27. সুরাহ আল নমল (01-93)


ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি
দয়ালু
[1] ﻃﺲ ۚ ﺗِﻠﻚَ ﺀﺍﻳٰﺖُ
ﺍﻟﻘُﺮﺀﺍﻥِ ﻭَﻛِﺘﺎﺏٍ ﻣُﺒﻴﻦٍ
[1] ত্বা-সীন; এগুলো আল-কোরআনের
আয়াত এবং আয়াত সুস্পষ্ট কিতাবের।
[1] Tâ¬Sîn. [These letters are one of the
miracles of the Qur’ân, and none but
Allâh (Alone) knows their meanings].
These are the Verses of the Qur’ân, and
(it is) a Book (that makes things) clear;
[2] ﻫُﺪًﻯ ﻭَﺑُﺸﺮﻯٰ ﻟِﻠﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[2] মুমিনদের জন্যে পথ নির্দেশ ও সুসংবাদ।
[2] A guide (to the Right Path); and glad
tidings for the believers [who believe in
the Oneness of Allâh (i.e. Islâmic
Monotheism)].
[3] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳُﻘﻴﻤﻮﻥَ ﺍﻟﺼَّﻠﻮٰﺓَ
ﻭَﻳُﺆﺗﻮﻥَ ﺍﻟﺰَّﻛﻮٰﺓَ ﻭَﻫُﻢ
ﺑِﺎﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﻫُﻢ ﻳﻮﻗِﻨﻮﻥَ
[3] যারা নামায কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে
এবং পরকালে নিশ্চিত বিশ্বাস করে।
[3] Those who perform As¬Salât
(Iqâmat¬as¬Salât) and give Zakât and
they believe with certainty in the
Hereafter (resurrection, recompense of
their good and bad deeds, Paradise and
Hell).
[4] ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻻ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
ﺑِﺎﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﺯَﻳَّﻨّﺎ ﻟَﻬُﻢ ﺃَﻋﻤٰﻠَﻬُﻢ
ﻓَﻬُﻢ ﻳَﻌﻤَﻬﻮﻥَ
[4] যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, আমি তাদের
দৃষ্টিতে তাদের কর্মকান্ডকে সুশোভিত
করে দিয়েছি। অতএব, তারা উদভ্রান্ত হয়ে
ঘুরে বেড়ায়।
[4] Verily, those who believe not in the
Hereafter, We have made their deeds
fair-seeming to them, so that they
wander about blindly
[5] ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻟَﻬُﻢ ﺳﻮﺀُ
ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏِ ﻭَﻫُﻢ ﻓِﻰ ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ
ﻫُﻢُ ﺍﻷَﺧﺴَﺮﻭﻥَ
[5] তাদের জন্যেই রয়েছে মন্দ শাস্তি এবং
তারাই পরকালে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত।
[5] They are those for whom there will
be an evil torment (in this world). And in
the Hereafter they will be the greatest
losers.
[6] ﻭَﺇِﻧَّﻚَ ﻟَﺘُﻠَﻘَّﻰ ﺍﻟﻘُﺮﺀﺍﻥَ ﻣِﻦ
ﻟَﺪُﻥ ﺣَﻜﻴﻢٍ ﻋَﻠﻴﻢٍ
[6] এবং আপনাকে কোরআন প্রদত্ত হচ্ছে
প্রজ্ঞাময়, জ্ঞানময় আল্লাহর কাছ থেকে।
[6] And verily, you (O Muhammad SAW)
are being taught the Qur’ân from the
One, All-Wise, All-Knowing.
[7] ﺇِﺫ ﻗﺎﻝَ ﻣﻮﺳﻰٰ ﻟِﺄَﻫﻠِﻪِ ﺇِﻧّﻰ
ﺀﺍﻧَﺴﺖُ ﻧﺎﺭًﺍ ﺳَـٔﺎﺗﻴﻜُﻢ ﻣِﻨﻬﺎ
ﺑِﺨَﺒَﺮٍ ﺃَﻭ ﺀﺍﺗﻴﻜُﻢ ﺑِﺸِﻬﺎﺏٍ
ﻗَﺒَﺲٍ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢ ﺗَﺼﻄَﻠﻮﻥَ
[7] যখন মূসা তাঁর পরিবারবর্গকে বললেনঃ আমি
অগ্নি দেখেছি, এখন আমি সেখান থেকে
তোমাদের জন্যে কোন খবর আনতে পারব
অথবা তোমাদের জন্যে জ্বলন্ত অঙ্গার
নিয়ে আসতে পারব যাতে তোমরা আগুন
পোহাতে পার।
[7] (Remember) when Mûsa (Moses) said
to his household: “Verily! I have seen a
fire, I will bring you from there some
information, or I will bring you a
burning brand, that you may warm
yourselves.”
[8] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَﻫﺎ ﻧﻮﺩِﻯَ ﺃَﻥ
ﺑﻮﺭِﻙَ ﻣَﻦ ﻓِﻰ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ ﻭَﻣَﻦ
ﺣَﻮﻟَﻬﺎ ﻭَﺳُﺒﺤٰﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺭَﺏِّ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[8] অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে
আসলেন তখন আওয়াজ হল ধন্য তিনি, যিনি
আগুনের স্থানে আছেন এবং যারা আগুনের
আশেপাশে আছেন। বিশ্ব জাহানের
পালনকর্তা আল্লাহ পবিত্র ও মহিমান্বিত।
[8] But when he came to it, he was
called: “Blessed is whosoever is in the
fire, and whosoever is round about it!
And glorified is Allâh, the Lord of the
‘Alamîn (mankind, jinn and all that
exists).
[9] ﻳٰﻤﻮﺳﻰٰ ﺇِﻧَّﻪُ ﺃَﻧَﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ ﺍﻟﺤَﻜﻴﻢُ
[9] হে মূসা, আমি আল্লাহ, প্রবল
পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
[9] “O Mûsa (Moses)! Verily! It is I, Allâh,
the All-Mighty, the All-Wise.
[10] ﻭَﺃَﻟﻖِ ﻋَﺼﺎﻙَ ۚ ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺭَﺀﺍﻫﺎ
ﺗَﻬﺘَﺰُّ ﻛَﺄَﻧَّﻬﺎ ﺟﺎﻥٌّ ﻭَﻟّﻰٰ ﻣُﺪﺑِﺮًﺍ
ﻭَﻟَﻢ ﻳُﻌَﻘِّﺐ ۚ ﻳٰﻤﻮﺳﻰٰ ﻻ ﺗَﺨَﻒ
ﺇِﻧّﻰ ﻻ ﻳَﺨﺎﻑُ ﻟَﺪَﻯَّ
ﺍﻟﻤُﺮﺳَﻠﻮﻥَ
[10] আপনি নিক্ষেপ করুন আপনার লাঠি। অতঃপর
যখন তিনি তাকে সর্পের ন্যায় ছুটাছুটি করতে
দেখলেন, তখন তিনি বিপরীত দিকে ছুটতে
লাগলেন এবং পেছন ফিরেও দেখলেন না।
হে মূসা, ভয় করবেন না। আমি যে রয়েছি,
আমার কাছে পয়গম্বরগণ ভয় করেন না।
[10] “And throw down your stick!” But
when he saw it moving as if it were a
snake, he turned in flight, and did not
look back. (It was said): “O Mûsa
(Moses)! Fear not, verily! the Messengers
fear not in front of Me.
[11] ﺇِﻟّﺎ ﻣَﻦ ﻇَﻠَﻢَ ﺛُﻢَّ ﺑَﺪَّﻝَ
ﺣُﺴﻨًﺎ ﺑَﻌﺪَ ﺳﻮﺀٍ ﻓَﺈِﻧّﻰ ﻏَﻔﻮﺭٌ
ﺭَﺣﻴﻢٌ
[11] তবে যে বাড়াবাড়ি করে এরপর মন্দ
কর্মের পরিবর্তে সৎকর্ম করে। নিশ্চয়
আমি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
[11] “Except him who has done wrong
and afterwards has changed evil for
good, then surely, I am Oft-Forgiving,
Most Merciful.
[12] ﻭَﺃَﺩﺧِﻞ ﻳَﺪَﻙَ ﻓﻰ ﺟَﻴﺒِﻚَ
ﺗَﺨﺮُﺝ ﺑَﻴﻀﺎﺀَ ﻣِﻦ ﻏَﻴﺮِ ﺳﻮﺀٍ ۖ
ﻓﻰ ﺗِﺴﻊِ ﺀﺍﻳٰﺖٍ ﺇِﻟﻰٰ ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ
ﻭَﻗَﻮﻣِﻪِ ۚ ﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻗَﻮﻣًﺎ
ﻓٰﺴِﻘﻴﻦَ
[12] আপনার হাত আপনার বগলে ঢুকিয়ে দিন,
সুশুভ্র হয়ে বের হবে নির্দোষ অবস্থায়।
এগুলো ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের কাছে
আনীত নয়টি নিদর্শনের অন্যতম। নিশ্চয় তারা
ছিল পাপাচারী সম্প্রদায়।
[12] “And put your hand into your
bosom, it will come forth white without
hurt. (These are) among the nine signs
(you will take) to Fir’aun (Pharaoh) and
his people, verily they are a people who
are the Fâsiqûn (rebellious, disobedient
to Allâh).
[13] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَﺗﻬُﻢ ﺀﺍﻳٰﺘُﻨﺎ
ﻣُﺒﺼِﺮَﺓً ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻫٰﺬﺍ ﺳِﺤﺮٌ
ﻣُﺒﻴﻦٌ
[13] অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার
উজ্জল নিদর্শনাবলী আগমন করল, তখন তারা
বলল, এটা তো সুস্পষ্ট জাদু।
[13] But when Our Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) came to them, clear to
see, they said: “This is a manifest magic.”
[14] ﻭَﺟَﺤَﺪﻭﺍ ﺑِﻬﺎ ﻭَﺍﺳﺘَﻴﻘَﻨَﺘﻬﺎ
ﺃَﻧﻔُﺴُﻬُﻢ ﻇُﻠﻤًﺎ ﻭَﻋُﻠُﻮًّﺍ ۚ ﻓَﺎﻧﻈُﺮ
ﻛَﻴﻒَ ﻛﺎﻥَ ﻋٰﻘِﺒَﺔُ ﺍﻟﻤُﻔﺴِﺪﻳﻦَ
[14] তারা অন্যায় ও অহংকার করে
নিদর্শনাবলীকে প্রত্যাখ্যান করল, যদিও
তাদের অন্তর এগুলো সত্য বলে বিশ্বাস
করেছিল। অতএব দেখুন, অনর্থকারীদের
পরিণাম কেমন হয়েছিল?
[14] And they belied them (those Ayât)
wrongfully and arrogantly, though their
ownselves were convinced thereof [i.e.
those (Ayât) are from Allâh, and Mûsa
(Moses) is the Messenger of Allâh in
truth, but they disliked to obey Mûsa
(Moses), and hated to believe in his
Message of Monotheism]. So see what
was the end of the Mufsidûn
(disbelievers, disobedient to Allâh, evil-
doers, liars.).
[15] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺀﺍﺗَﻴﻨﺎ ﺩﺍﻭۥﺩَ
ﻭَﺳُﻠَﻴﻤٰﻦَ ﻋِﻠﻤًﺎ ۖ ﻭَﻗﺎﻟَﺎ ﺍﻟﺤَﻤﺪُ
ﻟِﻠَّﻪِ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻓَﻀَّﻠَﻨﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﻛَﺜﻴﺮٍ
ﻣِﻦ ﻋِﺒﺎﺩِﻩِ ﺍﻟﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[15] আমি অবশ্যই দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান
দান করেছিলাম। তাঁরা বলে ছিলেন, আল্লাহর
প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে তাঁর অনেক মুমিন
বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
[15] And indeed We gave knowledge to
Dawûd (David) and Sulaimân (Solomon),
and they both said: “All the praises and
thanks are to Allâh, Who has preferred
us above many of His believing slaves!”
[16] ﻭَﻭَﺭِﺙَ ﺳُﻠَﻴﻤٰﻦُ ﺩﺍﻭۥﺩَ ۖ
ﻭَﻗﺎﻝَ ﻳٰﺄَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻨّﺎﺱُ ﻋُﻠِّﻤﻨﺎ
ﻣَﻨﻄِﻖَ ﺍﻟﻄَّﻴﺮِ ﻭَﺃﻭﺗﻴﻨﺎ ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ
ﺷَﻲﺀٍ ۖ ﺇِﻥَّ ﻫٰﺬﺍ ﻟَﻬُﻮَ ﺍﻟﻔَﻀﻞُ
ﺍﻟﻤُﺒﻴﻦُ
[16] সুলায়মান দাউদের উত্তরাধিকারী
হয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘হে লোক
সকল, আমাকে উড়ন্ত পক্ষীকূলের ভাষা
শিক্ষা দেয়া হয়েছে এবং আমাকে সব কিছু
দেয়া হয়েছে। নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট
শ্রেষ্ঠত্ব। ’
[16] And Sulaimân (Solomon) inherited
(the knowledge of) Dawûd (David). He
said: “O mankind! We have been taught
the language of birds, and on us have
been bestowed all things. This, verily, is
an evident grace (from Allâh).”
