46. সুরাহ আল আহকাফ(01-35)


ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম
করুণাময়, অতি দয়ালু
[1] ﺣﻢ
[1] হা-মীম।
[1] Hâ¬Mîm [These letters are one of the
miracles of the Qur’ân, and none but
Allâh (Alone) knows their meanings].
[2] ﺗَﻨﺰﻳﻞُ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰِ ﺍﻟﺤَﻜﻴﻢِ
[2] এই কিতাব পরাক্রমশালী,
প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে
অবতীর্ণ।
[2] The revelation of the Book (this
Qur’ân) is from Allâh, the All-Mighty, the
All-Wise.
[3] ﻣﺎ ﺧَﻠَﻘﻨَﺎ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽَ ﻭَﻣﺎ ﺑَﻴﻨَﻬُﻤﺎ ﺇِﻟّﺎ
ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ﻭَﺃَﺟَﻞٍ ﻣُﺴَﻤًّﻰ ۚ
ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﻋَﻤّﺎ ﺃُﻧﺬِﺭﻭﺍ
ﻣُﻌﺮِﺿﻮﻥَ
[3] নভোমন্ডল, ভূ-মন্ডল ও এতদুভয়ের
মধ্যবর্তী সবকিছু আমি যথাযথভাবেই
এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্যেই সৃষ্টি
করেছি। আর কাফেররা যে বিষয়ে
তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে, তা
থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
[3] We created not the heavens and the
earth and all that is between them except
with truth, and for an appointed term.
But those who disbelieve turn away from
that whereof they are warned.
[4] ﻗُﻞ ﺃَﺭَﺀَﻳﺘُﻢ ﻣﺎ ﺗَﺪﻋﻮﻥَ
ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺭﻭﻧﻰ ﻣﺎﺫﺍ
ﺧَﻠَﻘﻮﺍ ﻣِﻦَ ﺍﻷَﺭﺽِ ﺃَﻡ ﻟَﻬُﻢ
ﺷِﺮﻙٌ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ۖ ﺍﺋﺘﻮﻧﻰ
ﺑِﻜِﺘٰﺐٍ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞِ ﻫٰﺬﺍ ﺃَﻭ ﺃَﺛٰﺮَﺓٍ
ﻣِﻦ ﻋِﻠﻢٍ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺻٰﺪِﻗﻴﻦَ
[4] বলুন, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত
যাদের পূজা কর, তাদের বিষয়ে ভেবে
দেখেছ কি? দেখাও আমাকে তারা
পৃথিবীতে কি সৃষ্টি করেছে? অথবা
নভোমন্ডল সৃজনে তাদের কি কোন
অংশ আছে? এর পূর্ববর্তী কোন
কিতাব অথবা পরস্পরাগত কোন জ্ঞান
আমার কাছে উপস্থিত কর, যদি
তোমরা সত্যবাদী হও।
[4] Say (O Muhammad SAW to these
pagans): “Think you about all that you
invoke besides Allâh? Show me. What
have they created of the earth? Or have
they a share in (the creation of) the
heavens? Bring me a Book (revealed
before this), or some trace of knowledge
(in support of your claims), if you are
truthful!”
[5] ﻭَﻣَﻦ ﺃَﺿَﻞُّ ﻣِﻤَّﻦ ﻳَﺪﻋﻮﺍ
ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣَﻦ ﻻ
ﻳَﺴﺘَﺠﻴﺐُ ﻟَﻪُ ﺇِﻟﻰٰ ﻳَﻮﻡِ
ﺍﻟﻘِﻴٰﻤَﺔِ ﻭَﻫُﻢ ﻋَﻦ ﺩُﻋﺎﺋِﻬِﻢ
ﻏٰﻔِﻠﻮﻥَ
[5] যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবর্তে এমন
বস্তুর পূজা করে, যে কেয়ামত পর্যন্তও
তার ডাকে সাড়া দেবে না, তার চেয়ে
অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? তারা তো
তাদের পুজা সম্পর্কেও বেখবর।
[5] And who is more astray than one
who calls on (invokes) besides Allâh, such
as will not answer him till the Day of
Resurrection, and who are (even)
unaware of their calls (invocations) to
them?
[6] ﻭَﺇِﺫﺍ ﺣُﺸِﺮَ ﺍﻟﻨّﺎﺱُ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻟَﻬُﻢ ﺃَﻋﺪﺍﺀً ﻭَﻛﺎﻧﻮﺍ ﺑِﻌِﺒﺎﺩَﺗِﻬِﻢ
ﻛٰﻔِﺮﻳﻦَ
[6] যখন মানুষকে হাশরে একত্রিত করা
হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হবে এবং
তাদের এবাদত অস্বীকার করবে।
[6] And when mankind are gathered (on
the Day of Resurrection), they (false
deities) will become their enemies and
will deny their worshipping.
[7] ﻭَﺇِﺫﺍ ﺗُﺘﻠﻰٰ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺀﺍﻳٰﺘُﻨﺎ
ﺑَﻴِّﻨٰﺖٍ ﻗﺎﻝَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ
ﻟِﻠﺤَﻖِّ ﻟَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَﻫُﻢ ﻫٰﺬﺍ ﺳِﺤﺮٌ
ﻣُﺒﻴﻦٌ
[7] যখন তাদেরকে আমার সুস্পষ্ট
আয়াতসমূহ পাঠ করে শুনানো হয়, তখন
সত্য আগমন করার পর কাফেররা বলে, এ
তো প্রকাশ্য জাদু।
[7] And when Our Clear Verses are
recited to them, the disbelievers say of
the truth (this Qur’ân), when it reaches
them: “This is plain magic!”
[8] ﺃَﻡ ﻳَﻘﻮﻟﻮﻥَ ﺍﻓﺘَﺮﻯٰﻪُ ۖ ﻗُﻞ
ﺇِﻥِ ﺍﻓﺘَﺮَﻳﺘُﻪُ ﻓَﻼ ﺗَﻤﻠِﻜﻮﻥَ ﻟﻰ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺷَﻴـًٔﺎ ۖ ﻫُﻮَ ﺃَﻋﻠَﻢُ ﺑِﻤﺎ
ﺗُﻔﻴﻀﻮﻥَ ﻓﻴﻪِ ۖ ﻛَﻔﻰٰ ﺑِﻪِ
ﺷَﻬﻴﺪًﺍ ﺑَﻴﻨﻰ ﻭَﺑَﻴﻨَﻜُﻢ ۖ ﻭَﻫُﻮَ
ﺍﻟﻐَﻔﻮﺭُ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢُ
[8] তারা কি বলে যে, রসূল একে রচনা
করেছে? বলুন, যদি আমি রচনা করে
থাকি, তবে তোমরা আল্লাহর শাস্তি
থেকে আমাকে রক্ষা করার অধিকারী
নও। তোমরা এ সম্পর্কে যা আলোচনা
কর, সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবগত।
আমার ও তোমাদের মধ্যে তিনি
সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট। তিনি
ক্ষমাশীল, দয়াময়।
[8] Or say they: “He (Muhammad SAW)
has fabricated it.” Say: “If I have
fabricated it? still you have no power to
support me against Allâh. He knows best
of what you say among yourselves
concerning it (i.e. this Qur’ân)! Sufficient
is He as a witness between me and you!
