40.সুরাহ গাফের/মু ‘মিন(1-85)


ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম
করুণাময়, অতি দয়ালু
[1] ﺣﻢ
[1] হা-মীম।
[1] Hâ-Mîm [These letters are one of the
miracles of the Qur’ân, and none but
Allâh (Alone) knows their meanings].
[2] ﺗَﻨﺰﻳﻞُ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰِ ﺍﻟﻌَﻠﻴﻢِ
[2] কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে আল্লাহর
পক্ষ থেকে, যিনি পরাক্রমশালী,
সর্বজ্ঞ।
[2] The revelation of the Book (this
Qur’ân) is from Allâh the All-Mighty, the
All-Knower.
[3] ﻏﺎﻓِﺮِ ﺍﻟﺬَّﻧﺐِ ﻭَﻗﺎﺑِﻞِ
ﺍﻟﺘَّﻮﺏِ ﺷَﺪﻳﺪِ ﺍﻟﻌِﻘﺎﺏِ ﺫِﻯ
ﺍﻟﻄَّﻮﻝِ ۖ ﻻ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻟّﺎ ﻫُﻮَ ۖ ﺇِﻟَﻴﻪِ
ﺍﻟﻤَﺼﻴﺮُ
[3] পাপ ক্ষমাকারী, তওবা কবুলকারী,
কঠোর শাস্তিদাতা ও সামর্থøবান।
তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তাঁরই
দিকে হবে প্রত্যাবর্তন।
[3] The Forgiver of sin, the Acceptor of
repentance, the Severe in punishment,
the Bestower (of favours), Lâ ilâha illa
Huwa (none has the right to be
worshipped but He), to Him is the final
return.
[4] ﻣﺎ ﻳُﺠٰﺪِﻝُ ﻓﻰ ﺀﺍﻳٰﺖِ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﻓَﻼ ﻳَﻐﺮُﺭﻙَ
ﺗَﻘَﻠُّﺒُﻬُﻢ ﻓِﻰ ﺍﻟﺒِﻠٰﺪِ
[4] কাফেররাই কেবল আল্লাহর আয়াত
সম্পর্কে বিতর্ক করে। কাজেই
নগরীসমূহে তাদের বিচরণ যেন
আপনাকে বিভ্রান্তিতে না ফেলে।
[4] None disputes in the Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) of Allâh but those who
disbelieve. So let not their ability of
going about here and there through the
land (for their purposes) deceive you [O
Muhammad SAW, for their ultimate end
will be the Fire of Hell]!
[5] ﻛَﺬَّﺑَﺖ ﻗَﺒﻠَﻬُﻢ ﻗَﻮﻡُ ﻧﻮﺡٍ
ﻭَﺍﻷَﺣﺰﺍﺏُ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِﻫِﻢ ۖ
ﻭَﻫَﻤَّﺖ ﻛُﻞُّ ﺃُﻣَّﺔٍ ﺑِﺮَﺳﻮﻟِﻬِﻢ
ﻟِﻴَﺄﺧُﺬﻭﻩُ ۖ ﻭَﺟٰﺪَﻟﻮﺍ ﺑِﺎﻟﺒٰﻄِﻞِ
ﻟِﻴُﺪﺣِﻀﻮﺍ ﺑِﻪِ ﺍﻟﺤَﻖَّ
ﻓَﺄَﺧَﺬﺗُﻬُﻢ ۖ ﻓَﻜَﻴﻒَ ﻛﺎﻥَ ﻋِﻘﺎﺏِ
[5] তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়
মিথ্যারোপ করেছিল, আর তাদের পরে
অন্য অনেক দল ও প্রত্যেক সম্প্রদায়
নিজ নিজ পয়গম্বরকে আক্রমণ করার
ইচ্ছা করেছিল এবং তারা মিথ্যা
বিতর্কে প্রবৃত্ত হয়েছিল, যেন
সত্যধর্মকে ব্যর্থ করে দিতে পারে।
অতঃপর আমি তাদেরকে পাকড়াও
করলাম। কেমন ছিল আমার শাস্তি।
[5] The people of Nûh (Noah) and the
confederates after them denied (their
Messengers) before these, and every
(disbelieving) nation plotted against
their Messenger to seize him, and
disputed by means of falsehood to refute
therewith the truth. So I seized them
(with punishment), and how (terrible)
was My punishment!
[6] ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﺣَﻘَّﺖ ﻛَﻠِﻤَﺖُ ﺭَﺑِّﻚَ
ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﺃَﻧَّﻬُﻢ
ﺃَﺻﺤٰﺐُ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ
[6] এভাবে কাফেরদের বেলায় আপনার
পালনকর্তার এ বাক্য সত্য হল যে, তারা
জাহান্নামী।
[6] Thus has the Word of your Lord been
justified against those who disbelieved,
that they will be the dwellers of the Fire
[7] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳَﺤﻤِﻠﻮﻥَ ﺍﻟﻌَﺮﺵَ
ﻭَﻣَﻦ ﺣَﻮﻟَﻪُ ﻳُﺴَﺒِّﺤﻮﻥَ ﺑِﺤَﻤﺪِ
ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﻭَﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ ﺑِﻪِ
ﻭَﻳَﺴﺘَﻐﻔِﺮﻭﻥَ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ
ﺭَﺑَّﻨﺎ ﻭَﺳِﻌﺖَ ﻛُﻞَّ ﺷَﻲﺀٍ
ﺭَﺣﻤَﺔً ﻭَﻋِﻠﻤًﺎ ﻓَﺎﻏﻔِﺮ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ
ﺗﺎﺑﻮﺍ ﻭَﺍﺗَّﺒَﻌﻮﺍ ﺳَﺒﻴﻠَﻚَ ﻭَﻗِﻬِﻢ
ﻋَﺬﺍﺏَ ﺍﻟﺠَﺤﻴﻢِ
[7] যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার
চারপাশে আছে, তারা তাদের
পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা
করে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে
এবং মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা
করে বলে, হে আমাদের পালনকর্তা,
আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে
পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে
এবং আপনার পথে চলে, তাদেরকে
ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আযাব
থেকে রক্ষা করুন।
[7] Those (angels) who bear the Throne
(of Allâh) and those around it glorify the
praises of their Lord, and believe in
Him, and ask forgiveness for those who
believe (in the Oneness of Allâh)
(saying): “Our Lord! You comprehend all
things in mercy and knowledge, so
forgive those who repent and follow
Your Way, and save them from the
torment of the blazing Fire!
[8] ﺭَﺑَّﻨﺎ ﻭَﺃَﺩﺧِﻠﻬُﻢ ﺟَﻨّٰﺖِ ﻋَﺪﻥٍ
ﺍﻟَّﺘﻰ ﻭَﻋَﺪﺗَﻬُﻢ ﻭَﻣَﻦ ﺻَﻠَﺢَ
ﻣِﻦ ﺀﺍﺑﺎﺋِﻬِﻢ ﻭَﺃَﺯﻭٰﺟِﻬِﻢ
ﻭَﺫُﺭِّﻳّٰﺘِﻬِﻢ ۚ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧﺖَ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ
ﺍﻟﺤَﻜﻴﻢُ
[8] হে আমাদের পালনকর্তা, আর
তাদেরকে দাখিল করুন চিরকাল
বসবাসের জান্নাতে, যার ওয়াদা
আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং
তাদের বাপ-দাদা, পতি-পত্নী ও
সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করে
তাদেরকে। নিশ্চয় আপনি
পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
[8] “Our Lord! And make them enter the
‘Adn (Eden) Paradise (everlasting
Gardens) which you have promised
them, — and to the righteous among
their fathers, their wives, and their
offspring! Verily, You are the All-Mighty,
the All-Wise.
[9] ﻭَﻗِﻬِﻢُ ﺍﻟﺴَّﻴِّـٔﺎﺕِ ۚ ﻭَﻣَﻦ ﺗَﻖِ
ﺍﻟﺴَّﻴِّـٔﺎﺕِ ﻳَﻮﻣَﺌِﺬٍ ﻓَﻘَﺪ ﺭَﺣِﻤﺘَﻪُ ۚ
ﻭَﺫٰﻟِﻚَ ﻫُﻮَ ﺍﻟﻔَﻮﺯُ ﺍﻟﻌَﻈﻴﻢُ
[9] এবং আপনি তাদেরকে অমঙ্গল
থেকে রক্ষা করুন। আপনি যাকে সেদিন
অমঙ্গল থেকে রক্ষা করবেন, তার প্রতি
অনুগ্রহই করবেন। এটাই মহাসাফল্য।
[9] “And save them from (the
punishment, for what they did of) the
sins, and whomsoever You save from
(the punishment for what he did of) the
sins (i.e. pardon him) that Day, him
verily, You have taken into mercy.” And
that is the supreme success.
[10] ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﻳُﻨﺎﺩَﻭﻥَ
ﻟَﻤَﻘﺖُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻛﺒَﺮُ ﻣِﻦ ﻣَﻘﺘِﻜُﻢ
ﺃَﻧﻔُﺴَﻜُﻢ ﺇِﺫ ﺗُﺪﻋَﻮﻥَ ﺇِﻟَﻰ
ﺍﻹﻳﻤٰﻦِ ﻓَﺘَﻜﻔُﺮﻭﻥَ
[10] যারা কাফের তাদেরকে
উচ্চঃস্বরে বলা হবে, তোমাদের
নিজেদের প্রতি তোমাদের আজকের
এ ক্ষোভ অপেক্ষা আল্লার ক্ষোভ
অধিক ছিল, যখন তোমাদেরকে ঈমান
আনতে বলা হয়েছিল, অতঃপর তোমরা
কুফরী করছিল।
[10] Those who disbelieve will be
addressed (at the time of entering the
Fire): “Allâh’s aversion was greater
towards you (in the worldly life when
you used to reject the Faith) than your
aversion towards one another (now in
the Fire of Hell, as you are now enemies
to one another), when you were called to
the Faith but you used to refuse.”
[11] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺭَﺑَّﻨﺎ ﺃَﻣَﺘَّﻨَﺎ ﺍﺛﻨَﺘَﻴﻦِ
ﻭَﺃَﺣﻴَﻴﺘَﻨَﺎ ﺍﺛﻨَﺘَﻴﻦِ ﻓَﺎﻋﺘَﺮَﻓﻨﺎ
ﺑِﺬُﻧﻮﺑِﻨﺎ ﻓَﻬَﻞ ﺇِﻟﻰٰ ﺧُﺮﻭﺝٍ ﻣِﻦ
ﺳَﺒﻴﻞٍ
[11] তারা বলবে হে আমাদের
পালনকর্তা! আপনি আমাদেরকে দু’বার
মৃত্যু দিয়েছেন এবং দু’ বার জীবন
দিয়েছেন। এখন আমাদের অপরাধ
স্বীকার করছি। অতঃপর এখন ও
নিস্কৃতির কোন উপায় আছে কি?
[11] They will say: “Our Lord! You have
made us to die twice (i.e. we were dead
in the loins of our fathers and dead after
our life in this world), and You have
given us life twice (i.e. life when we
were born and life when we are
Resurrected)! Now we confess our sins,
then is there any way to get out (of the
Fire)?” (Tafsir Al-Qurtubi)
[12] ﺫٰﻟِﻜُﻢ ﺑِﺄَﻧَّﻪُ ﺇِﺫﺍ ﺩُﻋِﻰَ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﻭَﺣﺪَﻩُ ﻛَﻔَﺮﺗُﻢ ۖ ﻭَﺇِﻥ ﻳُﺸﺮَﻙ ﺑِﻪِ
ﺗُﺆﻣِﻨﻮﺍ ۚ ﻓَﺎﻟﺤُﻜﻢُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺍﻟﻌَﻠِﻰِّ
ﺍﻟﻜَﺒﻴﺮِ
[12] তোমাদের এ বিপদ এ কারণে যে,
যখন এক আল্লাহকে ডাকা হত, তখন
তোমরা কাফের হয়ে যেতে যখন তার
সাথে শরীককে ডাকা হত তখন তোমরা
বিশ্বাস স্থাপন করতে। এখন আদেশ
তাই, যা আল্লাহ করবেন, যিনি
সর্বোচ্চ, মহান।
[12] (It will be said): “This is because,
when Allâh Alone was invoked (in
worship) you disbelieved, but when
partners were joined to Him, you
believed (deneid)! So the judgement is
only with Allâh, the Most High, the Most
Great!”
[13] ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻳُﺮﻳﻜُﻢ ﺀﺍﻳٰﺘِﻪِ
ﻭَﻳُﻨَﺰِّﻝُ ﻟَﻜُﻢ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﺭِﺯﻗًﺎ ۚ
ﻭَﻣﺎ ﻳَﺘَﺬَﻛَّﺮُ ﺇِﻟّﺎ ﻣَﻦ ﻳُﻨﻴﺐُ
[13] তিনিই তোমাদেরকে তাঁর
নিদর্শনাবলী দেখান এবং তোমাদের
জন্যে আকাশ থেকে নাযিল করেন রুযী।
চিন্তা-ভাবনা তারাই করে, যারা
আল্লাহর দিকে রুজু থাকে।
[13] It is He, Who shows you His Ayât
(proofs, evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) and sends down (rain
with which grows) provision for you
from the sky. And none remembers but
those who turn (to Allâh in obedience
and) in repentance (by begging His
Pardon and by worshipping and obeying
Him Alone and none else).
[14] ﻓَﺎﺩﻋُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣُﺨﻠِﺼﻴﻦَ ﻟَﻪُ
ﺍﻟﺪّﻳﻦَ ﻭَﻟَﻮ ﻛَﺮِﻩَ ﺍﻟﻜٰﻔِﺮﻭﻥَ
[14] অতএব, তোমরা আল্লাহকে খাঁটি
বিশ্বাস সহকারে ডাক, যদিও
কাফেররা তা অপছন্দ করে।
[14] So, call you (O Muhammad SAW and
the believers) upon (or invoke) Allâh
making (your) worship pure for Him
(Alone) (by worshipping none but Him
and by doing religious deeds sincerely
for Allâh’s sake only and not to show off
and not to set up rivals with Him in
worship). however much the disbelievers
(in the Oneness of Allâh) may hate (it).
[15] ﺭَﻓﻴﻊُ ﺍﻟﺪَّﺭَﺟٰﺖِ ﺫُﻭ
ﺍﻟﻌَﺮﺵِ ﻳُﻠﻘِﻰ ﺍﻟﺮّﻭﺡَ ﻣِﻦ
ﺃَﻣﺮِﻩِ ﻋَﻠﻰٰ ﻣَﻦ ﻳَﺸﺎﺀُ ﻣِﻦ
ﻋِﺒﺎﺩِﻩِ ﻟِﻴُﻨﺬِﺭَ ﻳَﻮﻡَ ﺍﻟﺘَّﻼﻕِ
[15] তিনিই সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী,
আরশের মালিক, তাঁর বান্দাদের মধ্যে
যার প্রতি ইচ্ছা তত্ত্বপূর্ণ বিষয়াদি
নাযিল করেন, যাতে সে সাক্ষাতের
দিন সম্পর্কে সকলকে সতর্ক করে।
[15] (He is Allâh) Owner of High Ranks
and Degrees, the Owner of the Throne.
He sends the revelation by His Command
to any of His slaves He wills, that he (the
person who receives revelation) may
warn (men) of the Day of Mutual
Meeting (i.e. The Day of Resurrection).
[16] ﻳَﻮﻡَ ﻫُﻢ ﺑٰﺮِﺯﻭﻥَ ۖ ﻻ
ﻳَﺨﻔﻰٰ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣِﻨﻬُﻢ
ﺷَﻲﺀٌ ۚ ﻟِﻤَﻦِ ﺍﻟﻤُﻠﻚُ ﺍﻟﻴَﻮﻡَ ۖ ﻟِﻠَّﻪِ
ﺍﻟﻮٰﺣِﺪِ ﺍﻟﻘَﻬّﺎﺭِ
[16] যেদিন তারা বের হয়ে পড়বে,
আল্লাহর কাছে তাদের কিছুই গোপন
থাকবে না। আজ রাজত্ব কার? এক প্রবল
পরাক্রান্ত আল্লাহর।
[16] The Day when they will (all) come
out, nothing of them will be hidden from
Allâh. Whose is the kingdom this Day?
(Allâh Himself will reply to His
Question): It is Allâh’s the One, the
Irresistible!
[17] ﺍﻟﻴَﻮﻡَ ﺗُﺠﺰﻯٰ ﻛُﻞُّ ﻧَﻔﺲٍ
ﺑِﻤﺎ ﻛَﺴَﺒَﺖ ۚ ﻻ ﻇُﻠﻢَ ﺍﻟﻴَﻮﻡَ ۚ
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺳَﺮﻳﻊُ ﺍﻟﺤِﺴﺎﺏِ
[17] আজ প্রত্যেকেই তার কৃতকর্মের
প্রতিদান পাবে। আজ যুলুম নেই। নিশ্চয়
আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
[17] This Day shall every person be
recompensed for what he earned. This
day no injustice (shall be done to
anybody). Truly, Allâh is Swift in
reckoning.
[18] ﻭَﺃَﻧﺬِﺭﻫُﻢ ﻳَﻮﻡَ ﺍﻝﺀﺍﺯِﻓَﺔِ
ﺇِﺫِ ﺍﻟﻘُﻠﻮﺏُ ﻟَﺪَﻯ ﺍﻟﺤَﻨﺎﺟِﺮِ
ﻛٰﻈِﻤﻴﻦَ ۚ ﻣﺎ ﻟِﻠﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ ﻣِﻦ
ﺣَﻤﻴﻢٍ ﻭَﻻ ﺷَﻔﻴﻊٍ ﻳُﻄﺎﻉُ
[18] আপনি তাদেরকে আসন্ন দিন
সম্পর্কে সতর্ক করুন, যখন প্রাণ কন্ঠাগত
হবে, দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে।
পাপিষ্ঠদের জন্যে কোন বন্ধু নেই
এবং সুপারিশকারীও নেই; যার
সুপারিশ গ্রাহ্য হবে।
[18] And warn them (O Muhammad
SAW) of the Day that is drawing near
(i.e. the Day of Resurrection), when the
hearts will be choking the throats, and
they can neither return them (hearts) to
their chests nor can they throw them out.
There will be no friend, nor an
intercessor for the Zâlimûn (polytheists
and wrong-doers), who could be given
heed to.
[19] ﻳَﻌﻠَﻢُ ﺧﺎﺋِﻨَﺔَ ﺍﻷَﻋﻴُﻦِ ﻭَﻣﺎ
ﺗُﺨﻔِﻰ ﺍﻟﺼُّﺪﻭﺭُ
[19] চোখের চুরি এবং অন্তরের গোপন
বিষয় তিনি জানেন।
[19] Allâh knows the fraud of the eyes,
and all that the breasts conceal.
[20] ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳَﻘﻀﻰ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ۖ
ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳَﺪﻋﻮﻥَ ﻣِﻦ ﺩﻭﻧِﻪِ ﻻ
ﻳَﻘﻀﻮﻥَ ﺑِﺸَﻲﺀٍ ۗ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻫُﻮَ
ﺍﻟﺴَّﻤﻴﻊُ ﺍﻟﺒَﺼﻴﺮُ
[20] আল্লাহ ফয়সালা করেন
সঠিকভাবে, আল্লাহর পরিবর্তে তারা
যাদেরকে ডাকে, তারা কিছুই ফয়সালা
করে না। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু শুনেন,
সবকিছু দেখেন।
[20] And Allâh judges with truth, while
those to whom they invoke besides Him,
cannot judge anything. Certainly, Allâh!
He is the All-Hearer, the All-Seer.
[21] ۞ ﺃَﻭَﻟَﻢ ﻳَﺴﻴﺮﻭﺍ ﻓِﻰ
ﺍﻷَﺭﺽِ ﻓَﻴَﻨﻈُﺮﻭﺍ ﻛَﻴﻒَ ﻛﺎﻥَ
ﻋٰﻘِﺒَﺔُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻠِﻬِﻢ ۚ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻫُﻢ ﺃَﺷَﺪَّ ﻣِﻨﻬُﻢ ﻗُﻮَّﺓً
ﻭَﺀﺍﺛﺎﺭًﺍ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﻓَﺄَﺧَﺬَﻫُﻢُ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﺬُﻧﻮﺑِﻬِﻢ ﻭَﻣﺎ ﻛﺎﻥَ ﻟَﻬُﻢ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣِﻦ ﻭﺍﻕٍ
[21] তারা কি দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করে
না, যাতে দেখত তাদের পূর্বসুরিদের
কি পরিণাম হয়েছে? তাদের শক্তি ও
কীর্তি পৃথিবীতে এদের অপেক্ষা
অধিকতর ছিল। অতঃপর আল্লাহ
তাদেরকে তাদের গোনাহের কারণে
ধৃত করেছিলেন এবং আল্লাহ থেকে
তাদেরকে রক্ষাকারী কেউ হয়নি।
[21] Have they not travelled in the land
and seen what was the end of those who
were before them? They were superior
to them in strength, and in the traces
(which they left) in the land. But Allâh
seized them with punishment for their
sins. And none had they to protect them
from Allâh.
[22] ﺫٰﻟِﻚَ ﺑِﺄَﻧَّﻬُﻢ ﻛﺎﻧَﺖ ﺗَﺄﺗﻴﻬِﻢ
ﺭُﺳُﻠُﻬُﻢ ﺑِﺎﻟﺒَﻴِّﻨٰﺖِ ﻓَﻜَﻔَﺮﻭﺍ
ﻓَﺄَﺧَﺬَﻫُﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﻗَﻮِﻯٌّ
ﺷَﺪﻳﺪُ ﺍﻟﻌِﻘﺎﺏِ
[22] এর কারণ এই যে, তাদের কাছে
তাদের রসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী
নিয়ে আগমন করত, অতঃপর তারা
কাফের হয়ে যায়, তখন আল্লাহ তাদের
ধৃত করেন। নিশ্চয় তিনি শক্তিধর,
কঠোর শাস্তিদাতা।
[22] That was because there came to
them their Messengers with clear
evidences, (proofs and signs) but they
disbelieved (in them). So Allâh seized
them (with punishment). Verily, He is
All-Strong, Severe in punishment.
[23] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﻣﻮﺳﻰٰ
ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ﻭَﺳُﻠﻄٰﻦٍ ﻣُﺒﻴﻦٍ
[23] আমি আমার নিদর্শনাবলী ও স্পষ্ট
প্রমাণসহ মূসাকে প্রেরণ করেছি।
[23] And indeed We sent Mûsa (Moses)
with Our Ayât (proofs, evidences, verses,
lessons, signs, revelations, etc.), and a
manifest authority,
[24] ﺇِﻟﻰٰ ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ ﻭَﻫٰﻤٰﻦَ
ﻭَﻗٰﺮﻭﻥَ ﻓَﻘﺎﻟﻮﺍ ﺳٰﺤِﺮٌ ﻛَﺬّﺍﺏٌ
[24] ফেরাউন, হামান ও কারুণের কাছে,
অতঃপর তারা বলল, সে তো জাদুকর,
মিথ্যাবাদী।
[24] To Fir’aun (Pharaoh), Hâmân and
Qârûn (Korah), but they called (him): “A
sorcerer, a liar!”
[25] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَﻫُﻢ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ﻣِﻦ
ﻋِﻨﺪِﻧﺎ ﻗﺎﻟُﻮﺍ ﺍﻗﺘُﻠﻮﺍ ﺃَﺑﻨﺎﺀَ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻣَﻌَﻪُ
ﻭَﺍﺳﺘَﺤﻴﻮﺍ ﻧِﺴﺎﺀَﻫُﻢ ۚ ﻭَﻣﺎ
ﻛَﻴﺪُ ﺍﻟﻜٰﻔِﺮﻳﻦَ ﺇِﻟّﺎ ﻓﻰ ﺿَﻠٰﻞٍ
[25] অতঃপর মূসা যখন আমার কাছ
থেকে সত্যসহ তাদের কাছে পৌঁছাল;
তখন তারা বলল, যারা তার সঙ্গী হয়ে
বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তাদের পুত্র
সন্তানদেরকে হত্যা কর, আর তাদের
নারীদেরকে জীবিত রাখ। কাফেরদের
চক্রান্ত ব্যর্থই হয়েছে।
[25] Then, when he brought them the
Truth from Us, they said: “Kill the sons
of those who believe with him and let
their women live”, but the plots of
disbelievers are nothing but in vain!
[26] ﻭَﻗﺎﻝَ ﻓِﺮﻋَﻮﻥُ ﺫَﺭﻭﻧﻰ
ﺃَﻗﺘُﻞ ﻣﻮﺳﻰٰ ﻭَﻟﻴَﺪﻉُ ﺭَﺑَّﻪُ ۖ
ﺇِﻧّﻰ ﺃَﺧﺎﻑُ ﺃَﻥ ﻳُﺒَﺪِّﻝَ ﺩﻳﻨَﻜُﻢ
ﺃَﻭ ﺃَﻥ ﻳُﻈﻬِﺮَ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﺍﻟﻔَﺴﺎﺩَ
[26] ফেরাউন বলল; তোমরা আমাকে
ছাড়, মূসাকে হত্যা করতে দাও, ডাকুক
সে তার পালনকর্তাকে! আমি আশংকা
করি যে, সে তোমাদের ধর্ম পরিবর্তন
করে দেবে অথবা সে দেশময় বিপর্যয়
সৃষ্টি করবে।
[26] Fir’aun (Pharaoh) said: “Leave me to
kill Mûsa (Moses), and let him call his
Lord (to stop me from killing him)! I fear
that he may change your religion, or that
he may cause mischief to appear in the
land!”
