6.সুরা আল আনআম(01-165)


ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম
করুণাময়, অতি দয়ালু
[1] ﺍﻟﺤَﻤﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺧَﻠَﻖَ
ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽَ ﻭَﺟَﻌَﻞَ
ﺍﻟﻈُّﻠُﻤٰﺖِ ﻭَﺍﻟﻨّﻮﺭَ ۖ ﺛُﻢَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﺑِﺮَﺑِّﻬِﻢ ﻳَﻌﺪِﻟﻮﻥَ
[1] সর্ববিধ প্রশংসা আল্লাহরই জন্য
যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি
করেছেন এবং অন্ধকার ও আলোর
উদ্ভব করেছেন। তথাপি কাফেররা
স্বীয় পালনকর্তার সাথে অন্যান্যকে
সমতুল্য স্থির করে।
[1] All praises and thanks be to Allâh,
Who (Alone) created the heavens and the
earth, and originated the darkness and
the light, yet those who disbelieve hold
others as equal with their Lord.
[2] ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِﻦ ﻃﻴﻦٍ
ﺛُﻢَّ ﻗَﻀﻰٰ ﺃَﺟَﻠًﺎ ۖ ﻭَﺃَﺟَﻞٌ
ﻣُﺴَﻤًّﻰ ﻋِﻨﺪَﻩُ ۖ ﺛُﻢَّ ﺃَﻧﺘُﻢ
ﺗَﻤﺘَﺮﻭﻥَ
[2] তিনিই তোমাদেরকে মাটির
দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর
নির্দিষ্টকাল নির্ধারণ করেছেন। আর
অপর নির্দিষ্টকাল আল্লাহর কাছে
আছে। তথাপি তোমরা সন্দেহ কর।
[2] He it is Who has created you from
clay, and then has decreed a (stated)
term (for you to die). And there is with
Him another determined term (for you
to be resurrected), yet you doubt (in the
Resurrection).
[3] ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ۖ ﻳَﻌﻠَﻢُ ﺳِﺮَّﻛُﻢ
ﻭَﺟَﻬﺮَﻛُﻢ ﻭَﻳَﻌﻠَﻢُ ﻣﺎ ﺗَﻜﺴِﺒﻮﻥَ
[3] তিনিই আল্লাহ নভোমন্ডলে এবং
ভূমন্ডলে। তিনি তোমাদের গোপন ও
প্রকাশ্য বিষয় জানেন এবং তোমরা
যা কর তাও অবগত।
[3] And He is Allâh (to be worshipped
Alone) in the heavens and on the earth,
He knows what you conceal and what
you reveal, and He knows what you earn
(good or bad). (see v.43:84)
[4] ﻭَﻣﺎ ﺗَﺄﺗﻴﻬِﻢ ﻣِﻦ ﺀﺍﻳَﺔٍ ﻣِﻦ
ﺀﺍﻳٰﺖِ ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﺇِﻟّﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻋَﻨﻬﺎ
ﻣُﻌﺮِﺿﻴﻦَ
[4] তাদের কাছে তাদের
প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী থেকে
কোন নিদর্শন আসেনি; যার প্রতি
তারা বিমুখ হয় না।
[4] And never an Ayah (sign) comes to
them from the Ayât (proofs, evidences,
verses, lessons, signs, revelations, etc.) of
their Lord, but that they have been
turning away from it
[5] ﻓَﻘَﺪ ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ﻟَﻤّﺎ
ﺟﺎﺀَﻫُﻢ ۖ ﻓَﺴَﻮﻑَ ﻳَﺄﺗﻴﻬِﻢ
ﺃَﻧﺒٰﺆُﺍ۟ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﺑِﻪِ
ﻳَﺴﺘَﻬﺰِﺀﻭﻥَ
[5] অতএব, অবশ্য তারা সত্যকে মিথ্যা
বলেছে যখন তা তাদের কাছে এসেছে।
বস্তুতঃ অচিরেই তাদের কাছে ঐ
বিষয়ের সংবাদ আসবে, যার সাথে
তারা উপহাস করত।
[5] Indeed, they rejected the truth (the
Qur’ân and Muhammad SAW) when it
came to them, but there will come to
them the news of that (the torment)
which they used to mock at.
[6] ﺃَﻟَﻢ ﻳَﺮَﻭﺍ ﻛَﻢ ﺃَﻫﻠَﻜﻨﺎ ﻣِﻦ
ﻗَﺒﻠِﻬِﻢ ﻣِﻦ ﻗَﺮﻥٍ ﻣَﻜَّﻨّٰﻬُﻢ ﻓِﻰ
ﺍﻷَﺭﺽِ ﻣﺎ ﻟَﻢ ﻧُﻤَﻜِّﻦ ﻟَﻜُﻢ
ﻭَﺃَﺭﺳَﻠﻨَﺎ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀَ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ
ﻣِﺪﺭﺍﺭًﺍ ﻭَﺟَﻌَﻠﻨَﺎ ﺍﻷَﻧﻬٰﺮَ ﺗَﺠﺮﻯ
ﻣِﻦ ﺗَﺤﺘِﻬِﻢ ﻓَﺄَﻫﻠَﻜﻨٰﻬُﻢ
ﺑِﺬُﻧﻮﺑِﻬِﻢ ﻭَﺃَﻧﺸَﺄﻧﺎ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِﻫِﻢ
ﻗَﺮﻧًﺎ ﺀﺍﺧَﺮﻳﻦَ
[6] তারা কি দেখেনি যে, আমি তাদের
পুর্বে কত সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে
দিয়েছি, যাদেরকে আমি পৃথিবীতে
এমন প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলাম, যা
তোমাদেরকে দেইনি। আমি আকাশকে
তাদের উপর অনবরত বৃষ্টি বর্ষণ করতে
দিয়েছি এবং তাদের তলদেশে নদী
সৃষ্টি করে দিয়েছি, অতঃপর আমি
তাদেরকে তাদের পাপের কারণে
ধ্বংস করে দিয়েছি এবং তাদের পরে
অন্য সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছি।
[6] Have they not seen how many a
generation before them We have
destroyed whom We had established on
the earth such as We have not
established you? And We poured out on
them rain from the sky in abundance,
and made the rivers flow under them.
Yet We destroyed them for their sins,
and We created after them other
generations.
[7] ﻭَﻟَﻮ ﻧَﺰَّﻟﻨﺎ ﻋَﻠَﻴﻚَ ﻛِﺘٰﺒًﺎ ﻓﻰ
ﻗِﺮﻃﺎﺱٍ ﻓَﻠَﻤَﺴﻮﻩُ ﺑِﺄَﻳﺪﻳﻬِﻢ
ﻟَﻘﺎﻝَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﺇِﻥ ﻫٰﺬﺍ ﺇِﻟّﺎ
ﺳِﺤﺮٌ ﻣُﺒﻴﻦٌ
[7] যদি আমি কাগজে লিখিত কোন
বিষয় তাদের প্রতি নাযিল করতাম,
অতঃপর তারা তা সহস্তে স্পর্শ করত,
তবুও অবিশ্বাসীরা একথাই বলত যে,
এটা প্রকাশ্য জাদু বৈ কিছু নয়।
[7] And even if We had sent down unto
you (O Muhammad SAW) a Message
written on paper so that they could touch
it with their hands, the disbelievers
would have said: “This is nothing but
obvious magic!”
[8] ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ ﻟَﻮﻻ ﺃُﻧﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻴﻪِ
ﻣَﻠَﻚٌ ۖ ﻭَﻟَﻮ ﺃَﻧﺰَﻟﻨﺎ ﻣَﻠَﻜًﺎ ﻟَﻘُﻀِﻰَ
ﺍﻷَﻣﺮُ ﺛُﻢَّ ﻻ ﻳُﻨﻈَﺮﻭﻥَ
[8] তারা আরও বলে যে, তাঁর কাছে
কোন ফেরেশতা কেন প্রেরণ করা হল
না ? যদি আমি কোন ফেরেশতা প্রেরণ
করতাম, তবে গোটা ব্যাপারটাই শেষ
হয়ে যেত। অতঃপর তাদেরকে সামান্যও
অবকাশ দেওয়া হতনা।
[8] And they say: “Why has not an angel
been sent down to him?” Had We sent
down an angel, the matter would have
been judged at once, and no respite
would be granted to them.
[9] ﻭَﻟَﻮ ﺟَﻌَﻠﻨٰﻪُ ﻣَﻠَﻜًﺎ ﻟَﺠَﻌَﻠﻨٰﻪُ
ﺭَﺟُﻠًﺎ ﻭَﻟَﻠَﺒَﺴﻨﺎ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻣﺎ
ﻳَﻠﺒِﺴﻮﻥَ
[9] যদি আমি কোন ফেরেশতাকে রসূল
করে পাঠাতাম, তবে সে মানুষের
আকারেই হত। এতেও ঐ সন্দেহই করত, যা
এখন করছে।
[9] And had We appointed him an angel,
We indeed would have made him a man,
and We would have certainly confused
them in which they are already confused
(i.e. the Message of Prophet Muhammad
SAW).
[10] ﻭَﻟَﻘَﺪِ ﺍﺳﺘُﻬﺰِﺉَ ﺑِﺮُﺳُﻞٍ ﻣِﻦ
ﻗَﺒﻠِﻚَ ﻓَﺤﺎﻕَ ﺑِﺎﻟَّﺬﻳﻦَ ﺳَﺨِﺮﻭﺍ
ﻣِﻨﻬُﻢ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﺑِﻪِ
ﻳَﺴﺘَﻬﺰِﺀﻭﻥَ
[10] নিশ্চয়ই আপনার পূর্ববর্তী
পয়গম্বরগণের সাথেও উপহাস করা
হয়েছে। অতঃপর যারা তাঁদের সাথে
উপহাস করেছিল, তাদেরকে ঐ শাস্তি
বেষ্টন করে নিল, যা নিয়ে তারা
উপহাস করত।
[10] And indeed (many) Messengers
before you were mocked at, but their
scoffers were surrounded by the very
thing that they used to mock at.
[11] ﻗُﻞ ﺳﻴﺮﻭﺍ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﺛُﻢَّ ﺍﻧﻈُﺮﻭﺍ ﻛَﻴﻒَ ﻛﺎﻥَ ﻋٰﻘِﺒَﺔُ
ﺍﻟﻤُﻜَﺬِّﺑﻴﻦَ
[11] বলে দিনঃ তোমরা পৃথিবীতে
পরিভ্রমণ কর, অতপর দেখ, মিথ্যারোপ
কারীদের পরিণাম কি হয়েছে?
[11] Say (O Muhammad SAW): “Travel in
the land and see what was the end of
those who rejected truth.”
[12] ﻗُﻞ ﻟِﻤَﻦ ﻣﺎ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ۖ ﻗُﻞ ﻟِﻠَّﻪِ ۚ ﻛَﺘَﺐَ ﻋَﻠﻰٰ
ﻧَﻔﺴِﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤَﺔَ ۚ ﻟَﻴَﺠﻤَﻌَﻨَّﻜُﻢ
ﺇِﻟﻰٰ ﻳَﻮﻡِ ﺍﻟﻘِﻴٰﻤَﺔِ ﻻ ﺭَﻳﺐَ ﻓﻴﻪِ ۚ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺧَﺴِﺮﻭﺍ ﺃَﻧﻔُﺴَﻬُﻢ ﻓَﻬُﻢ
ﻻ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[12] জিজ্ঞেস করুন, নভোমন্ডল ও
ভুমন্ডলে যা আছে, তার মালিক কে?
বলে দিনঃআল্লাহ। তিনি অনুকম্পা
প্রদর্শনকে নিজ দায়িত্বে লিপিবদ্ধ
করে নিয়েছেন। তিনি অবশ্যই
তোমাদেরকে কেয়ামতের দিন
একত্রিত করবেন। এর আগমনে কোন
সন্দেহ নেই। যারা নিজেদের কে
ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তারাই বিশ্বাস
স্থাপন করে না।
[12] Say (O Muhammad SAW): “To whom
belongs all that is in the heavens and the
earth?” Say: “To Allâh. He has prescribed
Mercy for Himself. Indeed He will gather
you together on the Day of Resurrection,
about which there is no doubt. Those
who have lost themselves will not believe
[in Allâh as being the only Ilâh (God),
and Muhammad SAW as being one of
His Messengers, and in Resurrection].
[13] ۞ ﻭَﻟَﻪُ ﻣﺎ ﺳَﻜَﻦَ ﻓِﻰ
ﺍﻟَّﻴﻞِ ﻭَﺍﻟﻨَّﻬﺎﺭِ ۚ ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟﺴَّﻤﻴﻊُ
ﺍﻟﻌَﻠﻴﻢُ
[13] যা কিছু রাত ও দিনে স্থিতি লাভ
করে, তাঁরই। তিনিই শ্রোতা,
মহাজ্ঞানী।
[13] And to Him belongs whatsoever
exists in the night and the day, and He is
the All¬Hearing, the All¬Knowing.”
[14] ﻗُﻞ ﺃَﻏَﻴﺮَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺗَّﺨِﺬُ ﻭَﻟِﻴًّﺎ
ﻓﺎﻃِﺮِ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ
ﻭَﻫُﻮَ ﻳُﻄﻌِﻢُ ﻭَﻻ ﻳُﻄﻌَﻢُ ۗ ﻗُﻞ
ﺇِﻧّﻰ ﺃُﻣِﺮﺕُ ﺃَﻥ ﺃَﻛﻮﻥَ ﺃَﻭَّﻝَ ﻣَﻦ
ﺃَﺳﻠَﻢَ ۖ ﻭَﻻ ﺗَﻜﻮﻧَﻦَّ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻤُﺸﺮِﻛﻴﻦَ
[14] আপনি বলে দিনঃ আমি কি
আল্লাহ ব্যতীত-যিনি নভোমন্ডল ও
ভুমন্ডলের স্রষ্টা এবং যিনি সবাইকে
আহার্য দানকরেন ও তাঁকে কেউ
আহার্য দান করে না অপরকে
সাহায্যকারী স্থির করব? আপনি বলে
দিনঃ আমি আদিষ্ট হয়েছি যে,
সর্বাগ্রে আমিই আজ্ঞাবহ হব। আপনি
কদাচ অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন
না।
[14] Say (O Muhammad SAW): “Shall I
take as a Walî (helper, protector, Lord or
God) any other than Allâh, the Creator of
the heavens and the earth? And it is He
Who feeds but is not fed.” Say: “Verily, I
am commanded to be the first of those
who submit themselves to Allâh (as
Muslims).” And be not you (O
Muhammad SAW) of the Mushrikûn
(polytheists, pagans, idolaters and
disbelievers in the Oneness of Allâh).
(Tafsir Al-Qurtubi).
[15] ﻗُﻞ ﺇِﻧّﻰ ﺃَﺧﺎﻑُ ﺇِﻥ
ﻋَﺼَﻴﺖُ ﺭَﺑّﻰ ﻋَﺬﺍﺏَ ﻳَﻮﻡٍ
ﻋَﻈﻴﻢٍ
[15] আপনি বলুন, আমি আমার
প্রতিপালকের অবাধ্য হতে ভয় পাই
কেননা, আমি একটি মহাদিবসের
শাস্তিকে ভয় করি।
[15] Say: “I fear, if I disobey my Lord,
the torment of a Mighty Day.”
[16] ﻣَﻦ ﻳُﺼﺮَﻑ ﻋَﻨﻪُ ﻳَﻮﻣَﺌِﺬٍ
ﻓَﻘَﺪ ﺭَﺣِﻤَﻪُ ۚ ﻭَﺫٰﻟِﻚَ ﺍﻟﻔَﻮﺯُ
ﺍﻟﻤُﺒﻴﻦُ
[16] যার কাছ থেকে ঐদিন এ শাস্তি
সরিয়ে নেওয়া হবে, তার প্রতি
আল্লাহর অনুকম্পা হবে। এটাই বিরাট
সাফল্য।
[16] He Who is averted from (such a
torment) on that Day, (Allâh) has surely
been Merciful to him. And that would be
the obvious success
[17] ﻭَﺇِﻥ ﻳَﻤﺴَﺴﻚَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻀُﺮٍّ
ﻓَﻼ ﻛﺎﺷِﻒَ ﻟَﻪُ ﺇِﻟّﺎ ﻫُﻮَ ۖ ﻭَﺇِﻥ
ﻳَﻤﺴَﺴﻚَ ﺑِﺨَﻴﺮٍ ﻓَﻬُﻮَ ﻋَﻠﻰٰ ﻛُﻞِّ
ﺷَﻲﺀٍ ﻗَﺪﻳﺮٌ
[17] আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোন
কষ্ট দেন, তবে তিনি ব্যতীত তা
অপসারণকারী কেউ নেই। পক্ষান্তরে
যদি তোমার মঙ্গল করেন, তবে তিনি
সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
[17] And if Allâh touches you with harm,
none can remove it but He, and if He
touches you with good, then He is Able to
do all things
[18] ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟﻘﺎﻫِﺮُ ﻓَﻮﻕَ ﻋِﺒﺎﺩِﻩِ ۚ
ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟﺤَﻜﻴﻢُ ﺍﻟﺨَﺒﻴﺮُ
[18] তিনিই পরাক্রান্ত স্বীয়
বান্দাদের উপর। তিনিই জ্ঞানময়,
সর্বজ্ঞ।
[18] And He is the Irresistible (Supreme),
above His slaves, and He is the All-Wise,
Well¬Acquainted with all things
[19] ﻗُﻞ ﺃَﻯُّ ﺷَﻲﺀٍ ﺃَﻛﺒَﺮُ ﺷَﻬٰﺪَﺓً ۖ
ﻗُﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪُ ۖ ﺷَﻬﻴﺪٌ ﺑَﻴﻨﻰ
ﻭَﺑَﻴﻨَﻜُﻢ ۚ ﻭَﺃﻭﺣِﻰَ ﺇِﻟَﻰَّ ﻫٰﺬَﺍ
ﺍﻟﻘُﺮﺀﺍﻥُ ﻟِﺄُﻧﺬِﺭَﻛُﻢ ﺑِﻪِ ﻭَﻣَﻦ
ﺑَﻠَﻎَ ۚ ﺃَﺋِﻨَّﻜُﻢ ﻟَﺘَﺸﻬَﺪﻭﻥَ ﺃَﻥَّ ﻣَﻊَ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺀﺍﻟِﻬَﺔً ﺃُﺧﺮﻯٰ ۚ ﻗُﻞ ﻻ
ﺃَﺷﻬَﺪُ ۚ ﻗُﻞ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﻫُﻮَ ﺇِﻟٰﻪٌ ﻭٰﺣِﺪٌ
ﻭَﺇِﻧَّﻨﻰ ﺑَﺮﻱﺀٌ ﻣِﻤّﺎ ﺗُﺸﺮِﻛﻮﻥَ
[19] আপনি জিজ্ঞেস করুনঃ সর্ববৃহৎ
সাক্ষ্যদাতা কে ? বলে দিনঃ আল্লাহ
আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী।
আমার প্রতি এ কোরআন অবর্তীর্ণ
হয়েছে-যাতে আমি তোমাদেরকে
এবং যাদের কাছে এ কোরআন পৌঁছে
সবাইকে ভীতি প্রদর্শন করি। তোমরা
কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহর সাথে
অন্যান্য উপাস্যও রয়েছে ? আপনি বলে
দিনঃ আমি এরূপ সাক্ষ্য দেব না। বলে
দিনঃ তিনিই একমাত্র উপাস্য; আমি
অবশ্যই তোমাদের শিরক থেকে মুক্ত।
[19] Say (O Muhammad SAW): “What
thing is the most great in witness?” Say:
“Allâh (the Most Great!) is Witness
between me and you; this Qur’ân has
been revealed to me that I may
therewith warn you and whomsoever it
may reach. Can you verily bear witness
that besides Allâh there are other alihâh
(gods)?” Say “I bear no (such) witness!”
Say: “But in truth He (Allâh) is the only
one Ilâh (God). And truly I am innocent
of what you join in worship with Him.”
[20] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﺗَﻴﻨٰﻬُﻢُ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ
ﻳَﻌﺮِﻓﻮﻧَﻪُ ﻛَﻤﺎ ﻳَﻌﺮِﻓﻮﻥَ
ﺃَﺑﻨﺎﺀَﻫُﻢُ ۘ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺧَﺴِﺮﻭﺍ
ﺃَﻧﻔُﺴَﻬُﻢ ﻓَﻬُﻢ ﻻ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[20] যাদেরকে আমি কিতাব দান
করেছি, তারা তাকে চিনে, যেমন
তাদের সন্তানদেরকে চিনে। যারা
নিজেদেরকে ক্ষতির মধ্যে ফেলেছে,
তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।
[20] Those to whom We have given the
Scripture (Jews and Christians) recognize
him (i.e. Muhammad SAW as a
Messenger of Allâh, and they also know
that there is no Ilah (God) but Allâh and
Islâm is Allâh’s religion), as they
recognize their own sons. Those who
have lost (destroyed) themselves will not
believe. (Tafsir At-Tabarî)
[21] ﻭَﻣَﻦ ﺃَﻇﻠَﻢُ ﻣِﻤَّﻦِ ﺍﻓﺘَﺮﻯٰ
ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻛَﺬِﺑًﺎ ﺃَﻭ ﻛَﺬَّﺏَ
ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻪِ ۗ ﺇِﻧَّﻪُ ﻻ ﻳُﻔﻠِﺢُ ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻮﻥَ
[21] আর যে, আল্লাহর প্রতি অপবাদ
আরোপ করে অথবা তাঁর
নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে, তার
চাইতে বড় জালেম কে? নিশ্চয়
জালেমরা সফলকাম হবে না।
[21] And who does more wrong
aggression and than he who invents a lie
against Allâh or rejects His Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, or
revelations)? Verily, the Zâlimûn
(polytheists and wrong-doers,) shall
never be successful.
[22] ﻭَﻳَﻮﻡَ ﻧَﺤﺸُﺮُﻫُﻢ ﺟَﻤﻴﻌًﺎ
ﺛُﻢَّ ﻧَﻘﻮﻝُ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ ﺃَﺷﺮَﻛﻮﺍ ﺃَﻳﻦَ
ﺷُﺮَﻛﺎﺅُﻛُﻢُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛُﻨﺘُﻢ
ﺗَﺰﻋُﻤﻮﻥَ
[22] আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে
একত্রিত করব, অতঃপর যারা শিরক
করেছিল, তাদের বলবঃ যাদেরকে
তোমরা অংশীদার বলে ধারণা করতে,
তারা কোথায়?
[22] And on the Day when We shall
gather them all together, We shall say to
those who joined partners (in worship
with Us): “Where are your partners (false
deities) whom you used to assert (as
partners in worship with Allâh)?”
[23] ﺛُﻢَّ ﻟَﻢ ﺗَﻜُﻦ ﻓِﺘﻨَﺘُﻬُﻢ ﺇِﻟّﺎ ﺃَﻥ
ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪِ ﺭَﺑِّﻨﺎ ﻣﺎ ﻛُﻨّﺎ
ﻣُﺸﺮِﻛﻴﻦَ
[23] অতঃপর তাদের কোন
অপরিচ্ছন্নতা থাকবে না; তবে এটুকুই
যে তারা বলবে আমাদের প্রতিপালক
আল্লাহর কসম, আমরা মুশরিক ছিলাম
না।
[23] There will then be (left) no Fitnah
(excuses or statements or arguments) for
them but to say: “By Allâh, our Lord, we
were not those who joined others in
worship with Allâh.”
[24] ﺍﻧﻈُﺮ ﻛَﻴﻒَ ﻛَﺬَﺑﻮﺍ ﻋَﻠﻰٰ
ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢ ۚ ﻭَﺿَﻞَّ ﻋَﻨﻬُﻢ ﻣﺎ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻔﺘَﺮﻭﻥَ
[24] দেখতো, কিভাবে মিথ্যা বলছে
নিজেদের বিপক্ষে ? এবং যেসব বিষয়
তারা আপনার প্রতি মিছামিছি রচনা
করত, তা সবই উধাও হয়ে গেছে।
[24] Look! How they lie against
themselves! But the (lie) which they
invented will disappear from them.
[25] ﻭَﻣِﻨﻬُﻢ ﻣَﻦ ﻳَﺴﺘَﻤِﻊُ ﺇِﻟَﻴﻚَ ۖ
ﻭَﺟَﻌَﻠﻨﺎ ﻋَﻠﻰٰ ﻗُﻠﻮﺑِﻬِﻢ ﺃَﻛِﻨَّﺔً
ﺃَﻥ ﻳَﻔﻘَﻬﻮﻩُ ﻭَﻓﻰ ﺀﺍﺫﺍﻧِﻬِﻢ
ﻭَﻗﺮًﺍ ۚ ﻭَﺇِﻥ ﻳَﺮَﻭﺍ ﻛُﻞَّ ﺀﺍﻳَﺔٍ ﻻ
ﻳُﺆﻣِﻨﻮﺍ ﺑِﻬﺎ ۚ ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ
ﺟﺎﺀﻭﻙَ ﻳُﺠٰﺪِﻟﻮﻧَﻚَ ﻳَﻘﻮﻝُ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﺇِﻥ ﻫٰﺬﺍ ﺇِﻟّﺎ
ﺃَﺳٰﻄﻴﺮُ ﺍﻷَﻭَّﻟﻴﻦَ
[25] তাদের কেউ কেউ আপনার দিকে
কান লাগিয়ে থাকে। আমি তাদের
অন্তরের উপর আবরণ রেখে দিয়েছি
যাতে একে না বুঝে এবং তাদের কানে
বোঝা ভরে দিয়েছি। যদি তারা সব
নিদর্শন অবলোকন করে তবুও সেগুলো
বিশ্বাস করবে না। এমনকি, তারা যখন
আপনার কাছে ঝগড়া করতে আসে, তখন
কাফেররা বলেঃ এটি পুর্ববর্তীদের
কিচ্ছাকাহিনী বৈ তো নয়।
[25] And of them there are some who
listen to you; but We have set veils on
their hearts, so they understand it not,
and deafness in their ears; and even if
they see every one of the Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) they will not believe
therein; to the point that when they
come to you to argue with you, the
disbelievers say: “These are nothing but
tales of the men of old.”
[26] ﻭَﻫُﻢ ﻳَﻨﻬَﻮﻥَ ﻋَﻨﻪُ ﻭَﻳَﻨـَٔﻮﻥَ
ﻋَﻨﻪُ ۖ ﻭَﺇِﻥ ﻳُﻬﻠِﻜﻮﻥَ ﺇِﻟّﺎ
ﺃَﻧﻔُﺴَﻬُﻢ ﻭَﻣﺎ ﻳَﺸﻌُﺮﻭﻥَ
[26] তারা এ থেকে বাধা প্রদান করে
এবং এ থেকে পলায়ন করে। তারা
নিজেদেরকে ধ্বংস করেছে, কিন্তু
বুঝছে না।
[26] And they prevent others from him
(from following Prophet Muhammad
SAW) and they themselves keep away
from him, and (by doing so) they destroy
not but their ownselves, yet they
perceive (it) not.
[27] ﻭَﻟَﻮ ﺗَﺮﻯٰ ﺇِﺫ ﻭُﻗِﻔﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟﻨّﺎﺭِ ﻓَﻘﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﻠَﻴﺘَﻨﺎ ﻧُﺮَﺩُّ ﻭَﻻ
ﻧُﻜَﺬِّﺏَ ﺑِـٔﺎﻳٰﺖِ ﺭَﺑِّﻨﺎ ﻭَﻧَﻜﻮﻥَ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[27] আর আপনি যদি দেখেন, যখন
তাদেরকে দোযখের উপর দাঁড় করানো
হবে! তারা বলবেঃ কতই না ভাল হত,
যদি আমরা পুনঃ প্রেরিত হতাম; তা
হলে আমরা স্বীয় পালনকর্তার
নিদর্শনসমূহে মিথ্যারোপ করতাম না
এবং আমরা বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত
হয়ে যেতাম।
[27] If you could but see when they will
be held over the (Hell) Fire! They will
say: “Would that we were but sent back
(to the world)! Then we would not deny
the Ayât (proofs, evidences, verses,
lessons, revelations, etc.) of our Lord,
and we would be of the believers!”
[28] ﺑَﻞ ﺑَﺪﺍ ﻟَﻬُﻢ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻳُﺨﻔﻮﻥَ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ ۖ ﻭَﻟَﻮ ﺭُﺩّﻭﺍ
ﻟَﻌﺎﺩﻭﺍ ﻟِﻤﺎ ﻧُﻬﻮﺍ ﻋَﻨﻪُ ﻭَﺇِﻧَّﻬُﻢ
ﻟَﻜٰﺬِﺑﻮﻥَ
[28] এবং তারা ইতি পূর্বে যা গোপন
করত, তা তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে
পড়েছে। যদি তারা পুনঃ প্রেরিত হয়,
তবুও তাই করবে, যা তাদেরকে নিষেধ
করা হয়েছিল। নিশ্চয় তারা
মিথ্যাবাদী।
[28] Nay, it has become manifest to them
what they had been concealing before.
But if they were returned (to the world),
they would certainly revert to that which
they were forbidden. And indeed they
are liars.
[29] ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ ﺇِﻥ ﻫِﻰَ ﺇِﻟّﺎ ﺣَﻴﺎﺗُﻨَﺎ
ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﻭَﻣﺎ ﻧَﺤﻦُ ﺑِﻤَﺒﻌﻮﺛﻴﻦَ
[29] তারা বলেঃ আমাদের এ পার্থিব
জীবনই জীবন। আমাদেরকে পুনরায়
জীবিত হতে হবে না।
[29] And they said: “There is no (other
life) but our (present) life of this world,
and never shall we be resurrected (on
the Day of Resurrection).”
[30] ﻭَﻟَﻮ ﺗَﺮﻯٰ ﺇِﺫ ﻭُﻗِﻔﻮﺍ ﻋَﻠﻰٰ
ﺭَﺑِّﻬِﻢ ۚ ﻗﺎﻝَ ﺃَﻟَﻴﺲَ ﻫٰﺬﺍ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ۚ
ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺑَﻠﻰٰ ﻭَﺭَﺑِّﻨﺎ ۚ ﻗﺎﻝَ
ﻓَﺬﻭﻗُﻮﺍ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏَ ﺑِﻤﺎ ﻛُﻨﺘُﻢ
ﺗَﻜﻔُﺮﻭﻥَ
[30] আর যদি আপনি দেখেন; যখন
তাদেরকে প্রতিপালকের সামনে দাঁড়
করানো হবে। তিনি বলবেনঃ এটা কি
বাস্তব সত্য নয়? তারা বলবেঃ হঁ্যা
আমাদের প্রতিপালকের কসম। তিনি
বলবেনঃ অতএব, স্বীয় কুফরের কারণে
শাস্তি আস্বাদন কর।
[30] If you could but see when they will
be held (brought and made to stand) in
front of their Lord! He will say: “Is not
this (Resurrection and the taking of the
accounts) the truth?” They will say: “Yes,
by our Lord!” He will then say: “So taste
you the torment because you used not to
believe.”
[31] ﻗَﺪ ﺧَﺴِﺮَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ
ﺑِﻠِﻘﺎﺀِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۖ ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ ﺟﺎﺀَﺗﻬُﻢُ
ﺍﻟﺴّﺎﻋَﺔُ ﺑَﻐﺘَﺔً ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﺤَﺴﺮَﺗَﻨﺎ
ﻋَﻠﻰٰ ﻣﺎ ﻓَﺮَّﻃﻨﺎ ﻓﻴﻬﺎ ﻭَﻫُﻢ
ﻳَﺤﻤِﻠﻮﻥَ ﺃَﻭﺯﺍﺭَﻫُﻢ ﻋَﻠﻰٰ
ﻇُﻬﻮﺭِﻫِﻢ ۚ ﺃَﻻ ﺳﺎﺀَ ﻣﺎ ﻳَﺰِﺭﻭﻥَ
[31] নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত, যারা
আল্লাহর সাক্ষাৎকে মিথ্যা মনে
করেছে। এমনকি, যখন কিয়ামত তাদের
কাছে অকস্মাৎ এসে যাবে, তারা
বলবেঃ হায় আফসোস, এর ব্যাপারে
আমরা কতই না ক্রটি করেছি। তার
স্বীয় বোঝা স্বীয় পৃষ্ঠে বহন করবে।
শুনে রাখ, তারা যে বোঝা বহন করবে,
তা নিকৃষ্টতর বোঝা।
[31] They indeed are losers who denied
their Meeting with Allâh, until all of a
sudden, the Hour (signs of death) is on
them, and they say: “Alas for us that we
gave no thought to it,” while they will
bear their burdens on their backs; and
evil indeed are the burdens that they will
bear!
[32] ﻭَﻣَﺎ ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓُ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﺇِﻟّﺎ
ﻟَﻌِﺐٌ ﻭَﻟَﻬﻮٌ ۖ ﻭَﻟَﻠﺪّﺍﺭُ ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓُ
ﺧَﻴﺮٌ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ ﻳَﺘَّﻘﻮﻥَ ۗ ﺃَﻓَﻼ
ﺗَﻌﻘِﻠﻮﻥَ
[32] পার্থিব জীবন ক্রীড়া ও কৌতুক
ব্যতীত কিছুই নয়। পরকালের আবাস
পরহেযগারদের জন্যে শ্রেষ্টতর।
তোমরা কি বুঝ না ?
