُﻢُ
ﺍﻷَﻭَّﻟﻴﻦَ
[26] মূসা বলল, তিনি তোমাদের পালনকর্তা এবং
তোমাদের পূর্ববর্তীদেরও পালনকর্তা।
[26] [Mûsa (Moses)] said: “Your Lord and
the Lord of your ancient fathers!”
[27] ﻗﺎﻝَ ﺇِﻥَّ ﺭَﺳﻮﻟَﻜُﻢُ ﺍﻟَّﺬﻯ
ﺃُﺭﺳِﻞَ ﺇِﻟَﻴﻜُﻢ ﻟَﻤَﺠﻨﻮﻥٌ
[27] ফেরাউন বলল, তোমাদের প্রতি
প্রেরিত তোমাদের রসূলটি নিশ্চয়ই বদ্ধ
পাগল।
[27] [Fir’aun (Pharaoh)] said: “Verily,
your Messenger who has been sent to
you is a madman!”
[28] ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏُّ ﺍﻟﻤَﺸﺮِﻕِ
ﻭَﺍﻟﻤَﻐﺮِﺏِ ﻭَﻣﺎ ﺑَﻴﻨَﻬُﻤﺎ ۖ ﺇِﻥ
ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﻌﻘِﻠﻮﻥَ
[28] মূসা বলল, তিনি পূর্ব, পশ্চিম ও এতদুভয়ের
মধ্যবর্তী সব কিছুর পালনকর্তা, যদি তোমরা
বোঝ।
[28] [Mûsa (Moses)] said: “Lord of the
east and the west, and all that is between
them, if you did but understand!”
[29] ﻗﺎﻝَ ﻟَﺌِﻦِ ﺍﺗَّﺨَﺬﺕَ ﺇِﻟٰﻬًﺎ
ﻏَﻴﺮﻯ ﻟَﺄَﺟﻌَﻠَﻨَّﻚَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻤَﺴﺠﻮﻧﻴﻦَ
[29] ফেরাউন বলল, তুমি যদি আমার পরিবর্তে
অন্যকে উপাস্যরূপে গ্রহণ কর তবে আমি
অবশ্যই তোমাকে কারাগারে নিক্ষেপ করব।
[29] [Fir’aun (Pharaoh)] said: “If you
choose an ilâh (god) other than me, I will
certainly put you among the prisoners.”
[30] ﻗﺎﻝَ ﺃَﻭَﻟَﻮ ﺟِﺌﺘُﻚَ ﺑِﺸَﻲﺀٍ
ﻣُﺒﻴﻦٍ
[30] মূসা বলল, আমি তোমার কাছে কোন
স্পষ্ট বিষয় নিয়ে আগমন করলেও কি?
[30] [Mûsa (Moses)] said: “Even if I bring
you something manifest (and
convincing)?”
[31] ﻗﺎﻝَ ﻓَﺄﺕِ ﺑِﻪِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺖَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺼّٰﺪِﻗﻴﻦَ
[31] ফেরাউন বলল, তুমি সত্যবাদী হলে তা
উপস্থিত কর।
[31] [Fir’aun (Pharaoh)] said: “Bring it
forth then, if you are of the truthful!”
[32] ﻓَﺄَﻟﻘﻰٰ ﻋَﺼﺎﻩُ ﻓَﺈِﺫﺍ ﻫِﻰَ
ﺛُﻌﺒﺎﻥٌ ﻣُﺒﻴﻦٌ
[32] অতঃপর তিনি লাঠি নিক্ষেপ করলে
মুহূর্তের মধ্যে তা সুস্পষ্ট অজগর হয়ে
গেল।
[32] So [Mûsa (Moses)] threw his stick,
and behold, it was a serpent, manifest
[33] ﻭَﻧَﺰَﻉَ ﻳَﺪَﻩُ ﻓَﺈِﺫﺍ ﻫِﻰَ
ﺑَﻴﻀﺎﺀُ ﻟِﻠﻨّٰﻈِﺮﻳﻦَ
[33] আর তিনি তার হাত বের করলেন,
তৎক্ষণাৎ তা দর্শকদের কাছে সুশুভ্র প্রতিভাত
হলো।
[33] And he drew out his hand, and
behold, it was white to all beholders!
[34] ﻗﺎﻝَ ﻟِﻠﻤَﻠَﺈِ ﺣَﻮﻟَﻪُ ﺇِﻥَّ ﻫٰﺬﺍ
ﻟَﺴٰﺤِﺮٌ ﻋَﻠﻴﻢٌ
[34] ফেরাউন তার পরিষদবর্গকে বলল, নিশ্চয়
এ একজন সুদক্ষ জাদুকর।
[34] [Fir’aun (Pharaoh)] said to the chiefs
around him: “Verily! This is indeed a
well-versed sorcerer.
[35] ﻳُﺮﻳﺪُ ﺃَﻥ ﻳُﺨﺮِﺟَﻜُﻢ ﻣِﻦ
ﺃَﺭﺿِﻜُﻢ ﺑِﺴِﺤﺮِﻩِ ﻓَﻤﺎﺫﺍ
ﺗَﺄﻣُﺮﻭﻥَ
[35] সে তার জাদু বলে তোমাদেরকে
তোমাদের দেশ থেকে বহিস্কার করতে
চায়। অতএব তোমাদের মত কি?
[35] “He wants to drive you out of your
land by his sorcery: what is it then that
you command?”
[36] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃَﺭﺟِﻪ ﻭَﺃَﺧﺎﻩُ
ﻭَﺍﺑﻌَﺚ ﻓِﻰ ﺍﻟﻤَﺪﺍﺋِﻦِ ﺣٰﺸِﺮﻳﻦَ
[36] তারা বলল, তাকে ও তার ভাইকে কিছু
অবকাশ দিন এবং শহরে শহরে ঘোষক
প্রেরণ করুন।
[36] They said: “Put him off and his
brother (for a while), and send callers to
the cities;
[37] ﻳَﺄﺗﻮﻙَ ﺑِﻜُﻞِّ ﺳَﺤّﺎﺭٍ ﻋَﻠﻴﻢٍ
[37] তারা যেন আপনার কাছে প্রত্যেকটি
দক্ষ জাদুকর কে উপস্থিত করে।
[37] “To bring up to you every well-
versed sorcerer.”
[38] ﻓَﺠُﻤِﻊَ ﺍﻟﺴَّﺤَﺮَﺓُ ﻟِﻤﻴﻘٰﺖِ
ﻳَﻮﻡٍ ﻣَﻌﻠﻮﻡٍ
[38] অতঃপর এক নির্দিষ্ট দিনে
জাদুকরদেরকে একত্রিত করা হল।
[38] So the sorcerers were assembled at a
fixed time on a day appointed
[39] ﻭَﻗﻴﻞَ ﻟِﻠﻨّﺎﺱِ ﻫَﻞ ﺃَﻧﺘُﻢ
ﻣُﺠﺘَﻤِﻌﻮﻥَ
[39] এবং জনগণের মধ্যে ঘোষণা করা হল,
তোমরাও সমবেত হও।
[39] And it was said to the people: “Are
you (too) going to assemble?
[40] ﻟَﻌَﻠَّﻨﺎ ﻧَﺘَّﺒِﻊُ ﺍﻟﺴَّﺤَﺮَﺓَ ﺇِﻥ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻫُﻢُ ﺍﻟﻐٰﻠِﺒﻴﻦَ
[40] যাতে আমরা জাদুকরদের অনুসরণ
করতে পারি-যদি তারাই বিজয়ী হয়।
[40] “That we may follow the sorcerers
[who were on Fir’aun’s (Pharaoh)
religion of disbelief] if they are the
winners.”
[41] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَ ﺍﻟﺴَّﺤَﺮَﺓُ ﻗﺎﻟﻮﺍ
ﻟِﻔِﺮﻋَﻮﻥَ ﺃَﺋِﻦَّ ﻟَﻨﺎ ﻟَﺄَﺟﺮًﺍ ﺇِﻥ ﻛُﻨّﺎ
ﻧَﺤﻦُ ﺍﻟﻐٰﻠِﺒﻴﻦَ
[41] যখন যাদুকররা আগমণ করল, তখন
ফেরআউনকে বলল, যদি আমরা বিজয়ী হই,
তবে আমরা পুরস্কার পাব তো?
[41] So when the sorcerers arrived, they
said to Fir’aun (Pharaoh): “Will there
surely be a reward for us if we are the
winners?”
[42] ﻗﺎﻝَ ﻧَﻌَﻢ ﻭَﺇِﻧَّﻜُﻢ ﺇِﺫًﺍ ﻟَﻤِﻦَ
ﺍﻟﻤُﻘَﺮَّﺑﻴﻦَ
[42] ফেরাউন বলল, হঁ্যা এবং তখন তোমরা
আমার নৈকট্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
[42] He said: “Yes, and you shall then
verily be of those brought near (to
myself).”
[43] ﻗﺎﻝَ ﻟَﻬُﻢ ﻣﻮﺳﻰٰ ﺃَﻟﻘﻮﺍ ﻣﺎ
ﺃَﻧﺘُﻢ ﻣُﻠﻘﻮﻥَ
[43] মূসা (আঃ) তাদেরকে বললেন, নিক্ষেপ
কর তোমরা যা নিক্ষেপ করবে।
[43] Mûsa (Moses) said to them: “Throw
what you are going to throw!”
[44] ﻓَﺄَﻟﻘَﻮﺍ ﺣِﺒﺎﻟَﻬُﻢ ﻭَﻋِﺼِﻴَّﻬُﻢ
ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ ﺑِﻌِﺰَّﺓِ ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ ﺇِﻧّﺎ
ﻟَﻨَﺤﻦُ ﺍﻟﻐٰﻠِﺒﻮﻥَ
[44] অতঃপর তারা তাদের রশি ও লাঠি নিক্ষেপ
করল এবং বলল, ফেরাউনের ইযযতের কসম,
আমরাই বিজয়ী হব।
[44] So they threw their ropes and their
sticks, and said: “By the might of Fir’aun
(Pharaoh), it is we who will certainly
win!”
[45] ﻓَﺄَﻟﻘﻰٰ ﻣﻮﺳﻰٰ ﻋَﺼﺎﻩُ
ﻓَﺈِﺫﺍ ﻫِﻰَ ﺗَﻠﻘَﻒُ ﻣﺎ ﻳَﺄﻓِﻜﻮﻥَ
[45] অতঃপর মূসা তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করল, হঠাৎ তা
তাদের অলীক কীর্তিগুলোকে গ্রাস
করতে লাগল।
[45] Then Mûsa (Moses) threw his stick,
and behold, it swallowed up all that they
falsely showed!
[46] ﻓَﺄُﻟﻘِﻰَ ﺍﻟﺴَّﺤَﺮَﺓُ ﺳٰﺠِﺪﻳﻦَ
[46] তখন জাদুকররা সেজদায় নত হয়ে গেল।
[46] And the sorcerers fell down
prostrate.
[47] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺀﺍﻣَﻨّﺎ ﺑِﺮَﺏِّ ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[47] তারা বলল, আমরা রাব্বুল আলামীনের
প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম।
[47] Saying: “We believe in the Lord of
the ‘Alamîn (mankind, jinn and all that
exists).
[48] ﺭَﺏِّ ﻣﻮﺳﻰٰ ﻭَﻫٰﺮﻭﻥَ
[48] যিনি মূসা ও হারুনের রব।
[48] “The Lord of Mûsa (Moses) and
Hârûn (Aaron).”
[49] ﻗﺎﻝَ ﺀﺍﻣَﻨﺘُﻢ ﻟَﻪُ ﻗَﺒﻞَ ﺃَﻥ
ﺀﺍﺫَﻥَ ﻟَﻜُﻢ ۖ ﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻜَﺒﻴﺮُﻛُﻢُ
ﺍﻟَّﺬﻯ ﻋَﻠَّﻤَﻜُﻢُ ﺍﻟﺴِّﺤﺮَ ﻓَﻠَﺴَﻮﻑَ
ﺗَﻌﻠَﻤﻮﻥَ ۚ ﻟَﺄُﻗَﻄِّﻌَﻦَّ ﺃَﻳﺪِﻳَﻜُﻢ
ﻭَﺃَﺭﺟُﻠَﻜُﻢ ﻣِﻦ ﺧِﻠٰﻒٍ
ﻭَﻟَﺄُﺻَﻠِّﺒَﻨَّﻜُﻢ ﺃَﺟﻤَﻌﻴﻦَ
[49] ফেরাউন বলল, আমার অনুমতি দানের
পূর্বেই তোমরা কি তাকে মেনে নিলে?
নিশ্চয় সে তোমাদের প্রধান, যে
তোমাদেরকে জাদু শিক্ষা দিয়েছে।
শীঘ্রই তোমরা পরিণাম জানতে পারবে। আমি
অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক
থেকে কর্তন করব। এবং তোমাদের
সবাইকে শূলে চড়াব।
[49] [Fir’aun (Pharaoh)] said: “You have
believed in him before I give you leave.
