31. সুরাহ লোকমান (01-34)


ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি
দয়ালু
[1] ﺍﻟﻢ
[1] আলিফ-লাম-মীম।
[1] Alif¬Lâm¬Mîm [These letters are one
of the miracles of the Qur’ân, and none
but Allâh (Alone) knows their
meanings.].
[2] ﺗِﻠﻚَ ﺀﺍﻳٰﺖُ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ
ﺍﻟﺤَﻜﻴﻢِ
[2] এগুলো প্রজ্ঞাময় কিতাবের আয়াত।
[2] These are Verses of the Wise Book
(the Qur’ân).
[3] ﻫُﺪًﻯ ﻭَﺭَﺣﻤَﺔً ﻟِﻠﻤُﺤﺴِﻨﻴﻦَ
[3] হেদায়েত ও রহমত সৎকর্মপরায়ণদের
জন্য।
[3] A guide and a mercy for the
Muhsinûn (good¬doers).
[4] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳُﻘﻴﻤﻮﻥَ ﺍﻟﺼَّﻠﻮٰﺓَ
ﻭَﻳُﺆﺗﻮﻥَ ﺍﻟﺰَّﻛﻮٰﺓَ ﻭَﻫُﻢ
ﺑِﺎﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﻫُﻢ ﻳﻮﻗِﻨﻮﻥَ
[4] যারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং
আখেরাত সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।
[4] Those who perform As¬Salât
(Iqamat¬as- Salât) and give Zakât and
they have faith in the Hereafter with
certainty.
[5] ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻋَﻠﻰٰ ﻫُﺪًﻯ ﻣِﻦ
ﺭَﺑِّﻬِﻢ ۖ ﻭَﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﺍﻟﻤُﻔﻠِﺤﻮﻥَ
[5] এসব লোকই তাদের পরওয়ারদেগারের
তরফ থেকে আগত হেদায়েতের উপর
প্রতিষ্ঠিত এবং এরাই সফলকাম।
[5] Such are on guidance from their
Lord, and such are the successful.
[6] ﻭَﻣِﻦَ ﺍﻟﻨّﺎﺱِ ﻣَﻦ ﻳَﺸﺘَﺮﻯ
ﻟَﻬﻮَ ﺍﻟﺤَﺪﻳﺚِ ﻟِﻴُﻀِﻞَّ ﻋَﻦ
ﺳَﺒﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑِﻐَﻴﺮِ ﻋِﻠﻢٍ
ﻭَﻳَﺘَّﺨِﺬَﻫﺎ ﻫُﺰُﻭًﺍ ۚ ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻟَﻬُﻢ
ﻋَﺬﺍﺏٌ ﻣُﻬﻴﻦٌ
[6] একশ্রেণীর লোক আছে যারা
মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার
উদ্দেশে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে
অন্ধভাবে এবং উহাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ
করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর
শাস্তি।
[6] And of mankind is he who purchases
idle talks (i.e.music, singing, etc.) to
mislead (men) from the Path of Allâh
without knowledge, and takes it (the Path
of Allâh, or the Verses of the Qur’ân) by
way of mockery. For such there will be a
humiliating torment (in the Hell-fire).
[7] ﻭَﺇِﺫﺍ ﺗُﺘﻠﻰٰ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺀﺍﻳٰﺘُﻨﺎ
ﻭَﻟّﻰٰ ﻣُﺴﺘَﻜﺒِﺮًﺍ ﻛَﺄَﻥ ﻟَﻢ
ﻳَﺴﻤَﻌﻬﺎ ﻛَﺄَﻥَّ ﻓﻰ ﺃُﺫُﻧَﻴﻪِ ﻭَﻗﺮًﺍ ۖ
ﻓَﺒَﺸِّﺮﻩُ ﺑِﻌَﺬﺍﺏٍ ﺃَﻟﻴﻢٍ
[7] যখন ওদের সামনে আমার আয়তসমূহ পাঠ
করা হয়, তখন ওরা দম্ভের সাথে এমনভাবে
মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন ওরা তা শুনতেই পায়নি
অথবা যেন ওদের দু’কান বধির। সুতরাং
ওদেরকে কষ্টদায়ক আযাবের সংবাদ দাও।
[7] And when Our Verses (of the Qur’ân)
are recited to such a one, he turns away
in pride, as if he heard them not,— as if
there were deafness in his ear. So
announce to him a painful torment
[8] ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ
ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤٰﺖِ ﻟَﻬُﻢ ﺟَﻨّٰﺖُ ﺍﻟﻨَّﻌﻴﻢِ
[8] যারা ঈমান আনে আর সৎকাজ করে তাদের
জন্য রয়েছে নেয়ামতে ভরা জান্নাত।
[8] Verily, those who believe (in Islâmic
Monotheism) and do righteous good
deeds, for them are Gardens of Delight
(Paradise).
[9] ﺧٰﻠِﺪﻳﻦَ ﻓﻴﻬﺎ ۖ ﻭَﻋﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺣَﻘًّﺎ ۚ ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ ﺍﻟﺤَﻜﻴﻢُ
[9] সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহর
ওয়াদা যথার্থ। তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।
[9] To abide therein. It is a Promise of
Allâh in truth. And He is the All¬Mighty,
the All¬Wise.