[32] And the life of this world is nothing
but play and amusement. But far better
is the house in the Hereafter for those
who are Al¬Muttaqûn (the pious – see
V.2:2). Will you not then understand?
[33] ﻗَﺪ ﻧَﻌﻠَﻢُ ﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻴَﺤﺰُﻧُﻚَ
ﺍﻟَّﺬﻯ ﻳَﻘﻮﻟﻮﻥَ ۖ ﻓَﺈِﻧَّﻬُﻢ ﻻ
ﻳُﻜَﺬِّﺑﻮﻧَﻚَ ﻭَﻟٰﻜِﻦَّ ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
ﺑِـٔﺎﻳٰﺖِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻳَﺠﺤَﺪﻭﻥَ
[33] আমার জানা আছে যে, তাদের
উক্তি আপনাকে দুঃখিত করে। অতএব,
তারা আপনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে
না, বরং জালেমরা আল্লাহর
নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করে।
[33] We know indeed the grief which
their words cause you (O Muhammad
SAW): it is not you that they deny, but it
is the Verses (the Qur’ân) of Allâh that
the Zâlimûn (polytheists and
wrong¬doers) deny.
[34] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﻛُﺬِّﺑَﺖ ﺭُﺳُﻞٌ ﻣِﻦ
ﻗَﺒﻠِﻚَ ﻓَﺼَﺒَﺮﻭﺍ ﻋَﻠﻰٰ ﻣﺎ
ﻛُﺬِّﺑﻮﺍ ﻭَﺃﻭﺫﻭﺍ ﺣَﺘّﻰٰ ﺃَﺗﻯٰﻬُﻢ
ﻧَﺼﺮُﻧﺎ ۚ ﻭَﻻ ﻣُﺒَﺪِّﻝَ ﻟِﻜَﻠِﻤٰﺖِ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ۚ ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺟﺎﺀَﻙَ ﻣِﻦ ﻧَﺒَﺈِﻱ۟
ﺍﻟﻤُﺮﺳَﻠﻴﻦَ
[34] আপনার পূর্ববর্তী অনেক
পয়গম্বরকে মিথ্যা বলা হয়েছে। তাঁরা
এতে ছবর করেছেন। তাদের কাছে
আমার সাহায্য পৌঁছে পর্যন্ত তারা
নির্যাতিত হয়েছেন। আল্লাহর বানী
কেউ পরিবর্তন করতে পারে না।
আপনার কাছে পয়গম্বরদের কিছু
কাহিনী পৌঁছেছে।
[34] Verily, (many) Messengers were
denied before you (O Muhammad SAW),
but with patience they bore the denial,
and they were hurt, till Our Help
reached them, and none can alter the
Words (Decisions) of Allâh. Surely there
has reached you the information (news)
about the Messengers (before you)
[35] ﻭَﺇِﻥ ﻛﺎﻥَ ﻛَﺒُﺮَ ﻋَﻠَﻴﻚَ
ﺇِﻋﺮﺍﺿُﻬُﻢ ﻓَﺈِﻥِ ﺍﺳﺘَﻄَﻌﺖَ ﺃَﻥ
ﺗَﺒﺘَﻐِﻰَ ﻧَﻔَﻘًﺎ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﺃَﻭ
ﺳُﻠَّﻤًﺎ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﻓَﺘَﺄﺗِﻴَﻬُﻢ
ﺑِـٔﺎﻳَﺔٍ ۚ ﻭَﻟَﻮ ﺷﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟَﺠَﻤَﻌَﻬُﻢ
ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻬُﺪﻯٰ ۚ ﻓَﻼ ﺗَﻜﻮﻧَﻦَّ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺠٰﻬِﻠﻴﻦَ
[35] আর যদি তাদের বিমুখতা আপনার
পক্ষে কষ্টকর হয়, তবে আপনি যদি
ভূতলে কোন সুড়ঙ্গ অথবা আকাশে
কোন সিড়ি অনুসন্ধান করতে সমর্থ হন,
অতঃপর তাদের কাছে কোন একটি
মোজেযা আনতে পারেন, তবে নিয়ে
আসুন। আল্লাহ ইচ্ছা করলে সবাইকে
সরল পথে সমবেত করতে পারতেন।
অতএব, আপনি নির্বোধদের অন্তর্ভুক্ত
হবেন না।
[35] If their aversion (from you, O
Muhammad SAW and from that with
which you have been sent) is hard on
you, (and you cannot be patient of their
harm to you), then if you were able to
seek a tunnel in the earth or a ladder to
the sky, so that you may bring them a
sign (and you cannot do it, so be
patient). And had Allâh willed, He could
have gathered them together (all) on true
guidance, so be not you one of those who
are Al-Jâhilûn (the ignorant).
[36] ۞ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﻳَﺴﺘَﺠﻴﺐُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻳَﺴﻤَﻌﻮﻥَ ۘ ﻭَﺍﻟﻤَﻮﺗﻰٰ ﻳَﺒﻌَﺜُﻬُﻢُ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺛُﻢَّ ﺇِﻟَﻴﻪِ ﻳُﺮﺟَﻌﻮﻥَ
[36] তারাই মানে, যারা শ্রবণ করে।
আল্লাহ মৃতদেরকে জীবিত করে উত্থিত
করবেন। অতঃপর তারা তাঁরই দিকে
প্রত্যাবর্তিত হবে।
[36] It is only those who listen (to the
Message of Prophet Muhammad SAW),
will respond (benefit from it), but as for
the dead (disbelievers), Allâh will raise
them up, then to Him they will be
returned (for their recompense).
[37] ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ ﻟَﻮﻻ ﻧُﺰِّﻝَ ﻋَﻠَﻴﻪِ
ﺀﺍﻳَﺔٌ ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻪِ ۚ ﻗُﻞ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ
ﻗﺎﺩِﺭٌ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﻥ ﻳُﻨَﺰِّﻝَ ﺀﺍﻳَﺔً
ﻭَﻟٰﻜِﻦَّ ﺃَﻛﺜَﺮَﻫُﻢ ﻻ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[37] তারা বলেঃ তার প্রতি তার
পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন
অবতীর্ণ হয়নি কেন? বলে দিনঃ
আল্লাহ নিদর্শন অবতরণ করতে পূর্ন
সক্ষম; কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে
না।
[37] And they said: “Why is not a sign
sent down to him from his Lord?” Say:
“Allâh is certainly Able to send down a
sign, but most of them know not.”
[38] ﻭَﻣﺎ ﻣِﻦ ﺩﺍﺑَّﺔٍ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﻭَﻻ ﻃٰﺌِﺮٍ ﻳَﻄﻴﺮُ ﺑِﺠَﻨﺎﺣَﻴﻪِ ﺇِﻟّﺎ
ﺃُﻣَﻢٌ ﺃَﻣﺜﺎﻟُﻜُﻢ ۚ ﻣﺎ ﻓَﺮَّﻃﻨﺎ ﻓِﻰ
ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ ﻣِﻦ ﺷَﻲﺀٍ ۚ ﺛُﻢَّ ﺇِﻟﻰٰ
ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﻳُﺤﺸَﺮﻭﻥَ
[38] আর যত প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে
বিচরণশীল রয়েছে এবং যত প্রকার
পাখী দু’ ডানাযোগে উড়ে বেড়ায়
তারা সবাই তোমাদের মতই একেকটি
শ্রেণী। আমি কোন কিছু লিখতে
ছাড়িনি। অতঃপর সবাই স্বীয়
প্রতিপালকের কাছে সমবেত হবে।
[38] There is not a moving (living)
creature on earth, nor a bird that flies
with its two wings, but are communities
like you. We have neglected nothing in
the Book, then unto their Lord they (all)
shall be gathered.
[39] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ﺻُﻢٌّ
ﻭَﺑُﻜﻢٌ ﻓِﻰ ﺍﻟﻈُّﻠُﻤٰﺖِ ۗ ﻣَﻦ ﻳَﺸَﺈِ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳُﻀﻠِﻠﻪُ ﻭَﻣَﻦ ﻳَﺸَﺄ ﻳَﺠﻌَﻠﻪُ
ﻋَﻠﻰٰ ﺻِﺮٰﻁٍ ﻣُﺴﺘَﻘﻴﻢٍ
[39] যারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা
বলে, তারা অন্ধকারের মধ্যে মূক ও
বধির। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট
করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথে
পরিচালিত করেন।
[39] Those who reject Our Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) are deaf and dumb in
darkness. Allâh sends astray whom He
wills and He guides on the Straight Path
whom He wills.
[40] ﻗُﻞ ﺃَﺭَﺀَﻳﺘَﻜُﻢ ﺇِﻥ ﺃَﺗﻯٰﻜُﻢ
ﻋَﺬﺍﺏُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻭ ﺃَﺗَﺘﻜُﻢُ ﺍﻟﺴّﺎﻋَﺔُ
ﺃَﻏَﻴﺮَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺗَﺪﻋﻮﻥَ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ
ﺻٰﺪِﻗﻴﻦَ
[40] বলুন, বলতো দেখি, যদি
তোমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি
পতিত হয় কিংবা তোমাদের কাছে
কিয়ামত এসে যায়, তবে তোমরা কি
আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে ডাকবে যদি
তোমরা সত্যবাদী হও।
[40] Say (O Muhammad SAW): “Tell me if
Allâh’s Torment comes upon you, or the
Hour comes upon you, would you then
call upon any one other than Allâh?
(Reply) if you are truthful!”
[41] ﺑَﻞ ﺇِﻳّﺎﻩُ ﺗَﺪﻋﻮﻥَ ﻓَﻴَﻜﺸِﻒُ
ﻣﺎ ﺗَﺪﻋﻮﻥَ ﺇِﻟَﻴﻪِ ﺇِﻥ ﺷﺎﺀَ
ﻭَﺗَﻨﺴَﻮﻥَ ﻣﺎ ﺗُﺸﺮِﻛﻮﻥَ
[41] বরং তোমরা তো তাঁকেই
ডাকবে। অতঃপর যে বিপদের জন্যে
তাঁকে ডাকবে, তিনি ইচ্ছা করলে তা
দুরও করে দেন। যাদেরকে অংশীদার
করছ, তখন তাদেরকে ভুলে যাবে।
[41] Nay! To Him Alone you would call,
and, if He wills, He would remove that
(distress) for which you call upon Him,
and you would forget at that time
whatever partners you joined (with Him
in worship)!
[42] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﺇِﻟﻰٰ ﺃُﻣَﻢٍ ﻣِﻦ
ﻗَﺒﻠِﻚَ ﻓَﺄَﺧَﺬﻧٰﻬُﻢ ﺑِﺎﻟﺒَﺄﺳﺎﺀِ
ﻭَﺍﻟﻀَّﺮّﺍﺀِ ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ ﻳَﺘَﻀَﺮَّﻋﻮﻥَ
[42] আর আমি আপনার পূর্ববর্তী
উম্মতদের প্রতিও পয়গম্বর প্রেরণ
করেছিলাম। অতঃপর আমি তাদেরকে
অভাব-অনটন ও রোগ-ব্যধি দ্বারা
পাকড়াও করেছিলাম যাতে তারা
কাকুতি মিনতি করে।
[42] Verily, We sent (Messengers) to
many nations before you (O Muhammad
SAW). And We seized them with extreme
poverty (or loss in wealth) and loss in
health with calamities so that they might
believe with humility.
[43] ﻓَﻠَﻮﻻ ﺇِﺫ ﺟﺎﺀَﻫُﻢ ﺑَﺄﺳُﻨﺎ
ﺗَﻀَﺮَّﻋﻮﺍ ﻭَﻟٰﻜِﻦ ﻗَﺴَﺖ
ﻗُﻠﻮﺑُﻬُﻢ ﻭَﺯَﻳَّﻦَ ﻟَﻬُﻢُ ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦُ
ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[43] অতঃপর তাদের কাছে যখন আমার
আযাব আসল, তখন কেন কাকুতি-মিনতি
করল না ? বস্তুতঃ তাদের অন্তর কঠোর
হয়ে গেল এবং শয়তান তাদের কাছে
সুশোভিত করে দেখাল, যে কাজ তারা
করছিল।
[43] When Our Torment reached them,
why then did they not humble
themselves (believe with humility)? But
their hearts became hardened, and
Shaitân (Satan) made fair-seeming to
them that which they used to do.
[44] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﻧَﺴﻮﺍ ﻣﺎ ﺫُﻛِّﺮﻭﺍ ﺑِﻪِ
ﻓَﺘَﺤﻨﺎ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺃَﺑﻮٰﺏَ ﻛُﻞِّ
ﺷَﻲﺀٍ ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ ﻓَﺮِﺣﻮﺍ ﺑِﻤﺎ
ﺃﻭﺗﻮﺍ ﺃَﺧَﺬﻧٰﻬُﻢ ﺑَﻐﺘَﺔً ﻓَﺈِﺫﺍ ﻫُﻢ
ﻣُﺒﻠِﺴﻮﻥَ
[44] অতঃপর তারা যখন ঐ উপদেশ ভুলে
গেল, যা তাদেরকে দেয়া হয়েছিল, তখন
আমি তাদের সামনে সব কিছুর দ্বার
উম্মুক্ত করে দিলাম। এমনকি, যখন
তাদেরকে প্রদত্ত বিষয়াদির জন্যে
তারা খুব গর্বিত হয়ে পড়ল, তখন আমি
অকস্মাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম।
তখন তারা নিরাশ হয়ে গেল।
[44] So, when they forgot (the warning)
with which they had been reminded, We
opened for them the gates of every
(pleasant) thing, until in the midst of
their enjoyment in that which they were
given, all of a sudden, We took them (in
punishment), and lo! They were plunged
into destruction with deep regrets and
sorrows.
[45] ﻓَﻘُﻄِﻊَ ﺩﺍﺑِﺮُ ﺍﻟﻘَﻮﻡِ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻇَﻠَﻤﻮﺍ ۚ ﻭَﺍﻟﺤَﻤﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺭَﺏِّ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[45] অতঃপর জালেমদের মূল শিকড়
কর্তিত হল। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই
জন্যে, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা।
[45] So the roots of the people who did
wrong was cut off. And all the praises
and thanks are to Allâh, the Lord of the
‘Alamîn (mankind, jinn, and all that
exists).
[46] ﻗُﻞ ﺃَﺭَﺀَﻳﺘُﻢ ﺇِﻥ ﺃَﺧَﺬَ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﺳَﻤﻌَﻜُﻢ ﻭَﺃَﺑﺼٰﺮَﻛُﻢ ﻭَﺧَﺘَﻢَ
ﻋَﻠﻰٰ ﻗُﻠﻮﺑِﻜُﻢ ﻣَﻦ ﺇِﻟٰﻪٌ ﻏَﻴﺮُ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻳَﺄﺗﻴﻜُﻢ ﺑِﻪِ ۗ ﺍﻧﻈُﺮ ﻛَﻴﻒَ
ﻧُﺼَﺮِّﻑُ ﺍﻝﺀﺍﻳٰﺖِ ﺛُﻢَّ ﻫُﻢ
ﻳَﺼﺪِﻓﻮﻥَ
[46] আপনি বলুনঃ বল তো দেখি, যদি
আল্লাহ তোমাদের কান ও চোখ
নিয়ে যান এবং তোমাদের অন্তরে
মোহর এঁটে দেন, তবে এবং তোমাদের
আল্লাহ ব্যতীত এমন উপাস্য কে আছে,
যে তোমাদেরকে এগুলো এনে দেবে?
দেখ, আমি কিভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে
নিদর্শনাবলী বর্ণনা করি। তথাপি
তারা বিমুখ হচ্ছে।
[46] Say (to the disbelievers): “Tell me, if
Allâh took away your hearing and your
sight, and sealed up your hearts, who is
there – an ilâh (a god) other than Allâh
who could restore them to you?” See how
variously We explain the Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.), yet they turn aside.
[47] ﻗُﻞ ﺃَﺭَﺀَﻳﺘَﻜُﻢ ﺇِﻥ ﺃَﺗﻯٰﻜُﻢ
ﻋَﺬﺍﺏُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑَﻐﺘَﺔً ﺃَﻭ ﺟَﻬﺮَﺓً
ﻫَﻞ ﻳُﻬﻠَﻚُ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻘَﻮﻡُ ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻮﻥَ
[47] বলে দিনঃ দেখতো, যদি আল্লাহর
শাস্তি, আকস্মিক কিংবা প্রকাশ্যে
তোমাদের উপর আসে, তবে জালেম,
সম্প্রদায় ব্যতীত কে ধ্বংস হবে?
[47] Say: “Tell me, if the punishment of
Allâh comes to you suddenly (during the
night), or openly (during the day), will
any be destroyed except the Zâlimûn
(polytheists and wrong-doing people)?”
[48] ﻭَﻣﺎ ﻧُﺮﺳِﻞُ ﺍﻟﻤُﺮﺳَﻠﻴﻦَ ﺇِﻟّﺎ
ﻣُﺒَﺸِّﺮﻳﻦَ ﻭَﻣُﻨﺬِﺭﻳﻦَ ۖ ﻓَﻤَﻦ
ﺀﺍﻣَﻦَ ﻭَﺃَﺻﻠَﺢَ ﻓَﻼ ﺧَﻮﻑٌ
ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻭَﻻ ﻫُﻢ ﻳَﺤﺰَﻧﻮﻥَ
[48] আমি পয়গম্বরদেরকে প্রেরণ করি
না, কিন্তু সুসংবাদাতা ও ভীতি
প্রদর্শকরূপে অতঃপর যে বিশ্বাস
স্থাপন করে এবং সংশোধিত হয়,
তাদের কোন শঙ্কা নেই এবং তারা
দুঃখিত হবে না।
[48] And We send not the Messengers
but as givers of glad tidings and as
warners. So whosoever believes and does
righteous good deeds, upon such shall
come no fear, nor shall they grieve.
[49] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ
ﻳَﻤَﺴُّﻬُﻢُ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏُ ﺑِﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻳَﻔﺴُﻘﻮﻥَ
[49] যারা আমার নিদর্শনাবলীকে
মিথ্যা বলে, তাদেরকে তাদের
নাফরমানীর কারণে আযাব স্পর্শ
করবে।
[49] But those who reject Our Ayât
(proofs, evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.), the torment will touch
them for their disbelief (and for their
belying the Message of Muhammad
SAW). [Tafsir Al-Qurtubî].
[50] ﻗُﻞ ﻻ ﺃَﻗﻮﻝُ ﻟَﻜُﻢ ﻋِﻨﺪﻯ
ﺧَﺰﺍﺋِﻦُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻻ ﺃَﻋﻠَﻢُ ﺍﻟﻐَﻴﺐَ
ﻭَﻻ ﺃَﻗﻮﻝُ ﻟَﻜُﻢ ﺇِﻧّﻰ ﻣَﻠَﻚٌ ۖ ﺇِﻥ
ﺃَﺗَّﺒِﻊُ ﺇِﻟّﺎ ﻣﺎ ﻳﻮﺣﻰٰ ﺇِﻟَﻰَّ ۚ ﻗُﻞ
ﻫَﻞ ﻳَﺴﺘَﻮِﻯ ﺍﻷَﻋﻤﻰٰ
ﻭَﺍﻟﺒَﺼﻴﺮُ ۚ ﺃَﻓَﻼ ﺗَﺘَﻔَﻜَّﺮﻭﻥَ
[50] আপনি বলুনঃ আমি তোমাদেরকে
বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর
ভান্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি অদৃশ্য
বিষয় অবগতও নই। আমি এমন বলি না যে,
আমি ফেরেশতা। আমি তো শুধু ঐ ওহীর
অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আসে।
আপনি বলে দিনঃ অন্ধ ও চক্ষুমান কি
সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা
কর না ?
[50] Say (O Muhammad SAW): “I don’t
tell you that with me are the treasures of
Allâh, nor (that) I know the unseen; nor I
tell you that I am an angel. I but follow
what is revealed to me.” Say: “Are the
blind and the one who sees equal? will
you not then take thought?”
[51] ﻭَﺃَﻧﺬِﺭ ﺑِﻪِ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳَﺨﺎﻓﻮﻥَ
ﺃَﻥ ﻳُﺤﺸَﺮﻭﺍ ﺇِﻟﻰٰ ﺭَﺑِّﻬِﻢ ۙ ﻟَﻴﺲَ
ﻟَﻬُﻢ ﻣِﻦ ﺩﻭﻧِﻪِ ﻭَﻟِﻰٌّ ﻭَﻻ ﺷَﻔﻴﻊٌ
ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ ﻳَﺘَّﻘﻮﻥَ
[51] আপনি এ কোরআন দ্বারা
তাদেরকে ভয়-প্রদর্শন করুন, যারা
আশঙ্কা করে স্বীয় পালনকর্তার কাছে
এমতাবস্থায় একত্রিত হওয়ার যে,
তাদের কোন সাহায্যকারী ও
সুপারিশকারী হবে না-যাতে তারা
গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে।
[51] And warn therewith (the Qur’ân)
those who fear that they will be gathered
before their Lord, when there will be
neither a protector nor an intercessor
for them besides Him, so that they may
fear Allâh and keep their duty to Him
(by abstaining from committing sins and
by doing all kinds of good deeds which
He has ordained).
[52] ﻭَﻻ ﺗَﻄﺮُﺩِ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳَﺪﻋﻮﻥَ
ﺭَﺑَّﻬُﻢ ﺑِﺎﻟﻐَﺪﻭٰﺓِ ﻭَﺍﻟﻌَﺸِﻰِّ
ﻳُﺮﻳﺪﻭﻥَ ﻭَﺟﻬَﻪُ ۖ ﻣﺎ ﻋَﻠَﻴﻚَ
ﻣِﻦ ﺣِﺴﺎﺑِﻬِﻢ ﻣِﻦ ﺷَﻲﺀٍ ﻭَﻣﺎ
ﻣِﻦ ﺣِﺴﺎﺑِﻚَ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻣِﻦ
ﺷَﻲﺀٍ ﻓَﺘَﻄﺮُﺩَﻫُﻢ ﻓَﺘَﻜﻮﻥَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
[52] আর তাদেরকে বিতাড়িত করবেন
না, যারা সকাল-বিকাল স্বীয়
পালকর্তার এবাদত করে, তাঁর সন্তুষ্টি
কামনা করে। তাদের হিসাব
বিন্দুমাত্রও আপনার দায়িত্বে নয় এবং
আপনার হিসাব বিন্দুমাত্রও তাদের
দায়িত্বে নয় যে, আপনি তাদেরকে
বিতাড়িত করবেন। নতুবা আপনি
অবিচারকারীদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে
যাবেন।
[52] And turn not away those who
invoke their Lord, morning and
afternoon seeking His Face. You are
accountable for them in nothing, and
they are accountable for you in nothing,
that you may turn them away, and thus
become of the Zâlimûn (unjust).
[53] ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻓَﺘَﻨّﺎ ﺑَﻌﻀَﻬُﻢ
ﺑِﺒَﻌﺾٍ ﻟِﻴَﻘﻮﻟﻮﺍ ﺃَﻫٰﺆُﻻﺀِ ﻣَﻦَّ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻣِﻦ ﺑَﻴﻨِﻨﺎ ۗ ﺃَﻟَﻴﺲَ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﺄَﻋﻠَﻢَ ﺑِﺎﻟﺸّٰﻜِﺮﻳﻦَ
[53] আর এভাবেই আমি কিছু লোককে
কিছু লোক দ্বারা পরীক্ষায় ফেলেছি
যাতে তারা বলে যে, এদেরকেই কি
আমাদের সবার মধ্য থেকে আল্লাহ
স্বীয় অনুগ্রহ দান করেছেন? আল্লাহ কি
কৃতজ্ঞদের সম্পর্কে সুপরিজ্ঞাত নন ?
[53] Thus We have tried some of them
with others, that they might say: “Is it
these (poor believers) that Allâh has
favoured from amongst us?” Does not
Allâh know best those who are grateful?
[54] ﻭَﺇِﺫﺍ ﺟﺎﺀَﻙَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ﻓَﻘُﻞ ﺳَﻠٰﻢٌ
ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ۖ ﻛَﺘَﺐَ ﺭَﺑُّﻜُﻢ ﻋَﻠﻰٰ
ﻧَﻔﺴِﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤَﺔَ ۖ ﺃَﻧَّﻪُ ﻣَﻦ ﻋَﻤِﻞَ
ﻣِﻨﻜُﻢ ﺳﻮﺀًﺍ ﺑِﺠَﻬٰﻠَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﺗﺎﺏَ
ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِﻩِ ﻭَﺃَﺻﻠَﺢَ ﻓَﺄَﻧَّﻪُ ﻏَﻔﻮﺭٌ
ﺭَﺣﻴﻢٌ
[54] আর যখন তারা আপনার কাছে
আসবে যারা আমার নিদর্শনসমূহে
বিশ্বাস করে, তখন আপনি বলে দিনঃ
তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
তোমাদের পালনকর্তা রহমত করা নিজ
দায়িত্বে লিখে নিয়েছেন যে,
তোমাদের মধ্যে যে কেউ
অজ্ঞতাবশতঃ কোন মন্দ কাজ করে,
অনন্তর এরপরে তওবা করে নেয় এবং সৎ
হয়ে যায়, তবে তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল,
করুণাময়।
[54] When those who believe in Our Ayât
(proofs, evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) come to you, say:
“Salâmun ‘Alaikum” (peace be on you);
your Lord has written (prescribed)
Mercy for Himself, so that, if any of you
does evil in ignorance, and thereafter
repents and does righteous good deeds
(by obeying Allâh), then surely, He is Oft-
Forgiving, Most Merciful.
[55] ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻧُﻔَﺼِّﻞُ ﺍﻝﺀﺍﻳٰﺖِ
ﻭَﻟِﺘَﺴﺘَﺒﻴﻦَ ﺳَﺒﻴﻞُ ﺍﻟﻤُﺠﺮِﻣﻴﻦَ
[55] আর এমনিভাবে আমি নিদর্শনসমূহ
বিস্তারিত বর্ণনা করি-যাতে
অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে উঠে।
[55] And thus do We explain the Ayât
(proofs, evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) in detail, that the way
of the Mujrimûn (criminals, polytheists,
sinners), may become manifest.
[56] ﻗُﻞ ﺇِﻧّﻰ ﻧُﻬﻴﺖُ ﺃَﻥ ﺃَﻋﺒُﺪَ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺗَﺪﻋﻮﻥَ ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۚ
ﻗُﻞ ﻻ ﺃَﺗَّﺒِﻊُ ﺃَﻫﻮﺍﺀَﻛُﻢ ۙ ﻗَﺪ
ﺿَﻠَﻠﺖُ ﺇِﺫًﺍ ﻭَﻣﺎ ﺃَﻧﺎ۠ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻤُﻬﺘَﺪﻳﻦَ
[56] আপনি বলে দিনঃ আমাকে তাদের
এবাদত করতে নিষেধ করা হয়েছে,
তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে যাদের
এবাদত কর। আপনি বলে দিনঃ আমি
তোমাদের খুশীমত চলবো না। কেননা,
তাহলে আমি পথভ্রান্ত হয়ে যাব এবং
সুপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হব না।
[56] Say (O Muhammad SAW): “I have
been forbidden to worship those whom
you invoke (worship) besides Allâh.” Say:
“I will not follow your vain desires. If I
did, I would go astray, and I would not
be one of the rightly guided.”
[57] ﻗُﻞ ﺇِﻧّﻰ ﻋَﻠﻰٰ ﺑَﻴِّﻨَﺔٍ ﻣِﻦ
ﺭَﺑّﻰ ﻭَﻛَﺬَّﺑﺘُﻢ ﺑِﻪِ ۚ ﻣﺎ ﻋِﻨﺪﻯ
ﻣﺎ ﺗَﺴﺘَﻌﺠِﻠﻮﻥَ ﺑِﻪِ ۚ ﺇِﻥِ
ﺍﻟﺤُﻜﻢُ ﺇِﻟّﺎ ﻟِﻠَّﻪِ ۖ ﻳَﻘُﺺُّ ﺍﻟﺤَﻖَّ ۖ
ﻭَﻫُﻮَ ﺧَﻴﺮُ ﺍﻟﻔٰﺼِﻠﻴﻦَ
[57] আপনি বলে দিনঃ আমার কাছে
প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি প্রমাণ
আছে এবং তোমরা তার প্রতি
মিথ্যারোপ করেছ। তোমরা যে বস্তু
শীঘ্র দাবী করছ, তা আমার কাছে নেই।
আল্লাহ ছাড়া কারো নির্দেশ চলে
না। তিনি সত্য বর্ণনা করেন এবং
তিনিই শ্রেষ্ঠতম মীমাংসাকারী।
[57] Say (O Muhammad SAW): “I am on
clear proof from my Lord (Islâmic
Monotheism), but you deny (the truth
that has come to me from Allâh). I have
not gotten what you are asking for
impatiently (the torment). The decision is
only for Allâh, He declares the truth, and
He is the Best of judges.”
[58] ﻗُﻞ ﻟَﻮ ﺃَﻥَّ ﻋِﻨﺪﻯ ﻣﺎ
ﺗَﺴﺘَﻌﺠِﻠﻮﻥَ ﺑِﻪِ ﻟَﻘُﻀِﻰَ ﺍﻷَﻣﺮُ
ﺑَﻴﻨﻰ ﻭَﺑَﻴﻨَﻜُﻢ ۗ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻋﻠَﻢُ
ﺑِﺎﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
[58] আপনি বলে দিনঃ যদি আমার
কাছে তা থাকত, যা তোমরা শীঘ্র
দাবী করছ, তবে আমার ও তোমাদের
পারস্পরিক বিবাদ কবেই চুকে যেত।
আল্লাহ জালেমদের সম্পর্কে যথেষ্ট
পরিমাণে অবহিত।
[58] Say: “If I had that which you are
asking for impatiently (the torment), the
matter would have been settled at once
between me and you, but Allâh knows
best the Zâlimûn (polytheists and
wrong¬doers,).”
[59] ۞ ﻭَﻋِﻨﺪَﻩُ ﻣَﻔﺎﺗِﺢُ ﺍﻟﻐَﻴﺐِ
ﻻ ﻳَﻌﻠَﻤُﻬﺎ ﺇِﻟّﺎ ﻫُﻮَ ۚ ﻭَﻳَﻌﻠَﻢُ ﻣﺎ
ﻓِﻰ ﺍﻟﺒَﺮِّ ﻭَﺍﻟﺒَﺤﺮِ ۚ ﻭَﻣﺎ ﺗَﺴﻘُﻂُ
ﻣِﻦ ﻭَﺭَﻗَﺔٍ ﺇِﻟّﺎ ﻳَﻌﻠَﻤُﻬﺎ ﻭَﻻ ﺣَﺒَّﺔٍ
ﻓﻰ ﻇُﻠُﻤٰﺖِ ﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﻻ
ﺭَﻃﺐٍ ﻭَﻻ ﻳﺎﺑِﺲٍ ﺇِﻟّﺎ ﻓﻰ
ﻛِﺘٰﺐٍ ﻣُﺒﻴﻦٍ
[59] তাঁর কাছেই অদৃশ্য জগতের চাবি
রয়েছে। এ গুলো তিনি ব্যতীত কেউ
জানে না। স্থলে ও জলে যা আছে,
তিনিই জানেন। কোন পাতা ঝরে না;
কিন্তু তিনি তা জানেন। কোন শস্য
কণা মৃত্তিকার অন্ধকার অংশে পতিত
হয় না এবং কোন আর্দ্র ও শুস্ক দ্রব্য
পতিত হয় না; কিন্তু তা সব প্রকাশ্য
গ্রন্থে রয়েছে।
[59] And with Him are the keys of the
Ghaib (all that is hidden), none knows
them but He. And He knows whatever
there is in the land and in the sea; not a
leaf falls, but he knows it. There is not a
grain in the darkness of the earth nor
anything fresh or dry, but is written in a
Clear Record.
[60] ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻳَﺘَﻮَﻓّﻯٰﻜُﻢ
ﺑِﺎﻟَّﻴﻞِ ﻭَﻳَﻌﻠَﻢُ ﻣﺎ ﺟَﺮَﺣﺘُﻢ
ﺑِﺎﻟﻨَّﻬﺎﺭِ ﺛُﻢَّ ﻳَﺒﻌَﺜُﻜُﻢ ﻓﻴﻪِ
ﻟِﻴُﻘﻀﻰٰ ﺃَﺟَﻞٌ ﻣُﺴَﻤًّﻰ ۖ ﺛُﻢَّ
ﺇِﻟَﻴﻪِ ﻣَﺮﺟِﻌُﻜُﻢ ﺛُﻢَّ ﻳُﻨَﺒِّﺌُﻜُﻢ ﺑِﻤﺎ
ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[60] তিনিই রাত্রি বেলায়
তোমাদেরকে করায়ত্ত করে নেন এবং
যা কিছু তোমরা দিনের বেলায় কর,
তা জানেন। অতঃপর তোমাদেরকে
দিবসে সম্মুখিত করেন-যাতে নির্দিষ্ট
ওয়াদা পূর্ণ হয়।
[60] It is He Who takes your souls by
night (when you are asleep), and has
knowledge of all that you have done by
day, then He raises (wakes) you up again
that a term appointed (your life period)
be fulfilled, then (in the end) unto Him
will be your return. Then He will inform
you of that which you used to do.