Surely, he indeed is your chief, who has
taught you magic! So verily, you shall
come to know. Verily, I will cut off your
hands and your feet on opposite sides,
and I will crucify you all.”
[50] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻻ ﺿَﻴﺮَ ۖ ﺇِﻧّﺎ ﺇِﻟﻰٰ
ﺭَﺑِّﻨﺎ ﻣُﻨﻘَﻠِﺒﻮﻥَ
[50] তারা বলল, কোন ক্ষতি নেই। আমরা
আমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন
করব।
[50] They said: “No harm! Surely, to our
Lord (Allâh) we are to return;
[51] ﺇِﻧّﺎ ﻧَﻄﻤَﻊُ ﺃَﻥ ﻳَﻐﻔِﺮَ ﻟَﻨﺎ ﺭَﺑُّﻨﺎ
ﺧَﻄٰﻴٰﻨﺎ ﺃَﻥ ﻛُﻨّﺎ ﺃَﻭَّﻝَ
ﺍﻟﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[51] আমরা আশা করি, আমাদের পালনকর্তা
আমাদের ক্রটি-বিচ্যুতি মার্জনা করবেন। কারণ,
আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারীদের মধ্যে
অগ্রণী।
[51] “Verily! We really hope that our
Lord will forgive us our sins, as we are
the first of the believers [in Mûsa
(Moses) and in the Monotheism which he
has brought from Allâh].”
[52] ۞ ﻭَﺃَﻭﺣَﻴﻨﺎ ﺇِﻟﻰٰ ﻣﻮﺳﻰٰ
ﺃَﻥ ﺃَﺳﺮِ ﺑِﻌِﺒﺎﺩﻯ ﺇِﻧَّﻜُﻢ
ﻣُﺘَّﺒَﻌﻮﻥَ
[52] আমি মূসাকে আদেশ করলাম যে, আমার
বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিযোগে বের
হয়ে যাও, নিশ্চয় তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা
হবে।
[52] And We revealed to Mûsa (Moses),
saying: “Depart by night with My slaves ,
verily, you will be pursued.”
[53] ﻓَﺄَﺭﺳَﻞَ ﻓِﺮﻋَﻮﻥُ ﻓِﻰ
ﺍﻟﻤَﺪﺍﺋِﻦِ ﺣٰﺸِﺮﻳﻦَ
[53] অতঃপর ফেরাউন শহরে শহরে
সংগ্রাহকদেরকে প্রেরণ করল,
[53] Then Fir’aun (Pharaoh) sent callers
to (all) the cities.
[54] ﺇِﻥَّ ﻫٰﺆُﻻﺀِ ﻟَﺸِﺮﺫِﻣَﺔٌ
ﻗَﻠﻴﻠﻮﻥَ
[54] নিশ্চয় এরা (বনী-ইসরাঈলরা) ক্ষুদ্র একটি
দল।
[54] (Saying): “Verily! these indeed are
but a small band.
[55] ﻭَﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻟَﻨﺎ ﻟَﻐﺎﺋِﻈﻮﻥَ
[55] এবং তারা আমাদের ক্রোধের উদ্রেক
করেছে।
[55] “And verily, they have done what
has enraged us;
[56] ﻭَﺇِﻧّﺎ ﻟَﺠَﻤﻴﻊٌ ﺣٰﺬِﺭﻭﻥَ
[56] এবং আমরা সবাই সদা শংকিত।
[56] “But we are host all assembled,
amply fore-warned.”
[57] ﻓَﺄَﺧﺮَﺟﻨٰﻬُﻢ ﻣِﻦ ﺟَﻨّٰﺖٍ
ﻭَﻋُﻴﻮﻥٍ
[57] অতঃপর আমি ফেরআউনের দলকে
তাদের বাগ-বাগিচা ও ঝর্ণাসমূহ থেকে বহিষ্কার
করলাম।
[57] So, We expelled them from gardens
and springs,
[58] ﻭَﻛُﻨﻮﺯٍ ﻭَﻣَﻘﺎﻡٍ ﻛَﺮﻳﻢٍ
[58] এবং ধন-ভান্ডার ও মনোরম স্থানসমূহ
থেকে।
[58] Treasures, and every kind of
honourable place.
[59] ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻭَﺃَﻭﺭَﺛﻨٰﻬﺎ ﺑَﻨﻰ
ﺇِﺳﺮٰﺀﻳﻞَ
[59] এরূপই হয়েছিল এবং বনী-ইসলাঈলকে
করে দিলাম এসবের মালিক।
[59] Thus [We turned them (Pharaoh’s
people) out] and We caused the Children
of Israel to inherit them.
[60] ﻓَﺄَﺗﺒَﻌﻮﻫُﻢ ﻣُﺸﺮِﻗﻴﻦَ
[60] অতঃপর সুর্যোদয়ের সময় তারা তাদের
পশ্চাদ্ধাবন করল।
[60] So they pursued them at sunrise.
[61] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺗَﺮٰﺀَﺍ ﺍﻟﺠَﻤﻌﺎﻥِ ﻗﺎﻝَ
ﺃَﺻﺤٰﺐُ ﻣﻮﺳﻰٰ ﺇِﻧّﺎ ﻟَﻤُﺪﺭَﻛﻮﻥَ
[61] যখন উভয় দল পরস্পরকে দেখল, তখন
মূসার সঙ্গীরা বলল, আমরা যে ধরা পড়ে
গেলাম।
[61] And when the two hosts saw each
other, the companions of Mûsa (Moses)
said: “We are sure to be overtaken.”
[62] ﻗﺎﻝَ ﻛَﻠّﺎ ۖ ﺇِﻥَّ ﻣَﻌِﻰَ ﺭَﺑّﻰ
ﺳَﻴَﻬﺪﻳﻦِ
[62] মূসা বলল, কখনই নয়, আমার সাথে
আছেন আমার পালনকর্তা। তিনি আমাকে পথ
বলে দেবেন।
[62] [Mûsa (Moses)] said: “Nay, verily!
With me is my Lord, He will guide me.”
[63] ﻓَﺄَﻭﺣَﻴﻨﺎ ﺇِﻟﻰٰ ﻣﻮﺳﻰٰ ﺃَﻥِ
ﺍﺿﺮِﺏ ﺑِﻌَﺼﺎﻙَ ﺍﻟﺒَﺤﺮَ ۖ
ﻓَﺎﻧﻔَﻠَﻖَ ﻓَﻜﺎﻥَ ﻛُﻞُّ ﻓِﺮﻕٍ
ﻛَﺎﻟﻄَّﻮﺩِ ﺍﻟﻌَﻈﻴﻢِ
[63] অতঃপর আমি মূসাকে আদেশ করলাম,
তোমার লাঠি দ্বারা সমূদ্রকে আঘাত কর। ফলে,
তা বিদীর্ণ হয়ে গেল এবং প্রত্যেক ভাগ
বিশাল পর্বতসদৃশ হয়ে গেল।
[63] Then We revealed to Mûsa (Moses)
(saying): “Strike the sea with your stick.”
And it parted, and each separate part (of
that sea water) became like the huge
mountain.
[64] ﻭَﺃَﺯﻟَﻔﻨﺎ ﺛَﻢَّ ﺍﻝﺀﺍﺧَﺮﻳﻦَ
[64] আমি সেথায় অপর দলকে পৌঁছিয়ে দিলাম।
[64] Then We brought near the others
[Fir’aun’s (Pharaoh) party] to that place.
[65] ﻭَﺃَﻧﺠَﻴﻨﺎ ﻣﻮﺳﻰٰ ﻭَﻣَﻦ
ﻣَﻌَﻪُ ﺃَﺟﻤَﻌﻴﻦَ
[65] এবং মূসা ও তাঁর সংগীদের সবাইকে
বাঁচিয়ে দিলাম।
[65] And We saved Mûsa (Moses) and all
those with him.
[66] ﺛُﻢَّ ﺃَﻏﺮَﻗﻨَﺎ ﺍﻝﺀﺍﺧَﺮﻳﻦَ
[66] অতঃপর অপর দলটিকে নিমজ্জত কললাম।
[66] Then We drowned the others.
[67] ﺇِﻥَّ ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻚَ ﻝَﺀﺍﻳَﺔً ۖ ﻭَﻣﺎ
ﻛﺎﻥَ ﺃَﻛﺜَﺮُﻫُﻢ ﻣُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[67] নিশ্চয় এতে একটি নিদর্শন আছে এবং
তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী ছিল না।
[67] Verily! In this is indeed a sign (or a
proof), yet most of them are not
believers.
[68] ﻭَﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻟَﻬُﻮَ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ
ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢُ
[68] আপনার পালনকর্তা অবশ্যই পরাক্রমশালী,
পরম দয়ালু।
[68] And verily, your Lord! He is truly
the All-Mighty, the Most Merciful.
[69] ﻭَﺍﺗﻞُ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻧَﺒَﺄَ ﺇِﺑﺮٰﻫﻴﻢَ
[69] আর তাদেরকে ইব্রাহীমের বৃত্তান্ত
শুনিয়ে দিন।
[69] And recite to them the story of
Ibrâhim (Abraham).
[70] ﺇِﺫ ﻗﺎﻝَ ﻟِﺄَﺑﻴﻪِ ﻭَﻗَﻮﻣِﻪِ ﻣﺎ
ﺗَﻌﺒُﺪﻭﻥَ
[70] যখন তাঁর পিতাকে এবং তাঁর সম্প্রদায়কে
বললেন, তোমরা কিসের এবাদত কর?
[70] When he said to his father and his
people: “What do you worship?”
[71] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻧَﻌﺒُﺪُ ﺃَﺻﻨﺎﻣًﺎ ﻓَﻨَﻈَﻞُّ
ﻟَﻬﺎ ﻋٰﻜِﻔﻴﻦَ
[71] তারা বলল, আমরা প্রতিমার পূজা করি এবং
সারাদিন এদেরকেই নিষ্ঠার সাথে আঁকড়ে
থাকি।
[71] They said: “We worship idols, and
to them we are ever devoted.”
[72] ﻗﺎﻝَ ﻫَﻞ ﻳَﺴﻤَﻌﻮﻧَﻜُﻢ ﺇِﺫ
ﺗَﺪﻋﻮﻥَ
[72] ইব্রাহীম (আঃ) বললেন, তোমরা যখন
আহবান কর, তখন তারা শোনে কি?
[72] He said: “Do they hear you, when
you call on (them)?
[73] ﺃَﻭ ﻳَﻨﻔَﻌﻮﻧَﻜُﻢ ﺃَﻭ ﻳَﻀُﺮّﻭﻥَ
[73] অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি
করতে পারে?
[73] “Or do they benefit you or do they
harm (you)?”
[74] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺑَﻞ ﻭَﺟَﺪﻧﺎ ﺀﺍﺑﺎﺀَﻧﺎ
ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻳَﻔﻌَﻠﻮﻥَ
[74] তারা বললঃ না, তবে আমরা আমাদের
পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি, তারা এরূপই করত।
[74] They said: “(Nay), but we found our
fathers doing so.”
[75] ﻗﺎﻝَ ﺃَﻓَﺮَﺀَﻳﺘُﻢ ﻣﺎ ﻛُﻨﺘُﻢ
ﺗَﻌﺒُﺪﻭﻥَ
[75] ইব্রাহীম বললেন, তোমরা কি তাদের
সম্পর্কে ভেবে দেখেছ, যাদের পূজা
করে আসছ।
[75] He said: “Do you observe that which
you have been worshipping,—
[76] ﺃَﻧﺘُﻢ ﻭَﺀﺍﺑﺎﺅُﻛُﻢُ
ﺍﻷَﻗﺪَﻣﻮﻥَ
[76] তোমরা এবং তোমাদের পূর্ববর্তী
পিতৃপুরুষেরা ?
[76] “You and your ancient fathers?