And He is the Oft-Forgiving, the Most
Merciful.”
[9] ﻗُﻞ ﻣﺎ ﻛُﻨﺖُ ﺑِﺪﻋًﺎ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺮُّﺳُﻞِ ﻭَﻣﺎ ﺃَﺩﺭﻯ ﻣﺎ ﻳُﻔﻌَﻞُ
ﺑﻰ ﻭَﻻ ﺑِﻜُﻢ ۖ ﺇِﻥ ﺃَﺗَّﺒِﻊُ ﺇِﻟّﺎ ﻣﺎ
ﻳﻮﺣﻰٰ ﺇِﻟَﻰَّ ﻭَﻣﺎ ﺃَﻧﺎ۠ ﺇِﻟّﺎ ﻧَﺬﻳﺮٌ
ﻣُﺒﻴﻦٌ
[9] বলুন, আমি তো কোন নতুন রসূল নই।
আমি জানি না, আমার ও তোমাদের
সাথে কি ব্যবহার করা হবে। আমি
কেবল তারই অনুসরণ করি, যা আমার
প্রতি ওহী করা হয়। আমি স্পষ্ট সতর্ক
কারী বৈ নই।
[9] Say (O Muhammad SAW):”I am not a
new thing among the Messengers (of
Allâh) (i.e. I am not the first Messenger)
nor do I know what will be done with me
or with you. I only follow that which is
revealed to me, and I am but a plain
warner.”
[10] ﻗُﻞ ﺃَﺭَﺀَﻳﺘُﻢ ﺇِﻥ ﻛﺎﻥَ ﻣِﻦ
ﻋِﻨﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻛَﻔَﺮﺗُﻢ ﺑِﻪِ ﻭَﺷَﻬِﺪَ
ﺷﺎﻫِﺪٌ ﻣِﻦ ﺑَﻨﻰ ﺇِﺳﺮٰﺀﻳﻞَ
ﻋَﻠﻰٰ ﻣِﺜﻠِﻪِ ﻓَـٔﺎﻣَﻦَ ﻭَﺍﺳﺘَﻜﺒَﺮﺗُﻢ ۖ
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻻ ﻳَﻬﺪِﻯ ﺍﻟﻘَﻮﻡَ
ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
[10] বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি,
যদি এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় এবং
তোমরা একে অমান্য কর এবং বনী
ইসরাঈলের একজন সাক্ষী এর পক্ষে
সাক্ষ্য দিয়ে এতে বিশ্বাস স্থাপন
করে; আর তোমরা অহংকার কর, তবে
তোমাদের চেয়ে অবিবেচক আর কে
হবে? নিশ্চয় আল্লাহ অবিবেচকদেরকে
পথ দেখান না।
[10] Say: “Tell me! If this (Qur’ân) is
from Allâh and you deny it, and a
witness from among the Children of
Israel (‘Abdullâh bin Salâm
radhiallahu’anhu) testifies that [this
Qur’ân is from Allâh (like the Taurât
(Torah)], and he believed (embraced
Islâm)[1] while you are too proud (to
believe).” Verily, Allâh guides not the
people who are Zâlimûn (polytheists,
disbelievers and wrong-doers).
[11] ﻭَﻗﺎﻝَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ
ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻟَﻮ ﻛﺎﻥَ ﺧَﻴﺮًﺍ ﻣﺎ
ﺳَﺒَﻘﻮﻧﺎ ﺇِﻟَﻴﻪِ ۚ ﻭَﺇِﺫ ﻟَﻢ ﻳَﻬﺘَﺪﻭﺍ
ﺑِﻪِ ﻓَﺴَﻴَﻘﻮﻟﻮﻥَ ﻫٰﺬﺍ ﺇِﻓﻚٌ
ﻗَﺪﻳﻢٌ
[11] আর কাফেররা মুমিনদের বলতে
লাগল যে, যদি এ দ্বীন ভাল হত তবে
এরা আমাদেরকে পেছনে ফেলে
এগিয়ে যেতে পারত না। তারা যখন এর
মাধ্যমে সুপথ পায়নি, তখন শীঘ্রই বলবে,
এ তো এক পুরাতন মিথ্যা।
[11] And those who disbelieve (strong
and wealthy) say of those who believe
(the weak and poor): “Had it (Islâmic
Monotheism to which Muhammad SAW
is inviting mankind) been a good thing,
they (the weak and poor) would not have
preceded us thereto!” And when they
have not let themselves be guided by it
(this Qur’ân), they say: “This is an
ancient lie!”
[12] ﻭَﻣِﻦ ﻗَﺒﻠِﻪِ ﻛِﺘٰﺐُ ﻣﻮﺳﻰٰ
ﺇِﻣﺎﻣًﺎ ﻭَﺭَﺣﻤَﺔً ۚ ﻭَﻫٰﺬﺍ ﻛِﺘٰﺐٌ
ﻣُﺼَﺪِّﻕٌ ﻟِﺴﺎﻧًﺎ ﻋَﺮَﺑِﻴًّﺎ ﻟِﻴُﻨﺬِﺭَ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻇَﻠَﻤﻮﺍ ﻭَﺑُﺸﺮﻯٰ
ﻟِﻠﻤُﺤﺴِﻨﻴﻦَ
[12] এর আগে মূসার কিতাব ছিল
পথপ্রদর্শক ও রহমতস্বরূপ। আর এই কিতাব
তার সমর্থক আরবী ভাষায়, যাতে
যালেমদেরকে সতর্ক করে এবং
সৎকর্মপরায়ণদেরকে সুসংবাদ দেয়।
[12] And before this was the Scripture of
Mûsâ (Moses) as a guide and a mercy.
And this is a confirming Book (the
Qur’ân) in the Arabic language, to warn
those who do wrong, and as glad tidings
to the Muhsinûn (good-doers. See the
footnote of V.9:120).
[13] ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺭَﺑُّﻨَﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﺛُﻢَّ ﺍﺳﺘَﻘٰﻤﻮﺍ ﻓَﻼ ﺧَﻮﻑٌ
ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻭَﻻ ﻫُﻢ ﻳَﺤﺰَﻧﻮﻥَ
[13] নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের
পালনকর্তা আল্লাহ অতঃপর অবিচল
থাকে, তাদের কোন ভয় নেই এবং
তারা চিন্তিত হবে না।
[13] Verily, those who say: “Our Lord is
(only) Allâh,” and thereafter stand firm
(on the Islâmic Faith of Monotheism) on
them shall be no fear, nor shall they
grieve.
