45. সুরাহ আল জাসিয়াহ(01-37)


ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম
করুণাময়, অতি দয়ালু
[1] ﺣﻢ
[1] হা-মীম।
[1] Hâ¬Mîm [These letters are one of the
miracles of the Qur’ân and none but
Allâh (Alone) knows their meanings].
[2] ﺗَﻨﺰﻳﻞُ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰِ ﺍﻟﺤَﻜﻴﻢِ
[2] পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর
পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এ কিতাব।
[2] The revelation of the Book (this
Qur’ân) is from Allâh, the All-Mighty, the
All-Wise.
[3] ﺇِﻥَّ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ
ﻝَﺀﺍﻳٰﺖٍ ﻟِﻠﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[3] নিশ্চয় নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে
মুমিনদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
[3] Verily, in the heavens and the earth
are signs for the believers.
[4] ﻭَﻓﻰ ﺧَﻠﻘِﻜُﻢ ﻭَﻣﺎ ﻳَﺒُﺚُّ
ﻣِﻦ ﺩﺍﺑَّﺔٍ ﺀﺍﻳٰﺖٌ ﻟِﻘَﻮﻡٍ
ﻳﻮﻗِﻨﻮﻥَ
[4] আর তোমাদের সৃষ্টিতে এবং
চারদিকে ছড়িয়ে রাখা জীব জন্তুর
সৃজনের মধ্যেও নিদর্শনাবলী রয়েছে
বিশ্বাসীদের জন্য।
[4] And in your creation, and what He
scattered (through the earth) of moving
(living) creatures are signs for people
who have Faith with certainty.
[5] ﻭَﺍﺧﺘِﻠٰﻒِ ﺍﻟَّﻴﻞِ ﻭَﺍﻟﻨَّﻬﺎﺭِ ﻭَﻣﺎ
ﺃَﻧﺰَﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﻣِﻦ
ﺭِﺯﻕٍ ﻓَﺄَﺣﻴﺎ ﺑِﻪِ ﺍﻷَﺭﺽَ ﺑَﻌﺪَ
ﻣَﻮﺗِﻬﺎ ﻭَﺗَﺼﺮﻳﻒِ ﺍﻟﺮِّﻳٰﺢِ
ﺀﺍﻳٰﺖٌ ﻟِﻘَﻮﻡٍ ﻳَﻌﻘِﻠﻮﻥَ
[5] দিবারাত্রির পরিবর্তনে, আল্লাহ
আকাশ থেকে যে রিযিক (বৃষ্টি) বর্ষণ
করেন অতঃপর পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর
পুনরুজ্জীবিত করেন, তাতে এবং বায়ুর
পরিবর্তনে বুদ্ধিমানদের জন্যে
নিদর্শনাবলী রয়েছে।
[5] And in the alternation of night and
day, and the provision (rain) that Allâh
sends down from the sky, and revives
therewith the earth after its death, and
in the turning about of the winds (i.e.
sometimes towards the east or north, and
sometimes towards the south or west,
sometimes bringing glad tidings of rain,
etc. and sometimes bringing the
torment), are signs for a people who
understand.
[6] ﺗِﻠﻚَ ﺀﺍﻳٰﺖُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻧَﺘﻠﻮﻫﺎ
ﻋَﻠَﻴﻚَ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ۖ ﻓَﺒِﺄَﻯِّ ﺣَﺪﻳﺚٍ
ﺑَﻌﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺀﺍﻳٰﺘِﻪِ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[6] এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি
আপনার কাছে আবৃত্তি করি
যথাযথরূপে। অতএব, আল্লাহ ও তাঁর
আয়াতের পর তারা কোন কথায়
বিশ্বাস স্থাপন করবে।
[6] These are the Ayât (proofs, evidences,
verses, lessons, revelations, etc.) of Allâh,
which We recite to you (O Muhammad
SAW) with truth. Then in which speech
after Allâh and His Ayât will they
believe?
[7] ﻭَﻳﻞٌ ﻟِﻜُﻞِّ ﺃَﻓّﺎﻙٍ ﺃَﺛﻴﻢٍ
[7] প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর
দুর্ভোগ।
[7] Woe to every sinful liar,
[8] ﻳَﺴﻤَﻊُ ﺀﺍﻳٰﺖِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺗُﺘﻠﻰٰ
ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺛُﻢَّ ﻳُﺼِﺮُّ ﻣُﺴﺘَﻜﺒِﺮًﺍ ﻛَﺄَﻥ
ﻟَﻢ ﻳَﺴﻤَﻌﻬﺎ ۖ ﻓَﺒَﺸِّﺮﻩُ ﺑِﻌَﺬﺍﺏٍ
ﺃَﻟﻴﻢٍ
[8] সে আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনে,
অতঃপর অহংকারী হয়ে জেদ ধরে, যেন
সে আয়াত শুনেনি। অতএব, তাকে
যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন।
[8] Who hears the Verses of Allâh (being)
recited to him, yet persists with pride as
if he heard them not. So announce to
him a painful torment!
