57. সুরাহ আল হাদীদ(01-29)


ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম
করুণাময়, অতি দয়ালু
[1] ﺳَﺒَّﺢَ ﻟِﻠَّﻪِ ﻣﺎ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ۖ ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ
ﺍﻟﺤَﻜﻴﻢُ
[1] নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু
আছে, সবাই আল্লাহর পবিত্রতা
ঘোষণা করে। তিনি শক্তিধর;
প্রজ্ঞাময়।
[1] Whatsoever is in the heavens and the
earth glorifies Allâh, and He is the All-
Mighty, All-Wise.
[2] ﻟَﻪُ ﻣُﻠﻚُ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ۖ
ﻳُﺤﻲۦ ﻭَﻳُﻤﻴﺖُ ۖ ﻭَﻫُﻮَ ﻋَﻠﻰٰ
ﻛُﻞِّ ﺷَﻲﺀٍ ﻗَﺪﻳﺮٌ
[2] নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব
তাঁরই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু
ঘটান। তিনি সবকিছু করতে সক্ষম।
[2] His is the kingdom of the heavens
and the earth, It is He Who gives life and
causes death; and He is Able to do all
things.
[3] ﻫُﻮَ ﺍﻷَﻭَّﻝُ ﻭَﺍﻝﺀﺍﺧِﺮُ
ﻭَﺍﻟﻈّٰﻬِﺮُ ﻭَﺍﻟﺒﺎﻃِﻦُ ۖ ﻭَﻫُﻮَ ﺑِﻜُﻞِّ
ﺷَﻲﺀٍ ﻋَﻠﻴﻢٌ
[3] তিনিই প্রথম, তিনিই সর্বশেষ,
তিনিই প্রকাশমান ও অপ্রকাশমান এবং
তিনি সব বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।
[3] He is the First (nothing is before
Him) and the Last (nothing is after Him),
the Most High (nothing is above Him)
and the Most Near (nothing is nearer
than Him). And He is the All-Knower of
every thing.
[4] ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽَ ﻓﻰ ﺳِﺘَّﺔِ ﺃَﻳّﺎﻡٍ ﺛُﻢَّ
ﺍﺳﺘَﻮﻯٰ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻌَﺮﺵِ ۚ ﻳَﻌﻠَﻢُ
ﻣﺎ ﻳَﻠِﺞُ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﻣﺎ
ﻳَﺨﺮُﺝُ ﻣِﻨﻬﺎ ﻭَﻣﺎ ﻳَﻨﺰِﻝُ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﻭَﻣﺎ ﻳَﻌﺮُﺝُ ﻓﻴﻬﺎ ۖ
ﻭَﻫُﻮَ ﻣَﻌَﻜُﻢ ﺃَﻳﻦَ ﻣﺎ ﻛُﻨﺘُﻢ ۚ
ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻤﺎ ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ ﺑَﺼﻴﺮٌ
[4] তিনি নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি
করেছেন ছয়দিনে, অতঃপর আরশের উপর
সমাসীন হয়েছেন। তিনি জানেন যা
ভূমিতে প্রবেশ করে ও যা ভূমি থেকে
নির্গত হয় এবং যা আকাশ থেকে
বর্ষিত হয় ও যা আকাশে উত্থিত হয়।
তিনি তোমাদের সাথে আছেন
তোমরা যেখানেই থাক। তোমরা যা
কর, আল্লাহ তা দেখেন।
[4] He it is Who created the heavens and
the earth in six Days and then rose over
(Istawâ) the Throne (in a manner that
suits His Majesty). He knows what goes
into the earth and what comes forth
from it, and what descends from the
heaven and what ascends thereto. And
He is with you (by His Knowledge)
wheresoever you may be. And Allâh is
the All-Seer of what you do.
[5] ﻟَﻪُ ﻣُﻠﻚُ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ۚ
ﻭَﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺗُﺮﺟَﻊُ ﺍﻷُﻣﻮﺭُ
[5] নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব
তাঁরই। সবকিছু তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন
করবে।
[5] His is the kingdom of the heavens
and the earth. And to Allâh return all the
matters (for decision).
[6] ﻳﻮﻟِﺞُ ﺍﻟَّﻴﻞَ ﻓِﻰ ﺍﻟﻨَّﻬﺎﺭِ
ﻭَﻳﻮﻟِﺞُ ﺍﻟﻨَّﻬﺎﺭَ ﻓِﻰ ﺍﻟَّﻴﻞِ ۚ ﻭَﻫُﻮَ
ﻋَﻠﻴﻢٌ ﺑِﺬﺍﺕِ ﺍﻟﺼُّﺪﻭﺭِ
[6] তিনি রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট
করেন এবং দিবসকে প্রবিষ্ট করেন
রাত্রিতে। তিনি অন্তরের বিষয়াদি
সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞাত।
[6] He merges night into day (i.e. the
decrease in the hours of the night is
added into the hours of the day), and
merges day into night (i.e. the decrease
in the hours of the day is added into the
hours of the night), and He has full
knowledge of whatsoever is in the
breasts.
[7] ﺀﺍﻣِﻨﻮﺍ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺭَﺳﻮﻟِﻪِ
ﻭَﺃَﻧﻔِﻘﻮﺍ ﻣِﻤّﺎ ﺟَﻌَﻠَﻜُﻢ
ﻣُﺴﺘَﺨﻠَﻔﻴﻦَ ﻓﻴﻪِ ۖ ﻓَﺎﻟَّﺬﻳﻦَ
ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻣِﻨﻜُﻢ ﻭَﺃَﻧﻔَﻘﻮﺍ ﻟَﻬُﻢ
ﺃَﺟﺮٌ ﻛَﺒﻴﺮٌ
[7] তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের
প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তিনি
তোমাদেরকে যার উত্তরাধিকারী
করেছেন, তা থেকে ব্যয় কর। অতএব,
তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস
স্থাপন করে ও ব্যয় করে, তাদের জন্যে
রয়েছে মহাপুরস্কার।
[7] Believe in Allâh and His Messenger
(Muhammad SAW), and spend of that
whereof He has made you trustees. And
such of you as believe and spend (in
Allâh’s Way), theirs will be a great
reward.
