7.সুরা আল – আরাফ(01-206)


ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম
করুণাময়, অতি দয়ালু
[1] ﺍﻟﻤﺺ
[1] আলিফ, লাম, মীম, ছোয়াদ।
[1] Alif-Lâm-Mîm-Sâd. [These letters are
one of the miracles of the Qur’ân and
none but Allâh (Alone) knows their
meanings].
[2] ﻛِﺘٰﺐٌ ﺃُﻧﺰِﻝَ ﺇِﻟَﻴﻚَ ﻓَﻼ ﻳَﻜُﻦ
ﻓﻰ ﺻَﺪﺭِﻙَ ﺣَﺮَﺝٌ ﻣِﻨﻪُ ﻟِﺘُﻨﺬِﺭَ
ﺑِﻪِ ﻭَﺫِﻛﺮﻯٰ ﻟِﻠﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[2] এটি একটি গ্রন্থ, যা আপনার প্রতি
অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে করে আপনি এর
মাধ্যমে ভীতি-প্রদর্শন করেন। অতএব,
এটি পৌছে দিতে আপনার মনে
কোনরূপ সংকীর্ণতা থাকা উচিত নয়।
আর এটিই বিশ্বাসীদের জন্যে উপদেশ।
[2] (This is the) Book (the Qur’ân) sent
down unto you (O Muhammad SAW), so
let not your breast be narrow therefrom,
that you warn thereby, and a reminder
unto the believers.
[3] ﺍﺗَّﺒِﻌﻮﺍ ﻣﺎ ﺃُﻧﺰِﻝَ ﺇِﻟَﻴﻜُﻢ ﻣِﻦ
ﺭَﺑِّﻜُﻢ ﻭَﻻ ﺗَﺘَّﺒِﻌﻮﺍ ﻣِﻦ ﺩﻭﻧِﻪِ
ﺃَﻭﻟِﻴﺎﺀَ ۗ ﻗَﻠﻴﻠًﺎ ﻣﺎ ﺗَﺬَﻛَّﺮﻭﻥَ
[3] তোমরা অনুসরণ কর, যা তোমাদের
প্রতি পালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ
হয়েছে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য
সাথীদের অনুসরণ করো না।
[3] [Say (O Muhammad SAW) to these
idolaters (pagan Arabs) of your folk:]
Follow what has been sent down unto
you from your Lord (the Qur’ân and
Prophet Muhammad’s Sunnah), and
follow not any Auliyâ’ (protectors and
helpers who order you to associate
partners in worship with Allâh), besides
Him (Allâh). Little do you remember!
[4] ﻭَﻛَﻢ ﻣِﻦ ﻗَﺮﻳَﺔٍ ﺃَﻫﻠَﻜﻨٰﻬﺎ
ﻓَﺠﺎﺀَﻫﺎ ﺑَﺄﺳُﻨﺎ ﺑَﻴٰﺘًﺎ ﺃَﻭ ﻫُﻢ
ﻗﺎﺋِﻠﻮﻥَ
[4] আর তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ কর।
অনেক জনপদকে আমি ধ্বংস করে
দিয়েছি। তাদের কাছে আমার আযাব
রাত্রি বেলায় পৌছেছে অথবা
দ্বিপ্রহরে বিশ্রামরত অবস্থায়।
[4] And a great number of towns (their
population) We destroyed (for their
crimes). Our torment came upon them
(suddenly) by night or while they were
taking their midday nap.
[5] ﻓَﻤﺎ ﻛﺎﻥَ ﺩَﻋﻮﻯٰﻬُﻢ ﺇِﺫ
ﺟﺎﺀَﻫُﻢ ﺑَﺄﺳُﻨﺎ ﺇِﻟّﺎ ﺃَﻥ ﻗﺎﻟﻮﺍ
ﺇِﻧّﺎ ﻛُﻨّﺎ ﻇٰﻠِﻤﻴﻦَ
[5] অনন্তর যখন তাদের কাছে আমার
আযাব উপস্থিত হয়, তখন তাদের কথা এই
ছিল যে, তারা বললঃ নিশ্চয় আমরা
অত্যাচারী ছিলাম।
[5] No cry did they utter when Our
Torment came upon them but this:
“Verily, we were Zâlimûn (polytheists
and wrong-doers)”.
[6] ﻓَﻠَﻨَﺴـَٔﻠَﻦَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺃُﺭﺳِﻞَ
ﺇِﻟَﻴﻬِﻢ ﻭَﻟَﻨَﺴـَٔﻠَﻦَّ ﺍﻟﻤُﺮﺳَﻠﻴﻦَ
[6] অতএব, আমি অবশ্যই তাদেরকে
জিজ্ঞেস করব যাদের কাছে রসূল
প্রেরিত হয়েছিল এবং আমি অবশ্যই
তাদেরকে জিজ্ঞেস করব রসূলগণকে।
[6] Then surely, We shall question those
(people) to whom it (the Book) was sent
and verily, We shall question the
Messengers.
[7] ﻓَﻠَﻨَﻘُﺼَّﻦَّ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺑِﻌِﻠﻢٍ ۖ ﻭَﻣﺎ
ﻛُﻨّﺎ ﻏﺎﺋِﺒﻴﻦَ
[7] অতঃপর আমি স্বজ্ঞানে তাদের
কাছে অবস্থা বর্ণনা করব। বস্তুতঃ
আমি অনুপস্থিত তো ছিলাম না।
[7] Then surely, We shall narrate unto
them (their whole story) with knowledge,
and indeed We were not been absent.
[8] ﻭَﺍﻟﻮَﺯﻥُ ﻳَﻮﻣَﺌِﺬٍ ﺍﻟﺤَﻖُّ ۚ
ﻓَﻤَﻦ ﺛَﻘُﻠَﺖ ﻣَﻮٰﺯﻳﻨُﻪُ ﻓَﺄُﻭﻟٰﺌِﻚَ
ﻫُﻢُ ﺍﻟﻤُﻔﻠِﺤﻮﻥَ
[8] আর সেদিন যথার্থই ওজন হবে।
অতঃপর যাদের পাল্লা ভারী হবে,
তারাই সফলকাম হবে।
[8] And the weighing on that day (Day of
Resurrection) will be the true (weighing).
So as for those whose scale (of good
deeds) will be heavy, they will be the
successful (by entering Paradise).
[9] ﻭَﻣَﻦ ﺧَﻔَّﺖ ﻣَﻮٰﺯﻳﻨُﻪُ
ﻓَﺄُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺧَﺴِﺮﻭﺍ
ﺃَﻧﻔُﺴَﻬُﻢ ﺑِﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ
ﻳَﻈﻠِﻤﻮﻥَ
[9] এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে,
তারাই এমন হবে, যারা নিজেদের
ক্ষতি করেছে। কেননা, তারা আমার
আয়াত সমূহ অস্বীকার করতো।
[9] And as for those whose scale will be
light, they are those who will lose their
ownselves (by entering Hell) because
they denied and rejected Our Ayât
(proofs, evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.).
[10] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﻣَﻜَّﻨّٰﻜُﻢ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﻭَﺟَﻌَﻠﻨﺎ ﻟَﻜُﻢ ﻓﻴﻬﺎ ﻣَﻌٰﻴِﺶَ ۗ
ﻗَﻠﻴﻠًﺎ ﻣﺎ ﺗَﺸﻜُﺮﻭﻥَ
[10] আমি তোমাদেরকে পৃথিবীতে
ঠাই দিয়েছি এবং তোমাদের
জীবিকা নির্দিষ্ট করে দিয়েছি।
তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
[10] And surely, We gave you authority
on the earth and appointed for you
therein provisions (for your life). Little
thanks do you give.
[11] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺧَﻠَﻘﻨٰﻜُﻢ ﺛُﻢَّ
ﺻَﻮَّﺭﻧٰﻜُﻢ ﺛُﻢَّ ﻗُﻠﻨﺎ ﻟِﻠﻤَﻠٰﺌِﻜَﺔِ
ﺍﺳﺠُﺪﻭﺍ ﻝِﺀﺍﺩَﻡَ ﻓَﺴَﺠَﺪﻭﺍ
ﺇِﻟّﺎ ﺇِﺑﻠﻴﺲَ ﻟَﻢ ﻳَﻜُﻦ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺴّٰﺠِﺪﻳﻦَ
[11] আর আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি
করেছি, এরপর আকার-অবয়ব, তৈরী
করেছি। অতঃপর আমি
ফেরেশতাদেরকে বলছি-আদমকে
সেজদা কর তখন সবাই সেজদা করেছে,
কিন্তু ইবলীস সে সেজদাকারীদের
অন্তর্ভূক্ত ছিল না।
[11] And surely, We created you (your
father Adam) and then gave you shape
(the noble shape of a human being);
then We told the angels, “Prostrate
yourselves to Adam”, and they prostrated
themselves, except Iblîs (Satan), he
refused to be of those who prostrated
themselves.
[12] ﻗﺎﻝَ ﻣﺎ ﻣَﻨَﻌَﻚَ ﺃَﻟّﺎ ﺗَﺴﺠُﺪَ
ﺇِﺫ ﺃَﻣَﺮﺗُﻚَ ۖ ﻗﺎﻝَ ﺃَﻧﺎ۠ ﺧَﻴﺮٌ ﻣِﻨﻪُ
ﺧَﻠَﻘﺘَﻨﻰ ﻣِﻦ ﻧﺎﺭٍ ﻭَﺧَﻠَﻘﺘَﻪُ ﻣِﻦ
ﻃﻴﻦٍ
[12] আল্লাহ বললেনঃ আমি যখন
নির্দেশ দিয়েছি, তখন তোকে কিসে
সেজদা করতে বারণ করল? সে বললঃ
আমি তার চাইতে শ্রেষ্ট। আপনি
আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন
এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির
দ্বারা।
[12] (Allâh) said: “What prevented you (O
Iblîs) that you did not prostrate yourself,
when I commanded you?” Iblîs said: “I
am better than him (Adam), You created
me from fire, and him You created from
clay.”
[13] ﻗﺎﻝَ ﻓَﺎﻫﺒِﻂ ﻣِﻨﻬﺎ ﻓَﻤﺎ
ﻳَﻜﻮﻥُ ﻟَﻚَ ﺃَﻥ ﺗَﺘَﻜَﺒَّﺮَ ﻓﻴﻬﺎ
ﻓَﺎﺧﺮُﺝ ﺇِﻧَّﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺼّٰﻐِﺮﻳﻦَ
[13] বললেন তুই এখান থেকে যা। এখানে
অহংকার করার কোন অধিকার তোর
নাই। অতএব তুই বের হয়ে যা। তুই
হীনতমদের অন্তর্ভুক্ত।
[13] (Allâh) said: “(O Iblîs) get down from
this (Paradise), it is not for you to be
arrogant here. Get out, for you are of
those humiliated and disgraced.”
[14] ﻗﺎﻝَ ﺃَﻧﻈِﺮﻧﻰ ﺇِﻟﻰٰ ﻳَﻮﻡِ
ﻳُﺒﻌَﺜﻮﻥَ
[14] সে বললঃ আমাকে কেয়ামত দিবস
পর্যন্ত অবকাশ দিন।
[14] (Iblîs) said: “Allow me respite till the
Day they are raised up (i.e. the Day of
Resurrection).”
[15] ﻗﺎﻝَ ﺇِﻧَّﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﻨﻈَﺮﻳﻦَ
[15] আল্লাহ বললেনঃ তোকে সময়
দেয়া হল।
[15] (Allâh) said: “You are of those
respited.”
[16] ﻗﺎﻝَ ﻓَﺒِﻤﺎ ﺃَﻏﻮَﻳﺘَﻨﻰ
ﻟَﺄَﻗﻌُﺪَﻥَّ ﻟَﻬُﻢ ﺻِﺮٰﻃَﻚَ
ﺍﻟﻤُﺴﺘَﻘﻴﻢَ
[16] সে বললঃ আপনি আমাকে যেমন
উদভ্রান্ত করেছেন, আমিও অবশ্য
তাদের জন্যে আপনার সরল পথে বসে
থাকবো।
[16] (Iblîs) said: “Because You have sent
me astray, surely I will sit in wait
against them (human beings) on Your
Straight Path
[17] ﺛُﻢَّ ﻝَﺀﺍﺗِﻴَﻨَّﻬُﻢ ﻣِﻦ ﺑَﻴﻦِ
ﺃَﻳﺪﻳﻬِﻢ ﻭَﻣِﻦ ﺧَﻠﻔِﻬِﻢ ﻭَﻋَﻦ
ﺃَﻳﻤٰﻨِﻬِﻢ ﻭَﻋَﻦ ﺷَﻤﺎﺋِﻠِﻬِﻢ ۖ ﻭَﻻ
ﺗَﺠِﺪُ ﺃَﻛﺜَﺮَﻫُﻢ ﺷٰﻜِﺮﻳﻦَ
[17] এরপর তাদের কাছে আসব তাদের
সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে,
ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে।
আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ
পাবেন না।
[17] Then I will come to them from
before them and behind them, from
their right and from their left, and You
will not find most of them as thankful
ones (i.e. they will not be dutiful to
You).”
[18] ﻗﺎﻝَ ﺍﺧﺮُﺝ ﻣِﻨﻬﺎ ﻣَﺬﺀﻭﻣًﺎ
ﻣَﺪﺣﻮﺭًﺍ ۖ ﻟَﻤَﻦ ﺗَﺒِﻌَﻚَ ﻣِﻨﻬُﻢ
ﻟَﺄَﻣﻠَﺄَﻥَّ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﻣِﻨﻜُﻢ ﺃَﺟﻤَﻌﻴﻦَ
[18] আল্লাহ বললেনঃ বের হয়ে যা
এখান থেকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত
হয়ে। তাদের যে কেউ তোর পথেচলবে,
নিশ্চয় আমি তোদের সবার দ্বারা
জাহান্নাম পূর্ণ করে দিব।
[18] (Allâh) said (to Iblîs) “Get out from
this (Paradise) disgraced and expelled.
Whoever of them (mankind) will follow
you, then surely I will fill Hell with you
all.”
[19] ﻭَﻳٰـٔﺎﺩَﻡُ ﺍﺳﻜُﻦ ﺃَﻧﺖَ
ﻭَﺯَﻭﺟُﻚَ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔَ ﻓَﻜُﻼ ﻣِﻦ
ﺣَﻴﺚُ ﺷِﺌﺘُﻤﺎ ﻭَﻻ ﺗَﻘﺮَﺑﺎ ﻫٰﺬِﻩِ
ﺍﻟﺸَّﺠَﺮَﺓَ ﻓَﺘَﻜﻮﻧﺎ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
[19] হে আদম তুমি এবং তোমার স্ত্রী
জান্নাতে বসবাস কর। অতঃপর সেখান
থেকে যা ইচ্ছা খাও তবে এ বৃক্ষের
কাছে যেয়োনা তাহলে তোমরা
গোনাহগার হয়ে যাবে।
[19] “And O Adam! Dwell you and your
wife in Paradise, and eat thereof as you
both wish, but approach not this tree
otherwise you both will be of the
Zâlimûn (unjust and wrong-doers).”
[20] ﻓَﻮَﺳﻮَﺱَ ﻟَﻬُﻤَﺎ ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦُ
ﻟِﻴُﺒﺪِﻯَ ﻟَﻬُﻤﺎ ﻣﺎ ﻭۥﺭِﻯَ ﻋَﻨﻬُﻤﺎ
ﻣِﻦ ﺳَﻮﺀٰﺗِﻬِﻤﺎ ﻭَﻗﺎﻝَ ﻣﺎ
ﻧَﻬﻯٰﻜُﻤﺎ ﺭَﺑُّﻜُﻤﺎ ﻋَﻦ ﻫٰﺬِﻩِ
ﺍﻟﺸَّﺠَﺮَﺓِ ﺇِﻟّﺎ ﺃَﻥ ﺗَﻜﻮﻧﺎ ﻣَﻠَﻜَﻴﻦِ
ﺃَﻭ ﺗَﻜﻮﻧﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺨٰﻠِﺪﻳﻦَ
[20] অতঃপর শয়তান উভয়কে প্ররোচিত
করল, যাতে তাদের অঙ্গ, যা তাদের
কাছে গোপন ছিল, তাদের সামনে
প্রকাশ করে দেয়। সে বললঃ
তোমাদের পালনকর্তা তোমাদেরকে
এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করেননি; তবে তা
এ কারণে যে, তোমরা না আবার
ফেরেশতা হয়ে যাও-কিংবা হয়ে যাও
চিরকাল বসবাসকারী।
[20] Then Shaitân (Satan) whispered
suggestions to them both in order to
uncover that which was hidden from
them of their private parts (before); he
said: “Your Lord did not forbid you this
tree save that you should become angels
or become of the immortals.”
[21] ﻭَﻗﺎﺳَﻤَﻬُﻤﺎ ﺇِﻧّﻰ ﻟَﻜُﻤﺎ ﻟَﻤِﻦَ
ﺍﻟﻨّٰﺼِﺤﻴﻦَ
[21] সে তাদের কাছে কসম খেয়ে
বললঃ আমি অবশ্যই তোমাদের
হিতাকাঙ্খী।
[21] And he [Shaitân (Satan)] swore by
Allâh to them both (saying): “Verily, I am
one of the sincere well-wishers for you
both.”
[22] ﻓَﺪَﻟّﻯٰﻬُﻤﺎ ﺑِﻐُﺮﻭﺭٍ ۚ ﻓَﻠَﻤّﺎ
ﺫﺍﻗَﺎ ﺍﻟﺸَّﺠَﺮَﺓَ ﺑَﺪَﺕ ﻟَﻬُﻤﺎ
ﺳَﻮﺀٰﺗُﻬُﻤﺎ ﻭَﻃَﻔِﻘﺎ ﻳَﺨﺼِﻔﺎﻥِ
ﻋَﻠَﻴﻬِﻤﺎ ﻣِﻦ ﻭَﺭَﻕِ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ ۖ
ﻭَﻧﺎﺩﻯٰﻬُﻤﺎ ﺭَﺑُّﻬُﻤﺎ ﺃَﻟَﻢ ﺃَﻧﻬَﻜُﻤﺎ
ﻋَﻦ ﺗِﻠﻜُﻤَﺎ ﺍﻟﺸَّﺠَﺮَﺓِ ﻭَﺃَﻗُﻞ
ﻟَﻜُﻤﺎ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦَ ﻟَﻜُﻤﺎ ﻋَﺪُﻭٌّ
ﻣُﺒﻴﻦٌ
[22] অতঃপর প্রতারণাপূর্বক তাদেরকে
সম্মত করে ফেলল। অনন্তর যখন তারা
বৃক্ষ আস্বাদন করল, তখন তাদের
লজ্জাস্থান তাদের সামনে খুলে গেল
এবং তারা নিজের উপর বেহেশতের
পাতা জড়াতে লাগল। তাদের
প্রতিপালক তাদেরকে ডেকে বললেনঃ
আমি কি তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে
নিষেধ করিনি এবং বলিনি যে, শয়তান
তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
[22] So he misled them with deception.
Then when they tasted of the tree, that
which was hidden from them of their
shame (private parts) became manifest to
them and they began to cover themselves
with the leaves of Paradise (in order to
cover their shame). And their Lord called
out to them (saying): “Did I not forbid
you that tree and tell you: Verily, Shaitân
(Satan) is an open enemy unto you?”
[23] ﻗﺎﻻ ﺭَﺑَّﻨﺎ ﻇَﻠَﻤﻨﺎ ﺃَﻧﻔُﺴَﻨﺎ
ﻭَﺇِﻥ ﻟَﻢ ﺗَﻐﻔِﺮ ﻟَﻨﺎ ﻭَﺗَﺮﺣَﻤﻨﺎ
ﻟَﻨَﻜﻮﻧَﻦَّ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺨٰﺴِﺮﻳﻦَ
[23] তারা উভয়ে বললঃ হে আমাদের
পালনকর্তা আমরা নিজেদের প্রতি
জুলম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে
ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি
অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই
অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব।
[23] They said: “Our Lord! We have
wronged ourselves. If You forgive us not,
and bestow not upon us Your Mercy, we
shall certainly be of the losers.”
[24] ﻗﺎﻝَ ﺍﻫﺒِﻄﻮﺍ ﺑَﻌﻀُﻜُﻢ
ﻟِﺒَﻌﺾٍ ﻋَﺪُﻭٌّ ۖ ﻭَﻟَﻜُﻢ ﻓِﻰ
ﺍﻷَﺭﺽِ ﻣُﺴﺘَﻘَﺮٌّ ﻭَﻣَﺘٰﻊٌ ﺇِﻟﻰٰ
ﺣﻴﻦٍ
[24] আল্লাহ বললেনঃ তোমরা নেমে
যাও। তোমরা এক অপরের শত্রু।
তোমাদের জন্যে পৃথিবীতে বাসস্থান
আছে এবং একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ
পর্যন্ত ফল ভোগ আছে।
[24] (Allâh) said: “Get down, one of you
is an enemy to the other [i.e. Adam,
Hawwa (Eve), and Shaitân (Satan),]. On
earth will be a dwelling-place for you
and an enjoyment, – for a time.”
[25] ﻗﺎﻝَ ﻓﻴﻬﺎ ﺗَﺤﻴَﻮﻥَ ﻭَﻓﻴﻬﺎ
ﺗَﻤﻮﺗﻮﻥَ ﻭَﻣِﻨﻬﺎ ﺗُﺨﺮَﺟﻮﻥَ
[25] বললেনঃ তোমরা সেখানেই
জীবিত থাকবে, সেখানেই মৃত্যুবরন
করবে এবং সেখান থেকেই পুনরুঙ্খিত
হবে।
[25] He said: “Therein you shall live, and
therein you shall die, and from it you
shall be brought out (i.e.resurrected).”
[26] ﻳٰﺒَﻨﻰ ﺀﺍﺩَﻡَ ﻗَﺪ ﺃَﻧﺰَﻟﻨﺎ
ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﻟِﺒﺎﺳًﺎ ﻳُﻮٰﺭﻯ ﺳَﻮﺀٰﺗِﻜُﻢ
ﻭَﺭﻳﺸًﺎ ۖ ﻭَﻟِﺒﺎﺱُ ﺍﻟﺘَّﻘﻮﻯٰ ﺫٰﻟِﻚَ
ﺧَﻴﺮٌ ۚ ﺫٰﻟِﻚَ ﻣِﻦ ﺀﺍﻳٰﺖِ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ ﻳَﺬَّﻛَّﺮﻭﻥَ
[26] হে বনী-আদম আমি তোমাদের
জন্যে পোশাক অবর্তীণ করেছি, যা
তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে
এবং অবর্তীণ করেছি সাজ সজ্জার
বস্ত্র এবং পরহেযগারীর পোশাক, এটি
সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর
কুদরতেরঅন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা
চিন্তা-ভাবনা করে।
[26] O Children of Adam! We have
bestowed raiment upon you to cover
yourselves (screen your private parts)
and as an adornment, and the raiment
of righteousness, that is better. Such are
among the Ayât (proofs, evidences,
verses, lessons, signs, revelations, etc.) of
Allâh, that they may remember (i.e. leave
falsehood and follow truth).
[27] ﻳٰﺒَﻨﻰ ﺀﺍﺩَﻡَ ﻻ ﻳَﻔﺘِﻨَﻨَّﻜُﻢُ
ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦُ ﻛَﻤﺎ ﺃَﺧﺮَﺝَ ﺃَﺑَﻮَﻳﻜُﻢ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ ﻳَﻨﺰِﻉُ ﻋَﻨﻬُﻤﺎ
ﻟِﺒﺎﺳَﻬُﻤﺎ ﻟِﻴُﺮِﻳَﻬُﻤﺎ ﺳَﻮﺀٰﺗِﻬِﻤﺎ ۗ
ﺇِﻧَّﻪُ ﻳَﺮﻯٰﻜُﻢ ﻫُﻮَ ﻭَﻗَﺒﻴﻠُﻪُ ﻣِﻦ
ﺣَﻴﺚُ ﻻ ﺗَﺮَﻭﻧَﻬُﻢ ۗ ﺇِﻧّﺎ ﺟَﻌَﻠﻨَﺎ
ﺍﻟﺸَّﻴٰﻄﻴﻦَ ﺃَﻭﻟِﻴﺎﺀَ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ ﻻ
ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[27] হে বনী-আদম শয়তান যেন
তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে;
যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে
জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে
এমতাবস্থায় যে, তাদের পোশাক
তাদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছি-যাতে
তাদেরকে লজ্জাস্থান দেখিয়ে দেয়।
সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে
দেখে, যেখান থেকে তোমরা
তাদেরকে দেখ না। আমি শয়তানদেরকে
তাদের বন্ধু করে দিয়েছি, , যারা
বিশ্বাস স্থাপন করে না।
[27] O Children of Adam! Let not Shaitân
(Satan) deceive you, as he got your
parents [Adam and Hawwa (Eve)] out of
Paradise, stripping them of their
raiments, to show them their private
parts. Verily, he and Qabîluhu (his
soldiers from the jinn or his tribe) see
you from where you cannot see them.
Verily, We made the Shayâtin (devils)
Auliyâ’ (protectors and helpers) for those
who believe not.
[28] ﻭَﺇِﺫﺍ ﻓَﻌَﻠﻮﺍ ﻓٰﺤِﺸَﺔً ﻗﺎﻟﻮﺍ
ﻭَﺟَﺪﻧﺎ ﻋَﻠَﻴﻬﺎ ﺀﺍﺑﺎﺀَﻧﺎ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ
ﺃَﻣَﺮَﻧﺎ ﺑِﻬﺎ ۗ ﻗُﻞ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻻ ﻳَﺄﻣُﺮُ
ﺑِﺎﻟﻔَﺤﺸﺎﺀِ ۖ ﺃَﺗَﻘﻮﻟﻮﻥَ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣﺎ ﻻ ﺗَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[28] তারা যখন কোন মন্দ কাজ করে,
তখন বলে আমরা বাপ-দাদাকে এমনি
করতে দেখেছি এবং আল্লাহও
আমাদেরকে এ নির্দেশই দিয়েছেন।
আল্লাহ মন্দকাজের আদেশ দেন না।
এমন কথা আল্লাহর প্রতি কেন আরোপ
কর, যা তোমরা জান না।
[28] And when they commit a Fâhishah
(evil deed, going round the Ka’bah in
naked state, and every kind of unlawful
sexual intercourse), they say: “We found
our fathers doing it, and Allâh has
commanded it on us.” Say: “Nay, Allâh
never commands of Fâhishah. Do you say
of Allâh what you know not?
[29] ﻗُﻞ ﺃَﻣَﺮَ ﺭَﺑّﻰ ﺑِﺎﻟﻘِﺴﻂِ ۖ
ﻭَﺃَﻗﻴﻤﻮﺍ ﻭُﺟﻮﻫَﻜُﻢ ﻋِﻨﺪَ ﻛُﻞِّ
ﻣَﺴﺠِﺪٍ ﻭَﺍﺩﻋﻮﻩُ ﻣُﺨﻠِﺼﻴﻦَ ﻟَﻪُ
ﺍﻟﺪّﻳﻦَ ۚ ﻛَﻤﺎ ﺑَﺪَﺃَﻛُﻢ ﺗَﻌﻮﺩﻭﻥَ
[29] আপনি বলে দিনঃ আমার
প্রতিপালক সুবিচারের নির্দেশ
দিয়েছেন এবং তোমরা প্রত্যেক
সেজদার সময় স্বীয় মুখমন্ডল সোজা
রাখ এবং তাঁকে খাঁটি আনুগত্যশীল হয়ে
ডাক। তোমাদেরকে প্রথমে যেমন
সৃষ্টি করেছেন, পুনর্বারও সৃজিত হবে।
[29] Say (O Muhammad SAW): My Lord
has commanded justice and (said) that
you should face Him only (i.e. worship
none but Allâh and face the Qiblah, i.e.
the Ka’bah at Makkah during prayers) in
every place of worship, in prayers (and
not to face other false deities and idols),
and invoke Him only making your
religion sincere to Him (by not joining in
worship any partner to Him and with
the intention that you are doing your
deeds for Allâh’s sake only). As He
brought you (into being) in the
beginning, so shall you be brought into
being [on the Day of Resurrection (in
two groups, one as a blessed one
(believers), and the other as a wretched
one (disbelievers)].
[30] ﻓَﺮﻳﻘًﺎ ﻫَﺪﻯٰ ﻭَﻓَﺮﻳﻘًﺎ ﺣَﻖَّ
ﻋَﻠَﻴﻬِﻢُ ﺍﻟﻀَّﻠٰﻠَﺔُ ۗ ﺇِﻧَّﻬُﻢُ ﺍﺗَّﺨَﺬُﻭﺍ
ﺍﻟﺸَّﻴٰﻄﻴﻦَ ﺃَﻭﻟِﻴﺎﺀَ ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻳَﺤﺴَﺒﻮﻥَ ﺃَﻧَّﻬُﻢ
ﻣُﻬﺘَﺪﻭﻥَ
[30] একদলকে পথ প্রদর্শন করেছেন এবং
একদলের জন্যে পথভ্রষ্টতা অবধারিত
হয়ে গেছে। তারা আল্লাহকে ছেড়ে
শয়তানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ
করেছে এবং ধারণা করে যে, তারা
সৎপথে রয়েছে।
[30] A group He has guided, and a group
deserved to be in error; (because) surely
they took the Shayâtin (devils) as
Auliyâ’ (protectors and helpers) instead
of Allâh, and think that they are guided.
[31] ۞ ﻳٰﺒَﻨﻰ ﺀﺍﺩَﻡَ ﺧُﺬﻭﺍ
ﺯﻳﻨَﺘَﻜُﻢ ﻋِﻨﺪَ ﻛُﻞِّ ﻣَﺴﺠِﺪٍ
ﻭَﻛُﻠﻮﺍ ﻭَﺍﺷﺮَﺑﻮﺍ ﻭَﻻ ﺗُﺴﺮِﻓﻮﺍ ۚ
ﺇِﻧَّﻪُ ﻻ ﻳُﺤِﺐُّ ﺍﻟﻤُﺴﺮِﻓﻴﻦَ
[31] হে বনী-আদম! তোমরা প্রত্যেক
নামাযের সময় সাজসজ্জা পরিধান
করে নাও, খাও ও পান কর এবং অপব্যয়
করো না। তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ
করেন না।
[31] O Children of Adam! Take your
adornment (by wearing your clean
clothes), while praying and going round
(the Tawâf of ) the Ka’bah, and eat and
drink but waste not by extravagance,
certainly He (Allâh) likes not Al-
Musrifûn (those who waste by
extravagance).
[32] ﻗُﻞ ﻣَﻦ ﺣَﺮَّﻡَ ﺯﻳﻨَﺔَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺍﻟَّﺘﻰ ﺃَﺧﺮَﺝَ ﻟِﻌِﺒﺎﺩِﻩِ ﻭَﺍﻟﻄَّﻴِّﺒٰﺖِ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﺮِّﺯﻕِ ۚ ﻗُﻞ ﻫِﻰَ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ
ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻓِﻰ ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓِ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ
ﺧﺎﻟِﺼَﺔً ﻳَﻮﻡَ ﺍﻟﻘِﻴٰﻤَﺔِ ۗ ﻛَﺬٰﻟِﻚَ
ﻧُﻔَﺼِّﻞُ ﺍﻝﺀﺍﻳٰﺖِ ﻟِﻘَﻮﻡٍ
ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[32] আপনি বলুনঃ আল্লাহর সাজ-
সজ্জাকে, যা তিনি বান্দাদের জন্যে
সৃষ্টি করেছেন এবং পবিত্র
খাদ্রবস্তুসমূহকে কে হারাম করেছে?
আপনি বলুনঃ এসব নেয়ামত আসলে
পার্থিব জীবনে মুমিনদের জন্যে এবং
কিয়ামতের দিন খাঁটিভাবে তাদেরই
জন্যে। এমনিভাবে আমি আয়াতসমূহ
বিস্তারিত বর্ণনা করি তাদের জন্যে
যারা বুঝে।
[32] Say (O Muhammad SAW): “Who has
forbidden the adornment with clothes
given by Allâh, which He has produced
for His slaves, and At-Taiyyibât [all kinds
of Halâl (lawful) things] of food?” Say:
“They are, in the life of this world, for
those who believe, (and) exclusively for
them (believers) on the Day of
Resurrection (the disbelievers will not
share them).” Thus We explain the Ayât
(Islâmic laws) in detail for people who
have knowledge.
[33] ﻗُﻞ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﺣَﺮَّﻡَ ﺭَﺑِّﻰَ
ﺍﻟﻔَﻮٰﺣِﺶَ ﻣﺎ ﻇَﻬَﺮَ ﻣِﻨﻬﺎ ﻭَﻣﺎ
ﺑَﻄَﻦَ ﻭَﺍﻹِﺛﻢَ ﻭَﺍﻟﺒَﻐﻰَ ﺑِﻐَﻴﺮِ
ﺍﻟﺤَﻖِّ ﻭَﺃَﻥ ﺗُﺸﺮِﻛﻮﺍ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻣﺎ
ﻟَﻢ ﻳُﻨَﺰِّﻝ ﺑِﻪِ ﺳُﻠﻄٰﻨًﺎ ﻭَﺃَﻥ
ﺗَﻘﻮﻟﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣﺎ ﻻ
ﺗَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[33] আপনি বলে দিনঃ আমার
পালনকর্তা কেবলমাত্র অশ্লীল
বিষয়সমূহ হারাম করেছেন যা প্রকাশ্য
ও অপ্রকাশ্য এবং হারাম করেছেন
গোনাহ, অন্যায়-অত্যাচার আল্লাহর
সাথে এমন বস্তুকে অংশীদার করা,
তিনি যার কোন, সনদ অবতীর্ণ
করেননি এবং আল্লাহর প্রতি এমন কথা
আরোপ করা, যা তোমরা জান না।
[33] Say (O Muhammad SAW): “(But) the
things that my Lord has indeed
forbidden are Al-Fawâhish (great evil
sins, every kind of unlawful sexual
intercourse,) whether committed openly
or secretly, sins (of all kinds),
unrighteous oppression, joining partners
(in worship) with Allâh for which He has
given no authority, and saying things
about Allâh of which you have no
knowledge.”
[34] ﻭَﻟِﻜُﻞِّ ﺃُﻣَّﺔٍ ﺃَﺟَﻞٌ ۖ ﻓَﺈِﺫﺍ
ﺟﺎﺀَ ﺃَﺟَﻠُﻬُﻢ ﻻ ﻳَﺴﺘَﺄﺧِﺮﻭﻥَ
ﺳﺎﻋَﺔً ۖ ﻭَﻻ ﻳَﺴﺘَﻘﺪِﻣﻮﻥَ
[34] প্রত্যেক সম্প্রদায়ের একটি মেয়াদ
রয়েছে। যখন তাদের মেয়াদ এসে যাবে,
তখন তারা না এক মুহুর্ত পিছে যেতে
পারবে, আর না এগিয়ে আসতে পারবে।
[34] And every nation has its appointed
term; when their term comes, neither
can they delay it nor can they advance it
an hour (or a moment).
[35] ﻳٰﺒَﻨﻰ ﺀﺍﺩَﻡَ ﺇِﻣّﺎ ﻳَﺄﺗِﻴَﻨَّﻜُﻢ
ﺭُﺳُﻞٌ ﻣِﻨﻜُﻢ ﻳَﻘُﺼّﻮﻥَ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ
ﺀﺍﻳٰﺘﻰ ۙ ﻓَﻤَﻦِ ﺍﺗَّﻘﻰٰ ﻭَﺃَﺻﻠَﺢَ
ﻓَﻼ ﺧَﻮﻑٌ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻭَﻻ ﻫُﻢ
ﻳَﺤﺰَﻧﻮﻥَ
[35] হে বনী-আদম, যদি তোমাদের
কাছে তোমাদেরই মধ্য থেকে পয়গম্বর
আগমন করে তোমাদেরকে আমার
আয়াত সমূহ শুনায়, তবে যে ব্যক্তি
সংযত হয় এবং সৎকাজ অবলম্বন করে,
তাদের কোন আশঙ্কা নেই এবং তারা
দুঃখিত হবে না।
[35] O Children of Adam! If there come
to you Messengers from amongst you,
reciting to you, My Verses, then
whosoever becomes pious and righteous,
on them shall be no fear, nor shall they
grieve
[36] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ
ﻭَﺍﺳﺘَﻜﺒَﺮﻭﺍ ﻋَﻨﻬﺎ ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ
ﺃَﺻﺤٰﺐُ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ ۖ ﻫُﻢ ﻓﻴﻬﺎ
ﺧٰﻠِﺪﻭﻥَ
[36] যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা
বলবে এবং তা থেকে অহংকার করবে,
তারাই দোযখী এবং তথায় চিরকাল
থাকবে।
[36] But those who reject Our Ayât
(proofs, evidences, verses, lessons, signs,
revelations,) and treat them with
arrogance, they are the dwellers of the
(Hell) Fire, they will abide therein
forever
[37] ﻓَﻤَﻦ ﺃَﻇﻠَﻢُ ﻣِﻤَّﻦِ ﺍﻓﺘَﺮﻯٰ
ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻛَﺬِﺑًﺎ ﺃَﻭ ﻛَﺬَّﺏَ
ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻪِ ۚ ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻳَﻨﺎﻟُﻬُﻢ
ﻧَﺼﻴﺒُﻬُﻢ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ ۖ ﺣَﺘّﻰٰ
ﺇِﺫﺍ ﺟﺎﺀَﺗﻬُﻢ ﺭُﺳُﻠُﻨﺎ
ﻳَﺘَﻮَﻓَّﻮﻧَﻬُﻢ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃَﻳﻦَ ﻣﺎ
ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﺪﻋﻮﻥَ ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۖ
ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺿَﻠّﻮﺍ ﻋَﻨّﺎ ﻭَﺷَﻬِﺪﻭﺍ
ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢ ﺃَﻧَّﻬُﻢ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻛٰﻔِﺮﻳﻦَ
[37] অতঃপর ঐ ব্যক্তির চাইতে অধিক
জালেম কে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা
আরোপ করে অথবা তার
নির্দেশাবলীকে মিথ্যা বলে? তারা
তাদের গ্রন্থে লিখিত অংশ পেয়ে
যাবে। এমন কি, যখন তাদের কাছে
আমার প্রেরিত ফেরশতারা প্রাণ
নেওয়ার জন্যে পৌছে, তখন তারা
বলে; তারা কোথায় গেল, যাদের কে
তোমরা আল্লাহ ব্যতীত আহবান
করতে? তারা উত্তর দেবেঃ আমাদের
কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে, তারা
নিজেদের সম্পর্কে স্বীকার করবে যে,
তারা অবশ্যই কাফের ছিল।
[37] Who is more unjust than one who
invents a lie against Allâh or rejects His
Ayât (proofs, evidences, verses, lessons,
signs, revelations)? For such their
appointed portion (good things of this
worldly life and their period of stay
therein) will reach them from the Book
(of Decrees) until, when Our Messengers
(the angel of death and his assistants)
come to them to take their souls, they
(the angels) will say: “Where are those
whom you used to invoke and worship
besides Allâh,” they will reply, “They
have vanished and deserted us.” And
they will bear witness against
themselves, that they were disbelievers.
