59. সুরাহ আল হাশর(01-24)


ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম
করুণাময়, অতি দয়ালু
[1] ﺳَﺒَّﺢَ ﻟِﻠَّﻪِ ﻣﺎ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﻣﺎ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ۖ ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ
ﺍﻟﺤَﻜﻴﻢُ
[1] নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু
আছে, সবই আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা
করে। তিনি পরাক্রমশালী
মহাজ্ঞানী।
[1] Whatsoever is in the heavens and
whatsoever is on the earth glorifies
Allâh. And He is the All-Mighty, the All-
Wise.
[2] ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺃَﺧﺮَﺝَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﻣِﻦ ﺃَﻫﻞِ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ ﻣِﻦ
ﺩِﻳٰﺮِﻫِﻢ ﻟِﺄَﻭَّﻝِ ﺍﻟﺤَﺸﺮِ ۚ ﻣﺎ
ﻇَﻨَﻨﺘُﻢ ﺃَﻥ ﻳَﺨﺮُﺟﻮﺍ ۖ ﻭَﻇَﻨّﻮﺍ
ﺃَﻧَّﻬُﻢ ﻣﺎﻧِﻌَﺘُﻬُﻢ ﺣُﺼﻮﻧُﻬُﻢ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﺄَﺗﻯٰﻬُﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣِﻦ ﺣَﻴﺚُ
ﻟَﻢ ﻳَﺤﺘَﺴِﺒﻮﺍ ۖ ﻭَﻗَﺬَﻑَ ﻓﻰ
ﻗُﻠﻮﺑِﻬِﻢُ ﺍﻟﺮُّﻋﺐَ ۚ ﻳُﺨﺮِﺑﻮﻥَ
ﺑُﻴﻮﺗَﻬُﻢ ﺑِﺄَﻳﺪﻳﻬِﻢ ﻭَﺃَﻳﺪِﻯ
ﺍﻟﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ ﻓَﺎﻋﺘَﺒِﺮﻭﺍ ﻳٰﺄُﻭﻟِﻰ
ﺍﻷَﺑﺼٰﺮِ
[2] তিনিই কিতাবধারীদের মধ্যে যারা
কাফের, তাদেরকে প্রথমবার একত্রিত
করে তাদের বাড়ী-ঘর থেকে বহিস্কার
করেছেন। তোমরা ধারণাও করতে
পারনি যে, তারা বের হবে এবং তারা
মনে করেছিল যে, তাদের দূর্গগুলো
তাদেরকে আল্লাহর কবল থেকে রক্ষা
করবে। অতঃপর আল্লাহর শাস্তি
তাদের উপর এমনদিক থেকে আসল, যার
কল্পনাও তারা করেনি। আল্লাহ
তাদের অন্তরে ত্রাস সঞ্চার করে
দিলেন। তারা তাদের বাড়ী-ঘর
নিজেদের হাতে এবং মুসলমানদের
হাতে ধ্বংস করছিল। অতএব, হে
চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ, তোমরা শিক্ষা
গ্রহণ কর।
[2] He it is Who drove out the
disbelievers among the people of the
Scripture (i.e. the Jews of the tribe of
Banu An-Nadîr) from their homes at the
first gathering. You did not think that
they would get out. And they thought that
their fortresses would defend them from
Allâh! But Allâh’s (Torment) reached
them from a place whereof they expected
it not, and He cast terror into their
hearts, so that they destroyed their own
dwellings with their own hands and the
hands of the believers. Then take
admonition, O you with eyes (to see).
[3] ﻭَﻟَﻮﻻ ﺃَﻥ ﻛَﺘَﺐَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢُ
ﺍﻟﺠَﻼﺀَ ﻟَﻌَﺬَّﺑَﻬُﻢ ﻓِﻰ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ۖ
ﻭَﻟَﻬُﻢ ﻓِﻰ ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﻋَﺬﺍﺏُ
ﺍﻟﻨّﺎﺭِ
[3] আল্লাহ যদি তাদের জন্যে
নির্বাসন অবধারিত না করতেন, তবে
তাদেরকে দুনিয়াতে শাস্তি দিতেন।
আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে
জাহান্নামের আযাব।
[3] And had it not been that Allâh had
decreed exile for them, He would
certainly have punished them in this
world, and in the Hereafter theirs shall
be the torment of the Fire.
[4] ﺫٰﻟِﻚَ ﺑِﺄَﻧَّﻬُﻢ ﺷﺎﻗُّﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ
ﻭَﺭَﺳﻮﻟَﻪُ ۖ ﻭَﻣَﻦ ﻳُﺸﺎﻕِّ ﺍﻟﻠَّﻪَ
ﻓَﺈِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺷَﺪﻳﺪُ ﺍﻟﻌِﻘﺎﺏِ
[4] এটা এ কারণে যে, তারা আল্লাহ ও
তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। যে
আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করে, তার জানা
উচিত যে, আল্লাহ কঠোর
শাস্তিদাতা।
[4] That is because they opposed Allâh
and His Messenger (Muhammad SAW).
