29. সুরাহ আল আনকাবুত(01-69)


ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি
দয়ালু
[1] ﺍﻟﻢ
[1] আলিফ-লাম-মীম।
[1] Alif¬Lâm¬Mîm [These letters are one
of the miracles of the Qur’ân, and none
but Allâh (Alone) knows their meanings.]
[2] ﺃَﺣَﺴِﺐَ ﺍﻟﻨّﺎﺱُ ﺃَﻥ ﻳُﺘﺮَﻛﻮﺍ
ﺃَﻥ ﻳَﻘﻮﻟﻮﺍ ﺀﺍﻣَﻨّﺎ ﻭَﻫُﻢ ﻻ
ﻳُﻔﺘَﻨﻮﻥَ
[2] মানুষ কি মনে করে যে, তারা একথা
বলেই অব্যাহতি পেয়ে যাবে যে, আমরা
বিশ্বাস করি এবং তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে
না?
[2] Do people think that they will be left
alone because they say: “We believe,”
and will not be tested
[3] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﻓَﺘَﻨَّﺎ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻣِﻦ
ﻗَﺒﻠِﻬِﻢ ۖ ﻓَﻠَﻴَﻌﻠَﻤَﻦَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﺻَﺪَﻗﻮﺍ ﻭَﻟَﻴَﻌﻠَﻤَﻦَّ ﺍﻟﻜٰﺬِﺑﻴﻦَ
[3] আমি তাদেরকেও পরীক্ষা করেছি, যারা
তাদের পূর্বে ছিল। আল্লাহ অবশ্যই জেনে
নেবেন যারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয়ই জেনে
নেবেন মিথ্যুকদেরকে।
[3] And We indeed tested those who were
before them. And Allâh will certainly
make (it) known (the truth of) those who
are true, and will certainly make (it)
known (the falsehood of) those who are
liars, (although Allâh knows all that
before putting them to test).
[4] ﺃَﻡ ﺣَﺴِﺐَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
ﺍﻟﺴَّﻴِّـٔﺎﺕِ ﺃَﻥ ﻳَﺴﺒِﻘﻮﻧﺎ ۚ ﺳﺎﺀَ
ﻣﺎ ﻳَﺤﻜُﻤﻮﻥَ
[4] যারা মন্দ কাজ করে, তারা কি মনে করে
যে, তারা আমার হাত থেকে বেঁচে যাবে?
তাদের ফয়সালা খুবই মন্দ।
[4] Or think those who do evil deeds that
they can outstrip Us (i.e. escape Our
Punishment)? Evil is that which they
judge!
[5] ﻣَﻦ ﻛﺎﻥَ ﻳَﺮﺟﻮﺍ ﻟِﻘﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻓَﺈِﻥَّ ﺃَﺟَﻞَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻝَﺀﺍﺕٍ ۚ ﻭَﻫُﻮَ
ﺍﻟﺴَّﻤﻴﻊُ ﺍﻟﻌَﻠﻴﻢُ
[5] যে আল্লাহর সাক্ষাত কামনা করে,
আল্লাহর সেই নির্ধারিত কাল অবশ্যই আসবে।
তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
[5] Whoever hopes for the Meeting with
Allâh, then Allâh’s Term is surely
coming. and He is the All-Hearer, the All-
Knower.
[6] ﻭَﻣَﻦ ﺟٰﻬَﺪَ ﻓَﺈِﻧَّﻤﺎ ﻳُﺠٰﻬِﺪُ
ﻟِﻨَﻔﺴِﻪِ ۚ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻟَﻐَﻨِﻰٌّ ﻋَﻦِ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[6] যে কষ্ট স্বীকার করে, সে তো
নিজের জন্যেই কষ্ট স্বীকার করে।
আল্লাহ বিশ্ববাসী থেকে বে-পরওয়া।
[6] And whosoever strives, he strives
only for himself. Verily, Allâh stands not
in need of any of the ‘Alamîn (mankind,
jinn, and all that exists).
[7] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ
ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤٰﺖِ ﻟَﻨُﻜَﻔِّﺮَﻥَّ ﻋَﻨﻬُﻢ
ﺳَﻴِّـٔﺎﺗِﻬِﻢ ﻭَﻟَﻨَﺠﺰِﻳَﻨَّﻬُﻢ ﺃَﺣﺴَﻦَ
ﺍﻟَّﺬﻯ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[7] আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম
করে, আমি অবশ্যই তাদের মন্দ কাজ গুলো
মিটিয়ে দেব এবং তাদেরকে কর্মের
উৎকৃষ্টতর প্রতিদান দেব।
[7] Those who believe [in the Oneness of
Allâh (Monotheism) and in Messenger
Muhammad SAW , and do not give up
their faith because of the harm they
receive from the polytheists], and do
righteous good deeds, surely, We shall
expiate from them their evil deeds and
shall reward them according to the best
of that which they used to do.
[8] ﻭَﻭَﺻَّﻴﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴٰﻦَ ﺑِﻮٰﻟِﺪَﻳﻪِ
ﺣُﺴﻨًﺎ ۖ ﻭَﺇِﻥ ﺟٰﻬَﺪﺍﻙَ ﻟِﺘُﺸﺮِﻙَ
ﺑﻰ ﻣﺎ ﻟَﻴﺲَ ﻟَﻚَ ﺑِﻪِ ﻋِﻠﻢٌ ﻓَﻼ
ﺗُﻄِﻌﻬُﻤﺎ ۚ ﺇِﻟَﻰَّ ﻣَﺮﺟِﻌُﻜُﻢ
ﻓَﺄُﻧَﺒِّﺌُﻜُﻢ ﺑِﻤﺎ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[8] আমি মানুষকে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার
করার জোর নির্দেশ দিয়েছি। যদি তারা
তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরীক
করার জোর প্রচেষ্টা চালায়, যার সম্পর্কে
তোমার কোন জ্ঞান নেই, তবে তাদের
আনুগত্য করো না। আমারই দিকে তোমাদের
প্রত্যাবর্তন। অতঃপর আমি তোমাদেরকে
বলে দেব যা কিছু তোমরা করতে।
[8] And We have enjoined on man to be
good and dutiful to his parents, but if
they strive to make you join with Me (in
worship) anything (as a partner) of
which you have no knowledge, then obey
them not. Unto Me is your return, and I
shall tell you what you used to do.
[9] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ
ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤٰﺖِ ﻟَﻨُﺪﺧِﻠَﻨَّﻬُﻢ ﻓِﻰ
ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤﻴﻦَ
[9] যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকাজ করে,
আমি অবশ্যই তাদেরকে সৎকর্মীদের
অন্তর্ভুক্ত করব।
[9] And for those who believe (in the
Oneness of Allâh and other articles of
Faith) and do righteous good deeds,
surely, We shall make them enter with
(in the enterance of) the righteous (in
Paradise).
[10] ﻭَﻣِﻦَ ﺍﻟﻨّﺎﺱِ ﻣَﻦ ﻳَﻘﻮﻝُ
ﺀﺍﻣَﻨّﺎ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻓَﺈِﺫﺍ ﺃﻭﺫِﻯَ ﻓِﻰ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺟَﻌَﻞَ ﻓِﺘﻨَﺔَ ﺍﻟﻨّﺎﺱِ
ﻛَﻌَﺬﺍﺏِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻟَﺌِﻦ ﺟﺎﺀَ ﻧَﺼﺮٌ
ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻚَ ﻟَﻴَﻘﻮﻟُﻦَّ ﺇِﻧّﺎ ﻛُﻨّﺎ
ﻣَﻌَﻜُﻢ ۚ ﺃَﻭَﻟَﻴﺲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﺄَﻋﻠَﻢَ
ﺑِﻤﺎ ﻓﻰ ﺻُﺪﻭﺭِ ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[10] কতক লোক বলে, আমরা আল্লাহর উপর
বিশ্বাস স্থাপন করেছি; কিন্তু আল্লাহর পথে
যখন তারা নির্যাতিত হয়, তখন তারা মানুষের
নির্যাতনকে আল্লাহর আযাবের মত মনে
করে। যখন আপনার পালনকর্তার কাছ থেকে
কোন সাহায্য আসে তখন তারা বলতে থাকে,
আমরা তো তোমাদের সাথেই ছিলাম।
বিশ্ববাসীর অন্তরে যা আছে, আল্লাহ কি তা
সম্যক অবগত নন?
[10] Of mankind are some who say: “We
believe in Allâh,” but if they are made to
suffer for the sake of Allâh, they consider
the trial of mankind as Allâh’s
punishment, and if victory comes from
your Lord, (the hypocrites) will say:
“Verily! We were with you (helping
you).” Is not Allâh Best Aware of what is
in the breast of the ‘Alamîn (mankind
and jinn).
[11] ﻭَﻟَﻴَﻌﻠَﻤَﻦَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻭَﻟَﻴَﻌﻠَﻤَﻦَّ ﺍﻟﻤُﻨٰﻔِﻘﻴﻦَ
[11] আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা
বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং নিশ্চয় জেনে
নেবেন যারা মুনাফেক।
[11] Verily, Allâh knows those who
believe, and verily, He knows the
hypocrites [i.e. Allâh will test the people
with good and hard days to discriminate
the good from the wicked although Allâh
knows all that before putting them to
test)].
[12] ﻭَﻗﺎﻝَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ
ﺀﺍﻣَﻨُﻮﺍ ﺍﺗَّﺒِﻌﻮﺍ ﺳَﺒﻴﻠَﻨﺎ
ﻭَﻟﻨَﺤﻤِﻞ ﺧَﻄٰﻴٰﻜُﻢ ﻭَﻣﺎ ﻫُﻢ
ﺑِﺤٰﻤِﻠﻴﻦَ ﻣِﻦ ﺧَﻄٰﻴٰﻬُﻢ ﻣِﻦ
ﺷَﻲﺀٍ ۖ ﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻟَﻜٰﺬِﺑﻮﻥَ
[12] কাফেররা মুমিনদেরকে বলে,
আমাদের পথ অনুসরণ কর। আমরা তোমাদের
পাপভার বহন করব। অথচ তারা পাপভার কিছুতেই
বহন করবে না। নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী।
[12] And those who disbelieve say to
those who believe: “Follow our way and
we will verily bear your sins,” never will
they bear anything of their sins. Surely,
they are liars.