[77] ﻓَﺈِﻧَّﻬُﻢ ﻋَﺪُﻭٌّ ﻟﻰ ﺇِﻟّﺎ ﺭَﺏَّ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[77] বিশ্বপালনকর্তা ব্যতীত তারা সবাই আমার
শত্রু।
[77] “Verily! they are enemies to me,
save the Lord of the ‘Alamîn (mankind,
jinn and all that exists);
[78] ﺍﻟَّﺬﻯ ﺧَﻠَﻘَﻨﻰ ﻓَﻬُﻮَ ﻳَﻬﺪﻳﻦِ
[78] যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর
তিনিই আমাকে পথপ্রদর্শন করেন,
[78] “Who has created me, and it is He
Who guides me;
[79] ﻭَﺍﻟَّﺬﻯ ﻫُﻮَ ﻳُﻄﻌِﻤُﻨﻰ
ﻭَﻳَﺴﻘﻴﻦِ
[79] যিনি আমাকে আহার এবং পানীয় দান
করেন,
[79] “And it is He Who feeds me and
gives me to drink
[80] ﻭَﺇِﺫﺍ ﻣَﺮِﺿﺖُ ﻓَﻬُﻮَ ﻳَﺸﻔﻴﻦِ
[80] যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই
আরোগ্য দান করেন।
[80] “And when I am ill, it is He who
cures me;
[81] ﻭَﺍﻟَّﺬﻯ ﻳُﻤﻴﺘُﻨﻰ ﺛُﻢَّ
ﻳُﺤﻴﻴﻦِ
[81] যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, অতঃপর
পুনর্জীবন দান করবেন।
[81] “And Who will cause me to die, and
then will bring me to life (again);
[82] ﻭَﺍﻟَّﺬﻯ ﺃَﻃﻤَﻊُ ﺃَﻥ ﻳَﻐﻔِﺮَ ﻟﻰ
ﺧَﻄﻴـَٔﺘﻰ ﻳَﻮﻡَ ﺍﻟﺪّﻳﻦِ
[82] আমি আশা করি তিনিই বিচারের দিনে আমার
ক্রটি-বিচ্যুতি মাফ করবেন।
[82] “And Who, I hope will forgive me
my faults on the Day of Recompense,
(the Day of Resurrection),”
[83] ﺭَﺏِّ ﻫَﺐ ﻟﻰ ﺣُﻜﻤًﺎ
ﻭَﺃَﻟﺤِﻘﻨﻰ ﺑِﺎﻟﺼّٰﻠِﺤﻴﻦَ
[83] হে আমার পালনকর্তা, আমাকে প্রজ্ঞা
দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের
অন্তর্ভুক্ত কর
[83] My Lord! Bestow Hukm (religious
knowledge, right judgement of the
affairs and Prophethood) on me, and
join me with the righteous,
[84] ﻭَﺍﺟﻌَﻞ ﻟﻰ ﻟِﺴﺎﻥَ ﺻِﺪﻕٍ
ﻓِﻰ ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮﻳﻦَ
[84] এবং আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে
সত্যভাষী কর।
[84] And grant me an honourable
mention in later generations.
[85] ﻭَﺍﺟﻌَﻠﻨﻰ ﻣِﻦ ﻭَﺭَﺛَﺔِ ﺟَﻨَّﺔِ
ﺍﻟﻨَّﻌﻴﻢِ
[85] এবং আমাকে নেয়ামত উদ্যানের
অধিকারীদের অন্তর্ভূক্ত কর।
[85] And make me one of the inheritors
of the Paradise of Delight.
[86] ﻭَﺍﻏﻔِﺮ ﻟِﺄَﺑﻰ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛﺎﻥَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻀّﺎﻟّﻴﻦَ
[86] এবং আমার পিতাকে ক্ষমা কর। সে তো
পথভ্রষ্টদের অন্যতম।
[86] And forgive my father, verily he is
of the erring.
[87] ﻭَﻻ ﺗُﺨﺰِﻧﻰ ﻳَﻮﻡَ ﻳُﺒﻌَﺜﻮﻥَ
[87] এবং পূনরুত্থান দিবসে আমাকে লাঞ্ছিত
করো না,
[87] And disgrace me not on the Day
when (all the creatures) will be
resurrected;
[88] ﻳَﻮﻡَ ﻻ ﻳَﻨﻔَﻊُ ﻣﺎﻝٌ ﻭَﻻ
ﺑَﻨﻮﻥَ
[88] যে দিবসে ধন-সম্পদ ও সন্তান সন্ততি
কোন উপকারে আসবে না;
[88] The Day whereon neither wealth nor
sons will avail,
[89] ﺇِﻟّﺎ ﻣَﻦ ﺃَﺗَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺑِﻘَﻠﺐٍ
ﺳَﻠﻴﻢٍ
[89] কিন্তু যে সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর
কাছে আসবে।
[89] Except him who brings to Allâh a
clean heart [clean from Shirk
(polytheism) and Nifâq (hypocrisy)].
[90] ﻭَﺃُﺯﻟِﻔَﺖِ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔُ ﻟِﻠﻤُﺘَّﻘﻴﻦَ
[90] জান্নাত আল্লাহভীরুদের নিকটবর্তী
করা হবে।
[90] And Paradise will be brought near
to the Muttaqûn (pious and righteous
persons – see V.2:2).
[91] ﻭَﺑُﺮِّﺯَﺕِ ﺍﻟﺠَﺤﻴﻢُ ﻟِﻠﻐﺎﻭﻳﻦَ
[91] এবং বিপথগামীদের সামনে উম্মোচিত
করা হবে জাহান্নাম।
[91] And the (Hell) Fire will be placed in
full view of the erring.
[92] ﻭَﻗﻴﻞَ ﻟَﻬُﻢ ﺃَﻳﻦَ ﻣﺎ ﻛُﻨﺘُﻢ
ﺗَﻌﺒُﺪﻭﻥَ
[92] তাদেরকে বলা হবেঃ তারা কোথায়,
তোমরা যাদের পূজা করতে।
[92] And it will be said to them: “Where
are those (the false gods whom you used
to set up as rivals with Allâh) that you
used to worship.
[93] ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻫَﻞ
ﻳَﻨﺼُﺮﻭﻧَﻜُﻢ ﺃَﻭ ﻳَﻨﺘَﺼِﺮﻭﻥَ
[93] আল্লাহর পরিবর্তে? তারা কি তোমাদের
সাহায্য করতে পারে, অথবা তারা প্রতিশোধ
নিতে পারে?
[93] “Instead of Allâh? Can they help you
or (even) help themselves?”
[94] ﻓَﻜُﺒﻜِﺒﻮﺍ ﻓﻴﻬﺎ ﻫُﻢ
ﻭَﺍﻟﻐﺎﻭۥﻥَ
[94] অতঃপর তাদেরকে এবং
পথভ্রষ্টদেরকে আধোমুখি করে নিক্ষেপ
করা হবে জাহান্নামে।
[94] Then they will be thrown on their
faces into the (Fire), They and the
Ghâwûn (devils, and those who were in
error).
[95] ﻭَﺟُﻨﻮﺩُ ﺇِﺑﻠﻴﺲَ ﺃَﺟﻤَﻌﻮﻥَ
[95] এবং ইবলীস বাহিনীর সকলকে।
[95] And the whole hosts of Iblîs (Satan)
together.
[96] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻭَﻫُﻢ ﻓﻴﻬﺎ
ﻳَﺨﺘَﺼِﻤﻮﻥَ
[96] তারা তথায় কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয়ে
বলবেঃ
[96] They will say while contending
therein,
[97] ﺗَﺎﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻥ ﻛُﻨّﺎ ﻟَﻔﻰ ﺿَﻠٰﻞٍ
ﻣُﺒﻴﻦٍ
[97] আল্লাহর কসম, আমরা প্রকাশ্য
বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিলাম।
[97] By Allâh, we were truly in a
manifest error,
[98] ﺇِﺫ ﻧُﺴَﻮّﻳﻜُﻢ ﺑِﺮَﺏِّ ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[98] যখন আমরা তোমাদেরকে বিশ্ব-
পালনকর্তার সমতুল্য গন্য করতাম।
[98] When We held you (false gods) as
equals (in worship) with the Lord of the
‘Alamîn (mankind, jinn and all that
exists);
[99] ﻭَﻣﺎ ﺃَﺿَﻠَّﻨﺎ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻤُﺠﺮِﻣﻮﻥَ
[99] আমাদেরকে দুষ্টকর্মীরাই গোমরাহ
করেছিল।
[99] And none has brought us into error
except the Mujrimûn [Iblîs (Satan) and
those of human beings who commit
crimes, murderers, polytheists,
oppressors],
[100] ﻓَﻤﺎ ﻟَﻨﺎ ﻣِﻦ ﺷٰﻔِﻌﻴﻦَ
[100] অতএব আমাদের কোন সুপারিশকারী
নেই।
[100] Now we have no intercessors,
[101] ﻭَﻻ ﺻَﺪﻳﻖٍ ﺣَﻤﻴﻢٍ
[101] এবং কোন সহৃদয় বন্ধু ও নেই।
[101] Nor a close friend (to help us).
[102] ﻓَﻠَﻮ ﺃَﻥَّ ﻟَﻨﺎ ﻛَﺮَّﺓً ﻓَﻨَﻜﻮﻥَ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[102] হায়, যদি কোনরুপে আমরা পৃথিবীতে
প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পেতাম, তবে আমরা
বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়ে যেতাম।
[102] (Alas!) If we only had a chance to
return (to the world), we shall truly be
among the believers!
[103] ﺇِﻥَّ ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻚَ ﻝَﺀﺍﻳَﺔً ۖ ﻭَﻣﺎ
ﻛﺎﻥَ ﺃَﻛﺜَﺮُﻫُﻢ ﻣُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[103] নিশ্চয়, এতে নিদর্শন আছে এবং
তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।
[103] Verily! In this is indeed a sign, yet
most of them are not believers.
[104] ﻭَﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻟَﻬُﻮَ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ
ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢُ
[104] আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী,
পরম দয়ালু।
[104] And verily, your Lord! He is truly
the All-Mighty, the Most Merciful.
[105] ﻛَﺬَّﺑَﺖ ﻗَﻮﻡُ ﻧﻮﺡٍ
ﺍﻟﻤُﺮﺳَﻠﻴﻦَ
[105] নূহের সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে
মিথ্যারোপ করেছে।
[105] The people of Nûh (Noah) belied
the Messengers.
[106] ﺇِﺫ ﻗﺎﻝَ ﻟَﻬُﻢ ﺃَﺧﻮﻫُﻢ ﻧﻮﺡٌ
ﺃَﻻ ﺗَﺘَّﻘﻮﻥَ
[106] যখন তাদের ভ্রাতা নূহ তাদেরকে
বললেন, তোমাদের কি ভয় নেই?
[106] When their brother Nûh (Noah)
said to them: “Will you not fear Allâh
and obey Him?
[107] ﺇِﻧّﻰ ﻟَﻜُﻢ ﺭَﺳﻮﻝٌ ﺃَﻣﻴﻦٌ
[107] আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত
বার্তাবাহক।
[107] “I am a trustworthy Messenger to
you.
[108] ﻓَﺎﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺃَﻃﻴﻌﻮﻥِ
[108] অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং
আমার আনুগত্য কর।
[108] “So fear Allâh, keep your duty to
Him, and obey me.
[109] ﻭَﻣﺎ ﺃَﺳـَٔﻠُﻜُﻢ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻣِﻦ
ﺃَﺟﺮٍ ۖ ﺇِﻥ ﺃَﺟﺮِﻯَ ﺇِﻟّﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﺭَﺏِّ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[109] আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোন
প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো বিশ্ব-
পালনকর্তাই দেবেন।
[109] “No reward do I ask of you for it
(my Message of Islâmic Monotheism), my
reward is only from the Lord of the
‘Alamîn (mankind, jinn and all that
exists).
[110] ﻓَﺎﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺃَﻃﻴﻌﻮﻥِ
[110] অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং
আমার আনুগত্য কর।
[110] “So keep your duty to Allâh, fear
Him and obey me.”
[111] ۞ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃَﻧُﺆﻣِﻦُ ﻟَﻚَ
ﻭَﺍﺗَّﺒَﻌَﻚَ ﺍﻷَﺭﺫَﻟﻮﻥَ
[111] তারা বলল, আমরা কি তোমাকে মেনে
নেব যখন তোমার অনুসরণ করছে
ইতরজনেরা?
[111] They said: “Shall we believe in you,
when the meanest (of the people) follow
you?”
[112] ﻗﺎﻝَ ﻭَﻣﺎ ﻋِﻠﻤﻰ ﺑِﻤﺎ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[112] নূহ বললেন, তারা কি কাজ করছে, তা জানা
আমার কি দরকার?
[112] He said: “And what knowledge
have I of what they used to do?
[113] ﺇِﻥ ﺣِﺴﺎﺑُﻬُﻢ ﺇِﻟّﺎ ﻋَﻠﻰٰ
ﺭَﺑّﻰ ۖ ﻟَﻮ ﺗَﺸﻌُﺮﻭﻥَ
[113] তাদের হিসাব নেয়া আমার পালনকর্তারই
কাজ; যদি তোমরা বুঝতে!
[113] “Their account is only with my
Lord, if you could (but) know.
[114] ﻭَﻣﺎ ﺃَﻧﺎ۠ ﺑِﻄﺎﺭِﺩِ ﺍﻟﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[114] আমি মুমিনগণকে তাড়িয়ে দেয়ার লোক
নই।
[114] “And I am not going to drive away
the believers.
[115] ﺇِﻥ ﺃَﻧﺎ۠ ﺇِﻟّﺎ ﻧَﺬﻳﺮٌ ﻣُﺒﻴﻦٌ
[115] আমি তো শুধু একজন সুস্পষ্ট
সতর্ককারী।
[115] I am only a plain warner.”
[116] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻟَﺌِﻦ ﻟَﻢ ﺗَﻨﺘَﻪِ ﻳٰﻨﻮﺡُ
ﻟَﺘَﻜﻮﻧَﻦَّ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤَﺮﺟﻮﻣﻴﻦَ
[116] তারা বলল, হে নূহ যদি তুমি বিরত না হও,
তবে তুমি নিশ্চিতই প্রস্তরাঘাতে নিহত হবে।
[116] They said: “If you cease not, O Nûh
(Noah)! You will surely be among those
stoned (to death).”