[61] ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟﻘﺎﻫِﺮُ ﻓَﻮﻕَ ﻋِﺒﺎﺩِﻩِ ۖ
ﻭَﻳُﺮﺳِﻞُ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﺣَﻔَﻈَﺔً ﺣَﺘّﻰٰ
ﺇِﺫﺍ ﺟﺎﺀَ ﺃَﺣَﺪَﻛُﻢُ ﺍﻟﻤَﻮﺕُ
ﺗَﻮَﻓَّﺘﻪُ ﺭُﺳُﻠُﻨﺎ ﻭَﻫُﻢ ﻻ
ﻳُﻔَﺮِّﻃﻮﻥَ
[61] অনন্তর তাঁরই দিকে তোমাদের
প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তোমাদেরকে
বলে দিবেন, যা কিছু তোমরা
করছিলে। তিনিই স্বীয় বান্দাদের উপর
প্রবল। তিনি প্রেরণ করেন তোমাদের
কাছে রক্ষণাবেক্ষণকারী। এমন কি,
যখন তোমাদের কারও মৃত্যু আসে তখন
আমার প্রেরিত ফেরেশতারা তার
আত্মা হস্তগত করে নেয়।
[61] He is the Irresistible, Supreme over
His slaves, and He sends guardians
(angels guarding and writing all of one’s
good and bad deeds) over you, until
when death approaches one of you, Our
Messengers (angel of death and his
assistants) take his soul, and they never
neglect their duty
[62] ﺛُﻢَّ ﺭُﺩّﻭﺍ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻣَﻮﻟﻯٰﻬُﻢُ ﺍﻟﺤَﻖِّ ۚ ﺃَﻻ ﻟَﻪُ ﺍﻟﺤُﻜﻢُ
ﻭَﻫُﻮَ ﺃَﺳﺮَﻉُ ﺍﻟﺤٰﺴِﺒﻴﻦَ
[62] অতঃপর সবাইকে সত্যিকার প্রভু
আল্লাহর কাছে পৌঁছানো হবে। শুনে
রাখ, ফয়সালা তাঁরই এবং তিনি দ্রুত
হিসাব গ্রহণ করবেন।
[62] Then they are returned to Allâh,
their Maulâ [True Master (God), the Just
Lord (to reward them)]. Surely, for Him
is the judgement and He is the Swiftest
in taking account
[63] ﻗُﻞ ﻣَﻦ ﻳُﻨَﺠّﻴﻜُﻢ ﻣِﻦ
ﻇُﻠُﻤٰﺖِ ﺍﻟﺒَﺮِّ ﻭَﺍﻟﺒَﺤﺮِ ﺗَﺪﻋﻮﻧَﻪُ
ﺗَﻀَﺮُّﻋًﺎ ﻭَﺧُﻔﻴَﺔً ﻟَﺌِﻦ ﺃَﻧﺠﻯٰﻨﺎ
ﻣِﻦ ﻫٰﺬِﻩِ ﻟَﻨَﻜﻮﻧَﻦَّ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺸّٰﻜِﺮﻳﻦَ
[63] আপনি বলুনঃ কে তোমাদেরকে
স্থল ও জলের অন্ধকার থেকে উদ্ধার
করেন, যখন তোমরা তাঁকে
বিনীতভাবে ও গোপনে আহবান কর যে,
যদি আপনি আমাদের কে এ থেকে
উদ্ধার করে নেন, তবে আমরা অবশ্যই
কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।
[63] Say (O Muhammad SAW): “Who
rescues you from the darkness of the
land and the sea (dangers like storms),
when you call upon Him in humility and
in secret (saying): If He (Allâh) only
saves us from this (danger), we shall
truly be grateful.”
[64] ﻗُﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳُﻨَﺠّﻴﻜُﻢ ﻣِﻨﻬﺎ
ﻭَﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﻛَﺮﺏٍ ﺛُﻢَّ ﺃَﻧﺘُﻢ
ﺗُﺸﺮِﻛﻮﻥَ
[64] আপনি বলে দিনঃ আল্লাহ
তোমাদেরকে তা থেকে মুক্তি দেন এব
সব দুঃখ-বিপদ থেকে। তথাপি তোমরা
শেরক কর।
[64] Say (O Muhammad SAW): “Allâh
rescues you from this and from all
(other) distresses, and yet you worship
others besides Allâh.”
[65] ﻗُﻞ ﻫُﻮَ ﺍﻟﻘﺎﺩِﺭُ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﻥ
ﻳَﺒﻌَﺚَ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﻋَﺬﺍﺑًﺎ ﻣِﻦ
ﻓَﻮﻗِﻜُﻢ ﺃَﻭ ﻣِﻦ ﺗَﺤﺖِ
ﺃَﺭﺟُﻠِﻜُﻢ ﺃَﻭ ﻳَﻠﺒِﺴَﻜُﻢ ﺷِﻴَﻌًﺎ
ﻭَﻳُﺬﻳﻖَ ﺑَﻌﻀَﻜُﻢ ﺑَﺄﺱَ ﺑَﻌﺾٍ ۗ
ﺍﻧﻈُﺮ ﻛَﻴﻒَ ﻧُﺼَﺮِّﻑُ ﺍﻝﺀﺍﻳٰﺖِ
ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ ﻳَﻔﻘَﻬﻮﻥَ
[65] আপনি বলুনঃ তিনিই শক্তিমান যে,
তোমাদের উপর কোন শাস্তি উপর
দিক থেকে অথবা তোমাদের পদতল
থেকে প্রেরণ করবেন অথবা
তোমাদেরকে দলে-উপদলে বিভক্ত
করে সবাইকে মুখোমুখী করে দিবেন
এবং এককে অন্যের উপর আক্রমণের
স্বাদ আস্বাদন করাবেন। দেখ, আমি
কেমন ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নিদর্শনাবলী
বর্ণনা করি যাতে তারা বুঝে নেয়।
[65] Say: “He has power to send torment
on you from above or from under your
feet, or to cover you with confusion in
party strife, and make you to taste the
violence of one another.” See how
variously We explain the Ayât (proofs,
evidences, lessons, signs, revelations,
etc.), so that they may understand.
[66] ﻭَﻛَﺬَّﺏَ ﺑِﻪِ ﻗَﻮﻣُﻚَ ﻭَﻫُﻮَ
ﺍﻟﺤَﻖُّ ۚ ﻗُﻞ ﻟَﺴﺖُ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ
ﺑِﻮَﻛﻴﻞٍ
[66] আপনার সম্প্রদায় একে মিথ্যা
বলছে, অথচ তা সত্য। আপনি বলে দিনঃ
আমি তোমাদের উপর নিয়োজিত নই।
[66] But your people (O Muhammad
SAW) have denied it (the Qur’ân) though
it is the truth. Say: “I am not a Wakil
(guardian) over you.”
[67] ﻟِﻜُﻞِّ ﻧَﺒَﺈٍ ﻣُﺴﺘَﻘَﺮٌّ ۚ ﻭَﺳَﻮﻑَ
ﺗَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[67] প্রত্যেক খবরের একটি সময়
নির্দিষ্ট রয়েছে এবং অচিরেই
তোমরা তা জেনে নিবে।
[67] For every news there is a reality
and you will come to know.
[68] ﻭَﺇِﺫﺍ ﺭَﺃَﻳﺖَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻳَﺨﻮﺿﻮﻥَ ﻓﻰ ﺀﺍﻳٰﺘِﻨﺎ
ﻓَﺄَﻋﺮِﺽ ﻋَﻨﻬُﻢ ﺣَﺘّﻰٰ
ﻳَﺨﻮﺿﻮﺍ ﻓﻰ ﺣَﺪﻳﺚٍ ﻏَﻴﺮِﻩِ ۚ
ﻭَﺇِﻣّﺎ ﻳُﻨﺴِﻴَﻨَّﻚَ ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦُ ﻓَﻼ
ﺗَﻘﻌُﺪ ﺑَﻌﺪَ ﺍﻟﺬِّﻛﺮﻯٰ ﻣَﻊَ ﺍﻟﻘَﻮﻡِ
ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
[68] যখন আপনি তাদেরকে দেখেন,
যারা আমার আয়াত সমূহে ছিদ্রান্বেষণ
করে, তখন তাদের কাছ থেকে সরে যান
যে পর্যন্ত তারা অন্য কথায় প্রবৃত্ত না
হয়, যদি শয়তান আপনাকে ভূলিয়ে দেয়
তবে স্মরণ হওয়ার পর জালেমদের সাথে
উপবেশন করবেন না।
[68] And when you (Muhammad SAW)
see those who engage in a false
conversation about Our Verses (of the
Qur’ân) by mocking at them, stay away
from them till they turn to another topic.
And if Shaitân (Satan) causes you to
forget, then after the remembrance sit
not you in the company of those people
who are the Zâlimûn (polytheists and
wrong-doers).
[69] ﻭَﻣﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳَﺘَّﻘﻮﻥَ
ﻣِﻦ ﺣِﺴﺎﺑِﻬِﻢ ﻣِﻦ ﺷَﻲﺀٍ
ﻭَﻟٰﻜِﻦ ﺫِﻛﺮﻯٰ ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ ﻳَﺘَّﻘﻮﻥَ
[69] এদের যখন বিচার করা হবে তখন
পরহেযগারদের উপর এর কোন প্রভাব
পড়বে না; কিন্তু তাদের দায়িত্ব
উপদেশ দান করা যাতে ওরা ভীত হয়।
[69] Those who fear Allâh, keep their
duty to Him and avoid evil are not
responsible for them (the disbelievers) in
any case, but (their duty) is to remind
them, that they may fear Allah (and
refrain from mocking at the Quran).
[The provision of this Verse was
abrogated by the Verse 4:140]
[70] ﻭَﺫَﺭِ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺍﺗَّﺨَﺬﻭﺍ
ﺩﻳﻨَﻬُﻢ ﻟَﻌِﺒًﺎ ﻭَﻟَﻬﻮًﺍ ﻭَﻏَﺮَّﺗﻬُﻢُ
ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓُ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ۚ ﻭَﺫَﻛِّﺮ ﺑِﻪِ ﺃَﻥ
ﺗُﺒﺴَﻞَ ﻧَﻔﺲٌ ﺑِﻤﺎ ﻛَﺴَﺒَﺖ
ﻟَﻴﺲَ ﻟَﻬﺎ ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻟِﻰٌّ
ﻭَﻻ ﺷَﻔﻴﻊٌ ﻭَﺇِﻥ ﺗَﻌﺪِﻝ ﻛُﻞَّ
ﻋَﺪﻝٍ ﻻ ﻳُﺆﺧَﺬ ﻣِﻨﻬﺎ ۗ ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺃُﺑﺴِﻠﻮﺍ ﺑِﻤﺎ ﻛَﺴَﺒﻮﺍ ۖ
ﻟَﻬُﻢ ﺷَﺮﺍﺏٌ ﻣِﻦ ﺣَﻤﻴﻢٍ
ﻭَﻋَﺬﺍﺏٌ ﺃَﻟﻴﻢٌ ﺑِﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻳَﻜﻔُﺮﻭﻥَ
[70] তাদেরকে পরিত্যাগ করুন, যারা
নিজেদের ধর্মকে ক্রীড়া ও
কৌতুকরূপে গ্রহণ করেছে এবং
পার্থিব জীবন যাদেরকে ধোঁকায়
ফেলে রেখেছে। কোরআন দ্বারা
তাদেরকে উপদেশ দিন, যাতে কেউ
স্বীয় কর্মে এমন ভাবে গ্রেফতার না
হয়ে যায় যে, আল্লাহ ব্যতীত তার
কোন সাহায্যকারী ও সুপারিশকারী
নেই এবং যদি তারা জগতের বিনিময়ও
প্রদান কবে, তবু তাদের কাছ থেকে তা
গ্রহণ করা হবে না। একাই স্বীয় কর্মে
জড়িত হয়ে পড়েছে। তাদের জন্যে
উত্তপ্ত পানি এবং যন্ত্রণাদায়ক
শাস্তি রয়েছে-কুফরের কারণে।
[70] And leave alone those who take
their religion as play and amusement,
and whom the life of this world has
deceived. But remind (them) with it (the
Qur’ân) lest a person be given up to
destruction for that which he has
earned, when he will find for himself no
protector or intercessor besides Allâh,
and even if he offers every ransom, it
will not be accepted from him. Such are
they who are given up to destruction
because of that which they have earned.
For them will be a drink of boiling water
and a painful torment because they used
to disbelieve.
[71] ﻗُﻞ ﺃَﻧَﺪﻋﻮﺍ ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻣﺎ ﻻ ﻳَﻨﻔَﻌُﻨﺎ ﻭَﻻ ﻳَﻀُﺮُّﻧﺎ ﻭَﻧُﺮَﺩُّ
ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﻋﻘﺎﺑِﻨﺎ ﺑَﻌﺪَ ﺇِﺫ ﻫَﺪﻯٰﻨَﺎ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻛَﺎﻟَّﺬِﻯ ﺍﺳﺘَﻬﻮَﺗﻪُ
ﺍﻟﺸَّﻴٰﻄﻴﻦُ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﺣَﻴﺮﺍﻥَ ﻟَﻪُ ﺃَﺻﺤٰﺐٌ ﻳَﺪﻋﻮﻧَﻪُ
ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻬُﺪَﻯ ﺍﺋﺘِﻨﺎ ۗ ﻗُﻞ ﺇِﻥَّ
ﻫُﺪَﻯ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻫُﻮَ ﺍﻟﻬُﺪﻯٰ ۖ ﻭَﺃُﻣِﺮﻧﺎ
ﻟِﻨُﺴﻠِﻢَ ﻟِﺮَﺏِّ ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[71] আপনি বলে দিনঃ আমরা কি
আল্লাহ ব্যতীত এমন বস্তুকে আহবান
করব, যে আমাদের উপকার করতে পারে
না এবং ক্ষতিও করতে পারে না এবং
আমরা কি পশ্চাৎপদে ফিরে যাব, এরপর
যে, আল্লাহ আমাদেরকে পথ প্রদর্শন
করেছেন? ঐ ব্যক্তির মত, যাকে
শয়তানরা বনভুমিতে বিপথগামী করে
দিয়েছে-সে উদভ্রান্ত হয়ে
ঘোরাফেরা করছে। তার সহচররা
তাকে পথের দিকে ডেকে বলছেঃ আস,
আমাদের কাছে। আপনি বলে দিনঃ
নিশ্চয় আল্লাহর পথই সুপথ। আমরা
আদিষ্ট হয়েছি যাতে স্বীয় পালনকর্তা
আজ্ঞাবহ হয়ে যাই।
[71] Say (O Muhammad SAW): “Shall we
invoke others besides Allâh (false
deities), that can do us neither good nor
harm, and shall we turn back on our
heels after Allâh has guided us (to true
Monotheism)? – like one whom the
Shayâtin (devils) have made to go astray,
in the land in confusion, his companions
calling him to guidance (saying): ‘Come
to us.’ ” Say: “Verily, Allâh’s Guidance is
the only guidance, and we have been
commanded to submit (ourselves) to the
Lord of the ‘Alamîn (mankind, jinn and
all that exists);
[72] ﻭَﺃَﻥ ﺃَﻗﻴﻤُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﻠﻮٰﺓَ
ﻭَﺍﺗَّﻘﻮﻩُ ۚ ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺇِﻟَﻴﻪِ
ﺗُﺤﺸَﺮﻭﻥَ
[72] এবং তা এই যে, নামায কায়েম কর
এবং তাঁকে ভয় কর। তাঁর সামনেই
তোমরা একত্রিত হবে।
[72] And to perform As-Salât (Iqâmat-as-
Salât)”, and to be obedient to Allâh and
fear Him, and it is He to Whom you shall
be gathered.
[73] ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽَ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ۖ ﻭَﻳَﻮﻡَ ﻳَﻘﻮﻝُ
ﻛُﻦ ﻓَﻴَﻜﻮﻥُ ۚ ﻗَﻮﻟُﻪُ ﺍﻟﺤَﻖُّ ۚ ﻭَﻟَﻪُ
ﺍﻟﻤُﻠﻚُ ﻳَﻮﻡَ ﻳُﻨﻔَﺦُ ﻓِﻰ ﺍﻟﺼّﻮﺭِ ۚ
ﻋٰﻠِﻢُ ﺍﻟﻐَﻴﺐِ ﻭَﺍﻟﺸَّﻬٰﺪَﺓِ ۚ ﻭَﻫُﻮَ
ﺍﻟﺤَﻜﻴﻢُ ﺍﻟﺨَﺒﻴﺮُ
[73] তিনিই সঠিকভাবে নভোমন্ডল
সৃষ্টি করেছেন। যেদিন তিনি বলবেনঃ
হয়ে যা, অতঃপর হয়ে যাবে। তাঁর কথা
সত্য। যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার করা হবে,
সেদিন তাঁরই আধিপত্য হবে। তিনি
অদৃশ্য বিষয়ে এবং প্রত্যক্ষ বিষয়ে
জ্ঞাত। তিনিই প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।
[73] It is He Who has created the
heavens and the earth in truth, and on
the Day (i.e. the Day of Resurrection) He
will say: “Be!”, – and it is! His Word is
the truth. His will be the dominion on
the Day when the trumpet will be blown.
All-Knower of the unseen and the seen.
He is the All-Wise, Well-Aware (of all
things).
[74] ۞ ﻭَﺇِﺫ ﻗﺎﻝَ ﺇِﺑﺮٰﻫﻴﻢُ
ﻟِﺄَﺑﻴﻪِ ﺀﺍﺯَﺭَ ﺃَﺗَﺘَّﺨِﺬُ ﺃَﺻﻨﺎﻣًﺎ
ﺀﺍﻟِﻬَﺔً ۖ ﺇِﻧّﻰ ﺃَﺭﻯٰﻚَ ﻭَﻗَﻮﻣَﻚَ
ﻓﻰ ﺿَﻠٰﻞٍ ﻣُﺒﻴﻦٍ
[74] স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম পিতা
আযরকে বললেনঃ তুমি কি প্রতিমা
সমূহকে উপাস্য মনে কর? আমি দেখতে
পাচ্ছি যে, তুমি ও তোমার সম্প্রদায়
প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট।
[74] And (remember) when Ibrâhim
(Abraham) said to his father Azar: “Do
you take idols as âlihâh (gods)? Verily, I
see you and your people in manifest
error.”
[75] ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻧُﺮﻯ ﺇِﺑﺮٰﻫﻴﻢَ
ﻣَﻠَﻜﻮﺕَ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ
ﻭَﻟِﻴَﻜﻮﻥَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤﻮﻗِﻨﻴﻦَ
[75] আমি এরূপ ভাবেই ইব্রাহীমকে
নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের অত্যাশ্চর্য
বস্তুসমূহ দেখাতে লাগলাম-যাতে সে দৃঢ়
বিশ্বাসী হয়ে যায়।
[75] Thus did we show Ibrâhim
(Abraham) the kingdom of the heavens
and the earth that he be one of those
who have Faith with certainty
[76] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺟَﻦَّ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺍﻟَّﻴﻞُ ﺭَﺀﺍ
ﻛَﻮﻛَﺒًﺎ ۖ ﻗﺎﻝَ ﻫٰﺬﺍ ﺭَﺑّﻰ ۖ ﻓَﻠَﻤّﺎ
ﺃَﻓَﻞَ ﻗﺎﻝَ ﻻ ﺃُﺣِﺐُّ ﺍﻝﺀﺍﻓِﻠﻴﻦَ
[76] অনন্তর যখন রজনীর অন্ধকার তার
উপর সমাচ্ছন্ন হল, তখন সে একটি
তারকা দেখতে পেল, বললঃ ইহা আমার
প্রতিপালক। অতঃপর যখন তা অস্তমিত
হল তখন বললঃ আমি অস্তগামীদেরকে
ভালবাসি না।
[76] When the night covered him over
with darkness he saw a star. He said:
“This is my lord.” But when it set, he
said: “I like not those that set.”
[77] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺭَﺀَﺍ ﺍﻟﻘَﻤَﺮَ ﺑﺎﺯِﻏًﺎ ﻗﺎﻝَ
ﻫٰﺬﺍ ﺭَﺑّﻰ ۖ ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺃَﻓَﻞَ ﻗﺎﻝَ ﻟَﺌِﻦ
ﻟَﻢ ﻳَﻬﺪِﻧﻰ ﺭَﺑّﻰ ﻟَﺄَﻛﻮﻧَﻦَّ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻘَﻮﻡِ ﺍﻟﻀّﺎﻟّﻴﻦَ
[77] অতঃপর যখন চন্দ্রকে ঝলমল করতে
দেখল, বললঃ এটি আমার প্রতিপালক।
অনন্তর যখন তা অদৃশ্য হয়ে গেল, তখন
বলল যদি আমার প্রতিপালক আমাকে
পথ-প্রদর্শন না করেন, তবে অবশ্যই আমি
বিভ্রান্ত সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে
যাব।
[77] When he saw the moon rising up, he
said: “This is my lord.” But when it set,
he said: “Unless my Lord guides me, I
shall surely be among the people who
went astray.”
[78] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺭَﺀَﺍ ﺍﻟﺸَّﻤﺲَ ﺑﺎﺯِﻏَﺔً
ﻗﺎﻝَ ﻫٰﺬﺍ ﺭَﺑّﻰ ﻫٰﺬﺍ ﺃَﻛﺒَﺮُ ۖ ﻓَﻠَﻤّﺎ
ﺃَﻓَﻠَﺖ ﻗﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺇِﻧّﻰ ﺑَﺮﻱﺀٌ
ﻣِﻤّﺎ ﺗُﺸﺮِﻛﻮﻥَ
[78] অতঃপর যখন সূর্যকে চকচক করতে
দেখল, বললঃ এটি আমার পালনকর্তা,
এটি বৃহত্তর। অতপর যখন তা ডুবে গেল,
তখন বলল হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা
যেসব বিষয়কে শরীক কর, আমি ওসব
থেকে মুক্ত।
[78] When he saw the sun rising up, he
said: “This is my lord. This is greater.”
But when it set, he said: “O my people! I
am indeed free from all that you join as
partners (in worship with Allâh).
[79] ﺇِﻧّﻰ ﻭَﺟَّﻬﺖُ ﻭَﺟﻬِﻰَ ﻟِﻠَّﺬﻯ
ﻓَﻄَﺮَ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽَ
ﺣَﻨﻴﻔًﺎ ۖ ﻭَﻣﺎ ﺃَﻧﺎ۠ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻤُﺸﺮِﻛﻴﻦَ
[79] আমি এক মুখী হয়ে স্বীয় আনন ঐ
সত্তার দিকে করেছি, যিনি
নভোমন্ডল ও ভুমন্ডল সৃষ্টি করেছেন
এবং আমি মুশরেক নই।
[79] Verily, I have turned my face
towards Him Who has created the
heavens and the earth Hanifa (Islâmic
Monotheism, i.e. worshipping none but
Allâh Alone) and I am not of Al-
Mushrikûn (see V.2:105)”.
[80] ﻭَﺣﺎﺟَّﻪُ ﻗَﻮﻣُﻪُ ۚ ﻗﺎﻝَ
ﺃَﺗُﺤٰﺠّﻮﻧّﻰ ﻓِﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻗَﺪ
ﻫَﺪﻯٰﻦِ ۚ ﻭَﻻ ﺃَﺧﺎﻑُ ﻣﺎ
ﺗُﺸﺮِﻛﻮﻥَ ﺑِﻪِ ﺇِﻟّﺎ ﺃَﻥ ﻳَﺸﺎﺀَ
ﺭَﺑّﻰ ﺷَﻴـًٔﺎ ۗ ﻭَﺳِﻊَ ﺭَﺑّﻰ ﻛُﻞَّ
ﺷَﻲﺀٍ ﻋِﻠﻤًﺎ ۗ ﺃَﻓَﻼ ﺗَﺘَﺬَﻛَّﺮﻭﻥَ
[80] তাঁর সাথে তার সম্প্রদায় বিতর্ক
করল। সে বললঃ তোমরা কি আমার
সাথে আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কে
বিতর্ক করছ; অথচ তিনি আমাকে পথ
প্রদর্শন করেছেন। তোমরা যাদেরকে
শরীক কর, আমি তাদেরকে ভয় করি না
তবে আমার পালকর্তাই যদি কোন কষ্ট
দিতে চান। আমার পালনকর্তাই
প্রত্যেক বস্তুকে স্বীয় জ্ঞান দ্বারা
বেষ্টন করে আছেন। তোমরা কি
চিন্তা কর না ?
[80] His people disputed with him. He
said: “Do you dispute with me
concerning Allâh while He has guided
me, and I fear not those whom you
associate with Him (Allâh) in worship.
(Nothing can happen to me) except when
my Lord (Allâh) wills something. My
Lord comprehends in His Knowledge all
things. Will you not then remember?
[81] ﻭَﻛَﻴﻒَ ﺃَﺧﺎﻑُ ﻣﺎ ﺃَﺷﺮَﻛﺘُﻢ
ﻭَﻻ ﺗَﺨﺎﻓﻮﻥَ ﺃَﻧَّﻜُﻢ ﺃَﺷﺮَﻛﺘُﻢ
ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻣﺎ ﻟَﻢ ﻳُﻨَﺰِّﻝ ﺑِﻪِ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ
ﺳُﻠﻄٰﻨًﺎ ۚ ﻓَﺄَﻯُّ ﺍﻟﻔَﺮﻳﻘَﻴﻦِ ﺃَﺣَﻖُّ
ﺑِﺎﻷَﻣﻦِ ۖ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[81] যাদেরকে তোমরা আল্লাহর
সাথে শরীক করে রেখেছ, তাদেরকে
কিরূপে ভয় কর, অথচ তোমরা ভয় কর না
যে, তোমরা আল্লাহর সাথে এমন
বস্তুকে শরীক করছ, যাদের সম্পর্কে
আল্লাহ তোমাদের প্রতি কোন
প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। অতএব, উভয়
সম্প্রদায়ের মধ্যে শাস্তি লাভের
অধিক যোগ্য কে, যদি তোমরা
জ্ঞানী হয়ে থাক।
[81] And how should I fear those whom
you associate in worship with Allâh
(though they can neither benefit nor
harm), while you fear not that you have
joined in worship with Allâh things for
which He has not sent down to you any
authority. (So) which of the two parties
has more right to be in security? If you
but know.”
[82] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻭَﻟَﻢ
ﻳَﻠﺒِﺴﻮﺍ ﺇﻳﻤٰﻨَﻬُﻢ ﺑِﻈُﻠﻢٍ ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ
ﻟَﻬُﻢُ ﺍﻷَﻣﻦُ ﻭَﻫُﻢ ﻣُﻬﺘَﺪﻭﻥَ
[82] যারা ঈমান আনে এবং স্বীয়
বিশ্বাসকে শেরেকীর সাথে মিশ্রিত
করে না, তাদের জন্যেই শান্তি এবং
তারাই সুপথগামী।
[82] It is those who believe (in the
Oneness of Allâh and worship none but
Him Alone) and confuse not their belief
with Zulm (wrong i.e. by worshipping
others besides Allâh), for them (only)
there is security and they are the guided.
[83] ﻭَﺗِﻠﻚَ ﺣُﺠَّﺘُﻨﺎ ﺀﺍﺗَﻴﻨٰﻬﺎ
ﺇِﺑﺮٰﻫﻴﻢَ ﻋَﻠﻰٰ ﻗَﻮﻣِﻪِ ۚ ﻧَﺮﻓَﻊُ
ﺩَﺭَﺟٰﺖٍ ﻣَﻦ ﻧَﺸﺎﺀُ ۗ ﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ
ﺣَﻜﻴﻢٌ ﻋَﻠﻴﻢٌ
[83] এটি ছিল আমার যুক্তি, যা আমি
ইব্রাহীমকে তাঁর সম্প্রÞদায়ের
বিপক্ষে প্রদান করেছিলাম। আমি
যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় সমুন্নত করি।
আপনার পালনকর্তা প্রজ্ঞাময়,
মহাজ্ঞানী
[83] And that was Our Proof which We
gave Ibrâhim (Abraham) against his
people. We raise whom We will in
degrees. Certainly your Lord is All¬Wise,
All¬Knowing.
[84] ﻭَﻭَﻫَﺒﻨﺎ ﻟَﻪُ ﺇِﺳﺤٰﻖَ
ﻭَﻳَﻌﻘﻮﺏَ ۚ ﻛُﻠًّﺎ ﻫَﺪَﻳﻨﺎ ۚ ﻭَﻧﻮﺣًﺎ
ﻫَﺪَﻳﻨﺎ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ ۖ ﻭَﻣِﻦ ﺫُﺭِّﻳَّﺘِﻪِ
ﺩﺍﻭۥﺩَ ﻭَﺳُﻠَﻴﻤٰﻦَ ﻭَﺃَﻳّﻮﺏَ
ﻭَﻳﻮﺳُﻒَ ﻭَﻣﻮﺳﻰٰ ﻭَﻫٰﺮﻭﻥَ ۚ
ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻧَﺠﺰِﻯ ﺍﻟﻤُﺤﺴِﻨﻴﻦَ
[84] আমি তাঁকে দান করেছি ইসহাক
এবং এয়াকুব। প্রত্যেককেই আমি পথ
প্রদর্শন করেছি এবং পূর্বে আমি নূহকে
পথ প্রদর্শন করেছি-তাঁর সন্তানদের
মধ্যে দাউদ, সোলায়মান, আইউব,
ইউসুফ, মূসা ও হারুনকে। এমনিভাবে
আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে
থাকি।
[84] And We bestowed upon him Ishâq
(Isaac) and Ya’qûb (Jacob), each of them
We guided, and before him, We guided
Nûh (Noah), and among his progeny
Dawûd (David), Sulaimân (Solomon),
Ayub (Job), Yûsuf (Joseph), Mûsa (Moses),
and Hârûn (Aaron). Thus do We reward
the Al-Muhsinun (the good-doers. See the
foot note of V.9:120).
[85] ﻭَﺯَﻛَﺮِﻳّﺎ ﻭَﻳَﺤﻴﻰٰ ﻭَﻋﻴﺴﻰٰ
ﻭَﺇِﻟﻴﺎﺱَ ۖ ﻛُﻞٌّ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤﻴﻦَ
[85] আর ও যাকারিয়া, ইয়াহিয়া, ঈসা
এবং ইলিয়াসকে। তারা সবাই
পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
[85] And Zakariyâ (Zachariya), and
Yahya (John) and ‘Īsā (Jesus) and Iliyâs
(Elias), each one of them was of the
righteous.
[86] ﻭَﺇِﺳﻤٰﻌﻴﻞَ ﻭَﺍﻟﻴَﺴَﻊَ
ﻭَﻳﻮﻧُﺲَ ﻭَﻟﻮﻃًﺎ ۚ ﻭَﻛُﻠًّﺎ ﻓَﻀَّﻠﻨﺎ
ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[86] এবং ইসরাঈল, ইয়াসা, ইউনূস, লূতকে
প্রত্যেককেই আমি সারা বিশ্বের উপর
গৌরবাম্বিত করেছি।
[86] And Ismâ’il (Ishmael) and Al-Yas’â
(Elisha), and Yûnus (Jonah) and Lut (Lot),
and each one of them We preferred
above the ‘Alamîn [(mankind and jinn)
(of their times)].
[87] ﻭَﻣِﻦ ﺀﺍﺑﺎﺋِﻬِﻢ ﻭَﺫُﺭِّﻳّٰﺘِﻬِﻢ
ﻭَﺇِﺧﻮٰﻧِﻬِﻢ ۖ ﻭَﺍﺟﺘَﺒَﻴﻨٰﻬُﻢ
ﻭَﻫَﺪَﻳﻨٰﻬُﻢ ﺇِﻟﻰٰ ﺻِﺮٰﻁٍ
ﻣُﺴﺘَﻘﻴﻢٍ
[87] আর ও তাদের কিছু সংখ্যক
পিতৃপুরুষ, সন্তান-সন্ততি ও
ভ্রাতাদেরকে; আমি তাদেরকে
মনোনীত করেছি এবং সরল পথ প্রদর্শন
করেছি।
[87] And also some of their fathers and
their progeny and their brethren, We
chose them, and We guided them to a
Straight Path.
[88] ﺫٰﻟِﻚَ ﻫُﺪَﻯ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻳَﻬﺪﻯ ﺑِﻪِ
ﻣَﻦ ﻳَﺸﺎﺀُ ﻣِﻦ ﻋِﺒﺎﺩِﻩِ ۚ ﻭَﻟَﻮ
ﺃَﺷﺮَﻛﻮﺍ ﻟَﺤَﺒِﻂَ ﻋَﻨﻬُﻢ ﻣﺎ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[88] এটি আল্লাহর হেদায়েত। স্বীয়
বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা, এপথে
চালান। যদি তারা শেরেকী করত, তবে
তাদের কাজ কর্ম তাদের জন্যে ব্যর্থ
হয়ে যেত।
[88] This is the Guidance of Allâh with
which He guides whomsoever He will of
His slaves. But if they had joined in
worship others with Allâh, all that they
used to do would have been of no benefit
to them.