[14] ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﺃَﺻﺤٰﺐُ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ
ﺧٰﻠِﺪﻳﻦَ ﻓﻴﻬﺎ ﺟَﺰﺍﺀً ﺑِﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[14] তারাই জান্নাতের অধিকারী!
তারা তথায় চিরকাল থাকবে। তারা
যে কর্ম করত, এটা তারই প্রতিফল।
[14] Such shall be the dwellers of
Paradise, abiding therein (forever) — a
reward for what they used to do.
[15] ﻭَﻭَﺻَّﻴﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴٰﻦَ ﺑِﻮٰﻟِﺪَﻳﻪِ
ﺇِﺣﺴٰﻨًﺎ ۖ ﺣَﻤَﻠَﺘﻪُ ﺃُﻣُّﻪُ ﻛُﺮﻫًﺎ
ﻭَﻭَﺿَﻌَﺘﻪُ ﻛُﺮﻫًﺎ ۖ ﻭَﺣَﻤﻠُﻪُ
ﻭَﻓِﺼٰﻠُﻪُ ﺛَﻠٰﺜﻮﻥَ ﺷَﻬﺮًﺍ ۚ ﺣَﺘّﻰٰ
ﺇِﺫﺍ ﺑَﻠَﻎَ ﺃَﺷُﺪَّﻩُ ﻭَﺑَﻠَﻎَ ﺃَﺭﺑَﻌﻴﻦَ
ﺳَﻨَﺔً ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﺃَﻭﺯِﻋﻨﻰ ﺃَﻥ
ﺃَﺷﻜُﺮَ ﻧِﻌﻤَﺘَﻚَ ﺍﻟَّﺘﻰ ﺃَﻧﻌَﻤﺖَ
ﻋَﻠَﻰَّ ﻭَﻋَﻠﻰٰ ﻭٰﻟِﺪَﻯَّ ﻭَﺃَﻥ ﺃَﻋﻤَﻞَ
ﺻٰﻠِﺤًﺎ ﺗَﺮﺿﻯٰﻪُ ﻭَﺃَﺻﻠِﺢ ﻟﻰ
ﻓﻰ ﺫُﺭِّﻳَّﺘﻰ ۖ ﺇِﻧّﻰ ﺗُﺒﺖُ ﺇِﻟَﻴﻚَ
ﻭَﺇِﻧّﻰ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﺴﻠِﻤﻴﻦَ
[15] আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার
সাথে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি।
তার জননী তাকে কষ্টসহকারে গর্ভে
ধারণ করেছে এবং কষ্টসহকারে প্রসব
করেছে। তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও
তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছে ত্রিশ মাস।
অবশেষে সে যখন শক্তি-সামর্থেøর
বয়সে ও চল্লিশ বছরে পৌছেছে, তখন
বলতে লাগল, হে আমার পালনকর্তা,
আমাকে এরূপ ভাগ্য দান কর, যাতে
আমি তোমার নেয়ামতের শোকর করি,
যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার
পিতা-মাতাকে এবং যাতে আমি
তোমার পছন্দনীয় সৎকাজ করি। আমার
সন্তানদেরকে সৎকর্মপরায়ণ কর, আমি
তোমার প্রতি তওবা করলাম এবং আমি
আজ্ঞাবহদের অন্যতম।
[15] And We have enjoined on man to be
dutiful and kind to his parents. His
mother bears him with hardship And she
brings him forth with hardship, and the
bearing of him, and the weaning of him
is thirty months, till when he attains full
strength and reaches forty years, he
says: “My Lord! Grant me the power and
ability that I may be grateful for Your
Favour which You have bestowed upon
me and upon my parents, and that I may
do righteous good deeds, such as please
You, and make my off-spring good.
Truly, I have turned to You in
repentance, and truly, I am one of the
Muslims (submitting to Your Will).”
[16] ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻧَﺘَﻘَﺒَّﻞُ
ﻋَﻨﻬُﻢ ﺃَﺣﺴَﻦَ ﻣﺎ ﻋَﻤِﻠﻮﺍ
ﻭَﻧَﺘَﺠﺎﻭَﺯُ ﻋَﻦ ﺳَﻴِّـٔﺎﺗِﻬِﻢ ﻓﻰ
ﺃَﺻﺤٰﺐِ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ ۖ ﻭَﻋﺪَ ﺍﻟﺼِّﺪﻕِ
ﺍﻟَّﺬﻯ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﻮﻋَﺪﻭﻥَ
[16] আমি এমন লোকদের সুকর্মগুলো
কবুল করি এবং মন্দকর্মগুলো মার্জনা
করি। তারা জান্নাতীদের
তালিকাভুক্ত সেই সত্য ওয়াদার কারণে
যা তাদেরকে দেওয়া হত।
[16] They are those from whom We shall
accept the best of their deeds and
overlook their evil deeds. (They shall be)
among the dwellers of Paradise — a
promise of truth, which they have been
promised.
[17] ﻭَﺍﻟَّﺬﻯ ﻗﺎﻝَ ﻟِﻮٰﻟِﺪَﻳﻪِ ﺃُﻑٍّ
ﻟَﻜُﻤﺎ ﺃَﺗَﻌِﺪﺍﻧِﻨﻰ ﺃَﻥ ﺃُﺧﺮَﺝَ
ﻭَﻗَﺪ ﺧَﻠَﺖِ ﺍﻟﻘُﺮﻭﻥُ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻠﻰ
ﻭَﻫُﻤﺎ ﻳَﺴﺘَﻐﻴﺜﺎﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﻳﻠَﻚَ
ﺀﺍﻣِﻦ ﺇِﻥَّ ﻭَﻋﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺣَﻖٌّ
ﻓَﻴَﻘﻮﻝُ ﻣﺎ ﻫٰﺬﺍ ﺇِﻟّﺎ ﺃَﺳٰﻄﻴﺮُ
ﺍﻷَﻭَّﻟﻴﻦَ
[17] আর যে ব্যক্তি তার পিতা-
মাতাকে বলে, ধিক তোমাদেরকে,
তোমরা কি আমাকে খবর দাও যে,
আমি পুনরুত্থিত হব, অথচ আমার পূর্বে বহু
লোক গত হয়ে গেছে? আর পিতা-মাতা
আল্লাহর কাছে ফরিযাদ করে বলে,
দুর্ভোগ তোমার তুমি বিশ্বাস স্থাপন
কর। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। তখন
সে বলে, এটা তো পূর্ববর্তীদের
উপকথা বৈ নয়।
[17] But he who says to his parents: “Fie
upon you both! Do you hold out the
promise to me that I shall be raised up
(again) when generations before me
have passed away (without rising)?”