[8] ﻭَﻣﺎ ﻟَﻜُﻢ ﻻ ﺗُﺆﻣِﻨﻮﻥَ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ۙ
ﻭَﺍﻟﺮَّﺳﻮﻝُ ﻳَﺪﻋﻮﻛُﻢ ﻟِﺘُﺆﻣِﻨﻮﺍ
ﺑِﺮَﺑِّﻜُﻢ ﻭَﻗَﺪ ﺃَﺧَﺬَ ﻣﻴﺜٰﻘَﻜُﻢ ﺇِﻥ
ﻛُﻨﺘُﻢ ﻣُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[8] তোমাদের কি হল যে, তোমরা
আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করছ
না, অথচ রসূল তোমাদেরকে
তোমাদের পালনকর্তার প্রতি
বিশ্বাস স্থাপন করার দাওয়াত
দিচ্ছেন? আল্লাহ তো পূর্বেই
তোমাদের অঙ্গীকার নিয়েছেন-যদি
তোমরা বিশ্বাসী হও।
[8] And what is the matter with you that
you believe not in Allâh! While the
Messenger (Muhammad SAW) invites you
to believe in your Lord (Allâh), and He
(Allâh) has indeed taken your covenant,
if you are real believers.
[9] ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻳُﻨَﺰِّﻝُ ﻋَﻠﻰٰ ﻋَﺒﺪِﻩِ
ﺀﺍﻳٰﺖٍ ﺑَﻴِّﻨٰﺖٍ ﻟِﻴُﺨﺮِﺟَﻜُﻢ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻈُّﻠُﻤٰﺖِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨّﻮﺭِ ۚ ﻭَﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ
ﺑِﻜُﻢ ﻟَﺮَﺀﻭﻑٌ ﺭَﺣﻴﻢٌ
[9] তিনিই তাঁর দাসের প্রতি প্রকাশ্য
আয়াত অবতীর্ণ করেন, যাতে
তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে
আলোকে আনয়ন করেন। নিশ্চয় আল্লাহ
তোমাদের প্রতি করুণাময়, পরম দয়ালু।
[9] It is He Who sends down manifest
Ayât (proofs, evidences, verses, lessons,
signs, revelations, etc.) to His slave
(Muhammad SAW) that He may bring
you out from darkness into light. And
verily, Allâh is to you full of kindness,
Most Merciful.
[10] ﻭَﻣﺎ ﻟَﻜُﻢ ﺃَﻟّﺎ ﺗُﻨﻔِﻘﻮﺍ ﻓﻰ
ﺳَﺒﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻟِﻠَّﻪِ ﻣﻴﺮٰﺙُ
ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ۚ ﻻ
ﻳَﺴﺘَﻮﻯ ﻣِﻨﻜُﻢ ﻣَﻦ ﺃَﻧﻔَﻖَ ﻣِﻦ
ﻗَﺒﻞِ ﺍﻟﻔَﺘﺢِ ﻭَﻗٰﺘَﻞَ ۚ ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ
ﺃَﻋﻈَﻢُ ﺩَﺭَﺟَﺔً ﻣِﻦَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﺃَﻧﻔَﻘﻮﺍ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪُ ﻭَﻗٰﺘَﻠﻮﺍ ۚ ﻭَﻛُﻠًّﺎ
ﻭَﻋَﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟﺤُﺴﻨﻰٰ ۚ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻤﺎ
ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ ﺧَﺒﻴﺮٌ
[10] তোমাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয়
করতে কিসে বাধা দেয়, যখন আল্লাহই
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের
উত্তরাধিকারী? তোমাদের মধ্যে যে
মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে ও
জেহাদ করেছে, সে সমান নয়। এরূপ
লোকদের মর্যদা বড় তাদের অপেক্ষা,
যার পরে ব্যয় করেছে ও জেহাদ
করেছে। তবে আল্লাহ উভয়কে
কল্যাণের ওয়াদা দিয়েছেন। তোমরা
যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক
জ্ঞাত।
[10] And what is the matter with you that
you spend not in the Cause of Allâh? And
to Allâh belongs the heritage of the
heavens and the earth. Not equal among
you are those who spent and fought
before the conquering (of Makkah with
those among you who did so later). Such
are higher in degree than those who
spent and fought afterwards. But to all,
Allâh has promised the best (reward).
And Allâh is All-Aware of what you do.
[11] ﻣَﻦ ﺫَﺍ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻳُﻘﺮِﺽُ ﺍﻟﻠَّﻪَ
ﻗَﺮﺿًﺎ ﺣَﺴَﻨًﺎ ﻓَﻴُﻀٰﻌِﻔَﻪُ ﻟَﻪُ ﻭَﻟَﻪُ
ﺃَﺟﺮٌ ﻛَﺮﻳﻢٌ
[11] কে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহকে
উত্তম ধার দিবে, এরপর তিনি তার
জন্যে তা বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন এবং
তার জন্যে রয়েছে সম্মানিত পুরস্কার।
[11] Who is he that will lend Allâh a
goodly loan, then (Allâh) will increase it
manifold to his credit (in repaying), and
he will have (besides) a good reward (i.e.
Paradise).