[89] ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﺗَﻴﻨٰﻬُﻢُ
ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ﻭَﺍﻟﺤُﻜﻢَ ﻭَﺍﻟﻨُّﺒُﻮَّﺓَ ۚ
ﻓَﺈِﻥ ﻳَﻜﻔُﺮ ﺑِﻬﺎ ﻫٰﺆُﻻﺀِ ﻓَﻘَﺪ
ﻭَﻛَّﻠﻨﺎ ﺑِﻬﺎ ﻗَﻮﻣًﺎ ﻟَﻴﺴﻮﺍ ﺑِﻬﺎ
ﺑِﻜٰﻔِﺮﻳﻦَ
[89] তাদেরকেই আমি গ্রন্থ, শরীয়ত ও
নবুয়ত দান করেছি। অতএব, যদি এরা
আপনার নবুয়ত অস্বীকার করে, তবে এর
জন্যে এমন সম্প্রদায় নির্দিষ্ট করেছি,
যারা এতে অবিশ্বাসী হবে না।
[89] They are those whom We gave the
Book, Al¬Hukm (understanding of the
religious laws), and Prophethood. But if
these disbelieve therein (the Book,
Al¬Hukm and Prophethood), then,
indeed We have entrusted it to a people
(such as the Companions of Prophet
Muhammad SAW) who are not
disbelievers therein.
[90] ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻫَﺪَﻯ ﺍﻟﻠَّﻪُ ۖ
ﻓَﺒِﻬُﺪﻯٰﻬُﻢُ ﺍﻗﺘَﺪِﻩ ۗ ﻗُﻞ ﻻ
ﺃَﺳـَٔﻠُﻜُﻢ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺃَﺟﺮًﺍ ۖ ﺇِﻥ ﻫُﻮَ
ﺇِﻟّﺎ ﺫِﻛﺮﻯٰ ﻟِﻠﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[90] এরা এমন ছিল, যাদেরকে আল্লাহ
পথ প্রদর্শন করেছিলেন। অতএব, আপনিও
তাদের পথ অনুসরণ করুন। আপনি বলে
দিনঃ আমি তোমাদের কাছে এর
জন্যে কোন পারিশ্রমিক চাই না। এটি
সারা বিশ্বের জন্যে একটি
উপদেশমাত্র।
[90] They are those whom Allâh had
guided. So follow their guidance. Say:
“No reward I ask of you for this (the
Qur’ân). It is only a reminder for the
‘Alamîn (mankind and jinn).”
[91] ﻭَﻣﺎ ﻗَﺪَﺭُﻭﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺣَﻖَّ
ﻗَﺪﺭِﻩِ ﺇِﺫ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻣﺎ ﺃَﻧﺰَﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﻋَﻠﻰٰ ﺑَﺸَﺮٍ ﻣِﻦ ﺷَﻲﺀٍ ۗ ﻗُﻞ ﻣَﻦ
ﺃَﻧﺰَﻝَ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺟﺎﺀَ ﺑِﻪِ
ﻣﻮﺳﻰٰ ﻧﻮﺭًﺍ ﻭَﻫُﺪًﻯ ﻟِﻠﻨّﺎﺱِ ۖ
ﺗَﺠﻌَﻠﻮﻧَﻪُ ﻗَﺮﺍﻃﻴﺲَ ﺗُﺒﺪﻭﻧَﻬﺎ
ﻭَﺗُﺨﻔﻮﻥَ ﻛَﺜﻴﺮًﺍ ۖ ﻭَﻋُﻠِّﻤﺘُﻢ ﻣﺎ
ﻟَﻢ ﺗَﻌﻠَﻤﻮﺍ ﺃَﻧﺘُﻢ ﻭَﻻ ﺀﺍﺑﺎﺅُﻛُﻢ ۖ
ﻗُﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪُ ۖ ﺛُﻢَّ ﺫَﺭﻫُﻢ ﻓﻰ
ﺧَﻮﺿِﻬِﻢ ﻳَﻠﻌَﺒﻮﻥَ
[91] তারা আল্লাহকে যথার্থ মূল্যায়ন
করতে পারেনি, যখন তারা বললঃ
আল্লাহ কোন মানুষের প্রতি কোন
কিছু অবতীর্ণ করেননি। আপনি
জিজ্ঞেস করুনঃ ঐ গ্রন্থ কে নাযিল
করেছে, যা মূসা নিয়ে এসেছিল ? যা
জ্যোতিবিশেষ এবং মানব মন্ডলীর
জন্যে হোদায়েতস্বরূপ, যা তোমরা
বিক্ষিপ্তপত্রে রেখে লোকদের জন্যে
প্রকাশ করছ এবং বহুলাংশকে গোপন
করছ। তোমাদেরকে এমন অনেক বিষয়
শিক্ষা দেয়া হয়েছে, যা তোমরা এবং
তোমাদের পূর্বপুরুষরা জানতো না।
আপনি বলে দিনঃ আল্লাহ নাযিল
করেছেন। অতঃপর তাদেরকে তাদের
ক্রীড়ামূলক বৃত্তিতে ব্যাপৃত থাকতে
দিন।
[91] They (the Jews, Quraish pagans,
idolaters) did not estimate Allâh with an
estimation due to Him when they said:
“Nothing did Allâh send down to any
human being (by revelation).” Say (O
Muhammad SAW): “Who then sent down
the Book which Mûsa (Moses) brought, a
light and a guidance to mankind which
you (the Jews) have made into (separate)
papersheets, disclosing (some of it) and
concealing much. And you (believers in
Allâh and His Messenger Muhammad
SAW), were taught (through the Qur’ân)
that which neither you nor your fathers
knew.” Say: “Allâh (sent it down).” Then
leave them to play in their vain
discussions. (Tafsir Al-Qurtubî).
[92] ﻭَﻫٰﺬﺍ ﻛِﺘٰﺐٌ ﺃَﻧﺰَﻟﻨٰﻪُ ﻣُﺒﺎﺭَﻙٌ
ﻣُﺼَﺪِّﻕُ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺑَﻴﻦَ ﻳَﺪَﻳﻪِ
ﻭَﻟِﺘُﻨﺬِﺭَ ﺃُﻡَّ ﺍﻟﻘُﺮﻯٰ ﻭَﻣَﻦ ﺣَﻮﻟَﻬﺎ ۚ
ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ ﺑِﺎﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ
ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ ﺑِﻪِ ۖ ﻭَﻫُﻢ ﻋَﻠﻰٰ
ﺻَﻼﺗِﻬِﻢ ﻳُﺤﺎﻓِﻈﻮﻥَ
[92] এ কোরআন এমন গ্রন্থ, যা আমি
অবতীর্ন করেছি; বরকতময়, পূর্ববর্তী
গ্রন্থের সত্যতা প্রমাণকারী এবং
যাতে আপনি মক্কাবাসী ও
পাশ্ববর্তীদেরকে ভয় প্রদর্শন করেন।
যারা পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে
তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে
এবং তার স্বীয় নামায সংরক্ষণ করে।
[92] And this (the Qur’ân) is a blessed
Book which We have sent down,
confirming (the revelations) which came
before it, so that you may warn the
Mother of Towns (i.e. Makkah) and all
those around it. Those who believe in the
Hereafter believe in it (the Qur’ân), and
they are constant in guarding their Salât
(prayers).
[93] ﻭَﻣَﻦ ﺃَﻇﻠَﻢُ ﻣِﻤَّﻦِ ﺍﻓﺘَﺮﻯٰ
ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻛَﺬِﺑًﺎ ﺃَﻭ ﻗﺎﻝَ ﺃﻭﺣِﻰَ
ﺇِﻟَﻰَّ ﻭَﻟَﻢ ﻳﻮﺡَ ﺇِﻟَﻴﻪِ ﺷَﻲﺀٌ
ﻭَﻣَﻦ ﻗﺎﻝَ ﺳَﺄُﻧﺰِﻝُ ﻣِﺜﻞَ ﻣﺎ
ﺃَﻧﺰَﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ۗ ﻭَﻟَﻮ ﺗَﺮﻯٰ ﺇِﺫِ
ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻮﻥَ ﻓﻰ ﻏَﻤَﺮٰﺕِ ﺍﻟﻤَﻮﺕِ
ﻭَﺍﻟﻤَﻠٰﺌِﻜَﺔُ ﺑﺎﺳِﻄﻮﺍ ﺃَﻳﺪﻳﻬِﻢ
ﺃَﺧﺮِﺟﻮﺍ ﺃَﻧﻔُﺴَﻜُﻢُ ۖ ﺍﻟﻴَﻮﻡَ
ﺗُﺠﺰَﻭﻥَ ﻋَﺬﺍﺏَ ﺍﻟﻬﻮﻥِ ﺑِﻤﺎ
ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﻘﻮﻟﻮﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻏَﻴﺮَ
ﺍﻟﺤَﻖِّ ﻭَﻛُﻨﺘُﻢ ﻋَﻦ ﺀﺍﻳٰﺘِﻪِ
ﺗَﺴﺘَﻜﺒِﺮﻭﻥَ
[93] ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় জালেম কে
হবে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা
আরোপ করে অথবা বলেঃ আমার প্রতি
ওহী অবতীর্ণ হয়েছে। অথচ তার প্রতি
কোন ওহী আসেনি এবং যে দাবী করে
যে, আমিও নাযিল করে দেখাচ্ছি
যেমন আল্লাহ নাযিল করেছেন। যদি
আপনি দেখেন যখন জালেমরা মৃত্যু
যন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা
স্বীয় হস্ত প্রসারিত করে বলে, বের কর
স্বীয় আত্মা! অদ্য তোমাদেরকে
অবমাননাকর শাস্তি প্রদান করা হবে।
কারণ, তোমরা আল্লাহর উপর অসত্য
বলতে এবং তাঁর আয়াত সমূহ থেকে
অহংকার করতে।
[93] And who can be more unjust than
he who invents a lie against Allâh, or
says: “A revelation has come to me,”
whereas as no revelation has come to
him in anything; and who says, “I will
reveal the like of what Allâh has
revealed.” And if you could but see when
the Zâlimûn (polytheists and wrong-
doers) are in the agonies of death, while
the angels are stretching forth their
hands (saying): “Deliver your souls! This
day you shall be recompensed with the
torment of degradation because of what
you used to utter against Allâh other
than the truth. And you used to reject
His Ayât (proofs, evidences, verses,
lessons, signs, revelations etc.) with
disrespect!”
[94] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺟِﺌﺘُﻤﻮﻧﺎ ﻓُﺮٰﺩﻯٰ ﻛَﻤﺎ
ﺧَﻠَﻘﻨٰﻜُﻢ ﺃَﻭَّﻝَ ﻣَﺮَّﺓٍ ﻭَﺗَﺮَﻛﺘُﻢ ﻣﺎ
ﺧَﻮَّﻟﻨٰﻜُﻢ ﻭَﺭﺍﺀَ ﻇُﻬﻮﺭِﻛُﻢ ۖ ﻭَﻣﺎ
ﻧَﺮﻯٰ ﻣَﻌَﻜُﻢ ﺷُﻔَﻌﺎﺀَﻛُﻢُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﺯَﻋَﻤﺘُﻢ ﺃَﻧَّﻬُﻢ ﻓﻴﻜُﻢ ﺷُﺮَﻛٰﺆُﺍ۟ ۚ
ﻟَﻘَﺪ ﺗَﻘَﻄَّﻊَ ﺑَﻴﻨَﻜُﻢ ﻭَﺿَﻞَّ
ﻋَﻨﻜُﻢ ﻣﺎ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﺰﻋُﻤﻮﻥَ
[94] তোমরা আমার কাছে নিঃসঙ্গ
হয়ে এসেছ, আমি প্রথমবার
তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছিলাম। আমি
তোদেরকে যা দিয়েছিলাম, তা
পশ্চাতেই রেখে এসেছ। আমি তো
তোমাদের সাথে তোমাদের
সুপারিশকারীদের কে দেখছি না।
যাদের সম্পর্কে তোমাদের দাবী ছিল
যে, তারা তোমাদের ব্যাপারে
অংশীদার। বাস্তুবিকই তোমাদের
পরস্পরের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং
তোমাদের দাবী উধাও হয়ে গেছে।
[94] And truly you have come unto Us
alone (without wealth, companions or
anything else) as We created you the
first time. You have left behind you all
that which We had bestowed on you. We
see not with you your intercessors whom
you claimed to be partners with Allâh.
Now all relations between you and them
have been cut off, and all that you used
to claim has vanished from you.
[95] ۞ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻓﺎﻟِﻖُ ﺍﻟﺤَﺐِّ
ﻭَﺍﻟﻨَّﻮﻯٰ ۖ ﻳُﺨﺮِﺝُ ﺍﻟﺤَﻰَّ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻤَﻴِّﺖِ ﻭَﻣُﺨﺮِﺝُ ﺍﻟﻤَﻴِّﺖِ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺤَﻰِّ ۚ ﺫٰﻟِﻜُﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ۖ ﻓَﺄَﻧّﻰٰ
ﺗُﺆﻓَﻜﻮﻥَ
[95] নিশ্চয় আল্লাহই বীজ ও আঁটি
থেকে অঙ্কুর সৃষ্টিকারী; তিনি
জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন ও
মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন। তিনি
আল্লাহ অতঃপর তোমরা কোথায়
বিভ্রান্ত হচ্ছ?
[95] Verily! It is Allâh Who causes the
seed-grain and the fruit-stone (like date-
stone) to split and sprout. He brings
forth the living from the dead, and it is
He Who brings forth the dead from the
living. Such is Allâh, then how are you
deluded away from the truth?
[96] ﻓﺎﻟِﻖُ ﺍﻹِﺻﺒﺎﺡِ ﻭَﺟَﻌَﻞَ
ﺍﻟَّﻴﻞَ ﺳَﻜَﻨًﺎ ﻭَﺍﻟﺸَّﻤﺲَ ﻭَﺍﻟﻘَﻤَﺮَ
ﺣُﺴﺒﺎﻧًﺎ ۚ ﺫٰﻟِﻚَ ﺗَﻘﺪﻳﺮُ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰِ
ﺍﻟﻌَﻠﻴﻢِ
[96] তিনি প্রভাত রশ্মির উন্মেষক।
তিনি রাত্রিকে আরামদায়ক করেছেন
এবং সূর্য ও চন্দ্রকে হিসেবের জন্য
রেখেছেন। এটি পরাক্রান্ত,
মহাজ্ঞানীর নির্ধারণ।
[96] (He is the) Cleaver of the daybreak.
He has appointed the night for resting,
and the sun and the moon for reckoning.
Such is the measuring of the All¬Mighty,
the All¬Knowing
[97] ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺟَﻌَﻞَ ﻟَﻜُﻢُ
ﺍﻟﻨُّﺠﻮﻡَ ﻟِﺘَﻬﺘَﺪﻭﺍ ﺑِﻬﺎ ﻓﻰ
ﻇُﻠُﻤٰﺖِ ﺍﻟﺒَﺮِّ ﻭَﺍﻟﺒَﺤﺮِ ۗ ﻗَﺪ
ﻓَﺼَّﻠﻨَﺎ ﺍﻝﺀﺍﻳٰﺖِ ﻟِﻘَﻮﻡٍ
ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[97] তিনিই তোমাদের জন্য
নক্ষত্রপুঞ্জ সৃজন করেছেন যাতে
তোমরা স্থল ও জলের অন্ধকারে পথ
প্রাপ্ত হও। নিশ্চয় যারা জ্ঞানী
তাদের জন্যে আমি নির্দেশনাবলী
বিস্তারিত বর্ণনা করে দিয়েছি।
[97] It is He Who has set the stars for
you, so that you may guide your course
with their help through the darkness of
the land and the sea. We have (indeed)
explained in detail Our Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, signs,
Revelations, etc.) for people who know
[98] ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺃَﻧﺸَﺄَﻛُﻢ ﻣِﻦ
ﻧَﻔﺲٍ ﻭٰﺣِﺪَﺓٍ ﻓَﻤُﺴﺘَﻘَﺮٌّ
ﻭَﻣُﺴﺘَﻮﺩَﻉٌ ۗ ﻗَﺪ ﻓَﺼَّﻠﻨَﺎ
ﺍﻝﺀﺍﻳٰﺖِ ﻟِﻘَﻮﻡٍ ﻳَﻔﻘَﻬﻮﻥَ
[98] তিনিই তোমাদের কে এক ব্যক্তি
থেকে সৃষ্টি করেছেন। অনন্তর একটি
হচ্ছে তোমাদের স্থায়ী ঠিকানা ও
একটি হচ্ছে গচ্ছিত স্থল। নিশ্চয় আমি
প্রমাণাদি বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা
করে দিয়েছি তাদের জন্যে, যারা
চিন্তা করে।
[98] It is He Who has created you from a
single person (Adam), and has given you
a place of residing (on the earth or in
your mother’s wombs) and a place of
storage [in the earth (in your graves) or
in your father’s loins]. Indeed, We have
explained in detail Our revelations (this
Qur’ân) for people who understand.
[99] ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺃَﻧﺰَﻝَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﻣﺎﺀً ﻓَﺄَﺧﺮَﺟﻨﺎ ﺑِﻪِ
ﻧَﺒﺎﺕَ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲﺀٍ ﻓَﺄَﺧﺮَﺟﻨﺎ
ﻣِﻨﻪُ ﺧَﻀِﺮًﺍ ﻧُﺨﺮِﺝُ ﻣِﻨﻪُ ﺣَﺒًّﺎ
ﻣُﺘَﺮﺍﻛِﺒًﺎ ﻭَﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺨﻞِ ﻣِﻦ
ﻃَﻠﻌِﻬﺎ ﻗِﻨﻮﺍﻥٌ ﺩﺍﻧِﻴَﺔٌ ﻭَﺟَﻨّٰﺖٍ
ﻣِﻦ ﺃَﻋﻨﺎﺏٍ ﻭَﺍﻟﺰَّﻳﺘﻮﻥَ
ﻭَﺍﻟﺮُّﻣّﺎﻥَ ﻣُﺸﺘَﺒِﻬًﺎ ﻭَﻏَﻴﺮَ
ﻣُﺘَﺸٰﺒِﻪٍ ۗ ﺍﻧﻈُﺮﻭﺍ ﺇِﻟﻰٰ ﺛَﻤَﺮِﻩِ ﺇِﺫﺍ
ﺃَﺛﻤَﺮَ ﻭَﻳَﻨﻌِﻪِ ۚ ﺇِﻥَّ ﻓﻰ ﺫٰﻟِﻜُﻢ
ﻝَﺀﺍﻳٰﺖٍ ﻟِﻘَﻮﻡٍ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[99] তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ
করেছেন অতঃপর আমি এর দ্বারা
সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি,
অতঃপর আমি এ থেকে সবুজ ফসল
নির্গত করেছি, যা থেকে যুগ্ম বীজ
উৎপন্ন করি। খেজুরের কাঁদি থেকে গুচ্ছ
বের করি, যা নুয়ে থাকে এবং আঙ্গুরের
বাগান, যয়তুন, আনার পরস্পর সাদৃশ্যযুক্ত
এবং সাদৃশ্যহীন। বিভিন্ন গাছের
ফলের প্রতি লক্ষ্য কর যখন সেুগুলো
ফলন্ত হয় এবং তার পরিপক্কতার প্রতি
লক্ষ্য কর। নিশ্চয় এ গুলোতে নিদর্শন
রয়েছে ঈমানদারদের জন্যে।
[99] It is He Who sends down water
(rain) from the sky, and with it We bring
forth vegetation of all kinds, and out of it
We bring forth green stalks, from which
We bring forth thick clustered grain.
And out of the date¬palm and its spathe
come forth clusters of dates hanging low
and near, and gardens of grapes, olives
and pomegranates, each similar (in
kind) yet different (in variety and taste).
Look at their fruits when they begin to
bear, and the ripeness thereof. Verily! In
these things there are signs for people
who believe.
[100] ﻭَﺟَﻌَﻠﻮﺍ ﻟِﻠَّﻪِ ﺷُﺮَﻛﺎﺀَ
ﺍﻟﺠِﻦَّ ﻭَﺧَﻠَﻘَﻬُﻢ ۖ ﻭَﺧَﺮَﻗﻮﺍ ﻟَﻪُ
ﺑَﻨﻴﻦَ ﻭَﺑَﻨٰﺖٍ ﺑِﻐَﻴﺮِ ﻋِﻠﻢٍ ۚ
ﺳُﺒﺤٰﻨَﻪُ ﻭَﺗَﻌٰﻠﻰٰ ﻋَﻤّﺎ ﻳَﺼِﻔﻮﻥَ
[100] তারা জিনদেরকে আল্লাহর
অংশীদার স্থির করে; অথচ তাদেরকে
তিনিই সৃস্টি করেছেন। তারা
অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহর জন্যে পুত্র ও
কন্যা সাব্যস্ত করে নিয়েছে। তিনি
পবিত্র ও সমুন্নত, তাদের বর্ননা থেকে।
[100] Yet, they join the jinn as partners
in worship with Allâh, though He has
created them (the jinn), and they
attribute falsely without knowledge sons
and daughters to Him. Be He Glorified
and Exalted above all that (evil) they
attribute to Him.
[101] ﺑَﺪﻳﻊُ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ۖ
ﺃَﻧّﻰٰ ﻳَﻜﻮﻥُ ﻟَﻪُ ﻭَﻟَﺪٌ ﻭَﻟَﻢ ﺗَﻜُﻦ
ﻟَﻪُ ﺻٰﺤِﺒَﺔٌ ۖ ﻭَﺧَﻠَﻖَ ﻛُﻞَّ ﺷَﻲﺀٍ ۖ
ﻭَﻫُﻮَ ﺑِﻜُﻞِّ ﺷَﻲﺀٍ ﻋَﻠﻴﻢٌ
[101] তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের
আদি স্রষ্টা। কিরূপে আল্লাহর পুত্র
হতে পারে, অথচ তাঁর কোন সঙ্গী নেই ?
তিনি যাবতীয় কিছু সৃষ্টি করেছেন।
তিনি সব বস্তু সম্পর্কে সুবিজ্ঞ।
[101] He is the Originator of the heavens
and the earth. How can He have children
when He has no wife? He created all
things and He is the All-Knower of
everything
[102] ﺫٰﻟِﻜُﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺭَﺑُّﻜُﻢ ۖ ﻻ ﺇِﻟٰﻪَ
ﺇِﻟّﺎ ﻫُﻮَ ۖ ﺧٰﻠِﻖُ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲﺀٍ
ﻓَﺎﻋﺒُﺪﻭﻩُ ۚ ﻭَﻫُﻮَ ﻋَﻠﻰٰ ﻛُﻞِّ
ﺷَﻲﺀٍ ﻭَﻛﻴﻞٌ
[102] তিনিই আল্লাহ তোমাদের
পালনকর্তা। তিনি ব্যতীত কোন
উপাস্য নেই। তিনিই সব কিছুর স্রষ্টা।
অতএব, তোমরা তাঁরই এবাদত কর। তিনি
প্রত্যেক বস্তুর কার্যনির্বাহী।
[102] Such is Allâh, your Lord! Lâ ilâha
illa Huwa (none has the right to be
worshipped but He), the Creator of all
things. So worship Him (Alone), and He
is the Wakîl (Trustee, Disposer of affairs,
Guardian) over all things.
[103] ﻻ ﺗُﺪﺭِﻛُﻪُ ﺍﻷَﺑﺼٰﺮُ ﻭَﻫُﻮَ
ﻳُﺪﺭِﻙُ ﺍﻷَﺑﺼٰﺮَ ۖ ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟﻠَّﻄﻴﻒُ
ﺍﻟﺨَﺒﻴﺮُ
[103] দৃষ্টিসমূহ তাঁকে পেতে পারে না,
অবশ্য তিনি দৃষ্টিসমূহকে পেতে
পারেন। তিনি অত্যন্ত সুক্ষদর্শী,
সুবিজ্ঞ।
[103] No vision can grasp Him, but He
grasps all vision. He is Al-Latif (the Most
Subtle and Courteous), Well-Acquainted
with all things.
[104] ﻗَﺪ ﺟﺎﺀَﻛُﻢ ﺑَﺼﺎﺋِﺮُ ﻣِﻦ
ﺭَﺑِّﻜُﻢ ۖ ﻓَﻤَﻦ ﺃَﺑﺼَﺮَ ﻓَﻠِﻨَﻔﺴِﻪِ ۖ
ﻭَﻣَﻦ ﻋَﻤِﻰَ ﻓَﻌَﻠَﻴﻬﺎ ۚ ﻭَﻣﺎ ﺃَﻧﺎ۠
ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﺑِﺤَﻔﻴﻆٍ
[104] তোমাদের কাছে তোমাদের
পালনকর্তার পক্ষ থেকে নিদর্শনাবলী
এসে গেছে। অতএব, যে প্রত্যক্ষ করবে,
সে নিজেরই উপকার করবে এবং যে
অন্ধ হবে, সে নিজেরই ক্ষতি করবে।
আমি তোমাদের পর্যবেক্ষক নই।
[104] Verily, proofs have come to you
from your Lord, so whosoever sees, will
do so for (the good of) his ownself, and
whosoever blinds himself, will do so to
his own harm, and I (Muhammad SAW)
am not a watcher over you.
[105] ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻧُﺼَﺮِّﻑُ ﺍﻝﺀﺍﻳٰﺖِ
ﻭَﻟِﻴَﻘﻮﻟﻮﺍ ﺩَﺭَﺳﺖَ ﻭَﻟِﻨُﺒَﻴِّﻨَﻪُ
ﻟِﻘَﻮﻡٍ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[105] এমনি ভাবে আমি নিদর্শনাবলী
ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বর্ণনা করি যাতে
তারা না বলে যে, আপনি তো পড়ে
নিয়েছেন এবং যাতে আমি একে
সুধীবৃন্দের জন্যে খুব পরিব্যক্ত করে
দেই।
[105] Thus We explain variously the
Verses so that they (the disbelievers) may
say: “You have studied (the Books of the
people of the Scripture and brought this
Qur’ân from that)” and that We may
make the matter clear for the people who
have knowledge.
[106] ﺍﺗَّﺒِﻊ ﻣﺎ ﺃﻭﺣِﻰَ ﺇِﻟَﻴﻚَ ﻣِﻦ
ﺭَﺑِّﻚَ ۖ ﻻ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻟّﺎ ﻫُﻮَ ۖ ﻭَﺃَﻋﺮِﺽ
ﻋَﻦِ ﺍﻟﻤُﺸﺮِﻛﻴﻦَ
[106] আপনি পথ অনুসরণ করুন, যার আদেশ
পালনকর্তার পক্ষ থেকে আসে। তিনি
ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং
মুশরিকদের তরফ থেকে মুখ ফিরিয়ে
নিন।
[106] Follow what has been revealed to
you (O Muhammad SAW) from your
Lord, Lâ ilâha illa Huwa (none has the
right to be worshipped but He) and turn
aside from Al-Mushrikûn.
[107] ﻭَﻟَﻮ ﺷﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣﺎ ﺃَﺷﺮَﻛﻮﺍ ۗ
ﻭَﻣﺎ ﺟَﻌَﻠﻨٰﻚَ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺣَﻔﻴﻈًﺎ ۖ
ﻭَﻣﺎ ﺃَﻧﺖَ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺑِﻮَﻛﻴﻞٍ
[107] যদি আল্লাহ চাইতেন তবে তারা
শেরক করত না। আমি আপনাকে তাদের
সংরক্ষক করিনি এবং আপনি তাদের
কার্যনির্বাহী নন।
[107] Had Allâh willed, they would not
have taken others besides Him in
worship. And We have not made you a
watcher over them nor are you a Wakil
(disposer of affairs, guardian or trustee)
over them.
[108] ﻭَﻻ ﺗَﺴُﺒُّﻮﺍ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳَﺪﻋﻮﻥَ
ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻴَﺴُﺒُّﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ
ﻋَﺪﻭًﺍ ﺑِﻐَﻴﺮِ ﻋِﻠﻢٍ ۗ ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﺯَﻳَّﻨّﺎ
ﻟِﻜُﻞِّ ﺃُﻣَّﺔٍ ﻋَﻤَﻠَﻬُﻢ ﺛُﻢَّ ﺇِﻟﻰٰ ﺭَﺑِّﻬِﻢ
ﻣَﺮﺟِﻌُﻬُﻢ ﻓَﻴُﻨَﺒِّﺌُﻬُﻢ ﺑِﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[108] তোমরা তাদেরকে মন্দ বলো না,
যাদের তারা আরাধনা করে আল্লাহকে
ছেড়ে। তাহলে তারা ধৃষ্টতা করে
অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহকে মন্দ বলবে।
এমনিভাবে আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের
দৃষ্টিতে তাদের কাজ কর্ম সুশোভিত
করে দিয়েছি। অতঃপর স্বীয়
পালনকর্তার কাছে তাদেরকে
প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন তিনি
তাদেরকে বলে দেবেন যা কিছু তারা
করত।
[108] And insult not those whom they
(disbelievers) worship besides Allâh, lest
they insult Allâh wrongfully without
knowledge. Thus We have made
fair¬seeming to each people its own
doings; then to their Lord is their return
and He shall then inform them of all that
they used to do.
[109] ﻭَﺃَﻗﺴَﻤﻮﺍ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﺟَﻬﺪَ
ﺃَﻳﻤٰﻨِﻬِﻢ ﻟَﺌِﻦ ﺟﺎﺀَﺗﻬُﻢ ﺀﺍﻳَﺔٌ
ﻟَﻴُﺆﻣِﻨُﻦَّ ﺑِﻬﺎ ۚ ﻗُﻞ ﺇِﻧَّﻤَﺎ
ﺍﻝﺀﺍﻳٰﺖُ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۖ ﻭَﻣﺎ
ﻳُﺸﻌِﺮُﻛُﻢ ﺃَﻧَّﻬﺎ ﺇِﺫﺍ ﺟﺎﺀَﺕ ﻻ
ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[109] তারা জোর দিয়ে আল্লাহর কসম
খায় যে, যদি তাদের কাছে কোন
নিদর্শন আসে, তবে অবশ্যই তারা
বিশ্বাস স্থাপন করবে। আপনি বলে
দিনঃ নিদর্শনাবলী তো আল্লাহর
কাছেই আছে। হে মুসলমানগণ,
তোমাদেরকে কে বলল যে, যখন তাদের
কাছে নিদর্শনাবলী আসবে, তখন তারা
বিশ্বাস স্থাপন করবেই ?
[109] And they swear their strongest
oaths by Allâh, that if there came to them
a sign, they would surely believe therein.
Say: “Signs are but with Allâh and what
will make you (Muslims) perceive that
(even) if it (the sign) came, they will not
believe?”
[110] ﻭَﻧُﻘَﻠِّﺐُ ﺃَﻓـِٔﺪَﺗَﻬُﻢ
ﻭَﺃَﺑﺼٰﺮَﻫُﻢ ﻛَﻤﺎ ﻟَﻢ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﺍ ﺑِﻪِ
ﺃَﻭَّﻝَ ﻣَﺮَّﺓٍ ﻭَﻧَﺬَﺭُﻫُﻢ ﻓﻰ
ﻃُﻐﻴٰﻨِﻬِﻢ ﻳَﻌﻤَﻬﻮﻥَ
[110] আমি ঘুরিয়ে দিব তাদের অন্তর ও
দৃষ্টিকে, যেমন-তারা এর প্রতি
প্রথমবার বিশ্বাস স্থাপন করেনি এবং
আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায়
উদভ্রান্ত ছেড়ে দিব।
[110] And We shall turn their hearts and
their eyes away (from guidance), as they
refused to believe therein for the first
time, and We shall leave them in their
trespass to wander blindly.
[111] ۞ ﻭَﻟَﻮ ﺃَﻧَّﻨﺎ ﻧَﺰَّﻟﻨﺎ ﺇِﻟَﻴﻬِﻢُ
ﺍﻟﻤَﻠٰﺌِﻜَﺔَ ﻭَﻛَﻠَّﻤَﻬُﻢُ ﺍﻟﻤَﻮﺗﻰٰ
ﻭَﺣَﺸَﺮﻧﺎ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻛُﻞَّ ﺷَﻲﺀٍ
ﻗُﺒُﻠًﺎ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻟِﻴُﺆﻣِﻨﻮﺍ ﺇِﻟّﺎ ﺃَﻥ
ﻳَﺸﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻟٰﻜِﻦَّ ﺃَﻛﺜَﺮَﻫُﻢ
ﻳَﺠﻬَﻠﻮﻥَ
[111] আমি যদি তাদের কাছে
ফেরেশতাদেরকে অবতারণ করতাম এবং
তাদের সাথে মৃতরা কথাবার্তা বলত
এবং আমি সব বস্তুকে তাদের সামনে
জীবিত করে দিতাম, তথাপি তারা
কখনও বিশ্বাস স্থাপনকারী নয়; কিন্তু
যদি আল্লাহ চান। কিন্তু তাদের
অধিকাংশই মুর্খ।
[111] And even if We had sent down
unto them angels, and the dead had
spoken unto them, and We had gathered
together all things before their very eyes,
they would not have believed, unless
Allâh willed, but most of them behave
ignorantly.