[17] ﻭَﺣُﺸِﺮَ ﻟِﺴُﻠَﻴﻤٰﻦَ ﺟُﻨﻮﺩُﻩُ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﺠِﻦِّ ﻭَﺍﻹِﻧﺲِ ﻭَﺍﻟﻄَّﻴﺮِ
ﻓَﻬُﻢ ﻳﻮﺯَﻋﻮﻥَ
[17] সুলায়মানের সামনে তার
সেনাবাহিনীকে সমবেত করা হল। জ্বিন-মানুষ
ও পক্ষীকুলকে, অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন
ব্যূহে বিভক্ত করা হল।
[17] And there were gathered before
Sulaimân (Solomon) his hosts of jinn and
men, and birds, and they all were set in
battle order (marching forward).
[18] ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ ﺃَﺗَﻮﺍ ﻋَﻠﻰٰ ﻭﺍﺩِ
ﺍﻟﻨَّﻤﻞِ ﻗﺎﻟَﺖ ﻧَﻤﻠَﺔٌ ﻳٰﺄَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻨَّﻤﻞُ
ﺍﺩﺧُﻠﻮﺍ ﻣَﺴٰﻜِﻨَﻜُﻢ ﻻ
ﻳَﺤﻄِﻤَﻨَّﻜُﻢ ﺳُﻠَﻴﻤٰﻦُ ﻭَﺟُﻨﻮﺩُﻩُ
ﻭَﻫُﻢ ﻻ ﻳَﺸﻌُﺮﻭﻥَ
[18] যখন তারা পিপীলিকা অধ্যূষিত উপত্যকায়
পৌঁছাল, তখন এক পিপীলিকা বলল, হে
পিপীলিকার দল, তোমরা তোমাদের গৃহে
প্রবেশ কর। অন্যথায় সুলায়মান ও তার বাহিনী
অজ্ঞাতসারে তোমাদেরকে পিষ্ট করে
ফেলবে।
[18] Till, when they came to the valley of
the ants, one of the ants said: “O ants!
Enter your dwellings, lest Sulaimân
(Solomon) and his hosts should crush
you, while they perceive not.”
[19] ﻓَﺘَﺒَﺴَّﻢَ ﺿﺎﺣِﻜًﺎ ﻣِﻦ
ﻗَﻮﻟِﻬﺎ ﻭَﻗﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﺃَﻭﺯِﻋﻨﻰ ﺃَﻥ
ﺃَﺷﻜُﺮَ ﻧِﻌﻤَﺘَﻚَ ﺍﻟَّﺘﻰ ﺃَﻧﻌَﻤﺖَ
ﻋَﻠَﻰَّ ﻭَﻋَﻠﻰٰ ﻭٰﻟِﺪَﻯَّ ﻭَﺃَﻥ ﺃَﻋﻤَﻞَ
ﺻٰﻠِﺤًﺎ ﺗَﺮﺿﻯٰﻪُ ﻭَﺃَﺩﺧِﻠﻨﻰ
ﺑِﺮَﺣﻤَﺘِﻚَ ﻓﻰ ﻋِﺒﺎﺩِﻙَ
ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤﻴﻦَ
[19] তার কথা শুনে সুলায়মান মুচকি হাসলেন এবং
বললেন, হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমাকে
সামর্থø দাও যাতে আমি তোমার সেই
নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যা তুমি
আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছ এবং
যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকর্ম
করতে পারি এবং আমাকে নিজ অনুগ্রহে
তোমার সৎকর্মপরায়ন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত
কর।
[19] So he [Sulaimân (Solomon)] smiled,
amused at her speech[1] and said: “My
Lord! Grant me the power and ability
that I may be grateful for Your Favours
which You have bestowed on me and on
my parents, and that I may do righteous
good deeds that will please You, and
admit me by Your Mercy among Your
righteous slaves.”
[20] ﻭَﺗَﻔَﻘَّﺪَ ﺍﻟﻄَّﻴﺮَ ﻓَﻘﺎﻝَ ﻣﺎ ﻟِﻰَ
ﻻ ﺃَﺭَﻯ ﺍﻟﻬُﺪﻫُﺪَ ﺃَﻡ ﻛﺎﻥَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻐﺎﺋِﺒﻴﻦَ
[20] সুলায়মান পক্ষীদের খোঁজ খবর
নিলেন, অতঃপর বললেন, কি হল, হুদহুদকে
দেখছি না কেন? নাকি সে অনুপস্থিত?
[20] He inspected the birds, and said:
“What is the matter that I see not the
hoopoe? Or is he among the absentees?
[21] ﻟَﺄُﻋَﺬِّﺑَﻨَّﻪُ ﻋَﺬﺍﺑًﺎ ﺷَﺪﻳﺪًﺍ ﺃَﻭ
ﻟَﺄَﺍ۟ﺫﺑَﺤَﻨَّﻪُ ﺃَﻭ ﻟَﻴَﺄﺗِﻴَﻨّﻰ ﺑِﺴُﻠﻄٰﻦٍ
ﻣُﺒﻴﻦٍ
[21] আমি অবশ্যই তাকে কঠোর শাস্তি দেব
কিংবা হত্যা করব অথবা সে উপস্থিত করবে
উপযুক্ত কারণ।
[21] “I will surely punish him with a
severe torment, or slaughter him, unless
he brings me a clear reason.”
[22] ﻓَﻤَﻜَﺚَ ﻏَﻴﺮَ ﺑَﻌﻴﺪٍ ﻓَﻘﺎﻝَ
ﺃَﺣَﻄﺖُ ﺑِﻤﺎ ﻟَﻢ ﺗُﺤِﻂ ﺑِﻪِ
ﻭَﺟِﺌﺘُﻚَ ﻣِﻦ ﺳَﺒَﺈٍ ﺑِﻨَﺒَﺈٍ ﻳَﻘﻴﻦٍ
[22] কিছুক্ষণ পড়েই হুদ এসে বলল, আপনি যা
অবগত নন, আমি তা অবগত হয়েছি। আমি আপনার
কাছে সাবা থেকে নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে আগমন
করেছি।
[22] But the hoopoe stayed not long, he
(came up and) said: “I have grasped (the
knowledge of a thing) which you have
not grasped and I have come to you from
Saba’ (Sheba) with true news.
[23] ﺇِﻧّﻰ ﻭَﺟَﺪﺕُ ﺍﻣﺮَﺃَﺓً
ﺗَﻤﻠِﻜُﻬُﻢ ﻭَﺃﻭﺗِﻴَﺖ ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ
ﺷَﻲﺀٍ ﻭَﻟَﻬﺎ ﻋَﺮﺵٌ ﻋَﻈﻴﻢٌ
[23] আমি এক নারীকে সাবাবাসীদের উপর
রাজত্ব করতে দেখেছি। তাকে সবকিছুই
দেয়া হয়েছে এবং তার একটা বিরাট সিংহাসন
আছে।
[23] “I found a woman ruling over
them”, she has been given all things that
could be possessed by any ruler of the
earth, and she has a great throne.
[24] ﻭَﺟَﺪﺗُﻬﺎ ﻭَﻗَﻮﻣَﻬﺎ
ﻳَﺴﺠُﺪﻭﻥَ ﻟِﻠﺸَّﻤﺲِ ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺯَﻳَّﻦَ ﻟَﻬُﻢُ ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦُ
ﺃَﻋﻤٰﻠَﻬُﻢ ﻓَﺼَﺪَّﻫُﻢ ﻋَﻦِ ﺍﻟﺴَّﺒﻴﻞِ
ﻓَﻬُﻢ ﻻ ﻳَﻬﺘَﺪﻭﻥَ
[24] আমি তাকে ও তার সম্প্রদায়কে দেখলাম
তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সেজদা
করছে। শয়তান তাদের দৃষ্টিতে তাদের
কার্যাবলী সুশোভিত করে দিয়েছে।
অতঃপর তাদেরকে সৎপথ থেকে নিবৃত্ত
করেছে। অতএব তারা সৎপথ পায় না।
[24] “I found her and her people
worshipping the sun instead of Allâh,
and Shaitân (Satan) has made their
deeds fair-seeming to them, and has
barred them from (Allâh’s) Way, so they
have no guidance,”
[25] ﺃَﻟّﺎ ﻳَﺴﺠُﺪﻭﺍ ﻟِﻠَّﻪِ ﺍﻟَّﺬﻯ
ﻳُﺨﺮِﺝُ ﺍﻟﺨَﺐﺀَ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﻳَﻌﻠَﻢُ ﻣﺎ ﺗُﺨﻔﻮﻥَ
ﻭَﻣﺎ ﺗُﻌﻠِﻨﻮﻥَ
[25] তারা আল্লাহকে সেজদা করে না কেন,
যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের গোপন বস্তু
প্রকাশ করেন এবং জানেন যা তোমরা গোপন
কর ও যা প্রকাশ কর।
[25] [As Shaitân (Satan) has barred them
from Allâh’s Way] so they do not
worship (prostrate themselves before)
Allâh, Who brings to light what is hidden
in the heavens and the earth, and knows
what you conceal and what you reveal.
(Tafsir At-Tabarî)
[26] ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻻ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻟّﺎ ﻫُﻮَ ﺭَﺏُّ
ﺍﻟﻌَﺮﺵِ ﺍﻟﻌَﻈﻴﻢِ ۩
[26] আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই;
তিনি মহা আরশের মালিক।
[26] Allâh, Lâ ilâha illa Huwa (none has
the right to be worshipped but He), the
Lord of the Supreme Throne!
[27] ۞ ﻗﺎﻝَ ﺳَﻨَﻨﻈُﺮُ ﺃَﺻَﺪَﻗﺖَ
ﺃَﻡ ﻛُﻨﺖَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻜٰﺬِﺑﻴﻦَ
[27] সুলায়মান বললেন, এখন আমি দেখব তুমি
সত্য বলছ, না তুমি মিথ্যবাদী।
[27] [Sulaimân (Solomon)] said: “We
shall see whether you speak the truth or
you are (one) of the liars
[28] ﺍﺫﻫَﺐ ﺑِﻜِﺘٰﺒﻰ ﻫٰﺬﺍ ﻓَﺄَﻟﻘِﻪ
ﺇِﻟَﻴﻬِﻢ ﺛُﻢَّ ﺗَﻮَﻝَّ ﻋَﻨﻬُﻢ ﻓَﺎﻧﻈُﺮ
ﻣﺎﺫﺍ ﻳَﺮﺟِﻌﻮﻥَ
[28] তুমি আমার এই পত্র নিয়ে যাও এবং এটা
তাদের কাছে অর্পন কর। অতঃপর তাদের কাছ
থেকে সরে পড় এবং দেখ, তারা কি জওয়াব
দেয়।
[28] “Go you with this letter of mine, and
deliver it to them, then draw back from
them, and see what (answer) they
return.”
[29] ﻗﺎﻟَﺖ ﻳٰﺄَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻤَﻠَﺆُﺍ۟ ﺇِﻧّﻰ
ﺃُﻟﻘِﻰَ ﺇِﻟَﻰَّ ﻛِﺘٰﺐٌ ﻛَﺮﻳﻢٌ
[29] বিলকীস বলল, হে পরিষদবর্গ,
আমাকে একটি সম্মানিত পত্র দেয়া হয়েছে।
[29] She said: “O chiefs! Verily! Here is
delivered to me a noble letter,
[30] ﺇِﻧَّﻪُ ﻣِﻦ ﺳُﻠَﻴﻤٰﻦَ ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﺑِﺴﻢِ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ
[30] সেই পত্র সুলায়মানের পক্ষ থেকে
এবং তা এইঃ সসীম দাতা, পরম দয়ালু, আল্লাহর
নামে শুরু;
[30] “Verily, It is from Sulaimân
(Solomon), and verily, It (reads): In the
Name of Allâh, the Most Gracious, the
Most Merciful;
[31] ﺃَﻟّﺎ ﺗَﻌﻠﻮﺍ ﻋَﻠَﻰَّ ﻭَﺃﺗﻮﻧﻰ
ﻣُﺴﻠِﻤﻴﻦَ
[31] আমার মোকাবেলায় শক্তি প্রদর্শন
করো না এবং বশ্যতা স্বীকার করে আমার
কাছে উপস্থিত হও।
[31] “Be you not exalted against me, but
come to me as Muslims (true believers
who submit to Allâh with full
submission)’ ”
[32] ﻗﺎﻟَﺖ ﻳٰﺄَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻤَﻠَﺆُﺍ۟
ﺃَﻓﺘﻮﻧﻰ ﻓﻰ ﺃَﻣﺮﻯ ﻣﺎ ﻛُﻨﺖُ
ﻗﺎﻃِﻌَﺔً ﺃَﻣﺮًﺍ ﺣَﺘّﻰٰ ﺗَﺸﻬَﺪﻭﻥِ
[32] বিলকীস বলল, হে পরিষদবর্গ,
আমাকে আমার কাজে পরামর্শ দাও।
তোমাদের উপস্থিতি ব্যতিরেকে আমি কোন
কাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না।
[32] She said: “O chiefs! Advise me in
(this) case of mine. I decide no case till
you are present with me (and give me
your opinions).”