[13] ﻭَﻟَﻴَﺤﻤِﻠُﻦَّ ﺃَﺛﻘﺎﻟَﻬُﻢ ﻭَﺃَﺛﻘﺎﻟًﺎ
ﻣَﻊَ ﺃَﺛﻘﺎﻟِﻬِﻢ ۖ ﻭَﻟَﻴُﺴـَٔﻠُﻦَّ ﻳَﻮﻡَ
ﺍﻟﻘِﻴٰﻤَﺔِ ﻋَﻤّﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻔﺘَﺮﻭﻥَ
[13] তারা নিজেদের পাপভার এবং তার সাথে
আরও কিছু পাপভার বহন করবে। অবশ্য তারা
যে সব মিথ্যা কথা উদ্ভাবন করে, সে
সম্পর্কে কেয়ামতের দিন জিজ্ঞাসিত হবে।
[13] And verily, they shall bear their
own loads, and other loads besides their
own, and verily, they shall be questioned
on the Day of Resurrection about that
which they used to fabricate.
[14] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﻧﻮﺣًﺎ ﺇِﻟﻰٰ
ﻗَﻮﻣِﻪِ ﻓَﻠَﺒِﺚَ ﻓﻴﻬِﻢ ﺃَﻟﻒَ ﺳَﻨَﺔٍ
ﺇِﻟّﺎ ﺧَﻤﺴﻴﻦَ ﻋﺎﻣًﺎ ﻓَﺄَﺧَﺬَﻫُﻢُ
ﺍﻟﻄّﻮﻓﺎﻥُ ﻭَﻫُﻢ ﻇٰﻠِﻤﻮﻥَ
[14] আমি নূহ (আঃ) কে তাঁর সম্প্রদায়ের
কাছে প্রেরণ করেছিলাম। তিনি তাদের
মধ্যে পঞ্চাশ কম এক হাজার বছর অবস্থান
করেছিলেন। অতঃপর তাদেরকে মহাপ্লাবণ
গ্রাস করেছিল। তারা ছিল পাপী।
[14] And indeed We sent Nûh (Noah) to
his people, and he stayed among them a
thousand years less fifty years [inviting
them to believe in the Oneness of Allâh
(Monotheism), and discard the false gods
and other deities], and the Deluge
overtook them while they were Zâlimûn
(wrong-doers, polytheists, disbelievers).
[15] ﻓَﺄَﻧﺠَﻴﻨٰﻪُ ﻭَﺃَﺻﺤٰﺐَ
ﺍﻟﺴَّﻔﻴﻨَﺔِ ﻭَﺟَﻌَﻠﻨٰﻬﺎ ﺀﺍﻳَﺔً
ﻟِﻠﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[15] অতঃপর আমি তাঁকে ও
নৌকারোহীগণকে রক্ষা করলাম এবং
নৌকাকে নিদর্শন করলাম বিশ্ববাসীর
জন্যে।
[15] Then We saved him and those with
him in the ship, and made it (the ship)
an Ayâh (a lesson, a warning) for the
‘Alamîn (mankind, jinn and all that
exists).
[16] ﻭَﺇِﺑﺮٰﻫﻴﻢَ ﺇِﺫ ﻗﺎﻝَ ﻟِﻘَﻮﻣِﻪِ
ﺍﻋﺒُﺪُﻭﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺍﺗَّﻘﻮﻩُ ۖ ﺫٰﻟِﻜُﻢ
ﺧَﻴﺮٌ ﻟَﻜُﻢ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[16] স্মরণ কর ইব্রাহীমকে। যখন তিনি তাঁর
সম্প্রদায়কে বললেন; তোমরা আল্লাহর
এবাদত কর এবং তাঁকে ভয় কর। এটাই
তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বোঝ।
[16] And (remember) Ibrâhim (Abraham)
when he said to his people: “Worship
Allâh (Alone), and fear Him, that is
better for you if you did but know.
[17] ﺇِﻧَّﻤﺎ ﺗَﻌﺒُﺪﻭﻥَ ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻭﺛٰﻨًﺎ ﻭَﺗَﺨﻠُﻘﻮﻥَ ﺇِﻓﻜًﺎ ۚ
ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺗَﻌﺒُﺪﻭﻥَ ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻻ ﻳَﻤﻠِﻜﻮﻥَ ﻟَﻜُﻢ ﺭِﺯﻗًﺎ
ﻓَﺎﺑﺘَﻐﻮﺍ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮِّﺯﻕَ
ﻭَﺍﻋﺒُﺪﻭﻩُ ﻭَﺍﺷﻜُﺮﻭﺍ ﻟَﻪُ ۖ ﺇِﻟَﻴﻪِ
ﺗُﺮﺟَﻌﻮﻥَ
[17] তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে কেবল
প্রতিমারই পূজা করছ এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছ।
তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের এবাদত
করছ, তারা তোমাদের রিযিকের মালিক নয়।
কাজেই আল্লাহর কাছে রিযিক তালাশ কর, তাঁর
এবাদত কর এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। তাঁরই
কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
[17] “You worship besides Allâh only
idols, and you only invent falsehood.
Verily, those whom you worship besides
Allâh have no power to give you
provision, so seek your provision from
Allâh (Alone), and worship Him (Alone),
and be grateful to Him. To Him (Alone)
you will be brought back.
[18] ﻭَﺇِﻥ ﺗُﻜَﺬِّﺑﻮﺍ ﻓَﻘَﺪ ﻛَﺬَّﺏَ
ﺃُﻣَﻢٌ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻠِﻜُﻢ ۖ ﻭَﻣﺎ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟﺮَّﺳﻮﻝِ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﺒَﻠٰﻎُ ﺍﻟﻤُﺒﻴﻦُ
[18] তোমরা যদি মিথ্যাবাদী বল, তবে
তোমাদের পূর্ববর্তীরাও তো মিথ্যাবাদী
বলেছে। স্পষ্টভাবে পয়গাম পৌছে
দেয়াই তো রসূলের দায়িত্ব।
[18] “And if you deny, then nations
before you have denied (their
Messengers). And the duty of the
Messenger is only to convey (the
Message) plainly.”
[19] ﺃَﻭَﻟَﻢ ﻳَﺮَﻭﺍ ﻛَﻴﻒَ ﻳُﺒﺪِﺉُ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟﺨَﻠﻖَ ﺛُﻢَّ ﻳُﻌﻴﺪُﻩُ ۚ ﺇِﻥَّ
ﺫٰﻟِﻚَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻳَﺴﻴﺮٌ
[19] তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ কিভাবে
সৃষ্টিকর্ম শুরু করেন অতঃপর তাকে পুনরায়
সৃষ্টি করবেন? এটা আল্লাহর জন্যে সহজ।
[19] See they not how Allâh originates
creation, then repeats it. Verily, that is
easy for Allâh.
[20] ﻗُﻞ ﺳﻴﺮﻭﺍ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﻓَﺎﻧﻈُﺮﻭﺍ ﻛَﻴﻒَ ﺑَﺪَﺃَ ﺍﻟﺨَﻠﻖَ ۚ
ﺛُﻢَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳُﻨﺸِﺊُ ﺍﻟﻨَّﺸﺄَﺓَ
ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓَ ۚ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻋَﻠﻰٰ ﻛُﻞِّ
ﺷَﻲﺀٍ ﻗَﺪﻳﺮٌ
[20] বলুন, তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং
দেখ, কিভাবে তিনি সৃষ্টিকর্ম শুরু করেছেন।
অতঃপর আল্লাহ পুর্নবার সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয়
আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম।
[20] Say: “Travel in the land and see how
(Allâh) originated the creation, and then
Allâh will bring forth the creation of the
Hereafter (i.e. resurrection after death).
Verily, Allâh is Able to do all things.”
[21] ﻳُﻌَﺬِّﺏُ ﻣَﻦ ﻳَﺸﺎﺀُ ﻭَﻳَﺮﺣَﻢُ
ﻣَﻦ ﻳَﺸﺎﺀُ ۖ ﻭَﺇِﻟَﻴﻪِ ﺗُﻘﻠَﺒﻮﻥَ
[21] তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যার প্রতি
ইচ্ছা রহমত করেন। তাঁরই দিকে তোমরা
প্রত্যাবর্তিত হবে।
[21] He punishes whom He wills, and
shows mercy to whom He wills, and to
Him you will be returned.
[22] ﻭَﻣﺎ ﺃَﻧﺘُﻢ ﺑِﻤُﻌﺠِﺰﻳﻦَ ﻓِﻰ
ﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﻻ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ۖ ﻭَﻣﺎ
ﻟَﻜُﻢ ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣِﻦ ﻭَﻟِﻰٍّ
ﻭَﻻ ﻧَﺼﻴﺮٍ
[22] তোমরা স্থলে ও অন্তরীক্ষে
আল্লাহকে অপারগ করতে পারবে না এবং
আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন
হিতাকাঙ্খী নেই, সাহায্যকারীও নেই।
[22] And you cannot escape in the earth
or in the heaven (from Allah). And
besides Allâh you have neither any Walî
(Protector or Guardian) nor any Helper.
[23] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺖِ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻭَﻟِﻘﺎﺋِﻪِ ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻳَﺌِﺴﻮﺍ ﻣِﻦ
ﺭَﺣﻤَﺘﻰ ﻭَﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻟَﻬُﻢ ﻋَﺬﺍﺏٌ
ﺃَﻟﻴﻢٌ
[23] যারা আল্লাহর আয়াত সমূহ ও তাঁর সাক্ষাত
অস্বীকার করে, তারাই আমার রহমত থেকে
নিরাশ হবে এবং তাদের জন্যেই যন্ত্রণাদায়ক
শাস্তি রয়েছে।
[23] And those who disbelieve in the
Ayât (proofs, evidences, verses, lessons,
signs, revelations, etc.) of Allâh and the
Meeting with Him, it is they who have no
hope of My Mercy, and it is they who
will have a painful torment.