[112] ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﺟَﻌَﻠﻨﺎ ﻟِﻜُﻞِّ ﻧَﺒِﻰٍّ
ﻋَﺪُﻭًّﺍ ﺷَﻴٰﻄﻴﻦَ ﺍﻹِﻧﺲِ ﻭَﺍﻟﺠِﻦِّ
ﻳﻮﺣﻰ ﺑَﻌﻀُﻬُﻢ ﺇِﻟﻰٰ ﺑَﻌﺾٍ
ﺯُﺧﺮُﻑَ ﺍﻟﻘَﻮﻝِ ﻏُﺮﻭﺭًﺍ ۚ ﻭَﻟَﻮ
ﺷﺎﺀَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻣﺎ ﻓَﻌَﻠﻮﻩُ ۖ ﻓَﺬَﺭﻫُﻢ
ﻭَﻣﺎ ﻳَﻔﺘَﺮﻭﻥَ
[112] এমনিভাবে আমি প্রত্যেক নবীর
জন্যে শত্রু করেছি শয়তান, মানব ও
জিনকে। তারা ধোঁকা দেয়ার জন্যে
একে অপরকে কারুকার্যখচিত
কথাবার্তা শিক্ষা দেয়। যদি আপনার
পালনকর্তা চাইতেন, তবে তারা এ কাজ
করত না।
[112] And so We have appointed for
every Prophet enemies – Shayâtin (devils)
among mankind and jinn, inspiring one
another with adorned speech as a
delusion (or by way of deception). If
your Lord had so willed, they would not
have done it, so leave them alone with
their fabrications. (Tafseer Qurtubi,
Vol.7, Page 67)
[113] ﻭَﻟِﺘَﺼﻐﻰٰ ﺇِﻟَﻴﻪِ ﺃَﻓـِٔﺪَﺓُ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻻ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ ﺑِﺎﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ
ﻭَﻟِﻴَﺮﺿَﻮﻩُ ﻭَﻟِﻴَﻘﺘَﺮِﻓﻮﺍ ﻣﺎ ﻫُﻢ
ﻣُﻘﺘَﺮِﻓﻮﻥَ
[113] অতএব, আপনি তাদেরকে এবং
তাদের মিথ্যাপবাদকে মুক্ত ছেড়ে দিন
যাতে কারুকার্যখচিত বাক্যের প্রতি
তাদের মন আকৃষ্ট হয় যারা পরকালে
বিশ্বাস করে না এবং তারা একেও
পছন্দ করে নেয় এবং যাতে ঐসব কাজ
করে, যা তারা করছে।
[113] (And this is in order) that the
hearts of those who disbelieve in the
Hereafter may incline to such (deceit),
and that they may remain pleased with
it, and that they may commit what they
are committing (all kinds of sins and evil
deeds).
[114] ﺃَﻓَﻐَﻴﺮَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺑﺘَﻐﻰ ﺣَﻜَﻤًﺎ
ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺃَﻧﺰَﻝَ ﺇِﻟَﻴﻜُﻢُ
ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ﻣُﻔَﺼَّﻠًﺎ ۚ ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﺀﺍﺗَﻴﻨٰﻬُﻢُ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ ﺃَﻧَّﻪُ
ﻣُﻨَﺰَّﻝٌ ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻚَ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ۖ ﻓَﻼ
ﺗَﻜﻮﻧَﻦَّ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﻤﺘَﺮﻳﻦَ
[114] তবে কি আমি আল্লাহ ব্যতীত
অন্য কোন বিচারক অনুসন্ধান করব,
অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি
বিস্তারিত গ্রন্থ অবতীর্ন করেছেন?
আমি যাদেরকে গ্রন্থ প্রদান করেছি,
তারা নিশ্চিত জানে যে, এটি আপনার
প্রতি পালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ
অবর্তীর্ন হয়েছে। অতএব, আপনি
সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
[114] [Say (O Muhammad SAW)] “Shall I
seek a judge other than Allâh while it is
He Who has sent down unto you the
Book (the Qur’ân), explained in detail.”
Those unto whom We gave the Scripture
[the Taurât (Torah) and the Injeel
(Gospel)] know that it is revealed from
your Lord in truth. So be not you of
those who doubt.
[115] ﻭَﺗَﻤَّﺖ ﻛَﻠِﻤَﺖُ ﺭَﺑِّﻚَ
ﺻِﺪﻗًﺎ ﻭَﻋَﺪﻟًﺎ ۚ ﻻ ﻣُﺒَﺪِّﻝَ
ﻟِﻜَﻠِﻤٰﺘِﻪِ ۚ ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟﺴَّﻤﻴﻊُ ﺍﻟﻌَﻠﻴﻢُ
[115] আপনার প্রতিপালকের বাক্য পূর্ণ
সত্য ও সুষম। তাঁর বাক্যের কোন
পরিবর্তনকারী নেই। তিনিই
শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।
[115] And the Word of your Lord has
been fulfilled in truth and in justice.
None can change His Words. And He is
the All¬Hearer, the All¬Knower.
[116] ﻭَﺇِﻥ ﺗُﻄِﻊ ﺃَﻛﺜَﺮَ ﻣَﻦ ﻓِﻰ
ﺍﻷَﺭﺽِ ﻳُﻀِﻠّﻮﻙَ ﻋَﻦ ﺳَﺒﻴﻞِ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ۚ ﺇِﻥ ﻳَﺘَّﺒِﻌﻮﻥَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻈَّﻦَّ
ﻭَﺇِﻥ ﻫُﻢ ﺇِﻟّﺎ ﻳَﺨﺮُﺻﻮﻥَ
[116] আর যদি আপনি পৃথিবীর
অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন,
তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ
থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু
অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং
সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা
বলে থাকে।
[116] And if you obey most of those on
the earth, they will mislead you far away
from Allâh’s Path. They follow nothing
but conjectures, and they do nothing but
lie.
[117] ﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻫُﻮَ ﺃَﻋﻠَﻢُ ﻣَﻦ
ﻳَﻀِﻞُّ ﻋَﻦ ﺳَﺒﻴﻠِﻪِ ۖ ﻭَﻫُﻮَ ﺃَﻋﻠَﻢُ
ﺑِﺎﻟﻤُﻬﺘَﺪﻳﻦَ
[117] আপনার প্রতিপালক তাদের
সম্পর্কে খুব জ্ঞাত রয়েছেন, যারা তাঁর
পথ থেকে বিপথগামী হয় এবং তিনি
তাদেরকেও খুব ভাল করে জানেন,
যারা তাঁর পথে অনুগমন করে।
[117] Verily, your Lord! It is He Who
knows best who strays from His Way,
and He knows best the rightly guided
ones.
[118] ﻓَﻜُﻠﻮﺍ ﻣِﻤّﺎ ﺫُﻛِﺮَ ﺍﺳﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻪِ
ﻣُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[118] অতঃপর যে জন্তুর উপর আল্লাহর
নাম উচ্চারিত হয়, তা থেকে ভক্ষণ কর
যদি তোমরা তাঁর বিধানসমূহে
বিশ্বাসী হও।
[118] So eat of that (meat) on which
Allâh’s Name has been pronounced
(while slaughtering the animal), if you
are believers in His Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.)
[119] ﻭَﻣﺎ ﻟَﻜُﻢ ﺃَﻟّﺎ ﺗَﺄﻛُﻠﻮﺍ ﻣِﻤّﺎ
ﺫُﻛِﺮَ ﺍﺳﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻭَﻗَﺪ
ﻓَﺼَّﻞَ ﻟَﻜُﻢ ﻣﺎ ﺣَﺮَّﻡَ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﺇِﻟّﺎ
ﻣَﺎ ﺍﺿﻄُﺮِﺭﺗُﻢ ﺇِﻟَﻴﻪِ ۗ ﻭَﺇِﻥَّ
ﻛَﺜﻴﺮًﺍ ﻟَﻴُﻀِﻠّﻮﻥَ ﺑِﺄَﻫﻮﺍﺋِﻬِﻢ
ﺑِﻐَﻴﺮِ ﻋِﻠﻢٍ ۗ ﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻫُﻮَ ﺃَﻋﻠَﻢُ
ﺑِﺎﻟﻤُﻌﺘَﺪﻳﻦَ
[119] কোন কারণে তোমরা এমন জন্তু
থেকে ভক্ষণ করবে না, যার উপর
আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয়, অথচ
আল্লাহ ঐ সব জন্তুর বিশদ বিবরণ
দিয়েছেন, যেগুলোকে তোমাদের
জন্যে হারাম করেছেন; কিন্তু
সেগুলোও তোমাদের জন্যে হালাল,
যখন তোমরা নিরুপায় হয়ে যাও। অনেক
লোক স্বীয় ভ্রান্ত প্রবৃত্তি দ্বারা না
জেনে বিপথগামী করতে থাকে।
আপনার প্রতিপালক সীমাতিক্রম
কারীদেরকে যথার্থই জানেন।
[119] And why should you not eat of that
(meat) on which Allâh’s Name has been
pronounced (at the time of slaughtering
the animal), while He has explained to
you in detail what is forbidden to you,
except under compulsion of necessity?
And surely many do lead (mankind)
astray by their own desires through lack
of knowledge. Certainly your Lord knows
best the transgressors
[120] ﻭَﺫَﺭﻭﺍ ﻇٰﻬِﺮَ ﺍﻹِﺛﻢِ
ﻭَﺑﺎﻃِﻨَﻪُ ۚ ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳَﻜﺴِﺒﻮﻥَ
ﺍﻹِﺛﻢَ ﺳَﻴُﺠﺰَﻭﻥَ ﺑِﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻳَﻘﺘَﺮِﻓﻮﻥَ
[120] তোমরা প্রকাশ্য ও প্রচ্ছন্ন
গোনাহ পরিত্যাগ কর। নিশ্চয় যারা
গোনাহ করেছে, তারা অতিসত্বর
তাদের কৃতকর্মের শাস্তি পাবে।
[120] Leave (O mankind, all kinds of) sin,
open and secret. Verily, those who
commit sin will get due recompense for
that which they used to commit
[121] ﻭَﻻ ﺗَﺄﻛُﻠﻮﺍ ﻣِﻤّﺎ ﻟَﻢ ﻳُﺬﻛَﺮِ
ﺍﺳﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻔِﺴﻖٌ ۗ
ﻭَﺇِﻥَّ ﺍﻟﺸَّﻴٰﻄﻴﻦَ ﻟَﻴﻮﺣﻮﻥَ ﺇِﻟﻰٰ
ﺃَﻭﻟِﻴﺎﺋِﻬِﻢ ﻟِﻴُﺠٰﺪِﻟﻮﻛُﻢ ۖ ﻭَﺇِﻥ
ﺃَﻃَﻌﺘُﻤﻮﻫُﻢ ﺇِﻧَّﻜُﻢ ﻟَﻤُﺸﺮِﻛﻮﻥَ
[121] যেসব জন্তুর উপর আল্লাহর নাম
উচ্চারিত হয় না, সেগুলো থেকে ভক্ষণ
করো না; এ ভক্ষণ করা গোনাহ।
নিশ্চয় শয়তানরা তাদের বন্ধুদেরকে
প্রত্যাদেশ করে-যেন তারা তোমাদের
সাথে তর্ক করে। যদি তোমরা তাদের
আনুগত্য কর, তোমরাও মুশরেক হয়ে
যাবে।
[121] Eat not (O believers) of that (meat)
on which Allâh’s Name has not been
pronounced (at the time of the
slaughtering of the animal), for sure it is
Fisq (a sin and disobedience of Allâh).
And certainly, the Shayâtin (devils) do
inspire their friends (from mankind) to
dispute with you, and if you obey them
[by making Al¬Maitah (a dead animal)
legal by eating it], then you would indeed
be Mushrikûn (polytheists) [because they
(devils and their friends) made lawful to
you to eat that which Allâh has made
unlawful to eat and you obeyed them by
considering it lawful to eat, and by doing
so you worshipped them, and to worship
others besides Allâh is polytheism].
[122] ﺃَﻭَﻣَﻦ ﻛﺎﻥَ ﻣَﻴﺘًﺎ
ﻓَﺄَﺣﻴَﻴﻨٰﻪُ ﻭَﺟَﻌَﻠﻨﺎ ﻟَﻪُ ﻧﻮﺭًﺍ
ﻳَﻤﺸﻰ ﺑِﻪِ ﻓِﻰ ﺍﻟﻨّﺎﺱِ ﻛَﻤَﻦ
ﻣَﺜَﻠُﻪُ ﻓِﻰ ﺍﻟﻈُّﻠُﻤٰﺖِ ﻟَﻴﺲَ
ﺑِﺨﺎﺭِﺝٍ ﻣِﻨﻬﺎ ۚ ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﺯُﻳِّﻦَ
ﻟِﻠﻜٰﻔِﺮﻳﻦَ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[122] আর যে মৃত ছিল অতঃপর আমি
তাকে জীবিত করেছি এবং তাকে এমন
একটি আলো দিয়েছি, যা নিয়ে সে
মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে। সে কি
ঐ ব্যক্তির সমতুল্য হতে পারে, যে
অন্ধকারে রয়েছে-সেখান থেকে বের
হতে পারছে না? এমনিভাবে
কাফেরদের দৃষ্টিতে তাদের
কাজকর্মকে সুশোভিত করে দেয়া
হয়েছে।
[122] Is he who was dead (without Faith
by ignorance and disbelief) and We gave
him life (by knowledge and Faith) and
set for him a light (of Belief) whereby he
can walk amongst men— like him who is
in the darkness (of disbelief, polytheism
and hypocrisy) from which he can never
come out? Thus it is made fair¬seeming
to the disbelievers that which they used
to do.
[123] ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﺟَﻌَﻠﻨﺎ ﻓﻰ ﻛُﻞِّ
ﻗَﺮﻳَﺔٍ ﺃَﻛٰﺒِﺮَ ﻣُﺠﺮِﻣﻴﻬﺎ ﻟِﻴَﻤﻜُﺮﻭﺍ
ﻓﻴﻬﺎ ۖ ﻭَﻣﺎ ﻳَﻤﻜُﺮﻭﻥَ ﺇِﻟّﺎ
ﺑِﺄَﻧﻔُﺴِﻬِﻢ ﻭَﻣﺎ ﻳَﺸﻌُﺮﻭﻥَ
[123] আর এমনিভাবে আমি প্রত্যেক
জনপদে অপরাধীদের জন্য কিছু সর্দার
নিয়োগ করেছি-যেন তারা সেখানে
চক্রান্ত করে। তাদের সে চক্রান্ত
তাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই; কিন্তু
তারা তা উপলব্ধি করতে পারে না।
[123] And thus We have set up in every
town great ones of its wicked people to
plot therein. But they plot not except
against their ownselves, and they
perceive (it) not.
[124] ﻭَﺇِﺫﺍ ﺟﺎﺀَﺗﻬُﻢ ﺀﺍﻳَﺔٌ ﻗﺎﻟﻮﺍ
ﻟَﻦ ﻧُﺆﻣِﻦَ ﺣَﺘّﻰٰ ﻧُﺆﺗﻰٰ ﻣِﺜﻞَ
ﻣﺎ ﺃﻭﺗِﻰَ ﺭُﺳُﻞُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۘ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻋﻠَﻢُ
ﺣَﻴﺚُ ﻳَﺠﻌَﻞُ ﺭِﺳﺎﻟَﺘَﻪُ ۗ
ﺳَﻴُﺼﻴﺐُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺃَﺟﺮَﻣﻮﺍ
ﺻَﻐﺎﺭٌ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻋَﺬﺍﺏٌ
ﺷَﺪﻳﺪٌ ﺑِﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻤﻜُﺮﻭﻥَ
[124] যখন তাদের কাছে কোন আয়াত
পৌঁছে, তখন বলে, আমরা কখনই মানব না
যে, পর্যন্ত না আমরাও তা প্রদত্ত হই, যা
আল্লাহর রসূলগণ প্রদত্ত হয়েছেন।
আল্লাহ এ বিষয়ে সুপারিজ্ঞাত যে,
কোথায় স্বীয় পয়গাম প্রেরণ করতে
হবে। যারা অপরাধ করছে, তারা
অতিসত্বর আল্লাহর কাছে পৌছে
লাঞ্ছনা ও কঠোর শাস্তি পাবে,
তাদের চক্রান্তের কারণে।
[124] And when there comes to them a
sign (from Allâh) they say: “We shall not
believe until we receive the like of that
which the Messengers of Allâh had
received.” Allâh knows best with whom
to place His Message. Humiliation and
disgrace from Allâh and a severe
torment will overtake the criminals
(polytheists, sinners) for that which they
used to plot.
[125] ﻓَﻤَﻦ ﻳُﺮِﺩِ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻥ ﻳَﻬﺪِﻳَﻪُ
ﻳَﺸﺮَﺡ ﺻَﺪﺭَﻩُ ﻟِﻺِﺳﻠٰﻢِ ۖ ﻭَﻣَﻦ
ﻳُﺮِﺩ ﺃَﻥ ﻳُﻀِﻠَّﻪُ ﻳَﺠﻌَﻞ ﺻَﺪﺭَﻩُ
ﺿَﻴِّﻘًﺎ ﺣَﺮَﺟًﺎ ﻛَﺄَﻧَّﻤﺎ ﻳَﺼَّﻌَّﺪُ
ﻓِﻰ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ۚ ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻳَﺠﻌَﻞُ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟﺮِّﺟﺲَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻻ
ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[125] অতঃপর আল্লাহ যাকে পথ-
প্রদর্শন করতে চান, তার বক্ষকে
ইসলামের জন্যে উম্মুক্ত করে দেন এবং
যাকে বিপথগামী করতে চান, তার
বক্ষকে সংকীর্ণ অত্যধিক সংকীর্ণ
করে দেন-যেন সে সবেগে আকাশে
আরোহণ করছে। এমনি ভাবে যারা
বিশ্বাস স্থাপন করে না। আল্লাহ
তাদের উপর আযাব বর্ষন করেন।
[125] And whomsoever Allâh wills to
guide, He opens his breast to Islâm, and
whomsoever He wills to send astray, He
makes his breast closed and constricted,
as if he is climbing up to the sky. Thus
Allâh puts the wrath on those who
believe not.
[126] ﻭَﻫٰﺬﺍ ﺻِﺮٰﻁُ ﺭَﺑِّﻚَ
ﻣُﺴﺘَﻘﻴﻤًﺎ ۗ ﻗَﺪ ﻓَﺼَّﻠﻨَﺎ
ﺍﻝﺀﺍﻳٰﺖِ ﻟِﻘَﻮﻡٍ ﻳَﺬَّﻛَّﺮﻭﻥَ
[126] আর এটাই আপনার পালনকর্তার
সরল পথ। আমি উপদেশ গ্রহণকারীদের
জন্যে আয়াতসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ননা
করেছি।
[126] And this is the Path of your Lord
(the Qur’ân and Islâm) leading Straight.
We have detailed Our Revelations for a
people who take heed.
[127] ۞ ﻟَﻬُﻢ ﺩﺍﺭُ ﺍﻟﺴَّﻠٰﻢِ ﻋِﻨﺪَ
ﺭَﺑِّﻬِﻢ ۖ ﻭَﻫُﻮَ ﻭَﻟِﻴُّﻬُﻢ ﺑِﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[127] তাদের জন্যেই তাদের
প্রতিপালকের কাছে নিরাপত্তার গৃহ
রয়েছে এবং তিনি তাদের বন্ধু তাদের
কর্মের কারণে।
[127] For them will be the home of peace
(Paradise) with their Lord. And He will
be their Walî (Helper and Protector)
because of what they used to do.
[128] ﻭَﻳَﻮﻡَ ﻳَﺤﺸُﺮُﻫُﻢ ﺟَﻤﻴﻌًﺎ
ﻳٰﻤَﻌﺸَﺮَ ﺍﻟﺠِﻦِّ ﻗَﺪِ ﺍﺳﺘَﻜﺜَﺮﺗُﻢ
ﻣِﻦَ ﺍﻹِﻧﺲِ ۖ ﻭَﻗﺎﻝَ ﺃَﻭﻟِﻴﺎﺅُﻫُﻢ
ﻣِﻦَ ﺍﻹِﻧﺲِ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺍﺳﺘَﻤﺘَﻊَ
ﺑَﻌﻀُﻨﺎ ﺑِﺒَﻌﺾٍ ﻭَﺑَﻠَﻐﻨﺎ ﺃَﺟَﻠَﻨَﺎ
ﺍﻟَّﺬﻯ ﺃَﺟَّﻠﺖَ ﻟَﻨﺎ ۚ ﻗﺎﻝَ ﺍﻟﻨّﺎﺭُ
ﻣَﺜﻮﻯٰﻜُﻢ ﺧٰﻠِﺪﻳﻦَ ﻓﻴﻬﺎ ﺇِﻟّﺎ ﻣﺎ
ﺷﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ۗ ﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﺣَﻜﻴﻢٌ
ﻋَﻠﻴﻢٌ
[128] যেদিন আল্লাহ সবাইকে একত্রিত
করবেন, হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা
মানুষদের মধ্যে অনেককে অনুগামী করে
নিয়েছ। তাদের মানব বন্ধুরা বলবেঃ
হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা
পরস্পরে পরস্পরের মাধ্যমে ফল লাভ
করেছি। আপনি আমাদের জন্যে যে সময়
নির্ধারণ করেছিলেন, আমরা তাতে
উপনীত হয়েছি। আল্লাহ বলবেনঃ আগুন
হল তোমাদের বাসস্থান। তথায়
তোমরা চিরকাল অবস্থান করবে;
কিন্তু যখন চাইবেন আল্লাহ। নিশ্চয়
আপনার পালনকর্তা প্রজ্ঞাময়,
মহাজ্ঞানী।
[128] And on the Day when He will
gather them (all) together (and say): “O
you assembly of jinn! Many did you
mislead of men,” and their
Auliyâ’ (friends and helpers) amongst
men will say: “Our Lord! We benefited
one from the other, but now we have
reached our appointed term which You
did appoint for us.” He will say: “The
Fire be your dwelling¬place, you will
dwell therein forever, except as Allâh
may will. Certainly your Lord is
All¬Wise, All¬Knowing.”
[129] ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻧُﻮَﻟّﻰ ﺑَﻌﺾَ
ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ ﺑَﻌﻀًﺎ ﺑِﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻳَﻜﺴِﺒﻮﻥَ
[129] এমনিভাবে আমি পাপীদেরকে
একে অপরের সাথে যুক্ত করে দেব
তাদের কাজকর্মের কারণে।
[129] And thus We do make the Zâlimûn
(polytheists and wrong-doers)
Auliyâ’ (supporters and helpers) of one
another (in committing crimes), because
of that which they used to earn.
[130] ﻳٰﻤَﻌﺸَﺮَ ﺍﻟﺠِﻦِّ ﻭَﺍﻹِﻧﺲِ
ﺃَﻟَﻢ ﻳَﺄﺗِﻜُﻢ ﺭُﺳُﻞٌ ﻣِﻨﻜُﻢ
ﻳَﻘُﺼّﻮﻥَ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﺀﺍﻳٰﺘﻰ
ﻭَﻳُﻨﺬِﺭﻭﻧَﻜُﻢ ﻟِﻘﺎﺀَ ﻳَﻮﻣِﻜُﻢ
ﻫٰﺬﺍ ۚ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺷَﻬِﺪﻧﺎ ﻋَﻠﻰٰ
ﺃَﻧﻔُﺴِﻨﺎ ۖ ﻭَﻏَﺮَّﺗﻬُﻢُ ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓُ
ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﻭَﺷَﻬِﺪﻭﺍ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢ
ﺃَﻧَّﻬُﻢ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻛٰﻔِﺮﻳﻦَ
[130] হে জ্বিন ও মানব সম্প্রদায়,
তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য
থেকে পয়গম্বরগণ আগমন করেনি? যাঁরা
তোমাদেরকে আমার বিধানাবলী
বর্ণনা করতেন এবং তোমাদেরকে
আজকের এ দিনের সাক্ষাতের ভীতি
প্রদর্শন করতেন? তারা বলবেঃ আমরা
স্বীয় গোনাহ স্বীকার করে নিলাম।
পার্থিব জীবন তাদেরকে প্রতারিত
করেছে। তারা নিজেদের বিরুদ্ধে
স্বীকার করে নিয়েছে যে, তারা
কাফের ছিল।
[130] O you assembly of jinn and
mankind! “Did not there come to you
Messengers from amongst you, reciting
unto you My Verses and warning you of
the meeting of this Day of yours?” They
will say: “We bear witness against
ourselves.” It was the life of this world
that deceived them. And they will bear
witness against themselves that they
were disbelievers
[131] ﺫٰﻟِﻚَ ﺃَﻥ ﻟَﻢ ﻳَﻜُﻦ ﺭَﺑُّﻚَ
ﻣُﻬﻠِﻚَ ﺍﻟﻘُﺮﻯٰ ﺑِﻈُﻠﻢٍ ﻭَﺃَﻫﻠُﻬﺎ
ﻏٰﻔِﻠﻮﻥَ
[131] এটা এ জন্যে যে, আপনার
প্রতিপালক কোন জনপদের
অধিবাসীদেরকে জুলুমের কারণে
ধ্বংস করেন না এমতাবস্থায় যে,
তথাকার অধিবাসীরা অজ্ঞ থাকে।
[131] This is because your Lord would
not destroy the (populations of) towns
for their wrong¬doing (i.e. associating
others in worship along with Allâh)
while their people were unaware (so the
Messengers were sent).
[132] ﻭَﻟِﻜُﻞٍّ ﺩَﺭَﺟٰﺖٌ ﻣِﻤّﺎ ﻋَﻤِﻠﻮﺍ ۚ
ﻭَﻣﺎ ﺭَﺑُّﻚَ ﺑِﻐٰﻔِﻞٍ ﻋَﻤّﺎ ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[132] প্রত্যেকের জন্যে তাদের কর্মের
আনুপাতিক মর্যাদা আছে এবং আপনার
প্রতিপালক তাদের কর্ম সম্পর্কে
বেখবর নন।
[132] For all there will be degrees (or
ranks) according to what they did. And
your Lord is not unaware of what they
do.
[133] ﻭَﺭَﺑُّﻚَ ﺍﻟﻐَﻨِﻰُّ ﺫُﻭ ﺍﻟﺮَّﺣﻤَﺔِ ۚ
ﺇِﻥ ﻳَﺸَﺄ ﻳُﺬﻫِﺒﻜُﻢ ﻭَﻳَﺴﺘَﺨﻠِﻒ
ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِﻛُﻢ ﻣﺎ ﻳَﺸﺎﺀُ ﻛَﻤﺎ
ﺃَﻧﺸَﺄَﻛُﻢ ﻣِﻦ ﺫُﺭِّﻳَّﺔِ ﻗَﻮﻡٍ
ﺀﺍﺧَﺮﻳﻦَ
[133] আপনার প্রতিপালক
অমুখাপেক্ষী, করুণাময়। তিনি ইচ্ছা
করলে তোমাদের সবাইকে উচ্ছেদ করে
দিবেন এবং তোমাদের পর যাকে
ইচ্ছা তোমাদের স্থলে অভিষিক্ত
করবেন; যেমন তোমাদেরকে অন্য এক
সম্প্রদায়ের বংশধর থেকে সৃষ্টি
করেছেন।
[133] And your Lord is Rich (Free of all
wants), full of Mercy, if He wills, He can
destroy you, and in your place make
whom He wills as your successors, as He
raised you from the seed of other people.
[134] ﺇِﻥَّ ﻣﺎ ﺗﻮﻋَﺪﻭﻥَ ﻝَﺀﺍﺕٍ ۖ
ﻭَﻣﺎ ﺃَﻧﺘُﻢ ﺑِﻤُﻌﺠِﺰﻳﻦَ
[134] যে বিষয়ের ওয়াদা তোমাদের
সাথে করা হয়, তা অবশ্যই আগমন করবে
এবং তোমরা অক্ষম করতে পারবে না।
[134] Surely, that which you are
promised will verily come to pass, and
you cannot escape (from the Punishment
of Allâh).
[135] ﻗُﻞ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺍﻋﻤَﻠﻮﺍ ﻋَﻠﻰٰ
ﻣَﻜﺎﻧَﺘِﻜُﻢ ﺇِﻧّﻰ ﻋﺎﻣِﻞٌ ۖ ﻓَﺴَﻮﻑَ
ﺗَﻌﻠَﻤﻮﻥَ ﻣَﻦ ﺗَﻜﻮﻥُ ﻟَﻪُ ﻋٰﻘِﺒَﺔُ
ﺍﻟﺪّﺍﺭِ ۗ ﺇِﻧَّﻪُ ﻻ ﻳُﻔﻠِﺢُ ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻮﻥَ
[135] আপনি বলে দিনঃ হে আমার
সম্প্রদায়, তোমরা স্বস্থানে কাজ
করে যাও, আমিও কাজ করি। অচিরেই
জানতে পারবে যে, পরিণাম গৃহ কে
লাভ করে। নিশ্চয় জালেমরা
সুফলপ্রাপ্ত হবে না।
[135] Say (O Muhammad SAW): “O my
people! Work according to your way,
surely, I too am working (in my way),
and you will come to know for which of
us will be the (happy) end in the
Hereafter. Certainly the Zâlimûn
(polytheists and wrong¬doers) will not
be successful.”
[136] ﻭَﺟَﻌَﻠﻮﺍ ﻟِﻠَّﻪِ ﻣِﻤّﺎ ﺫَﺭَﺃَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺤَﺮﺙِ ﻭَﺍﻷَﻧﻌٰﻢِ ﻧَﺼﻴﺒًﺎ
ﻓَﻘﺎﻟﻮﺍ ﻫٰﺬﺍ ﻟِﻠَّﻪِ ﺑِﺰَﻋﻤِﻬِﻢ
ﻭَﻫٰﺬﺍ ﻟِﺸُﺮَﻛﺎﺋِﻨﺎ ۖ ﻓَﻤﺎ ﻛﺎﻥَ
ﻟِﺸُﺮَﻛﺎﺋِﻬِﻢ ﻓَﻼ ﻳَﺼِﻞُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۖ
ﻭَﻣﺎ ﻛﺎﻥَ ﻟِﻠَّﻪِ ﻓَﻬُﻮَ ﻳَﺼِﻞُ ﺇِﻟﻰٰ
ﺷُﺮَﻛﺎﺋِﻬِﻢ ۗ ﺳﺎﺀَ ﻣﺎ ﻳَﺤﻜُﻤﻮﻥَ
[136] আল্লাহ যেসব শস্যক্ষেত্র ও
জীবজন্তু সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো
থেকে তারা এক অংশ আল্লাহর জন্য
নির্ধারণ করে অতঃপর নিজ ধারণা
অনুসারে বলে এটা আল্লাহর এবং এটা
আমাদের অংশীদারদের। অতঃপর যে
অংশ তাদের অংশীদারদের, তা তো
আল্লাহর দিকে পৌঁছে না এবং যা
আল্লাহর তা তাদের উপাস্যদের দিকে
পৌছে যায়। তাদের বিচার কতই না
মন্দ।
[136] And they assign to Allâh a share of
the tilth and cattle which He has created,
and they say: “This is for Allâh according
to their claim, and this is for our (Allâh’s
so¬called) partners.” But the share of
their (Allâh’s so¬called) “partners”
reaches not Allâh, while the share of
Allâh reaches their (Allâh’s so¬called)
“partners”! Evil is the way they judge!
[137] ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﺯَﻳَّﻦَ ﻟِﻜَﺜﻴﺮٍ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻤُﺸﺮِﻛﻴﻦَ ﻗَﺘﻞَ ﺃَﻭﻟٰﺪِﻫِﻢ
ﺷُﺮَﻛﺎﺅُﻫُﻢ ﻟِﻴُﺮﺩﻭﻫُﻢ
ﻭَﻟِﻴَﻠﺒِﺴﻮﺍ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺩﻳﻨَﻬُﻢ ۖ ﻭَﻟَﻮ
ﺷﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣﺎ ﻓَﻌَﻠﻮﻩُ ۖ ﻓَﺬَﺭﻫُﻢ
ﻭَﻣﺎ ﻳَﻔﺘَﺮﻭﻥَ
[137] এমনিভাবে অনেক মুশরেকের
দৃষ্টিতে তাদের উপাস্যরা সন্তান
হত্যাকে সুশোভিত করে দিয়েছে যেন
তারা তাদেরকে বিনষ্ট করে দেয় এবং
তাদের ধর্মমতকে তাদের কাছে
বিভ্রান্ত করে দেয়। যদি আল্লাহ
চাইতেন, তবে তারা এ কাজ করত না।
অতএব, আপনি তাদেরকে এবং তাদের
মনগড়া বুলিকে পরিত্যাগ করুন।
[137] And so to many of the Mushrikûn
(polytheists – see V.2:105) their (Allâh’s
so¬called) “partners” have made fair-
seeming the killing of their children, in
order to lead them to their own
destruction and cause confusion in their
religion. And if Allâh had willed, they
would not have done so. So leave them
alone with their fabrications.
[138] ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ ﻫٰﺬِﻩِ ﺃَﻧﻌٰﻢٌ
ﻭَﺣَﺮﺙٌ ﺣِﺠﺮٌ ﻻ ﻳَﻄﻌَﻤُﻬﺎ ﺇِﻟّﺎ
ﻣَﻦ ﻧَﺸﺎﺀُ ﺑِﺰَﻋﻤِﻬِﻢ ﻭَﺃَﻧﻌٰﻢٌ
ﺣُﺮِّﻣَﺖ ﻇُﻬﻮﺭُﻫﺎ ﻭَﺃَﻧﻌٰﻢٌ ﻻ
ﻳَﺬﻛُﺮﻭﻥَ ﺍﺳﻢَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﻠَﻴﻬَﺎ
ﺍﻓﺘِﺮﺍﺀً ﻋَﻠَﻴﻪِ ۚ ﺳَﻴَﺠﺰﻳﻬِﻢ ﺑِﻤﺎ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻔﺘَﺮﻭﻥَ
[138] তারা বলেঃ এসব চতুষ্পদ জন্তু ও
শস্যক্ষেত্র নিষিদ্ধ। আমরা যাকে ইচছা
করি, সে ছাড়া এগুলো কেউ খেতে
পারবে না, তাদের ধারণা অনুসারে।
আর কিছুসংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর পিঠে
আরোহন হারাম করা হয়েছে এবং কিছু
সংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর উপর তারা ভ্রান্ত
ধারনা বশতঃ আল্লাহর নাম উচ্চারণ
করে না, তাদের মনগড়া বুলির কারণে,
অচিরেই তিনি তাদের কে শাস্তি
দিবেন।
[138] And according to their claim, they
say that such and such cattle and crops
are forbidden, and none should eat of
them except those whom we allow. And
(they say) there are cattle forbidden to
be used for burden (or any other work),
and cattle on which (at slaughtering) the
Name of Allâh is not pronounced; lying
against Him (Allâh). He will recompense
them for what they used to fabricate.