[38] ﻗﺎﻝَ ﺍﺩﺧُﻠﻮﺍ ﻓﻰ ﺃُﻣَﻢٍ ﻗَﺪ
ﺧَﻠَﺖ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻠِﻜُﻢ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺠِﻦِّ
ﻭَﺍﻹِﻧﺲِ ﻓِﻰ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ ۖ ﻛُﻠَّﻤﺎ
ﺩَﺧَﻠَﺖ ﺃُﻣَّﺔٌ ﻟَﻌَﻨَﺖ ﺃُﺧﺘَﻬﺎ ۖ
ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫَﺍ ﺍﺩّﺍﺭَﻛﻮﺍ ﻓﻴﻬﺎ
ﺟَﻤﻴﻌًﺎ ﻗﺎﻟَﺖ ﺃُﺧﺮﻯٰﻬُﻢ
ﻟِﺄﻭﻟﻯٰﻬُﻢ ﺭَﺑَّﻨﺎ ﻫٰﺆُﻻﺀِ ﺃَﺿَﻠّﻮﻧﺎ
ﻓَـٔﺎﺗِﻬِﻢ ﻋَﺬﺍﺑًﺎ ﺿِﻌﻔًﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ ۖ
ﻗﺎﻝَ ﻟِﻜُﻞٍّ ﺿِﻌﻒٌ ﻭَﻟٰﻜِﻦ ﻻ
ﺗَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[38] আল্লাহ বলবেনঃ তোমাদের
পূর্বে জিন ও মানবের যেসব সম্প্রদায়
চলে গেছে, তাদের সাথে তোমরাও
দোযখে যাও। যখন এক সম্প্রদায়
প্রবেশ করবে; তখন অন্য সম্প্রদায়কে
অভিসম্পাত করবে। এমনকি, যখন তাতে
সবাই পতিত হবে, তখন পরবর্তীরা
পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলবেঃ হে
আমাদের প্রতিপালক এরাই
আমাদেরকে বিপথগামী করেছিল।
অতএব, আপনি তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি
দিন। আল্লাহ বলবেন প্রত্যেকেরই
দ্বিগুণ; তোমরা জান না।
[38] (Allâh) will say: “Enter you in the
company of nations who passed away
before you, of men and jinn, into the
Fire.” Every time a new nation enters, it
curses its sister nation (that went
before), until they will be gathered all
together in the Fire. The last of them will
say to the first of them: “Our Lord! These
misled us, so give them a double torment
of the Fire.” He will say: “For each one
there is double (torment), but you know
not.”
[39] ﻭَﻗﺎﻟَﺖ ﺃﻭﻟﻯٰﻬُﻢ
ﻟِﺄُﺧﺮﻯٰﻬُﻢ ﻓَﻤﺎ ﻛﺎﻥَ ﻟَﻜُﻢ ﻋَﻠَﻴﻨﺎ
ﻣِﻦ ﻓَﻀﻞٍ ﻓَﺬﻭﻗُﻮﺍ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏَ
ﺑِﻤﺎ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﻜﺴِﺒﻮﻥَ
[39] পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদেরকে
বলবেঃ তাহলে আমাদের উপর
তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই অতএব,
শাস্তি আস্বাদন কর স্বীয় কর্মের
কারণে।
[39] The first of them will say to the last
of them: “You were not better than us, so
taste the torment for what you used to
earn.”
[40] ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ
ﻭَﺍﺳﺘَﻜﺒَﺮﻭﺍ ﻋَﻨﻬﺎ ﻻ ﺗُﻔَﺘَّﺢُ
ﻟَﻬُﻢ ﺃَﺑﻮٰﺏُ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﻭَﻻ
ﻳَﺪﺧُﻠﻮﻥَ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔَ ﺣَﺘّﻰٰ ﻳَﻠِﺞَ
ﺍﻟﺠَﻤَﻞُ ﻓﻰ ﺳَﻢِّ ﺍﻟﺨِﻴﺎﻁِ ۚ
ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻧَﺠﺰِﻯ ﺍﻟﻤُﺠﺮِﻣﻴﻦَ
[40] নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহকে
মিথ্যা বলেছে এবং এগুলো থেকে
অহংকার করেছে, তাদের জন্যে
আকাশের দ্বার উম্মুক্ত করা হবে না
এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে
না। যে পর্যন্ত না সূচের ছিদ্র দিয়ে উট
প্রবেশ করে। আমি এমনিভাবে
পাপীদেরকে শাস্তি প্রদান করি।
[40] Verily, those who belie Our Ayât
(proofs, evidences, verses, lessons, signs,
revelations) and treat them with
arrogance, for them the gates of heaven
will not be opened, and they will not
enter Paradise until the camel goes
through the eye of the needle (which is
impossible). Thus do We recompense the
Mujrimûn (criminals, polytheists, and
sinners).
[41] ﻟَﻬُﻢ ﻣِﻦ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﻣِﻬﺎﺩٌ ﻭَﻣِﻦ
ﻓَﻮﻗِﻬِﻢ ﻏَﻮﺍﺵٍ ۚ ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ
ﻧَﺠﺰِﻯ ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
[41] তাদের জন্যে নরকাগ্নির শয্যা
রয়েছে এবং উপর থেকে চাদর। আমি
এমনিভাবে জালেমদেরকে শাস্তি
প্রদান করি।
[41] Theirs will be a bed of Hell (Fire),
and over them coverings (of Hell-fire).
Thus do We recompense the Zâlimûn
(polytheists and wrong-doers).
[42] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ
ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤٰﺖِ ﻻ ﻧُﻜَﻠِّﻒُ ﻧَﻔﺴًﺎ ﺇِﻟّﺎ
ﻭُﺳﻌَﻬﺎ ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﺃَﺻﺤٰﺐُ
ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ ۖ ﻫُﻢ ﻓﻴﻬﺎ ﺧٰﻠِﺪﻭﻥَ
[42] যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং
সৎকর্ম করেছে আমি কাউকে তার
সামর্থ্যের চাইতে বেশী বোঝা দেই
না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী।
তারা তাতেই চিরকাল থাকবে।
[42] But those who believed (in the
Oneness of Allâh – Islâmic Monotheism),
and worked righteousness – We tax not
any person beyond his scope,— such are
the dwellers of Paradise. They will abide
therein.
[43] ﻭَﻧَﺰَﻋﻨﺎ ﻣﺎ ﻓﻰ ﺻُﺪﻭﺭِﻫِﻢ
ﻣِﻦ ﻏِﻞٍّ ﺗَﺠﺮﻯ ﻣِﻦ ﺗَﺤﺘِﻬِﻢُ
ﺍﻷَﻧﻬٰﺮُ ۖ ﻭَﻗﺎﻟُﻮﺍ ﺍﻟﺤَﻤﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ
ﺍﻟَّﺬﻯ ﻫَﺪﻯٰﻨﺎ ﻟِﻬٰﺬﺍ ﻭَﻣﺎ ﻛُﻨّﺎ
ﻟِﻨَﻬﺘَﺪِﻯَ ﻟَﻮﻻ ﺃَﻥ ﻫَﺪﻯٰﻨَﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ۖ
ﻟَﻘَﺪ ﺟﺎﺀَﺕ ﺭُﺳُﻞُ ﺭَﺑِّﻨﺎ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ۖ
ﻭَﻧﻮﺩﻭﺍ ﺃَﻥ ﺗِﻠﻜُﻢُ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔُ
ﺃﻭﺭِﺛﺘُﻤﻮﻫﺎ ﺑِﻤﺎ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[43] তাদের অন্তরে যা কিছু দুঃখ ছিল,
আমি তা বের করে দেব। তাদের তলদেশ
দিয়ে নির্ঝরণী প্রবাহিত হবে। তারা
বলবেঃ আল্লাহ শোকর, যিনি
আমাদেরকে এ পর্যন্ত পৌছিয়েছেন।
আমরা কখনও পথ পেতাম না, যদি
আল্লাহ আমাদেরকে পথ প্রদর্শন না
করতেন। আমাদের প্রতিপালকের রসূল
আমাদের কাছে সত্যকথা নিয়ে
এসেছিলেন। আওয়াজ আসবেঃ এটি
জান্নাত। তোমরা এর উত্তরাধিকারী
হলে তোমাদের কর্মের প্রতিদানে।
[43] And We shall remove from their
breasts any (mutual) hatred or sense of
injury (which they had, if at all, in the
life of this world); rivers flowing under
them, and they will say: “All the praises
and thanks be to Allâh, Who has guided
us to this, and never could we have
found guidance, were it not that Allâh
had guided us! Indeed, the Messengers of
our Lord did come with the truth.” And it
will be cried out to them: “This is the
Paradise which you have inherited for
what you used to do.”
[44] ﻭَﻧﺎﺩﻯٰ ﺃَﺻﺤٰﺐُ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ
ﺃَﺻﺤٰﺐَ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ ﺃَﻥ ﻗَﺪ ﻭَﺟَﺪﻧﺎ
ﻣﺎ ﻭَﻋَﺪَﻧﺎ ﺭَﺑُّﻨﺎ ﺣَﻘًّﺎ ﻓَﻬَﻞ
ﻭَﺟَﺪﺗُﻢ ﻣﺎ ﻭَﻋَﺪَ ﺭَﺑُّﻜُﻢ ﺣَﻘًّﺎ ۖ
ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻧَﻌَﻢ ۚ ﻓَﺄَﺫَّﻥَ ﻣُﺆَﺫِّﻥٌ
ﺑَﻴﻨَﻬُﻢ ﺃَﻥ ﻟَﻌﻨَﺔُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
[44] জান্নাতীরা দোযখীদেরকে
ডেকে বলবেঃ আমাদের সাথে
আমাদের প্রতিপালক যে ওয়াদা
করেছিলেন, তা আমরা সত্য পেয়েছি?
অতএব, তোমরাও কি তোমাদের
প্রতিপালকের ওয়াদা সত্য পেয়েছ?
তারা বলবেঃ হ্যাঁ। অতঃপর একজন
ঘোষক উভয়ের মাঝখানে ঘোষণা
করবেঃ আল্লাহর অভিসম্পাত
জালেমদের উপর।
[44] And the dwellers of Paradise will
call out to the dwellers of the Fire
(saying): “We have indeed found true
what our Lord had promised us; have
you also found true, what your Lord
promised (warnings)?” They shall say:
“Yes.” Then a crier will proclaim
between them: “The Curse of Allâh is on
the Zâlimûn (polytheists and wrong-
doers),”
[45] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳَﺼُﺪّﻭﻥَ ﻋَﻦ
ﺳَﺒﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻳَﺒﻐﻮﻧَﻬﺎ ﻋِﻮَﺟًﺎ
ﻭَﻫُﻢ ﺑِﺎﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﻛٰﻔِﺮﻭﻥَ
[45] যারা আল্লাহর পথে বাধা দিত
এবং তাতে বক্রতা অন্বেষণ করত।
তারা পরকালের বিষয়েও অবিশ্বাসী
ছিল।
[45] Those who hindered (men) from the
Path of Allâh, and would seek to make it
crooked, and they were disbelievers in
the Hereafter.
[46] ﻭَﺑَﻴﻨَﻬُﻤﺎ ﺣِﺠﺎﺏٌ ۚ ﻭَﻋَﻠَﻰ
ﺍﻷَﻋﺮﺍﻑِ ﺭِﺟﺎﻝٌ ﻳَﻌﺮِﻓﻮﻥَ ﻛُﻠًّﺎ
ﺑِﺴﻴﻤﻯٰﻬُﻢ ۚ ﻭَﻧﺎﺩَﻭﺍ ﺃَﺻﺤٰﺐَ
ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ ﺃَﻥ ﺳَﻠٰﻢٌ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ۚ ﻟَﻢ
ﻳَﺪﺧُﻠﻮﻫﺎ ﻭَﻫُﻢ ﻳَﻄﻤَﻌﻮﻥَ
[46] উভয়ের মাঝখানে একটি প্রাচীর
থাকবে এবং আরাফের উপরে অনেক
লোক থাকবে। তারা প্রত্যেককে তার
চিহ্ন দ্বারা চিনে নেবে। তারা
জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবেঃ
তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
তারা তখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে
না, কিন্তু প্রবেশ করার ব্যাপারে
আগ্রহী হবে।
[46] And between them will be a
(barrier) screen and on Al-A’râf (a wall
with elevated places) will be men (whose
good and evil deeds would be equal in
scale), who would recognise all (of the
Paradise and Hell people), by their
marks (the dwellers of Paradise by their
white faces and the dwellers of Hell by
their black faces), they will call out to the
dwellers of Paradise, “Salâmun
‘Alaikûm” (peace be on you), and at that
time they (men on Al-A’râf) will not yet
have entered it (Paradise), but they will
hope to enter (it) with certainty.
[47] ۞ ﻭَﺇِﺫﺍ ﺻُﺮِﻓَﺖ ﺃَﺑﺼٰﺮُﻫُﻢ
ﺗِﻠﻘﺎﺀَ ﺃَﺻﺤٰﺐِ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ ﻗﺎﻟﻮﺍ
ﺭَﺑَّﻨﺎ ﻻ ﺗَﺠﻌَﻠﻨﺎ ﻣَﻊَ ﺍﻟﻘَﻮﻡِ
ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
[47] যখন তাদের দৃষ্টি দোযখীদের উপর
পড়বে, তখন বলবেঃ হে আমাদের
প্রতিপালক, আমাদেরকে এ জালেমদের
সাথী করো না।
[47] And when their eyes will be turned
towards the dwellers of the Fire, they
will say: “Our Lord! Place us not with the
people who are Zâlimûn (polytheists and
wrong-doers).”
[48] ﻭَﻧﺎﺩﻯٰ ﺃَﺻﺤٰﺐُ ﺍﻷَﻋﺮﺍﻑِ
ﺭِﺟﺎﻟًﺎ ﻳَﻌﺮِﻓﻮﻧَﻬُﻢ ﺑِﺴﻴﻤﻯٰﻬُﻢ
ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻣﺎ ﺃَﻏﻨﻰٰ ﻋَﻨﻜُﻢ ﺟَﻤﻌُﻜُﻢ
ﻭَﻣﺎ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﺴﺘَﻜﺒِﺮﻭﻥَ
[48] আরাফবাসীরা যাদেরকে তাদের
চিহ্ন দ্বারা চিনবে, তাদেরকে ডেকে
বলবে তোমাদের দলবল ও ঔদ্ধত্য
তোমাদের কোন কাজে আসেনি।
[48] And the men on Al-A’râf (the wall)
will call unto the men whom they would
recognise by their marks, saying: “Of
what benefit to you were your great
numbers (and hoards of wealth), and
your arrogance (against Faith)?”
[49] ﺃَﻫٰﺆُﻻﺀِ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺃَﻗﺴَﻤﺘُﻢ ﻻ
ﻳَﻨﺎﻟُﻬُﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﺮَﺣﻤَﺔٍ ۚ ﺍﺩﺧُﻠُﻮﺍ
ﺍﻟﺠَﻨَّﺔَ ﻻ ﺧَﻮﻑٌ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﻭَﻻ
ﺃَﻧﺘُﻢ ﺗَﺤﺰَﻧﻮﻥَ
[49] এরা কি তারাই; যাদের সম্পর্কে
তোমরা কসম খেয়ে বলতে যে, আল্লাহ
এদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন না। প্রবেশ
কর জান্নাতে। তোমাদের কোন
আশঙ্কা নেই এবং তোমরা দুঃখিত
হবে না।
[49] Are they those, of whom you swore
that Allâh would never show them
mercy. (Behold! It has been said to
them): “Enter Paradise, no fear shall be
on you, nor shall you grieve.”
[50] ﻭَﻧﺎﺩﻯٰ ﺃَﺻﺤٰﺐُ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ
ﺃَﺻﺤٰﺐَ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ ﺃَﻥ ﺃَﻓﻴﻀﻮﺍ
ﻋَﻠَﻴﻨﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤﺎﺀِ ﺃَﻭ ﻣِﻤّﺎ
ﺭَﺯَﻗَﻜُﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ۚ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ
ﺣَﺮَّﻣَﻬُﻤﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻜٰﻔِﺮﻳﻦَ
[50] দোযখীরা জান্নাতীদেরকে
ডেকে বলবেঃ আমাদের উপর সামান্য
পানি নিক্ষেপ কর অথবা আল্লাহ
তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছেন, তা
থেকেই কিছু দাও। তারা বলবেঃ
আল্লাহ এই উভয় বস্তু কাফেরদের জন্যে
নিষিদ্ধ করেছেন,
[50] And the dwellers of the Fire will call
to the dwellers of Paradise: “Pour on us
some water or anything that Allâh has
provided you with.” They will say: “Both
(water and provision) Allâh has
forbidden to the disbelievers.”
[51] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺍﺗَّﺨَﺬﻭﺍ ﺩﻳﻨَﻬُﻢ
ﻟَﻬﻮًﺍ ﻭَﻟَﻌِﺒًﺎ ﻭَﻏَﺮَّﺗﻬُﻢُ ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓُ
ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ۚ ﻓَﺎﻟﻴَﻮﻡَ ﻧَﻨﺴﻯٰﻬُﻢ ﻛَﻤﺎ
ﻧَﺴﻮﺍ ﻟِﻘﺎﺀَ ﻳَﻮﻣِﻬِﻢ ﻫٰﺬﺍ ﻭَﻣﺎ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ﻳَﺠﺤَﺪﻭﻥَ
[51] তারা স্বীয় ধর্মকে তামাশা ও
খেলা বানিয়ে নিয়েছিল এবং
পার্থিব জীবন তাদের কে ধোকায়
ফেলে রেখেছিল। অতএব, আমি আজকে
তাদেরকে ভুলে যাব; যেমন তারা এ
দিনের সাক্ষাৎকে ভুলে গিয়েছিল
এবং যেমন তারা আয়াতসমূহকে
অবিশ্বাস করত।
[51] “Who took their religion as an
amusement and play, and the life of the
world deceived them.” So this Day We
shall forget them as they forgot their
meeting of this Day, and as they used to
reject Our Ayât (proofs, evidences,
verses, lessons, signs, revelations).
[52] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺟِﺌﻨٰﻬُﻢ ﺑِﻜِﺘٰﺐٍ
ﻓَﺼَّﻠﻨٰﻪُ ﻋَﻠﻰٰ ﻋِﻠﻢٍ ﻫُﺪًﻯ
ﻭَﺭَﺣﻤَﺔً ﻟِﻘَﻮﻡٍ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[52] আমি তাদের কাছে গ্রন্থ
পৌছিয়েছি, যা আমি স্বীয় জ্ঞানে
বিস্তারিত বর্ণনা করেছি, যা
পথপ্রদর্শক এবং মুমিনদের জন্যে রহমত।
[52] Certainly, We have brought them a
Book (the Qur’ân) which We have
explained in detail with knowledge, – a
guidance and a mercy to a people who
believe.
[53] ﻫَﻞ ﻳَﻨﻈُﺮﻭﻥَ ﺇِﻟّﺎ ﺗَﺄﻭﻳﻠَﻪُ ۚ
ﻳَﻮﻡَ ﻳَﺄﺗﻰ ﺗَﺄﻭﻳﻠُﻪُ ﻳَﻘﻮﻝُ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻧَﺴﻮﻩُ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ ﻗَﺪ
ﺟﺎﺀَﺕ ﺭُﺳُﻞُ ﺭَﺑِّﻨﺎ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ
ﻓَﻬَﻞ ﻟَﻨﺎ ﻣِﻦ ﺷُﻔَﻌﺎﺀَ
ﻓَﻴَﺸﻔَﻌﻮﺍ ﻟَﻨﺎ ﺃَﻭ ﻧُﺮَﺩُّ ﻓَﻨَﻌﻤَﻞَ
ﻏَﻴﺮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻛُﻨّﺎ ﻧَﻌﻤَﻞُ ۚ ﻗَﺪ
ﺧَﺴِﺮﻭﺍ ﺃَﻧﻔُﺴَﻬُﻢ ﻭَﺿَﻞَّ ﻋَﻨﻬُﻢ
ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻔﺘَﺮﻭﻥَ
[53] তারা কি এখন এ অপেক্ষায়ই আছে
যে, এর বিষয়বস্তু প্রকাশিত হোক?
যেদিন এর বিষয়বস্তু প্রকাশিত হবে,
সেদিন পূর্বে যারা একে ভূলে
গিয়েছিল, তারা বলবেঃ বাস্তবিকই
আমাদের প্রতিপালকের পয়গম্বরগণ
সত্যসহ আগমন করেছিলেন। অতএব,
আমাদের জন্যে কোন সুপারিশকারী
আছে কি যে, সুপারিশ করবে অথবা
আমাদেরকে পুনঃ প্রেরণ করা হলে
আমরা পূর্বে যা করতাম তার বিপরীত
কাজ করে আসতাম। নিশ্চয় তারা
নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তারা মনগড়া যা বলত, তা উধাও হয়ে
যাবে।
[53] Await they just for the final
fullfilment of the event? On the Day the
event is finally fulfilled (i.e. the Day of
Resurrection), those who neglected it
before will say: “Verily, the Messengers
of our Lord did come with the truth, now
are there any intercessors for us that
they might intercede on our behalf? Or
could we be sent back (to the first life of
the world) so that we might do (good)
deeds other than those (evil) deeds which
we used to do?” Verily, they have lost
their ownselves (i.e. destroyed
themselves) and that which they used to
fabricate (invoking and worshipping
others besides Allâh) has gone away
from them.
[54] ﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻜُﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺧَﻠَﻖَ
ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽَ ﻓﻰ ﺳِﺘَّﺔِ
ﺃَﻳّﺎﻡٍ ﺛُﻢَّ ﺍﺳﺘَﻮﻯٰ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻌَﺮﺵِ
ﻳُﻐﺸِﻰ ﺍﻟَّﻴﻞَ ﺍﻟﻨَّﻬﺎﺭَ ﻳَﻄﻠُﺒُﻪُ
ﺣَﺜﻴﺜًﺎ ﻭَﺍﻟﺸَّﻤﺲَ ﻭَﺍﻟﻘَﻤَﺮَ
ﻭَﺍﻟﻨُّﺠﻮﻡَ ﻣُﺴَﺨَّﺮٰﺕٍ ﺑِﺄَﻣﺮِﻩِ ۗ
ﺃَﻻ ﻟَﻪُ ﺍﻟﺨَﻠﻖُ ﻭَﺍﻷَﻣﺮُ ۗ ﺗَﺒﺎﺭَﻙَ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺭَﺏُّ ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[54] নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক
আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে
ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর
আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি
পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে
এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের
পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন
সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয়
আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই
কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা।
আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের
প্রতিপালক।
[54] Indeed your Lord is Allâh, Who
created the heavens and the earth in Six
Days, and then He rose over (Istawâ) the
Throne (really in a manner that suits His
Majesty). He brings the night as a cover
over the day, seeking it rapidly, and (He
created) the sun, the moon, the stars
subjected to His Command. Surely, His is
the Creation and Commandment. Blessed
is Allâh, the Lord of the ‘Alamîn
(mankind, jinn and all that exists)!
[55] ﺍﺩﻋﻮﺍ ﺭَﺑَّﻜُﻢ ﺗَﻀَﺮُّﻋًﺎ
ﻭَﺧُﻔﻴَﺔً ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﻻ ﻳُﺤِﺐُّ
ﺍﻟﻤُﻌﺘَﺪﻳﻦَ
[55] তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে
ডাক, কাকুতি-মিনতি করে এবং
সংগোপনে। তিনি সীমা
অতিক্রমকারীদেরকে পছন্দ করেন না।
[55] Invoke your Lord with humility and
in secret. He likes not the aggressors.
[56] ﻭَﻻ ﺗُﻔﺴِﺪﻭﺍ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﺑَﻌﺪَ ﺇِﺻﻠٰﺤِﻬﺎ ﻭَﺍﺩﻋﻮﻩُ ﺧَﻮﻓًﺎ
ﻭَﻃَﻤَﻌًﺎ ۚ ﺇِﻥَّ ﺭَﺣﻤَﺖَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻗَﺮﻳﺐٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﺤﺴِﻨﻴﻦَ
[56] পৃথিবীকে কুসংস্কারমুক্ত ও ঠিক
করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না।
তাঁকে আহবান কর ভয় ও আশা সহকারে।
নিশ্চয় আল্লাহর করুণা সৎকর্মশীলদের
নিকটবর্তী।
[56] And do not do mischief on the earth,
after it has been set in order, and invoke
Him with fear and hope; Surely, Allâh’s
Mercy is (ever) near unto the good-doers.
[57] ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻳُﺮﺳِﻞُ ﺍﻟﺮِّﻳٰﺢَ
ﺑُﺸﺮًﺍ ﺑَﻴﻦَ ﻳَﺪَﻯ ﺭَﺣﻤَﺘِﻪِ ۖ
ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ ﺃَﻗَﻠَّﺖ ﺳَﺤﺎﺑًﺎ ﺛِﻘﺎﻟًﺎ
ﺳُﻘﻨٰﻪُ ﻟِﺒَﻠَﺪٍ ﻣَﻴِّﺖٍ ﻓَﺄَﻧﺰَﻟﻨﺎ ﺑِﻪِ
ﺍﻟﻤﺎﺀَ ﻓَﺄَﺧﺮَﺟﻨﺎ ﺑِﻪِ ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ
ﺍﻟﺜَّﻤَﺮٰﺕِ ۚ ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻧُﺨﺮِﺝُ
ﺍﻟﻤَﻮﺗﻰٰ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢ ﺗَﺬَﻛَّﺮﻭﻥَ
[57] তিনিই বৃষ্টির পূর্বে সুসংবাদবাহী
বায়ু পাঠিয়ে দেন। এমনকি যখন
বায়ুরাশি পানিপূর্ন মেঘমালা বয়ে
আনে, তখন আমি এ মেঘমালাকে একটি
মৃত শহরের দিকে হঁ্যাকিয়ে দেই।
অতঃপর এ মেঘ থেকে বৃষ্টি ধারা বর্ষণ
করি। অতঃপর পানি দ্বারা সব রকমের
ফল উৎপন্ন করি। এমনি ভাবে মৃতদেরকে
বের করব-যাতে তোমরা চিন্তা কর।
[57] And it is He Who sends the winds as
heralds of glad tidings, going before His
Mercy (rain). Till when they have carried
a heavy-laden cloud, We drive it to a
land that is dead, then We cause water
(rain) to descend thereon. Then We
produce every kind of fruit therewith.
Similarly, We shall raise up the dead, so
that you may remember or take heed.
[58] ﻭَﺍﻟﺒَﻠَﺪُ ﺍﻟﻄَّﻴِّﺐُ ﻳَﺨﺮُﺝُ
ﻧَﺒﺎﺗُﻪُ ﺑِﺈِﺫﻥِ ﺭَﺑِّﻪِ ۖ ﻭَﺍﻟَّﺬﻯ ﺧَﺒُﺚَ
ﻻ ﻳَﺨﺮُﺝُ ﺇِﻟّﺎ ﻧَﻜِﺪًﺍ ۚ ﻛَﺬٰﻟِﻚَ
ﻧُﺼَﺮِّﻑُ ﺍﻝﺀﺍﻳٰﺖِ ﻟِﻘَﻮﻡٍ
ﻳَﺸﻜُﺮﻭﻥَ
[58] যে শহর উৎকৃষ্ট, তার ফসল তার
প্রতিপালকের নির্দেশে উৎপন্ন হয়
এবং যা নিকৃষ্ট তাতে অল্পই ফসল
উৎপন্ন হয়। এমনিভাবে আমি আয়াতসমূহ
ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বর্ণনা করি কৃতজ্ঞ
সম্প্রদায়ের জন্যে।
[58] The vegetation of a good land comes
forth (easily) by the Permission of its
Lord, and that which is bad, brings forth
nothing but (a little) with difficulty. Thus
do We explain variously the Ayât
(proofs, evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) for a people who give
thanks.
[59] ﻟَﻘَﺪ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﻧﻮﺣًﺎ ﺇِﻟﻰٰ
ﻗَﻮﻣِﻪِ ﻓَﻘﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺍﻋﺒُﺪُﻭﺍ
ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣﺎ ﻟَﻜُﻢ ﻣِﻦ ﺇِﻟٰﻪٍ ﻏَﻴﺮُﻩُ
ﺇِﻧّﻰ ﺃَﺧﺎﻑُ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﻋَﺬﺍﺏَ
ﻳَﻮﻡٍ ﻋَﻈﻴﻢٍ
[59] নিশ্চয় আমি নূহকে তার
সম্প্রদায়ের প্রতি পাঠিয়েছি। সে
বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা
আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতীত
তোমাদের কোন উপাস্য নেই। আমি
তোমাদের জন্যে একটি মহাদিবসের
শাস্তির আশঙ্কা করি।
[59] Indeed, We sent Nûh (Noah) to his
people and he said: “O my people!
Worship Allâh! You have no other Ilâh
(God) but Him. (Lâ ilâha ill-allâh: none
has the right to be worshipped but
Allâh). Certainly, I fear for you the
torment of a Great Day!”
[60] ﻗﺎﻝَ ﺍﻟﻤَﻠَﺄُ ﻣِﻦ ﻗَﻮﻣِﻪِ ﺇِﻧّﺎ
ﻟَﻨَﺮﻯٰﻚَ ﻓﻰ ﺿَﻠٰﻞٍ ﻣُﺒﻴﻦٍ
[60] তার সম্প্রদায়ের সর্দাররা বললঃ
আমরা তোমাকে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতার
মাঝে দেখতে পাচ্ছি।
[60] The leaders of his people said:
“Verily, we see you in plain error.”
[61] ﻗﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﻟَﻴﺲَ ﺑﻰ
ﺿَﻠٰﻠَﺔٌ ﻭَﻟٰﻜِﻨّﻰ ﺭَﺳﻮﻝٌ ﻣِﻦ ﺭَﺏِّ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[61] সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়,
আমি কখনও ভ্রান্ত নই; কিন্তু আমি
বিশ্বপ্রতিপালকের রসূল।
[61] [Nûh (Noah)] said: “O my people!
There is no error in me, but I am a
Messenger from the Lord of the ‘Alamîn
(mankind, jinn and all that exists)!
[62] ﺃُﺑَﻠِّﻐُﻜُﻢ ﺭِﺳٰﻠٰﺖِ ﺭَﺑّﻰ
ﻭَﺃَﻧﺼَﺢُ ﻟَﻜُﻢ ﻭَﺃَﻋﻠَﻢُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻣﺎ ﻻ ﺗَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[62] তোমাদেরকে প্রতিপালকের
পয়গাম পৌঁছাই এবং তোমাদেরকে
সদুপদেশ দেই। আমি আল্লাহর পক্ষ
থেকে এমনসব বিষয় জানি, যেগুলো
তোমরা জান না।
[62] “I convey unto you the Messages of
my Lord and give sincere advice to you.
And I know from Allâh what you know
not.
[63] ﺃَﻭَﻋَﺠِﺒﺘُﻢ ﺃَﻥ ﺟﺎﺀَﻛُﻢ
ﺫِﻛﺮٌ ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻜُﻢ ﻋَﻠﻰٰ ﺭَﺟُﻞٍ
ﻣِﻨﻜُﻢ ﻟِﻴُﻨﺬِﺭَﻛُﻢ ﻭَﻟِﺘَﺘَّﻘﻮﺍ
ﻭَﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢ ﺗُﺮﺣَﻤﻮﻥَ
[63] তোমরা কি আশ্চর্যবোধ করছ যে,
তোমাদের কাছে তোমাদের
প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের
মধ্য থেকেই একজনের বাচনিক উপদেশ
এসেছে যাতে সে তোমাদেরকে ভীতি
প্রদর্শন করে, যেন তোমরা সংযত হও
এবং যেন তোমরা অনুগৃহীত হও।
[63] “Do you wonder that there has come
to you a Reminder from your Lord
through a man from amongst you, that
he may warn you, so that you may fear
Allâh and that you may receive (His)
Mercy?”
[64] ﻓَﻜَﺬَّﺑﻮﻩُ ﻓَﺄَﻧﺠَﻴﻨٰﻪُ ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻣَﻌَﻪُ ﻓِﻰ ﺍﻟﻔُﻠﻚِ ﻭَﺃَﻏﺮَﻗﻨَﺎ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ۚ ﺇِﻧَّﻬُﻢ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻗَﻮﻣًﺎ ﻋَﻤﻴﻦَ
[64] অতঃপর তারা তাকে মিথ্যা
প্রতিপন্ন করল। আমি তাকে এবং
নৌকাস্থিত লোকদেরকে উদ্ধার
করলাম এবং যারা মিথ্যারোপ করত,
তাদেরকে ডুবিয়ে দিলাম। নিশ্চয়
তারা ছিল অন্ধ।
[64] But they belied him, so We saved
him and those along with him in the
ship, and We drowned those who belied
Our Ayât (proofs, evidences, verses,
lessons, signs, revelations, etc.). They
were indeed a blind people
[65] ۞ ﻭَﺇِﻟﻰٰ ﻋﺎﺩٍ ﺃَﺧﺎﻫُﻢ
ﻫﻮﺩًﺍ ۗ ﻗﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺍﻋﺒُﺪُﻭﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ
ﻣﺎ ﻟَﻜُﻢ ﻣِﻦ ﺇِﻟٰﻪٍ ﻏَﻴﺮُﻩُ ۚ ﺃَﻓَﻼ
ﺗَﺘَّﻘﻮﻥَ
[65] আদ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ
করেছি তাদের ভাই হুদকে। সে বললঃ
হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর
এবাদত কর। তিনি ব্যতিত তোমাদের
কোন উপাস্য নেই।
[65] And to ‘Ad (people, We sent) their
brother Hûd. He said: “O my people!
Worship Allâh! You have no other Ilâh
(God) but Him. (Lâ ilâha ill-allâh: none
has the right to be worshipped but
Allâh). Will you not fear (Allâh)?”
[66] ﻗﺎﻝَ ﺍﻟﻤَﻠَﺄُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ
ﻣِﻦ ﻗَﻮﻣِﻪِ ﺇِﻧّﺎ ﻟَﻨَﺮﻯٰﻚَ ﻓﻰ
ﺳَﻔﺎﻫَﺔٍ ﻭَﺇِﻧّﺎ ﻟَﻨَﻈُﻨُّﻚَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻜٰﺬِﺑﻴﻦَ
[66] তারা স্প্রদায়ের সর্দররা বললঃ
আমরা তোমাকে নির্বোধ দেখতে
পাচ্ছি এবং আমরা তোমাকে
মিথ্যাবাদী মনে করি।
[66] The leaders of those who disbelieved
among his people said: “Verily, we see
you in foolishness, and verily, we think
you are one of the liars.”
[67] ﻗﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﻟَﻴﺲَ ﺑﻰ
ﺳَﻔﺎﻫَﺔٌ ﻭَﻟٰﻜِﻨّﻰ ﺭَﺳﻮﻝٌ ﻣِﻦ
ﺭَﺏِّ ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[67] সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়,
আমি মোটেই নির্বোধ নই, বরং আমি
বিশ্ব প্রতিপালকের প্রেরিত পয়গম্বর।
[67] (Hûd) said: “O my people! There is
no foolishness in me, but (I am) a
Messenger from the Lord of the ‘Alamîn
(mankind, jinn and all that exists)!