[10] ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﺑِﻐَﻴﺮِ ﻋَﻤَﺪٍ
ﺗَﺮَﻭﻧَﻬﺎ ۖ ﻭَﺃَﻟﻘﻰٰ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﺭَﻭٰﺳِﻰَ ﺃَﻥ ﺗَﻤﻴﺪَ ﺑِﻜُﻢ ﻭَﺑَﺚَّ
ﻓﻴﻬﺎ ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﺩﺍﺑَّﺔٍ ۚ ﻭَﺃَﻧﺰَﻟﻨﺎ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﻣﺎﺀً ﻓَﺄَﻧﺒَﺘﻨﺎ ﻓﻴﻬﺎ
ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﺯَﻭﺝٍ ﻛَﺮﻳﻢٍ
[10] তিনি খুঁটি ব্যতীত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি
করেছেন; তোমরা তা দেখছ। তিনি
পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা,
যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না
পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন
সর্বপ্রকার জন্তু। আমি আকাশ থেকে পানি
বর্ষণ করেছি, অতঃপর তাতে উদগত করেছি
সর্বপ্রকার কল্যাণকর উদ্ভিদরাজি।
[10] He has created the heavens without
any pillars, that you see and has set on
the earth firm mountains, lest it should
shake with you. And He has scattered
therein moving (living) creatures of all
kinds. And We send down water (rain)
from the sky, and We cause (plants) of
every goodly kind to grow therein.
[11] ﻫٰﺬﺍ ﺧَﻠﻖُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﺄَﺭﻭﻧﻰ
ﻣﺎﺫﺍ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻣِﻦ ﺩﻭﻧِﻪِ ۚ
ﺑَﻞِ ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻮﻥَ ﻓﻰ ﺿَﻠٰﻞٍ ﻣُﺒﻴﻦٍ
[11] এটা আল্লাহর সৃষ্টি; অতঃপর তিনি ব্যতীত
অন্যেরা যা সৃষ্টি করেছে, তা আমাকে
দেখাও। বরং জালেমরা সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায়
পতিত আছে।
[11] This is the creation of Allâh. So show
Me that which those (whom you
worship), besides Him have created. Nay,
the Zâlimûn (polytheists, wrong¬doers
and those who do not believe in the
Oneness of Allâh) are in plain error.
[12] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺀﺍﺗَﻴﻨﺎ ﻟُﻘﻤٰﻦَ
ﺍﻟﺤِﻜﻤَﺔَ ﺃَﻥِ ﺍﺷﻜُﺮ ﻟِﻠَّﻪِ ۚ ﻭَﻣَﻦ
ﻳَﺸﻜُﺮ ﻓَﺈِﻧَّﻤﺎ ﻳَﺸﻜُﺮُ ﻟِﻨَﻔﺴِﻪِ ۖ
ﻭَﻣَﻦ ﻛَﻔَﺮَ ﻓَﺈِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻏَﻨِﻰٌّ
ﺣَﻤﻴﺪٌ
[12] আমি লোকমানকে প্রজ্ঞা দান করেছি
এই মর্মে যে, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হও।
যে কৃতজ্ঞ হয়, সে তো কেবল নিজ
কল্যানের জন্যই কৃতজ্ঞ হয়। আর যে
অকৃতজ্ঞ হয়, আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।
[12] And indeed We bestowed upon
Luqmân Al¬Hikmah (wisdom and
religious understanding) saying: “Give
thanks to Allâh,” and whoever gives
thanks, he gives thanks for (the good of)
his ownself. And whoever is unthankful,
then verily, Allâh is All¬Rich (Free of all
needs), Worthy of all praise.
[13] ﻭَﺇِﺫ ﻗﺎﻝَ ﻟُﻘﻤٰﻦُ ﻟِﺎﺑﻨِﻪِ ﻭَﻫُﻮَ
ﻳَﻌِﻈُﻪُ ﻳٰﺒُﻨَﻰَّ ﻻ ﺗُﺸﺮِﻙ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ۖ
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺸِّﺮﻙَ ﻟَﻈُﻠﻢٌ ﻋَﻈﻴﻢٌ
[13] যখন লোকমান উপদেশচ্ছলে তার
পুত্রকে বললঃ হে বৎস, আল্লাহর সাথে
শরীক করো না। নিশ্চয় আল্লাহর সাথে
শরীক করা মহা অন্যায়।
[13] And (remember) when Luqmân said
to his son when he was advising him: “O
my son! Join not in worship others with
Allâh. Verily! Joining others in worship
with Allâh is a great Zûlm (wrong)
indeed.
[14] ﻭَﻭَﺻَّﻴﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴٰﻦَ ﺑِﻮٰﻟِﺪَﻳﻪِ
ﺣَﻤَﻠَﺘﻪُ ﺃُﻣُّﻪُ ﻭَﻫﻨًﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﻭَﻫﻦٍ
ﻭَﻓِﺼٰﻠُﻪُ ﻓﻰ ﻋﺎﻣَﻴﻦِ ﺃَﻥِ ﺍﺷﻜُﺮ
ﻟﻰ ﻭَﻟِﻮٰﻟِﺪَﻳﻚَ ﺇِﻟَﻰَّ ﺍﻟﻤَﺼﻴﺮُ
[14] আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে
সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার
মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে
ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দু বছরে হয়।
নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার
পিতা-মতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে
আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে।
[14] And We have enjoined on man (to
be dutiful and good) to his parents. His
mother bore him in weakness and
hardship upon weakness and hardship,
and his weaning is in two years — give
thanks to Me and to your parents, unto
Me is the final destination.