[9] ﻭَﺇِﺫﺍ ﻋَﻠِﻢَ ﻣِﻦ ﺀﺍﻳٰﺘِﻨﺎ ﺷَﻴـًٔﺎ
ﺍﺗَّﺨَﺬَﻫﺎ ﻫُﺰُﻭًﺍ ۚ ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻟَﻬُﻢ
ﻋَﺬﺍﺏٌ ﻣُﻬﻴﻦٌ
[9] যখন সে আমার কোন আয়াত অবগত
হয়, তখন তাকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করে।
এদের জন্যই রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক
শাস্তি।
[9] And when he learns something of
Our Verses (this Qur’ân), he makes them
a jest. For such there will be a
humiliating torment.
[10] ﻣِﻦ ﻭَﺭﺍﺋِﻬِﻢ ﺟَﻬَﻨَّﻢُ ۖ ﻭَﻻ
ﻳُﻐﻨﻰ ﻋَﻨﻬُﻢ ﻣﺎ ﻛَﺴَﺒﻮﺍ ﺷَﻴـًٔﺎ
ﻭَﻻ ﻣَﺎ ﺍﺗَّﺨَﺬﻭﺍ ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺃَﻭﻟِﻴﺎﺀَ ۖ ﻭَﻟَﻬُﻢ ﻋَﺬﺍﺏٌ ﻋَﻈﻴﻢٌ
[10] তাদের সামনে রয়েছে জাহান্নাম।
তারা যা উপার্জন করেছে, তা তাদের
কোন কাজে আসবে না, তারা
আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে বন্ধুরূপে
গ্রহণ করেছে তারাও নয়। তাদের জন্যে
রয়েছে মহাশাস্তি।
[10] In front of them there is Hell, and
that which they have earned will be of
no profit to them, nor (will be of any
profit to them) those whom they have
taken as Auliyâ’ (protectors, helpers)
besides Allâh. And theirs will be a great
torment.
[11] ﻫٰﺬﺍ ﻫُﺪًﻯ ۖ ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ
ﺑِـٔﺎﻳٰﺖِ ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﻟَﻬُﻢ ﻋَﺬﺍﺏٌ ﻣِﻦ
ﺭِﺟﺰٍ ﺃَﻟﻴﻢٌ
[11] এটা সৎপথ প্রদর্শন, আর যারা
তাদের পালনকর্তার আয়াতসমূহ
অস্বীকার করে, তাদের জন্যে রয়েছে
কঠোর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
[11] This (Qur’ân) is a guidance. And
those who disbelieve in the Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, signs,
revelations) of their Lord, for them there
is a painful torment of Rijz (a severe
kind of punishment).
[12] ۞ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺳَﺨَّﺮَ ﻟَﻜُﻢُ
ﺍﻟﺒَﺤﺮَ ﻟِﺘَﺠﺮِﻯَ ﺍﻟﻔُﻠﻚُ ﻓﻴﻪِ
ﺑِﺄَﻣﺮِﻩِ ﻭَﻟِﺘَﺒﺘَﻐﻮﺍ ﻣِﻦ ﻓَﻀﻠِﻪِ
ﻭَﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢ ﺗَﺸﻜُﺮﻭﻥَ
[12] তিনি আল্লাহ যিনি সমুদ্রকে
তোমাদের উপকারার্থে আয়ত্বাধীন
করে দিয়েছেন, যাতে তাঁর আদেশক্রমে
তাতে জাহাজ চলাচল করে এবং যাতে
তোমরা তাঁর অনুগ্রহ তালাশ কর ও তাঁর
প্রতি কৃতজ্ঞ হও।
[12] Allâh it is He Who has subjected to
you the sea, that ships may sail through it
by His Command, and that you may seek
of His Bounty, and that you may be
thankful,
[13] ﻭَﺳَﺨَّﺮَ ﻟَﻜُﻢ ﻣﺎ ﻓِﻰ
ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﻣﺎ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﺟَﻤﻴﻌًﺎ ﻣِﻨﻪُ ۚ ﺇِﻥَّ ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻚَ
ﻝَﺀﺍﻳٰﺖٍ ﻟِﻘَﻮﻡٍ ﻳَﺘَﻔَﻜَّﺮﻭﻥَ
[13] এবং আয়ত্ত্বাধীন করে দিয়েছেন
তোমাদের, যা আছে নভোমন্ডলে ও
যা আছে ভূমন্ডলে; তাঁর পক্ষ থেকে।
নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের
জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
[13] And has subjected to you all that is
in the heavens and all that is in the
earth; it is all as a favour and kindness
from Him. Verily, in it are signs for a
people who think deeply.
