43. সুরাহ জুখরুফ(01-89)


ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম
করুণাময়, অতি দয়ালু
[1] ﺣﻢ
[1] হা-মীম।
[1] Hâ¬Mîm. [These letters are one of the
miracles of the Qur’ân, and none but
Allâh (Alone) knows their meanings].
[2] ﻭَﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ ﺍﻟﻤُﺒﻴﻦِ
[2] শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের,
[2] By the manifest Book (i.e. this Qur’ân
that makes things clear).
[3] ﺇِﻧّﺎ ﺟَﻌَﻠﻨٰﻪُ ﻗُﺮﺀٰﻧًﺎ ﻋَﺮَﺑِﻴًّﺎ
ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢ ﺗَﻌﻘِﻠﻮﻥَ
[3] আমি একে করেছি কোরআন, আরবী
ভাষায়, যাতে তোমরা বুঝ।
[3] Verily, we have made it a Qur’ân in
Arabic, that you may be able to
understand (its meanings and its
admonitions).
[4] ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﻓﻰ ﺃُﻡِّ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ ﻟَﺪَﻳﻨﺎ
ﻟَﻌَﻠِﻰٌّ ﺣَﻜﻴﻢٌ
[4] নিশ্চয় এ কোরআন আমার কাছে
সমুন্নত অটল রয়েছে লওহে মাহফুযে।
[4] And Verily, it (this Qur’ân) is in the
Mother of the Book (i.e. Al-Lauh Al-
Mahfûz), with Us, indeed Exalted, full of
Wisdom.
[5] ﺃَﻓَﻨَﻀﺮِﺏُ ﻋَﻨﻜُﻢُ ﺍﻟﺬِّﻛﺮَ
ﺻَﻔﺤًﺎ ﺃَﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ ﻗَﻮﻣًﺎ
ﻣُﺴﺮِﻓﻴﻦَ
[5] তোমরা সীমাতিক্রমকারী
সম্প্রদায়-এ কারণে কি আমি
তোমাদের কাছ থেকে কোরআন
প্রত্যাহার করে নেব?
[5] Shall We then (warn you not and)
take away the Reminder (this Qur’ân)
from you, because you are a people
Musrifûn.
[6] ﻭَﻛَﻢ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﻣِﻦ ﻧَﺒِﻰٍّ ﻓِﻰ
ﺍﻷَﻭَّﻟﻴﻦَ
[6] পূর্ববর্তী লোকদের কাছে আমি
অনেক রসূলই প্রেরণ করেছি।
[6] And how many a Prophet have We
sent amongst the men of old.
[7] ﻭَﻣﺎ ﻳَﺄﺗﻴﻬِﻢ ﻣِﻦ ﻧَﺒِﻰٍّ ﺇِﻟّﺎ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﺑِﻪِ ﻳَﺴﺘَﻬﺰِﺀﻭﻥَ
[7] যখনই তাদের কাছে কোন রসূল
আগমন করেছেন, তখনই তারা তাঁর সাথে
ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছে।
[7] And never came there a Prophet to
them but they used to mock at him.
[8] ﻓَﺄَﻫﻠَﻜﻨﺎ ﺃَﺷَﺪَّ ﻣِﻨﻬُﻢ ﺑَﻄﺸًﺎ
ﻭَﻣَﻀﻰٰ ﻣَﺜَﻞُ ﺍﻷَﻭَّﻟﻴﻦَ
[8] সুতরাং আমি তাদের চেয়ে অধিক
শক্তি সম্পন্নদেরকে ধ্বংস করে
দিয়েছি। পূর্ববর্তীদের এ ঘটনা অতীত
হয়ে গেছে।
[8] Then We destroyed men stronger (in
power) than these,— and the example of
the ancients has passed away (before
them)
[9] ﻭَﻟَﺌِﻦ ﺳَﺄَﻟﺘَﻬُﻢ ﻣَﻦ ﺧَﻠَﻖَ
ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽَ ﻟَﻴَﻘﻮﻟُﻦَّ
ﺧَﻠَﻘَﻬُﻦَّ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ ﺍﻟﻌَﻠﻴﻢُ
[9] আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা
করেন কে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি
করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, এগুলো
সৃষ্টি করেছেন পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ
আল্লাহ।
[9] And indeed if you ask them, “Who
has created the heavens and the earth?”
They will surely say: “The All-Mighty, the
All-Knower created them.”
[10] ﺍﻟَّﺬﻯ ﺟَﻌَﻞَ ﻟَﻜُﻢُ ﺍﻷَﺭﺽَ
ﻣَﻬﺪًﺍ ﻭَﺟَﻌَﻞَ ﻟَﻜُﻢ ﻓﻴﻬﺎ ﺳُﺒُﻠًﺎ
ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢ ﺗَﻬﺘَﺪﻭﻥَ
[10] যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে
করেছেন বিছানা এবং তাতে
তোমাদের জন্যে করেছেন পথ, যাতে
তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার।
[10] Who has made for you the earth like
a bed, and has made for you roads
therein, in order that you may find your
way,
[11] ﻭَﺍﻟَّﺬﻯ ﻧَﺰَّﻝَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ
ﻣﺎﺀً ﺑِﻘَﺪَﺭٍ ﻓَﺄَﻧﺸَﺮﻧﺎ ﺑِﻪِ ﺑَﻠﺪَﺓً
ﻣَﻴﺘًﺎ ۚ ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﺗُﺨﺮَﺟﻮﻥَ
[11] এবং যিনি আকাশ থেকে পানি
বর্ষণ করেছেন পরিমিত। আতঃপর
তদ্দ্বারা আমি মৃত ভূ-ভাগকে
পুনরুজ্জীবিত করেছি। তোমরা
এমনিভাবে উত্থিত হবে।
[11] And Who sends down water (rain)
from the sky in due measure. then We
revive a dead land therewith, and even
so you will be brought forth (from the
gaves),
[12] ﻭَﺍﻟَّﺬﻯ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻷَﺯﻭٰﺝَ ﻛُﻠَّﻬﺎ
ﻭَﺟَﻌَﻞَ ﻟَﻜُﻢ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻔُﻠﻚِ
ﻭَﺍﻷَﻧﻌٰﻢِ ﻣﺎ ﺗَﺮﻛَﺒﻮﻥَ
[12] এবং যিনি সবকিছুর যুগল সৃষ্টি
করেছেন এবং নৌকা ও চতুস্পদ জন্তুকে
তোমাদের জন্যে যানবাহনে পরিণত
করেছেন,
[12] And Who has created all the pairs
and has appointed for you ships and
cattle on which you ride;
[13] ﻟِﺘَﺴﺘَﻮۥﺍ ﻋَﻠﻰٰ ﻇُﻬﻮﺭِﻩِ ﺛُﻢَّ
ﺗَﺬﻛُﺮﻭﺍ ﻧِﻌﻤَﺔَ ﺭَﺑِّﻜُﻢ ﺇِﺫَﺍ
ﺍﺳﺘَﻮَﻳﺘُﻢ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻭَﺗَﻘﻮﻟﻮﺍ
ﺳُﺒﺤٰﻦَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺳَﺨَّﺮَ ﻟَﻨﺎ ﻫٰﺬﺍ
ﻭَﻣﺎ ﻛُﻨّﺎ ﻟَﻪُ ﻣُﻘﺮِﻧﻴﻦَ
[13] যাতে তোমরা তাদের পিঠের উপর
আরোহণ কর। অতঃপর তোমাদের
পালনকর্তার নেয়ামত স্মরণ কর এবং বল
পবিত্র তিনি, যিনি এদেরকে আমাদের
বশীভূত করে দিয়েছেন এবং আমরা
এদেরকে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম
না।
[13] In order that you may mount on
their backs, and then may remember the
Favour of your Lord when you mount
thereon, and say: “Glory to Him who has
subjected this to us, and we could never
have it (by our efforts).”
[14] ﻭَﺇِﻧّﺎ ﺇِﻟﻰٰ ﺭَﺑِّﻨﺎ ﻟَﻤُﻨﻘَﻠِﺒﻮﻥَ
[14] আমরা অবশ্যই আমাদের
পালনকর্তার দিকে ফিরে যাব।
[14] And verily, to Our Lord we indeed
are to return!
[15] ﻭَﺟَﻌَﻠﻮﺍ ﻟَﻪُ ﻣِﻦ ﻋِﺒﺎﺩِﻩِ
ﺟُﺰﺀًﺍ ۚ ﺇِﻥَّ ﺍﻹِﻧﺴٰﻦَ ﻟَﻜَﻔﻮﺭٌ
ﻣُﺒﻴﻦٌ
[15] তারা আল্লাহর বান্দাদের মধ্য
থেকে আল্লাহর অংশ স্থির করেছে।
বাস্তবিক মানুষ স্পষ্ট অকৃতজ্ঞ।
[15] Yet they assign to some of His slaves
a share with Him (by pretending that He
has children, and considering them as
equals or co-partners in worship with
Him). Verily, man is indeed a manifest
ingrate!
[16] ﺃَﻡِ ﺍﺗَّﺨَﺬَ ﻣِﻤّﺎ ﻳَﺨﻠُﻖُ ﺑَﻨﺎﺕٍ
ﻭَﺃَﺻﻔﻯٰﻜُﻢ ﺑِﺎﻟﺒَﻨﻴﻦَ
[16] তিনি কি তাঁর সৃষ্টি থেকে কন্যা
সন্তান গ্রহণ করেছেন এবং তোমাদের
জন্য মনোনীত করেছেন পুত্র সন্তান?
[16] Or has He taken daughters out of
what He has created, and He has selected
for you sons?