While they (father and mother) invoke
Allâh for help (and rebuke their son):
“Woe to you! Believe! Verily, the Promise
of Allâh is true.” But he says: “This is
nothing but the tales of the ancient.”
[18] ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺣَﻖَّ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢُ
ﺍﻟﻘَﻮﻝُ ﻓﻰ ﺃُﻣَﻢٍ ﻗَﺪ ﺧَﻠَﺖ ﻣِﻦ
ﻗَﺒﻠِﻬِﻢ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺠِﻦِّ ﻭَﺍﻹِﻧﺲِ ۖ
ﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﺧٰﺴِﺮﻳﻦَ
[18] তাদের পূর্বে যে সব জ্বিন ও মানুষ
গত হয়েছে, তাদের মধ্যে এ ধরনের
লোকদের প্রতিও শাস্তিবানী
অবধারিত হয়ে গেছে। নিশ্চয় তারা
ছিল ক্ষতিগ্রস্থ।
[18] They are those against whom the
Word (of torment) is justified among the
previous generations of jinn and
mankind that have passed away. Verily,
they are ever the losers
[19] ﻭَﻟِﻜُﻞٍّ ﺩَﺭَﺟٰﺖٌ ﻣِﻤّﺎ ﻋَﻤِﻠﻮﺍ ۖ
ﻭَﻟِﻴُﻮَﻓِّﻴَﻬُﻢ ﺃَﻋﻤٰﻠَﻬُﻢ ﻭَﻫُﻢ ﻻ
ﻳُﻈﻠَﻤﻮﻥَ
[19] প্রত্যেকের জন্যে তাদের কৃতকর্ম
অনুযায়ী বিভিন্ন স্তর রয়েছে, যাতে
আল্লাহ তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল
দেন। বস্তুতঃ তাদের প্রতি যুলুম করা
হবে না।
[19] And for all, there will be degrees
according to that which they did, that He
(Allâh) may recompense them in full for
their deeds. And they will not be
wronged.
[20] ﻭَﻳَﻮﻡَ ﻳُﻌﺮَﺽُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ ﺃَﺫﻫَﺒﺘُﻢ
ﻃَﻴِّﺒٰﺘِﻜُﻢ ﻓﻰ ﺣَﻴﺎﺗِﻜُﻢُ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ
ﻭَﺍﺳﺘَﻤﺘَﻌﺘُﻢ ﺑِﻬﺎ ﻓَﺎﻟﻴَﻮﻡَ
ﺗُﺠﺰَﻭﻥَ ﻋَﺬﺍﺏَ ﺍﻟﻬﻮﻥِ ﺑِﻤﺎ
ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﺴﺘَﻜﺒِﺮﻭﻥَ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﺑِﻐَﻴﺮِ ﺍﻟﺤَﻖِّ ﻭَﺑِﻤﺎ ﻛُﻨﺘُﻢ
ﺗَﻔﺴُﻘﻮﻥَ
[20] যেদিন কাফেরদেরকে
জাহান্নামের কাছে উপস্থিত করা হবে
সেদিন বলা হবে, তোমরা তোমাদের
সুখ পার্থিব জীবনেই নিঃশেষ করেছ
এবং সেগুলো ভোগ করেছ সুতরাং
আজ তোমাদেরকে অপমানকর
আযাবের শাস্তি দেয়া হবে; কারণ,
তোমরা পৃথিবীতে অন্যায় ভাবে
অহংকার করতে এবং তোমরা
পাপাচার করতে।
[20] On the Day when those who
disbelieve (in the Oneness of Allâh
Islâmic Monotheism) will be exposed to
the Fire (it will be said): “You received
your good things in the life of the world,
and you took your pleasure therein. Now
this Day you shall be recompensed with a
torment of humiliation, because you
were arrogant in the land without a
right, and because you used to rebel
against Allah’s Command (disobey
Allâh).
[21] ۞ ﻭَﺍﺫﻛُﺮ ﺃَﺧﺎ ﻋﺎﺩٍ ﺇِﺫ
ﺃَﻧﺬَﺭَ ﻗَﻮﻣَﻪُ ﺑِﺎﻷَﺣﻘﺎﻑِ ﻭَﻗَﺪ
ﺧَﻠَﺖِ ﺍﻟﻨُّﺬُﺭُ ﻣِﻦ ﺑَﻴﻦِ ﻳَﺪَﻳﻪِ
ﻭَﻣِﻦ ﺧَﻠﻔِﻪِ ﺃَﻟّﺎ ﺗَﻌﺒُﺪﻭﺍ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪَ
ﺇِﻧّﻰ ﺃَﺧﺎﻑُ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﻋَﺬﺍﺏَ
ﻳَﻮﻡٍ ﻋَﻈﻴﻢٍ
[21] আ’দ সম্প্রদায়ের ভাইয়ের কথা
স্মরণ করুন, তার পূর্বে ও পরে অনেক
সতর্ককারী গত হয়েছিল সে তার
সম্প্রদায়কে বালুকাময় উচ্চ উপত্যকায় এ
মর্মে সতর্ক করেছিল যে, তোমরা
আল্লাহ ব্যতীত কারও এবাদত করো
না। আমি তোমাদের জন্যে এক
মহাদিবসের শাস্তির আশংকা করি।
[21] And remember (Hûd) the brother of
‘Ad, when he warned his people in Al-
Ahqâf (the curved sand-hills in the
southern part of Arabian Peninsula).
And surely, there have passed away
warners before him and after him
(saying): “Worship none but Allâh; truly,
I fear for you the torment of a mighty
Day.” (i.e. the Day of Resurrection).”
[22] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃَﺟِﺌﺘَﻨﺎ ﻟِﺘَﺄﻓِﻜَﻨﺎ ﻋَﻦ
ﺀﺍﻟِﻬَﺘِﻨﺎ ﻓَﺄﺗِﻨﺎ ﺑِﻤﺎ ﺗَﻌِﺪُﻧﺎ ﺇِﻥ
ﻛُﻨﺖَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺼّٰﺪِﻗﻴﻦَ
[22] তারা বলল, তুমি কি আমাদেরকে
আমাদের উপাস্য দেব-দেবী থেকে
নিবৃত্ত করতে আগমন করেছ? তুমি
সত্যবাদী হলে আমাদেরকে যে বিষয়ের
ওয়াদা দাও, তা নিয়ে আস।
[22] They said: “Have you come to turn
us away from our âlihah (gods)? Then
bring us that with which you threaten us,
if you are one of the truthful!”