[117] ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﺇِﻥَّ ﻗَﻮﻣﻰ
ﻛَﺬَّﺑﻮﻥِ
[117] নূহ বললেন, হে আমার পালনকর্তা,
আমার সম্প্রদায় তো আমাকে মিথ্যাবাদী
বলছে।
[117] He said: “My Lord! Verily, my
people have belied me.
[118] ﻓَﺎﻓﺘَﺢ ﺑَﻴﻨﻰ ﻭَﺑَﻴﻨَﻬُﻢ
ﻓَﺘﺤًﺎ ﻭَﻧَﺠِّﻨﻰ ﻭَﻣَﻦ ﻣَﻌِﻰَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[118] অতএব, আমার ও তাদের মধ্যে কোন
ফয়সালা করে দিন এবং আমাকে ও আমার সংগী
মুমিনগণকে রক্ষা করুন।
[118] Therefore judge You between me
and them, and save me and those of the
believers who are with me.”
[119] ﻓَﺄَﻧﺠَﻴﻨٰﻪُ ﻭَﻣَﻦ ﻣَﻌَﻪُ ﻓِﻰ
ﺍﻟﻔُﻠﻚِ ﺍﻟﻤَﺸﺤﻮﻥِ
[119] অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর সঙ্গিগণকে
বোঝাই করা নৌকায় রক্ষা করলাম।
[119] And We saved him and those with
him in the laden ship.
[120] ﺛُﻢَّ ﺃَﻏﺮَﻗﻨﺎ ﺑَﻌﺪُ ﺍﻟﺒﺎﻗﻴﻦَ
[120] এরপর অবশিষ্ট সবাইকে নিমজ্জত
করলাম।
[120] Then We drowned the rest
(disbelievers) thereafter.
[121] ﺇِﻥَّ ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻚَ ﻝَﺀﺍﻳَﺔً ۖ ﻭَﻣﺎ
ﻛﺎﻥَ ﺃَﻛﺜَﺮُﻫُﻢ ﻣُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[121] নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে এবং
তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।
[121] Verily, in this is indeed a sign, yet
most of them are not believers.
[122] ﻭَﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻟَﻬُﻮَ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ
ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢُ
[122] নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রবল
পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
[122] And verily! Your Lord, He is indeed
the All-Mighty, the Most Merciful.
[123] ﻛَﺬَّﺑَﺖ ﻋﺎﺩٌ ﺍﻟﻤُﺮﺳَﻠﻴﻦَ
[123] আদ সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে
মিথ্যাবাদী বলেছে।
[123] ‘Ad (people) belied the Messengers.
[124] ﺇِﺫ ﻗﺎﻝَ ﻟَﻬُﻢ ﺃَﺧﻮﻫُﻢ ﻫﻮﺩٌ
ﺃَﻻ ﺗَﺘَّﻘﻮﻥَ
[124] তখন তাদের ভাই হুদ তাদেরকে
বললেনঃ তোমাদের কি ভয় নেই?
[124] When their brother Hûd said to
them: “Will you not fear Allâh and obey
Him?
[125] ﺇِﻧّﻰ ﻟَﻜُﻢ ﺭَﺳﻮﻝٌ ﺃَﻣﻴﻦٌ
[125] আমি তোমাদের বিশ্বস্ত রসূল।
[125] “Verily! I am a trustworthy
Messenger to you.
[126] ﻓَﺎﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺃَﻃﻴﻌﻮﻥِ
[126] অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং
আমার আনুগত্য কর।
[126] “So fear Allâh, keep your duty to
Him, and obey me.
[127] ﻭَﻣﺎ ﺃَﺳـَٔﻠُﻜُﻢ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻣِﻦ
ﺃَﺟﺮٍ ۖ ﺇِﻥ ﺃَﺟﺮِﻯَ ﺇِﻟّﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﺭَﺏِّ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[127] আমি তোমাদের কাছে এর জন্যে
প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো পালনকর্তা
দেবেন।
[127] “No reward do I ask of you for it
(my Message of Islâmic Monotheism), my
reward is only from the Lord of the
‘Alamîn (mankind, jinn, and all that
exists).
[128] ﺃَﺗَﺒﻨﻮﻥَ ﺑِﻜُﻞِّ ﺭﻳﻊٍ ﺀﺍﻳَﺔً
ﺗَﻌﺒَﺜﻮﻥَ
[128] তোমরা কি প্রতিটি উচ্চস্থানে অযথা
নিদর্শন নির্মান করছ?
[128] “Do you build high palaces on
every high place, while you do not live in
them?
[129] ﻭَﺗَﺘَّﺨِﺬﻭﻥَ ﻣَﺼﺎﻧِﻊَ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢ
ﺗَﺨﻠُﺪﻭﻥَ
[129] এবং বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করছ, যেন
তোমরা চিরকাল থাকবে?
[129] “And do you get for yourselves
palaces (fine buildings) as if you will live
therein for ever
[130] ﻭَﺇِﺫﺍ ﺑَﻄَﺸﺘُﻢ ﺑَﻄَﺸﺘُﻢ
ﺟَﺒّﺎﺭﻳﻦَ
[130] যখন তোমরা আঘাত হান, তখন জালেম ও
নিষ্ঠুরের মত আঘাত হান।
[130] “And when you seize (some body),
seize you (him) as tyrants?
[131] ﻓَﺎﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺃَﻃﻴﻌﻮﻥِ
[131] অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার
অনুগত্য কর।
[131] “So fear Allâh, keep your duty to
Him, and obey me.
[132] ﻭَﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺃَﻣَﺪَّﻛُﻢ ﺑِﻤﺎ
ﺗَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[132] ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে
সেসব বস্তু দিয়েছেন, যা তোমরা জান।
[132] “And keep your duty to Him, fear
Him Who has aided you with all (good
things) that you know.
[133] ﺃَﻣَﺪَّﻛُﻢ ﺑِﺄَﻧﻌٰﻢٍ ﻭَﺑَﻨﻴﻦَ
[133] তোমাদেরকে দিয়েছেন চতুষ্পদ
জন্তু ও পুত্র-সন্তান,
[133] “He has aided you with cattle and
children.
[134] ﻭَﺟَﻨّٰﺖٍ ﻭَﻋُﻴﻮﻥٍ
[134] এবং উদ্যান ও ঝরণা।
[134] “And gardens and springs.
[135] ﺇِﻧّﻰ ﺃَﺧﺎﻑُ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ
ﻋَﺬﺍﺏَ ﻳَﻮﻡٍ ﻋَﻈﻴﻢٍ
[135] আমি তোমাদের জন্যে মহাদিবসের
শাস্তি আশংকা করি।
[135] “Verily, I fear for you the torment
of a Great Day.”
[136] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺳَﻮﺍﺀٌ ﻋَﻠَﻴﻨﺎ
ﺃَﻭَﻋَﻈﺖَ ﺃَﻡ ﻟَﻢ ﺗَﻜُﻦ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻮٰﻋِﻈﻴﻦَ
[136] তারা বলল, তুমি উপদেশ দাও অথবা
উপদেশ নাই দাও, উভয়ই আমাদের জন্যে
সমান।
[136] They said: “It is the same to us
whether you preach or be not of those
who preach.
[137] ﺇِﻥ ﻫٰﺬﺍ ﺇِﻟّﺎ ﺧُﻠُﻖُ ﺍﻷَﻭَّﻟﻴﻦَ
[137] এসব কথাবার্তা পূর্ববর্তী লোকদের
অভ্যাস বৈ নয়।
[137] “This is no other than the false-
tales and religion of the ancients, [Tafsir
At-Tabarî].
[138] ﻭَﻣﺎ ﻧَﺤﻦُ ﺑِﻤُﻌَﺬَّﺑﻴﻦَ
[138] আমরা শাস্তিপ্রাপ্ত হব না।
[138] “And we are not going to be
punished.”
[139] ﻓَﻜَﺬَّﺑﻮﻩُ ﻓَﺄَﻫﻠَﻜﻨٰﻬُﻢ ۗ ﺇِﻥَّ
ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻚَ ﻝَﺀﺍﻳَﺔً ۖ ﻭَﻣﺎ ﻛﺎﻥَ
ﺃَﻛﺜَﺮُﻫُﻢ ﻣُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[139] অতএব, তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলতে
লাগল এবং আমি তাদেরকে নিপাত করে দিলাম।
এতে অবশ্যই নিদর্শন আছে; কিন্তু তাদের
অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।
[139] So they belied him, and We
destroyed them. Verily! In this is indeed
a sign, yet most of them are not believers
[140] ﻭَﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻟَﻬُﻮَ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ
ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢُ
[140] এবং আপনার পালনকর্তা, তিনি তো প্রবল
পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
[140] And verily, Your Lord, He is indeed
the All-Mighty, the Most Merciful.
[141] ﻛَﺬَّﺑَﺖ ﺛَﻤﻮﺩُ ﺍﻟﻤُﺮﺳَﻠﻴﻦَ
[141] সামুদ সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে
মিথ্যাবাদী বলেছে।
[141] Thamûd (people) belied the
Messengers.
[142] ﺇِﺫ ﻗﺎﻝَ ﻟَﻬُﻢ ﺃَﺧﻮﻫُﻢ
ﺻٰﻠِﺢٌ ﺃَﻻ ﺗَﺘَّﻘﻮﻥَ
[142] যখন তাদের ভাই সালেহ, তাদেরকে
বললেন, তোমরা কি ভয় কর না?
[142] When their brother Sâlih said to
them: “Will you not fear Allâh and obey
Him?
[143] ﺇِﻧّﻰ ﻟَﻜُﻢ ﺭَﺳﻮﻝٌ ﺃَﻣﻴﻦٌ
[143] আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।
[143] “I am a trustworthy Messenger to
you.
[144] ﻓَﺎﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺃَﻃﻴﻌﻮﻥِ
[144] অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার
আনুগত্য কর।
[144] “So fear Allâh, keep your duty to
Him, and obey me.
[145] ﻭَﻣﺎ ﺃَﺳـَٔﻠُﻜُﻢ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻣِﻦ
ﺃَﺟﺮٍ ۖ ﺇِﻥ ﺃَﺟﺮِﻯَ ﺇِﻟّﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﺭَﺏِّ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[145] আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে
কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব-
পালনকর্তাই দেবেন।
[145] “No reward do I ask of you for it
(my Message of Islâmic Monotheism), my
reward is only from the Lord of the
‘Alamîn (mankind, jinn and all that
exists).
[146] ﺃَﺗُﺘﺮَﻛﻮﻥَ ﻓﻰ ﻣﺎ ﻫٰﻬُﻨﺎ
ﺀﺍﻣِﻨﻴﻦَ
[146] তোমাদেরকে কি এ জগতের ভোগ-
বিলাসের মধ্যে নিরাপদে রেখে দেয়া
হবে?
[146] “Will you be left secure in that
which you have here?
[147] ﻓﻰ ﺟَﻨّٰﺖٍ ﻭَﻋُﻴﻮﻥٍ
[147] উদ্যানসমূহের মধ্যে এবং ঝরণাসমূহের
মধ্যে ?
[147] “In gardens and springs.
[148] ﻭَﺯُﺭﻭﻉٍ ﻭَﻧَﺨﻞٍ ﻃَﻠﻌُﻬﺎ
ﻫَﻀﻴﻢٌ
[148] শস্যক্ষেত্রের মধ্যে এবং মঞ্জুরিত
খেজুর বাগানের মধ্যে ?
[148] And green crops (fields) and date-
palms with soft spadix.
[149] ﻭَﺗَﻨﺤِﺘﻮﻥَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺠِﺒﺎﻝِ
ﺑُﻴﻮﺗًﺎ ﻓٰﺮِﻫﻴﻦَ
[149] তোমরা পাহাড় কেটে জাঁক জমকের
গৃহ নির্মাণ করছ।
[149] “And you hew out in the
mountains, houses, with great skill.
[150] ﻓَﺎﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺃَﻃﻴﻌﻮﻥِ
[150] সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং
আমার অনুগত্য কর।
[150] “So fear Allâh, keep your duty to
Him, and obey me.
[151] ﻭَﻻ ﺗُﻄﻴﻌﻮﺍ ﺃَﻣﺮَ
ﺍﻟﻤُﺴﺮِﻓﻴﻦَ
[151] এবং সীমালংঘনকারীদের আদেশ
মান্য কর না;
[151] “And follow not the command of
Al-Musrifûn [i.e. their chiefs, leaders
who were polytheists, criminals and
sinners],
[152] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳُﻔﺴِﺪﻭﻥَ ﻓِﻰ
ﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﻻ ﻳُﺼﻠِﺤﻮﻥَ
[152] যারা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে এবং
শান্তি স্থাপন করে না;
[152] “Who make mischief in the land,
and reform not.”
[153] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﺃَﻧﺖَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻤُﺴَﺤَّﺮﻳﻦَ
[153] তারা বলল, তুমি তো জাদুগ্রস্থুরেদ
একজন।
[153] They said: “You are only of those
bewitched!