And whosoever opposes Allâh, then
verily, Allâh is Severe in punishment.
[5] ﻣﺎ ﻗَﻄَﻌﺘُﻢ ﻣِﻦ ﻟﻴﻨَﺔٍ ﺃَﻭ
ﺗَﺮَﻛﺘُﻤﻮﻫﺎ ﻗﺎﺋِﻤَﺔً ﻋَﻠﻰٰ
ﺃُﺻﻮﻟِﻬﺎ ﻓَﺒِﺈِﺫﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻟِﻴُﺨﺰِﻯَ
ﺍﻟﻔٰﺴِﻘﻴﻦَ
[5] তোমরা যে কিছু কিছু খর্জুর বৃক্ষ
কেটে দিয়েছ এবং কতক না কেটে
ছেড়ে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই
আদেশ এবং যাতে তিনি অবাধ্যদেরকে
লাঞ্ছিত করেন।
[5] What you (O Muslims) cut down of
the palm-trees (of the enemy), or you left
them standing on their stems, it was by
Leave of Allâh, and in order that He
might disgrace the Fâsiqûn (the
rebellious, the disobedient to Allâh).
[6] ﻭَﻣﺎ ﺃَﻓﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠﻰٰ ﺭَﺳﻮﻟِﻪِ
ﻣِﻨﻬُﻢ ﻓَﻤﺎ ﺃَﻭﺟَﻔﺘُﻢ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻣِﻦ
ﺧَﻴﻞٍ ﻭَﻻ ﺭِﻛﺎﺏٍ ﻭَﻟٰﻜِﻦَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ
ﻳُﺴَﻠِّﻂُ ﺭُﺳُﻠَﻪُ ﻋَﻠﻰٰ ﻣَﻦ ﻳَﺸﺎﺀُ ۚ
ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠﻰٰ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲﺀٍ ﻗَﺪﻳﺮٌ
[6] আল্লাহ বনু-বনুযায়রের কাছ থেকে
তাঁর রসূলকে যে ধন-সম্পদ দিয়েছেন,
তজ্জন্যে তোমরা ঘোড়ায় কিংবা
উটে চড়ে যুদ্ধ করনি, কিন্তু আল্লাহ যার
উপর ইচ্ছা, তাঁর রসূলগণকে প্রাধান্য
দান করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর
সর্বশক্তিমান।
[6] And what Allâh gave as booty (Fai’)
to His Messenger (Muhammad SAW)
from them — for this you made no
expedition with either cavalry or
camelry. But Allâh gives power to His
Messengers over whomsoever He wills.
And Allâh is Able to do all things.
[7] ﻣﺎ ﺃَﻓﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠﻰٰ ﺭَﺳﻮﻟِﻪِ
ﻣِﻦ ﺃَﻫﻞِ ﺍﻟﻘُﺮﻯٰ ﻓَﻠِﻠَّﻪِ
ﻭَﻟِﻠﺮَّﺳﻮﻝِ ﻭَﻟِﺬِﻯ ﺍﻟﻘُﺮﺑﻰٰ
ﻭَﺍﻟﻴَﺘٰﻤﻰٰ ﻭَﺍﻟﻤَﺴٰﻜﻴﻦِ ﻭَﺍﺑﻦِ
ﺍﻟﺴَّﺒﻴﻞِ ﻛَﻰ ﻻ ﻳَﻜﻮﻥَ ﺩﻭﻟَﺔً
ﺑَﻴﻦَ ﺍﻷَﻏﻨِﻴﺎﺀِ ﻣِﻨﻜُﻢ ۚ ﻭَﻣﺎ
ﺀﺍﺗﻯٰﻜُﻢُ ﺍﻟﺮَّﺳﻮﻝُ ﻓَﺨُﺬﻭﻩُ
ﻭَﻣﺎ ﻧَﻬﻯٰﻜُﻢ ﻋَﻨﻪُ ﻓَﺎﻧﺘَﻬﻮﺍ ۚ
ﻭَﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ۖ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺷَﺪﻳﺪُ
ﺍﻟﻌِﻘﺎﺏِ
[7] আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে
তাঁর রসূলকে যা দিয়েছেন, তা
আল্লাহর, রসূলের, তাঁর আত্নীয়-
স্বজনের, ইয়াতীমদের, অভাবগ্রস্তদের
এবং মুসাফিরদের জন্যে, যাতে
ধনৈশ্বর্য্য কেবল তোমাদের
বিত্তশালীদের মধ্যেই পুঞ্জীভূত না হয়।
রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ
কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে
বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর।
নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।
[7] What Allâh gave as booty (Fai’) to His
Messenger (Muhammad SAW) from the
people of the townships, – it is for Allâh,
His Messenger (Muhammad SAW), the
kindred (of Messenger Muhammad
SAW), the orphans, Al¬Masâkin (the
poor), and the wayfarer, in order that it
may not become a fortune used by the
rich among you. And whatsoever the
Messenger (Muhammad SAW) gives you,
take it, and whatsoever he forbids you,
abstain (from it) , And fear Allâh. Verily,
Allâh is Severe in punishment.