[23] ﻗﺎﻝَ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺍﻟﻌِﻠﻢُ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻭَﺃُﺑَﻠِّﻐُﻜُﻢ ﻣﺎ ﺃُﺭﺳِﻠﺖُ ﺑِﻪِ
ﻭَﻟٰﻜِﻨّﻰ ﺃَﺭﻯٰﻜُﻢ ﻗَﻮﻣًﺎ
ﺗَﺠﻬَﻠﻮﻥَ
[23] সে বলল, এ জ্ঞান তো আল্লাহর
কাছেই রয়েছে। আমি যে বিষয়সহ
প্রেরিত হয়েছি, তা তোমাদের কাছে
পৌঁছাই। কিন্তু আমি দেখছি তোমরা
এক মুর্খ সম্প্রদায়।
[23] He said: “The knowledge (of the time
of its coming) is with Allâh only, And I
convey to you that wherewith I have
been sent, but I see that you are a people
given to ignorance!”
[24] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺭَﺃَﻭﻩُ ﻋﺎﺭِﺿًﺎ
ﻣُﺴﺘَﻘﺒِﻞَ ﺃَﻭﺩِﻳَﺘِﻬِﻢ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻫٰﺬﺍ
ﻋﺎﺭِﺽٌ ﻣُﻤﻄِﺮُﻧﺎ ۚ ﺑَﻞ ﻫُﻮَ ﻣَﺎ
ﺍﺳﺘَﻌﺠَﻠﺘُﻢ ﺑِﻪِ ۖ ﺭﻳﺢٌ ﻓﻴﻬﺎ
ﻋَﺬﺍﺏٌ ﺃَﻟﻴﻢٌ
[24] (অতঃপর) তারা যখন শাস্তিকে
মেঘরূপে তাদের উপত্যকা অভিমুখী
দেখল, তখন বলল, এ তো মেঘ,
আমাদেরকে বৃষ্টি দেবে। বরং এটা সেই
বস্তু, যা তোমরা তাড়াতাড়ি
চেয়েছিলে। এটা বায়ু এতে রয়েছে
মর্মন্তুদ শাস্তি।
[24] Then, when they saw it as a dense
cloud coming towards their valleys, they
said: “This is a cloud bringing us rain!”
Nay, but it is that (torment) which you
were asking to be hastened — a wind
wherein is a painful torment!
[25] ﺗُﺪَﻣِّﺮُ ﻛُﻞَّ ﺷَﻲﺀٍ ﺑِﺄَﻣﺮِ ﺭَﺑِّﻬﺎ
ﻓَﺄَﺻﺒَﺤﻮﺍ ﻻ ﻳُﺮﻯٰ ﺇِﻟّﺎ
ﻣَﺴٰﻜِﻨُﻬُﻢ ۚ ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻧَﺠﺰِﻯ
ﺍﻟﻘَﻮﻡَ ﺍﻟﻤُﺠﺮِﻣﻴﻦَ
[25] তার পালনকর্তার আদেশে সে সব
কিছুকে ধ্বংস করে দেবে। অতঃপর
তারা ভোর বেলায় এমন হয়ে গেল যে,
তাদের বসতিগুলো ছাড়া কিছুই
দৃষ্টিগোচর হল না। আমি অপরাধী
সম্প্রদায়কে এমনিভাবে শাস্তি দিয়ে
থাকি।
[25] Destroying everything by the
Command of its Lord! So they became
such that nothing could be seen except
their dwellings! Thus do We recompense
the people who are Mujrimûn
(polytheists, disbelievers, sinners)!
[26] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﻣَﻜَّﻨّٰﻬُﻢ ﻓﻴﻤﺎ ﺇِﻥ
ﻣَﻜَّﻨّٰﻜُﻢ ﻓﻴﻪِ ﻭَﺟَﻌَﻠﻨﺎ ﻟَﻬُﻢ
ﺳَﻤﻌًﺎ ﻭَﺃَﺑﺼٰﺮًﺍ ﻭَﺃَﻓـِٔﺪَﺓً ﻓَﻤﺎ
ﺃَﻏﻨﻰٰ ﻋَﻨﻬُﻢ ﺳَﻤﻌُﻬُﻢ ﻭَﻻ
ﺃَﺑﺼٰﺮُﻫُﻢ ﻭَﻻ ﺃَﻓـِٔﺪَﺗُﻬُﻢ ﻣِﻦ
ﺷَﻲﺀٍ ﺇِﺫ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﺠﺤَﺪﻭﻥَ
ﺑِـٔﺎﻳٰﺖِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺣﺎﻕَ ﺑِﻬِﻢ ﻣﺎ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﺑِﻪِ ﻳَﺴﺘَﻬﺰِﺀﻭﻥَ
[26] আমি তাদেরকে এমন বিষয়ে
ক্ষমতা দিয়েছিলাম, যে বিষয়ে
তোমাদেরকে ক্ষমতা দেইনি। আমি
তাদের দিয়েছিলাম, কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয়,
কিন্তু তাদের কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় তাদের
কোন কাজে আসল না, যখন তারা
আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করল
এবং তাদেরকে সেই শাস্তি গ্রাস করে
নিল, যা নিয়ে তারা ঠাট্টা বিদ্রুপ
করত।
[26] And indeed We had firmly
established them with that wherewith
We have not established you (O
Quraish)! And We had assigned them the
(faculties of) hearing (ears), seeing
(eyes), and hearts, but their hearing
(ears), seeing (eyes), and their hearts
availed them nothing since they used to
deny the Ayât (Allâh’s Prophets and their
Prophethood, proofs, evidences, verses,
signs, revelations) of Allâh, and they
were completely encircled by that which
they used to mock at!
[27] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺃَﻫﻠَﻜﻨﺎ ﻣﺎ ﺣَﻮﻟَﻜُﻢ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﻘُﺮﻯٰ ﻭَﺻَﺮَّﻓﻨَﺎ ﺍﻝﺀﺍﻳٰﺖِ
ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ ﻳَﺮﺟِﻌﻮﻥَ
[27] আমি তোমাদের আশপাশের জনপদ
সমূহ ধ্বংস করে দিয়েছি এবং বার বার
আয়াতসমূহ শুনিয়েছি, যাতে তারা
ফিরে আসে।
[27] And indeed We have destroyed
towns (populations) round about you,
and We have (repeatedly) shown (them)
the Ayât (proofs, evidences, verses,
lessons, signs, revelations, etc.) in
various ways that they might return (to
the truth and believe in the Oneness of
Allâh — Islâmic Monotheism).
[28] ﻓَﻠَﻮﻻ ﻧَﺼَﺮَﻫُﻢُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﺍﺗَّﺨَﺬﻭﺍ ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻗُﺮﺑﺎﻧًﺎ
ﺀﺍﻟِﻬَﺔً ۖ ﺑَﻞ ﺿَﻠّﻮﺍ ﻋَﻨﻬُﻢ ۚ
ﻭَﺫٰﻟِﻚَ ﺇِﻓﻜُﻬُﻢ ﻭَﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻳَﻔﺘَﺮﻭﻥَ
[28] অতঃপর আল্লাহর পরিবর্তে তারা
যাদেরকে সান্নিধ্য লাভের জন্যে
উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল, তারা
তাদেরকে সাহায্য করল না কেন? বরং
তারা তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে
গেল। এটা ছিল তাদের মিথ্যা ও মনগড়া
বিষয়।
[28] Then why did those whom they had
taken for âlihah (gods) besides Allâh, as
a way of approach (to Allâh) not help
them? Nay, but they vanished completely
from them (when there came the
torment). And that was their lie, and
their inventions which they had been
inventing (before their destruction).