[154] ﻣﺎ ﺃَﻧﺖَ ﺇِﻟّﺎ ﺑَﺸَﺮٌ ﻣِﺜﻠُﻨﺎ
ﻓَﺄﺕِ ﺑِـٔﺎﻳَﺔٍ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺖَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺼّٰﺪِﻗﻴﻦَ
[154] তুমি তো আমাদের মতই একজন মানুষ বৈ
নও। সুতরাং যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে কোন
নিদর্শন উপস্থিত কর।
[154] “You are but a human being like
us. Then bring us a sign if you are of the
truthful.”
[155] ﻗﺎﻝَ ﻫٰﺬِﻩِ ﻧﺎﻗَﺔٌ ﻟَﻬﺎ ﺷِﺮﺏٌ
ﻭَﻟَﻜُﻢ ﺷِﺮﺏُ ﻳَﻮﻡٍ ﻣَﻌﻠﻮﻡٍ
[155] সালেহ বললেন এই উষ্ট্রী, এর
জন্যে আছে পানি পানের পালা এবং
তোমাদের জন্যে আছে পানি পানের পালা
নির্দিষ্ট এক-এক দিনের।
[155] He said: “Here is a she-camel; it
has a right to drink (water), and you
have a right to drink (water) (each) on a
day, known
[156] ﻭَﻻ ﺗَﻤَﺴّﻮﻫﺎ ﺑِﺴﻮﺀٍ
ﻓَﻴَﺄﺧُﺬَﻛُﻢ ﻋَﺬﺍﺏُ ﻳَﻮﻡٍ ﻋَﻈﻴﻢٍ
[156] তোমরা একে কোন কষ্ট দিও না।
তাহলে তোমাদেরকে মহাদিবসের আযাব
পাকড়াও করবে।
[156] “And touch her not with harm, lest
the torment of a Great Day should seize
you.”
[157] ﻓَﻌَﻘَﺮﻭﻫﺎ ﻓَﺄَﺻﺒَﺤﻮﺍ
ﻧٰﺪِﻣﻴﻦَ
[157] তারা তাকে বধ করল ফলে, তারা অনুতপ্ত
হয়ে গেল।
[157] But they killed her, and then they
became regretful.
[158] ﻓَﺄَﺧَﺬَﻫُﻢُ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏُ ۗ ﺇِﻥَّ
ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻚَ ﻝَﺀﺍﻳَﺔً ۖ ﻭَﻣﺎ ﻛﺎﻥَ
ﺃَﻛﺜَﺮُﻫُﻢ ﻣُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[158] এরপর আযাব তাদেরকে পাকড়াও করল।
নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে। কিন্তু তাদের
অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।
[158] So the torment overtook them.
Verily, in this is indeed a sign, yet most
of them are not believers.
[159] ﻭَﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻟَﻬُﻮَ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ
ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢُ
[159] আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী,
পরম দয়ালু।
[159] And verily, Your Lord, He is indeed
the All-Mighty, the Most Merciful.
[160] ﻛَﺬَّﺑَﺖ ﻗَﻮﻡُ ﻟﻮﻁٍ
ﺍﻟﻤُﺮﺳَﻠﻴﻦَ
[160] লূতের সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে
মিথ্যাবাদী বলেছে।
[160] The prople of Lut (Lot) (who dwelt
in the town of Sodom in Palestine) belied
the Messengers.
[161] ﺇِﺫ ﻗﺎﻝَ ﻟَﻬُﻢ ﺃَﺧﻮﻫُﻢ ﻟﻮﻁٌ
ﺃَﻻ ﺗَﺘَّﻘﻮﻥَ
[161] যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে
বললেন, তোমরা কি ভয় কর না ?
[161] When their brother Lut (Lot) said
to them: “Will you not fear Allâh and
obey Him?
[162] ﺇِﻧّﻰ ﻟَﻜُﻢ ﺭَﺳﻮﻝٌ ﺃَﻣﻴﻦٌ
[162] আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।
[162] “Verily! I am a trustworthy
Messenger to you.
[163] ﻓَﺎﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺃَﻃﻴﻌﻮﻥِ
[163] অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং
আমার আনুগত্য কর।
[163] “So fear Allâh, keep your duty to
Him, and obey me.
[164] ﻭَﻣﺎ ﺃَﺳـَٔﻠُﻜُﻢ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻣِﻦ
ﺃَﺟﺮٍ ۖ ﺇِﻥ ﺃَﺟﺮِﻯَ ﺇِﻟّﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﺭَﺏِّ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[164] আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে
কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব-
পালনকর্তা দেবেন।
[164] “No reward do I ask of you for it
(my Message of Islâmic Monotheism), my
reward is only from the Lord of the
‘Alamîn (mankind, jinn and all that
exists).
[165] ﺃَﺗَﺄﺗﻮﻥَ ﺍﻟﺬُّﻛﺮﺍﻥَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[165] সারা জাহানের মানুষের মধ্যে তোমরাই
কি পুরূষদের সাথে কুকর্ম কর?
[165] “Go you in unto the males of the
‘Alamîn (mankind),
[166] ﻭَﺗَﺬَﺭﻭﻥَ ﻣﺎ ﺧَﻠَﻖَ ﻟَﻜُﻢ
ﺭَﺑُّﻜُﻢ ﻣِﻦ ﺃَﺯﻭٰﺟِﻜُﻢ ۚ ﺑَﻞ ﺃَﻧﺘُﻢ
ﻗَﻮﻡٌ ﻋﺎﺩﻭﻥَ
[166] এবং তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের
জন্যে যে স্ত্রীগনকে সৃষ্টি
করেছেন, তাদেরকে বর্জন কর? বরং
তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।
[166] “And leave those whom Allâh has
created for you to be your wives? Nay,
you are a trespassing people!”
[167] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻟَﺌِﻦ ﻟَﻢ ﺗَﻨﺘَﻪِ ﻳٰﻠﻮﻁُ
ﻟَﺘَﻜﻮﻧَﻦَّ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﺨﺮَﺟﻴﻦَ
[167] তারা বলল, হে লূত, তুমি যদি বিরত না হও,
তবে অবশ্যই তোমাকে বহিস্কৃত করা হবে।
[167] They said: “If you cease not. O Lut
(Lot)! Verily, you will be one of those
who are driven out!”
[168] ﻗﺎﻝَ ﺇِﻧّﻰ ﻟِﻌَﻤَﻠِﻜُﻢ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻘﺎﻟﻴﻦَ
[168] লূত বললেন, আমি তোমাদের এই
কাজকে ঘৃণা করি।
[168] He said: “I am, indeed, of those
who disapprove with severe anger and
fury your (this evil) action (of sodomy).
[169] ﺭَﺏِّ ﻧَﺠِّﻨﻰ ﻭَﺃَﻫﻠﻰ ﻣِﻤّﺎ
ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[169] হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এবং
আমার পরিবারবর্গকে তারা যা করে, তা থেকে
রক্ষা কর।
[169] “My Lord! Save me and my family
from what they do.”
[170] ﻓَﻨَﺠَّﻴﻨٰﻪُ ﻭَﺃَﻫﻠَﻪُ ﺃَﺟﻤَﻌﻴﻦَ
[170] অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর
পরিবারবর্গকে রক্ষা করলাম।
[170] So We saved him and his family,
all,
[171] ﺇِﻟّﺎ ﻋَﺠﻮﺯًﺍ ﻓِﻰ ﺍﻟﻐٰﺒِﺮﻳﻦَ
[171] এক বৃদ্ধা ব্যতীত, সে ছিল ধ্বংস
প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।
[171] Except an old woman (his wife)
among those who remained behind.
[172] ﺛُﻢَّ ﺩَﻣَّﺮﻧَﺎ ﺍﻝﺀﺍﺧَﺮﻳﻦَ
[172] এরপর অন্যদেরকে নিপাত করলাম।
[172] Then afterward We destroyed the
others.
[173] ﻭَﺃَﻣﻄَﺮﻧﺎ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻣَﻄَﺮًﺍ ۖ
ﻓَﺴﺎﺀَ ﻣَﻄَﺮُ ﺍﻟﻤُﻨﺬَﺭﻳﻦَ
[173] তাদের উপর এক বিশেষ বৃষ্টি বর্ষণ
করলাম। ভীতি-প্রদর্শিত দের জন্যে এই
বৃষ্টি ছিল কত নিকৃষ্ট।
[173] And We rained on them a rain (of
torment). And how evil was the rain of
those who had been warned.
[174] ﺇِﻥَّ ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻚَ ﻝَﺀﺍﻳَﺔً ۖ ﻭَﻣﺎ
ﻛﺎﻥَ ﺃَﻛﺜَﺮُﻫُﻢ ﻣُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[174] নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু
তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।
[174] Verily, in this is indeed a sign, yet
most of them are not believers.
[175] ﻭَﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻟَﻬُﻮَ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ
ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢُ
[175] নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তা প্রবল
পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
[175] And verily! Your Lord, He is indeed
the All-Mighty, the Most Merciful.
[176] ﻛَﺬَّﺏَ ﺃَﺻﺤٰﺐُ ﻟـَٔﻴﻜَﺔِ
ﺍﻟﻤُﺮﺳَﻠﻴﻦَ
[176] বনের অধিবাসীরা পয়গম্বরগণকে
মিথ্যাবাদী বলেছে।
[176] The dwellers of Al-Aikah [near
Madyan (Midian)] belied the Messengers.
[177] ﺇِﺫ ﻗﺎﻝَ ﻟَﻬُﻢ ﺷُﻌَﻴﺐٌ ﺃَﻻ
ﺗَﺘَّﻘﻮﻥَ
[177] যখন শো’আয়ব তাদের কে বললেন,
তোমরা কি ভয় কর না?
[177] When Shu’âib said to them: “Will
you not fear Allâh (and obey Him)?
[178] ﺇِﻧّﻰ ﻟَﻜُﻢ ﺭَﺳﻮﻝٌ ﺃَﻣﻴﻦٌ
[178] আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।
[178] “I am a trustworthy Messenger to
you.
[179] ﻓَﺎﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺃَﻃﻴﻌﻮﻥِ
[179] অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং
আমার আনুগত্য কর।
[179] “So fear Allâh, keep your duty to
Him, and obey me.
[180] ﻭَﻣﺎ ﺃَﺳـَٔﻠُﻜُﻢ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻣِﻦ
ﺃَﺟﺮٍ ۖ ﺇِﻥ ﺃَﺟﺮِﻯَ ﺇِﻟّﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﺭَﺏِّ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[180] আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোন
প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব-
পালনকর্তাই দেবেন।
[180] “No reward do I ask of you for it
(my Message of Islâmic Monotheism), my
reward is only from the Lord of the
‘Alamîn (mankind, jinn and all that
exists).
[181] ۞ ﺃَﻭﻓُﻮﺍ ﺍﻟﻜَﻴﻞَ ﻭَﻻ
ﺗَﻜﻮﻧﻮﺍ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﺨﺴِﺮﻳﻦَ
[181] মাপ পূর্ণ কর এবং যারা পরিমাপে কম
দেয়, তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
[181] “Give full measure, and cause no
loss (to others).
[182] ﻭَﺯِﻧﻮﺍ ﺑِﺎﻟﻘِﺴﻄﺎﺱِ
ﺍﻟﻤُﺴﺘَﻘﻴﻢِ
[182] সোজা দাঁড়ি-পাল্লায় ওজন কর।
[182] “And weigh with the true and
straight balance.
[183] ﻭَﻻ ﺗَﺒﺨَﺴُﻮﺍ ﺍﻟﻨّﺎﺱَ
ﺃَﺷﻴﺎﺀَﻫُﻢ ﻭَﻻ ﺗَﻌﺜَﻮﺍ ﻓِﻰ
ﺍﻷَﺭﺽِ ﻣُﻔﺴِﺪﻳﻦَ
[183] মানুষকে তাদের বস্তু কম দিও না এবং
পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে ফিরো না।
[183] “And defraud not people by
reducing their things, nor do evil,
making corruption and mischief in the
land.
[184] ﻭَﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ
ﻭَﺍﻟﺠِﺒِﻠَّﺔَ ﺍﻷَﻭَّﻟﻴﻦَ
[184] ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে এবং
তোমাদের পূর্ববর্তী লোক-সম্প্রদায়কে
সৃষ্টি করেছেন।
[184] “And fear Him Who created you
and the generations of the men of old.”
[185] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﺃَﻧﺖَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻤُﺴَﺤَّﺮﻳﻦَ
[185] তারা বলল, তুমি তো জাদুগ্রস্তদের
অন্যতম।
[185] They said: “You are only one of
those bewitched!
[186] ﻭَﻣﺎ ﺃَﻧﺖَ ﺇِﻟّﺎ ﺑَﺸَﺮٌ ﻣِﺜﻠُﻨﺎ
ﻭَﺇِﻥ ﻧَﻈُﻨُّﻚَ ﻟَﻤِﻦَ ﺍﻟﻜٰﺬِﺑﻴﻦَ
[186] তুমি আমাদের মত মানুষ বৈ তো নও।
আমাদের ধারণা-তুমি মিথ্যাবাদীদের
অন্তর্ভুক্ত।
[186] “You are but a human being like us
and verily, we think that you are one of
the liars!