[15] ﻭَﺇِﻥ ﺟٰﻬَﺪﺍﻙَ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﻥ
ﺗُﺸﺮِﻙَ ﺑﻰ ﻣﺎ ﻟَﻴﺲَ ﻟَﻚَ ﺑِﻪِ
ﻋِﻠﻢٌ ﻓَﻼ ﺗُﻄِﻌﻬُﻤﺎ ۖ ﻭَﺻﺎﺣِﺒﻬُﻤﺎ
ﻓِﻰ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﻣَﻌﺮﻭﻓًﺎ ۖ ﻭَﺍﺗَّﺒِﻊ
ﺳَﺒﻴﻞَ ﻣَﻦ ﺃَﻧﺎﺏَ ﺇِﻟَﻰَّ ۚ ﺛُﻢَّ ﺇِﻟَﻰَّ
ﻣَﺮﺟِﻌُﻜُﻢ ﻓَﺄُﻧَﺒِّﺌُﻜُﻢ ﺑِﻤﺎ ﻛُﻨﺘُﻢ
ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[15] পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন
বিষয়কে শরীক স্থির করতে পীড়াপীড়ি
করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি
তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের
সাথে সদ্ভাবে সহঅবস্থান করবে। যে
আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে।
অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে
এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে
তোমাদেরকে জ্ঞাত করবো।
[15] But if they (both) strive with you to
make you join in worship with Me others
that of which you have no knowledge,
then obey them not, but behave with
them in the world kindly, and follow the
path of him who turns to Me in
repentance and in obedience. Then to
Me will be your return, and I shall tell
you what you used to do.
[16] ﻳٰﺒُﻨَﻰَّ ﺇِﻧَّﻬﺎ ﺇِﻥ ﺗَﻚُ ﻣِﺜﻘﺎﻝَ
ﺣَﺒَّﺔٍ ﻣِﻦ ﺧَﺮﺩَﻝٍ ﻓَﺘَﻜُﻦ ﻓﻰ
ﺻَﺨﺮَﺓٍ ﺃَﻭ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﺃَﻭ
ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﻳَﺄﺕِ ﺑِﻬَﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ۚ ﺇِﻥَّ
ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻟَﻄﻴﻒٌ ﺧَﺒﻴﺮٌ
[16] হে বৎস, কোন বস্তু যদি সরিষার দানা
পরিমাণও হয় অতঃপর তা যদি থাকে প্রস্তর
গর্ভে অথবা আকাশে অথবা ভূ-গর্ভে, তবে
আল্লাহ তাও উপস্থিত করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ
গোপন ভেদ জানেন, সবকিছুর খবর রাখেন।
[16] “O my son! If it be (anything) equal
to the weight of a grain of mustard seed,
and though it be in a rock, or in the
heavens or in the earth, Allâh will bring
it forth. Verily, Allâh is Subtle (in
bringing out that grain), Well¬Aware (of
its place).
[17] ﻳٰﺒُﻨَﻰَّ ﺃَﻗِﻢِ ﺍﻟﺼَّﻠﻮٰﺓَ ﻭَﺃﻣُﺮ
ﺑِﺎﻟﻤَﻌﺮﻭﻑِ ﻭَﺍﻧﻪَ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻤُﻨﻜَﺮِ
ﻭَﺍﺻﺒِﺮ ﻋَﻠﻰٰ ﻣﺎ ﺃَﺻﺎﺑَﻚَ ۖ ﺇِﻥَّ
ﺫٰﻟِﻚَ ﻣِﻦ ﻋَﺰﻡِ ﺍﻷُﻣﻮﺭِ
[17] হে বৎস, নামায কায়েম কর, সৎকাজে
আদেশ দাও, মন্দকাজে নিষেধ কর এবং
বিপদাপদে সবর কর। নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ।
[17] “O my son! Aqim¬As¬Salât (perform
As¬Salât), enjoin (on people) Al¬Ma’rûf
(Islâmic Monotheism and all that is
good), and forbid (people) from
Al¬Munkar (i.e. disbelief in the Oneness
of Allâh, polytheism of all kinds and all
that is evil and bad), and bear with
patience whatever befalls you. Verily,
these are some of the important
commandments (ordered by Allâh with
no exemption).