[24] ﻓَﻤﺎ ﻛﺎﻥَ ﺟَﻮﺍﺏَ ﻗَﻮﻣِﻪِ ﺇِﻟّﺎ
ﺃَﻥ ﻗﺎﻟُﻮﺍ ﺍﻗﺘُﻠﻮﻩُ ﺃَﻭ ﺣَﺮِّﻗﻮﻩُ
ﻓَﺄَﻧﺠﻯٰﻪُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ ۚ ﺇِﻥَّ
ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻚَ ﻝَﺀﺍﻳٰﺖٍ ﻟِﻘَﻮﻡٍ
ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[24] তখন ইব্রাহীমের সম্প্রদায়ের এছাড়া
কোন জওয়াব ছিল না যে তারা বলল, তাকে
হত্যা কর অথবা অগ্নিদগ্ধ কর। অতঃপর আল্লাহ
তাকে অগ্নি থেকে রক্ষা করলেন। নিশ্চয়
এতে বিশ্বাসী লোকদের জন্যে
নিদর্শনাবলী রয়েছে।
[24] So nothing was the answer of
[Ibrahîm’s (Abraham)] people except that
they said: “Kill him or burn him.” Then
Allâh saved him from the fire. Verily, in
this are indeed signs for a people who
believe
[25] ﻭَﻗﺎﻝَ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺍﺗَّﺨَﺬﺗُﻢ ﻣِﻦ
ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻭﺛٰﻨًﺎ ﻣَﻮَﺩَّﺓَ ﺑَﻴﻨِﻜُﻢ
ﻓِﻰ ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓِ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ۖ ﺛُﻢَّ ﻳَﻮﻡَ
ﺍﻟﻘِﻴٰﻤَﺔِ ﻳَﻜﻔُﺮُ ﺑَﻌﻀُﻜُﻢ ﺑِﺒَﻌﺾٍ
ﻭَﻳَﻠﻌَﻦُ ﺑَﻌﻀُﻜُﻢ ﺑَﻌﻀًﺎ
ﻭَﻣَﺄﻭﻯٰﻜُﻢُ ﺍﻟﻨّﺎﺭُ ﻭَﻣﺎ ﻟَﻜُﻢ ﻣِﻦ
ﻧٰﺼِﺮﻳﻦَ
[25] ইব্রাহীম বললেন, পার্থিব জীবনে
তোমাদের পারস্পরিক ভালবাসা রক্ষার জন্যে
তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে প্রতিমাগুলোকে
উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছ। এরপর
কেয়ামতের দিন তোমরা একে অপরকে
অস্বীকার করবে এবং একে অপরকে লানত
করবে। তোমাদের ঠিকানা জাহান্নাম এবং
তোমাদের কোন সাহায্যকারী নেই।
[25] And [Ibrâhim (Abraham)] said: “You
have taken (for worship) idols instead of
Allâh, The love between you is only in
the life of this world, but on the Day of
Resurrection, you shall disown each
other, and curse each other, and your
abode will be the Fire, and you shall
have no helper.”
[26] ۞ ﻓَـٔﺎﻣَﻦَ ﻟَﻪُ ﻟﻮﻁٌ ۘ ﻭَﻗﺎﻝَ
ﺇِﻧّﻰ ﻣُﻬﺎﺟِﺮٌ ﺇِﻟﻰٰ ﺭَﺑّﻰ ۖ ﺇِﻧَّﻪُ ﻫُﻮَ
ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ ﺍﻟﺤَﻜﻴﻢُ
[26] অতঃপর তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলেন
লূত। ইব্রাহীম বললেন, আমি আমার
পালনকর্তার উদ্দেশে দেশত্যাগ করছি।
নিশ্চয় তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
[26] So Lut (Lot) believed in him
[Ibrâhim’s (Abraham) Message of Islâmic
Monotheism]. He [Ibrâhim (Abraham)]
said: “I will emigrate for the sake of my
Lord. Verily, He is the All-Mighty, the
All-Wise.”
[27] ﻭَﻭَﻫَﺒﻨﺎ ﻟَﻪُ ﺇِﺳﺤٰﻖَ
ﻭَﻳَﻌﻘﻮﺏَ ﻭَﺟَﻌَﻠﻨﺎ ﻓﻰ ﺫُﺭِّﻳَّﺘِﻪِ
ﺍﻟﻨُّﺒُﻮَّﺓَ ﻭَﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ﻭَﺀﺍﺗَﻴﻨٰﻪُ
ﺃَﺟﺮَﻩُ ﻓِﻰ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ۖ ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﻓِﻰ
ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﻟَﻤِﻦَ ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤﻴﻦَ
[27] আমি তাকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়াকুব,
তাঁর বংশধরদের মধ্যে নবুওয়ত ও কিতাব রাখলাম
এবং দুনিয়াতে তাঁকে পুরস্কৃত করলাম। নিশ্চয়
পরকালে ও সে সৎলোকদর অন্তর্ভূক্ত
হবে।
[27] And We bestowed on him [Ibrâhim
(Abraham)], Ishâq (Isaac) and Ya’qûb
(Jacob), and we ordained among his
offspring Prophethood and the Book [i.e.
the Taurât (Torah) (to Mûsa — Moses),
the Injeel (Gospel) (to ‘Īsā Jesus), and the
Qur’ân (to Muhammad SAW), all from
the offspring of Ibrâhim (Abraham)],
and We granted him his reward in this
world, and verily, in the Hereafter he is
indeed among the righteous
[28] ﻭَﻟﻮﻃًﺎ ﺇِﺫ ﻗﺎﻝَ ﻟِﻘَﻮﻣِﻪِ
ﺇِﻧَّﻜُﻢ ﻟَﺘَﺄﺗﻮﻥَ ﺍﻟﻔٰﺤِﺸَﺔَ ﻣﺎ
ﺳَﺒَﻘَﻜُﻢ ﺑِﻬﺎ ﻣِﻦ ﺃَﺣَﺪٍ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[28] আর প্রেরণ করেছি লূতকে। যখন
সে তার সম্প্রদায়কে বলল, তোমরা এমন
অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে
পৃথিবীর কেউ করেনি।
[28] And (remember) Lut (Lot), when he
said to his people: “You commit Al-
Fâhishah (sodomy the worst sin) which
none has preceded you in (committing) it
in the ‘Alamîn (mankind and jinn).”
[29] ﺃَﺋِﻨَّﻜُﻢ ﻟَﺘَﺄﺗﻮﻥَ ﺍﻟﺮِّﺟﺎﻝَ
ﻭَﺗَﻘﻄَﻌﻮﻥَ ﺍﻟﺴَّﺒﻴﻞَ ﻭَﺗَﺄﺗﻮﻥَ
ﻓﻰ ﻧﺎﺩﻳﻜُﻢُ ﺍﻟﻤُﻨﻜَﺮَ ۖ ﻓَﻤﺎ ﻛﺎﻥَ
ﺟَﻮﺍﺏَ ﻗَﻮﻣِﻪِ ﺇِﻟّﺎ ﺃَﻥ ﻗﺎﻟُﻮﺍ
ﺍﺋﺘِﻨﺎ ﺑِﻌَﺬﺍﺏِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺖَ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﺼّٰﺪِﻗﻴﻦَ
[29] তোমরা কি পুংমৈথুনে লিপ্ত আছ, রাহাজানি
করছ এবং নিজেদের মজলিসে গর্হিত কর্ম
করছ? জওয়াবে তাঁর সম্প্রদায় কেবল একথা
বলল, আমাদের উপর আল্লাহর আযাব আন যদি
তুমি সত্যবাদী হও।
[29] “Verily, you practise sodomy with
men, and rob the wayfarer (travellers)!
And practise Al-Munkar (disbelief and
polytheism and every kind of evil wicked
deed) in your meetings.” But his people
gave no answer except, that they said:
“Bring Allâh’s Torment upon us if you
are one of the truthful.”
[30] ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﺍﻧﺼُﺮﻧﻰ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟﻘَﻮﻡِ ﺍﻟﻤُﻔﺴِﺪﻳﻦَ
[30] সে বলল, হে আমার পালনকর্তা,
দুস্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য
কর।
[30] He said: “My Lord! Give me victory
over the people who are Mufsidûn (those
who commit great crimes and sins,
oppressors, tyrants, mischief-makers,
corrupters).
[31] ﻭَﻟَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَﺕ ﺭُﺳُﻠُﻨﺎ
ﺇِﺑﺮٰﻫﻴﻢَ ﺑِﺎﻟﺒُﺸﺮﻯٰ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺇِﻧّﺎ
ﻣُﻬﻠِﻜﻮﺍ ﺃَﻫﻞِ ﻫٰﺬِﻩِ ﺍﻟﻘَﺮﻳَﺔِ ۖ ﺇِﻥَّ
ﺃَﻫﻠَﻬﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻇٰﻠِﻤﻴﻦَ
[31] যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতাগণ
সুসংবাদ নিয়ে ইব্রাহীমের কাছে আগমন
করল, তখন তারা বলল, আমরা এই জনপদের
অধিবাসীদেরকে ধ্বংস করব। নিশ্চয় এর
অধিবাসীরা জালেম।
[31] And when Our Messengers came to
Ibrâhim (Abraham) with the glad tidings
they said: “Verily, we are going to
destroy the people of this [Lut’s (Lot’s)]
town (i.e. the town of Sodom in
Palestine); truly, its people have been
Zâlimûn [wrong-doers, polytheists,
disobedient to Allâh, and who belied
their Messenger Lut (Lot)].”
[32] ﻗﺎﻝَ ﺇِﻥَّ ﻓﻴﻬﺎ ﻟﻮﻃًﺎ ۚ ﻗﺎﻟﻮﺍ
ﻧَﺤﻦُ ﺃَﻋﻠَﻢُ ﺑِﻤَﻦ ﻓﻴﻬﺎ ۖ
ﻟَﻨُﻨَﺠِّﻴَﻨَّﻪُ ﻭَﺃَﻫﻠَﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻣﺮَﺃَﺗَﻪُ
ﻛﺎﻧَﺖ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻐٰﺒِﺮﻳﻦَ
[32] সে বলল, এই জনপদে তো লূতও
রয়েছে। তারা বলল, সেখানে কে আছে,
তা আমরা ভাল জানি। আমরা অবশ্যই তাকে ও তাঁর
পরিবারবর্গকে রক্ষা করব তাঁর স্ত্রী
ব্যতীত; সে ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত
থাকবে।
[32] Ibrâhim (Abraham) said: “But there
is Lut (Lot) in it.” They said:”We know
better who is there, we will verily save
him [Lut (Lot)] and his family, except his
wife, she will be of those who remain
behind (i.e. she will be destroyed along
with those who will be destroyed from
her folk).”