[8] ﻟِﻠﻔُﻘَﺮﺍﺀِ ﺍﻟﻤُﻬٰﺠِﺮﻳﻦَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﺃُﺧﺮِﺟﻮﺍ ﻣِﻦ ﺩِﻳٰﺮِﻫِﻢ ﻭَﺃَﻣﻮٰﻟِﻬِﻢ
ﻳَﺒﺘَﻐﻮﻥَ ﻓَﻀﻠًﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻭَﺭِﺿﻮٰﻧًﺎ ﻭَﻳَﻨﺼُﺮﻭﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪَ
ﻭَﺭَﺳﻮﻟَﻪُ ۚ ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻫُﻢُ
ﺍﻟﺼّٰﺪِﻗﻮﻥَ
[8] এই ধন-সম্পদ দেশত্যাগী নিঃস্বদের
জন্যে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও
সন্তুষ্টিলাভের অন্বেষণে এবং আল্লাহ
তাঁর রসূলের সাহায্যার্থে নিজেদের
বাস্তুভিটা ও ধন-সম্পদ থেকে বহিস্কৃত
হয়েছে। তারাই সত্যবাদী।
[8] (And there is also a share in this
booty) for the poor emigrants, who were
expelled from their homes and their
property, seeking Bounties from Allâh
and to please Him. and helping Allâh
(i.e. helping His religion) and His
Messenger (Muhammad SAW). Such are
indeed the truthful (to what they say).
[9] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺗَﺒَﻮَّﺀُﻭ ﺍﻟﺪّﺍﺭَ
ﻭَﺍﻹﻳﻤٰﻦَ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻠِﻬِﻢ ﻳُﺤِﺒّﻮﻥَ
ﻣَﻦ ﻫﺎﺟَﺮَ ﺇِﻟَﻴﻬِﻢ ﻭَﻻ ﻳَﺠِﺪﻭﻥَ
ﻓﻰ ﺻُﺪﻭﺭِﻫِﻢ ﺣﺎﺟَﺔً ﻣِﻤّﺎ
ﺃﻭﺗﻮﺍ ﻭَﻳُﺆﺛِﺮﻭﻥَ ﻋَﻠﻰٰ
ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢ ﻭَﻟَﻮ ﻛﺎﻥَ ﺑِﻬِﻢ
ﺧَﺼﺎﺻَﺔٌ ۚ ﻭَﻣَﻦ ﻳﻮﻕَ ﺷُﺢَّ
ﻧَﻔﺴِﻪِ ﻓَﺄُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﺍﻟﻤُﻔﻠِﺤﻮﻥَ
[9] যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে
মদীনায় বসবাস করেছিল এবং বিশ্বাস
স্থাপন করেছিল, তারা মুহাজিরদের
ভালবাসে, মুহাজিরদেরকে যা দেয়া
হয়েছে, তজ্জন্যে তারা অন্তরে
ঈর্ষাপোষণ করে না এবং নিজেরা
অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে
অগ্রাধিকার দান করে। যারা মনের
কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম।
[9] And (it is also for) those who, before
them, had homes (in Al-Madinah) and
had adopted the Faith, love those who
emigrate to them, and have no jealousy
in their breasts for that which they have
been given (from the booty of Banu An-
Nadîr), and give them (emigrants)
preference over themselves, even though
they were in need of that. And
whosoever is saved from his own
covetousness, such are they who will be
the successful.