[18] ﻭَﻻ ﺗُﺼَﻌِّﺮ ﺧَﺪَّﻙَ ﻟِﻠﻨّﺎﺱِ
ﻭَﻻ ﺗَﻤﺶِ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﻣَﺮَﺣًﺎ ۖ
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻻ ﻳُﺤِﺐُّ ﻛُﻞَّ ﻣُﺨﺘﺎﻝٍ
ﻓَﺨﻮﺭٍ
[18] অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো
না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণ করো
না। নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক অহংকারীকে
পছন্দ করেন না।
[18] “And turn not your face away from
men with pride, nor walk in insolence
through the earth. Verily, Allâh likes not
any arrogant boaster
[19] ﻭَﺍﻗﺼِﺪ ﻓﻰ ﻣَﺸﻴِﻚَ
ﻭَﺍﻏﻀُﺾ ﻣِﻦ ﺻَﻮﺗِﻚَ ۚ ﺇِﻥَّ
ﺃَﻧﻜَﺮَ ﺍﻷَﺻﻮٰﺕِ ﻟَﺼَﻮﺕُ
ﺍﻟﺤَﻤﻴﺮِ
[19] পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন কর এবং
কন্ঠস্বর নীচু কর। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই
সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।
[19] “And be moderate (or show no
insolence) in your walking, and lower
your voice. Verily, the harshest of all
voices is the braying of the ass.”
[20] ﺃَﻟَﻢ ﺗَﺮَﻭﺍ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺳَﺨَّﺮَ
ﻟَﻜُﻢ ﻣﺎ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﻣﺎ
ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﺃَﺳﺒَﻎَ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ
ﻧِﻌَﻤَﻪُ ﻇٰﻬِﺮَﺓً ﻭَﺑﺎﻃِﻨَﺔً ۗ ﻭَﻣِﻦَ
ﺍﻟﻨّﺎﺱِ ﻣَﻦ ﻳُﺠٰﺪِﻝُ ﻓِﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺑِﻐَﻴﺮِ ﻋِﻠﻢٍ ﻭَﻻ ﻫُﺪًﻯ ﻭَﻻ ﻛِﺘٰﺐٍ
ﻣُﻨﻴﺮٍ
[20] তোমরা কি দেখ না আল্লাহ নভোমন্ডল
ও ভূ-মন্ডলে যাকিছু আছে, সবই তোমাদের
কাজে নিয়োজিত করে দিয়েছেন এবং
তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য
নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ন করে দিয়েছেন?
এমন লোক ও আছে; যারা জ্ঞান, পথনির্দেশ
ও উজ্জল কিতাব ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে
বাকবিতন্ডা করে।
[20] See you not (O men) that Allâh has
subjected for you whatsoever is in the
heavens and whatsoever is in the earth,
and has completed and perfected His
Graces upon you, (both) apparent (i.e
Islâmic Monotheism, and the lawful
pleasures of this world, including health,
good looks, etc.) and hidden [i.e. One’s
Faith in Allâh (of Islâmic Monotheism)
knowledge, wisdom, guidance for doing
righteous deeds, and also the pleasures
and delights of the Hereafter in
Paradise]? Yet of mankind is he who
disputes about Allâh without knowledge
or guidance or a Book giving light!
[21] ﻭَﺇِﺫﺍ ﻗﻴﻞَ ﻟَﻬُﻢُ ﺍﺗَّﺒِﻌﻮﺍ ﻣﺎ
ﺃَﻧﺰَﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺑَﻞ ﻧَﺘَّﺒِﻊُ ﻣﺎ
ﻭَﺟَﺪﻧﺎ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺀﺍﺑﺎﺀَﻧﺎ ۚ ﺃَﻭَﻟَﻮ
ﻛﺎﻥَ ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦُ ﻳَﺪﻋﻮﻫُﻢ ﺇِﻟﻰٰ
ﻋَﺬﺍﺏِ ﺍﻟﺴَّﻌﻴﺮِ
[21] তাদেরকে যখন বলা হয়, আল্লাহ যা নাযিল
করেছেন, তোমরা তার অনুসরণ কর, তখন
তারা বলে, বরং আমরা আমাদের
পূর্বপুরুষদেরকে যে বিষয়ের উপর
পেয়েছি, তারই অনুসরণ করব। শয়তান যদি
তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে দাওয়াত
দেয়, তবুও কি?
[21] And when it is said to them: “Follow
that which Allâh has sent down”, they
say: “Nay, we shall follow that which we
found our fathers (following).” (Would
they do so) even if Shaitân (Satan)
invites them to the torment of the Fire?
[22] ۞ ﻭَﻣَﻦ ﻳُﺴﻠِﻢ ﻭَﺟﻬَﻪُ
ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻫُﻮَ ﻣُﺤﺴِﻦٌ ﻓَﻘَﺪِ
ﺍﺳﺘَﻤﺴَﻚَ ﺑِﺎﻟﻌُﺮﻭَﺓِ ﺍﻟﻮُﺛﻘﻰٰ ۗ
ﻭَﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋٰﻘِﺒَﺔُ ﺍﻷُﻣﻮﺭِ
[22] যে ব্যক্তি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে স্বীয়
মুখমন্ডলকে আল্লাহ অভিমূখী করে, সে
এক মজবুত হাতল ধারণ করে, সকল কর্মের
পরিণাম আল্লাহর দিকে।
[22] And whosoever submits his face
(himself) to Allâh, while he is a Muhsin
(good¬doer i.e. performs good deeds
totally for Allâh’s sake without any show
– off or to gain praise or fame and does
them in accordance with the Sunnah of
Allâh’s Messenger Muhammad SAW),
then he has grasped the most
trustworthy hand¬hold [Lâ ilâha illallâh
(none has the right to be worshipped but
Allâh)]. And to Allâh return all matters
for decision.