[29] ﻭَﺇِﺫ ﺻَﺮَﻓﻨﺎ ﺇِﻟَﻴﻚَ ﻧَﻔَﺮًﺍ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺠِﻦِّ ﻳَﺴﺘَﻤِﻌﻮﻥَ ﺍﻟﻘُﺮﺀﺍﻥَ
ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺣَﻀَﺮﻭﻩُ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃَﻧﺼِﺘﻮﺍ ۖ
ﻓَﻠَﻤّﺎ ﻗُﻀِﻰَ ﻭَﻟَّﻮﺍ ﺇِﻟﻰٰ ﻗَﻮﻣِﻬِﻢ
ﻣُﻨﺬِﺭﻳﻦَ
[29] যখন আমি একদল জিনকে আপনার
প্রতি আকৃষ্ট করেছিলাম, তারা
কোরআন পাঠ শুনছিল,। তারা যখন
কোরআন পাঠের জায়গায় উপস্থিত হল,
তখন পরস্পর বলল, চুপ থাক। অতঃপর যখন
পাঠ সমাপ্ত হল, তখন তারা তাদের
সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারীরূপে
ফিরে গেল।
[29] And (remember) when We sent
towards you (Muhammad SAW) a group
(three to ten persons) of the jinn,
(quietly) listening to the Qur’ân, when
they stood in the presence thereof, they
said: “Listen in silence!” And when it
was finished, they returned to their
people, as warners.
[30] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﻘَﻮﻣَﻨﺎ ﺇِﻧّﺎ ﺳَﻤِﻌﻨﺎ
ﻛِﺘٰﺒًﺎ ﺃُﻧﺰِﻝَ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِ ﻣﻮﺳﻰٰ
ﻣُﺼَﺪِّﻗًﺎ ﻟِﻤﺎ ﺑَﻴﻦَ ﻳَﺪَﻳﻪِ ﻳَﻬﺪﻯ
ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺤَﻖِّ ﻭَﺇِﻟﻰٰ ﻃَﺮﻳﻖٍ
ﻣُﺴﺘَﻘﻴﻢٍ
[30] তারা বলল, হে আমাদের সম্প্রদায়,
আমরা এমন এক কিতাব শুনেছি, যা
মূসার পর অবর্তীণ হয়েছে। এ কিতাব
পূর্ববর্তী সব কিতাবের প্রত্যায়ন করে,
সত্যধর্ম ও সরলপথের দিকে পরিচালিত
করে।
[30] They said: “O our people! Verily! We
have heard a Book (this Qur’ân) sent
down after Mûsa (Moses), confirming
what came before it, it guides to the
truth and to a Straight Path (i.e. Islâm).
[31] ﻳٰﻘَﻮﻣَﻨﺎ ﺃَﺟﻴﺒﻮﺍ ﺩﺍﻋِﻰَ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺀﺍﻣِﻨﻮﺍ ﺑِﻪِ ﻳَﻐﻔِﺮ ﻟَﻜُﻢ
ﻣِﻦ ﺫُﻧﻮﺑِﻜُﻢ ﻭَﻳُﺠِﺮﻛُﻢ ﻣِﻦ
ﻋَﺬﺍﺏٍ ﺃَﻟﻴﻢٍ
[31] হে আমাদের সম্প্রদায়, তোমরা
আল্লাহর দিকে আহবানকারীর কথা
মান্য কর এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস
স্থাপন কর। তিনি তোমাদের গোনাহ
মার্জনা করবেন।
[31] O our people! Respond (with
obedience) to Allâh’s Caller (i.e. Allâh’s
Messenger Muhammad SAW), and
believe in him (i.e. believe in that which
Muhammad SAW has brought from Allâh
and follow him). He (Allâh) will forgive
you of your sins, and will save you from
a painful torment (i.e. Hell-fire).
[32] ﻭَﻣَﻦ ﻻ ﻳُﺠِﺐ ﺩﺍﻋِﻰَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻓَﻠَﻴﺲَ ﺑِﻤُﻌﺠِﺰٍ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﻭَﻟَﻴﺲَ ﻟَﻪُ ﻣِﻦ ﺩﻭﻧِﻪِ ﺃَﻭﻟِﻴﺎﺀُ ۚ
ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻓﻰ ﺿَﻠٰﻞٍ ﻣُﺒﻴﻦٍ
[32] আর যে ব্যক্তি আল্লাহর দিকে
আহবানকারীর কথা মানবে না, সে
পৃথিবীতে আল্লাহকে অপারক করতে
পারবে না এবং আল্লাহ ব্যতীত তার
কোন সাহায্যকারী থাকবে না। এ
ধরনের লোকই প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায়
লিপ্ত।
[32] And whosoever does not respond to
Allâh’s Caller, he cannot escape on earth,
and there will be no Auliyâ’ (lord,
helpers, supporters, protectors) for him
besides Allâh (from Allâh’s Punishment).
Those are in manifest error.
[33] ﺃَﻭَﻟَﻢ ﻳَﺮَﻭﺍ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺍﻟَّﺬﻯ
ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽَ ﻭَﻟَﻢ
ﻳَﻌﻰَ ﺑِﺨَﻠﻘِﻬِﻦَّ ﺑِﻘٰﺪِﺭٍ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﻥ
ﻳُﺢۦِﻯَ ﺍﻟﻤَﻮﺗﻰٰ ۚ ﺑَﻠﻰٰ ﺇِﻧَّﻪُ ﻋَﻠﻰٰ
ﻛُﻞِّ ﺷَﻲﺀٍ ﻗَﺪﻳﺮٌ
[33] তারা কি জানে না যে, আল্লাহ
যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি
করেছেন এবং এগুলোর সৃষ্টিতে কোন
ক্লান্তিবোধ করেননি, তিনি মৃতকে
জীবিত করতে সক্ষম? কেন নয়, নিশ্চয়
তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
[33] Do they not see that Allâh, Who
created the heavens and the earth, and
was not wearied by their creation, is
Able to give life to the dead? Yes, He
surely is Able to do all things.
[34] ﻭَﻳَﻮﻡَ ﻳُﻌﺮَﺽُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ ﺃَﻟَﻴﺲَ ﻫٰﺬﺍ
ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ۖ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺑَﻠﻰٰ ﻭَﺭَﺑِّﻨﺎ ۚ
ﻗﺎﻝَ ﻓَﺬﻭﻗُﻮﺍ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏَ ﺑِﻤﺎ
ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﻜﻔُﺮﻭﻥَ
[34] যেদিন কাফেরদেরকে
জাহান্নামের সামনে পেশ করা হবে,
সেদিন বলা হবে, এটা কি সত্য নয়?