[10] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺟﺎﺀﻭ ﻣِﻦ
ﺑَﻌﺪِﻫِﻢ ﻳَﻘﻮﻟﻮﻥَ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺍﻏﻔِﺮ ﻟَﻨﺎ
ﻭَﻟِﺈِﺧﻮٰﻧِﻨَﺎ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺳَﺒَﻘﻮﻧﺎ
ﺑِﺎﻹﻳﻤٰﻦِ ﻭَﻻ ﺗَﺠﻌَﻞ ﻓﻰ
ﻗُﻠﻮﺑِﻨﺎ ﻏِﻠًّﺎ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ
ﺭَﺑَّﻨﺎ ﺇِﻧَّﻚَ ﺭَﺀﻭﻑٌ ﺭَﺣﻴﻢٌ
[10] আর এই সম্পদ তাদের জন্যে, যারা
তাদের পরে আগমন করেছে। তারা
বলেঃ হে আমাদের পালনকর্তা,
আমাদেরকে এবং ঈমানে আগ্রহী
আমাদের ভ্রাতাগণকে ক্ষমা কর এবং
ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের
অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না। হে
আমাদের পালনকর্তা, আপনি দয়ালু,
পরম করুণাময়।
[10] And those who came after them say:
“Our Lord! Forgive us and our brethren
who have preceded us in Faith, and put
not in our hearts any hatred against
those who have believed. Our Lord! You
are indeed full of kindness, Most
Merciful.
[11] ۞ ﺃَﻟَﻢ ﺗَﺮَ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻧﺎﻓَﻘﻮﺍ ﻳَﻘﻮﻟﻮﻥَ ﻟِﺈِﺧﻮٰﻧِﻬِﻢُ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﻣِﻦ ﺃَﻫﻞِ
ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ ﻟَﺌِﻦ ﺃُﺧﺮِﺟﺘُﻢ
ﻟَﻨَﺨﺮُﺟَﻦَّ ﻣَﻌَﻜُﻢ ﻭَﻻ ﻧُﻄﻴﻊُ
ﻓﻴﻜُﻢ ﺃَﺣَﺪًﺍ ﺃَﺑَﺪًﺍ ﻭَﺇِﻥ ﻗﻮﺗِﻠﺘُﻢ
ﻟَﻨَﻨﺼُﺮَﻧَّﻜُﻢ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳَﺸﻬَﺪُ ﺇِﻧَّﻬُﻢ
ﻟَﻜٰﺬِﺑﻮﻥَ
[11] আপনি কি মুনাফিকদেরকে দেখেন
নি? তারা তাদের কিতাবধারী কাফের
ভাইদেরকে বলেঃ তোমরা যদি
বহিস্কৃত হও, তবে আমরা অবশ্যই
তোমাদের সাথে দেশ থেকে বের হয়ে
যাব এবং তোমাদের ব্যাপারে আমরা
কখনও কারও কথা মানব না। আর যদি
তোমরা আক্রান্ত হও, তবে আমরা
অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব।
আল্লাহ তা’আলা সাক্ষ্য দেন যে, ওরা
নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী।
[11] Have you (O Muhammad SAW) not
observed the hypocrites who say to their
friends among the people of the
Scripture who disbelieve: “(By Allâh) If
you are expelled, we (too) indeed will go
out with you, and we shall never obey
any one against you, and if you are
attacked (in fight), we shall indeed help
you.” But Allâh is Witness, that they
verily, are liars.
[12] ﻟَﺌِﻦ ﺃُﺧﺮِﺟﻮﺍ ﻻ ﻳَﺨﺮُﺟﻮﻥَ
ﻣَﻌَﻬُﻢ ﻭَﻟَﺌِﻦ ﻗﻮﺗِﻠﻮﺍ ﻻ
ﻳَﻨﺼُﺮﻭﻧَﻬُﻢ ﻭَﻟَﺌِﻦ ﻧَﺼَﺮﻭﻫُﻢ
ﻟَﻴُﻮَﻟُّﻦَّ ﺍﻷَﺩﺑٰﺮَ ﺛُﻢَّ ﻻ ﻳُﻨﺼَﺮﻭﻥَ
[12] যদি তারা বহিস্কৃত হয়, তবে
মুনাফিকরা তাদের সাথে দেশত্যাগ
করবে না আর যদি তারা আক্রান্ত হয়,
তবে তারা তাদেরকে সাহায্য করবে
না। যদি তাদেরকে সাহায্য করে, তবে
অবশ্যই পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করবে।
এরপর কাফেররা কোন সাহায্য পাবে
না।
[12] Surely, if they (the Jews) are
expelled, never will they (hypocrites) go
out with them, and if they are attacked,
they will never help them. And (even) if
they do help them, they (hypocrites) will
turn their backs, and they will not be
victorious.
[13] ﻟَﺄَﻧﺘُﻢ ﺃَﺷَﺪُّ ﺭَﻫﺒَﺔً ﻓﻰ
ﺻُﺪﻭﺭِﻫِﻢ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۚ ﺫٰﻟِﻚَ
ﺑِﺄَﻧَّﻬُﻢ ﻗَﻮﻡٌ ﻻ ﻳَﻔﻘَﻬﻮﻥَ
[13] নিশ্চয় তোমরা তাদের অন্তরে
আল্লাহ তা’আলা অপেক্ষা অধিকতর
ভয়াবহ। এটা এ কারণে যে, তারা এক
নির্বোধ সম্প্রদায়।
[13] Verily, you (believers in the Oneness
of Allâh — Islâmic Monotheism) are
more fearful in their (Jews of Banu An-
Nadîr) breasts than Allâh. That is
because they are a people who
comprehend not (the Majesty and Power
of Allâh).