[14] ﻗُﻞ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻳَﻐﻔِﺮﻭﺍ
ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ ﻻ ﻳَﺮﺟﻮﻥَ ﺃَﻳّﺎﻡَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻟِﻴَﺠﺰِﻯَ ﻗَﻮﻣًﺎ ﺑِﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻳَﻜﺴِﺒﻮﻥَ
[14] মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন
তাদেরকে ক্ষমা করে, যারা আল্লাহর
সে দিনগুলো সম্পর্কে বিশ্বাস রাখে
না যাতে তিনি কোন সম্প্রদায়কে
কৃতকর্মের প্রতিফল দেন।
[14] Say (O Muhammad SAW) to the
believers to forgive those who (harm
them and) hope not for the Days of Allâh
(i.e. His Recompense), that He may
recompense people according to what
they have earned (i.e. to punish these
disbelievers, who harm the believers).
[15] ﻣَﻦ ﻋَﻤِﻞَ ﺻٰﻠِﺤًﺎ ﻓَﻠِﻨَﻔﺴِﻪِ ۖ
ﻭَﻣَﻦ ﺃَﺳﺎﺀَ ﻓَﻌَﻠَﻴﻬﺎ ۖ ﺛُﻢَّ ﺇِﻟﻰٰ
ﺭَﺑِّﻜُﻢ ﺗُﺮﺟَﻌﻮﻥَ
[15] যে সৎকাজ করছে, সে নিজের
কল্যাণার্থেই তা করছে, আর যে
অসৎকাজ করছে, তা তার উপরই
বর্তাবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের
পালনকর্তার দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।
[15] Whosoever does a good deed, it is
for his ownself, and whosoever does evil,
it is against (his ownself). Then to your
Lord you will be made to return.
[16] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺀﺍﺗَﻴﻨﺎ ﺑَﻨﻰ
ﺇِﺳﺮٰﺀﻳﻞَ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ﻭَﺍﻟﺤُﻜﻢَ
ﻭَﺍﻟﻨُّﺒُﻮَّﺓَ ﻭَﺭَﺯَﻗﻨٰﻬُﻢ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻄَّﻴِّﺒٰﺖِ ﻭَﻓَﻀَّﻠﻨٰﻬُﻢ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[16] আমি বনী ইসরাঈলকে কিতাব,
রাজত্ব ও নবুওয়ত দান করেছিলাম এবং
তাদেরকে পরিচ্ছন্ন রিযিক
দিয়েছিলাম এবং বিশ্ববাসীর উপর
শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম।
[16] And indeed We gave the Children of
Israel the Scripture, and the
understanding of the Scripture and its
laws, and the Prophethood; and
provided them with good things, and
preferred them above the ‘Alamîn
(mankind and jinn of their time, during
that period),
[17] ﻭَﺀﺍﺗَﻴﻨٰﻬُﻢ ﺑَﻴِّﻨٰﺖٍ ﻣِﻦَ
ﺍﻷَﻣﺮِ ۖ ﻓَﻤَﺎ ﺍﺧﺘَﻠَﻔﻮﺍ ﺇِﻟّﺎ ﻣِﻦ
ﺑَﻌﺪِ ﻣﺎ ﺟﺎﺀَﻫُﻢُ ﺍﻟﻌِﻠﻢُ ﺑَﻐﻴًﺎ
ﺑَﻴﻨَﻬُﻢ ۚ ﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻳَﻘﻀﻰ
ﺑَﻴﻨَﻬُﻢ ﻳَﻮﻡَ ﺍﻟﻘِﻴٰﻤَﺔِ ﻓﻴﻤﺎ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻓﻴﻪِ ﻳَﺨﺘَﻠِﻔﻮﻥَ
[17] আরও দিয়েছিলাম তাদেরকে
ধর্মের সুস্পষ্ট প্রমাণাদি। অতঃপর
তারা জ্ঞান লাভ করার পর শুধু
পারস্পরিক জেদের বশবর্তী হয়ে
মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তারা যে বিষয়ে
মতভেদ করত, আপনার পালনকর্তা
কেয়ামতের দিন তার ফয়সালা করে
দেবেন।
[17] And gave them clear proofs in
matters [by revealing to them the Taurât
(Torah)]. And they differed not until
after the knowledge came to them,
through envy among themselves. Verily,
Your Lord will judge between them on
the Day of Resurrection about that
wherein they used to differ.
[18] ﺛُﻢَّ ﺟَﻌَﻠﻨٰﻚَ ﻋَﻠﻰٰ ﺷَﺮﻳﻌَﺔٍ
ﻣِﻦَ ﺍﻷَﻣﺮِ ﻓَﺎﺗَّﺒِﻌﻬﺎ ﻭَﻻ ﺗَﺘَّﺒِﻊ
ﺃَﻫﻮﺍﺀَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻻ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[18] এরপর আমি আপনাকে রেখেছি
ধর্মের এক বিশেষ শরীয়তের উপর।
অতএব, আপনি এর অনুসরণ করুন এবং
অজ্ঞানদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ
করবেন না।
[18] Then We have put you (O
Muhammad SAW) on a (plain) way of
(Our) commandment [like the one which
We commanded Our Messengers before
you (i.e. legal ways and laws of the
Islâmic Monotheism)]. So follow you that
(Islâmic Monotheism and its laws), and
follow not the desires of those who know
not. (Tafsir At-Tabarî)
[19] ﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻟَﻦ ﻳُﻐﻨﻮﺍ ﻋَﻨﻚَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺷَﻴـًٔﺎ ۚ ﻭَﺇِﻥَّ ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
ﺑَﻌﻀُﻬُﻢ ﺃَﻭﻟِﻴﺎﺀُ ﺑَﻌﺾٍ ۖ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ
ﻭَﻟِﻰُّ ﺍﻟﻤُﺘَّﻘﻴﻦَ
[19] আল্লাহর সামনে তারা আপনার
কোন উপকারে আসবে না। যালেমরা
একে অপরের বন্ধু। আর আল্লাহ
পরহেযগারদের বন্ধু।
[19] Verily, they can avail you nothing
against Allâh (if He wants to punish you).