[33] ﻭَﻟَﻤّﺎ ﺃَﻥ ﺟﺎﺀَﺕ ﺭُﺳُﻠُﻨﺎ
ﻟﻮﻃًﺎ ﺳﻲﺀَ ﺑِﻬِﻢ ﻭَﺿﺎﻕَ ﺑِﻬِﻢ
ﺫَﺭﻋًﺎ ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ ﻻ ﺗَﺨَﻒ ﻭَﻻ
ﺗَﺤﺰَﻥ ۖ ﺇِﻧّﺎ ﻣُﻨَﺠّﻮﻙَ ﻭَﺃَﻫﻠَﻚَ
ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻣﺮَﺃَﺗَﻚَ ﻛﺎﻧَﺖ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻐٰﺒِﺮﻳﻦَ
[33] যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতাগণ
লূতের কাছে আগমন করল, তখন তাদের
কারণে সে বিষন্ন হয়ে পড়ল এবং তার মন
সংকীর্ণ হয়ে গেল। তারা বলল, ভয় করবেন
না এবং দুঃখ করবেন না। আমরা আপনাকে ও
আপনার পরিবারবর্গকে রক্ষা করবই আপনার
স্ত্রী ব্যতীত, সে ধ্বংস প্রাপ্তদের
অন্তর্ভূক্ত থাকবে।
[33] And when Our Messengers came to
Lut (Lot), he was grieved because of
them, and felt straitened on their
account. They said: “Have no fear, and
do not grieve! Truly, we shall save you
and your family, except your wife, she
will be of those who remain behind (i.e.
she will be destroyed along with those
who will be destroyed from her folk).
[34] ﺇِﻧّﺎ ﻣُﻨﺰِﻟﻮﻥَ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﻫﻞِ
ﻫٰﺬِﻩِ ﺍﻟﻘَﺮﻳَﺔِ ﺭِﺟﺰًﺍ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﺑِﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻔﺴُﻘﻮﻥَ
[34] আমরা এই জনপদের অধিবাসীদের
উপর আকাশ থেকে আযাব নাজিল করব
তাদের পাপাচারের কারণে।
[34] Verily, we are about to bring down
on the people of this town a great
torment from the sky, because they have
been rebellious (against Allâh’s
Command).”
[35] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺗَﺮَﻛﻨﺎ ﻣِﻨﻬﺎ ﺀﺍﻳَﺔً
ﺑَﻴِّﻨَﺔً ﻟِﻘَﻮﻡٍ ﻳَﻌﻘِﻠﻮﻥَ
[35] আমি বুদ্ধিমান লোকদের জন্যে এতে
একটি স্পষ্ট নিদর্শন রেখে দিয়েছি।
[35] And indeed We have left thereof an
evident Ayâh (a lesson and a warning
and a sign — the place where the Dead
Sea is now in Palestine) for a folk who
understand.
[36] ﻭَﺇِﻟﻰٰ ﻣَﺪﻳَﻦَ ﺃَﺧﺎﻫُﻢ
ﺷُﻌَﻴﺒًﺎ ﻓَﻘﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺍﻋﺒُﺪُﻭﺍ
ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺍﺭﺟُﻮﺍ ﺍﻟﻴَﻮﻡَ ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَ
ﻭَﻻ ﺗَﻌﺜَﻮﺍ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﻣُﻔﺴِﺪﻳﻦَ
[36] আমি মাদইয়ানবাসীদের প্রতি তাদের ভাই
শোআয়বকে প্রেরণ করেছি। সে বলল,
হে আমার সম্প্রদায় তোমরা আল্লাহর এবাদত
কর, শেষ দিবসের আশা রাখ এবং পৃথিবীতে
অনর্থ সৃষ্টি করো না।
[36] And to (the people of) Madyan
(Midian), We sent their brother Shu’aib
(Shuaib). He said: “O my people!
Worship Allâh, and hope for (the reward
of good deeds by worshipping Allâh
Alone, on) the last Day (i.e. the Day of
Resurrection), and commit no mischief
on the earth as Mufsidûn (those who
commit great crimes, oppressors, tyrants,
mischief-makers, corrupters).
[37] ﻓَﻜَﺬَّﺑﻮﻩُ ﻓَﺄَﺧَﺬَﺗﻬُﻢُ
ﺍﻟﺮَّﺟﻔَﺔُ ﻓَﺄَﺻﺒَﺤﻮﺍ ﻓﻰ
ﺩﺍﺭِﻫِﻢ ﺟٰﺜِﻤﻴﻦَ
[37] কিন্তু তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলল; অতঃপর
তারা ভূমিকম্প দ্বারা আক্রান্ত হল এবং
নিজেদের গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।
[37] And they belied him (Shu’aib); so
the earthquake seized them, and they lay
(dead), prostrate in their dwellings.
[38] ﻭَﻋﺎﺩًﺍ ﻭَﺛَﻤﻮﺩَﺍ۟ ﻭَﻗَﺪ ﺗَﺒَﻴَّﻦَ
ﻟَﻜُﻢ ﻣِﻦ ﻣَﺴٰﻜِﻨِﻬِﻢ ۖ ﻭَﺯَﻳَّﻦَ ﻟَﻬُﻢُ
ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦُ ﺃَﻋﻤٰﻠَﻬُﻢ ﻓَﺼَﺪَّﻫُﻢ
ﻋَﻦِ ﺍﻟﺴَّﺒﻴﻞِ ﻭَﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻣُﺴﺘَﺒﺼِﺮﻳﻦَ
[38] আমি আ’দ ও সামুদকে ধ্বংস করে
দিয়েছি। তাদের বাড়ী-ঘর থেকেই তাদের
অবস্থা তোমাদের জানা হয়ে গেছে। শয়তান
তাদের কর্মকে তাদের দৃষ্টিতে সুশোভিত
করেছিল, অতঃপর তাদেরকে সৎপথ
অবলম্বনে বাধা দিয়েছিল এবং তারা ছিল হুশিয়ার।
[38] And ‘Ad and Thamûd (people)! And
indeed (their destruction) is clearly
apparent to you from their (ruined)
dwellings. Shaitân (Satan) made their
deeds fair-seeming to them, and turned
them away from the (Right) Path, though
they were intelligent.
[39] ﻭَﻗٰﺮﻭﻥَ ﻭَﻓِﺮﻋَﻮﻥَ ﻭَﻫٰﻤٰﻦَ ۖ
ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺟﺎﺀَﻫُﻢ ﻣﻮﺳﻰٰ
ﺑِﺎﻟﺒَﻴِّﻨٰﺖِ ﻓَﺎﺳﺘَﻜﺒَﺮﻭﺍ ﻓِﻰ
ﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﺳٰﺒِﻘﻴﻦَ
[39] আমি কারুন, ফেরাউন ও হামানকে ধ্বংস
করেছি। মূসা তাদের কাছে সুস্পষ্ট
নিদর্শনাবলী নিয়ে আগমন করেছিল অতঃপর
তারা দেশে দম্ভ করেছিল। কিন্তু তারা জিতে
যায়নি।
[39] And (We destroyed also) Qârûn
(Korah), Fir’aun (Pharaoh), and Hâmân.
And indeed Mûsa (Moses) came to them
with clear Ayât (proofs, evidences,
verses, lessons, signs, revelations, etc.),
but they were arrogant in the land, yet
they could not outstrip Us (escape Our
punishment).
[40] ﻓَﻜُﻠًّﺎ ﺃَﺧَﺬﻧﺎ ﺑِﺬَﻧﺒِﻪِ ۖ ﻓَﻤِﻨﻬُﻢ
ﻣَﻦ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺣﺎﺻِﺒًﺎ
ﻭَﻣِﻨﻬُﻢ ﻣَﻦ ﺃَﺧَﺬَﺗﻪُ ﺍﻟﺼَّﻴﺤَﺔُ
ﻭَﻣِﻨﻬُﻢ ﻣَﻦ ﺧَﺴَﻔﻨﺎ ﺑِﻪِ
ﺍﻷَﺭﺽَ ﻭَﻣِﻨﻬُﻢ ﻣَﻦ ﺃَﻏﺮَﻗﻨﺎ ۚ
ﻭَﻣﺎ ﻛﺎﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟِﻴَﻈﻠِﻤَﻬُﻢ ﻭَﻟٰﻜِﻦ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﺃَﻧﻔُﺴَﻬُﻢ ﻳَﻈﻠِﻤﻮﻥَ
[40] আমি প্রত্যেককেই তার অপরাধের
কারণে পাকড়াও করেছি। তাদের কারও প্রতি
প্রেরণ করেছি প্রস্তরসহ প্রচন্ড বাতাস,
কাউকে পেয়েছে বজ্রপাত, কাউকে আমি
বিলীন করেছি ভূগর্ভে এবং কাউকে
করেছি নিমজ্জত। আল্লাহ তাদের প্রতি যুলুম
করার ছিলেন না; কিন্তু তারা নিজেরাই
নিজেদের প্রতি যুলুম করেছে।
[40] So We punished each (of them) for
his sins, of them were some on whom We
sent Hâsib (a violent wind with shower
of stones) [as on the people of Lut (Lot)],
and of them were some who were
overtaken by As¬Saihah [torment – awful
cry, (as Thamûd or Shu’aib’s people)],
and of them were some whom We caused
the earth to swallow [as Qârûn (Korah)],
and of them were some whom We
drowned [as the people of Nûh (Noah), or
Fir’aun (Pharaoh) and his people]. It was
not Allâh Who wronged them, but they
wronged themselves.
[41] ﻣَﺜَﻞُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺍﺗَّﺨَﺬﻭﺍ ﻣِﻦ
ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻭﻟِﻴﺎﺀَ ﻛَﻤَﺜَﻞِ
ﺍﻟﻌَﻨﻜَﺒﻮﺕِ ﺍﺗَّﺨَﺬَﺕ ﺑَﻴﺘًﺎ ۖ ﻭَﺇِﻥَّ
ﺃَﻭﻫَﻦَ ﺍﻟﺒُﻴﻮﺕِ ﻟَﺒَﻴﺖُ
ﺍﻟﻌَﻨﻜَﺒﻮﺕِ ۖ ﻟَﻮ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[41] যারা আল্লাহর পরিবর্তে অপরকে
সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করে তাদের
উদাহরণ মাকড়সা। সে ঘর বানায়। আর সব ঘরের
মধ্যে মাকড়সার ঘরই তো অধিক দুর্বল, যদি তারা
জানত।
[41] The likeness of those who take (false
deities as) Auliyâ’ (protectors helpers)
other than Allâh is the likeness of a
spider, who builds (for itself) a house,
but verily, the frailest (weakest) of
houses is the spider’s house; if they but
knew.