[14] ﻻ ﻳُﻘٰﺘِﻠﻮﻧَﻜُﻢ ﺟَﻤﻴﻌًﺎ ﺇِﻟّﺎ
ﻓﻰ ﻗُﺮًﻯ ﻣُﺤَﺼَّﻨَﺔٍ ﺃَﻭ ﻣِﻦ
ﻭَﺭﺍﺀِ ﺟُﺪُﺭٍ ۚ ﺑَﺄﺳُﻬُﻢ ﺑَﻴﻨَﻬُﻢ
ﺷَﺪﻳﺪٌ ۚ ﺗَﺤﺴَﺒُﻬُﻢ ﺟَﻤﻴﻌًﺎ
ﻭَﻗُﻠﻮﺑُﻬُﻢ ﺷَﺘّﻰٰ ۚ ﺫٰﻟِﻚَ ﺑِﺄَﻧَّﻬُﻢ
ﻗَﻮﻡٌ ﻻ ﻳَﻌﻘِﻠﻮﻥَ
[14] তারা সংঘবদ্ধভাবেও তোমাদের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারবে না। তারা
যুদ্ধ করবে কেবল সুরক্ষিত জনপদে
অথবা দুর্গ প্রাচীরের আড়াল থেকে।
তাদের পারস্পরিক যুদ্ধই প্রচন্ড হয়ে
থাকে। আপনি তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ মনে
করবেন; কিন্তু তাদের অন্তর
শতধাবিচ্ছিন্ন। এটা এ কারণে যে,
তারা এক কান্ডজ্ঞানহীণ সম্প্রদায়।
[14] They fight not against you even
together, except in fortified townships,
or from behind walls. Their enmity
among themselves is very great. You
would think they were united, but their
hearts are divided, That is because they
are a people who understand not.
[15] ﻛَﻤَﺜَﻞِ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻠِﻬِﻢ
ﻗَﺮﻳﺒًﺎ ۖ ﺫﺍﻗﻮﺍ ﻭَﺑﺎﻝَ ﺃَﻣﺮِﻫِﻢ
ﻭَﻟَﻬُﻢ ﻋَﺬﺍﺏٌ ﺃَﻟﻴﻢٌ
[15] তারা সেই লোকদের মত, যারা
তাদের নিকট অতীতে নিজেদের
কর্মের শাস্তিভোগ করেছে। তাদের
জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
[15] They are like their immediate
predecessors (the Jews of Banu Qainûqâ’,
who suffered), they tasted the evil result
of their conduct, and (in the Hereafter,
there is) for them a painful torment.
[16] ﻛَﻤَﺜَﻞِ ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦِ ﺇِﺫ ﻗﺎﻝَ
ﻟِﻺِﻧﺴٰﻦِ ﺍﻛﻔُﺮ ﻓَﻠَﻤّﺎ ﻛَﻔَﺮَ ﻗﺎﻝَ
ﺇِﻧّﻰ ﺑَﺮﻱﺀٌ ﻣِﻨﻚَ ﺇِﻧّﻰ ﺃَﺧﺎﻑُ
ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺭَﺏَّ ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[16] তারা শয়তানের মত, যে মানুষকে
কাফের হতে বলে। অতঃপর যখন সে
কাফের হয়, তখন শয়তান বলেঃ তোমার
সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি
বিশ্বপালনকর্তা আল্লাহ তা’আলাকে
ভয় করি।
[16] (Their allies deceived them) like
Shaitân (Satan), when he says to man:
“Disbelieve in Allâh.” But when (man)
disbelieves in Allâh, Shaitân (Satan) says:
“I am free of you, I fear Allâh, the Lord
of the ‘Alamîn (mankind, jinn and all
that exists)!”
[17] ﻓَﻜﺎﻥَ ﻋٰﻘِﺒَﺘَﻬُﻤﺎ ﺃَﻧَّﻬُﻤﺎ ﻓِﻰ
ﺍﻟﻨّﺎﺭِ ﺧٰﻠِﺪَﻳﻦِ ﻓﻴﻬﺎ ۚ ﻭَﺫٰﻟِﻚَ
ﺟَﺰٰﺅُﺍ۟ ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
[17] অতঃপর উভয়ের পরিণতি হবে এই
যে, তারা জাহান্নামে যাবে এবং
চিরকাল তথায় বসবাস করবে। এটাই
জালেমদের শাস্তি।
[17] So the end of both will be that they
will be in the Fire, abiding therein. Such
is the recompense of the Zâlimûn (i.e.
polytheists, wrong-doers, disbelievers in
Allâh and in His Oneness).