[139] ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ ﻣﺎ ﻓﻰ ﺑُﻄﻮﻥِ
ﻫٰﺬِﻩِ ﺍﻷَﻧﻌٰﻢِ ﺧﺎﻟِﺼَﺔٌ ﻟِﺬُﻛﻮﺭِﻧﺎ
ﻭَﻣُﺤَﺮَّﻡٌ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﺯﻭٰﺟِﻨﺎ ۖ ﻭَﺇِﻥ
ﻳَﻜُﻦ ﻣَﻴﺘَﺔً ﻓَﻬُﻢ ﻓﻴﻪِ ﺷُﺮَﻛﺎﺀُ ۚ
ﺳَﻴَﺠﺰﻳﻬِﻢ ﻭَﺻﻔَﻬُﻢ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ
ﺣَﻜﻴﻢٌ ﻋَﻠﻴﻢٌ
[139] তারা বলেঃ এসব চতুষ্পদ জন্তুর
পেটে যা আছে, তা বিশেষ ভাবে
আমাদের পুরুষদের জন্যে এবং আমাদের
মহিলাদের জন্যে তা হারাম। যদি তা
মৃত হয়, তবে তার প্রাপক হিসাবে সবাই
সমান। অচিরেই তিনি তাদেরকে
তাদের বর্ণনার শাস্তি দিবেন। তিনি
প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী।
[139] And they say: “What is in the
bellies of such and such cattle (milk or
foetus) is for our males alone, and
forbidden to our females (girls and
women), but if it is born dead, then all
have shares therein.” He will punish
them for their attribution (of such false
orders to Allâh). Verily, He is All¬Wise,
All¬Knower. (Tafsir At¬Tabarî).
[140] ﻗَﺪ ﺧَﺴِﺮَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻗَﺘَﻠﻮﺍ
ﺃَﻭﻟٰﺪَﻫُﻢ ﺳَﻔَﻬًﺎ ﺑِﻐَﻴﺮِ ﻋِﻠﻢٍ
ﻭَﺣَﺮَّﻣﻮﺍ ﻣﺎ ﺭَﺯَﻗَﻬُﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﺍﻓﺘِﺮﺍﺀً ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۚ ﻗَﺪ ﺿَﻠّﻮﺍ
ﻭَﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻣُﻬﺘَﺪﻳﻦَ
[140] নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে,
যারা নিজ সন্তানদেরকে
নির্বুদ্ধিতাবশতঃ কোন প্রমাণ ছাড়াই
হত্যা করেছে এবং আল্লাহ তাদেরকে
যেসব দিয়েছিলেন, সেগুলোকে
আল্লাহর প্রতি ভ্রান্ত ধারণা পোষণ
করে হারাম করে নিয়েছে। নিশ্চিতই
তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং সুপথগামী
হয়নি।
[140] Indeed lost are they who have
killed their children, foolishly, without
knowledge, and have forbidden that
which Allâh has provided for them,
inventing a lie against Allâh. They have
indeed gone astray and were not guided.
[141] ۞ ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺃَﻧﺸَﺄَ
ﺟَﻨّٰﺖٍ ﻣَﻌﺮﻭﺷٰﺖٍ ﻭَﻏَﻴﺮَ
ﻣَﻌﺮﻭﺷٰﺖٍ ﻭَﺍﻟﻨَّﺨﻞَ ﻭَﺍﻟﺰَّﺭﻉَ
ﻣُﺨﺘَﻠِﻔًﺎ ﺃُﻛُﻠُﻪُ ﻭَﺍﻟﺰَّﻳﺘﻮﻥَ
ﻭَﺍﻟﺮُّﻣّﺎﻥَ ﻣُﺘَﺸٰﺒِﻬًﺎ ﻭَﻏَﻴﺮَ
ﻣُﺘَﺸٰﺒِﻪٍ ۚ ﻛُﻠﻮﺍ ﻣِﻦ ﺛَﻤَﺮِﻩِ ﺇِﺫﺍ
ﺃَﺛﻤَﺮَ ﻭَﺀﺍﺗﻮﺍ ﺣَﻘَّﻪُ ﻳَﻮﻡَ
ﺣَﺼﺎﺩِﻩِ ۖ ﻭَﻻ ﺗُﺴﺮِﻓﻮﺍ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﻻ
ﻳُﺤِﺐُّ ﺍﻟﻤُﺴﺮِﻓﻴﻦَ
[141] তিনিই উদ্যান সমূহ সৃষ্টি করেছে-
তাও, যা মাচার উপর তুলে দেয়া হয়,
এবং যা মাচার উপর তোলা হয় না
এবং খর্জুর বৃক্ষ ও শস্যক্ষেত্র যেসবের
স্বাদবিশিষ্ট এবং যয়তুন ও আনার সৃষ্টি
করেছেন-একে অন্যের সাদৃশ্যশীল এবং
সাদৃশ্যহীন। এগুলোর ফল খাও, যখন
ফলন্ত হয় এবং হক দান কর কর্তনের
সময়ে এবং অপব্যয় করো না। নিশ্চয়
তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না।
[141] And it is He Who produces gardens
trellised and untrellised, and
date¬palms, and crops of different shape
and taste (their fruits and their seeds)
and olives, and pomegranates, similar
(in kind) and different (in taste). Eat of
their fruit when they ripen, but pay the
due thereof (its Zakât, according to
Allâh’s Orders 1/10th or 1/20th) on the
day of its harvest, and waste not by
extravagance. Verily, He likes not Al-
Musrifûn (those who waste by
extravagance),
[142] ﻭَﻣِﻦَ ﺍﻷَﻧﻌٰﻢِ ﺣَﻤﻮﻟَﺔً
ﻭَﻓَﺮﺷًﺎ ۚ ﻛُﻠﻮﺍ ﻣِﻤّﺎ ﺭَﺯَﻗَﻜُﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﻭَﻻ ﺗَﺘَّﺒِﻌﻮﺍ ﺧُﻄُﻮٰﺕِ ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦِ ۚ
ﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻜُﻢ ﻋَﺪُﻭٌّ ﻣُﺒﻴﻦٌ
[142] তিনি সৃষ্টি করেছেন চতুষ্পদ
জন্তুর মধ্যে বোঝা বহনকারীকে এবং
খর্বাকৃতিকে। আল্লাহ তোমাদেরকে
যা কিছু দিয়েছেন, তা থেকে খাও
এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো
না। সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
[142] And of the cattle (are some) for
burden (like camels) and (some are)
small (unable to carry burden like sheep,
goats for food, meat, milk, wool). Eat of
what Allâh has provided for you, and
follow not the footsteps of Shaitân
(Satan). Surely he is to you an open
enemy.
[143] ﺛَﻤٰﻨِﻴَﺔَ ﺃَﺯﻭٰﺝٍ ۖ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻀَّﺄﻥِ
ﺍﺛﻨَﻴﻦِ ﻭَﻣِﻦَ ﺍﻟﻤَﻌﺰِ ﺍﺛﻨَﻴﻦِ ۗ ﻗُﻞ
ﺀﺍﻟﺬَّﻛَﺮَﻳﻦِ ﺣَﺮَّﻡَ ﺃَﻡِ ﺍﻷُﻧﺜَﻴَﻴﻦِ
ﺃَﻣَّﺎ ﺍﺷﺘَﻤَﻠَﺖ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺃَﺭﺣﺎﻡُ
ﺍﻷُﻧﺜَﻴَﻴﻦِ ۖ ﻧَﺒِّـٔﻮﻧﻰ ﺑِﻌِﻠﻢٍ ﺇِﻥ
ﻛُﻨﺘُﻢ ﺻٰﺪِﻗﻴﻦَ
[143] সৃষ্টি করেছেন আটটি নর ও মাদী।
ভেড়ার মধ্যে দুই প্রকার ও ছাগলের
মধ্যে দুই প্রকার। জিজ্ঞেস করুন, তিনি
কি উভয় নর হারাম করেছেন, না উভয়
মাদীকে ? না যা উভয় মাদীর পেটে
আছে? তোমরা আমাকে প্রমাণসহ বল,
যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
[143] Eight pairs; of the sheep two (male
and female), and of the goats two (male
and female). Say: “Has He forbidden the
two males or the two females, or (the
young) which the wombs of the two
females enclose? Inform me with
knowledge if you are truthful.”
[144] ﻭَﻣِﻦَ ﺍﻹِﺑِﻞِ ﺍﺛﻨَﻴﻦِ ﻭَﻣِﻦَ
ﺍﻟﺒَﻘَﺮِ ﺍﺛﻨَﻴﻦِ ۗ ﻗُﻞ ﺀﺍﻟﺬَّﻛَﺮَﻳﻦِ
ﺣَﺮَّﻡَ ﺃَﻡِ ﺍﻷُﻧﺜَﻴَﻴﻦِ ﺃَﻣَّﺎ
ﺍﺷﺘَﻤَﻠَﺖ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺃَﺭﺣﺎﻡُ
ﺍﻷُﻧﺜَﻴَﻴﻦِ ۖ ﺃَﻡ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺷُﻬَﺪﺍﺀَ ﺇِﺫ
ﻭَﺻّﻯٰﻜُﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻬٰﺬﺍ ۚ ﻓَﻤَﻦ
ﺃَﻇﻠَﻢُ ﻣِﻤَّﻦِ ﺍﻓﺘَﺮﻯٰ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻛَﺬِﺑًﺎ ﻟِﻴُﻀِﻞَّ ﺍﻟﻨّﺎﺱَ ﺑِﻐَﻴﺮِ ﻋِﻠﻢٍ ۗ
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻻ ﻳَﻬﺪِﻯ ﺍﻟﻘَﻮﻡَ
ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
[144] সৃষ্টি করেছেন উটের মধ্যে দুই
প্রকার এবং গরুর মধ্যে দুই প্রকার।
আপনি জিজ্ঞেস করুনঃ তিনি কি উভয়
নর হারাম করেছেন, না উভয় মাদীকে,
না যা উভয় মাদীর পেটে আছে?
তোমরা কি উপস্থিত ছিলে, যখন
আল্লাহ এ নির্দেশ দিয়েছিলেন?
অতএব সে ব্যক্তি অপেক্ষা বেশী
অত্যচারী কে, যে আল্লাহ সম্পর্কে
মিথ্যা ধারণা পোষন করে যাতে করে
মানুষকে বিনা প্রমাণে পথভ্রষ্ট করতে
পারে? নিশ্চয় আল্লাহ অত্যাচারী
সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না।
[144] And of the camels two (male and
female), and of oxen two (male and
female). Say: “Has He forbidden the two
males or the two females or (the young)
which the wombs of the two females
enclose? Or were you present when Allâh
ordered you such a thing? Then who
does more wrong than one who invents a
lie against Allâh, to lead mankind astray
without knowledge. Certainly Allâh
guides not the people who are Zâlimûn
(polytheists and wrong-doers).”
[145] ﻗُﻞ ﻻ ﺃَﺟِﺪُ ﻓﻰ ﻣﺎ
ﺃﻭﺣِﻰَ ﺇِﻟَﻰَّ ﻣُﺤَﺮَّﻣًﺎ ﻋَﻠﻰٰ
ﻃﺎﻋِﻢٍ ﻳَﻄﻌَﻤُﻪُ ﺇِﻟّﺎ ﺃَﻥ ﻳَﻜﻮﻥَ
ﻣَﻴﺘَﺔً ﺃَﻭ ﺩَﻣًﺎ ﻣَﺴﻔﻮﺣًﺎ ﺃَﻭ
ﻟَﺤﻢَ ﺧِﻨﺰﻳﺮٍ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﺭِﺟﺲٌ ﺃَﻭ
ﻓِﺴﻘًﺎ ﺃُﻫِﻞَّ ﻟِﻐَﻴﺮِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑِﻪِ ۚ ﻓَﻤَﻦِ
ﺍﺿﻄُﺮَّ ﻏَﻴﺮَ ﺑﺎﻍٍ ﻭَﻻ ﻋﺎﺩٍ ﻓَﺈِﻥَّ
ﺭَﺑَّﻚَ ﻏَﻔﻮﺭٌ ﺭَﺣﻴﻢٌ
[145] আপনি বলে দিনঃ যা কিছু বিধান
ওহীর মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছেছে,
তন্মধ্যে আমি কোন হারাম খাদ্য পাই
না কোন ভক্ষণকারীর জন্যে, যা সে
ভক্ষণ করে; কিন্তু মৃত অথবা প্রবাহিত
রক্ত অথবা শুকরের মাংস এটা অপবিত্র
অথবা অবৈধ; যবেহ করা জন্তু যা
আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ
করা হয়। অতপর যে ক্ষুধায় কাতর হয়ে
পড়ে এমতাবস্থায় যে অবাধ্যতা করে
না এবং সীমালঙ্গন করে না, নিশ্চয়
আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল দয়ালু।
[145] Say (O Muhammad SAW): “I find
not in that which has been revealed to
me anything forbidden to be eaten by
one who wishes to eat it, unless it be
Maitah (a dead animal) or blood poured
forth (by slaughtering or the like), or the
flesh of swine (pork) for that surely is
impure, or impious (unlawful) meat (of
an animal) which is slaughtered as a
sacrifice for others than Allâh (or has
been slaughtered for idols or on which
Allâh’s Name has not been mentioned
while slaughtering). But whosoever is
forced by necessity without wilful
disobedience, nor transgressing due
limits, (for him) certainly, your Lord is
Oft¬Forgiving, Most Merciful.”
[146] ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻫﺎﺩﻭﺍ
ﺣَﺮَّﻣﻨﺎ ﻛُﻞَّ ﺫﻯ ﻇُﻔُﺮٍ ۖ ﻭَﻣِﻦَ
ﺍﻟﺒَﻘَﺮِ ﻭَﺍﻟﻐَﻨَﻢِ ﺣَﺮَّﻣﻨﺎ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ
ﺷُﺤﻮﻣَﻬُﻤﺎ ﺇِﻟّﺎ ﻣﺎ ﺣَﻤَﻠَﺖ
ﻇُﻬﻮﺭُﻫُﻤﺎ ﺃَﻭِ ﺍﻟﺤَﻮﺍﻳﺎ ﺃَﻭ ﻣَﺎ
ﺍﺧﺘَﻠَﻂَ ﺑِﻌَﻈﻢٍ ۚ ﺫٰﻟِﻚَ ﺟَﺰَﻳﻨٰﻬُﻢ
ﺑِﺒَﻐﻴِﻬِﻢ ۖ ﻭَﺇِﻧّﺎ ﻟَﺼٰﺪِﻗﻮﻥَ
[146] ইহুদীদের জন্যে আমি প্রত্যেক
নখবিশিষ্ট জন্তু হারাম করেছিলাম
এবং ছাগল ও গরু থেকে এতদুভয়ের চর্বি
আমি তাদের জন্যে হারাম করেছিলাম,
কিন্তু ঐ চর্বি, যা পৃষ্টে কিংবা
অন্ত্রে সংযুক্ত থাকে অথবা অস্থির
সাথে মিলিত থাকে। তাদের
অবাধ্যতার কারণে আমি তাদেরকে এ
শাস্তি দিয়েছিলাম। আর আমি অবশ্যই
সত্যবাদী।
[146] And unto those who are Jews, We
forbade every (animal) with undivided
hoof, and We forbade them the fat of the
ox and the sheep except what adheres to
their backs or their entrails, or is mixed
up with a bone. Thus We recompensed
them for their rebellion [committing
crimes like murdering the Prophets,
eating of Ribâ (usury)]. And verily, We
are Truthful.
[147] ﻓَﺈِﻥ ﻛَﺬَّﺑﻮﻙَ ﻓَﻘُﻞ ﺭَﺑُّﻜُﻢ
ﺫﻭ ﺭَﺣﻤَﺔٍ ﻭٰﺳِﻌَﺔٍ ﻭَﻻ ﻳُﺮَﺩُّ
ﺑَﺄﺳُﻪُ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻘَﻮﻡِ ﺍﻟﻤُﺠﺮِﻣﻴﻦَ
[147] যদি তারা আপনাকে মিথ্যবাদী
বলে, তবে বলে দিনঃ তোমার
প্রতিপালক সুপ্রশস্ত করুণার মালিক।
তাঁর শাস্তি অপরাধীদের উপর থেকে
টলবে না।
[147] If they (Jews) belie you
(Muhammad SAW) say: “Your Lord is the
Owner of Vast Mercy, and never will His
Wrath be turned back from the people
who are Mujrimûn (criminals,
polytheists, or sinners).”
[148] ﺳَﻴَﻘﻮﻝُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺃَﺷﺮَﻛﻮﺍ
ﻟَﻮ ﺷﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣﺎ ﺃَﺷﺮَﻛﻨﺎ ﻭَﻻ
ﺀﺍﺑﺎﺅُﻧﺎ ﻭَﻻ ﺣَﺮَّﻣﻨﺎ ﻣِﻦ ﺷَﻲﺀٍ ۚ
ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻛَﺬَّﺏَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻠِﻬِﻢ
ﺣَﺘّﻰٰ ﺫﺍﻗﻮﺍ ﺑَﺄﺳَﻨﺎ ۗ ﻗُﻞ ﻫَﻞ
ﻋِﻨﺪَﻛُﻢ ﻣِﻦ ﻋِﻠﻢٍ ﻓَﺘُﺨﺮِﺟﻮﻩُ
ﻟَﻨﺎ ۖ ﺇِﻥ ﺗَﺘَّﺒِﻌﻮﻥَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻈَّﻦَّ ﻭَﺇِﻥ
ﺃَﻧﺘُﻢ ﺇِﻟّﺎ ﺗَﺨﺮُﺻﻮﻥَ
[148] এখন মুশরেকরা বলবেঃ যদি
আল্লাহ ইচ্ছা করতেন, তবে না আমরা
শিরক করতাম, না আমাদের বাপ
দাদারা এবং না আমরা কোন বস্তুকে
হারাম করতাম। এমনিভাবে তাদের
পূর্ববর্তীরা মিথ্যারোপ করেছে, এমন
কি তারা আমার শাস্তি আস্বাদন
করেছে। আপনি বলুনঃ তোমাদের
কাছে কি কোন প্রমাণ আছে যা
আমাদেরকে দেখাতে পার। তোমরা
শুধুমাত্র আন্দাজের অনুসরণ কর এবং
তোমরা শুধু অনুমান করে কথা বল।
[148] Those who took partners (in
worship) with Allâh will say: “If Allâh
had willed, we would not have taken
partners (in worship) with Him, nor
would our fathers, and we would not
have forbidden anything (against His
Will).” Likewise belied those who were
before them, (they argued falsely with
Allâh’s Messengers), till they tasted Our
Wrath. Say: “Have you any knowledge
(proof) that you can produce before us?
Verily, you follow nothing but guess and
you do nothing but lie.”
[149] ﻗُﻞ ﻓَﻠِﻠَّﻪِ ﺍﻟﺤُﺠَّﺔُ ﺍﻟﺒٰﻠِﻐَﺔُ ۖ
ﻓَﻠَﻮ ﺷﺎﺀَ ﻟَﻬَﺪﻯٰﻜُﻢ ﺃَﺟﻤَﻌﻴﻦَ
[149] আপনি বলে দিনঃ অতএব, পরিপূর্ন
যুক্তি আল্লাহরই। তিনি ইচ্ছা করলে
তোমাদের সবাইকে পথ প্রদর্শন
করতেন।
[149] Say: “With Allâh is the perfect
proof and argument, (i.e. the Oneness of
Allâh, the sending of His Messengers and
His Holy Books to mankind), had He so
willed, He would indeed have guided you
all.”
[150] ﻗُﻞ ﻫَﻠُﻢَّ ﺷُﻬَﺪﺍﺀَﻛُﻢُ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳَﺸﻬَﺪﻭﻥَ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺣَﺮَّﻡَ
ﻫٰﺬﺍ ۖ ﻓَﺈِﻥ ﺷَﻬِﺪﻭﺍ ﻓَﻼ ﺗَﺸﻬَﺪ
ﻣَﻌَﻬُﻢ ۚ ﻭَﻻ ﺗَﺘَّﺒِﻊ ﺃَﻫﻮﺍﺀَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻻ
ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ ﺑِﺎﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﻭَﻫُﻢ
ﺑِﺮَﺑِّﻬِﻢ ﻳَﻌﺪِﻟﻮﻥَ
[150] আপনি বলুনঃ তোমাদের
সাক্ষীদেরকে আন, যারা সাক্ষ্য দেয়
যে, আল্লাহ তা’আলা এগুলো হারাম
করেছেন। যদি তারা সাক্ষ্য দেয়, তবে
আপনি এ সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন না এবং
তাদের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না,
যারা আমার নির্দেশাবলীকে মিথ্যা
বলে, যারা পরকালে বিশ্বাস করে না
এবং যারা স্বীয় প্রতিপালকের সমতুল্য
অংশীদার করে।
[150] Say: “Bring forward your
witnesses, who can testify that Allâh has
forbidden this. Then if they testify,
testify not you (O Muhammad SAW) with
them. And you should not follow the vain
desires of such as treat Our Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) as falsehoods, and such
as believe not in the Hereafter, and they
hold others as equal (in worship) with
their Lord.”
[151] ۞ ﻗُﻞ ﺗَﻌﺎﻟَﻮﺍ ﺃَﺗﻞُ ﻣﺎ
ﺣَﺮَّﻡَ ﺭَﺑُّﻜُﻢ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ۖ ﺃَﻟّﺎ
ﺗُﺸﺮِﻛﻮﺍ ﺑِﻪِ ﺷَﻴـًٔﺎ ۖ ﻭَﺑِﺎﻟﻮٰﻟِﺪَﻳﻦِ
ﺇِﺣﺴٰﻨًﺎ ۖ ﻭَﻻ ﺗَﻘﺘُﻠﻮﺍ ﺃَﻭﻟٰﺪَﻛُﻢ
ﻣِﻦ ﺇِﻣﻠٰﻖٍ ۖ ﻧَﺤﻦُ ﻧَﺮﺯُﻗُﻜُﻢ
ﻭَﺇِﻳّﺎﻫُﻢ ۖ ﻭَﻻ ﺗَﻘﺮَﺑُﻮﺍ
ﺍﻟﻔَﻮٰﺣِﺶَ ﻣﺎ ﻇَﻬَﺮَ ﻣِﻨﻬﺎ ﻭَﻣﺎ
ﺑَﻄَﻦَ ۖ ﻭَﻻ ﺗَﻘﺘُﻠُﻮﺍ ﺍﻟﻨَّﻔﺲَ
ﺍﻟَّﺘﻰ ﺣَﺮَّﻡَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺇِﻟّﺎ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ۚ
ﺫٰﻟِﻜُﻢ ﻭَﺻّﻯٰﻜُﻢ ﺑِﻪِ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢ
ﺗَﻌﻘِﻠﻮﻥَ
[151] আপনি বলুনঃ এস, আমি
তোমাদেরকে ঐসব বিষয় পাঠ করে
শুনাই, যেগুলো তোমাদের প্রতিপালক
তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন।
তাএই যে, আল্লাহর সাথে কোন
কিছুকে অংশীদার করো না, পিতা-
মাতার সাথে সদয় ব্যবহার করো স্বীয়
সন্তানদেরকে দারিদ্রেøর কারণে
হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে ও
তাদেরকে আহার দেই, নির্লজ্জতার
কাছেও যেয়ো না, প্রকাশ্য হোক
কিংবা অপ্রকাশ্য, যাকে হত্যা করা
আল্লাহ হারাম করেছেন, তাকে হত্যা
করো না; কিন্তু ন্যায়ভাবে।
তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন,
যেন তোমরা বুঝ।
[151] Say (O Muhammad SAW): “Come, I
will recite what your Lord has prohibited
you from: Join not anything in worship
with Him; be good and dutiful to your
parents; kill not your children because of
poverty – We provide sustenance for you
and for them; come not near to Al-
Fawâhish (shameful sins, illegal sexual
intercourse,) whether committed openly
or secretly, and kill not anyone whom
Allâh has forbidden, except for a just
cause (according to Islâmic law). This He
has commanded you that you may
understand.
[152] ﻭَﻻ ﺗَﻘﺮَﺑﻮﺍ ﻣﺎﻝَ ﺍﻟﻴَﺘﻴﻢِ
ﺇِﻟّﺎ ﺑِﺎﻟَّﺘﻰ ﻫِﻰَ ﺃَﺣﺴَﻦُ ﺣَﺘّﻰٰ
ﻳَﺒﻠُﻎَ ﺃَﺷُﺪَّﻩُ ۖ ﻭَﺃَﻭﻓُﻮﺍ ﺍﻟﻜَﻴﻞَ
ﻭَﺍﻟﻤﻴﺰﺍﻥَ ﺑِﺎﻟﻘِﺴﻂِ ۖ ﻻ ﻧُﻜَﻠِّﻒُ
ﻧَﻔﺴًﺎ ﺇِﻟّﺎ ﻭُﺳﻌَﻬﺎ ۖ ﻭَﺇِﺫﺍ ﻗُﻠﺘُﻢ
ﻓَﺎﻋﺪِﻟﻮﺍ ﻭَﻟَﻮ ﻛﺎﻥَ ﺫﺍ ﻗُﺮﺑﻰٰ ۖ
ﻭَﺑِﻌَﻬﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻭﻓﻮﺍ ۚ ﺫٰﻟِﻜُﻢ
ﻭَﺻّﻯٰﻜُﻢ ﺑِﻪِ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢ ﺗَﺬَﻛَّﺮﻭﻥَ
[152] এতীমদের ধনসম্পদের কাছেও
যেয়ো না; কিন্তু উত্তম পন্থায় যে
পর্যন্ত সে বয়ঃপ্রাপ্ত না হয়। ওজন ও
মাপ পূর্ণ কর ন্যায় সহকারে। আমি
কাউকে তার সাধ্যের অতীত কষ্ট দেই
না। যখন তোমরা কথা বল, তখন সুবিচার
কর, যদিও সে আত্নীয়ও হয়। আল্লাহর
অঙ্গীকার পূর্ণ কর।
[152] “And come not near to the
orphan’s property, except to improve it,
until he (or she) attains the age of full
strength; and give full measure and full
weight with justice. We burden not any
person, but that which he can bear. And
whenever you give your word (i.e. judge
between men or give evidence), say the
truth even if a near relative is
concerned, and fulfill the Covenant of
Allâh, This He commands you, that you
may remember.
[153] ﻭَﺃَﻥَّ ﻫٰﺬﺍ ﺻِﺮٰﻃﻰ
ﻣُﺴﺘَﻘﻴﻤًﺎ ﻓَﺎﺗَّﺒِﻌﻮﻩُ ۖ ﻭَﻻ
ﺗَﺘَّﺒِﻌُﻮﺍ ﺍﻟﺴُّﺒُﻞَ ﻓَﺘَﻔَﺮَّﻕَ ﺑِﻜُﻢ
ﻋَﻦ ﺳَﺒﻴﻠِﻪِ ۚ ﺫٰﻟِﻜُﻢ ﻭَﺻّﻯٰﻜُﻢ
ﺑِﻪِ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢ ﺗَﺘَّﻘﻮﻥَ
[153] তোমাদেরকে এ নির্দেশ
দিয়েছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ
কর। নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ। অতএব,
এ পথে চল এবং অন্যান্য পথে চলো না।
তা হলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর
পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে।
তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন,
যাতে তোমরা সংযত হও।
[153] “And verily, this (i.e. Allâh’s
Commandments mentioned in the above
two Verses 151 and 152) is my Straight
Path, so follow it, and follow not (other)
paths, for they will separate you away
from His Path. This He has ordained for
you that you may become Al-Muttaqûn
(the pious – see V.2:2).”
[154] ﺛُﻢَّ ﺀﺍﺗَﻴﻨﺎ ﻣﻮﺳَﻰ
ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ﺗَﻤﺎﻣًﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟَّﺬﻯ
ﺃَﺣﺴَﻦَ ﻭَﺗَﻔﺼﻴﻠًﺎ ﻟِﻜُﻞِّ ﺷَﻲﺀٍ
ﻭَﻫُﺪًﻯ ﻭَﺭَﺣﻤَﺔً ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ ﺑِﻠِﻘﺎﺀِ
ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[154] অতঃপর আমি মূসাকে গ্রন্থ
দিয়েছি, সৎকর্মীদের প্রতি
নেয়ামতপূর্ণ করার জন্যে, প্রত্যেক
বস্তুর বিশদ বিবরণের জন্যে,
হোদায়াতের জন্যে এবং করুণার
জন্যে-যাতে তারা স্বীয় পালনকর্তার
সাথে সাক্ষাতে বিশ্বাসী হয়।
[154] Then, We gave Mûsa (Moses) the
Book [the Taurât (Torah)], to complete
(Our Favour) upon those who would do
right, and explaining all things in detail
and a guidance and a mercy that they
might believe in the meeting with their
Lord.
[155] ﻭَﻫٰﺬﺍ ﻛِﺘٰﺐٌ ﺃَﻧﺰَﻟﻨٰﻪُ ﻣُﺒﺎﺭَﻙٌ
ﻓَﺎﺗَّﺒِﻌﻮﻩُ ﻭَﺍﺗَّﻘﻮﺍ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢ
ﺗُﺮﺣَﻤﻮﻥَ
[155] এটি এমন একটি গ্রন্থ, যা আমি
অবতীর্ণ করেছি, খুব মঙ্গলময়, অতএব, এর
অনুসরণ কর এবং ভয় কর-যাতে তোমরা
করুণাপ্রাপ্ত হও।
[155] And this is a blessed Book (the
Qur’ân) which We have sent down, so
follow it and fear Allâh (i.e. do not
disobey His Orders), that you may
receive mercy (i.e. be saved from the
torment of Hell).
[156] ﺃَﻥ ﺗَﻘﻮﻟﻮﺍ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﺃُﻧﺰِﻝَ
ﺍﻟﻜِﺘٰﺐُ ﻋَﻠﻰٰ ﻃﺎﺋِﻔَﺘَﻴﻦِ ﻣِﻦ
ﻗَﺒﻠِﻨﺎ ﻭَﺇِﻥ ﻛُﻨّﺎ ﻋَﻦ ﺩِﺭﺍﺳَﺘِﻬِﻢ
ﻟَﻐٰﻔِﻠﻴﻦَ
[156] এ জন্যে যে, কখনও তোমরা বলতে
শুরু করঃ গ্রন্থ তো কেবল আমাদের
পূর্ববর্তী দু`সম্প্রদায়ের প্রতিই
অবতীর্ণ হয়েছে এবং আমরা সেগুলোর
পাঠ ও পঠন সম্পর্কে কিছুই জানতাম না।
[156] Lest you (pagan Arabs) should say:
“The Book was sent down only to two
sects before us (the Jews and the
Christians), and for our part, we were in
fact unaware of what they studied.”
[157] ﺃَﻭ ﺗَﻘﻮﻟﻮﺍ ﻟَﻮ ﺃَﻧّﺎ ﺃُﻧﺰِﻝَ
ﻋَﻠَﻴﻨَﺎ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐُ ﻟَﻜُﻨّﺎ ﺃَﻫﺪﻯٰ
ﻣِﻨﻬُﻢ ۚ ﻓَﻘَﺪ ﺟﺎﺀَﻛُﻢ ﺑَﻴِّﻨَﺔٌ ﻣِﻦ
ﺭَﺑِّﻜُﻢ ﻭَﻫُﺪًﻯ ﻭَﺭَﺣﻤَﺔٌ ۚ ﻓَﻤَﻦ
ﺃَﻇﻠَﻢُ ﻣِﻤَّﻦ ﻛَﺬَّﺏَ ﺑِـٔﺎﻳٰﺖِ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻭَﺻَﺪَﻑَ ﻋَﻨﻬﺎ ۗ ﺳَﻨَﺠﺰِﻯ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳَﺼﺪِﻓﻮﻥَ ﻋَﻦ ﺀﺍﻳٰﺘِﻨﺎ
ﺳﻮﺀَ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏِ ﺑِﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻳَﺼﺪِﻓﻮﻥَ
[157] কিংবা বলতে শুরু করঃ যদি
আমাদের প্রতি কোন গ্রন্থ অবতীর্ণ
হত, আমরা এদের চাইতে অধিক
পথপ্রাপ্ত হতাম। অতএব, তোমাদের
পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের
কাছে সুষ্পষ্ট প্রমাণ, হেদায়েত ও রহমত
এসে গেছে। অতঃপর সে ব্যক্তির
চাইতে অধিক অনাচারী কে হবে, যে
আল্লাহর আয়াত সমূহকে মিথ্যা বলে
এবং গা বাঁচিয়ে চলে। অতি সত্ত্বর
আমি তাদেরকে শাস্তি দেব। যারা
আমার আয়াত সমূহ থেকে গা বাঁচিয়ে
চলে-জঘন্য শাস্তি তাদের গা
বাঁচানোর কারণে।
[157] Or lest you (pagan Arabs) should
say: “If only the Book had been sent
down to us, we would surely have been
better guided than they (Jews and
Christians).” So now has come unto you a
clear proof (the Qur’ân) from your Lord,
and a guidance and a mercy. Who then
does more wrong than one who rejects
the Ayât (proofs, evidences, verses,
lessons, signs, revelations, etc.) of Allâh
and turns away therefrom? We shall
requite those who turn away from Our
Ayât with an evil torment, because of
their turning away (from them). [Tafsir
At-Tabari].