তারা বলবে, হঁ্যা আমাদের
পালনকর্তার শপথ। আল্লাহ বলবেন,
আযাব আস্বাদন কর। কারণ, তোমরা
কুফরী করতে।
[34] And on the Day when those who
disbelieve will be exposed to the Fire (it
will be said to them): “Is this not the
truth?” They will say: “Yes, By our Lord!”
He will say: “Then taste the torment,
because you used to disbelieve!”
[35] ﻓَﺎﺻﺒِﺮ ﻛَﻤﺎ ﺻَﺒَﺮَ ﺃُﻭﻟُﻮﺍ
ﺍﻟﻌَﺰﻡِ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺮُّﺳُﻞِ ﻭَﻻ
ﺗَﺴﺘَﻌﺠِﻞ ﻟَﻬُﻢ ۚ ﻛَﺄَﻧَّﻬُﻢ ﻳَﻮﻡَ
ﻳَﺮَﻭﻥَ ﻣﺎ ﻳﻮﻋَﺪﻭﻥَ ﻟَﻢ ﻳَﻠﺒَﺜﻮﺍ
ﺇِﻟّﺎ ﺳﺎﻋَﺔً ﻣِﻦ ﻧَﻬﺎﺭٍ ۚ ﺑَﻠٰﻎٌ ۚ ﻓَﻬَﻞ
ﻳُﻬﻠَﻚُ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻘَﻮﻡُ ﺍﻟﻔٰﺴِﻘﻮﻥَ
[35] অতএব, আপনি সবর করুন, যেমন উচ্চ
সাহসী পয়গম্বরগণ সবর করেছেন এবং
ওদের বিষয়ে তড়িঘড়ি করবেন না।
ওদেরকে যে বিষয়ে ওয়াদা দেয়া হত,
তা যেদিন তারা প্রত্যক্ষ করবে,
সেদিন তাদের মনে হবে যেন তারা
দিনের এক মুহুর্তের বেশী পৃথিবীতে
অবস্থান করেনি। এটা সুস্পষ্ট অবগতি।
এখন তারাই ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে, যারা
পাপাচারী সম্প্রদায়।
[35] Therefore be patient (O Muhammad
SAW) as did the Messengers of strong
will and be in no haste about them
(disbelievers). On the Day when they will
see that (torment) with which they are
promised (i.e. threatened, it will be) as if
they had not stayed more than an hour
in a single day. (O mankind, this Qur’ân
is sufficient as) a clear Message (or
proclamation to save yourself from
destruction). But shall any be destroyed
except the people who are Al-Fâsiqûn
(the rebellious against Allâh’s Command,
the disobedient to Allâh)?
Bangla translation of Quran. Developed
by Syed Mohammad Rasel
Surah Al Ahkaf Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. হা-মীম। 2. এই কিতাব পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। 3. নভোমন্ডল, ভূ-মন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু আমি যথাযথভাবেই এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্যেই সৃষ্টি করেছি। আর কাফেররা যে বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে, তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। 4. বলুন, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদের পূজা কর, তাদের বিষয়ে ভেবে দেখেছ কি? দেখাও আমাকে তারা পৃথিবীতে কি সৃষ্টি করেছে? অথবা নভোমন্ডল সৃজনে তাদের কি কোন অংশ আছে? এর পূর্ববর্তী কোন কিতাব অথবা পরস্পরাগত কোন জ্ঞান আমার কাছে উপস্থিত কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। 5. যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবর্তে এমন বস্তুর পূজা করে, যে কেয়ামত পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দেবে না, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? তারা তো তাদের পুজা সম্পর্কেও বেখবর। 6. যখন মানুষকে হাশরে একত্রিত করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হবে এবং তাদের এবাদত অস্বীকার করবে। 7. যখন তাদেরকে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করে শুনানো হয়, তখন সত্য আগমন করার পর কাফেররা বলে, এ তো প্রকাশ্য জাদু। 8. তারা কি বলে যে, রসূল একে রচনা করেছে? বলুন, যদি আমি রচনা করে থাকি, তবে তোমরা আল্লাহর শাস্তি থেকে আমাকে রক্ষা করার অধিকারী নও। তোমরা এ সম্পর্কে যা আলোচনা কর, সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবগত। আমার ও তোমাদের মধ্যে তিনি সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট। তিনি ক্ষমাশীল, দয়াময়। 9. বলুন, আমি তো কোন নতুন রসূল নই। আমি জানি না, আমার ও তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করা হবে। আমি কেবল তারই অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি ওহী করা হয়। আমি স্পষ্ট সতর্ক কারী বৈ নই। 10. বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় এবং তোমরা একে অমান্য কর এবং বনী ইসরাঈলের একজন সাক্ষী এর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে এতে বিশ্বাস স্থাপন করে; আর তোমরা অহংকার কর, তবে তোমাদের চেয়ে অবিবেচক আর কে হবে? নিশ্চয় আল্লাহ অবিবেচকদেরকে পথ দেখান না। 11. আর কাফেররা মুমিনদের বলতে লাগল যে, যদি এ দ্বীন ভাল হত তবে এরা আমাদেরকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে পারত না। তারা যখন এর মাধ্যমে সুপথ পায়নি, তখন শীঘ্রই বলবে, এ তো এক পুরাতন মিথ্যা। 12. এর আগে মূসার কিতাব ছিল পথপ্রদর্শক ও রহমতস্বরূপ। আর এই কিতাব তার সমর্থক আরবী ভাষায়, যাতে যালেমদেরকে সতর্ক করে এবং সৎকর্মপরায়ণদেরকে সুসংবাদ দেয়। 13. নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ অতঃপর অবিচল থাকে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিত হবে না। 14. তারাই জান্নাতের অধিকারী! তারা তথায় চিরকাল থাকবে। তারা যে কর্ম করত, এটা তারই প্রতিফল। 15. আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি। তার জননী তাকে কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবং কষ্টসহকারে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছে ত্রিশ মাস। অবশেষে সে যখন শক্তি- তরুণ; বয়সে ও চল্লিশ বছরে পৌছেছে, তখন বলতে লাগল, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এরূপ ভাগ্য দান কর, যাতে আমি তোমার নেয়ামতের শোকর করি, যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা- মাতাকে এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকাজ করি। আমার সন্তানদেরকে সৎকর্মপরায়ণ কর, আমি তোমার প্রতি তওবা করলাম এবং আমি আজ্ঞাবহদের অন্যতম। 