[18] ﻳٰﺄَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨُﻮﺍ ﺍﺗَّﻘُﻮﺍ
ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﻟﺘَﻨﻈُﺮ ﻧَﻔﺲٌ ﻣﺎ ﻗَﺪَّﻣَﺖ
ﻟِﻐَﺪٍ ۖ ﻭَﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ۚ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ
ﺧَﺒﻴﺮٌ ﺑِﻤﺎ ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[18] মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ
তা’আলাকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তির
উচিত, আগামী কালের জন্যে সে কি
প্রেরণ করে, তা চিন্তা করা। আল্লাহ
তা’আলাকে ভয় করতে থাক। তোমরা
যা কর, আল্লাহ তা’আলা সে সম্পর্কে
খবর রাখেন।
[18] O you who believe! Fear Allâh and
keep your duty to Him. And let every
person look to what he has sent forth for
the morrow, and fear Allâh. Verily, Allâh
is All-Aware of what you do.
[19] ﻭَﻻ ﺗَﻜﻮﻧﻮﺍ ﻛَﺎﻟَّﺬﻳﻦَ ﻧَﺴُﻮﺍ
ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻓَﺄَﻧﺴﻯٰﻬُﻢ ﺃَﻧﻔُﺴَﻬُﻢ ۚ
ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﺍﻟﻔٰﺴِﻘﻮﻥَ
[19] তোমরা তাদের মত হয়ো না,
যারা আল্লাহ তা’আলাকে ভুলে গেছে।
ফলে আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে আত্ন
বিস্মৃত করে দিয়েছেন। তারাই অবাধ্য।
[19] And be not like those who forgot
Allâh (i.e. became disobedient to Allâh)
and He caused them to forget their
ownselves, (let them to forget to do
righteous deeds). Those are the Fâsiqûn
(rebellious, disobedient to Allâh).
[20] ﻻ ﻳَﺴﺘَﻮﻯ ﺃَﺻﺤٰﺐُ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ
ﻭَﺃَﺻﺤٰﺐُ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ ۚ ﺃَﺻﺤٰﺐُ
ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ ﻫُﻢُ ﺍﻟﻔﺎﺋِﺰﻭﻥَ
[20] জাহান্নামের অধিবাসী এবং
জান্নাতের অধিবাসী সমান হতে পারে
না। যারা জান্নাতের অধিবাসী,
তারাই সফলকাম।
[20] Not equal are the dwellers of the
Fire and the dwellers of the Paradise. It
is the dwellers of Paradise that will be
successful.
[21] ﻟَﻮ ﺃَﻧﺰَﻟﻨﺎ ﻫٰﺬَﺍ ﺍﻟﻘُﺮﺀﺍﻥَ
ﻋَﻠﻰٰ ﺟَﺒَﻞٍ ﻟَﺮَﺃَﻳﺘَﻪُ ﺧٰﺸِﻌًﺎ
ﻣُﺘَﺼَﺪِّﻋًﺎ ﻣِﻦ ﺧَﺸﻴَﺔِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۚ
ﻭَﺗِﻠﻚَ ﺍﻷَﻣﺜٰﻞُ ﻧَﻀﺮِﺑُﻬﺎ ﻟِﻠﻨّﺎﺱِ
ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ ﻳَﺘَﻔَﻜَّﺮﻭﻥَ
[21] যদি আমি এই কোরআন পাহাড়ের
উপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি দেখতে
যে, পাহাড় বিনীত হয়ে আল্লাহ
তা’আলার ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে গেছে।
আমি এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্যে
বর্ণনা করি, যাতে তারা চিন্তা-
ভাবনা করে।
[21] Had We sent down this Qur’ân on a
mountain, you would surely have seen it
humbling itself and rendt asunder by the
fear of Allâh. Such are the parables
which We put forward to mankind that
they may reflect.
[22] ﻫُﻮَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻻ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻟّﺎ
ﻫُﻮَ ۖ ﻋٰﻠِﻢُ ﺍﻟﻐَﻴﺐِ ﻭَﺍﻟﺸَّﻬٰﺪَﺓِ ۖ
ﻫُﻮَ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦُ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢُ
[22] তিনিই আল্লাহ তা’আলা, তিনি
ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি দৃশ্য ও
অদৃশ্যকে জানেন তিনি পরম দয়ালু,
অসীম দাতা।
[22] He is Allâh, beside Whom Lâ ilâha
illa Huwa (none has the right to be
worshipped but He) the All-Knower of
the unseen and the seen. He is the Most
Gracious, the Most Merciful.