[42] ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳَﻌﻠَﻢُ ﻣﺎ ﻳَﺪﻋﻮﻥَ
ﻣِﻦ ﺩﻭﻧِﻪِ ﻣِﻦ ﺷَﻲﺀٍ ۚ ﻭَﻫُﻮَ
ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ ﺍﻟﺤَﻜﻴﻢُ
[42] তারা আল্লাহর পরিবর্তে যা কিছুকে
ডাকে, আল্লাহ তা জানেন। তিনি শক্তিশালী,
প্রজ্ঞাময়।
[42] Verily, Allâh knows what things they
invoke instead of Him. He is the All-
Mighty, the All-Wise.
[43] ﻭَﺗِﻠﻚَ ﺍﻷَﻣﺜٰﻞُ ﻧَﻀﺮِﺑُﻬﺎ
ﻟِﻠﻨّﺎﺱِ ۖ ﻭَﻣﺎ ﻳَﻌﻘِﻠُﻬﺎ ﺇِﻟَّﺎ
ﺍﻟﻌٰﻠِﻤﻮﻥَ
[43] এ সকল উদাহরণ আমি মানুষের জন্যে
দেই; কিন্তু জ্ঞানীরাই তা বোঝে।
[43] And these similitudes We put
forward for mankind, but none will
understand them except those who have
knowledge (of Allâh and His Signs).
[44] ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽَ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ۚ ﺇِﻥَّ ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻚَ
ﻝَﺀﺍﻳَﺔً ﻟِﻠﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[44] আল্লাহ যথার্থরূপে নভোমন্ডল ও
ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। এতে নিদর্শন
রয়েছে ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে।
[44] (Allâh says to His Prophet
Muhammad SAW): “Allâh (Alone) created
the heavens and the earth with truth
(and none shared Him in their
creation).” Verily! Therein is surely a
sign for those who believe.
[45] ﺍﺗﻞُ ﻣﺎ ﺃﻭﺣِﻰَ ﺇِﻟَﻴﻚَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ ﻭَﺃَﻗِﻢِ ﺍﻟﺼَّﻠﻮٰﺓَ ۖ ﺇِﻥَّ
ﺍﻟﺼَّﻠﻮٰﺓَ ﺗَﻨﻬﻰٰ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻔَﺤﺸﺎﺀِ
ﻭَﺍﻟﻤُﻨﻜَﺮِ ۗ ﻭَﻟَﺬِﻛﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻛﺒَﺮُ ۗ
ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳَﻌﻠَﻢُ ﻣﺎ ﺗَﺼﻨَﻌﻮﻥَ
[45] আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট কিতাব পাঠ
করুন এবং নামায কায়েম করুন। নিশ্চয় নামায
অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত
রাখে। আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ
জানেন তোমরা যা কর।
[45] Recite (O Muhammad SAW) what
has been revealed to you of the Book (the
Qur’ân), and perform As-Salât
(Iqamât¬as¬Salât). Verily, As-Salât (the
prayer) prevents from Al-Fahshâ’ (i.e.
great sins of every kind, unlawful sexual
intercourse) and Al-Munkar (i.e.
disbelief, polytheism, and every kind of
evil wicked deed) and the remembering
(praising) of (you by) Allâh (in front of
the angels) is greater indeed [than your
remembering (praising) of Allâh in
prayers. And Allâh knows what you do.
[46] ۞ ﻭَﻻ ﺗُﺠٰﺪِﻟﻮﺍ ﺃَﻫﻞَ
ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ ﺇِﻟّﺎ ﺑِﺎﻟَّﺘﻰ ﻫِﻰَ ﺃَﺣﺴَﻦُ
ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻇَﻠَﻤﻮﺍ ﻣِﻨﻬُﻢ ۖ
ﻭَﻗﻮﻟﻮﺍ ﺀﺍﻣَﻨّﺎ ﺑِﺎﻟَّﺬﻯ ﺃُﻧﺰِﻝَ
ﺇِﻟَﻴﻨﺎ ﻭَﺃُﻧﺰِﻝَ ﺇِﻟَﻴﻜُﻢ ﻭَﺇِﻟٰﻬُﻨﺎ
ﻭَﺇِﻟٰﻬُﻜُﻢ ﻭٰﺣِﺪٌ ﻭَﻧَﺤﻦُ ﻟَﻪُ
ﻣُﺴﻠِﻤﻮﻥَ
[46] তোমরা কিতাবধারীদের সাথে তর্ক-
বিতর্ক করবে না, কিন্তু উত্তম পন্থায়; তবে
তাদের সাথে নয়, যারা তাদের মধ্যে বে-
ইনসাফ। এবং বল, আমাদের প্রতি ও তোমাদের
প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তাতে আমরা
বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমাদের উপাস্য ও
তোমাদের উপাস্য একই এবং আমরা তাঁরই
আজ্ঞাবহ।
[46] And argue not with the people of the
Scripture (Jews and Christians), unless it
be in (a way) that is better (with good
words and in good manner, inviting
them to Islâmic Monotheism with His
Verses), except with such of them as do
wrong, and say (to them): “We believe in
that which has been revealed to us and
revealed to you; our Ilâh (God) and your
Ilâh (God) is One (i.e. Allâh), and to Him
we have submitted (as Muslims).”
[47] ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﺃَﻧﺰَﻟﻨﺎ ﺇِﻟَﻴﻚَ
ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ۚ ﻓَﺎﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﺗَﻴﻨٰﻬُﻢُ
ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ ﺑِﻪِ ۖ ﻭَﻣِﻦ
ﻫٰﺆُﻻﺀِ ﻣَﻦ ﻳُﺆﻣِﻦُ ﺑِﻪِ ۚ ﻭَﻣﺎ
ﻳَﺠﺤَﺪُ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻜٰﻔِﺮﻭﻥَ
[47] এভাবেই আমি আপনার প্রতি কিতাব
অবর্তীণ করেছি। অতঃপর যাদের কে আমি
কিতাব দিয়েছিলাম, তারা একে মেনে চলে
এবং এদেরও (মক্কাবাসীদেরও) কেউ
কেউ এতে বিশ্বাস রাখে। কেবল
কাফেররাই আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার
করে।
[47] And thus We have sent down the
Book (i.e this Qur’an) to you (O
Muhammad SAW), and those whom We
gave the Scripture [the Taurât (Torah)
and the Injeel (Gospel) aforetime] believe
therein as also do some of these (who are
present with you now like ‘Abdullâh bin
Salâm) and none but the disbelievers
reject Our Ayât [(proofs, signs, verses,
lessons, etc.), and deny Our Oneness of
Lordship and Our Oneness of worship
and Our Oneness of Our Names and
Qualities: i.e. Islâmic Monotheism]
[48] ﻭَﻣﺎ ﻛُﻨﺖَ ﺗَﺘﻠﻮﺍ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻠِﻪِ
ﻣِﻦ ﻛِﺘٰﺐٍ ﻭَﻻ ﺗَﺨُﻄُّﻪُ ﺑِﻴَﻤﻴﻨِﻚَ ۖ
ﺇِﺫًﺍ ﻟَﺎﺭﺗﺎﺏَ ﺍﻟﻤُﺒﻄِﻠﻮﻥَ
[48] আপনি তো এর পূর্বে কোন কিতাব পাঠ
করেননি এবং স্বীয় দক্ষিণ হস্ত দ্বারা কোন
কিতাব লিখেননি। এরূপ হলে মিথ্যাবাদীরা
অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করত।
[48] Neither did you (O Muhammad
SAW) read any book before it (this
Qur’ân), nor did you write any book
(whatsoever) with your right hand. In
that case, indeed, the followers of
falsehood might have doubted.
[49] ﺑَﻞ ﻫُﻮَ ﺀﺍﻳٰﺖٌ ﺑَﻴِّﻨٰﺖٌ ﻓﻰ
ﺻُﺪﻭﺭِ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺃﻭﺗُﻮﺍ ﺍﻟﻌِﻠﻢَ ۚ
ﻭَﻣﺎ ﻳَﺠﺤَﺪُ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ﺇِﻟَّﺎ
ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻮﻥَ
[49] বরং যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে,
তাদের অন্তরে ইহা (কোরআন) তো স্পষ্ট
আয়াত। কেবল বে-ইনসাফরাই আমার
আয়াতসমূহ অস্বীকার করে।
[49] Nay, but they, the clear Ayât [i.e the
description and the qualities of Prophet
Muhammad SAW written in the Taurât
(Torah) and the Injeel (Gospel)] are
preserved in the breasts of those who
have been given knowledge (among the
people of the Scriptures). And none but
the Zâlimûn (polytheists and
wrongdoers) deny Our Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.).
[50] ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ ﻟَﻮﻻ ﺃُﻧﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻴﻪِ
ﺀﺍﻳٰﺖٌ ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻪِ ۖ ﻗُﻞ ﺇِﻧَّﻤَﺎ
ﺍﻝﺀﺍﻳٰﺖُ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺇِﻧَّﻤﺎ ﺃَﻧﺎ۠
ﻧَﺬﻳﺮٌ ﻣُﺒﻴﻦٌ
[50] তারা বলে, তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে
তার প্রতি কিছু নিদর্শন অবতীর্ণ হল না কেন?
বলুন, নিদর্শন তো আল্লাহর ইচ্ছাধীন। আমি
তো একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।
[50] And they say: “Why are not signs
sent down to him from his Lord? Say:
“The signs are only with Allâh, and I am
only a plain warner.”
[51] ﺃَﻭَﻟَﻢ ﻳَﻜﻔِﻬِﻢ ﺃَﻧّﺎ ﺃَﻧﺰَﻟﻨﺎ
ﻋَﻠَﻴﻚَ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ﻳُﺘﻠﻰٰ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ۚ
ﺇِﻥَّ ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻚَ ﻟَﺮَﺣﻤَﺔً ﻭَﺫِﻛﺮﻯٰ
ﻟِﻘَﻮﻡٍ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[51] এটাকি তাদের জন্যে যথেষ্ট নয় যে,
আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি, যা
তাদের কাছে পাঠ করা হয়। এতে অবশ্যই
বিশ্বাসী লোকদের জন্যে রহমত ও
উপদেশ আছে।
[51] Is it not sufficient for them that We
have sent down to you the Book (the
Qur’ân) which is recited to them? Verily,
herein is mercy and a reminder (or an
admonition) for a people who believe.