[33] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻧَﺤﻦُ ﺃُﻭﻟﻮﺍ ﻗُﻮَّﺓٍ
ﻭَﺃُﻭﻟﻮﺍ ﺑَﺄﺱٍ ﺷَﺪﻳﺪٍ ﻭَﺍﻷَﻣﺮُ
ﺇِﻟَﻴﻚِ ﻓَﺎﻧﻈُﺮﻯ ﻣﺎﺫﺍ ﺗَﺄﻣُﺮﻳﻦَ
[33] তারা বলল, আমরা শক্তিশালী এবং কঠোর
যোদ্ধা। এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা
আপনারই। অতএব আপনি ভেবে দেখুন,
আমাদেরকে কি আদেশ করবেন।
[33] They said: “We have great strength,
and great ability for war, but it is for
you to command; so think over what you
will command.”
[34] ﻗﺎﻟَﺖ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻤُﻠﻮﻙَ ﺇِﺫﺍ
ﺩَﺧَﻠﻮﺍ ﻗَﺮﻳَﺔً ﺃَﻓﺴَﺪﻭﻫﺎ
ﻭَﺟَﻌَﻠﻮﺍ ﺃَﻋِﺰَّﺓَ ﺃَﻫﻠِﻬﺎ ﺃَﺫِﻟَّﺔً ۖ
ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻳَﻔﻌَﻠﻮﻥَ
[34] সে বলল, রাজা বাদশারা যখন কোন
জনপদে প্রবেশ করে, তখন তাকে
বিপর্যস্ত করে দেয় এবং সেখানকার
সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গকে অপদস্থ করে।
তারাও এরূপই করবে।
[34] She said: “Verily! Kings, when they
enter a town (country), they despoil it,
and make the most honourable amongst
its people the lowest. And thus they do.
[35] ﻭَﺇِﻧّﻰ ﻣُﺮﺳِﻠَﺔٌ ﺇِﻟَﻴﻬِﻢ
ﺑِﻬَﺪِﻳَّﺔٍ ﻓَﻨﺎﻇِﺮَﺓٌ ﺑِﻢَ ﻳَﺮﺟِﻊُ
ﺍﻟﻤُﺮﺳَﻠﻮﻥَ
[35] আমি তাঁর কাছে কিছু উপঢৌকন পাঠাচ্ছি;
দেখি প্রেরিত লোকেরা কি জওয়াব আনে।
[35] “But verily! I am going to send him
a present, and see with what (answer)
the messengers return.”
[36] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَ ﺳُﻠَﻴﻤٰﻦَ ﻗﺎﻝَ
ﺃَﺗُﻤِﺪّﻭﻧَﻦِ ﺑِﻤﺎﻝٍ ﻓَﻤﺎ ﺀﺍﺗﻯٰﻦِۦَ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴﺮٌ ﻣِﻤّﺎ ﺀﺍﺗﻯٰﻜُﻢ ﺑَﻞ
ﺃَﻧﺘُﻢ ﺑِﻬَﺪِﻳَّﺘِﻜُﻢ ﺗَﻔﺮَﺣﻮﻥَ
[36] অতঃপর যখন দূত সুলায়মানের কাছে
আগমন করল, তখন সুলায়মান বললেন, তোমরা
কি ধনসম্পদ দ্বারা আমাকে সাহায্য করতে চাও?
আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন, তা
তোমাদেরকে প্রদত্ত বস্তু থেকে
উত্তম। বরং তোমরাই তোমাদের উপঢৌকন
নিয়ে সুখে থাক।
[36] So when (the messengers with the
present) came to Sulaimân (Solomon), he
said: “Will you help me in wealth? What
Allâh has given me is better than that
which He has given you! Nay, you rejoice
in your gift!”
[37] ﺍﺭﺟِﻊ ﺇِﻟَﻴﻬِﻢ ﻓَﻠَﻨَﺄﺗِﻴَﻨَّﻬُﻢ
ﺑِﺠُﻨﻮﺩٍ ﻻ ﻗِﺒَﻞَ ﻟَﻬُﻢ ﺑِﻬﺎ
ﻭَﻟَﻨُﺨﺮِﺟَﻨَّﻬُﻢ ﻣِﻨﻬﺎ ﺃَﺫِﻟَّﺔً ﻭَﻫُﻢ
ﺻٰﻐِﺮﻭﻥَ
[37] ফিরে যাও তাদের কাছে। এখন অবশ্যই
আমি তাদের বিরুদ্ধে এক সৈন্যবাহিনী নিয়ে
আসব, যার মোকাবেলা করার শক্তি তাদের
নেই। আমি অবশ্যই তাদেরকে অপদস্থ
করে সেখান থেকে বহিষ্কৃত করব এবং তারা
হবে লাঞ্ছিত।
[37] [Then Sulaimân (Solomon) said to
the chief of her messengers who brought
the present]: “Go back to them. We verily
shall come to them with hosts that they
cannot resist, and we shall drive them
out from there in disgrace, and they will
be abased.”
[38] ﻗﺎﻝَ ﻳٰﺄَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻤَﻠَﺆُﺍ۟ ﺃَﻳُّﻜُﻢ
ﻳَﺄﺗﻴﻨﻰ ﺑِﻌَﺮﺷِﻬﺎ ﻗَﺒﻞَ ﺃَﻥ
ﻳَﺄﺗﻮﻧﻰ ﻣُﺴﻠِﻤﻴﻦَ
[38] সুলায়মান বললেন, হে পরিষদবর্গ, তারা
আত্নসমর্পণ করে আমার কাছে আসার
পূর্বে কে বিলকীসের সিংহাসন আমাকে
এনে দেবে?
[38] He said: “O chiefs! Which of you can
bring me her throne before they come to
me surrendering themselves in
obedience?”
[39] ﻗﺎﻝَ ﻋِﻔﺮﻳﺖٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺠِﻦِّ
ﺃَﻧﺎ۠ ﺀﺍﺗﻴﻚَ ﺑِﻪِ ﻗَﺒﻞَ ﺃَﻥ ﺗَﻘﻮﻡَ
ﻣِﻦ ﻣَﻘﺎﻣِﻚَ ۖ ﻭَﺇِﻧّﻰ ﻋَﻠَﻴﻪِ
ﻟَﻘَﻮِﻯٌّ ﺃَﻣﻴﻦٌ
[39] জনৈক দৈত্য-জিন বলল, আপনি আপনার স্থান
থেকে উঠার পূর্বে আমি তা এনে দেব এবং
আমি একাজে শক্তিবান, বিশ্বস্ত।
[39] An Ifrît (strong one) from the jinn
said: “I will bring it to you before you
rise from your place (council). And
verily, I am indeed strong, and
trustworthy for such work.”
[40] ﻗﺎﻝَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻋِﻨﺪَﻩُ ﻋِﻠﻢٌ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ ﺃَﻧﺎ۠ ﺀﺍﺗﻴﻚَ ﺑِﻪِ ﻗَﺒﻞَ ﺃَﻥ
ﻳَﺮﺗَﺪَّ ﺇِﻟَﻴﻚَ ﻃَﺮﻓُﻚَ ۚ ﻓَﻠَﻤّﺎ
ﺭَﺀﺍﻩُ ﻣُﺴﺘَﻘِﺮًّﺍ ﻋِﻨﺪَﻩُ ﻗﺎﻝَ ﻫٰﺬﺍ
ﻣِﻦ ﻓَﻀﻞِ ﺭَﺑّﻰ ﻟِﻴَﺒﻠُﻮَﻧﻰ
ﺀَﺃَﺷﻜُﺮُ ﺃَﻡ ﺃَﻛﻔُﺮُ ۖ ﻭَﻣَﻦ ﺷَﻜَﺮَ
ﻓَﺈِﻧَّﻤﺎ ﻳَﺸﻜُﺮُ ﻟِﻨَﻔﺴِﻪِ ۖ ﻭَﻣَﻦ
ﻛَﻔَﺮَ ﻓَﺈِﻥَّ ﺭَﺑّﻰ ﻏَﻨِﻰٌّ ﻛَﺮﻳﻢٌ
[40] কিতাবের জ্ঞান যার ছিল, সে বলল,
আপনার দিকে আপনার চোখের পলক
ফেলার পূর্বেই আমি তা আপনাকে এনে
দেব। অতঃপর সুলায়মান যখন তা সামনে রক্ষিত
দেখলেন, তখন বললেন এটা আমার
পালনকর্তার অনুগ্রহ, যাতে তিনি আমাকে
পরীক্ষা করেন যে, আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
করি, না অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। যে কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করে, সে নিজের উপকারের
জন্যেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং যে
অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে জানুক যে,
আমার পালনকর্তা অভাবমুক্ত কৃপাশীল।
[40] One with whom was knowledge of
the Scripture said: “I will bring it to you
within the twinkling of an eye!” Then
when he [Sulaimân (Solomon)] saw it
placed before him, he said: “This is by
the Grace of my Lord – to test me
whether I am grateful or ungrateful! And
whoever is grateful, truly, his gratitude
is for (the good of) his ownself, and
whoever is ungrateful, (he is ungrateful
only for the loss of his ownself).
Certainly! my Lord is Rich (Free of all
wants), Bountiful.”
[41] ﻗﺎﻝَ ﻧَﻜِّﺮﻭﺍ ﻟَﻬﺎ ﻋَﺮﺷَﻬﺎ
ﻧَﻨﻈُﺮ ﺃَﺗَﻬﺘَﺪﻯ ﺃَﻡ ﺗَﻜﻮﻥُ ﻣِﻦَ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻻ ﻳَﻬﺘَﺪﻭﻥَ
[41] সুলায়মান বললেন, বিলকীসের সামনে
তার সিংহাসনের আকার-আকৃতি বদলিয়ে দাও,
দেখব সে সঠিক বুঝতে পারে, না সে
তাদের অন্তর্ভুক্ত, যাদের দিশা নেই ?
[41] He said: “Disguise her throne for
her that we may see whether she will be
guided (to recognise her throne), or she
will be one of those not guided.”
[42] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَﺕ ﻗﻴﻞَ ﺃَﻫٰﻜَﺬﺍ
ﻋَﺮﺷُﻚِ ۖ ﻗﺎﻟَﺖ ﻛَﺄَﻧَّﻪُ ﻫُﻮَ ۚ
ﻭَﺃﻭﺗﻴﻨَﺎ ﺍﻟﻌِﻠﻢَ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻠِﻬﺎ ﻭَﻛُﻨّﺎ
ﻣُﺴﻠِﻤﻴﻦَ
[42] অতঃপর যখন বিলকীস এসে গেল,
তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, তোমার সিংহাসন কি
এরূপই? সে বলল, মনে হয় এটা সেটাই।
আমরা পূর্বেই সমস্ত অবগত হয়েছি এবং
আমরা আজ্ঞাবহও হয়ে গেছি।
[42] So when she came, it was said (to
her): “Is your throne like this?” She said:
“(It is) as though it were the very same.”
And [Sulaimân (Solomon) said]:
“Knowledge was bestowed on us before
her, and we were submitted to Allâh (in
Islâm as Muslims before her).”
[43] ﻭَﺻَﺪَّﻫﺎ ﻣﺎ ﻛﺎﻧَﺖ ﺗَﻌﺒُﺪُ
ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۖ ﺇِﻧَّﻬﺎ ﻛﺎﻧَﺖ ﻣِﻦ
ﻗَﻮﻡٍ ﻛٰﻔِﺮﻳﻦَ
[43] আল্লাহর পরিবর্তে সে যার এবাদত
করত, সেই তাকে ঈমান থেকে নিবৃত্ত
করেছিল। নিশ্চয় সে কাফের সম্প্রদায়ের
অন্তর্ভুক্ত ছিল।
[43] And that which she used to worship
besides Allâh has prevented her (from
Islâm), for she was of a disbelieving
people.