[187] ﻓَﺄَﺳﻘِﻂ ﻋَﻠَﻴﻨﺎ ﻛِﺴَﻔًﺎ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺖَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺼّٰﺪِﻗﻴﻦَ
[187] অতএব, যদি সত্যবাদী হও, তবে
আকাশের কোন টুকরো আমাদের উপর
ফেলে দাও।
[187] “So cause a piece of the heaven to
fall on us, if you are of the truthful!”
[188] ﻗﺎﻝَ ﺭَﺑّﻰ ﺃَﻋﻠَﻢُ ﺑِﻤﺎ
ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[188] শো’আয়ব বললেন, তোমরা যা কর,
সে সম্পর্কে আমার পালনকর্তা ভালরূপে
অবহিত।
[188] He said: “My Lord is the Best
Knower of what you do.”
[189] ﻓَﻜَﺬَّﺑﻮﻩُ ﻓَﺄَﺧَﺬَﻫُﻢ ﻋَﺬﺍﺏُ
ﻳَﻮﻡِ ﺍﻟﻈُّﻠَّﺔِ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛﺎﻥَ ﻋَﺬﺍﺏَ
ﻳَﻮﻡٍ ﻋَﻈﻴﻢٍ
[189] অতঃপর তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলে দিল।
ফলে তাদেরকে মেঘাচ্ছন্ন দিবসের
আযাব পাকড়াও করল। নিশ্চয় সেটা ছিল এক
মহাদিবসের আযাব।
[189] But they belied him, so the torment
of the day of shadow (a gloomy cloud)
seized them, indeed that was the torment
of a Great Day.
[190] ﺇِﻥَّ ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻚَ ﻝَﺀﺍﻳَﺔً ۖ ﻭَﻣﺎ
ﻛﺎﻥَ ﺃَﻛﺜَﺮُﻫُﻢ ﻣُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[190] নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু
তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
[190] Verily, in this is indeed a sign, yet
most of them are not believers.
[191] ﻭَﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻟَﻬُﻮَ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ
ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢُ
[191] নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রবল
পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
[191] And verily! Your Lord, He is indeed
the All-Mighty, the Most Merciful.
[192] ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﺘَﻨﺰﻳﻞُ ﺭَﺏِّ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[192] এই কোরআন তো বিশ্ব-জাহানের
পালনকর্তার নিকট থেকে অবতীর্ণ।
[192] And truly, this (the Qur’ân) is a
revelation from the Lord of the ‘Alamîn
(mankind, jinn and all that exists),
[193] ﻧَﺰَﻝَ ﺑِﻪِ ﺍﻟﺮّﻭﺡُ ﺍﻷَﻣﻴﻦُ
[193] বিশ্বস্ত ফেরেশতা একে নিয়ে
অবতরণ করেছে।
[193] Which the trustworthy Rûh [Jibril
(Gabriel)] has brought down;
[194] ﻋَﻠﻰٰ ﻗَﻠﺒِﻚَ ﻟِﺘَﻜﻮﻥَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻤُﻨﺬِﺭﻳﻦَ
[194] আপনার অন্তরে, যাতে আপনি ভীতি
প্রদর্শণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন,
[194] Upon your heart (O Muhammad
SAW) that you may be (one) of the
warners,
[195] ﺑِﻠِﺴﺎﻥٍ ﻋَﺮَﺑِﻰٍّ ﻣُﺒﻴﻦٍ
[195] সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।
[195] In the plain Arabic language.
[196] ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻔﻰ ﺯُﺑُﺮِ ﺍﻷَﻭَّﻟﻴﻦَ
[196] নিশ্চয় এর উল্লেখ আছে
পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে।
[196] And verily, it (the Qur’ân, and its
revelation to Prophet Muhammad SAW)
is (announced) in the Scriptures [i.e. the
Taurât (Torah) and the Injeel (Gospel)] of
former people.
[197] ﺃَﻭَﻟَﻢ ﻳَﻜُﻦ ﻟَﻬُﻢ ﺀﺍﻳَﺔً ﺃَﻥ
ﻳَﻌﻠَﻤَﻪُ ﻋُﻠَﻤٰﺆُﺍ۟ ﺑَﻨﻰ ﺇِﺳﺮٰﺀﻳﻞَ
[197] তাদের জন্যে এটা কি নিদর্শন নয় যে,
বনী-ইসরাঈলের আলেমগণ এটা অবগত
আছে?
[197] Is it not a sign to them that the
learned scholars (like ‘Abdullâh bin
Salâm radhiallahu’anhu who embraced
Islâm) of the Children of Israel knew it
(as true)?
[198] ﻭَﻟَﻮ ﻧَﺰَّﻟﻨٰﻪُ ﻋَﻠﻰٰ ﺑَﻌﺾِ
ﺍﻷَﻋﺠَﻤﻴﻦَ
[198] যদি আমি একে কোন ভিন্নভাষীর প্রতি
অবতীর্ণ করতাম,
[198] And if We had revealed it (this
Qur’ân) unto any of the non-Arabs,
[199] ﻓَﻘَﺮَﺃَﻩُ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﺑِﻪِ ﻣُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[199] অতঃপর তিনি তা তাদের কাছে পাঠ
করতেন, তবে তারা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করত
না।
[199] And he had recited it unto them,
they would not have believed in it.
[200] ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﺳَﻠَﻜﻨٰﻪُ ﻓﻰ ﻗُﻠﻮﺏِ
ﺍﻟﻤُﺠﺮِﻣﻴﻦَ
[200] এমনিভাবে আমি গোনাহগারদের
অন্তরে অবিশ্বাস সঞ্চার করেছি।
[200] Thus have We caused it (the denial
of the Qur’ân) to enter the hearts of the
Mûjrimûn (criminals, polytheists,
sinners).
[201] ﻻ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ ﺑِﻪِ ﺣَﺘّﻰٰ
ﻳَﺮَﻭُﺍ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏَ ﺍﻷَﻟﻴﻢَ
[201] তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে না,
যে পর্যন্ত প্রত্যক্ষ না করে মর্মন্তুদ
আযাব।
[201] They will not believe in it until
they see the painful torment,
[202] ﻓَﻴَﺄﺗِﻴَﻬُﻢ ﺑَﻐﺘَﺔً ﻭَﻫُﻢ ﻻ
ﻳَﺸﻌُﺮﻭﻥَ
[202] অতঃপর তা আকস্মিকভাবে তাদের কাছে
এসে পড়বে, তারা তা বুঝতে ও পারবে না।
[202] It shall come to them of a sudden,
while they perceive it not.
[203] ﻓَﻴَﻘﻮﻟﻮﺍ ﻫَﻞ ﻧَﺤﻦُ
ﻣُﻨﻈَﺮﻭﻥَ
[203] তখন তারা বলবে, আমরা কি অবকাশ পাব
না?
[203] Then they will say: “Can we be
respited?”
[204] ﺃَﻓَﺒِﻌَﺬﺍﺑِﻨﺎ ﻳَﺴﺘَﻌﺠِﻠﻮﻥَ
[204] তারা কি আমার শাস্তি দ্রুত কামনা করে?
[204] Would they then wish for Our
Torment to be hastened on?
[205] ﺃَﻓَﺮَﺀَﻳﺖَ ﺇِﻥ ﻣَﺘَّﻌﻨٰﻬُﻢ
ﺳِﻨﻴﻦَ
[205] আপনি ভেবে দেখুন তো, যদি আমি
তাদেরকে বছরের পর বছর ভোগ-বিলাস
করতে দেই,
[205] Tell Me, (even) if We do let them
enjoy for years,
[206] ﺛُﻢَّ ﺟﺎﺀَﻫُﻢ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻳﻮﻋَﺪﻭﻥَ
[206] অতঃপর যে বিষয়ে তাদেরকে ওয়াদা
দেয়া হত, তা তাদের কাছে এসে পড়ে।
[206] And afterwards comes to them that
(punishment) which they had been
promised!
[207] ﻣﺎ ﺃَﻏﻨﻰٰ ﻋَﻨﻬُﻢ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻳُﻤَﺘَّﻌﻮﻥَ
[207] তখন তাদের ভোগ বিলাস তা তাদের কি
কোন উপকারে আসবে?
[207] All that with which they used to
enjoy shall not avail them.
[208] ﻭَﻣﺎ ﺃَﻫﻠَﻜﻨﺎ ﻣِﻦ ﻗَﺮﻳَﺔٍ ﺇِﻟّﺎ
ﻟَﻬﺎ ﻣُﻨﺬِﺭﻭﻥَ
[208] আমি কোন জনপদ ধ্বংস করিনি; কিন্তু
এমতাবস্থায় যে, তারা সতর্ককারী ছিল।
[208] And never did We destroy a
township, but it had its warners
[209] ﺫِﻛﺮﻯٰ ﻭَﻣﺎ ﻛُﻨّﺎ ﻇٰﻠِﻤﻴﻦَ
[209] স্মরণ করানোর জন্যে, এবং আমার কাজ
অন্যায়াচরণ নয়।
[209] By way of reminder, and We have
never been unjust.
[210] ﻭَﻣﺎ ﺗَﻨَﺰَّﻟَﺖ ﺑِﻪِ ﺍﻟﺸَّﻴٰﻄﻴﻦُ
[210] এই কোরআন শয়তানরা অবতীর্ণ
করেনি।
[210] And it is not the Shayâtin (devils)
who have brought it (this Qur’ân) down,
[211] ﻭَﻣﺎ ﻳَﻨﺒَﻐﻰ ﻟَﻬُﻢ ﻭَﻣﺎ
ﻳَﺴﺘَﻄﻴﻌﻮﻥَ
[211] তারা এ কাজের উপযুক্ত নয় এবং তারা এর
সামর্থøও রাখে না।
[211] Neither would it suit them, nor
they can (produce it).
[212] ﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻋَﻦِ ﺍﻟﺴَّﻤﻊِ
ﻟَﻤَﻌﺰﻭﻟﻮﻥَ
[212] তাদেরকে তো শ্রবণের জায়গা
থেকে দূরে রাখা রয়েছে।
[212] Verily, they have been removed far
from hearing it.
[213] ﻓَﻼ ﺗَﺪﻉُ ﻣَﻊَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻟٰﻬًﺎ
ﺀﺍﺧَﺮَ ﻓَﺘَﻜﻮﻥَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﻌَﺬَّﺑﻴﻦَ
[213] অতএব, আপনি আল্লাহর সাথে অন্য
উপাস্যকে আহবান করবেন না। করলে
শাস্তিতে পতিত হবেন।
[213] So invoke not with Allâh another
ilâh (god) lest you be among those who
receive punishment.
[214] ﻭَﺃَﻧﺬِﺭ ﻋَﺸﻴﺮَﺗَﻚَ
ﺍﻷَﻗﺮَﺑﻴﻦَ
[214] আপনি নিকটতম আত্মীয়দেরকে
সতর্ক করে দিন।
[214] And warn your tribe (O
Muhammad SAW) of near kindred
[215] ﻭَﺍﺧﻔِﺾ ﺟَﻨﺎﺣَﻚَ ﻟِﻤَﻦِ
ﺍﺗَّﺒَﻌَﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[215] এবং আপনার অনুসারী মুমিনদের প্রতি
সদয় হোন।
[215] And be kind and humble to the
believers who follow you.
[216] ﻓَﺈِﻥ ﻋَﺼَﻮﻙَ ﻓَﻘُﻞ ﺇِﻧّﻰ
ﺑَﺮﻱﺀٌ ﻣِﻤّﺎ ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[216] যদি তারা আপনার অবাধ্য করে, তবে
বলে দিন, তোমরা যা কর, তা থেকে আমি
মুক্ত।
[216] Then if they disobey you, say: “I
am innocent of what you do.”
[217] ﻭَﺗَﻮَﻛَّﻞ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰِ
ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ
[217] আপনি ভরসা করুন পরাক্রমশালী, পরম
দয়ালুর উপর,
[217] And put your trust in the All-
Mighty, the Most Merciful,
[218] ﺍﻟَّﺬﻯ ﻳَﺮﻯٰﻚَ ﺣﻴﻦَ ﺗَﻘﻮﻡُ
[218] যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি
নামাযে দন্ডায়মান হন,
[218] Who sees you (O Muhammad SAW)
when you stand up (alone at night for
Tahajjud prayers).
[219] ﻭَﺗَﻘَﻠُّﺒَﻚَ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴّٰﺠِﺪﻳﻦَ
[219] এবং নামাযীদের সাথে উঠাবসা করেন।
[219] And your movements among those
who fall prostrate (to Allâh in the five
compulsory congregational prayers).
[220] ﺇِﻧَّﻪُ ﻫُﻮَ ﺍﻟﺴَّﻤﻴﻊُ ﺍﻟﻌَﻠﻴﻢُ
[220] নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
[220] Verily, He, only He, is the All-
Hearer, the All-Knower.