[17] ﻭَﺇِﺫﺍ ﺑُﺸِّﺮَ ﺃَﺣَﺪُﻫُﻢ ﺑِﻤﺎ
ﺿَﺮَﺏَ ﻟِﻠﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﻣَﺜَﻠًﺎ ﻇَﻞَّ
ﻭَﺟﻬُﻪُ ﻣُﺴﻮَﺩًّﺍ ﻭَﻫُﻮَ ﻛَﻈﻴﻢٌ
[17] তারা রহমান আল্লাহর জন্যে যে,
কন্যা-সন্তান বর্ণনা করে, যখন তাদের
কাউকে তার সংবাদ দেয়া হয়, তখন তার
মুখমন্ডল কালো হয়ে যায় এবং ভীষণ
মনস্তাপ ভোগ করে।
[17] And if one of them is informed of
the news of (the birth of a girl) that
which he set forth as a parable to the
Most Gracious (Allâh) (i.e. of a girl), his
face becomes dark, gloomy, and he is
filled with grief!
[18] ﺃَﻭَﻣَﻦ ﻳُﻨَﺸَّﺆُﺍ۟ ﻓِﻰ ﺍﻟﺤِﻠﻴَﺔِ
ﻭَﻫُﻮَ ﻓِﻰ ﺍﻟﺨِﺼﺎﻡِ ﻏَﻴﺮُ ﻣُﺒﻴﻦٍ
[18] তারা কি এমন ব্যক্তিকে আল্লাহর
জন্যে বর্ণনা করে, যে অলংকারে
লালিত-পালিত হয় এবং বিতর্কে কথা
বলতে অক্ষম।
[18] (Like they then for Allâh) a creature
who is brought up in adornments
(wearing silk and gold ornaments, i.e.
women), and who in dispute cannot
make herself clear?
[19] ﻭَﺟَﻌَﻠُﻮﺍ ﺍﻟﻤَﻠٰﺌِﻜَﺔَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻫُﻢ ﻋِﺒٰﺪُ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺇِﻧٰﺜًﺎ ۚ
ﺃَﺷَﻬِﺪﻭﺍ ﺧَﻠﻘَﻬُﻢ ۚ ﺳَﺘُﻜﺘَﺐُ
ﺷَﻬٰﺪَﺗُﻬُﻢ ﻭَﻳُﺴـَٔﻠﻮﻥَ
[19] তারা নারী স্থির করে
ফেরেশতাগণকে, যারা আল্লাহর
বান্দা। তারা কি তাদের সৃষ্টি
প্রত্যক্ষ করেছে? এখন তাদের দাবী
লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তাদের
জিজ্ঞাসা করা হবে।
[19] And they make the angels who
themselves are slaves of the Most
Gracious (Allâh) females. Did they
witness their creation? Their testimony
will be recorded, and they will be
questioned!
[20] ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ ﻟَﻮ ﺷﺎﺀَ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦُ
ﻣﺎ ﻋَﺒَﺪﻧٰﻬُﻢ ۗ ﻣﺎ ﻟَﻬُﻢ ﺑِﺬٰﻟِﻚَ ﻣِﻦ
ﻋِﻠﻢٍ ۖ ﺇِﻥ ﻫُﻢ ﺇِﻟّﺎ ﻳَﺨﺮُﺻﻮﻥَ
[20] তারা বলে, রহমান আল্লাহ ইচছা
না করলে আমরা ওদের পূজা করতাম না।
এ বিষয়ে তারা কিছুই জানে না। তারা
কেবল অনুমানে কথা বলে।
[20] And they said: “If it had been the
Will of the Most Gracious (Allâh), we
should not have worshipped them (false
deities).” They have no knowledge
whatsoever of that. They do nothing but
lie!
[21] ﺃَﻡ ﺀﺍﺗَﻴﻨٰﻬُﻢ ﻛِﺘٰﺒًﺎ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻠِﻪِ
ﻓَﻬُﻢ ﺑِﻪِ ﻣُﺴﺘَﻤﺴِﻜﻮﻥَ
[21] আমি কি তাদেরকে কোরআনের
পূর্বে কোন কিতাব দিয়েছি, অতঃপর
তারা তাকে আঁকড়ে রেখেছে?
[21] Or have We given them any Book
before this (the Qur’ân), to which they
are holding fast?
[22] ﺑَﻞ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺇِﻧّﺎ ﻭَﺟَﺪﻧﺎ
ﺀﺍﺑﺎﺀَﻧﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﺃُﻣَّﺔٍ ﻭَﺇِﻧّﺎ ﻋَﻠﻰٰ
ﺀﺍﺛٰﺮِﻫِﻢ ﻣُﻬﺘَﺪﻭﻥَ
[22] বরং তারা বলে, আমরা আমাদের
পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছি এক পথের
পথিক এবং আমরা তাদেরই পদাংক
অনুসরণ করে পথপ্রাপ্ত।
[22] Nay! They say: “We found our
fathers following a certain way and
religion, and we guide ourselves by their
footsteps.”
[23] ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻣﺎ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﻣِﻦ
ﻗَﺒﻠِﻚَ ﻓﻰ ﻗَﺮﻳَﺔٍ ﻣِﻦ ﻧَﺬﻳﺮٍ ﺇِﻟّﺎ
ﻗﺎﻝَ ﻣُﺘﺮَﻓﻮﻫﺎ ﺇِﻧّﺎ ﻭَﺟَﺪﻧﺎ
ﺀﺍﺑﺎﺀَﻧﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﺃُﻣَّﺔٍ ﻭَﺇِﻧّﺎ ﻋَﻠﻰٰ
ﺀﺍﺛٰﺮِﻫِﻢ ﻣُﻘﺘَﺪﻭﻥَ
[23] এমনিভাবে আপনার পূর্বে আমি
যখন কোন জনপদে কোন সতর্ককারী
প্রেরণ করেছি, তখনই তাদের
বিত্তশালীরা বলেছে, আমরা আমাদের
পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছি এক পথের
পথিক এবং আমরা তাদেরই পদাংক
অনুসরণ করে চলছি।
[23] And similarly, We sent not a warner
before you (O Muhammad SAW) to any
town (people) but the luxurious ones
among them said: “We found our fathers
following a certain way and religion,
and we will indeed follow their
footsteps.”
[24] ۞ ﻗٰﻞَ ﺃَﻭَﻟَﻮ ﺟِﺌﺘُﻜُﻢ
ﺑِﺄَﻫﺪﻯٰ ﻣِﻤّﺎ ﻭَﺟَﺪﺗُﻢ ﻋَﻠَﻴﻪِ
ﺀﺍﺑﺎﺀَﻛُﻢ ۖ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺇِﻧّﺎ ﺑِﻤﺎ
ﺃُﺭﺳِﻠﺘُﻢ ﺑِﻪِ ﻛٰﻔِﺮﻭﻥَ
[24] সে বলত, তোমরা তোমাদের
পূর্বপুরুষদেরকে যে বিষয়ের উপর
পেয়েছ, আমি যদি তদপেক্ষা উত্তম
বিষয় নিয়ে তোমাদের কাছে এসে
থাকি, তবুও কি তোমরা তাই বলবে?
তারা বলত তোমরা যে বিষয়সহ
প্রেরিত হয়েছ, তা আমরা মানব না।
[24] (The warner) said: “Even if I bring
you better guidance than that which you
found your fathers following?” They
said: “Verily, We disbelieve in that with
which you have been sent.”
[25] ﻓَﺎﻧﺘَﻘَﻤﻨﺎ ﻣِﻨﻬُﻢ ۖ ﻓَﺎﻧﻈُﺮ
ﻛَﻴﻒَ ﻛﺎﻥَ ﻋٰﻘِﺒَﺔُ ﺍﻟﻤُﻜَﺬِّﺑﻴﻦَ
[25] অতঃপর আমি তাদের কাছ থেকে
প্রতিশোধ নিয়েছি। অতএব দেখুন,
মিথ্যারোপকারীদের পরিণাম কিরূপ
হয়েছে।
[25] So We took revenge of them, then
see what was the end of those who
denied (Islâmic Monotheism).
[26] ﻭَﺇِﺫ ﻗﺎﻝَ ﺇِﺑﺮٰﻫﻴﻢُ ﻟِﺄَﺑﻴﻪِ
ﻭَﻗَﻮﻣِﻪِ ﺇِﻧَّﻨﻰ ﺑَﺮﺍﺀٌ ﻣِﻤّﺎ
ﺗَﻌﺒُﺪﻭﻥَ
[26] যখন ইব্রাহীম তার পিতা ও
সম্প্রদায়কে বলল, তোমরা যাদের
পূজা কর, তাদের সাথে আমার কোন
সম্পর্ক নেই।
[26] And (remember) when Ibrahîm
(Abraham) said to his father and his
people: “Verily, I am innocent of what
you worship,
[27] ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻓَﻄَﺮَﻧﻰ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ
ﺳَﻴَﻬﺪﻳﻦِ
[27] তবে আমার সম্পর্ক তাঁর সাথে
যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতএব,
তিনিই আমাকে সৎপথ প্রদর্শন করবেন।
[27] “Except Him (i.e. but Allâh Alone I
worship none) Who did create me, and
verily, He will guide me.”
[28] ﻭَﺟَﻌَﻠَﻬﺎ ﻛَﻠِﻤَﺔً ﺑﺎﻗِﻴَﺔً ﻓﻰ
ﻋَﻘِﺒِﻪِ ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ ﻳَﺮﺟِﻌﻮﻥَ
[28] এ কথাটিকে সে অক্ষয় বাণীরূপে
তার সন্তানদের মধ্যে রেখে গেছে,
যাতে তারা আল্লাহর দিকেই আকৃষ্ট
থাকে।
[28] And he made it [i.e. Lâ ilâha ill-allâh
(none has the right to be worshipped but
Allâh Alone)] a Word lasting among his
offspring, that they may turn back (i.e. to
repent to Allâh or receive admonition).
[29] ﺑَﻞ ﻣَﺘَّﻌﺖُ ﻫٰﺆُﻻﺀِ
ﻭَﺀﺍﺑﺎﺀَﻫُﻢ ﺣَﺘّﻰٰ ﺟﺎﺀَﻫُﻢُ
ﺍﻟﺤَﻖُّ ﻭَﺭَﺳﻮﻝٌ ﻣُﺒﻴﻦٌ
[29] পরন্ত আমিই এদেরকে ও এদের
পূর্বপুরুষদেরকে জীবনোপভোগ করতে
দিয়েছি, অবশেষে তাদের কাছে সত্য
ও স্পষ্ট বর্ণনাকারী রসূল আগমন
করেছে।
[29] Nay, but I gave (the good things of
this life) to these (polytheists) and their
fathers to enjoy, till there came to them
the truth (the Qur’ân), and a Messenger
(Muhammad SAW) making things clear.