[44] ﻗﻴﻞَ ﻟَﻬَﺎ ﺍﺩﺧُﻠِﻰ ﺍﻟﺼَّﺮﺡَ ۖ
ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺭَﺃَﺗﻪُ ﺣَﺴِﺒَﺘﻪُ ﻟُﺠَّﺔً
ﻭَﻛَﺸَﻔَﺖ ﻋَﻦ ﺳﺎﻗَﻴﻬﺎ ۚ ﻗﺎﻝَ
ﺇِﻧَّﻪُ ﺻَﺮﺡٌ ﻣُﻤَﺮَّﺩٌ ﻣِﻦ ﻗَﻮﺍﺭﻳﺮَ ۗ
ﻗﺎﻟَﺖ ﺭَﺏِّ ﺇِﻧّﻰ ﻇَﻠَﻤﺖُ ﻧَﻔﺴﻰ
ﻭَﺃَﺳﻠَﻤﺖُ ﻣَﻊَ ﺳُﻠَﻴﻤٰﻦَ ﻟِﻠَّﻪِ ﺭَﺏِّ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[44] তাকে বলা হল, এই প্রাসাদে প্রবেশ
কর। যখন সে তার প্রতি দৃষ্টিপাত করল সে
ধারণা করল যে, এটা স্বচ্ছ গভীর জলাশয়।
সে তার পায়ের গোছা খুলে ফেলল।
সুলায়মান বলল, এটা তো স্বচ্ছ স্ফটিক নির্মিত
প্রাসাদ। বিলকীস বলল, হে আমার পালনকর্তা,
আমি তো নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আমি
সুলায়মানের সাথে বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা
আল্লাহর কাছে আত্নসমর্পন করলাম।
[44] It was said to her: “Enter As-
Sarh” [(a glass surface with water
underneath it) or a palace], but when she
saw it, she thought it was a pool, and she
(tucked up her clothes) uncovering her
legs, Sulaimân (Solomon) said: “Verily, it
is Sarh [(a glass surface with water
underneath it) or a palace].” She said:
“My Lord! Verily, I have wronged myself,
and I submit (in Islâm, together with
Sulaimân (Solomon), to Allâh, the Lord of
the ‘Alamîn (mankind, jinn and all that
exists).”
[45] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﺇِﻟﻰٰ ﺛَﻤﻮﺩَ
ﺃَﺧﺎﻫُﻢ ﺻٰﻠِﺤًﺎ ﺃَﻥِ ﺍﻋﺒُﺪُﻭﺍ
ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻓَﺈِﺫﺍ ﻫُﻢ ﻓَﺮﻳﻘﺎﻥِ
ﻳَﺨﺘَﺼِﻤﻮﻥَ
[45] আমি সামুদ সম্প্রদায়ের কাছে তাদের
ভাই সালেহকে এই মর্মে প্রেরণ করেছি
যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। অতঃপর তারা
দ্বিধাবিভক্ত হয়ে বিতর্কে প্রবৃত্ত হল।
[45] And indeed We sent to Thamûd
their brother Sâlih, saying: “Worship
Allâh (Alone and none else). Then look!
They became two parties (believers and
disbelievers) quarreling with each
other.”
[46] ﻗﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﻟِﻢَ ﺗَﺴﺘَﻌﺠِﻠﻮﻥَ
ﺑِﺎﻟﺴَّﻴِّﺌَﺔِ ﻗَﺒﻞَ ﺍﻟﺤَﺴَﻨَﺔِ ۖ ﻟَﻮﻻ
ﺗَﺴﺘَﻐﻔِﺮﻭﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢ
ﺗُﺮﺣَﻤﻮﻥَ
[46] সালেহ বললেন, হে আমার সম্প্রদায়,
তোমরা কল্যাণের পূর্বে দ্রুত অকল্যাণ কামনা
করছ কেন? তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা
প্রার্থনা করছ না কেন? সম্ভবতঃ তোমরা
দয়াপ্রাপ্ত হবে।
[46] He said: “O my people! Why do you
seek to hasten the evil (torment) before
the good (Allâh’s Mercy)? Why seek you
not the Forgiveness of Allâh, that you
may receive mercy?”
[47] ﻗﺎﻟُﻮﺍ ﺍﻃَّﻴَّﺮﻧﺎ ﺑِﻚَ ﻭَﺑِﻤَﻦ
ﻣَﻌَﻚَ ۚ ﻗﺎﻝَ ﻃٰﺌِﺮُﻛُﻢ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۖ
ﺑَﻞ ﺃَﻧﺘُﻢ ﻗَﻮﻡٌ ﺗُﻔﺘَﻨﻮﻥَ
[47] তারা বলল, তোমাকে এবং তোমার সাথে
যারা আছে, তাদেরকে আমরা অকল্যাণের
প্রতীক মনে করি। সালেহ বললেন,
তোমাদের মঙ্গলামঙ্গল আল্লাহর কাছে; বরং
তোমরা এমন সম্প্রদায়, যাদেরকে পরীক্ষা
করা হচ্ছে।
[47] They said: “We augur ill omen from
you and those with you.” He said: “Your
ill omen is with Allâh; nay, but you are a
people that are being tested.”
[48] ﻭَﻛﺎﻥَ ﻓِﻰ ﺍﻟﻤَﺪﻳﻨَﺔِ ﺗِﺴﻌَﺔُ
ﺭَﻫﻂٍ ﻳُﻔﺴِﺪﻭﻥَ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﻭَﻻ ﻳُﺼﻠِﺤﻮﻥَ
[48] আর সেই শহরে ছিল এমন একজন
ব্যক্তি, যারা দেশময় অনর্থ সৃষ্টি করে
বেড়াত এবং সংশোধন করত না।
[48] And there were in the city nine men
(from the sons of their chiefs), who made
mischief in the land, and would not
reform.
[49] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺗَﻘﺎﺳَﻤﻮﺍ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ
ﻟَﻨُﺒَﻴِّﺘَﻨَّﻪُ ﻭَﺃَﻫﻠَﻪُ ﺛُﻢَّ ﻟَﻨَﻘﻮﻟَﻦَّ
ﻟِﻮَﻟِﻴِّﻪِ ﻣﺎ ﺷَﻬِﺪﻧﺎ ﻣَﻬﻠِﻚَ ﺃَﻫﻠِﻪِ
ﻭَﺇِﻧّﺎ ﻟَﺼٰﺪِﻗﻮﻥَ
[49] তারা বলল, তোমরা পরস্পরে আল্লাহর
নামে শপথ গ্রহণ কর যে, আমরা রাত্রিকালে
তাকে ও তার পরিবারবর্গকে হত্যা করব।
অতঃপর তার দাবীদারকে বলে দেব যে,
তার পরিবারবর্গের হত্যাকান্ড আমরা প্রত্যক্ষ
করিনি। আমরা নিশ্চয়ই সত্যবাদী।
[49] They said: “Swear one to another by
Allâh that we shall make a secret night
attack on him and his household, and
thereafter we will surely say to his near
relatives: ‘We witnessed not the
destruction of his household, and verily,
we are telling the truth.'”
[50] ﻭَﻣَﻜَﺮﻭﺍ ﻣَﻜﺮًﺍ ﻭَﻣَﻜَﺮﻧﺎ
ﻣَﻜﺮًﺍ ﻭَﻫُﻢ ﻻ ﻳَﺸﻌُﺮﻭﻥَ
[50] তারা এক চক্রান্ত করেছিল এবং আমিও এক
চক্রান্ত করেছিলাম। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি।
[50] So they plotted a plot, and We
plotted a plot, while they perceived not.
[51] ﻓَﺎﻧﻈُﺮ ﻛَﻴﻒَ ﻛﺎﻥَ ﻋٰﻘِﺒَﺔُ
ﻣَﻜﺮِﻫِﻢ ﺃَﻧّﺎ ﺩَﻣَّﺮﻧٰﻬُﻢ ﻭَﻗَﻮﻣَﻬُﻢ
ﺃَﺟﻤَﻌﻴﻦَ
[51] অতএব, দেখ তাদের চক্রান্তের
পরিনাম, আমি অবশ্রই তাদেরকে এবং তাদের
সম্প্রদায়কে নাস্তনাবুদ করে দিয়েছি।
[51] Then see how was the end of their
plot! Verily! We destroyed them and
their nation, all together.
[52] ﻓَﺘِﻠﻚَ ﺑُﻴﻮﺗُﻬُﻢ ﺧﺎﻭِﻳَﺔً ﺑِﻤﺎ
ﻇَﻠَﻤﻮﺍ ۗ ﺇِﻥَّ ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻚَ ﻝَﺀﺍﻳَﺔً
ﻟِﻘَﻮﻡٍ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[52] এই তো তাদের বাড়ীঘর-তাদের
অবিশ্বাসের কারণে জনশূন্য অবস্থায় পড়ে
আছে। নিশ্চয় এতে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের
জন্যে নিদর্শন আছে।
[52] These are their houses in utter ruin,
for they did wrong. Verily, in this is
indeed an Ayâh (a lesson or a sign) for
people who know.
[53] ﻭَﺃَﻧﺠَﻴﻨَﺎ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ
ﻭَﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﺘَّﻘﻮﻥَ
[53] যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং
পরহেযগার ছিল, তাদেরকে আমি উদ্ধার
করেছি।
[53] And We saved those who believed,
and used to fear Allâh, and keep their
duty to Him.
[54] ﻭَﻟﻮﻃًﺎ ﺇِﺫ ﻗﺎﻝَ ﻟِﻘَﻮﻣِﻪِ
ﺃَﺗَﺄﺗﻮﻥَ ﺍﻟﻔٰﺤِﺸَﺔَ ﻭَﺃَﻧﺘُﻢ
ﺗُﺒﺼِﺮﻭﻥَ
[54] স্মরণ কর লূতের কথা, তিনি তাঁর কওমকে
বলেছিলেন, তোমরা কেন অশ্লীল কাজ
করছ? অথচ এর পরিণতির কথা তোমরা অবগত
আছ!
[54] And (remember) Lut (Lot)! When he
said to his people . Do you commit
Al¬Fâhishah (evil, great sin, every kind
of unlawful sexual intercourse, sodomy)
while you see (one another doing evil
without any screen)?”
[55] ﺃَﺋِﻨَّﻜُﻢ ﻟَﺘَﺄﺗﻮﻥَ ﺍﻟﺮِّﺟﺎﻝَ
ﺷَﻬﻮَﺓً ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻨِّﺴﺎﺀِ ۚ ﺑَﻞ
ﺃَﻧﺘُﻢ ﻗَﻮﻡٌ ﺗَﺠﻬَﻠﻮﻥَ
[55] তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য
নারীদেরকে ছেড়ে পুরুষে উপগত
হবে? তোমরা তো এক বর্বর সম্প্রদায়।
[55] “Do you practise your lusts on men
instead of women? Nay, but you are a
people who behave senselessly.”
[56] ۞ ﻓَﻤﺎ ﻛﺎﻥَ ﺟَﻮﺍﺏَ ﻗَﻮﻣِﻪِ
ﺇِﻟّﺎ ﺃَﻥ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃَﺧﺮِﺟﻮﺍ ﺀﺍﻝَ
ﻟﻮﻁٍ ﻣِﻦ ﻗَﺮﻳَﺘِﻜُﻢ ۖ ﺇِﻧَّﻬُﻢ
ﺃُﻧﺎﺱٌ ﻳَﺘَﻄَﻬَّﺮﻭﻥَ
[56] উত্তরে তাঁর কওম শুধু এ কথাটিই বললো,
লূত পরিবারকে তোমাদের জনপদ থেকে
বের করে দাও। এরা তো এমন লোক যারা শুধু
পাকপবিত্র সাজতে চায়।
[56] There was no other answer given by
his people except that they said: “Drive
out the family of Lut (Lot) from your city.
Verily, these are men who want to be
clean and pure!”
[57] ﻓَﺄَﻧﺠَﻴﻨٰﻪُ ﻭَﺃَﻫﻠَﻪُ ﺇِﻟَّﺎ
ﺍﻣﺮَﺃَﺗَﻪُ ﻗَﺪَّﺭﻧٰﻬﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻐٰﺒِﺮﻳﻦَ
[57] অতঃপর তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে
উদ্ধার করলাম তাঁর স্ত্রী ছাড়া। কেননা, তার
জন্যে ধ্বংসপ্রাপ্তদের ভাগ্যই নির্ধারিত
করেছিলাম।
[57] So We saved him and his family,
except his wife. We destined her to be of
those who remained behind.