[12] ﻳَﻮﻡَ ﺗَﺮَﻯ ﺍﻟﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
ﻭَﺍﻟﻤُﺆﻣِﻨٰﺖِ ﻳَﺴﻌﻰٰ ﻧﻮﺭُﻫُﻢ
ﺑَﻴﻦَ ﺃَﻳﺪﻳﻬِﻢ ﻭَﺑِﺄَﻳﻤٰﻨِﻬِﻢ
ﺑُﺸﺮﻯٰﻜُﻢُ ﺍﻟﻴَﻮﻡَ ﺟَﻨّٰﺖٌ ﺗَﺠﺮﻯ
ﻣِﻦ ﺗَﺤﺘِﻬَﺎ ﺍﻷَﻧﻬٰﺮُ ﺧٰﻠِﺪﻳﻦَ
ﻓﻴﻬﺎ ۚ ﺫٰﻟِﻚَ ﻫُﻮَ ﺍﻟﻔَﻮﺯُ ﺍﻟﻌَﻈﻴﻢُ
[12] যেদিন আপনি দেখবেন ঈমানদার
পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে, তাদের
সম্মুখ ভাগে ও ডানপার্শ্বে তাদের
জ্যোতি ছুটোছুটি করবে বলা হবেঃ
আজ তোমাদের জন্যে সুসংবাদ
জান্নাতের, যার তলদেশে নদী
প্রবাহিত, তাতে তারা চিরকাল
থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।
[12] On the Day you shall see the
believing men and the believing women
their light running forward before them
and by their right hands. Glad tidings
for you this Day! Gardens under which
rivers flow (Paradise), to dwell therein
forever! Truly, this is the great success!
[13] ﻳَﻮﻡَ ﻳَﻘﻮﻝُ ﺍﻟﻤُﻨٰﻔِﻘﻮﻥَ
ﻭَﺍﻟﻤُﻨٰﻔِﻘٰﺖُ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨُﻮﺍ
ﺍﻧﻈُﺮﻭﻧﺎ ﻧَﻘﺘَﺒِﺲ ﻣِﻦ ﻧﻮﺭِﻛُﻢ
ﻗﻴﻞَ ﺍﺭﺟِﻌﻮﺍ ﻭَﺭﺍﺀَﻛُﻢ
ﻓَﺎﻟﺘَﻤِﺴﻮﺍ ﻧﻮﺭًﺍ ﻓَﻀُﺮِﺏَ
ﺑَﻴﻨَﻬُﻢ ﺑِﺴﻮﺭٍ ﻟَﻪُ ﺑﺎﺏٌ ﺑﺎﻃِﻨُﻪُ
ﻓﻴﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤَﺔُ ﻭَﻇٰﻬِﺮُﻩُ ﻣِﻦ
ﻗِﺒَﻠِﻪِ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏُ
[13] যেদিন কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট
বিশ্বাসিনী নারীরা মুমিনদেরকে
বলবেঃ তোমরা আমাদের জন্যে
অপেক্ষা কর, আমরাও কিছু আলো নিব
তোমাদের জ্যোতি থেকে। বলা
হবেঃ তোমরা পিছনে ফিরে যাও ও
আলোর খোঁজ কর। অতঃপর উভয় দলের
মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি
প্রাচীর, যার একটি দরজা হবে। তার
অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে
থাকবে আযাব।
[13] On the Day when the hypocrites
men and women will say to the
believers: “Wait for us! Let us get
something from your light!” It will be
said: “Go back to your rear! Then seek a
light!” So a wall will be put up between
them, with a gate therein. Inside it will
be mercy, and outside it will be
torment.”
[14] ﻳُﻨﺎﺩﻭﻧَﻬُﻢ ﺃَﻟَﻢ ﻧَﻜُﻦ ﻣَﻌَﻜُﻢ ۖ
ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺑَﻠﻰٰ ﻭَﻟٰﻜِﻨَّﻜُﻢ ﻓَﺘَﻨﺘُﻢ
ﺃَﻧﻔُﺴَﻜُﻢ ﻭَﺗَﺮَﺑَّﺼﺘُﻢ ﻭَﺍﺭﺗَﺒﺘُﻢ
ﻭَﻏَﺮَّﺗﻜُﻢُ ﺍﻷَﻣﺎﻧِﻰُّ ﺣَﺘّﻰٰ ﺟﺎﺀَ
ﺃَﻣﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻏَﺮَّﻛُﻢ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﻐَﺮﻭﺭُ
[14] তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবেঃ
আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম
না? তারা বলবেঃ হঁ্যা কিন্তু তোমরা
নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত
করেছ। প্রতীক্ষা করেছ, সন্দেহ পোষণ
করেছ এবং অলীক আশার পেছনে
বিভ্রান্ত হয়েছ, অবশেষে আল্লাহর
আদেশ পৌঁছেছে। এই সবই
তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে
প্রতারিত করেছে।
[14] (The hypocrites) will call the
believers: “Were we not with you?” The
believers will reply: “Yes! But you led
yourselves into temptations, you looked
forward for our destruction; you
doubted (in Faith); and you were
deceived by false desires, till the
Command of Allâh came to pass. And the
chief deceiver (Satan) deceived you in
respect of Allâh.”
[15] ﻓَﺎﻟﻴَﻮﻡَ ﻻ ﻳُﺆﺧَﺬُ ﻣِﻨﻜُﻢ
ﻓِﺪﻳَﺔٌ ﻭَﻻ ﻣِﻦَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ۚ
ﻣَﺄﻭﻯٰﻜُﻢُ ﺍﻟﻨّﺎﺭُ ۖ ﻫِﻰَ ﻣَﻮﻟﻯٰﻜُﻢ ۖ
ﻭَﺑِﺌﺲَ ﺍﻟﻤَﺼﻴﺮُ
[15] অতএব, আজ তোমাদের কাছ থেকে
কোন মুক্তিপন গ্রহণ করা হবে না। এবং
কাফেরদের কাছ থেকেও নয়।
তোমাদের সবার আবাস্থল
জাহান্নাম। সেটাই তোমাদের সঙ্গী।
কতই না নিকৃষ্ট এই প্রত্যাবর্তন স্থল।
[15] So this Day no ransom shall be taken
from you (hypocrites), nor of those who
disbelieved, (in the Oneness of Allâh
Islâmic Monotheism). Your abode is the
Fire, That is your maula (friend —
proper place), and worst indeed is that
destination.