[23] ﻫُﻮَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻻ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻟّﺎ
ﻫُﻮَ ﺍﻟﻤَﻠِﻚُ ﺍﻟﻘُﺪّﻭﺱُ ﺍﻟﺴَّﻠٰﻢُ
ﺍﻟﻤُﺆﻣِﻦُ ﺍﻟﻤُﻬَﻴﻤِﻦُ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ
ﺍﻟﺠَﺒّﺎﺭُ ﺍﻟﻤُﺘَﻜَﺒِّﺮُ ۚ ﺳُﺒﺤٰﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻋَﻤّﺎ ﻳُﺸﺮِﻛﻮﻥَ
[23] তিনিই আল্লাহ তিনি ব্যতিত
কোন উপাস্য নেই। তিনিই একমাত্র
মালিক, পবিত্র, শান্তি ও
নিরাপত্তাদাতা, আশ্রয়দাতা,
পরাক্রান্ত, প্রতাপান্বিত,
মাহাত্নøশীল। তারা যাকে অংশীদার
করে আল্লাহ তা’ আলা তা থেকে
পবিত্র।
[23] He is Allâh beside Whom is Lâ ilâha
illa Huwa (none has the right to be
worshipped but He) the King, the Holy,
the One Free from all defects, the Giver
of security, the Watcher over His
creatures, the All-Mighty, the Compeller,
the Supreme. Glory be to Allâh! (High is
He) above all that they associate as
partners with Him.
[24] ﻫُﻮَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟﺨٰﻠِﻖُ ﺍﻟﺒﺎﺭِﺉُ
ﺍﻟﻤُﺼَﻮِّﺭُ ۖ ﻟَﻪُ ﺍﻷَﺳﻤﺎﺀُ
ﺍﻟﺤُﺴﻨﻰٰ ۚ ﻳُﺴَﺒِّﺢُ ﻟَﻪُ ﻣﺎ ﻓِﻰ
ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ۖ ﻭَﻫُﻮَ
ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ ﺍﻟﺤَﻜﻴﻢُ
[24] তিনিই আল্লাহ তা’আলা, স্রষ্টা,
উদ্ভাবক, রূপদাতা, উত্তম নাম সমূহ
তাঁরই। নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু
আছে, সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা
করে। তিনি পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময়।
[24] He is Allâh, the Creator, the
Inventor of all things, the Bestower of
forms. To Him belong the Best Names .
All that is in the heavens and the earth
glorify Him. And He is the All-Mighty,
the All-Wise.
Bangla translation of Quran. Developed
by Syed Mohammad Rasel
Surah Al Hashr Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করে। তিনি পরাক্রমশালী মহাজ্ঞানী। 2. তিনিই কিতাবধারীদের মধ্যে যারা কাফের, তাদেরকে প্রথমবার একত্রিত করে তাদের বাড়ী-ঘর থেকে বহিস্কার করেছেন। তোমরা ধারণাও করতে পারনি যে, তারা বের হবে এবং তারা মনে করেছিল যে, তাদের দূর্গগুলো তাদেরকে আল্লাহর কবল থেকে রক্ষা করবে। অতঃপর আল্লাহর শাস্তি তাদের উপর এমনদিক থেকে আসল, যার কল্পনাও তারা করেনি। আল্লাহ তাদের অন্তরে ত্রাস সঞ্চার করে দিলেন। তারা তাদের বাড়ী-ঘর নিজেদের হাতে এবং মুসলমানদের হাতে ধ্বংস করছিল। অতএব, হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ, তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর। 3. আল্লাহ যদি তাদের জন্যে নির্বাসন অবধারিত না করতেন, তবে তাদেরকে দুনিয়াতে শাস্তি দিতেন। আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আযাব। 4. এটা এ কারণে যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। যে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করে, তার জানা উচিত যে, আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। 5. তোমরা যে কিছু কিছু খর্জুর বৃক্ষ কেটে দিয়েছ এবং কতক না কেটে ছেড়ে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই আদেশ এবং যাতে তিনি অবাধ্যদেরকে লাঞ্ছিত করেন। 6. আল্লাহ বনু-বনুযায়রের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যে ধন- সম্পদ দিয়েছেন, তজ্জন্যে তোমরা ঘোড়ায় কিংবা উটে চড়ে যুদ্ধ করনি, কিন্তু আল্লাহ যার উপর ইচ্ছা, তাঁর রসূলগণকে প্রাধান্য দান করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান। 7. আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যা দিয়েছেন, তা আল্লাহর, রসূলের, তাঁর আত্নীয়-স্বজনের, ইয়াতীমদের, অভাবগ্রস্তদের এবং মুসাফিরদের জন্যে, যাতে ধনৈশ্বর্য্য কেবল তোমাদের বিত্তশালীদের মধ্যেই পুঞ্জীভূত না হয়। রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। 8. এই ধন-সম্পদ দেশত্যাগী নিঃস্বদের জন্যে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টিলাভের অন্বেষণে এবং আল্লাহ তাঁর রসূলের সাহায্যার্থে নিজেদের বাস্তুভিটা ও ধন-সম্পদ থেকে বহিস্কৃত হয়েছে। তারাই সত্যবাদী। 9. যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে মদীনায় বসবাস করেছিল এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, তারা মুহাজিরদের ভালবাসে, মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে, তজ্জন্যে তারা অন্তরে ঈর্ষাপোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে অগ্রাধিকার দান করে। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম। 10. আর এই সম্পদ তাদের জন্যে, যারা তাদের পরে আগমন করেছে। তারা বলেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে এবং ঈমানে আগ্রহী আমাদের ভ্রাতাগণকে ক্ষমা কর এবং ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি দয়ালু, পরম করুণাময়। 11. আপনি কি মুনাফিকদেরকে দেখেন নি? তারা তাদের কিতাবধারী কাফের ভাইদেরকে বলেঃ তোমরা যদি বহিস্কৃত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাথে দেশ থেকে বের হয়ে যাব এবং তোমাদের ব্যাপারে আমরা কখনও কারও কথা মানব না। আর যদি তোমরা আক্রান্ত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব। আল্লাহ তা’আলা সাক্ষ্য দেন যে, ওরা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী। 12. যদি তারা বহিস্কৃত হয়, তবে মুনাফিকরা তাদের সাথে দেশত্যাগ করবে না আর যদি তারা আক্রান্ত হয়, তবে তারা তাদেরকে সাহায্য করবে না। যদি তাদেরকে সাহায্য করে, তবে অবশ্যই পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করবে। এরপর কাফেররা কোন সাহায্য পাবে না। 13. নিশ্চয় তোমরা তাদের অন্তরে আল্লাহ তা’আলা অপেক্ষা অধিকতর ভয়াবহ। এটা এ কারণে যে, তারা এক নির্বোধ সম্প্রদায়। 14. তারা সংঘবদ্ধভাবেও তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারবে না। তারা যুদ্ধ করবে কেবল সুরক্ষিত জনপদে অথবা দুর্গ প্রাচীরের আড়াল থেকে। তাদের পারস্পরিক যুদ্ধই প্রচন্ড হয়ে থাকে। আপনি তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ মনে করবেন; কিন্তু তাদের অন্তর শতধাবিচ্ছিন্ন। এটা এ কারণে যে, তারা এক কান্ডজ্ঞানহীণ সম্প্রদায়। 15. তারা সেই লোকদের মত, যারা তাদের নিকট অতীতে নিজেদের কর্মের শাস্তিভোগ করেছে। তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। 16. তারা শয়তানের মত, যে মানুষকে কাফের হতে বলে। অতঃপর যখন সে কাফের হয়, তখন শয়তান বলেঃ তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি বিশ্বপালনকর্তা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করি। 17. অতঃপর উভয়ের পরিণতি হবে এই যে, তারা জাহান্নামে যাবে এবং চিরকাল তথায় বসবাস করবে। এটাই জালেমদের শাস্তি। 18. মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, আগামী কালের জন্যে সে কি প্রেরণ করে, তা চিন্তা করা। আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করতে থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা’আলা সে সম্পর্কে খবর রাখেন। 19. তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা আল্লাহ তা’আলাকে ভুলে গেছে। ফলে আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে আত্ন বিস্মৃত করে দিয়েছেন। তারাই অবাধ্য। 20. জাহান্নামের অধিবাসী এবং জান্নাতের অধিবাসী সমান হতে পারে না। যারা জান্নাতের অধিবাসী, তারাই সফলকাম। 21. যদি আমি এই কোরআন পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি দেখতে যে, পাহাড় বিনীত হয়ে আল্লাহ তা’আলার ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে গেছে। আমি এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্যে বর্ণনা করি, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে। 22. তিনিই আল্লাহ তা’আলা, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যকে জানেন তিনি পরম দয়ালু, অসীম দাতা। 23. তিনিই আল্লাহ তিনি ব্যতিত কোন উপাস্য নেই। তিনিই একমাত্র মালিক, পবিত্র, শান্তি ও নিরাপত্তাদাতা, আশ্রয়দাতা, পরাক্রান্ত, প্রতাপান্বিত, মাহাত্ন? সোবহান আল্লাহ। তারা যাকে অংশীদার করে আল্লাহ তা’ আলা তা থেকে পবিত্র। 24. তিনিই আল্লাহ তা’আলা, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদাতা, উত্তম নাম সমূহ তাঁরই। নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময়। *********

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s