[52] ﻗُﻞ ﻛَﻔﻰٰ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﺑَﻴﻨﻰ
ﻭَﺑَﻴﻨَﻜُﻢ ﺷَﻬﻴﺪًﺍ ۖ ﻳَﻌﻠَﻢُ ﻣﺎ ﻓِﻰ
ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ۗ ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﺑِﺎﻟﺒٰﻄِﻞِ ﻭَﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ
ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﺍﻟﺨٰﺴِﺮﻭﻥَ
[52] বলুন, আমার মধ্যে ও তোমাদের
মধ্যে আল্লাহই সাক্ষীরূপে যথেষ্ট। তিনি
জানেন যা কিছু নভোমন্ডলে ও ভূ-মন্ডলে
আছে। আর যারা মিথ্যায় বিশ্বাস করে ও
আল্লাহকে অস্বীকার করে, তারাই
ক্ষতিগ্রস্ত।
[52] Say (to them O Muhammad SAW):
“Sufficient is Allâh for a witness between
me and you. He knows what is in the
heavens and on earth.” And those who
believe in Bâtil (all false deities other
than Allâh), and disbelieve in Allâh and
(in His Oneness), it is they who are the
losers.
[53] ﻭَﻳَﺴﺘَﻌﺠِﻠﻮﻧَﻚَ ﺑِﺎﻟﻌَﺬﺍﺏِ ۚ
ﻭَﻟَﻮﻻ ﺃَﺟَﻞٌ ﻣُﺴَﻤًّﻰ ﻟَﺠﺎﺀَﻫُﻢُ
ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏُ ﻭَﻟَﻴَﺄﺗِﻴَﻨَّﻬُﻢ ﺑَﻐﺘَﺔً
ﻭَﻫُﻢ ﻻ ﻳَﺸﻌُﺮﻭﻥَ
[53] তারা আপনাকে আযাব ত্বরান্বিত করতে
বলে। যদি আযাবের সময় নির্ধারিত না থাকত,
তবে আযাব তাদের উপর এসে যেত।
নিশ্চয়ই আকস্মিকভাবে তাদের কাছে আযাব
এসে যাবে, তাদের খবরও থাকবে না।
[53] And they ask you to hasten on the
torment (for them), and had it not been
for a term appointed, the torment would
certainly have come to them. And surely,
it will come upon them suddenly while
they perceive not!
[54] ﻳَﺴﺘَﻌﺠِﻠﻮﻧَﻚَ ﺑِﺎﻟﻌَﺬﺍﺏِ
ﻭَﺇِﻥَّ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﻟَﻤُﺤﻴﻄَﺔٌ
ﺑِﺎﻟﻜٰﻔِﺮﻳﻦَ
[54] তারা আপনাকে আযাব ত্বরান্বিত করতে
বলে; অথচ জাহান্নাম কাফেরদেরকে
ঘেরাও করছে।
[54] They ask you to hasten on the
torment. And verily! Hell, of a surety,
will encompass the disbelievers.
[55] ﻳَﻮﻡَ ﻳَﻐﺸﻯٰﻬُﻢُ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏُ
ﻣِﻦ ﻓَﻮﻗِﻬِﻢ ﻭَﻣِﻦ ﺗَﺤﺖِ
ﺃَﺭﺟُﻠِﻬِﻢ ﻭَﻳَﻘﻮﻝُ ﺫﻭﻗﻮﺍ ﻣﺎ
ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[55] যেদিন আযাব তাদেরকে ঘেরাও
করবে মাথার উপর থেকে এবং পায়ের নীচ
থেকে। আল্লাহ বললেন, তোমরা যা
করতে, তার স্বাদ গ্রহণ কর।
[55] On the Day when the torment (Hell-
fire) shall cover them from above them
and from underneath their feet, and it
will be said: “Taste what you used to do.”
[56] ﻳٰﻌِﺒﺎﺩِﻯَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﺇِﻥَّ
ﺃَﺭﺿﻰ ﻭٰﺳِﻌَﺔٌ ﻓَﺈِﻳّٰﻰَ
ﻓَﺎﻋﺒُﺪﻭﻥِ
[56] হে আমার ঈমানদার বান্দাগণ, আমার পৃথিবী
প্রশস্ত। অতএব তোমরা আমারই এবাদত কর।
[56] O My slaves who believe! Certainly,
spacious is My earth. Therefore worship
Me (Alone).”
[57] ﻛُﻞُّ ﻧَﻔﺲٍ ﺫﺍﺋِﻘَﺔُ ﺍﻟﻤَﻮﺕِ ۖ
ﺛُﻢَّ ﺇِﻟَﻴﻨﺎ ﺗُﺮﺟَﻌﻮﻥَ
[57] জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।
অতঃপর তোমরা আমারই কাছে প্রত্যাবর্তিত
হবে।
[57] Everyone shall taste the death. Then
unto Us you shall be returned.
[58] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ
ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤٰﺖِ ﻟَﻨُﺒَﻮِّﺋَﻨَّﻬُﻢ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ ﻏُﺮَﻓًﺎ ﺗَﺠﺮﻯ ﻣِﻦ
ﺗَﺤﺘِﻬَﺎ ﺍﻷَﻧﻬٰﺮُ ﺧٰﻠِﺪﻳﻦَ ﻓﻴﻬﺎ ۚ
ﻧِﻌﻢَ ﺃَﺟﺮُ ﺍﻟﻌٰﻤِﻠﻴﻦَ
[58] যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে,
আমি অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতের সুউচ্চ
প্রাসাদে স্থান দেব, যার তলদেশে
প্রস্রবণসমূহ প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরকাল
থাকবে। কত উত্তম পুরস্কার কর্মীদের।
[58] And those who believe (in the
Oneness of Allâh Islâmic Monotheism)
and do righteous good deeds, to them We
shall surely give lofty dwellings in
Paradise, underneath which rivers flow,
to live therein forever. Excellent is the
reward of the workers.
[59] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺻَﺒَﺮﻭﺍ ﻭَﻋَﻠﻰٰ
ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﻳَﺘَﻮَﻛَّﻠﻮﻥَ
[59] যারা সবর করে এবং তাদের পালনকর্তার
উপর ভরসা করে।
[59] Those who are patient, and put their
trust (only) in their Lord (Allâh).
[60] ﻭَﻛَﺄَﻳِّﻦ ﻣِﻦ ﺩﺍﺑَّﺔٍ ﻻ ﺗَﺤﻤِﻞُ
ﺭِﺯﻗَﻬَﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳَﺮﺯُﻗُﻬﺎ ﻭَﺇِﻳّﺎﻛُﻢ ۚ
ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟﺴَّﻤﻴﻊُ ﺍﻟﻌَﻠﻴﻢُ
[60] এমন অনেক জন্তু আছে, যারা তাদের
খাদ্য সঞ্চিত রাখে না। আল্লাহই রিযিক দেন
তাদেরকে এবং তোমাদেরকেও। তিনি
সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
[60] And so many a moving (living)
creature carries not its own provision!
Allâh provides for it and for you. And He
is the All-Hearer, the All¬Knower.
[61] ﻭَﻟَﺌِﻦ ﺳَﺄَﻟﺘَﻬُﻢ ﻣَﻦ ﺧَﻠَﻖَ
ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽَ ﻭَﺳَﺨَّﺮَ
ﺍﻟﺸَّﻤﺲَ ﻭَﺍﻟﻘَﻤَﺮَ ﻟَﻴَﻘﻮﻟُﻦَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ۖ
ﻓَﺄَﻧّﻰٰ ﻳُﺆﻓَﻜﻮﻥَ
[61] যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস
করেন, কে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি
করেছে, চন্দ্র ও সূর্যকে কর্মে
নিয়োজিত করেছে? তবে তারা অবশ্যই
বলবে আল্লাহ। তাহলে তারা কোথায় ঘুরে
বেড়াচ্ছে?
[61] And If you were to ask them: “Who
has created the heavens and the earth
and subjected the sun and the moon?”
They will surely reply: “Allâh.” How then
are they deviating (as polytheists and
disbelievers)?
[62] ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳَﺒﺴُﻂُ ﺍﻟﺮِّﺯﻕَ ﻟِﻤَﻦ
ﻳَﺸﺎﺀُ ﻣِﻦ ﻋِﺒﺎﺩِﻩِ ﻭَﻳَﻘﺪِﺭُ ﻟَﻪُ ۚ
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺑِﻜُﻞِّ ﺷَﻲﺀٍ ﻋَﻠﻴﻢٌ
[62] আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য
ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করে দেন এবং যার জন্য
ইচ্ছা হ্রাস করেন। নিশ্চয়, আল্লাহ সর্ববিষয়ে
সম্যক পরিজ্ঞাত।
[62] Allâh enlarges the provision for
whom He wills of His slaves, and
straitens it for whom (He wills). Verily,
Allâh is the All¬Knower of everything.
[63] ﻭَﻟَﺌِﻦ ﺳَﺄَﻟﺘَﻬُﻢ ﻣَﻦ ﻧَﺰَّﻝَ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﻣﺎﺀً ﻓَﺄَﺣﻴﺎ ﺑِﻪِ
ﺍﻷَﺭﺽَ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِ ﻣَﻮﺗِﻬﺎ
ﻟَﻴَﻘﻮﻟُﻦَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ۚ ﻗُﻞِ ﺍﻟﺤَﻤﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ۚ
ﺑَﻞ ﺃَﻛﺜَﺮُﻫُﻢ ﻻ ﻳَﻌﻘِﻠﻮﻥَ
[63] যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস
করেন, কে আকাশ থেকে বারি বর্ষণ
করে, অতঃপর তা দ্বারা মৃত্তিকাকে উহার মৃত
হওয়ার পর সঞ্জীবিত করে? তবে তারা
অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। বলুন, সমস্ত প্রশংসা
আল্লাহরই। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা বোঝে
না।
[63] And If you were to ask them: “Who
sends down water (rain) from the sky,
and gives life therewith to the earth
after its death?” they will surely reply:
“Allâh.” Say: “All the praises and thanks
are to Allâh!” Nay! Most of them have no
sense.
[64] ﻭَﻣﺎ ﻫٰﺬِﻩِ ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓُ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ
ﺇِﻟّﺎ ﻟَﻬﻮٌ ﻭَﻟَﻌِﺐٌ ۚ ﻭَﺇِﻥَّ ﺍﻟﺪّﺍﺭَ
ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓَ ﻟَﻬِﻰَ ﺍﻟﺤَﻴَﻮﺍﻥُ ۚ ﻟَﻮ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[64] এই পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক বৈ
তো কিছুই নয়। পরকালের গৃহই প্রকৃত
জীবন; যদি তারা জানত।
[64] And this life of the world is only an
amusement and play! Verily, the home of
the Hereafter, that is the life indeed (i.e.
the eternal life that will never end), if
they but knew.
[65] ﻓَﺈِﺫﺍ ﺭَﻛِﺒﻮﺍ ﻓِﻰ ﺍﻟﻔُﻠﻚِ
ﺩَﻋَﻮُﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣُﺨﻠِﺼﻴﻦَ ﻟَﻪُ
ﺍﻟﺪّﻳﻦَ ﻓَﻠَﻤّﺎ ﻧَﺠّﻯٰﻬُﻢ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺒَﺮِّ
ﺇِﺫﺍ ﻫُﻢ ﻳُﺸﺮِﻛﻮﻥَ
[65] তারা যখন জলযানে আরোহণ করে তখন
একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে। অতঃপর তিনি
যখন স্থলে এনে তাদেরকে উদ্ধার
করেন, তখনই তারা শরীক করতে থাকে।
[65] And when they embark on a ship,
they invoke Allâh, making their Faith
pure for Him only, but when He brings
them safely to land, behold, they give a
share of their worship to others.
[66] ﻟِﻴَﻜﻔُﺮﻭﺍ ﺑِﻤﺎ ﺀﺍﺗَﻴﻨٰﻬُﻢ
ﻭَﻟِﻴَﺘَﻤَﺘَّﻌﻮﺍ ۖ ﻓَﺴَﻮﻑَ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[66] যাতে তারা তাদের প্রতি আমার দান
অস্বীকার করে এবং ভোগ-বিলাসে ডুবে
থাকে। সত্বরই তারা জানতে পারবে।
[66] So that they become ingrate for that
which We have given them, and that
they take their enjoyment (as a warning
and a threat), but they will come to
know.
[67] ﺃَﻭَﻟَﻢ ﻳَﺮَﻭﺍ ﺃَﻧّﺎ ﺟَﻌَﻠﻨﺎ
ﺣَﺮَﻣًﺎ ﺀﺍﻣِﻨًﺎ ﻭَﻳُﺘَﺨَﻄَّﻒُ
ﺍﻟﻨّﺎﺱُ ﻣِﻦ ﺣَﻮﻟِﻬِﻢ ۚ ﺃَﻓَﺒِﺎﻟﺒٰﻄِﻞِ
ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ ﻭَﺑِﻨِﻌﻤَﺔِ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻳَﻜﻔُﺮﻭﻥَ
[67] তারা কি দেখে না যে, আমি একটি নিরাপদ
আশ্রয়স্থল করেছি। অথচ এর চতুপার্শ্বে
যারা আছে, তাদের উপর আক্রমণ করা হয়।
তবে কি তারা মিথ্যায়ই বিশ্বাস করবে এবং
আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করবে?
[67] Have they not seen that We have
made (Makkah) a secure sanctuary,
while men are being snatched away
from all around them? Then do they
believe in Bâtil (falsehood – polytheism,
idols and all deities other than Allâh),
and deny (become ingrate for) the
Graces of Allâh?
[68] ﻭَﻣَﻦ ﺃَﻇﻠَﻢُ ﻣِﻤَّﻦِ ﺍﻓﺘَﺮﻯٰ
ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻛَﺬِﺑًﺎ ﺃَﻭ ﻛَﺬَّﺏَ
ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ﻟَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَﻩُ ۚ ﺃَﻟَﻴﺲَ ﻓﻰ
ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﻣَﺜﻮًﻯ ﻟِﻠﻜٰﻔِﺮﻳﻦَ
[68] যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা কথা গড়ে
অথবা তার কাছে সত্য আসার পর তাকে
অস্বীকার করে, তার কি স্মরণ রাখা উচিত নয়
যে, জাহান্নামই সেসব কাফেরের
আশ্রয়স্থল হবে?
[68] And who does more wrong than he
who invents a lie against Allâh or denies
the truth (Muhammad SAW and his
doctrine of Islâmic Monotheism and this
Qur’ân), when it comes to him? Is there
not a dwelling in Hell for disbelievers (in
the Oneness of Allâh and in His
Messenger Muhammad SAW)?
[69] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺟٰﻬَﺪﻭﺍ ﻓﻴﻨﺎ
ﻟَﻨَﻬﺪِﻳَﻨَّﻬُﻢ ﺳُﺒُﻠَﻨﺎ ۚ ﻭَﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ
ﻟَﻤَﻊَ ﺍﻟﻤُﺤﺴِﻨﻴﻦَ
[69] যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ
করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে
পরিচালিত করব। নিশ্চয় আল্লাহ
সৎকর্মপরায়ণদের সাথে আছেন।
[69] As for those who strive hard in Us
(Our Cause), We will surely guide them
to Our Paths (i.e. Allâh’s religion –
Islâmic Monotheism). And verily, Allâh is
with the Muhsinûn (good doers).”
Surah Al Ankabut Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. আলিফ-লাম-মীম। 2. মানুষ কি মনে করে যে, তারা একথা বলেই অব্যাহতি পেয়ে যাবে যে, আমরা বিশ্বাস করি এবং তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না? 3. আমি তাদেরকেও পরীক্ষা করেছি, যারা তাদের পূর্বে ছিল। আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয়ই জেনে নেবেন মিথ্যুকদেরকে। 4. যারা মন্দ কাজ করে, তারা কি মনে করে যে, তারা আমার হাত থেকে বেঁচে যাবে? তাদের ফয়সালা খুবই মন্দ। 5. যে আল্লাহর সাক্ষাত কামনা করে, আল্লাহর সেই নির্ধারিত কাল অবশ্যই আসবে। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী। 6. যে কষ্ট স্বীকার করে, সে তো নিজের জন্যেই কষ্ট স্বীকার করে। আল্লাহ বিশ্ববাসী থেকে বে-পরওয়া। 7. আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি অবশ্যই তাদের মন্দ কাজ গুলো মিটিয়ে দেব এবং তাদেরকে কর্মের উৎকৃষ্টতর প্রতিদান দেব। 8. আমি মানুষকে পিতা- মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জোর নির্দেশ দিয়েছি। যদি তারা তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরীক করার জোর প্রচেষ্টা চালায়, যার সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তবে তাদের আনুগত্য করো না। আমারই দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর আমি তোমাদেরকে বলে দেব যা কিছু তোমরা করতে। 9. যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকাজ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করব। 10. কতক লোক বলে, আমরা আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি; কিন্তু আল্লাহর পথে যখন তারা নির্যাতিত হয়, তখন তারা মানুষের নির্যাতনকে আল্লাহর আযাবের মত মনে করে। যখন আপনার পালনকর্তার কাছ থেকে কোন সাহায্য আসে তখন তারা বলতে থাকে, আমরা তো তোমাদের সাথেই ছিলাম। বিশ্ববাসীর অন্তরে যা আছে, আল্লাহ কি তা সম্যক অবগত নন? 11. আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং নিশ্চয় জেনে নেবেন যারা মুনাফেক। 12. কাফেররা মুমিনদেরকে বলে, আমাদের পথ অনুসরণ কর। আমরা তোমাদের পাপভার বহন করব। অথচ তারা পাপভার কিছুতেই বহন করবে না। নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী। 13. তারা নিজেদের পাপভার এবং তার সাথে আরও কিছু পাপভার বহন করবে। অবশ্য তারা যে সব মিথ্যা কথা উদ্ভাবন করে, সে সম্পর্কে কেয়ামতের দিন জিজ্ঞাসিত হবে। 14. আমি নূহ (আঃ) কে তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছিলাম। তিনি তাদের মধ্যে পঞ্চাশ কম এক হাজার বছর অবস্থান করেছিলেন। অতঃপর তাদেরকে মহাপ্লাবণ গ্রাস করেছিল। তারা ছিল পাপী। 15. অতঃপর আমি তাঁকে ও নৌকারোহীগণকে রক্ষা করলাম এবং নৌকাকে নিদর্শন করলাম বিশ্ববাসীর জন্যে। 16. স্মরণ কর ইব্রাহীমকে। যখন তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন; তোমরা আল্লাহর এবাদত কর এবং তাঁকে ভয় কর। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বোঝ। 17. তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে কেবল প্রতিমারই পূজা করছ এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছ। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের এবাদত করছ, তারা তোমাদের রিযিকের মালিক নয়। কাজেই আল্লাহর কাছে রিযিক তালাশ কর, তাঁর এবাদত কর এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। 18. তোমরা যদি মিথ্যাবাদী বল, তবে তোমাদের পূর্ববর্তীরাও তো মিথ্যাবাদী বলেছে। স্পষ্টভাবে পয়গাম পৌছে দেয়াই তো রসূলের দায়িত্ব। 19. তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ কিভাবে সৃষ্টিকর্ম শুরু করেন অতঃপর তাকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন? এটা আল্লাহর জন্যে সহজ। 20. বলুন, তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ, কিভাবে তিনি সৃষ্টিকর্ম শুরু করেছেন। অতঃপর আল্লাহ পুর্নবার সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম। 21. তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যার প্রতি ইচ্ছা রহমত করেন। তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। 22. তোমরা স্থলে ও অন্তরীক্ষে আল্লাহকে অপারগ করতে পারবে না এবং আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন হিতাকাঙ্খী নেই, সাহায্যকারীও নেই। 23. যারা আল্লাহর আয়াত সমূহ ও তাঁর সাক্ষাত অস্বীকার করে, তারাই আমার রহমত থেকে নিরাশ হবে এবং তাদের জন্যেই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। 24. তখন ইব্রাহীমের সম্প্রদায়ের এছাড়া কোন জওয়াব ছিল না যে তারা বলল, তাকে হত্যা কর অথবা অগ্নিদগ্ধ কর। অতঃপর আল্লাহ তাকে অগ্নি থেকে রক্ষা করলেন। নিশ্চয় এতে বিশ্বাসী লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। 