[16] ۞ ﺃَﻟَﻢ ﻳَﺄﻥِ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ
ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﺃَﻥ ﺗَﺨﺸَﻊَ ﻗُﻠﻮﺑُﻬُﻢ
ﻟِﺬِﻛﺮِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻣﺎ ﻧَﺰَﻝَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺤَﻖِّ
ﻭَﻻ ﻳَﻜﻮﻧﻮﺍ ﻛَﺎﻟَّﺬﻳﻦَ ﺃﻭﺗُﻮﺍ
ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ ﻓَﻄﺎﻝَ
ﻋَﻠَﻴﻬِﻢُ ﺍﻷَﻣَﺪُ ﻓَﻘَﺴَﺖ ﻗُﻠﻮﺑُﻬُﻢ ۖ
ﻭَﻛَﺜﻴﺮٌ ﻣِﻨﻬُﻢ ﻓٰﺴِﻘﻮﻥَ
[16] যারা মুমিন, তাদের জন্যে কি
আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য
অবর্তীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয়
বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? তারা
তাদের মত যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে
কিতাব দেয়া হয়েছিল। তাদের উপর
সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে,
অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে
গেছে। তাদের অধিকাংশই
পাপাচারী।
[16] Has not the time come for the hearts
of those who believe (in the Oneness of
Allâh – Islâmic Monotheism) to be
affected by Allâh’s Reminder (this
Qur’ân), and that which has been
revealed of the truth, lest they become as
those who received the Scripture [the
Taurât (Torah) and the Injeel (Gospel)]
before (i.e. Jews and Christians), and the
term was prolonged for them and so
their hearts were hardened? And many
of them were Fâsiqûn (the rebellious, the
disobedient to Allâh).
[17] ﺍﻋﻠَﻤﻮﺍ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳُﺤﻰِ
ﺍﻷَﺭﺽَ ﺑَﻌﺪَ ﻣَﻮﺗِﻬﺎ ۚ ﻗَﺪ ﺑَﻴَّﻨّﺎ
ﻟَﻜُﻢُ ﺍﻝﺀﺍﻳٰﺖِ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢ ﺗَﻌﻘِﻠﻮﻥَ
[17] তোমরা জেনে রাখ, আল্লাহই ভূ-
ভাগকে তার মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত
করেন। আমি পরিস্কারভাবে
তোমাদের জন্যে আয়াতগুলো ব্যক্ত
করেছি, যাতে তোমরা বোঝ।
[17] Know that Allâh gives life to the
earth after its death! Indeed We have
made clear the Ayât (proofs, evidences,
verses, lessons, signs, revelations) to you,
if you but understand.
[18] ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻤُﺼَّﺪِّﻗﻴﻦَ
ﻭَﺍﻟﻤُﺼَّﺪِّﻗٰﺖِ ﻭَﺃَﻗﺮَﺿُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ
ﻗَﺮﺿًﺎ ﺣَﺴَﻨًﺎ ﻳُﻀٰﻌَﻒُ ﻟَﻬُﻢ
ﻭَﻟَﻬُﻢ ﺃَﺟﺮٌ ﻛَﺮﻳﻢٌ
[18] নিশ্চয় দানশীল ব্যক্তি ও
দানশীলা নারী, যারা আল্লাহকে
উত্তমরূপে ধার দেয়, তাদেরকে দেয়া
হবে বহুগুণ এবং তাদের জন্যে রয়েছে
সম্মানজনক পুরস্কার।
[18] Verily, those who give Sadaqât (i.e.
Zakât and alms, etc.), men and women,
and lend Allâh a goodly loan, it shall be
increased manifold (to their credit), and
theirs shall be an honourable good
reward (i.e. Paradise).
[19] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ
ﻭَﺭُﺳُﻠِﻪِ ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻫُﻢُ
ﺍﻟﺼِّﺪّﻳﻘﻮﻥَ ۖ ﻭَﺍﻟﺸُّﻬَﺪﺍﺀُ ﻋِﻨﺪَ
ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﻟَﻬُﻢ ﺃَﺟﺮُﻫُﻢ ﻭَﻧﻮﺭُﻫُﻢ ۖ
ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﻭَﻛَﺬَّﺑﻮﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ
ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﺃَﺻﺤٰﺐُ ﺍﻟﺠَﺤﻴﻢِ
[19] আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের
প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে তারাই
তাদের পালনকর্তার কাছে সিদ্দীক ও
শহীদ বলে বিবেচিত। তাদের জন্যে
রয়েছে পুরস্কার ও জ্যোতি এবং যারা
কাফের ও আমার নিদর্শন
অস্বীকারকারী তারাই জাহান্নামের
অধিবাসী হবে।
[19] And those who believe in (the
Oneness of) Allâh and His Messengers,
they are the Siddiqûn (i.e. those
followers of the Prophets who were first
and foremost to believe in them), and
the martyrs with their Lord, they shall
have their reward and their light. But
those who disbelieve (in the Oneness of
Allâh – Islâmic Monotheism) and deny
Our Ayât (proofs, evidences, verses,
lessons, signs, revelations, etc.), they
shall be the dwellers of the blazing Fire.