[68] ﺃُﺑَﻠِّﻐُﻜُﻢ ﺭِﺳٰﻠٰﺖِ ﺭَﺑّﻰ ﻭَﺃَﻧﺎ۠
ﻟَﻜُﻢ ﻧﺎﺻِﺢٌ ﺃَﻣﻴﻦٌ
[68] তোমাদের কে প্রতিপালকের
পয়গাম পৌঁছাই এবং আমি তোমাদের
হিতাকাঙ্ক্ষী বিশ্বস্ত।
[68] “I convey unto you the Messages of
my Lord, and I am a trustworthy adviser
(or well-wisher) for you
[69] ﺃَﻭَﻋَﺠِﺒﺘُﻢ ﺃَﻥ ﺟﺎﺀَﻛُﻢ
ﺫِﻛﺮٌ ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻜُﻢ ﻋَﻠﻰٰ ﺭَﺟُﻞٍ
ﻣِﻨﻜُﻢ ﻟِﻴُﻨﺬِﺭَﻛُﻢ ۚ ﻭَﺍﺫﻛُﺮﻭﺍ ﺇِﺫ
ﺟَﻌَﻠَﻜُﻢ ﺧُﻠَﻔﺎﺀَ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِ ﻗَﻮﻡِ
ﻧﻮﺡٍ ﻭَﺯﺍﺩَﻛُﻢ ﻓِﻰ ﺍﻟﺨَﻠﻖِ
ﺑَﺼۜﻄَﺔً ۖ ﻓَﺎﺫﻛُﺮﻭﺍ ﺀﺍﻻﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢ ﺗُﻔﻠِﺤﻮﻥَ
[69] তোমরা কি আশ্চর্য্যবোধ করছ যে,
তোমাদের কাছে তোমাদের
পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের
মধ্য থেকেই একজনের বাচনিক উপদেশ
এসেছে যাতে সে তোমাদেরকে ভীতি
প্রদর্শন করে। তোমরা স্মরণ কর, যখন
আল্লাহ তোমাদেরকে কওমে নূহের পর
সর্দার করেছেন এবং তোমাদের
দেহের বিস্তৃতি বেশী করেছেন।
তোমরা আল্লাহর নেয়ামতসমূহ স্মরণ
কর-যাতে তোমাদের মঙ্গল হয়।
[69] “Do you wonder that there has come
to you a Reminder (and an advice) from
your Lord through a man from amongst
you to warn you? And remember that He
made you successors after the people of
Nûh (Noah), and increased you amply in
stature. So remember the graces
(bestowed upon you) from Allâh, so that
you may be successful.”
[70] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃَﺟِﺌﺘَﻨﺎ ﻟِﻨَﻌﺒُﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪَ
ﻭَﺣﺪَﻩُ ﻭَﻧَﺬَﺭَ ﻣﺎ ﻛﺎﻥَ ﻳَﻌﺒُﺪُ
ﺀﺍﺑﺎﺅُﻧﺎ ۖ ﻓَﺄﺗِﻨﺎ ﺑِﻤﺎ ﺗَﻌِﺪُﻧﺎ ﺇِﻥ
ﻛُﻨﺖَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺼّٰﺪِﻗﻴﻦَ
[70] তারা বললঃ তুমি কি আমাদের
কাছে এজন্যে এসেছ যে আমরা এক
আল্লাহর এবাদত করি এবং আমাদের
বাপ-দাদা যাদের পূজা করত, তাদেরকে
ছেড়ে দেই? অতএব নিয়ে আস আমাদের
কাছে যাদ্দ্বারা আমাদেরকে ভয়
দেখাচ্ছ, যদি তুমি সত্যবাদী হও।
[70] They said: “You have come to us that
we should worship Allâh Alone and
forsake that which our fathers used to
worship. So bring us that wherewith you
have threatened us if you are of the
truthful.”
[71] ﻗﺎﻝَ ﻗَﺪ ﻭَﻗَﻊَ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﻣِﻦ
ﺭَﺑِّﻜُﻢ ﺭِﺟﺲٌ ﻭَﻏَﻀَﺐٌ ۖ
ﺃَﺗُﺠٰﺪِﻟﻮﻧَﻨﻰ ﻓﻰ ﺃَﺳﻤﺎﺀٍ
ﺳَﻤَّﻴﺘُﻤﻮﻫﺎ ﺃَﻧﺘُﻢ ﻭَﺀﺍﺑﺎﺅُﻛُﻢ
ﻣﺎ ﻧَﺰَّﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻬﺎ ﻣِﻦ ﺳُﻠﻄٰﻦٍ ۚ
ﻓَﺎﻧﺘَﻈِﺮﻭﺍ ﺇِﻧّﻰ ﻣَﻌَﻜُﻢ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻤُﻨﺘَﻈِﺮﻳﻦَ
[71] সে বললঃ অবধারিত হয়ে গেছে
তোমাদের উপর তোমাদের
প্রতিপালকের পক্ষ থেকে শাস্তি ও
ক্রোধ। আমার সাথে ঐসব নাম
সম্পর্কে কেন তর্ক করছ, যেগুলো
তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদারা
রেখেছে। আল্লাহ এদের কোন মন্দ
অবর্তীণ করেননি। অতএব অপেক্ষা কর।
আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা
করছি।
[71] (Hûd) said: “Torment and wrath
have already fallen on you from your
Lord. Dispute you with me over names
which you have named – you and your
fathers, with no authority from Allâh?
Then wait, I am with you among those
who wait.”
[72] ﻓَﺄَﻧﺠَﻴﻨٰﻪُ ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻣَﻌَﻪُ
ﺑِﺮَﺣﻤَﺔٍ ﻣِﻨّﺎ ﻭَﻗَﻄَﻌﻨﺎ ﺩﺍﺑِﺮَ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ۖ ﻭَﻣﺎ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻣُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[72] অনন্তর আমি তাকে ও তার
সঙ্গীদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে রক্ষা
করলাম এবং যারা আমার আয়াতসমূহে
মিথ্যারোপ করত তাদের মূল কেটে
দিলাম। তারা মান্যকারী ছিল না।
[72] So We saved him and those who
were with him by a Mercy from Us, and
We cut the roots of those who belied Our
Ayât (proofs, evidences, verses, lessons,
signs, revelations), and they were not
believers.
[73] ﻭَﺇِﻟﻰٰ ﺛَﻤﻮﺩَ ﺃَﺧﺎﻫُﻢ ﺻٰﻠِﺤًﺎ ۗ
ﻗﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺍﻋﺒُﺪُﻭﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣﺎ
ﻟَﻜُﻢ ﻣِﻦ ﺇِﻟٰﻪٍ ﻏَﻴﺮُﻩُ ۖ ﻗَﺪ
ﺟﺎﺀَﺗﻜُﻢ ﺑَﻴِّﻨَﺔٌ ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻜُﻢ ۖ
ﻫٰﺬِﻩِ ﻧﺎﻗَﺔُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟَﻜُﻢ ﺀﺍﻳَﺔً ۖ
ﻓَﺬَﺭﻭﻫﺎ ﺗَﺄﻛُﻞ ﻓﻰ ﺃَﺭﺽِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۖ
ﻭَﻻ ﺗَﻤَﺴّﻮﻫﺎ ﺑِﺴﻮﺀٍ
ﻓَﻴَﺄﺧُﺬَﻛُﻢ ﻋَﺬﺍﺏٌ ﺃَﻟﻴﻢٌ
[73] সামুদ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ
করেছি তাদের ভাই সালেহকে। সে
বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা
আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতিত
তোমাদের কোন উপাস্য নেই।
তোমাদের কাছে তোমাদের
প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি প্রমাণ
এসে গেছে। এটি আল্লাহর উষ্টী
তোমাদের জন্যে প্রমাণ। অতএব একে
ছেড়ে দাও, আল্লাহর ভুমিতে চড়ে
বেড়াবে। একে অসৎভাবে স্পর্শ করবে
না। অন্যথায় তোমাদেরকে
যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি পাকড়াও করবে।
[73] And to Thamûd (people, We sent)
their brother Sâlih (Saleh). He said: “O
my people! Worship Allâh! You have no
other Ilâh (God) but Him. (Lâ ilâha ill-
allâh: none has the right to be
worshipped but Allâh). Indeed there has
come to you a clear sign (the miracle of
the coming out of a huge she-camel from
the midst of a rock) from your Lord. This
she-camel of Allâh is a sign unto you; so
you leave her to graze in Allâh’s earth,
and touch her not with harm, lest a
painful torment should seize you.
[74] ﻭَﺍﺫﻛُﺮﻭﺍ ﺇِﺫ ﺟَﻌَﻠَﻜُﻢ
ﺧُﻠَﻔﺎﺀَ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِ ﻋﺎﺩٍ ﻭَﺑَﻮَّﺃَﻛُﻢ
ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﺗَﺘَّﺨِﺬﻭﻥَ ﻣِﻦ
ﺳُﻬﻮﻟِﻬﺎ ﻗُﺼﻮﺭًﺍ ﻭَﺗَﻨﺤِﺘﻮﻥَ
ﺍﻟﺠِﺒﺎﻝَ ﺑُﻴﻮﺗًﺎ ۖ ﻓَﺎﺫﻛُﺮﻭﺍ
ﺀﺍﻻﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻻ ﺗَﻌﺜَﻮﺍ ﻓِﻰ
ﺍﻷَﺭﺽِ ﻣُﻔﺴِﺪﻳﻦَ
[74] তোমরা স্মরণ কর, যখন
তোমাদেরকে আদ জাতির পরে সর্দার
করেছেন; তোমাদেরকে পৃথিবীতে
ঠিকানা দিয়েছেন। তোমরা নরম
মাটিতে অট্টালিকা নির্মান কর এবং
পর্বত গাত্র খনন করে প্রকোষ্ঠ
নির্মাণ কর। অতএব আল্লাহর অনুগ্রহ
স্মরণ কর এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি
করো না।
[74] “And remember when He made you
successors after ‘Ad (people) and gave
you habitations in the land, you build for
yourselves palaces in plains, and carve
out homes in the mountains. So
remember the graces (bestowed upon
you) from Allâh, and do not go about
making mischief on the earth.”
[75] ﻗﺎﻝَ ﺍﻟﻤَﻠَﺄُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﺍﺳﺘَﻜﺒَﺮﻭﺍ ﻣِﻦ ﻗَﻮﻣِﻪِ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ
ﺍﺳﺘُﻀﻌِﻔﻮﺍ ﻟِﻤَﻦ ﺀﺍﻣَﻦَ ﻣِﻨﻬُﻢ
ﺃَﺗَﻌﻠَﻤﻮﻥَ ﺃَﻥَّ ﺻٰﻠِﺤًﺎ ﻣُﺮﺳَﻞٌ
ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻪِ ۚ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺇِﻧّﺎ ﺑِﻤﺎ ﺃُﺭﺳِﻞَ
ﺑِﻪِ ﻣُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[75] তার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক
সর্দাররা ঈমানদার দারিদ্রদেরকে
জিজ্ঞেস করলঃ তোমরা কি বিশ্বাস
কর যে সালেহ কে তার পালনকর্তা
প্রেরণ করেছেন; তারা বলল আমরা
তো তার আনীত বিষয়ের প্রতি
বিশ্বাসী।
[75] The leaders of those who were
arrogant among his people said to those
who were counted weak – to such of them
as believed: “Know you that Sâlih is one
sent from his Lord.” They said: “We
indeed believe in that with which he has
been sent.”
[76] ﻗﺎﻝَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺍﺳﺘَﻜﺒَﺮﻭﺍ ﺇِﻧّﺎ
ﺑِﺎﻟَّﺬﻯ ﺀﺍﻣَﻨﺘُﻢ ﺑِﻪِ ﻛٰﻔِﺮﻭﻥَ
[76] দাম্ভিকরা বললঃ তোমরা যে
বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করেছ, আমরা
তাতে অস্বীকৃত।
[76] Those who were arrogant said:
“Verily, we disbelieve in that which you
believe in.”
[77] ﻓَﻌَﻘَﺮُﻭﺍ ﺍﻟﻨّﺎﻗَﺔَ ﻭَﻋَﺘَﻮﺍ ﻋَﻦ
ﺃَﻣﺮِ ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﺼٰﻠِﺢُ ﺍﺋﺘِﻨﺎ
ﺑِﻤﺎ ﺗَﻌِﺪُﻧﺎ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺖَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻤُﺮﺳَﻠﻴﻦَ
[77] অতঃপর তারা উষ্ট্রীকে হত্যা করল
এবং স্বীয় প্রতিপালকের আদেশ
অমান্য করল। তারা বললঃ হে ছালেহ,
নিয়ে এস যদ্দ্বারা আমাদেরকে ভয়
দেখাতে, যদি তুমি রসূল হয়ে থাক।
[77] So they killed the she-camel and
insolently defied the Commandment of
their Lord, and said: “O Sâlih! Bring
about your threats if you are indeed one
of the Messengers (of Allâh).”
[78] ﻓَﺄَﺧَﺬَﺗﻬُﻢُ ﺍﻟﺮَّﺟﻔَﺔُ
ﻓَﺄَﺻﺒَﺤﻮﺍ ﻓﻰ ﺩﺍﺭِﻫِﻢ
ﺟٰﺜِﻤﻴﻦَ
[78] অতঃপর পাকড়াও করল তাদেরকে
ভূমিকম্প। ফলে সকাল বেলায় নিজ নিজ
গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।
[78] So the earthquake seized them, and
they lay (dead), prostrate in their homes.
[79] ﻓَﺘَﻮَﻟّﻰٰ ﻋَﻨﻬُﻢ ﻭَﻗﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ
ﻟَﻘَﺪ ﺃَﺑﻠَﻐﺘُﻜُﻢ ﺭِﺳﺎﻟَﺔَ ﺭَﺑّﻰ
ﻭَﻧَﺼَﺤﺖُ ﻟَﻜُﻢ ﻭَﻟٰﻜِﻦ ﻻ
ﺗُﺤِﺒّﻮﻥَ ﺍﻟﻨّٰﺼِﺤﻴﻦَ
[79] ছালেহ তাদের কাছ থেকে
প্রস্থান করলো এবং বললঃ হে আমার
সম্প্রদায়, আমি তোমাদের কাছে
স্বীয় প্রতিপালকের পয়গাম
পৌছিয়েছি এবং তোমাদের মঙ্গল
কামনা করেছি কিন্তু তোমরা
মঙ্গলকাঙ্খীদেরকে ভালবাস না।
[79] Then he (Sâlih) turned from them,
and said: “O my people! I have indeed
conveyed to you the Message of my Lord,
and have given you good advice but you
like not good advisers.”
[80] ﻭَﻟﻮﻃًﺎ ﺇِﺫ ﻗﺎﻝَ ﻟِﻘَﻮﻣِﻪِ
ﺃَﺗَﺄﺗﻮﻥَ ﺍﻟﻔٰﺤِﺸَﺔَ ﻣﺎ ﺳَﺒَﻘَﻜُﻢ
ﺑِﻬﺎ ﻣِﻦ ﺃَﺣَﺪٍ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[80] এবং আমি লূতকে প্রেরণ করেছি।
যখন সে স্বীয় সম্প্রদায়কে বললঃ
তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা
তোমাদের পূর্বে সারা বিশ্বের কেউ
করেনি ?
[80] And (remember) Lût (Lot), when he
said to his people: “Do you commit the
worst sin such as none preceding you
has committed in the ‘Alamîn (mankind
and jinn)?
[81] ﺇِﻧَّﻜُﻢ ﻟَﺘَﺄﺗﻮﻥَ ﺍﻟﺮِّﺟﺎﻝَ
ﺷَﻬﻮَﺓً ﻣِﻦ ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻨِّﺴﺎﺀِ ۚ ﺑَﻞ
ﺃَﻧﺘُﻢ ﻗَﻮﻡٌ ﻣُﺴﺮِﻓﻮﻥَ
[81] তোমরা তো কামবশতঃ পুরুষদের
কাছে গমন কর নারীদেরকে ছেড়ে।
বরং তোমরা সীমা অতিক্রম করেছ।
[81] “Verily, you practise your lusts on
men instead of women. Nay, but you are
a people transgressing beyond bounds
(by committing great sins).”
[82] ﻭَﻣﺎ ﻛﺎﻥَ ﺟَﻮﺍﺏَ ﻗَﻮﻣِﻪِ ﺇِﻟّﺎ
ﺃَﻥ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃَﺧﺮِﺟﻮﻫُﻢ ﻣِﻦ
ﻗَﺮﻳَﺘِﻜُﻢ ۖ ﺇِﻧَّﻬُﻢ ﺃُﻧﺎﺱٌ
ﻳَﺘَﻄَﻬَّﺮﻭﻥَ
[82] তাঁর সম্প্রদায় এ ছাড়া কোন উত্তর
দিল না যে, বের করে দাও এদেরকে
শহর থেকে। এরা খুব সাধু থাকতে চায়।
[82] And the answer of his people was
only that they said: “Drive them out of
your town, these are indeed men who
want to be pure (from sins)!”
[83] ﻓَﺄَﻧﺠَﻴﻨٰﻪُ ﻭَﺃَﻫﻠَﻪُ ﺇِﻟَّﺎ
ﺍﻣﺮَﺃَﺗَﻪُ ﻛﺎﻧَﺖ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻐٰﺒِﺮﻳﻦَ
[83] অতঃপর আমি তাকে ও তাঁর
পরিবার পরিজনকে বাঁচিয়ে দিলাম,
কিন্তু তার স্ত্রী। সে তাদের মধ্যেই
রয়ে গেল, যারা রয়ে গিয়েছিল। আমি
তাদের উপর প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করলাম।
[83] Then We saved him and his family,
except his wife; she was of those who
remained behind (in the torment)
[84] ﻭَﺃَﻣﻄَﺮﻧﺎ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻣَﻄَﺮًﺍ ۖ
ﻓَﺎﻧﻈُﺮ ﻛَﻴﻒَ ﻛﺎﻥَ ﻋٰﻘِﺒَﺔُ
ﺍﻟﻤُﺠﺮِﻣﻴﻦَ
[84] অতএব, দেখ গোনাহগারদের
পরিণতি কেমন হয়েছে।
[84] And We rained down on them a
rain (of stones). Then see what was the
end of the Mujrimûn (criminals,
polytheists and sinners).
[85] ﻭَﺇِﻟﻰٰ ﻣَﺪﻳَﻦَ ﺃَﺧﺎﻫُﻢ
ﺷُﻌَﻴﺒًﺎ ۗ ﻗﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ ﺍﻋﺒُﺪُﻭﺍ
ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣﺎ ﻟَﻜُﻢ ﻣِﻦ ﺇِﻟٰﻪٍ ﻏَﻴﺮُﻩُ ۖ
ﻗَﺪ ﺟﺎﺀَﺗﻜُﻢ ﺑَﻴِّﻨَﺔٌ ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻜُﻢ ۖ
ﻓَﺄَﻭﻓُﻮﺍ ﺍﻟﻜَﻴﻞَ ﻭَﺍﻟﻤﻴﺰﺍﻥَ ﻭَﻻ
ﺗَﺒﺨَﺴُﻮﺍ ﺍﻟﻨّﺎﺱَ ﺃَﺷﻴﺎﺀَﻫُﻢ
ﻭَﻻ ﺗُﻔﺴِﺪﻭﺍ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﺑَﻌﺪَ
ﺇِﺻﻠٰﺤِﻬﺎ ۚ ﺫٰﻟِﻜُﻢ ﺧَﻴﺮٌ ﻟَﻜُﻢ ﺇِﻥ
ﻛُﻨﺘُﻢ ﻣُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[85] আমি মাদইয়ানের প্রতি তাদের
ভাই শোয়ায়েবকে প্রেরণ করেছি। সে
বললঃ হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা
আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতীত
তোমাদের কোন উপাস্য নেই।
তোমাদের কাছে তোমাদের
প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রমাণ এসে
গেছে। অতএব তোমরা মাপ ও ওজন পূর্ন
কর এবং মানুষকে তাদের দ্রব্যদি কম
দিয়ো না এবং ভুপৃষ্টের সংস্কার
সাধন করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি
করো না। এই হল তোমাদের জন্যে
কল্যাণকর, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।
[85] And to (the people of) Madyan
(Midian), (We sent) their brother
Shu’aib. He said: “O my people! Worship
Allâh! You have no other Ilâh (God) but
Him. [Lâ ilâha ill-allâh (none has the
right to be worshipped but Allâh)].”
Verily, a clear proof (sign) from your
Lord has come unto you; so give full
measure and full weight and wrong not
men in their things, and do not mischief
on the earth after it has been set in
order, that will be better for you, if you
are believers.
[86] ﻭَﻻ ﺗَﻘﻌُﺪﻭﺍ ﺑِﻜُﻞِّ ﺻِﺮٰﻁٍ
ﺗﻮﻋِﺪﻭﻥَ ﻭَﺗَﺼُﺪّﻭﻥَ ﻋَﻦ
ﺳَﺒﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣَﻦ ﺀﺍﻣَﻦَ ﺑِﻪِ
ﻭَﺗَﺒﻐﻮﻧَﻬﺎ ﻋِﻮَﺟًﺎ ۚ ﻭَﺍﺫﻛُﺮﻭﺍ ﺇِﺫ
ﻛُﻨﺘُﻢ ﻗَﻠﻴﻠًﺎ ﻓَﻜَﺜَّﺮَﻛُﻢ ۖ
ﻭَﺍﻧﻈُﺮﻭﺍ ﻛَﻴﻒَ ﻛﺎﻥَ ﻋٰﻘِﺒَﺔُ
ﺍﻟﻤُﻔﺴِﺪﻳﻦَ
[86] তোমরা পথে ঘাটে এ কারণে বসে
থেকো না যে, আল্লাহ
বিশ্বাসীদেরকে হুমকি দিবে, আল্লাহর
পথে বাধা সৃষ্টি করবে এবং তাতে
বক্রতা অনুসন্ধান করবে। স্মরণ কর, যখন
তোমরা সংখ্যায় অল্প ছিলে অতঃপর
আল্লাহ তোমাদেরকে অধিক করেছেন
এবং লক্ষ্য কর কিরূপ অশুভ পরিণতি
হয়েছে অনর্থকারীদের।
[86] “And sit not on every road,
threatening, and hindering from the
Path of Allâh those who believe in Him.
and seeking to make it crooked. And
remember when you were but few, and
He multiplied you. And see what was the
end of the Mufsidûn (mischief-makers,
corrupters, liars).
[87] ﻭَﺇِﻥ ﻛﺎﻥَ ﻃﺎﺋِﻔَﺔٌ ﻣِﻨﻜُﻢ
ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﺑِﺎﻟَّﺬﻯ ﺃُﺭﺳِﻠﺖُ ﺑِﻪِ
ﻭَﻃﺎﺋِﻔَﺔٌ ﻟَﻢ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﺍ ﻓَﺎﺻﺒِﺮﻭﺍ
ﺣَﺘّﻰٰ ﻳَﺤﻜُﻢَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑَﻴﻨَﻨﺎ ۚ ﻭَﻫُﻮَ
ﺧَﻴﺮُ ﺍﻟﺤٰﻜِﻤﻴﻦَ
[87] আর যদি তোমাদের একদল ঐ
বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে যা
নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি এবং একদল
বিশ্বাস স্থাপন করে যা নিয়ে আমি
প্রেরিত হয়েছি এবং একদল বিশ্বাস
স্থাপন না করে, তবে ছবর কর যে পর্যন্ত
আল্লাহ আমাদের মধ্যে মীমাংসা না
করে দেন। তিনিই শ্রেষ্ট
মীমাংসাকারী।
[87] “And if there is a party of you who
believes in that with which I have been
sent and a party who do not believe, so
be patient until Allâh judges between us,
and He is the Best of judges.”
[88] ۞ ﻗﺎﻝَ ﺍﻟﻤَﻠَﺄُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﺍﺳﺘَﻜﺒَﺮﻭﺍ ﻣِﻦ ﻗَﻮﻣِﻪِ
ﻟَﻨُﺨﺮِﺟَﻨَّﻚَ ﻳٰﺸُﻌَﻴﺐُ ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻣَﻌَﻚَ ﻣِﻦ ﻗَﺮﻳَﺘِﻨﺎ ﺃَﻭ
ﻟَﺘَﻌﻮﺩُﻥَّ ﻓﻰ ﻣِﻠَّﺘِﻨﺎ ۚ ﻗﺎﻝَ ﺃَﻭَﻟَﻮ
ﻛُﻨّﺎ ﻛٰﺮِﻫﻴﻦَ
[88] তার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক
সর্দাররা বললঃ হে শোয়ায়েব, আমরা
অবশ্যই তোমাকে এবং তোমার সাথে
বিশ্বাস স্থাপনকারীদেরকে শহর
থেকে বের করে দেব অথবা তোমরা
আমাদের ধর্মে প্রত্যাবর্তন করবে।
শোয়ায়েব বললঃ আমরা অপছন্দ
করলেও কি ?
[88] The chiefs of those who were
arrogant among his people said: “We
shall certainly drive you out, O Shu’aib,
and those who have believed with you
from our town, or else you (all) shall
return to our religion.” He said: “Even
though we hate it?”.
[89] ﻗَﺪِ ﺍﻓﺘَﺮَﻳﻨﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻛَﺬِﺑًﺎ ﺇِﻥ ﻋُﺪﻧﺎ ﻓﻰ ﻣِﻠَّﺘِﻜُﻢ
ﺑَﻌﺪَ ﺇِﺫ ﻧَﺠّﻯٰﻨَﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣِﻨﻬﺎ ۚ ﻭَﻣﺎ
ﻳَﻜﻮﻥُ ﻟَﻨﺎ ﺃَﻥ ﻧَﻌﻮﺩَ ﻓﻴﻬﺎ ﺇِﻟّﺎ
ﺃَﻥ ﻳَﺸﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺭَﺑُّﻨﺎ ۚ ﻭَﺳِﻊَ ﺭَﺑُّﻨﺎ
ﻛُﻞَّ ﺷَﻲﺀٍ ﻋِﻠﻤًﺎ ۚ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺗَﻮَﻛَّﻠﻨﺎ ۚ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺍﻓﺘَﺢ ﺑَﻴﻨَﻨﺎ
ﻭَﺑَﻴﻦَ ﻗَﻮﻣِﻨﺎ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ﻭَﺃَﻧﺖَ
ﺧَﻴﺮُ ﺍﻟﻔٰﺘِﺤﻴﻦَ
[89] আমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা
অপবাদকারী হয়ে যাব যদি আমরা
তোমাদের ধর্মে প্রত্যাবর্তন করি,
অথচ তিনি আমাদেরকে এ থেকে মুক্তি
দিয়েছেন। আমাদের কাজ নয় এ ধর্মে
প্রত্যাবর্তন করা, কিন্তু আমাদের প্রতি
পালক আল্লাহ যদি চান। আমাদের
প্রতিপালক প্রত্যেক বস্তুকে স্বীয়
জ্ঞান দ্বারা বেষ্টন করে আছেন।
আল্লাহর প্রতিই আমরা ভরসা করেছি।
হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের ও
আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ফয়সালা
করে ছিল যথার্থ ফয়সালা। আপনিই
শ্রেষ্টতম ফসলা ফয়সালাকারী।
[89] “We should have invented a lie
against Allâh if we returned to your
religion, after Allâh has rescued us from
it. And it is not for us to return to it
unless Allâh, our Lord, should will. Our
Lord comprehends all things in His
Knowledge. In Allâh (Alone) we put our
trust. Our Lord! Judge between us and
our people in truth, for You are the Best
of those who give judgment.”
[90] ﻭَﻗﺎﻝَ ﺍﻟﻤَﻠَﺄُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ
ﻣِﻦ ﻗَﻮﻣِﻪِ ﻟَﺌِﻦِ ﺍﺗَّﺒَﻌﺘُﻢ ﺷُﻌَﻴﺒًﺎ
ﺇِﻧَّﻜُﻢ ﺇِﺫًﺍ ﻟَﺨٰﺴِﺮﻭﻥَ
[90] তার সম্প্রদায়ের কাফের সর্দাররা
বললঃ যদি তোমরা শোয়ায়েবের
অনুসরণ কর, তবে নিশ্চিতই ক্ষতিগ্রস্ত
হবে।
[90] The chiefs of those who disbelieved
among his people said (to their people):
“If you follow Shu’aib, be sure then you
will be the losers!”
[91] ﻓَﺄَﺧَﺬَﺗﻬُﻢُ ﺍﻟﺮَّﺟﻔَﺔُ
ﻓَﺄَﺻﺒَﺤﻮﺍ ﻓﻰ ﺩﺍﺭِﻫِﻢ
ﺟٰﺜِﻤﻴﻦَ
[91] অনন্তর পাকড়াও করল তাদেরকে
ভূমিকম্প। ফলে তারা সকাল বেলায় গৃহ
মধ্যে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।
[91] So the earthquake seized them and
they lay (dead), prostrate in their homes
[92] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ ﺷُﻌَﻴﺒًﺎ ﻛَﺄَﻥ
ﻟَﻢ ﻳَﻐﻨَﻮﺍ ﻓﻴﻬَﺎ ۚ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ
ﺷُﻌَﻴﺒًﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻫُﻢُ ﺍﻟﺨٰﺴِﺮﻳﻦَ
[92] শোয়ায়েবের প্রতি
মিথ্যারোপকারীরা যেন কোন দিন
সেখানে বসবাসই করেনি। যারা
শোয়ায়েবের প্রতি মিথ্যারোপ
করেছিল, তারাই ক্ষতিগ্রস্থ হল।
[92] Those who belied Shu’aib, became as
if they had never dwelt there (in their
homes). Those who belied Shu’aib, they
were the losers.
[93] ﻓَﺘَﻮَﻟّﻰٰ ﻋَﻨﻬُﻢ ﻭَﻗﺎﻝَ ﻳٰﻘَﻮﻡِ
ﻟَﻘَﺪ ﺃَﺑﻠَﻐﺘُﻜُﻢ ﺭِﺳٰﻠٰﺖِ ﺭَﺑّﻰ
ﻭَﻧَﺼَﺤﺖُ ﻟَﻜُﻢ ۖ ﻓَﻜَﻴﻒَ
ﺀﺍﺳﻰٰ ﻋَﻠﻰٰ ﻗَﻮﻡٍ ﻛٰﻔِﺮﻳﻦَ
[93] অনন্তর সে তাদের কাছ থেকে
প্রস্থান করল এবং বললঃ হে আমার
সম্প্রদায়, আমি তোমাদেরকে
প্রতিপালকের পয়গাম পৌছে দিয়েছি
এবং তোমাদের হিত কামনা করেছি।
এখন আমি কাফেরদের জন্যে কেন দুঃখ
করব।
[93] Then he (Shu’aib) turned from them
and said: “O my people! I have indeed
conveyed my Lord’s Messages unto you
and I have given you good advice. Then
how can I sorrow for the disbelieving
people’s (destruction).”
[94] ﻭَﻣﺎ ﺃَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﻓﻰ ﻗَﺮﻳَﺔٍ ﻣِﻦ
ﻧَﺒِﻰٍّ ﺇِﻟّﺎ ﺃَﺧَﺬﻧﺎ ﺃَﻫﻠَﻬﺎ
ﺑِﺎﻟﺒَﺄﺳﺎﺀِ ﻭَﺍﻟﻀَّﺮّﺍﺀِ ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ
ﻳَﻀَّﺮَّﻋﻮﻥَ
[94] আর আমি কোন জনপদে কোন নবী
পাঠাইনি, তবে (এমতাবস্থায়) যে
পাকড়াও করেছি সে জনপদের
অধিবাসীদিগকে কষ্ট ও কঠোরতার
মধ্যে, যাতে তারা শিথিল হয়ে পড়ে।
[94] And We sent no Prophet unto any
town (and they denied him), but We
seized its people with suffering from
extreme poverty (or loss in wealth) and
loss of health (and calamities), so that
they might humiliate themselves (and
repent to Allâh).
[95] ﺛُﻢَّ ﺑَﺪَّﻟﻨﺎ ﻣَﻜﺎﻥَ ﺍﻟﺴَّﻴِّﺌَﺔِ
ﺍﻟﺤَﺴَﻨَﺔَ ﺣَﺘّﻰٰ ﻋَﻔَﻮﺍ ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ
ﻗَﺪ ﻣَﺲَّ ﺀﺍﺑﺎﺀَﻧَﺎ ﺍﻟﻀَّﺮّﺍﺀُ
ﻭَﺍﻟﺴَّﺮّﺍﺀُ ﻓَﺄَﺧَﺬﻧٰﻬُﻢ ﺑَﻐﺘَﺔً
ﻭَﻫُﻢ ﻻ ﻳَﺸﻌُﺮﻭﻥَ
[95] অতঃপর অকল্যাণের স্থলে তা
কল্যাণে বদলে দিয়েছে। এমনকি তারা
অনেক বেড়ে গিয়েছি এবং বলতে শুরু
করেছে, আমাদের বাপ-দাদাদের উপরও
এমন আনন্দ-বেদনা এসেছে। অতঃপর
আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি এমন
আকস্মিকভাবে যে তারা টেরও
পায়নি।
[95] Then We changed the evil for the
good, until they increased in number
and in wealth, and said: “Our fathers
were touched with evil (loss of health
and calamities) and with good
(prosperity).” So We seized them all of a
sudden while they were unaware.
[96] ﻭَﻟَﻮ ﺃَﻥَّ ﺃَﻫﻞَ ﺍﻟﻘُﺮﻯٰ
ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻭَﺍﺗَّﻘَﻮﺍ ﻟَﻔَﺘَﺤﻨﺎ
ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺑَﺮَﻛٰﺖٍ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﻟٰﻜِﻦ ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ
ﻓَﺄَﺧَﺬﻧٰﻬُﻢ ﺑِﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻜﺴِﺒﻮﻥَ
[96] আর যদি সে জনপদের অধিবাসীরা
ঈমান আনত এবং পরহেযগারী অবলম্বন
করত, তবে আমি তাদের প্রতি আসমানী
ও পার্থিব নেয়ামত সমূহ উম্মুক্ত করে
দিতাম। কিন্তু তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন
করেছে। সুতরাং আমি তাদেরকে
পাকড়াও করেছি তাদের কৃতকর্মের
বদলাতে।
[96] And if the people of the towns had
believed and had the Taqwâ (piety),
certainly, We should have opened for
them blessings from the heaven and the
earth, but they belied (the Messengers).
So We took them (with punishment) for
what they used to earn (polytheism and
crimes).
[97] ﺃَﻓَﺄَﻣِﻦَ ﺃَﻫﻞُ ﺍﻟﻘُﺮﻯٰ ﺃَﻥ
ﻳَﺄﺗِﻴَﻬُﻢ ﺑَﺄﺳُﻨﺎ ﺑَﻴٰﺘًﺎ ﻭَﻫُﻢ
ﻧﺎﺋِﻤﻮﻥَ
[97] এখনও কি এই জনপদের অধিবাসীরা
এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত যে, আমার আযাব
তাদের উপর রাতের বেলায় এসে পড়বে
অথচ তখন তারা থাকবে ঘুমে অচেতন।
[97] Did the people of the towns then feel
secure against the coming of Our
Punishment by night while they are
asleep?
[98] ﺃَﻭَﺃَﻣِﻦَ ﺃَﻫﻞُ ﺍﻟﻘُﺮﻯٰ ﺃَﻥ
ﻳَﺄﺗِﻴَﻬُﻢ ﺑَﺄﺳُﻨﺎ ﺿُﺤًﻰ ﻭَﻫُﻢ
ﻳَﻠﻌَﺒﻮﻥَ
[98] আর এই জনপদের অধিবাসীরা কি
নিশ্চিন্ত হয়ে পড়েছে যে, তাদের উপর
আমার আযাব দিনের বেলাতে এসে
পড়বে অথচ তারা তখন থাকবে খেলা-
ধুলায় মত্ত।
[98] Or, did the people of the towns then
feel secure against the coming of Our
Punishment in the forenoon while they
were playing?
[99] ﺃَﻓَﺄَﻣِﻨﻮﺍ ﻣَﻜﺮَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۚ ﻓَﻼ
ﻳَﺄﻣَﻦُ ﻣَﻜﺮَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻘَﻮﻡُ
ﺍﻟﺨٰﺴِﺮﻭﻥَ
[99] তারা কি আল্লাহর পাকড়াওয়ের
ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে?
বস্তুতঃ আল্লাহর পাকড়াও থেকে
তারাই নিশ্চিন্ত হতে পারে, যাদের
ধ্বংস ঘনিয়ে আসে।
[99] Did they then feel secure against the
Plan of Allâh? None feels secure from the
Plan of Allâh except the people who are
the losers.
[100] ﺃَﻭَﻟَﻢ ﻳَﻬﺪِ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ ﻳَﺮِﺛﻮﻥَ
ﺍﻷَﺭﺽَ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِ ﺃَﻫﻠِﻬﺎ ﺃَﻥ ﻟَﻮ
ﻧَﺸﺎﺀُ ﺃَﺻَﺒﻨٰﻬُﻢ ﺑِﺬُﻧﻮﺑِﻬِﻢ ۚ
ﻭَﻧَﻄﺒَﻊُ ﻋَﻠﻰٰ ﻗُﻠﻮﺑِﻬِﻢ ﻓَﻬُﻢ ﻻ
ﻳَﺴﻤَﻌﻮﻥَ
[100] তাদের নিকট কি একথা প্রকাশিত
হয়নি, যারা উত্তারাধিকার লাভ
করেছে। সেখানকার লোকদের
ধ্বংসপ্রাপ্ত হবার পর যদি আমি ইচ্ছা
করতাম, , তবে তাদেরকে তাদের
পাপের দরুন পাকড়াও করে ফেলতাম।
বস্তুতঃ আমি মোহর এঁটে দিয়েছি
তাদের অন্তরসমূহের উপর। কাজেই এরা
শুনতে পায় না।
[100] Is it not clear to those who inherit
the earth in succession from its
(previous) possessors, that had We
willed, We would have punished them
for their sins. And We seal up their
hearts so that they hear not?