Verily, the Zâlimûn (polytheists, wrong-
doers) are Auliyâ’ (protectors, helpers) of
one another, but Allâh is the Walî
(Helper, Protector) of the Muttaqûn
(pious – see V.2:2).
[20] ﻫٰﺬﺍ ﺑَﺼٰﺌِﺮُ ﻟِﻠﻨّﺎﺱِ ﻭَﻫُﺪًﻯ
ﻭَﺭَﺣﻤَﺔٌ ﻟِﻘَﻮﻡٍ ﻳﻮﻗِﻨﻮﻥَ
[20] এটা মানুষের জন্যে জ্ঞানের কথা
এবং বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য
হেদায়েত ও রহমত।
[20] This (Qur’ân) is a clear insight and
evidence for mankind, and a guidance
and a mercy for people who have Faith
with certainty.
[21] ﺃَﻡ ﺣَﺴِﺐَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﺍﺟﺘَﺮَﺣُﻮﺍ ﺍﻟﺴَّﻴِّـٔﺎﺕِ ﺃَﻥ
ﻧَﺠﻌَﻠَﻬُﻢ ﻛَﺎﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ
ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤٰﺖِ ﺳَﻮﺍﺀً
ﻣَﺤﻴﺎﻫُﻢ ﻭَﻣَﻤﺎﺗُﻬُﻢ ۚ ﺳﺎﺀَ ﻣﺎ
ﻳَﺤﻜُﻤﻮﻥَ
[21] যারা দুস্কর্ম উপার্জন করেছে
তারা কি মনে করে যে, আমি
তাদেরকে সে লোকদের মত করে দেব,
যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং
তাদের জীবন ও মুত্যু কি সমান হবে?
তাদের দাবী কত মন্দ।
[21] Or do those who earn evil deeds
think that We shall hold them equal with
those who believe (in the Oneness of
Allâh — Islâmic Monotheism) and do
righteous good deeds, in their present
life and after their death? Worst is the
judgement that they make.
[22] ﻭَﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽَ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ﻭَﻟِﺘُﺠﺰﻯٰ ﻛُﻞُّ
ﻧَﻔﺲٍ ﺑِﻤﺎ ﻛَﺴَﺒَﺖ ﻭَﻫُﻢ ﻻ
ﻳُﻈﻠَﻤﻮﻥَ
[22] আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল
যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন, যাতে
প্রত্যেক ব্যক্তি তার উপার্জনের ফল
পায়। তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।
[22] And Allâh has created the heavens
and the earth with truth, in order that
each person may be recompensed what
he has earned, and they will not be
wronged.
[23] ﺃَﻓَﺮَﺀَﻳﺖَ ﻣَﻦِ ﺍﺗَّﺨَﺬَ ﺇِﻟٰﻬَﻪُ
ﻫَﻮﻯٰﻪُ ﻭَﺃَﺿَﻠَّﻪُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠﻰٰ ﻋِﻠﻢٍ
ﻭَﺧَﺘَﻢَ ﻋَﻠﻰٰ ﺳَﻤﻌِﻪِ ﻭَﻗَﻠﺒِﻪِ
ﻭَﺟَﻌَﻞَ ﻋَﻠﻰٰ ﺑَﺼَﺮِﻩِ ﻏِﺸٰﻮَﺓً
ﻓَﻤَﻦ ﻳَﻬﺪﻳﻪِ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۚ
ﺃَﻓَﻼ ﺗَﺬَﻛَّﺮﻭﻥَ
[23] আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য
করেছেন, যে তার খেয়াল-খুশীকে স্বীয়
উপাস্য স্থির করেছে? আল্লাহ জেনে
শুনে তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তার কান
ও অন্তরে মহর এঁটে দিয়েছেন এবং তার
চোখের উপর রেখেছেন পর্দা। অতএব,
আল্লাহর পর কে তাকে পথ প্রদর্শন
করবে? তোমরা কি চিন্তাভাবনা কর
না?
[23] Have you seen him who takes his
own lust (vain desires) as his ilâh (god)?
and Allâh knowing (him as such), left
him astray, and sealed his hearing and
his heart, and put a cover on his sight.
Who then will guide him after Allâh?
Will you not then remember?