[27] ﻭَﻗﺎﻝَ ﻣﻮﺳﻰٰ ﺇِﻧّﻰ ﻋُﺬﺕُ
ﺑِﺮَﺑّﻰ ﻭَﺭَﺑِّﻜُﻢ ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﻣُﺘَﻜَﺒِّﺮٍ
ﻻ ﻳُﺆﻣِﻦُ ﺑِﻴَﻮﻡِ ﺍﻟﺤِﺴﺎﺏِ
[27] মূসা বলল, যারা হিসাব দিবসে
বিশ্বাস করে না এমন প্রত্যেক
অহংকারী থেকে আমি আমার ও
তোমাদের পালনকর্তার আশ্রয় নিয়ে
নিয়েছি।
[27] Mûsa (Moses) said: “Verily, I seek
refuge in my Lord and your Lord from
every arrogant who believes not in the
Day of Reckoning!”
[28] ﻭَﻗﺎﻝَ ﺭَﺟُﻞٌ ﻣُﺆﻣِﻦٌ ﻣِﻦ
ﺀﺍﻝِ ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ ﻳَﻜﺘُﻢُ ﺇﻳﻤٰﻨَﻪُ
ﺃَﺗَﻘﺘُﻠﻮﻥَ ﺭَﺟُﻠًﺎ ﺃَﻥ ﻳَﻘﻮﻝَ ﺭَﺑِّﻰَ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻗَﺪ ﺟﺎﺀَﻛُﻢ ﺑِﺎﻟﺒَﻴِّﻨٰﺖِ
ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻜُﻢ ۖ ﻭَﺇِﻥ ﻳَﻚُ ﻛٰﺬِﺑًﺎ
ﻓَﻌَﻠَﻴﻪِ ﻛَﺬِﺑُﻪُ ۖ ﻭَﺇِﻥ ﻳَﻚُ ﺻﺎﺩِﻗًﺎ
ﻳُﺼِﺒﻜُﻢ ﺑَﻌﺾُ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻳَﻌِﺪُﻛُﻢ ۖ
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻻ ﻳَﻬﺪﻯ ﻣَﻦ ﻫُﻮَ
ﻣُﺴﺮِﻑٌ ﻛَﺬّﺍﺏٌ
[28] ফেরাউন গোত্রের এক মুমিন
ব্যক্তি, যে তার ঈমান গোপন রাখত,
সে বলল, তোমরা কি একজনকে এজন্যে
হত্যা করবে যে, সে বলে, আমার
পালনকর্তা আল্লাহ, অথচ সে
তোমাদের পালনকর্তার নিকট থেকে
স্পষ্ট প্রমাণসহ তোমাদের নিকট আগমন
করেছে? যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে
তার মিথ্যাবাদিতা তার উপরই চাপবে,
আর যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে সে যে
শাস্তির কথা বলছে, তার কিছু না কিছু
তোমাদের উপর পড়বেই। নিশ্চয়
আল্লাহ সীমালংঘনকারী,
মিথ্যাবাদীকে পথ প্রদর্শন করেন না।
[28] And a believing man of Fir’aun’s
(Pharaoh) family, who hid his faith said:
“Would you kill a man because he says:
My Lord is Allâh, and he has come to
you with clear signs (proofs) from your
Lord? And if he is a liar, upon him will
be (the sin of) his lie; but if he is telling
the truth, then some of that (calamity)
wherewith he threatens you will befall
on you.” Verily, Allâh guides not one who
is a Musrif (a polytheist, or a murderer
who shed blood without a right, or those
who commit great sins, oppressor,
transgressor), a liar!
[29] ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﻟَﻜُﻢُ ﺍﻟﻤُﻠﻚُ ﺍﻟﻴَﻮﻡَ
ﻇٰﻬِﺮﻳﻦَ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﻓَﻤَﻦ
ﻳَﻨﺼُﺮُﻧﺎ ﻣِﻦ ﺑَﺄﺱِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻥ
ﺟﺎﺀَﻧﺎ ۚ ﻗﺎﻝَ ﻓِﺮﻋَﻮﻥُ ﻣﺎ
ﺃُﺭﻳﻜُﻢ ﺇِﻟّﺎ ﻣﺎ ﺃَﺭﻯٰ ﻭَﻣﺎ
ﺃَﻫﺪﻳﻜُﻢ ﺇِﻟّﺎ ﺳَﺒﻴﻞَ ﺍﻟﺮَّﺷﺎﺩِ
[29] হে আমার কওম, আজ এদেশে
তোমাদেরই রাজত্ব, দেশময় তোমরাই
বিচরণ করছ; কিন্তু আমাদের আল্লাহর
শাস্তি এসে গেলে কে আমাদেরকে
সাহায্য করবে? ফেরাউন বলল, আমি যা
বুঝি, তোমাদেরকে তাই বোঝাই, আর
আমি তোমাদেরকে মঙ্গলের পথই
দেখাই।
[29] “O my people! Yours is the kingdom
today, you being dominant in the land.
But who will save us from the Torment of
Allâh, should it befall us?” Fir’aun
(Pharaoh) said: “I show you only that
which I see (correct), and I guide you
only to the path of right policy!”
[30] ﻭَﻗﺎﻝَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺀﺍﻣَﻦَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ
ﺇِﻧّﻰ ﺃَﺧﺎﻑُ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﻣِﺜﻞَ ﻳَﻮﻡِ
ﺍﻷَﺣﺰﺍﺏِ
[30] সে মুমিন ব্যক্তি বললঃ হে আমার
কওম, আমি তোমাদের জন্যে পূর্ববর্তী
সম্প্রদায়সমূহের মতই বিপদসঙ্কুল দিনের
আশংকা করি।
[30] And he who believed said: “O my
people! Verily, I fear for you a fate like
that day (of disaster) of the Confederates
(of old)!
[31] ﻣِﺜﻞَ ﺩَﺃﺏِ ﻗَﻮﻡِ ﻧﻮﺡٍ
ﻭَﻋﺎﺩٍ ﻭَﺛَﻤﻮﺩَ ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻣِﻦ
ﺑَﻌﺪِﻫِﻢ ۚ ﻭَﻣَﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳُﺮﻳﺪُ ﻇُﻠﻤًﺎ
ﻟِﻠﻌِﺒﺎﺩِ
[31] যেমন, কওমে নূহ, আদ, সামুদ ও
তাদের পরবর্তীদের অবস্থা হয়েছিল।
আল্লাহ বান্দাদের প্রতি কোন যুলুম
করার ইচ্ছা করেন না।
[31] “Like the fate of the people of Nûh
(Noah), and ‘Ad, and Thamûd and those
who came after them. And Allâh wills no
injustice for (His) slaves.
[32] ﻭَﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺇِﻧّﻰ ﺃَﺧﺎﻑُ
ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﻳَﻮﻡَ ﺍﻟﺘَّﻨﺎﺩِ
[32] হে আমার কওম, আমি তোমাদের
জন্যে প্রচন্ড হাঁক-ডাকের দিনের
আশংকা করি।
[32] “And, O my people! Verily! I fear for
you the Day when there will be mutual
calling (between the people of Hell and
of Paradise).”
[33] ﻳَﻮﻡَ ﺗُﻮَﻟّﻮﻥَ ﻣُﺪﺑِﺮﻳﻦَ ﻣﺎ
ﻟَﻜُﻢ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣِﻦ ﻋﺎﺻِﻢٍ ۗ
ﻭَﻣَﻦ ﻳُﻀﻠِﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻓَﻤﺎ ﻟَﻪُ ﻣِﻦ
ﻫﺎﺩٍ
[33] যেদিন তোমরা পেছনে ফিরে
পলায়ন করবে; কিন্তু আল্লাহ থেকে
তোমাদেরকে রক্ষাকারী কেউ
থাকবে না। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট
করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই।
[33] A Day when you will turn your
backs and flee having no protector from
Allâh, And whomsoever Allâh sends
astray, for him there is no guide.
[34] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺟﺎﺀَﻛُﻢ ﻳﻮﺳُﻒُ ﻣِﻦ
ﻗَﺒﻞُ ﺑِﺎﻟﺒَﻴِّﻨٰﺖِ ﻓَﻤﺎ ﺯِﻟﺘُﻢ ﻓﻰ
ﺷَﻚٍّ ﻣِﻤّﺎ ﺟﺎﺀَﻛُﻢ ﺑِﻪِ ۖ ﺣَﺘّﻰٰ
ﺇِﺫﺍ ﻫَﻠَﻚَ ﻗُﻠﺘُﻢ ﻟَﻦ ﻳَﺒﻌَﺚَ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِﻩِ ﺭَﺳﻮﻟًﺎ ۚ ﻛَﺬٰﻟِﻚَ
ﻳُﻀِﻞُّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣَﻦ ﻫُﻮَ ﻣُﺴﺮِﻑٌ
ﻣُﺮﺗﺎﺏٌ
[34] ইতিপূর্বে তোমাদের কাছে ইউসুফ
সুস্পষ্ট প্রামাণাদিসহ আগমন করেছিল,
অতঃপর তোমরা তার আনীত বিষয়ে
সন্দেহই পোষণ করতে। অবশেষে যখন
সে মারা গেল, তখন তোমরা বলতে শুরু
করলে, আল্লাহ ইউসুফের পরে আর
কাউকে রসূলরূপে পাঠাবেন না।
এমনিভাবে আল্লাহ সীমালংঘনকারী,
সংশয়ী ব্যক্তিকে পথভ্রষ্ট করেন।
[34] And indeed Yûsuf (Joseph) did come
to you, in times gone by, with clear signs,
but you ceased not to doubt in that
which he did bring to you, till when he
died you said: “No Messenger will Allâh
send after him.” Thus Allâh leaves astray
him who is a Musrif (a polytheist, an
oppressor, a criminal, sinner who
commit great sins) and a Murtâb (one
who doubts Allâh’s Warning and His
Oneness).
[35] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳُﺠٰﺪِﻟﻮﻥَ ﻓﻰ
ﺀﺍﻳٰﺖِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑِﻐَﻴﺮِ ﺳُﻠﻄٰﻦٍ
ﺃَﺗﻯٰﻬُﻢ ۖ ﻛَﺒُﺮَ ﻣَﻘﺘًﺎ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻭَﻋِﻨﺪَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ۚ ﻛَﺬٰﻟِﻚَ
ﻳَﻄﺒَﻊُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠﻰٰ ﻛُﻞِّ ﻗَﻠﺐِ
ﻣُﺘَﻜَﺒِّﺮٍ ﺟَﺒّﺎﺭٍ
[35] যারা নিজেদের কাছে আগত
কোন দলীল ছাড়াই আল্লাহর আয়াত
সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের একজন
আল্লাহ ও মুমিনদের কাছে খুবই
অসন্তোষজনক। এমনিভাবে আল্লাহ
প্রত্যেক অহংকারী-স্বৈরাচারী
ব্যক্তির অন্তরে মোহর এঁটে দেন।
[35] Those who dispute about the Ayât
(proofs, evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) of Allâh, without any
authority that has come to them, it is
greatly hateful and disgusting to Allâh
and to those who believe. Thus does
Allâh seal up the heart of every arrogant,
tyrant. (So they cannot guide themselves
to the Right Path).
[36] ﻭَﻗﺎﻝَ ﻓِﺮﻋَﻮﻥُ ﻳٰﻬٰﻤٰﻦُ ﺍﺑﻦِ
ﻟﻰ ﺻَﺮﺣًﺎ ﻟَﻌَﻠّﻰ ﺃَﺑﻠُﻎُ
ﺍﻷَﺳﺒٰﺐَ
[36] ফেরাউন বলল, হে হামান, তুমি
আমার জন্যে একটি সুউচ্চ প্রাসাদ
নির্মাণ কর, হয়তো আমি পৌঁছে যেতে
পারব।
[36] And Fir’aun (Pharaoh) said: “O
Hâmân! Build me a tower that I may
arrive at the ways,—
[37] ﺃَﺳﺒٰﺐَ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻓَﺄَﻃَّﻠِﻊَ
ﺇِﻟﻰٰ ﺇِﻟٰﻪِ ﻣﻮﺳﻰٰ ﻭَﺇِﻧّﻰ ﻟَﺄَﻇُﻨُّﻪُ
ﻛٰﺬِﺑًﺎ ۚ ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﺯُﻳِّﻦَ ﻟِﻔِﺮﻋَﻮﻥَ
ﺳﻮﺀُ ﻋَﻤَﻠِﻪِ ﻭَﺻُﺪَّ ﻋَﻦِ
ﺍﻟﺴَّﺒﻴﻞِ ۚ ﻭَﻣﺎ ﻛَﻴﺪُ ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ ﺇِﻟّﺎ
ﻓﻰ ﺗَﺒﺎﺏٍ
[37] আকাশের পথে, অতঃপর উঁকি মেরে
দেখব মূসার আল্লাহকে। বস্তুতঃ আমি
তো তাকে মিথ্যাবাদীই মনে করি।
এভাবেই ফেরাউনের কাছে সুশোভিত
করা হয়েছিল তার মন্দ কর্মকে এবং
সোজা পথ থেকে তাকে বিরত রাখা
হয়েছিল। ফেরাউনের চক্রান্ত ব্যর্থ
হওয়ারই ছিল।
[37] “The ways of the heavens, and I may
look upon the Ilâh (God) of Mûsa (Moses)
But verily, I think him to be a liar.” Thus
it was made fair-seeming, in Fir’aun’s
(Pharaoh) eyes, the evil of his deeds, and
he was hindered from the (Right) Path,
and the plot of Fir’aun (Pharaoh) led to
nothing but loss and destruction (for
him).
[38] ﻭَﻗﺎﻝَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺀﺍﻣَﻦَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ
ﺍﺗَّﺒِﻌﻮﻥِ ﺃَﻫﺪِﻛُﻢ ﺳَﺒﻴﻞَ ﺍﻟﺮَّﺷﺎﺩِ
[38] মুমিন লোকটি বললঃ হে আমার
কওম, তোমরা আমার অনুসরণ কর। আমি
তোমাদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করব।
[38] And the man who believed said: “O
my people! Follow me, I will guide you to
the way of right conduct [i.e. guide you
to Allâh’s religion of Islâmic Monotheism
with which Mûsa (Moses) has been sent]
[39] ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﻫٰﺬِﻩِ ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓُ
ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﻣَﺘٰﻊٌ ﻭَﺇِﻥَّ ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓَ
ﻫِﻰَ ﺩﺍﺭُ ﺍﻟﻘَﺮﺍﺭِ
[39] হে আমার কওম, পার্থিব এ জীবন
তো কেবল উপভোগের বস্তু, আর
পরকাল হচ্ছে স্থায়ী বসবাসের গৃহ।
[39] “O my people! Truly, this life of the
world is nothing but a (quick passing)
enjoyment, and verily, the Hereafter that
is the home that will remain forever.”
[40] ﻣَﻦ ﻋَﻤِﻞَ ﺳَﻴِّﺌَﺔً ﻓَﻼ
ﻳُﺠﺰﻯٰ ﺇِﻟّﺎ ﻣِﺜﻠَﻬﺎ ۖ ﻭَﻣَﻦ ﻋَﻤِﻞَ
ﺻٰﻠِﺤًﺎ ﻣِﻦ ﺫَﻛَﺮٍ ﺃَﻭ ﺃُﻧﺜﻰٰ ﻭَﻫُﻮَ
ﻣُﺆﻣِﻦٌ ﻓَﺄُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻳَﺪﺧُﻠﻮﻥَ
ﺍﻟﺠَﻨَّﺔَ ﻳُﺮﺯَﻗﻮﻥَ ﻓﻴﻬﺎ ﺑِﻐَﻴﺮِ
ﺣِﺴﺎﺏٍ
[40] যে মন্দ কর্ম করে, সে কেবল তার
অনুরূপ প্রতিফল পাবে, আর যে, পুরুষ
অথবা নারী মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করে
তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তথায়
তাদেরকে বে-হিসাব রিযিক দেয়া
হবে।
[40] “Whosoever does an evil deed, will
not be requited except the like thereof,
and whosoever does a righteous deed,
whether male or female and is a true
believer (in the Oneness of Allâh), such
will enter Paradise, where they will be
provided therein (with all things in
abundance) without limit.
[41] ۞ ﻭَﻳٰﻘَﻮﻡِ ﻣﺎ ﻟﻰ
ﺃَﺩﻋﻮﻛُﻢ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺠﻮٰﺓِ
ﻭَﺗَﺪﻋﻮﻧَﻨﻰ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ
[41] হে আমার কওম, ব্যাপার কি, আমি
তোমাদেরকে দাওয়াত দেই মুক্তির
দিকে, আর তোমরা আমাকে দাওয়াত
দাও জাহান্নামের দিকে।
[41] “And O my people! How is it that I
call you to salvation while you call me to
the Fire!
[42] ﺗَﺪﻋﻮﻧَﻨﻰ ﻟِﺄَﻛﻔُﺮَ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ
ﻭَﺃُﺷﺮِﻙَ ﺑِﻪِ ﻣﺎ ﻟَﻴﺲَ ﻟﻰ ﺑِﻪِ
ﻋِﻠﻢٌ ﻭَﺃَﻧﺎ۠ ﺃَﺩﻋﻮﻛُﻢ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰِ
ﺍﻟﻐَﻔّٰﺮِ
[42] তোমরা আমাকে দাওয়াত দাও,
যাতে আমি আল্লাহকে অস্বীকার করি
এবং তাঁর সাথে শরীক করি এমন
বস্তুকে, যার কোন প্রমাণ আমার
কাছে নেই। আমি তোমাদেরকে
দাওয়াত দেই পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল
আল্লাহর দিকে।
[42] “You invite me to disbelieve in Allâh
(and in His Oneness), and to join
partners in worship with Him of which I
have no knowledge, and I invite you to
the All-Mighty, the Oft-Forgiving!
[43] ﻻ ﺟَﺮَﻡَ ﺃَﻧَّﻤﺎ ﺗَﺪﻋﻮﻧَﻨﻰ
ﺇِﻟَﻴﻪِ ﻟَﻴﺲَ ﻟَﻪُ ﺩَﻋﻮَﺓٌ ﻓِﻰ
ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﻭَﻻ ﻓِﻰ ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﻭَﺃَﻥَّ
ﻣَﺮَﺩَّﻧﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺃَﻥَّ
ﺍﻟﻤُﺴﺮِﻓﻴﻦَ ﻫُﻢ ﺃَﺻﺤٰﺐُ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ
[43] এতে সন্দেহ নেই যে, তোমরা
আমাকে যার দিকে দাওয়াত দাও,
হইকালে ও পরকালে তার কোন
দাওয়াত নেই! আমাদের প্রত্যাবর্তন
আল্লাহর দিকে এবং সীমা
লংঘকারীরাই জাহান্নামী।
[43] “No doubt you call me to (worship)
one who cannot grant (me) my request
(or respond to my invocation) in this
world or in the Hereafter. And our
return will be to Allâh, and Al-Musrifûn
(i.e. polytheists and arrogants, those who
commit great sins, the transgressors of
Allâh’s set limits)! they shall be the
dwellers of the Fire!
[44] ﻓَﺴَﺘَﺬﻛُﺮﻭﻥَ ﻣﺎ ﺃَﻗﻮﻝُ ﻟَﻜُﻢ ۚ
ﻭَﺃُﻓَﻮِّﺽُ ﺃَﻣﺮﻯ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۚ ﺇِﻥَّ
ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺑَﺼﻴﺮٌ ﺑِﺎﻟﻌِﺒﺎﺩِ
[44] আমি তোমাদেরকে যা বলছি,
তোমরা একদিন তা স্মরণ করবে। আমি
আমার ব্যাপার আল্লাহর কাছে সমর্পণ
করছি। নিশ্চয় বান্দারা আল্লাহর
দৃষ্টিতে রয়েছে।
[44] “And you will remember what I am
telling you, and my affair I leave it to
Allâh. Verily, Allâh is the All-Seer of (His)
slaves.”
[45] ﻓَﻮَﻗﻯٰﻪُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺳَﻴِّـٔﺎﺕِ ﻣﺎ
ﻣَﻜَﺮﻭﺍ ۖ ﻭَﺣﺎﻕَ ﺑِـٔﺎﻝِ ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ
ﺳﻮﺀُ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏِ
[45] অতঃপর আল্লাহ তাকে তাদের
চক্রান্তের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করলেন
এবং ফেরাউন গোত্রকে শোচনীয়
আযাব গ্রাস করল।
[45] So Allâh saved him from the evils
that they plotted (against him), while an
evil torment encompassed Fir’aun’s
(Pharaoh) people.
[46] ﺍﻟﻨّﺎﺭُ ﻳُﻌﺮَﺿﻮﻥَ ﻋَﻠَﻴﻬﺎ
ﻏُﺪُﻭًّﺍ ﻭَﻋَﺸِﻴًّﺎ ۖ ﻭَﻳَﻮﻡَ ﺗَﻘﻮﻡُ
ﺍﻟﺴّﺎﻋَﺔُ ﺃَﺩﺧِﻠﻮﺍ ﺀﺍﻝَ ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ
ﺃَﺷَﺪَّ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏِ
[46] সকালে ও সন্ধ্যায় তাদেরকে
আগুনের সামনে পেশ করা হয় এবং
যেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন
আদেশ করা হবে, ফেরাউন গোত্রকে
কঠিনতর আযাবে দাখিল কর।
[46] The Fire; they are exposed to it,
morning and afternoon, and on the Day
when the Hour will be established (it will
be said to the angels): “Cause Fir’aun’s
(Pharaoh) people to enter the severest
torment!”
[47] ﻭَﺇِﺫ ﻳَﺘَﺤﺎﺟّﻮﻥَ ﻓِﻰ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ
ﻓَﻴَﻘﻮﻝُ ﺍﻟﻀُّﻌَﻔٰﺆُﺍ۟ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ
ﺍﺳﺘَﻜﺒَﺮﻭﺍ ﺇِﻧّﺎ ﻛُﻨّﺎ ﻟَﻜُﻢ ﺗَﺒَﻌًﺎ
ﻓَﻬَﻞ ﺃَﻧﺘُﻢ ﻣُﻐﻨﻮﻥَ ﻋَﻨّﺎ ﻧَﺼﻴﺒًﺎ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ
[47] যখন তারা জাহান্নামে পরস্পর
বিতর্ক করবে, অতঃপর দূর্বলরা
অহংকারীদেরকে বলবে, আমরা
তোমাদের অনুসারী ছিলাম। তোমরা
এখন জাহান্নামের আগুনের কিছু অংশ
আমাদের থেকে নিবৃত করবে কি?
[47] And, when they will dispute in the
Fire, the weak will say to those who were
arrogant;”Verily! We followed you, can
you then take from us some portion of
the Fire?”
[48] ﻗﺎﻝَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺍﺳﺘَﻜﺒَﺮﻭﺍ ﺇِﻧّﺎ
ﻛُﻞٌّ ﻓﻴﻬﺎ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻗَﺪ ﺣَﻜَﻢَ
ﺑَﻴﻦَ ﺍﻟﻌِﺒﺎﺩِ
[48] অহংকারীরা বলবে, আমরা সবাই
তো জাহান্নামে আছি। আল্লাহ তাঁর
বান্দাদের ফয়সালা করে দিয়েছেন।
[48] Those who were arrogant will say:
“We are all (together) in this (Fire)!
Verily Allâh has judged between (His)
slaves!”
[49] ﻭَﻗﺎﻝَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻓِﻰ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ
ﻟِﺨَﺰَﻧَﺔِ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﺍﺩﻋﻮﺍ ﺭَﺑَّﻜُﻢ
ﻳُﺨَﻔِّﻒ ﻋَﻨّﺎ ﻳَﻮﻣًﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏِ
[49] যারা জাহান্নামে আছে, তারা
জাহান্নামের রক্ষীদেরকে বলবে,
তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে
বল, তিনি যেন আমাদের থেকে
একদিনের আযাব লাঘব করে দেন।
[49] And those in the Fire will say to the
keepers (angels) of Hell: “Call upon your
Lord to lighten for us the torment for a
day!”
[50] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃَﻭَﻟَﻢ ﺗَﻚُ ﺗَﺄﺗﻴﻜُﻢ
ﺭُﺳُﻠُﻜُﻢ ﺑِﺎﻟﺒَﻴِّﻨٰﺖِ ۖ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺑَﻠﻰٰ ۚ
ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻓَﺎﺩﻋﻮﺍ ۗ ﻭَﻣﺎ ﺩُﻋٰﺆُﺍ۟
ﺍﻟﻜٰﻔِﺮﻳﻦَ ﺇِﻟّﺎ ﻓﻰ ﺿَﻠٰﻞٍ
[50] রক্ষীরা বলবে, তোমাদের কাছে
কি সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তোমাদের
রসূল আসেননি? তারা বলবে হঁ্যা।
রক্ষীরা বলবে, তবে তোমরাই দোয়া
কর। বস্তুতঃ কাফেরদের দোয়া
নিস্ফলই হয়।
[50] They will say: “Did there not come
to you, your Messengers with (clear)
evidences (and signs)? They will say:
“Yes.” They will reply: “Then call (as you
like)! And the invocation of the
disbelievers is nothing but in vain (as it
will not be answered by Allah)!”