[20] ﺍﻋﻠَﻤﻮﺍ ﺃَﻧَّﻤَﺎ ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓُ
ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﻟَﻌِﺐٌ ﻭَﻟَﻬﻮٌ ﻭَﺯﻳﻨَﺔٌ
ﻭَﺗَﻔﺎﺧُﺮٌ ﺑَﻴﻨَﻜُﻢ ﻭَﺗَﻜﺎﺛُﺮٌ ﻓِﻰ
ﺍﻷَﻣﻮٰﻝِ ﻭَﺍﻷَﻭﻟٰﺪِ ۖ ﻛَﻤَﺜَﻞِ ﻏَﻴﺚٍ
ﺃَﻋﺠَﺐَ ﺍﻟﻜُﻔّﺎﺭَ ﻧَﺒﺎﺗُﻪُ ﺛُﻢَّ
ﻳَﻬﻴﺞُ ﻓَﺘَﺮﻯٰﻪُ ﻣُﺼﻔَﺮًّﺍ ﺛُﻢَّ
ﻳَﻜﻮﻥُ ﺣُﻄٰﻤًﺎ ۖ ﻭَﻓِﻰ
ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﻋَﺬﺍﺏٌ ﺷَﺪﻳﺪٌ
ﻭَﻣَﻐﻔِﺮَﺓٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺭِﺿﻮٰﻥٌ ۚ
ﻭَﻣَﺎ ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓُ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﺇِﻟّﺎ ﻣَﺘٰﻊُ
ﺍﻟﻐُﺮﻭﺭِ
[20] তোমরা জেনে রাখ, পার্থিব
জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, সাজ-সজ্জা,
পারস্পরিক অহমিকা এবং ধন ও জনের
প্রাচুর্য ব্যতীত আর কিছু নয়, যেমন এক
বৃষ্টির অবস্থা, যার সবুজ ফসল
কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, এরপর তা
শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে পীতবর্ণ
দেখতে পাও, এরপর তা খড়কুটা হয়ে
যায়। আর পরকালে আছে কঠিন শাস্তি
এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি।
পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ বৈ
কিছু নয়।
[20] Know that the life of this world is
only play and amusement, pomp and
mutual boasting among you, and rivalry
in respect of wealth and children, (it is)
as the likeness of vegetation after rain,
thereof the growth is pleasing to the
tiller; afterwards it dries up and you see
it turning yellow; then it becomes straw.
But in the Hereafter (there is) a severe
torment (for the disbelievers, evil-doers),
and (there is) Forgiveness from Allâh
and (His) Good Pleasure (for the
believers — good-doers), And the life of
this world is only a deceiving enjoyment.
[21] ﺳﺎﺑِﻘﻮﺍ ﺇِﻟﻰٰ ﻣَﻐﻔِﺮَﺓٍ ﻣِﻦ
ﺭَﺑِّﻜُﻢ ﻭَﺟَﻨَّﺔٍ ﻋَﺮﺿُﻬﺎ ﻛَﻌَﺮﺽِ
ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ﺃُﻋِﺪَّﺕ
ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺭُﺳُﻠِﻪِ ۚ
ﺫٰﻟِﻚَ ﻓَﻀﻞُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻳُﺆﺗﻴﻪِ ﻣَﻦ
ﻳَﺸﺎﺀُ ۚ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺫُﻭ ﺍﻟﻔَﻀﻞِ
ﺍﻟﻌَﻈﻴﻢِ
[21] তোমরা অগ্রে ধাবিত হও
তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও সেই
জান্নাতের দিকে, যা আকাশ ও
পৃথিবীর মত প্রশস্ত। এটা প্রস্তুত করা
হয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রসূলগণের প্রতি
বিশ্বাসস্থাপনকারীদের জন্যে। এটা
আল্লাহর কৃপা, তিনি যাকে ইচ্ছা, এটা
দান করেন। আল্লাহ মহান কৃপার
অধিকারী।
[21] Race with one another in hastening
towards forgiveness from your Lord
(Allâh), and Paradise the width whereof
is as the width of the heaven and the
earth, prepared for those who believe in
Allâh and His Messengers. That is the
Grace of Allâh which He bestows on
whom He is pleased with. And Allâh is
the Owner of Great Bounty.
[22] ﻣﺎ ﺃَﺻﺎﺏَ ﻣِﻦ ﻣُﺼﻴﺒَﺔٍ
ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﻻ ﻓﻰ ﺃَﻧﻔُﺴِﻜُﻢ
ﺇِﻟّﺎ ﻓﻰ ﻛِﺘٰﺐٍ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞِ ﺃَﻥ
ﻧَﺒﺮَﺃَﻫﺎ ۚ ﺇِﻥَّ ﺫٰﻟِﻚَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻳَﺴﻴﺮٌ
[22] পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে
তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না;
কিন্তু তা জগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে
লিপিবদ্ধ আছে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর
পক্ষে সহজ।
[22] No calamity befalls on the earth or
in yourselves but is inscribed in the
Book of Decrees (Al-Lauh Al-Mahfûz),
before We bring it into existence. Verily,
that is easy for Allâh.
[23] ﻟِﻜَﻴﻼ ﺗَﺄﺳَﻮﺍ ﻋَﻠﻰٰ ﻣﺎ
ﻓﺎﺗَﻜُﻢ ﻭَﻻ ﺗَﻔﺮَﺣﻮﺍ ﺑِﻤﺎ
ﺀﺍﺗﻯٰﻜُﻢ ۗ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻻ ﻳُﺤِﺐُّ ﻛُﻞَّ
ﻣُﺨﺘﺎﻝٍ ﻓَﺨﻮﺭٍ
[23] এটা এজন্যে বলা হয়, যাতে
তোমরা যা হারাও তজ্জন্যে দুঃখিত
না হও এবং তিনি তোমাদেরকে যা
দিয়েছেন, তজ্জন্যে উল্লসিত না হও।
আল্লাহ কোন উদ্ধত অহংকারীকে
পছন্দ করেন না,
[23] In order that you may not grieve at
the things that you fail to get, nor rejoice
over that which has been given to you.
And Allâh likes not prideful boasters.
[24] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳَﺒﺨَﻠﻮﻥَ ﻭَﻳَﺄﻣُﺮﻭﻥَ
ﺍﻟﻨّﺎﺱَ ﺑِﺎﻟﺒُﺨﻞِ ۗ ﻭَﻣَﻦ ﻳَﺘَﻮَﻝَّ
ﻓَﺈِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻫُﻮَ ﺍﻟﻐَﻨِﻰُّ ﺍﻟﺤَﻤﻴﺪُ
[24] যারা কৃপণতা করে এবং মানুষকে
কৃপণতার প্রতি উৎসাহ দেয়, যে মুখ
ফিরিয়ে নেয়, তার জানা উচিত যে,
আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।
[24] Those who are misers and enjoin
upon people miserliness (Allâh is not in
need of their charity). And whosoever
turns away (from Faith — Allâh’s
Monotheism), then Allâh is Rich (Free of
all needs), Worthy of all praise.