[24] ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ ﻣﺎ ﻫِﻰَ ﺇِﻟّﺎ ﺣَﻴﺎﺗُﻨَﺎ
ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﻧَﻤﻮﺕُ ﻭَﻧَﺤﻴﺎ ﻭَﻣﺎ
ﻳُﻬﻠِﻜُﻨﺎ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﺪَّﻫﺮُ ۚ ﻭَﻣﺎ ﻟَﻬُﻢ
ﺑِﺬٰﻟِﻚَ ﻣِﻦ ﻋِﻠﻢٍ ۖ ﺇِﻥ ﻫُﻢ ﺇِﻟّﺎ
ﻳَﻈُﻨّﻮﻥَ
[24] তারা বলে, আমাদের পার্থিব
জীবনই তো শেষ; আমরা মরি ও বাঁচি
মহাকালই আমাদেরকে ধ্বংস করে।
তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন
জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমান করে
কথা বলে।
[24] And they say: “There is nothing but
our life of this world, we die and we live
and nothing destroys us except Ad-Dahr
(time). And they have no knowledge of it,
they only conjecture.
[25] ﻭَﺇِﺫﺍ ﺗُﺘﻠﻰٰ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺀﺍﻳٰﺘُﻨﺎ
ﺑَﻴِّﻨٰﺖٍ ﻣﺎ ﻛﺎﻥَ ﺣُﺠَّﺘَﻬُﻢ ﺇِﻟّﺎ ﺃَﻥ
ﻗﺎﻟُﻮﺍ ﺍﺋﺘﻮﺍ ﺑِـٔﺎﺑﺎﺋِﻨﺎ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ
ﺻٰﺪِﻗﻴﻦَ
[25] তাদের কাছে যখন আমার সুস্পষ্ট
আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন একথা বলা
ছাড়া তাদের কোন মুক্তিই থাকে না
যে, তোমরা সত্যবাদী হলে আমাদের
পূর্বপুরুষদেরকে নিয়ে আস।
[25] And when Our Clear Verses are
recited to them, their argument is no
other than that they say: “Bring back our
(dead) fathers, if you are truthful!”
[26] ﻗُﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳُﺤﻴﻴﻜُﻢ ﺛُﻢَّ
ﻳُﻤﻴﺘُﻜُﻢ ﺛُﻢَّ ﻳَﺠﻤَﻌُﻜُﻢ ﺇِﻟﻰٰ
ﻳَﻮﻡِ ﺍﻟﻘِﻴٰﻤَﺔِ ﻻ ﺭَﻳﺐَ ﻓﻴﻪِ
ﻭَﻟٰﻜِﻦَّ ﺃَﻛﺜَﺮَ ﺍﻟﻨّﺎﺱِ ﻻ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[26] আপনি বলুন, আল্লাহই
তোমাদেরকে জীবন দান করেন,
অতঃপর মৃত্যু দেন, অতঃপর
তোমাদেরকে কেয়ামতের দিন
একত্রিত করবেন, যাতে কোন সন্দেহ
নেই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে
না।
[26] Say (to them): “Allâh gives you life,
then causes you to die, then He will
assemble you on the Day of Resurrection
about which there is no doubt. But most
of mankind know not.”
[27] ﻭَﻟِﻠَّﻪِ ﻣُﻠﻚُ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ۚ ﻭَﻳَﻮﻡَ ﺗَﻘﻮﻡُ
ﺍﻟﺴّﺎﻋَﺔُ ﻳَﻮﻣَﺌِﺬٍ ﻳَﺨﺴَﺮُ
ﺍﻟﻤُﺒﻄِﻠﻮﻥَ
[27] নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের রাজত্ব
আল্লাহরই। যেদিন কেয়ামত সংঘটিত
হবে, সেদিন মিথ্যাপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত
হবে।
[27] And to Allâh belongs the kingdom of
the heavens and the earth. And on the
Day that the Hour will be established —
on that Day the followers of falsehood
(polytheists, disbelievers, worshippers of
false deities) shall lose (everything).
[28] ﻭَﺗَﺮﻯٰ ﻛُﻞَّ ﺃُﻣَّﺔٍ ﺟﺎﺛِﻴَﺔً ۚ ﻛُﻞُّ
ﺃُﻣَّﺔٍ ﺗُﺪﻋﻰٰ ﺇِﻟﻰٰ ﻛِﺘٰﺒِﻬَﺎ ﺍﻟﻴَﻮﻡَ
ﺗُﺠﺰَﻭﻥَ ﻣﺎ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[28] আপনি প্রত্যেক উম্মতকে দেখবেন
নতজানু অবস্থায়। প্রত্যেক উম্মতকে
তাদের আমলনামা দেখতে বলা হবে।
তোমরা যা করতে, অদ্য
তোমারদেরকে তার প্রতিফল দেয়া
হবে।
[28] And you will see each nation
humbled to their knees (kneeling), each
nation will be called to its Record (of
deeds). This Day you shall be
recompensed for what you used to do.