[51] ﺇِﻧّﺎ ﻟَﻨَﻨﺼُﺮُ ﺭُﺳُﻠَﻨﺎ ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻓِﻰ ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓِ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ
ﻭَﻳَﻮﻡَ ﻳَﻘﻮﻡُ ﺍﻷَﺷﻬٰﺪُ
[51] আমি সাহায্য করব রসূলগণকে ও
মুমিনগণকে পার্থিব জীবনে ও
সাক্ষীদের দন্ডায়মান হওয়ার দিবসে।
[51] Verily, We will indeed make
victorious Our Messengers and those
who believe (in the Oneness of Allâh —
Islâmic Monotheism) in this world’s life
and on the Day when the witnesses will
stand forth, (i.e. Day of Resurrection),—
[52] ﻳَﻮﻡَ ﻻ ﻳَﻨﻔَﻊُ ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
ﻣَﻌﺬِﺭَﺗُﻬُﻢ ۖ ﻭَﻟَﻬُﻢُ ﺍﻟﻠَّﻌﻨَﺔُ ﻭَﻟَﻬُﻢ
ﺳﻮﺀُ ﺍﻟﺪّﺍﺭِ
[52] সে দিন যালেমদের ওযর-আপত্তি
কোন উপকারে আসবে না, তাদের
জন্যে থাকবে অভিশাপ এবং তাদের
জন্যে থাকবে মন্দ গৃহ।
[52] The Day when their excuses will be
of no profit to Zâlimûn (polytheists,
wrong-doers and disbelievers in the
Oneness of Allâh). Theirs will be the
curse, and theirs will be the evil abode
(i.e. painful torment in Hell-fire).
[53] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺀﺍﺗَﻴﻨﺎ ﻣﻮﺳَﻰ
ﺍﻟﻬُﺪﻯٰ ﻭَﺃَﻭﺭَﺛﻨﺎ ﺑَﻨﻰ ﺇِﺳﺮٰﺀﻳﻞَ
ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ
[53] নিশ্চয় আমি মূসাকে হেদায়েত দান
করেছিলাম এবং বনী ইসরাঈলকে
কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছিলাম।
[53] And, indeed We gave Mûsa (Moses)
the guidance, and We caused the
Children of Israel to inherit the Scripture
[i.e. the Taurât (Torah)],—
[54] ﻫُﺪًﻯ ﻭَﺫِﻛﺮﻯٰ ﻟِﺄُﻭﻟِﻰ
ﺍﻷَﻟﺒٰﺐِ
[54] বুদ্ধিমানদের জন্যে উপদেশ ও
হেদায়েত স্বরূপ।
[54] A guide and a reminder for men of
understanding,
[55] ﻓَﺎﺻﺒِﺮ ﺇِﻥَّ ﻭَﻋﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺣَﻖٌّ
ﻭَﺍﺳﺘَﻐﻔِﺮ ﻟِﺬَﻧﺒِﻚَ ﻭَﺳَﺒِّﺢ
ﺑِﺤَﻤﺪِ ﺭَﺑِّﻚَ ﺑِﺎﻟﻌَﺸِﻰِّ ﻭَﺍﻹِﺑﻜٰﺮِ
[55] অতএব, আপনি সবর করুন নিশ্চয়
আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আপনি আপনার
গোনাহের জন্যে ক্ষমা প্রর্থনা করুন
এবং সকাল-সন্ধ্যায় আপনার
পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা
বর্ণনা করুন।
[55] So be patient (O Muhammad SAW).
Verily, the Promise of Allâh is true, and
ask forgiveness for your fault, and
glorify the praises of your Lord in the
Ashi (i.e. the time period after the
midnoon till sunset) and in the Ibkâr
(i.e. the time period from early morning
or sunrise till before midnoon) [it is said
that, that means the five compulsory
congregational Salât (prayers) or the ‘Asr
and Fajr prayers].
[56] ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳُﺠٰﺪِﻟﻮﻥَ ﻓﻰ
ﺀﺍﻳٰﺖِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑِﻐَﻴﺮِ ﺳُﻠﻄٰﻦٍ
ﺃَﺗﻯٰﻬُﻢ ۙ ﺇِﻥ ﻓﻰ ﺻُﺪﻭﺭِﻫِﻢ ﺇِﻟّﺎ
ﻛِﺒﺮٌ ﻣﺎ ﻫُﻢ ﺑِﺒٰﻠِﻐﻴﻪِ ۚ ﻓَﺎﺳﺘَﻌِﺬ
ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ۖ ﺇِﻧَّﻪُ ﻫُﻮَ ﺍﻟﺴَّﻤﻴﻊُ ﺍﻟﺒَﺼﻴﺮُ
[56] নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াত
সম্পর্কে বিতর্ক করে তাদের কাছে
আগত কোন দলীল ব্যতিরেকে, তাদের
অন্তরে আছে কেবল আত্নম্ভরিতা, যা
অর্জনে তারা সফল হবে না। অতএব,
আপনি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করুন।
নিশ্চয় তিনি সবকিছু শুনেন, সবকিছু
দেখেন।
[56] Verily, those who dispute about the
Ayât (proofs, evidences, verses, lessons,
signs, revelations, etc.) of Allâh, without
any authority having come to them,
there is nothing else in their breasts
except pride [to accept you (Muhammad
SAW) as a Messenger of Allâh and to
obey you]. They will never have it (i.e.
Prophethood which Allâh has bestowed
upon you). So seek refuge in Allâh (O
Muhammad SAW from the arrogants).
Verily, it is He Who is the All-Hearer, the
All-Seer.
[57] ﻟَﺨَﻠﻖُ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ
ﺃَﻛﺒَﺮُ ﻣِﻦ ﺧَﻠﻖِ ﺍﻟﻨّﺎﺱِ ﻭَﻟٰﻜِﻦَّ
ﺃَﻛﺜَﺮَ ﺍﻟﻨّﺎﺱِ ﻻ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[57] মানুষের সৃষ্টি অপেক্ষা
নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের সৃষ্টি কঠিনতর।
কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না।
[57] The creation of the heavens and the
earth is indeed greater than the creation
of mankind, yet most of mankind know
not.
[58] ﻭَﻣﺎ ﻳَﺴﺘَﻮِﻯ ﺍﻷَﻋﻤﻰٰ
ﻭَﺍﻟﺒَﺼﻴﺮُ ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ
ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤٰﺖِ ﻭَﻟَﺎ
ﺍﻟﻤُﺴﻲﺀُ ۚ ﻗَﻠﻴﻠًﺎ ﻣﺎ ﺗَﺘَﺬَﻛَّﺮﻭﻥَ
[58] অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়, আর
যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম
করে এবং কুকর্মী। তোমরা অল্পই
অনুধাবন করে থাক।
[58] And not equal are the blind and
those who see, nor are (equal) those who
believe (in the Oneness of Allâh —
Islâmic Monotheism), and do righteous
good deeds, and those who do evil. Little
do you remember!
[59] ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺴّﺎﻋَﺔَ ﻝَﺀﺍﺗِﻴَﺔٌ ﻻ
ﺭَﻳﺐَ ﻓﻴﻬﺎ ﻭَﻟٰﻜِﻦَّ ﺃَﻛﺜَﺮَ ﺍﻟﻨّﺎﺱِ
ﻻ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[59] কেয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে
সন্দেহ নেই; কিন্ত অধিকাংশ লোক
বিশ্বাস স্থাপন করে না।
[59] Verily, the Hour (Day of Judgement)
is surely coming, there is no doubt it, yet
most men believe not.
[60] ﻭَﻗﺎﻝَ ﺭَﺑُّﻜُﻢُ ﺍﺩﻋﻮﻧﻰ
ﺃَﺳﺘَﺠِﺐ ﻟَﻜُﻢ ۚ ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻳَﺴﺘَﻜﺒِﺮﻭﻥَ ﻋَﻦ ﻋِﺒﺎﺩَﺗﻰ
ﺳَﻴَﺪﺧُﻠﻮﻥَ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﺩﺍﺧِﺮﻳﻦَ
[60] তোমাদের পালনকর্তা বলেন,
তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া
দেব। যারা আমার এবাদতে অহংকার
করে তারা সত্বরই জাহান্নামে দাখিল
হবে লাঞ্ছিত হয়ে।
[60] And your Lord said: “Invoke Me,
[i.e. believe in My Oneness (Islâmic
Monotheism)] (and ask Me for anything)
I will respond to your (invocation).
Verily! Those who scorn My worship [i.e.
do not invoke Me, and do not believe in
My Oneness, (Islâmic Monotheism)] they
will surely enter Hell in humiliation!”
[61] ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺟَﻌَﻞَ ﻟَﻜُﻢُ ﺍﻟَّﻴﻞَ
ﻟِﺘَﺴﻜُﻨﻮﺍ ﻓﻴﻪِ ﻭَﺍﻟﻨَّﻬﺎﺭَ ﻣُﺒﺼِﺮًﺍ ۚ
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻟَﺬﻭ ﻓَﻀﻞٍ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟﻨّﺎﺱِ ﻭَﻟٰﻜِﻦَّ ﺃَﻛﺜَﺮَ ﺍﻟﻨّﺎﺱِ ﻻ
ﻳَﺸﻜُﺮﻭﻥَ
[61] তিনিই আল্লাহ যিনি রাত্র সৃষ্টি
করেছেন তোমাদের বিশ্রামের জন্যে
এবং দিবসকে করেছেন দেখার জন্যে।
নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি
অনুগ্রহশীল, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ
কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না।
[61] Allâh, it is He Who has made the
night for you that you may rest therein
and the day for you to see. Truly, Allâh is
full of Bounty to mankind, yet most of
mankind give no thanks.
[62] ﺫٰﻟِﻜُﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺭَﺑُّﻜُﻢ ﺧٰﻠِﻖُ ﻛُﻞِّ
ﺷَﻲﺀٍ ﻻ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻟّﺎ ﻫُﻮَ ۖ ﻓَﺄَﻧّﻰٰ
ﺗُﺆﻓَﻜﻮﻥَ
[62] তিনি আল্লাহ, তোমাদের
পালনকর্তা, সব কিছুর স্রষ্টা। তিনি
ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব
তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ?
[62] That is Allâh, your Lord, the Creator
of all things, Lâ ilâha illa Huwa (none
has the right to be worshipped but He),
How here then are you turning away
(from Allâh, by worshipping others
instead of Him)!
[63] ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻳُﺆﻓَﻚُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﺑِـٔﺎﻳٰﺖِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻳَﺠﺤَﺪﻭﻥَ
[63] এমনিভাবে তাদেরকে বিভ্রান্ত
করা হয়, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে
অস্বীকার করে।
[63] Thus were turned away those who
used to deny the Ayât (proofs, evidences,
verses, lessons, signs, revelations, etc.) of
Allâh.
[64] ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺟَﻌَﻞَ ﻟَﻜُﻢُ
ﺍﻷَﺭﺽَ ﻗَﺮﺍﺭًﺍ ﻭَﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀَ ﺑِﻨﺎﺀً
ﻭَﺻَﻮَّﺭَﻛُﻢ ﻓَﺄَﺣﺴَﻦَ ﺻُﻮَﺭَﻛُﻢ
ﻭَﺭَﺯَﻗَﻜُﻢ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻄَّﻴِّﺒٰﺖِ ۚ ﺫٰﻟِﻜُﻢُ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺭَﺑُّﻜُﻢ ۖ ﻓَﺘَﺒﺎﺭَﻙَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺭَﺏُّ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[64] আল্লাহ, পৃথিবীকে করেছেন
তোমাদের জন্যে বাসস্থান, আকাশকে
করেছেন ছাদ এবং তিনি
তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন,
অতঃপর তোমাদের আকৃতি সুন্দর
করেছেন এবং তিনি তোমাদেরকে
দান করেছেন পরিচ্ছন্ন রিযিক। তিনি
আল্লাহ, তোমাদের পালনকর্তা।
বিশ্বজগতের পালনকর্তা, আল্লাহ
বরকতময়।
[64] Allâh, it is He Who has made for you
the earth as a dwelling place and the sky
as a canopy, and has given you shape
and made your shapes good (looking)
and has provided you with good things.
That is Allâh, your Lord, so Blessed is
Allâh, the Lord of the ‘Alamîn (mankind,
jinn and all that exists).