[221] ﻫَﻞ ﺃُﻧَﺒِّﺌُﻜُﻢ ﻋَﻠﻰٰ ﻣَﻦ
ﺗَﻨَﺰَّﻝُ ﺍﻟﺸَّﻴٰﻄﻴﻦُ
[221] আমি আপনাকে বলব কি কার নিকট
শয়তানরা অবতরণ করে?
[221] Shall I inform you (O people!) upon
whom the Shayâtin (devils) descend?
[222] ﺗَﻨَﺰَّﻝُ ﻋَﻠﻰٰ ﻛُﻞِّ ﺃَﻓّﺎﻙٍ ﺃَﺛﻴﻢٍ
[222] তারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক
মিথ্যাবাদী, গোনাহগারের উপর।
[222] They descend on every lying, sinful
person.
[223] ﻳُﻠﻘﻮﻥَ ﺍﻟﺴَّﻤﻊَ ﻭَﺃَﻛﺜَﺮُﻫُﻢ
ﻛٰﺬِﺑﻮﻥَ
[223] তারা শ্রুত কথা এনে দেয় এবং তাদের
অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
[223] Who gives ear (to the devils and
they pour what they may have heard of
the unseen from the angels), and most of
them are liars.
[224] ﻭَﺍﻟﺸُّﻌَﺮﺍﺀُ ﻳَﺘَّﺒِﻌُﻬُﻢُ
ﺍﻟﻐﺎﻭۥﻥَ
[224] বিভ্রান্ত লোকেরাই কবিদের অনুসরণ
করে।
[224] As for the poets, the erring ones
follow them,
[225] ﺃَﻟَﻢ ﺗَﺮَ ﺃَﻧَّﻬُﻢ ﻓﻰ ﻛُﻞِّ ﻭﺍﺩٍ
ﻳَﻬﻴﻤﻮﻥَ
[225] তুমি কি দেখ না যে, তারা প্রতি ময়দানেই
উদভ্রান্ত হয়ে ফিরে?
[225] See you not that they speak about
every subject (praising people – right or
wrong) in their poetry?
[226] ﻭَﺃَﻧَّﻬُﻢ ﻳَﻘﻮﻟﻮﻥَ ﻣﺎ ﻻ
ﻳَﻔﻌَﻠﻮﻥَ
[226] এবং এমন কথা বলে, যা তারা করে না।
[226] And that they say what they do not
do.
[227] ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ
ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤٰﺖِ ﻭَﺫَﻛَﺮُﻭﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻛَﺜﻴﺮًﺍ
ﻭَﺍﻧﺘَﺼَﺮﻭﺍ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِ ﻣﺎ ﻇُﻠِﻤﻮﺍ ۗ
ﻭَﺳَﻴَﻌﻠَﻢُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻇَﻠَﻤﻮﺍ ﺃَﻯَّ
ﻣُﻨﻘَﻠَﺐٍ ﻳَﻨﻘَﻠِﺒﻮﻥَ
[227] তবে তাদের কথা ভিন্ন, যারা বিশ্বাস
স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং আল্লাহ
কে খুব স্মরণ করে এবং নিপীড়িত হওয়ার পর
প্রতিশোধ গ্রহণ করে। নিপীড়নকারীরা
শীঘ্রই জানতে পারবে তাদের গন্তব্যস্থল
কিরূপ।
[227] Except those who believe (in the
Oneness of Allâh — Islâmic Monotheism),
and do righteous deeds, and remember
Allâh much and vindicate themselves
after they have been wronged [by
replying back in the poetry to the unjust
poetry (which the pagan poets utter
against the Muslims)]. And those who do
wrong will come to know by what
overturning they will be overturned.
Surah Al Shu’ara Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. ত্বা, সীন, মীম। 2. এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত। 3. তারা বিশ্বাস করে না বলে আপনি হয়তো মর্মব্যথায় আত্নঘাতী হবেন। 4. আমি যদি ইচ্ছা করি, তবে আকাশ থেকে তাদের কাছে কোন নিদর্শন নাযিল করতে পারি। অতঃপর তারা এর সামনে নত হয়ে যাবে। 5. যখনই তাদের কাছে রহমান এর কোন নতুন উপদেশ আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। 6. অতএব তারা তো মিথ্যারোপ করেছেই; সুতরাং যে বিষয় নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত, তার যথার্থ স্বরূপ শীঘ্রই তাদের কাছে পৌছবে। 7. তারা কি ভুপৃষ্ঠের প্রতি দৃষ্টিপাত করে না? আমি তাতে সর্বপ্রকার বিশেষ-বস্তু কত উদগত করেছি। 8. নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়। 9. আপনার পালনকর্তা তো পরাক্রমশালী পরম দয়ালু। 10. যখন আপনার পালনকর্তা মূসাকে ডেকে বললেনঃ তুমি পাপিষ্ঠ সম্প্রদায়ের নিকট যাও; 11. ফেরাউনের সম্প্রদায়ের নিকট; তারা কি ভয় করে না? 12. সে বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমার আশংকা হচ্ছে যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে দেবে। 13. এবং আমার মন হতবল হয়ে পড়ে এবং আমার জিহবা অচল হয়ে যায়। সুতরাং হারুনের কাছে বার্তা প্রেরণ করুন। 14. আমার বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ আছে। অতএব আমি আশংকা করি যে, তারা আমাকে হত্যা করবে। 15. আল্লাহ বলেন, কখনই নয় তোমরা উভয়ে যাও আমার নিদর্শনাবলী নিয়ে। আমি তোমাদের সাথে থেকে শোনব। 16. অতএব তোমরা ফেরআউনের কাছে যাও এবং বল, আমরা বিশ্বজগতের পালনকর্তার রসূল। 17. যাতে তুমি বনী- ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও। 18. ফেরাউন বলল, আমরা কি তোমাকে শিশু অবস্থায় আমাদের মধ্যে লালন- পালন করিনি? এবং তুমি আমাদের মধ্যে জীবনের বহু বছর কাটিয়েছ। 19. তুমি সেই-তোমরা অপরাধ যা করবার করেছ। তুমি হলে কৃতঘ্ন। 20. মূসা বলল, আমি সে অপরাধ তখন করেছি, যখন আমি ভ্রান্ত ছিলাম। 21. অতঃপর আমি ভীত হয়ে তোমাদের কাছ থেকে পলায়ন করলাম। এরপর আমার পালনকর্তা আমাকে প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং আমাকে পয়গম্বর করেছেন। 22. আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা বলছ, তা এই যে, তুমি বনী-ইসলাঈলকে গোলাম বানিয়ে রেখেছ। 23. ফেরাউন বলল, বিশ্বজগতের পালনকর্তা আবার কি? 24. মূসা বলল, তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা যদি তোমরা বিশ্বাসী হও। 25. ফেরাউন তার পরিষদবর্গকে বলল, তোমরা কি শুনছ না? 26. মূসা বলল, তিনি তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরও পালনকর্তা। 27. ফেরাউন বলল, তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের রসূলটি নিশ্চয়ই বদ্ধ পাগল। 28. মূসা বলল, তিনি পূর্ব, পশ্চিম ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছুর পালনকর্তা, যদি তোমরা বোঝ। 29. ফেরাউন বলল, তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্যকে উপাস্যরূপে গ্রহণ কর তবে আমি অবশ্যই তোমাকে কারাগারে নিক্ষেপ করব। 30. মূসা বলল, আমি তোমার কাছে কোন স্পষ্ট বিষয় নিয়ে আগমন করলেও কি? 31. ফেরাউন বলল, তুমি সত্যবাদী হলে তা উপস্থিত কর। 32. অতঃপর তিনি লাঠি নিক্ষেপ করলে মুহূর্তের মধ্যে তা সুস্পষ্ট অজগর হয়ে গেল। 33. আর তিনি তার হাত বের করলেন, তৎক্ষণাৎ তা দর্শকদের কাছে সুশুভ্র প্রতিভাত হলো। 34. ফেরাউন তার পরিষদবর্গকে বলল, নিশ্চয় এ একজন সুদক্ষ জাদুকর। 35. সে তার জাদু বলে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বহিস্কার করতে চায়। অতএব তোমাদের মত কি? 36. তারা বলল, তাকে ও তার ভাইকে কিছু অবকাশ দিন এবং শহরে শহরে ঘোষক প্রেরণ করুন। 37. তারা যেন আপনার কাছে প্রত্যেকটি দক্ষ জাদুকর কে উপস্থিত করে। 38. অতঃপর এক নির্দিষ্ট দিনে জাদুকরদেরকে একত্রিত করা হল। 39. এবং জনগণের মধ্যে ঘোষণা করা হল, তোমরাও সমবেত হও। 40. যাতে আমরা জাদুকরদের অনুসরণ করতে পারি-যদি তারাই বিজয়ী হয়। 41. যখন যাদুকররা আগমণ করল, তখন ফেরআউনকে বলল, যদি আমরা বিজয়ী হই, তবে আমরা পুরস্কার পাব তো? 42. ফেরাউন বলল, হঁ্যা এবং তখন তোমরা আমার নৈকট্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবে। 43. মূসা (আঃ) তাদেরকে বললেন, নিক্ষেপ কর তোমরা যা নিক্ষেপ করবে। 44. অতঃপর তারা তাদের রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করল এবং বলল, ফেরাউনের ইযযতের কসম, আমরাই বিজয়ী হব। 45. অতঃপর মূসা তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করল, হঠাৎ তা তাদের অলীক কীর্তিগুলোকে গ্রাস করতে লাগল। 46. তখন জাদুকররা সেজদায় নত হয়ে গেল। 47. তারা বলল, আমরা রাব্বুল আলামীনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। 48. যিনি মূসা ও হারুনের রব। 49. ফেরাউন বলল, আমার অনুমতি দানের পূর্বেই তোমরা কি তাকে মেনে নিলে? নিশ্চয় সে তোমাদের প্রধান, যে তোমাদেরকে জাদু শিক্ষা দিয়েছে। শীঘ্রই তোমরা পরিণাম জানতে পারবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কর্তন করব। এবং তোমাদের সবাইকে শূলে চড়াব। 50. তারা বলল, কোন ক্ষতি নেই। আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন করব। 51. আমরা আশা করি, আমাদের পালনকর্তা আমাদের ক্রটি- বিচ্যুতি মার্জনা করবেন। কারণ, আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারীদের মধ্যে অগ্রণী। 52. আমি মূসাকে আদেশ করলাম যে, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিযোগে বের হয়ে যাও, নিশ্চয় তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে। 53. অতঃপর ফেরাউন শহরে শহরে সংগ্রাহকদেরকে প্রেরণ করল, 54. নিশ্চয় এরা (বনী- ইসরাঈলরা) ক্ষুদ্র একটি দল। 55. এবং তারা আমাদের ক্রোধের উদ্রেক করেছে। 56. এবং আমরা সবাই সদা শংকিত। 57. অতঃপর আমি ফেরআউনের দলকে তাদের বাগ- বাগিচা ও ঝর্ণাসমূহ থেকে বহিষ্কার করলাম। 58. এবং ধন-ভান্ডার ও মনোরম স্থানসমূহ থেকে। 59. এরূপই হয়েছিল এবং বনী- ইসলাঈলকে করে দিলাম এসবের মালিক। 60. অতঃপর সুর্যোদয়ের সময় তারা তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল। 61. যখন উভয় দল পরস্পরকে দেখল, তখন মূসার সঙ্গীরা বলল, আমরা যে ধরা পড়ে গেলাম। 62. মূসা বলল, কখনই নয়, আমার সাথে আছেন আমার পালনকর্তা। তিনি আমাকে পথ বলে দেবেন। 63. অতঃপর আমি মূসাকে আদেশ করলাম, তোমার লাঠি দ্বারা সমূদ্রকে আঘাত কর। ফলে, তা বিদীর্ণ হয়ে গেল এবং প্রত্যেক ভাগ বিশাল পর্বতসদৃশ হয়ে গেল। 64. আমি সেথায় অপর দলকে পৌঁছিয়ে দিলাম। 65. এবং মূসা ও তাঁর সংগীদের সবাইকে বাঁচিয়ে দিলাম। 66. অতঃপর অপর দলটিকে নিমজ্জত কললাম। 67. নিশ্চয় এতে একটি নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী ছিল না। 68. আপনার পালনকর্তা অবশ্যই পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। 69. আর তাদেরকে ইব্রাহীমের বৃত্তান্ত শুনিয়ে দিন। 70. যখন তাঁর পিতাকে এবং তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, তোমরা কিসের এবাদত কর? 71. তারা বলল, আমরা প্রতিমার পূজা করি এবং সারাদিন এদেরকেই নিষ্ঠার সাথে আঁকড়ে থাকি। 72. ইব্রাহীম (আঃ) বললেন, তোমরা যখন আহবান কর, তখন তারা শোনে কি? 73. অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে? 74. তারা বললঃ না, তবে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি, তারা এরূপই করত। 75. ইব্রাহীম বললেন, তোমরা কি তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ, যাদের পূজা করে আসছ। 76. তোমরা এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষেরা? 77. বিশ্বপালনকর্তা ব্যতীত তারা সবাই আমার শত্রু। 78. যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনিই আমাকে পথপ্রদর্শন করেন, 79. যিনি আমাকে আহার এবং পানীয় দান করেন, 80. যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন। 81. যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, অতঃপর পুনর্জীবন দান করবেন। 82. আমি আশা করি তিনিই বিচারের দিনে আমার ক্রটি-বিচ্যুতি মাফ করবেন। 83. হে আমার পালনকর্তা, আমাকে প্রজ্ঞা দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত কর 84. এবং আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী কর। 85. এবং আমাকে নেয়ামত উদ্যানের অধিকারীদের অন্তর্ভূক্ত কর। 86. এবং আমার পিতাকে ক্ষমা কর। সে তো পথভ্রষ্টদের অন্যতম। 87. এবং পূনরুত্থান দিবসে আমাকে লাঞ্ছিত করো না, 88. যে দিবসে ধন-সম্পদ ও সন্তান সন্ততি কোন উপকারে আসবে না; 89. কিন্তু যে সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে। 90. জান্নাত আল্লাহভীরুদের নিকটবর্তী করা হবে। 91. এবং বিপথগামীদের সামনে উম্মোচিত করা হবে জাহান্নাম। 92. তাদেরকে বলা হবেঃ তারা কোথায়, তোমরা যাদের পূজা করতে। 93. আল্লাহর পরিবর্তে? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে, অথবা তারা প্রতিশোধ নিতে পারে? 94. অতঃপর তাদেরকে এবং পথভ্রষ্টদেরকে আধোমুখি করে নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামে। 95. এবং ইবলীস বাহিনীর সকলকে। 