[23] ﻭَﻣَﻦ ﻛَﻔَﺮَ ﻓَﻼ ﻳَﺤﺰُﻧﻚَ
ﻛُﻔﺮُﻩُ ۚ ﺇِﻟَﻴﻨﺎ ﻣَﺮﺟِﻌُﻬُﻢ
ﻓَﻨُﻨَﺒِّﺌُﻬُﻢ ﺑِﻤﺎ ﻋَﻤِﻠﻮﺍ ۚ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ
ﻋَﻠﻴﻢٌ ﺑِﺬﺍﺕِ ﺍﻟﺼُّﺪﻭﺭِ
[23] যে ব্যক্তি কুফরী করে তার কুফরী
যেন আপনাকে চিন্তিত না করে। আমারই
দিকে তাদের প্রত্যাবর্তন, অতঃপর আমি
তাদের কর্ম সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত
করব। অন্তরে যা কিছু রয়েছে, সে
সম্পর্কে আল্লাহ সবিশেষ পরিজ্ঞাত।
[23] And whosoever disbelieves, let not
his disbelief grieve you (O Muhammad
SAW),. To Us is their return, and We
shall inform them what they have done.
Verily, Allâh is the All¬Knower of what
is in the breasts (of men).
[24] ﻧُﻤَﺘِّﻌُﻬُﻢ ﻗَﻠﻴﻠًﺎ ﺛُﻢَّ
ﻧَﻀﻄَﺮُّﻫُﻢ ﺇِﻟﻰٰ ﻋَﺬﺍﺏٍ ﻏَﻠﻴﻆٍ
[24] আমি তাদেরকে স্বল্পকালের জন্যে
ভোগবিলাস করতে দেব, অতঃপর তাদেরকে
বাধ্য করব গুরুতর শাস্তি ভোগ করতে।
[24] We let them enjoy for a little while,
then in the end We shall oblige them to
(enter) a great torment.
[25] ﻭَﻟَﺌِﻦ ﺳَﺄَﻟﺘَﻬُﻢ ﻣَﻦ ﺧَﻠَﻖَ
ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽَ ﻟَﻴَﻘﻮﻟُﻦَّ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ۚ ﻗُﻞِ ﺍﻟﺤَﻤﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ۚ ﺑَﻞ
ﺃَﻛﺜَﺮُﻫُﻢ ﻻ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[25] আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস
করেন, নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল কে সৃষ্টি
করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ।
বলুন, সকল প্রশংসাই আল্লাহর। বরং তাদের
অধিকাংশই জ্ঞান রাখে না।
[25] And if you (O Muhammad SAW) ask
them: “Who has created the heavens and
the earth,” they will certainly say:
“Allâh.” Say: “All the praises and thanks
be to Allâh!” But most of them know not.
[26] ﻟِﻠَّﻪِ ﻣﺎ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ۚ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻫُﻮَ ﺍﻟﻐَﻨِﻰُّ
ﺍﻟﺤَﻤﻴﺪُ
[26] নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে যা কিছু
রয়েছে সবই আল্লাহর। আল্লাহ অভাবমুক্ত,
প্রশংসিত।
[26] To Allâh belongs whatsoever is in
the heavens and the earth. Verily, Allâh,
He is Al¬Ghanî (Rich, Free of all needs),
Worthy of all praise.
[27] ﻭَﻟَﻮ ﺃَﻧَّﻤﺎ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﻣِﻦ
ﺷَﺠَﺮَﺓٍ ﺃَﻗﻠٰﻢٌ ﻭَﺍﻟﺒَﺤﺮُ ﻳَﻤُﺪُّﻩُ
ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِﻩِ ﺳَﺒﻌَﺔُ ﺃَﺑﺤُﺮٍ ﻣﺎ
ﻧَﻔِﺪَﺕ ﻛَﻠِﻤٰﺖُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۗ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ
ﻋَﺰﻳﺰٌ ﺣَﻜﻴﻢٌ
[27] পৃথিবীতে যত বৃক্ষ আছে, সবই যদি
কলম হয় এবং সমুদ্রের সাথেও সাত সমুদ্র
যুক্ত হয়ে কালি হয়, তবুও তাঁর বাক্যাবলী
লিখে শেষ করা যাবে না। নিশ্চয় আল্লাহ
পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
[27] And if all the trees on the earth
were pens and the sea (were ink
wherewith to write), with seven seas
behind it to add to its (supply), yet the
Words of Allâh would not be exhausted.
Verily, Allâh is All¬Mighty, All¬Wise.
[28] ﻣﺎ ﺧَﻠﻘُﻜُﻢ ﻭَﻻ ﺑَﻌﺜُﻜُﻢ ﺇِﻟّﺎ
ﻛَﻨَﻔﺲٍ ﻭٰﺣِﺪَﺓٍ ۗ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺳَﻤﻴﻊٌ
ﺑَﺼﻴﺮٌ
[28] তোমাদের সৃষ্টি ও পুনরুত্থান একটি মাত্র
প্রাণীর সৃষ্টি ও পুনরুত্থানের সমান বৈ নয়।
নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছু শোনেন, সবকিছু
দেখেন।
[28] The creation of you all and the
resurrection of you all are only as (the
creation and resurrection of) a single
person. Verily, Allâh is All¬Hearer,
All¬Seer.