[65] ﻫُﻮَ ﺍﻟﺤَﻰُّ ﻻ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻟّﺎ ﻫُﻮَ
ﻓَﺎﺩﻋﻮﻩُ ﻣُﺨﻠِﺼﻴﻦَ ﻟَﻪُ ﺍﻟﺪّﻳﻦَ ۗ
ﺍﻟﺤَﻤﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺭَﺏِّ ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[65] তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত
কোন উপাস্য নেই। অতএব, তাঁকে ডাক
তাঁর খাঁটি এবাদতের মাধ্যমে। সমস্ত
প্রশংসা বিশ্বজগতের পালনকর্তা
আল্লাহর।
[65] He is the Ever Living, Lâ ilâha illa
Huwa (none has the right to be
worshipped but He), so invoke Him
making your worship pure for Him
Alone (by worshipping Him Alone, and
none else, and by doing righteous deeds
sincerely for Allâh’s sake only, and not
to show off, and not to setting up rivals
with Him in worship). All the praises
and thanks are to Allâh, the Lord of the
‘Alamîn (mankind, jinn and all that
exists)
[66] ۞ ﻗُﻞ ﺇِﻧّﻰ ﻧُﻬﻴﺖُ ﺃَﻥ
ﺃَﻋﺒُﺪَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺗَﺪﻋﻮﻥَ ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَﻧِﻰَ ﺍﻟﺒَﻴِّﻨٰﺖُ ﻣِﻦ
ﺭَﺑّﻰ ﻭَﺃُﻣِﺮﺕُ ﺃَﻥ ﺃُﺳﻠِﻢَ ﻟِﺮَﺏِّ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[66] বলুন, যখন আমার কাছে আমার
পালনকর্তার পক্ষ থেকে স্পষ্ট
প্রমাণাদি এসে গেছে, তখন আল্লাহ
ব্যতীত তোমরা যার পূজা কর, তার
এবাদত করতে আমাকে নিষেধ করা
হয়েছে। আমাকে আদেশ করা হয়েছে
বিশ্ব পালনকর্তার অনুগত থাকতে।
[66] Say (O Muhammad SAW): “I have
been forbidden to worship those whom
you worship besides Allâh, since there
have come to me evidences from my
Lord, and I am commanded to submit (in
Islâm) to the Lord of the ‘Alamîn
(mankind, jinn and all that exists).
[67] ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِﻦ
ﺗُﺮﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻧُﻄﻔَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ
ﻋَﻠَﻘَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﻳُﺨﺮِﺟُﻜُﻢ ﻃِﻔﻠًﺎ ﺛُﻢَّ
ﻟِﺘَﺒﻠُﻐﻮﺍ ﺃَﺷُﺪَّﻛُﻢ ﺛُﻢَّ ﻟِﺘَﻜﻮﻧﻮﺍ
ﺷُﻴﻮﺧًﺎ ۚ ﻭَﻣِﻨﻜُﻢ ﻣَﻦ ﻳُﺘَﻮَﻓّﻰٰ
ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ ۖ ﻭَﻟِﺘَﺒﻠُﻐﻮﺍ ﺃَﺟَﻠًﺎ
ﻣُﺴَﻤًّﻰ ﻭَﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢ ﺗَﻌﻘِﻠﻮﻥَ
[67] তিনি তো তোমাদের সৃষ্টি
করেছেন মাটির দ্বারা, অতঃপর
শুক্রবিন্দু দ্বারা, অতঃপর জমাট রক্ত
দ্বারা, অতঃপর তোমাদেরকে বের
করেন শিশুরূপে, অতঃপর তোমরা
যৌবনে পদর্পণ কর, অতঃপর বার্ধক্যে
উপনীত হও। তোমাদের কারও কারও এর
পূর্বেই মৃত্যু ঘটে এবং তোমরা
নির্ধারিত কালে পৌঁছ এবং তোমরা
যাতে অনুধাবন কর।
[67] It is He, Who has created you
(Adam) from dust, then from a Nutfah
[mixed semen drops of male and female
sexual discharge (i.e. Adam’s offspring)]
then from a clot (a piece of coagulated
blood), then brings you forth as infant,
then (makes you grow) to reach the age
of full strength, and afterwards to be old
(men and women),— though some among
you die before,— and that you reach an
appointed term, in order that you may
understand.
[68] ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻳُﺤﻲۦ ﻭَﻳُﻤﻴﺖُ ۖ
ﻓَﺈِﺫﺍ ﻗَﻀﻰٰ ﺃَﻣﺮًﺍ ﻓَﺈِﻧَّﻤﺎ ﻳَﻘﻮﻝُ
ﻟَﻪُ ﻛُﻦ ﻓَﻴَﻜﻮﻥُ
[68] তিনিই জীবিত করেন এবং মৃত্যু
দেন। যখন তিনি কোন কাজের আদেশ
করেন, তখন একথাই বলেন, হয়ে যা’-তা
হয়ে যায়।
[68] He it is Who gives life and causes
death. And when He decides upon a
thing He says to it only: “Be!” — and it is.
[69] ﺃَﻟَﻢ ﺗَﺮَ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻳُﺠٰﺪِﻟﻮﻥَ ﻓﻰ ﺀﺍﻳٰﺖِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻧّﻰٰ
ﻳُﺼﺮَﻓﻮﻥَ
[69] আপনি কি তাদেরকে দেখেননি,
যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক
করে, তারা কোথায় ফিরছে?
[69] See you not those who dispute about
the Ayât (proofs, evidences, verses,
lessons, signs, revelations, etc.) of Allâh?
How are they turning away (from the
truth, i.e. Islâmic Monotheism to the
falsehood (i.e. polytheism)?
[70] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ ﺑِﺎﻟﻜِﺘٰﺐِ
ﻭَﺑِﻤﺎ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﺑِﻪِ ﺭُﺳُﻠَﻨﺎ ۖ
ﻓَﺴَﻮﻑَ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[70] যারা কিতাবের প্রতি এবং যে
বিষয় দিয়ে আমি পয়গম্বরগণকে প্রেরণ
করেছি, সে বিষয়ের প্রতি
মিথ্যারোপ করে। অতএব, সত্বরই তারা
জানতে পারবে।
[70] Those who deny the Book (this
Qur’ân), and that with which We sent
Our Messengers (i.e. to worship none but
Allâh Alone sincerely, and to reject all
false deities and to confess resurrection
after the death for recompense) they will
come to know (when they will be cast
into the Fire of Hell).
[71] ﺇِﺫِ ﺍﻷَﻏﻠٰﻞُ ﻓﻰ ﺃَﻋﻨٰﻘِﻬِﻢ
ﻭَﺍﻟﺴَّﻠٰﺴِﻞُ ﻳُﺴﺤَﺒﻮﻥَ
[71] যখন বেড়িও শৃঙ্খল তাদের গলদেশে
পড়বে। তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া
হবে।
[71] When iron collars will be rounded
over their necks, and the chains, they
shall be dragged along
[72] ﻓِﻰ ﺍﻟﺤَﻤﻴﻢِ ﺛُﻢَّ ﻓِﻰ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ
ﻳُﺴﺠَﺮﻭﻥَ
[72] ফুটন্ত পানিতে, অতঃপর তাদেরকে
আগুনে জ্বালানো হবে।
[72] In the boiling water, then they will
be burned in the Fire.
[73] ﺛُﻢَّ ﻗﻴﻞَ ﻟَﻬُﻢ ﺃَﻳﻦَ ﻣﺎ ﻛُﻨﺘُﻢ
ﺗُﺸﺮِﻛﻮﻥَ
[73] অতঃপর তাদেরকে বলা হবে,
কোথায় গেল যাদেরকে তোমরা
শরীক করতে।
[73] Then it will be said to them: “Where
are (all) those whom you used to join in
worship as partners.
[74] ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۖ ﻗﺎﻟﻮﺍ
ﺿَﻠّﻮﺍ ﻋَﻨّﺎ ﺑَﻞ ﻟَﻢ ﻧَﻜُﻦ ﻧَﺪﻋﻮﺍ
ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ ﺷَﻴـًٔﺎ ۚ ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻳُﻀِﻞُّ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟﻜٰﻔِﺮﻳﻦَ
[74] আল্লাহ ব্যতীত? তারা বলবে,
তারা আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে
গেছে; বরং আমরা তো ইতিপূর্বে
কোন কিছুর পূজাই করতাম না। এমনি
ভাবে আল্লাহ কাফেরদেরকে
বিভ্রান্ত করেন।
[74] “Besides Allâh”? They will say: “They
have vanished from us: Nay, we did not
invoke (worship) anything before.” Thus
Allâh leads astray the disbelievers.
[75] ﺫٰﻟِﻜُﻢ ﺑِﻤﺎ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﻔﺮَﺣﻮﻥَ
ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﺑِﻐَﻴﺮِ ﺍﻟﺤَﻖِّ ﻭَﺑِﻤﺎ
ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﻤﺮَﺣﻮﻥَ
[75] এটা একারণে যে, তোমরা
দুনিয়াতে অন্যায়ভাবে আনন্দ-উল্লাস
করতে এবং এ কারণে যে, তোমরা
ঔদ্ধত্য করতে।
[75] That was because you had been
exulting in the earth without any right
(by worshipping others instead of Allâh
and by committing crimes), and that you
used to rejoice extremely (in your error).
[76] ﺍﺩﺧُﻠﻮﺍ ﺃَﺑﻮٰﺏَ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ
ﺧٰﻠِﺪﻳﻦَ ﻓﻴﻬﺎ ۖ ﻓَﺒِﺌﺲَ ﻣَﺜﻮَﻯ
ﺍﻟﻤُﺘَﻜَﺒِّﺮﻳﻦَ
[76] প্রবেশ কর তোমরা জাহান্নামের
দরজা দিয়ে সেখানে চিরকাল
বসবাসের জন্যে। কত নিকৃষ্ট
দাম্ভিকদের আবাসস্থল।
[76] Enter the gates of Hell to abide
therein, and (indeed) what an evil abode
of the arrogant!
[77] ﻓَﺎﺻﺒِﺮ ﺇِﻥَّ ﻭَﻋﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺣَﻖٌّ ۚ
ﻓَﺈِﻣّﺎ ﻧُﺮِﻳَﻨَّﻚَ ﺑَﻌﺾَ ﺍﻟَّﺬﻯ
ﻧَﻌِﺪُﻫُﻢ ﺃَﻭ ﻧَﺘَﻮَﻓَّﻴَﻨَّﻚَ ﻓَﺈِﻟَﻴﻨﺎ
ﻳُﺮﺟَﻌﻮﻥَ
[77] অতএব আপনি সবর করুন। নিশ্চয়
আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতঃপর আমি
কাফেরদেরকে যে শাস্তির ওয়াদা
দেই, তার কিয়দংশ যদি আপনাকে
দেখিয়ে দেই অথবা আপনার প্রাণ হরণ
করে নেই, সর্বাবস্থায় তারা তো
আমারই কাছে ফিরে আসবে।
[77] So be patient (O Muhammad SAW),
verily, the Promise of Allâh is true, and
whether We show you (O Muhammad
SAW in this world) some part of what We
have promised them, or We cause you to
die, then still it is to Us they all shall be
returned.
[78] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﺭُﺳُﻠًﺎ ﻣِﻦ
ﻗَﺒﻠِﻚَ ﻣِﻨﻬُﻢ ﻣَﻦ ﻗَﺼَﺼﻨﺎ
ﻋَﻠَﻴﻚَ ﻭَﻣِﻨﻬُﻢ ﻣَﻦ ﻟَﻢ
ﻧَﻘﺼُﺺ ﻋَﻠَﻴﻚَ ۗ ﻭَﻣﺎ ﻛﺎﻥَ
ﻟِﺮَﺳﻮﻝٍ ﺃَﻥ ﻳَﺄﺗِﻰَ ﺑِـٔﺎﻳَﺔٍ ﺇِﻟّﺎ
ﺑِﺈِﺫﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۚ ﻓَﺈِﺫﺍ ﺟﺎﺀَ ﺃَﻣﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻗُﻀِﻰَ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ﻭَﺧَﺴِﺮَ ﻫُﻨﺎﻟِﻚَ
ﺍﻟﻤُﺒﻄِﻠﻮﻥَ
[78] আমি আপনার পূর্বে অনেক রসূল
প্রেরণ করেছি, তাদের কারও কারও
ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করেছি এবং
কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত
করিনি। আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোন
নিদর্শন নিয়ে আসা কোন রসূলের কাজ
নয়। যখন আল্লাহর আদেশ আসবে, তখন
ন্যায় সঙ্গত ফয়সালা হয়ে যাবে।
সেক্ষেত্রে মিথ্যাপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত
হবে।
[78] And, indeed We have sent
Messengers before you (O Muhammad
SAW); of some of them We have related
to you their story And of some We have
not related to you their story, and it was
not given to any Messenger that he
should bring a sign except by the Leave
of Allâh. But, when comes the
Commandment of Allâh, the matter will
be decided with truth, and the followers
of falsehood will then be lost.
[79] ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺟَﻌَﻞَ ﻟَﻜُﻢُ
ﺍﻷَﻧﻌٰﻢَ ﻟِﺘَﺮﻛَﺒﻮﺍ ﻣِﻨﻬﺎ ﻭَﻣِﻨﻬﺎ
ﺗَﺄﻛُﻠﻮﻥَ
[79] আল্লাহ তোমাদের জন্যে চতুস্পদ
জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে কোন
কোনটিই বাহন হিসাবে ব্যবহার কর
এবং কোন কোনটিকে ভক্ষণ কর।
[79] Allâh, it is He Who has made cattle
for you, that you may ride on some of
them and of some you eat.