[25] ﻟَﻘَﺪ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﺭُﺳُﻠَﻨﺎ
ﺑِﺎﻟﺒَﻴِّﻨٰﺖِ ﻭَﺃَﻧﺰَﻟﻨﺎ ﻣَﻌَﻬُﻢُ
ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ﻭَﺍﻟﻤﻴﺰﺍﻥَ ﻟِﻴَﻘﻮﻡَ
ﺍﻟﻨّﺎﺱُ ﺑِﺎﻟﻘِﺴﻂِ ۖ ﻭَﺃَﻧﺰَﻟﻨَﺎ
ﺍﻟﺤَﺪﻳﺪَ ﻓﻴﻪِ ﺑَﺄﺱٌ ﺷَﺪﻳﺪٌ
ﻭَﻣَﻨٰﻔِﻊُ ﻟِﻠﻨّﺎﺱِ ﻭَﻟِﻴَﻌﻠَﻢَ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﻣَﻦ ﻳَﻨﺼُﺮُﻩُ ﻭَﺭُﺳُﻠَﻪُ ﺑِﺎﻟﻐَﻴﺐِ ۚ
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻗَﻮِﻯٌّ ﻋَﺰﻳﺰٌ
[25] আমি আমার রসূলগণকে সুস্পষ্ট
নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের
সাথে অবতীর্ণ করেছি কিতাব ও
ন্যায়নীতি, যাতে মানুষ ইনসাফ
প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি নাযিল
করেছি লৌহ, যাতে আছে প্রচন্ড
রণশক্তি এবং মানুষের বহুবিধ উপকার।
এটা এজন্যে যে, আল্লাহ জেনে নিবেন
কে না দেখে তাঁকে ও তাঁর রসূলগণকে
সাহায্য করে। আল্লাহ শক্তিধর,
পরাক্রমশালী।
[25] Indeed We have sent Our
Messengers with clear proofs, and
revealed with them the Scripture and the
Balance (justice) that mankind may keep
up justice. And We brought forth iron
wherein is mighty power (in matters of
war), as well as many benefits for
mankind, that Allâh may test who it is
that will help Him (His religion), and His
Messengers in the unseen. Verily, Allâh
is All-Strong, All-Mighty.
[26] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﻧﻮﺣًﺎ
ﻭَﺇِﺑﺮٰﻫﻴﻢَ ﻭَﺟَﻌَﻠﻨﺎ ﻓﻰ
ﺫُﺭِّﻳَّﺘِﻬِﻤَﺎ ﺍﻟﻨُّﺒُﻮَّﺓَ ﻭَﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ۖ
ﻓَﻤِﻨﻬُﻢ ﻣُﻬﺘَﺪٍ ۖ ﻭَﻛَﺜﻴﺮٌ ﻣِﻨﻬُﻢ
ﻓٰﺴِﻘﻮﻥَ
[26] আমি নূহ ও ইব্রাহীমকে রসূলরূপে
প্রেরণ করেছি এবং তাদের বংশধরের
মধ্যে নবুওয়ত ও কিতাব অব্যাহত
রেখেছি। অতঃপর তাদের কতক
সৎপথপ্রাপ্ত হয়েছে এবং অধিকাংশই
হয়েছে পাপাচারী।
[26] And indeed, We sent Nûh (Noah)
and Ibrahîm (Abraham), and placed in
their offspring Prophethood and
Scripture, And among them there are
some who are guided, but many of them
are Fâsiqûn (rebellious, disobedient to
Allâh).
[27] ﺛُﻢَّ ﻗَﻔَّﻴﻨﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﺀﺍﺛٰﺮِﻫِﻢ
ﺑِﺮُﺳُﻠِﻨﺎ ﻭَﻗَﻔَّﻴﻨﺎ ﺑِﻌﻴﺴَﻰ ﺍﺑﻦِ
ﻣَﺮﻳَﻢَ ﻭَﺀﺍﺗَﻴﻨٰﻪُ ﺍﻹِﻧﺠﻴﻞَ
ﻭَﺟَﻌَﻠﻨﺎ ﻓﻰ ﻗُﻠﻮﺏِ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﺍﺗَّﺒَﻌﻮﻩُ ﺭَﺃﻓَﺔً ﻭَﺭَﺣﻤَﺔً
ﻭَﺭَﻫﺒﺎﻧِﻴَّﺔً ﺍﺑﺘَﺪَﻋﻮﻫﺎ ﻣﺎ
ﻛَﺘَﺒﻨٰﻬﺎ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﺑﺘِﻐﺎﺀَ
ﺭِﺿﻮٰﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻤﺎ ﺭَﻋَﻮﻫﺎ ﺣَﻖَّ
ﺭِﻋﺎﻳَﺘِﻬﺎ ۖ ﻓَـٔﺎﺗَﻴﻨَﺎ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻣِﻨﻬُﻢ ﺃَﺟﺮَﻫُﻢ ۖ ﻭَﻛَﺜﻴﺮٌ
ﻣِﻨﻬُﻢ ﻓٰﺴِﻘﻮﻥَ
[27] অতঃপর আমি তাদের পশ্চাতে
প্রেরণ করেছি আমার রসূলগণকে এবং
তাদের অনুগামী করেছি মরিয়ম তনয়
ঈসাকে ও তাকে দিয়েছি ইঞ্জিল।
আমি তার অনুসারীদের অন্তরে স্থাপন
করেছি নম্রতা ও দয়া। আর বৈরাগ্য, সে
তো তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছে;
আমি এটা তাদের উপর ফরজ করিনি;
কিন্তু তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের
জন্যে এটা অবলম্বন করেছে। অতঃপর
তারা যথাযথভাবে তা পালন করেনি।
তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাসী ছিল,
আমি তাদেরকে তাদের প্রাপ্য
পুরস্কার দিয়েছি। আর তাদের
অধিকাংশই পাপাচারী।
[27] Then, We sent after them, Our
Messengers, and We sent ‘Īsā (Jesus) son
of Maryam (Mary), and gave him the
Injeel (Gospel). And We ordained in the
hearts of those who followed him,
compassion and mercy. But the
monasticism which they invented for
themselves, We did not prescribe for
them, but (they sought it) only to please
Allâh therewith, but they did not observe
it with the right observance. So We gave
those among them who believed, their
(due) reward, but many of them are
Fâsiqûn (rebellious, disobedient to
Allâh).