[29] ﺃَﻟَﻢ ﺗَﺮَ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳﻮﻟِﺞُ ﺍﻟَّﻴﻞَ
ﻓِﻰ ﺍﻟﻨَّﻬﺎﺭِ ﻭَﻳﻮﻟِﺞُ ﺍﻟﻨَّﻬﺎﺭَ ﻓِﻰ
ﺍﻟَّﻴﻞِ ﻭَﺳَﺨَّﺮَ ﺍﻟﺸَّﻤﺲَ ﻭَﺍﻟﻘَﻤَﺮَ
ﻛُﻞٌّ ﻳَﺠﺮﻯ ﺇِﻟﻰٰ ﺃَﺟَﻞٍ ﻣُﺴَﻤًّﻰ
ﻭَﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺑِﻤﺎ ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ ﺧَﺒﻴﺮٌ
[29] তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাত্রিকে
দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে
রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন? তিনি চন্দ্র ও
সূর্যকে কাজে নিয়োজিত করেছেন।
প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমণ
করে। তুমি কি আরও দেখ না যে, তোমরা যা
কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন?
[29] See you not (O Muhammad SAW)
that Allâh merges the night into the day
(i.e. the decrease in the hours of the
night are added to the hours of the day),
and merges the day into the night (i.e.
the decrease in the hours of day are
added in the hours of night), and has
subjected the sun and the moon, each
running its course for a term appointed;
and that Allâh is All¬Aware of what you
do.
[30] ﺫٰﻟِﻚَ ﺑِﺄَﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻫُﻮَ ﺍﻟﺤَﻖُّ
ﻭَﺃَﻥَّ ﻣﺎ ﻳَﺪﻋﻮﻥَ ﻣِﻦ ﺩﻭﻧِﻪِ
ﺍﻟﺒٰﻄِﻞُ ﻭَﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻫُﻮَ ﺍﻟﻌَﻠِﻰُّ
ﺍﻟﻜَﺒﻴﺮُ
[30] এটাই প্রমাণ যে, আল্লাহ-ই সত্য এবং
আল্লাহ ব্যতীত তারা যাদের পূজা করে সব
মিথ্যা। আল্লাহ সর্বোচ্চ, মহান।
[30] That is because Allâh, He is the
Truth, and that which they invoke
besides Him is Al¬Bâtil (falsehood, Satan
and all other false deities), and that
Allâh, He is the Most High, the Most
Great.
[31] ﺃَﻟَﻢ ﺗَﺮَ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻔُﻠﻚَ ﺗَﺠﺮﻯ
ﻓِﻰ ﺍﻟﺒَﺤﺮِ ﺑِﻨِﻌﻤَﺖِ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻟِﻴُﺮِﻳَﻜُﻢ ﻣِﻦ ﺀﺍﻳٰﺘِﻪِ ۚ ﺇِﻥَّ ﻓﻰ
ﺫٰﻟِﻚَ ﻝَﺀﺍﻳٰﺖٍ ﻟِﻜُﻞِّ ﺻَﺒّﺎﺭٍ
ﺷَﻜﻮﺭٍ
[31] তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহর অনুগ্রহে
জাহাজ সমুদ্রে চলাচল করে, যাতে তিনি
তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী প্রদর্শন
করেন? নিশ্চয় এতে প্রত্যেক সহনশীল,
কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্যে নিদর্শন রয়েছে।
[31] See you not that the ships sail
through the sea by Allâh’s Grace that He
may show you of His Signs? Verily, in
this are signs for every patient, grateful
(person).
[32] ﻭَﺇِﺫﺍ ﻏَﺸِﻴَﻬُﻢ ﻣَﻮﺝٌ
ﻛَﺎﻟﻈُّﻠَﻞِ ﺩَﻋَﻮُﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣُﺨﻠِﺼﻴﻦَ
ﻟَﻪُ ﺍﻟﺪّﻳﻦَ ﻓَﻠَﻤّﺎ ﻧَﺠّﻯٰﻬُﻢ ﺇِﻟَﻰ
ﺍﻟﺒَﺮِّ ﻓَﻤِﻨﻬُﻢ ﻣُﻘﺘَﺼِﺪٌ ۚ ﻭَﻣﺎ
ﻳَﺠﺤَﺪُ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ﺇِﻟّﺎ ﻛُﻞُّ ﺧَﺘّﺎﺭٍ
ﻛَﻔﻮﺭٍ
[32] যখন তাদেরকে মেঘমালা সদৃশ তরংগ
আচ্ছাদিত করে নেয়, তখন তারা খাঁটি মনে
আল্লাহকে ডাকতে থাকে। অতঃপর তিনি যখন
তাদেরকে স্থলভাগের দিকে উদ্ধার করে
আনেন, তখন তাদের কেউ কেউ সরল
পথে চলে। কেবল মিথ্যাচারী, অকৃতজ্ঞ
ব্যক্তিই আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার
করে।
[32] And when a wave covers them like
shades (i.e. like clouds or the mountains
of sea¬water), they invoke Allâh, making
their invocations for Him only. But when
He brings them safe to land, there are
among them those that stop in between
(Belief and disbelief). But none denies
Our Signs except every perfidious
ingrate.