[58] ﻭَﺃَﻣﻄَﺮﻧﺎ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻣَﻄَﺮًﺍ ۖ
ﻓَﺴﺎﺀَ ﻣَﻄَﺮُ ﺍﻟﻤُﻨﺬَﺭﻳﻦَ
[58] আর তাদের উপর বর্ষণ করেছিলাম
মুষলধারে বৃষ্টি। সেই সতর্ককৃতদের উপর
কতই না মারাত্নক ছিল সে বৃষ্টি।
[58] And We rained down on them a
rain (of stones). So evil was the rain of
those who were warned.
[59] ﻗُﻞِ ﺍﻟﺤَﻤﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﻭَﺳَﻠٰﻢٌ
ﻋَﻠﻰٰ ﻋِﺒﺎﺩِﻩِ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺍﺻﻄَﻔﻰٰ ۗ
ﺀﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴﺮٌ ﺃَﻣّﺎ ﻳُﺸﺮِﻛﻮﻥَ
[59] বল, সকল প্রশংসাই আল্লাহর এবং শান্তি তাঁর
মনোনীত বান্দাগণের প্রতি! শ্রেষ্ঠ কে?
আল্লাহ না ওরা-তারা যাদেরকে শরীক
সাব্যস্ত করে।
[59] Say (O Muhammad SAW): “Praise
and thanks are to Allâh, and peace be on
His slaves whom He has chosen (for His
Message)! Is Allâh better, or (all) that you
ascribe as partners (to Him)?” (Of
course, Allâh is Better).
[60] ﺃَﻣَّﻦ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽَ ﻭَﺃَﻧﺰَﻝَ ﻟَﻜُﻢ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﻣﺎﺀً ﻓَﺄَﻧﺒَﺘﻨﺎ ﺑِﻪِ
ﺣَﺪﺍﺋِﻖَ ﺫﺍﺕَ ﺑَﻬﺠَﺔٍ ﻣﺎ ﻛﺎﻥَ
ﻟَﻜُﻢ ﺃَﻥ ﺗُﻨﺒِﺘﻮﺍ ﺷَﺠَﺮَﻫﺎ ۗ ﺃَﺀِﻟٰﻪٌ
ﻣَﻊَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۚ ﺑَﻞ ﻫُﻢ ﻗَﻮﻡٌ ﻳَﻌﺪِﻟﻮﻥَ
[60] বল তো কে সৃষ্টি করেছেন
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং আকাশ থেকে
তোমাদের জন্যে বর্ষণ করেছেন পানি;
অতঃপর তা দ্বারা আমি মনোরম বাগান সৃষ্টি
করেছি। তার বৃক্ষাদি উৎপন্ন করার শক্তিই
তোমাদের নেই। অতএব, আল্লাহর সাথে
অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বরং তারা
সত্যবিচ্যুত সম্প্রদায়।
[60] Is not He (better than your gods)
Who created the heavens and the earth,
and sends down for you water (rain)
from the sky, whereby We cause to grow
wonderful gardens full of beauty and
delight? It is not in your ability to cause
the growth of their trees. Is there any
ilâh (god) with Allâh? Nay, but they are a
people who ascribe equals (to Him)!
[61] ﺃَﻣَّﻦ ﺟَﻌَﻞَ ﺍﻷَﺭﺽَ ﻗَﺮﺍﺭًﺍ
ﻭَﺟَﻌَﻞَ ﺧِﻠٰﻠَﻬﺎ ﺃَﻧﻬٰﺮًﺍ ﻭَﺟَﻌَﻞَ
ﻟَﻬﺎ ﺭَﻭٰﺳِﻰَ ﻭَﺟَﻌَﻞَ ﺑَﻴﻦَ
ﺍﻟﺒَﺤﺮَﻳﻦِ ﺣﺎﺟِﺰًﺍ ۗ ﺃَﺀِﻟٰﻪٌ ﻣَﻊَ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ۚ ﺑَﻞ ﺃَﻛﺜَﺮُﻫُﻢ ﻻ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[61] বল তো কে পৃথিবীকে
বাসোপযোগী করেছেন এবং তার মাঝে
মাঝে নদ-নদী প্রবাহিত করেছেন এবং
তাকে স্থিত রাখার জন্যে পর্বত স্থাপন
করেছেন এবং দুই সমুদ্রের মাঝখানে
অন্তরায় রেখেছেন। অতএব, আল্লাহর
সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বরং
তাদের অধিকাংশই জানে না।
[61] Is not He (better than your gods)
Who has made the earth as a fixed
abode, and has placed rivers in its
midst, and has placed firm mountains
therein, and has set a barrier between
the two seas (of salt and sweet water).Is
there any ilâh (god) with Allâh? Nay, but
most of them know not!
[62] ﺃَﻣَّﻦ ﻳُﺠﻴﺐُ ﺍﻟﻤُﻀﻄَﺮَّ ﺇِﺫﺍ
ﺩَﻋﺎﻩُ ﻭَﻳَﻜﺸِﻒُ ﺍﻟﺴّﻮﺀَ
ﻭَﻳَﺠﻌَﻠُﻜُﻢ ﺧُﻠَﻔﺎﺀَ ﺍﻷَﺭﺽِ ۗ
ﺃَﺀِﻟٰﻪٌ ﻣَﻊَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۚ ﻗَﻠﻴﻠًﺎ ﻣﺎ
ﺗَﺬَﻛَّﺮﻭﻥَ
[62] বল তো কে নিঃসহায়ের ডাকে সাড়া
দেন যখন সে ডাকে এবং কষ্ট দূরীভূত
করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে
পুর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত করেন। সুতরাং
আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি?
তোমরা অতি সামান্যই ধ্যান কর।
[62] Is not He (better than your gods)
Who responds to the distressed one,
when he calls on Him, and Who removes
the evil, and makes you inheritors of the
earth, generations after generations? Is
there any ilâh (god) with Allâh? Little is
that you remember!
[63] ﺃَﻣَّﻦ ﻳَﻬﺪﻳﻜُﻢ ﻓﻰ ﻇُﻠُﻤٰﺖِ
ﺍﻟﺒَﺮِّ ﻭَﺍﻟﺒَﺤﺮِ ﻭَﻣَﻦ ﻳُﺮﺳِﻞُ
ﺍﻟﺮِّﻳٰﺢَ ﺑُﺸﺮًﺍ ﺑَﻴﻦَ ﻳَﺪَﻯ
ﺭَﺣﻤَﺘِﻪِ ۗ ﺃَﺀِﻟٰﻪٌ ﻣَﻊَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۚ ﺗَﻌٰﻠَﻰ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻤّﺎ ﻳُﺸﺮِﻛﻮﻥَ
[63] বল তো কে তোমাদেরকে জলে ও
স্থলে অন্ধকারে পথ দেখান এবং যিনি তাঁর
অনুগ্রহের পূর্বে সুসংবাদবাহী বাতাস
প্রেরণ করেন? অতএব, আল্লাহর সাথে
অন্য কোন উপাস্য আছে কি? তারা যাকে
শরীক করে, আল্লাহ তা থেকে অনেক
ঊর্ধ্বে।
[63] Is not He (better than your gods)
Who guides you in the darkness of the
land and the sea, and Who sends the
winds as heralds of glad tidings, going
before His Mercy (rain)? Is there any
ilâh (god) with Allâh? High Exalted is
Allâh above all that they associate as
partners (to Him)!
[64] ﺃَﻣَّﻦ ﻳَﺒﺪَﺅُﺍ۟ ﺍﻟﺨَﻠﻖَ ﺛُﻢَّ
ﻳُﻌﻴﺪُﻩُ ﻭَﻣَﻦ ﻳَﺮﺯُﻗُﻜُﻢ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ۗ ﺃَﺀِﻟٰﻪٌ ﻣَﻊَ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ۚ ﻗُﻞ ﻫﺎﺗﻮﺍ ﺑُﺮﻫٰﻨَﻜُﻢ ﺇِﻥ
ﻛُﻨﺘُﻢ ﺻٰﺪِﻗﻴﻦَ
[64] বল তো কে প্রথমবার সৃষ্টি করেন,
অতঃপর তাকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন এবং কে
তোমাদেরকে আকাশ ও মর্তø থেকে
রিযিক দান করেন। সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য
কোন উপাস্য আছে কি? বলুন, তোমরা যদি
সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ
উপস্থিত কর।
[64] Is not He (better than your so-called
gods) Who originates creation, and shall
thereafter repeat it, and Who provides
for you from heaven and earth? Is there
any ilâh (god) with Allâh? Say, “Bring
forth your proofs, if you are truthful.”
[65] ﻗُﻞ ﻻ ﻳَﻌﻠَﻢُ ﻣَﻦ ﻓِﻰ
ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ﺍﻟﻐَﻴﺐَ ﺇِﻟَّﺎ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ۚ ﻭَﻣﺎ ﻳَﺸﻌُﺮﻭﻥَ ﺃَﻳّﺎﻥَ
ﻳُﺒﻌَﺜﻮﻥَ
[65] বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও
ভূমন্ডলে কেউ গায়বের খবর জানে না এবং
তারা জানে না যে, তারা কখন পুনরুজ্জীবিত
হবে।
[65] Say: “None in the heavens and the
earth knows the Ghaib (unseen) except
Allâh, nor can they perceive when they
shall be resurrected.”
[66] ﺑَﻞِ ﺍﺩّٰﺭَﻙَ ﻋِﻠﻤُﻬُﻢ ﻓِﻰ
ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ۚ ﺑَﻞ ﻫُﻢ ﻓﻰ ﺷَﻚٍّ
ﻣِﻨﻬﺎ ۖ ﺑَﻞ ﻫُﻢ ﻣِﻨﻬﺎ ﻋَﻤﻮﻥَ
[66] বরং পরকাল সম্পর্কে তাদের জ্ঞান
নিঃশেষ হয়ে গেছে; বরং তারা এ বিষয়ে
সন্দেহ পোষন করছে বরং এ বিষয়ে তারা
অন্ধ।
[66] Nay, they have no knowledge of the
Hereafter. Nay, they are in doubt about
it. Nay, they are in complete blindness
about it.
[67] ﻭَﻗﺎﻝَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﺃَﺀِﺫﺍ
ﻛُﻨّﺎ ﺗُﺮٰﺑًﺎ ﻭَﺀﺍﺑﺎﺅُﻧﺎ ﺃَﺋِﻨّﺎ
ﻟَﻤُﺨﺮَﺟﻮﻥَ
[67] কাফেররা বলে, যখন আমরা ও আমাদের
বাপ-দাদারা মৃত্তিকা হয়ে যাব, তখনও কি
আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে?
[67] And those who disbelieve say:
“When we have become dust — we and
our fathers — shall we really be brought
forth (again)?
[68] ﻟَﻘَﺪ ﻭُﻋِﺪﻧﺎ ﻫٰﺬﺍ ﻧَﺤﻦُ
ﻭَﺀﺍﺑﺎﺅُﻧﺎ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ ﺇِﻥ ﻫٰﺬﺍ ﺇِﻟّﺎ
ﺃَﺳٰﻄﻴﺮُ ﺍﻷَﻭَّﻟﻴﻦَ
[68] এই ওয়াদাপ্রাপ্ত হয়েছি আমরা এবং পূর্ব
থেকেই আমাদের বাপ-দাদারা। এটা তো
পূর্ববর্তীদের উপকথা বৈ কিছু নয়।
[68] “Indeed we were promised this, we
and our forefathers before (us), Verily,
these are nothing but tales of ancients.”
[69] ﻗُﻞ ﺳﻴﺮﻭﺍ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﻓَﺎﻧﻈُﺮﻭﺍ ﻛَﻴﻒَ ﻛﺎﻥَ ﻋٰﻘِﺒَﺔُ
ﺍﻟﻤُﺠﺮِﻣﻴﻦَ
[69] বলুন, পৃথিবী পরিভ্রমণ কর এবং দেখ
অপরাধীদের পরিণতি কি হয়েছে।
[69] Say to them (O Muhammad SAW)
“Travel in the land and see how has
been the end of the Mujrimun
(criminals, those who denied Allâh’s
Messengers and disobeyed Allâh).”
[70] ﻭَﻻ ﺗَﺤﺰَﻥ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻭَﻻ
ﺗَﻜُﻦ ﻓﻰ ﺿَﻴﻖٍ ﻣِﻤّﺎ ﻳَﻤﻜُﺮﻭﻥَ
[70] তাদের কারণে আপনি দুঃখিত হবেন না এবং
তারা যে চক্রান্ত করেছে এতে মনঃক্ষুন্ন
হবেন না।
[70] And grieve you not over them, nor
be straitened (in distress) because of
what they plot.