[28] ﻳٰﺄَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨُﻮﺍ ﺍﺗَّﻘُﻮﺍ
ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺀﺍﻣِﻨﻮﺍ ﺑِﺮَﺳﻮﻟِﻪِ ﻳُﺆﺗِﻜُﻢ
ﻛِﻔﻠَﻴﻦِ ﻣِﻦ ﺭَﺣﻤَﺘِﻪِ ﻭَﻳَﺠﻌَﻞ
ﻟَﻜُﻢ ﻧﻮﺭًﺍ ﺗَﻤﺸﻮﻥَ ﺑِﻪِ ﻭَﻳَﻐﻔِﺮ
ﻟَﻜُﻢ ۚ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻏَﻔﻮﺭٌ ﺭَﺣﻴﻢٌ
[28] মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয়
কর এবং তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস
স্থাপন কর। তিনি নিজে অনুগ্রহের
দ্বিগুণ অংশ তোমাদেরকে দিবেন,
তোমাদেরকে দিবেন জ্যোতি, যার
সাহায্যে তোমরা চলবে এবং
তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ
ক্ষমাশীল, দয়াময়।
[28] O you who believe [in Mûsa (Moses)
(i.e. Jews) and ‘Īsā (Jesus) (i.e.
Christians)]! Fear Allâh, and believe in
His Messenger (Muhammad SAW), He
will give you a double portion of His
Mercy, and He will give you a light by
which you shall walk (straight), and He
will forgive you. And Allâh is Oft-
Forgiving, Most Merciful.
[29] ﻟِﺌَﻠّﺎ ﻳَﻌﻠَﻢَ ﺃَﻫﻞُ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ ﺃَﻟّﺎ
ﻳَﻘﺪِﺭﻭﻥَ ﻋَﻠﻰٰ ﺷَﻲﺀٍ ﻣِﻦ
ﻓَﻀﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۙ ﻭَﺃَﻥَّ ﺍﻟﻔَﻀﻞَ ﺑِﻴَﺪِ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻳُﺆﺗﻴﻪِ ﻣَﻦ ﻳَﺸﺎﺀُ ۚ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ
ﺫُﻭ ﺍﻟﻔَﻀﻞِ ﺍﻟﻌَﻈﻴﻢِ
[29] যাতে কিতাবধারীরা জানে যে,
আল্লাহর সামান্য অনুগ্রহের উপর ও
তাদের কোন ক্ষমতা নেই, দয়া
আল্লাহরই হাতে; তিনি যাকে ইচ্ছা,
তা দান করেন। আল্লাহ মহা
অনুগ্রহশীল।
[29] So that the people of the Scripture
(Jews and Christians) may know that
they have no power whatsoever over the
Grace of Allâh, and that (His) Grace is
(entirely) in His Hand to bestow it on
whomsoever He wills. And Allâh is the
Owner of Great Bounty.
Surah Al Hadid Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবাই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি শক্তিধর; প্রজ্ঞাময়। 2. নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব তাঁরই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। তিনি সবকিছু করতে সক্ষম। 3. তিনিই প্রথম, তিনিই সর্বশেষ, তিনিই প্রকাশমান ও অপ্রকাশমান এবং তিনি সব বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত। 4. তিনি নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছেন ছয়দিনে, অতঃপর আরশের উপর সমাসীন হয়েছেন। তিনি জানেন যা ভূমিতে প্রবেশ করে ও যা ভূমি থেকে নির্গত হয় এবং যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় ও যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন। 5. নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব তাঁরই। সবকিছু তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করবে। 6. তিনি রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে প্রবিষ্ট করেন রাত্রিতে। তিনি অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞাত। 7. তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তিনি তোমাদেরকে যার উত্তরাধিকারী করেছেন, তা থেকে ব্যয় কর। অতএব, তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও ব্যয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে মহাপুরস্কার। 8. তোমাদের কি হল যে, তোমরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করছ না, অথচ রসূল তোমাদেরকে তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার দাওয়াত দিচ্ছেন? আল্লাহ তো পূর্বেই তোমাদের অঙ্গীকার নিয়েছেন-যদি তোমরা বিশ্বাসী হও। 9. তিনিই তাঁর দাসের প্রতি প্রকাশ্য আয়াত অবতীর্ণ করেন, যাতে তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোকে আনয়ন করেন। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি করুণাময়, পরম দয়ালু। 10. তোমাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করতে কিসে বাধা দেয়, যখন আল্লাহই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের উত্তরাধিকারী? তোমাদের মধ্যে যে মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে ও জেহাদ করেছে, সে সমান নয়। এরূপ লোকদের মর্যদা বড় তাদের অপেক্ষা, যার পরে ব্যয় করেছে ও জেহাদ করেছে। তবে আল্লাহ উভয়কে কল্যাণের ওয়াদা দিয়েছেন। তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। 11. কে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহকে উত্তম ধার দিবে, এরপর তিনি তার জন্যে তা বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন এবং তার জন্যে রয়েছে সম্মানিত পুরস্কার। 12. যেদিন আপনি দেখবেন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে, তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডানপার্শ্বে তাদের জ্যোতি ছুটোছুটি করবে বলা হবেঃ আজ তোমাদের জন্যে সুসংবাদ জান্নাতের, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য। 