[101] ﺗِﻠﻚَ ﺍﻟﻘُﺮﻯٰ ﻧَﻘُﺺُّ ﻋَﻠَﻴﻚَ
ﻣِﻦ ﺃَﻧﺒﺎﺋِﻬﺎ ۚ ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺟﺎﺀَﺗﻬُﻢ
ﺭُﺳُﻠُﻬُﻢ ﺑِﺎﻟﺒَﻴِّﻨٰﺖِ ﻓَﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻟِﻴُﺆﻣِﻨﻮﺍ ﺑِﻤﺎ ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ ۚ
ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻳَﻄﺒَﻊُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠﻰٰ ﻗُﻠﻮﺏِ
ﺍﻟﻜٰﻔِﺮﻳﻦَ
[101] এগুলো হল সে সব জনপদ যার কিছু
বিবরণ আমি আপনাকে অবহিত করছি।
আর নিশ্চিতই ওদের কাছে
পৌছেছিলেন রসূল নিদর্শন সহকারে।
অতঃপর কস্মিনকালও এরা ঈমান
আনবার ছিল না, তারপরে যা তার
ইতিপূর্বে মিথ্যা বলে প্রতিপন্ন
করেছে। এভাবেই আল্লাহ কাফেরদের
অন্তরে মোহর এঁটে দেন।
[101] Those were the towns whose story
We relate unto you (O Muhammad SAW).
And there came indeed to them their
Messengers with clear proofs, but they
were not such as to believe in that which
they had rejected before. Thus Allâh does
seal up the hearts of the disbelievers
(from every kind of religious guidance)
[102] ﻭَﻣﺎ ﻭَﺟَﺪﻧﺎ ﻟِﺄَﻛﺜَﺮِﻫِﻢ ﻣِﻦ
ﻋَﻬﺪٍ ۖ ﻭَﺇِﻥ ﻭَﺟَﺪﻧﺎ ﺃَﻛﺜَﺮَﻫُﻢ
ﻟَﻔٰﺴِﻘﻴﻦَ
[102] আর তাদের অধিকাংশ লোককেই
আমি প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নকারীরূপে
পাইনি; বরং তাদের অধিকাংশকে
পেয়েছি হুকুম অমান্যকারী।
[102] And most of them We found not
true to their covenant, but most of them
We found indeed Fâsiqûn (rebellious,
disobedient to Allâh).
[103] ﺛُﻢَّ ﺑَﻌَﺜﻨﺎ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِﻫِﻢ
ﻣﻮﺳﻰٰ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ﺇِﻟﻰٰ ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ
ﻭَﻣَﻠَﺈِﻳ۟ﻪِ ﻓَﻈَﻠَﻤﻮﺍ ﺑِﻬﺎ ۖ ﻓَﺎﻧﻈُﺮ
ﻛَﻴﻒَ ﻛﺎﻥَ ﻋٰﻘِﺒَﺔُ ﺍﻟﻤُﻔﺴِﺪﻳﻦَ
[103] অতঃপর আমি তাদের পরে মূসাকে
পাঠিয়েছি নিদর্শনাবলী দিয়ে
ফেরাউন ও তার সভাসদদের নিকট।
বস্তুতঃ ওরা তাঁর মোকাবেলায় কুফরী
করেছে। সুতরাং চেয়ে দেখ, কি
পরিণতি হয়েছে অনাচারীদের।
[103] Then after them We sent Mûsa
(Moses) with Our Signs to Fir’aun
(Pharaoh) and his chiefs, but they
wrongfully rejected them. So see how
was the end of the Mufsidûn (mischief-
makers, corrupters).
[104] ﻭَﻗﺎﻝَ ﻣﻮﺳﻰٰ ﻳٰﻔِﺮﻋَﻮﻥُ
ﺇِﻧّﻰ ﺭَﺳﻮﻝٌ ﻣِﻦ ﺭَﺏِّ ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[104] আর মূসা বললেন, হে ফেরাউন,
আমি বিশ্ব-পালনকর্তার পক্ষ থেকে
আগত রসূল।
[104] And Mûsa (Moses) said: “O Fir’aun
(Pharaoh)! Verily I am a Messenger from
the Lord of the ‘Alamîn (mankind, jinn
and all that exists).
[105] ﺣَﻘﻴﻖٌ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﻥ ﻻ ﺃَﻗﻮﻝَ
ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﺤَﻖَّ ۚ ﻗَﺪ
ﺟِﺌﺘُﻜُﻢ ﺑِﺒَﻴِّﻨَﺔٍ ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻜُﻢ
ﻓَﺄَﺭﺳِﻞ ﻣَﻌِﻰَ ﺑَﻨﻰ ﺇِﺳﺮٰﺀﻳﻞَ
[105] আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সত্য
এসেছে, তার ব্যতিক্রম কিছু না বলার
ব্যাপারে আমি সুদৃঢ়। আমি তোমাদের
পরওয়ারদেগারের নিদর্শন নিয়ে
এসেছি। সুতরাং তুমি বনী
ইসরাঈলদেরকে আমার সাথে পাঠিয়ে
দাও।
[105] “Proper it is for me that I say
nothing concerning Allâh but the truth.
Indeed I have come unto you from your
Lord with a clear proof. So let the
Children of Israel depart along with me.”
[106] ﻗﺎﻝَ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺖَ ﺟِﺌﺖَ ﺑِـٔﺎﻳَﺔٍ
ﻓَﺄﺕِ ﺑِﻬﺎ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺖَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺼّٰﺪِﻗﻴﻦَ
[106] সে বলল, যদি তুমি কোন নিদর্শন
নিয়ে এসে থাক, তাহলে তা উপস্থিত
কর যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক।
[106] [Fir’aun (Pharaoh)] said: “If you
have come with a sign, show it forth, – if
you are one of those who tell the truth.”
[107] ﻓَﺄَﻟﻘﻰٰ ﻋَﺼﺎﻩُ ﻓَﺈِﺫﺍ ﻫِﻰَ
ﺛُﻌﺒﺎﻥٌ ﻣُﺒﻴﻦٌ
[107] তখন তিনি নিক্ষেপ করলেন
নিজের লাঠিখানা এবং তাৎক্ষণাৎ
তা জলজ্যান্ত এক অজগরে রূপান্তরিত
হয়ে গেল।
[107] Then [Mûsa (Moses)] threw his stick
and behold! it was a serpent, manifest!
[108] ﻭَﻧَﺰَﻉَ ﻳَﺪَﻩُ ﻓَﺈِﺫﺍ ﻫِﻰَ
ﺑَﻴﻀﺎﺀُ ﻟِﻠﻨّٰﻈِﺮﻳﻦَ
[108] আর বের করলেন নিজের হাত এবং
তা সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের চোখে
ধবধবে উজ্জ্বল দেখাতে লাগল।
[108] And he drew out his hand, and
behold! it was white (with radiance) for
the beholders
[109] ﻗﺎﻝَ ﺍﻟﻤَﻠَﺄُ ﻣِﻦ ﻗَﻮﻡِ
ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ ﺇِﻥَّ ﻫٰﺬﺍ ﻟَﺴٰﺤِﺮٌ ﻋَﻠﻴﻢٌ
[109] ফেরাউনের সাঙ্গ-পাঙ্গরা বলতে
লাগল, নিশ্চয় লোকটি বিজ্ঞ-যাদুকর।
[109] The chiefs of the people of Fir’aun
(Pharaoh) said: “This is indeed a well-
versed sorcerer;
[110] ﻳُﺮﻳﺪُ ﺃَﻥ ﻳُﺨﺮِﺟَﻜُﻢ ﻣِﻦ
ﺃَﺭﺿِﻜُﻢ ۖ ﻓَﻤﺎﺫﺍ ﺗَﺄﻣُﺮﻭﻥَ
[110] সে তোমাদিগকে তোমাদের
দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এ
ব্যাপারে তোমাদের কি মত?
[110] “He wants to get you out of your
land, so what do you advise?”
[111] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃَﺭﺟِﻪ ﻭَﺃَﺧﺎﻩُ
ﻭَﺃَﺭﺳِﻞ ﻓِﻰ ﺍﻟﻤَﺪﺍﺋِﻦِ ﺣٰﺸِﺮﻳﻦَ
[111] তারা বলল, আপনি তাকে ও তার
ভাইকে অবকাশ দান করুন এবং শহরে
বন্দরে লোক পাঠিয়ে দিন লোকদের
সমবেত করার জন্য।
[111] They said: “Put him and his
brother off (for a time), and send callers
to the cities to collect—
[112] ﻳَﺄﺗﻮﻙَ ﺑِﻜُﻞِّ ﺳٰﺤِﺮٍ ﻋَﻠﻴﻢٍ
[112] যাতে তারা পরাকাষ্ঠাসম্পন্ন
বিজ্ঞ যাদুকরদের এনে সমবেত করে।
[112] “That they bring up to you all well-
versed sorcerers.”
[113] ﻭَﺟﺎﺀَ ﺍﻟﺴَّﺤَﺮَﺓُ ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ
ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺇِﻥَّ ﻟَﻨﺎ ﻟَﺄَﺟﺮًﺍ ﺇِﻥ ﻛُﻨّﺎ
ﻧَﺤﻦُ ﺍﻟﻐٰﻠِﺒﻴﻦَ
[113] বস্তুতঃ যাদুকররা এসে
ফেরাউনের কাছে উপস্থিত হল। তারা
বলল, আমাদের জন্যে কি কোন
পারিশ্রমিক নির্ধারিত আছে, যদি
আমরা জয়লাভ করি?
[113] And so the sorcerers came to
Fir’aun (Pharaoh). They said: “Indeed
there will be a (good) reward for us if we
are the victors.”
[114] ﻗﺎﻝَ ﻧَﻌَﻢ ﻭَﺇِﻧَّﻜُﻢ ﻟَﻤِﻦَ
ﺍﻟﻤُﻘَﺮَّﺑﻴﻦَ
[114] সে বলল, হ্যাঁ এবং অবশ্যই
তোমরা আমার নিকটবর্তী লোক হয়ে
যাবে।
[114] He said: “Yes, and moreover you
will (in that case) be of the nearest (to
me).”
[115] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﻤﻮﺳﻰٰ ﺇِﻣّﺎ ﺃَﻥ
ﺗُﻠﻘِﻰَ ﻭَﺇِﻣّﺎ ﺃَﻥ ﻧَﻜﻮﻥَ ﻧَﺤﻦُ
ﺍﻟﻤُﻠﻘﻴﻦَ
[115] তারা বলল, হে মূসা! হয় তুমি
নিক্ষেপ কর অথবা আমরা নিক্ষেপ
করছি।
[115] They said: “O Mûsa (Moses)! Either
you throw (first), or shall we have the
(first) throw?”
[116] ﻗﺎﻝَ ﺃَﻟﻘﻮﺍ ۖ ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺃَﻟﻘَﻮﺍ
ﺳَﺤَﺮﻭﺍ ﺃَﻋﻴُﻦَ ﺍﻟﻨّﺎﺱِ
ﻭَﺍﺳﺘَﺮﻫَﺒﻮﻫُﻢ ﻭَﺟﺎﺀﻭ
ﺑِﺴِﺤﺮٍ ﻋَﻈﻴﻢٍ
[116] তিনি বললেন, তোমরাই নিক্ষেপ
কর। যখন তারা নিক্ষেপ করল তখন
লোকদের চোখগুলোকে বাধিয়ে
দিল, ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলল এবং
মহাযাদু প্রদর্শন করল।
[116] He [Mûsa (Moses)] said: “Throw
you (first).” So when they threw, they
bewitched the eyes of the people, and
struck terror into them, and they
displayed a great magic.
[117] ۞ ﻭَﺃَﻭﺣَﻴﻨﺎ ﺇِﻟﻰٰ ﻣﻮﺳﻰٰ
ﺃَﻥ ﺃَﻟﻖِ ﻋَﺼﺎﻙَ ۖ ﻓَﺈِﺫﺍ ﻫِﻰَ
ﺗَﻠﻘَﻒُ ﻣﺎ ﻳَﺄﻓِﻜﻮﻥَ
[117] তারপর আমি ওহীযোগে মূসাকে
বললাম, এবার নিক্ষেপ কর তোমার
লাঠিখানা। অতএব সঙ্গে সঙ্গে তা সে
সমুদয়কে গিলতে লাগল, যা তারা
বানিয়েছিল যাদু বলে।
[117] And We reveled to Mûsa (Moses)
(saying): “Throw your stick,” and behold!
It swallowed up straight away all the
falsehoods which they showed.
[118] ﻓَﻮَﻗَﻊَ ﺍﻟﺤَﻖُّ ﻭَﺑَﻄَﻞَ ﻣﺎ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[118] সুতরাং এভাবে প্রকাশ হয়ে গেল
সত্য বিষয় এবং ভুল প্রতিপন্ন হয়ে গেল
যা কিছু তারা করেছিল।
[118] Thus truth was confirmed, and all
that they did was made of no effect.
[119] ﻓَﻐُﻠِﺒﻮﺍ ﻫُﻨﺎﻟِﻚَ ﻭَﺍﻧﻘَﻠَﺒﻮﺍ
ﺻٰﻐِﺮﻳﻦَ
[119] সুতরাং তারা সেখানেই পরাজিত
হয়ে গেল এবং অতীব লাঞ্ছিত হল।
[119] So they were defeated there and
returned disgraced.
[120] ﻭَﺃُﻟﻘِﻰَ ﺍﻟﺴَّﺤَﺮَﺓُ ﺳٰﺠِﺪﻳﻦَ
[120] এবং যাদুকররা সেজদায় পড়ে
গেল।
[120] And the sorcerers fell down
prostrate.
[121] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺀﺍﻣَﻨّﺎ ﺑِﺮَﺏِّ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[121] বলল, আমরা ঈমান আনছি মহা
বিশ্বের পরওয়ারদেগারের প্রতি।
[121] They said: “We believe in the Lord
of the ‘Alamîn (mankind, jinn and all
that exists).
[122] ﺭَﺏِّ ﻣﻮﺳﻰٰ ﻭَﻫٰﺮﻭﻥَ
[122] যিনি মূসা ও হারুনের
পরওয়ারদেগার।
[122] “The Lord of Mûsa (Moses) and
Hârûn (Aaron).”
[123] ﻗﺎﻝَ ﻓِﺮﻋَﻮﻥُ ﺀﺍﻣَﻨﺘُﻢ ﺑِﻪِ
ﻗَﺒﻞَ ﺃَﻥ ﺀﺍﺫَﻥَ ﻟَﻜُﻢ ۖ ﺇِﻥَّ ﻫٰﺬﺍ
ﻟَﻤَﻜﺮٌ ﻣَﻜَﺮﺗُﻤﻮﻩُ ﻓِﻰ ﺍﻟﻤَﺪﻳﻨَﺔِ
ﻟِﺘُﺨﺮِﺟﻮﺍ ﻣِﻨﻬﺎ ﺃَﻫﻠَﻬﺎ ۖ
ﻓَﺴَﻮﻑَ ﺗَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[123] ফেরাউন বলল, তোমরা কি
(তাহলে) আমার অনুমতি দেয়ার আগেই
ঈমান আনলে! এটা প্রতারণা, যা
তোমরা এ নগরীতে প্রদর্শন করলে।
যাতে করে এ শহরের অধিবাসীদিগকে
শহর থেকে বের করে দিতে পার।
সুতরাং তোমরা শীঘ্রই বুঝতে পারবে।
[123] Fir’aun (Pharaoh) said: “You have
believed in him [Mûsa (Moses)] before I
give you permission. Surely, this is a plot
which you have plotted in the city to
drive out its people, but you shall come
to know.
[124] ﻟَﺄُﻗَﻄِّﻌَﻦَّ ﺃَﻳﺪِﻳَﻜُﻢ
ﻭَﺃَﺭﺟُﻠَﻜُﻢ ﻣِﻦ ﺧِﻠٰﻒٍ ﺛُﻢَّ
ﻟَﺄُﺻَﻠِّﺒَﻨَّﻜُﻢ ﺃَﺟﻤَﻌﻴﻦَ
[124] অবশ্যই আমি কেটে দেব
তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক
থেকে। তারপর তোমাদের সবাইকে
শূলীতে চড়িয়ে মারব।
[124] “Surely, I will cut off your hands
and your feet from opposite sides, then I
will crucify you all.”
[125] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺇِﻧّﺎ ﺇِﻟﻰٰ ﺭَﺑِّﻨﺎ
ﻣُﻨﻘَﻠِﺒﻮﻥَ
[125] তারা বলল, আমাদেরকে তো
মৃত্যুর পর নিজেদের পরওয়ারদেগারের
নিকট ফিরে যেতেই হবে।
[125] They said: “Verily, we are
returning to our Lord.
[126] ﻭَﻣﺎ ﺗَﻨﻘِﻢُ ﻣِﻨّﺎ ﺇِﻟّﺎ ﺃَﻥ
ﺀﺍﻣَﻨّﺎ ﺑِـٔﺎﻳٰﺖِ ﺭَﺑِّﻨﺎ ﻟَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَﺗﻨﺎ ۚ
ﺭَﺑَّﻨﺎ ﺃَﻓﺮِﻍ ﻋَﻠَﻴﻨﺎ ﺻَﺒﺮًﺍ
ﻭَﺗَﻮَﻓَّﻨﺎ ﻣُﺴﻠِﻤﻴﻦَ
[126] বস্তুতঃ আমাদের সাথে তোমার
শত্রুতা তো এ কারণেই যে, আমরা
ঈমান এনেছি আমাদের
পরওয়ারদেগারের নিদর্শনসমূহের প্রতি
যখন তা আমাদের নিকট পৌঁছেছে। হে
আমাদের পরওয়ারদেগার আমাদের জন্য
ধৈর্য্যের দ্বার খুলে দাও এবং
আমাদেরকে মুসলমান হিসাবে মৃত্যু দান
কর।
[126] “And you take vengeance on us
only because we believed in the Ayât
(proofs, evidences, lessons, signs, etc.) of
our Lord when they reached us! Our
Lord! pour out on us patience, and cause
us to die as Muslims.”
[127] ﻭَﻗﺎﻝَ ﺍﻟﻤَﻠَﺄُ ﻣِﻦ ﻗَﻮﻡِ
ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ ﺃَﺗَﺬَﺭُ ﻣﻮﺳﻰٰ ﻭَﻗَﻮﻣَﻪُ
ﻟِﻴُﻔﺴِﺪﻭﺍ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﻳَﺬَﺭَﻙَ
ﻭَﺀﺍﻟِﻬَﺘَﻚَ ۚ ﻗﺎﻝَ ﺳَﻨُﻘَﺘِّﻞُ
ﺃَﺑﻨﺎﺀَﻫُﻢ ﻭَﻧَﺴﺘَﺤﻲۦ
ﻧِﺴﺎﺀَﻫُﻢ ﻭَﺇِﻧّﺎ ﻓَﻮﻗَﻬُﻢ ﻗٰﻬِﺮﻭﻥَ
[127] ফেরাউনের সম্প্রদায়ের
র্সদাররা বলল, তুমি কি এমনি ছেড়ে
দেবে মূসা ও তার সম্প্রদায়কে। দেশময়
হৈ-চৈ করার জন্য এবং তোমাকে ও
তোমার দেব-দেবীকে বাতিল করে
দেবার জন্য। সে বলল, আমি এখনি হত্যা
করব তাদের পুত্র সন্তানদিগকে; আর
জীবিত রাখব মেয়েদেরকে। বস্তুতঃ
আমরা তাদের উপর প্রবল।
[127] The chiefs of Fir’aun’s (Pharaoh)
people said: “Will you leave Mûsa
(Moses) and his people to spread
mischief in the land, and to abandon
you and your gods?” He said: “We will
kill their sons, and let live their women,
and we have indeed irresistible power
over them.”
[128] ﻗﺎﻝَ ﻣﻮﺳﻰٰ ﻟِﻘَﻮﻣِﻪِ
ﺍﺳﺘَﻌﻴﻨﻮﺍ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﺻﺒِﺮﻭﺍ ۖ ﺇِﻥَّ
ﺍﻷَﺭﺽَ ﻟِﻠَّﻪِ ﻳﻮﺭِﺛُﻬﺎ ﻣَﻦ ﻳَﺸﺎﺀُ
ﻣِﻦ ﻋِﺒﺎﺩِﻩِ ۖ ﻭَﺍﻟﻌٰﻘِﺒَﺔُ ﻟِﻠﻤُﺘَّﻘﻴﻦَ
[128] মূসা বললেন তার কওমকে, সাহায্য
প্রার্থনা কর আল্লাহর নিকট এবং
ধৈর্য্য ধারণ কর। নিশ্চয়ই এ পৃথিবী
আল্লাহর। তিনি নিজের বান্দাদের
মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী
বানিয়ে দেন এবং শেষ কল্যাণ
মুত্তাকীদের জন্যই নির্ধারিত রয়েছে।
[128] Mûsa (Moses) said to his people:
“Seek help in Allâh and be patient.
Verily, the earth is Allâh’s. He gives it as
a heritage to whom He wills of His
slaves, and the (blessed) end is for the
Muttaqûn (pious – see V.2:2).”
[129] ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃﻭﺫﻳﻨﺎ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞِ ﺃَﻥ
ﺗَﺄﺗِﻴَﻨﺎ ﻭَﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِ ﻣﺎ ﺟِﺌﺘَﻨﺎ ۚ
ﻗﺎﻝَ ﻋَﺴﻰٰ ﺭَﺑُّﻜُﻢ ﺃَﻥ ﻳُﻬﻠِﻚَ
ﻋَﺪُﻭَّﻛُﻢ ﻭَﻳَﺴﺘَﺨﻠِﻔَﻜُﻢ ﻓِﻰ
ﺍﻷَﺭﺽِ ﻓَﻴَﻨﻈُﺮَ ﻛَﻴﻒَ ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[129] তারা বলল, আমাদের কষ্ট ছিল
তোমার আসার পূর্বে এবং তোমার
আসার পরে। তিনি বললেন, তোমাদের
পরওয়ারদেগার শীঘ্রই তোমাদের
শক্রদের ধ্বংস করে দেবেন এবং
তোমাদেরকে দেশে প্রতিনিধিত্ব
দান করবেন। তারপর দেখবেন, তোমরা
কেমন কাজ কর।
[129] They said: “We (Children of Israel)
had suffered troubles before you came to
us, and since you have come to us.” He
said: “It may be that your Lord will
destroy your enemy and make you
successors on the earth, so that He may
see how you act?”
[130] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺃَﺧَﺬﻧﺎ ﺀﺍﻝَ
ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ ﺑِﺎﻟﺴِّﻨﻴﻦَ ﻭَﻧَﻘﺺٍ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺜَّﻤَﺮٰﺕِ ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ ﻳَﺬَّﻛَّﺮﻭﻥَ
[130] তারপর আমি পাকড়াও করেছি-
ফেরাউনের অনুসারীদেরকে
দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে এবং ফল ফসলের
ক্ষয়-ক্ষতির মাধ্যমে যাতে করে তারা
উপদেশ গ্রহণ করে।
[130] And indeed We punished the
people of Fir’aun (Pharaoh) with years of
drought and shortness of fruits (crops),
that they might remember (take heed).
[131] ﻓَﺈِﺫﺍ ﺟﺎﺀَﺗﻬُﻢُ ﺍﻟﺤَﺴَﻨَﺔُ
ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻟَﻨﺎ ﻫٰﺬِﻩِ ۖ ﻭَﺇِﻥ ﺗُﺼِﺒﻬُﻢ
ﺳَﻴِّﺌَﺔٌ ﻳَﻄَّﻴَّﺮﻭﺍ ﺑِﻤﻮﺳﻰٰ ﻭَﻣَﻦ
ﻣَﻌَﻪُ ۗ ﺃَﻻ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﻃٰﺌِﺮُﻫُﻢ ﻋِﻨﺪَ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻟٰﻜِﻦَّ ﺃَﻛﺜَﺮَﻫُﻢ ﻻ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[131] অতঃপর যখন শুভদিন ফিরে আসে,
তখন তারা বলতে আরম্ভ করে যে, এটাই
আমাদের জন্য উপযোগী। আর যদি
অকল্যাণ এসে উপস্থিত হয় তবে তাতে
মূসার এবং তাঁর সঙ্গীদের অলক্ষণ বলে
অভিহিত করে। শুনে রাখ তাদের অলক্ষণ
যে, আল্লাহরই এলেমে রয়েছে, অথচ
এরা জানে না।
[131] But whenever good came to them,
they said: “Ours is this.” And if evil
afflicted them, they ascribed it to evil
omens connected with Mûsa (Moses) and
those with him. Be informed! Verily,
their evil omens are with Allâh but most
of them know not.
[132] ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ ﻣَﻬﻤﺎ ﺗَﺄﺗِﻨﺎ ﺑِﻪِ ﻣِﻦ
ﺀﺍﻳَﺔٍ ﻟِﺘَﺴﺤَﺮَﻧﺎ ﺑِﻬﺎ ﻓَﻤﺎ ﻧَﺤﻦُ
ﻟَﻚَ ﺑِﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[132] তারা আরও বলতে লাগল,
আমাদের উপর জাদু করার জন্য তুমি যে
নিদর্শনই নিয়ে আস না কেন আমরা
কিন্তু তোমার উপর ঈমান আনছি না।
[132] They said [to Mûsa (Moses)]:
“Whatever Ayât (proofs, evidences,
verses, lessons, signs, revelations, etc.)
you may bring to us, to work therewith
your sorcery on us, we shall never
believe in you.”
[133] ﻓَﺄَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢُ ﺍﻟﻄّﻮﻓﺎﻥَ
ﻭَﺍﻟﺠَﺮﺍﺩَ ﻭَﺍﻟﻘُﻤَّﻞَ ﻭَﺍﻟﻀَّﻔﺎﺩِﻉَ
ﻭَﺍﻟﺪَّﻡَ ﺀﺍﻳٰﺖٍ ﻣُﻔَﺼَّﻠٰﺖٍ
ﻓَﺎﺳﺘَﻜﺒَﺮﻭﺍ ﻭَﻛﺎﻧﻮﺍ ﻗَﻮﻣًﺎ
ﻣُﺠﺮِﻣﻴﻦَ
[133] সুতরাং আমি তাদের উপর
পাঠিয়ে দিলাম তুফান, পঙ্গপাল, উকুন,
ব্যাঙ ও রক্ত প্রভৃতি বহুবিধ নিদর্শন
একের পর এক। তারপরেও তারা গর্ব
করতে থাকল। বস্তুতঃ তারা ছিল
অপরাধপ্রবণ।
[133] So We sent on them: the flood, the
locusts, the lice, the frogs, and the blood:
(as a succession of) manifest signs, yet
they remained arrogant, and they were
of those people who were Mujrimûn
(criminals, polytheists sinners).
[134] ﻭَﻟَﻤّﺎ ﻭَﻗَﻊَ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢُ ﺍﻟﺮِّﺟﺰُ
ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﻤﻮﺳَﻰ ﺍﺩﻉُ ﻟَﻨﺎ ﺭَﺑَّﻚَ
ﺑِﻤﺎ ﻋَﻬِﺪَ ﻋِﻨﺪَﻙَ ۖ ﻟَﺌِﻦ ﻛَﺸَﻔﺖَ
ﻋَﻨَّﺎ ﺍﻟﺮِّﺟﺰَ ﻟَﻨُﺆﻣِﻨَﻦَّ ﻟَﻚَ
ﻭَﻟَﻨُﺮﺳِﻠَﻦَّ ﻣَﻌَﻚَ ﺑَﻨﻰ ﺇِﺳﺮٰﺀﻳﻞَ
[134] আর তাদের উপর যখন কোন আযাব
পড়ে তখন বলে, হে মূসা আমাদের জন্য
তোমার পরওয়ারদেগারের নিকট সে
বিষয়ে দোয়া কর যা তিনি তোমার
সাথে ওয়াদা করে রেখেছেন। যদি তুমি
আমাদের উপর থেকে এ আযাব সরিয়ে
দাও, তবে অবশ্যই আমরা ঈমান আনব
তোমার উপর এবং তোমার সাথে বনী-
ইসরাঈলদেরকে যেতে দেব।
[134] And when the punishment fell on
them they said: “O Mûsa (Moses)! Invoke
your Lord for us because of His Promise
to you. If you remove the punishment
from us, we indeed shall believe in you,
and we shall let the Children of Israel go
with you.”
[135] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﻛَﺸَﻔﻨﺎ ﻋَﻨﻬُﻢُ ﺍﻟﺮِّﺟﺰَ
ﺇِﻟﻰٰ ﺃَﺟَﻞٍ ﻫُﻢ ﺑٰﻠِﻐﻮﻩُ ﺇِﺫﺍ ﻫُﻢ
ﻳَﻨﻜُﺜﻮﻥَ
[135] অতঃপর যখন আমি তাদের উপর
থেকে আযাব তুলে নিতাম নির্ধারিত
একটি সময় পর্যন্ত-যেখান পর্যন্ত
তাদেরকে পৌছানোর উদ্দেশ্য ছিল,
তখন তড়িঘড়ি তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ
করত।
[135] But when We removed the
punishment from them to a fixed term,
which they had to reach, behold! they
broke their word!
[136] ﻓَﺎﻧﺘَﻘَﻤﻨﺎ ﻣِﻨﻬُﻢ
ﻓَﺄَﻏﺮَﻗﻨٰﻬُﻢ ﻓِﻰ ﺍﻟﻴَﻢِّ ﺑِﺄَﻧَّﻬُﻢ
ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ﻭَﻛﺎﻧﻮﺍ ﻋَﻨﻬﺎ
ﻏٰﻔِﻠﻴﻦَ
[136] সুতরাং আমি তাদের কাছে
থেকে বদলা নিয়ে নিলাম-বস্তুতঃ
তাদেরকে সাগরে ডুবিয়ে দিলাম।
কারণ, তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল
আমার নিদর্শনসমূহকে এবং তৎপ্রতি
অনীহা প্রদর্শন করেছিল।
[136] So We took retribution from them.
We drowned them in the sea, because
they belied Our Ayât (proofs, evidences,
verses, lessons, signs, revelations, etc.)
and were heedless about them.
[137] ﻭَﺃَﻭﺭَﺛﻨَﺎ ﺍﻟﻘَﻮﻡَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳُﺴﺘَﻀﻌَﻔﻮﻥَ ﻣَﺸٰﺮِﻕَ
ﺍﻷَﺭﺽِ ﻭَﻣَﻐٰﺮِﺑَﻬَﺎ ﺍﻟَّﺘﻰ ﺑٰﺮَﻛﻨﺎ
ﻓﻴﻬﺎ ۖ ﻭَﺗَﻤَّﺖ ﻛَﻠِﻤَﺖُ ﺭَﺑِّﻚَ
ﺍﻟﺤُﺴﻨﻰٰ ﻋَﻠﻰٰ ﺑَﻨﻰ ﺇِﺳﺮٰﺀﻳﻞَ
ﺑِﻤﺎ ﺻَﺒَﺮﻭﺍ ۖ ﻭَﺩَﻣَّﺮﻧﺎ ﻣﺎ ﻛﺎﻥَ
ﻳَﺼﻨَﻊُ ﻓِﺮﻋَﻮﻥُ ﻭَﻗَﻮﻣُﻪُ ﻭَﻣﺎ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻌﺮِﺷﻮﻥَ
[137] আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হত
তাদেরকেও আমি উত্তরাধিকার দান
করেছি এ ভুখন্ডের পূর্ব ও পশ্চিম
অঞ্চলের যাতে আমি বরকত সন্নিহিত
রেখেছি এবং পরিপূর্ণ হয়ে গেছে
তোমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত কল্যাণ
বনী-ইসরাঈলদের জন্য তাদের
ধৈর্য্যধারণের দরুন। আর ধ্বংস করে
দিয়েছে সে সবকিছু যা তৈরী করেছিল
ফেরাউন ও তার সম্প্রদায় এবং ধ্বংস
করেছি যা কিছু তারা সুউচ্চ নির্মাণ
করেছিল।
[137] And We made the people who were
considered weak to inherit the eastern
parts of the land and the western parts
thereof which We have blessed. And the
fair Word of your Lord was fulfilled for
the Children of Israel, because of their
endurance. And We destroyed
completely all the great works and
buildings which Fir’aun (Pharaoh) and
his people erected
[138] ﻭَﺟٰﻮَﺯﻧﺎ ﺑِﺒَﻨﻰ ﺇِﺳﺮٰﺀﻳﻞَ
ﺍﻟﺒَﺤﺮَ ﻓَﺄَﺗَﻮﺍ ﻋَﻠﻰٰ ﻗَﻮﻡٍ
ﻳَﻌﻜُﻔﻮﻥَ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﺻﻨﺎﻡٍ ﻟَﻬُﻢ ۚ
ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳٰﻤﻮﺳَﻰ ﺍﺟﻌَﻞ ﻟَﻨﺎ ﺇِﻟٰﻬًﺎ
ﻛَﻤﺎ ﻟَﻬُﻢ ﺀﺍﻟِﻬَﺔٌ ۚ ﻗﺎﻝَ ﺇِﻧَّﻜُﻢ
ﻗَﻮﻡٌ ﺗَﺠﻬَﻠﻮﻥَ
[138] বস্তুতঃ আমি সাগর পার করে
দিয়েছি বনী-ইসরাঈলদিগকে। তখন
তারা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে
গিয়ে পৌছাল, যারা স্বহস্তনির্মিত
মূর্তিপুজায় নিয়োজিত ছিল। তারা
বলতে লাগল, হে মূসা; আমাদের
উপাসনার জন্যও তাদের মূর্তির মতই
একটি মূর্তি নির্মাণ করে দিন। তিনি
বললেন, তোমাদের মধ্যে বড়ই অজ্ঞতা
রয়েছে।
[138] And We brought the Children of
Israel (with safety) across the sea, and
they came upon a people devoted to
some of their idols (in worship). They
said: “O Mûsa (Moses)! Make for us an
ilâh (a god) as they have âlihah (gods).”
He said: “Verily, you are a people who
know not (the Majesty and Greatness of
Allâh and what is obligatory upon you,
i.e. to worship none but Allâh Alone, the
One and the Only God of all that exists).”
[139] ﺇِﻥَّ ﻫٰﺆُﻻﺀِ ﻣُﺘَﺒَّﺮٌ ﻣﺎ ﻫُﻢ
ﻓﻴﻪِ ﻭَﺑٰﻄِﻞٌ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[139] এরা যে, কাজে নিয়োজিত
রয়েছে তা ধ্বংস হবে এবং যা কিছু
তারা করেছে তা যে ভুল!
[139] [Mûsa (Moses) added:] “Verily,
these people will be destroyed for that
which they are engaged in (idols-
worship). And all that they are doing is
in vain.”
[140] ﻗﺎﻝَ ﺃَﻏَﻴﺮَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺑﻐﻴﻜُﻢ
ﺇِﻟٰﻬًﺎ ﻭَﻫُﻮَ ﻓَﻀَّﻠَﻜُﻢ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[140] তিনি বললেন, তাহলে কি
আল্লাহকে ছাড়া তোমাদের জন্য অন্য
কোন উপাস্য অনুসন্ধান করব, অথচ
তিনিই তোমাদিগকে সারা বিশ্বে
শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
[140] He said: “Shall I seek for you an
ilâh (a god) other than Allâh, while He
has given you superiority over the
‘Alamîn (mankind and jinn of your
time).”
[141] ﻭَﺇِﺫ ﺃَﻧﺠَﻴﻨٰﻜُﻢ ﻣِﻦ ﺀﺍﻝِ
ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ ﻳَﺴﻮﻣﻮﻧَﻜُﻢ ﺳﻮﺀَ
ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏِ ۖ ﻳُﻘَﺘِّﻠﻮﻥَ ﺃَﺑﻨﺎﺀَﻛُﻢ
ﻭَﻳَﺴﺘَﺤﻴﻮﻥَ ﻧِﺴﺎﺀَﻛُﻢ ۚ ﻭَﻓﻰ
ﺫٰﻟِﻜُﻢ ﺑَﻼﺀٌ ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻜُﻢ ﻋَﻈﻴﻢٌ
[141] আর সে সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন
আমি তোমাদেরকে ফেরাউনের
লোকদের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছি;
তারা তোমাদেরকে দিত নিকৃষ্ট
শাস্তি, তোমাদের পুত্র-সন্তানদের
মেরে ফেলত এবং মেয়েদের বাঁচিয়ে
রাখত। এতে তোমাদের প্রতি
তোমাদের পরওয়ারদেগারের বিরাট
পরীক্ষা রয়েছে।
[141] And (remember) when We rescued
you from Fir’aun’s (Pharaoh) people,
who were afflicting you with the worst
torment, killing your sons and letting
your women live. And in that was a great
trial from your Lord.