[29] ﻫٰﺬﺍ ﻛِﺘٰﺒُﻨﺎ ﻳَﻨﻄِﻖُ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ
ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ۚ ﺇِﻧّﺎ ﻛُﻨّﺎ ﻧَﺴﺘَﻨﺴِﺦُ ﻣﺎ
ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[29] আমার কাছে রক্ষিত এই আমলনামা
তোমাদের সম্পর্কে সত্য কথা বলবে।
তোমরা যা করতে আমি তা লিপিবদ্ধ
করতাম।
[29] This Our Record speaks about you
with truth. Verily, We were recording
what you used to do (i.e. Our angels used
to record your deeds).
[30] ﻓَﺄَﻣَّﺎ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ
ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤٰﺖِ ﻓَﻴُﺪﺧِﻠُﻬُﻢ
ﺭَﺑُّﻬُﻢ ﻓﻰ ﺭَﺣﻤَﺘِﻪِ ۚ ﺫٰﻟِﻚَ ﻫُﻮَ
ﺍﻟﻔَﻮﺯُ ﺍﻟﻤُﺒﻴﻦُ
[30] যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও
সৎকর্ম করেছে, তাদেরকে তাদের
পালনকর্তা স্বীয় রহমতে দাখিল
করবেন। এটাই প্রকাশ্য সাফল্য।
[30] Then, as for those who believed (in
the Oneness of Allâh — Islâmic
Monotheism) and did righteous good
deeds, their Lord will admit them to His
Mercy. That will be the evident success.
[31] ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﺃَﻓَﻠَﻢ
ﺗَﻜُﻦ ﺀﺍﻳٰﺘﻰ ﺗُﺘﻠﻰٰ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ
ﻓَﺎﺳﺘَﻜﺒَﺮﺗُﻢ ﻭَﻛُﻨﺘُﻢ ﻗَﻮﻣًﺎ
ﻣُﺠﺮِﻣﻴﻦَ
[31] আর যারা কুফর করেছে, তাদেরকে
জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের
কাছে কি আয়াতসমূহ পঠিত হত না?
কিন্তু তোমরা অহংকার করছিলে এবং
তোমরা ছিলে এক অপরাধী সম্প্রদায়।
[31] But as for those who disbelieved (it
will be said to them): “Were not Our
Verses recited to you? But you were
proud, and you were a people who were
Mujrimûn (polytheists, disbelievers,
sinners, criminals).”
[32] ﻭَﺇِﺫﺍ ﻗﻴﻞَ ﺇِﻥَّ ﻭَﻋﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺣَﻖٌّ ﻭَﺍﻟﺴّﺎﻋَﺔُ ﻻ ﺭَﻳﺐَ ﻓﻴﻬﺎ
ﻗُﻠﺘُﻢ ﻣﺎ ﻧَﺪﺭﻯ ﻣَﺎ ﺍﻟﺴّﺎﻋَﺔُ ﺇِﻥ
ﻧَﻈُﻦُّ ﺇِﻟّﺎ ﻇَﻨًّﺎ ﻭَﻣﺎ ﻧَﺤﻦُ
ﺑِﻤُﺴﺘَﻴﻘِﻨﻴﻦَ
[32] যখন বলা হত, আল্লাহর ওয়াদা সত্য
এবং কেয়ামতে কোন সন্দেহ নেই, তখন
তোমরা বলতে আমরা জানি না
কেয়ামত কি ? আমরা কেবল ধারণাই
করি এবং এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই।
[32] And when it was said: “Verily!
Allâh’s Promise is the truth, and there is
no doubt about the coming of the Hour,”
you said;”We know not what is the Hour,
we do not think it but as a conjecture,
and we have no firm convincing belief
(therein).”
[33] ﻭَﺑَﺪﺍ ﻟَﻬُﻢ ﺳَﻴِّـٔﺎﺕُ ﻣﺎ
ﻋَﻤِﻠﻮﺍ ﻭَﺣﺎﻕَ ﺑِﻬِﻢ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﺑِﻪِ ﻳَﺴﺘَﻬﺰِﺀﻭﻥَ
[33] তাদের মন্দ কর্ম গুলো তাদের
সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে এবং যে
আযাব নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত,
তা তাদেরকে গ্রাস করবে।
[33] And the evil of what they did will
appear to them, and that which they
used to mock at will completely encircle
them.
[34] ﻭَﻗﻴﻞَ ﺍﻟﻴَﻮﻡَ ﻧَﻨﺴﻯٰﻜُﻢ
ﻛَﻤﺎ ﻧَﺴﻴﺘُﻢ ﻟِﻘﺎﺀَ ﻳَﻮﻣِﻜُﻢ ﻫٰﺬﺍ
ﻭَﻣَﺄﻭﻯٰﻜُﻢُ ﺍﻟﻨّﺎﺭُ ﻭَﻣﺎ ﻟَﻜُﻢ ﻣِﻦ
ﻧٰﺼِﺮﻳﻦَ
[34] বলা হবে, আজ আমি তোমাদেরকে
ভুলে যাব, যেমন তোমরা এ দিনের
সাক্ষাৎকে ভুলে গিয়েছিলে।
তোমাদের আবাসস্থল জাহান্নাম
এবং তোমাদের সাহায্যকারী নেই।
[34] And it will be said: “This Day We
will forget you as you forgot the Meeting
of this Day of yours. And your abode is
the Fire, and there is none to help you.”