13. যেদিন কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারীরা মুমিনদেরকে বলবেঃ তোমরা আমাদের জন্যে অপেক্ষা কর, আমরাও কিছু আলো নিব তোমাদের জ্যোতি থেকে। বলা হবেঃ তোমরা পিছনে ফিরে যাও ও আলোর খোঁজ কর। অতঃপর উভয় দলের মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর, যার একটি দরজা হবে। তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব। 14. তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবেঃ আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবেঃ হঁযা কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। প্রতীক্ষা করেছ, সন্দেহ পোষণ করেছ এবং অলীক আশার পেছনে বিভ্রান্ত হয়েছ, অবশেষে আল্লাহর আদেশ পৌঁছেছে। এই সবই তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছে। 15. অতএব, আজ তোমাদের কাছ থেকে কোন মুক্তিপন গ্রহণ করা হবে না। এবং কাফেরদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের সবার আবাস্থল জাহান্নাম। সেটাই তোমাদের সঙ্গী। কতই না নিকৃষ্ট এই প্রত্যাবর্তন স্থল। 16. যারা মুমিন, তাদের জন্যে কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবর্তীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? তারা তাদের মত যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল। তাদের উপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে, অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের অধিকাংশই পাপাচারী। 17. তোমরা জেনে রাখ, আল্লাহই ভূ-ভাগকে তার মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করেন। আমি পরিস্কারভাবে তোমাদের জন্যে আয়াতগুলো ব্যক্ত করেছি, যাতে তোমরা বোঝ। 18. নিশ্চয় দানশীল ব্যক্তি ও দানশীলা নারী, যারা আল্লাহকে উত্তমরূপে ধার দেয়, তাদেরকে দেয়া হবে বহুগুণ এবং তাদের জন্যে রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার। 19. আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে তারাই তাদের পালনকর্তার কাছে সিদ্দীক ও শহীদ বলে বিবেচিত। তাদের জন্যে রয়েছে পুরস্কার ও জ্যোতি এবং যারা কাফের ও আমার নিদর্শন অস্বীকারকারী তারাই জাহান্নামের অধিবাসী হবে। 20. তোমরা জেনে রাখ, পার্থিব জীবন ক্রীড়া- কৌতুক, সাজ-সজ্জা, পারস্পরিক অহমিকা এবং ধন ও জনের প্রাচুর্য ব্যতীত আর কিছু নয়, যেমন এক বৃষ্টির অবস্থা, যার সবুজ ফসল কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, এরপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে পীতবর্ণ দেখতে পাও, এরপর তা খড়কুটা হয়ে যায়। আর পরকালে আছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ বৈ কিছু নয়। 21. তোমরা অগ্রে ধাবিত হও তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে, যা আকাশ ও পৃথিবীর মত প্রশস্ত। এটা প্রস্তুত করা হয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রসূলগণের প্রতি বিশ্বাসস্থাপনকারীদের জন্যে। এটা আল্লাহর কৃপা, তিনি যাকে ইচ্ছা, এটা দান করেন। আল্লাহ মহান কৃপার অধিকারী। 22. পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না; কিন্তু তা জগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ। 23. এটা এজন্যে বলা হয়, যাতে তোমরা যা হারাও তজ্জন্যে দুঃখিত না হও এবং তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তজ্জন্যে উল্লসিত না হও। আল্লাহ কোন উদ্ধত অহংকারীকে পছন্দ করেন না, 24. যারা কৃপণতা করে এবং মানুষকে কৃপণতার প্রতি উৎসাহ দেয়, যে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জানা উচিত যে, আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত। 25. আমি আমার রসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের সাথে অবতীর্ণ করেছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাতে মানুষ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি নাযিল করেছি লৌহ, যাতে আছে প্রচন্ড রণশক্তি এবং মানুষের বহুবিধ উপকার। এটা এজন্যে যে, আল্লাহ জেনে নিবেন কে না দেখে তাঁকে ও তাঁর রসূলগণকে সাহায্য করে। আল্লাহ শক্তিধর, পরাক্রমশালী। 26. আমি নূহ ও ইব্রাহীমকে রসূলরূপে প্রেরণ করেছি এবং তাদের বংশধরের মধ্যে নবুওয়ত ও কিতাব অব্যাহত রেখেছি। অতঃপর তাদের কতক সৎপথপ্রাপ্ত হয়েছে এবং অধিকাংশই হয়েছে পাপাচারী। 27. অতঃপর আমি তাদের পশ্চাতে প্রেরণ করেছি আমার রসূলগণকে এবং তাদের অনুগামী করেছি মরিয়ম তনয় ঈসাকে ও তাকে দিয়েছি ইঞ্জিল। আমি তার অনুসারীদের অন্তরে স্থাপন করেছি নম্রতা ও দয়া। আর বৈরাগ্য, সে তো তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছে; আমি এটা তাদের উপর ফরজ করিনি; কিন্তু তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যে এটা অবলম্বন করেছে। অতঃপর তারা যথাযথভাবে তা পালন করেনি। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাসী ছিল, আমি তাদেরকে তাদের প্রাপ্য পুরস্কার দিয়েছি। আর তাদের অধিকাংশই পাপাচারী। 28. মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তিনি নিজে অনুগ্রহের দ্বিগুণ অংশ তোমাদেরকে দিবেন, তোমাদেরকে দিবেন জ্যোতি, যার সাহায্যে তোমরা চলবে এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়। 29. যাতে কিতাবধারীরা জানে যে, আল্লাহর সামান্য অনুগ্রহের উপর ও তাদের কোন ক্ষমতা নেই, দয়া আল্লাহরই হাতে; তিনি যাকে ইচ্ছা, তা দান করেন। আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল। *********

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s