[80] ﻭَﻟَﻜُﻢ ﻓﻴﻬﺎ ﻣَﻨٰﻔِﻊُ ﻭَﻟِﺘَﺒﻠُﻐﻮﺍ
ﻋَﻠَﻴﻬﺎ ﺣﺎﺟَﺔً ﻓﻰ ﺻُﺪﻭﺭِﻛُﻢ
ﻭَﻋَﻠَﻴﻬﺎ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻔُﻠﻚِ
ﺗُﺤﻤَﻠﻮﻥَ
[80] তাতে তোমাদের জন্যে অনেক
উপকারিতা রয়েছে আর এজন্যে সৃষ্টি
করেছেন; যাতে সেগুলোতে আরোহণ
করে তোমরা তোমাদের অভীষ্ট
প্রয়োজন পূর্ণ করতে পার। এগুলোর
উপর এবং নৌকার উপর তোমরা
বাহিত হও।
[80] And you have (many other) benefits
from them, and that you may reach by
their means a desire that is in your
breasts (i.e. carry your goods, loads, etc.),
and on them and on ships you are
carried.
[81] ﻭَﻳُﺮﻳﻜُﻢ ﺀﺍﻳٰﺘِﻪِ ﻓَﺄَﻯَّ
ﺀﺍﻳٰﺖِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺗُﻨﻜِﺮﻭﻥَ
[81] তিনি তোমাদেরকে তাঁর
নিদর্শনাবলী দেখান। অতএব, তোমরা
আল্লাহর কোন কোন নিদর্শনকে
অস্বীকার করবে?
[81] And He shows you His Ayat, (Signs
and Proofs) (of His Oneness in all the
above mentioned things). Which, then of
the Ayat (Signs and Proofs) of Allâh do
you deny?
[82] ﺃَﻓَﻠَﻢ ﻳَﺴﻴﺮﻭﺍ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﻓَﻴَﻨﻈُﺮﻭﺍ ﻛَﻴﻒَ ﻛﺎﻥَ ﻋٰﻘِﺒَﺔُ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻠِﻬِﻢ ۚ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﺃَﻛﺜَﺮَ
ﻣِﻨﻬُﻢ ﻭَﺃَﺷَﺪَّ ﻗُﻮَّﺓً ﻭَﺀﺍﺛﺎﺭًﺍ
ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﻓَﻤﺎ ﺃَﻏﻨﻰٰ ﻋَﻨﻬُﻢ
ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻜﺴِﺒﻮﻥَ
[82] তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি?
করলে দেখত, তাদের পূর্ববর্তীদের কি
পরিণাম হয়েছে। তারা তাদের চেয়ে
সংখ্যায় বেশী এবং শক্তি ও
কীর্তিতে অধিক প্রবল ছিল, অতঃপর
তাদের কর্ম তাদেরকে কোন উপকার
দেয়নি।
[82] Have they not travelled through the
earth and seen what was the end of
those before them? They were more in
number than them and mightier in
strength, and in the traces (they have left
behind them) in the land, yet all that
they used to earn availed them not.
[83] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَﺗﻬُﻢ ﺭُﺳُﻠُﻬُﻢ
ﺑِﺎﻟﺒَﻴِّﻨٰﺖِ ﻓَﺮِﺣﻮﺍ ﺑِﻤﺎ ﻋِﻨﺪَﻫُﻢ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﻌِﻠﻢِ ﻭَﺣﺎﻕَ ﺑِﻬِﻢ ﻣﺎ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﺑِﻪِ ﻳَﺴﺘَﻬﺰِﺀﻭﻥَ
[83] তাদের কাছে যখন তাদের রসূলগণ
স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আগমন করেছিল,
তখন তারা নিজেদের জ্ঞান-গরিমার
দম্ভ প্রকাশ করেছিল। তারা যে বিষয়
নিয়ে ঠাট্টাবিদ্রুপ করেছিল, তাই
তাদেরকে গ্রাস করে নিয়েছিল।
[83] Then when their Messengers came
to them with clear proofs, they were glad
(and proud) with that which they had of
the knowledge (of worldly things): And
that at which they used to mock,
surrounded them (i.e. the punishment).
[84] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺭَﺃَﻭﺍ ﺑَﺄﺳَﻨﺎ ﻗﺎﻟﻮﺍ
ﺀﺍﻣَﻨّﺎ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺣﺪَﻩُ ﻭَﻛَﻔَﺮﻧﺎ
ﺑِﻤﺎ ﻛُﻨّﺎ ﺑِﻪِ ﻣُﺸﺮِﻛﻴﻦَ
[84] তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ
করল, তখন বলল, আমরা এক আল্লাহর
প্রতি বিশ্বাস করলাম এবং যাদেরকে
শরীক করতাম, তাদেরকে পরিহার
করলাম।
[84] So when they saw Our punishment,
they said: “We believe in Allâh Alone
and reject (all) that we used to associate
with Him as (His) partners.
[85] ﻓَﻠَﻢ ﻳَﻚُ ﻳَﻨﻔَﻌُﻬُﻢ ﺇﻳﻤٰﻨُﻬُﻢ
ﻟَﻤّﺎ ﺭَﺃَﻭﺍ ﺑَﺄﺳَﻨﺎ ۖ ﺳُﻨَّﺖَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺍﻟَّﺘﻰ ﻗَﺪ ﺧَﻠَﺖ ﻓﻰ ﻋِﺒﺎﺩِﻩِ ۖ
ﻭَﺧَﺴِﺮَ ﻫُﻨﺎﻟِﻚَ ﺍﻟﻜٰﻔِﺮﻭﻥَ
[85] অতঃপর তাদের এ ঈমান তাদের
কোন উপকারে আসল না যখন তারা
শাস্তি প্রত্যক্ষ করল। আল্লাহর এ
নিয়মই পূর্ব থেকে তাঁর বান্দাদের
মধ্যে প্রচলিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে
কাফেররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
[85] Then their Faith (in Islâmic
Monotheism) could not avail them when
they saw Our punishment. (Like) this has
been the way of Allâh in dealing with
His slaves. And there the disbelievers lost
utterly (when Our Torment covered
them).
Bangla translation of Quran. Developed
by Syed Mohammad Rasel
Surah Al Momin Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. হা-মীম। 2. কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে, যিনি পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ। 3. পাপ ক্ষমাকারী, তওবা কবুলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা ও সামর্থ দাতা (এর নিতেন) তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তাঁরই দিকে হবে প্রত্যাবর্তন। 4. কাফেররাই কেবল আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে। কাজেই নগরীসমূহে তাদের বিচরণ যেন আপনাকে বিভ্রান্তিতে না ফেলে। 5. তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায় মিথ্যারোপ করেছিল, আর তাদের পরে অন্য অনেক দল ও প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ পয়গম্বরকে আক্রমণ করার ইচ্ছা করেছিল এবং তারা মিথ্যা বিতর্কে প্রবৃত্ত হয়েছিল, যেন সত্যধর্মকে ব্যর্থ করে দিতে পারে। অতঃপর আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম। কেমন ছিল আমার শাস্তি। 6. এভাবে কাফেরদের বেলায় আপনার পালনকর্তার এ বাক্য সত্য হল যে, তারা জাহান্নামী। 7. যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথে চলে, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। 8. হে আমাদের পালনকর্তা, আর তাদেরকে দাখিল করুন চিরকাল বসবাসের জান্নাতে, যার ওয়াদা আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং তাদের বাপ-দাদা, পতি-পত্নী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করে তাদেরকে। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। 9. এবং আপনি তাদেরকে অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন। আপনি যাকে সেদিন অমঙ্গল থেকে রক্ষা করবেন, তার প্রতি অনুগ্রহই করবেন। এটাই মহাসাফল্য। 10. যারা কাফের তাদেরকে উচ্চঃস্বরে বলা হবে, তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের আজকের এ ক্ষোভ অপেক্ষা আল্লার ক্ষোভ অধিক ছিল, যখন তোমাদেরকে ঈমান আনতে বলা হয়েছিল, অতঃপর তোমরা কুফরী করছিল। 11. তারা বলবে হে আমাদের পালনকর্তা! আপনি আমাদেরকে দু’বার মৃত্যু দিয়েছেন এবং দু’ বার জীবন দিয়েছেন। এখন আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি। অতঃপর এখন ও নিস্কৃতির কোন উপায় আছে কি? 12. তোমাদের এ বিপদ এ কারণে যে, যখন এক আল্লাহকে ডাকা হত, তখন তোমরা কাফের হয়ে যেতে যখন তার সাথে শরীককে ডাকা হত তখন তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করতে। এখন আদেশ তাই, যা আল্লাহ করবেন, যিনি সর্বোচ্চ, মহান। 13. তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান এবং তোমাদের জন্যে আকাশ থেকে নাযিল করেন রুযী। চিন্তা-ভাবনা তারাই করে, যারা আল্লাহর দিকে রুজু থাকে। 14. অতএব, তোমরা আল্লাহকে খাঁটি বিশ্বাস সহকারে ডাক, যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে। 15. তিনিই সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের মালিক, তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা তত্ত্বপূর্ণ বিষয়াদি নাযিল করেন, যাতে সে সাক্ষাতের দিন সম্পর্কে সকলকে সতর্ক করে। 16. যেদিন তারা বের হয়ে পড়বে, আল্লাহর কাছে তাদের কিছুই গোপন থাকবে না। আজ রাজত্ব কার? এক প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহর। 17. আজ প্রত্যেকেই তার কৃতকর্মের প্রতিদান পাবে। আজ যুলুম নেই। নিশ্চয় আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। 18. আপনি তাদেরকে আসন্ন দিন সম্পর্কে সতর্ক করুন, যখন প্রাণ কন্ঠাগত হবে, দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। পাপিষ্ঠদের জন্যে কোন বন্ধু নেই এবং সুপারিশকারীও নেই; যার সুপারিশ গ্রাহ্য হবে। 19. চোখের চুরি এবং অন্তরের গোপন বিষয় তিনি জানেন। 20. আল্লাহ ফয়সালা করেন সঠিকভাবে, আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদেরকে ডাকে, তারা কিছুই ফয়সালা করে না। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু শুনেন, সবকিছু দেখেন। 21. তারা কি দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করে না, যাতে দেখত তাদের পূর্বসুরিদের কি পরিণাম হয়েছে? তাদের শক্তি ও কীর্তি পৃথিবীতে এদের অপেক্ষা অধিকতর ছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে তাদের গোনাহের কারণে ধৃত করেছিলেন এবং আল্লাহ থেকে তাদেরকে রক্ষাকারী কেউ হয়নি। 22. এর কারণ এই যে, তাদের কাছে তাদের রসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আগমন করত, অতঃপর তারা কাফের হয়ে যায়, তখন আল্লাহ তাদের ধৃত করেন। নিশ্চয় তিনি শক্তিধর, কঠোর শাস্তিদাতা। 23. আমি আমার নিদর্শনাবলী ও স্পষ্ট প্রমাণসহ মূসাকে প্রেরণ করেছি। 24. ফেরাউন, হামান ও কারুণের কাছে, অতঃপর তারা বলল, সে তো জাদুকর, মিথ্যাবাদী। 25. অতঃপর মূসা যখন আমার কাছ থেকে সত্যসহ তাদের কাছে পৌঁছাল; তখন তারা বলল, যারা তার সঙ্গী হয়ে বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা কর, আর তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখ। কাফেরদের চক্রান্ত ব্যর্থই হয়েছে। 26. ফেরাউন বলল; তোমরা আমাকে ছাড়, মূসাকে হত্যা করতে দাও, ডাকুক সে তার পালনকর্তাকে! আমি আশংকা করি যে, সে তোমাদের ধর্ম পরিবর্তন করে দেবে অথবা সে দেশময় বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। 27. মূসা বলল, যারা হিসাব দিবসে বিশ্বাস করে না এমন প্রত্যেক অহংকারী থেকে আমি আমার ও তোমাদের পালনকর্তার আশ্রয় নিয়ে নিয়েছি। 28. ফেরাউন গোত্রের এক মুমিন ব্যক্তি, যে তার ঈমান গোপন রাখত, সে বলল, তোমরা কি একজনকে এজন্যে হত্যা করবে যে, সে বলে, আমার পালনকর্তা আল্লাহ, অথচ সে তোমাদের পালনকর্তার নিকট থেকে স্পষ্ট প্রমাণসহ তোমাদের নিকট আগমন করেছে? যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার মিথ্যাবাদিতা তার উপরই চাপবে, আর যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে সে যে শাস্তির কথা বলছে, তার কিছু না কিছু তোমাদের উপর পড়বেই। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালংঘনকারী, মিথ্যাবাদীকে পথ প্রদর্শন করেন না। 29. হে আমার কওম, আজ এদেশে তোমাদেরই রাজত্ব, দেশময় তোমরাই বিচরণ করছ; কিন্তু আমাদের আল্লাহর শাস্তি এসে গেলে কে আমাদেরকে সাহায্য করবে? ফেরাউন বলল, আমি যা বুঝি, তোমাদেরকে তাই বোঝাই, আর আমি তোমাদেরকে মঙ্গলের পথই দেখাই। 30. সে মুমিন ব্যক্তি বললঃ হে আমার কওম, আমি তোমাদের জন্যে পূর্ববর্তী সম্প্রদায়সমূহের মতই বিপদসঙ্কুল দিনের আশংকা করি। 