16. আমি এমন লোকদের সুকর্মগুলো কবুল করি এবং মন্দকর্মগুলো মার্জনা করি। তারা জান্নাতীদের তালিকাভুক্ত সেই সত্য ওয়াদার কারণে যা তাদেরকে দেওয়া হত। 17. আর যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে বলে, ধিক তোমাদেরকে, তোমরা কি আমাকে খবর দাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব, অথচ আমার পূর্বে বহু লোক গত হয়ে গেছে? আর পিতা-মাতা আল্লাহর কাছে ফরিযাদ করে বলে, দুর্ভোগ তোমার তুমি বিশ্বাস স্থাপন কর। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। তখন সে বলে, এটা তো পূর্ববর্তীদের উপকথা বৈ নয়। 18. তাদের পূর্বে যে সব জ্বিন ও মানুষ গত হয়েছে, তাদের মধ্যে এ ধরনের লোকদের প্রতিও শাস্তিবানী অবধারিত হয়ে গেছে। নিশ্চয় তারা ছিল ক্ষতিগ্রস্থ। 19. প্রত্যেকের জন্যে তাদের কৃতকর্ম অনুযায়ী বিভিন্ন স্তর রয়েছে, যাতে আল্লাহ তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেন। বস্তুতঃ তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না। 20. যেদিন কাফেরদেরকে জাহান্নামের কাছে উপস্থিত করা হবে সেদিন বলা হবে, তোমরা তোমাদের সুখ পার্থিব জীবনেই নিঃশেষ করেছ এবং সেগুলো ভোগ করেছ সুতরাং আজ তোমাদেরকে অপমানকর আযাবের শাস্তি দেয়া হবে; কারণ, তোমরা পৃথিবীতে অন্যায় ভাবে অহংকার করতে এবং তোমরা পাপাচার করতে। 21. আ’দ সম্প্রদায়ের ভাইয়ের কথা স্মরণ করুন, তার পূর্বে ও পরে অনেক সতর্ককারী গত হয়েছিল সে তার সম্প্রদায়কে বালুকাময় উচ্চ উপত্যকায় এ মর্মে সতর্ক করেছিল যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারও এবাদত করো না। আমি তোমাদের জন্যে এক মহাদিবসের শাস্তির আশংকা করি। 22. তারা বলল, তুমি কি আমাদেরকে আমাদের উপাস্য দেব-দেবী থেকে নিবৃত্ত করতে আগমন করেছ? তুমি সত্যবাদী হলে আমাদেরকে যে বিষয়ের ওয়াদা দাও, তা নিয়ে আস। 23. সে বলল, এ জ্ঞান তো আল্লাহর কাছেই রয়েছে। আমি যে বিষয়সহ প্রেরিত হয়েছি, তা তোমাদের কাছে পৌঁছাই। কিন্তু আমি দেখছি তোমরা এক মুর্খ সম্প্রদায়। 24. (অতঃপর) তারা যখন শাস্তিকে মেঘরূপে তাদের উপত্যকা অভিমুখী দেখল, তখন বলল, এ তো মেঘ, আমাদেরকে বৃষ্টি দেবে। বরং এটা সেই বস্তু, যা তোমরা তাড়াতাড়ি চেয়েছিলে। এটা বায়ু এতে রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি। 25. তার পালনকর্তার আদেশে সে সব কিছুকে ধ্বংস করে দেবে। অতঃপর তারা ভোর বেলায় এমন হয়ে গেল যে, তাদের বসতিগুলো ছাড়া কিছুই দৃষ্টিগোচর হল না। আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে এমনিভাবে শাস্তি দিয়ে থাকি। 26. আমি তাদেরকে এমন বিষয়ে ক্ষমতা দিয়েছিলাম, যে বিষয়ে তোমাদেরকে ক্ষমতা দেইনি। আমি তাদের দিয়েছিলাম, কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয়, কিন্তু তাদের কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় তাদের কোন কাজে আসল না, যখন তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করল এবং তাদেরকে সেই শাস্তি গ্রাস করে নিল, যা নিয়ে তারা ঠাট্টা বিদ্রুপ করত। 27. আমি তোমাদের আশপাশের জনপদ সমূহ ধ্বংস করে দিয়েছি এবং বার বার আয়াতসমূহ শুনিয়েছি, যাতে তারা ফিরে আসে। 28. অতঃপর আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদেরকে সান্নিধ্য লাভের জন্যে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল, তারা তাদেরকে সাহায্য করল না কেন? বরং তারা তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেল। এটা ছিল তাদের মিথ্যা ও মনগড়া বিষয়। 29. যখন আমি একদল জিনকে আপনার প্রতি আকৃষ্ট করেছিলাম, তারা কোরআন পাঠ শুনছিল,। তারা যখন কোরআন পাঠের জায়গায় উপস্থিত হল, তখন পরস্পর বলল, চুপ থাক। অতঃপর যখন পাঠ সমাপ্ত হল, তখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারীরূপে ফিরে গেল। 30. তারা বলল, হে আমাদের সম্প্রদায়, আমরা এমন এক কিতাব শুনেছি, যা মূসার পর অবর্তীণ হয়েছে। এ কিতাব পূর্ববর্তী সব কিতাবের প্রত্যায়ন করে, সত্যধর্ম ও সরলপথের দিকে পরিচালিত করে। 31. হে আমাদের সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর দিকে আহবানকারীর কথা মান্য কর এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তিনি তোমাদের গোনাহ মার্জনা করবেন। 32. আর যে ব্যক্তি আল্লাহর দিকে আহবানকারীর কথা মানবে না, সে পৃথিবীতে আল্লাহকে অপারক করতে পারবে না এবং আল্লাহ ব্যতীত তার কোন সাহায্যকারী থাকবে না। এ ধরনের লোকই প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত। 33. তারা কি জানে না যে, আল্লাহ যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং এগুলোর সৃষ্টিতে কোন ক্লান্তিবোধ করেননি, তিনি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম? কেন নয়, নিশ্চয় তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। 34. যেদিন কাফেরদেরকে জাহান্নামের সামনে পেশ করা হবে, সেদিন বলা হবে, এটা কি সত্য নয়? তারা বলবে, হঁযা আমাদের পালনকর্তার শপথ। আল্লাহ বলবেন, আযাব আস্বাদন কর। কারণ, তোমরা কুফরী করতে। 35. অতএব, আপনি সবর করুন, যেমন উচ্চ সাহসী পয়গম্বরগণ সবর করেছেন এবং ওদের বিষয়ে তড়িঘড়ি করবেন না। ওদেরকে যে বিষয়ে ওয়াদা দেয়া হত, তা যেদিন তারা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন তাদের মনে হবে যেন তারা দিনের এক মুহুর্তের বেশী পৃথিবীতে অবস্থান করেনি। এটা সুস্পষ্ট অবগতি। এখন তারাই ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে, যারা পাপাচারী সম্প্রদায়। *******

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s