[142] ۞ ﻭَﻭٰﻋَﺪﻧﺎ ﻣﻮﺳﻰٰ
ﺛَﻠٰﺜﻴﻦَ ﻟَﻴﻠَﺔً ﻭَﺃَﺗﻤَﻤﻨٰﻬﺎ ﺑِﻌَﺸﺮٍ
ﻓَﺘَﻢَّ ﻣﻴﻘٰﺖُ ﺭَﺑِّﻪِ ﺃَﺭﺑَﻌﻴﻦَ ﻟَﻴﻠَﺔً ۚ
ﻭَﻗﺎﻝَ ﻣﻮﺳﻰٰ ﻟِﺄَﺧﻴﻪِ ﻫٰﺮﻭﻥَ
ﺍﺧﻠُﻔﻨﻰ ﻓﻰ ﻗَﻮﻣﻰ ﻭَﺃَﺻﻠِﺢ
ﻭَﻻ ﺗَﺘَّﺒِﻊ ﺳَﺒﻴﻞَ ﺍﻟﻤُﻔﺴِﺪﻳﻦَ
[142] আর আমি মূসাকে প্রতিশ্রুতি
দিয়েছি ত্রিশ রাত্রির এবং
সেগুলোকে পূর্ন করেছি আরো দশ
দ্বারা। বস্তুতঃ এভাবে চল্লিশ রাতের
মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গেছে। আর মূসা তাঁর
ভাই হারুনকে বললেন, আমার সম্প্রদায়ে
তুমি আমার প্রতিনিধি হিসাবে থাক।
তাদের সংশোধন করতে থাক এবং
হাঙ্গামা সৃষ্টিকারীদের পথে চলো
না।
[142] And We appointed for Mûsa
(Moses) thirty nights and added (to the
period) ten (more), and he completed the
term, appointed by his Lord, of forty
nights. And Mûsa (Moses) said to his
brother Hârûn (Aaron): “Replace me
among my people, act in the Right Way
(by ordering the people to obey Allâh
and to worship Him Alone) and follow
not the way of the Mufsidûn (mischief-
makers).”
[143] ﻭَﻟَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَ ﻣﻮﺳﻰٰ
ﻟِﻤﻴﻘٰﺘِﻨﺎ ﻭَﻛَﻠَّﻤَﻪُ ﺭَﺑُّﻪُ ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏِّ
ﺃَﺭِﻧﻰ ﺃَﻧﻈُﺮ ﺇِﻟَﻴﻚَ ۚ ﻗﺎﻝَ ﻟَﻦ
ﺗَﺮﻯٰﻨﻰ ﻭَﻟٰﻜِﻦِ ﺍﻧﻈُﺮ ﺇِﻟَﻰ
ﺍﻟﺠَﺒَﻞِ ﻓَﺈِﻥِ ﺍﺳﺘَﻘَﺮَّ ﻣَﻜﺎﻧَﻪُ
ﻓَﺴَﻮﻑَ ﺗَﺮﻯٰﻨﻰ ۚ ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺗَﺠَﻠّﻰٰ
ﺭَﺑُّﻪُ ﻟِﻠﺠَﺒَﻞِ ﺟَﻌَﻠَﻪُ ﺩَﻛًّﺎ ﻭَﺧَﺮَّ
ﻣﻮﺳﻰٰ ﺻَﻌِﻘًﺎ ۚ ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺃَﻓﺎﻕَ
ﻗﺎﻝَ ﺳُﺒﺤٰﻨَﻚَ ﺗُﺒﺖُ ﺇِﻟَﻴﻚَ ﻭَﺃَﻧﺎ۠
ﺃَﻭَّﻝُ ﺍﻟﻤُﺆﻣِﻨﻴﻦَ
[143] তারপর মূসা যখন আমার প্রতিশ্রুত
সময় অনুযায়ী এসে হাযির হলেন এবং
তাঁর সাথে তার পরওয়ারদেগার কথা
বললেন, তখন তিনি বললেন, হে আমার
প্রভু, তোমার দীদার আমাকে দাও,
যেন আমি তোমাকে দেখতে পাই।
তিনি বললেন, তুমি আমাকে
কস্মিনকালেও দেখতে পাবে না, তবে
তুমি পাহাড়ের দিকে দেখতে থাক,
সেটি যদি স্বস্থানে দঁড়িয়ে থাকে
তবে তুমিও আমাকে দেখতে পাবে।
তারপর যখন তার পরওয়ারদগার
পাহাড়ের উপর আপন জ্যোতির
বিকিরণ ঘটালেন, সেটিকে বিধ্বস্ত
করে দিলেন এবং মূসা অজ্ঞান হয়ে
পড়ে গেলেন। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞান
ফিরে এল; বললেন, হে প্রভু! তোমার
সত্তা পবিত্র, তোমার দরবারে আমি
তওবা করছি এবং আমিই সর্বপ্রথম
বিশ্বাস স্থাপন করছি।
[143] And when Mûsa (Moses) came at
the time and place appointed by Us, and
his Lord (Allâh) spoke to him, he said: “O
my Lord! Show me (Yourself), that I may
look upon You.” Allâh said: “You cannot
see Me, but look upon the mountain; if it
stands still in its place then you shall see
Me.” So when his Lord appeared to the
mountain, He made it collapse to dust,
and Mûsa (Moses) fell down unconscious.
Then when he recovered his senses he
said: “Glory be to You, I turn to You in
repentance and I am the first of the
believers.”
[144] ﻗﺎﻝَ ﻳٰﻤﻮﺳﻰٰ ﺇِﻧِّﻰ
ﺍﺻﻄَﻔَﻴﺘُﻚَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨّﺎﺱِ
ﺑِﺮِﺳٰﻠٰﺘﻰ ﻭَﺑِﻜَﻠٰﻤﻰ ﻓَﺨُﺬ ﻣﺎ
ﺀﺍﺗَﻴﺘُﻚَ ﻭَﻛُﻦ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺸّٰﻜِﺮﻳﻦَ
[144] (পরওয়ারদেগার) বললেন, হে মূসা,
আমি তোমাকে আমার বার্তা
পাঠানোর এবং কথা বলার মাধ্যমে
লোকদের উপর বিশিষ্টতা দান
করেছি। সুতরাং যা কিছু আমি
তোমাকে দান করলাম, গ্রহণ কর এবং
কৃতজ্ঞ থাক।
[144] (Allâh) said: “O Mûsa (Moses) I
have chosen you above men by My
Messages, and by My speaking (to you).
So hold that which I have given you and
be of the grateful.”
[145] ﻭَﻛَﺘَﺒﻨﺎ ﻟَﻪُ ﻓِﻰ ﺍﻷَﻟﻮﺍﺡِ
ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲﺀٍ ﻣَﻮﻋِﻈَﺔً
ﻭَﺗَﻔﺼﻴﻠًﺎ ﻟِﻜُﻞِّ ﺷَﻲﺀٍ ﻓَﺨُﺬﻫﺎ
ﺑِﻘُﻮَّﺓٍ ﻭَﺃﻣُﺮ ﻗَﻮﻣَﻚَ ﻳَﺄﺧُﺬﻭﺍ
ﺑِﺄَﺣﺴَﻨِﻬﺎ ۚ ﺳَﺄُﻭ۟ﺭﻳﻜُﻢ ﺩﺍﺭَ
ﺍﻟﻔٰﺴِﻘﻴﻦَ
[145] আর আমি তোমাকে পটে লিখে
দিয়েছি সর্বপ্রকার উপদেশ ও
বিস্তারিত সব বিষয়। অতএব, এগুলোকে
দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং স্বজাতিকে এর
কল্যাণকর বিষয়সমূহ দৃঢ়তার সাথে
পালনের নির্দেশ দাও।
[145] And We wrote for him on the
Tablets the lesson to be drawn from all
things and the explanation for all things
(and said): Hold unto these with
firmness, and enjoin your people to take
the better therein. I shall show you the
home of Al-Fâsiqûn (the rebellious,
disobedient to Allâh).
[146] ﺳَﺄَﺻﺮِﻑُ ﻋَﻦ ﺀﺍﻳٰﺘِﻰَ
ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳَﺘَﻜَﺒَّﺮﻭﻥَ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﺑِﻐَﻴﺮِ ﺍﻟﺤَﻖِّ ﻭَﺇِﻥ ﻳَﺮَﻭﺍ ﻛُﻞَّ
ﺀﺍﻳَﺔٍ ﻻ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﺍ ﺑِﻬﺎ ﻭَﺇِﻥ ﻳَﺮَﻭﺍ
ﺳَﺒﻴﻞَ ﺍﻟﺮُّﺷﺪِ ﻻ ﻳَﺘَّﺨِﺬﻭﻩُ
ﺳَﺒﻴﻠًﺎ ﻭَﺇِﻥ ﻳَﺮَﻭﺍ ﺳَﺒﻴﻞَ ﺍﻟﻐَﻰِّ
ﻳَﺘَّﺨِﺬﻭﻩُ ﺳَﺒﻴﻠًﺎ ۚ ﺫٰﻟِﻚَ ﺑِﺄَﻧَّﻬُﻢ
ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ﻭَﻛﺎﻧﻮﺍ ﻋَﻨﻬﺎ
ﻏٰﻔِﻠﻴﻦَ
[146] আমি আমার নিদর্শনসমূহ হতে
তাদেরকে ফিরিয়ে রাখি, যারা
পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে গর্ব করে। যদি
তারা সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে
ফেলে, তবুও তা বিশ্বাস করবে না। আর
যদি হেদায়েতের পথ দেখে, তবে সে পথ
গ্রহণ করে না। অথচ গোমরাহীর পথ
দেখলে তাই গ্রহণ করে নেয়। এর কারণ,
তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা
বলে মনে করেছে এবং তা থেকে
বেখবর রয়ে গেছে।
[146] I shall turn away from My Ayât
(verses of the Qur’ân) those who behave
arrogantly on the earth, without a right,
and (even) if they see all the Ayât
(proofs, evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.), they will not believe in
them. And if they see the way of
righteousness (monotheism, piety, and
good deeds), they will not adopt it as the
Way, but if they see the way of error
(polytheism, crimes and evil deeds), they
will adopt that way, that is because they
have rejected Our Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) and were heedless (to
learn a lesson) from them
[147] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ
ﻭَﻟِﻘﺎﺀِ ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﺣَﺒِﻄَﺖ
ﺃَﻋﻤٰﻠُﻬُﻢ ۚ ﻫَﻞ ﻳُﺠﺰَﻭﻥَ ﺇِﻟّﺎ ﻣﺎ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[147] বস্তুতঃ যারা মিথ্যা জেনেছে
আমার আয়াতসমূকে এবং আখেরাতের
সাক্ষাতকে, তাদের যাবতীয় কাজকর্ম
ধ্বংস হয়ে গেছে। তেমন বদলাই সে
পাবে যেমন আমল করত।
[147] Those who deny Our Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) and the Meeting in the
Hereafter (Day of Resurrection,), vain
are their deeds. Are they requited with
anything except what they used to do?
[148] ﻭَﺍﺗَّﺨَﺬَ ﻗَﻮﻡُ ﻣﻮﺳﻰٰ ﻣِﻦ
ﺑَﻌﺪِﻩِ ﻣِﻦ ﺣُﻠِﻴِّﻬِﻢ ﻋِﺠﻠًﺎ
ﺟَﺴَﺪًﺍ ﻟَﻪُ ﺧُﻮﺍﺭٌ ۚ ﺃَﻟَﻢ ﻳَﺮَﻭﺍ ﺃَﻧَّﻪُ
ﻻ ﻳُﻜَﻠِّﻤُﻬُﻢ ﻭَﻻ ﻳَﻬﺪﻳﻬِﻢ ﺳَﺒﻴﻠًﺎ ۘ
ﺍﺗَّﺨَﺬﻭﻩُ ﻭَﻛﺎﻧﻮﺍ ﻇٰﻠِﻤﻴﻦَ
[148] আর বানিয়ে নিল মূসার সম্প্রদায়
তার অনুপস্থিতিতে নিজেদের
অলংকারাদির দ্বারা একটি বাছুর তা
থেকে বেরুচ্ছিল ‘হাম্বা হাম্বা’ শব্দ।
তারা কি একথাও লক্ষ্য করল না যে,
সেটি তাদের সাথে কথাও বলছে না
এবং তাদেরকে কোন পথও বাতলে
দিচ্ছে না! তারা সেটিকে উপাস্য
বানিয়ে নিল। বস্তুতঃ তারা ছিল
জালেম।
[148] And the people of Mûsa (Moses)
made in his absence, out of their
ornaments, the image of a calf (for
worship). It had a sound (as if it was
mooing). Did they not see that it could
neither speak to them nor guide them to
the way? They took it (for worship) and
they were Zâlimûn (wrong-doers).
[149] ﻭَﻟَﻤّﺎ ﺳُﻘِﻂَ ﻓﻰ ﺃَﻳﺪﻳﻬِﻢ
ﻭَﺭَﺃَﻭﺍ ﺃَﻧَّﻬُﻢ ﻗَﺪ ﺿَﻠّﻮﺍ ﻗﺎﻟﻮﺍ
ﻟَﺌِﻦ ﻟَﻢ ﻳَﺮﺣَﻤﻨﺎ ﺭَﺑُّﻨﺎ ﻭَﻳَﻐﻔِﺮ
ﻟَﻨﺎ ﻟَﻨَﻜﻮﻧَﻦَّ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺨٰﺴِﺮﻳﻦَ
[149] অতঃপর যখন তারা অনুতপ্ত হল
এবং বুঝতে পারল যে, আমরা নিশ্চিতই
গোমরাহ হয়ে পড়েছি, তখন বলতে
লাগল, আমাদের প্রতি যদি আমাদের
পরওয়ারদেগার করুণা না করেন, তবে
অবশ্যই আমরা ধবংস হয়ে যাব।
[149] And when they regretted and saw
that they had gone astray, they (repented
and) said: “If our Lord have not mercy
upon us and forgive us, we shall
certainly be of the losers.”
[150] ﻭَﻟَﻤّﺎ ﺭَﺟَﻊَ ﻣﻮﺳﻰٰ ﺇِﻟﻰٰ
ﻗَﻮﻣِﻪِ ﻏَﻀﺒٰﻦَ ﺃَﺳِﻔًﺎ ﻗﺎﻝَ
ﺑِﺌﺴَﻤﺎ ﺧَﻠَﻔﺘُﻤﻮﻧﻰ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪﻯ ۖ
ﺃَﻋَﺠِﻠﺘُﻢ ﺃَﻣﺮَ ﺭَﺑِّﻜُﻢ ۖ ﻭَﺃَﻟﻘَﻰ
ﺍﻷَﻟﻮﺍﺡَ ﻭَﺃَﺧَﺬَ ﺑِﺮَﺃﺱِ ﺃَﺧﻴﻪِ
ﻳَﺠُﺮُّﻩُ ﺇِﻟَﻴﻪِ ۚ ﻗﺎﻝَ ﺍﺑﻦَ ﺃُﻡَّ ﺇِﻥَّ
ﺍﻟﻘَﻮﻡَ ﺍﺳﺘَﻀﻌَﻔﻮﻧﻰ ﻭَﻛﺎﺩﻭﺍ
ﻳَﻘﺘُﻠﻮﻧَﻨﻰ ﻓَﻼ ﺗُﺸﻤِﺖ ﺑِﻰَ
ﺍﻷَﻋﺪﺍﺀَ ﻭَﻻ ﺗَﺠﻌَﻠﻨﻰ ﻣَﻊَ
ﺍﻟﻘَﻮﻡِ ﺍﻟﻈّٰﻠِﻤﻴﻦَ
[150] তারপর যখন মূসা নিজ সম্প্রদায়ে
ফিরে এলেন রাগাম্বিত ও অনুতপ্ত
অবস্থায়, তখন বললেন, আমার
অনুপস্থিতিতে তোমরা আমার কি
নিকৃষ্ট প্রতিনিধিত্বটাই না করেছ।
তোমরা নিজ পরওয়ারদেগারের হুকুম
থেকে কি তাড়াহুড়া করে ফেললে এবং
সে তখতীগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিলেন
এবং নিজের ভাইয়ের মাথার চুল চেপে
ধরে নিজের দিকে টানতে লাগলেন।
ভাই বললেন, হে আমার মায়ের পুত্র,
লোকগুলো যে আমাকে দুর্বল মনে
করল এবং আমাকে যে মেরে ফেলার
উপক্রম করেছিল। সুতরাং আমার উপর
আর শত্রুদের হাসিও না। আর আমাকে
জালিমদের সারিতে গন্য করো না।
[150] And when Mûsa (Moses) returned
to his people, angry and grieved, he said:
“What an evil thing is that which you
have done (i.e. worshipping the calf)
during my absence. Did you hasten and
go ahead as regards the matter of your
Lord (you left His worship)?” And he
threw down the Tablets and seized his
brother by (the hair of) his head and
dragged him towards him. Hârûn
(Aaron) said: “O son of my mother!
Indeed the people judged me weak and
were about to kill me, so make not the
enemies rejoice over me, nor put me
amongst the people who are Zâlimûn
(wrong-doers).”
[151] ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﺍﻏﻔِﺮ ﻟﻰ
ﻭَﻟِﺄَﺧﻰ ﻭَﺃَﺩﺧِﻠﻨﺎ ﻓﻰ ﺭَﺣﻤَﺘِﻚَ ۖ
ﻭَﺃَﻧﺖَ ﺃَﺭﺣَﻢُ ﺍﻟﺮّٰﺣِﻤﻴﻦَ
[151] মূসা বললেন, হে আমার
পরওয়ারদেগার, ক্ষমা কর আমাকে আর
আমার ভাইকে এবং আমাদেরকে
তোমার রহমতের অন্তর্ভুক্ত কর। তুমি
যে সর্বাধিক করুণাময়।
[151] Mûsâ (Moses) said: “O my Lord!
Forgive me and my brother, and admit
us into Your Mercy, for you are the Most
Merciful of those who show mercy.”
[152] ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺍﺗَّﺨَﺬُﻭﺍ
ﺍﻟﻌِﺠﻞَ ﺳَﻴَﻨﺎﻟُﻬُﻢ ﻏَﻀَﺐٌ ﻣِﻦ
ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﻭَﺫِﻟَّﺔٌ ﻓِﻰ ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓِ
ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ۚ ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻧَﺠﺰِﻯ
ﺍﻟﻤُﻔﺘَﺮﻳﻦَ
[152] অবশ্য যারা গোবৎসকে উপাস্য
বানিয়ে নিয়েছে, তাদের উপর তাদের
পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে পার্থিব
এ জীবনেই গযব ও লাঞ্জনা এসে পড়বে।
এমনি আমি অপবাদ
আরোপকারীদেরকে শাস্তি দিয়ে
থাকি।
[152] Certainly, those who took the calf
(for worship), wrath from their Lord and
humiliation will come upon them in the
life of this world. Thus do We
recompense those who invent lies.
[153] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻋَﻤِﻠُﻮﺍ ﺍﻟﺴَّﻴِّـٔﺎﺕِ
ﺛُﻢَّ ﺗﺎﺑﻮﺍ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِﻫﺎ ﻭَﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ
ﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِﻫﺎ ﻟَﻐَﻔﻮﺭٌ
ﺭَﺣﻴﻢٌ
[153] আর যারা মন্দ কাজ করে, তারপরে
তওবা করে নেয় এবং ঈমান নিয়ে আসে,
তবে নিশ্চয়ই তোমার পরওয়ারদেগার
তওবার পর অবশ্য ক্ষমাকারী, করুণাময়।
[153] But those who committed evil deeds
and then repented afterwards and
believed, verily, your Lord after (all) that
is indeed Oft-Forgiving, Most Merciful.
[154] ﻭَﻟَﻤّﺎ ﺳَﻜَﺖَ ﻋَﻦ ﻣﻮﺳَﻰ
ﺍﻟﻐَﻀَﺐُ ﺃَﺧَﺬَ ﺍﻷَﻟﻮﺍﺡَ ۖ ﻭَﻓﻰ
ﻧُﺴﺨَﺘِﻬﺎ ﻫُﺪًﻯ ﻭَﺭَﺣﻤَﺔٌ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ
ﻫُﻢ ﻟِﺮَﺑِّﻬِﻢ ﻳَﺮﻫَﺒﻮﻥَ
[154] তারপর যখন মূসার রাগ পড়ে গেল,
তখন তিনি তখতীগুলো তুলে নিলেন।
আর যা কিছু তাতে লেখা ছিল, তা ছিল
সে সমস্ত লোকের জন্য হেদায়েত ও
রহমত যারা নিজেদের
পরওয়ারদেগারকে ভয় করে।
[154] And when the anger of Mûsa
(Moses) was calmed down, he took up
the Tablets, and in their inscription was
guidance and mercy for those who fear
their Lord.
[155] ﻭَﺍﺧﺘﺎﺭَ ﻣﻮﺳﻰٰ ﻗَﻮﻣَﻪُ
ﺳَﺒﻌﻴﻦَ ﺭَﺟُﻠًﺎ ﻟِﻤﻴﻘٰﺘِﻨﺎ ۖ ﻓَﻠَﻤّﺎ
ﺃَﺧَﺬَﺗﻬُﻢُ ﺍﻟﺮَّﺟﻔَﺔُ ﻗﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﻟَﻮ
ﺷِﺌﺖَ ﺃَﻫﻠَﻜﺘَﻬُﻢ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ
ﻭَﺇِﻳّٰﻰَ ۖ ﺃَﺗُﻬﻠِﻜُﻨﺎ ﺑِﻤﺎ ﻓَﻌَﻞَ
ﺍﻟﺴُّﻔَﻬﺎﺀُ ﻣِﻨّﺎ ۖ ﺇِﻥ ﻫِﻰَ ﺇِﻟّﺎ
ﻓِﺘﻨَﺘُﻚَ ﺗُﻀِﻞُّ ﺑِﻬﺎ ﻣَﻦ ﺗَﺸﺎﺀُ
ﻭَﺗَﻬﺪﻯ ﻣَﻦ ﺗَﺸﺎﺀُ ۖ ﺃَﻧﺖَ ﻭَﻟِﻴُّﻨﺎ
ﻓَﺎﻏﻔِﺮ ﻟَﻨﺎ ﻭَﺍﺭﺣَﻤﻨﺎ ۖ ﻭَﺃَﻧﺖَ
ﺧَﻴﺮُ ﺍﻟﻐٰﻔِﺮﻳﻦَ
[155] আর মূসা বেছে নিলেন নিজের
সম্প্রদায় থেকে সত্তর জন লোক আমার
প্রতিশ্রুত সময়ের জন্য। তারপর যখন
তাদেরকে ভূমিকম্প পাকড়াও করল, তখন
বললেন, হে আমার পরওয়ারদেগার, তুমি
যদি ইচ্ছা করতে, তবে তাদেরকে আগেই
ধ্বংস করে দিতে এবং আমাকেও।
আমাদেরকে কি সে কর্মের কারণে
ধ্বংস করছ, যা আমার সম্প্রদায়ের
নির্বোধ লোকেরা করেছে? এসবই
তোমার পরীক্ষা; তুমি যাকে ইচ্ছা
এতে পথ ভ্রষ্ট করবে এবং যাকে ইচ্ছা
সরলপথে রাখবে। তুমি যে আমাদের
রক্ষক-সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে
দাও এবং আমাদের উপর করুনা কর।
তাছাড়া তুমিই তো সর্বাধিক
ক্ষমাকারী।
[155] And Mûsa (Moses) chose out of his
people seventy (of the best) men for Our
appointed time and place of meeting,
and when they were seized with a
violent earthquake, he said: “O my Lord,
if it had been Your Will, You could have
destroyed them and me before; would
You destroy us for the deeds of the
foolish ones among us? It is only Your
Trial by which You lead astray whom
You will, and keep guided whom You
will. You are our Walî (Protector), so
forgive us and have Mercy on us, for You
are the Best of those who forgive.
[156] ۞ ﻭَﺍﻛﺘُﺐ ﻟَﻨﺎ ﻓﻰ ﻫٰﺬِﻩِ
ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﺣَﺴَﻨَﺔً ﻭَﻓِﻰ ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ
ﺇِﻧّﺎ ﻫُﺪﻧﺎ ﺇِﻟَﻴﻚَ ۚ ﻗﺎﻝَ ﻋَﺬﺍﺑﻰ
ﺃُﺻﻴﺐُ ﺑِﻪِ ﻣَﻦ ﺃَﺷﺎﺀُ ۖ
ﻭَﺭَﺣﻤَﺘﻰ ﻭَﺳِﻌَﺖ ﻛُﻞَّ ﺷَﻲﺀٍ ۚ
ﻓَﺴَﺄَﻛﺘُﺒُﻬﺎ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ ﻳَﺘَّﻘﻮﻥَ
ﻭَﻳُﺆﺗﻮﻥَ ﺍﻟﺰَّﻛﻮٰﺓَ ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻫُﻢ
ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[156] আর পৃথিবীতে এবং আখেরাতে
আমাদের জন্য কল্যাণ লিখে দাও।
আমরা তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন
করছি। আল্লাহ তা’আলা বললেন, আমার
আযাব তারই উপর পরিব্যাপ্ত। সুতরাং
তা তাদের জন্য লিখে দেব যারা ভয়
রাখে, যাকাত দান করে এবং যারা
আমার আয়তসমুহের উপর বিশ্বাস স্থাপন
করে।
[156] And ordain for us good in this
world, and in the Hereafter. Certainly
we have turned unto You.” He said: (As
to) My Punishment I afflict therewith
whom I will and My Mercy embraces all
things. That (Mercy) I shall ordain for
those who are the Muttaqûn (pious – see
V.2:2), and give Zakât; and those who
believe in Our Ayât (proofs, evidences,
verses, lessons, signs and revelations,
etc.);
[157] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳَﺘَّﺒِﻌﻮﻥَ ﺍﻟﺮَّﺳﻮﻝَ
ﺍﻟﻨَّﺒِﻰَّ ﺍﻷُﻣِّﻰَّ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻳَﺠِﺪﻭﻧَﻪُ
ﻣَﻜﺘﻮﺑًﺎ ﻋِﻨﺪَﻫُﻢ ﻓِﻰ ﺍﻟﺘَّﻮﺭﻯٰﺔِ
ﻭَﺍﻹِﻧﺠﻴﻞِ ﻳَﺄﻣُﺮُﻫُﻢ
ﺑِﺎﻟﻤَﻌﺮﻭﻑِ ﻭَﻳَﻨﻬﻯٰﻬُﻢ ﻋَﻦِ
ﺍﻟﻤُﻨﻜَﺮِ ﻭَﻳُﺤِﻞُّ ﻟَﻬُﻢُ ﺍﻟﻄَّﻴِّﺒٰﺖِ
ﻭَﻳُﺤَﺮِّﻡُ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢُ ﺍﻟﺨَﺒٰﺌِﺚَ
ﻭَﻳَﻀَﻊُ ﻋَﻨﻬُﻢ ﺇِﺻﺮَﻫُﻢ
ﻭَﺍﻷَﻏﻠٰﻞَ ﺍﻟَّﺘﻰ ﻛﺎﻧَﺖ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ۚ
ﻓَﺎﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﺑِﻪِ ﻭَﻋَﺰَّﺭﻭﻩُ
ﻭَﻧَﺼَﺮﻭﻩُ ﻭَﺍﺗَّﺒَﻌُﻮﺍ ﺍﻟﻨّﻮﺭَ ﺍﻟَّﺬﻯ
ﺃُﻧﺰِﻝَ ﻣَﻌَﻪُ ۙ ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻫُﻢُ
ﺍﻟﻤُﻔﻠِﺤﻮﻥَ
[157] সেসমস্ত লোক, যারা আনুগত্য
অবলম্বন করে এ রসূলের, যিনি উম্মী
নবী, যাঁর সম্পর্কে তারা নিজেদের
কাছে রক্ষিত তওরাত ও ইঞ্জিলে
লেখা দেখতে পায়, তিনি তাদেরকে
নির্দেশ দেন সৎকর্মের, বারণ করেন
অসৎকর্ম থেকে; তাদের জন্য যাবতীয়
পবিত্র বস্তু হালাল ঘোষনা করেন ও
নিষিদ্ধ করেন হারাম বস্তুসমূহ এবং
তাদের উপর থেকে সে বোঝা নামিয়ে
দেন এবং বন্দীত্ব অপসারণ করেন যা
তাদের উপর বিদ্যমান ছিল। সুতরাং
যেসব লোক তাঁর উপর ঈমান এনেছে,
তাঁর সাহচর্য অবলম্বন করেছে, তাঁকে
সাহায্য করেছে এবং সে নূরের অনুসরণ
করেছে যা তার সাথে অবতীর্ণ করা
হয়েছে, শুধুমাত্র তারাই নিজেদের
উদ্দেশ্য সফলতা অর্জন করতে পেরেছে।
[157] Those who follow the Messenger,
the Prophet who can neither read nor
write (i.e. Muhammad SAW) whom they
find written with them in the Taurât
(Torah) (Deut, xviii 15) and the Injeel
(Gospel) (John xiv, 16), – he commands
them for Al-Ma‘rûf (i.e. Islâmic
Monotheism and all that Islâm has
ordained); and forbids them from Al-
Munkar (i.e. disbelief, polytheism of all
kinds, and all that Islâm has forbidden);
he allows them as lawful At-Tayyibât (i.e.
all good and lawful as regards things,
deeds, beliefs, persons, foods), and
prohibits them as unlawful Al-Khabâ’ith
(i.e. all evil and unlawful as regards
things, deeds, beliefs, persons and foods),
he releases them from their heavy
burdens (of Allâh’s Covenant with the
children of Israel), and from the fetters
(bindings) that were upon them. So those
who believe in him (Muhammad SAW),
honour him, help him, and follow the
light (the Qur’ân) which has been sent
down with him, it is they who will be
successful.
[158] ﻗُﻞ ﻳٰﺄَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻨّﺎﺱُ ﺇِﻧّﻰ
ﺭَﺳﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻟَﻴﻜُﻢ ﺟَﻤﻴﻌًﺎ
ﺍﻟَّﺬﻯ ﻟَﻪُ ﻣُﻠﻚُ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ۖ ﻻ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻟّﺎ ﻫُﻮَ
ﻳُﺤﻲۦ ﻭَﻳُﻤﻴﺖُ ۖ ﻓَـٔﺎﻣِﻨﻮﺍ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ
ﻭَﺭَﺳﻮﻟِﻪِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ ﺍﻷُﻣِّﻰِّ ﺍﻟَّﺬﻯ
ﻳُﺆﻣِﻦُ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻛَﻠِﻤٰﺘِﻪِ ﻭَﺍﺗَّﺒِﻌﻮﻩُ
ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢ ﺗَﻬﺘَﺪﻭﻥَ
[158] বলে দাও, হে মানব মন্ডলী।
তোমাদের সবার প্রতি আমি আল্লাহ
প্রেরিত রসূল, সমগ্র আসমান ও যমীনে
তার রাজত্ব। একমাত্র তাঁকে ছাড়া আর
কারো উপাসনা নয়। তিনি জীবন ও
মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা সবাই
বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহর উপর
তাঁর প্রেরিত উম্মী নবীর উপর, যিনি
বিশ্বাস রাখেন আল্লাহর এবং তাঁর
সমস্ত কালামের উপর। তাঁর অনুসরণ কর
যাতে সরল পথপ্রাপ্ত হতে পার।
[158] Say (O Muhammad SAW): “O
mankind! Verily, I am sent to you all as
the Messenger of Allâh — to Whom
belongs the dominion of the heavens and
the earth. Lâ ilâha illa Huwa (none has
the right to be worshipped but He); It is
He Who gives life and causes death. So
believe in Allâh and His Messenger
(Muhammad SAW), the Prophet who can
neither read nor write (i.e. Muhammad
SAW) who believes in Allâh and His
Words [(this Qur’ân), the Taurât (Torah)
and the Injeel (Gospel) and also Allâh’s
Word: “Be!” – and he was, i.e. ‘Īsā (Jesus)
son of Maryam (Mary), A.S.], and follow
him so that you may be guided.”
[159] ﻭَﻣِﻦ ﻗَﻮﻡِ ﻣﻮﺳﻰٰ ﺃُﻣَّﺔٌ
ﻳَﻬﺪﻭﻥَ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ﻭَﺑِﻪِ ﻳَﻌﺪِﻟﻮﻥَ
[159] বস্তুতঃ মূসার সম্প্রদায়ে একটি
দল রয়েছে যারা সত্যপথ নির্দেশ করে
এবং সে মতেই বিচার করে থাকে।
[159] And of the people of Mûsa (Moses)
there is a community who lead (the men)
with truth and establish justice therewith
(i.e. judge among men with truth and
justice).
[160] ﻭَﻗَﻄَّﻌﻨٰﻬُﻢُ ﺍﺛﻨَﺘَﻰ ﻋَﺸﺮَﺓَ
ﺃَﺳﺒﺎﻃًﺎ ﺃُﻣَﻤًﺎ ۚ ﻭَﺃَﻭﺣَﻴﻨﺎ ﺇِﻟﻰٰ
ﻣﻮﺳﻰٰ ﺇِﺫِ ﺍﺳﺘَﺴﻘﻯٰﻪُ ﻗَﻮﻣُﻪُ
ﺃَﻥِ ﺍﺿﺮِﺏ ﺑِﻌَﺼﺎﻙَ ﺍﻟﺤَﺠَﺮَ ۖ
ﻓَﺎﻧﺒَﺠَﺴَﺖ ﻣِﻨﻪُ ﺍﺛﻨَﺘﺎ ﻋَﺸﺮَﺓَ
ﻋَﻴﻨًﺎ ۖ ﻗَﺪ ﻋَﻠِﻢَ ﻛُﻞُّ ﺃُﻧﺎﺱٍ
ﻣَﺸﺮَﺑَﻬُﻢ ۚ ﻭَﻇَﻠَّﻠﻨﺎ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢُ
ﺍﻟﻐَﻤٰﻢَ ﻭَﺃَﻧﺰَﻟﻨﺎ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢُ ﺍﻟﻤَﻦَّ
ﻭَﺍﻟﺴَّﻠﻮﻯٰ ۖ ﻛُﻠﻮﺍ ﻣِﻦ ﻃَﻴِّﺒٰﺖِ
ﻣﺎ ﺭَﺯَﻗﻨٰﻜُﻢ ۚ ﻭَﻣﺎ ﻇَﻠَﻤﻮﻧﺎ
ﻭَﻟٰﻜِﻦ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﺃَﻧﻔُﺴَﻬُﻢ
ﻳَﻈﻠِﻤﻮﻥَ
[160] আর আমি পৃথক পৃথক করে দিয়েছি
তাদের বার জন পিতামহের
সন্তানদেরকে বিরাট বিরাট দলে,
এবং নির্দেশ দিয়েছি মুসাকে, যখন
তার কাছে তার সম্প্রদায় পানি চাইল
যে, স্বীয় যষ্টির দ্বারা আঘাত কর এ
পাথরের উপর। অতঃপর এর ভেতর থেকে
ফুটে বের হল বারটি প্রস্রবণ। প্রতিটি
গোত্র চিনে নিল নিজ নিজ ঘাঁটি। আর
আমি ছায়া দান করলাম তাদের উপর
মেঘের এবং তাদের জন্য অবতীর্ন
করলাম মান্না ও সালওয়া। যে
পরিচ্ছন্ন বস্তুত জীবিকারূপে আমি
তোমাদের দিয়েছি, তা থেকে
তোমরা ভক্ষণ কর। বস্তুতঃ তারা
আমার কোন ক্ষতি করেনি, বরং ক্ষতি
করেছে নিজেদেরই।
[160] And We divided them into twelve
tribes (as distinct) nations. We revealed
to Mûsa (Moses) when his people asked
him for water, (saying): “Strike the stone
with your stick”, and there gushed forth
out of it twelve springs: each group knew
its own place for water. We shaded them
with the clouds and sent down upon
them Al-Manna and the quails (saying):
“Eat of the good things with which We
have provided you.” They harmed Us not
but they used to harm themselves.
[161] ﻭَﺇِﺫ ﻗﻴﻞَ ﻟَﻬُﻢُ ﺍﺳﻜُﻨﻮﺍ
ﻫٰﺬِﻩِ ﺍﻟﻘَﺮﻳَﺔَ ﻭَﻛُﻠﻮﺍ ﻣِﻨﻬﺎ
ﺣَﻴﺚُ ﺷِﺌﺘُﻢ ﻭَﻗﻮﻟﻮﺍ ﺣِﻄَّﺔٌ
ﻭَﺍﺩﺧُﻠُﻮﺍ ﺍﻟﺒﺎﺏَ ﺳُﺠَّﺪًﺍ ﻧَﻐﻔِﺮ
ﻟَﻜُﻢ ﺧَﻄﻴـٰٔﺘِﻜُﻢ ۚ ﺳَﻨَﺰﻳﺪُ
ﺍﻟﻤُﺤﺴِﻨﻴﻦَ
[161] আর যখন তাদের প্রতি নির্দেশ হল
যে, তোমরা এ নগরীতে বসবাস কর এবং
খাও তা থেকে যেখান থেকে ইচ্ছা
এবং বল, আমাদের ক্ষমা করুন। আর
দরজা দিয়ে প্রবেশ কর প্রণত অবস্থায়।
তবে আমি ক্ষমা করে দেব তোমাদের
পাপসমুহ। অবশ্য আমি সৎকর্মীদিগকে
অতিরিক্ত দান করব।
[161] And (remember) when it was said
to them: “Dwell in this town (Jerusalem)
and eat therefrom wherever you wish,
and say, ‘(O Allâh) forgive our sins’; and
enter the gate prostrate (bowing with
humility). We shall forgive you your
wrong-doings. We shall increase (the
reward) for the good-doers.”
[162] ﻓَﺒَﺪَّﻝَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻇَﻠَﻤﻮﺍ
ﻣِﻨﻬُﻢ ﻗَﻮﻟًﺎ ﻏَﻴﺮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻗﻴﻞَ
ﻟَﻬُﻢ ﻓَﺄَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺭِﺟﺰًﺍ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ ﺑِﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻈﻠِﻤﻮﻥَ
[162] অনন্তর জালেমরা এতে অন্য শব্দ
বদলে দিল তার পরিবর্তে, যা
তাদেরকে বলা হয়েছিল। সুতরাং আমি
তাদের উপর আযাব পাঠিয়েছি আসমান
থেকে তাদের অপকর্মের কারণে।
[162] But those among them who did
wrong changed the word that had been
told to them. So We sent on them a
torment from the heaven in return for
their wrong-doings.
[163] ﻭَﺳـَٔﻠﻬُﻢ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻘَﺮﻳَﺔِ ﺍﻟَّﺘﻰ
ﻛﺎﻧَﺖ ﺣﺎﺿِﺮَﺓَ ﺍﻟﺒَﺤﺮِ ﺇِﺫ
ﻳَﻌﺪﻭﻥَ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴَّﺒﺖِ ﺇِﺫ
ﺗَﺄﺗﻴﻬِﻢ ﺣﻴﺘﺎﻧُﻬُﻢ ﻳَﻮﻡَ ﺳَﺒﺘِﻬِﻢ
ﺷُﺮَّﻋًﺎ ﻭَﻳَﻮﻡَ ﻻ ﻳَﺴﺒِﺘﻮﻥَ ۙ ﻻ
ﺗَﺄﺗﻴﻬِﻢ ۚ ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻧَﺒﻠﻮﻫُﻢ ﺑِﻤﺎ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻔﺴُﻘﻮﻥَ
[163] আর তাদের কাছে সে জনপদের
অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর যা ছিল
নদীর তীরে অবস্থিত। যখন শনিবার
দিনের নির্দেশের ব্যাপারে
সীমাতিক্রম করতে লাগল, যখন আসতে
লাগল মাছগুলো তাদের কাছে
শনিবার দিন পানির উপর, আর যেদিন
শনিবার হত না, আসত না। এভাবে আমি
তাদেরকে পরীক্ষা করেছি। কারণ,
তারা ছিল নাফরমান।
[163] And ask them (O Muhammad SAW)
about the town that was by the sea;
when they transgressed in the matter of
the Sabbath (i.e. Saturday): when their
fish came to them openly on the Sabbath
day, and did not come to them on the
day they had no Sabbath. Thus We made
a trial of them, for they used to rebel
against Allâh’s Command (disobey Allâh)
[see the Qur’ân: V.4:154 and its
footnote].
[164] ﻭَﺇِﺫ ﻗﺎﻟَﺖ ﺃُﻣَّﺔٌ ﻣِﻨﻬُﻢ ﻟِﻢَ
ﺗَﻌِﻈﻮﻥَ ﻗَﻮﻣًﺎ ۙ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣُﻬﻠِﻜُﻬُﻢ
ﺃَﻭ ﻣُﻌَﺬِّﺑُﻬُﻢ ﻋَﺬﺍﺑًﺎ ﺷَﺪﻳﺪًﺍ ۖ
ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻣَﻌﺬِﺭَﺓً ﺇِﻟﻰٰ ﺭَﺑِّﻜُﻢ
ﻭَﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ ﻳَﺘَّﻘﻮﻥَ
[164] আর যখন তাদের মধ্যে থেকে এক
সম্প্রদায় বলল, কেন সে লোকদের
সদুপদেশ দিচ্ছেন, যাদেরকে আল্লাহ
ধ্বংস করে দিতে চান কিংবা আযাব
দিতে চান কঠিন আযাব? সে বললঃ
তোমাদের পালনকর্তার সামনে দোষ
ফুরাবার জন্য এবং এজন্য যেন তারা
ভীত হয়।
[164] And when a community among
them said: “Why do you preach to a
people whom Allâh is about to destroy or
to punish with a severe torment?” (The
preachers) said: “In order to be free
from guilt before your Lord (Allâh), and
perhaps they may fear Allâh.”
[165] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﻧَﺴﻮﺍ ﻣﺎ ﺫُﻛِّﺮﻭﺍ ﺑِﻪِ
ﺃَﻧﺠَﻴﻨَﺎ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳَﻨﻬَﻮﻥَ ﻋَﻦِ
ﺍﻟﺴّﻮﺀِ ﻭَﺃَﺧَﺬﻧَﺎ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻇَﻠَﻤﻮﺍ
ﺑِﻌَﺬﺍﺏٍ ﺑَـٔﻴﺲٍ ﺑِﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻳَﻔﺴُﻘﻮﻥَ
[165] অতঃপর যখন তারা সেসব বিষয়
ভুলে গেল, যা তাদেরকে বোঝানো
হয়েছিল, তখন আমি সেসব লোককে
মুক্তি দান করলাম যারা মন্দ কাজ
থেকে বারণ করত। আর পাকড়াও করলাম,
গোনাহগারদেরকে নিকৃষ্ট আযাবের
মাধ্যমে তাদের না-ফরমানীর দরুন।
[165] So when they forgot the
remindings that had been given to them,
We rescued those who forbade evil, but
We seized those who did wrong with a
severe torment because they used to
rebel against Allah’s command (disobey
Allâh).
[166] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﻋَﺘَﻮﺍ ﻋَﻦ ﻣﺎ ﻧُﻬﻮﺍ
ﻋَﻨﻪُ ﻗُﻠﻨﺎ ﻟَﻬُﻢ ﻛﻮﻧﻮﺍ ﻗِﺮَﺩَﺓً
ﺧٰﺴِـٔﻴﻦَ
[166] তারপর যখন তারা এগিয়ে যেতে
লাগল সে কর্মে যা থেকে তাদের বারণ
করা হয়েছিল, তখন আমি নির্দেশ
দিলাম যে, তোমরা লাঞ্ছিত বানর
হয়ে যাও।
[166] So when they exceeded the limits of
what they were prohibited, We said to
them: “Be you monkeys, despised and
rejected.”
[167] ﻭَﺇِﺫ ﺗَﺄَﺫَّﻥَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻟَﻴَﺒﻌَﺜَﻦَّ
ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺇِﻟﻰٰ ﻳَﻮﻡِ ﺍﻟﻘِﻴٰﻤَﺔِ ﻣَﻦ
ﻳَﺴﻮﻣُﻬُﻢ ﺳﻮﺀَ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏِ ۗ ﺇِﻥَّ
ﺭَﺑَّﻚَ ﻟَﺴَﺮﻳﻊُ ﺍﻟﻌِﻘﺎﺏِ ۖ ﻭَﺇِﻧَّﻪُ
ﻟَﻐَﻔﻮﺭٌ ﺭَﺣﻴﻢٌ
[167] আর সে সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন
তোমার পালনকর্তা সংবাদ দিয়েছেন
যে, অবশ্যই কেয়ামত দিবস পর্যন্ত
ইহুদীদের উপর এমন লোক পাঠাতে
থাকবেন যারা তাদেরকে নিকৃষ্ট
শাস্তি দান করতে থাকবে।
নিঃসন্দেহে তোমার পালনকর্তা
শীঘ্র শাস্তি দানকারী এবং তিনি
ক্ষমাশীল, দয়ালু।
[167] And (remember) when your Lord
declared that He would certainly keep on
sending against them (i.e. the Jews), till
the Day of Resurrection, those who
would afflict them with a humiliating
torment. Verily, your Lord is Quick in
Retribution (for the disobedient, wicked)
and certainly He is Oft-Forgiving, Most
Merciful (for the obedient and those who
beg Allâh’s Forgiveness).
[168] ﻭَﻗَﻄَّﻌﻨٰﻬُﻢ ﻓِﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﺃُﻣَﻤًﺎ ۖ ﻣِﻨﻬُﻢُ ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤﻮﻥَ
ﻭَﻣِﻨﻬُﻢ ﺩﻭﻥَ ﺫٰﻟِﻚَ ۖ ﻭَﺑَﻠَﻮﻧٰﻬُﻢ
ﺑِﺎﻟﺤَﺴَﻨٰﺖِ ﻭَﺍﻟﺴَّﻴِّـٔﺎﺕِ ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ
ﻳَﺮﺟِﻌﻮﻥَ
[168] আর আমি তাদেরকে বিভক্ত করে
দিয়েছি দেশময় বিভিন্ন শ্রেনীতে,
তাদের মধ্যে কিছু রয়েছে ভাল আর
কিছু রয়েছে অন্য রকম! তাছাড়া আমি
তাদেরকে পরীক্ষা করেছি ভাল ও
মন্দের মাধ্যমে যাতে তারা ফিরে
আসে।
[168] And We have broken them (i.e. the
Jews) up into various separate groups on
the earth, some of them are righteous
and some are away from that. And We
tried them with good (blessings) and evil
(calamities) in order that they might turn
(to Allâh’s Obedience).
[169] ﻓَﺨَﻠَﻒَ ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِﻫِﻢ ﺧَﻠﻒٌ
ﻭَﺭِﺛُﻮﺍ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ﻳَﺄﺧُﺬﻭﻥَ
ﻋَﺮَﺽَ ﻫٰﺬَﺍ ﺍﻷَﺩﻧﻰٰ ﻭَﻳَﻘﻮﻟﻮﻥَ
ﺳَﻴُﻐﻔَﺮُ ﻟَﻨﺎ ﻭَﺇِﻥ ﻳَﺄﺗِﻬِﻢ ﻋَﺮَﺽٌ
ﻣِﺜﻠُﻪُ ﻳَﺄﺧُﺬﻭﻩُ ۚ ﺃَﻟَﻢ ﻳُﺆﺧَﺬ
ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻣﻴﺜٰﻖُ ﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ ﺃَﻥ ﻻ
ﻳَﻘﻮﻟﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﺤَﻖَّ
ﻭَﺩَﺭَﺳﻮﺍ ﻣﺎ ﻓﻴﻪِ ۗ ﻭَﺍﻟﺪّﺍﺭُ
ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓُ ﺧَﻴﺮٌ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ ﻳَﺘَّﻘﻮﻥَ ۗ
ﺃَﻓَﻼ ﺗَﻌﻘِﻠﻮﻥَ
[169] তারপর তাদের পেছনে এসেছে
কিছু অপদার্থ, যারা উত্তরাধিকারী
হয়েছে কিতাবের; তারা নিকৃষ্ট
পার্থিব উপকরণ আহরণ করছে এবং
বলছে, আমাদের ক্ষমা করে দেয়া হবে।
বস্তুতঃ এমনি ধরনের উপকরণ যদি
আবারো তাদের সামনে উপস্থিত হয়,
তবে তাও তুলে নেবে। তাদের
কাছথেকে কিতাবে কি অঙ্গীকার
নেয়া হয়নি যে, আল্লাহর প্রতি সত্য
ছাড়া কিছু বলবে না? অথচ তারা সে
সবই পাঠ করেছে, যা তাতে লেখা
রয়েছে। বস্তুতঃ আখেরাতের আলয়
ভীতদের জন্য উত্তম-তোমরা কি তা
বোঝ না ?
[169] Then after them succeeded an (evil)
generation, which inherited the Book,
but they chose (for themselves) the goods
of this low life (evil pleasures of this
world) saying (as an excuse):
“(Everything) will be forgiven to us.” And
if (again) the offer of the like (evil
pleasures of this world) came their way,
they would (again) seize them (would
commit those sins). Was not the
covenant of the Book taken from them
that they would not say about Allâh
anything but the truth? And they have
studied what is in it (the Book). And the
home of the Hereafter is better for those
who are Al-Muttaqûn (the pious – see
V.2:2). Do not you then understand?
[170] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳُﻤَﺴِّﻜﻮﻥَ
ﺑِﺎﻟﻜِﺘٰﺐِ ﻭَﺃَﻗﺎﻣُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﻠﻮٰﺓَ ﺇِﻧّﺎ
ﻻ ﻧُﻀﻴﻊُ ﺃَﺟﺮَ ﺍﻟﻤُﺼﻠِﺤﻴﻦَ
[170] আর যেসব লোক সুদৃঢ়ভাবে
কিতাবকে আঁকড়ে থাকে এবং নামায
প্রতিষ্ঠা করে নিশ্চয়ই আমি বিনষ্ট
করব না সৎকর্মীদের সওয়াব।
[170] And as to those who hold fast to the
Book (i.e. act on its teachings) and
perform As-Salât (Iqâmat-as-Salât),
certainly, We shall never waste the
reward of those who do righteous deeds
[171] ۞ ﻭَﺇِﺫ ﻧَﺘَﻘﻨَﺎ ﺍﻟﺠَﺒَﻞَ
ﻓَﻮﻗَﻬُﻢ ﻛَﺄَﻧَّﻪُ ﻇُﻠَّﺔٌ ﻭَﻇَﻨّﻮﺍ ﺃَﻧَّﻪُ
ﻭﺍﻗِﻊٌ ﺑِﻬِﻢ ﺧُﺬﻭﺍ ﻣﺎ ﺀﺍﺗَﻴﻨٰﻜُﻢ
ﺑِﻘُﻮَّﺓٍ ﻭَﺍﺫﻛُﺮﻭﺍ ﻣﺎ ﻓﻴﻪِ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢ
ﺗَﺘَّﻘﻮﻥَ
[171] আর যখন আমি তুলে ধরলাম
পাহাড়কে তাদের উপরে সামিয়ানার
মত এবং তারা ভয় করতে লাগল যে,
সেটি তাদের উপর পড়বে, তখন আমি
বললাম, ধর, যা আমি তোমাদের
দিয়েছি, দৃঢ়ভাবে এবং স্মরণ রেখো
যা তাতে রয়েছে, যেন তোমরা বাঁচতে
পার।
[171] And (remember) when We raised
the mountain over them as if it had been
a canopy, and they thought that it was
going to fall on them. (We said): “Hold
firmly to what We have given you [i.e.
the Taurât (Torah)], and remember that
which is therein (act on its
commandments), so that you may fear
Allâh and obey Him.”
[172] ﻭَﺇِﺫ ﺃَﺧَﺬَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻣِﻦ ﺑَﻨﻰ
ﺀﺍﺩَﻡَ ﻣِﻦ ﻇُﻬﻮﺭِﻫِﻢ ﺫُﺭِّﻳَّﺘَﻬُﻢ
ﻭَﺃَﺷﻬَﺪَﻫُﻢ ﻋَﻠﻰٰ ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢ
ﺃَﻟَﺴﺖُ ﺑِﺮَﺑِّﻜُﻢ ۖ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺑَﻠﻰٰ ۛ
ﺷَﻬِﺪﻧﺎ ۛ ﺃَﻥ ﺗَﻘﻮﻟﻮﺍ ﻳَﻮﻡَ
ﺍﻟﻘِﻴٰﻤَﺔِ ﺇِﻧّﺎ ﻛُﻨّﺎ ﻋَﻦ ﻫٰﺬﺍ
ﻏٰﻔِﻠﻴﻦَ
[172] আর যখন তোমার পালনকর্তা বনী
আদমের পৃষ্টদেশ থেকে বের করলেন
তাদের সন্তানদেরকে এবং নিজের
উপর তাদেরকে প্রতিজ্ঞা করালেন,
আমি কি তোমাদের পালনকর্তা নই ?
তারা বলল, অবশ্যই, আমরা অঙ্গীকার
করছি। আবার না কেয়ামতের দিন
বলতে শুরু কর যে, এ বিষয়টি আমাদের
জানা ছিল না।
[172] And (remember) when your Lord
brought forth from the Children of
Adam, from their loins, their seed (or
from Adam’s loin his offspring) and
made them testify as to themselves
(saying): “Am I not your Lord?” They
said: “Yes! We testify,” lest you should
say on the Day of Resurrection: “Verily,
we have been unaware of this.”
[173] ﺃَﻭ ﺗَﻘﻮﻟﻮﺍ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﺃَﺷﺮَﻙَ
ﺀﺍﺑﺎﺅُﻧﺎ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ ﻭَﻛُﻨّﺎ ﺫُﺭِّﻳَّﺔً
ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِﻫِﻢ ۖ ﺃَﻓَﺘُﻬﻠِﻜُﻨﺎ ﺑِﻤﺎ
ﻓَﻌَﻞَ ﺍﻟﻤُﺒﻄِﻠﻮﻥَ
[173] অথবা বলতে শুরু কর যে,
অংশীদারিত্বের প্রথা তো আমাদের
বাপ-দাদারা উদ্ভাবন করেছিল
আমাদের পূর্বেই। আর আমরা হলাম
তাদের পশ্চাৎবর্তী সন্তান-সন্ততি।
তাহলে কি সে কর্মের জন্য
আমাদেরকে ধ্বংস করবেন, যা
পথভ্রষ্টরা করেছে?
[173] Or lest you should say: “It was only
our fathers afortime who took others as
partners in worship along with Allâh,
and we were (merely their) descendants
after them; will You then destroy us
because of the deeds of men who
practised Al-Bâtil (i.e. polytheism and
committing crimes and sins, invoking
and worshipping others besides
Allâh)?” (Tafsir At-Tabarî)
[174] ﻭَﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻧُﻔَﺼِّﻞُ ﺍﻝﺀﺍﻳٰﺖِ
ﻭَﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ ﻳَﺮﺟِﻌﻮﻥَ
[174] বস্তুতঃ এভাবে আমি বিষয়সমূহ
সবিস্তারে বর্ণনা করি, যাতে তারা
ফিরে আসে।
[174] Thus do We explain the Ayât
(proofs, evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.) in detail, so that they
may turn (unto the truth).
[175] ﻭَﺍﺗﻞُ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻧَﺒَﺄَ ﺍﻟَّﺬﻯ
ﺀﺍﺗَﻴﻨٰﻪُ ﺀﺍﻳٰﺘِﻨﺎ ﻓَﺎﻧﺴَﻠَﺦَ ﻣِﻨﻬﺎ
ﻓَﺄَﺗﺒَﻌَﻪُ ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦُ ﻓَﻜﺎﻥَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻐﺎﻭﻳﻦَ
[175] আর আপনি তাদেরকে শুনিয়ে দিন,
সে লোকের অবস্থা, যাকে আমি
নিজের নিদর্শনসমূহ দান করেছিলাম,
অথচ সে তা পরিহার করে বেরিয়ে
গেছে। আর তার পেছনে লেগেছে
শয়তান, ফলে সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভূক্ত
হয়ে পড়েছে।
[175] And recite (O Muhammad SAW) to
them the story of him to whom We gave
Our Ayât (proofs, evidences, verses,
lessons, signs, revelations, etc.), but he
threw them away, so Shaitân (Satan)
followed him up, and he became of those
who went astray.
[176] ﻭَﻟَﻮ ﺷِﺌﻨﺎ ﻟَﺮَﻓَﻌﻨٰﻪُ ﺑِﻬﺎ
ﻭَﻟٰﻜِﻨَّﻪُ ﺃَﺧﻠَﺪَ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻷَﺭﺽِ
ﻭَﺍﺗَّﺒَﻊَ ﻫَﻮﻯٰﻪُ ۚ ﻓَﻤَﺜَﻠُﻪُ ﻛَﻤَﺜَﻞِ
ﺍﻟﻜَﻠﺐِ ﺇِﻥ ﺗَﺤﻤِﻞ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﻳَﻠﻬَﺚ
ﺃَﻭ ﺗَﺘﺮُﻛﻪُ ﻳَﻠﻬَﺚ ۚ ﺫٰﻟِﻚَ ﻣَﺜَﻞُ
ﺍﻟﻘَﻮﻡِ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ۚ
ﻓَﺎﻗﺼُﺺِ ﺍﻟﻘَﺼَﺺَ ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ
ﻳَﺘَﻔَﻜَّﺮﻭﻥَ
[176] অবশ্য আমি ইচ্ছা করলে তার
মর্যাদা বাড়িয়ে দিতাম সে সকল
নিদর্শনসমূহের দৌলতে। কিন্তু সে যে
অধঃপতিত এবং নিজের রিপুর অনুগামী
হয়ে রইল। সুতরাং তার অবস্থা হল
কুকুরের মত; যদি তাকে তাড়া কর তবুও
হাঁপাবে আর যদি ছেড়ে দাও তবুও
হাঁপাবে। এ হল সেসব লোকের উদাহরণ;
যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার
নিদর্শনসমূহকে। অতএব, আপনি বিবৃত
করুন এসব কাহিনী, যাতে তারা চিন্তা
করে।
[176] And had We willed, We would
surely have elevated him therewith but
he clung to the earth and followed his
own vain desire. So his parable is the
parable of a dog: if you drive him away,
he lolls his tongue out, or if you leave
him alone, he (still) lolls his tongue out.
Such is the parable of the people who
reject Our Ayât (proofs, evidences,
verses, lessons, signs, revelations, etc.).
So relate the stories, perhaps they may
reflect
[177] ﺳﺎﺀَ ﻣَﺜَﻠًﺎ ﺍﻟﻘَﻮﻡُ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ ﻭَﺃَﻧﻔُﺴَﻬُﻢ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻳَﻈﻠِﻤﻮﻥَ
[177] তাদের উদাহরণ অতি নিকৃষ্ট,
যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার
আয়াত সমূহকে এবং তারা নিজেদেরই
ক্ষতি সাধন করেছে।
[177] Evil is the parable of the people
who reject Our Ayât (proofs, evidences,
verses and signs, etc.), and used to
wrong their ownselves
[178] ﻣَﻦ ﻳَﻬﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻓَﻬُﻮَ
ﺍﻟﻤُﻬﺘَﺪﻯ ۖ ﻭَﻣَﻦ ﻳُﻀﻠِﻞ
ﻓَﺄُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﺍﻟﺨٰﺴِﺮﻭﻥَ
[178] যাকে আল্লাহ পথ দেখাবেন, সেই
পথপ্রাপ্ত হবে। আর যাকে তিনি পথ
ভ্রষ্ট করবেন, সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত।
[178] Whomsoever Allâh guides, he is the
guided one, and whomsoever He sends
astray, then those! they are the losers
[179] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺫَﺭَﺃﻧﺎ ﻟِﺠَﻬَﻨَّﻢَ ﻛَﺜﻴﺮًﺍ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﺠِﻦِّ ﻭَﺍﻹِﻧﺲِ ۖ ﻟَﻬُﻢ
ﻗُﻠﻮﺏٌ ﻻ ﻳَﻔﻘَﻬﻮﻥَ ﺑِﻬﺎ ﻭَﻟَﻬُﻢ
ﺃَﻋﻴُﻦٌ ﻻ ﻳُﺒﺼِﺮﻭﻥَ ﺑِﻬﺎ ﻭَﻟَﻬُﻢ
ﺀﺍﺫﺍﻥٌ ﻻ ﻳَﺴﻤَﻌﻮﻥَ ﺑِﻬﺎ ۚ
ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻛَﺎﻷَﻧﻌٰﻢِ ﺑَﻞ ﻫُﻢ ﺃَﺿَﻞُّ ۚ
ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﺍﻟﻐٰﻔِﻠﻮﻥَ
[179] আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের
জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর
রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না,
তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা
দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার
দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর
মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর।
তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।
[179] And surely, We have created many
of the jinn and mankind for Hell. They
have hearts wherewith they understand
not, and they have eyes wherewith they
see not, and they have ears wherewith
they hear not (the truth). They are like
cattle, nay even more astray; those! They
are the heedless ones.
[180] ﻭَﻟِﻠَّﻪِ ﺍﻷَﺳﻤﺎﺀُ ﺍﻟﺤُﺴﻨﻰٰ
ﻓَﺎﺩﻋﻮﻩُ ﺑِﻬﺎ ۖ ﻭَﺫَﺭُﻭﺍ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻳُﻠﺤِﺪﻭﻥَ ﻓﻰ ﺃَﺳﻤٰﺌِﻪِ ۚ
ﺳَﻴُﺠﺰَﻭﻥَ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[180] আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সব
উত্তম নাম। কাজেই সে নাম ধরেই
তাঁকে ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর,
যারা তাঁর নামের ব্যাপারে বাঁকা
পথে চলে। তারা নিজেদের কৃতকর্মের
ফল শীঘ্রই পাবে।
[180] And (all) the Most Beautiful Names
belong to Allâh, so call on Him by them,
and leave the company of those who
belie or deny (or utter impious speech
against) His Names. They will be
requited for what they used to do.
[181] ﻭَﻣِﻤَّﻦ ﺧَﻠَﻘﻨﺎ ﺃُﻣَّﺔٌ ﻳَﻬﺪﻭﻥَ
ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ ﻭَﺑِﻪِ ﻳَﻌﺪِﻟﻮﻥَ
[181] আর যাদেরকে আমি সৃষ্টি
করেছি, তাদের মধ্যে এমন এক দল
রয়েছে যারা সত্য পথ দেখায় এবং সে
অনুযায়ী ন্যায়চিার করে।
[181] And of those whom We have
created, there is a community who
guides (others) with the truth, and
establishes justice therewith.
[182] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﺬَّﺑﻮﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ
ﺳَﻨَﺴﺘَﺪﺭِﺟُﻬُﻢ ﻣِﻦ ﺣَﻴﺚُ ﻻ
ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[182] বস্তুতঃ যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন
করেছে আমার আয়াতসমূহকে, আমি
তাদেরকে ক্রমান্বয়ে পাকড়াও করব
এমন জায়গা থেকে, যার সম্পর্কে
তাদের ধারণাও হবে না।
[182] Those who reject Our Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.), We shall gradually
seize them with punishment in ways
they perceive not.
[183] ﻭَﺃُﻣﻠﻰ ﻟَﻬُﻢ ۚ ﺇِﻥَّ ﻛَﻴﺪﻯ
ﻣَﺘﻴﻦٌ
[183] বস্তুতঃ আমি তাদেরকে ঢিল
দিয়ে থাকি। নিঃসন্দেহে আমার
কৌশল সুনিপুণ।
[183] And I respite them; certainly My
Plan is strong.
[184] ﺃَﻭَﻟَﻢ ﻳَﺘَﻔَﻜَّﺮﻭﺍ ۗ ﻣﺎ
ﺑِﺼﺎﺣِﺒِﻬِﻢ ﻣِﻦ ﺟِﻨَّﺔٍ ۚ ﺇِﻥ ﻫُﻮَ
ﺇِﻟّﺎ ﻧَﺬﻳﺮٌ ﻣُﺒﻴﻦٌ
[184] তারা কি লক্ষ্য করেনি যে,
তাদের সঙ্গী লোকটির মস্তিষ্কে
কোন বিকৃতি নেই? তিনি তো ভীতি
প্রদর্শনকারী প্রকৃষ্টভাবে।
[184] Do they not reflect? There is no
madness in their companion
(Muhammad SAW). He is but a plain
warner.
[185] ﺃَﻭَﻟَﻢ ﻳَﻨﻈُﺮﻭﺍ ﻓﻰ
ﻣَﻠَﻜﻮﺕِ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ
ﻭَﻣﺎ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣِﻦ ﺷَﻲﺀٍ
ﻭَﺃَﻥ ﻋَﺴﻰٰ ﺃَﻥ ﻳَﻜﻮﻥَ ﻗَﺪِ
ﺍﻗﺘَﺮَﺏَ ﺃَﺟَﻠُﻬُﻢ ۖ ﻓَﺒِﺄَﻯِّ ﺣَﺪﻳﺚٍ
ﺑَﻌﺪَﻩُ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[185] তারা কি প্রত্যক্ষ করেনি আকাশ
ও পৃথিবীর রাজ্য সম্পর্কে এবং যা কিছু
সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ তা’আলা বস্তু
সামগ্রী থেকে এবং এ ব্যাপারে যে,
তাদের সাথে কৃত ওয়াদার সময়
নিকটবর্তী হয়ে এসেছে? বস্তুতঃ এরপর
কিসের উপর ঈমান আনবে?
[185] Do they not look in the dominion
of the heavens and the earth and all
things that Allâh has created, and that it
may be that the end of their lives is
near. In what message after this will they
then believe?
[186] ﻣَﻦ ﻳُﻀﻠِﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻓَﻼ ﻫﺎﺩِﻯَ
ﻟَﻪُ ۚ ﻭَﻳَﺬَﺭُﻫُﻢ ﻓﻰ ﻃُﻐﻴٰﻨِﻬِﻢ
ﻳَﻌﻤَﻬﻮﻥَ
[186] আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন।
তার কোন পথপ্রদর্শক নেই। আর
আল্লাহ তাদেরকে তাদের দুষ্টামীতে
মত্ত অবস্তায় ছেড়ে দিয়ে রাখেন।
[186] Whomsoever Allâh sends astray,
none can guide him; and He lets them
wander blindly in their transgressions.
[187] ﻳَﺴـَٔﻠﻮﻧَﻚَ ﻋَﻦِ ﺍﻟﺴّﺎﻋَﺔِ
ﺃَﻳّﺎﻥَ ﻣُﺮﺳﻯٰﻬﺎ ۖ ﻗُﻞ ﺇِﻧَّﻤﺎ
ﻋِﻠﻤُﻬﺎ ﻋِﻨﺪَ ﺭَﺑّﻰ ۖ ﻻ ﻳُﺠَﻠّﻴﻬﺎ
ﻟِﻮَﻗﺘِﻬﺎ ﺇِﻟّﺎ ﻫُﻮَ ۚ ﺛَﻘُﻠَﺖ ﻓِﻰ
ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ ۚ ﻻ ﺗَﺄﺗﻴﻜُﻢ
ﺇِﻟّﺎ ﺑَﻐﺘَﺔً ۗ ﻳَﺴـَٔﻠﻮﻧَﻚَ ﻛَﺄَﻧَّﻚَ
ﺣَﻔِﻰٌّ ﻋَﻨﻬﺎ ۖ ﻗُﻞ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﻋِﻠﻤُﻬﺎ
ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻟٰﻜِﻦَّ ﺃَﻛﺜَﺮَ ﺍﻟﻨّﺎﺱِ
ﻻ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[187] আপনাকে জিজ্ঞেস করে,
কেয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? বলে দিন
এর খবর তো আমার পালনকর্তার
কাছেই রয়েছে। তিনিই তা অনাবৃত করে
দেখাবেন নির্ধারিত সময়ে। আসমান ও
যমীনের জন্য সেটি অতি কঠিন বিষয়।
যখন তা তোমাদের উপর আসবে
অজান্তেই এসে যাবে। আপনাকে
জিজ্ঞেস করতে থাকে, যেন আপনি
তার অনুসন্ধানে লেগে আছেন। বলে
দিন, এর সংবাদ বিশেষ করে আল্লাহর
নিকটই রয়েছে। কিন্তু তা অধিকাংশ
লোকই উপলব্ধি করে না।
[187] They ask you about the Hour (Day
of Resurrection): “When will be its
appointed time?” Say: “The knowledge
thereof is with my Lord (Alone). None
can reveal its time but He. Heavy is its
burden through the heavens and the
earth. It shall not come upon you except
all of a sudden.” They ask you as if you
have a good knowledge of it. Say: “The
knowledge thereof is with Allâh (Alone)
but most of mankind know not.”
[188] ﻗُﻞ ﻻ ﺃَﻣﻠِﻚُ ﻟِﻨَﻔﺴﻰ ﻧَﻔﻌًﺎ
ﻭَﻻ ﺿَﺮًّﺍ ﺇِﻟّﺎ ﻣﺎ ﺷﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ۚ ﻭَﻟَﻮ
ﻛُﻨﺖُ ﺃَﻋﻠَﻢُ ﺍﻟﻐَﻴﺐَ
ﻟَﺎﺳﺘَﻜﺜَﺮﺕُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺨَﻴﺮِ ﻭَﻣﺎ
ﻣَﺴَّﻨِﻰَ ﺍﻟﺴّﻮﺀُ ۚ ﺇِﻥ ﺃَﻧﺎ۠ ﺇِﻟّﺎ
ﻧَﺬﻳﺮٌ ﻭَﺑَﺸﻴﺮٌ ﻟِﻘَﻮﻡٍ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[188] আপনি বলে দিন, আমি আমার
নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ
সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা আল্লাহ
চান। আর আমি যদি গায়বের কথা
জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল
অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার
কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না।
আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি
প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের
জন্য।
[188] Say (O Muhammad SAW): “I
possess no power over benefit or hurt to
myself except as Allâh wills. If I had the
knowledge of the Ghaib (unseen), I
should have secured for myself an
abundance of wealth, and no evil should
have touched me. I am but a warner,
and a bringer of glad tidings unto people
who believe.”
[189] ۞ ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِﻦ
ﻧَﻔﺲٍ ﻭٰﺣِﺪَﺓٍ ﻭَﺟَﻌَﻞَ ﻣِﻨﻬﺎ
ﺯَﻭﺟَﻬﺎ ﻟِﻴَﺴﻜُﻦَ ﺇِﻟَﻴﻬﺎ ۖ ﻓَﻠَﻤّﺎ
ﺗَﻐَﺸّﻯٰﻬﺎ ﺣَﻤَﻠَﺖ ﺣَﻤﻠًﺎ ﺧَﻔﻴﻔًﺎ
ﻓَﻤَﺮَّﺕ ﺑِﻪِ ۖ ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺃَﺛﻘَﻠَﺖ ﺩَﻋَﻮَﺍ
ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺭَﺑَّﻬُﻤﺎ ﻟَﺌِﻦ ﺀﺍﺗَﻴﺘَﻨﺎ ﺻٰﻠِﺤًﺎ
ﻟَﻨَﻜﻮﻧَﻦَّ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺸّٰﻜِﺮﻳﻦَ
[189] তিনিই সে সত্তা যিনি
তোমাদিগকে সৃষ্টি করেছেন একটি
মাত্র সত্তা থেকে; আর তার থেকেই
তৈরী করেছেন তার জোড়া, যাতে
তার কাছে স্বস্তি পেতে পারে।
অতঃপর পুরুষ যখন নারীকে আবৃত করল,
তখন, সে গর্ভবতী হল। অতি হালকা গর্ভ।
সে তাই নিয়ে চলাফেরা করতে থাকল।
তারপর যখন বোঝা হয়ে গেল, তখন
উভয়েই আল্লাহকে ডাকল যিনি তাদের
পালনকর্তা যে, তুমি যদি আমাদিগকে
সুস্থ ও ভাল দান কর তবে আমরা
তোমার শুকরিয়া আদায় করব।
[189] It is He Who has created you from
a single person (Adam), and (then) He
has created from him his wife [Hawwa
(Eve)], in order that he might enjoy the
pleasure of living with her. When he had
sexual relation with her, she became
pregnant and she carried it about lightly.
Then when it became heavy, they both
invoked Allâh, their Lord (saying): “If
You give us a Sâlih (good in every aspect)
child, we shall indeed be among the
grateful.”
[190] ﻓَﻠَﻤّﺎ ﺀﺍﺗﻯٰﻬُﻤﺎ ﺻٰﻠِﺤًﺎ
ﺟَﻌَﻼ ﻟَﻪُ ﺷُﺮَﻛﺎﺀَ ﻓﻴﻤﺎ
ﺀﺍﺗﻯٰﻬُﻤﺎ ۚ ﻓَﺘَﻌٰﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻤّﺎ
ﻳُﺸﺮِﻛﻮﻥَ
[190] অতঃপর তাদেরকে যখন সুস্থ ও
ভাল দান করা হল, তখন দানকৃত বিষয়ে
তার অংশীদার তৈরী করতে লাগল।
বস্তুতঃ আল্লাহ তাদের শরীক সাব্যস্ত
করা থেকে বহু উর্ধে।
[190] But when He gave them a Sâlih
(good in every aspect) child, they
ascribed partners to Him (Allâh) in that
which He has given to them. High be
Allâh, Exalted above all that they ascribe
as partners to Him. (Tafsir At-Tabarî).
[191] ﺃَﻳُﺸﺮِﻛﻮﻥَ ﻣﺎ ﻻ ﻳَﺨﻠُﻖُ
ﺷَﻴـًٔﺎ ﻭَﻫُﻢ ﻳُﺨﻠَﻘﻮﻥَ
[191] তারা কি এমন কাউকে শরীক
সাব্যস্ত করে, যে একটি বস্তুও সৃষ্টি
করেনি, বরং তাদেরকে সৃষ্টি করা
হয়েছে।
[191] Do they attribute as partners to
Allâh those who created nothing but they
themselves are created?
[192] ﻭَﻻ ﻳَﺴﺘَﻄﻴﻌﻮﻥَ ﻟَﻬُﻢ
ﻧَﺼﺮًﺍ ﻭَﻻ ﺃَﻧﻔُﺴَﻬُﻢ ﻳَﻨﺼُﺮﻭﻥَ
[192] আর তারা, না তাদের সাহায্য
করতে পারে, না নিজের সাহায্য করতে
পারে।
[192] No help can they give them, nor
can they help themselves.