96. তারা তথায় কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয়ে বলবেঃ 97. আল্লাহর কসম, আমরা প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিলাম। 98. যখন আমরা তোমাদেরকে বিশ্ব-পালনকর্তার সমতুল্য গন্য করতাম। 99. আমাদেরকে দুষ্টকর্মীরাই গোমরাহ করেছিল। 100. অতএব আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই। 101. এবং কোন সহৃদয় বন্ধু ও নেই। 102. হায়, যদি কোনরুপে আমরা পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পেতাম, তবে আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়ে যেতাম। 103. নিশ্চয়, এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়। 104. আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। 105. নূহের সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যারোপ করেছে। 106. যখন তাদের ভ্রাতা নূহ তাদেরকে বললেন, তোমাদের কি ভয় নেই? 107. আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত বার্তাবাহক। 108. অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর। 109. আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো বিশ্ব-পালনকর্তাই দেবেন। 110. অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর। 111. তারা বলল, আমরা কি তোমাকে মেনে নেব যখন তোমার অনুসরণ করছে ইতরজনেরা? 112. নূহ বললেন, তারা কি কাজ করছে, তা জানা আমার কি দরকার? 113. তাদের হিসাব নেয়া আমার পালনকর্তারই কাজ; যদি তোমরা বুঝতে! 114. আমি মুমিনগণকে তাড়িয়ে দেয়ার লোক নই। 115. আমি তো শুধু একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী। 116. তারা বলল, হে নূহ যদি তুমি বিরত না হও, তবে তুমি নিশ্চিতই প্রস্তরাঘাতে নিহত হবে। 117. নূহ বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় তো আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে। 118. অতএব, আমার ও তাদের মধ্যে কোন ফয়সালা করে দিন এবং আমাকে ও আমার সংগী মুমিনগণকে রক্ষা করুন। 119. অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর সঙ্গিগণকে বোঝাই করা নৌকায় রক্ষা করলাম। 120. এরপর অবশিষ্ট সবাইকে নিমজ্জত করলাম। 121. নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়। 122. নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। 123. আদ সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে। 124. তখন তাদের ভাই হুদ তাদেরকে বললেনঃ তোমাদের কি ভয় নেই? 125. আমি তোমাদের বিশ্বস্ত রসূল। 126. অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর। 127. আমি তোমাদের কাছে এর জন্যে প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো পালনকর্তা দেবেন। 128. তোমরা কি প্রতিটি উচ্চস্থানে অযথা নিদর্শন নির্মান করছ? 129. এবং বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করছ, যেন তোমরা চিরকাল থাকবে? 130. যখন তোমরা আঘাত হান, তখন জালেম ও নিষ্ঠুরের মত আঘাত হান। 131. অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর। 132. ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে সেসব বস্তু দিয়েছেন, যা তোমরা জান। 133. তোমাদেরকে দিয়েছেন চতুষ্পদ জন্তু ও পুত্র- সন্তান, 134. এবং উদ্যান ও ঝরণা। 135. আমি তোমাদের জন্যে মহাদিবসের শাস্তি আশংকা করি। 136. তারা বলল, তুমি উপদেশ দাও অথবা উপদেশ নাই দাও, উভয়ই আমাদের জন্যে সমান। 137. এসব কথাবার্তা পূর্ববর্তী লোকদের অভ্যাস বৈ নয়। 138. আমরা শাস্তিপ্রাপ্ত হব না। 139. অতএব, তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলতে লাগল এবং আমি তাদেরকে নিপাত করে দিলাম। এতে অবশ্যই নিদর্শন আছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়। 140. এবং আপনার পালনকর্তা, তিনি তো প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। 141. সামুদ সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে। 142. যখন তাদের ভাই সালেহ, তাদেরকে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না? 143. আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর। 144. অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর। 145. আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব-পালনকর্তাই দেবেন। 146. তোমাদেরকে কি এ জগতের ভোগ-বিলাসের মধ্যে নিরাপদে রেখে দেয়া হবে? 147. উদ্যানসমূহের মধ্যে এবং ঝরণাসমূহের মধ্যে ? 148. শস্যক্ষেত্রের মধ্যে এবং মঞ্জুরিত খেজুর বাগানের মধ্যে ? 149. তোমরা পাহাড় কেটে জাঁক জমকের গৃহ নির্মাণ করছ। 150. সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর। 151. এবং সীমালংঘনকারীদের আদেশ মান্য কর না; 152. যারা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করে না; 153. তারা বলল, তুমি তো জাদুগ্রস্থুরেদ একজন। 154. তুমি তো আমাদের মতই একজন মানুষ বৈ নও। সুতরাং যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে কোন নিদর্শন উপস্থিত কর। 155. সালেহ বললেন এই উষ্ট্রী, এর জন্যে আছে পানি পানের পালা এবং তোমাদের জন্যে আছে পানি পানের পালা নির্দিষ্ট এক-এক দিনের। 156. তোমরা একে কোন কষ্ট দিও না। তাহলে তোমাদেরকে মহাদিবসের আযাব পাকড়াও করবে। 157. তারা তাকে বধ করল ফলে, তারা অনুতপ্ত হয়ে গেল। 158. এরপর আযাব তাদেরকে পাকড়াও করল। নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়। 159. আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু 160. লূতের সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে। 161. যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না ? 162. আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর। 163. অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর। 164. আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব-পালনকর্তা দেবেন। 165. সারা জাহানের মানুষের মধ্যে তোমরাই কি পুরূষদের সাথে কুকর্ম কর? 166. এবং তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে যে স্ত্রীগনকে সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে বর্জন কর? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়। 167. তারা বলল, হে লূত, তুমি যদি বিরত না হও, তবে অবশ্যই তোমাকে বহিস্কৃত করা হবে। 168. লূত বললেন, আমি তোমাদের এই কাজকে ঘৃণা করি। 169. হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এবং আমার পরিবারবর্গকে তারা যা করে, তা থেকে রক্ষা কর। 170. অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে রক্ষা করলাম। 171. এক বৃদ্ধা ব্যতীত, সে ছিল ধ্বংস প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত। 172. এরপর অন্যদেরকে নিপাত করলাম। 173. তাদের উপর এক বিশেষ বৃষ্টি বর্ষণ করলাম। ভীতি-প্রদর্শিত দের জন্যে এই বৃষ্টি ছিল কত নিকৃষ্ট। 174. নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়। 175. নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। 176. বনের অধিবাসীরা পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে। 177. যখন শো’আয়ব তাদের কে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না? 178. আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর। 179. অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর। 180. আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব-পালনকর্তাই দেবেন। 181. মাপ পূর্ণ কর এবং যারা পরিমাপে কম দেয়, তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। 182. সোজা দাঁড়ি-পাল্লায় ওজন কর। 183. মানুষকে তাদের বস্তু কম দিও না এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে ফিরো না। 184. ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তী লোক-সম্প্রদায়কে সৃষ্টি করেছেন। 185. তারা বলল, তুমি তো জাদুগ্রস্তদের অন্যতম। 186. তুমি আমাদের মত মানুষ বৈ তো নও। আমাদের ধারণা-তুমি মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত। 187. অতএব, যদি সত্যবাদী হও, তবে আকাশের কোন টুকরো আমাদের উপর ফেলে দাও। 188. শো’আয়ব বললেন, তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আমার পালনকর্তা ভালরূপে অবহিত। 189. অতঃপর তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলে দিল। ফলে তাদেরকে মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব পাকড়াও করল। নিশ্চয় সেটা ছিল এক মহাদিবসের আযাব। 190. নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না। 191. নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। 192. এই কোরআন তো বিশ্ব- জাহানের পালনকর্তার নিকট থেকে অবতীর্ণ। 193. বিশ্বস্ত ফেরেশতা একে নিয়ে অবতরণ করেছে। 194. আপনার অন্তরে, যাতে আপনি ভীতি প্রদর্শণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন, 195. সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়। 196. নিশ্চয় এর উল্লেখ আছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে। 197. তাদের জন্যে এটা কি নিদর্শন নয় যে, বনী- ইসরাঈলের আলেমগণ এটা অবগত আছে? 198. যদি আমি একে কোন ভিন্নভাষীর প্রতি অবতীর্ণ করতাম, 199. অতঃপর তিনি তা তাদের কাছে পাঠ করতেন, তবে তারা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করত না। 200. এমনিভাবে আমি গোনাহগারদের অন্তরে অবিশ্বাস সঞ্চার করেছি। 201. তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে না, যে পর্যন্ত প্রত্যক্ষ না করে মর্মন্তুদ আযাব। 202. অতঃপর তা আকস্মিকভাবে তাদের কাছে এসে পড়বে, তারা তা বুঝতে ও পারবে না। 203. তখন তারা বলবে, আমরা কি অবকাশ পাব না? 204. তারা কি আমার শাস্তি দ্রুত কামনা করে? 205. আপনি ভেবে দেখুন তো, যদি আমি তাদেরকে বছরের পর বছর ভোগ- বিলাস করতে দেই, 206. অতঃপর যে বিষয়ে তাদেরকে ওয়াদা দেয়া হত, তা তাদের কাছে এসে পড়ে। 207. তখন তাদের ভোগ বিলাস তা তাদের কি কোন উপকারে আসবে? 208. আমি কোন জনপদ ধ্বংস করিনি; কিন্তু এমতাবস্থায় যে, তারা সতর্ককারী ছিল। 209. স্মরণ করানোর জন্যে, এবং আমার কাজ অন্যায়াচরণ নয়। 210. এই কোরআন শয়তানরা অবতীর্ণ করেনি। 211. তারা এ কাজের উপযুক্ত নয় এবং তারা এর সামর্থ রাখে না। 212. তাদেরকে তো শ্রবণের জায়গা থেকে দূরে রাখা রয়েছে। 213. অতএব, আপনি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে আহবান করবেন না। করলে শাস্তিতে পতিত হবেন। 214. আপনি নিকটতম আত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দিন। 215. এবং আপনার অনুসারী মুমিনদের প্রতি সদয় হোন। 216. যদি তারা আপনার অবাধ্য করে, তবে বলে দিন, তোমরা যা কর, তা থেকে আমি মুক্ত। 217. আপনি ভরসা করুন পরাক্রমশালী, পরম দয়ালুর উপর, 218. যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি নামাযে দন্ডায়মান হন, 219. এবং নামাযীদের সাথে উঠাবসা করেন। 220. নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী। 221. আমি আপনাকে বলব কি কার নিকট শয়তানরা অবতরণ করে? 222. তারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক মিথ্যাবাদী, গোনাহগারের উপর। 223. তারা শ্রুত কথা এনে দেয় এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী। 224. বিভ্রান্ত লোকেরাই কবিদের অনুসরণ করে। 225. তুমি কি দেখ না যে, তারা প্রতি ময়দানেই উদভ্রান্ত হয়ে ফিরে? 226. এবং এমন কথা বলে, যা তারা করে না। 227. তবে তাদের কথা ভিন্ন, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং আল্লাহ কে খুব স্মরণ করে এবং নিপীড়িত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে। নিপীড়নকারীরা শীঘ্রই জানতে পারবে তাদের গন্তব্যস্থল কিরূপ। ******

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s