31. যেমন, কওমে নূহ, আদ, সামুদ ও তাদের পরবর্তীদের অবস্থা হয়েছিল। আল্লাহ বান্দাদের প্রতি কোন যুলুম করার ইচ্ছা করেন না। 32. হে আমার কওম, আমি তোমাদের জন্যে প্রচন্ড হাঁক-ডাকের দিনের আশংকা করি। 33. যেদিন তোমরা পেছনে ফিরে পলায়ন করবে; কিন্তু আল্লাহ থেকে তোমাদেরকে রক্ষাকারী কেউ থাকবে না। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই। 34. ইতিপূর্বে তোমাদের কাছে ইউসুফ সুস্পষ্ট প্রামাণাদিসহ আগমন করেছিল, অতঃপর তোমরা তার আনীত বিষয়ে সন্দেহই পোষণ করতে। অবশেষে যখন সে মারা গেল, তখন তোমরা বলতে শুরু করলে, আল্লাহ ইউসুফের পরে আর কাউকে রসূলরূপে পাঠাবেন না। এমনিভাবে আল্লাহ সীমালংঘনকারী, সংশয়ী ব্যক্তিকে পথভ্রষ্ট করেন। 35. যারা নিজেদের কাছে আগত কোন দলীল ছাড়াই আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের একজন আল্লাহ ও মুমিনদের কাছে খুবই অসন্তোষজনক। এমনিভাবে আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী- স্বৈরাচারী ব্যক্তির অন্তরে মোহর এঁটে দেন। 36. ফেরাউন বলল, হে হামান, তুমি আমার জন্যে একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ কর, হয়তো আমি পৌঁছে যেতে পারব। 37. আকাশের পথে, অতঃপর উঁকি মেরে দেখব মূসার আল্লাহকে। বস্তুতঃ আমি তো তাকে মিথ্যাবাদীই মনে করি। এভাবেই ফেরাউনের কাছে সুশোভিত করা হয়েছিল তার মন্দ কর্মকে এবং সোজা পথ থেকে তাকে বিরত রাখা হয়েছিল। ফেরাউনের চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ারই ছিল। 38. মুমিন লোকটি বললঃ হে আমার কওম, তোমরা আমার অনুসরণ কর। আমি তোমাদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করব। 39. হে আমার কওম, পার্থিব এ জীবন তো কেবল উপভোগের বস্তু, আর পরকাল হচ্ছে স্থায়ী বসবাসের গৃহ। 40. যে মন্দ কর্ম করে, সে কেবল তার অনুরূপ প্রতিফল পাবে, আর যে, পুরুষ অথবা নারী মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করে তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তথায় তাদেরকে বে- হিসাব রিযিক দেয়া হবে। 41. হে আমার কওম, ব্যাপার কি, আমি তোমাদেরকে দাওয়াত দেই মুক্তির দিকে, আর তোমরা আমাকে দাওয়াত দাও জাহান্নামের দিকে। 42. তোমরা আমাকে দাওয়াত দাও, যাতে আমি আল্লাহকে অস্বীকার করি এবং তাঁর সাথে শরীক করি এমন বস্তুকে, যার কোন প্রমাণ আমার কাছে নেই। আমি তোমাদেরকে দাওয়াত দেই পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল আল্লাহর দিকে। 43. এতে সন্দেহ নেই যে, তোমরা আমাকে যার দিকে দাওয়াত দাও, হইকালে ও পরকালে তার কোন দাওয়াত নেই! আমাদের প্রত্যাবর্তন আল্লাহর দিকে এবং সীমা লংঘকারীরাই জাহান্নামী। 44. আমি তোমাদেরকে যা বলছি, তোমরা একদিন তা স্মরণ করবে। আমি আমার ব্যাপার আল্লাহর কাছে সমর্পণ করছি। নিশ্চয় বান্দারা আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে। 45. অতঃপর আল্লাহ তাকে তাদের চক্রান্তের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করলেন এবং ফেরাউন গোত্রকে শোচনীয় আযাব গ্রাস করল। 46. সকালে ও সন্ধ্যায় তাদেরকে আগুনের সামনে পেশ করা হয় এবং যেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন আদেশ করা হবে, ফেরাউন গোত্রকে কঠিনতর আযাবে দাখিল কর। 47. যখন তারা জাহান্নামে পরস্পর বিতর্ক করবে, অতঃপর দূর্বলরা অহংকারীদেরকে বলবে, আমরা তোমাদের অনুসারী ছিলাম। তোমরা এখন জাহান্নামের আগুনের কিছু অংশ আমাদের থেকে নিবৃত করবে কি? 48. অহংকারীরা বলবে, আমরা সবাই তো জাহান্নামে আছি। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ফয়সালা করে দিয়েছেন। 49. যারা জাহান্নামে আছে, তারা জাহান্নামের রক্ষীদেরকে বলবে, তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে বল, তিনি যেন আমাদের থেকে একদিনের আযাব লাঘব করে দেন। 50. রক্ষীরা বলবে, তোমাদের কাছে কি সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তোমাদের রসূল আসেননি? তারা বলবে হঁ্যা। রক্ষীরা বলবে, তবে তোমরাই দোয়া কর। বস্তুতঃ কাফেরদের দোয়া নিস্ফলই হয়। 51. আমি সাহায্য করব রসূলগণকে ও মুমিনগণকে পার্থিব জীবনে ও সাক্ষীদের দন্ডায়মান হওয়ার দিবসে। 52. সে দিন যালেমদের ওযর- আপত্তি কোন উপকারে আসবে না, তাদের জন্যে থাকবে অভিশাপ এবং তাদের জন্যে থাকবে মন্দ গৃহ। 53. নিশ্চয় আমি মূসাকে হেদায়েত দান করেছিলাম এবং বনী ইসরাঈলকে কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছিলাম। 54. বুদ্ধিমানদের জন্যে উপদেশ ও হেদায়েত স্বরূপ। 55. অতএব, আপনি সবর করুন নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আপনি আপনার গোনাহের জন্যে ক্ষমা প্রর্থনা করুন এবং সকাল-সন্ধ্যায় আপনার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন। 56. নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে তাদের কাছে আগত কোন দলীল ব্যতিরেকে, তাদের অন্তরে আছে কেবল আত্নম্ভরিতা, যা অর্জনে তারা সফল হবে না। অতএব, আপনি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি সবকিছু শুনেন, সবকিছু দেখেন। 57. মানুষের সৃষ্টি অপেক্ষা নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের সৃষ্টি কঠিনতর। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না। 58. অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়, আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং কুকর্মী। তোমরা অল্পই অনুধাবন করে থাক। 59. কেয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে সন্দেহ নেই; কিন্ত অধিকাংশ লোক বিশ্বাস স্থাপন করে না। 60. তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। যারা আমার এবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই জাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে। 61. তিনিই আল্লাহ যিনি রাত্র সৃষ্টি করেছেন তোমাদের বিশ্রামের জন্যে এবং দিবসকে করেছেন দেখার জন্যে। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না। 62. তিনি আল্লাহ, তোমাদের পালনকর্তা, সব কিছুর স্রষ্টা। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ? 63. এমনিভাবে তাদেরকে বিভ্রান্ত করা হয়, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে। 64. আল্লাহ, পৃথিবীকে করেছেন তোমাদের জন্যে বাসস্থান, আকাশকে করেছেন ছাদ এবং তিনি তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর তোমাদের আকৃতি সুন্দর করেছেন এবং তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন পরিচ্ছন্ন রিযিক। তিনি আল্লাহ, তোমাদের পালনকর্তা। বিশ্বজগতের পালনকর্তা, আল্লাহ বরকতময়। 65. তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব, তাঁকে ডাক তাঁর খাঁটি এবাদতের মাধ্যমে। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর। 66. বলুন, যখন আমার কাছে আমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণাদি এসে গেছে, তখন আল্লাহ ব্যতীত তোমরা যার পূজা কর, তার এবাদত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। আমাকে আদেশ করা হয়েছে বিশ্ব পালনকর্তার অনুগত থাকতে। 67. তিনি তো তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা, অতঃপর শুক্রবিন্দু দ্বারা, অতঃপর জমাট রক্ত দ্বারা, অতঃপর তোমাদেরকে বের করেন শিশুরূপে, অতঃপর তোমরা যৌবনে পদর্পণ কর, অতঃপর বার্ধক্যে উপনীত হও। তোমাদের কারও কারও এর পূর্বেই মৃত্যু ঘটে এবং তোমরা নির্ধারিত কালে পৌঁছ এবং তোমরা যাতে অনুধাবন কর। 68. তিনিই জীবিত করেন এবং মৃত্যু দেন। যখন তিনি কোন কাজের আদেশ করেন, তখন একথাই বলেন, হয়ে যা’-তা হয়ে যায়। 69. আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তারা কোথায় ফিরছে? 70. যারা কিতাবের প্রতি এবং যে বিষয় দিয়ে আমি পয়গম্বরগণকে প্রেরণ করেছি, সে বিষয়ের প্রতি মিথ্যারোপ করে। অতএব, সত্বরই তারা জানতে পারবে। 71. যখন বেড়িও শৃঙ্খল তাদের গলদেশে পড়বে। তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে। 72. ফুটন্ত পানিতে, অতঃপর তাদেরকে আগুনে জ্বালানো হবে। 73. অতঃপর তাদেরকে বলা হবে, কোথায় গেল যাদেরকে তোমরা শরীক করতে। 74. আল্লাহ ব্যতীত? তারা বলবে, তারা আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে; বরং আমরা তো ইতিপূর্বে কোন কিছুর পূজাই করতাম না। এমনি ভাবে আল্লাহ কাফেরদেরকে বিভ্রান্ত করেন। 75. এটা একারণে যে, তোমরা দুনিয়াতে অন্যায়ভাবে আনন্দ-উল্লাস করতে এবং এ কারণে যে, তোমরা ঔদ্ধত্য করতে। 76. প্রবেশ কর তোমরা জাহান্নামের দরজা দিয়ে সেখানে চিরকাল বসবাসের জন্যে। কত নিকৃষ্ট দাম্ভিকদের আবাসস্থল। 77. অতএব আপনি সবর করুন। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতঃপর আমি কাফেরদেরকে যে শাস্তির ওয়াদা দেই, তার কিয়দংশ যদি আপনাকে দেখিয়ে দেই অথবা আপনার প্রাণ হরণ করে নেই, সর্বাবস্থায় তারা তো আমারই কাছে ফিরে আসবে। 78. আমি আপনার পূর্বে অনেক রসূল প্রেরণ করেছি, তাদের কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করেছি এবং কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করিনি। আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোন নিদর্শন নিয়ে আসা কোন রসূলের কাজ নয়। যখন আল্লাহর আদেশ আসবে, তখন ন্যায় সঙ্গত ফয়সালা হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে মিথ্যাপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 79. আল্লাহ তোমাদের জন্যে চতুস্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে কোন কোনটিই বাহন হিসাবে ব্যবহার কর এবং কোন কোনটিকে ভক্ষণ কর। 80. তাতে তোমাদের জন্যে অনেক উপকারিতা রয়েছে আর এজন্যে সৃষ্টি করেছেন; যাতে সেগুলোতে আরোহণ করে তোমরা তোমাদের অভীষ্ট প্রয়োজন পূর্ণ করতে পার। এগুলোর উপর এবং নৌকার উপর তোমরা বাহিত হও। 81. তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান। অতএব, তোমরা আল্লাহর কোন কোন নিদর্শনকে অস্বীকার করবে? 82. তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি? করলে দেখত, তাদের পূর্ববর্তীদের কি পরিণাম হয়েছে। তারা তাদের চেয়ে সংখ্যায় বেশী এবং শক্তি ও কীর্তিতে অধিক প্রবল ছিল, অতঃপর তাদের কর্ম তাদেরকে কোন উপকার দেয়নি। 83. তাদের কাছে যখন তাদের রসূলগণ স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আগমন করেছিল, তখন তারা নিজেদের জ্ঞান-গরিমার দম্ভ প্রকাশ করেছিল। তারা যে বিষয় নিয়ে ঠাট্টাবিদ্রুপ করেছিল, তাই তাদেরকে গ্রাস করে নিয়েছিল। 84. তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন বলল, আমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করলাম এবং যাদেরকে শরীক করতাম, তাদেরকে পরিহার করলাম। 85. অতঃপর তাদের এ ঈমান তাদের কোন উপকারে আসল না যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করল। আল্লাহর এ নিয়মই পূর্ব থেকে তাঁর বান্দাদের মধ্যে প্রচলিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে কাফেররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। *********

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s