[71] ﻭَﻳَﻘﻮﻟﻮﻥَ ﻣَﺘﻰٰ ﻫٰﺬَﺍ
ﺍﻟﻮَﻋﺪُ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺻٰﺪِﻗﻴﻦَ
[71] তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও
তবে বল, এই ওয়াদা কখন পূর্ণ হবে?
[71] And they (the disbelievers in the
Oneness of Allâh) say: “When (will) this
promise (be fulfilled), if you are
truthful?”
[72] ﻗُﻞ ﻋَﺴﻰٰ ﺃَﻥ ﻳَﻜﻮﻥَ ﺭَﺩِﻑَ
ﻟَﻜُﻢ ﺑَﻌﺾُ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺗَﺴﺘَﻌﺠِﻠﻮﻥَ
[72] বলুন, অসম্ভব কি, তোমরা যত দ্রুত কামনা
করছ তাদের কিয়দংশ তোমাদের পিঠের উপর
এসে গেছে।
[72] Say: “Perhaps that which you wish to
hasten on, may be close behind you
[73] ﻭَﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻟَﺬﻭ ﻓَﻀﻞٍ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟﻨّﺎﺱِ ﻭَﻟٰﻜِﻦَّ ﺃَﻛﺜَﺮَﻫُﻢ ﻻ
ﻳَﺸﻜُﺮﻭﻥَ
[73] আপনার পালনকর্তা মানুষের প্রতি
অনুগ্রহশীল, কিন্তু তাদের অধিকাংশই
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।
[73] “Verily, your Lord is full of Grace
for mankind, yet most of them do not
give thanks.”
[74] ﻭَﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻟَﻴَﻌﻠَﻢُ ﻣﺎ ﺗُﻜِﻦُّ
ﺻُﺪﻭﺭُﻫُﻢ ﻭَﻣﺎ ﻳُﻌﻠِﻨﻮﻥَ
[74] তাদের অন্তর যা গোপন করে এবং যা
প্রকাশ করে আপনার পালনকর্তা অবশ্যই তা
জানেন।
[74] And verily, your Lord knows what
their breasts conceal and what they
reveal.
[75] ﻭَﻣﺎ ﻣِﻦ ﻏﺎﺋِﺒَﺔٍ ﻓِﻰ
ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ﺇِﻟّﺎ ﻓﻰ
ﻛِﺘٰﺐٍ ﻣُﺒﻴﻦٍ
[75] আকাশে ও পৃথিবীতে এমন কোন
গোপন ভেদ নেই, যা সুস্পষ্ট কিতাবে না
আছে।
[75] And there is nothing hidden in the
heaven and the earth, but is in a Clear
Book (i.e. Al-Lauh Al-Mahfûz)
[76] ﺇِﻥَّ ﻫٰﺬَﺍ ﺍﻟﻘُﺮﺀﺍﻥَ ﻳَﻘُﺺُّ
ﻋَﻠﻰٰ ﺑَﻨﻰ ﺇِﺳﺮٰﺀﻳﻞَ ﺃَﻛﺜَﺮَ
ﺍﻟَّﺬﻯ ﻫُﻢ ﻓﻴﻪِ ﻳَﺨﺘَﻠِﻔﻮﻥَ
[76] এই কোরআন বণী ইসরাঈল যেসব
বিষয়ে মতবিরোধ করে, তার অধিকাংশ তাদের
কাছে বর্ণনা করে।
[76] Verily, this Qur’ân narrates to the
Children of Israel most of that in which
they differ.
[77] ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻬُﺪًﻯ ﻭَﺭَﺣﻤَﺔٌ
ﻟِﻠﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[77] এবং নিশ্চিতই এটা মুমিনদের জন্যে
হেদায়েত ও রহমত।
[77] And truly, it (this Qur’ân) is a guide
and a mercy for the believers.
[78] ﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻳَﻘﻀﻰ ﺑَﻴﻨَﻬُﻢ
ﺑِﺤُﻜﻤِﻪِ ۚ ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ ﺍﻟﻌَﻠﻴﻢُ
[78] আপনার পালনকর্তা নিজ শাসনক্ষমতা
অনুযায়ী তাদের মধ্যে ফয়সালা করে
দেবেন। তিনি পরাক্রমশালী, সুবিজ্ঞ।
[78] Verily, your Lord will decide
between them (various sects) by His
Judgement. And He is the All-Mighty, the
All-Knowing.
[79] ﻓَﺘَﻮَﻛَّﻞ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۖ ﺇِﻧَّﻚَ
ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﻖِّ ﺍﻟﻤُﺒﻴﻦِ
[79] অতএব, আপনি আল্লাহর উপর ভরসা করুন।
নিশ্চয় আপনি সত্য ও স্পষ্ট পথে আছেন।
[79] So put your trust in Allâh; surely,
you (O Muhammad SAW) are on
manifest truth.
[80] ﺇِﻧَّﻚَ ﻻ ﺗُﺴﻤِﻊُ ﺍﻟﻤَﻮﺗﻰٰ ﻭَﻻ
ﺗُﺴﻤِﻊُ ﺍﻟﺼُّﻢَّ ﺍﻟﺪُّﻋﺎﺀَ ﺇِﺫﺍ ﻭَﻟَّﻮﺍ
ﻣُﺪﺑِﺮﻳﻦَ
[80] আপনি আহবান শোনাতে পারবেন না
মৃতদেরকে এবং বধিরকেও নয়, যখন তারা
পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলে যায়।
[80] Verily, you cannot make the dead to
hear nor can you make the deaf to hear
the call (i.e. benefit them and similarly
the disbelievers). when they flee, turning
their backs.
[81] ﻭَﻣﺎ ﺃَﻧﺖَ ﺑِﻬٰﺪِﻯ ﺍﻟﻌُﻤﻰِ
ﻋَﻦ ﺿَﻠٰﻠَﺘِﻬِﻢ ۖ ﺇِﻥ ﺗُﺴﻤِﻊُ ﺇِﻟّﺎ
ﻣَﻦ ﻳُﺆﻣِﻦُ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ﻓَﻬُﻢ
ﻣُﺴﻠِﻤﻮﻥَ
[81] আপনি অন্ধদেরকে তাদের পথভ্রষ্টতা
থেকে ফিরিয়ে সৎপথে আনতে পারবেন
না। আপনি কেবল তাদেরকে শোনাতে
পারবেন, যারা আমার আয়াতসমূহে বিশ্বাস
করে। অতএব, তারাই আজ্ঞাবহ।
[81] Nor can you lead the blind out of
their error, you can only make to hear
those who believe in Our Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.), and who have
submitted (themselves to Allâh in Islâm
as Muslims)
[82] ۞ ﻭَﺇِﺫﺍ ﻭَﻗَﻊَ ﺍﻟﻘَﻮﻝُ
ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺃَﺧﺮَﺟﻨﺎ ﻟَﻬُﻢ ﺩﺍﺑَّﺔً ﻣِﻦَ
ﺍﻷَﺭﺽِ ﺗُﻜَﻠِّﻤُﻬُﻢ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨّﺎﺱَ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ﻻ ﻳﻮﻗِﻨﻮﻥَ
[82] যখন প্রতিশ্রুতি (কেয়ামত) সমাগত হবে,
তখন আমি তাদের সামনে ভূগর্ভ থেকে
একটি জীব নির্গত করব। সে মানুষের সাথে
কথা বলবে। এ কারণে যে মানুষ আমার
নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করত না।
[82] And when the Word (of torment) is
fulfilled against them, We shall bring out
from the earth a beast for them, to speak
to them because mankind believed not
with certainty in Our Ayât (Verses of the
Qur’ân and Prophet Muhammad SAW)
[83] ﻭَﻳَﻮﻡَ ﻧَﺤﺸُﺮُ ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﺃُﻣَّﺔٍ
ﻓَﻮﺟًﺎ ﻣِﻤَّﻦ ﻳُﻜَﺬِّﺏُ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ
ﻓَﻬُﻢ ﻳﻮﺯَﻋﻮﻥَ
[83] যেদিন আমি একত্রিত করব একেকটি
দলকে সেসব সম্প্রদায় থেকে, যারা আমার
আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলত; অতঃপর তাদেরকে
বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে।
[83] And (remember) the Day when We
shall gather out of every nation a troop
of those who denied Our Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.), and (then) they (all)
shall be set in array (gathered and
driven to the place of reckoning),
[84] ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ ﺟﺎﺀﻭ ﻗﺎﻝَ
ﺃَﻛَﺬَّﺑﺘُﻢ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘﻰ ﻭَﻟَﻢ ﺗُﺤﻴﻄﻮﺍ
ﺑِﻬﺎ ﻋِﻠﻤًﺎ ﺃَﻣّﺎﺫﺍ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[84] যখন তারা উপস্থিত হয়ে যাবে, তখন
আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি আমার
আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছিলে? অথচ
এগুলো সম্পর্কে তোমাদের পুর্ণ জ্ঞান
ছিল না। না তোমরা অন্য কিছু করছিলে?
[84] Till, when they come (before their
Lord at the place of reckoning), He will
say: “Did you deny My Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) where as you
comprehended them not by knowledge
(of their truth or falsehood), or what
(else) was it that you used to do?”
[85] ﻭَﻭَﻗَﻊَ ﺍﻟﻘَﻮﻝُ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺑِﻤﺎ
ﻇَﻠَﻤﻮﺍ ﻓَﻬُﻢ ﻻ ﻳَﻨﻄِﻘﻮﻥَ
[85] জুলুমের কারণে তাদের কাছে
আযাবের ওয়াদা এসে গেছে। এখন তারা
কোন কিছু বলতে পারবে না।
[85] And the Word (of torment) will be
fulfilled against them, because they have
done wrong, and they will be unable to
speak (in order to defend themselves).
[86] ﺃَﻟَﻢ ﻳَﺮَﻭﺍ ﺃَﻧّﺎ ﺟَﻌَﻠﻨَﺎ ﺍﻟَّﻴﻞَ
ﻟِﻴَﺴﻜُﻨﻮﺍ ﻓﻴﻪِ ﻭَﺍﻟﻨَّﻬﺎﺭَ ﻣُﺒﺼِﺮًﺍ ۚ
ﺇِﻥَّ ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻚَ ﻝَﺀﺍﻳٰﺖٍ ﻟِﻘَﻮﻡٍ
ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[86] তারা কি দেখে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি
করেছি তাদের বিশ্রামের জন্যে এবং
দিনকে করেছি আলোকময়। নিশ্চয় এতে
ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী
রয়েছে।
[86] See they not that We have made the
night for them to rest therein, and the
day sight-giving? Verily, in this are Ayât
(proofs, evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) for the people who
believe.
[87] ﻭَﻳَﻮﻡَ ﻳُﻨﻔَﺦُ ﻓِﻰ ﺍﻟﺼّﻮﺭِ
ﻓَﻔَﺰِﻉَ ﻣَﻦ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﻣَﻦ
ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﺇِﻟّﺎ ﻣَﻦ ﺷﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ۚ
ﻭَﻛُﻞٌّ ﺃَﺗَﻮﻩُ ﺩٰﺧِﺮﻳﻦَ
[87] যেদিন সিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে,
অতঃপর আল্লাহ যাদেরকে ইচ্ছা করবেন, তারা
ব্যতীত নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যারা
আছে, তারা সবাই ভীতবিহ্বল হয়ে পড়বে
এবং সকলেই তাঁর কাছে আসবে বিনীত
অবস্থায়।
[87] And (remember) the Day on which
the Trumpet will be blown — and all
who are in the heavens and all who are
on the earth, will be terrified except him
whom Allâh will (exempt). And all shall
come to Him humbled.
[88] ﻭَﺗَﺮَﻯ ﺍﻟﺠِﺒﺎﻝَ ﺗَﺤﺴَﺒُﻬﺎ
ﺟﺎﻣِﺪَﺓً ﻭَﻫِﻰَ ﺗَﻤُﺮُّ ﻣَﺮَّ
ﺍﻟﺴَّﺤﺎﺏِ ۚ ﺻُﻨﻊَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟَّﺬﻯ
ﺃَﺗﻘَﻦَ ﻛُﻞَّ ﺷَﻲﺀٍ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﺧَﺒﻴﺮٌ
ﺑِﻤﺎ ﺗَﻔﻌَﻠﻮﻥَ
[88] তুমি পর্বতমালাকে দেখে অচল মনে
কর, অথচ সেদিন এগুলো মেঘমালার মত
চলমান হবে। এটা আল্লাহর কারিগরী, যিনি
সবকিছুকে করেছেন সুসংহত। তোমরা যা কিছু
করছ, তিনি তা অবগত আছেন।
[88] And you will see the mountains and
think them solid, but they shall pass
away as the passing away of the clouds.
The Work of Allâh, Who perfected all
things, verily! He is Well-Acquainted
with what you do.