[193] ﻭَﺇِﻥ ﺗَﺪﻋﻮﻫُﻢ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻬُﺪﻯٰ
ﻻ ﻳَﺘَّﺒِﻌﻮﻛُﻢ ۚ ﺳَﻮﺍﺀٌ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ
ﺃَﺩَﻋَﻮﺗُﻤﻮﻫُﻢ ﺃَﻡ ﺃَﻧﺘُﻢ
ﺻٰﻤِﺘﻮﻥَ
[193] আর তোমরা যদি তাদেরকে
আহবান কর সুপথের দিকে, তবে তারা
তোমাদের আহবান অনুযায়ী চলবে না।
তাদেরকে আহবান জানানো কিংবা
নীরব থাকা উভয়টিই তোমাদের জন্য
সমান।
[193] And if you call them to guidance,
they follow you not. It is the same for
you whether you call them or you keep
silent
[194] ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺗَﺪﻋﻮﻥَ ﻣِﻦ
ﺩﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋِﺒﺎﺩٌ ﺃَﻣﺜﺎﻟُﻜُﻢ ۖ
ﻓَﺎﺩﻋﻮﻫُﻢ ﻓَﻠﻴَﺴﺘَﺠﻴﺒﻮﺍ ﻟَﻜُﻢ
ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺻٰﺪِﻗﻴﻦَ
[194] আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা
যাদেরকে ডাক, তারা সবাই
তোমাদের মতই বান্দা। অতএব,
তোমরা যাদেরকে ডাক, তখন তাদের
পক্ষেও তো তোমাদের সে ডাক কবুল
করা উচিত যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে
থাক?
[194] Verily, those whom you call upon
besides Allâh are slaves like you. So call
upon them and let them answer you if
you are truthful
[195] ﺃَﻟَﻬُﻢ ﺃَﺭﺟُﻞٌ ﻳَﻤﺸﻮﻥَ ﺑِﻬﺎ ۖ
ﺃَﻡ ﻟَﻬُﻢ ﺃَﻳﺪٍ ﻳَﺒﻄِﺸﻮﻥَ ﺑِﻬﺎ ۖ ﺃَﻡ
ﻟَﻬُﻢ ﺃَﻋﻴُﻦٌ ﻳُﺒﺼِﺮﻭﻥَ ﺑِﻬﺎ ۖ ﺃَﻡ
ﻟَﻬُﻢ ﺀﺍﺫﺍﻥٌ ﻳَﺴﻤَﻌﻮﻥَ ﺑِﻬﺎ ۗ ﻗُﻞِ
ﺍﺩﻋﻮﺍ ﺷُﺮَﻛﺎﺀَﻛُﻢ ﺛُﻢَّ ﻛﻴﺪﻭﻥِ
ﻓَﻼ ﺗُﻨﻈِﺮﻭﻥِ
[195] তাদের কি পা আছে, যদ্বারা
তারা চলাফেরা করে, কিংবা তাদের
কি হাত আছে, যদ্বারা তারা ধরে।
অথবা তাদের কি চোখ আছে যদ্বারা
তারা দেখতে পায় কিংবা তাদের কি
কান আছে যদ্বারা শুনতে পায়? বলে
দাও, তোমরা ডাক তোমাদের
অংশীদারদিগকে, অতঃপর আমার
অমঙ্গল কর এবং আমাকে অবকাশ দিও
না।
[195] Have they feet wherewith they
walk? Or have they hands wherewith
they hold? Or have they eyes wherewith
they see? Or have they ears wherewith
they hear? Say (O Muhammad SAW):
“Call your (so-called) partners (of Allâh)
and then plot against me, and give me
no respite!
[196] ﺇِﻥَّ ﻭَﻝِۦِّﻯَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻧَﺰَّﻝَ
ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ۖ ﻭَﻫُﻮَ ﻳَﺘَﻮَﻟَّﻰ
ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤﻴﻦَ
[196] আমার সহায় তো হলেন আল্লাহ,
যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। বস্তুত;
তিনিই সাহায্য করেন সৎকর্মশীল
বান্দাদের।
[196] “Verily, my Walî (Protector,
Supporter, and Helper, etc.) is Allâh Who
has revealed the Book (the Qur’ân), and
He protects (supports and helps) the
righteous.
[197] ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺗَﺪﻋﻮﻥَ ﻣِﻦ
ﺩﻭﻧِﻪِ ﻻ ﻳَﺴﺘَﻄﻴﻌﻮﻥَ ﻧَﺼﺮَﻛُﻢ
ﻭَﻻ ﺃَﻧﻔُﺴَﻬُﻢ ﻳَﻨﺼُﺮﻭﻥَ
[197] আর তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে
যাদেরকে ডাক তারা না তোমাদের
কোন সাহায্য করতে পারবে, না
নিজেদের আত্নরক্ষা করতে পারবে।
[197] “And those whom you call upon
besides Him (Allâh) cannot help you nor
can they help themselves.”
[198] ﻭَﺇِﻥ ﺗَﺪﻋﻮﻫُﻢ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻬُﺪﻯٰ
ﻻ ﻳَﺴﻤَﻌﻮﺍ ۖ ﻭَﺗَﺮﻯٰﻬُﻢ
ﻳَﻨﻈُﺮﻭﻥَ ﺇِﻟَﻴﻚَ ﻭَﻫُﻢ ﻻ
ﻳُﺒﺼِﺮﻭﻥَ
[198] আর তুমি যদি তাদেরকে সুপথে
আহবান কর, তবে তারা তা কিছুই শুনবে
না। আর তুমি তো তাদের দেখছই,
তোমার দিকে তাকিয়ে আছে, অথচ
তারা কিছুই দেখতে পাচ্ছে না।
[198] And if you call them to guidance,
they hear not and you will see them
looking at you, yet they see not.
[199] ﺧُﺬِ ﺍﻟﻌَﻔﻮَ ﻭَﺃﻣُﺮ ﺑِﺎﻟﻌُﺮﻑِ
ﻭَﺃَﻋﺮِﺽ ﻋَﻦِ ﺍﻟﺠٰﻬِﻠﻴﻦَ
[199] আর ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে
তোল, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং
মূর্খ জাহেলদের থেকে দূরে সরে থাক।
[199] Show forgiveness, enjoin what is
good, and turn away from the foolish
(i.e. don’t punish them).
[200] ﻭَﺇِﻣّﺎ ﻳَﻨﺰَﻏَﻨَّﻚَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦِ ﻧَﺰﻍٌ ﻓَﺎﺳﺘَﻌِﺬ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ۚ
ﺇِﻧَّﻪُ ﺳَﻤﻴﻊٌ ﻋَﻠﻴﻢٌ
[200] আর যদি শয়তানের প্ররোচনা
তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে
আল্লাহর শরণাপন্ন হও তিনিই
শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।
[200] And if an evil whisper comes to
you from Shaitân (Satan) then seek
refuge with Allâh. Verily, He is All-
Hearer, All-Knower.
[201] ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺍﺗَّﻘَﻮﺍ ﺇِﺫﺍ
ﻣَﺴَّﻬُﻢ ﻃٰﺌِﻒٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦِ
ﺗَﺬَﻛَّﺮﻭﺍ ﻓَﺈِﺫﺍ ﻫُﻢ ﻣُﺒﺼِﺮﻭﻥَ
[201] যাদের মনে ভয় রয়েছে, তাদের
উপর শয়তানের আগমন ঘটার সাথে
সাথেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই
তাদের বিবেচনাশক্তি জাগ্রত হয়ে
উঠে।
[201] Verily, those who are Al-Muttaqûn
(the pious – see V.2:2), when an evil
thought comes to them from Shaitân
(Satan), they remember (Allâh), and
(indeed) they then see (aright).
[202] ﻭَﺇِﺧﻮٰﻧُﻬُﻢ ﻳَﻤُﺪّﻭﻧَﻬُﻢ ﻓِﻰ
ﺍﻟﻐَﻰِّ ﺛُﻢَّ ﻻ ﻳُﻘﺼِﺮﻭﻥَ
[202] পক্ষান্তরে যারা শয়তানের ভাই,
তাদেরকে সে ক্রমাগত পথভ্রষ্ট তার
দিকে নিয়ে যায় অতঃপর তাতে কোন
কমতি করে না।
[202] But (as for) their brothers (the
devils) they (i.e. the devils) plunge them
deeper into error, and they never stop
short.
[203] ﻭَﺇِﺫﺍ ﻟَﻢ ﺗَﺄﺗِﻬِﻢ ﺑِـٔﺎﻳَﺔٍ ﻗﺎﻟﻮﺍ
ﻟَﻮﻟَﺎ ﺍﺟﺘَﺒَﻴﺘَﻬﺎ ۚ ﻗُﻞ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﺃَﺗَّﺒِﻊُ
ﻣﺎ ﻳﻮﺣﻰٰ ﺇِﻟَﻰَّ ﻣِﻦ ﺭَﺑّﻰ ۚ ﻫٰﺬﺍ
ﺑَﺼﺎﺋِﺮُ ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻜُﻢ ﻭَﻫُﺪًﻯ
ﻭَﺭَﺣﻤَﺔٌ ﻟِﻘَﻮﻡٍ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[203] আর যখন আপনি তাদের নিকট
কোন নিদর্শন নিয়ে না যান, তখন
তারা বলে, আপনি নিজের পক্ষ থেকে
কেন অমুকটি নিয়ে আসলেন না, তখন
আপনি বলে দিন, আমি তো সে মতেই
চলি যে হুকুম আমার নিকট আসে আমার
পরওয়ারদেগারের কাছ থেকে। এটা
ভাববার বিষয় তোমাদের
পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে এবং
হেদায়েত ও রহমত সেসব লোকের জন্য
যারা ঈমান এনেছে।
[203] And if you do not bring them a
miracle [according to their (i.e. Quraish-
pagans’) proposal], they say: “Why have
you not brought it?” Say: “I but follow
what is revealed to me from my Lord.
This (the Qur’ân) is nothing but
evidences from your Lord, and a
guidance and a mercy for a people who
believe.”
[204] ﻭَﺇِﺫﺍ ﻗُﺮِﺉَ ﺍﻟﻘُﺮﺀﺍﻥُ
ﻓَﺎﺳﺘَﻤِﻌﻮﺍ ﻟَﻪُ ﻭَﺃَﻧﺼِﺘﻮﺍ
ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢ ﺗُﺮﺣَﻤﻮﻥَ
[204] আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়,
তখন তাতে কান লাগিয়ে রাখ এবং
নিশ্চুপ থাক যাতে তোমাদের উপর
রহমত হয়।
[204] So, when the Qur’ân is recited,
listen to it, and be silent that you may
receive mercy. [i.e. during the
compulsory congregational prayers when
the Imâm (of a mosque) is leading the
prayer (except Sûrat Al-Fâtihah), and
also when he is delivering the Friday-
prayer Khutbah]. [Tafsir At-Tabari]
[205] ﻭَﺍﺫﻛُﺮ ﺭَﺑَّﻚَ ﻓﻰ ﻧَﻔﺴِﻚَ
ﺗَﻀَﺮُّﻋًﺎ ﻭَﺧﻴﻔَﺔً ﻭَﺩﻭﻥَ ﺍﻟﺠَﻬﺮِ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﻘَﻮﻝِ ﺑِﺎﻟﻐُﺪُﻭِّ
ﻭَﺍﻝﺀﺍﺻﺎﻝِ ﻭَﻻ ﺗَﻜُﻦ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﻐٰﻔِﻠﻴﻦَ
[205] আর স্মরণ করতে থাক স্বীয়
পালনকর্তাকে আপন মনে ক্রন্দনরত ও
ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় এবং এমন স্বরে
যা চিৎকার করে বলা অপেক্ষা কম;
সকালে ও সন্ধ্যায়। আর বে-খবর থেকো
না।
[205] And remember your Lord within
yourself, humbly and with fear without
loudness in words in the mornings, and
in the afternoons and be not of those
who are neglectful.
[206] ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻋِﻨﺪَ ﺭَﺑِّﻚَ ﻻ
ﻳَﺴﺘَﻜﺒِﺮﻭﻥَ ﻋَﻦ ﻋِﺒﺎﺩَﺗِﻪِ
ﻭَﻳُﺴَﺒِّﺤﻮﻧَﻪُ ﻭَﻟَﻪُ ﻳَﺴﺠُﺪﻭﻥَ ۩
[206] নিশ্চয়ই যারা তোমার
পরওয়ারদেগারের সান্নিধ্যে রয়েছেন,
তারা তাঁর বন্দেগীর ব্যাপারে
অহঙ্কার করেন না এবং স্মরণ করেন
তাঁর পবিত্র সত্তাকে; আর তাঁকেই
সেজদা করেন।
[206] Surely, those who are with your
Lord (angels) are never too proud to
perform acts of worship to Him, but they
glorify His Praise and prostrate before
Him.Surah Al A’raf Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. আলিফ, লাম, মীম, ছোয়াদ। 2. এটি একটি গ্রন্থ, যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে করে আপনি এর মাধ্যমে ভীতি-প্রদর্শন করেন। অতএব, এটি পৌছে দিতে আপনার মনে কোনরূপ সংকীর্ণতা থাকা উচিত নয়। আর এটিই বিশ্বাসীদের জন্যে উপদেশ। 3. তোমরা অনুসরণ কর, যা তোমাদের প্রতি পালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য সাথীদের অনুসরণ করো না। 4. আর তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ কর। অনেক জনপদকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি। তাদের কাছে আমার আযাব রাত্রি বেলায় পৌছেছে অথবা দ্বিপ্রহরে বিশ্রামরত অবস্থায়। 5. অনন্তর যখন তাদের কাছে আমার আযাব উপস্থিত হয়, তখন তাদের কথা এই ছিল যে, তারা বললঃ নিশ্চয় আমরা অত্যাচারী ছিলাম। 6. অতএব, আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞেস করব যাদের কাছে রসূল প্রেরিত হয়েছিল এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞেস করব রসূলগণকে। 7. অতঃপর আমি স্বজ্ঞানে তাদের কাছে অবস্থা বর্ণনা করব। বস্তুতঃ আমি অনুপস্থিত তো ছিলাম না। 8. আর সেদিন যথার্থই ওজন হবে। অতঃপর যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই সফলকাম হবে। 9. এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে, তারাই এমন হবে, যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে। কেননা, তারা আমার আয়াত সমূহ অস্বীকার করতো। 10. আমি তোমাদেরকে পৃথিবীতে ঠাই দিয়েছি এবং তোমাদের জীবিকা নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর। 11. আর আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, এরপর আকার- অবয়ব, তৈরী করেছি। অতঃপর আমি ফেরেশতাদেরকে বলছি- আদমকে সেজদা কর তখন সবাই সেজদা করেছে, কিন্তু ইবলীস সে সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত ছিল না। 12. আল্লাহ বললেনঃ আমি যখন নির্দেশ দিয়েছি, তখন তোকে কিসে সেজদা করতে বারণ করল? সে বললঃ আমি তার চাইতে শ্রেষ্ট। আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা। 13. বললেন তুই এখান থেকে যা। এখানে অহংকার করার কোন অধিকার তোর নাই। অতএব তুই বের হয়ে যা। তুই হীনতমদের অন্তর্ভুক্ত। 14. সে বললঃ আমাকে কেয়ামত দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন। 15. আল্লাহ বললেনঃ তোকে সময় দেয়া হল। 16. সে বললঃ আপনি আমাকে যেমন উদভ্রান্ত করেছেন, আমিও অবশ্য তাদের জন্যে আপনার সরল পথে বসে থাকবো। 17. এরপর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না। 18. আল্লাহ বললেনঃ বের হয়ে যা এখান থেকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে। তাদের যে কেউ তোর পথেচলবে, নিশ্চয় আমি তোদের সবার দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করে দিব। 19. হে আদম তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর। অতঃপর সেখান থেকে যা ইচ্ছা খাও তবে এ বৃক্ষের কাছে যেয়োনা তাহলে তোমরা গোনাহগার হয়ে যাবে। 20. অতঃপর শয়তান উভয়কে প্ররোচিত করল, যাতে তাদের অঙ্গ, যা তাদের কাছে গোপন ছিল, তাদের সামনে প্রকাশ করে দেয়। সে বললঃ তোমাদের পালনকর্তা তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করেননি; তবে তা এ কারণে যে, তোমরা না আবার ফেরেশতা হয়ে যাও- কিংবা হয়ে যাও চিরকাল বসবাসকারী। 21. সে তাদের কাছে কসম খেয়ে বললঃ আমি অবশ্যই তোমাদের হিতাকাঙ্খী। 22. অতঃপর প্রতারণাপূর্বক তাদেরকে সম্মত করে ফেলল। অনন্তর যখন তারা বৃক্ষ আস্বাদন করল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের সামনে খুলে গেল এবং তারা নিজের উপর বেহেশতের পাতা জড়াতে লাগল। তাদের প্রতিপালক তাদেরকে ডেকে বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করিনি এবং বলিনি যে, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। 23. তারা উভয়ে বললঃ হে আমাদের পালনকর্তা আমরা নিজেদের প্রতি জুলম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব। 24. আল্লাহ বললেনঃ তোমরা নেমে যাও। তোমরা এক অপরের শত্রু। তোমাদের জন্যে পৃথিবীতে বাসস্থান আছে এবং একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত ফল ভোগ আছে। 25. বললেনঃ তোমরা সেখানেই জীবিত থাকবে, সেখানেই মৃত্যুবরন করবে এবং সেখান থেকেই পুনরুঙ্খিত হবে। 26. হে বনী-আদম আমি তোমাদের জন্যে পোশাক অবর্তীণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবর্তীণ করেছি সাজ সজ্জার বস্ত্র এবং পরহেযগারীর পোশাক, এটি সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর কুদরতেরঅন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তা- ভাবনা করে। 27. হে বনী-আদম শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে; যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে এমতাবস্থায় যে, তাদের পোশাক তাদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছি-যাতে তাদেরকে লজ্জাস্থান দেখিয়ে দেয়। সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখ না। আমি শয়তানদেরকে তাদের বন্ধু করে দিয়েছি, , যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না। 28. তারা যখন কোন মন্দ কাজ করে, তখন বলে আমরা বাপ- দাদাকে এমনি করতে দেখেছি এবং আল্লাহও আমাদেরকে এ নির্দেশই দিয়েছেন। আল্লাহ মন্দকাজের আদেশ দেন না। এমন কথা আল্লাহর প্রতি কেন আরোপ কর, যা তোমরা জান না। 29. আপনি বলে দিনঃ আমার প্রতিপালক সুবিচারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তোমরা প্রত্যেক সেজদার সময় স্বীয় মুখমন্ডল সোজা রাখ এবং তাঁকে খাঁটি আনুগত্যশীল হয়ে ডাক। তোমাদেরকে প্রথমে যেমন সৃষ্টি করেছেন, পুনর্বারও সৃজিত হবে। 30. একদলকে পথ প্রদর্শন করেছেন এবং একদলের জন্যে পথভ্রষ্টতা অবধারিত হয়ে গেছে। তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেছে এবং ধারণা করে যে, তারা সৎপথে রয়েছে। 31. হে বনী-আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাযের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও, খাও ও পান কর এবং অপব্যয় করো না। তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না। 32. আপনি বলুনঃ আল্লাহর সাজ- সজ্জাকে, যা তিনি বান্দাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন এবং পবিত্র খাদ্রবস্তুসমূহকে কে হারাম করেছে? আপনি বলুনঃ এসব নেয়ামত আসলে পার্থিব জীবনে মুমিনদের জন্যে এবং কিয়ামতের দিন খাঁটিভাবে তাদেরই জন্যে। এমনিভাবে আমি আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি তাদের জন্যে যারা বুঝে। 33. আপনি বলে দিনঃ আমার পালনকর্তা কেবলমাত্র অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য এবং হারাম করেছেন গোনাহ, অন্যায়- অত্যাচার আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে অংশীদার করা, তিনি যার কোন, সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর প্রতি এমন কথা আরোপ করা, যা তোমরা জান না। 34. প্রত্যেক সম্প্রদায়ের একটি মেয়াদ রয়েছে। যখন তাদের মেয়াদ এসে যাবে, তখন তারা না এক মুহুর্ত পিছে যেতে পারবে, আর না এগিয়ে আসতে পারবে। 35. হে বনী-আদম, যদি তোমাদের কাছে তোমাদেরই মধ্য থেকে পয়গম্বর আগমন করে তোমাদেরকে আমার আয়াত সমূহ শুনায়, তবে যে ব্যক্তি সংযত হয় এবং সৎকাজ অবলম্বন করে, তাদের কোন আশঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না। 36. যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলবে এবং তা থেকে অহংকার করবে, তারাই দোযখী এবং তথায় চিরকাল থাকবে। 37. অতঃপর ঐ ব্যক্তির চাইতে অধিক জালেম কে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে অথবা তার নির্দেশাবলীকে মিথ্যা বলে? তারা তাদের গ্রন্থে লিখিত অংশ পেয়ে যাবে। এমন কি, যখন তাদের কাছে আমার প্রেরিত ফেরশতারা প্রাণ নেওয়ার জন্যে পৌছে, তখন তারা বলে; তারা কোথায় গেল, যাদের কে তোমরা আল্লাহ ব্যতীত আহবান করতে? তারা উত্তর দেবেঃ আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে, তারা নিজেদের সম্পর্কে স্বীকার করবে যে, তারা অবশ্যই কাফের ছিল। 38. আল্লাহ বলবেনঃ তোমাদের পূর্বে জিন ও মানবের যেসব সম্প্রদায় চলে গেছে, তাদের সাথে তোমরাও দোযখে যাও। যখন এক সম্প্রদায় প্রবেশ করবে; তখন অন্য সম্প্রদায়কে অভিসম্পাত করবে। এমনকি, যখন তাতে সবাই পতিত হবে, তখন পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক এরাই আমাদেরকে বিপথগামী করেছিল। অতএব, আপনি তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন। আল্লাহ বলবেন প্রত্যেকেরই দ্বিগুণ; তোমরা জান না। 39. পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদেরকে বলবেঃ তাহলে আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই অতএব, শাস্তি আস্বাদন কর স্বীয় কর্মের কারণে। 40. নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছে এবং এগুলো থেকে অহংকার করেছে, তাদের জন্যে আকাশের দ্বার উম্মুক্ত করা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। যে পর্যন্ত না সূচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে। আমি এমনিভাবে পাপীদেরকে শাস্তি প্রদান করি। 41. তাদের জন্যে নরকাগ্নির শয্যা রয়েছে এবং উপর থেকে চাদর। আমি এমনিভাবে জালেমদেরকে শাস্তি প্রদান করি। 42. যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে আমি কাউকে তার সামর্থ্যের চাইতে বেশী বোঝা দেই না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা তাতেই চিরকাল থাকবে। 43. তাদের অন্তরে যা কিছু দুঃখ ছিল, আমি তা বের করে দেব। তাদের তলদেশ দিয়ে নির্ঝরণী প্রবাহিত হবে। তারা বলবেঃ আল্লাহ শোকর, যিনি আমাদেরকে এ পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। আমরা কখনও পথ পেতাম না, যদি আল্লাহ আমাদেরকে পথ প্রদর্শন না করতেন। আমাদের প্রতিপালকের রসূল আমাদের কাছে সত্যকথা নিয়ে এসেছিলেন। আওয়াজ আসবেঃ এটি জান্নাত। তোমরা এর উত্তরাধিকারী হলে তোমাদের কর্মের প্রতিদানে। 44. জান্নাতীরা দোযখীদেরকে ডেকে বলবেঃ আমাদের সাথে আমাদের প্রতিপালক যে ওয়াদা করেছিলেন, তা আমরা সত্য পেয়েছি? অতএব, তোমরাও কি তোমাদের প্রতিপালকের ওয়াদা সত্য পেয়েছ? তারা বলবেঃ হ্যাঁ। অতঃপর একজন ঘোষক উভয়ের মাঝখানে ঘোষণা করবেঃ আল্লাহর অভিসম্পাত জালেমদের উপর। 45. যারা আল্লাহর পথে বাধা দিত এবং তাতে বক্রতা অন্বেষণ করত। তারা পরকালের বিষয়েও অবিশ্বাসী ছিল। 46. উভয়ের মাঝখানে একটি প্রাচীর থাকবে এবং আরাফের উপরে অনেক লোক থাকবে। তারা প্রত্যেককে তার চিহ্ন দ্বারা চিনে নেবে। তারা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবেঃ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তারা তখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না, কিন্তু প্রবেশ করার ব্যাপারে আগ্রহী হবে। 47. যখন তাদের দৃষ্টি দোযখীদের উপর পড়বে, তখন বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এ জালেমদের সাথী করো না। 48. আরাফবাসীরা যাদেরকে তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনবে, তাদেরকে ডেকে বলবে তোমাদের দলবল ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোন কাজে আসেনি। 49. এরা কি তারাই; যাদের সম্পর্কে তোমরা কসম খেয়ে বলতে যে, আল্লাহ এদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন না। প্রবেশ কর জান্নাতে। তোমাদের কোন আশঙ্কা নেই এবং তোমরা দুঃখিত হবে না। 50. দোযখীরা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবেঃ আমাদের উপর সামান্য পানি নিক্ষেপ কর অথবা আল্লাহ তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছেন, তা থেকেই কিছু দাও। তারা বলবেঃ আল্লাহ এই উভয় বস্তু কাফেরদের জন্যে নিষিদ্ধ করেছেন, 51. তারা স্বীয় ধর্মকে তামাশা ও খেলা বানিয়ে নিয়েছিল এবং পার্থিব জীবন তাদের কে ধোকায় ফেলে রেখেছিল। অতএব, আমি আজকে তাদেরকে ভুলে যাব; যেমন তারা এ দিনের সাক্ষাৎকে ভুলে গিয়েছিল এবং যেমন তারা আয়াতসমূহকে অবিশ্বাস করত। 52. আমি তাদের কাছে গ্রন্থ পৌছিয়েছি, যা আমি স্বীয় জ্ঞানে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি, যা পথপ্রদর্শক এবং মুমিনদের জন্যে রহমত। 53. তারা কি এখন এ অপেক্ষায়ই আছে যে, এর বিষয়বস্তু প্রকাশিত হোক? যেদিন এর বিষয়বস্তু প্রকাশিত হবে, সেদিন পূর্বে যারা একে ভূলে গিয়েছিল, তারা বলবেঃ বাস্তবিকই আমাদের প্রতিপালকের পয়গম্বরগণ সত্যসহ আগমন করেছিলেন। অতএব, আমাদের জন্যে কোন সুপারিশকারী আছে কি যে, সুপারিশ করবে অথবা আমাদেরকে পুনঃ প্রেরণ করা হলে আমরা পূর্বে যা করতাম তার বিপরীত কাজ করে আসতাম। নিশ্চয় তারা নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারা মনগড়া যা বলত, তা উধাও হয়ে যাবে। 54. নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক। 55. তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে ডাক, কাকুতি- মিনতি করে এবং সংগোপনে। তিনি সীমা অতিক্রমকারীদেরকে পছন্দ করেন না। 56. পৃথিবীকে কুসংস্কারমুক্ত ও ঠিক করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না। তাঁকে আহবান কর ভয় ও আশা সহকারে। নিশ্চয় আল্লাহর করুণা সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী। 57. তিনিই বৃষ্টির পূর্বে সুসংবাদবাহী বায়ু পাঠিয়ে দেন। এমনকি যখন বায়ুরাশি পানিপূর্ন মেঘমালা বয়ে আনে, তখন আমি এ মেঘমালাকে একটি মৃত শহরের দিকে হঁ্যাকিয়ে দেই। অতঃপর এ মেঘ থেকে বৃষ্টি ধারা বর্ষণ করি। অতঃপর পানি দ্বারা সব রকমের ফল উৎপন্ন করি। এমনি ভাবে মৃতদেরকে বের করব-যাতে তোমরা চিন্তা কর। 58. যে শহর উৎকৃষ্ট, তার ফসল তার প্রতিপালকের নির্দেশে উৎপন্ন হয় এবং যা নিকৃষ্ট তাতে অল্পই ফসল উৎপন্ন হয়। এমনিভাবে আমি আয়াতসমূহ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বর্ণনা করি কৃতজ্ঞ সম্প্রদায়ের জন্যে। 59. নিশ্চয় আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের প্রতি পাঠিয়েছি। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। আমি তোমাদের জন্যে একটি মহাদিবসের শাস্তির আশঙ্কা করি। 60. তার সম্প্রদায়ের সর্দাররা বললঃ আমরা তোমাকে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতার মাঝে দেখতে পাচ্ছি। 61. সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, আমি কখনও ভ্রান্ত নই; কিন্তু আমি বিশ্বপ্রতিপালকের রসূল। 62. তোমাদেরকে প্রতিপালকের পয়গাম পৌঁছাই এবং তোমাদেরকে সদুপদেশ দেই। আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমনসব বিষয় জানি, যেগুলো তোমরা জান না। 63. তোমরা কি আশ্চর্যবোধ করছ যে, তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্য থেকেই একজনের বাচনিক উপদেশ এসেছে যাতে সে তোমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করে, যেন তোমরা সংযত হও এবং যেন তোমরা অনুগৃহীত হও। 64. অতঃপর তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। আমি তাকে এবং নৌকাস্থিত লোকদেরকে উদ্ধার করলাম এবং যারা মিথ্যারোপ করত, তাদেরকে ডুবিয়ে দিলাম। নিশ্চয় তারা ছিল অন্ধ। 65. আদ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি তাদের ভাই হুদকে। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতিত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। 66. তারা স্প্রদায়ের সর্দররা বললঃ আমরা তোমাকে নির্বোধ দেখতে পাচ্ছি এবং আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদী মনে করি। 67. সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, আমি মোটেই নির্বোধ নই, বরং আমি বিশ্ব প্রতিপালকের প্রেরিত পয়গম্বর। 68. তোমাদের কে প্রতিপালকের পয়গাম পৌঁছাই এবং আমি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী বিশ্বস্ত। 69. তোমরা কি আশ্চর্য্যবোধ করছ যে, তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্য থেকেই একজনের বাচনিক উপদেশ এসেছে যাতে সে তোমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করে। তোমরা স্মরণ কর, যখন আল্লাহ তোমাদেরকে কওমে নূহের পর সর্দার করেছেন এবং তোমাদের দেহের বিস্তৃতি বেশী করেছেন। তোমরা আল্লাহর নেয়ামতসমূহ স্মরণ কর-যাতে তোমাদের মঙ্গল হয়। 70. তারা বললঃ তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যে এসেছ যে আমরা এক আল্লাহর এবাদত করি এবং আমাদের বাপ-দাদা যাদের পূজা করত, তাদেরকে ছেড়ে দেই? অতএব নিয়ে আস আমাদের কাছে যাদ্দ্বারা আমাদেরকে ভয় দেখাচ্ছ, যদি তুমি সত্যবাদী হও। 71. সে বললঃ অবধারিত হয়ে গেছে তোমাদের উপর তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে শাস্তি ও ক্রোধ। আমার সাথে ঐসব নাম সম্পর্কে কেন তর্ক করছ, যেগুলো তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদারা রেখেছে। আল্লাহ এদের কোন মন্দ অবর্তীণ করেননি। অতএব অপেক্ষা কর। আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি। 72. অনন্তর আমি তাকে ও তার সঙ্গীদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে রক্ষা করলাম এবং যারা আমার আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করত তাদের মূল কেটে দিলাম। তারা মান্যকারী ছিল না। 73. সামুদ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি তাদের ভাই সালেহকে। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতিত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি প্রমাণ এসে গেছে। এটি আল্লাহর উষ্টী তোমাদের জন্যে প্রমাণ। অতএব একে ছেড়ে দাও, আল্লাহর ভুমিতে চড়ে বেড়াবে। একে অসৎভাবে স্পর্শ করবে না। অন্যথায় তোমাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি পাকড়াও করবে। 74. তোমরা স্মরণ কর, যখন তোমাদেরকে আদ জাতির পরে সর্দার করেছেন; তোমাদেরকে পৃথিবীতে ঠিকানা দিয়েছেন। তোমরা নরম মাটিতে অট্টালিকা নির্মান কর এবং পর্বত গাত্র খনন করে প্রকোষ্ঠ নির্মাণ কর। অতএব আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করো না। 75. তার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক সর্দাররা ঈমানদার দারিদ্রদেরকে জিজ্ঞেস করলঃ তোমরা কি বিশ্বাস কর যে সালেহ কে তার পালনকর্তা প্রেরণ করেছেন; তারা বলল আমরা তো তার আনীত বিষয়ের প্রতি বিশ্বাসী। 76. দাম্ভিকরা বললঃ তোমরা যে বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করেছ, আমরা তাতে অস্বীকৃত। 77. অতঃপর তারা উষ্ট্রীকে হত্যা করল এবং স্বীয় প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করল। তারা বললঃ হে ছালেহ, নিয়ে এস যদ্দ্বারা আমাদেরকে ভয় দেখাতে, যদি তুমি রসূল হয়ে থাক। 78. অতঃপর পাকড়াও করল তাদেরকে ভূমিকম্প। ফলে সকাল বেলায় নিজ নিজ গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে রইল। 79. ছালেহ তাদের কাছ থেকে প্রস্থান করলো এবং বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, আমি তোমাদের কাছে স্বীয় প্রতিপালকের পয়গাম পৌছিয়েছি এবং তোমাদের মঙ্গল কামনা করেছি কিন্তু তোমরা মঙ্গলকাঙ্খীদেরকে ভালবাস না। 80. এবং আমি লূতকে প্রেরণ করেছি। যখন সে স্বীয় সম্প্রদায়কে বললঃ তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে সারা বিশ্বের কেউ করেনি? 81. তোমরা তো কামবশতঃ পুরুষদের কাছে গমন কর নারীদেরকে ছেড়ে। বরং তোমরা সীমা অতিক্রম করেছ। 82. তাঁর সম্প্রদায় এ ছাড়া কোন উত্তর দিল না যে, বের করে দাও এদেরকে শহর থেকে। এরা খুব সাধু থাকতে চায়। 83. অতঃপর আমি তাকে ও তাঁর পরিবার পরিজনকে বাঁচিয়ে দিলাম, কিন্তু তার স্ত্রী। সে তাদের মধ্যেই রয়ে গেল, যারা রয়ে গিয়েছিল। 84. আমি তাদের উপর প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করলাম। অতএব, দেখ গোনাহগারদের পরিণতি কেমন হয়েছে। 85. আমি মাদইয়ানের প্রতি তাদের ভাই শোয়ায়েবকে প্রেরণ করেছি। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রমাণ এসে গেছে। অতএব তোমরা মাপ ও ওজন পূর্ন কর এবং মানুষকে তাদের দ্রব্যদি কম দিয়ো না এবং ভুপৃষ্টের সংস্কার সাধন করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না। এই হল তোমাদের জন্যে কল্যাণকর, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও। 86. তোমরা পথে ঘাটে এ কারণে বসে থেকো না যে, আল্লাহ বিশ্বাসীদেরকে হুমকি দিবে, আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করবে এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করবে। স্মরণ কর, যখন তোমরা সংখ্যায় অল্প ছিলে অতঃপর আল্লাহ তোমাদেরকে অধিক করেছেন এবং লক্ষ্য কর কিরূপ অশুভ পরিণতি হয়েছে অনর্থকারীদের। 87. আর যদি তোমাদের একদল ঐ বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি এবং একদল বিশ্বাস স্থাপন করে যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি এবং একদল বিশ্বাস স্থাপন না করে, তবে ছবর কর যে পর্যন্ত আল্লাহ আমাদের মধ্যে মীমাংসা না করে দেন। তিনিই শ্রেষ্ট মীমাংসাকারী। 88. তার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক সর্দাররা বললঃ হে শোয়ায়েব, আমরা অবশ্যই তোমাকে এবং তোমার সাথে বিশ্বাস স্থাপনকারীদেরকে শহর থেকে বের করে দেব অথবা তোমরা আমাদের ধর্মে প্রত্যাবর্তন করবে। শোয়ায়েব বললঃ আমরা অপছন্দ করলেও কি ? 89. আমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদকারী হয়ে যাব যদি আমরা তোমাদের ধর্মে প্রত্যাবর্তন করি, অথচ তিনি আমাদেরকে এ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। আমাদের কাজ নয় এ ধর্মে প্রত্যাবর্তন করা, কিন্তু আমাদের প্রতি পালক আল্লাহ যদি চান। আমাদের প্রতিপালক প্রত্যেক বস্তুকে স্বীয় জ্ঞান দ্বারা বেষ্টন করে আছেন। আল্লাহর প্রতিই আমরা ভরসা করেছি। হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ফয়সালা করে ছিল যথার্থ ফয়সালা। আপনিই শ্রেষ্টতম ফসলা ফয়সালাকারী। 90. তার সম্প্রদায়ের কাফের সর্দাররা বললঃ যদি তোমরা শোয়ায়েবের অনুসরণ কর, তবে নিশ্চিতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 91. অনন্তর পাকড়াও করল তাদেরকে ভূমিকম্প। ফলে তারা সকাল বেলায় গৃহ মধ্যে উপুড় হয়ে পড়ে রইল। 92. শোয়ায়েবের প্রতি মিথ্যারোপকারীরা যেন কোন দিন সেখানে বসবাসই করেনি। যারা শোয়ায়েবের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল, তারাই ক্ষতিগ্রস্থ হল। 93. অনন্তর সে তাদের কাছ থেকে প্রস্থান করল এবং বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, আমি তোমাদেরকে প্রতিপালকের পয়গাম পৌছে দিয়েছি এবং তোমাদের হিত কামনা করেছি। এখন আমি কাফেরদের জন্যে কেন দুঃখ করব। 94. আর আমি কোন জনপদে কোন নবী পাঠাইনি, তবে (এমতাবস্থায়) যে পাকড়াও করেছি সে জনপদের অধিবাসীদিগকে কষ্ট ও কঠোরতার মধ্যে, যাতে তারা শিথিল হয়ে পড়ে। 95. অতঃপর অকল্যাণের স্থলে তা কল্যাণে বদলে দিয়েছে। এমনকি তারা অনেক বেড়ে গিয়েছি এবং বলতে শুরু করেছে, আমাদের বাপ- দাদাদের উপরও এমন আনন্দ- বেদনা এসেছে। অতঃপর আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি এমন আকস্মিকভাবে যে তারা টেরও পায়নি। 96. আর যদি সে জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং পরহেযগারী অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের প্রতি আসমানী ও পার্থিব নেয়ামত সমূহ উম্মুক্ত করে দিতাম। কিন্তু তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। সুতরাং আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি তাদের কৃতকর্মের বদলাতে। 97. এখনও কি এই জনপদের অধিবাসীরা এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত যে, আমার আযাব তাদের উপর রাতের বেলায় এসে পড়বে অথচ তখন তারা থাকবে ঘুমে অচেতন। 98. আর এই জনপদের অধিবাসীরা কি নিশ্চিন্ত হয়ে পড়েছে যে, তাদের উপর আমার আযাব দিনের বেলাতে এসে পড়বে অথচ তারা তখন থাকবে খেলা-ধুলায় মত্ত। 99. তারা কি আল্লাহর পাকড়াওয়ের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে? বস্তুতঃ আল্লাহর পাকড়াও থেকে তারাই নিশ্চিন্ত হতে পারে, যাদের ধ্বংস ঘনিয়ে আসে। 100. তাদের নিকট কি একথা প্রকাশিত হয়নি, যারা উত্তারাধিকার লাভ করেছে। সেখানকার লোকদের ধ্বংসপ্রাপ্ত হবার পর যদি আমি ইচ্ছা করতাম, , তবে তাদেরকে তাদের পাপের দরুন পাকড়াও করে ফেলতাম। বস্তুতঃ আমি মোহর এঁটে দিয়েছি তাদের অন্তরসমূহের উপর। কাজেই এরা শুনতে পায় না। 101. এগুলো হল সে সব জনপদ যার কিছু বিবরণ আমি আপনাকে অবহিত করছি। আর নিশ্চিতই ওদের কাছে পৌছেছিলেন রসূল নিদর্শন সহকারে। অতঃপর কস্মিনকালও এরা ঈমান আনবার ছিল না, তারপরে যা তার ইতিপূর্বে মিথ্যা বলে প্রতিপন্ন করেছে। এভাবেই আল্লাহ কাফেরদের অন্তরে মোহর এঁটে দেন। 102. আর তাদের অধিকাংশ লোককেই আমি প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নকারীরূপে পাইনি; বরং তাদের অধিকাংশকে পেয়েছি হুকুম অমান্যকারী। 103. অতঃপর আমি তাদের পরে মূসাকে পাঠিয়েছি নিদর্শনাবলী দিয়ে ফেরাউন ও তার সভাসদদের নিকট। বস্তুতঃ ওরা তাঁর মোকাবেলায় কুফরী করেছে। সুতরাং চেয়ে দেখ, কি পরিণতি হয়েছে অনাচারীদের। 104. আর মূসা বললেন, হে ফেরাউন, আমি বিশ্ব- পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত রসূল। 105. আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সত্য এসেছে, তার ব্যতিক্রম কিছু না বলার ব্যাপারে আমি সুদৃঢ়। আমি তোমাদের পরওয়ারদেগারের নিদর্শন নিয়ে এসেছি। সুতরাং তুমি বনী ইসরাঈলদেরকে আমার সাথে পাঠিয়ে দাও। 106. সে বলল, যদি তুমি কোন নিদর্শন নিয়ে এসে থাক, তাহলে তা উপস্থিত কর যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক। 107. তখন তিনি নিক্ষেপ করলেন নিজের লাঠিখানা এবং তাৎক্ষণাৎ তা জলজ্যান্ত এক অজগরে রূপান্তরিত হয়ে গেল। 108. আর বের করলেন নিজের হাত এবং তা সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের চোখে ধবধবে উজ্জ্বল দেখাতে লাগল। 109. ফেরাউনের সাঙ্গ-পাঙ্গরা বলতে লাগল, নিশ্চয় লোকটি বিজ্ঞ-যাদুকর। 110. সে তোমাদিগকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এ ব্যাপারে তোমাদের কি মত? 111. তারা বলল, আপনি তাকে ও তার ভাইকে অবকাশ দান করুন এবং শহরে বন্দরে লোক পাঠিয়ে দিন লোকদের সমবেত করার জন্য। 112. যাতে তারা পরাকাষ্ঠাসম্পন্ন বিজ্ঞ যাদুকরদের এনে সমবেত করে। 113. বস্তুতঃ যাদুকররা এসে ফেরাউনের কাছে উপস্থিত হল। তারা বলল, আমাদের জন্যে কি কোন পারিশ্রমিক নির্ধারিত আছে, যদি আমরা জয়লাভ করি? 114. সে বলল, হ্যাঁ এবং অবশ্যই তোমরা আমার নিকটবর্তী লোক হয়ে যাবে। 115. তারা বলল, হে মূসা! হয় তুমি নিক্ষেপ কর অথবা আমরা নিক্ষেপ করছি। 116. তিনি বললেন, তোমরাই নিক্ষেপ কর। যখন তারা নিক্ষেপ করল তখন লোকদের চোখগুলোকে বাধিয়ে দিল, ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলল এবং মহাযাদু প্রদর্শন করল। 117. তারপর আমি ওহীযোগে মূসাকে বললাম, এবার নিক্ষেপ কর তোমার লাঠিখানা। অতএব সঙ্গে সঙ্গে তা সে সমুদয়কে গিলতে লাগল, যা তারা বানিয়েছিল যাদু বলে। 118. সুতরাং এভাবে প্রকাশ হয়ে গেল সত্য বিষয় এবং ভুল প্রতিপন্ন হয়ে গেল যা কিছু তারা করেছিল। 119. সুতরাং তারা সেখানেই পরাজিত হয়ে গেল এবং অতীব লাঞ্ছিত হল। 120. এবং যাদুকররা সেজদায় পড়ে গেল। 121. বলল, আমরা ঈমান আনছি মহা বিশ্বের পরওয়ারদেগারের প্রতি। 122. যিনি মূসা ও হারুনের পরওয়ারদেগার। 123. ফেরাউন বলল, তোমরা কি (তাহলে) আমার অনুমতি দেয়ার আগেই ঈমান আনলে! এটা প্রতারণা, যা তোমরা এ নগরীতে প্রদর্শন করলে। যাতে করে এ শহরের অধিবাসীদিগকে শহর থেকে বের করে দিতে পার। সুতরাং তোমরা শীঘ্রই বুঝতে পারবে। 124. অবশ্যই আমি কেটে দেব তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে। তারপর তোমাদের সবাইকে শূলীতে চড়িয়ে মারব। 125. তারা বলল, আমাদেরকে তো মৃত্যুর পর নিজেদের পরওয়ারদেগারের নিকট ফিরে যেতেই হবে। 126. বস্তুতঃ আমাদের সাথে তোমার শত্রুতা তো এ কারণেই যে, আমরা ঈমান এনেছি আমাদের পরওয়ারদেগারের নিদর্শনসমূহের প্রতি যখন তা আমাদের নিকট পৌঁছেছে। হে আমাদের পরওয়ারদেগার আমাদের জন্য ধৈর্য্যের দ্বার খুলে দাও এবং আমাদেরকে মুসলমান হিসাবে মৃত্যু দান কর। 127. ফেরাউনের সম্প্রদায়ের র্সদাররা বলল, তুমি কি এমনি ছেড়ে দেবে মূসা ও তার সম্প্রদায়কে। দেশময় হৈ-চৈ করার জন্য এবং তোমাকে ও তোমার দেব-দেবীকে বাতিল করে দেবার জন্য। সে বলল, আমি এখনি হত্যা করব তাদের পুত্র সন্তানদিগকে; আর জীবিত রাখব মেয়েদেরকে। বস্তুতঃ আমরা তাদের উপর প্রবল। 128. মূসা বললেন তার কওমকে, সাহায্য প্রার্থনা কর আল্লাহর নিকট এবং ধৈর্য্য ধারণ কর। নিশ্চয়ই এ পৃথিবী আল্লাহর। তিনি নিজের বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেন এবং শেষ কল্যাণ মুত্তাকীদের জন্যই নির্ধারিত রয়েছে। 129. তারা বলল, আমাদের কষ্ট ছিল তোমার আসার পূর্বে এবং তোমার আসার পরে। তিনি বললেন, তোমাদের পরওয়ারদেগার শীঘ্রই তোমাদের শক্রদের ধ্বংস করে দেবেন এবং তোমাদেরকে দেশে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন। তারপর দেখবেন, তোমরা কেমন কাজ কর। 130. তারপর আমি পাকড়াও করেছি-ফেরাউনের অনুসারীদেরকে দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে এবং ফল ফসলের ক্ষয়- ক্ষতির মাধ্যমে যাতে করে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। 131. অতঃপর যখন শুভদিন ফিরে আসে, তখন তারা বলতে আরম্ভ করে যে, এটাই আমাদের জন্য উপযোগী। আর যদি অকল্যাণ এসে উপস্থিত হয় তবে তাতে মূসার এবং তাঁর সঙ্গীদের অলক্ষণ বলে অভিহিত করে। শুনে রাখ তাদের অলক্ষণ যে, আল্লাহরই এলেমে রয়েছে, অথচ এরা জানে না। 132. তারা আরও বলতে লাগল, আমাদের উপর জাদু করার জন্য তুমি যে নিদর্শনই নিয়ে আস না কেন আমরা কিন্তু তোমার উপর ঈমান আনছি না। 133. সুতরাং আমি তাদের উপর পাঠিয়ে দিলাম তুফান, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত প্রভৃতি বহুবিধ নিদর্শন একের পর এক। তারপরেও তারা গর্ব করতে থাকল। বস্তুতঃ তারা ছিল অপরাধপ্রবণ। 134. আর তাদের উপর যখন কোন আযাব পড়ে তখন বলে, হে মূসা আমাদের জন্য তোমার পরওয়ারদেগারের নিকট সে বিষয়ে দোয়া কর যা তিনি তোমার সাথে ওয়াদা করে রেখেছেন। যদি তুমি আমাদের উপর থেকে এ আযাব সরিয়ে দাও, তবে অবশ্যই আমরা ঈমান আনব তোমার উপর এবং তোমার সাথে বনী- ইসরাঈলদেরকে যেতে দেব। 135. অতঃপর যখন আমি তাদের উপর থেকে আযাব তুলে নিতাম নির্ধারিত একটি সময় পর্যন্ত- যেখান পর্যন্ত তাদেরকে পৌছানোর উদ্দেশ্য ছিল, তখন তড়িঘড়ি তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করত। 136. সুতরাং আমি তাদের কাছে থেকে বদলা নিয়ে নিলাম- বস্তুতঃ তাদেরকে সাগরে ডুবিয়ে দিলাম। কারণ, তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল আমার নিদর্শনসমূহকে এবং তৎপ্রতি অনীহা প্রদর্শন করেছিল। 137. আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হত তাদেরকেও আমি উত্তরাধিকার দান করেছি এ ভুখন্ডের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের যাতে আমি বরকত সন্নিহিত রেখেছি এবং পরিপূর্ণ হয়ে গেছে তোমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত কল্যাণ বনী- ইসরাঈলদের জন্য তাদের ধৈর্য্যধারণের দরুন। আর ধ্বংস করে দিয়েছে সে সবকিছু যা তৈরী করেছিল ফেরাউন ও তার সম্প্রদায় এবং ধ্বংস করেছি যা কিছু তারা সুউচ্চ নির্মাণ করেছিল। 138. বস্তুতঃ আমি সাগর পার করে দিয়েছি বনী- ইসরাঈলদিগকে। তখন তারা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে পৌছাল, যারা স্বহস্তনির্মিত মূর্তিপুজায় নিয়োজিত ছিল। তারা বলতে লাগল, হে মূসা; আমাদের উপাসনার জন্যও তাদের মূর্তির মতই একটি মূর্তি নির্মাণ করে দিন। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে বড়ই অজ্ঞতা রয়েছে। 139. এরা যে, কাজে নিয়োজিত রয়েছে তা ধ্বংস হবে এবং যা কিছু তারা করেছে তা যে ভুল! 140. তিনি বললেন, তাহলে কি আল্লাহকে ছাড়া তোমাদের জন্য অন্য কোন উপাস্য অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদিগকে সারা বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। 141. আর সে সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন আমি তোমাদেরকে ফেরাউনের লোকদের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছি; তারা তোমাদেরকে দিত নিকৃষ্ট শাস্তি, তোমাদের পুত্র-সন্তানদের মেরে ফেলত এবং মেয়েদের বাঁচিয়ে রাখত। এতে তোমাদের প্রতি তোমাদের পরওয়ারদেগারের বিরাট পরীক্ষা রয়েছে। 142. আর আমি মূসাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি ত্রিশ রাত্রির এবং সেগুলোকে পূর্ন করেছি আরো দশ দ্বারা। বস্তুতঃ এভাবে চল্লিশ রাতের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গেছে। আর মূসা তাঁর ভাই হারুনকে বললেন, আমার সম্প্রদায়ে তুমি আমার প্রতিনিধি হিসাবে থাক। তাদের সংশোধন করতে থাক এবং হাঙ্গামা সৃষ্টিকারীদের পথে চলো না। 143. তারপর মূসা যখন আমার প্রতিশ্রুত সময় অনুযায়ী এসে হাযির হলেন এবং তাঁর সাথে তার পরওয়ারদেগার কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, হে আমার প্রভু, তোমার দীদার আমাকে দাও, যেন আমি তোমাকে দেখতে পাই। তিনি বললেন, তুমি আমাকে কস্মিনকালেও দেখতে পাবে না, তবে তুমি পাহাড়ের দিকে দেখতে থাক, সেটি যদি স্বস্থানে দঁড়িয়ে থাকে তবে তুমিও আমাকে দেখতে পাবে। তারপর যখন তার পরওয়ারদগার পাহাড়ের উপর আপন জ্যোতির বিকিরণ ঘটালেন, সেটিকে বিধ্বস্ত করে দিলেন এবং মূসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরে এল; বললেন, হে প্রভু! তোমার সত্তা পবিত্র, তোমার দরবারে আমি তওবা করছি এবং আমিই সর্বপ্রথম বিশ্বাস স্থাপন করছি। 144. (পরওয়ারদেগার) বললেন, হে মূসা, আমি তোমাকে আমার বার্তা পাঠানোর এবং কথা বলার মাধ্যমে লোকদের উপর বিশিষ্টতা দান করেছি। সুতরাং যা কিছু আমি তোমাকে দান করলাম, গ্রহণ কর এবং কৃতজ্ঞ থাক। 145. আর আমি তোমাকে পটে লিখে দিয়েছি সর্বপ্রকার উপদেশ ও বিস্তারিত সব বিষয়। অতএব, এগুলোকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং স্বজাতিকে এর কল্যাণকর বিষয়সমূহ দৃঢ়তার সাথে পালনের নির্দেশ দাও। 146. আমি আমার নিদর্শনসমূহ হতে তাদেরকে ফিরিয়ে রাখি, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে গর্ব করে। যদি তারা সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে ফেলে, তবুও তা বিশ্বাস করবে না। আর যদি হেদায়েতের পথ দেখে, তবে সে পথ গ্রহণ করে না। অথচ গোমরাহীর পথ দেখলে তাই গ্রহণ করে নেয়। এর কারণ, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে মনে করেছে এবং তা থেকে বেখবর রয়ে গেছে। 147. বস্তুতঃ যারা মিথ্যা জেনেছে আমার আয়াতসমূকে এবং আখেরাতের সাক্ষাতকে, তাদের যাবতীয় কাজকর্ম ধ্বংস হয়ে গেছে। তেমন বদলাই সে পাবে যেমন আমল করত। 148. আর বানিয়ে নিল মূসার সম্প্রদায় তার অনুপস্থিতিতে নিজেদের অলংকারাদির দ্বারা একটি বাছুর তা থেকে বেরুচ্ছিল ‘হাম্বা হাম্বা’ শব্দ। তারা কি একথাও লক্ষ্য করল না যে, সেটি তাদের সাথে কথাও বলছে না এবং তাদেরকে কোন পথও বাতলে দিচ্ছে না! তারা সেটিকে উপাস্য বানিয়ে নিল। বস্তুতঃ তারা ছিল জালেম। 149. অতঃপর যখন তারা অনুতপ্ত হল এবং বুঝতে পারল যে, আমরা নিশ্চিতই গোমরাহ হয়ে পড়েছি, তখন বলতে লাগল, আমাদের প্রতি যদি আমাদের পরওয়ারদেগার করুণা না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ধবংস হয়ে যাব। 150. তারপর যখন মূসা নিজ সম্প্রদায়ে ফিরে এলেন রাগাম্বিত ও অনুতপ্ত অবস্থায়, তখন বললেন, আমার অনুপস্থিতিতে তোমরা আমার কি নিকৃষ্ট প্রতিনিধিত্বটাই না করেছ। তোমরা নিজ পরওয়ারদেগারের হুকুম থেকে কি তাড়াহুড়া করে ফেললে এবং সে তখতীগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং নিজের ভাইয়ের মাথার চুল চেপে ধরে নিজের দিকে টানতে লাগলেন। ভাই বললেন, হে আমার মায়ের পুত্র, লোকগুলো যে আমাকে দুর্বল মনে করল এবং আমাকে যে মেরে ফেলার উপক্রম করেছিল। সুতরাং আমার উপর আর শত্রুদের হাসিও না। আর আমাকে জালিমদের সারিতে গন্য করো না। 151. মূসা বললেন, হে আমার পরওয়ারদেগার, ক্ষমা কর আমাকে আর আমার ভাইকে এবং আমাদেরকে তোমার রহমতের অন্তর্ভুক্ত কর। তুমি যে সর্বাধিক করুণাময়। 152. অবশ্য যারা গোবৎসকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে, তাদের উপর তাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে পার্থিব এ জীবনেই গযব ও লাঞ্জনা এসে পড়বে। এমনি আমি অপবাদ আরোপকারীদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি। 153. আর যারা মন্দ কাজ করে, তারপরে তওবা করে নেয় এবং ঈমান নিয়ে আসে, তবে নিশ্চয়ই তোমার পরওয়ারদেগার তওবার পর অবশ্য ক্ষমাকারী, করুণাময়। 154. তারপর যখন মূসার রাগ পড়ে গেল, তখন তিনি তখতীগুলো তুলে নিলেন। আর যা কিছু তাতে লেখা ছিল, তা ছিল সে সমস্ত লোকের জন্য হেদায়েত ও রহমত যারা নিজেদের পরওয়ারদেগারকে ভয় করে। 155. আর মূসা বেছে নিলেন নিজের সম্প্রদায় থেকে সত্তর জন লোক আমার প্রতিশ্রুত সময়ের জন্য। তারপর যখন তাদেরকে ভূমিকম্প পাকড়াও করল, তখন বললেন, হে আমার পরওয়ারদেগার, তুমি যদি ইচ্ছা করতে, তবে তাদেরকে আগেই ধ্বংস করে দিতে এবং আমাকেও। আমাদেরকে কি সে কর্মের কারণে ধ্বংস করছ, যা আমার সম্প্রদায়ের নির্বোধ লোকেরা করেছে? এসবই তোমার পরীক্ষা; তুমি যাকে ইচ্ছা এতে পথ ভ্রষ্ট করবে এবং যাকে ইচ্ছা সরলপথে রাখবে। তুমি যে আমাদের রক্ষক- সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও এবং আমাদের উপর করুনা কর। তাছাড়া তুমিই তো সর্বাধিক ক্ষমাকারী। 156. আর পৃথিবীতে এবং আখেরাতে আমাদের জন্য কল্যাণ লিখে দাও। আমরা তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি। আল্লাহ তা’আলা বললেন, আমার আযাব তারই উপর পরিব্যাপ্ত। আমার রহমত সকল জিনিস আবরণ। সুতরাং তা তাদের জন্য লিখে দেব যারা ভয় রাখে, যাকাত দান করে এবং যারা আমার আয়তসমুহের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে। 157. সেসমস্ত লোক, যারা আনুগত্য অবলম্বন করে এ রসূলের, যিনি উম্মী নবী, যাঁর সম্পর্কে তারা নিজেদের কাছে রক্ষিত তওরাত ও ইঞ্জিলে লেখা দেখতে পায়, তিনি তাদেরকে নির্দেশ দেন সৎকর্মের, বারণ করেন অসৎকর্ম থেকে; তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তু হালাল ঘোষনা করেন ও নিষিদ্ধ করেন হারাম বস্তুসমূহ এবং তাদের উপর থেকে সে বোঝা নামিয়ে দেন এবং বন্দীত্ব অপসারণ করেন যা তাদের উপর বিদ্যমান ছিল। সুতরাং যেসব লোক তাঁর উপর ঈমান এনেছে, তাঁর সাহচর্য অবলম্বন করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং সে নূরের অনুসরণ করেছে যা তার সাথে অবতীর্ণ করা হয়েছে, শুধুমাত্র তারাই নিজেদের উদ্দেশ্য সফলতা অর্জন করতে পেরেছে। 158. বলে দাও, হে মানব মন্ডলী। তোমাদের সবার প্রতি আমি আল্লাহ প্রেরিত রসূল, সমগ্র আসমান ও যমীনে তার রাজত্ব। একমাত্র তাঁকে ছাড়া আর কারো উপাসনা নয়। তিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা সবাই বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহর উপর তাঁর প্রেরিত উম্মী নবীর উপর, যিনি বিশ্বাস রাখেন আল্লাহর এবং তাঁর সমস্ত কালামের উপর। তাঁর অনুসরণ কর যাতে সরল পথপ্রাপ্ত হতে পার। 159. বস্তুতঃ মূসার সম্প্রদায়ে একটি দল রয়েছে যারা সত্যপথ নির্দেশ করে এবং সে মতেই বিচার করে থাকে। 160. আর আমি পৃথক পৃথক করে দিয়েছি তাদের বার জন পিতামহের সন্তানদেরকে বিরাট বিরাট দলে, এবং নির্দেশ দিয়েছি মুসাকে, যখন তার কাছে তার সম্প্রদায় পানি চাইল যে, স্বীয় যষ্টির দ্বারা আঘাত কর এ পাথরের উপর। অতঃপর এর ভেতর থেকে ফুটে বের হল বারটি প্রস্রবণ। প্রতিটি গোত্র চিনে নিল নিজ নিজ ঘাঁটি। আর আমি ছায়া দান করলাম তাদের উপর মেঘের এবং তাদের জন্য অবতীর্ন করলাম মান্না ও সালওয়া। যে পরিচ্ছন্ন বস্তুত জীবিকারূপে আমি তোমাদের দিয়েছি, তা থেকে তোমরা ভক্ষণ কর। বস্তুতঃ তারা আমার কোন ক্ষতি করেনি, বরং ক্ষতি করেছে নিজেদেরই। 161. আর যখন তাদের প্রতি নির্দেশ হল যে, তোমরা এ নগরীতে বসবাস কর এবং খাও তা থেকে যেখান থেকে ইচ্ছা এবং বল, আমাদের ক্ষমা করুন। আর দরজা দিয়ে প্রবেশ কর প্রণত অবস্থায়। তবে আমি ক্ষমা করে দেব তোমাদের পাপসমুহ। অবশ্য আমি সৎকর্মীদিগকে অতিরিক্ত দান করব। 162. অনন্তর জালেমরা এতে অন্য শব্দ বদলে দিল তার পরিবর্তে, যা তাদেরকে বলা হয়েছিল। সুতরাং আমি তাদের উপর আযাব পাঠিয়েছি আসমান থেকে তাদের অপকর্মের কারণে। 163. আর তাদের কাছে সে জনপদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর যা ছিল নদীর তীরে অবস্থিত। যখন শনিবার দিনের নির্দেশের ব্যাপারে সীমাতিক্রম করতে লাগল, যখন আসতে লাগল মাছগুলো তাদের কাছে শনিবার দিন পানির উপর, আর যেদিন শনিবার হত না, আসত না। এভাবে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি। কারণ, তারা ছিল নাফরমান। 164. আর যখন তাদের মধ্যে থেকে এক সম্প্রদায় বলল, কেন সে লোকদের সদুপদেশ দিচ্ছেন, যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করে দিতে চান কিংবা আযাব দিতে চান কঠিন আযাব? সে বললঃ তোমাদের পালনকর্তার সামনে দোষ ফুরাবার জন্য এবং এজন্য যেন তারা ভীত হয়। 165. অতঃপর যখন তারা সেসব বিষয় ভুলে গেল, যা তাদেরকে বোঝানো হয়েছিল, তখন আমি সেসব লোককে মুক্তি দান করলাম যারা মন্দ কাজ থেকে বারণ করত। আর পাকড়াও করলাম, গোনাহগারদেরকে নিকৃষ্ট আযাবের মাধ্যমে তাদের না-ফরমানীর দরুন। 166. তারপর যখন তারা এগিয়ে যেতে লাগল সে কর্মে যা থেকে তাদের বারণ করা হয়েছিল, তখন আমি নির্দেশ দিলাম যে, তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও। 167. আর সে সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন তোমার পালনকর্তা সংবাদ দিয়েছেন যে, অবশ্যই কেয়ামত দিবস পর্যন্ত ইহুদীদের উপর এমন লোক পাঠাতে থাকবেন যারা তাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দান করতে থাকবে। নিঃসন্দেহে তোমার পালনকর্তা শীঘ্র শাস্তি দানকারী এবং তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু। 168. আর আমি তাদেরকে বিভক্ত করে দিয়েছি দেশময় বিভিন্ন শ্রেনীতে, তাদের মধ্যে কিছু রয়েছে ভাল আর কিছু রয়েছে অন্য রকম! তাছাড়া আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি ভাল ও মন্দের মাধ্যমে যাতে তারা ফিরে আসে। 169. তারপর তাদের পেছনে এসেছে কিছু অপদার্থ, যারা উত্তরাধিকারী হয়েছে কিতাবের; তারা নিকৃষ্ট পার্থিব উপকরণ আহরণ করছে এবং বলছে, আমাদের ক্ষমা করে দেয়া হবে। বস্তুতঃ এমনি ধরনের উপকরণ যদি আবারো তাদের সামনে উপস্থিত হয়, তবে তাও তুলে নেবে। তাদের কাছথেকে কিতাবে কি অঙ্গীকার নেয়া হয়নি যে, আল্লাহর প্রতি সত্য ছাড়া কিছু বলবে না? অথচ তারা সে সবই পাঠ করেছে, যা তাতে লেখা রয়েছে। বস্তুতঃ আখেরাতের আলয় ভীতদের জন্য উত্তম- তোমরা কি তা বোঝ না? 170. আর যেসব লোক সুদৃঢ়ভাবে কিতাবকে আঁকড়ে থাকে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে নিশ্চয়ই আমি বিনষ্ট করব না সৎকর্মীদের সওয়াব। 171. আর যখন আমি তুলে ধরলাম পাহাড়কে তাদের উপরে সামিয়ানার মত এবং তারা ভয় করতে লাগল যে, সেটি তাদের উপর পড়বে, তখন আমি বললাম, ধর, যা আমি তোমাদের দিয়েছি, দৃঢ়ভাবে এবং স্মরণ রেখো যা তাতে রয়েছে, যেন তোমরা বাঁচতে পার। 172. আর যখন তোমার পালনকর্তা বনী আদমের পৃষ্টদেশ থেকে বের করলেন তাদের সন্তানদেরকে এবং নিজের উপর তাদেরকে প্রতিজ্ঞা করালেন, আমি কি তোমাদের পালনকর্তা নই ? তারা বলল, অবশ্যই, আমরা অঙ্গীকার করছি। আবার না কেয়ামতের দিন বলতে শুরু কর যে, এ বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। 173. অথবা বলতে শুরু কর যে, অংশীদারিত্বের প্রথা তো আমাদের বাপ-দাদারা উদ্ভাবন করেছিল আমাদের পূর্বেই। আর আমরা হলাম তাদের পশ্চাৎবর্তী সন্তান- সন্ততি। তাহলে কি সে কর্মের জন্য আমাদেরকে ধ্বংস করবেন, যা পথভ্রষ্টরা করেছে? 174. বস্তুতঃ এভাবে আমি বিষয়সমূহ সবিস্তারে বর্ণনা করি, যাতে তারা ফিরে আসে। 175. আর আপনি তাদেরকে শুনিয়ে দিন, সে লোকের অবস্থা, যাকে আমি নিজের নিদর্শনসমূহ দান করেছিলাম, অথচ সে তা পরিহার করে বেরিয়ে গেছে। আর তার পেছনে লেগেছে শয়তান, ফলে সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে পড়েছে। 176. অবশ্য আমি ইচ্ছা করলে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিতাম সে সকল নিদর্শনসমূহের দৌলতে। কিন্তু সে যে অধঃপতিত এবং নিজের রিপুর অনুগামী হয়ে রইল। সুতরাং তার অবস্থা হল কুকুরের মত; যদি তাকে তাড়া কর তবুও হাঁপাবে আর যদি ছেড়ে দাও তবুও হাঁপাবে। সুতরাং তার অবস্থা হল কুকুরের মত; যদি তাকে তাড়া কর তবুও হাঁপাবে আর যদি ছেড়ে দাও তবুও হাঁপাবে। এ হল সেসব লোকের উদাহরণ; যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার নিদর্শনসমূহকে। 177. তাদের উদাহরণ অতি নিকৃষ্ট, যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার আয়াত সমূহকে এবং তারা নিজেদেরই ক্ষতি সাধন করেছে। 178. যাকে আল্লাহ পথ দেখাবেন, সেই পথপ্রাপ্ত হবে। আর যাকে তিনি পথ ভ্রষ্ট করবেন, সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত। 179. আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ। 180. আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম। কাজেই সে নাম ধরেই তাঁকে ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর, যারা তাঁর নামের ব্যাপারে বাঁকা পথে চলে। তারা নিজেদের কৃতকর্মের ফল শীঘ্রই পাবে। 181. আর যাদেরকে আমি সৃষ্টি করেছি, তাদের মধ্যে এমন এক দল রয়েছে যারা সত্য পথ দেখায় এবং সে অনুযায়ী ন্যায়চিার করে। 182. বস্তুতঃ যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার আয়াতসমূহকে, আমি তাদেরকে ক্রমান্বয়ে পাকড়াও করব এমন জায়গা থেকে, যার সম্পর্কে তাদের ধারণাও হবে না। 183. বস্তুতঃ আমি তাদেরকে ঢিল দিয়ে থাকি। নিঃসন্দেহে আমার কৌশল সুনিপুণ। 184. তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, তাদের সঙ্গী লোকটির মস্তিষ্কে কোন বিকৃতি নেই? তিনি তো ভীতি প্রদর্শনকারী প্রকৃষ্টভাবে। 185. তারা কি প্রত্যক্ষ করেনি আকাশ ও পৃথিবীর রাজ্য সম্পর্কে এবং যা কিছু সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ তা’আলা বস্তু সামগ্রী থেকে এবং এ ব্যাপারে যে, তাদের সাথে কৃত ওয়াদার সময় নিকটবর্তী হয়ে এসেছে? বস্তুতঃ এরপর কিসের উপর ঈমান আনবে? 186. আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন। তার কোন পথপ্রদর্শক নেই। আর আল্লাহ তাদেরকে তাদের দুষ্টামীতে মত্ত অবস্তায় ছেড়ে দিয়ে রাখেন। 187. আপনাকে জিজ্ঞেস করে, কেয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? বলে দিন এর খবর তো আমার পালনকর্তার কাছেই রয়েছে। তিনিই তা অনাবৃত করে দেখাবেন নির্ধারিত সময়ে। আসমান ও যমীনের জন্য সেটি অতি কঠিন বিষয়। যখন তা তোমাদের উপর আসবে অজান্তেই এসে যাবে। আপনাকে জিজ্ঞেস করতে থাকে, যেন আপনি তার অনুসন্ধানে লেগে আছেন। বলে দিন, এর সংবাদ বিশেষ করে আল্লাহর নিকটই রয়েছে। কিন্তু তা অধিকাংশ লোকই উপলব্ধি করে না। 188. আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা আল্লাহ চান। আর আমি যদি গায়বের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য। 189. তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদিগকে সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র সত্তা থেকে; আর তার থেকেই তৈরী করেছেন তার জোড়া, যাতে তার কাছে স্বস্তি পেতে পারে। অতঃপর পুরুষ যখন নারীকে আবৃত করল, তখন, সে গর্ভবতী হল। অতি হালকা গর্ভ। সে তাই নিয়ে চলাফেরা করতে থাকল। তারপর যখন বোঝা হয়ে গেল, তখন উভয়েই আল্লাহকে ডাকল যিনি তাদের পালনকর্তা যে, তুমি যদি আমাদিগকে সুস্থ ও ভাল দান কর তবে আমরা তোমার শুকরিয়া আদায় করব। 190. অতঃপর তাদেরকে যখন সুস্থ ও ভাল দান করা হল, তখন দানকৃত বিষয়ে তার অংশীদার তৈরী করতে লাগল। বস্তুতঃ আল্লাহ তাদের শরীক সাব্যস্ত করা থেকে বহু উর্ধে। 191. তারা কি এমন কাউকে শরীক সাব্যস্ত করে, যে একটি বস্তুও সৃষ্টি করেনি, বরং তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। 192. আর তারা, না তাদের সাহায্য করতে পারে, না নিজের সাহায্য করতে পারে। 193. আর তোমরা যদি তাদেরকে আহবান কর সুপথের দিকে, তবে তারা তোমাদের আহবান অনুযায়ী চলবে না। তাদেরকে আহবান জানানো কিংবা নীরব থাকা উভয়টিই তোমাদের জন্য সমান। 194. আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা সবাই তোমাদের মতই বান্দা। অতএব, তোমরা যাদেরকে ডাক, তখন তাদের পক্ষেও তো তোমাদের সে ডাক কবুল করা উচিত যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক? 195. তাদের কি পা আছে, যদ্বারা তারা চলাফেরা করে, কিংবা তাদের কি হাত আছে, যদ্বারা তারা ধরে। অথবা তাদের কি চোখ আছে যদ্বারা তারা দেখতে পায় কিংবা তাদের কি কান আছে যদ্বারা শুনতে পায়? বলে দাও, তোমরা ডাক তোমাদের অংশীদারদিগকে, অতঃপর আমার অমঙ্গল কর এবং আমাকে অবকাশ দিও না। 196. আমার সহায় তো হলেন আল্লাহ, যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। বস্তুত; তিনিই সাহায্য করেন সৎকর্মশীল বান্দাদের। 197. আর তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাক তারা না তোমাদের কোন সাহায্য করতে পারবে, না নিজেদের আত্নরক্ষা করতে পারবে। 198. আর তুমি যদি তাদেরকে সুপথে আহবান কর, তবে তারা তা কিছুই শুনবে না। আর তুমি তো তাদের দেখছই, তোমার দিকে তাকিয়ে আছে, অথচ তারা কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। 199. আর ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোল, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খ জাহেলদের থেকে দূরে সরে থাক। 200. আর যদি শয়তানের প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে আল্লাহর শরণাপন্ন হও তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী। 201. যাদের মনে ভয় রয়েছে, তাদের উপর শয়তানের আগমন ঘটার সাথে সাথেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনাশক্তি জাগ্রত হয়ে উঠে। 202. পক্ষান্তরে যারা শয়তানের ভাই, তাদেরকে সে ক্রমাগত পথভ্রষ্ট তার দিকে নিয়ে যায় অতঃপর তাতে কোন কমতি করে না। 203. আর যখন আপনি তাদের নিকট কোন নিদর্শন নিয়ে না যান, তখন তারা বলে, আপনি নিজের পক্ষ থেকে কেন অমুকটি নিয়ে আসলেন না, তখন আপনি বলে দিন, আমি তো সে মতেই চলি যে হুকুম আমার নিকট আসে আমার পরওয়ারদেগারের কাছ থেকে। এটা ভাববার বিষয় তোমাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে এবং হেদায়েত ও রহমত সেসব লোকের জন্য যারা ঈমান এনেছে। 204. আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তাতে কান লাগিয়ে রাখ এবং নিশ্চুপ থাক যাতে তোমাদের উপর রহমত হয়। 205. আর স্মরণ করতে থাক স্বীয় পালনকর্তাকে আপন মনে ক্রন্দনরত ও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় এবং এমন স্বরে যা চিৎকার করে বলা অপেক্ষা কম; সকালে ও সন্ধ্যায়। আর বে-খবর থেকো না। 206. নিশ্চয়ই যারা তোমার পরওয়ারদেগারের সান্নিধ্যে রয়েছেন, তারা তাঁর বন্দেগীর ব্যাপারে অহঙ্কার করেন না এবং স্মরণ করেন তাঁর পবিত্র সত্তাকে; আর তাঁকেই সেজদা করেন। ******

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s