[33] ﻳٰﺄَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻨّﺎﺱُ ﺍﺗَّﻘﻮﺍ ﺭَﺑَّﻜُﻢ
ﻭَﺍﺧﺸَﻮﺍ ﻳَﻮﻣًﺎ ﻻ ﻳَﺠﺰﻯ ﻭﺍﻟِﺪٌ
ﻋَﻦ ﻭَﻟَﺪِﻩِ ﻭَﻻ ﻣَﻮﻟﻮﺩٌ ﻫُﻮَ ﺟﺎﺯٍ
ﻋَﻦ ﻭﺍﻟِﺪِﻩِ ﺷَﻴـًٔﺎ ۚ ﺇِﻥَّ ﻭَﻋﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺣَﻖٌّ ۖ ﻓَﻼ ﺗَﻐُﺮَّﻧَّﻜُﻢُ ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓُ
ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﻭَﻻ ﻳَﻐُﺮَّﻧَّﻜُﻢ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ
ﺍﻟﻐَﺮﻭﺭُ
[33] হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের
পালনকর্তাকে ভয় কর এবং ভয় কর এমন এক
দিবসকে, যখন পিতা পুত্রের কোন কাজে
আসবে না এবং পুত্রও তার পিতার কোন উপকার
করতে পারবে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহর
ওয়াদা সত্য। অতএব, পার্থিব জীবন যেন
তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয় এবং আল্লাহ
সম্পর্কে প্রতারক শয়তানও যেন
তোমাদেরকে প্রতারিত না করে।
[33] O mankind! Be afraid of your Lord
(by keeping your duty to Him and
avoiding all evil), and fear a Day when
no father can avail aught for his son, nor
a son avail aught for his father. Verily,
the Promise of Allâh is true, let not then
this (worldly) present life deceive you,
nor let the chief deceiver (Satan) deceive
you about Allâh.
[34] ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻋِﻨﺪَﻩُ ﻋِﻠﻢُ
ﺍﻟﺴّﺎﻋَﺔِ ﻭَﻳُﻨَﺰِّﻝُ ﺍﻟﻐَﻴﺚَ ﻭَﻳَﻌﻠَﻢُ
ﻣﺎ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺣﺎﻡِ ۖ ﻭَﻣﺎ ﺗَﺪﺭﻯ
ﻧَﻔﺲٌ ﻣﺎﺫﺍ ﺗَﻜﺴِﺐُ ﻏَﺪًﺍ ۖ ﻭَﻣﺎ
ﺗَﺪﺭﻯ ﻧَﻔﺲٌ ﺑِﺄَﻯِّ ﺃَﺭﺽٍ ﺗَﻤﻮﺕُ ۚ
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻋَﻠﻴﻢٌ ﺧَﺒﻴﺮٌ
[34] নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই কেয়ামতের
জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং
গর্ভাশয়ে যা থাকে, তিনি তা জানেন। কেউ
জানে না আগামীকল্য সে কি উপার্জন
করবে এবং কেউ জানে না কোন দেশে
সে মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ,
সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।
[34] Verily, Allâh! With Him (Alone) is
the knowledge of the Hour, He sends
down the rain, and knows that which is
in the wombs. No person knows what he
will earn tomorrow, and no person
knows in what land he will die. Verily,
Allâh is All¬Knower, All¬Aware (of
things).