[89] ﻣَﻦ ﺟﺎﺀَ ﺑِﺎﻟﺤَﺴَﻨَﺔِ ﻓَﻠَﻪُ
ﺧَﻴﺮٌ ﻣِﻨﻬﺎ ﻭَﻫُﻢ ﻣِﻦ ﻓَﺰَﻉٍ
ﻳَﻮﻣَﺌِﺬٍ ﺀﺍﻣِﻨﻮﻥَ
[89] যে কেউ সৎকর্ম নিয়ে আসবে, সে
উৎকৃষ্টতর প্রতিদান পাবে এবং সেদিন তারা
গুরুতর অস্থিরতা থেকে নিরাপদ থাকবে।
[89] Whoever brings a good deed (i.e.
Belief in the Oneness of Allâh along with
every deed of righteousness), will have
better than its worth, and they will be
safe from the terror on that Day.
[90] ﻭَﻣَﻦ ﺟﺎﺀَ ﺑِﺎﻟﺴَّﻴِّﺌَﺔِ
ﻓَﻜُﺒَّﺖ ﻭُﺟﻮﻫُﻬُﻢ ﻓِﻰ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ
ﻫَﻞ ﺗُﺠﺰَﻭﻥَ ﺇِﻟّﺎ ﻣﺎ ﻛُﻨﺘُﻢ
ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[90] এবং যে মন্দ কাজ নিয়ে আসবে, তাকে
অগ্নিতে অধঃমূখে নিক্ষেপ করা হবে।
তোমরা যা করছিলে, তারই প্রতিফল তোমরা
পাবে।
[90] And whoever brings an evil deed
(i.e. Shirk — polytheism, disbelief in the
Oneness of Allâh and every evil sinful
deed), they will be cast down (prone) on
their faces in the Fire. (And it will be
said to them) “Are you being
recompensed anything except what you
used to do?”
[91] ﺇِﻧَّﻤﺎ ﺃُﻣِﺮﺕُ ﺃَﻥ ﺃَﻋﺒُﺪَ ﺭَﺏَّ
ﻫٰﺬِﻩِ ﺍﻟﺒَﻠﺪَﺓِ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺣَﺮَّﻣَﻬﺎ ﻭَﻟَﻪُ
ﻛُﻞُّ ﺷَﻲﺀٍ ۖ ﻭَﺃُﻣِﺮﺕُ ﺃَﻥ ﺃَﻛﻮﻥَ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﺴﻠِﻤﻴﻦَ
[91] আমি তো কেবল এই নগরীর প্রভুর
এবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি, যিনি একে
সম্মানিত করেছেন। এবং সব কিছু তাঁরই। আমি
আরও আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি
আজ্ঞাবহদের একজন হই।
[91] I (Muhammad SAW) have been
commanded only to worship the Lord of
this city (Makkah), Who has sanctified it
and to whom belongs everything. And I
am commanded to be from among the
Muslims (those who submit to Allâh in
Islâm)
[92] ﻭَﺃَﻥ ﺃَﺗﻠُﻮَﺍ۟ ﺍﻟﻘُﺮﺀﺍﻥَ ۖ ﻓَﻤَﻦِ
ﺍﻫﺘَﺪﻯٰ ﻓَﺈِﻧَّﻤﺎ ﻳَﻬﺘَﺪﻯ ﻟِﻨَﻔﺴِﻪِ ۖ
ﻭَﻣَﻦ ﺿَﻞَّ ﻓَﻘُﻞ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﺃَﻧﺎ۠ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻤُﻨﺬِﺭﻳﻦَ
[92] এবং যেন আমি কোরআন পাঠ করে
শোনাই। পর যে ব্যক্তি সৎপথে চলে, সে
নিজের কল্যাণার্থেই সৎপথে চলে এবং
কেউ পথভ্রষ্ট হলে আপনি বলে দিন, আমি
তো কেবল একজন ভীতি প্রদর্শনকারী।
[92] And that I should recite the Qur’ân,
then whosoever receives guidance,
receives it for the good of his ownself,
and whosoever goes astray, say (to him):
“I am only one of the warners.”
[93] ﻭَﻗُﻞِ ﺍﻟﺤَﻤﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺳَﻴُﺮﻳﻜُﻢ
ﺀﺍﻳٰﺘِﻪِ ﻓَﺘَﻌﺮِﻓﻮﻧَﻬﺎ ۚ ﻭَﻣﺎ ﺭَﺑُّﻚَ
ﺑِﻐٰﻔِﻞٍ ﻋَﻤّﺎ ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[93] এবং আরও বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।
সত্বরই তিনি তাঁর নিদর্শনসমূহ তোমাদেরকে
দেখাবেন। তখন তোমরা তা চিনতে পারবে।
এবং তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আপনার
পালনকর্তা গাফেল নন।
[93] And say [(O Muhammad SAW) to
these polytheists and pagans]: “All the
praises and thanks are to Allâh. He will
show you His Ayât (signs, in yourselves,
and in the universe or punishments),
and you shall recognise them. And your
Lord is not unaware of what you do.”
Surah Al Naml Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. ত্বা-সীন; এগুলো আল-কোরআনের আয়াত এবং আয়াত সুস্পষ্ট কিতাবের। 2. মুমিনদের জন্যে পথ নির্দেশ ও সুসংবাদ। 3. যারা নামায কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং পরকালে নিশ্চিত বিশ্বাস করে। 4. যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, আমি তাদের দৃষ্টিতে তাদের কর্মকান্ডকে সুশোভিত করে দিয়েছি। অতএব, তারা উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়। 5. তাদের জন্যেই রয়েছে মন্দ শাস্তি এবং তারাই পরকালে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত। 6. এবং আপনাকে কোরআন প্রদত্ত হচ্ছে প্রজ্ঞাময়, জ্ঞানময় আল্লাহর কাছ থেকে। 7. যখন মূসা তাঁর পরিবারবর্গকে বললেনঃ আমি অগ্নি দেখেছি, এখন আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্যে কোন খবর আনতে পারব অথবা তোমাদের জন্যে জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে আসতে পারব যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার। 8. অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে আসলেন তখন আওয়াজ হল ধন্য তিনি, যিনি আগুনের স্থানে আছেন এবং যারা আগুনের আশেপাশে আছেন। বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা আল্লাহ পবিত্র ও মহিমান্বিত। 9. হে মূসা, আমি আল্লাহ, প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। 10. আপনি নিক্ষেপ করুন আপনার লাঠি। অতঃপর যখন তিনি তাকে সর্পের ন্যায় ছুটাছুটি করতে দেখলেন, তখন তিনি বিপরীত দিকে ছুটতে লাগলেন এবং পেছন ফিরেও দেখলেন না। হে মূসা, ভয় করবেন না। আমি যে রয়েছি, আমার কাছে পয়গম্বরগণ ভয় করেন না। 11. তবে যে বাড়াবাড়ি করে এরপর মন্দ কর্মের পরিবর্তে সৎকর্ম করে। নিশ্চয় আমি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। 12. আপনার হাত আপনার বগলে ঢুকিয়ে দিন, সুশুভ্র হয়ে বের হবে নির্দোষ অবস্থায়। এগুলো ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের কাছে আনীত নয়টি নিদর্শনের অন্যতম। নিশ্চয় তারা ছিল পাপাচারী সম্প্রদায়। 13. অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার উজ্জল নিদর্শনাবলী আগমন করল, তখন তারা বলল, এটা তো সুস্পষ্ট জাদু। 14. তারা অন্যায় ও অহংকার করে নিদর্শনাবলীকে প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর এগুলো সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল। অতএব দেখুন, অনর্থকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল? 15. আমি অবশ্যই দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছিলাম। তাঁরা বলে ছিলেন, আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে তাঁর অনেক মুমিন বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। 16. সুলায়মান দাউদের উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘হে লোক সকল, আমাকে উড়ন্ত পক্ষীকূলের ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়েছে এবং আমাকে সব কিছু দেয়া হয়েছে। নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব।’ 17. সুলায়মানের সামনে তার সেনাবাহিনীকে সমবেত করা হল। জ্বিন-মানুষ ও পক্ষীকুলকে, অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন ব্যূহে বিভক্ত করা হল। 18. যখন তারা পিপীলিকা অধ্যূষিত উপত্যকায় পৌঁছাল, তখন এক পিপীলিকা বলল, হে পিপীলিকার দল, তোমরা তোমাদের গৃহে প্রবেশ কর। অন্যথায় সুলায়মান ও তার বাহিনী অজ্ঞাতসারে তোমাদেরকে পিষ্ট করে ফেলবে। 19. তার কথা শুনে সুলায়মান মুচকি হাসলেন এবং বললেন, হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমাকে সামর্থ দাও যাতে আমি তোমার সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যা তুমি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছ এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকর্ম করতে পারি এবং আমাকে নিজ অনুগ্রহে তোমার সৎকর্মপরায়ন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর। 20. সুলায়মান পক্ষীদের খোঁজ খবর নিলেন, অতঃপর বললেন, কি হল, হুদহুদকে দেখছি না কেন? নাকি সে অনুপস্থিত? 21. আমি অবশ্যই তাকে কঠোর শাস্তি দেব কিংবা হত্যা করব অথবা সে উপস্থিত করবে উপযুক্ত কারণ। 22. কিছুক্ষণ পড়েই হুদ এসে বলল, আপনি যা অবগত নন, আমি তা অবগত হয়েছি। আমি আপনার কাছে সাবা থেকে নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে আগমন করেছি। 23. আমি এক নারীকে সাবাবাসীদের উপর রাজত্ব করতে দেখেছি। তাকে সবকিছুই দেয়া হয়েছে এবং তার একটা বিরাট সিংহাসন আছে। 24. আমি তাকে ও তার সম্প্রদায়কে দেখলাম তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সেজদা করছে। শয়তান তাদের দৃষ্টিতে তাদের কার্যাবলী সুশোভিত করে দিয়েছে। অতঃপর তাদেরকে সৎপথ থেকে নিবৃত্ত করেছে। অতএব তারা সৎপথ পায় না। 25. তারা আল্লাহকে সেজদা করে না কেন, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের গোপন বস্তু প্রকাশ করেন এবং জানেন যা তোমরা গোপন কর ও যা প্রকাশ কর। 26. আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি মহা আরশের মালিক। 27. সুলায়মান বললেন, এখন আমি দেখব তুমি সত্য বলছ, না তুমি মিথ্যবাদী। 28. তুমি আমার এই পত্র নিয়ে যাও এবং এটা তাদের কাছে অর্পন কর। অতঃপর তাদের কাছ থেকে সরে পড় এবং দেখ, তারা কি জওয়াব দেয়। 29. বিলকীস বলল, হে পরিষদবর্গ, আমাকে একটি সম্মানিত পত্র দেয়া হয়েছে। 30. সেই পত্র সুলায়মানের পক্ষ থেকে এবং তা এইঃ সসীম দাতা, পরম দয়ালু, আল্লাহর নামে শুরু; 31. আমার মোকাবেলায় শক্তি প্রদর্শন করো না এবং বশ্যতা স্বীকার করে আমার কাছে উপস্থিত হও। 32. বিলকীস বলল, হে পরিষদবর্গ, আমাকে আমার কাজে পরামর্শ দাও। তোমাদের উপস্থিতি ব্যতিরেকে আমি কোন কাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না। 33. তারা বলল, আমরা শক্তিশালী এবং কঠোর যোদ্ধা। এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আপনারই। অতএব আপনি ভেবে দেখুন, আমাদেরকে কি আদেশ করবেন। 34. সে বলল, রাজা বাদশারা যখন কোন জনপদে প্রবেশ করে, তখন তাকে বিপর্যস্ত করে দেয় এবং সেখানকার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গকে অপদস্থ করে। তারাও এরূপই করবে। 35. আমি তাঁর কাছে কিছু উপঢৌকন পাঠাচ্ছি; দেখি প্রেরিত লোকেরা কি জওয়াব আনে। 36. অতঃপর যখন দূত সুলায়মানের কাছে আগমন করল, তখন সুলায়মান বললেন, তোমরা কি ধনসম্পদ দ্বারা আমাকে সাহায্য করতে চাও? আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন, তা তোমাদেরকে প্রদত্ত বস্তু থেকে উত্তম। বরং তোমরাই তোমাদের উপঢৌকন নিয়ে সুখে থাক। 37. ফিরে যাও তাদের কাছে। এখন অবশ্যই আমি তাদের বিরুদ্ধে এক সৈন্যবাহিনী নিয়ে আসব, যার মোকাবেলা করার শক্তি তাদের নেই। আমি অবশ্যই তাদেরকে অপদস্থ করে সেখান থেকে বহিষ্কৃত করব এবং তারা হবে লাঞ্ছিত। 38. সুলায়মান বললেন, হে পরিষদবর্গ, তারা আত্নসমর্পণ করে আমার কাছে আসার পূর্বে কে বিলকীসের সিংহাসন আমাকে এনে দেবে? 