[30] ﻭَﻟَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَﻫُﻢُ ﺍﻟﺤَﻖُّ ﻗﺎﻟﻮﺍ
ﻫٰﺬﺍ ﺳِﺤﺮٌ ﻭَﺇِﻧّﺎ ﺑِﻪِ ﻛٰﻔِﺮﻭﻥَ
[30] যখন সত্য তাদের কাছে আগমন করল,
তখন তারা বলল, এটা যাদু, আমরা একে
মানি না।
[30] And when the truth (this Qur’ân)
came to them, they (the disbelievers in
this Qur’ân) said: “This is magic, and we
disbelieve therein.”
[31] ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ ﻟَﻮﻻ ﻧُﺰِّﻝَ ﻫٰﺬَﺍ
ﺍﻟﻘُﺮﺀﺍﻥُ ﻋَﻠﻰٰ ﺭَﺟُﻞٍ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻘَﺮﻳَﺘَﻴﻦِ ﻋَﻈﻴﻢٍ
[31] তারা বলে, কোরআন কেন দুই
জনপদের কোন প্রধান ব্যক্তির উপর
অবতীর্ণ হল না?
[31] And they say: “Why is not this
Qur’ân sent down to some great man of
the two towns (Makkah and Tâ’if)?”
[32] ﺃَﻫُﻢ ﻳَﻘﺴِﻤﻮﻥَ ﺭَﺣﻤَﺖَ
ﺭَﺑِّﻚَ ۚ ﻧَﺤﻦُ ﻗَﺴَﻤﻨﺎ ﺑَﻴﻨَﻬُﻢ
ﻣَﻌﻴﺸَﺘَﻬُﻢ ﻓِﻰ ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓِ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ۚ
ﻭَﺭَﻓَﻌﻨﺎ ﺑَﻌﻀَﻬُﻢ ﻓَﻮﻕَ ﺑَﻌﺾٍ
ﺩَﺭَﺟٰﺖٍ ﻟِﻴَﺘَّﺨِﺬَ ﺑَﻌﻀُﻬُﻢ ﺑَﻌﻀًﺎ
ﺳُﺨﺮِﻳًّﺎ ۗ ﻭَﺭَﺣﻤَﺖُ ﺭَﺑِّﻚَ ﺧَﻴﺮٌ
ﻣِﻤّﺎ ﻳَﺠﻤَﻌﻮﻥَ
[32] তারা কি আপনার পালনকর্তার
রহমত বন্টন করে? আমি তাদের মধ্যে
তাদের জীবিকা বন্টন করেছি পার্থিব
জীবনে এবং একের মর্যাদাকে অপরের
উপর উন্নীত করেছি, যাতে একে
অপরকে সেবক রূপে গ্রহণ করে। তারা
যা সঞ্চয় করে, আপনার পালনকর্তার
রহমত তদপেক্ষা উত্তম।
[32] Is it they who would portion out the
Mercy of your Lord? It is We Who
portion out between them their
livelihood in this world, and We raised
some of them above others in ranks, so
that some may employ others in their
work. But the Mercy (Paradise) of your
Lord (O Muhammad SAW) is better than
the (wealth of this world) which they
amass.
[33] ﻭَﻟَﻮﻻ ﺃَﻥ ﻳَﻜﻮﻥَ ﺍﻟﻨّﺎﺱُ
ﺃُﻣَّﺔً ﻭٰﺣِﺪَﺓً ﻟَﺠَﻌَﻠﻨﺎ ﻟِﻤَﻦ ﻳَﻜﻔُﺮُ
ﺑِﺎﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﻟِﺒُﻴﻮﺗِﻬِﻢ ﺳُﻘُﻔًﺎ ﻣِﻦ
ﻓِﻀَّﺔٍ ﻭَﻣَﻌﺎﺭِﺝَ ﻋَﻠَﻴﻬﺎ
ﻳَﻈﻬَﺮﻭﻥَ
[33] যদি সব মানুষের এক মতাবলম্বী
হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, তবে
যারা দয়াময় আল্লাহকে অস্বীকার
করে আমি তাদেরকে দিতাম তাদের
গৃহের জন্যে রৌপ্য নির্মিত ছাদ ও
সিঁড়ি, যার উপর তারা চড়ত।
[33] And were it not that all mankind
would have become of one community
(all disbelievers, desiring worldly life
only), We would have provided for those
who disbelieve in the Most Gracious
(Allâh), silver roofs for their houses, and
elevators whereby they ascend,
[34] ﻭَﻟِﺒُﻴﻮﺗِﻬِﻢ ﺃَﺑﻮٰﺑًﺎ ﻭَﺳُﺮُﺭًﺍ
ﻋَﻠَﻴﻬﺎ ﻳَﺘَّﻜِـٔﻮﻥَ
[34] এবং তাদের গৃহের জন্যে দরজা
দিতাম এবং পালংক দিতাম যাতে
তারা হেলান দিয়ে বসত।
[34] And for their houses, doors (of
silver), and thrones (of silver) on which
they could recline,
[35] ﻭَﺯُﺧﺮُﻓًﺎ ۚ ﻭَﺇِﻥ ﻛُﻞُّ ﺫٰﻟِﻚَ
ﻟَﻤّﺎ ﻣَﺘٰﻊُ ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓِ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ۚ
ﻭَﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓُ ﻋِﻨﺪَ ﺭَﺑِّﻚَ
ﻟِﻠﻤُﺘَّﻘﻴﻦَ
[35] এবং স্বর্ণনির্মিতও দিতাম।
এগুলো সবই তো পার্থিব জীবনের
ভোগ সামগ্রী মাত্র। আর পরকাল
আপনার পালনকর্তার কাছে তাঁদের
জন্যেই যারা ভয় করে।
[35] And adornments of gold. Yet all this
(i.e. the roofs, doors, stairs, elevators,
thrones of their houses) would have been
nothing but an enjoyment of this world.
And the Hereafter with your Lord is
(only) for the Muttaqûn.
[36] ﻭَﻣَﻦ ﻳَﻌﺶُ ﻋَﻦ ﺫِﻛﺮِ
ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﻧُﻘَﻴِّﺾ ﻟَﻪُ ﺷَﻴﻄٰﻨًﺎ
ﻓَﻬُﻮَ ﻟَﻪُ ﻗَﺮﻳﻦٌ
[36] যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ
থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার
জন্যে এক শয়তান নিয়োজিত করে
দেই, অতঃপর সে-ই হয় তার সঙ্গী।
[36] And whosoever turns away blindly
from the remembrance of the Most
Gracious (Allâh) (i.e. this Qur’ân and
worship of Allâh), We appoint for him
Shaitân (Satan devil) to be a Qarîn (a
intimate companion) to him.
[37] ﻭَﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻟَﻴَﺼُﺪّﻭﻧَﻬُﻢ ﻋَﻦِ
ﺍﻟﺴَّﺒﻴﻞِ ﻭَﻳَﺤﺴَﺒﻮﻥَ ﺃَﻧَّﻬُﻢ
ﻣُﻬﺘَﺪﻭﻥَ
[37] শয়তানরাই মানুষকে সৎপথে বাধা
দান করে, আর মানুষ মনে করে যে, তারা
সৎপথে রয়েছে।
[37] And verily, they (Satans / devils)
hinder them from the Path (of Allâh), but
they think that they are guided aright!
[38] ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ ﺟﺎﺀَﻧﺎ ﻗﺎﻝَ
ﻳٰﻠَﻴﺖَ ﺑَﻴﻨﻰ ﻭَﺑَﻴﻨَﻚَ ﺑُﻌﺪَ
ﺍﻟﻤَﺸﺮِﻗَﻴﻦِ ﻓَﺒِﺌﺲَ ﺍﻟﻘَﺮﻳﻦُ
[38] অবশেষে যখন সে আমার কাছে
আসবে, তখন সে শয়তানকে বলবে, হায়,
আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব-
পশ্চিমের দূরত্ব থাকত। কত হীন সঙ্গী
সে।
[38] Till, when (such a one) comes to Us,
he says [to his Qarîn (Satan / devil
companion)] “Would that between me
and you were the distance of the two
easts (or the east and west)” a worst
(type of) companion (indeed)!
[39] ﻭَﻟَﻦ ﻳَﻨﻔَﻌَﻜُﻢُ ﺍﻟﻴَﻮﻡَ ﺇِﺫ
ﻇَﻠَﻤﺘُﻢ ﺃَﻧَّﻜُﻢ ﻓِﻰ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏِ
ﻣُﺸﺘَﺮِﻛﻮﻥَ
[39] তোমরা যখন কুফর করছিলে, তখন
তোমাদের আজকের আযাবে শরীক
হওয়া কোন কাজে আসবে না।
[39] It will profit you not this Day (O you
who turn away from Allâh’s
remembrance and His worship) as you
did wrong, (and) that you will be sharers
(you and your Qarîn) in the punishment.
[40] ﺃَﻓَﺄَﻧﺖَ ﺗُﺴﻤِﻊُ ﺍﻟﺼُّﻢَّ ﺃَﻭ
ﺗَﻬﺪِﻯ ﺍﻟﻌُﻤﻰَ ﻭَﻣَﻦ ﻛﺎﻥَ ﻓﻰ
ﺿَﻠٰﻞٍ ﻣُﺒﻴﻦٍ
[40] আপনি কি বধিরকে শোনাতে
পারবেন? অথবা যে অন্ধ ও যে স্পষ্ট পথ
ভ্রষ্টতায় লিপ্ত, তাকে পথ প্রদর্শণ
করতে পারবেন?
[40] Can you (O Muhammad SAW) make
the deaf to hear, or can you guide the
blind or him who is in manifest error?
[41] ﻓَﺈِﻣّﺎ ﻧَﺬﻫَﺒَﻦَّ ﺑِﻚَ ﻓَﺈِﻧّﺎ
ﻣِﻨﻬُﻢ ﻣُﻨﺘَﻘِﻤﻮﻥَ
[41] অতঃপর আমি যদি আপনাকে নিয়ে
যাই, তবু আমি তাদের কাছে থেকে
প্রতিশোধ নেব।
[41] And even if We take you (O
Muhammad SAW) away, We shall indeed
take vengeance on them.
[42] ﺃَﻭ ﻧُﺮِﻳَﻨَّﻚَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻭَﻋَﺪﻧٰﻬُﻢ
ﻓَﺈِﻧّﺎ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻣُﻘﺘَﺪِﺭﻭﻥَ
[42] অথবা যদি আমি তাদেরকে যে
আযাবের ওয়াদা দিয়েছি, তা
আপনাকে দেখিয়ে দেই, তবু তাদের উপর
আমার পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে।
[42] Or (if) We show you that wherewith
We threaten them, then verily, We have
perfect command over them.
[43] ﻓَﺎﺳﺘَﻤﺴِﻚ ﺑِﺎﻟَّﺬﻯ ﺃﻭﺣِﻰَ
ﺇِﻟَﻴﻚَ ۖ ﺇِﻧَّﻚَ ﻋَﻠﻰٰ ﺻِﺮٰﻁٍ
ﻣُﺴﺘَﻘﻴﻢٍ
[43] অতএব, আপনার প্রতি যে ওহী
নাযিল করা হয়, তা দৃঢ়ভাবে অবলম্বন
করুন। নিঃসন্দেহে আপনি সরল পথে
রয়েছেন।
[43] So hold you (O Muhammad SAW)
fast to that which is revealed to you.
Verily you are on the Straight Path.
[44] ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﺬِﻛﺮٌ ﻟَﻚَ ﻭَﻟِﻘَﻮﻣِﻚَ ۖ
ﻭَﺳَﻮﻑَ ﺗُﺴـَٔﻠﻮﻥَ
[44] এটা আপনার ও আপনার সম্প্রদায়ের
জন্যে উল্লেখিত থাকবে এবং শীঘ্রই
আপনারা জিজ্ঞাসিত হবেন।
[44] And verily, this (the Qur’ân) is
indeed a Reminder for you (O
Muhammad SAW) and your people
(Quraish people, or your followers), and
you will be questioned (about it).
[45] ﻭَﺳـَٔﻞ ﻣَﻦ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﻣِﻦ
ﻗَﺒﻠِﻚَ ﻣِﻦ ﺭُﺳُﻠِﻨﺎ ﺃَﺟَﻌَﻠﻨﺎ ﻣِﻦ
ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺀﺍﻟِﻬَﺔً ﻳُﻌﺒَﺪﻭﻥَ
[45] আপনার পূর্বে আমি যেসব রসূল
প্রেরণ করেছি, তাদেরকে জিজ্ঞেস
করুন, দয়াময় আল্লাহ ব্যতীত আমি কি
কোন উপাস্য স্থির করেছিলাম
এবাদতের জন্যে?
[45] And ask (O Muhammad SAW) those
of Our Messengers whom We sent before
you: “Did We ever appoint âlihah (gods)
to be worshipped besides the Most
Gracious (Allâh)?”
[46] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﻣﻮﺳﻰٰ
ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ﺇِﻟﻰٰ ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ ﻭَﻣَﻠَﺈِﻳ۟ﻪِ
ﻓَﻘﺎﻝَ ﺇِﻧّﻰ ﺭَﺳﻮﻝُ ﺭَﺏِّ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[46] আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলী
দিয়ে ফেরাউন ও তার পরিষদবর্গের
কাছে প্রেরণ করেছিলাম, অতঃপর সে
বলেছিল, আমি বিশ্ব পালনকর্তার
রসূল।
[46] And indeed We did send Mûsa
(Moses) with Our Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) to Fir’aun (Pharaoh)
and his chiefs (inviting them to Allâh’s
religion of Islâm) He said: “Verily, I am a
Messenger of the Lord of the ‘Alamîn
(mankind, jinn and all that exists).”
[47] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَﻫُﻢ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ﺇِﺫﺍ
ﻫُﻢ ﻣِﻨﻬﺎ ﻳَﻀﺤَﻜﻮﻥَ
[47] অতঃপর সে যখন তাদের কাছে
আমার নিদর্শনাবলী উপস্থাপন করল,
তখন তারা হাস্যবিদ্রুপ করতে লাগল।
[47] But when he came to them with Our
Ayât (proofs, evidences, verses, lessons,
signs, revelations) behold, they laughed
at them.
[48] ﻭَﻣﺎ ﻧُﺮﻳﻬِﻢ ﻣِﻦ ﺀﺍﻳَﺔٍ ﺇِﻟّﺎ
ﻫِﻰَ ﺃَﻛﺒَﺮُ ﻣِﻦ ﺃُﺧﺘِﻬﺎ ۖ
ﻭَﺃَﺧَﺬﻧٰﻬُﻢ ﺑِﺎﻟﻌَﺬﺍﺏِ ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ
ﻳَﺮﺟِﻌﻮﻥَ
[48] আমি তাদেরকে যে নিদর্শনই
দেখাতাম, তাই হত পূর্ববর্তী নিদর্শন
অপেক্ষা বৃহৎ এবং আমি তাদেরকে
শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলাম, যাতে
তারা ফিরে আসে।
[48] And not an Ayâh (sign, etc.) We
showed them but it was greater than its
fellow, and We seized them with
torment, in order that they might turn
[from their polytheism to Allâh’s religion
(Islâmic Monotheism)].
[49] ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﺄَﻳُّﻪَ ﺍﻟﺴّﺎﺣِﺮُ ﺍﺩﻉُ
ﻟَﻨﺎ ﺭَﺑَّﻚَ ﺑِﻤﺎ ﻋَﻬِﺪَ ﻋِﻨﺪَﻙَ ﺇِﻧَّﻨﺎ
ﻟَﻤُﻬﺘَﺪﻭﻥَ
[49] তারা বলল, হে যাদুকর, তুমি
আমাদের জন্যে তোমার পালনকর্তার
কাছে সে বিষয় প্রার্থনা কর, যার
ওয়াদা তিনি তোমাকে দিয়েছেন;
আমরা অবশ্যই সৎপথ অবলম্বন করব।
[49] And they said [to Mûsa (Moses)]: “O
you sorcerer! Invoke your Lord for us
according to what He has covenanted
with you. Verily, We shall guide
ourselves (aright).”
[50] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﻛَﺸَﻔﻨﺎ ﻋَﻨﻬُﻢُ
ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏَ ﺇِﺫﺍ ﻫُﻢ ﻳَﻨﻜُﺜﻮﻥَ
[50] অতঃপর যখন আমি তাদের থেকে
আযাব প্রত্যাহার করে নিলাম, তখনই
তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করতে লাগলো।
[50] But when We removed the torment
from them, behold, they broke their
covenant (that they will believe if We
remove the torment from them).
[51] ﻭَﻧﺎﺩﻯٰ ﻓِﺮﻋَﻮﻥُ ﻓﻰ ﻗَﻮﻣِﻪِ
ﻗﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺃَﻟَﻴﺲَ ﻟﻰ ﻣُﻠﻚُ
ﻣِﺼﺮَ ﻭَﻫٰﺬِﻩِ ﺍﻷَﻧﻬٰﺮُ ﺗَﺠﺮﻯ ﻣِﻦ
ﺗَﺤﺘﻰ ۖ ﺃَﻓَﻼ ﺗُﺒﺼِﺮﻭﻥَ
[51] ফেরাউন তার সম্প্রদায়কে ডেকে
বলল, হে আমার কওম, আমি কি মিসরের
অধিপতি নই? এই নদী গুলো আমার
নিম্নদেশে প্রবাহিত হয়, তোমরা কি
দেখ না?
[51] And Fir’aun (Pharaoh) proclaimed
among his people, (saying:) “O my
people! Is not mine the dominion of
Egypt, and these rivers flowing
underneath me. See you not then?
[52] ﺃَﻡ ﺃَﻧﺎ۠ ﺧَﻴﺮٌ ﻣِﻦ ﻫٰﺬَﺍ ﺍﻟَّﺬﻯ
ﻫُﻮَ ﻣَﻬﻴﻦٌ ﻭَﻻ ﻳَﻜﺎﺩُ ﻳُﺒﻴﻦُ
[52] আমি যে শ্রেষ্ট এ ব্যক্তি থেকে,
যে নীচ এবং কথা বলতেও সক্ষম নয়।
[52] “Am I not better than this one [Mûsa
(Moses)], who is despicable] and can
scarcely express himself clearly?
[53] ﻓَﻠَﻮﻻ ﺃُﻟﻘِﻰَ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺃَﺳﻮِﺭَﺓٌ
ﻣِﻦ ﺫَﻫَﺐٍ ﺃَﻭ ﺟﺎﺀَ ﻣَﻌَﻪُ
ﺍﻟﻤَﻠٰﺌِﻜَﺔُ ﻣُﻘﺘَﺮِﻧﻴﻦَ
[53] তাকে কেন স্বর্ণবলয় পরিধান
করানো হল না, অথবা কেন আসল না
তার সঙ্গে ফেরেশতাগণ দল বেঁধে?
[53] “Why then are not golden bracelets
bestowed on him, or angels sent along
with him?”
[54] ﻓَﺎﺳﺘَﺨَﻒَّ ﻗَﻮﻣَﻪُ
ﻓَﺄَﻃﺎﻋﻮﻩُ ۚ ﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻗَﻮﻣًﺎ
ﻓٰﺴِﻘﻴﻦَ
[54] অতঃপর সে তার সম্প্রদায়কে
বোকা বানিয়ে দিল, ফলে তারা তার
কথা মেনে নিল। নিশ্চয় তারা ছিল
পাপাচারী সম্প্রদায়।
[54] Thus he [Fir’aun (Pharaoh)] befooled
(and misled) his people, and they obeyed
him. Verily, they were ever a people who
were Fâsiqûn (rebellious, disobedient to
Allâh).
[55] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺀﺍﺳَﻔﻮﻧَﺎ ﺍﻧﺘَﻘَﻤﻨﺎ
ﻣِﻨﻬُﻢ ﻓَﺄَﻏﺮَﻗﻨٰﻬُﻢ ﺃَﺟﻤَﻌﻴﻦَ
[55] অতঃপর যখন আমাকে রাগাম্বিত
করল তখন আমি তাদের কাছ থেকে
প্রতিশোধ নিলাম এবং নিমজ্জত
করলাম। তাদের সবাইকে।
[55] So when they angered Us, We
punished them, and drowned them all.
[56] ﻓَﺠَﻌَﻠﻨٰﻬُﻢ ﺳَﻠَﻔًﺎ ﻭَﻣَﺜَﻠًﺎ
ﻟِﻞﺀﺍﺧِﺮﻳﻦَ
[56] অতঃপর আমি তাদেরকে করে
দিলাম অতীত লোক ও দৃষ্টান্ত
পরবর্তীদের জন্যে।
[56] And We made them a precedent (as
a lesson for those coming after them),
and an example to later generations.
[57] ۞ ﻭَﻟَﻤّﺎ ﺿُﺮِﺏَ ﺍﺑﻦُ ﻣَﺮﻳَﻢَ
ﻣَﺜَﻠًﺎ ﺇِﺫﺍ ﻗَﻮﻣُﻚَ ﻣِﻨﻪُ ﻳَﺼِﺪّﻭﻥَ
[57] যখনই মরিয়ম তনয়ের দৃষ্টান্ত বর্ণনা
করা হল, তখনই আপনার সম্প্রদায়
হঞ্জগোল শুরু করে দিল
[57] And when the son of Maryam
(Mary) is quoted as an example [i.e. ‘Īsā
(Jesus) is worshipped like their idols),
behold! Your people cry aloud (laugh out
at the example).
[58] ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ ﺀَﺃٰﻟِﻬَﺘُﻨﺎ ﺧَﻴﺮٌ ﺃَﻡ
ﻫُﻮَ ۚ ﻣﺎ ﺿَﺮَﺑﻮﻩُ ﻟَﻚَ ﺇِﻟّﺎ ﺟَﺪَﻟًﺎ ۚ
ﺑَﻞ ﻫُﻢ ﻗَﻮﻡٌ ﺧَﺼِﻤﻮﻥَ
[58] এবং বলল, আমাদের উপাস্যরা
শ্রেষ্ঠ, না সে? তারা আপনার সামনে
যে উদাহরণ উপস্থাপন করে তা কেবল
বিতর্কের জন্যেই করে। বস্তুতঃ তারা
হল এক বিতর্ককারী সম্প্রদায়।
[58] And say: “Are our âlihah (gods)
better or is he [‘Īsā (Jesus)]?” They quoted
not the above example except for
argument. Nay! But they are a
quarrelsome people. [(See VV.
21:97-101)]
[59] ﺇِﻥ ﻫُﻮَ ﺇِﻟّﺎ ﻋَﺒﺪٌ ﺃَﻧﻌَﻤﻨﺎ
ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻭَﺟَﻌَﻠﻨٰﻪُ ﻣَﺜَﻠًﺎ ﻟِﺒَﻨﻰ
ﺇِﺳﺮٰﺀﻳﻞَ
[59] সে তো এক বান্দাই বটে আমি
তার প্রতি অনুগ্রহ করেছি এবং তাকে
করেছি বণী-ইসরাঈলের জন্যে আদর্শ।
[59] He [‘Īsā (Jesus)] was not more than a
slave. We granted Our Favour to him,
and We made him an example for the
Children of Israel (i.e. his creation
without a father).
[60] ﻭَﻟَﻮ ﻧَﺸﺎﺀُ ﻟَﺠَﻌَﻠﻨﺎ ﻣِﻨﻜُﻢ
ﻣَﻠٰﺌِﻜَﺔً ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﻳَﺨﻠُﻔﻮﻥَ
[60] আমি ইচ্ছা করলে তোমাদের
থেকে ফেরেশতা সৃষ্টি করতাম, যারা
পৃথিবীতে একের পর এক বসবাস করত।
[60] And if it were Our Will, We would
have [destroyed you (mankind) all, and]
made angels to replace you on the earth.
[Tafsir At-Tabarî].
[61] ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻌِﻠﻢٌ ﻟِﻠﺴّﺎﻋَﺔِ ﻓَﻼ
ﺗَﻤﺘَﺮُﻥَّ ﺑِﻬﺎ ﻭَﺍﺗَّﺒِﻌﻮﻥِ ۚ ﻫٰﺬﺍ
ﺻِﺮٰﻁٌ ﻣُﺴﺘَﻘﻴﻢٌ
[61] সুতরাং তা হল কেয়ামতের
নিদর্শন। কাজেই তোমরা কেয়ামতে
সন্দেহ করো না এবং আমার কথা মান।
এটা এক সরল পথ।
[61] And he [‘Īsā (Jesus), son of Maryam
(Mary)] shall be a known sign for (the
coming of) the Hour (Day of
Resurrection) [i.e. ‘Īsā’s (Jesus) descent
on the earth] . Therefore have no doubt
concerning it (i.e. the Day of
Resurrection). And follow Me (Allâh) (i.e.
be obedient to Allâh and do what He
orders you to do, O mankind)! This is the
Straight Path (of Islâmic Monotheism,
leading to Allâh and to His Paradise).
[62] ﻭَﻻ ﻳَﺼُﺪَّﻧَّﻜُﻢُ ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦُ ۖ
ﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻜُﻢ ﻋَﺪُﻭٌّ ﻣُﺒﻴﻦٌ
[62] শয়তান যেন তোমাদেরকে নিবৃত্ত
না করে। সে তোমাদের প্রকাশ্য শুত্রু।
[62] And let not Shaitân (Satan) hinder
you (from the right religion, i.e. Islâmic
Monotheism), Verily, he (Satan) to you is
a plain enemy.
[63] ﻭَﻟَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَ ﻋﻴﺴﻰٰ
ﺑِﺎﻟﺒَﻴِّﻨٰﺖِ ﻗﺎﻝَ ﻗَﺪ ﺟِﺌﺘُﻜُﻢ
ﺑِﺎﻟﺤِﻜﻤَﺔِ ﻭَﻟِﺄُﺑَﻴِّﻦَ ﻟَﻜُﻢ ﺑَﻌﺾَ
ﺍﻟَّﺬﻯ ﺗَﺨﺘَﻠِﻔﻮﻥَ ﻓﻴﻪِ ۖ ﻓَﺎﺗَّﻘُﻮﺍ
ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺃَﻃﻴﻌﻮﻥِ
[63] ঈসা যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ আগমন
করল, তখন বলল, আমি তোমাদের কাছে
প্রজ্ঞা নিয়ে এসেছি এবং তোমরা
যে, কোন কোন বিষয়ে মতভেদ করছ
তা ব্যক্ত করার জন্যে এসেছি, অতএব,
তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার
কথা মান।
[63] And when ‘Īsā (Jesus) came with
(Our) clear Proofs, he said: “I have come
to you with Al-Hikmah (Prophethood),
and in order to make clear to you some
of the (points) in which you differ,
Therefore fear Allâh and obey me,
[64] ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻫُﻮَ ﺭَﺑّﻰ ﻭَﺭَﺑُّﻜُﻢ
ﻓَﺎﻋﺒُﺪﻭﻩُ ۚ ﻫٰﺬﺍ ﺻِﺮٰﻁٌ
ﻣُﺴﺘَﻘﻴﻢٌ
[64] নিশ্চয় আল্লাহই আমার পালনকর্তা
ও তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তাঁর
এবাদত কর। এটা হল সরল পথ।
[64] “Verily, Allâh! He is my Lord (God)
and your Lord (God). So worship Him
(Alone). This is the (only) Straight Path
(i.e. Allâh’s religion of true Islâmic
Monotheism).”
[65] ﻓَﺎﺧﺘَﻠَﻒَ ﺍﻷَﺣﺰﺍﺏُ ﻣِﻦ
ﺑَﻴﻨِﻬِﻢ ۖ ﻓَﻮَﻳﻞٌ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ ﻇَﻠَﻤﻮﺍ
ﻣِﻦ ﻋَﺬﺍﺏِ ﻳَﻮﻡٍ ﺃَﻟﻴﻢٍ
[65] অতঃপর তাদের মধ্যে থেকে
বিভিন্ন দল মতভেদ সৃষ্টি করল। সুতরাং
যালেমদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক
দিবসের আযাবের দুর্ভোগ।
[65] But the sects from among themselves
differed. So woe to those who do wrong
(by ascribing things to ‘Īsā (Jesus) that
are not true) from the torment of a
painful Day (i.e. the Day of
Resurrection)!
[66] ﻫَﻞ ﻳَﻨﻈُﺮﻭﻥَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﺴّﺎﻋَﺔَ
ﺃَﻥ ﺗَﺄﺗِﻴَﻬُﻢ ﺑَﻐﺘَﺔً ﻭَﻫُﻢ ﻻ
ﻳَﺸﻌُﺮﻭﻥَ
[66] তারা কেবল কেয়ামতেরই অপেক্ষা
করছে যে, আকস্মিকভাবে তাদের
কাছে এসে যাবে এবং তারা খবর ও
রাখবে না।
[66] Do they only wait for the Hour that
it shall come upon them suddenly, while
they perceive not?
[67] ﺍﻷَﺧِﻠّﺎﺀُ ﻳَﻮﻣَﺌِﺬٍ ﺑَﻌﻀُﻬُﻢ
ﻟِﺒَﻌﺾٍ ﻋَﺪُﻭٌّ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻤُﺘَّﻘﻴﻦَ
[67] বন্ধুবর্গ সেদিন একে অপরের শত্রু
হবে, তবে খোদাভীরুরা নয়।
[67] Friends on that Day will be foes one
to another except Al-Muttaqûn (pious –
see V.2:2)
[68] ﻳٰﻌِﺒﺎﺩِ ﻻ ﺧَﻮﻑٌ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢُ
ﺍﻟﻴَﻮﻡَ ﻭَﻻ ﺃَﻧﺘُﻢ ﺗَﺤﺰَﻧﻮﻥَ
[68] হে আমার বান্দাগণ, তোমাদের
আজ কোন ভয় নেই এবং তোমরা
দুঃখিতও হবে না।
[68] It will be said to the true believers
of Islâmic Monotheism): My
worshippers! No fear shall be on you this
Day, nor shall you grieve,
[69] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ
ﻭَﻛﺎﻧﻮﺍ ﻣُﺴﻠِﻤﻴﻦَ
[69] তোমরা আমার আয়াতসমূহে
বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে এবং
তোমরা আজ্ঞাবহ ছিলে।
[69] (You) who believed in Our Ayât
(proofs, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) and were Muslims (i.e.
who submit totally to Allâh’s Will, and
believe in the Oneness of Allâh – Islâmic
Monotheism)
[70] ﺍﺩﺧُﻠُﻮﺍ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔَ ﺃَﻧﺘُﻢ
ﻭَﺃَﺯﻭٰﺟُﻜُﻢ ﺗُﺤﺒَﺮﻭﻥَ
[70] জান্নাতের প্রবেশ কর তোমরা
এবং তোমাদের বিবিগণ সানন্দে।
[70] Enter Paradise, you and your wives,
in happiness.
[71] ﻳُﻄﺎﻑُ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺑِﺼِﺤﺎﻑٍ
ﻣِﻦ ﺫَﻫَﺐٍ ﻭَﺃَﻛﻮﺍﺏٍ ۖ ﻭَﻓﻴﻬﺎ ﻣﺎ
ﺗَﺸﺘَﻬﻴﻪِ ﺍﻷَﻧﻔُﺲُ ﻭَﺗَﻠَﺬُّ
ﺍﻷَﻋﻴُﻦُ ۖ ﻭَﺃَﻧﺘُﻢ ﻓﻴﻬﺎ ﺧٰﻠِﺪﻭﻥَ
[71] তাদের কাছে পরিবেশন করা হবে
স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র এবং তথায়
রয়েছে মনে যা চায় এবং নয়ন যাতে
তৃপ্ত হয়। তোমরা তথায় চিরকাল
অবস্থান করবে।
[71] Trays of gold and cups will be
passed round them, (there will be)
therein all that the inner-selves could
desire, and all that the eyes could delight
in, and you will abide therein forever.
[72] ﻭَﺗِﻠﻚَ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔُ ﺍﻟَّﺘﻰ
ﺃﻭﺭِﺛﺘُﻤﻮﻫﺎ ﺑِﻤﺎ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[72] এই যে, জান্নাতের উত্তরাধিকারী
তোমরা হয়েছ, এটা তোমাদের কর্মের
ফল।
[72] This is the Paradise which you have
been made to inherit because of your
deeds which you used to do (in the life of
the world).
[73] ﻟَﻜُﻢ ﻓﻴﻬﺎ ﻓٰﻜِﻬَﺔٌ ﻛَﺜﻴﺮَﺓٌ
ﻣِﻨﻬﺎ ﺗَﺄﻛُﻠﻮﻥَ
[73] তথায় তোমাদের জন্যে আছে
প্রচুর ফল-মূল, তা থেকে তোমরা আহার
করবে।
[73] Therein for you will be fruits in
plenty, of which you will eat (as you
desire).
[74] ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻤُﺠﺮِﻣﻴﻦَ ﻓﻰ ﻋَﺬﺍﺏِ
ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﺧٰﻠِﺪﻭﻥَ
[74] নিশ্চয় অপরাধীরা জাহান্নামের
আযাবে চিরকাল থাকবে।
[74] Verily, the Mujrimûn (criminals,
sinners, disbelievers) will be in the
torment of Hell to abide therein forever.
[75] ﻻ ﻳُﻔَﺘَّﺮُ ﻋَﻨﻬُﻢ ﻭَﻫُﻢ ﻓﻴﻪِ
ﻣُﺒﻠِﺴﻮﻥَ
[75] তাদের থেকে আযাব লাঘব করা
হবে না এবং তারা তাতেই থাকবে
হতাশ হয়ে।
[75] (The torment) will not be lightened
for them, and they will be plunged into
destruction with deep regrets, sorrows
and in despair therein.
[76] ﻭَﻣﺎ ﻇَﻠَﻤﻨٰﻬُﻢ ﻭَﻟٰﻜِﻦ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻫُﻢُ ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
[76] আমি তাদের প্রতি জুলুম করিনি;
কিন্তু তারাই ছিল জালেম।
[76] We wronged them not, but they
were the Zâlimûn (polytheists, wrong-
doers).
[77] ﻭَﻧﺎﺩَﻭﺍ ﻳٰﻤٰﻠِﻚُ ﻟِﻴَﻘﺾِ
ﻋَﻠَﻴﻨﺎ ﺭَﺑُّﻚَ ۖ ﻗﺎﻝَ ﺇِﻧَّﻜُﻢ
ﻣٰﻜِﺜﻮﻥَ
[77] তারা ডেকে বলবে, হে মালেক,
পালনকর্তা আমাদের কিসসাই শেষ
করে দিন। সে বলবে, নিশ্চয় তোমরা
চিরকাল থাকবে।
[77] And they will cry: “O Malik (Keeper
of Hell)! Let your Lord make an end of
us.” He will say: “Verily you shall abide
forever.”
[78] ﻟَﻘَﺪ ﺟِﺌﻨٰﻜُﻢ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ﻭَﻟٰﻜِﻦَّ
ﺃَﻛﺜَﺮَﻛُﻢ ﻟِﻠﺤَﻖِّ ﻛٰﺮِﻫﻮﻥَ
[78] আমি তোমাদের কাছে সত্যধর্ম
পৌঁছিয়েছি; কিন্তু তোমাদের
অধিকাংশই সত্যধর্মে নিস্পৃহ!
[78] Indeed We have brought the truth
(Muhammad SAW with the Qur’ân), to
you, but most of you have a hatred for
the truth.
[79] ﺃَﻡ ﺃَﺑﺮَﻣﻮﺍ ﺃَﻣﺮًﺍ ﻓَﺈِﻧّﺎ
ﻣُﺒﺮِﻣﻮﻥَ
[79] তারা কি কোন ব্যবস্থা চুড়ান্ত
করেছে? তাহলে আমিও এক ব্যবস্থা
চুড়ান্ত করেছি।
[79] Or have they plotted some plan?
Then We too are planning.
[80] ﺃَﻡ ﻳَﺤﺴَﺒﻮﻥَ ﺃَﻧّﺎ ﻻ ﻧَﺴﻤَﻊُ
ﺳِﺮَّﻫُﻢ ﻭَﻧَﺠﻮﻯٰﻬُﻢ ۚ ﺑَﻠﻰٰ
ﻭَﺭُﺳُﻠُﻨﺎ ﻟَﺪَﻳﻬِﻢ ﻳَﻜﺘُﺒﻮﻥَ
[80] তারা কি মনে করে যে, আমি
তাদের গোপন বিষয় ও গোপন পরামর্শ
শুনি না? হঁ্যা, শুনি। আমার ফেরেশতাগণ
তাদের নিকটে থেকে লিপিবদ্ধ করে।
[80] Or do they think that We hear not
their secrets and their private counsel?
(Yes We do) and Our Messengers
(appointed angels in charge of mankind)
are by them, to record.
[81] ﻗُﻞ ﺇِﻥ ﻛﺎﻥَ ﻟِﻠﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﻭَﻟَﺪٌ
ﻓَﺄَﻧﺎ۠ ﺃَﻭَّﻝُ ﺍﻟﻌٰﺒِﺪﻳﻦَ
[81] বলুন, দয়াময় আল্লাহর কোন সন্তান
থাকলে আমি সর্ব প্রথম তার এবাদত
করব।
[81] Say (O Muhammad SAW): “If the
Most Gracious (Allâh) had a son (or
children as you pretend), then I am the
first of Allâh’s worshippers [who deny
and refute this claim of yours (and the
first to believe in Allâh Alone and testify
that He has no children)].” [Tafsir At-
Tabarî].
[82] ﺳُﺒﺤٰﻦَ ﺭَﺏِّ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ﺭَﺏِّ ﺍﻟﻌَﺮﺵِ ﻋَﻤّﺎ
ﻳَﺼِﻔﻮﻥَ
[82] তারা যা বর্ণনা করে, তা থেকে
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তা,
আরশের পালনকর্তা পবিত্র।
[82] Glorified is the Lord of the heavens
and the earth, the Lord of the Throne!
Exalted is He from all that they ascribe
(to Him).
[83] ﻓَﺬَﺭﻫُﻢ ﻳَﺨﻮﺿﻮﺍ
ﻭَﻳَﻠﻌَﺒﻮﺍ ﺣَﺘّﻰٰ ﻳُﻠٰﻘﻮﺍ ﻳَﻮﻣَﻬُﻢُ
ﺍﻟَّﺬﻯ ﻳﻮﻋَﺪﻭﻥَ
[83] অতএব, তাদেরকে বাকচাতুরী ও
ক্রীড়া-কৌতুক করতে দিন সেই
দিবসের সাক্ষাত পর্যন্ত, যার ওয়াদা
তাদেরকে দেয়া হয়।
[83] So leave them (alone) to speak
nonsense and play until they meet the
Day of theirs, which they have been
promised.
[84] ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ
ﺇِﻟٰﻪٌ ﻭَﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﺇِﻟٰﻪٌ ۚ ﻭَﻫُﻮَ
ﺍﻟﺤَﻜﻴﻢُ ﺍﻟﻌَﻠﻴﻢُ
[84] তিনিই উপাস্য নভোমন্ডলে এবং
তিনিই উপাস্য ভুমন্ডলে। তিনি
প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ,
[84] It is He (Allâh) Who is the only Ilâh
(God to be worshipped) in the heaven
and the only Ilâh (God to be worshipped)
on the earth. And He is the All-Wise, the
All-Knower.
[85] ﻭَﺗَﺒﺎﺭَﻙَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻟَﻪُ ﻣُﻠﻚُ
ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﻣﺎ
ﺑَﻴﻨَﻬُﻤﺎ ﻭَﻋِﻨﺪَﻩُ ﻋِﻠﻢُ ﺍﻟﺴّﺎﻋَﺔِ
ﻭَﺇِﻟَﻴﻪِ ﺗُﺮﺟَﻌﻮﻥَ
[85] বরকতময় তিনিই, নভোমন্ডল,
ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু
যার। তাঁরই কাছে আছে কেয়ামতের
জ্ঞান এবং তাঁরই দিকে তোমরা
প্রত্যাবর্তিত হবে।
[85] And Blessed is He to Whom belongs
the kingdom of the heavens and the
earth, and all that is between them, and
with Whom is the knowledge of the
Hour, and to Whom you (all) will be
returned.
[86] ﻭَﻻ ﻳَﻤﻠِﻚُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳَﺪﻋﻮﻥَ
ﻣِﻦ ﺩﻭﻧِﻪِ ﺍﻟﺸَّﻔٰﻌَﺔَ ﺇِﻟّﺎ ﻣَﻦ
ﺷَﻬِﺪَ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ﻭَﻫُﻢ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[86] তিনি ব্যতীত তারা যাদের পুজা
করে, তারা সুপারিশের অধিকারী হবে
না, তবে যারা সত্য স্বীকার করত ও
বিশ্বাস করত।
[86] And those whom they invoke instead
of Him have no power of intercession —
except for those who bear witness to the
truth knowingly (i.e. believed in the
Oneness of Allâh, and obeyed His
Orders), and they know (the facts about
the Oneness of Allâh)
[87] ﻭَﻟَﺌِﻦ ﺳَﺄَﻟﺘَﻬُﻢ ﻣَﻦ ﺧَﻠَﻘَﻬُﻢ
ﻟَﻴَﻘﻮﻟُﻦَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ۖ ﻓَﺄَﻧّﻰٰ ﻳُﺆﻓَﻜﻮﻥَ
[87] যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা
করেন, কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন,
তবে অবশ্যই তারা বলবে, আল্লাহ,
অতঃপর তারা কোথায় ফিরে যাচ্ছে ?
[87] And if you ask them who created
them, they will surely say: “Allâh”. How
then are they turned away (from the
worship of Allâh, Who created them)?
[88] ﻭَﻗﻴﻠِﻪِ ﻳٰﺮَﺏِّ ﺇِﻥَّ ﻫٰﺆُﻻﺀِ
ﻗَﻮﻡٌ ﻻ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[88] রসূলের এই উক্তির কসম, হে আমার
পালনকর্তা, এ সম্প্রদায় তো বিশ্বাস
স্থাপন করে না।
[88] (And Allâh has knowledge) of
(Prophet Muhammad’s) saying: “O my
Lord! Verily, these are a people who
believe not!”
[89] ﻓَﺎﺻﻔَﺢ ﻋَﻨﻬُﻢ ﻭَﻗُﻞ ﺳَﻠٰﻢٌ ۚ
ﻓَﺴَﻮﻑَ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[89] অতএব, আপনি তাদের থেকে মুখ
ফিরিয়ে নিন এবং বলুন, ‘সালাম’।
তারা শীঘ্রই জানতে পারবে।
[89] So turn away from them (O
Muhammad SAW), and say: Salâm
(peace)! But they will come to know.
*Surah Al Zukhruf Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. হা-মীম। 2. শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, 3. আমি একে করেছি কোরআন, আরবী ভাষায়, যাতে তোমরা বুঝ। 4. নিশ্চয় এ কোরআন আমার কাছে সমুন্নত অটল রয়েছে লওহে মাহফুযে। 5. তোমরা সীমাতিক্রমকারী সম্প্রদায়-এ কারণে কি আমি তোমাদের কাছ থেকে কোরআন প্রত্যাহার করে নেব? 6. পূর্ববর্তী লোকদের কাছে আমি অনেক রসূলই প্রেরণ করেছি। 7. যখনই তাদের কাছে কোন রসূল আগমন করেছেন, তখনই তারা তাঁর সাথে ঠাট্টা- বিদ্রুপ করেছে। 8. সুতরাং আমি তাদের চেয়ে অধিক শক্তি সম্পন্নদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছি। পূর্ববর্তীদের এ ঘটনা অতীত হয়ে গেছে। 9. আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন কে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, এগুলো সৃষ্টি করেছেন পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহ। 10. যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন বিছানা এবং তাতে তোমাদের জন্যে করেছেন পথ, যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার। 11. এবং যিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন পরিমিত। আতঃপর তদ্দ্বারা আমি মৃত ভূ-ভাগকে পুনরুজ্জীবিত করেছি। তোমরা এমনিভাবে উত্থিত হবে। 12. এবং যিনি সবকিছুর যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং নৌকা ও চতুস্পদ জন্তুকে তোমাদের জন্যে যানবাহনে পরিণত করেছেন, 13. যাতে তোমরা তাদের পিঠের উপর আরোহণ কর। অতঃপর তোমাদের পালনকর্তার নেয়ামত স্মরণ কর এবং বল পবিত্র তিনি, যিনি এদেরকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন এবং আমরা এদেরকে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। 14. আমরা অবশ্যই আমাদের পালনকর্তার দিকে ফিরে যাব। 15. তারা আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে আল্লাহর অংশ স্থির করেছে। বাস্তবিক মানুষ স্পষ্ট অকৃতজ্ঞ। 16. তিনি কি তাঁর সৃষ্টি থেকে কন্যা সন্তান গ্রহণ করেছেন এবং তোমাদের জন্য মনোনীত করেছেন পুত্র সন্তান? 17. তারা রহমান আল্লাহর জন্যে যে, কন্যা-সন্তান বর্ণনা করে, যখন তাদের কাউকে তার সংবাদ দেয়া হয়, তখন তার মুখমন্ডল কালো হয়ে যায় এবং ভীষণ মনস্তাপ ভোগ করে। 18. তারা কি এমন ব্যক্তিকে আল্লাহর জন্যে বর্ণনা করে, যে অলংকারে লালিত- পালিত হয় এবং বিতর্কে কথা বলতে অক্ষম। 19. তারা নারী স্থির করে ফেরেশতাগণকে, যারা আল্লাহর বান্দা। তারা কি তাদের সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেছে? এখন তাদের দাবী লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে। 20. তারা বলে, রহমান আল্লাহ ইচছা না করলে আমরা ওদের পূজা করতাম না। এ বিষয়ে তারা কিছুই জানে না। তারা কেবল অনুমানে কথা বলে। 21. আমি কি তাদেরকে কোরআনের পূর্বে কোন কিতাব দিয়েছি, অতঃপর তারা তাকে আঁকড়ে রেখেছে? 22. বরং তারা বলে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছি এক পথের পথিক এবং আমরা তাদেরই পদাংক অনুসরণ করে পথপ্রাপ্ত। 23. এমনিভাবে আপনার পূর্বে আমি যখন কোন জনপদে কোন সতর্ককারী প্রেরণ করেছি, তখনই তাদের বিত্তশালীরা বলেছে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছি এক পথের পথিক এবং আমরা তাদেরই পদাংক অনুসরণ করে চলছি। 24. সে বলত, তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে বিষয়ের উপর পেয়েছ, আমি যদি তদপেক্ষা উত্তম বিষয় নিয়ে তোমাদের কাছে এসে থাকি, তবুও কি তোমরা তাই বলবে? তারা বলত তোমরা যে বিষয়সহ প্রেরিত হয়েছ, তা আমরা মানব না। 25. অতঃপর আমি তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি। অতএব দেখুন, মিথ্যারোপকারীদের পরিণাম কিরূপ হয়েছে। 26. যখন ইব্রাহীম তার পিতা ও সম্প্রদায়কে বলল, তোমরা যাদের পূজা কর, তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। 27. তবে আমার সম্পর্ক তাঁর সাথে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতএব, তিনিই আমাকে সৎপথ প্রদর্শন করবেন। 28. এ কথাটিকে সে অক্ষয় বাণীরূপে তার সন্তানদের মধ্যে রেখে গেছে, যাতে তারা আল্লাহর দিকেই আকৃষ্ট থাকে। 29. পরন্ত আমিই এদেরকে ও এদের পূর্বপুরুষদেরকে জীবনোপভোগ করতে দিয়েছি, অবশেষে তাদের কাছে সত্য ও স্পষ্ট বর্ণনাকারী রসূল আগমন করেছে। 30. যখন সত্য তাদের কাছে আগমন করল, তখন তারা বলল, এটা যাদু, আমরা একে মানি না। 31. তারা বলে, কোরআন কেন দুই জনপদের কোন প্রধান ব্যক্তির উপর অবতীর্ণ হল না? 32. তারা কি আপনার পালনকর্তার রহমত বন্টন করে? আমি তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বন্টন করেছি পার্থিব জীবনে এবং একের মর্যাদাকে অপরের উপর উন্নীত করেছি, যাতে একে অপরকে সেবক রূপে গ্রহণ করে। তারা যা সঞ্চয় করে, আপনার পালনকর্তার রহমত তদপেক্ষা উত্তম। 