25. ইব্রাহীম বললেন, পার্থিব জীবনে তোমাদের পারস্পরিক ভালবাসা রক্ষার জন্যে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে প্রতিমাগুলোকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছ। এরপর কেয়ামতের দিন তোমরা একে অপরকে অস্বীকার করবে এবং একে অপরকে লানত করবে। তোমাদের ঠিকানা জাহান্নাম এবং তোমাদের কোন সাহায্যকারী নেই। 26. অতঃপর তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলেন লূত। ইব্রাহীম বললেন, আমি আমার পালনকর্তার উদ্দেশে দেশত্যাগ করছি। নিশ্চয় তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। 27. আমি তাকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়াকুব, তাঁর বংশধরদের মধ্যে নবুওয়ত ও কিতাব রাখলাম এবং দুনিয়াতে তাঁকে পুরস্কৃত করলাম। নিশ্চয় পরকালে ও সে সৎলোকদর অন্তর্ভূক্ত হবে। 28. আর প্রেরণ করেছি লূতকে। যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলল, তোমরা এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে পৃথিবীর কেউ করেনি। 29. তোমরা কি পুংমৈথুনে লিপ্ত আছ, রাহাজানি করছ এবং নিজেদের মজলিসে গর্হিত কর্ম করছ? জওয়াবে তাঁর সম্প্রদায় কেবল একথা বলল, আমাদের উপর আল্লাহর আযাব আন যদি তুমি সত্যবাদী হও। 30. সে বলল, হে আমার পালনকর্তা, দুস্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য কর। 31. যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতাগণ সুসংবাদ নিয়ে ইব্রাহীমের কাছে আগমন করল, তখন তারা বলল, আমরা এই জনপদের অধিবাসীদেরকে ধ্বংস করব। নিশ্চয় এর অধিবাসীরা জালেম। 32. সে বলল, এই জনপদে তো লূতও রয়েছে। তারা বলল, সেখানে কে আছে, তা আমরা ভাল জানি। আমরা অবশ্যই তাকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে রক্ষা করব তাঁর স্ত্রী ব্যতীত; সে ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত থাকবে। 33. যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতাগণ লূতের কাছে আগমন করল, তখন তাদের কারণে সে বিষন্ন হয়ে পড়ল এবং তার মন সংকীর্ণ হয়ে গেল। তারা বলল, ভয় করবেন না এবং দুঃখ করবেন না। আমরা আপনাকে ও আপনার পরিবারবর্গকে রক্ষা করবই আপনার স্ত্রী ব্যতীত, সে ধ্বংস প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত থাকবে। 34. আমরা এই জনপদের অধিবাসীদের উপর আকাশ থেকে আযাব নাজিল করব তাদের পাপাচারের কারণে। 35. আমি বুদ্ধিমান লোকদের জন্যে এতে একটি স্পষ্ট নিদর্শন রেখে দিয়েছি। 36. আমি মাদইয়ানবাসীদের প্রতি তাদের ভাই শোআয়বকে প্রেরণ করেছি। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায় তোমরা আল্লাহর এবাদত কর, শেষ দিবসের আশা রাখ এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করো না। 37. কিন্তু তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলল; অতঃপর তারা ভূমিকম্প দ্বারা আক্রান্ত হল এবং নিজেদের গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে রইল। 38. আমি আ’দ ও সামুদকে ধ্বংস করে দিয়েছি। তাদের বাড়ী-ঘর থেকেই তাদের অবস্থা তোমাদের জানা হয়ে গেছে। শয়তান তাদের কর্মকে তাদের দৃষ্টিতে সুশোভিত করেছিল, অতঃপর তাদেরকে সৎপথ অবলম্বনে বাধা দিয়েছিল এবং তারা ছিল হুশিয়ার। 39. আমি কারুন, ফেরাউন ও হামানকে ধ্বংস করেছি। মূসা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আগমন করেছিল অতঃপর তারা দেশে দম্ভ করেছিল। কিন্তু তারা জিতে যায়নি। 40. আমি প্রত্যেককেই তার অপরাধের কারণে পাকড়াও করেছি। তাদের কারও প্রতি প্রেরণ করেছি প্রস্তরসহ প্রচন্ড বাতাস, কাউকে পেয়েছে বজ্রপাত, কাউকে আমি বিলীন করেছি ভূগর্ভে এবং কাউকে করেছি নিমজ্জত। আল্লাহ তাদের প্রতি যুলুম করার ছিলেন না; কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছে। 41. যারা আল্লাহর পরিবর্তে অপরকে সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করে তাদের উদাহরণ মাকড়সা। সে ঘর বানায়। আর সব ঘরের মধ্যে মাকড়সার ঘরই তো অধিক দুর্বল, যদি তারা জানত। 42. তারা আল্লাহর পরিবর্তে যা কিছুকে ডাকে, আল্লাহ তা জানেন। তিনি শক্তিশালী, প্রজ্ঞাময়। 43. এ সকল উদাহরণ আমি মানুষের জন্যে দেই; কিন্তু জ্ঞানীরাই তা বোঝে। 44. আল্লাহ যথার্থরূপে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। এতে নিদর্শন রয়েছে ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে। 45. আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট কিতাব পাঠ করুন এবং নামায কায়েম করুন। নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে। আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর। 46. তোমরা কিতাবধারীদের সাথে তর্ক-বিতর্ক করবে না, কিন্তু উত্তম পন্থায়; তবে তাদের সাথে নয়, যারা তাদের মধ্যে বে- ইনসাফ। এবং বল, আমাদের প্রতি ও তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তাতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমাদের উপাস্য ও তোমাদের উপাস্য একই এবং আমরা তাঁরই আজ্ঞাবহ। 47. এভাবেই আমি আপনার প্রতি কিতাব অবর্তীণ করেছি। অতঃপর যাদের কে আমি কিতাব দিয়েছিলাম, তারা একে মেনে চলে এবং এদেরও (মক্কাবাসীদেরও) কেউ কেউ এতে বিশ্বাস রাখে। কেবল কাফেররাই আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে। 48. আপনি তো এর পূর্বে কোন কিতাব পাঠ করেননি এবং স্বীয় দক্ষিণ হস্ত দ্বারা কোন কিতাব লিখেননি। এরূপ হলে মিথ্যাবাদীরা অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করত। 49. বরং যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তাদের অন্তরে ইহা (কোরআন) তো স্পষ্ট আয়াত। কেবল বে-ইনসাফরাই আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে। 50. তারা বলে, তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে তার প্রতি কিছু নিদর্শন অবতীর্ণ হল না কেন? বলুন, নিদর্শন তো আল্লাহর ইচ্ছাধীন। আমি তো একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র। 51. এটাকি তাদের জন্যে যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি, যা তাদের কাছে পাঠ করা হয়। এতে অবশ্যই বিশ্বাসী লোকদের জন্যে রহমত ও উপদেশ আছে। 52. বলুন, আমার মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে আল্লাহই সাক্ষীরূপে যথেষ্ট। তিনি জানেন যা কিছু নভোমন্ডলে ও ভূ-মন্ডলে আছে। আর যারা মিথ্যায় বিশ্বাস করে ও আল্লাহকে অস্বীকার করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। 53. তারা আপনাকে আযাব ত্বরান্বিত করতে বলে। যদি আযাবের সময় নির্ধারিত না থাকত, তবে আযাব তাদের উপর এসে যেত। নিশ্চয়ই আকস্মিকভাবে তাদের কাছে আযাব এসে যাবে, তাদের খবরও থাকবে না। 54. তারা আপনাকে আযাব ত্বরান্বিত করতে বলে; অথচ জাহান্নাম কাফেরদেরকে ঘেরাও করছে। 55. যেদিন আযাব তাদেরকে ঘেরাও করবে মাথার উপর থেকে এবং পায়ের নীচ থেকে। আল্লাহ বললেন, তোমরা যা করতে, তার স্বাদ গ্রহণ কর। 56. হে আমার ঈমানদার বান্দাগণ, আমার পৃথিবী প্রশস্ত। অতএব তোমরা আমারই এবাদত কর। 57. জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। অতঃপর তোমরা আমারই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। 58. যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতের সুউচ্চ প্রাসাদে স্থান দেব, যার তলদেশে প্রস্রবণসমূহ প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। কত উত্তম পুরস্কার কর্মীদের। 59. যারা সবর করে এবং তাদের পালনকর্তার উপর ভরসা করে। 60. এমন অনেক জন্তু আছে, যারা তাদের খাদ্য সঞ্চিত রাখে না। আল্লাহই রিযিক দেন তাদেরকে এবং তোমাদেরকেও। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। 61. যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছে, চন্দ্র ও সূর্যকে কর্মে নিয়োজিত করেছে? তবে তারা অবশ্যই বলবে আল্লাহ। তাহলে তারা কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে? 62. আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করে দেন এবং যার জন্য ইচ্ছা হ্রাস করেন। নিশ্চয়, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত। 63. যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করে, অতঃপর তা দ্বারা মৃত্তিকাকে উহার মৃত হওয়ার পর সঞ্জীবিত করে? তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা বোঝে না। 64. এই পার্থিব জীবন ক্রীড়া- কৌতুক বৈ তো কিছুই নয়। পরকালের গৃহই প্রকৃত জীবন; যদি তারা জানত। 65. তারা যখন জলযানে আরোহণ করে তখন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে। অতঃপর তিনি যখন স্থলে এনে তাদেরকে উদ্ধার করেন, তখনই তারা শরীক করতে থাকে। 66. যাতে তারা তাদের প্রতি আমার দান অস্বীকার করে এবং ভোগ- বিলাসে ডুবে থাকে। সত্বরই তারা জানতে পারবে। 67. তারা কি দেখে না যে, আমি একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল করেছি। অথচ এর চতুপার্শ্বে যারা আছে, তাদের উপর আক্রমণ করা হয়। তবে কি তারা মিথ্যায়ই বিশ্বাস করবে এবং আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করবে? 68. যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা কথা গড়ে অথবা তার কাছে সত্য আসার পর তাকে অস্বীকার করে, তার কি স্মরণ রাখা উচিত নয় যে, জাহান্নামই সেসব কাফেরের আশ্রয়স্থল হবে? 69. যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সাথে আছেন। *********

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s