39. জনৈক দৈত্য-জিন বলল, আপনি আপনার স্থান থেকে উঠার পূর্বে আমি তা এনে দেব এবং আমি একাজে শক্তিবান, বিশ্বস্ত। 40. কিতাবের জ্ঞান যার ছিল, সে বলল, আপনার দিকে আপনার চোখের পলক ফেলার পূর্বেই আমি তা আপনাকে এনে দেব। অতঃপর সুলায়মান যখন তা সামনে রক্ষিত দেখলেন, তখন বললেন এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ, যাতে তিনি আমাকে পরীক্ষা করেন যে, আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, না অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং যে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে জানুক যে, আমার পালনকর্তা অভাবমুক্ত কৃপাশীল। 41. সুলায়মান বললেন, বিলকীসের সামনে তার সিংহাসনের আকার- আকৃতি বদলিয়ে দাও, দেখব সে সঠিক বুঝতে পারে, না সে তাদের অন্তর্ভুক্ত, যাদের দিশা নেই? 42. অতঃপর যখন বিলকীস এসে গেল, তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, তোমার সিংহাসন কি এরূপই? সে বলল, মনে হয় এটা সেটাই। আমরা পূর্বেই সমস্ত অবগত হয়েছি এবং আমরা আজ্ঞাবহও হয়ে গেছি। 43. আল্লাহর পরিবর্তে সে যার এবাদত করত, সেই তাকে ঈমান থেকে নিবৃত্ত করেছিল। নিশ্চয় সে কাফের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল। 44. তাকে বলা হল, এই প্রাসাদে প্রবেশ কর। যখন সে তার প্রতি দৃষ্টিপাত করল সে ধারণা করল যে, এটা স্বচ্ছ গভীর জলাশয়। সে তার পায়ের গোছা খুলে ফেলল। সুলায়মান বলল, এটা তো স্বচ্ছ স্ফটিক নির্মিত প্রাসাদ। বিলকীস বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমি তো নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আমি সুলায়মানের সাথে বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা আল্লাহর কাছে আত্নসমর্পন করলাম। 45. আমি সামুদ সম্প্রদায়ের কাছে তাদের ভাই সালেহকে এই মর্মে প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। অতঃপর তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে বিতর্কে প্রবৃত্ত হল। 46. সালেহ বললেন, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা কল্যাণের পূর্বে দ্রুত অকল্যাণ কামনা করছ কেন? তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছ না কেন? সম্ভবতঃ তোমরা দয়াপ্রাপ্ত হবে। 47. তারা বলল, তোমাকে এবং তোমার সাথে যারা আছে, তাদেরকে আমরা অকল্যাণের প্রতীক মনে করি। সালেহ বললেন, তোমাদের মঙ্গলামঙ্গল আল্লাহর কাছে; বরং তোমরা এমন সম্প্রদায়, যাদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। 48. আর সেই শহরে ছিল এমন একজন ব্যক্তি, যারা দেশময় অনর্থ সৃষ্টি করে বেড়াত এবং সংশোধন করত না। 49. তারা বলল, তোমরা পরস্পরে আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ কর যে, আমরা রাত্রিকালে তাকে ও তার পরিবারবর্গকে হত্যা করব। অতঃপর তার দাবীদারকে বলে দেব যে, তার পরিবারবর্গের হত্যাকান্ড আমরা প্রত্যক্ষ করিনি। আমরা নিশ্চয়ই সত্যবাদী। 50. তারা এক চক্রান্ত করেছিল এবং আমিও এক চক্রান্ত করেছিলাম। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি। 51. অতএব, দেখ তাদের চক্রান্তের পরিনাম, আমি অবশ্রই তাদেরকে এবং তাদের সম্প্রদায়কে নাস্তনাবুদ করে দিয়েছি। 52. এই তো তাদের বাড়ীঘর- তাদের অবিশ্বাসের কারণে জনশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। নিশ্চয় এতে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন আছে। 53. যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং পরহেযগার ছিল, তাদেরকে আমি উদ্ধার করেছি। 54. স্মরণ কর লূতের কথা, তিনি তাঁর কওমকে বলেছিলেন, তোমরা কেন অশ্লীল কাজ করছ? অথচ এর পরিণতির কথা তোমরা অবগত আছ! 55. তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য নারীদেরকে ছেড়ে পুরুষে উপগত হবে? তোমরা তো এক বর্বর সম্প্রদায়। 56. উত্তরে তাঁর কওম শুধু এ কথাটিই বললো, লূত পরিবারকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। এরা তো এমন লোক যারা শুধু পাকপবিত্র সাজতে চায়। 57. অতঃপর তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে উদ্ধার করলাম তাঁর স্ত্রী ছাড়া। কেননা, তার জন্যে ধ্বংসপ্রাপ্তদের ভাগ্যই নির্ধারিত করেছিলাম। 58. আর তাদের উপর বর্ষণ করেছিলাম মুষলধারে বৃষ্টি। সেই সতর্ককৃতদের উপর কতই না মারাত্নক ছিল সে বৃষ্টি। 59. বল, সকল প্রশংসাই আল্লাহর এবং শান্তি তাঁর মনোনীত বান্দাগণের প্রতি! শ্রেষ্ঠ কে? আল্লাহ না ওরা-তারা যাদেরকে শরীক সাব্যস্ত করে। 60. বল তো কে সৃষ্টি করেছেন নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং আকাশ থেকে তোমাদের জন্যে বর্ষণ করেছেন পানি; অতঃপর তা দ্বারা আমি মনোরম বাগান সৃষ্টি করেছি। তার বৃক্ষাদি উৎপন্ন করার শক্তিই তোমাদের নেই। অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বরং তারা সত্যবিচ্যুত সম্প্রদায়। 61. বল তো কে পৃথিবীকে বাসোপযোগী করেছেন এবং তার মাঝে মাঝে নদ- নদী প্রবাহিত করেছেন এবং তাকে স্থিত রাখার জন্যে পর্বত স্থাপন করেছেন এবং দুই সমুদ্রের মাঝখানে অন্তরায় রেখেছেন। অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না। 62. বল তো কে নিঃসহায়ের ডাকে সাড়া দেন যখন সে ডাকে এবং কষ্ট দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে পুর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত করেন। সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? তোমরা অতি সামান্যই ধ্যান কর। 63. বল তো কে তোমাদেরকে জলে ও স্থলে অন্ধকারে পথ দেখান এবং যিনি তাঁর অনুগ্রহের পূর্বে সুসংবাদবাহী বাতাস প্রেরণ করেন? অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? তারা যাকে শরীক করে, আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। 64. বল তো কে প্রথমবার সৃষ্টি করেন, অতঃপর তাকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন এবং কে তোমাদেরকে আকাশ ও মর্ত কে রিযিক দান করেন। সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বলুন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর। 65. বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে কেউ গায়বের খবর জানে না এবং তারা জানে না যে, তারা কখন পুনরুজ্জীবিত হবে। 66. বরং পরকাল সম্পর্কে তাদের জ্ঞান নিঃশেষ হয়ে গেছে; বরং তারা এ বিষয়ে সন্দেহ পোষন করছে বরং এ বিষয়ে তারা অন্ধ। 67. কাফেররা বলে, যখন আমরা ও আমাদের বাপ-দাদারা মৃত্তিকা হয়ে যাব, তখনও কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে? 68. এই ওয়াদাপ্রাপ্ত হয়েছি আমরা এবং পূর্ব থেকেই আমাদের বাপ-দাদারা। এটা তো পূর্ববর্তীদের উপকথা বৈ কিছু নয়। 69. বলুন, পৃথিবী পরিভ্রমণ কর এবং দেখ অপরাধীদের পরিণতি কি হয়েছে। 70. তাদের কারণে আপনি দুঃখিত হবেন না এবং তারা যে চক্রান্ত করেছে এতে মনঃক্ষুন্ন হবেন না। 71. তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল, এই ওয়াদা কখন পূর্ণ হবে? 72. বলুন, অসম্ভব কি, তোমরা যত দ্রুত কামনা করছ তাদের কিয়দংশ তোমাদের পিঠের উপর এসে গেছে। 73. আপনার পালনকর্তা মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল, কিন্তু তাদের অধিকাংশই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। 74. তাদের অন্তর যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে আপনার পালনকর্তা অবশ্যই তা জানেন। 75. আকাশে ও পৃথিবীতে এমন কোন গোপন ভেদ নেই, যা সুস্পষ্ট কিতাবে না আছে। 76. এই কোরআন বণী ইসরাঈল যেসব বিষয়ে মতবিরোধ করে, তার অধিকাংশ তাদের কাছে বর্ণনা করে। 77. এবং নিশ্চিতই এটা মুমিনদের জন্যে হেদায়েত ও রহমত। 78. আপনার পালনকর্তা নিজ শাসনক্ষমতা অনুযায়ী তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন। তিনি পরাক্রমশালী, সুবিজ্ঞ। 79. অতএব, আপনি আল্লাহর উপর ভরসা করুন। নিশ্চয় আপনি সত্য ও স্পষ্ট পথে আছেন। 80. আপনি আহবান শোনাতে পারবেন না মৃতদেরকে এবং বধিরকেও নয়, যখন তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলে যায়। 81. আপনি অন্ধদেরকে তাদের পথভ্রষ্টতা থেকে ফিরিয়ে সৎপথে আনতে পারবেন না। আপনি কেবল তাদেরকে শোনাতে পারবেন, যারা আমার আয়াতসমূহে বিশ্বাস করে। অতএব, তারাই আজ্ঞাবহ। 82. যখন প্রতিশ্রুতি (কেয়ামত) সমাগত হবে, তখন আমি তাদের সামনে ভূগর্ভ থেকে একটি জীব নির্গত করব। সে মানুষের সাথে কথা বলবে। এ কারণে যে মানুষ আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করত না। 83. যেদিন আমি একত্রিত করব একেকটি দলকে সেসব সম্প্রদায় থেকে, যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলত; অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। 84. যখন তারা উপস্থিত হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছিলে? অথচ এগুলো সম্পর্কে তোমাদের পুর্ণ জ্ঞান ছিল না। না তোমরা অন্য কিছু করছিলে? 85. জুলুমের কারণে তাদের কাছে আযাবের ওয়াদা এসে গেছে। এখন তারা কোন কিছু বলতে পারবে না। 86. তারা কি দেখে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্যে এবং দিনকে করেছি আলোকময়। নিশ্চয় এতে ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। 87. যেদিন সিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে, অতঃপর আল্লাহ যাদেরকে ইচ্ছা করবেন, তারা ব্যতীত নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যারা আছে, তারা সবাই ভীতবিহ্বল হয়ে পড়বে এবং সকলেই তাঁর কাছে আসবে বিনীত অবস্থায়। 88. তুমি পর্বতমালাকে দেখে অচল মনে কর, অথচ সেদিন এগুলো মেঘমালার মত চলমান হবে। এটা আল্লাহর কারিগরী, যিনি সবকিছুকে করেছেন সুসংহত। তোমরা যা কিছু করছ, তিনি তা অবগত আছেন। 89. যে কেউ সৎকর্ম নিয়ে আসবে, সে উৎকৃষ্টতর প্রতিদান পাবে এবং সেদিন তারা গুরুতর অস্থিরতা থেকে নিরাপদ থাকবে। 90. এবং যে মন্দ কাজ নিয়ে আসবে, তাকে অগ্নিতে অধঃমূখে নিক্ষেপ করা হবে। তোমরা যা করছিলে, তারই প্রতিফল তোমরা পাবে। 91. আমি তো কেবল এই নগরীর প্রভুর এবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি, যিনি একে সম্মানিত করেছেন। এবং সব কিছু তাঁরই। আমি আরও আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি আজ্ঞাবহদের একজন হই। 92. এবং যেন আমি কোরআন পাঠ করে শোনাই। পর যে ব্যক্তি সৎপথে চলে, সে নিজের কল্যাণার্থেই সৎপথে চলে এবং কেউ পথভ্রষ্ট হলে আপনি বলে দিন, আমি তো কেবল একজন ভীতি প্রদর্শনকারী। 93. এবং আরও বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। সত্বরই তিনি তাঁর নিদর্শনসমূহ তোমাদেরকে দেখাবেন। তখন তোমরা তা চিনতে পারবে। এবং তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আপনার পালনকর্তা গাফেল নন। *******

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s