[158] ﻫَﻞ ﻳَﻨﻈُﺮﻭﻥَ ﺇِﻟّﺎ ﺃَﻥ
ﺗَﺄﺗِﻴَﻬُﻢُ ﺍﻟﻤَﻠٰﺌِﻜَﺔُ ﺃَﻭ ﻳَﺄﺗِﻰَ ﺭَﺑُّﻚَ
ﺃَﻭ ﻳَﺄﺗِﻰَ ﺑَﻌﺾُ ﺀﺍﻳٰﺖِ ﺭَﺑِّﻚَ ۗ
ﻳَﻮﻡَ ﻳَﺄﺗﻰ ﺑَﻌﺾُ ﺀﺍﻳٰﺖِ ﺭَﺑِّﻚَ
ﻻ ﻳَﻨﻔَﻊُ ﻧَﻔﺴًﺎ ﺇﻳﻤٰﻨُﻬﺎ ﻟَﻢ ﺗَﻜُﻦ
ﺀﺍﻣَﻨَﺖ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ ﺃَﻭ ﻛَﺴَﺒَﺖ
ﻓﻰ ﺇﻳﻤٰﻨِﻬﺎ ﺧَﻴﺮًﺍ ۗ ﻗُﻞِ
ﺍﻧﺘَﻈِﺮﻭﺍ ﺇِﻧّﺎ ﻣُﻨﺘَﻈِﺮﻭﻥَ
[158] তারা শুধু এ বিষয়ের দিকে চেয়ে
আছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতা
আগমন করবে কিংবা আপনার
পালনকর্তা আগমন করবেন অথবা
আপনার পালনকর্তার কোন নির্দেশ
আসবে। যেদিন আপনার পালনকর্তার
কোন নিদর্শন আসবে, সেদিন এমন
কোন ব্যক্তির বিশ্বাস স্থাপন তার
জন্যে ফলপ্রসূ হবে না, যে পূর্ব থেকে
বিশ্বাস স্থাপন করেনি কিংবা স্বীয়
বিশ্বাস অনুযায়ী কোনরূপ সৎকর্ম
করেনি। আপনি বলে দিনঃ তোমরা
পথের দিকে চেয়ে থাক, আমরাও পথে
দিকে তাকিয়ে রইলাম।
[158] Do they then wait for anything
other than that the angels should come to
them, or that your Lord (Allah) should
come, or that some of the Signs of your
Lord should come (i.e. portents of the
Hour e.g., arising of the sun from the
west)! The day that some of the Signs of
your Lord do come, no good will it do to
a person to believe then, if he believed
not before, nor earned good (by
performing deeds of righteousness)
through his Faith. Say: “Wait you! we
(too) are waiting.”
[159] ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻓَﺮَّﻗﻮﺍ ﺩﻳﻨَﻬُﻢ
ﻭَﻛﺎﻧﻮﺍ ﺷِﻴَﻌًﺎ ﻟَﺴﺖَ ﻣِﻨﻬُﻢ
ﻓﻰ ﺷَﻲﺀٍ ۚ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﺃَﻣﺮُﻫُﻢ ﺇِﻟَﻰ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺛُﻢَّ ﻳُﻨَﺒِّﺌُﻬُﻢ ﺑِﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻳَﻔﻌَﻠﻮﻥَ
[159] নিশ্চয় যারা স্বীয় ধর্মকে খন্ড-
বিখন্ড করেছে এবং অনেক দল হয়ে
গেছে, তাদের সাথে আপনার কোন
সম্পর্ক নেই। তাদের ব্যাপার আল্লাহ
তা`আয়ালার নিকট সমর্পিত। অতঃপর
তিনি বলে দেবেন যা কিছু তারা করে
থাকে।
[159] Verily, those who divide their
religion and break up into sects (all
kinds of religious sects), you (O
Muhammad SAW) have no concern in
them in the least. Their affair is only
with Allâh, Who then will tell them what
they used to do.
[160] ﻣَﻦ ﺟﺎﺀَ ﺑِﺎﻟﺤَﺴَﻨَﺔِ ﻓَﻠَﻪُ
ﻋَﺸﺮُ ﺃَﻣﺜﺎﻟِﻬﺎ ۖ ﻭَﻣَﻦ ﺟﺎﺀَ
ﺑِﺎﻟﺴَّﻴِّﺌَﺔِ ﻓَﻼ ﻳُﺠﺰﻯٰ ﺇِﻟّﺎ ﻣِﺜﻠَﻬﺎ
ﻭَﻫُﻢ ﻻ ﻳُﻈﻠَﻤﻮﻥَ
[160] যে একটি সৎকর্ম করবে, সে তার
দশগুণ পাবে এবং যে, একটি মন্দ কাজ
করবে, সে তার সমান শাস্তিই পাবে।
বস্তুতঃ তাদের প্রতি জুলুম করা হবে
না।
[160] Whoever brings a good deed
(Islâmic Monotheism and deeds of
obedience to Allâh and His Messenger
SAW) shall have ten times the like
thereof to his credit, and whoever brings
an evil deed (polytheism, disbelief,
hypocrisy, and deeds of disobedience to
Allâh and His Messenger SAW) shall have
only the recompense of the like thereof,
and they will not be wronged.
[161] ﻗُﻞ ﺇِﻧَّﻨﻰ ﻫَﺪﻯٰﻨﻰ ﺭَﺑّﻰ
ﺇِﻟﻰٰ ﺻِﺮٰﻁٍ ﻣُﺴﺘَﻘﻴﻢٍ ﺩﻳﻨًﺎ
ﻗِﻴَﻤًﺎ ﻣِﻠَّﺔَ ﺇِﺑﺮٰﻫﻴﻢَ ﺣَﻨﻴﻔًﺎ ۚ ﻭَﻣﺎ
ﻛﺎﻥَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﺸﺮِﻛﻴﻦَ
[161] আপনি বলে দিনঃ আমার
প্রতিপালক আমাকে সরল পথ প্রদর্শন
করেছেন একাগ্রচিত্ত ইব্রাহীমের
বিশুদ্ধ ধর্ম। সে অংশীবাদীদের
অন্তর্ভূক্ত ছিল না।
[161] Say (O Muhammad SAW): “Truly,
my Lord has guided me to a Straight
Path, a right religion, the religion of
Ibrâhim (Abraham), Hanifa [i.e. the true
Islâmic Monotheism – to believe in One
God (Allâh i.e. to worship none but Allâh,
Alone)] and he was not of Al-Mushrikûn
(see V.2:105).”
[162] ﻗُﻞ ﺇِﻥَّ ﺻَﻼﺗﻰ ﻭَﻧُﺴُﻜﻰ
ﻭَﻣَﺤﻴﺎﻯَ ﻭَﻣَﻤﺎﺗﻰ ﻟِﻠَّﻪِ ﺭَﺏِّ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[162] আপনি বলুনঃ আমার নামায,
আমার কোরবাণী এবং আমার জীবন ও
মরন বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই
জন্যে।
[162] Say (O Muhammad SAW): “Verily,
my Salât (prayer), my sacrifice, my
living, and my dying are for Allâh, the
Lord of the ‘Alamîn (mankind, jinn and
all that exists)
[163] ﻻ ﺷَﺮﻳﻚَ ﻟَﻪُ ۖ ﻭَﺑِﺬٰﻟِﻚَ
ﺃُﻣِﺮﺕُ ﻭَﺃَﻧﺎ۠ ﺃَﻭَّﻝُ ﺍﻟﻤُﺴﻠِﻤﻴﻦَ
[163] তাঁর কোন অংশীদার নেই। আমি
তাই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি প্রথম
আনুগত্যশীল।
[163] “He has no partner. And of this I
have been commanded, and I am the
first of the Muslims.”
[164] ﻗُﻞ ﺃَﻏَﻴﺮَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺑﻐﻰ ﺭَﺑًّﺎ
ﻭَﻫُﻮَ ﺭَﺏُّ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲﺀٍ ۚ ﻭَﻻ
ﺗَﻜﺴِﺐُ ﻛُﻞُّ ﻧَﻔﺲٍ ﺇِﻟّﺎ ﻋَﻠَﻴﻬﺎ ۚ
ﻭَﻻ ﺗَﺰِﺭُ ﻭﺍﺯِﺭَﺓٌ ﻭِﺯﺭَ ﺃُﺧﺮﻯٰ ۚ ﺛُﻢَّ
ﺇِﻟﻰٰ ﺭَﺑِّﻜُﻢ ﻣَﺮﺟِﻌُﻜُﻢ ﻓَﻴُﻨَﺒِّﺌُﻜُﻢ
ﺑِﻤﺎ ﻛُﻨﺘُﻢ ﻓﻴﻪِ ﺗَﺨﺘَﻠِﻔﻮﻥَ
[164] আপনি বলুনঃ আমি কি আল্লাহ
ব্যতীত অন্য প্রতিপালক খোঁজব, অথচ
তিনিই সবকিছুর প্রতিপালক? যে
ব্যক্তি কোন গোনাহ করে, তা তারই
দায়িত্বে থাকে। কেউ অপরের বোঝা
বহন করবে না। অতঃপর তোমাদেরকে
সবাইকে প্রতিপালকের কাছে
প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অনন্তর তিনি
তোমাদেরকে বলে দিবেন, যেসব
বিষয়ে তোমরা বিরোধ করতে।
[164] Say: “Shall I seek a lord other than
Allâh, while He is the Lord of all things?
No person earns any (sin) except against
himself (only), and no bearer of burdens
shall bear the burden of another. Then
unto your Lord is your return, so He will
tell you that wherein you have been
differing.”
[165] ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺟَﻌَﻠَﻜُﻢ
ﺧَﻠٰﺌِﻒَ ﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﺭَﻓَﻊَ ﺑَﻌﻀَﻜُﻢ
ﻓَﻮﻕَ ﺑَﻌﺾٍ ﺩَﺭَﺟٰﺖٍ ﻟِﻴَﺒﻠُﻮَﻛُﻢ
ﻓﻰ ﻣﺎ ﺀﺍﺗﻯٰﻜُﻢ ۗ ﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ
ﺳَﺮﻳﻊُ ﺍﻟﻌِﻘﺎﺏِ ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻐَﻔﻮﺭٌ
ﺭَﺣﻴﻢٌ
[165] তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে
প্রতিনিধি করেছেন এবং একে অন্যের
উপর মর্যাদা সমুন্নত করেছেন, যাতে
তোমাদের কে এ বিষয়ে পরীক্ষা
করেন, যা তোমাদেরকে দিয়েছেন।
আপনার প্রতিপালক দ্রুত শাস্তি দাতা
এবং তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়ালু।
[165] And it is He Who has made you
generations coming after generations,
replacing each other on the earth. And
He has raised you in ranks, some above
others that He may try you in that which
He has bestowed on you. Surely your
Lord is Swift in retribution, and
certainly He is Oft-Forgiving, Most
Merciful.Surah Al An’am Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. সর্ববিধ প্রশংসা আল্লাহরই জন্য যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলোর উদ্ভব করেছেন। তথাপি কাফেররা স্বীয় পালনকর্তার সাথে অন্যান্যকে সমতুল্য স্থির করে। 2. তিনিই তোমাদেরকে মাটির দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর নির্দিষ্টকাল নির্ধারণ করেছেন। আর অপর নির্দিষ্টকাল আল্লাহর কাছে আছে। তথাপি তোমরা সন্দেহ কর। 3. তিনিই আল্লাহ নভোমন্ডলে এবং ভূমন্ডলে। তিনি তোমাদের গোপন ও প্রকাশ্য বিষয় জানেন এবং তোমরা যা কর তাও অবগত। 4. তাদের কাছে তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী থেকে কোন নিদর্শন আসেনি; যার প্রতি তারা বিমুখ হয় না। 5. অতএব, অবশ্য তারা সত্যকে মিথ্যা বলেছে যখন তা তাদের কাছে এসেছে। বস্তুতঃ অচিরেই তাদের কাছে ঐ বিষয়ের সংবাদ আসবে, যার সাথে তারা উপহাস করত। 6. তারা কি দেখেনি যে, আমি তাদের পুর্বে কত সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিয়েছি, যাদেরকে আমি পৃথিবীতে এমন প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলাম, যা তোমাদেরকে দেইনি। আমি আকাশকে তাদের উপর অনবরত বৃষ্টি বর্ষণ করতে দিয়েছি এবং তাদের তলদেশে নদী সৃষ্টি করে দিয়েছি, অতঃপর আমি তাদেরকে তাদের পাপের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছি এবং তাদের পরে অন্য সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছি। 7. যদি আমি কাগজে লিখিত কোন বিষয় তাদের প্রতি নাযিল করতাম, অতঃপর তারা তা সহস্তে স্পর্শ করত, তবুও অবিশ্বাসীরা একথাই বলত যে, এটা প্রকাশ্য জাদু বৈ কিছু নয়। 8. তারা আরও বলে যে, তাঁর কাছে কোন ফেরেশতা কেন প্রেরণ করা হল না? যদি আমি কোন ফেরেশতা প্রেরণ করতাম, তবে গোটা ব্যাপারটাই শেষ হয়ে যেত। অতঃপর তাদেরকে সামান্যও অবকাশ দেওয়া হতনা। 9. যদি আমি কোন ফেরেশতাকে রসূল করে পাঠাতাম, তবে সে মানুষের আকারেই হত। এতেও ঐ সন্দেহই করত, যা এখন করছে। 10. নিশ্চয়ই আপনার পূর্ববর্তী পয়গম্বরগণের সাথেও উপহাস করা হয়েছে। অতঃপর যারা তাঁদের সাথে উপহাস করেছিল, তাদেরকে ঐ শাস্তি বেষ্টন করে নিল, যা নিয়ে তারা উপহাস করত। 11. বলে দিনঃ তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর, অতপর দেখ, মিথ্যারোপ কারীদের পরিণাম কি হয়েছে? 12. জিজ্ঞেস করুন, নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলে যা আছে, তার মালিক কে? বলে দিনঃআল্লাহ। তিনি অনুকম্পা প্রদর্শনকে নিজ দায়িত্বে লিপিবদ্ধ করে নিয়েছেন। তিনি অবশ্যই তোমাদেরকে কেয়ামতের দিন একত্রিত করবেন। এর আগমনে কোন সন্দেহ নেই। যারা নিজেদের কে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তারাই বিশ্বাস স্থাপন করে না। 13. যা কিছু রাত ও দিনে স্থিতি লাভ করে, তাঁরই। তিনিই শ্রোতা, মহাজ্ঞানী। 14. আপনি বলে দিনঃ আমি কি আল্লাহ ব্যতীত- যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের স্রষ্টা এবং যিনি সবাইকে আহার্য দানকরেন ও তাঁকে কেউ আহার্য দান করে না অপরকে সাহায্যকারী স্থির করব? আপনি বলে দিনঃ আমি আদিষ্ট হয়েছি যে, সর্বাগ্রে আমিই আজ্ঞাবহ হব। আপনি কদাচ অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। 15. আপনি বলুন, আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হতে ভয় পাই কেননা, আমি একটি মহাদিবসের শাস্তিকে ভয় করি। 16. যার কাছ থেকে ঐদিন এ শাস্তি সরিয়ে নেওয়া হবে, তার প্রতি আল্লাহর অনুকম্পা হবে। এটাই বিরাট সাফল্য। 17. আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোন কষ্ট দেন, তবে তিনি ব্যতীত তা অপসারণকারী কেউ নেই। পক্ষান্তরে যদি তোমার মঙ্গল করেন, তবে তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। 18. তিনিই পরাক্রান্ত স্বীয় বান্দাদের উপর। তিনিই জ্ঞানময়, সর্বজ্ঞ। 19. আপনি জিজ্ঞেস করুনঃ সর্ববৃহৎ সাক্ষ্যদাতা কে? বলে দিনঃ আল্লাহ আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী। আমার প্রতি এ কোরআন অবর্তীর্ণ হয়েছে-যাতে আমি তোমাদেরকে এবং যাদের কাছে এ কোরআন পৌঁছে সবাইকে ভীতি প্রদর্শন করি। তোমরা কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহর সাথে অন্যান্য উপাস্যও রয়েছে? আপনি বলে দিনঃ আমি এরূপ সাক্ষ্য দেব না। বলে দিনঃ তিনিই একমাত্র উপাস্য; আমি অবশ্যই তোমাদের শিরক থেকে মুক্ত। 20. যাদেরকে আমি কিতাব দান করেছি, তারা তাকে চিনে, যেমন তাদের সন্তানদেরকে চিনে। যারা নিজেদেরকে ক্ষতির মধ্যে ফেলেছে, তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না। 21. আর যে, আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথবা তাঁর নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে, তার চাইতে বড় জালেম কে? নিশ্চয় জালেমরা সফলকাম হবে না। 22. আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব, অতঃপর যারা শিরক করেছিল, তাদের বলবঃ যাদেরকে তোমরা অংশীদার বলে ধারণা করতে, তারা কোথায়? 23. অতঃপর তাদের কোন অপরিচ্ছন্নতা থাকবে না; তবে এটুকুই যে তারা বলবে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর কসম, আমরা মুশরিক ছিলাম না। 24. দেখতো, কিভাবে মিথ্যা বলছে নিজেদের বিপক্ষে? এবং যেসব বিষয় তারা আপনার প্রতি মিছামিছি রচনা করত, তা সবই উধাও হয়ে গেছে। 25. তাদের কেউ কেউ আপনার দিকে কান লাগিয়ে থাকে। আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ রেখে দিয়েছি যাতে একে না বুঝে এবং তাদের কানে বোঝা ভরে দিয়েছি। যদি তারা সব নিদর্শন অবলোকন করে তবুও সেগুলো বিশ্বাস করবে না। এমনকি, তারা যখন আপনার কাছে ঝগড়া করতে আসে, তখন কাফেররা বলেঃ এটি পুর্ববর্তীদের কিচ্ছাকাহিনী বৈ তো নয়। 26. তারা এ থেকে বাধা প্রদান করে এবং এ থেকে পলায়ন করে। তারা নিজেদেরকে ধ্বংস করেছে, কিন্তু বুঝছে না। 27. আর আপনি যদি দেখেন, যখন তাদেরকে দোযখের উপর দাঁড় করানো হবে! তারা বলবেঃ কতই না ভাল হত, যদি আমরা পুনঃ প্রেরিত হতাম; তা হলে আমরা স্বীয় পালনকর্তার নিদর্শনসমূহে মিথ্যারোপ করতাম না এবং আমরা বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম। 28. এবং তারা ইতি পূর্বে যা গোপন করত, তা তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়েছে। যদি তারা পুনঃ প্রেরিত হয়, তবুও তাই করবে, যা তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল। নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী। 29. তারা বলেঃ আমাদের এ পার্থিব জীবনই জীবন। আমাদেরকে পুনরায় জীবিত হতে হবে না। 30. আর যদি আপনি দেখেন; যখন তাদেরকে প্রতিপালকের সামনে দাঁড় করানো হবে। তিনি বলবেনঃ এটা কি বাস্তব সত্য নয়? তারা বলবেঃ হঁ্যা আমাদের প্রতিপালকের কসম। তিনি বলবেনঃ অতএব, স্বীয় কুফরের কারণে শাস্তি আস্বাদন কর। 31. নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত, যারা আল্লাহর সাক্ষাৎকে মিথ্যা মনে করেছে। এমনকি, যখন কিয়ামত তাদের কাছে অকস্মাৎ এসে যাবে, তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এর ব্যাপারে আমরা কতই না ক্রটি করেছি। তার স্বীয় বোঝা স্বীয় পৃষ্ঠে বহন করবে। শুনে রাখ, তারা যে বোঝা বহন করবে, তা নিকৃষ্টতর বোঝা। 32. পার্থিব জীবন ক্রীড়া ও কৌতুক ব্যতীত কিছুই নয়। পরকালের আবাস পরহেযগারদের জন্যে শ্রেষ্টতর। তোমরা কি বুঝ না? 33. আমার জানা আছে যে, তাদের উক্তি আপনাকে দুঃখিত করে। অতএব, তারা আপনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে না, বরং জালেমরা আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করে। 34. আপনার পূর্ববর্তী অনেক পয়গম্বরকে মিথ্যা বলা হয়েছে। তাঁরা এতে ছবর করেছেন। তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছে পর্যন্ত তারা নির্যাতিত হয়েছেন। আল্লাহর বানী কেউ পরিবর্তন করতে পারে না। আপনার কাছে পয়গম্বরদের কিছু কাহিনী পৌঁছেছে। 35. আর যদি তাদের বিমুখতা আপনার পক্ষে কষ্টকর হয়, তবে আপনি যদি ভূতলে কোন সুড়ঙ্গ অথবা আকাশে কোন সিড়ি অনুসন্ধান করতে সমর্থ হন, অতঃপর তাদের কাছে কোন একটি মোজেযা আনতে পারেন, তবে নিয়ে আসুন। আল্লাহ ইচ্ছা করলে সবাইকে সরল পথে সমবেত করতে পারতেন। অতএব, আপনি নির্বোধদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। 36. তারাই মানে, যারা শ্রবণ করে। আল্লাহ মৃতদেরকে জীবিত করে উত্থিত করবেন। অতঃপর তারা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে। 37. তারা বলেঃ তার প্রতি তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হয়নি কেন? বলে দিনঃ আল্লাহ নিদর্শন অবতরণ করতে পূর্ন সক্ষম; কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না। 38. আর যত প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে বিচরণশীল রয়েছে এবং যত প্রকার পাখী দু’ ডানাযোগে উড়ে বেড়ায় তারা সবাই তোমাদের মতই একেকটি শ্রেণী। আমি কোন কিছু লিখতে ছাড়িনি। অতঃপর সবাই স্বীয় প্রতিপালকের কাছে সমবেত হবে। 39. যারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে, তারা অন্ধকারের মধ্যে মূক ও বধির। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন। 40. বলুন, বলতো দেখি, যদি তোমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি পতিত হয় কিংবা তোমাদের কাছে কিয়ামত এসে যায়, তবে তোমরা কি আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে ডাকবে যদি তোমরা সত্যবাদী হও। 41. বরং তোমরা তো তাঁকেই ডাকবে। অতঃপর যে বিপদের জন্যে তাঁকে ডাকবে, তিনি ইচ্ছা করলে তা দুরও করে দেন। যাদেরকে অংশীদার করছ, তখন তাদেরকে ভুলে যাবে। 42. আর আমি আপনার পূর্ববর্তী উম্মতদের প্রতিও পয়গম্বর প্রেরণ করেছিলাম। অতঃপর আমি তাদেরকে অভাব-অনটন ও রোগ-ব্যধি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম যাতে তারা কাকুতি মিনতি করে। 43. অতঃপর তাদের কাছে যখন আমার আযাব আসল, তখন কেন কাকুতি-মিনতি করল না? বস্তুতঃ তাদের অন্তর কঠোর হয়ে গেল এবং শয়তান তাদের কাছে সুশোভিত করে দেখাল, যে কাজ তারা করছিল। 44. অতঃপর তারা যখন ঐ উপদেশ ভুলে গেল, যা তাদেরকে দেয়া হয়েছিল, তখন আমি তাদের সামনে সব কিছুর দ্বার উম্মুক্ত করে দিলাম। এমনকি, যখন তাদেরকে প্রদত্ত বিষয়াদির জন্যে তারা খুব গর্বিত হয়ে পড়ল, তখন আমি অকস্মাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। তখন তারা নিরাশ হয়ে গেল। 45. অতঃপর জালেমদের মূল শিকড় কর্তিত হল। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্যে, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা। 46. আপনি বলুনঃ বল তো দেখি, যদি আল্লাহ তোমাদের কান ও চোখ নিয়ে যান এবং তোমাদের অন্তরে মোহর এঁটে দেন, তবে এবং তোমাদের আল্লাহ ব্যতীত এমন উপাস্য কে আছে, যে তোমাদেরকে এগুলো এনে দেবে? দেখ, আমি কিভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নিদর্শনাবলী বর্ণনা করি। তথাপি তারা বিমুখ হচ্ছে। 47. বলে দিনঃ দেখতো, যদি আল্লাহর শাস্তি, আকস্মিক কিংবা প্রকাশ্যে তোমাদের উপর আসে, তবে জালেম, সম্প্রদায় ব্যতীত কে ধ্বংস হবে? 48. আমি পয়গম্বরদেরকে প্রেরণ করি না, কিন্তু সুসংবাদাতা ও ভীতি প্রদর্শকরূপে অতঃপর যে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সংশোধিত হয়, তাদের কোন শঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না। 49. যারা আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে, তাদেরকে তাদের নাফরমানীর কারণে আযাব স্পর্শ করবে। 50. আপনি বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি অদৃশ্য বিষয় অবগতও নই। আমি এমন বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আমি তো শুধু ঐ ওহীর অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আসে। আপনি বলে দিনঃ অন্ধ ও চক্ষুমান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা কর না? 51. আপনি এ কোরআন দ্বারা তাদেরকে ভয়-প্রদর্শন করুন, যারা আশঙ্কা করে স্বীয় পালনকর্তার কাছে এমতাবস্থায় একত্রিত হওয়ার যে, তাদের কোন সাহায্যকারী ও সুপারিশকারী হবে না-যাতে তারা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে। 52. আর তাদেরকে বিতাড়িত করবেন না, যারা সকাল- বিকাল স্বীয় পালকর্তার এবাদত করে, তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে। তাদের হিসাব বিন্দুমাত্রও আপনার দায়িত্বে নয় এবং আপনার হিসাব বিন্দুমাত্রও তাদের দায়িত্বে নয় যে, আপনি তাদেরকে বিতাড়িত করবেন। নতুবা আপনি অবিচারকারীদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবেন। 53. আর এভাবেই আমি কিছু লোককে কিছু লোক দ্বারা পরীক্ষায় ফেলেছি যাতে তারা বলে যে, এদেরকেই কি আমাদের সবার মধ্য থেকে আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহ দান করেছেন? আল্লাহ কি কৃতজ্ঞদের সম্পর্কে সুপরিজ্ঞাত নন? 54. আর যখন তারা আপনার কাছে আসবে যারা আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করে, তখন আপনি বলে দিনঃ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমাদের পালনকর্তা রহমত করা নিজ দায়িত্বে লিখে নিয়েছেন যে, তোমাদের মধ্যে যে কেউ অজ্ঞতাবশতঃ কোন মন্দ কাজ করে, অনন্তর এরপরে তওবা করে নেয় এবং সৎ হয়ে যায়, তবে তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, করুণাময়। 55. আর এমনিভাবে আমি নিদর্শনসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি- যাতে অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে উঠে। 56. আপনি বলে দিনঃ আমাকে তাদের এবাদত করতে নিষেধ করা হয়েছে, তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে যাদের এবাদত কর। আপনি বলে দিনঃ আমি তোমাদের খুশীমত চলবো না। কেননা, তাহলে আমি পথভ্রান্ত হয়ে যাব এবং সুপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হব না। 57. আপনি বলে দিনঃ আমার কাছে প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি প্রমাণ আছে এবং তোমরা তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছ। তোমরা যে বস্তু শীঘ্র দাবী করছ, তা আমার কাছে নেই। আল্লাহ ছাড়া কারো নির্দেশ চলে না। তিনি সত্য বর্ণনা করেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠতম মীমাংসাকারী। 58. আপনি বলে দিনঃ যদি আমার কাছে তা থাকত, যা তোমরা শীঘ্র দাবী করছ, তবে আমার ও তোমাদের পারস্পরিক বিবাদ কবেই চুকে যেত। আল্লাহ জালেমদের সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণে অবহিত। 59. তাঁর কাছেই অদৃশ্য জগতের চাবি রয়েছে। এ গুলো তিনি ব্যতীত কেউ জানে না। স্থলে ও জলে যা আছে, তিনিই জানেন। কোন পাতা ঝরে না; কিন্তু তিনি তা জানেন। কোন শস্য কণা মৃত্তিকার অন্ধকার অংশে পতিত হয় না এবং কোন আর্দ্র ও শুস্ক দ্রব্য পতিত হয় না; কিন্তু তা সব প্রকাশ্য গ্রন্থে রয়েছে। 60. তিনিই রাত্রি বেলায় তোমাদেরকে করায়ত্ত করে নেন এবং যা কিছু তোমরা দিনের বেলায় কর, তা জানেন। অতঃপর তোমাদেরকে দিবসে সম্মুখিত করেন-যাতে নির্দিষ্ট ওয়াদা পূর্ণ হয়। অনন্তর তাঁরই দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তোমাদেরকে বলে দিবেন, যা কিছু তোমরা করছিলে। 61. তিনিই স্বীয় বান্দাদের উপর প্রবল। তিনি প্রেরণ করেন তোমাদের কাছে রক্ষণাবেক্ষণকারী। এমন কি, যখন তোমাদের কারও মৃত্যু আসে তখন আমার প্রেরিত ফেরেশতারা তার আত্মা হস্তগত করে নেয়। 62. অতঃপর সবাইকে সত্যিকার প্রভু আল্লাহর কাছে পৌঁছানো হবে। শুনে রাখ, ফয়সালা তাঁরই এবং তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণ করবেন। 63. আপনি বলুনঃ কে তোমাদেরকে স্থল ও জলের অন্ধকার থেকে উদ্ধার করেন, যখন তোমরা তাঁকে বিনীতভাবে ও গোপনে আহবান কর যে, যদি আপনি আমাদের কে এ থেকে উদ্ধার করে নেন, তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব। 64. আপনি বলে দিনঃ আল্লাহ তোমাদেরকে তা থেকে মুক্তি দেন এব সব দুঃখ-বিপদ থেকে। তথাপি তোমরা শেরক কর। 65. আপনি বলুনঃ তিনিই শক্তিমান যে, তোমাদের উপর কোন শাস্তি উপর দিক থেকে অথবা তোমাদের পদতল থেকে প্রেরণ করবেন অথবা তোমাদেরকে দলে- উপদলে বিভক্ত করে সবাইকে মুখোমুখী করে দিবেন এবং এককে অন্যের উপর আক্রমণের স্বাদ আস্বাদন করাবেন। দেখ, আমি কেমন ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নিদর্শনাবলী বর্ণনা করি যাতে তারা বুঝে নেয়। 66. আপনার সম্প্রদায় একে মিথ্যা বলছে, অথচ তা সত্য। আপনি বলে দিনঃ আমি তোমাদের উপর নিয়োজিত নই। 67. প্রত্যেক খবরের একটি সময় নির্দিষ্ট রয়েছে এবং অচিরেই তোমরা তা জেনে নিবে। 68. যখন আপনি তাদেরকে দেখেন, যারা আমার আয়াত সমূহে ছিদ্রান্বেষণ করে, তখন তাদের কাছ থেকে সরে যান যে পর্যন্ত তারা অন্য কথায় প্রবৃত্ত না হয়, যদি শয়তান আপনাকে ভূলিয়ে দেয় তবে স্মরণ হওয়ার পর জালেমদের সাথে উপবেশন করবেন না। 69. এদের যখন বিচার করা হবে তখন পরহেযগারদের উপর এর কোন প্রভাব পড়বে না; কিন্তু তাদের দায়িত্ব উপদেশ দান করা যাতে ওরা ভীত হয়। 70. তাদেরকে পরিত্যাগ করুন, যারা নিজেদের ধর্মকে ক্রীড়া ও কৌতুকরূপে গ্রহণ করেছে এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছে। কোরআন দ্বারা তাদেরকে উপদেশ দিন, যাতে কেউ স্বীয় কর্মে এমন ভাবে গ্রেফতার না হয়ে যায় যে, আল্লাহ ব্যতীত তার কোন সাহায্যকারী ও সুপারিশকারী নেই এবং যদি তারা জগতের বিনিময়ও প্রদান কবে, তবু তাদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না। একাই স্বীয় কর্মে জড়িত হয়ে পড়েছে। তাদের জন্যে উত্তপ্ত পানি এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে-কুফরের কারণে। 71. আপনি বলে দিনঃ আমরা কি আল্লাহ ব্যতীত এমন বস্তুকে আহবান করব, যে আমাদের উপকার করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারে না এবং আমরা কি পশ্চাৎপদে ফিরে যাব, এরপর যে, আল্লাহ আমাদেরকে পথ প্রদর্শন করেছেন? ঐ ব্যক্তির মত, যাকে শয়তানরা বনভুমিতে বিপথগামী করে দিয়েছে-সে উদভ্রান্ত হয়ে ঘোরাফেরা করছে। তার সহচররা তাকে পথের দিকে ডেকে বলছেঃ আস, আমাদের কাছে। আপনি বলে দিনঃ নিশ্চয় আল্লাহর পথই সুপথ। আমরা আদিষ্ট হয়েছি যাতে স্বীয় পালনকর্তা আজ্ঞাবহ হয়ে যাই। 72. এবং তা এই যে, নামায কায়েম কর এবং তাঁকে ভয় কর। তাঁর সামনেই তোমরা একত্রিত হবে। 73. তিনিই সঠিকভাবে নভোমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। যেদিন তিনি বলবেনঃ হয়ে যা, অতঃপর হয়ে যাবে। তাঁর কথা সত্য। যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার করা হবে, সেদিন তাঁরই আধিপত্য হবে। তিনি অদৃশ্য বিষয়ে এবং প্রত্যক্ষ বিষয়ে জ্ঞাত। তিনিই প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। 74. স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম পিতা আযরকে বললেনঃ তুমি কি প্রতিমা সমূহকে উপাস্য মনে কর? আমি দেখতে পাচ্ছি যে, তুমি ও তোমার সম্প্রদায় প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট। 75. আমি এরূপ ভাবেই ইব্রাহীমকে নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের অত্যাশ্চর্য বস্তুসমূহ দেখাতে লাগলাম- যাতে সে দৃঢ় বিশ্বাসী হয়ে যায়। 76. অনন্তর যখন রজনীর অন্ধকার তার উপর সমাচ্ছন্ন হল, তখন সে একটি তারকা দেখতে পেল, বললঃ ইহা আমার প্রতিপালক। অতঃপর যখন তা অস্তমিত হল তখন বললঃ আমি অস্তগামীদেরকে ভালবাসি না। 77. অতঃপর যখন চন্দ্রকে ঝলমল করতে দেখল, বললঃ এটি আমার প্রতিপালক। অনন্তর যখন তা অদৃশ্য হয়ে গেল, তখন বলল যদি আমার প্রতিপালক আমাকে পথ-প্রদর্শন না করেন, তবে অবশ্যই আমি বিভ্রান্ত সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব। 78. অতঃপর যখন সূর্যকে চকচক করতে দেখল, বললঃ এটি আমার পালনকর্তা, এটি বৃহত্তর। অতপর যখন তা ডুবে গেল, তখন বলল হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা যেসব বিষয়কে শরীক কর, আমি ওসব থেকে মুক্ত। 