Bangla translation of Quran. Developed
by Syed Mohammad Rasel
Surah Luqman Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. আলিফ-লাম-মীম। 2. এগুলো প্রজ্ঞাময় কিতাবের আয়াত। 3. হেদায়েত ও রহমত সৎকর্মপরায়ণদের জন্য। 4. যারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আখেরাত সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। 5. এসব লোকই তাদের পরওয়ারদেগারের তরফ থেকে আগত হেদায়েতের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং এরাই সফলকাম। 6. একশ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি। 7. যখন ওদের সামনে আমার আয়তসমূহ পাঠ করা হয়, তখন ওরা দম্ভের সাথে এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন ওরা তা শুনতেই পায়নি অথবা যেন ওদের দু’কান বধির। সুতরাং ওদেরকে কষ্টদায়ক আযাবের সংবাদ দাও। 8. যারা ঈমান আনে আর সৎকাজ করে তাদের জন্য রয়েছে নেয়ামতে ভরা জান্নাত। 9. সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহর ওয়াদা যথার্থ। তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। 10. তিনি খুঁটি ব্যতীত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন; তোমরা তা দেখছ। তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্বপ্রকার জন্তু। আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি, অতঃপর তাতে উদগত করেছি সর্বপ্রকার কল্যাণকর উদ্ভিদরাজি। 11. এটা আল্লাহর সৃষ্টি; অতঃপর তিনি ব্যতীত অন্যেরা যা সৃষ্টি করেছে, তা আমাকে দেখাও। বরং জালেমরা সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় পতিত আছে। 12. আমি লোকমানকে প্রজ্ঞা দান করেছি এই মর্মে যে, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হও। যে কৃতজ্ঞ হয়, সে তো কেবল নিজ কল্যানের জন্যই কৃতজ্ঞ হয়। আর যে অকৃতজ্ঞ হয়, আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত। 13. যখন লোকমান উপদেশচ্ছলে তার পুত্রকে বললঃ হে বৎস, আল্লাহর সাথে শরীক করো না। নিশ্চয় আল্লাহর সাথে শরীক করা মহা অন্যায়। 14. আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দু বছরে হয়। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে। 15. পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরীক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহঅবস্থান করবে। যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জ্ঞাত করবো। 16. হে বৎস, কোন বস্তু যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় অতঃপর তা যদি থাকে প্রস্তর গর্ভে অথবা আকাশে অথবা ভূ-গর্ভে, তবে আল্লাহ তাও উপস্থিত করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ গোপন ভেদ জানেন, সবকিছুর খবর রাখেন। 17. হে বৎস, নামায কায়েম কর, সৎকাজে আদেশ দাও, মন্দকাজে নিষেধ কর এবং বিপদাপদে সবর কর। নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ। 18. অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না। 19. পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন কর এবং কন্ঠস্বর নীচু কর। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর। 20. তোমরা কি দেখ না আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূ- মন্ডলে যাকিছু আছে, সবই তোমাদের কাজে নিয়োজিত করে দিয়েছেন এবং তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ন করে দিয়েছেন? এমন লোক ও আছে; যারা জ্ঞান, পথনির্দেশ ও উজ্জল কিতাব ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বাকবিতন্ডা করে। 21. তাদেরকে যখন বলা হয়, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তোমরা তার অনুসরণ কর, তখন তারা বলে, বরং আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে বিষয়ের উপর পেয়েছি, তারই অনুসরণ করব। শয়তান যদি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে দাওয়াত দেয়, তবুও কি? 22. যে ব্যক্তি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে স্বীয় মুখমন্ডলকে আল্লাহ অভিমূখী করে, সে এক মজবুত হাতল ধারণ করে, সকল কর্মের পরিণাম আল্লাহর দিকে। 23. যে ব্যক্তি কুফরী করে তার কুফরী যেন আপনাকে চিন্তিত না করে। আমারই দিকে তাদের প্রত্যাবর্তন, অতঃপর আমি তাদের কর্ম সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করব। অন্তরে যা কিছু রয়েছে, সে সম্পর্কে আল্লাহ সবিশেষ পরিজ্ঞাত। 24. আমি তাদেরকে স্বল্পকালের জন্যে ভোগবিলাস করতে দেব, অতঃপর তাদেরকে বাধ্য করব গুরুতর শাস্তি ভোগ করতে। 25. আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। বলুন, সকল প্রশংসাই আল্লাহর। বরং তাদের অধিকাংশই জ্ঞান রাখে না। 26. নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে যা কিছু রয়েছে সবই আল্লাহর। আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত। 27. পৃথিবীতে যত বৃক্ষ আছে, সবই যদি কলম হয় এবং সমুদ্রের সাথেও সাত সমুদ্র যুক্ত হয়ে কালি হয়, তবুও তাঁর বাক্যাবলী লিখে শেষ করা যাবে না। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। 28. তোমাদের সৃষ্টি ও পুনরুত্থান একটি মাত্র প্রাণীর সৃষ্টি ও পুনরুত্থানের সমান বৈ নয়। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন। 29. তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন? তিনি চন্দ্র ও সূর্যকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে। তুমি কি আরও দেখ না যে, তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন? 30. এটাই প্রমাণ যে, আল্লাহ- ই সত্য এবং আল্লাহ ব্যতীত তারা যাদের পূজা করে সব মিথ্যা। আল্লাহ সর্বোচ্চ, মহান। 31. তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহর অনুগ্রহে জাহাজ সমুদ্রে চলাচল করে, যাতে তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী প্রদর্শন করেন? নিশ্চয় এতে প্রত্যেক সহনশীল, কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্যে নিদর্শন রয়েছে। 32. যখন তাদেরকে মেঘমালা সদৃশ তরংগ আচ্ছাদিত করে নেয়, তখন তারা খাঁটি মনে আল্লাহকে ডাকতে থাকে। অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে স্থলভাগের দিকে উদ্ধার করে আনেন, তখন তাদের কেউ কেউ সরল পথে চলে। কেবল মিথ্যাচারী, অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিই আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করে। 33. হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর এবং ভয় কর এমন এক দিবসকে, যখন পিতা পুত্রের কোন কাজে আসবে না এবং পুত্রও তার পিতার কোন উপকার করতে পারবে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতএব, পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয় এবং আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারক শয়তানও যেন তোমাদেরকে প্রতারিত না করে। 34. নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই কেয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং গর্ভাশয়ে যা থাকে, তিনি তা জানেন। কেউ জানে না আগামীকল্য সে কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন দেশে সে মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত। *****

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s