[35] ﺫٰﻟِﻜُﻢ ﺑِﺄَﻧَّﻜُﻢُ ﺍﺗَّﺨَﺬﺗُﻢ
ﺀﺍﻳٰﺖِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻫُﺰُﻭًﺍ ﻭَﻏَﺮَّﺗﻜُﻢُ
ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓُ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ۚ ﻓَﺎﻟﻴَﻮﻡَ ﻻ
ﻳُﺨﺮَﺟﻮﻥَ ﻣِﻨﻬﺎ ﻭَﻻ ﻫُﻢ
ﻳُﺴﺘَﻌﺘَﺒﻮﻥَ
[35] এটা এজন্যে যে, তোমরা আল্লাহর
আয়াতসমূহকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ
করেছিলে এবং পার্থিব জীবন
তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল।
সুতরাং আজ তাদেরকে জাহান্নাম
থেকে বের করা হবে না এবং তাদের
কাছে তওবা চাওয়া হবে না।
[35] This, because you took the
revelations of Allâh (this Qur’ân) in
mockery, and the life of the world
deceived you. So this Day, they shall not
be taken out from there (Hell), nor shall
they be returned to the worldly life, (so
that they repent to Allâh, and beg His
Pardon for their sins).
[36] ﻓَﻠِﻠَّﻪِ ﺍﻟﺤَﻤﺪُ ﺭَﺏِّ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺭَﺏِّ ﺍﻷَﺭﺽِ ﺭَﺏِّ ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[36] অতএব, বিশ্বজগতের পালনকর্তা, ভূ-
মন্ডলের পালনকর্তা ও নভোমন্ডলের
পালনকর্তা আল্লাহর-ই প্রশংসা।
[36] So all the praises and thanks be to
Allâh, the Lord of the heavens and the
Lord of the earth, and the Lord of the
‘Alamîn (mankind, jinn and all that
exists).
[37] ﻭَﻟَﻪُ ﺍﻟﻜِﺒﺮِﻳﺎﺀُ ﻓِﻰ
ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ۖ ﻭَﻫُﻮَ
ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ ﺍﻟﺤَﻜﻴﻢُ
[37] নভোমন্ডলে ও ভূ-মন্ডলে তাঁরই
গৌরব। তিনি পরাক্রমশালী,
প্রজ্ঞাময়।
[37] And His (Alone) is the Majesty in the
heavens and the earth, and He is the All-
Mighty, the All-Wise.
Bangla translation of Quran. Developed
by Syed Mohammad Rasel
Surah Al Jathiyah Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. হা-মীম। 2. পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এ কিতাব। 3. নিশ্চয় নভোমন্ডল ও ভূ- মন্ডলে মুমিনদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। 4. আর তোমাদের সৃষ্টিতে এবং চারদিকে ছড়িয়ে রাখা জীব জন্তুর সৃজনের মধ্যেও নিদর্শনাবলী রয়েছে বিশ্বাসীদের জন্য। 5. দিবারাত্রির পরিবর্তনে, আল্লাহ আকাশ থেকে যে রিযিক (বৃষ্টি) বর্ষণ করেন অতঃপর পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করেন, তাতে এবং বায়ুর পরিবর্তনে বুদ্ধিমানদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। 6. এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি আপনার কাছে আবৃত্তি করি যথাযথরূপে। অতএব, আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের পর তারা কোন কথায় বিশ্বাস স্থাপন করবে। 7. প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর দুর্ভোগ। 8. সে আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনে, অতঃপর অহংকারী হয়ে জেদ ধরে, যেন সে আয়াত শুনেনি। অতএব, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন। 9. যখন সে আমার কোন আয়াত অবগত হয়, তখন তাকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করে। এদের জন্যই রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। 10. তাদের সামনে রয়েছে জাহান্নাম। তারা যা উপার্জন করেছে, তা তাদের কোন কাজে আসবে না, তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছে তারাও নয়। তাদের জন্যে রয়েছে মহাশাস্তি। 11. এটা সৎপথ প্রদর্শন, আর যারা তাদের পালনকর্তার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। 12. তিনি আল্লাহ যিনি সমুদ্রকে তোমাদের উপকারার্থে আয়ত্বাধীন করে দিয়েছেন, যাতে তাঁর আদেশক্রমে তাতে জাহাজ চলাচল করে এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ তালাশ কর ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও। 13. এবং আয়ত্ত্বাধীন করে দিয়েছেন তোমাদের, যা আছে নভোমন্ডলে ও যা আছে ভূমন্ডলে; তাঁর পক্ষ থেকে। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। 14. মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদেরকে ক্ষমা করে, যারা আল্লাহর সে দিনগুলো সম্পর্কে বিশ্বাস রাখে না যাতে তিনি কোন সম্প্রদায়কে কৃতকর্মের প্রতিফল দেন। 15. যে সৎকাজ করছে, সে নিজের কল্যাণার্থেই তা করছে, আর যে অসৎকাজ করছে, তা তার উপরই বর্তাবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে। 