33. যদি সব মানুষের এক মতাবলম্বী হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, তবে যারা দয়াময় আল্লাহকে অস্বীকার করে আমি তাদেরকে দিতাম তাদের গৃহের জন্যে রৌপ্য নির্মিত ছাদ ও সিঁড়ি, যার উপর তারা চড়ত। 34. এবং তাদের গৃহের জন্যে দরজা দিতাম এবং পালংক দিতাম যাতে তারা হেলান দিয়ে বসত। 35. এবং স্বর্ণনির্মিতও দিতাম। এগুলো সবই তো পার্থিব জীবনের ভোগ সামগ্রী মাত্র। আর পরকাল আপনার পালনকর্তার কাছে তাঁদের জন্যেই যারা ভয় করে। 36. যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্যে এক শয়তান নিয়োজিত করে দেই, অতঃপর সে-ই হয় তার সঙ্গী। 37. শয়তানরাই মানুষকে সৎপথে বাধা দান করে, আর মানুষ মনে করে যে, তারা সৎপথে রয়েছে। 38. অবশেষে যখন সে আমার কাছে আসবে, তখন সে শয়তানকে বলবে, হায়, আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব-পশ্চিমের দূরত্ব থাকত। কত হীন সঙ্গী সে। 39. তোমরা যখন কুফর করছিলে, তখন তোমাদের আজকের আযাবে শরীক হওয়া কোন কাজে আসবে না। 40. আপনি কি বধিরকে শোনাতে পারবেন? অথবা যে অন্ধ ও যে স্পষ্ট পথ ভ্রষ্টতায় লিপ্ত, তাকে পথ প্রদর্শণ করতে পারবেন? 41. অতঃপর আমি যদি আপনাকে নিয়ে যাই, তবু আমি তাদের কাছে থেকে প্রতিশোধ নেব। 42. অথবা যদি আমি তাদেরকে যে আযাবের ওয়াদা দিয়েছি, তা আপনাকে দেখিয়ে দেই, তবু তাদের উপর আমার পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। 43. অতএব, আপনার প্রতি যে ওহী নাযিল করা হয়, তা দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করুন। নিঃসন্দেহে আপনি সরল পথে রয়েছেন। 44. এটা আপনার ও আপনার সম্প্রদায়ের জন্যে উল্লেখিত থাকবে এবং শীঘ্রই আপনারা জিজ্ঞাসিত হবেন। 45. আপনার পূর্বে আমি যেসব রসূল প্রেরণ করেছি, তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, দয়াময় আল্লাহ ব্যতীত আমি কি কোন উপাস্য স্থির করেছিলাম এবাদতের জন্যে? 46. আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলী দিয়ে ফেরাউন ও তার পরিষদবর্গের কাছে প্রেরণ করেছিলাম, অতঃপর সে বলেছিল, আমি বিশ্ব পালনকর্তার রসূল। 47. অতঃপর সে যখন তাদের কাছে আমার নিদর্শনাবলী উপস্থাপন করল, তখন তারা হাস্যবিদ্রুপ করতে লাগল। 48. আমি তাদেরকে যে নিদর্শনই দেখাতাম, তাই হত পূর্ববর্তী নিদর্শন অপেক্ষা বৃহৎ এবং আমি তাদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলাম, যাতে তারা ফিরে আসে। 49. তারা বলল, হে যাদুকর, তুমি আমাদের জন্যে তোমার পালনকর্তার কাছে সে বিষয় প্রার্থনা কর, যার ওয়াদা তিনি তোমাকে দিয়েছেন; আমরা অবশ্যই সৎপথ অবলম্বন করব। 50. অতঃপর যখন আমি তাদের থেকে আযাব প্রত্যাহার করে নিলাম, তখনই তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করতে লাগলো। 51. ফেরাউন তার সম্প্রদায়কে ডেকে বলল, হে আমার কওম, আমি কি মিসরের অধিপতি নই? এই নদী গুলো আমার নিম্নদেশে প্রবাহিত হয়, তোমরা কি দেখ না? 52. আমি যে শ্রেষ্ট এ ব্যক্তি থেকে, যে নীচ এবং কথা বলতেও সক্ষম নয়। 53. তাকে কেন স্বর্ণবলয় পরিধান করানো হল না, অথবা কেন আসল না তার সঙ্গে ফেরেশতাগণ দল বেঁধে? 54. অতঃপর সে তার সম্প্রদায়কে বোকা বানিয়ে দিল, ফলে তারা তার কথা মেনে নিল। নিশ্চয় তারা ছিল পাপাচারী সম্প্রদায়। 55. অতঃপর যখন আমাকে রাগাম্বিত করল তখন আমি তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিলাম এবং নিমজ্জত করলাম। তাদের সবাইকে। 56. অতঃপর আমি তাদেরকে করে দিলাম অতীত লোক ও দৃষ্টান্ত পরবর্তীদের জন্যে। 57. যখনই মরিয়ম তনয়ের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করা হল, তখনই আপনার সম্প্রদায় হঞ্জগোল শুরু করে দিল 58. এবং বলল, আমাদের উপাস্যরা শ্রেষ্ঠ, না সে? তারা আপনার সামনে যে উদাহরণ উপস্থাপন করে তা কেবল বিতর্কের জন্যেই করে। বস্তুতঃ তারা হল এক বিতর্ককারী সম্প্রদায়। 59. সে তো এক বান্দাই বটে আমি তার প্রতি অনুগ্রহ করেছি এবং তাকে করেছি বণী- ইসরাঈলের জন্যে আদর্শ। 60. আমি ইচ্ছা করলে তোমাদের থেকে ফেরেশতা সৃষ্টি করতাম, যারা পৃথিবীতে একের পর এক বসবাস করত। 61. সুতরাং তা হল কেয়ামতের নিদর্শন। কাজেই তোমরা কেয়ামতে সন্দেহ করো না এবং আমার কথা মান। এটা এক সরল পথ। 62. শয়তান যেন তোমাদেরকে নিবৃত্ত না করে। সে তোমাদের প্রকাশ্য শুত্রু। 63. ঈসা যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ আগমন করল, তখন বলল, আমি তোমাদের কাছে প্রজ্ঞা নিয়ে এসেছি এবং তোমরা যে, কোন কোন বিষয়ে মতভেদ করছ তা ব্যক্ত করার জন্যে এসেছি, অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার কথা মান। 64. নিশ্চয় আল্লাহই আমার পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তাঁর এবাদত কর। এটা হল সরল পথ। 65. অতঃপর তাদের মধ্যে থেকে বিভিন্ন দল মতভেদ সৃষ্টি করল। সুতরাং যালেমদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক দিবসের আযাবের দুর্ভোগ। 66. তারা কেবল কেয়ামতেরই অপেক্ষা করছে যে, আকস্মিকভাবে তাদের কাছে এসে যাবে এবং তারা খবর ও রাখবে না। 67. বন্ধুবর্গ সেদিন একে অপরের শত্রু হবে, তবে খোদাভীরুরা নয়। 68. হে আমার বান্দাগণ, তোমাদের আজ কোন ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিতও হবে না। 69. তোমরা আমার আয়াতসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে এবং তোমরা আজ্ঞাবহ ছিলে। 70. জান্নাতের প্রবেশ কর তোমরা এবং তোমাদের বিবিগণ সানন্দে। 71. তাদের কাছে পরিবেশন করা হবে স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র এবং তথায় রয়েছে মনে যা চায় এবং নয়ন যাতে তৃপ্ত হয়। তোমরা তথায় চিরকাল অবস্থান করবে। 72. এই যে, জান্নাতের উত্তরাধিকারী তোমরা হয়েছ, এটা তোমাদের কর্মের ফল। 73. তথায় তোমাদের জন্যে আছে প্রচুর ফল-মূল, তা থেকে তোমরা আহার করবে। 74. নিশ্চয় অপরাধীরা জাহান্নামের আযাবে চিরকাল থাকবে। 75. তাদের থেকে আযাব লাঘব করা হবে না এবং তারা তাতেই থাকবে হতাশ হয়ে। 76. আমি তাদের প্রতি জুলুম করিনি; কিন্তু তারাই ছিল জালেম। 77. তারা ডেকে বলবে, হে মালেক, পালনকর্তা আমাদের কিসসাই শেষ করে দিন। সে বলবে, নিশ্চয় তোমরা চিরকাল থাকবে। 78. আমি তোমাদের কাছে সত্যধর্ম পৌঁছিয়েছি; কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই সত্যধর্মে নিস্পৃহ! 79. তারা কি কোন ব্যবস্থা চুড়ান্ত করেছে? তাহলে আমিও এক ব্যবস্থা চুড়ান্ত করেছি। 80. তারা কি মনে করে যে, আমি তাদের গোপন বিষয় ও গোপন পরামর্শ শুনি না? হঁযা, শুনি। আমার ফেরেশতাগণ তাদের নিকটে থেকে লিপিবদ্ধ করে। 81. বলুন, দয়াময় আল্লাহর কোন সন্তান থাকলে আমি সর্ব প্রথম তার এবাদত করব। 82. তারা যা বর্ণনা করে, তা থেকে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তা, আরশের পালনকর্তা পবিত্র। 83. অতএব, তাদেরকে বাকচাতুরী ও ক্রীড়া- কৌতুক করতে দিন সেই দিবসের সাক্ষাত পর্যন্ত, যার ওয়াদা তাদেরকে দেয়া হয়। 84. তিনিই উপাস্য নভোমন্ডলে এবং তিনিই উপাস্য ভুমন্ডলে। তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ, 85. বরকতময় তিনিই, নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু যার। তাঁরই কাছে আছে কেয়ামতের জ্ঞান এবং তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। 86. তিনি ব্যতীত তারা যাদের পুজা করে, তারা সুপারিশের অধিকারী হবে না, তবে যারা সত্য স্বীকার করত ও বিশ্বাস করত। 87. যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তবে অবশ্যই তারা বলবে, আল্লাহ, অতঃপর তারা কোথায় ফিরে যাচ্ছে ? 88. রসূলের এই উক্তির কসম, হে আমার পালনকর্তা, এ সম্প্রদায় তো বিশ্বাস স্থাপন করে না। 89. অতএব, আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন এবং বলুন, ‘সালাম’। তারা শীঘ্রই জানতে পারবে। *******

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s