79. আমি এক মুখী হয়ে স্বীয় আনন ঐ সত্তার দিকে করেছি, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরেক নই। 80. তাঁর সাথে তার সম্প্রদায় বিতর্ক করল। সে বললঃ তোমরা কি আমার সাথে আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কে বিতর্ক করছ; অথচ তিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করেছেন। তোমরা যাদেরকে শরীক কর, আমি তাদেরকে ভয় করি না তবে আমার পালকর্তাই যদি কোন কষ্ট দিতে চান। আমার পালনকর্তাই প্রত্যেক বস্তুকে স্বীয় জ্ঞান দ্বারা বেষ্টন করে আছেন। তোমরা কি চিন্তা কর না? 81. যাদেরকে তোমরা আল্লাহর সাথে শরীক করে রেখেছ, তাদেরকে কিরূপে ভয় কর, অথচ তোমরা ভয় কর না যে, তোমরা আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে শরীক করছ, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তোমাদের প্রতি কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। অতএব, উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শাস্তি লাভের অধিক যোগ্য কে, যদি তোমরা জ্ঞানী হয়ে থাক। 82. যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে শেরেকীর সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যেই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী। 83. এবং যে আমাদের [অকাট্য] যুক্তি যা আমরা তার লোকদের বিরুদ্ধে আব্রাহাম দিয়েছেন. আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় সমুন্নত করি। আপনার পালনকর্তা প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী 84. আমি তাঁকে দান করেছি ইসহাক এবং এয়াকুব। প্রত্যেককেই আমি পথ প্রদর্শন করেছি এবং পূর্বে আমি নূহকে পথ প্রদর্শন করেছি- তাঁর সন্তানদের মধ্যে দাউদ, সোলায়মান, আইউব, ইউসুফ, মূসা ও হারুনকে। এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। 85. আর ও যাকারিয়া, ইয়াহিয়া, ঈসা এবং ইলিয়াসকে। তারা সবাই পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। 86. এবং ইসরাঈল, ইয়াসা, ইউনূস, লূতকে প্রত্যেককেই আমি সারা বিশ্বের উপর গৌরবাম্বিত করেছি। 87. আর ও তাদের কিছু সংখ্যক পিতৃপুরুষ, সন্তান-সন্ততি ও ভ্রাতাদেরকে; আমি তাদেরকে মনোনীত করেছি এবং সরল পথ প্রদর্শন করেছি। 88. এটি আল্লাহর হেদায়েত। স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা, এপথে চালান। যদি তারা শেরেকী করত, তবে তাদের কাজ কর্ম তাদের জন্যে ব্যর্থ হয়ে যেত। 89. তাদেরকেই আমি গ্রন্থ, শরীয়ত ও নবুয়ত দান করেছি। অতএব, যদি এরা আপনার নবুয়ত অস্বীকার করে, তবে এর জন্যে এমন সম্প্রদায় নির্দিষ্ট করেছি, যারা এতে অবিশ্বাসী হবে না। 90. এরা এমন ছিল, যাদেরকে আল্লাহ পথ প্রদর্শন করেছিলেন। অতএব, আপনিও তাদের পথ অনুসরণ করুন। আপনি বলে দিনঃ আমি তোমাদের কাছে এর জন্যে কোন পারিশ্রমিক চাই না। এটি সারা বিশ্বের জন্যে একটি উপদেশমাত্র। 91. তারা আল্লাহকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারেনি, যখন তারা বললঃ আল্লাহ কোন মানুষের প্রতি কোন কিছু অবতীর্ণ করেননি। আপনি জিজ্ঞেস করুনঃ ঐ গ্রন্থ কে নাযিল করেছে, যা মূসা নিয়ে এসেছিল? যা জ্যোতিবিশেষ এবং মানব মন্ডলীর জন্যে হোদায়েতস্বরূপ, যা তোমরা বিক্ষিপ্তপত্রে রেখে লোকদের জন্যে প্রকাশ করছ এবং বহুলাংশকে গোপন করছ। তোমাদেরকে এমন অনেক বিষয় শিক্ষা দেয়া হয়েছে, যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা জানতো না। আপনি বলে দিনঃ আল্লাহ নাযিল করেছেন। অতঃপর তাদেরকে তাদের ক্রীড়ামূলক বৃত্তিতে ব্যাপৃত থাকতে দিন। 92. এ কোরআন এমন গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ন করেছি; বরকতময়, পূর্ববর্তী গ্রন্থের সত্যতা প্রমাণকারী এবং যাতে আপনি মক্কাবাসী ও পাশ্ববর্তীদেরকে ভয় প্রদর্শন করেন। যারা পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তার স্বীয় নামায সংরক্ষণ করে। 93. ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় জালেম কে হবে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে অথবা বলেঃ আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে। অথচ তার প্রতি কোন ওহী আসেনি এবং যে দাবী করে যে, আমিও নাযিল করে দেখাচ্ছি যেমন আল্লাহ নাযিল করেছেন। যদি আপনি দেখেন যখন জালেমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা স্বীয় হস্ত প্রসারিত করে বলে, বের কর স্বীয় আত্মা! অদ্য তোমাদেরকে অবমাননাকর শাস্তি প্রদান করা হবে। কারণ, তোমরা আল্লাহর উপর অসত্য বলতে এবং তাঁর আয়াত সমূহ থেকে অহংকার করতে। 94. তোমরা আমার কাছে নিঃসঙ্গ হয়ে এসেছ, আমি প্রথমবার তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছিলাম। আমি তোদেরকে যা দিয়েছিলাম, তা পশ্চাতেই রেখে এসেছ। আমি তো তোমাদের সাথে তোমাদের সুপারিশকারীদের কে দেখছি না। যাদের সম্পর্কে তোমাদের দাবী ছিল যে, তারা তোমাদের ব্যাপারে অংশীদার। বাস্তুবিকই তোমাদের পরস্পরের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমাদের দাবী উধাও হয়ে গেছে। 95. নিশ্চয় আল্লাহই বীজ ও আঁটি থেকে অঙ্কুর সৃষ্টিকারী; তিনি জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন ও মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন। তিনি আল্লাহ অতঃপর তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ? 96. তিনি প্রভাত রশ্মির উন্মেষক। তিনি রাত্রিকে আরামদায়ক করেছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে হিসেবের জন্য রেখেছেন। এটি পরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানীর নির্ধারণ। 97. তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্রপুঞ্জ সৃজন করেছেন যাতে তোমরা স্থল ও জলের অন্ধকারে পথ প্রাপ্ত হও। নিশ্চয় যারা জ্ঞানী তাদের জন্যে আমি নির্দেশনাবলী বিস্তারিত বর্ণনা করে দিয়েছি। 98. তিনিই তোমাদের কে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অনন্তর একটি হচ্ছে তোমাদের স্থায়ী ঠিকানা ও একটি হচ্ছে গচ্ছিত স্থল। নিশ্চয় আমি প্রমাণাদি বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি তাদের জন্যে, যারা চিন্তা করে। 99. তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন অতঃপর আমি এর দ্বারা সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি, অতঃপর আমি এ থেকে সবুজ ফসল নির্গত করেছি, যা থেকে যুগ্ম বীজ উৎপন্ন করি। খেজুরের কাঁদি থেকে গুচ্ছ বের করি, যা নুয়ে থাকে এবং আঙ্গুরের বাগান, যয়তুন, আনার পরস্পর সাদৃশ্যযুক্ত এবং সাদৃশ্যহীন। বিভিন্ন গাছের ফলের প্রতি লক্ষ্য কর যখন সেুগুলো ফলন্ত হয় এবং তার পরিপক্কতার প্রতি লক্ষ্য কর। নিশ্চয় এ গুলোতে নিদর্শন রয়েছে ঈমানদারদের জন্যে। 100. তারা জিনদেরকে আল্লাহর অংশীদার স্থির করে; অথচ তাদেরকে তিনিই সৃস্টি করেছেন। তারা অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহর জন্যে পুত্র ও কন্যা সাব্যস্ত করে নিয়েছে। তিনি পবিত্র ও সমুন্নত, তাদের বর্ননা থেকে। 101. তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আদি স্রষ্টা। কিরূপে আল্লাহর পুত্র হতে পারে, অথচ তাঁর কোন সঙ্গী নেই? তিনি যাবতীয় কিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি সব বস্তু সম্পর্কে সুবিজ্ঞ। 102. তিনিই আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনিই সব কিছুর স্রষ্টা। অতএব, তোমরা তাঁরই এবাদত কর। তিনি প্রত্যেক বস্তুর কার্যনির্বাহী। 103. দৃষ্টিসমূহ তাঁকে পেতে পারে না, অবশ্য তিনি দৃষ্টিসমূহকে পেতে পারেন। তিনি অত্যন্ত সুক্ষদর্শী, সুবিজ্ঞ। 104. তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে নিদর্শনাবলী এসে গেছে। অতএব, যে প্রত্যক্ষ করবে, সে নিজেরই উপকার করবে এবং যে অন্ধ হবে, সে নিজেরই ক্ষতি করবে। আমি তোমাদের পর্যবেক্ষক নই। 105. এমনি ভাবে আমি নিদর্শনাবলী ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বর্ণনা করি যাতে তারা না বলে যে, আপনি তো পড়ে নিয়েছেন এবং যাতে আমি একে সুধীবৃন্দের জন্যে খুব পরিব্যক্ত করে দেই। 106. আপনি পথ অনুসরণ করুন, যার আদেশ পালনকর্তার পক্ষ থেকে আসে। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং মুশরিকদের তরফ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। 107. যদি আল্লাহ চাইতেন তবে তারা শেরক করত না। আমি আপনাকে তাদের সংরক্ষক করিনি এবং আপনি তাদের কার্যনির্বাহী নন। 108. তোমরা তাদেরকে মন্দ বলো না, যাদের তারা আরাধনা করে আল্লাহকে ছেড়ে। তাহলে তারা ধৃষ্টতা করে অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহকে মন্দ বলবে। এমনিভাবে আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে তাদের কাজ কর্ম সুশোভিত করে দিয়েছি। অতঃপর স্বীয় পালনকর্তার কাছে তাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন তিনি তাদেরকে বলে দেবেন যা কিছু তারা করত। 109. তারা জোর দিয়ে আল্লাহর কসম খায় যে, যদি তাদের কাছে কোন নিদর্শন আসে, তবে অবশ্যই তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে। আপনি বলে দিনঃ নিদর্শনাবলী তো আল্লাহর কাছেই আছে। হে মুসলমানগণ, তোমাদেরকে কে বলল যে, যখন তাদের কাছে নিদর্শনাবলী আসবে, তখন তারা বিশ্বাস স্থাপন করবেই? 110. আমি ঘুরিয়ে দিব তাদের অন্তর ও দৃষ্টিকে, যেমন-তারা এর প্রতি প্রথমবার বিশ্বাস স্থাপন করেনি এবং আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় উদভ্রান্ত ছেড়ে দিব। 111. আমি যদি তাদের কাছে ফেরেশতাদেরকে অবতারণ করতাম এবং তাদের সাথে মৃতরা কথাবার্তা বলত এবং আমি সব বস্তুকে তাদের সামনে জীবিত করে দিতাম, তথাপি তারা কখনও বিশ্বাস স্থাপনকারী নয়; কিন্তু যদি আল্লাহ চান। কিন্তু তাদের অধিকাংশই মুর্খ। 112. এমনিভাবে আমি প্রত্যেক নবীর জন্যে শত্রু করেছি শয়তান, মানব ও জিনকে। তারা ধোঁকা দেয়ার জন্যে একে অপরকে কারুকার্যখচিত কথাবার্তা শিক্ষা দেয়। যদি আপনার পালনকর্তা চাইতেন, তবে তারা এ কাজ করত না। 113. অতএব, আপনি তাদেরকে এবং তাদের মিথ্যাপবাদকে মুক্ত ছেড়ে দিন যাতে কারুকার্যখচিত বাক্যের প্রতি তাদের মন আকৃষ্ট হয় যারা পরকালে বিশ্বাস করে না এবং তারা একেও পছন্দ করে নেয় এবং যাতে ঐসব কাজ করে, যা তারা করছে। 114. তবে কি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন বিচারক অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত গ্রন্থ অবতীর্ন করেছেন? আমি যাদেরকে গ্রন্থ প্রদান করেছি, তারা নিশ্চিত জানে যে, এটি আপনার প্রতি পালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবর্তীর্ন হয়েছে। অতএব, আপনি সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। 115. আপনার প্রতিপালকের বাক্য পূর্ণ সত্য ও সুষম। তাঁর বাক্যের কোন পরিবর্তনকারী নেই। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী। 116. আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে। 117. আপনার প্রতিপালক তাদের সম্পর্কে খুব জ্ঞাত রয়েছেন, যারা তাঁর পথ থেকে বিপথগামী হয় এবং তিনি তাদেরকেও খুব ভাল করে জানেন, যারা তাঁর পথে অনুগমন করে। 118. অতঃপর যে জন্তুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয়, তা থেকে ভক্ষণ কর যদি তোমরা তাঁর বিধানসমূহে বিশ্বাসী হও। 119. কোন কারণে তোমরা এমন জন্তু থেকে ভক্ষণ করবে না, যার উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয়, অথচ আল্লাহ ঐ সব জন্তুর বিশদ বিবরণ দিয়েছেন, যেগুলোকে তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন; কিন্তু সেগুলোও তোমাদের জন্যে হালাল, যখন তোমরা নিরুপায় হয়ে যাও। অনেক লোক স্বীয় ভ্রান্ত প্রবৃত্তি দ্বারা না জেনে বিপথগামী করতে থাকে। আপনার প্রতিপালক সীমাতিক্রম কারীদেরকে যথার্থই জানেন। 120. তোমরা প্রকাশ্য ও প্রচ্ছন্ন গোনাহ পরিত্যাগ কর। নিশ্চয় যারা গোনাহ করেছে, তারা অতিসত্বর তাদের কৃতকর্মের শাস্তি পাবে। 121. যেসব জন্তুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয় না, সেগুলো থেকে ভক্ষণ করো না; এ ভক্ষণ করা গোনাহ। নিশ্চয় শয়তানরা তাদের বন্ধুদেরকে প্রত্যাদেশ করে- যেন তারা তোমাদের সাথে তর্ক করে। যদি তোমরা তাদের আনুগত্য কর, তোমরাও মুশরেক হয়ে যাবে। 122. আর যে মৃত ছিল অতঃপর আমি তাকে জীবিত করেছি এবং তাকে এমন একটি আলো দিয়েছি, যা নিয়ে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে। সে কি ঐ ব্যক্তির সমতুল্য হতে পারে, যে অন্ধকারে রয়েছে-সেখান থেকে বের হতে পারছে না? এমনিভাবে কাফেরদের দৃষ্টিতে তাদের কাজকর্মকে সুশোভিত করে দেয়া হয়েছে। 123. আর এমনিভাবে আমি প্রত্যেক জনপদে অপরাধীদের জন্য কিছু সর্দার নিয়োগ করেছি-যেন তারা সেখানে চক্রান্ত করে। তাদের সে চক্রান্ত তাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই; কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করতে পারে না। 124. যখন তাদের কাছে কোন আয়াত পৌঁছে, তখন বলে, আমরা কখনই মানব না যে, পর্যন্ত না আমরাও তা প্রদত্ত হই, যা আল্লাহর রসূলগণ প্রদত্ত হয়েছেন। আল্লাহ এ বিষয়ে সুপারিজ্ঞাত যে, কোথায় স্বীয় পয়গাম প্রেরণ করতে হবে। যারা অপরাধ করছে, তারা অতিসত্বর আল্লাহর কাছে পৌছে লাঞ্ছনা ও কঠোর শাস্তি পাবে, তাদের চক্রান্তের কারণে। 125. অতঃপর আল্লাহ যাকে পথ-প্রদর্শন করতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্যে উম্মুক্ত করে দেন এবং যাকে বিপথগামী করতে চান, তার বক্ষকে সংকীর্ণ অত্যধিক সংকীর্ণ করে দেন-যেন সে সবেগে আকাশে আরোহণ করছে। এমনি ভাবে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না। আল্লাহ তাদের উপর আযাব বর্ষন করেন। 126. আর এটাই আপনার পালনকর্তার সরল পথ। আমি উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্যে আয়াতসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ননা করেছি। 127. তাদের জন্যেই তাদের প্রতিপালকের কাছে নিরাপত্তার গৃহ রয়েছে এবং তিনি তাদের বন্ধু তাদের কর্মের কারণে। 128. যেদিন আল্লাহ সবাইকে একত্রিত করবেন, হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা মানুষদের মধ্যে অনেককে অনুগামী করে নিয়েছ। তাদের মানব বন্ধুরা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা পরস্পরে পরস্পরের মাধ্যমে ফল লাভ করেছি। আপনি আমাদের জন্যে যে সময় নির্ধারণ করেছিলেন, আমরা তাতে উপনীত হয়েছি। আল্লাহ বলবেনঃ আগুন হল তোমাদের বাসস্থান। তথায় তোমরা চিরকাল অবস্থান করবে; কিন্তু যখন চাইবেন আল্লাহ। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী। 129. এমনিভাবে আমি পাপীদেরকে একে অপরের সাথে যুক্ত করে দেব তাদের কাজকর্মের কারণে। 130. হে জ্বিন ও মানব সম্প্রদায়, তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে পয়গম্বরগণ আগমন করেনি? যাঁরা তোমাদেরকে আমার বিধানাবলী বর্ণনা করতেন এবং তোমাদেরকে আজকের এ দিনের সাক্ষাতের ভীতি প্রদর্শন করতেন? তারা বলবেঃ আমরা স্বীয় গোনাহ স্বীকার করে নিলাম। পার্থিব জীবন তাদেরকে প্রতারিত করেছে। তারা নিজেদের বিরুদ্ধে স্বীকার করে নিয়েছে যে, তারা কাফের ছিল। 131. এটা এ জন্যে যে, আপনার প্রতিপালক কোন জনপদের অধিবাসীদেরকে জুলুমের কারণে ধ্বংস করেন না এমতাবস্থায় যে, তথাকার অধিবাসীরা অজ্ঞ থাকে। 132. প্রত্যেকের জন্যে তাদের কর্মের আনুপাতিক মর্যাদা আছে এবং আপনার প্রতিপালক তাদের কর্ম সম্পর্কে বেখবর নন। 133. আপনার প্রতিপালক অমুখাপেক্ষী, করুণাময়। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সবাইকে উচ্ছেদ করে দিবেন এবং তোমাদের পর যাকে ইচ্ছা তোমাদের স্থলে অভিষিক্ত করবেন; যেমন তোমাদেরকে অন্য এক সম্প্রদায়ের বংশধর থেকে সৃষ্টি করেছেন। 134. যে বিষয়ের ওয়াদা তোমাদের সাথে করা হয়, তা অবশ্যই আগমন করবে এবং তোমরা অক্ষম করতে পারবে না। 135. আপনি বলে দিনঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা স্বস্থানে কাজ করে যাও, আমিও কাজ করি। অচিরেই জানতে পারবে যে, পরিণাম গৃহ কে লাভ করে। নিশ্চয় জালেমরা সুফলপ্রাপ্ত হবে না। 136. আল্লাহ যেসব শস্যক্ষেত্র ও জীবজন্তু সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো থেকে তারা এক অংশ আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করে অতঃপর নিজ ধারণা অনুসারে বলে এটা আল্লাহর এবং এটা আমাদের অংশীদারদের। অতঃপর যে অংশ তাদের অংশীদারদের, তা তো আল্লাহর দিকে পৌঁছে না এবং যা আল্লাহর তা তাদের উপাস্যদের দিকে পৌছে যায়। তাদের বিচার কতই না মন্দ। 137. এমনিভাবে অনেক মুশরেকের দৃষ্টিতে তাদের উপাস্যরা সন্তান হত্যাকে সুশোভিত করে দিয়েছে যেন তারা তাদেরকে বিনষ্ট করে দেয় এবং তাদের ধর্মমতকে তাদের কাছে বিভ্রান্ত করে দেয়। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তারা এ কাজ করত না। অতএব, আপনি তাদেরকে এবং তাদের মনগড়া বুলিকে পরিত্যাগ করুন। 138. তারা বলেঃ এসব চতুষ্পদ জন্তু ও শস্যক্ষেত্র নিষিদ্ধ। আমরা যাকে ইচছা করি, সে ছাড়া এগুলো কেউ খেতে পারবে না, তাদের ধারণা অনুসারে। আর কিছুসংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর পিঠে আরোহন হারাম করা হয়েছে এবং কিছু সংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর উপর তারা ভ্রান্ত ধারনা বশতঃ আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে না, তাদের মনগড়া বুলির কারণে, অচিরেই তিনি তাদের কে শাস্তি দিবেন। 139. তারা বলেঃ এসব চতুষ্পদ জন্তুর পেটে যা আছে, তা বিশেষ ভাবে আমাদের পুরুষদের জন্যে এবং আমাদের মহিলাদের জন্যে তা হারাম। যদি তা মৃত হয়, তবে তার প্রাপক হিসাবে সবাই সমান। অচিরেই তিনি তাদেরকে তাদের বর্ণনার শাস্তি দিবেন। তিনি প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী। 140. নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা নিজ সন্তানদেরকে নির্বুদ্ধিতাবশতঃ কোন প্রমাণ ছাড়াই হত্যা করেছে এবং আল্লাহ তাদেরকে যেসব দিয়েছিলেন, সেগুলোকে আল্লাহর প্রতি ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করে হারাম করে নিয়েছে। নিশ্চিতই তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং সুপথগামী হয়নি। 141. তিনিই উদ্যান সমূহ সৃষ্টি করেছে-তাও, যা মাচার উপর তুলে দেয়া হয়, এবং যা মাচার উপর তোলা হয় না এবং খর্জুর বৃক্ষ ও শস্যক্ষেত্র যেসবের স্বাদবিশিষ্ট এবং যয়তুন ও আনার সৃষ্টি করেছেন-একে অন্যের সাদৃশ্যশীল এবং সাদৃশ্যহীন। এগুলোর ফল খাও, যখন ফলন্ত হয় এবং হক দান কর কর্তনের সময়ে এবং অপব্যয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না। 142. তিনি সৃষ্টি করেছেন চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে বোঝা বহনকারীকে এবং খর্বাকৃতিকে। আল্লাহ তোমাদেরকে যা কিছু দিয়েছেন, তা থেকে খাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। 143. সৃষ্টি করেছেন আটটি নর ও মাদী। ভেড়ার মধ্যে দুই প্রকার ও ছাগলের মধ্যে দুই প্রকার। জিজ্ঞেস করুন, তিনি কি উভয় নর হারাম করেছেন, না উভয় মাদীকে? না যা উভয় মাদীর পেটে আছে? তোমরা আমাকে প্রমাণসহ বল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। 144. সৃষ্টি করেছেন উটের মধ্যে দুই প্রকার এবং গরুর মধ্যে দুই প্রকার। আপনি জিজ্ঞেস করুনঃ তিনি কি উভয় নর হারাম করেছেন, না উভয় মাদীকে, না যা উভয় মাদীর পেটে আছে? তোমরা কি উপস্থিত ছিলে, যখন আল্লাহ এ নির্দেশ দিয়েছিলেন? অতএব সে ব্যক্তি অপেক্ষা বেশী অত্যচারী কে, যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা ধারণা পোষন করে যাতে করে মানুষকে বিনা প্রমাণে পথভ্রষ্ট করতে পারে? নিশ্চয় আল্লাহ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না। 145. আপনি বলে দিনঃ যা কিছু বিধান ওহীর মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছেছে, তন্মধ্যে আমি কোন হারাম খাদ্য পাই না কোন ভক্ষণকারীর জন্যে, যা সে ভক্ষণ করে; কিন্তু মৃত অথবা প্রবাহিত রক্ত অথবা শুকরের মাংস এটা অপবিত্র অথবা অবৈধ; যবেহ করা জন্তু যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়। অতপর যে ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে এমতাবস্থায় যে অবাধ্যতা করে না এবং সীমালঙ্গন করে না, নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল দয়ালু। 146. ইহুদীদের জন্যে আমি প্রত্যেক নখবিশিষ্ট জন্তু হারাম করেছিলাম এবং ছাগল ও গরু থেকে এতদুভয়ের চর্বি আমি তাদের জন্যে হারাম করেছিলাম, কিন্তু ঐ চর্বি, যা পৃষ্টে কিংবা অন্ত্রে সংযুক্ত থাকে অথবা অস্থির সাথে মিলিত থাকে। তাদের অবাধ্যতার কারণে আমি তাদেরকে এ শাস্তি দিয়েছিলাম। আর আমি অবশ্যই সত্যবাদী। 147. যদি তারা আপনাকে মিথ্যবাদী বলে, তবে বলে দিনঃ তোমার প্রতিপালক সুপ্রশস্ত করুণার মালিক। তাঁর শাস্তি অপরাধীদের উপর থেকে টলবে না। 148. এখন মুশরেকরা বলবেঃ যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন, তবে না আমরা শিরক করতাম, না আমাদের বাপ দাদারা এবং না আমরা কোন বস্তুকে হারাম করতাম। এমনিভাবে তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যারোপ করেছে, এমন কি তারা আমার শাস্তি আস্বাদন করেছে। আপনি বলুনঃ তোমাদের কাছে কি কোন প্রমাণ আছে যা আমাদেরকে দেখাতে পার। তোমরা শুধুমাত্র আন্দাজের অনুসরণ কর এবং তোমরা শুধু অনুমান করে কথা বল। 149. আপনি বলে দিনঃ অতএব, পরিপূর্ন যুক্তি আল্লাহরই। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সবাইকে পথ প্রদর্শন করতেন। 150. আপনি বলুনঃ তোমাদের সাক্ষীদেরকে আন, যারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ তা’আলা এগুলো হারাম করেছেন। যদি তারা সাক্ষ্য দেয়, তবে আপনি এ সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন না এবং তাদের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না, যারা আমার নির্দেশাবলীকে মিথ্যা বলে, যারা পরকালে বিশ্বাস করে না এবং যারা স্বীয় প্রতিপালকের সমতুল্য অংশীদার করে। 151. আপনি বলুনঃ এস, আমি তোমাদেরকে ঐসব বিষয় পাঠ করে শুনাই, যেগুলো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন। তাএই যে, আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না, ও মা, ভালো চিকিত্সা, এবং আপনার সন্তানদের দারিদ্র্যের না বধ আউট; আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার দেই, নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য, যাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করো না; কিন্তু ন্যায়ভাবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা বুঝ। 152. এতীমদের ধনসম্পদের কাছেও যেয়ো না; কিন্তু উত্তম পন্থায় যে পর্যন্ত সে বয়ঃপ্রাপ্ত না হয়। ওজন ও মাপ পূর্ণ কর ন্যায় সহকারে। আমি কাউকে তার সাধ্যের অতীত কষ্ট দেই না। যখন তোমরা কথা বল, তখন সুবিচার কর, যদিও সে আত্নীয়ও হয়। আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। 153. নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ। অতএব, এ পথে চল এবং অন্যান্য পথে চলো না। তা হলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা সংযত হও। 154. অতঃপর আমি মূসাকে গ্রন্থ দিয়েছি, সৎকর্মীদের প্রতি নেয়ামতপূর্ণ করার জন্যে, প্রত্যেক বস্তুর বিশদ বিবরণের জন্যে, হোদায়াতের জন্যে এবং করুণার জন্যে- যাতে তারা স্বীয় পালনকর্তার সাথে সাক্ষাতে বিশ্বাসী হয়। 155. এটি এমন একটি গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ণ করেছি, খুব মঙ্গলময়, অতএব, এর অনুসরণ কর এবং ভয় কর-যাতে তোমরা করুণাপ্রাপ্ত হও। 156. এ জন্যে যে, কখনও তোমরা বলতে শুরু করঃ গ্রন্থ তো কেবল আমাদের পূর্ববর্তী দু’সম্প্রদায়ের প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছে এবং আমরা সেগুলোর পাঠ ও পঠন সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। 157. কিংবা বলতে শুরু করঃ যদি আমাদের প্রতি কোন গ্রন্থ অবতীর্ণ হত, আমরা এদের চাইতে অধিক পথপ্রাপ্ত হতাম। অতএব, তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সুষ্পষ্ট প্রমাণ, হেদায়েত ও রহমত এসে গেছে। অতঃপর সে ব্যক্তির চাইতে অধিক অনাচারী কে হবে, যে আল্লাহর আয়াত সমূহকে মিথ্যা বলে এবং গা বাঁচিয়ে চলে। অতি সত্ত্বর আমি তাদেরকে শাস্তি দেব। যারা আমার আয়াত সমূহ থেকে গা বাঁচিয়ে চলে-জঘন্য শাস্তি তাদের গা বাঁচানোর কারণে। 158. তারা শুধু এ বিষয়ের দিকে চেয়ে আছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতা আগমন করবে কিংবা আপনার পালনকর্তা আগমন করবেন অথবা আপনার পালনকর্তার কোন নির্দেশ আসবে। যেদিন আপনার পালনকর্তার কোন নিদর্শন আসবে, সেদিন এমন কোন ব্যক্তির বিশ্বাস স্থাপন তার জন্যে ফলপ্রসূ হবে না, যে পূর্ব থেকে বিশ্বাস স্থাপন করেনি কিংবা স্বীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কোনরূপ সৎকর্ম করেনি। আপনি বলে দিনঃ তোমরা পথের দিকে চেয়ে থাক, আমরাও পথে দিকে তাকিয়ে রইলাম। 159. নিশ্চয় যারা স্বীয় ধর্মকে খন্ড-বিখন্ড করেছে এবং অনেক দল হয়ে গেছে, তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই। তাদের ব্যাপার আল্লাহ তা’আয়ালার নিকট সমর্পিত। অতঃপর তিনি বলে দেবেন যা কিছু তারা করে থাকে। 160. যে একটি সৎকর্ম করবে, সে তার দশগুণ পাবে এবং যে, একটি মন্দ কাজ করবে, সে তার সমান শাস্তিই পাবে। বস্তুতঃ তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না। 161. আপনি বলে দিনঃ আমার প্রতিপালক আমাকে সরল পথ প্রদর্শন করেছেন একাগ্রচিত্ত ইব্রাহীমের বিশুদ্ধ ধর্ম। সে অংশীবাদীদের অন্তর্ভূক্ত ছিল না। 162. আপনি বলুনঃ আমার নামায, আমার কোরবাণী এবং আমার জীবন ও মরন বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে। 163. তাঁর কোন অংশীদার নেই। আমি তাই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি প্রথম আনুগত্যশীল। 164. আপনি বলুনঃ আমি কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য প্রতিপালক খোঁজব, অথচ তিনিই সবকিছুর প্রতিপালক? যে ব্যক্তি কোন গোনাহ করে, তা তারই দায়িত্বে থাকে। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। অতঃপর তোমাদেরকে সবাইকে প্রতিপালকের কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অনন্তর তিনি তোমাদেরকে বলে দিবেন, যেসব বিষয়ে তোমরা বিরোধ করতে। 165. তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছেন এবং একে অন্যের উপর মর্যাদা সমুন্নত করেছেন, যাতে তোমাদের কে এ বিষয়ে পরীক্ষা করেন, যা তোমাদেরকে দিয়েছেন। আপনার প্রতিপালক দ্রুত শাস্তি দাতা এবং তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়ালু। ***

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s