16. আমি বনী ইসরাঈলকে কিতাব, রাজত্ব ও নবুওয়ত দান করেছিলাম এবং তাদেরকে পরিচ্ছন্ন রিযিক দিয়েছিলাম এবং বিশ্ববাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম। 17. আরও দিয়েছিলাম তাদেরকে ধর্মের সুস্পষ্ট প্রমাণাদি। অতঃপর তারা জ্ঞান লাভ করার পর শুধু পারস্পরিক জেদের বশবর্তী হয়ে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তারা যে বিষয়ে মতভেদ করত, আপনার পালনকর্তা কেয়ামতের দিন তার ফয়সালা করে দেবেন। 18. এরপর আমি আপনাকে রেখেছি ধর্মের এক বিশেষ শরীয়তের উপর। অতএব, আপনি এর অনুসরণ করুন এবং অজ্ঞানদের খেয়াল- খুশীর অনুসরণ করবেন না। 19. আল্লাহর সামনে তারা আপনার কোন উপকারে আসবে না। যালেমরা একে অপরের বন্ধু। আর আল্লাহ পরহেযগারদের বন্ধু। 20. এটা মানুষের জন্যে জ্ঞানের কথা এবং বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য হেদায়েত ও রহমত। 21. যারা দুস্কর্ম উপার্জন করেছে তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে সে লোকদের মত করে দেব, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং তাদের জীবন ও মুত্যু কি সমান হবে? তাদের দাবী কত মন্দ। 22. আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন, যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি তার উপার্জনের ফল পায়। তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না। 23. আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছেন, যে তার খেয়াল- খুশীকে স্বীয় উপাস্য স্থির করেছে? আল্লাহ জেনে শুনে তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তার কান ও অন্তরে মহর এঁটে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপর রেখেছেন পর্দা। অতএব, আল্লাহর পর কে তাকে পথ প্রদর্শন করবে? তোমরা কি চিন্তাভাবনা কর না? 24. তারা বলে, আমাদের পার্থিব জীবনই তো শেষ; আমরা মরি ও বাঁচি মহাকালই আমাদেরকে ধ্বংস করে। তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমান করে কথা বলে। 25. তাদের কাছে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন একথা বলা ছাড়া তাদের কোন মুক্তিই থাকে না যে, তোমরা সত্যবাদী হলে আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে নিয়ে আস। 26. আপনি বলুন, আল্লাহই তোমাদেরকে জীবন দান করেন, অতঃপর মৃত্যু দেন, অতঃপর তোমাদেরকে কেয়ামতের দিন একত্রিত করবেন, যাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না। 27. নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। যেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন মিথ্যাপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 28. আপনি প্রত্যেক উম্মতকে দেখবেন নতজানু অবস্থায়। প্রত্যেক উম্মতকে তাদের আমলনামা দেখতে বলা হবে। তোমরা যা করতে, অদ্য তোমারদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে। 29. আমার কাছে রক্ষিত এই আমলনামা তোমাদের সম্পর্কে সত্য কথা বলবে। তোমরা যা করতে আমি তা লিপিবদ্ধ করতাম। 30. যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম করেছে, তাদেরকে তাদের পালনকর্তা স্বীয় রহমতে দাখিল করবেন। এটাই প্রকাশ্য সাফল্য। 31. আর যারা কুফর করেছে, তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের কাছে কি আয়াতসমূহ পঠিত হত না? কিন্তু তোমরা অহংকার করছিলে এবং তোমরা ছিলে এক অপরাধী সম্প্রদায়। 32. যখন বলা হত, আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কেয়ামতে কোন সন্দেহ নেই, তখন তোমরা বলতে আমরা জানি না কেয়ামত কি ? আমরা কেবল ধারণাই করি এবং এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই। 33. তাদের মন্দ কর্ম গুলো তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে এবং যে আযাব নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত, তা তাদেরকে গ্রাস করবে। 34. বলা হবে, আজ আমি তোমাদেরকে ভুলে যাব, যেমন তোমরা এ দিনের সাক্ষাৎকে ভুলে গিয়েছিলে। তোমাদের আবাসস্থল জাহান্নাম এবং তোমাদের সাহায্যকারী নেই। 35. এটা এজন্যে যে, তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করেছিলে এবং পার্থিব জীবন তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল। সুতরাং আজ তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে না এবং তাদের কাছে তওবা চাওয়া হবে না। 36. অতএব, বিশ্বজগতের পালনকর্তা, ভূ-মন্ডলের পালনকর্তা ও নভোমন্ডলের পালনকর্তা আল্লাহর-ই প্রশংসা। 37. নভোমন্ডলে ও ভূ-মন্ডলে তাঁরই গৌরব। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। *********

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in: